।। দ্যা আউটসাইডার ।।

হাসান মোরশেদ এর ছবি
লিখেছেন হাসান মোরশেদ (তারিখ: রবি, ১৯/০৭/২০০৯ - ৪:৪৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রথম পর্ব
--------------

..
এক.

মা মারা গেছেন আজ।

অথবা কাল। আমি ঠিক জানিনা।বৃদ্ধাশ্রম থেকে টেলিগ্রাম পেয়েছি আজ - ‘ মাদার পাসড এওয়ে। ফিউনারেল টুমরো। ইওর সিনসিয়ারলি…’।
এই তিন লাইন আসলে কিছুই নিশ্চিত করেনা। হতে পারে হয়তো গতকালই তিনি চলে গেছেন।

বৃদ্ধাশ্রমটি আলজিয়ার্স থেকে পঞ্চাশ মাইল দূরে মারেনগো’তে। দুটোর বাস ধরলে বিকেলের মধ্যে পৌঁছে যাবো। আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ফিরে আসা যাবে কালকের মধ্যে। অফিসের বস’কে দুদিনের ছুটির জন্য বললাম। এ রকম পরিস্থিতিতে কেউই না বলতে পারেনা। তবে তাকে অসন্তুষ্ট দেখালো । কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললাম- ‘ আমি এর জন্য দায়ী নই’। সে কোন জবাব দিলোনা। পরে মনে হলো, এরকম বলার বোধ হয় কোন দরকার ছিলোনা। আমার তো অপরাধবোধের কিছু নেই। বরং এই সময়ে আমাকেই তার স্বান্তনা দেবার কথা। দেবে হয়তো কাল বাদে পরশু, যখন আমাকে শোকার্ত দেখাবে।

এই মুহুর্তে মনে হচ্ছে মা এখনো জীবিত আছেন। দাফন-কাফন-সমাধির পর মৃত্যু বিষয়টা গুরুত্ব পাবে, বেশ একটা প্রথামাফিক শোক-বিহবল পরিস্থিতি তৈরী হবে।

দুটোর বাস ধরলাম। প্রচন্ড গরম।দুপুরের খাবার খেলাম পরিচিত রেঁস্তোরায় অন্য যে কোন দিনের মতোই। রেঁস্তোরার সবাই খুব দুঃখ প্রকাশ করলো,একজন বললো-‘মায়ের মতো আপন আর কেউ হয়না’।আমাকে দরোজা পর্যন্ত এগিয়ে দিলো তারা। কিছুটা তাড়া ছিলো, পথে আবার ইমানুয়েলের বাড়ী যেতে হবে কালো টাই নেয়ার জন্য। ওর চাচা মারা গেছে কিছুদিন আগে।

প্রায় দৌড়ে গিয়ে বাস ধরলাম।পেট্রোলের পোঁড়া গন্ধ, রাস্তা জুড়ে কড়া রোদ আমাকে ক্লান্ত করছিল। প্রায় পুরো পথ ঘুমিয়ে কাটালাম।হঠাৎ ঝাঁকুনিতে ঘুম ভেংগে দেখি আমার মুখের উপর এক সৈনিকের ঝুঁকে পড়া হাসি মুখ, জিজ্ঞেস করছে- গন্তব্য ফেলে এসেছি কিনা? কথা না বাড়ানোর জন্য ‘হ্যাঁ’ বলে বাস থেকে নেমে পড়লাম।

বৃদ্ধাশ্রম তখনো মাইল খানেক দূরে। হেঁটে চলে আসলাম।ইচ্ছে ছিলো সরাসরি মাকে দেখি।কিন্তু কেয়ারটেকার জানালো আগে ওয়ার্ডেনের সাথে কথা বলতে হবে। তিনি হয়তো ব্যস্ত ছিলেন। আমাকে কিছুক্ষন অপেক্ষা করতে হলো।

ছোটখাট বয়স্ক মানুষ। আমাকে দেখলেন তার উজ্জ্বল চোখ মেলে।তারপর হাত বাড়ালেন। দীর্ঘ সময় ধরে হাত ধরে রাখলেন, কি করে হাত ফিরিয়ে আনা যায় ভাবতে ভাবতেই তিনি হাত ছাড়লেন । তারপর একটা ফাইল বের করে বিড়বিড় করে বললেন- ‘মিসেস মার্সেল এখানে এসেছিলেন তিনবছর আগে। তুমি ছাড়া তার আর খবর নেয়ার কেউ ছিলোনা’। মনে হলো যেনো তিনি কিছু ইংগিত করছেন এবং আমি আগ বাড়িয়ে ব্যাখ্যা শুরু করলাম। তিনি আমাকে থামিয়ে দিলেন-‘যুক্তি দেখানোর কোন দরকার নেই। আমি তাঁর ফাইল দেখেছি।তোমার পক্ষে তার দেখভাল করা সম্ভব হচ্ছিলোনা।তার সেবা ও সংগ দরকার ছিলো এবং সবমিলিয়ে এখানে তিনি খারাপ ছিলেন না’ । আমি বললাম -‘জ্বি, তা ঠিক’ । তিনি বলতে থাকলেন-‘ দ্যাখো, এখানে তিনি তার মতো আরো বয়স্কদের সাথেই ছিলেন, তারা নিজেদের মধ্যে অনেক কিছু শেয়ার করতে পারতেন। তুমি তরুণ, ভিন্ন প্রজন্ম, তোমার সাথে থাকতে গিয়ে নিশ্চয়ই তিনি হাঁপিয়ে উঠেছিলেন’

এই কথাগুলো মিথ্যে নয়, আমি জানি।যখন একসাথে ছিলাম, নিঃশব্দে আমার দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া তার আর কিছু করার ছিলোনা। বৃদ্ধাশ্রমের দিনগুলোর প্রথম দিকে তিনি কাঁদতেন,অনেক কাঁদতেন। কিন্তু এই কান্না হয়তো অচেনা পরিবেশের কারনে, আর কিছু নয়। মাসদুয়েক পর বরং তিনি কাঁদতেন -যেনো এখান থেকে তাকে ফিরিয়ে নেয়া না হয়। ভালো বা খারাপ নয়, এখানে তিনি তার মতো ছিলেন। সে কারনেই গত একবছর আমি প্রায় আসিনিই তাকে দেখতে। তা ছাড়া এখানে আসা মানে একটা আস্ত রোববার ফুরিয়ে যাওয়া। বাসের টিকিট কেনা, দু ঘন্টার বিরক্তিকর বাসযাত্রা।

ওয়ার্ডেন বললেন- ‘আশা করি তুমি তোমার মাকে দেখবে এবার’। কোন কথা না বলে আমি উঠে দাঁড়িয়ে তাকে অনুসরন করলাম। সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামতে নামতে তিনি বলতে থাকলেন- ‘আমাদের ছোট্ট মর্গে তাকে রাখতে হয়েছে।যখনই কেউ মারা যায় বৃদ্ধাশ্রমের অন্যরা দুই তিন খুব অস্বাভাবিক আচরন করে। আমাদের কর্মচারীদের সমস্যা হয় তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে।‘

আমরা একটা ছোট্ট বারান্দা পেরিয়ে এলাম। বারান্দা ভর্তি বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে তারা কথা বলছে। আমাদের দেখে তারা কথা বন্ধ করলো। পাশ কাটিয়ে চলে আসার পর আবার তাদের গুঞ্জন। একটা আধভেজা দরজার সামনে এসে তিনি বললেন- 'আমি আর ভেতরে ঢুকছিনা, যদি কোন কিছুর দরকার পরে অফিসে আছি।ফিউনারেল আগামীকাল সকাল দশটায়। মিসেস মাঁর্সৌ তাকে ধর্মীয় প্রথায় সমাধিস্থ করার ইচ্ছে ব্যক্ত করেছিলেন। আমি সে অনুযায়ীই ব্যবস্থা করেছি’
তাকে ধন্যবাদ জানালাম । নাস্তিক না হলে ও মাকে কখনো ধর্ম পালন করতে দেখিনি।

ভিতরে ঢুকলাম। বিশাল হলঘর। কাঁচের ছাদ।তীব্র আলো। আসবাব বলতে কয়েকটি চেয়ার আর কাঠের টুকরো। দুটো কাঠ ঘরের ঠিক মাঝখানে,একটা কফিনকে দুপাশ থেকে হেলান দিয়ে আছে। কফিনের ডালা খোলা, স্ক্রু গুলো আলগা, বের হয়ে আছে। পাশে একজন আরব নার্স, সারা শরীর সাদা পোষাকে ঢাকা শুধু মাথার স্কার্ফ তীব্র উজ্জ্বল।

এসময় কেয়ারটেকার এসে দাঁড়ালো আমার পেছনে। হাঁপাচ্ছিলো, মনে হয় অন্য কোথাও থেকে দৌড়ে এসেছে। ‘কফিন আমরা বন্ধ রেখেছিলাম, তুমি দেখবে বলে আবার খুলেছি’ এই বলে সে এগিয়ে যাচ্ছিলো কফিনের দিকে। আমি তাকে থামালাম।
‘তুমি দেখতে চাওনা’?
‘না’

সে কিছুই বললোনা। আমি বিব্রত হলাম, আমার বোধ হয় এভাবে বলা ঠিক হয়নি। কয়েক মুহুর্ত পর বললো- ‘কেনো নয়?’ না, তার কন্ঠে কোন উষ্মা নয়, যেনো সে আসলেই জানতে চাইছে।
‘ জানিনা’

সে তার সাদা গোঁফ কামড়াতে লাগলো। মুহুর্ত কয়েক পর আমার দিকে না তাকিয়েই যেনো ঘোষনা করলো
ঠিকাছে। বুঝতে পেরেছি’

উজ্জ্বল নীল চোখ আর লালচে গায়ের রঙ কেয়ারটেকার একটা চেয়ার টেনে আমাকে বসতে বললো, সে ও বসলো পাশে। নার্স উঠে দাঁড়িয়ে দরজার দিকে হাঁটা শুরু করলো। কেয়ারটেকার ফিসফিসিয়ে বললো- ‘মেয়েছেলে এবার সুযোগ পেয়েছে কেটে পড়ার’ । আমি তার কথা না বুঝলে ও এই প্রথম নার্স মেয়েটার মুখের দিকে তাকালাম। চোখের ঠিক নীচ থেকে ব্যান্ডেজ মোড়ানো। যেখানে নাক থাকার কথা সেই জায়গাটা সমতল। তার পুরো চেহারা যেনো এক সাদা ব্যান্ডেজ মাত্র!

নার্স চলে যাওয়ার পর কেয়ারটেকার আমাকে বললো- ‘ঠিকাছে এবার কিছুক্ষনের জন্য তোমাকে একা রেখে যাই’
আমি কি আপত্তি জানিয়েছিলাম? সে চলে না গিয়ে আমার পেছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো। এইভাবে কারো দাঁড়িয়ে থাকা অস্বস্তি লাগছিলো। সারা ঘর জুড়ে চমৎকার বিকেলের রোদ। বাইরে কোথাও যেনো কেউ কিছু একটা বাজাচ্ছিলো। সুরেলা, রঙ্গীন। আমি ঘাড় না ফিরিয়েই জিজ্ঞাস করলাম- তুমি কি অনেকদিন থেকে এখানে?
-পাঁচবছর

দ্রুত উত্তর দিলো সে, যেনো অপেক্ষায় ছিলো আমার জিজ্ঞাসার।এর পর তার সাথে আমার দীর্ঘ আলাপচারিতা। জানালো-বয়স চৌষট্টি,এসেছে ফ্রান্স থেকে। এটা শুনার পর আমি বললাম-‘ তুমি তাহলে এই অঞ্চলের নয়?’

বলার পরই মনে পড়লো ওয়ার্ডেনের সাথে দেখা হবার আগে যখন আমি অপেক্ষা করছিলাম তখনই আসলে সে আমাকে এ কথা জানিয়েছিলো। বলছিলো- আমার জন্য অপেক্ষা করতে না হলে তারা আরো আগেই লাশ সমাধিস্থ করতো। গরমের জন্য এখানে দ্রুত সমাধি করতে হয়। ফ্রান্সে এমনকি তিন-চারদিন পর্যন্ত লাশ রেখে দেয়া যায় আত্নীয়-স্বজনদের দেখানোর জন্য। কিন্তু এখানে শোকের ধাক্কা কাটিয়ে উঠার আগেই ছুটতে হয় লাশ দাফনের বন্দোবস্ত করার জন্য। এইসব কথাবার্তার মাঝখানে তার স্ত্রী এসে ধমকের সুরে বলছিলো- ‘এই ছেলের সাথে এসব কথাবার্তা বলার সময় এখন নয়’। এর পর তাকে বেশ বিব্রত ও অপরাধী দেখাচ্ছিলো। আমার কিন্তু কিছুই মনে হয়নি। বরং বেশ আগ্রহ পাচ্ছিলাম তার কথায়।

সে আরো জানালো মুলতঃ আর্থিক অসংগতির কারনেই এই বৃদ্ধাশ্রমের কেয়ারটেকারের চাকরী নিয়েছে। আমি খেয়াল করলাম এখানকার অনেকেই তার সমবয়সী হলে ও সে নিজেকে এদের একজন ভাবছেনা। কেয়ারটেকার হিসেবে নিজেকে সে সক্ষম ও কর্তৃত্বপরায়ন দেখাতে চাইছে।

ব্যান্ডেজ মোড়ানো আরব নার্স ফিরে এলে হঠাৎ করেই রাত হয়ে গেলো । কাচের ছাদ বেয়ে অন্ধকার নেমে এলো সারা ঘর জুড়ে। কেয়ারটেকার সুইচ টিপলো আর তীব্র আলোর ঝলকানীতে আমি যেনো অন্ধ হয়ে গেলাম।সে আমাকে জিজ্ঞেস করলো কেন্টিনে যাবো কিনা রাতের খাবারের জন্য। না আমার খিদে পায়নি। এবার সে কফির কথা বললে আমি সায় দিলাম। কফি খুব প্রিয় আমার। কিছুক্ষন পর সে ফিরে এলো ট্রে হাতে। আমি কফিতে চুমুক দিলাম। সিগারেট টানতে খুব ইচ্ছে হলো কিন্তু বুঝতে পারলাম মায়ের সামনে ঠিক হবে কিনা? পরে মনে হলো- ঠিকাছে!

মা তো নেই আর। ঐ গল্প আসলে ফুরিয়ে গেছে।


মন্তব্য

সবজান্তা এর ছবি

দারুণ !

আমার জীবনে পড়া অসাধারণ বইগুলি একটা এইটা। যদিও আমি এ'টার ইংরেজীটা এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের করা অনুবাদটা পড়েছি, তবু আপনার করা অনুবাদটার অপেক্ষায় থাকলাম।

পুরোটা একবারে পড়তে চাই, তাই এখন আর পড়লাম না।


অলমিতি বিস্তারেণ

হাসান মোরশেদ এর ছবি

উঁহু, হলোনা। পড়তে হবে হাসি

এটার বাংলা অনুবাদ আমার পড়া নেই। তাই বাংলা অনুবাদ যাদের কাছে তাদেরকে বিনীত অনুরোধ- পার্থক্যগুলো জানাবেন।
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

জাহেদ সরওয়ার এর ছবি

পড়তে ভাল লাগাই আসল। চলুক। বাংলাদেশ থেকে দুইটা, কলকাতা থেকে তিনটা, তার মধ্যে একটা মুল ফেঞ্চ থেকে। তাতে কি? ক্যামু নিজেই বলতেন প্রত্যেক অনুবাদই স্বতন্ত্র লেখা।

আমার আত্মা বোমায় দু'হাত উড়ে যাওয়া কোনো আফগান শিশুকন্যা।

*********************************************

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

ঝরঝরে লাগলো। আর চলুক। সাথেই থাকবো।

বিপ্লব রহমান এর ছবি

বাংলায় এই প্রথম পড়ছি। অসাধারণ হচ্ছে বস! চলুক


একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া, উঠে দাঁড়ালো
একটা পাখ ভাঙা পাখি, উড়াল দিলো...


একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া, উঠে দাঁড়ালো
একটা পাখ ভাঙা পাখি, উড়াল দিলো...

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

আউটসাইডার প্রথম পড়েছিলাম সম্ভবত মুনতাসীর মামুন-এর অনুবাদে। সে বেশ আগের কথা। পড়ে মাথা পুরা আউলা হয়ে গেছিলো। এ এক অতীব ভয়ঙ্কর উপন্যাস। নাড়ায়ে দেয় একেবারে। সেই ভয়ে দীর্ঘদিন আর এই বইয়ের ধারে কাছে ঘেঁষি নাই। গতবছর আবার পড়ার ইচ্ছা হলো। মুনতাসীর মামুনের অনুবাদটা পাচ্ছিলাম না। কলকাতার অনুবাদ কিনলাম একটা। সম্ভবত মৃণালকান্তি দাশ-এর করা।

কয়েক পৃষ্ঠা পড়ার পরেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। অনুবাদটা একেবারেই পছন্দ হলো না। তাই আর পড়া হয়নি।

আপনার অনুবাদটা পেয়ে ভালো লাগলো। পুরোটা পড়তে পারলাম না সময়ের অভাবে। তবে আধেকখানি পড়েছি। এবং খুবই আশাবাদী, এবার পড়া হবে। যতটুকু পড়েছি, ততটুকু বেশ ভালো লাগলো। খুব মনোযোগ দিয়েই পড়বো এই সিরিজটা। ধন্যবাদ অনেক
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

খেকশিয়াল এর ছবি

দারুণ! দারুণ! লিখতে থাকুন, বেশী বড় চা পান বিরতি নিবেন না।

------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

ফারুক হাসান এর ছবি

এই বইটা পড়ার পর আমার খুব ইচ্ছে হয়েছিল অনুবাদ করার, কিন্তু সাহসে কুলোয় নি আর। খুব ভালো লাগল যে আপনি এই কাজে হাত দিয়েছেন।

গৌতম এর ছবি

এটা একটা অদ্ভুত ব্যাপার- এই মুহূর্তে সচল তারেক আর আমি এই বইটা পড়ছি- পেঙ্গুইন থেকে জোসেফ লারেডোর অনুবাদে ইংরেজি সংস্করণটি। গতকালের সচলাড্ডায় এর বাংলা অনুবাদ নিয়ে কথা হচ্ছিলো। আর আজকেই কিনা আপনার অনুবাদটি পেলাম। দারুণ, চালিয়ে যান, ইংরেজির পাশাপাশি আপনার বাংলা অনুবাদটিও পড়ছি।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

::: http://www.bdeduarticle.com
::: http://www.facebook.com/profile.php?id=614262553/

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

সুমন সুপান্থ এর ছবি

দারুন লাগলো।

তুই এতো ঝরঝরে অনুবাদ করিস ! স্বীকার করছি, অরুন্ধতি পাঠও ভালোই লেগেছিলো; কিন্তু এটা একেবারেই আলাদা। গতিশীল এক ভাষান্তর।
তোর খুব প্রিয় উপন্যাসও এটা- জানি । নিজের লেখার সিংহভাগ উত্তমপুরুষে লেখার পক্ষে ক্যামুর এই কর্মটির কোন ভুমিকা আছে কী-না, তোকে মরণোত্তর পদক প্রদান কালে সেটারও গবেষণা করতে হবে, নিশ্চিত।

আপাতত, অভিনন্দন আর তারা ।

---------------------------------------------------------
তুমি এসো অন্যদিন,অন্য লোক লিখবে সব
আমি তো সংসারবদ্ধ, আমি তো জীবিকাবদ্ধ শব !

---------------------------------------------------------
তুমি এসো অন্যদিন,অন্য লোক লিখবে সব
আমি তো সংসারবদ্ধ, আমি তো জীবিকাবদ্ধ শব !

তুলিরেখা এর ছবি

ভালো লাগলো। মূল লেখাটা পড়া নাই, মানে ইংরেজিতেও পড়ি নাই, বাংলা অনুবাদটাই হবে আমার প্রথম কামু পড়া।
এমন ঝরঝরা অনুবাদের জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
-----------------------------------------------
কোন দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

আরিফ জেবতিক এর ছবি

অনুবাদে মুলের টোনটা খুব পরিস্কারভাবে আসছে।
মাঝপথে লেখা থেমে না গেলেই উত্তম।

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

আমি রেগুলার...

...........................

সংশোধনহীন স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন দেখি একদিন

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- (ভয়ে ভয়ে) একটু সমালোচনা করি দাদা, লেখাটা পড়ে আমার কেনো জানি হাসান মোর্শেদীয় মনে হয়নি। বেশ একটা অনুবাদ অনুবাদ গন্ধ আছে। আমার স্বল্প জ্ঞানে মনে হয়, পাঠককে এই গন্ধটা পাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারাটাই অনুবাদকের সফলতা। আমি বিশ্বাস করি আপনার পক্ষে সেটা সম্ভব, এবং খুব ভালো ভাবেই।

বাদবাকি কথাগুলো উপরে অনেকেই বলে ফেলেছেন, আমি আর পুনরাবৃত্তি করলাম না। পড়ছি নিবিষ্ট পাঠক হিসেবে।

পরিশেষে, চলুক
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

টুটুল এর ছবি

চমৎকার...
সাথে আছি... শেষ পর্যন্ত...
আমাদের জন্য এত কষ্ট করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে

দময়ন্তী এর ছবি

এই বইটা প্রথম পড়া আর "ডগভিল' মুভিটা প্রথম দেখার অভিঘাত সাংঘাতিক৷ পুরো পাগল করে দেওয়া৷

বাংলায় পড়ি নি আগে৷ বেশ ঝরঝরে লাগল, ২-১টা জায়গা ছাড়া৷ ঐ ২-১টা জায়গায় একটু আড়ষ্ট লাগল যেন৷ বাকীটা চমত্কার৷

------------------------------------------------
"নিভন্ত এই চুল্লিতে মা
একটু আগুন দে
আরেকটু কাল বেঁচেই থাকি
বাঁচার আনন্দে৷'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

জাহিদ হোসেন এর ছবি

এই বইটি পড়া হয়নি আমার। থাকলাম সাথে। এইভাবেই পড়ে ফেলবো বইটি।
ধন্যবাদ অনুবাদের জন্যে। পড়তে ভালো লাগছে।
_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

কৃতজ্ঞতা সবাইকে।
একটা বিশাল অনুরোধ সক্কলের কাছেঃ-
পড়তে গিয়ে যে জায়গা অমসৃন মনে হয়, দয়া করে জানাবেন। এটি অনুবাদের খসড়া মাত্র। সবাইকে নিয়ে পুর্নাঙ্গ করতে চাচ্ছি।
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

বিসমিল্লাহ করলাম।
আউটসাইডার আগে পড়ি নাই। [যদিও রিভিউ পড়ে আলোচনায় অংশ নিতে পারতাম। "আউটসাইডার? ঐ যে মা মরে যায় ছেলেটা এসে একেবারে নিথর বসে থাকে? হ্যাঁ হ্যাঁ... ;)]

আমি ভাবছি এক সাথে ইংরেজীটাও পড়া শুরু করবো...।

____________
অল্পকথা গল্পকথা

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।