Warning: Invalid argument supplied for foreach() in _fb_social_comments_seo_view() (line 304 of /var/www/sachalayatan/s6/sites/all/modules/fb_social/plugins/fb_plugin/comments.inc).

ভিনগ্রহ-ঈশ্বর-দুপেয়ে

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: শনি, ৩০/০৬/২০১২ - ৯:৪৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এটা অনেক অনেক দিন আগের কথা । লঙ্কার রাজা রাবণের মত রাক্ষস- দৈত্য- দানোও তখনো জন্মায়নি, রাম-লক্ষণ বা ঈসা-মুসারও কোনও খবর ছিল না । হাজার হাজার বছর আগের কথাও না এটা । ডাইনোসররা দাপিয়ে বেড়াতো যখন তার চেয়েও আগের, কোটি কোটি বছর আগের উপাখ্যান ।

মহাবিশ্ব নামক এক জায়গায় ঈশ্বর নামের সর্বশক্তিধর, সর্বজ্ঞানী একজনের আবির্ভাব হল । তিনি তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতা দিয়ে মহাবিশ্বের সবকিছু জয় করলেন । আসলে জয় করার কথা বলা ঠিক হল না, তাকে আসলে কোন যুদ্ধেই অবতীর্ণ হতে হয় নি । কারণ সমগ্র বিশ্বই ছিল স্থবির, রুক্ষ । প্রাণহীন । তাঁর সামনে দাঁড়ানোর মত কেউ ছিল না । তাই বিনাবাধায় একে একে বিশ্বের আঁনাচে-কানাচে তাঁর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হল । জয় রথ ছুটল ।

এভাবে দিগ্বিদিক ছুটতে ছুটতে ঈশ্বর একদিন অদ্ভুত এক দৃশ্য দেখলেন । তাঁর বিশাল রাজ্যের একপ্রান্তে, অদ্ভুত এক গ্রহের সন্ধান তিনি পেলেন । রুক্ষ নয়, প্রাণহীন নয় । সেখানে প্রাণের প্রকাশ আছে- উদ্দাম- উচ্ছল- দুরন্ত প্রাণ । অদ্ভুত । তিনি যা কখনো দেখেন নি আগে। তিনি কেবল তাঁকে চেনেন আর চেনেন তাঁর দাসী-বান্দিদের । এইসব প্রাণ তাঁর কাছে অচেনা ছিল । তিনি মুগ্ধ হলেন তাঁর রাজ্যের প্রান্তের এ পার্থিব রূপে ।

এবার তিনি এই গ্রহটিকেও তাঁর রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলেন । আগের সকল কিছু যা কিছু তিনি অর্জন করেছেন সব ছিল স্থবির, তাই সর্বক্ষেত্রে তিনি মনে করে গেছেন সবাই তাঁর বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছে । কিন্তু এবার সেটার ব্যত্যয় হল । প্রাণের এই মেলা যার যার নিজের কাজে ব্যস্ত থাকলো, ঈশ্বরের দিকে কেউ ভ্রুক্ষেপও করলো না । ঈশ্বর এই প্রথমবার তাঁর কাজে বাঁধা পেলেন । তিনি বৈঠকে বসলেন তাঁর দাসী-বান্দিদের নিয়ে ।

কী করা যায়? ধ্বংস করে দেবেন এই গ্রহ? না এটা করলে তো গ্রহটা হারিয়ে যাবে । তাঁর তো গ্রহটাকে চাই, এমন সুন্দর, সুজলা-সুফলা ভাবে । কী করা যায়?

দাসী-বান্দিদের কাছে ঈশ্বর পরম পূজনীয়, মহান, কারও কোন অনিষ্ট যিনি করেন না । তাই ঈশ্বর এ গ্রহটাকে ধ্বংস করতে পারেন না, এ গ্রহের বসবাসকারী প্রাণীদের বন্দিও করতে পারেন না, জোরও করতে পারেন না তাঁর বশ্যতা স্বীকার করার জন্য । ইমেজ বলে একটা কথা আছে ।

দাসী-বান্দিরা বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে এলো । কেউ বলল আক্রমণ, আক্রমণ ছাড়া কোন কথা নাই । কেউ বলল ছলে-বলে-কলে-কৌশলে কাজ করতে । তিনি চিন্তায় মগ্ন হয়ে উপায় খুঁজে বের করলেন কিন্তু ইউরেকা ইউরেকা বলে চিৎকার না করে ধীর স্থির ভাবেই বললেন পৃথিবীতে আমার প্রতিনিধি পাঠানো হোক । সবকিছু রেডি করো ।

রেডি হল প্রতিনিধি- এক দুপেয়ে জন্তু । ঈশ্বর তাঁর জ্ঞানের বেশ কিছু অংশও দুপেয়ে’কে দিলেন যেন দুপেয়ে গ্রহটিতে এসে রাজত্ব করতে পারে, এ গ্রহের অন্য প্রাণীদের ওপর ছড়ি ঘোরাতে পারে এবং পরবর্তীতে ঈশ্বরের অধীনে এই গ্রহটিকে ন্যস্ত করতে পারে । এতে গ্রহটিও তাঁর অধীনে চলে যাবে আবার তাঁর ইমেজও একফোঁটা নষ্ট হবে না । অসাম বুদ্ধি ।

মন-প্রাণ, বুদ্ধি-বিবেক, উন্নত মস্তিষ্ক নামেও নতুন নতুন সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত অত্যাধুনিক ফিচার দুপেয়ে’তে সন্নিবেশিত করা হল যাতে ভাল-খারাপ বিবেচনা করে সে সেই কাজটাই করতে পারে, যে কাজটা এই গ্রহকে ঈশ্বরের অধীনে নিয়ে আসবে কিন্তু ঈশ্বরের ভাবমূর্তি এতটুকুও ক্ষুণ্ণ হবে না । যাতে ঈশ্বরের ইমেজে কোনরূপ কালিও লাগবে না ।

ব্যাপারটা এমনভাবে সাজানো হল- দুপেয়ে গ্রহে যাই করুক না কেন তার দায় কেবল দুপেয়ে’র । ভাল করলেও দুপেয়ে’র, খারাপ করলে তো কথাই নাই । ঈশ্বর নিজে মহাসুখে তাঁর অমরাবতীতে বসবাস করেন সাথে থাকে অনেক অনেক দাসী-বান্দি । এখানে কেবল সুখ আর সুখ । দুপেয়ে এই সুখ ছেড়ে অপরিচিত ঐ ভিনগ্রহে যে যেতে আগ্রহী ছিল না তা বলাই বাহুল্য । কিন্তু দুপেয়ে’র আগ্রহ দিয়ে তো আর ভিনগ্রহ জয় হবে না । ছলে-বলে দুপেয়ে’কে ঈশ্বর তাঁর অমরাবতী থেকে বের করে দিলেন আর তাই অসাধারণ এক নাটক অমরাবতীতে মঞ্চায়ন হল । দুপেয়ে অমরাবতী ছেড়ে ভিনগ্রহে এসে পড়ল ।

যাই হোক দুপেয়ে ইচ্ছাতেই হোক আর অনিচ্ছাতেই হোক ভিনগ্রহে বসবাস শুরু করল- ঈশ্বর প্রদত্ত মহাজ্ঞানের ছিটে-ফোঁটাও ভিনগ্রহে প্রয়োগ করতে শুরু করল । সেই মহাজ্ঞানের আলোকছটায় চারিদিক আলোকিত হতে লাগল । কিন্তু এত আলো এ গ্রহে বসবাসরত আদিম প্রাণীদের মধ্যে অনেকেই সহ্য করতে পারল না- তাঁদের চেনা গ্রহ অচেনা হয়ে গেল তাঁদের কাছে । তাঁরা দুপেয়ে’দের মত এত বুদ্ধিমান ছিল না যে আলোর বিপরীতে আঁধার তৈরি করবে, আলোর উজ্জ্বলতা কমাবে । বরং আস্তে আস্তে কোণঠাসা হয়ে একসময় বিলুপ্তির দিকে যেতে লাগল । এত উজ্জ্বল আলোতে কেবল তাঁদের চোখই ঝলসেই গেল না বরং জীবনও ঝলসে গেল । চেনা গ্রহ থেকে তাঁদের একসময় বিদায় নেয়ার ক্ষণ গণনা সেই থেকে শুরু হল ।

সেই গণনা এখনো চলছে । জ্ঞানের দীক্ষা হজম করতে না পেরে এখনো আদিম চেনা সেই গ্রহের অনেক প্রাণী তাঁদের জন্মভূমি গ্রহটি ছেড়ে অজানায় পাড়ি জমাচ্ছে ।

দুপেয়ে ভালই আছে বলা যায় । খায়-দায়, বগল বাজায় । গ্রহ জোড়া তাঁর রাজত্ব । অমরাবতীতে ঈশ্বরের মাতব্বরি তো ছিলই তার সাথে ছিল ঐ দাসী-বান্দিদের গাঁ জ্বালা করা আচরণ । এখানেই ভাল, এই ভিনগ্রহে সে এখন অনেক পরিচিত, সবচেয়ে ক্ষমতাবান । কেউ আর এখানে তাঁর ওপর মাতব্বরি দেখাতে আসেনা । ভালই চলছে দিনাতিপাত ।

ঈশ্বর এখন কী করেন দুপেয়ে তা জানে না । যোগাযোগ নেই । না থাকুক । তবে ভিন গ্রহ জুড়ে রাজত্ব পাইয়ে দেয়ার জন্য কিন্তু অনেক দুপেয়ে ঈশ্বরকে এখনো পূজা দেয় নিয়মিত । ঈশ্বর মনে হয় পূজাতে সন্তুষ্টই তা নাহলে অনেকদিন যে বার্তা বাহক আসছে না! নাকি এতদিনে সেই ভিনগ্রহটি ঈশ্বরের বশ্যতা স্বীকার করেছে!?
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

*কতটুকু কী লিখলাম জানিনা । তবে যাই হোক লেখাটি উৎসর্গ করছি জর্জ এবং আরও অন্যান্য সকল পশু-পাখি-গাছকে যারা মানুষের নির্বুদ্ধিতায় পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিয়েছে ।

৩০.০৬.২০১২
কড়িকাঠুরে


মন্তব্য

মাহবুব লীলেন এর ছবি

দুর্দান্ত গল্প

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ লীলেন দা...

কড়িকাঠুরে

অতিথি লেখক এর ছবি

দুর্দান্ত হইছে। খুবই ভালো লাগলো।
____
আইলসা

অতিথি লেখক এর ছবি

ভালো লেগেছে জেনে তো আমারো অনেক ভালো লাগলো...
শুভেচ্ছা ও ফ্রী- আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

কড়িকাঠুরে

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

চলুক উত্তম জাঝা!

_________________________________
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই
_________________________________
।। রিসার্চ ইন্টারফেস ।।

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ আপনাকেও কবি ভাই।

কড়িকাঠুরে

Atahar এর ছবি

চলুক

অতিথি লেখক এর ছবি

হাসি
আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

কড়িকাঠুরে

চরম উদাস এর ছবি

চলুক বাহ

অতিথি লেখক এর ছবি

হাসি
ভালো থাকুন- উদাস থাকুন- আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

কড়িকাঠুরে

ক্রেসিডা এর ছবি

সুন্দর লেখা। বারবার পড়ার মতো।

চলুক

__________________________
বুক পকেটে খুচরো পয়সার মতো কিছু গোলাপের পাঁপড়ি;

অতিথি লেখক এর ছবি

হাসি
অনেক ভালো থাকুন- আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

কড়িকাঠুরে

স্যাম এর ছবি

চলুক

অতিথি লেখক এর ছবি

হাসি
আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

কড়িকাঠুরে

অমি_বন্যা এর ছবি

চলুক

অতিথি লেখক এর ছবি

হাসি
আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

কড়িকাঠুরে

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক এরকম আরও কিছু আশা করছি আপনার কাছ থেকে।

হিল্লোল

অতিথি লেখক এর ছবি

আসলে প্লট'টা মাথায় ঘুরছিল অণু ভাই'র জর্জকে নিয়ে এই লেখা থেকে তারপর দেখলাম মুর্শেদ ভাই'র স্ট্যাটাস- এরপরই লিখতে বসা ।
কীভাবে গোছানো যায় এটাই সমস্যা ছিল- যে কাজটা আমি ভাল পারিনা ।
যাই হোক কতটুকু কী হয়েছে আপনারা বলবেন- আমি চেষ্টা করবো- আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

কড়িকাঠুরে

টিউলিপ এর ছবি

চলুক

___________________

রাতের বাসা হয় নি বাঁধা দিনের কাজে ত্রুটি
বিনা কাজের সেবার মাঝে পাই নে আমি ছুটি

অতিথি লেখক এর ছবি

হাসি
আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

কড়িকাঠুরে

নজরুল ইসলাম এর ছবি

বাহ্... সুন্দর

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ নজরুল ভাই...

কড়িকাঠুরে

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ভাল লেগেছে। চলুক

অতিথি লেখক এর ছবি

হাসি
অনেক ধন্যবাদ ।

কড়িকাঠুরে

তারেক অণু এর ছবি

ভাল লাগল, আরও বড় ক্যানভাসে ছড়িয়ে দিতে পারতেন চলুক

অতিথি লেখক এর ছবি

কইছ্ছে কীরে মামুর বুটা- অণু'দা... আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

এতটুকুই কত কসরত করে দাড়া করালাম সে যদি দেখতেন-
দেখি(এটা আমার কমন উত্তর যেকোন বিষয়ে)...

অনেক ভাল থাকবেন-

কড়িকাঠুরে

রংধনুর কথা এর ছবি

চলুক

কড়িকাঠুরে এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ...
কড়িকাঠুরে

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

দারুণ! চলুক

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

কড়িকাঠুরে এর ছবি

হাসি
আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

কড়িকাঠুরে

ধুসর জলছবি এর ছবি

অসাধারণ চলুক । আপনি আরও লিখুন।

কড়িকাঠুরে এর ছবি

হাসি
আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-
চেষ্টা করবো...

তদানিন্তন পাঁঠা এর ছবি

চমৎকার লাগল। পরেরটার প্রত্যাশায়।

কড়িকাঠুরে এর ছবি

হাসি
আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

প্রদীপ্তময় সাহা এর ছবি

খুব খুব ভালো লাগল। হাততালি

কড়িকাঠুরে এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ ।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।