গ্রামীন ব্যাঙ্কঃ সুদের হার, মালিকানা এবং আরো কিছু বিতর্ক (পর্ব ১.১)

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: মঙ্গল, ০৯/০৭/২০১৩ - ৭:১৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

অনেকেই হয়তো স্বীকার করবেন যে গ্রামীন ব্যাংক নিয়ে চলমান বিতর্কের অনেকখানিই শুধুমাত্র প্রকৃত তথ্যের পর্যালোচনা থেকে নিরসন হওয়া সম্ভব। এরকম পর্যালোচনা যে নেই তা কিন্তু না; সরকার কর্তৃক গঠিত গ্রামীন ব্যাংক সম্পর্কিত রিভিউ কমিটির প্রতিবেদন (২০১১) কিংবা ফেব্রুয়ারী ২০১৩ এর গ্রামীন ব্যাংক কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট পড়লেও বহুল প্রচলিত অনেক গুজবের পরিষ্কার উত্তর পাওয়া যায়।

কিন্তু এত তথ্য ঘাটাঘাটির সময় কোথায়? আবার সংক্ষেপে যেসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় (যেমন বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউনুস সেন্টারের প্রচারিত জবাব), তা কতখানি বস্তুনিষ্ঠ সেটা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। এই লেখায় তাই আমার প্রচেষ্টা থাকবে স্বল্প পরিসরে প্রাসঙ্গিক বিতর্কগুলোর যথাসম্ভব কাছাকাছি যাওয়া। মূল উদ্দেশ্য প্রকৃত তথ্য-যুক্তিভিত্তিক বিতর্ককে প্রচলিত গুজব থেকে আলাদা করা। আরেকটা ডিসক্লেইমার দেই, এটা কোন পূর্নাঙ্গ গবেষনাপত্র নয়, তাই তথ্য-যুক্তির সাথে সাথে ব্যক্তিগত অভিমতও থাকতে পারে। তবে আলোচনার ক্ষেত্রে সক্রিয় চেষ্টা থাকবে প্রথমটা থেকে দ্বিতীয়তে যাওয়ার, উল্টোটা নয়।

এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক। যেসব ইস্যু নিয়ে সচরাচর বিতর্ক হয় সেগুলো হচ্ছে,

১) গ্রামীন ব্যাংকের সুদের হার কত এবং সেটা কত বেশী।
২) গ্রামীন ব্যাংকের মালিক কি আসলেই ঋণগ্রহীতারা নাকি সরকার নাকি ডঃ ইউনুস।
৩) দারিদ্র্য বিমোচনে গ্রামীন ব্যাংক আদৌ কোন ভূমিকা রাখতে পারছে কিনা বা রাখতে পারলে সেটা কতটুকু।

যদিও আরো অনেক বিতর্ক আছে কিন্তু শুধু গ্রামীন ব্যাংকের কথা চিন্তা করলে এই তিনটাই মনে হয় প্রধান। ইচ্ছা আছে এই তিনটা বিষয়ে একটা করে পর্ব লেখার (প্রোভাইডেড লেখার সময় করে উঠতে পারি এবং সেটা সচলে প্রকাশের মত মানসম্মত হয়)।

১.১. গ্রামীন ব্যাংকের সুদের হারঃ আমরা সাধারনভাবে সুদের হার বলতে বুঝি, ১০০ টাকা ঋণ নিলে ১ বছর পর সুদাসল হিসেবে ১০০ টাকার অতিরিক্ত আর কত টাকা দিতে হবে। এটাই প্রকৃত বা কার্যকরী সুদের হার (Effective Interest Rate)। কিন্তু মাইক্রক্রেডিটের ক্ষেত্রে যেহেতু কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করা হয়, তাই ঋণগ্রহনের পুরো সময় গ্রহীতার ঋনের ব্যালান্স সমান থাকে না। কিস্তি পরিশোধের সাথে সাথে ঋনের পরিমান কমতে থাকে। তাই এক বছরে গ্রাহক কর্তৃক প্রদত্ত সুদের পরিমান আর কার্যকরী সুদের হার আলাদা হতে পারে। তাই গ্রামীন ব্যাংকের সুদের হারের হিসাবে যাওয়ার আগে মাইক্রক্রেডিটের সুদের হার নির্নয়ের ফ্লাট রেট এবং ডিক্লাইনিং রেটের ব্যাপারটা একটু রিভিউ করে আসি।

১.১.১. ফ্লাট রেট সুদ গননাঃ যদিও মাইক্রক্রেডিটের ক্ষেত্রে বছরের পুরো সময় ঋনের ব্যালান্স সমান থাকে না, ফ্লাট রেট সুদ গননার ক্ষেত্রে ঋন পরিশোধের পুরো সময়ে একই পরিমানে সুদ পরিশোধ করতে হয়। যেমন, যদি বলা হয় ফ্লাট রেটে সুদ ১০%, তাহলে ১০০০ টাকা ঋণ নিলে মোট ১১০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে ১০০ টাকা সুদসহ। এটা যদি এক বছরে ৫০ টি কিস্তিতে পরিশোধ করা হয় তাহলে প্রতি কিস্তিতে দিতে হবে ২২ টাকা, যার মধ্যে ২০ টাকা আসল এবং ২ টাকা সুদ। তার মানে প্রথম সপ্তাহে ১০০০ টাকা ব্যালান্সের উপর সুদ দেয়া হচ্ছে ২ টাকা, কিন্তু দ্বিতীয় সপ্তাহের ব্যালেন্স ৯৮০ টাকা হলেও দ্বিতীয় সপ্তাহেও আপনাকে ২ টাকাই সুদ দিতে হচ্ছে। আবার সর্বশেষ কিস্তি যখন ব্যালেন্স মাত্র ২০ টাকা, তখনো ২ টাকা সুদ দিতে হবে।

এধরনের সুদ গননার সুবিধা হচ্ছে এটা সহজে হিসাব করা যায়। সুদাসল বের করে মোট কিস্তির সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলেই পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কিস্তি কত টাকার হবে। অসুবিধা হচ্ছে, ফ্লাট রেট একই রেখেও কার্যকরী সুদের হার অনেক কমবেশী করার সুযোগ থেকে যায়। ঋনের পরিশোধকাল কমিয়ে দিলে প্রকৃত সুদের হার বেড়ে যাবে আবশ্যিকভাবে । অধিকন্তু কত কিস্তিতে সুদাসল পরিশোধ করা হল তার উপরও নির্ভর করবে কার্যকরী সুদের হার। কিস্তির সংখ্যা বেশি হলে অর্থাৎ মাসিক এর জায়গায় সাপ্তাহিক হলে বা সাপ্তাহিক এর জায়গায় দৈনিক হলে সুদের হার বেড়ে যাবে। এধরনের সূক্ষ হিসাব অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঋণগ্রহীতার বুঝতে পারার কথা নয় বলে ফ্লাট রেট হিসাবে প্রতারিত হওয়ার একটা সুযোগ থাকে। এজন্য অনেক দেশেই ফ্লাট রেটে সুদের হিসাব করা বা ফ্লাট রেট প্রচার করা নিষিদ্ধ।

স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে, কার্যকরী সুদের হার ফ্লাট রেটের চেয়ে বেশী হবে। কত বেশী হবে সেটা নির্ভর করবে অন্যান্য প্যারামিটারের উপর (মেয়াদ, ফ্রিকোয়েন্সি)। বলা হয়ে থাকে, কার্যকরী সুদের হার ফ্লাট রেটের দ্বিগুনের মত, যেটা আসলে সবসময় প্রযোজ্য নয়।

১.১.২. ডিক্লাইনিং ব্যালেন্সের উপর সুদ গননাঃ ডিক্লাইনিং ব্যালেন্সের ক্ষেত্রে আপনার যখন যত টাকা ঋণ আছে আপনি শুধুমাত্র সেই টাকার উপরেই সুদ দেবেন। আগের উদাহরনে এবার ধরি সুদের হার ডিক্লাইনিং রেটে ২০%। বছরে ৫০ টি কিস্তি যদি দেয়া হয় (কিছুটা সরলীকরন করছি), তাহলে প্রতি কিস্তিতে সুদের হার ০.৪% (এক্ষেত্রে (২০/৫০)%) । তাহলে ১০০০ টাকা ঋণ নেয়ার পর প্রথম সপ্তাহে আপনি ১০০০ টাকাই ভোগ করছেন, তাই আপনার প্রদেয় সুদ হবে ১০০০X.০০৪ = ৪ টাকা। তার সাথে আপনি আসলের কিস্তি হিসেবে ১০০০/৫০=২০ টাকা পরিশোধ করলেন। তাহলে আপনার প্রথম কিস্তি ২৪ টাকা। আপনার কাছে রইল ৯৮০ টাকা। তার মানে পরের সপ্তাহে আপনি ৯৮০ টাকার উপর সুদ প্রদান করবেন, অর্থাৎ ৯৮০X.০০৪ = ৩.৯২ টাকা। অর্থাৎ আপনার দ্বিতীয় কিস্তি হবে ২৩.৯২ টাকা। এভাবে আপনার ঋণকৃত আসলের পরিমান যত কমতে থাকবে আপনার সাপ্তাহিক সুদের পরিমান ও কমতে থাকবে।
এই পদ্ধতির সুবিধা হচ্ছে এটা সুদ নির্নয়ের অন্যান্য প্রচলিত পদ্ধতির সাথে তুলনীয়। অর্থাৎ, ডিক্লাইনিং ব্যালেন্সের উপর সুদ গননা হলে এই হারকে কার্যকরী বা প্রকৃত সুদের হার বলা যায়। সমস্যা হচ্ছে এই পদ্ধতিতে প্রতি কিস্তিতে প্রদেয় টাকার পরিমান ভিন্ন। সীমিত কারিগরী দক্ষতা এবং অশিক্ষিত গ্রাহক ভিত্তির কারনে উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটা অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

১.১.৩. গ্রামীন ব্যাংকের সুদ গননার মেথডঃ গ্রামীন ব্যাংক তাদের সুদ হিসাবের ক্ষেত্রে একটি মিশ্র পদ্ধতি ব্যবহার করে। গ্রামীন ব্যাংকের সর্বোচ্চ সুদের হার সাধারন ঋনগ্রহীতাদের জন্য ডিক্লাইনিং ব্যালেন্সের রেটে ২০%। কিন্তু কিস্তির পরিমান সমান রাখার জন্য এটাকে একটা মডিফায়েড ফ্লাট রেটে কনভার্ট করা হয়। গ্রামীন ব্যাংক সম্পর্কিত রিভিউ কমিটির প্রতিবেদন (২০১১) থেকে একটা উদাহরন দেই।

মনে করুন একজন গ্রামীন ব্যাংক থেকে ৩০০০০ টাকা ঋণ নিলেন। গ্রামীন ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে হয় মোট ৪৪ কিস্তিতে। এখন ৩০০০০ টাকার উপর ১০% ফ্লাট রেটে সুদ আসে ৩০০০ টাকা। তাহলে মোট প্রদেয় ৩৩০০০ টাকা, এটাকে ৪৪ কিস্তিতে ভাগ করলে প্রতি কিস্তি ৭৫০ টাকা। এভাবে হিসাব করলে প্রকৃত সুদের হার ২০% এর চেয়ে বেশী হয়ে যায় (অনেকে এটা আগেও পয়েন্ট আউট করেছেন)। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, প্রকৃত সুদের হার যাতে এভাবে কিস্তি নেয়ার পরেও ২০% এর বেশি না হয়, তার জন্য গ্রামীন ব্যাংক শেষ কিস্তিতে একটা সামঞ্জস্য করে।

অর্থাৎ গ্রাহক যদিও মোট ৭৫০ টাকা প্রদান করছেন, ব্যাংক এটার একটি অংশ আসল এবং একটি অংশ সুদ হিসেবে বিবেচনা করে। এক্ষেত্রে প্রতি কিস্তিতে আসল ৬৬০ টাকা এবং সুদ ৯০ টাকা। এখন আমরা ডিক্লাইনিং ব্যালেন্সের হিসাব করতে পারি। বার্ষিক সুদের হার ২০% হলে সাপ্তাহিক সুদের হার হয় ০.৩৮৪৬%(এক্ষেত্রে (২০/৫২)%) । তাহলে প্রথম সপ্তাহের সুদ ৩০০০০X০.০০৩৮৪৬ = ১১৫ টাকা (প্রায়)। তার মানে গ্রাহক তার প্রদেয় সুদের চেয়ে ২৫ টাকা কম দিচ্ছেন। দ্বিতীয় সপ্তাহে গ্রাহকের হাতে আছে আসল ৩০০০০-৬৬০ = ২৯৩৪০ টাকা। এটার সুদ আসে প্রায় ১১৩ টাকা কিন্তু গ্রাহক দিচ্ছেন এবারো ৯০ টাকা অর্থাৎ ২৩ টাকা কম। এভাবে প্রতি সপ্তাহে অপরিশোধিত ঋণের পরিমান কমতে কমতে একসময় প্রদেয় সুদ ৯০ টাকার চেয়ে কম হয়ে যাবে। কিন্তু গ্রাহক যেহেতু তখনো ৯০ টাকা হারে সুদ প্রদান করবেন তাই এই অতিরিক্ত সুদ তখন পূর্বের ঋণাত্মক অর্থাৎ পাওনা সুদের সাথে সমন্বয় করা হবে। এভাবে ৪৪ তম কিস্তিতে দেখা যাবে, গ্রাহক মোট মিলিয়ে ১২৮৪ টাকা অতিরিক্ত সুদ পরিশোধ করেছেন। এবং ৪৪ তম সপ্তাহে যেহেতু অপরিশোধিত ঋনের পরিমান ছিল ১৬২০ টাকা, তাই এবার ১৬২০-১২৮৪=৩৩৬ টাকা আসল পরিশোধ করলেই গ্রাহকের সব টাকা শোধ হয়ে যাচ্ছে। রিভিউ কমিটির প্রতিবেদন থেকে নিয়ে আমি হিসাবটা আবার করেছি। চাইলে বিস্তারিত দেখে নিতে পারেন এখানে

এভাবে ঋণের কিস্তি হিসাব করাকে সম্ভবত অ্যামর্টাইজেশন বা কিছু একটা বলে ফিন্যান্স লিটারেচারে। সেটা যেহেতু জানি না, তাই ৭৫০ টাকা কিস্তিকে কেন ৬৬০+৯০ এভাবে ভাগ করা হল, অন্যভাবে কেন করা হল না, সেটা বলতে পারলাম না। সাধারন জ্ঞান বলে এটাকে এদিক সেদিক করলে শেষ কিস্তির টাকার পরিমানে কিঞ্ছিত হেরফের হবে, কিন্তু তাতে প্রকৃত সুদের হারের বড় কোন পরিবর্তন হওয়া সম্ভব না যেহেতু ২০% সুদ ধরেই সব হিসাব করা হচ্ছে এবং শেষ কিস্তি ছাড়া বাকি সবগুলো কিস্তির টাকা অপরিবর্তিত থাকছে। কিউরিয়াস মাইন্ডস এই এক্সারসাইজ করে দেখতে পারেন। আমি বরং যেভাবে বুঝি সেভাবে এটার মানে বের করার চেষ্টা করলাম নীচে।

১.১.৪. একটি বিকল্প হিসাবঃ এবার আমার হিসাব। আমি ৭৫০ টাকার কত টাকা আসল আর কত টাকা সুদ সেই হিসাবে যাব না, আমি বরং ব্যাংকের রিটার্ন হিসাব করব। গ্রামীন ব্যাংক যদি সাধারন ব্যাংক হত আর আমার মত সাধারন একজন মানুষকে ২০% সরল সুদে ৩০০০০ টাকা ঋণ দিত এবং সুদের হার সাপ্তাহিক হিসাব করত তাহলে বছর শেষে ফেরত পেত ৩০০০০(১+(.২/৫২))^৫২ =৩৬৬২৮ টাকা। এখন দেখব একজন দরিদ্র মানুষকে এই জটিল পরিশোধ প্রক্রিয়ায় ৩০০০০ টাকা ঋণ দিয়ে ব্যাংক এর চেয়ে বেশী পাচ্ছে কিনা। আইডিয়াটা খুব সরল। গ্রামীন ব্যাংক প্রতি সপ্তাহে ৭৫০ টাকা ফেরত পাচ্ছে। তাহলে প্রথম সপ্তাহের শেষে যে ৭৫০ টাকা ফেরত পাচ্ছে সেটা আরো ৫১ সপ্তাহ বিনিয়োগ করতে পারছে। ২০% সুদে সেই টাকা এক বছর পরে হবে ৭৫০(১+(.২/৫২))^৫১ =৯১২ টাকা। এভাবেঃ

২য় সপ্তাহের টাকা ৫০ সপ্তাহে হবে ৯০৯ টাকা।
৩য় সপ্তাহের টাকা ৪৯ সপ্তাহে হবে ৯০৫ টাকা।
.........................................................

এভাবে সবগুলো কিস্তির ফিউচার ভ্যালু হিসাব করে যোগ করলে হয় ৩৬৬৬৬ টাকা। অর্থাৎ, সাধারন ঋনের চেয়ে ৩৮ টাকা বেশী। তাহলে সুদের হার একটু বাড়িয়ে দেই। ট্রায়াল এন্ড এরর করে দেখা যায়, ২০.২৫% সুদের হার ধরলে সাধারন ঋণ আর ক্ষুদ্রঋনের ফিউচার ভ্যালু সমান হয়। অর্থাৎ আমার হিসেবে গ্রামীন ব্যাংকের ঋণের ইন্টারনাল রেট অব রিটার্ন ২০.২৫%। এবার ফিন্যান্স না জানলেও আমি সন্তুষ্ট। ৭৫০ কে ৬৬০+৯০ এভাবে ভাগ করে আর যাই করা হোক, ২০% এর চেয়ে অনেক বেশী সুদ নেয়া হচ্ছে না। আমার হিসাবটাও দেখতে পারবেন এখানে, দ্বিতীয় শীট এ।

১.১.৫. অন্যান্য প্রসঙ্গঃ এবার অন্যান্য প্রসঙ্গ। বাধ্যতামূলক সঞ্চয়, ঋণবীমা, কেন্দ্রঘর নির্মান ইত্যাদি বাবদ প্রদেয় অর্থ হিসাব করলে সুদের হার আকাশচুম্বী হয়ে যায় কিনা? প্রথমত ২০১০ থেকে সঞ্চয় এবং ঋণবীমা বাধ্যতামূলক নয়। সুতরাং এটা এখন আর ঋণগ্রহনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ খরচ কোনটার মধ্যেই পড়ে না। আপনি গ্রামীন ব্যাংক থেকে লোন নিলে ২০% সুদে সেটা পরিশোধ করবেন। চাইলে আপনি আপনার সঞ্চয় ৮-১২% সুদে গ্রামীন ব্যাংকে রাখতে পারেন, যেমন আপনি অন্য ব্যাংকে রাখেন অথবা তোষকের তলায় রাখেন। ২০১০ এর আগে তাহলে কি ছিল? রিভিউ কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী বাধ্যতামূলক সঞ্চয়, ঋণবীমা, কেন্দ্রঘর নির্মান সবকিছু ধরলে প্রকৃত সুদের হার ছিল ২৩.৭৬%। এর বাইরে স্বামীকে বীমার অন্তর্ভুক্ত করলে এই হার দাঁড়াবে ২৭.০৫%। কিন্তু স্বামীর বীমা ঐচ্ছিক হওয়ায় এটাকে ঋণগ্রহনের খরচের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার কোন কারন নেই। মোদ্দাকথা, ২০১০ এর পর থেকে সঞ্চয় ও ঋণবীমা ঐচ্ছিক হয়ে যাওয়াতে ঋণগ্রহনের পরোক্ষ খরচগুলো এখন আর নেই।

এরপরের প্রশ্ন আসবে সুদের হার যদি ২০% এর কাছাকাছি হয়, এটা কি খুব বেশী বা খুব কম কিনা? এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার মত পর্যাপ্ত গবেষনা আমি করিনি। কিন্তু সুদের হার বেশী হওয়া বা কম হওয়া কি কি বিষয়ের উপর নির্ভর করে সেগুলো সম্পর্কে একটু বলার চেষ্টা করব পরবর্তী পর্বে। এখানে একটি বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে, আমরা ক্ষুদ্রঋণ মডেলকে টেকসই দেখতে চাই কি না। অর্থাৎ সরকারী বা বিদেশী অনুদান ছাড়াও যদি গ্রামীন ব্যাংকের কার্যক্রম চালাতে হয়, তাহলে অন্ততপক্ষে কস্ট রিকভারী লেভেলে সুদের হার রাখতে হবে। অন্যদিকে প্রফিট যদি অনেক বেশী হয়, তখন চিন্তা করতে হবে এই প্রফিট ডিভিডেন্ড হিসেবে দেয়া বেশী উপকারী নাকি সুদের হার কমিয়ে প্রফিট কমানো বেশী উপকারী। এখানে উল্লেখ্য যে, ১৯৯১ এর আগে গ্রামীন ব্যাংকের সুদের হার ছিল ১৬%। কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে সরকারী স্কেল অনুযায়ী বেতন দেয়া এবং অন্যান্য কস্ট এডজাস্টমেন্টের জন্য ১৯৯১ সালে সুদের হার বাড়িয়ে ২০% করা হয়। আরো উল্লেখ্য যে, গ্রামীন ব্যাংকের প্রফিট সব বছরেই পজিটিভ ছিল না। এবং প্রথম দিককার প্রফিটের কতখানি আসলেই প্রফিট এবং কতখানি বেঁচে যাওয়া সাবসিডি সেটা নিয়েও বিতর্ক আছে। যাহোক, এ পর্ব বেশী বড় হয়ে যাচ্ছে। তাই এসব আলোচনা তোলা থাক পরবর্তী পর্বের জন্য।

সুহাস শিমন


মন্তব্য

হিমু এর ছবি

পরবর্তী পর্বে যদি "গ্রামীণ ব্যাংক", "ইউনূস", "মাইক্রোক্রেডিট" ইত্যাদি বানানগুলো সঠিকভাবে লেখেন, তাহলে এই প্রাঞ্জল লেখাটি সার্চ এঞ্জিনের নাগালেও থাকবে।

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক ধন‌্যবাদ। পরের লেখায় বানানের ব‌্যাপারে সতর্ক থাকব।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ হাসি

ফকির মজনু শাহ এর ছবি

প্রাঞ্জল লেখার জন্য ধন্যবাদ। পরের পর্ব পড়ার জন্য অপেক্ষায় থাকব। এক্সেল শিটের বদলে আপনার হিসাব যদি ছবি আকারে দেওয়া সম্ভব হয়, তবে আরো সহজবোদ্ধ্য হবে বলে আমি মনে করি।

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ। পরের পর্বগুলোতে এক্সেল না দিয়ে সরাসরি ছবি দেয়ার চেষ্টা করব।

তানিম এহসান এর ছবি

পড়লাম। চলুক পরের পর্বের জন্য পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম।

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ হাসি

আনোয়ার এর ছবি

চলুক

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ হাসি

সজ এর ছবি

শিমন@ খুবই কাজের লেখা।খুটিনাটি গুলো জানার ইচ্ছা ছিল। অনেক কিছুই বুঝতে পারলাম । কিন্তু ফিউচার ভ্যালু কিভাবে হিসেব করা হলো? কারণ ১ম সপ্তাহের পর অই টাকা তো আবার খাটানো হচ্ছে! ২০% সুদে হিসেব করা হলো ৫১ সপ্তহের!টাকা তো আর বসে থাকছে না! চলমান একটা প্রক্রিয়ার মাঝে থাকছে অর্থের প্রবাহ। আর ৫১ সপ্তাহের মাঝে তো আরও টাকার ঘুরাঘুরি হবে এবং ফিউচার ভ্যালু হিসেব করতে হবে!
আর প্রচলিত ব্যাঙ্ক কিন্তু এই সুযোগ পাবে না?

আমি গনিতমুর্খ! প্রশ্নটা বালক সুলভ হলেও হতে পারে!

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক ধন‌্যবাদ পড়ার জন‌্য। আপনি ঠিকই বলেছেন, প্রচলিত ব্যাংকিং এ ঋণের টাকা মাইক্রোক্রেডিট এর চেয়ে কম ঘুরাঘুরি করে। এজন‌্য সুদের হার ২০% বললে কার্যকরী সুদের হারও ২০%, ব‌্যাংকের ইন্টারনাল রেট ওফ রিটার্ন ও ২০%। মাইক্রোক্রেডিট এর হিসাবটা আলাদা বলেই এত কনফিউশন এবং এত লেখালেখি। দেখুন, এখানে ৩০০০০ টাকা ঋণ দিয়ে ব্যাংক ফেরত পাচ্ছে মোট ৩২৬৭৬ টাকা। এটা মোটেও ২০% নয়। কিন্তু টাকাটা যেহেতু কিস্তিতে ফেরত পাচ্ছে এবং ফেরত পাওয়া টাকা আবার ঋণ দেওয়ার সুযোগ থাকছে, সেই ঋণের কিস্তি এবং সেই কিস্তিকে আবার ঋণ দিলে তার কিস্তি ইত্যাদি সবকিছু যোগ করলে দেখা যাচ্ছে গ্রামীণ ব‌্যাংক আপাতদ্রিষ্টিতে কম টাকা পেলেও এটা প্রচলিত ব‌্যাংকের ২০.২৫% সুদের সমতুল‌্য। এক্ষেত্রে আমার আক্ষরিক অর্থে সবগুলো যোগ করার দরকার নেই। আমি ধরে নিচ্ছি, প্রারম্ভিক ৩০০০০ টাকা ক্ষুদ্রঋণ যে টার্মস এ দেয়া হয়েছিল, বাকি ঋণগুলো ও একই টার্মস এ দেয়া হবে। সেক্ষেত্রে প্রারম্ভিক ৩০০০০ টাকা ঋণের "কার্যকরী" সুদের হার যদি ২০% হয়, তাহলে বাকি ঋণগুলোর কার্যকরী সুদের হারও ২০%। আমাকে বারবার কাউন্ট করতে হবে না, কারন এই "কার্যকরী সুদের হার" এর সংগার মধ্যেই টাকার ঘুরাঘুরির ব্যাপারটা বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। (বানান ভুলের জন্য দু:খিত, অফিসের কম্পিউটারে অভ্র না থাকায় যুক্তাক্ষরে প্রচুর ঝামেলা হচ্ছে)

সজ এর ছবি

দুটি দিক যদি আরেকটু আলোচনা করতেন!
১। কার্যকরী সুদের হার ২০% এর বেশি না এটা নিয়ে আর বিভ্রান্তি নাই। গ্রাহক শতকরা কত টাকা সুদ দিচ্ছে সেটাও পরিস্কার। কিন্তু ব্যাঙ্ক কত পাচ্ছে সেজন্যই তো ফিউচার ভ্যালুর অবতারনা? তাই নয় কি? এবার ৩০,০০০ টাকার প্রথম কিস্তিতে আসবে ৭৫০ টাকা। এই ৭৫০টাকা ,ধরা যাক, আবার ৫২ কিস্তিতে খাটানো হলো। ৭৫০ টাকার প্রথম কিস্তি ১৫,৮৬(প্রায়) কিন্তু আবার খাটানো হবে। এই ১৫,৮৬ এর একটা ফিউচার ভ্যালু থাকবে। আবার এই ১৫,৮৬ টাকাকে কিস্তিতে খাটানো হবে। দেখা যাচ্ছে ব্যাঙ্ক সুদ কেও সুদে লাগাচ্ছে। ফলে এই ফিউচার ভ্যালুর হিসেবটা আরো জটিল হবার কথা?!
২।প্রচলিত ব্যাঙ্ক বছর শেষে সুদে আসলে টাকা পেয়ে থাকে।গ্রামীণ কিন্তু সেরকম নয়? ধরা যাক, আপনার হিসেব করা ৩০,০০০ টাকার ব্যাপারটি। কিস্তিতে কিস্তিতে টাকা ফেরত আসতেছে। ফলে ৩০,০০০ টাকায় ৬০,০০০ টাকারও বেশি( এই হিসেব করা আমার মত পেন্টিয়ামে ওয়ানের পক্ষে সম্ভব না) ঋন দেয়া এবং সে অনুযায়ী লাভ বা সুদ পাওয়া সম্ভব। প্রচলিত ব্যাংক এর পক্ষে তা সম্ভব না। অর্থাৎ ৩০,০০০ টাকা মুলধনে ৬০,০০০ এর অধিক টাকার ব্যাবসা করা যাচ্ছে। এর মাঝে আছে আবার সুদ কে সুদে খাটানো। সুতরাং গ্রামীণ এর লাভ বা প্রফিট এর হার অনেক বেশি হবার কথা। গ্রামীণের ওয়েবসাইট দেখলেও বোঝা যাবে ডিভিডেণ্ট দেবার পরও লাভের টাকা কিন্তু অনেকই থেকে যায়।

অতিথি লেখক এর ছবি

গ্রাহকের দেয়া কার্যকরী সুদের হার যদি ২০% এর বেশী না হয়, তাহলে ব্যাংকের রিটার্ন ও ২০% এর বেশী হওয়া সম্ভব নয়। সুদ মনে করেন টাকা ব্যাবহার করার ভাড়া। গ্রাহক যদি ২০% এর বেশী না দেয়, তাহলে ব্যাংক ২০% এর বেশী পাবে কিভাবে? আপনি যে কিস্তির ব্যাপারটা বলছেন, সেখানে দেখবেন কিস্তির পরিমান কিন্তু আস্তে আস্তে কমে আসছে। আবার প্রথমে আপনি ৩০০০০ টাকার উপর সুদ পাচ্ছেন, তারপরে আপনি প্রথম গ্রাহকের কাছ থেকে ২৯৩৪০ টাকার উপর সুদ পাচ্ছেন, আর দ্বিতীয় গ্রাহকের কাছ থেকে পাচ্ছেন ৭৫০ টাকার উপর সুদ। এতে আপনার পাওয়া সুদ কিছুটা বেশী হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সেটা আবার এডজাস্ট হয়ে যাচ্ছে সর্বশেষ কিস্তিতে। লাভের ব্যাপারটা আশা করি পরের পর্বে আসবে। অনেক ধন্যবাদ।

সুহাস শিমন

সজ এর ছবি

ধন্যবাদ শিমন@ পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

চরম উদাস এর ছবি

ইন্টারেস্টিং ... পপ্পন নিয়ে গ্যালারীতে বসলাম পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ হাসি

হিমু এর ছবি

একটা ছোটো প্রশ্ন। প্রতি সপ্তাহে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে সুদাসলে টাকা সংগ্রহ করার পদ্ধতিগত ব্যয় নিশ্চয়ই তিন মাসে একবার, ছয় মাসে একবার বা এক বছরে একবার সংগ্রহ করার চেয়ে অনেক বেশি। আপনার লেখার নিচের উৎকলিত অংশটুকু পড়ে যা বুঝলাম, এই ব্যয় দরিদ্র ঋণীরাই বহন করেন।

১৯৯১ এর আগে গ্রামীন ব্যাংকের সুদের হার ছিল ১৬%। কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে সরকারী স্কেল অনুযায়ী বেতন দেয়া এবং অন্যান্য কস্ট এডজাস্টমেন্টের জন্য ১৯৯১ সালে সুদের হার বাড়িয়ে ২০% করা হয়।

কুড়ি শতাংশ সুদেই দরিদ্র মানুষকে ঋণের টাকাটা আরো লম্বা পরিশোধবিরতিতে (এক সপ্তাহের পরিবর্তে এক মাস, তিন মাস, ছয় মাস বা এক বছর) কেন পেতে দেওয়া হয় না? আমি যতদূর বুঝি, গ্রামীণ ব্যাঙ্কে দরিদ্ররা ছদ্মকোলেইটারালের বিনিময়ে ঋণ পান। এই ছদ্মকোলেইটারাল হচ্ছে কোনো একটি বিশ্বস্ত ঋণগ্রহীতা গ্রুপের সঙ্গে তার বিশ্বস্ততার সূত্র, সামাজিক বা পারিবারিক সম্পর্ক, যে কারণে কেউ ঋণ পরিশোধ না করলে তার হয়ে তার দলভুক্ত অন্যেরা সেই ঋণ পরিশোধের জন্যে প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ থাকেন। অর্থাৎ, ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা বিচারের কাজটি গ্রামীণ ব্যাঙ্ক করে থাকে। ছদ্মকোলেইটারাল হিসেবে এই সম্পর্কের আয়ু সাধারণত এক সপ্তাহের বেশিই হয়ে থাকে, তাহলে ঋণী ব্যক্তি কেন আরো কম সংখ্যক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করেন না?

বাংলাদেশে এমন ব্যবসা কমই আছে, যেখানে অল্প কয়েক হাজার টাকা বিনিয়োগ করে কয়েক সপ্তাহ পরই লাভ বা বিনিয়োগের বিপরীতে নির্ভরযোগ্য আয় সম্ভব। গ্রামীণ ব্যাঙ্কের বহুল বিজ্ঞাপিত হাঁস-মুরগি প্রতিপালনেও তা সম্ভব নয়।

যদি ধরে নেওয়া হয়, ঋণীদের যে দলটি নতুন ঋণ গ্রহীতার ছদ্মকোলেইটারালের দায়ভার নিজেদের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন, তাদের ওপর যাতে অপরের ডিফল্ট করা ঋণের ভার একবারে খুব বেশি না চাপে, সেজন্যেই সপ্তাহে সপ্তাহে সুদাসলে টাকা আদায়ের পদ্ধতিটি প্রবর্তিত হয়েছে, তাহলে কি আমরা মনে করতে পারি, বিনা কোলেইটারালে ঋণ দেওয়ার মারাত্মক বিজ্ঞাপিত ধারণাটি ভুল বা অসত্য?

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক ধন‌্যবাদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় তুলে ধরার জন্য। ইচ্ছা ছিল, সুদের হার নিয়ে বিতর্কের সাথে সেটা কম নাকি বেশী বা কি কি মডিফিকেশন করা যায় সেটা নিয়ে কথা বলার। কিন্তু পোস্ট বেশী বড় হয়ে যাবে ভেবে সেটা পরের পর্বের জন‌্য রেখে দিয়েছি।তাই এই আলোচনাটাও মনে হয় পরের পর্বের সাথে ভাল জমবে।এই পর্বের আলোচনা না হয় শুধু সুদের হার নিয়েই থাকুক।

এ হাসনাত এর ছবি

পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাল লেখা। অনেক কিছু জানতে পারলাম এবং আরো জানার আগ্রহ জাগল।
- একলহমা

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ হাসি

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

চমৎকার লেখা শিমন ভাই। আলোচনা চলুক, আমি দর্শক হিসেবে আছি।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, কবি হাসি

রাহী এর ছবি

মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি নামে সরকারের একটা সংস্থার নাম শুনেছি। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালাতে হলে যেকোন প্রতিষ্ঠান/ এনজিও কে তাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয় বলে জানি। প্রশ্ন হলঃ মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি কি গ্রামীণ ব্যাংক এর এই মাইক্রোক্রেডিট বা ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে?
অন্যান্য যেসব প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালায় (আশা, ব্র্যাক), তাদের থেকে এই গ্রামীণ ব্যাংকের সুদের হার এবং কিস্তির ধরণ কতটা আলাদা?

অতিথি লেখক এর ছবি

খুব সম্ভবত না। গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৩ সালে, একটি সরকারী অর্ডিন্যান্সের ফলে। আর মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৬ সালে। গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড অফ ডিরেক্টরস এ সবসময়ই সরকারের অংশগ্রহণ ছিল। এবং গ্রামীণ ব্যাংকের হিসাবনিকাশ সবসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিটের আওতায় ছিল। স্বচ্ছতার জন্য যদি গ্রামীণ ব্যাংকের অডিট কার্যক্রম আরো বাড়ানো হয়, সেটাকে আমি সাধুবাদ জানাই। অথবা যদি মনে হয় তাদের কার্যক্রমে আরো রেস্ট্রিকশন আরোপ করা উচিত, সেটাও করতে হবে, তা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির আওতায় নিয়ে আসার মাধ্যমে হোক অথবা গ্রামীণ ব্যাংক অর্ডিন্যান্স সংশোধন করার মাধ্যমে হোক। কিন্তু আমি চাই এই সিদ্ধান্তগুলো আসুক যথাযথ গবেষণা এবং এগুলোর সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনার পর। খেয়ালী সিদ্ধান্ত বা গুজবের উপর ভর করে সিদ্ধান্ত কাম্য নয়।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সুদের হার সম্পর্কে নীচের টেবিলটা পেয়েছি রিভিউ কমিশনের রিপোর্ট থেকে। যদিও এই ধরনের সংখ্যা থেকে প্রকৃত সুদের হার বুঝতে পারা কঠিন। এখানে গ্রামীণ ব্যাংক মূল আলোচ্য হওয়ায়, আমরা গ্রামীণ ব্যাংকের প্রকৃত সুদের হার বের করার চেষ্টা করেছি। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য ও কেউ করে দেখতে পারেন। আইন অনুযায়ী, সরকার পরিচালিত ক্ষুদ্রঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার (প্রকৃত) হতে পারবে ২২% এবং এনজিও পরিচালিত হলে সর্বোচ্চ ২৭%

অতিথি লেখক এর ছবি

রাহী এর ছবি

ধন্যবাদ! আসলেই লেখাটা ভালো হয়েছে। চলুক

নিরীহ মানুষ    এর ছবি

মালিকানা পর্বের অপেক্ষায় রইলাম , আম্রীকার উনার ব্যাপারে এত আগ্রহ কেন?অযথা কারো ব্যাপারে আগ্রহ দেখানোর লোক ত আম্রীকা না , এব্যাপারে কিছু বললে উপকৃত হব ..জানার খুব ইচ্ছা দেঁতো হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ। আম্রীকার আগ্রহের ব্যাপারে খুব একটা কিছু বলতে পারব বলে মনে হয় না, আদার ব্যাপারী তো!

কল্যাণ এর ছবি

পর্যবেক্ষণঃ

১। “কিন্তু মাইক্রক্রেডিটের ক্ষেত্রে যেহেতু কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করা হয়, তাই ঋণগ্রহনের পুরো সময় গ্রহীতার ঋনের ব্যালান্স সমান থাকে না। কিস্তি পরিশোধের সাথে সাথে ঋনের পরিমান কমতে থাকে।" এই লজিক যেকোন ঋণের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

২। “মনে করুন একজন গ্রামীন ব্যাংক থেকে ৩০০০০ টাকা ঋণ নিলেন। গ্রামীন ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে হয় মোট ৪৪ কিস্তিতে। এখন ৩০০০০ টাকার উপর ১০% ফ্লাট রেটে সুদ আসে ৩০০০ টাকা। তাহলে মোট প্রদেয় ৩৩০০০ টাকা, এটাকে ৪৪ কিস্তিতে ভাগ করলে প্রতি কিস্তি ৭৫০ টাকা। এভাবে হিসাব করলে প্রকৃত সুদের হার ২০% এর চেয়ে বেশী হয়ে যায় (অনেকে এটা আগেও পয়েন্ট আউট করেছেন)। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, প্রকৃত সুদের হার যাতে এভাবে কিস্তি নেয়ার পরেও ২০% এর বেশি না হয়, তার জন্য গ্রামীন ব্যাংক শেষ কিস্তিতে একটা সামঞ্জস্য করে।“ সাদা কথায় এর মানে দাঁড়ালো এরকমঃ ফ্ল্যাট ১০% রেটে সুদ নেয়া যাচ্ছে না। কিন্তু ১০% সুদ নেওয়া চাই। আবার গরীবের উপকার করার ব্যাপারটা মাথায় রাখা দরকার। তাই ডিক্লাইনিং এর চক্করে ২০% নিয়ে মুড়ি কে বলি চাল ভাঁজা।

শেষ পর্যন্ত আসলে প্রিন্সিপালটা কি দাঁড়াল তাহলে? দারিদ্র দূরীকরণ এবং গরীবের উন্নতি? নাকি সেরেফ ব্যাবসা? ব্যাবসা করতে হলে উপকার-টুপকারের বড় বড় কথা না বলে সরাসরি ব্যাবসা করাই উচিত।

অভাব দূরীকরণে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রকৃত আউটকাম নিয়ে আপনার আলোচনা ও এ সংক্রান্ত পরিসংখ্যানের বিশ্লেষণের অপেক্ষায় থাকলাম।

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

চলুক

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক ধন‌্যবাদ। কিন্তু আপনার মন্তব্যের মূল সুরটা পুরোপুরি ধরতে পারিনি। আপনি কি বলতে চাচ্ছেন সুদের হার ২০% হলে ব্যবসা, কিন্তু ১০% হলে ব্যবসা নয়? গ্রামীন ব্যাংকের সুদের হার ২০%। সেটাই বোর্ড অফ ডিরেক্টরস এবং সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। ফ্লাট রেটের হিসাবটা করা হয় ডিক্লাইনিং রেটের কারনে অসমান কিস্তির যে সমস্যাটা হয় সেটাকে অ্যাভয়েড করার জন্য।

দ্বিতীয়টার ক্ষেত্রে আপনার আর আমার আগ্রহ মিলে গেছে। আমার মতে অভাব দূরীকরণে গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিকা এটাই আসলে প্রকৃত বিতর্কের জায়গা। বাকি যেসব বিতর্ক হয় সেগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই "বোগাস, রাবিশ"।

আইলসা  এর ছবি

পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম নিয়া বসলাম।

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ হাসি

রাজিব মোস্তাফিজ এর ছবি

আপনার হিসাব বুঝতে যেয়ে আজকে বাস থেকে নামতে ভুলে গিয়েছিলাম হাসি
খুব ভালো লেখা -- পরের পর্বের জন্য আন্তরিক অপেক্ষা।
এইবেলা আমার আরেকটি কৌতূহলের কথা জানিয়ে রাখি। কিছুদিন আগে (সম্ভবত) চার সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের পরের দিন আমার প্রিয় ব্লগার আরিফ জেবতিকের ফেসবুকে শেয়ার দেয়া একটি পত্রিকার লিংক(যেটি এই মুহূর্তে খুঁজে পাচ্ছি না) থেকে একটি পরিসংখ্যান দেখেছিলাম যে, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের শতকরা ৫৮ ভাগ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করতেন। ২০১৩ সালে এটা কমে এসে দাঁড়িয়েছে শতকরা ২৯ ভাগ। এই পরিসংখ্যানটুকু যদি সত্যি হয় তাহলে আমার কাছে মনে হয় এটি বিশাল একটি ব্যাপার। এই পরিসংখ্যানটুকু সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু? আর এটি সত্যি হলে এর পেছনে মাইক্রোক্রেডিটের আদৌ কোন ভূমিকা আছে বলে আপনি মনে করেন কিনা?

----------------------------------------------------------------------------
একশজন খাঁটি মানুষ দিয়ে একটা দেশ পাল্টে দেয়া যায়।তাই কখনো বিখ্যাত হওয়ার চেষ্টা করতে হয় না--চেষ্টা করতে হয় খাঁটি হওয়ার!!

অতিথি লেখক এর ছবি

হা হা ... অনেক ধন্যবাদ রাজিব। দারিদ্র্য যে কমেছে সেটা তো চারপাশে দেখলে সত্যই মনে হয়। আর পরিসংখ্যান ব্যুরো তাদের কাজ ঠিকঠাক করলে ছোটখাট এরর মার্জিন সহ এই সংখ্যাগুলোও তো সত্যি হওয়ার কথা। কিন্তু এধরনের উন্নয়ন আসলে অনেক ফ্যাক্টরের মিলিত প্রভাবে হয়। তার মধ্যে কোনটার ভূমিকা কতটুকু সেটা বের করা বেশ চ্যালেঞ্জিং।

তারপরেও অর্থনীতিতে কিছু এম্পিরিক্যাল মেথডোলজি ব্যবহার করা হয় যেগুলো দিয়ে সবগুলো ফ্যাক্টর থেকে একটার প্রভাব আলাদা করা যায়। আমি যতটুকু পড়েছি তাতে মনে করি, বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনে মাইক্রোক্রেডিট এর ভূমিকা আছে, এবং সেটা পজিটিভ। এই ভূমিকাটা অনেক নাকি খুব বেশি না, সেটা নিয়েই সবচেয়ে বেশী অর্থপূর্ন বিতর্ক দেখেছি। এসব নিয়ে আরেকটু বিস্তারিত বলার চেষ্টা করব শেষ পর্বে।

সুহাস শিমন

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।