ইস্টার্ন ক্রিকেট এসোসিয়েশান

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: শুক্র, ২৮/০২/২০২০ - ৯:০২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ক্যাঙ্গারুর দেশে যারা স্নাতক পর্যায়ে পড়াশুনা করেন তাদের বেশিরভাগ ছাত্রকেই কাজ করতে হয়। একে তো গাদা গাদা পড়ার খরচ, তার উপর থাকা খাওয়ার খরচ, দেশে যত টাকা পয়সাই থাকুক, কাঁহাতক আর বাড়ি থেকে আনা যায়। না হয় পড়ার খরচটা আনা গেল, কিন্তু বাকি খরচের কিছুটা যদি কাজ করে আয় করা যায়, মন্দ কি? আর অস্ট্রেলিয়াতে আন্তর্জাতিক ছাত্রদের খন্ডকালীন কাজ করার বৈধতাও আছে। আরেকটা ব্যাপার হল, নানাবিধ কারনে এইসব উন্নত দেশে ছাত্রদের কাজ করার একটা সংস্কৃতি গড়ে উঠেছ। যেখানে স্থানীয় ছাত্ররাই কাজ করে, বিদেশী ছাত্ররা পড়াশুনার পাশাপাশি কাজ করবে, এটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু আজকের গল্পটা স্নাতকোত্তর ছাত্রদেরকে নিয়ে। স্নাতক ছাত্রদের জীবনযুদ্ধের তুলনায় স্নাতকোত্তরদের জীবন আরামেরই বলা যেতে পারে। যারা পি এইচ ডি করতে আসেন তারা বেশিরভাগই হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি, কিংবা নিজ দেশের সরকারি বৃত্তি, কিংবা প্রফেসরের গবেষণা খাতের বরাদ্দ থেকে প্রাপ্ত বৃত্তি নিয়ে আসেন। এই বৃত্তির থাকে ২ টা অংশ, একটা পড়ার খরচ যোগায়, আরেকটা থাকা খাওয়ার খরচ যোগায়। পি এইচ ডি র কাজের যেই চাপ থাকে, তাতে টুকটাক কাজ করা গেলেও, ভালোমত কিছু করার উপায় থাকেনা। কারন অস্ট্রেলিয়াতে সাড়ে তিন বছরে পি এইচ ডি শেষ করতে হয়, তাই একটা মাইলফলক শেষ হতে না হতেই আরেকটা সামনে চলে আসে। যেসব দেশে সাড়ে পাঁচ বছরের আগে পি এইচ ডী হয়না সেসব দেশের মানুষজন অবশ্য বলে থাকেন “ এইসব পি এইচ ডি কোন জাতের পি এইচ ডি না”, সেই তর্কে না-ই বা গেলাম। যাই হোক, অন্যান্য দেশের মত এই দেশেও অনেক প্রফেসররাই স্বাভাবিক ভাবে ধরে নেন যে ‘চাহিবা মাত্র আমার পি এইচ ডী ছাত্র আমার রুমের দরজায় উপস্থিত থাকিবে’। তবে ব্যাতিক্রম আছে বৈকি।

এদিকে মজার ব্যাপার হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়াতে স্নাতক ছাত্রদের খন্ডকালীন কাজ করার অনুমতি থাকলেও, স্নাতকোত্তরদের পূর্ণকালীন কাজ করার স্বাধীনতা আছে। অনেকটা পুলিশের বন্দুকের মত; লাইসেন্স আছে, গুলি আছে, কিন্তু সহজে গুলি করার অনুমতি নেই, হাজারটা বিচার বিবেচনা করে গুলি করতে হবে আর পই পই করে প্রত্যেকটা গুলির হিসাব বুঝিয়ে দিতে হবে। অস্ট্রেলিয়াতে স্নাতকোত্তর ছাত্ররা যেই উৎস থেকেই থাকা খাওয়ার খরচ পেয়ে থাকুক না কেন, মাসিক টাকার অংকটা সব বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় একই এবং পরিমানটা নেহায়েত অগ্রাহ্য করার মত নয়। আবার বেশিও নয়। চলতে কষ্ট হবেনা, কিন্তু আবার আয়েশও হবেনা। তাই পি এইচ ডি ছাত্ররা এমন চাকরি খোঁজে যাতে বেশি সময় দিতে হবেনা কিংবা সাপ্তাহিক কাজের দিনগুলিতে বিদ্যালয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবেনা। তাই নব্য গবেষক ছাত্ররা কাজে যোগ দেয়ার ২-৩ মাস পর থেকে উসখুস করে আর অগ্রজ ছাত্রদের শুধায় “ ভাই কি করা যায় বলেন তো।“ অগ্রজ মুচকি হাসে আর বলে “ আরে মিয়া, মাত্র তো আসলা , একটু ঘুরাঘুরি কর, আশেপাশের জায়গাগুলা দেখ, পড়াশুনাটাও ঠিকমত কর, কি সব ধান্দাবাজি শুরু করলা?” এভাবে ১-২ টা আলোচনায় অনুজ কে ঠেকিয়ে রাখলেও বেশিদিন অগ্রজ তা পারেনা। নিজের প্রথম দিককার কথা মনে পড়ে গিয়েই হোক আর স্নেহের বশেই হোক নব্য গবেষককে বড় ভাইরা না না কাজের উপায় বাতলে দেয়।

টিউটরিং, পিজা ডেলিভারী, উবার চালানো, ট্যাক্সি চালানো, মুদি দোকানে কাজ, রেস্তোরাঁয় কিচেন হ্যান্ডের কাজ এসব গতানুগতিক কাজ সব দেশেই ছাত্ররা করে। কিন্তু আজ এমন এক খন্ডকালীন কাজের কথা বলব যা কিনা কেবল মেলবোর্ন শহরের স্নাতকোত্তর ছাত্রদের করার সুযোগ হয়, আর তা হল ক্রিকেট আম্পায়ারিং। অন্যান্য শহরে টুকটাক এই কাজ পাওয়া গেলেও, মেলবোর্নে সবচেয়ে বেশি। পুরোটা গ্রীষ্মকাল জুড়েই শুক্র, শনি আর রবি এই তিন্ দিন আম্পায়ারিং এর কাজ করে ভালোই উপার্জন করা সম্ভব। আর এই কাজটা পাওয়াও খুব সহজ, কারন স্থানীয়রা এই কাজ করতে খুব একটা আগ্রহী না। অদ্ভুত হলেও সত্যি যে অস্ট্রেলিয়া এত ভালো ক্রিকেট খেললেও ওদের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হল ফুটি (আমেরিকান ফুটবল বা রাগবির অস্ট্রেলিয়ান সংস্করণ)। বেশিরভাগ সাধারন অস্ট্রেলিয়ানই ক্রিকেটের খোঁজ খবর রাখেন না। এদিকে বাঙালি, ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানী ছাত্ররা ক্রিকেট অন্তপ্রান, তার উপর সেই খেলা পরিচালনা করার সুযোগ, তার উপর সে জন্য টাকাও দেয়া হবে! রোমাঞ্চকর ত বটেই !

মেলবোর্ন শহরের আসে পাশে শহরতলীগুলিকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটা ক্রিকেট এসোসিয়েশান/সংগঠন গড়ে উঠেছে। কারন মেলবোর্ন এত বড়, এত ছড়ানো আর এত ক্রিকেট দল, যে এক দুইটা সংঘটন সামলাতে পারবেনা। তবে এরা সবাই একটা বৃহৎ সংগঠনের অন্তর্গত । অনেকটা প্রাদেশিক সরকার আর কেন্দ্রীয় সরকারের মত। আমি মেলবোর্নের দক্ষিন-পূর্ব দিকে থাকি। তাই পিএইচ ডি শুরু করার ৬ মাস পরে ২০১৬ সালের জুন মাসের দিকে আমি ইস্টার্ন ক্রিকেট এসোসিয়েশানে মেইল দিয়েছিলাম আম্পায়ারিং করার জন্য।

আগস্ট মাসের দিকে মেইলের উত্তর আসল, তারা প্রশিক্ষন এর জন্য ডেকেছে, ৩ দিন সন্ধ্যার পর প্রশিক্ষন, প্রতিদিন তিনঘন্টা করে। গিয়ে দেখলাম যারা সংগঠনের হর্তা কর্তা সবাই বুড়ো অস্ট্রেলিয়ান, এদের সবারই ক্রিকেট নিয়ে ভয়ানক প্যাশান। সারাজীবন এই এসোসিয়েশান করে কাটিয়ে দিচ্ছে। আমাদের প্রশিক্ষন দিতে আসল ষাটোর্ধ এক অস্ট্রেলিয়ান আম্পায়ার, নাম ড্যান ব্যাম্ফোরড । খুবই পরিষ্কার ইংরেজি বলেন, পাকানো শরীর, বেড়ালের মত সাদা গোফ আর মাথায় চকচকে টাক। খুবই ভালো শিক্ষক। তিনি টিভিতে বেছে বেছে সব বিতর্কিত আম্পায়ারিং সিদ্ধান্তের ক্লিপ দেখাতে লাগলেন আর আসলে সঠিক সিদ্ধান্ত টা কি হবে তা নিয়ে আলোচনা করতে লাগলেন। টিভিতে আম্পায়াররা তো নিজে না বুঝলে থার্ড আম্পায়ারের কাছে পাঠাতে পারে, যিনি বার বার রিওয়াইন্ড করে করে আউট সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন। কিন্তু যখন থার্ড আম্পায়ারের কোন কারবার থাকেনা তখন একজন আম্পায়ারের জন্য সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত হল কট বিহাইন্ড আর এল বি ডাব্লু। আম্পায়ারের একটা ভুল সিদ্ধান্তে একটা দল হেরে যেতে পারে, পুরো সিজন জুড়ে একটু একটু করে এগিয়ে যাওয়া কোন দলের সব পরিশ্রম মাঠে মারা যেতে পারে।

কট বিহাইন্ড এর ক্ষেত্রে মূল সুত্র হল শব্দ, কারন চোখে দেখে প্রায়ই বোঝা যায়না যে বল ব্যাটে লাগল কি-না। এদিকে শব্দের আবার অনেক প্রকারভেদ আছে, প্যাডে লাগলেও শব্দ হয়, ট্রাউজারে লাগলেও শব্দ হয়, ব্যাটে লাগলেও শব্দ হয়, দস্তানায় লাগলেও শব্দ হয়। তাই আম্পায়ারকে কান খাড়া করে শুনে আলাদা করতে হবে কোনটা ব্যাটে লাগা তীক্ষ্ণ শব্দ আর কোনটা প্যাডে লাগা ভোঁতা শব্দ। ড্যান ব্যাম্ফোরড এই শব্দগুলি আলাদা করতে শেখালেন। এল্ বি ডাব্লু তো বলতে গেলে বীজগনিতের সহজ সুত্রের মত শিখিয়ে দিলেন! যেন মনে হল আরে, এল বি ডাব্লু সিদ্ধান্তই তো দেখা যায় দেয়া সবচেয়ে সহজ!

চিত্র ১ ঃ খেলার জন্য মাঠ প্রস্তুত

চিত্র ২ঃ খেলা শুরুর আগে খেলোয়াড়রা পরামর্শ করছে

চিত্র ৩ঃ খেলোয়াড় আর আম্পায়ারের মাঠে প্রবেশ।

শুক্রবার বিকেলে হয় অনুর্ধ ১৪, ১৫, ১৬ এদের খেলা আর শনি-রবিবার হয় বড়দের খেলা। বড়দের খেলায় আবার খেলার পিচ অনুযায়ী টার্ফ কিংবা সিনথেটিকে বিভক্ত। সিনথেটিক পিচের আছে চারটা ভাগ, সিনথেটিক এ, বি , সি আর ডি। অভিজ্ঞ আম্পায়ারদের সিনথেটিক এ/বি আর কম অভিজ্ঞদের সি/ডি তে খেলা পরিচালনা করতে দেয়া হয়। সবচেয়ে ভালো আম্পায়ারদের দেয়া হয় টার্ফ এ খেলা পরিচালনা করতে। ট্রেনিং শেষে যেইদিন প্রথম সিনিয়ার আম্পায়ারিং এপয়েন্টমেন্ট পেলাম সেদিন দেখা গেল আমার মত নতুন আম্পায়ারদের একা খেলা পরিচালনা করতে দেয়া হয়নি। সাথে আরও একজন অভিজ্ঞ আম্পায়ারকে দেয়া হয়েছে। সম্ভবত পিচটা সিনথেটিক বি ছিল। এসোসিয়েশান থেকে ড্যান ব্যাম্ফোরড কিংবা ঐ স্থানীয় একজন সদস্যও মাঠে এসেছিলেন নতুন আম্প্যারদের দক্ষতা মুল্যায়ন করতে। আমার প্রথম কাজ ছিল মাঠে উইকেট স্থাপন করা এবং ফিতা দিয়ে তা মেপে দেখা যে মাপ ঠিক আছে কিনা, তারপর খেলা শুরু। প্রথমার্ধ খেলা ভালই হল, কিন্তু একটা ভুল হল-ই। একটা কট বিহাইন্ড হয়নি, কিন্তু সেটা আউট দিয়ে দিলাম। আমার সহ-আম্পায়ার বললেনঃ “আমিতো কোন শব্দ-ই শুনলাম না, এটাতো মনে হয় আউট হয়নাই। যাই হোক, এইটা কে ব্যাল্যান্স করার জন্য আবার বোলার রা যখন ব্যাটিং করবে তখন বিনা কারনে আউট দিয়ে দিওনা। নতুন ভুল করে আগের ভুল শোধরানো যায়না।“ লাঞ্চের সময় দেখলাম ভালোই খাওয়া দাওয়ার আয়োজন। এই খাওয়া দাওয়ার খরচ আর আম্পায়ারের পারিশ্রমিক খেলোয়াড়রাই বহন করে। যাই হোক খেলা শেষে নগদ ১৫০ ডলার পাওয়া গেল। সেখান থেকে ১০০ ডলার দিয়ে কাবাব পরোটা কিনে আর গাড়ির ফুয়েল ট্যাঙ্কের গলা পর্যন্ত পেট্রোল ভরে বগল বাজাতে বাজাতে বাড়িতে চলে এলাম।

চিত্র ৪ঃ খেলা চলছে

চিত্র ৫ঃ খেলার মাঝখানে

চিত্র ৬ঃ দুপুরের খাবার

বাচ্চাদের খেলায় গিয়ে দেখলাম আরেক এলাহী কারবার। শুক্রবার অফিস থেকে সবাই একটু তাড়াতাড়ি বের হয়। বের হয়েই বাবা-মা বাচ্চাকে নিয়ে মাঠে হাজির। সবার মাঝে পিকনিক পিকনিক ভাব। ফোল্ডিং চেয়ার বিছিয়ে ঠান্ডা বিয়ার হাতে খেলা দেখতে বসে গেছে মায়েরা। বাবাদের দল পাশেই বার বি কিউ করছে। ব্রেক টাইমে নাস্তার নানা আয়োজন। কারও মা প্যান কেইক বানিয়ে এনেছেন তো কারও মা পুডিং। বাচ্চারা সবাই তার ক্লাবের নির্দিষ্ট পোশাকে খেলতে এসেছে। কে কোথায় ফিল্ডিং করবে, কার পরে কে বলিং করবে, কোথায় কি হচ্ছে না হচ্ছে সব সুশৃঙ্খল ভাবে চলছে ক্যাপ্টেন আর কোচের পরামর্শ মেনে। আম্পায়ারিং করতে গিয়ে এত ছোট ছোট বাচ্চাদের পেশাদারী আচরন দেখে বার বার চমৎকৃত হয়েছি। ১৪ বছরের দুইটা ছেলে যখন আউট না হয়ে দুইজন মিলে পুরো পঞ্চাশ ওভারের ইনিংস শেষ করে দেয়, কিংবা স্লিপে জায়গামত ফিল্ডার দাড় করিয়ে সেই অনুযায়ী জায়গামত ২-৩ টা বল করে ক্যাচ তুলিয়ে নেয় তখন অবাক হতে হয় বৈকি। কখনও কখনও কোন দল জানে তারা হারছে, তারপরেও ঘন্টার পর ঘন্টা জীবন দিয়ে ফিল্ডিং করতে দেখেছি। বাচ্চারা কতটা সৎ সেটাও খুব অপূর্ব একটা অভিজ্ঞতা ছিল। হয়ত অনেক দূর থেকে বাউন্ডারী দেখা যায়না বলে আমি চার দেইনি, ফিল্ডার নিজে থেকে এসে বলেছে “ আম্পি, ইট ওয়াজ ফোর”, এরকম ঘটনা প্রতি খেলায়ই ২-৪ টা ঘটত। এই বাচ্চারা খেলাটা শেখার পাশাপাশি আরও কত কি যে শিখছে তা বলে শেষ করা যাবেনা।

চিত্র ৭ঃ সবাই খেতে ব্যাস্ত

চিত্র ৮ঃ সবাই খেতে ব্যাস্ত

চিত্র ৯ঃ মধ্যদুপুরে আম্পায়ারের ছায়া

আমি বড়দের আম্পায়ারিং শুধু এক সিজনই করেছিলাম, এরপর আর প্রয়োজন হয়নি। ব্যাপারটা কঠিনও বটে। যত সময় যাবে, সূর্য তত উষ্ণতা ছড়াবে, তত আম্পায়ারের শক্তি কমতে থাকে অপরদিকে খেলা তত জমে উঠে আর আম্পায়ারের সিদ্ধান্তগুলো তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। প্রতি বলে বলে মনোযোগ দিতে হয়। তবে ছোটদের আম্পায়ারিং করতে আমার খুবই ভালো লাগত, আমি মোট তিন সিজন বাচ্চাদের আম্পায়ারিং করেছি। হয়ত আর কখনও আম্পায়ারিং করা হবেনা, কিন্তু এখনও যখন শহরের কাছাকাছি কোন ফ্রি ওয়ে থেকে শহরতলীতে বেরিয়ে যাই, কিংবা ছুটির দিনে ঘুরতে বেরিয়েছি, তখন প্রায়ই ক্রিকেটগ্রাউন্ড গুলির পাশ দিয়ে যেতে হয়, গ্রাউন্ডগুলির নাম চোখে পড়ে, আর আম্পায়ারিঙ্গের দিনগুলি মনে পড়ে যায়।
বি দ্রঃ এই লেখার সবগুলি ছবি সুবীর ভাইয়ের তোলা (আমার অনুরোধে উনি এগুলি তুলে আমাকে পাঠিয়েছেন, একজন ক্রিকেটপ্রান মানুষ এবং দক্ষ আম্পায়ার।)

- সৌখিন


মন্তব্য

সত্যপীর এর ছবি

ভালো লাগল। আরো লিখুন।

দুপুরের খাবার দেখে কিঞ্চিৎ চমকে উঠলাম। পাখির খাবার...

..................................................................
#Banshibir.

সৌখিন  এর ছবি

হো হো হো

হিমু এর ছবি

লেখাটা পড়ে খুব ভালো লাগলো।

রেফারি/আম্পায়ারের একটা বাংলা প্রতিশব্দ চোখে পড়েছিলো কিছুদিন আগে, বিধিপাল (খেলার নিয়ম যিনি রক্ষা করেন, এ অর্থে)।

সৌখিন  এর ছবি

ধন্যবাদ

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখা পড়ে তো খুবই মজা লাগলো। অস্ট্রেলিয়াতে পরিচিত বেশ কয়েকজনই পি.এইচ.ডি. করেছে, কিন্তু কেউই এই মজার পেশাটির কথা বলেনি। এরকম মজার উপার্জন তো খুব ভালো কথা। বিশেষতঃ আমাদের মতো ক্রিকেটঅন্তপ্রাণ বাঙালির জন্যে। কৈশরোত্তীর্ণ বয়সে বাজির খেলায় আম্পায়ারিং করতে গিয়ে নাকাল হতে হয়েছে বেশ কয়েকবার। সেগুলোও মজার এডভেঞ্চার মনে হতো।

ছবিতে দেখা দুপুরের খাবার, আমার মতো ভেতো মানুষের জন্যে, খুবই অল্প।

বাচ্চাদের ক্রিকেট উপভোগ করারই কথা। আমি ইংল্যান্ডে থাকাকালীন ভাতিজার স্কুলের মাঠে যেতাম। আসলেই সেখানে খুব ভালো সময় কেটেছে। দেখতাম, খুব জোরালোভাবে বাচ্চাদের দু’টো জিনিস শেখানো হতো সেখানেঃ মিথ্যা বলবে না, চুরি করবে না। ভাতিজার ক্লাস টিচারকে একবার জিজ্ঞাসাও করেছিলাম এ ব্যাপারে। উনি বলেছিলেন, বাচ্চাদের ক্ষেত্রে, এই দুটিই বাকি সব নেতিবাচক প্রবণতার উৎস। তখন পাশ্চাত্যে বাচ্চাদের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা জন্মেছিলো।

বেশ পরে ‘থার্টিন রিজনস হোয়াই’ টি.ভি. সিরিজ দেখে সেই শ্রদ্ধা অনেকটাই নাড়া খেয়েছিলো। সাইবার-বুলিং বা র‍্যাগিং এর ভয়াবহ প্রকোপ বুঝে শিউরে উঠতে হয়। যাক, সে অন্য প্রসঙ্গ।

স্বরূপ-সন্ধানী
---------------------------------------
অন্ধকারে সব-চেয়ে সে-শরণ ভালো
যে-প্রেম জ্ঞানের থেকে পেয়েছে গভীরভাবে আলো।

সৌখিন  এর ছবি

মেলবোর্ন ছাড়া অন্য শহরে এই সুযোগ নেই। তাই আপনার বন্ধুরা কোন শহরে ছিলেন তার উপর নির্ভর করে। অনেকে আম্পায়ারিং করতে আগ্রহীও না। কাজটা বেশ কঠিন।

দুপুরে আরও বেশি করে খেলে বাকি ওভার খেলে শেষ করাই কঠিন হয়ে যাবে। হো হো হো

মন্তব্যের জন্য ধন্যবা।

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখাটা ভালো লাগলো। ক্রিকেট নিয়ে তাও আবার অস্ট্রেলিয়ার ঘটনা, তাই বাচ্চাদের ক্রিকেট নিয়ে নিজের কিছু অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার সুযোগটা কাজে লাগাতে ইচ্ছে করলো।

১। পুত্রের ক্রিকেট খেলার সুবাদে তিন বছর ধরে পাড়ার একটা অনুর্ধ ১০ দলের স্বেচ্ছাসেবক –অভিভাবক হিসেবে কখনো স্কোরার বা কোচের কাজ করতে হয়েছে। এই কাজের জন্য আবার লেভেল ওয়ান কমিউনিটি কোচের সনদ আর শিশুদের সঙ্গে কাজের ছাড়পত্র লাগে।

২। ৭-১০ বয়সী ছেলেমেয়েরা (মেয়ে হলে ১১ বছর পর্যন্ত ) প্রতি শণিবার ১৬ ওভারের ম্যাচ খেলে, একেক দলে খেলোয়াড় সংখ্যা ৮ জন। আট জনের সবাই ১২ বল করে ব্যাটিং পাবে আর বোলিং না পারলেও ২ ওভার বোলিং করতেই হবে। কেউ ১২ বল খেলার আগেই আউট হলেও ব্যাটিং চালিয়ে যেতে পারবে, তবে প্রতিপক্ষ প্রতিটি উইকেটের জন্য পাবে ৪ টি বোনাস রান, আর ১২ বল শেষে পরবর্তী ব্যাটসম্যান ক্রিজে আসবে।

৩। ব্যাটসম্যান আর উইকেট কীপারের জন্য প্যাড গ্লাভসতো বটেই হেলমেট পারাও বাধ্যতামূলক, হাঠাৎ কোন বাচ্চা কোন কিছু ভূলে গেলে তৎক্ষণাৎ খেলা বন্ধ করে ঠিকঠাক সরঞ্জাম না পরা পর্যন্ত খেলা বন্ধ থাকে।

৪। মাঠের সীমানা লং অফ আর লং অনে সবচাইতে কম থাকে, যেন শিশুরা এই দিক দিয়ে মারতে উৎসাহিত হয়, ফলে শৈশব থেকে সোজা ব্যাটে খেলার একটা সহজাত অভ্যেস গড়ে ওঠে।

৫। অনলাইন (লাইভ) এবং অফলাইনে বল বাই বল খেলার স্কোর রাখা হলেও অফিসিয়ালী বিজয়ী দলের নাম ঘোষণা করা হয়না, যদিও পিচ্চিগুলি ঠিকই হিসাব রাখে নিজে কত রান করলো আর কত উইকেট নিলো। খেলা শেষে সবাই লাইন ধরে হান্ডশেক করে বিদায় নেয়, ঠিক আন্তর্জাতিক ম্যাচের মতো। .

৬। শিশুরা আগে ক্রিকেট খেলার মজাটা নিতে শিখুক; সবাই যথেষ্ট ব্যাটিং, বোলিং করার সুযোগ না পেলে অথবা একটা দল ক্রমাগত হারতে থাকলে এরা উৎসাহ হারিয়ে ঝরে পড়বে; এই জন্য এই বিশেষ নিয়মগুলো করা হয়েছে।

-পিয়াল
সিডনী থেকে

সৌখিন  এর ছবি

ধন্যবাদ কষ্ট করে পড়ার জন্য। ইস্টার্ন ক্রিকেট এসোসিয়েশনের এত লোকাল রুলস যে তাদের জুনিয়র আর সিনিয়র ক্রিকেটের আলাদা রুলবুক আছে যেটা আম্পায়ারদের ফ্রি দেয়া হয়েছিল। মাঠে গাছ থাকলে কি হবে, তাপমাত্রা বেড়ে গেলে কি হবে, বাদলা হলে কিভাবে খেলার ফলাফল গণনা করতে হবে ইত্যাদি।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।