তিন তিরিকে নয় (পর্ব ১)

মইনুল রাজু এর ছবি
লিখেছেন মইনুল রাজু [অতিথি] (তারিখ: শনি, ২৭/০৭/২০১৩ - ৫:১০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

তারপর, কোনো এক সন্ধ্যায় আমরাও ভীড় করি বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে, পাড়ি দিই অচেনা-অজানা গন্তব্যে। অনেক অনেক দিন পরের আরেক সন্ধ্যায়, কোনো এক ভিনদেশি জানতে চায়, কোন দেশ থেকে এসেছ? আকর্ণবিস্তৃত হাসি হেসে উত্তর দিই- বাংলাদেশ। দ্বিগুণ পরিমাণে ভ্রুকুঞ্চণ করে ভিনদেশী আবারো প্রশ্ন করেন, সেটা আবার কোথায়? না-ই জানতে পারে। এদেরকেতো আর বিসিএস পরীক্ষা দিতে হয়নি যে, রাজধানীসহ সব দেশের নাম মুখস্থ করে বসে থাকবে। তবু, অনেকে না জানলেও, অনেকে আবার বেশ ভালোভাবেই জানেন।

চলার পথে নিজ জীবন, নিজ দেশ কিংবা ভিনদেশে হওয়া কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়েই এই সিরিজ- তিন প্যারার তিনটি ছোট ছোট গল্প নিয়ে লেখা "তিন তিরিকে নয়"।

১.
শিকাগোর একটা প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আইটি চ্যালেঞ্জের আয়োজন করে থাকে। সেখান থেকে নির্বাচিতদের ফাইনাল রাউন্ডে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ দেয়া হয়। ফাইনাল রাউন্ডে শিকাগোর বড় বড় সবগুলো কোম্পানি নিজেদের প্রচারণার জন্য বিভিন্ন ধরণের উপহার নিয়ে হাজির হয়। সেরকম এক প্রতিযোগিতায় সবার সাথে লাইন করে দাঁড়িয়ে আছি, উপহার হিসেবে দেয়া টি-শার্ট নেবার জন্য। প্রতিযোগিতার সময় সেই টি-শার্ট পরে থাকতে অনুরোধ করা হয়।

লাইনের সামনে থাকা, খুব সম্ভবত ইউরোপীয়ান আরেকজন প্রতিযোগী, আমাকে জিজ্ঞেস করলো- “তোমার দেশ কোথায়?” আমি বললাম, “বাংলাদেশ”। সে আকাশ থেকে পড়ে বলে, “এটা কোথায়?” বুঝিয়ে বললাম তাকে। সে বলে, “আমি জীবনে কখনো নামও শুনিনি।” মনে মনে ভাবছিলাম, নামও শোনোনি সেটা তোমার ব্যর্থতা। তারপর সে সীমা অতিক্রম করে বলে বসলো, “ডোন্ট ইউ গাইজ ডু এনিথিং ইম্পর্টেন্ট, হাউ কাম আই নেভার হার্ড অফ দ্যা নেইম অফ ইউর কান্ট্রি?”

তার সেই প্রশ্নের জবাবে কমপক্ষে দশটা উত্তর দিতে পারতাম। কিন্তু, একটা উত্তরও দিতে হয়নি, দেয়ার সুযোগ হয়নি। হাত বাড়িয়ে সে তার নিজের টি-শার্টটা নিলো। নিয়েই দেখার চেষ্টা করলো, মিডিয়াম না-কি লার্জ সাইজ। আর, তখনই চকচক করে ফুটে উঠলো তিন শব্দের মধুর সেই জাদুকরী লাইন- "মেইড ইন বাংলাদেশ"।#

২.
আমার নিজ ক্যাম্পাসে আমেরিকান একজন স্টুডেন্টের সাথে কথা হচ্ছিলো। তাকে হাজার হাজার ডলার ঋণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হচ্ছে। আমাকে জিজ্ঞেস করে, “তোমাকে কত টাকা দিয়ে পড়তে হয় এখানে?” আমি জবাব দিলাম, “আমার টাকা দিতে হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় আমার টাকা দেয়।” সে অবাক হয়ে বলে, “দেখ তোমরা বাইরে থেকে এসে আমাদের ট্যাক্স এর টাকায় পড়ে যাচ্ছো। অথচ, আমরা লোন নিয়ে পড়তে হয়। আমার সরকার তোমাকে বিনে পয়সায় পড়াচ্ছে, অথচ আমি নিশ্চিত, তোমার সরকার তোমাকে বিনে পয়সায় পড়াতে পারেনি।”

সেখানে না থেমে আরো বলতে থাকে, “তোমার নিজ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য তোমাকে কত টাকা খরচ করতে হয়েছে।” আমি হিসেব-নিকেশ করে বললাম, “দুই ডলার”। সে বলে, “এক্সকিউজ মি”। তাকে এক্সকিউজ করে আরো জানালাম, “শুধু আমাকে নয়, আমার মত এরকম আরো হাজার হাজার স্টুডেন্টকে, আমার দেশ মাত্র দুই ডলারে পড়ায়।”

এবার সে বললো, “কিছু মনে করোনা, একটা কথা বলি।” আমি সন্মতি জানাতেই সে বললো, “তোমাদের দেশের সব মানুষ ঠিকমতো খেতেও পারে না, অথচ, আমি বুঝতে পারছি না, তারপরও কেন দেশের মানুষ হাজার হাজার স্টুডেন্টকে ফ্রিতে পড়াবে।” বললাম, “এবার তুমি কিছু মনে না করলে, আমি একটা কথা বলি।” সে বলো বলতেই জানালাম, “এই যে বললে বুঝতে পারছো না, সে বুঝতে পারছিনা কথাটা যেন আমাদেরকে যতদূর সম্ভব কম বলতে হয়, সে প্রত্যাশা নিয়েই আমার দেশে হাজার হাজার স্টুডেন্টকে ফ্রি লেখাপড়া করানো হয়।#

৩.
আমার কথা শুনে বয়স্কা ভদ্রমহিলা আস্তে করে চোখ মুছলেন। কে জানতো, আমার দেয়া সামান্য এক তথ্যই তার আবেগের জগতে এতটা নাড়া দিয়ে যাবে। পাঁচ সন্তানের মা তিঁনি। সবচেয়ে ছোট সন্তানের বয়সও পঁয়ত্রিশের উপরে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেখেছেন। যুদ্ধ পরবর্তী পরিবর্তিত বিশ্ব দেখেছেন। এই পৃথিবীর অনেক অনেক রাজনৈতিক রাজত্ব আর অরাজকতার নীরব সাক্ষী তিঁনি। এখন মাইক্রোসফট্ এর গাড়ী ড্রাইভ করেন। আমাকে অফিস থেকে স্টেশানে নামিয়ে দিতে এসেছেন।

আজ থেকে অনেক বছর পূর্বে, ষাট কিংবা সত্তরের দশকে, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক বা সে-রকম কোনো এক ম্যাগাজিনের কাভার পৃষ্ঠায় দেখেছিলেন, দূর্ভিক্ষ কবলিত বাংলাদেশের এক মা তার শিশুসন্তানকে সাথে নিয়ে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন সামান্য খাবারের আশায়। তারপর নিজে নিজেই বলে গেলেন, "আমার কোলেও তখন শিশু সন্তান, সেই ছবি দেখে আমার চোখের পানিতে আমার সন্তানের গা ভিজে গেছে। কোনোভাবেই মানতে পারছিলাম না, আমার মতনই আরেকজন মা তার সন্তানকে খাবার দিতে পারছে না।"

গাড়ী থেকে নামার সময় আমার নাম জিজ্ঞেস করলেন। নাম বলার পর বললেন, বানান করে বলো। আমি বানান করে আমার নাম বললাম। তারপর বিদায় জানিয়ে বললেন, "আজকে অনেক বছর পর আবার তুমি আমাকে সে-দিনের কথা মনে করিয়ে দিলে। সে-দিন দুঃখে চোখ ভিজে গেলেও, আজ সুখে দু-চোখ ভিজে গেছে।" আমি খুব সাদামাটাভাবে তাঁকে শুধু বলেছিলাম, "বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, এখন আর কারো কাছে আমাদের খাবার চাইতে হয় না।"#

যখনই এধরণের কোনো ঘটনার মুখোমুখি হই, বাসায় এসে ইউটিউব খুলে বসি। তারপর অবিরত বাজতে থাকে- “সুন্দর, সুবর্ণ, তারুণ্য, লাবণ্য, অপূর্ব রূপসী, রূপেতে অনন্য, আমার দু-চোখ ভরা স্বপ্ন, ও-দেশ তোমারি জন্য”।

পর্ব ২
অন্যান্য সব লেখা

মইনুল রাজু
ফেইসবুক


মন্তব্য

মর্ম এর ছবি

এমন কোটি কোটি আবেগের নামই বোধ হয় 'বাংলাদেশ'

~~~~~~~~~~~~~~~~
আমার লেখা কইবে কথা যখন আমি থাকবোনা...

মইনুল রাজু এর ছবি

নিঃসন্দেহে।

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

রকিবুল ইসলাম কমল  এর ছবি

চলুক

মইনুল রাজু এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

রকিবুল ইসলাম কমল  এর ছবি

প্রবাসী সবারই মনে হয় এরকম মিশ্র অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। অল্প কথায় আপনি খুব সুন্দর করে অনুভুতি গুলো তুলে ধরেছেন।

মইনুল রাজু এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

হাততালি হাততালি হাততালি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

মইনুল রাজু এর ছবি

হাসি আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

তানিম এহসান এর ছবি

ছুঁয়ে গেল!

আমাদের দেশাত্মবোধক গানগুলো যে কি অদ্ভুত মায়াময়, একদম ভেতরে স্পর্শ করে।

মইনুল রাজু এর ছবি

কেমন করে যেন দেশাত্ববোধক গানগুলির কথা অন্যরকম সুন্দর হয়। একটা দুইটা নয়, প্রায় সবগুলোর। মাঝে মাঝে চিন্তা করি ব্যাপারটা সাইকোলোজিকেল কিনা। সে যেমন করেই হোক- একদম ভেতরে স্পর্শ করে।

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

rasel zaman  এর ছবি

ভালোবাসার বাংলদেশ

মইনুল রাজু এর ছবি

হাসি ভালোবাসার বাংলাদেশ হাসি

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

আবেগাপ্লুত হলাম। চলুক

মইনুল রাজু এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

অতিথি লেখক এর ছবি

খুব গর্ব-জাগানিয়া লেখা। খুব সুন্দর লেখা।
- একলহমা

মইনুল রাজু এর ছবি

ধন্যবাদ। হাসি

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

স্যাম এর ছবি

দারুণ!

মইনুল রাজু এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

এখন ভোররাত। জানালার বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। ঝমঝম ঝমঝম। আমি বিদেশে গেছি খুব কম, কোলকাতা ছাড়া বৃষ্টি দেখিনি। প্রবাসীদের কাছ থেকে শুনেছি বাংলাদেশের বৃষ্টির তুল্য কিছু এই পৃথিবীতে নেই।
আমার প্রিয় শহরের সঙ্গে চোখটাও ভিজে উঠলো আপনার গল্প তিনটি পড়ে। প্রবাসী যারা আছেন, এরকম গল্প নিয়ে প্রচুর লিখুন না প্লিজ? এক প্যারা, দুই তিন চার পাঁচ প্যারার হোক। এরকম অনেকগুলো গল্প নিয়ে একটা ইবুক করা যায় না?

আমার দুর্ভাগ্য, মাত্র ৫টি তারা দিতে পারলাম এই লেখায়, আর নেই।

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

মইনুল রাজু এর ছবি

অনেকেই লিখছেন। সবারটা একসাথে সংগ্রহ করার আইডিয়াটা বেশ ভালো। আমি হয়তো আরো কয়েকটা লিখবো। অনেক ধন্যবাদ আপানাকে।

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

সবজান্তা এর ছবি

দ্বিতীয় অভিজ্ঞতাতে সেই আমেরিকান যা বলেছিলো, তা কিন্তু ঠিক না। আপনিও সম্ভবত এটা জানেন।

আমার সামান্য অভিজ্ঞতায় যতোটা বুঝেছি, কোনো আমেরিকান যদি উচ্চ শিক্ষায় আসতে চায়, স্কলারশিপ কিংবা অ্যাসিস্টেন্সের ক্ষেত্রে ওদের প্রায়োরিটি অনেক বেশি। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব সামান্য কয়েকটা স্কলারশিপেই আমরা, মানে বিদেশিরা অ্যাপ্লাই করার জন্য এলিজেবল। প্রায় সব স্কলারশিপের প্রাথমিক বাছাইতে টেকার শর্তের একটি, আমেরিকান নাগরিক হতে হবে (কিংবা পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট)।

আর রিসার্চ অ্যাসিস্টেন্টশিপের সিদ্ধান্ত প্রফেসরের হাতে। তবুও অনেক ক্ষেত্রেই দেখেছি আমেরিকানদের প্রেফারেন্স থাকে, বিশেষ করে ডিফেন্সের ফান্ডে যেইসব রিসার্চ হয়।

কাজেই দ্বিতীয় অভিজ্ঞতায় ওই আমেরিকানের, শুরুতে একতরফা কথাগুলি মানতে পারলাম না- ওকে এইসব পালটা যুক্তি দিলে মনে হয় ভালো হইতো।

মইনুল রাজু এর ছবি

পাল্টা যুক্তি দিয়েছি, গল্পে দিইনি সেটা। কেন আমাদেরকে পড়ায়, কি কারণ, সব ব্যাখ্যা করেছি তাকে। কোথায় কোথায় আমাদের হাত-পা বাঁধা সেটাও বলেছি। ধন্যবাদ আপনাকে।

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

ভাল লাগল হাসি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

মইনুল রাজু এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

সাত্যকি এর ছবি

কী অসাধারণ একটা লিখা !

মইনুল রাজু এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

মসীলক্ষণ পণ্ডিত এর ছবি

শুনেছি প্রবাসে না গেলে নাকি দেশের প্রতি টানটা ঠিকঠাক অনুভব করা যায় না। আর প্রবাসে যাওয়া মানে বেড়াতে যাওয়া না মনে হয়, জীবন ও জীবিকার তাগিদে সেখানে বেশ অনেকদিন থাকতেই হবে এমন অনেকটা। বর্ষার ঝুম বৃষ্টিতে ইচ্ছেমতন দু'হাত তুলে ভিজে মায়ের হাতের ইলিশ-খিচুড়ি খেতে পারব না, হাসনাহেনার গন্ধে মাতাল রাতে কাঁথা মুড়ি দিয়ে ব্যাঙের ডাকের ব্যাকগ্রাউন্ডে ভুতের গল্প পড়ব না কিংবা শীতের ভোরে চাদর গায়ে ভাপা পিঠা খাওয়া হবে না... কী আছে তাহলে আর জীবনে? মন খারাপ
তবে আমরা বিদেশে গেলেও হৃদয়ের মাঝে বাঙলাদেশকে বয়ে নিয়ে যাই । সারাজীবনের রাফ এন্ড টাফ ছেলেটাও তখন দেশের কোন সামান্য ক্রিকেট বিজয়ে হাউমাউ করে কাঁদে, দেশের প্রতি কোন অন্যায়ে সারাজীবনের লাজুক আর ঘরকুনো ছেলেটা একাই সেখানকার সব বাঙালিকে এক করে শ্লোগান দেয় 'জয় বাঙলা'... দেশের খবর কিন্তু প্রবাসী বাঙালিরাই বেশী রাখেন। প্রয়োজনে যারা দেশ ছেড়ে বিদেশ বিভূঁইয়ে পড়ে আছেন, দেশ মায়ের সেইসব সন্তানের প্রতি বুকভরা ভালোবাসা।

মইনুল রাজু এর ছবি

"প্রবাস" শব্দটাই এক হাহাকারের নাম।

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

চমৎকার একটা লেখা !!

মইনুল রাজু এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

খায়রুল মাসুদ  এর ছবি

মেইড ইন বাংলাদেশ। আপনাকে আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-
অনেক দিন পর মন ভাল হওয়া লেখা পড়লাম

মইনুল রাজু এর ছবি

ধন্যবাদ আপনাকেও। হাসি

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

আমরা প্রায়ই আমাদের নিজেদের গর্বের জায়গাটা চিনতে পারি না তাই খামাখা হা-হুতাশ করি।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

মইনুল রাজু এর ছবি

চলুক

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

মনের কথা

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

খুব বেশি ভালো লেগেছে। নজরুল ভাইয়ের মত আমিও তারা সংকটে পড়েছি। চালিয়ে যান

মইনুল রাজু এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

সুমিমা ইয়াসমিন এর ছবি

এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি

চোখ ভিজে উঠলো!

মইনুল রাজু এর ছবি

এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি

চলুক

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

ব্যাঙের ছাতা এর ছবি

ভালো লেগেছে। অনেক ভালো লেগেছে। তবে শেষে এসে চোখ ভিজে উঠল।

মইনুল রাজু এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

তারেক অণু এর ছবি
মইনুল রাজু এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

প্রোফেসর হিজিবিজবিজ এর ছবি

আমারও চোখ ভিজে গেলো। আমরা আবেগপ্রবণ জাতি, কে জানে, এই আবেগটাই হয়তো একদিন আমাদেরকে বেগ প্রদান করবে, যে বেগটা আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে কতিপয় সুবিধাবাদী নীতিনির্ধারক।

মইনুল রাজু এর ছবি

এই আবেগটাই হয়তো একদিন আমাদেরকে বেগ প্রদান করবে

চলুক

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

অতিথি লেখক এর ছবি

তার সেই প্রশ্নের জবাবে কমপক্ষে দশটা উত্তর দিতে পারতাম। কিন্তু, একটা উত্তরও দিতে হয়নি, দেয়ার সুযোগ হয়নি। হাত বাড়িয়ে সে তার নিজের টি-শার্টটা নিলো। নিয়েই দেখার চেষ্টা করলো, মিডিয়াম না-কি লার্জ সাইজ। আর, তখনই চকচক করে ফুটে উঠলো তিন শব্দের মধুর সেই জাদুকরী লাইন- "মেইড ইন বাংলাদেশ"।

তারপর সেই ছাগলটার কি দশা হলো?

আব্দুল্লাহ এ এম

মইনুল রাজু এর ছবি

কি আর হবে, মুখ লুকোতে ব্যস্ত হয়ে গেলো। হাসি

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

মাহফুজ এর ছবি

দোস্ত, অসাধারন একটা লেখা

মইনুল রাজু এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- হাসি

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

নজমুল আলবাব এর ছবি

ভিজে যাবার মতো লেখা

মইনুল রাজু এর ছবি

হাসি

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

মাহবুব ময়ূখ রিশাদ এর ছবি

আগেই পড়ে গিয়েছিলাম। আজ মুগ্ধতা জানান দিতে এলাম

------------
'আমার হবে না, আমি বুঝে গেছি, আমি সত্যি মূর্খ, আকাঠ !

মইনুল রাজু এর ছবি

ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য, ভালো লাগলো। হাসি

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

salekin এর ছবি

ঘুমাইয়া ছিলাম, ছিলাম ভালো, কেনো যে আপনার লেখা পড়তে গেলাম ? চোখ ভরে গেল পানিতে , আহ ! বাংলাদেশ !

মইনুল রাজু এর ছবি

হাসি

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

ইনতেখাব আদনান শাকিব এর ছবি

জন্মভুমি কতটা আপন হতে পারে তা বুঝি যখন প্রায় ৪৫০ কিমি বাস জার্নি করে সকাল বেলায় সমুদ্রের পাশ দিয়ে আমার শহরে ঢুকে।যে গাছটি ডাল বাড়িয়ে আছে রাস্তার উপর সেটি আমাকে ছুতে চায়।বাতাসে আমার মায়ের গন্ধ।সব কিছু কত নস্টালজিক, আমার স্কুল, আমার বাড়ি।দেশের গল্প পড়লে তা আমার কক্সবাজার এর কথাই মনে করিয়ে দেয়।

শাকিব

মইনুল রাজু এর ছবি

চলুক

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

অতিথি লেখক এর ছবি

মইনুল রাজু - মেইড ইন বাংলাদেশ।
কাঁদায়ে দিলেন মিয়া।

অনেক শুভকামনা আপনার জন্য রাজু।

--------------------------
কামরুজ্জামান পলাশ

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।