সর্বরোগীহর

হিমু এর ছবি
লিখেছেন হিমু (তারিখ: বুধ, ০৪/১২/২০১৩ - ৭:১৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

কয়েকদিন বাদেই কস্তুরের বিয়ে। তাই একটু অন্যমনস্ক হয়ে থাকে সে। অফিসে কেউ প্রথমবার ডাকলে সে সবসময় ঠিকমতো শুনে ওঠে না যেন, দ্বিতীয়বার একটু জোরে ডাকতে হয়।

সহকর্মীদের অনেকেই বিবাহিত। তারা কস্তুরের আসন্ন বিয়ের কথাও জানে। কস্তুরের মুখে অনেকে নিজের এক বছর, দেড় বছর, দুই বছর, কেউ কেউ পাঁচ বছর অতীতের বিম্ব দেখে মিটিমিটি হাসে। অবিবাহিত দুয়েকজন ডেঁপো তাকে এটা সেটা বলে লজ্জা দেওয়ার চেষ্টা করে। কস্তুর অবশ্য তাতে দমে যায় না। সে মিটিমিটি হাসে আর গোঁফে তা দেয়। তারপর আবার একটু অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে।

বসও এসে মশকরা করেন, বলেন, দেখো, কামের কল্পনায় যেন কাজে সমিস্যা না হয়। এখন থেকেই দুটোকে আলাদা করে ফেলতে হবে। সেপারেশন অফ স্টেট অ্যান্ড চার্চের মতো। অফিসে কাজ, বাড়িতে কাম। তাহলেই জীবনটা ধনধান্যেপুষ্পেবসুন্ধরায় একেবারে গিসগিস করবে।

ইন্টার্নশিপ করতে আসা দুটি টলটলে তরুণী সন্দেহভরা চোখে বস আর কস্তুরকে দেখে আড়চোখে।

কস্তুরের সহকর্মিনীরাও তাকে সাহস যোগায়। চম্পাচামেলি চৌধুরী বয়সে কস্তুরের চেয়ে বছর তিনেকের বড়, তিনি লাঞ্চে অকাতরে বিড়ি ফোঁকেন আর কস্তুরকে সাহস যোগান, বলেন, বাসর রাতে বেড়াল মেরে দিও। লজ্জা ঘেন্না ভয়, এ তিন থাকতে নয়।

বেড়ালের কথা শুনে কস্তুর আবার অন্যমনস্ক হয়ে যায়। বাসর রাতে প্রতীকী বেড়াল বধের উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠার বদলে একটা সুখসুখ স্বপ্নস্বপ্ন আলোআলো ভাব ফুটে থাকে তার চেহারায়।

কিন্তু যতোই দিন কাছে আসে, কস্তুর একটু একটু গম্ভীর হয়ে যায়। আগে যেমন কাজের ফাঁকে হঠাৎ একটু ব্রেক নিয়ে চেয়ারটায় হেলান দিয়ে টলটলে ইন্টার্ন মেয়েদের ফিরে অন্যমনস্ক হয়ে কী একটা ভাবতো সে, সেই ভাবনার আকাশে ঈশানাগত মেঘ যেন এ টি এম শামসুজ্জামানের মতো ভিলেনি আকার ইঙ্গিত দেয়।

বিবাহিত সহকর্মীরা একে অন্যের দিকে তাকিয়ে সমঝদারের হাসি হাসে। তারা জানে, জাহাজকে সতর্ক থাকতে হয় বন্দরের আশেপাশে এসেই। তীরবর্তী তরঙ্গেই তরীর তিরোধান ঘটে বেশি। তারা পিঠ চাপড়ে সাহস দেয় কস্তুরকে। টলটলে ইন্টার্ন মেয়েগুলো সাবধানে সবকিছু ঢেকেঢুকে বসে।

কিন্তু ক্রমশ কস্তুরের মুখের সুখচ্ছটা কমে আসতে দেখে একদিন অফিসের গুরুজনেরা ঠিক করেন, সময় হয়েছে। লাঞ্চের পর অবিবাহিত দুটো ছোকরাকে টলটলে ইন্টার্ন দুটোর সঙ্গে আরেক ব্রাঞ্চে পাঠিয়ে দিয়ে তারা পিয়ন বাদশাকে হাঁক দিয়ে বলেন, বাদশা রে, চা লাগা। এলাচি দিয়া গরম গরম তুরন্ত!

কস্তুর একটু উৎকণ্ঠিত চোখে অগ্রগামীদের মুখের দিকে তাকায়, কী যেন খোঁজে।

একজন বলেন, দ্যাখো, শুরুতেই বলি, এই যে গণ্ডারের শিং, বাঘের নুনু, তক্ষকের তেল, এগুলি আসলে কুসংস্কার। বুচ্ছো না?

কস্তুর নড়েচড়ে বসে।

পশুবান্ধব সহকর্মীটি জোর দিয়ে বলেন, আমি গ্যারান্টি দিয়া বলতে পারি, এইসবে আসলে কোনোই ফায়দা হয় না। সবই বোগাস। আরবান লিজেন্ড। যুগ যুগ ধরে চলে আসা মিথলজি, মেয়েদের অর্গাজমের মতোই। শিল্প সাহিত্যের চিপাচাপায় এইসব আছে, বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নাই।

অন্যেরা একটু উসখুস করে। আনমনা হয়ে পড়েন দুয়েকজন, বাকিরা জোর গলায় সমর্থন দেন, ঠিক ঠিক।

বক্তা কস্তুরের ঊরুতে দুর্যোধনী চাপড় দিয়ে বলেন, কাজেই তুমি যদি এই মুক্তবাজার অর্থনীতিতে নেপাল বা আসাম থেকে গণ্ডারের শিং আনানোর অর্ডার দিয়াও থাকো, আমি শুধু বলবো, দ্যাট ওয়াজন্ট ওয়াইজ। গণ্ডারের শিং তো বাস্তবে গণ্ডারের লোম। গণ্ডারের শিং গুড়া করে দুধ আর চীনাবাদামের গুঁড়ার সঙ্গে মিশিয়ে কোঁৎ করে গিলে ফেললে যেসব ঘটনা ঘটে বলে প্রচার করা হয়, তা আসলে ঘটে না। নিশ্চিত থাকো।

কস্তুরের চেহারায় যেন সামান্য আশঙ্কার ছায়া পড়ে।

বক্তা বাঘের নুনু ও তক্ষকের তেল সম্পর্কেও জোর আশ্বাস দেন, কিছুই নাকি ঘটে না।

কস্তুরের মুখটা আরো এক পর্দা আঁধার হয়ে আসে।

একজন ক্ষীণ গলায় বলেন, ষাণ্ডার তেলে কিন্তু উপকার পাওয়া যায়।

এবার কস্তুর একটু ধাতস্থ হলেও পশুমিত্র তেড়ে আসেন চেয়ার ছেড়ে। তক্ষককে হিন্দিতে বলে ষাণ্ডা, তার তেলে কী এমন হাতিঘোড়া হতে পারে? তক্ষক কি সয়াবিন না নারিকেল যে তাকে পিষে তেল বার করতে হবে? আর সেই তেলে তো রোগ জীবাণু কিলবিল করবে। সেই তেল মাখার পর এঞ্জিন চিরতরে ডাউন হয়ে পড়বে না, তার নিশ্চয়তা দেবে কে?

তার আবেগমথিত ভাষণে ষাণ্ডার তেলের উপকারপন্থী একটু দমে যান। আরেকজন বলেন, ডাহুক পাখির মাংস ভুনা করে খেলে কিন্তু আসলেই শরীরে একটা জোশ আসে। সারাদিন মনমরা হয়ে ঘুরছেন, এক থাল ভাত খান ডাহুক পাখির গোশভুনা দিয়ে, দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই দুনিয়াটাকে মনে হবে নরম নরম, গরম গরম ... ।

অন্যেরা থামিয়ে দেন তাকে। পশুমিত্র কিছু বলেন না, আনমনে কী যেন ভাবেন।

ডাহুকলিপ্সু তবুও বকে চলেন, ইন্ডিয়াতে, এগজ্যাক্ট জায়গাটা মনে নাই, মহারাষ্ট্র না গুজরাট কোথায় যেন গোড়াবন পাখি পাওয়া যায়। আহা, গোড়াবন পাখির স্যুপ, একেবারে গুষ্টিশুদ্ধা চুপ!

আবারও থামিয়ে দেওয়া হয় তাকে।

ষাণ্ডার তেলবিলাসী বলেন, ডাহুক পাখির গোস্তের ব্যাপারে আসলে জোর দিয়ে কিছু বলা যায় না। আসলে দৈনিক কচুবনকে দিয়ে একটা জরিপ করানো প্রয়োজন। আজকাল জরিপ ছাড়া এভাবে কিছু বলা ঠিক না।

সবাই তাকে কড়া চোখের চাহনিতে পুড়িয়ে ছাই করে বসিয়ে দেন।

এতক্ষণ চুপ করে শোনা একজন বলেন, এ সবই হচ্ছে বেদেদের বুদ্ধি। এরা এইসব গণ্ডার ফণ্ডার, বাঘছাগ, তক্ষক টক্ষক, ডাহুক মাহুক ধরে, আর বোকাসোকা লোকজনকে সেগুলো গছায়। এইসব সেবন করে সাদেক হোসেন খোকা কখনও আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ হতে পারবে না। আপনারা কেউ সাধনা ঔষধালয়ের মহাদ্রাক্ষারিষ্টের নাম শুনেছেন?

কস্তুরের মুখে আলোআলো ভাবটা ফিরে আসে। সে হৃষ্টচিত্তে বলে, আমি শুনেছি, আমি শুনেছি।

কামানরাঙা [অলঙ্করণ: সুজন চৌধুরী]

মহাদ্রাক্ষারিষ্টভক্ত গদগদ গলায় বলেন, আমাকে আমার এক বড় ভাই এর খোঁজ দিয়েছিলেন। নামে নয়, গুণে পরিচয়। আমি বলবো, কস্তুর, তুমি এটা এস্তেমাল করে দেখো। একদম শুরু থেকেই। শুরু থেকে শুরু করার কোনো বিকল্প নাই ভায়া।

বাদশা ট্রেতে এতক্ষণে চায়ের কাপ সাজিয়ে ঘরে ঢোকে। সবাই তড়িঘড়ি করে চায়ের কাপ টেনে নিয়ে যখন চুমুক দিচ্ছে, তখন বস মুখ খোলেন।

চায়ের কাপটিকে সানি লিওন জ্ঞান করে ফড়াৎকারে এক প্রলয়ঙ্করী চুমুক দিয়ে তিনি বলেন, কস্তুর, এইসব ফটকাদের কথায় কান দিও না। কলকাতায় শপিংটপিং করতে যদি যাওয়া হয়, ডাবুর শিলাজিৎ বা থ্রি নট থ্রি ক্যাপসুল আনাও। ব্যাক আপ হিসাবে কলিকাতা হারবাল।

এঁচড়ে পাকারা স্তব্ধ হয়ে যায়। কস্তুর প্যাড টেনে নিয়ে সাগ্রহে খসখস করে নোট করে।

আরেকটি জোরালো চুমুকের পর বস বলেন, অফিস শেষে একদিন হামদর্দ ঔষধালয়ে গিয়ে হানা দিও। বাদশাহী বটিকা অথবা সাফুকে সুজাক, কিংবা যদি তোমার প্রয়োজন পড়ে, দুইটাই।

কস্তুরের প্যাডে কলম দৌড়ায় জেরোনিমোর ঘোড়ার মতো।

বস এক একটি পিলেচমকানো চুমুক মেরে মেরে চায়ের কাপটিকে প্রথম দফায় তৃপ্ত রমণীর মতো হাফখালি করে এনে বলেন, বরযাত্রা তো যাবে চট্টগ্রাম, নাকি? আগেই কাউকে পাঠিয়ে দিও। কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের কী একটা সালসা আছে, নামটা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। তবে ওটায় মকরধ্বজ প্লাস সারিবাদ্যরিষ্ট প্লাস দশমূলারিষ্ট প্লাস স্বর্ণসিন্দুর প্লাস মহাদ্রাক্ষারিষ্ট। পশু পাখি সোনা দানা মূলা দ্রাক্ষা কোনো কিছুরই অভাব ওতে নাই রে বাছা।

কস্তুরের প্যাড থেকে সূক্ষ্ম ধোঁয়া ছোটে সিলিঙের পানে।

বস আড়নয়নে সবার দিকে চান একবার, তারপর আনমনে বলেন, তবে তোমরা আজকালকার পোলাপান। বড় হয়েছো ভ্যাজাল খেয়ে খেয়ে। দুধে পানি আর পাউডার, এক তেলে অন্য তেল, মরিচে ইটের গুঁড়া, লবণে আয়োডিনের অভাব। কেবল যে কোনো একটায় তোমাদের কাজ না-ও হতে পারে। সেক্ষেত্রে শক্তি ঔষধালয়ের মৃতসঞ্জিবনী সুরার সাথে উদ্যম সুধা, কিংবা ধরো গিয়ে সাধনা ঔষধালয়ের সারিবাদী সালসার সাথে ধনঞ্জয় মোদক মিলিয়ে সেবন করে দেখতে পারো। খোকাকে শুধু গোলন্দাজ হলেই চলবে না, ব্লিৎজক্রিগও চালিয়ে যেতে হবে সিজনের পর সিজন। হিটলারি হিটের জন্যে পারমুটেশন কম্বিনেশনের কোনো বিকল্প নাই।

ষাণ্ডার তেলবিলাসী কস্তুরের প্যাড থেকে পৃষ্ঠা ছিঁড়ে হাঁক ছেড়ে বলেন, বাদশা রে, ছয় কপি ফোটোকপি কর।

একজন ভয়ে ভয়ে বলেন, আমরা তো খালি এক দিকের কথা চিন্তা করছি, অন্য দিকের কথাও তো আমাদের ভাবতে হবে, তাই না?

বস নাক কুঁচকে বলেন, অন্য দিক মানে? য়্যাই খাচ্চর পোলা তুমি কী বলতে চাও, য়্যাঁ? এই বয়সেই এইসব কী?

কস্তুর তাড়াতাড়ি বলে, না না আপাতত একদিক নিয়েই আলোচনা হোক, একদিক নিয়েই।

লজ্জা পেয়ে সহকর্মী বলেন, আরে ধ্যৎ আমি বলতে চাচ্ছি, খালি কস্তুরের কথা ভাবলেই তো চলবে না। বাচ্চা একটা মেয়ের ওপর এইভাবে জেনেটিক্যালি মডিফায়েড হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া কি ঠিক? হারমিওনি গ্রেঞ্জারের ওপর হাল্ককে লেলিয়ে দিলে তো চলবে না।

কস্তুর শুধরে দেয়, বলে, জেনেটিক্যালি নয়, কেমিক্যালি। জেনেটিক্সের ব্যাপারগুলো অন্যরকম, পরে বুঝিয়ে বলবো'ক্ষণ।

বস হাসেন মিটিমিটি। বলেন, সে বন্দোবস্তও আছে বৈকি। আয়ুর্বেদ ও হেকিমী জগতে কোনো জেন্ডার বায়াস নাই। হামদর্দের রফিকুননেছা, সাধনার পতরঙ্গাসব, শক্তি ঔষধালয়ের লাবণী মোদক আছে, বেছে নাও যেটা খুশি! পারমুটেশন কম্বিনেশন রে বাছা, পারমুটেশন কম্বিনেশন।

কস্তুর ফোটোকপিয়ারের নিচে মিশনারি পজিশনে যাওয়ার আগেই পৃষ্ঠাটা আবার বাদশার হাত থেকে হাতিয়ে নিয়ে কলম ছোটায়।

বস নিজের কাপের চা শেষ করে বলেন, এককালে ঢাকায় হালুয়া পাওয়া যেতো নানারকম। পালংতোড়, বিজলি কা খাম্বা, উলট বব্বর, রাত বাকি বাত বাকি। তারপর ছিলো মশলা পান, কী সব বাহারি নাম তাদের ... ফিরে ফিরে আসি, যেও না সাথী, লৌহ কপাট কর রে লোপাট, পথে হলো দেরি, দীপ জ্বেলে যাই। আহ, কী দিনই না ছিলো সেসব। আজ আর কিছুই নেই। সেই পানও নাই সেই শানও নাই। কী সব ইয়াবা, বিজয় ট্যাবলেট, শক্তি দই ... অবক্ষয়, বুঝলে, অবক্ষয়!

কস্তুরের কলম পাওয়ার প্লে নিয়ে মাঠে নামে।

এদিক ওদিক দুদিক নিয়েই চিন্তা করা সহকর্মীটি এবার আবারো চিন্তিত হয়ে পড়েন। ভয়ে ভয়ে শুধান, আচ্ছা, মিয়া বিবি দুইজনই নাহয় অস্ত্রশস্ত্র বুঝে পেলো। কিন্তু পাড়াপড়শীদের কী হবে?

কস্তুরের মুখ অন্ধকার হয়ে আসে। সে ধরা গলায় বলে, আমার ঘরটা আসলে না খুব শক্তপোক্ত না। একটু জোরে সাউন্ড দিয়ে সিনেমা দেখলেও বাইরে থেকে শোনা যায়। মানে, ঐ যে ডকুমেন্টারি আর কি। প্রকৃতি, বিজ্ঞান, মহাবিশ্ব নিয়ে প্রামাণ্যচিত্রের কথা বলছিলাম। যেগুলোতে অ্যাটেনবোরো, ব্রায়ান কক্স, এরা থাকেন। আমি তো এগুলোই দেখি। অন্য কিছু নয় কিন্তু।

বস শূন্য কাপটা তুলে নিয়ে আনমনে চুমুক দিতে গিয়ে আবার নামিয়ে রেখে বলেন, পাড়াপড়শীদের জন্যও ব্যবস্থা আছে বই কি। উত্তম ঘুমের জন্য শরবতের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াতে পারো শক্তিশেল আয়ুর্বেদের নিদ্রানীহার, ভীমধ্বজ কেমিক্যালসের নিন্দিয়া কি বুন্দিয়া, যশোহর ঔষধালয়ের পড়শীপ্রিয় আরকশৃঙ্গার। আশেপাশের চল্লিশ বাড়ির মানুষকে বিলাতে হবে অবশ্য। তবে এর চেয়ে সহজ ব্যবস্থা হচ্ছে ইনজিনিয়ার ডেকে ঘরে ফলস প্যানেল বসানো।

কস্তুরের মুখে আবার সেই সুখচ্ছটা ফিরে আসে, সে সুখসুখ স্বপ্নস্বপ্ন আলোআলো মুখে প্যাড চুরমার করে শুধু নোট নিতে থাকে, নোট নিতে থাকে, নোট নিতে থাকে ... ।


অভিনন্দন হে পাত্র চোখ টিপি !

বিভিন্ন কারিগরি পরামর্শের জন্যে বিশেষ কৃতজ্ঞতা স্বীকার ষষ্ঠ পাণ্ডবের কাছে।


মন্তব্য

কৌস্তুভ এর ছবি

বিধিসম্মত সতর্কীকরণ: any resemblance to real persons, living or dead, is purely coincidental.

টিউলিপ এর ছবি

আমি তো বাস্তব কারও সাথে মিল খুঁজেই পেলাম না, কস্তু কার কথা কচ্ছিস? চোখ টিপি

___________________

রাতের বাসা হয় নি বাঁধা দিনের কাজে ত্রুটি
বিনা কাজের সেবার মাঝে পাই নে আমি ছুটি

কৌস্তুভ এর ছবি

কই আমিও তো তাই কইচি

টিউলিপ এর ছবি

না তোর সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ দেখে মনে হল, "আমি কলা খাই নি মা!"

___________________

রাতের বাসা হয় নি বাঁধা দিনের কাজে ত্রুটি
বিনা কাজের সেবার মাঝে পাই নে আমি ছুটি

অতিথি লেখক এর ছবি

ম্যাঁও

ইউক্লিড

চরম উদাস এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

উদ্ভ্রান্ত পথিক এর ছবি

হেহহে এসেই পড়লো তাইলে দেঁতো হাসি

---------------------
আমার ফ্লিকার

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

দেঁতো হাসি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

সুজন চৌধুরী এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ!! গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

হো হো হো

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

আমি মুগ্ধ!!! একটা আড্ডালগ থেকে এমন গল্প বের হবে ভাবাই যায়নি।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

ঈয়াসীন এর ছবি

হো হো হো

------------------------------------------------------------------
মাভৈ, রাতের আঁধার গভীর যত ভোর ততই সন্নিকটে জেনো।

অতিথি লেখক এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি

সুবোধ অবোধ

ব্রুনো এর ছবি

বলি কি, এই আধুনিক যুগে এসব প্রাচীন কালের কেমিক্যালের দারস্থ না হয়ে কোন আধুনিক কেমিক্যাল দ্বারা কামকেলিত- থুক্কু, কেমিক্যালিত হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয় কি? ম্যাঁও

____________________________________________________________________________________
তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর,
এখনি, অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা।

অতিথি লেখক এর ছবি

পাত্রকে অভিনন্দন। লা জবাব হিমু ভাই।

ঘচাং ফু

অতিথি লেখক এর ছবি

হিমুদার বদান্যতায় যাগো ভাঙ্গাচোরা জীবন আবার খাড়া হইল
তাগো দোয়াতেই কৌস্তভদার বেল্লা ভরপুর পার হইব।লিশ্চিন্তে থাকেন।
ঝামা হইছে!!!!!
শাকিল অরিত

অতিথি লেখক এর ছবি

ব্যাপক হয়েছে হিমুদা। আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ দেখেতো আমি পুরাই গড়াগড়ি দিয়া হাসি

শব্দ পথিক

খেকশিয়াল এর ছবি

হো হো হো হো হো হো হাততালি হাততালি হাততালি

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

এইটা সেই হইসে গুল্লি

_________________________________________

সেরিওজার গল্প

স্যাম এর ছবি

হাহাহহাহাহহা - চ্রম!!

সবজান্তা এর ছবি

ছয় কপির এক কপি তো কৌস্তুর নিলো- বাকি পাঁচ কপি কি তবে গল্পকারের কাছেই থাকলো? কোথাও তার উল্লেখ নাই কেনু?

ওয়াইফাই ক্যানসার এর ছবি

ইয়াল্লাহ, আস্ত খাসি খাওয়ার পর আর এতকিছু খাওয়ার জায়গা থাকবে পেটে?

হিমু এর ছবি

একবার নেমে গেলে কলঙ্ক রণে
বাদ থাকে কেন আর অলঙ্করণে?

সুজনদার অলঙ্করণ যোগ করে দিলাম।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

অতিথি লেখক এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি
গুল্লি গুল্লি

মাসুদ সজীব

মেঘলা মানুষ এর ছবি

প্রেসক্রিপশন হিসাবে প্রিন্ট করে দেয়ালে বান্ধায়ে রাখব ভাবতেছি চিন্তিত
পরে কারো লাগলে বলবেন, ছবিতুলে ইন্সটাগ্রাম করে, ছবিতে ভিন্টেজ ইফেক্ট মাখিয়ে আপলোড করে দেব।

কারিগরি পরামর্শদাতার 'কারিগরি' চোখ টিপি জ্ঞানের বাহার দেখে বিস্মিত না হয়ে পারছি না। আপনাকে পেলে তো আমাদের লেজেহুমো 'বাভুল' বলে বুকে জড়িয়ে ধরবেন।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

লেজেহুমোর ব্যাপারে কারিগরের শুভেচ্ছাবাণী দেখুন এখানে


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

মেঘলা মানুষ এর ছবি

পড়ে আসলাম শুভেচ্ছাবাণী। আপনার কথা উনি মান্য করে চলেছেন আজ অবধি। এখন পর্যন্ত মরেননি। আর বেঁচে যখন আছেনই, তখন ওনার কারিগরি জ্ঞানেরও দরকার আছে।

ওনার সর্বশেষ বাবা হবার সময় একটা জোক শুনেছিলাম,
"এরশাদ হল বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃদ্ধ যুবক"

রকিবুল ইসলাম কমল এর ছবি

হাততালি

খুব বেশিদিন হয়নি বাংলাদেশের ঔষধ অধিদপ্তর কোন ঔষধ কোম্পানি কে Sildenafil প্রস্তুতের অনুমতি দিয়েছে। তার আগ পর্যন্ত অনুমতি না দেয়ার কারণ হিসেবে জানিয়েছে, অনুমতি দিলে এ দেশে এই ওষুধের অপব্যবহার হবে। যদিও স্বাভাবিক ভাবেই কোম্পানি গুলো বরাবরই উৎসাহী ছিলো অনুমতি পাবার ব্যাপারে। শেষ পর্যন্ত অনুমতি পেয়েছে এই যুক্তিতে যে, এই ওষুধটি বাজারে না থাকায় লোক জন অবৈজ্ঞানিক এবং ভয়ঙ্কর সব জিনিস পত্র ব্যাবহার করে আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

সে যাই হোক, সে সময় আমার এক সহকর্মী ওষুধটির প্রমোশনাল ম্যাটেরিয়ালের জন্যে একটি ছবি খুঁজছিলেন। সুজন দা´র এই ছবিটা ব্যাবহার করতে পারলে তার প্রমোশন নিশ্চিত ছিল!

Sildenafil এর যে এত গুলি কম্পিটিটর বাজারে আছে তা মনে হয় মার্কেটিং এ কাজ করা কোন ফার্মাসিস্টেরও জানা নেই!

অ.ট. একেবারে শুরুতেই কৌস্তভ দা´র কমেন্ট পড়ে কেন জানি ´ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না` সাউন্ড হল। খাইছে

অতিথি লেখক এর ছবি

মিজান, পিষে ফ্যালো
নতুন কিছু জানলাম।

ইউক্লিড

রু  এর ছবি

রেটেড আর। অসাধারণ বর্ণনা।
কৌস্তুভকে আগাম অভিনন্দন!

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

আমি আগে থেকেই জানি, পাণ্ডবদা বস দেঁতো হাসি

অভিনন্দন হে ঠাকুর ঘরের ছোঁড়া। যে কটা দিন বেঁচে আছেন, সুখ করে নিন চোখ টিপি

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

সাধুসঙ্গের উপযোগীতা দেখে বিস্মিত! দুই চাকাওয়ালা কামানের ছবি দেখে মুগ্ধ! কামানটা(মানে ছবিটা) এরশাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। দেঁতো হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

বহুত খাটুনি হইছে লেখাটা লিখতে।
এতো নাম পাইলেন কেমনে?

লেখার জন্য শুভেচ্ছা, পাত্রের জন্য অভিনন্দন।

----------------------------
কামরুজ্জামান পলাশ

এক লহমা এর ছবি

ধন্য কৌস্তুভ! কি অসাধারণ একখানা অভিনন্দন-পত্র পেয়েছ তুমি!
আমারও অভিনন্দন নিও।
(হিমু, আর দুই-একখান কথা কইবার মন করতাসিল, থাউক!)

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

কল্যাণ এর ছবি

চলুক

গুরু গুরু

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

অতিথি লেখক এর ছবি

জাহাজকে সতর্ক থাকতে হয় বন্দরের আশেপাশে এসেই। তীরবর্তী তরঙ্গেই তরীর তিরোধান ঘটে বেশি।

সে যা লিখেছেন, দাদা।

ইউক্লিড

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA