বাংলাদেশের চলমান আন্দোলন কেন ইসলামিস্ট বনাম নন-ইসলামিস্ট সংঘাত নয়?

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: শুক্র, ১৫/০৩/২০১৩ - ৪:৪৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

পড়াশুনার জন্য উত্তর আমেরিকার একটি শহরে বসবাস করছি প্রায় তিন বছর। এই কয়দিনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি বাংলাদেশ সম্পর্কে বহির্বিশ্বের জনগনের জ্ঞান এবং আগ্রহ উভয়ই কম। যারা জানে তারা কেবল দক্ষিন এশিয়ার দরিদ্র দেশ যা ইদানিংকালে তৈরি পোশাক রপ্তানী করছে সেই টুকুই জানে। যারা আরও বেশি জানে তারা জানে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম। মুসলিম শব্দটির সাথে তাদের চোখে আমি একধরনের চিত্র দেখতে পাই, যা তৈরি হয়েছে আরব কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমদের দেখে। মানছি উল্লেখিত অঞ্চলগুলোর মুসলমানদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, তবে আমি যেটা বলতে চাই, বাংলাদেশের মুসলিমরা ভৌগলিক, সাংস্কৃতিক অথবা যে কারনেই হোক আরবীয় কিংবা মধ্যপ্রাচীয় মুসলিমদের মত নয়, অথবা অন্তত কিছুদিন আগেও ছিলনা।

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ, তা সে হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম কিংবা খ্রিস্টান যাই হোক তারা ধার্মিক। তবে ধর্মীয় সংস্কৃতির উর্ধ্বে তাদের সকলে ধারন করে বাঙালি সংস্কৃতি যেটাকে ভৌগলিক কারনে আমরা বাংলাদেশী সংস্কৃতিও বলতে পারি। হ্যাঁ কিছু মানুষ আছে যারা স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন না, তারা আগেও ছিলেন এখনও আছে। আমার ছোটবেলায় আমি আমার মা, খালা কিংবা ফুপুদের বলতে শুনেছি তাদের অমুক ভাই অথবা মামা নাস্তিক, নামাজ পড়েনা, বলে আল্লাহ নেই। কিন্তু আর পরিবারে সমাজে অন্য সকলের সাথে সে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা, জীবন-যাপন, ঈদ, পহেলা বৈশাখ সবই পালন করতো। চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলার হুমকি তাদের কেউ কখনো দিয়েছে বলে শুনিনি। আমার নানী-দাদীরা তার ওই পথভ্রষ্ট ছেলেটির জন্য স্রষ্টার দরবারে নামাজ পড়ে কান্নাকাটি করেছেন যাতে কোনভাবে স্রষ্টা তার হেদায়েত করেন। টুপি পরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া বন্ধু, হিন্দু বন্ধু এবং নাস্তিক বন্ধু একই সাথে পাড়ার চায়ের দোকানে আড্ডা দিয়েছে।

এখন প্রশ্ন হল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমের বাংলাদেশে এই ধার্মিক মুসলমানদের জন্য আলাদা ইসলামিস্ট রাজনৈতিক দলের আদৌ কি কোন প্রয়োজন ছিল, নাকি আছে? আমি মনে করি নাই। তুরস্ক, মিশর এবং ইরানের মত দেশগুলোতে সেক্যুলার রাজনৈতিক দলের শক্তিশালী অস্তিত্ব ধার্মিক মুসলিমদের স্বাধীন ধর্ম পালনের অধিকারের পথে কখনো কখনো বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংখ্যালঘিষ্ঠ ধর্মের জনগণের সাথে অন্তত কাগজে কলমে ধর্মভিত্তিক নয় বাংলাদেশের এমন রাজনৈতিক দলগুলো কে কত অন্যায় আর অবিচার করেছে তা আমার অন্য লেখার জন্যে রেখে দিয়ে বলি মুসলিমদের ধর্মপালনের অধিকার রক্ষা করতে তারা সদা সচেষ্ট। একারনে জামায়াতে ইসলামী এবং সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর যে বিশেষ ইসলামী পরিচয় তা বাংলাদেশের মানুষের জন্য নিতান্তই অবান্তর। ধার্মিক জনগণের ধর্মীয় দূর্বলতাকে পূঁজি করে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করা আর তলে তলে উগ্র ধর্মান্ধতার মদদ দেয়া ছাড়া আর কি করেছে জামায়াতে ইসলামী এবং একই মনোভাবাপন্ন অন্য রাজনৈতিক দলগুলো?

জামায়াতে ইসলামী নিজেদের ইসলামী জনগনের প্রতিনিধি হিসাবে বহির্বিশ্বে প্রচার করতে পারে এবং বিএনপি তাদের সাথে রেখে আরও বেশি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে দাবী করতে পারে। তবে তা কেবলই রাজনৈতিক সুবিধা লাভ এবং নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে। মুসলিম জনগন জামায়াতকে জন্ম দেয়নি, কিছু স্বাধীনতা বিরোধী, যুদ্ধাপরাধী উগ্রপন্থী ইসলামিস্টদের রাজনীতিতে অবস্থান তৈরি করে দেয়ার জন্যই কেবল স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর জন্ম হয়েছিল এবং কালক্রমে তারা নিজেদের অস্তিত্ব ও ক্ষমতার স্বার্থে ছলে-বলে- কৌশলে বাংলাদেশের ধার্মিক মানুষের স্বল্প অংশকে ধর্মান্ধ বানিয়ে নিজেদের কর্মী বাহিনীকে শক্তিশালী করেছে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল ইসলামী ছাত্র-শিবিরের কর্মকাণ্ড। বাংলাদেশের মুসলিম জনগণের প্রতিনিধি হিসাবে তারা যে পরিচয় বহির্বিশ্বের কাছে দিয়ে আসছে তা একেবারেই ভুল এবং তা কেবল নিজেদের যুদ্ধাপরাধী পরিচয় আড়াল করার জন্য।

তাই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশকে অন্য মুসলিম রাষ্ট্রের সাথে তুলনা করে শাহবাগ আন্দোলনকে ইসলামিস্ট বনাম নন-ইসলামিস্টদের দন্ধ, সংঘাত, যুদ্ধ ইত্যাদি বলে প্রচার মোটেই যৌক্তিক নয়। এই আন্দোলন স্বাধীনতার পক্ষ বনাম বিপক্ষের আন্দোলন, মানবতা বনাম অমানবতার আন্দোলন, ন্যায় বনাম অন্যায়ের আন্দোলন। রাজাকারদের ফাঁসির দাবীতে প্রতিদিন রাস্তায় নেমে আসা মানুষদের মধ্যে আছে প্রতিদিন পূজা করা হিন্দু- বৌদ্ধ, গির্জায় যাওয়া খ্রিস্টান, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া মুসলিম, আছে মাঝে মধ্যে ধর্ম পালন করা তরুন অথবা বৃদ্ধ, স্রষ্টায় বিশ্বাসকারী অথচ ধর্মীয় আচার পালন না করা মানুষ কিংবা আদতেই স্রস্টার অস্তিত্বে সন্দিহান অথবা অবিশ্বাসী জন্মসূত্রে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান। ধর্মীয় পরিচয় যার যাই হোক না কেন তারা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতেই কেবল আন্দোলন করছে।

- কৃষ্ণচূড়া


মন্তব্য

Emran  এর ছবি

ভালো লেখা, কিন্তু একটা প্রশ্নঃ বিপ্লবোত্তর ইরানের "শক্তিশালী" সেকুলার রাজনৈতিক দলের (বা দলগুলির) নাম কি বলতে পারবেন? আমার জানামতে ইরানের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে কম্যুনিস্ট পার্টির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কোন উপায়েই হোক, খোমেনির নেতৃত্বে মোল্লারা এই আন্দোলনের দই তাদের পাতে তোলে; এবং ক্ষমতা দখলের পরে বিভিন্ন দমননীতির মাধ্যমে কম্যুনিস্ট এবং অন্যান্য উদারপন্থী সেকুলার দলগুলিকে নিষ্ক্রিয়/ধ্বংস করে দেয়।

অতিথি লেখক এর ছবি

ইরানের ক্ষেত্রে আসলে বিপ্লব পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী শাহ-দের শাসনামলটাই সেক্যুলার ছিল, যাদের রাষ্ট্রনীতিতে ধর্ম আর রাষ্ট্রকে আলাদা করে দেখা হতো। তবে একই সাথে তারা স্বাধীন ধর্ম পালনের অধিকারকে খর্বও করে কোন কোন জায়গায়। এটাই আসলে ওই সময়ে খোমেনি তথা ইসলামী রাজনৈতিক দলের সাফল্যর পেছনে ভূমিকা রেখেছিল, যা পরে সিন্দাবাদের ভূতের মত ইরানের ঘাড়ে চেপে বসেছে। আমার কথা হল বাংলাদেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক দলই যেহেতু অন্তত মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকারের পথে কখনো বাঁধা হয়ে দাড়ায়নি, তাই আলাদা করে ইসলামিস্ট রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন ছিলনা। বিপ্লবের পরে "শক্তিশালী" সেকুলার রাজনৈতিক দল ইরানে নাই। আমার উদাহরণটা সবগুলো দেশের প্রেক্ষিতে একটা generalization ছিল। আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। হাসি

হাসিব এর ছবি

ইসলামিস্ট পশ্চিমা মিডিয়ার আবিস্কৃত সাম্প্রদায়িক শব্দ। বাংলাদেশে এই জিনিস আমদানির কোন প্রয়োজন নাই।

পৃথ্বী এর ছবি

যেই মতবাদ ইসলামকে রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করে, সেই মতবাদকে নির্দেশ করার জন্যই "ইসলামিজম" ব্যবহার করা হয়। কথিত ইসলামিস্টরা যদি বাস্তবে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বা সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাস না করত, তখনই কেবল "ইসলামিস্ট" তকমাটাকে সাম্প্রদায়িক বলা যেত। যেসব ইসলামিস্ট এই শব্দটা নিয়ে আপত্তি করে, তারা কিন্তু কেউ দাবি করে নাই এই লেবেল দিয়ে তাদের রাজনৈতিক দর্শনকে(যে ইসলামে একটি পরিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা আছে) ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

মওদুদি-খোমেনি-হাসান আল বান্না-সাইদ কুতুবদের ইহজাগতিক ইসলাম থেকে আধ্যাত্মিক ইসলামকে আলাদা করার জন্য এই তকমাটার দরকার আছে।


Big Brother is watching you.

Goodreads shelf

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাই, ইসলামিস্ট শব্দটা পশ্চিমা মিডিয়ার আবিস্কৃত সাম্প্রদায়িক শব্দ হোক আর নাই হোক পৃথিবীতে এদের অস্তিত্ব বিদ্যমান। জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সমর্থক- সহযাত্রীরা বাংলাদেশেও তা প্রায় প্রতিষ্ঠিত করার পথে। মন খারাপ

সুমাদ্রী এর ছবি

তুরস্ক, মিশর এবং ইরানের মত দেশগুলোতে সেক্যুলার রাজনৈতিক দলের শক্তিশালী অস্তিত্ব ধার্মিক মুসলিমদের স্বাধীন ধর্ম পালনের অধিকারের পথে কখনো কখনো বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এখানেই গণ্ডগোলটা বাঁধে বারবার। সেক্যুলার মানে ধর্মহীন এমন তো নয়। রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক দল ধর্মকে কোনরকম পৃষ্ঠপোষকতা করবে না, এটাই সেক্যুলার রাষ্ট্র বা রাজনীতির বৈশিষ্ট্য। জনগন ধর্ম পালন করুক ব্যক্তিগত জীবনে, সাড়ম্বরে বা অনাড়ম্বরে- এতে কোন বাধা নেই। খালি রাষ্ট্র আপনার ধর্ম-কর্মকে আপনার অন্দর-মহল থেকে রাষ্ট্রের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করবে না। পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে সংবিধান তক। ধর্ম পালন করুন, চর্চা করুন, কোন অসুবিধা তো এতে নেই, খালি রাষ্ট্র বা রাজনীতি এটাতে কোন নাক গলাবে না, এটাই নীতি।

অন্ধকার এসে বিশ্বচরাচর ঢেকে দেওয়ার পরেই
আমি দেখতে পাই একটি দুটি তিনটি তারা জ্বলছে আকাশে।।

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার সাথে পুরোপুরি একমত, সুমাদ্রী। মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ হাসি

mamun এর ছবি

'ইসলামে একটি পরিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা আছে'-যা পৃথিবীর কোথায়ও এখন পযর্ন্ত চালু নেই। মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলো পশ্চিমের অর্থনীতির সক্রিয় অংশিদার। এ সকল সত্ত্বেও কাদের প্ররোচনায় 'শিক্ষিত' শিবির যুবকরা -ইসলাম একটি পরিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা-কায়েমের জন্য- প্রতারিত হচ্ছে?

অতিথি লেখক এর ছবি

'পরিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা' রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সমান অধিকারকে সুনিশ্চিত করে কিনা সেটি বিতর্কিত, পরিপূর্ণ শব্দটাও আপেক্ষিক । ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র কোন নাগরিকের ব্যক্তি ধর্ম পালনের পথে বাঁধা হয়ে দাড়ায় না, সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং সংখ্যালঘিষ্ঠ ধর্মের মানুষের সব ক্ষেত্রে সমান অধিকার রাষ্ট্র নিশ্চিত করে। মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলো পশ্চিমের অর্থনীতির সক্রিয় অংশীদার হলেও তাদের রাষ্ট্রীয় আইন-কানুন ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা অনুযায়ী চালিত।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় ‘শিক্ষিত’ হলেই জ্ঞানের আলোতে আলোকিত হয়ে নিজের বুদ্ধিবৃত্তি, নীতিবোধ এবং মানসিকতার উৎকর্ষতা সাধন সকলে্র দ্বারা সম্ভবপর হয়না। কিছু কূটকৌশলী মানুষের ক্ষমতা লাভের চালে এদের মগজধোলাই করা মোটেও কঠিন কিছু নয়। সবচেয়ে দুঃখজনক হল এরা যে প্রতারিত হচ্ছে তা আমি আপনি এবং আরও অনেকে বুঝলেও ধোলাইকৃতরা নিজেরা তা বুঝছে বলে মনে হয়না!

mamun এর ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলো পশ্চিমের অর্থনীতির সক্রিয় অংশীদার হলেও তাদের রাষ্ট্রীয় আইন-কানুন ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা অনুযায়ী চালিত। তারা কতটা ইসলামী আইনে চালিত? তাদের রাজনীতি,অথর্নীতি কতটা ইসলাম সম্মত? 'শিক্ষিত' শিবির কর্মীদের কোন ধারণা আছে? নেই। থাকলে তারা নিজদেশের মুসলীমদের হত্যা করে ইসলাম কায়েমের নামে ধ্বংস যজ্ঞ করত না।

mamun এর ছবি

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র /অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ইত্যাদি অনেক উচ্চমার্গের কথা। এগুলো শিবিরের ঘিলুতে ঢুকবে না। যে ইসলাম ইসলাম করে চেচামেচি করছে, সেখানেই যে তারা প্রতারিত হচ্চে, তাই বুঝে না। আগের বক্তব্বের সাথে যোগ করলাম।
** একই কথা খাটে উগ্র সমাজতন্ত্রী/উগ্র অসাম্প্রদায়িকের ক্ষেত্রে।কে তাদের ব্যাকিং দিচ্ছে না জেনে/অথবা জানতে সক্ষম না হয়ে প্রতারিত হয়ে ঝা৺পিয়ে পরে সশস্র বিপ্লবে। উগ্র ইসলামী বিপ্লব/উগ্র সমাজতন্ত্রী বিপ্লব এক একটা জেনারেশনকে ধ্বংস করে দেয়, অশেষ ক্ষতি করে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক।

মানিক মনিরুল এর ছবি

অণেক শক্তীশালী একটা লেখা। ভালোলাগল। চলুক

অতিথি লেখক এর ছবি

উত্সাহ পেলাম, ধন্যবাদ হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

তুরস্ক, মিশর এবং ইরানের মত দেশগুলোতে সেক্যুলার রাজনৈতিক দলের শক্তিশালী অস্তিত্ব ধার্মিক মুসলিমদের স্বাধীন ধর্ম পালনের অধিকারের পথে কখনো কখনো বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রচন্ডভাবে সহমত। এ ব্যাপারে বেশ খোঁজ নিয়েছি গত এক মাসে।

মুসলিম জনগন জামায়াতকে জন্ম দেয়নি, কিছু স্বাধীনতা বিরোধী, যুদ্ধাপরাধী উগ্রপন্থী ইসলামিস্টদের রাজনীতিতে অবস্থান তৈরি করে দেয়ার জন্যই কেবল স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর জন্ম হয়েছিল এবং কালক্রমে তারা নিজেদের অস্তিত্ব ও ক্ষমতার স্বার্থে ছলে-বলে- কৌশলে বাংলাদেশের ধার্মিক মানুষের স্বল্প অংশকে ধর্মান্ধ বানিয়ে নিজেদের কর্মী বাহিনীকে শক্তিশালী করেছে।

এর চাইতে গুছিয়ে মনে হয় বলা সম্ভব না।

এই আন্দোলন স্বাধীনতার পক্ষ বনাম বিপক্ষের আন্দোলন, মানবতা বনাম অমানবতার আন্দোলন, ন্যায় বনাম অন্যায়ের আন্দোলন। রাজাকারদের ফাঁসির দাবীতে প্রতিদিন রাস্তায় নেমে আসা মানুষদের মধ্যে আছে প্রতিদিন পূজা করা হিন্দু- বৌদ্ধ, গির্জায় যাওয়া খ্রিস্টান, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া মুসলিম, আছে মাঝে মধ্যে ধর্ম পালন করা তরুন অথবা বৃদ্ধ, স্রষ্টায় বিশ্বাসকারী অথচ ধর্মীয় আচার পালন না করা মানুষ কিংবা আদতেই স্রস্টার অস্তিত্বে সন্দিহান অথবা অবিশ্বাসী জন্মসূত্রে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান।

সুন্দর। আমার মনের কথাগুলো যেনো আপনার লেখায় স্থান পেয়েছে। দারুণ লিখেছেন। এই কথাগুলো জামায়াত শিবিরও বুঝে। কিন্তু স্বীকার করে না এই আর কি।

সামি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।