ভাসানী ড্রেসিং রুমে রিটায়ার্ড হার্ট। অতএব ব্রাশ-ফায়ার।

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি
লিখেছেন মাসকাওয়াথ আহসান (তারিখ: রবি, ১৫/০৮/২০১০ - ৬:০৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১৫ আগস্ট,১৯৭৫,রেডিওতে ডালিম বলে কেউ একজন বারবার বলছিলেন শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে।আমার বয়েস তখন পাঁচ,থাকি ঈশরদী বাবুপাড়ায়, জাসদ তখন আমাদের প্রতিবেশী।এখন বুঝতে পারি কেন আমাদের পাড়াতে বঙ্গবন্ধু হত্যার কোন প্রতিক্রিয়া দেখলাম না। আমার আব্বার কাছে তার ছাত্ররা এসে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছিল।আব্বাকে খুব স্তম্ভিত মনে হলো।আব্বা বললেন, উনি অযথা সবার ওপর সরল আস্থা রেখেছেন। যদিও আমার আব্বা, আম্মার চেয়ে সরল আস্থাপ্রবণ এখনো।কিন্তু পাঁচবছর বয়েসে, রেডিওতে একজন আর্মি অফিসার দম্ভের সঙ্গে বার বার বলছেন তারা দেশের প্রধানকে হত্যা করেছে।আর আব্বা বলছেন মুজিব বিশাস করে ঠকেছেন।

এই দুটো বিষয় মাথায় ছিলো।

 

সিভিল সার্ভিস সূত্রে রেডিও বাংলাদেশে যোগ দিই ঠিক পঁচিশে।মাঝে বিশ বছর চলে গেছে।ঢুকেই খটকা লাগলো বাংলাদেশ বেতার নামটি নেই।বঙ্গবন্ধু হত্যার পর নাম হয়েছে রেডিও বাংলাদেশ। রেডিও পাকিস্তানের সঙ্গে নামের মিল পাওয়া গেলো।ঘুরে দেখলাম সেই স্টুডিও যেখানে ডালিম বসে মুজিব হত্যার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পুরোনো আমলের সেই চ্যাপ্টা মাইক্রোফোন দেখে একটা ভয় ঢুকে গেলো।মনে হলো এই মাইক্রোফোন মানেই হত্যা কিংবা ক্ষমতা দখলের এবং দখলে রাখার অস্ত্র।

 

এক বেঁটে হিটলারের মতো স্মার্টলোক, হিটলার ছবি আঁকতেন, ইনি গান করেন, যিনি বঙ্গবন্ধুকে গান গেয়ে মুগ্ধ করে স্টাফ আর্টিস্ট থেকে আধিকারিক হয়েছিলেন একলাফে।ডালিম সাহেবকে স্টুডিওর পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবার ফলে তার প্রমোশনের উল্লম্ফন গত বিএনপি-জামাত সরকার পর্যন্ত বহাল ছিল।এই লোক গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছেন, তাই বত্রিশ নম্বরে তার গান শোনাতে যাবার অনুমতি ছিল। বঙ্গবন্ধুর দরোজা সবার জন্য খোলা ছিল। উনি খুব পছন্দ করতেন গুণী মানুষ বা মেধাবী তরুণদের, একটু অন্যরকম যারা।তার মানে উনি রেডিওর গায়কটাকে স্নেহ করতেন তার গুণের জন্য। রেডিওর গায়কটি স্মার্ট প্রেসেনটেবল, তাই উনি জাতির জনকের সামনে তার আধিকারিক হওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাকে যোগ্যবলেই সুপারিশ করেছিলেন।এই গায়কটিকে বিশাস করে ৩২নম্বরে ঢুকতে দিয়েছিলেন। সেই লোক ডালিমকে স্টুডিওতে প্রটোকল দিলেন, তারপর জিয়ার জন্য গানগাইলেন,এরশাদের জন্য গান গাইলেন, তারেকের জন্য গান গাইলেন, মাইক্রোফোনে তাদের দখল জারী রাখতে।

 

তবে ওই গায়কটি মাইক্রোফোনের সামনে গেলে তার হাতগুলো কাঁপতে থাকে এখনো টিভিতে দেখি।৯৬এর পর আওয়ামী লীগের সময় অফিস কক্ষে বসে আক্ষেপ করতেন আমার গানটা সেরা দেশের গান, সেটা তথ্য প্রতিমন্ত্রী বাজাতে দিচ্ছেন না। আমি কোন উত্তর দিইনি। কারণ তাকে নিয়ে আমার অনুসন্ধান তখনো শেষ হয়নি।

 

শেখ হাসিনার একটা ফোন ইন অনুষ্ঠান মডারেট করে উনাকে আগারগাঁও বেতার ভবন থেকে বিদায় দিয়ে আমি আমার ভাঙ্গা গাড়ীতে উঠতে যাচ্ছিলাম।তথ্যপ্রতিমন্ত্রী  ভদ্রলোক তাই ওই সেই গায়কটি ওএসডি হলেও তাকে একটি তাপানুকূল গাড়ী ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন, ওই গায়ক বলেই। তাই গায়কটি জোর দিয়ে বললেন চলো আমি তোমাকে ইস্কাটনে পৌঁছে দিই।উঠে পড়লাম। উনি পিঠ চাপড়ে বললেন, তুমি তো দেখছি খুব ঠান্ডা মাথার ছেলে,প্রধানমন্ত্রী-মাইক্রোফোন-কলার হ্যান্ডলিং,কোন কাঁপাকাপি দেখলাম না।সরকারী চাকরি করি,এই গায়ক আমার বস তাই উত্তরটা দিলাম না, শুধু বললাম, বিতর্কের প্র্যাকটিসের কারণে সাহসটা বেশী, আপনার যেমন গানের সাহস।মনে হল এবার উনি আমাকে খোঁচাতে চান।

 

সরকারি চাকরীতে আমার মেন্টর ছিলেন একজন বামঘেঁষা মুক্তিযোদ্ধা। উনি ওই গায়কটির ১৫ আগস্টের ভূমিকা্র কথা জানিয়েছিলেন। এটা ওপেন সিক্রেট হলেও আমি ওইদিন কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার,লজিস্টিক স্টাফদের কাছ থেকে উনার উত্থানগাথা জেনে নিয়েছিলাম।২০০১এ বিএনপি জামাত ক্ষমতায় আসার পর উনি বিএনপির তরুণ মন্ত্রীদের সাথে গান গাইতে কক্সবাজার যেতে শুরু করেন।আমার মেন্টর মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামী লীগের শুভাকাংখী (কোন দলীয় সংশ্লেষ ছাড়া), সুতরাং ওই গায়কের উদ্যোগে সেই খুব সফল একজন মুক্তিযোদ্ধা আধিকারিককে ঢাকা স্টেশন থেকে সরিয়ে বিএনপি সমর্থিত একজনকে বসানো হল।দলে দলে জাসাস কর্মী তখন বেতার ভবনে ঢুকছে, আওয়ামী সাংস্কৃতিক কর্মীরা আর ঢুকছে না।আমি একটা সম্মানজনক এক্সিট খুঁজছি, বিটিভির মোস্তফা কামাল সৈয়দ আমাকে বিটিভিতে নেবার কথা বলতেই ওই গায়ক তথ্য সচিবের সামনে উত্তেজিত হয়ে বলেন, আমি ওকে রিলিজ করবো না।

 

একদিন সাতসকালে ওই গায়কের ফোন পেলাম,উত্তেজিত,আমার বিদেশে যাওয়ার ছুটির আবেদন পেয়ে।উনি বললেন তোমার ঢাকার বসরা কিছু করতে পারলো না, তাই জার্মানির বস ধরেছো। তোমার বসেরা কেউ মুসলমান না, সব হাফ হিন্দু। আমি তখন জানি এটা একটা যুদ্ধ তাই বললাম, একজন গায়কের মুখে ধর্মের কথা শুনতে চাইনা। তারপর বললেন, তোমার ছুটির সুপারিশ আমরা সচিবালয়ে পাঠাচ্ছিনা।আমি বললাম স্যার আমি চাকরি খুঁজি না বস খুঁজি,যার কাছে কিছু শেখা যাবে।

 

এই যুদ্ধে আমি জিতেছিলাম,কারণ সরকারী চাকরীতে ইউনিভার্সিটির কিছু বড় ভাই ছিলেন তারা বিদেশে যাওয়ার অনুমতি বের করে দেয়।

 

যেহেতু ঐগায়ক বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের মিডিয়া সহযোগি ছিলেন,উনাকে বিশাস করা যায়নি। বঙ্গবন্ধু অন্তত এইটুকু শিক্ষা রেখে গেছেন আমাদের জন্য যে কবি বা গায়ককেও বিশাস করতে নেই।কারণ আওয়ামী লীগের এক বেতার আধিকারিক ৭৫এর পর থেকে নির্যাতিত হয়ে অবশেষে ৯৬এর পরে প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বেহালা বাজাতে বাজাতে হিটলার হয়ে উঠেছিলেন খুলনায়। উনি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বানিয়ে তার নন্দন ও বৈষয়িক ভাবনার সংশ্লেষ তৈরী করেছিলেন।বিএনপি ক্ষমতায় এসে উনাকে ঢাকায় নিয়ে এল, খুলনার রাজা ঢাকার স্টুডিওতে করুণ বেহালা বাজাতে বাজাতে আমাকে বললেন, আমি কিছু নাটক বানাতে চাই, আর আমার ফেরার পথে গাড়ীটা পাই কীনা।। উনার গাড়ীর ব্যবস্থা করা গিয়েছিল, নাটকের ব্যবস্থাও।

 

আবার সেম সাইডো হয়।  আওয়ামী তথ্যপ্রতিমন্ত্রীর গ্রামে নিজামীর গণহত্যার কবর খনন রিপোর্টিং এ গিয়ে দেখি কবরের মধ্যে দাঁড়িয়ে একজন আওয়ামী টিভি রিপোর্টার রাজশাহি বেতারের মুক্তিযোদ্ধা পরিচালককে যাতা ভাষায় গালাগাল করে টান্সফারের ভয় দেখাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা বেতারকর্মী গাড়ীতে বসে কাঁদলেন। আমি সঙ্গ দিলাম। আওয়ামী টিভি রিপোর্টার ইউনিতে আমার ইংরেজী বিভাগের বড় ভাই, তাকে বললাম উনি মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামীলীগের আমলে উনার অপমানিত হবার কারণ দেখিনা। উনি বললেন প্লিজ এটার বাইরে থাকো। আই উইল টিচ হিম আ লেসন।মুক্তিযোদ্ধার বদলী হয়েছিলো,ভোগান্তি হয়েছে অনেক।

 

তো মোটামুটি ওপরের ঐ বিএনপির গায়ক, আওয়ামী লীগের বেহালা বাদক বা টিভি আর্মস ক্যাডার,নিগৃহীত মুক্তিযোদ্ধা এদের মাঝেই জাতির পিতা হত্যার কারণ লুকিয়ে আছে।

 

বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে যেদিন ফিরলেন,ঢাকা বিমানবন্দরে নামতেই, তাজউদ্দীনের সঙ্গে কথা বলার আগেই চার-পাঁচ যুবক,সবাই চেনেন তাদের, বঙ্গবন্ধুকে এক কোণায় নিয়ে গিয়ে তাজউদ্দীনের বিরুদ্ধে বোঝালেন। মুজিব-তাজউদ্দীনের মাঝে একটা  মানব-দেয়াল তুলে দিলো হালুয়া রুটি লীগ।এরা বিএনপির রুদ্ররোষ ঠেকাতে যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে ছেলে মেয়ের বিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রীয় হালুয়া-রুটি গণতন্ত্রের রেসটিকে উভয়পক্ষের জন্য নিরাপদ করে তুললেন। তাজউদ্দীন একটি প্রতীক।ওইদিন থেকে সমাজের সৎ শিক্ষিত মানুষদের তাজউদ্দীনের নিয়তি সঙ্গী হলো রক্ষণশীল বিএনপি বা সেক্যুলার আওয়ামীলীগের বিখন্ডিত দেশে।

 

ঢাকার গায়ক,খুলনার বেহালা বাদক,টিভি আর্মস ক্যাডারেরা তাজউদ্দীনদের দলীয় পেশীর প্রাচীরে আটকে দিয়ে নির্বাসন দন্ড দিলেন।তারেক রহমান দেখলাম বোলছেন, রাজনীতিতে কখনোই উচ্চশিক্ষিত লোক ছিলনা। মানে রাজনীতিটা পেশী-গলাবাজী-ক্যাডার পোষা আর ছদ্ম বুদ্ধিজীবীদের জায়গা হয়ে গেলো তাজউদ্দীনের রাজনৈতিক মৃত্যুতে।

 

বঙ্গবন্ধু বিদেশী শত্রুর মোকাবেলা করেছেন,যুদ্ধ জিতেছেন, কিন্তু দেশীয় রক্ষীবাহিনীর অপকর্ম বনাম দেশজ সেনাবাহিনী-যুদ্ধাপরাধী-বাম ছায়া নর্তকদের পরাজিত করতে পারেননি।যাদেরকে বিশাস করে ৩২নম্বরে থেকে গেলেন,তারা সবাই মিলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইন্ধন জুগিয়ে রিসালদার পাঠিয়ে তাকে মেরে ফেললো,তারপর তাকে লুকিয়ে রাখতে ইতিহাসের-সংবিধানের-রাষ্ট্রের কী উপর্যুপরি রিরংসা।মুজিবের ব্যাটিং পার্টনার তাজউদ্দীনকে সরিয়ে দিয়ে চারপাশে যখন বল কুড়ানি খেলোয়াড়রা ভন ভন করতো,মুজিব মিস করতেন ব্যাটিং কারণ লোভী পার্টনাররা অসততার কারণে রান আউট হচ্ছিল নিয়মিত ডাক মেরে।মুজিব তখনও ক্রিজে টিকে। খন্দকার মুশতাক মুজিবকে রান আউট করানোর চেষ্টায় বেটিং মিটিং করলেন কুমিল্লার বার্ডে।মুজিবকে রান আউট করতে আর রাজনীতির ক্রিকেট বল নয়। ভাসানী ড্রেসিং রুমে রিটায়ার্ড হার্ট। অতএব ব্রাশ-ফায়ার।

 


মন্তব্য

নামগোত্রহীন এর ছবি

‘বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে যেদিন ফিরলেন, ঢাকা বিমানবন্দরে নামতেই, তাজউদ্দীনের সঙ্গে কথা বলার আগেই চার-পাঁচ যুবক,সবাই চেনেন তাদের, বঙ্গবন্ধুকে এক কোণায় নিয়ে গিয়ে তাজউদ্দীনের বিরুদ্ধে বোঝালেন। মুজিব-তাজউদ্দীনের মাঝে একটা মানব-দেয়াল তুলে দিলো হালুয়া রুটি লীগ। এরা বিএনপির রুদ্ররোষ ঠেকাতে যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে ছেলে মেয়ের বিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রীয় হালুয়া-রুটি গণতন্ত্রের রেসটিকে উভয়পক্ষের জন্য নিরাপদ করে তুললেন। তাজউদ্দীন একটি প্রতীক।ওইদিন থেকে সমাজের সৎ শিক্ষিত মানুষদের তাজউদ্দীনের নিয়তি সঙ্গী হলো রক্ষণশীল বিএনপি বা সেক্যুলার আওয়ামীলীগের বিখন্ডিত দেশে।’

অসাধারণ! চমৎকার বর্ণনা...

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি

গায়কটির নাম যে আপেল মাহমুদ সেটা না বললে নতুন প্রজন্ম বুঝবে কেমন করে মাসকাওয়াথ?

হাবু বেশ বড়সড়,গাবুটা তো পিচ্চি
হেরে গিয়ে হাবু বলে--উৎসাহ দিচ্ছি!

ফারুক হাসান এর ছবি

আজকে চ্যানেল আইতে মুজিব কোট পরিহিত আপেল মাহমুদকে দেখলাম বঙ্গবন্ধুকে বাবা বাবা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলছেন।

দ্রোহী-স্বপ্নেরা এর ছবি

আপনি বোধহয় ফকির আলমগীর আর আব্দুল জাব্বার এর ঐ প্রোগ্রামটির কথা বলছেন। আব্দুল জাব্বার কে দেখে ,উনার কথা শুনে বাজে অনুভুতি হলো।

ফারুক হাসান এর ছবি

মাই মিসটেক

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

থ্যাংক ইউ স্যার।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

কুলদা রায় এর ছবি

আমি একটি উপন্যাস লিখব ঠিক করেছি। তার একটি চরিত্র এই আপেল মাহমুদ। উনি গোপাল হালদারকে দেওয়া একটি রাষ্ট্রীয় সম্মান মেনে নিতে পারেন নি। স্বপ্না রায়কে প্রতারণা করেছিলেন। স্বপ্না রায় কি আত্মহত্যা করেছিলেন?
এই তথ্যগুলো আমার কাজে লাগবে।
...............................................................................................
'এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর'

...............................................................................................
'এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর'

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

maskwaithahsan.googlepages.com ক্লিক করে আমার সতত হে নদ অপন্যাসের ইবুক খোঁচালে আরো কিছু পাবেন দাদা। সময় পেলে প্লিজ।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

অতিথি লেখক এর ছবি

আর খুলনার বেহালাবাদক হচ্ছেন আমার প্রতিবেশী মুরুব্বী, শেখ মুজিবের ছোটভাই শেখ আবু নাসেরের শ্যালক, শামছুর আলি বিশ্বাস। খুলনা বেতারে ওনার রামরাজত্ব কায়েম দেখে বোধ হয় আপেল সাহেবও লজ্জা পেতেন। ওনার ব্যাপারে খুলনার একটা স্থানীয় পত্রিকায় সিরিজ বের হতো।

রাতঃস্মরণীয়

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

লজ্জা-ঘৃণা-ভয়, উহারা করেছেন জয়।নির্লজ্জতার কোন মাপণি নেই।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

নিবিড় এর ছবি

একজন হত্যাকারীর থেকেও এই ছদ্মবেশী বুদ্ধিজীবিরা বেশী ভয়ংকর


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

এবার তাহাদের স্ট্রিপটিজের বা বস্ত্রহরণের পালা। উহারা যেহেতু দ্রৌপদী নন, ভগবান তাদের জন্য কাপড় পাঠাবেন না। সো লেটস এনজয় দ্য গ্রাইন্ড।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

নৈষাদ এর ছবি

খুব ভাল লাগল।

নতুন এবং পুরানো প্রজন্মের কাছে হালুয়া-রুটির অংশীদারদের পরিচয় করিয়ে দেয়া দরকারী হয়ে উঠছে। প্রোপাগান্ডার জোরে পুরানোরাও অনেক ব্যাপারে পুরোই অন্ধকারে আছে।

আপেল মাহমুদ ধারণা করছিলাম, লুৎফর রহমান রিটন পরিচয় করিয়ে দিলেন, ধন্যবাদ তাঁকেও।

৭৫ এর আগে এবং পরে অনেকেই হালুয়া-রুটির অংশীদার হয়েছেন এবং প্রোপাগান্ডার আড়ালে নিজেদের সফল ভাবে ঢাকতে পেরেছেন।

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

ধন্যবাদ নৈষাদ।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

ভারতের প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব জ়েএন দীক্ষিত যিনি বাংলাদেশে প্রথম (অস্থায়ী) ভারতীয় হাইকমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন, ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত ছিলেন মুজিব নগর সরকারের সাথে- তাঁর বই "Liberation and Beyound: Indo-Bangladesh Relations' এ পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু মানসিক ও আচরনগত পরিবর্তন নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষন করেছেন।
প্রাসঙ্গিক মনে হওয়ায় তুলে দিলামঃ-

সংবিধান সংশোধন, অর্থনৈতিক নীতি পরিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসনের দাবীতে তার প্রনীত ছয়দফা দাবীনামা শেখমুজিবকে উত্তীর্ন করে পূর্বপাকিস্তানের অবিসংবাদিত নেতায়। ছয়দফা হয়ে উঠে বাঙ্গালীর মুক্তিসনদ। এসময় পাকিস্তানের রাজণীতিতে সক্রিয় বাঙ্গালী অন্যসব নেতাদের চেয়ে বয়সে এবং অভিজ্ঞতায় মুজিব ছিলেন তরুন কিন্তু জনপ্রিয়তা ও গ্রহনযোগ্যতায় তিনি হয়ে উঠেন অতুলনীয়।
তার এই ‘হয়ে উঠা’র পেছনে আলাদা কোন জাদু নেই, এই ‘হয়ে উঠা’ বুঝার জন্য বিরাট গবেষনার ও প্রয়োজন নেই।
একমাত্র মুজিবই তার জনগনের মানসিকতার ও রাজনৈতিক চেতনার পরিবর্তনের সুর ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি শুধু ধরতে পারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, তিনি নিজেকে এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক চেতনার প্রধান ভাষ্যকার হিসেবে ও নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন।
আইয়ূব খানের সামরিক শাসনে যখন গোটা পূর্বপাকিস্তান নিস্পেষিত তখন অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ নেতারা সাহস করতে পারেননি সামরিক জান্তার মুখোমুখি দাঁড়াবার। মুজিব, একমাত্র মুজিবই এই দুঃসাহস করেছিলেন এবং তার জনগনকে ও সাহস জুগিয়েছিলেন।
এইসব কিছু মিলিয়ে ষাটের দশকে শেখ মুজিব হয়ে উঠেন এক ও অনন্য।

পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি থেকে তার বারবার কারাবন্দী হওয়া- তার ও তার জনগনের মধ্যে বিশ্বাসের এক গভীর সম্পর্ক তৈরী করে দেয়, তারা নিঃসন্দেহ হয় অন্ততঃ এই মানুষ তাদের জন্য তার সর্ব্বোচ্চ ত্যাগ করতে প্রস্তুত। দলের তরুন নেতাকর্মীদের কাছে তিনি হয়ে উঠেন আদর্শ ও আবেগের প্রতিমা। তিনি অর্জন করেন তাদের সর্ব্বোচ্চ আনুগত্য।
অসাধারন বাগ্মীতা, সারল্য ও সাংগঠনিক দক্ষতার জোরে গোটা পূর্বপাকিস্তানের প্রতিটি মানুষের সাথে যেনো তার ব্যক্তিগত আবেগের সম্পর্ক তৈরী হয়ে যায়। মুজিব ও পূর্বপাকিস্তানের বাঙ্গালী হয়ে উঠে একে অন্যের পরিচায়ক। এই সম্পর্ক যতোটা না রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রপঞ্চ তার থেকে অনেক অনেক বেশী মানবিক। এই আবেগী সম্পর্কই পূর্বপাকিস্তানের মানুষের ভাষা ও নৃতাত্বিক পরিচয়কে এমন এক সুস্পষ্ট অবস্থানে নিয়ে যায় যেখান থেকে আর ফেরার পথ থাকেনা।

তবু শেখ মুজিব কখনোই পাকিস্তান রাষ্ট্র ভাঙ্গার দায় নিতে চাননি,তিনি স্বায়ত্বশাসনের দাবী তুলেছেন কিন্তু স্বাধীনতার নয়। পাকিস্তানের প্রতি তার আবেগ ছিলো, এই রাষ্ট্র সৃষ্টিতে তার তারুন্যের অংশগ্রহন ছিলো। দেশবিভাগ পূর্ববর্তী তিক্ত অভিজ্ঞতায় তিনি জানতেন যেমন পশ্চিম পাকিস্তান তেমনি পশ্চিম বঙ্গের প্রভাব থেকে ও তাকে তার পূর্ব পাকিস্তানকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

‘৭০ এর নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষমতা হস্তান্তরের অনীহা, ডিসেম্বর ১৯৭০ থেকে মার্চ ১৯৭১পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে ইয়াহিয়া-ভুট্টোর আলোচনার নামে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শেষপর্যন্ত তার জনগনের উপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত আক্রম- শেখ মুজিবকে বাধ্য করে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার ঘোষনা দিতে।

এখানে একটা পর্যবেক্ষন উল্লেখ করা জরুরী। শেখ মুজিব কি তখন রোমান্টিসিজমে ভুগছিলেন? তিনি কি মনে করছিলেন আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা তাকে রক্ষা করবে? পাকিস্তান সেনাবাহিনী তার ও তার জনগনের বিরুদ্ধে শেষপর্যন্ত মারাত্বক কোন একশনে যাবার সাহস পাবেনা?
এটা একটা কারন হতে পারে, যে কারনে মার্চ ২১শে বিশ্বস্ত সহকর্মীরা তাকে আন্ডারগ্রাউন্ডে যাবার পরামর্শ দিলে তিনি এড়িয়ে গেছেন।
অথবা হয়তো ভাবছিলেন আন্ডারগ্রাউন্ডে গেলে তাকে না পেয়ে সেনাবাহিনী তার জনগনের উপর অত্যাচার-নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে।
২৫ মার্চের আগে যথেষ্ট সুযোগ ছিলো তার ঢাকা ত্যাগের এবং মুজিব নগরের সরকারের সরাসরি নেতৃত্ব দেয়ার। কিন্তু তিনি তা করেননি বরং গ্রেপ্তার বরন করলেন ২৫ মার্চ রাতে, পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে নির্জন কারাকক্ষে বন্দী করে রাখা হলো এবং ফাঁসীর আয়োজন প্রায় সম্পন্ন করা হলো।

বাংগালী জাতি ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন এই নয় মাসে তার সশরীর অনুপস্থিতি এবং নেতৃত্ব দিতে পারার সুযোগ বঞ্চিত হওয়ার মানসিক টানাপোড়েন পরবর্তীতে তার আচরনে ছায়া ফেলে এবং এই ছায়া সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের সঠিক পরিচালনাকে ও প্রভাবিত করে।
তার যে সহকর্মীরা তার নামেই মুজিব নগর সরকার গঠন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সফল নেতৃত্ব প্রদান করে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন- মুজিব তাদের প্রতিই সন্দেহপ্রবন এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ইর্ষাপরায়ন হয়ে উঠেন।
যদিও তিনি জানতেন ভারতীয় সমর্থন ও সহযোগীতা কতোটুকু জরুরী ছিলো তবু মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিনতিতে ভারতের প্রত্যক্ষ ও অনস্বীকার্য্য অবদানের তিনি খুশী ছিলেননা। বিশেষ করে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দীন আহমদের প্রতি তিনি সন্দেহপোষন হয়ে উঠেন, এ দুজন ভারতের সহযোগীতায় তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারতেন। নিশ্চিতভাবেই তার এই সন্দেহ ছিল অমুলক।
যদিও দীর্ঘবছরে গড়ে উঠা তার ব্যক্তিত্ব ও আচরনের সাথে এই সন্দেহ ও ইর্ষাপ্রবনতা মানানসই ছিলোনা কিন্তু এই মানসিক টানাপোড়েন শেষপর্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছিলো।
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি ও প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন এই উপমহাদেশে বাংলাদেশের নিজস্ব সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠা করতে। পশ্চিম বাংলা ও পূর্ববাংলার মানুষের নৃতাত্বিক-সাংস্কৃতিক ব্যবধানের( ঘটি ও বাঙ্গাল) বিষয়ে ও তিনি সচেতন ছিলেন। তিনি এটাও অনুধাবন করেছিলেন নতুন জাতির স্বাতন্ত্র্য স্পষ্ট করার জন্য এর মুসলিম পরিচয়কে অস্বীকার করা যাবেনা।
তার এই অনুধাবনে কোনভাবেই ধর্মীয় উগ্রতা কিংবা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকারকে ক্ষুন্ন করার অভিপ্রায় ছিলোনা।
স্বাধীনতার প্রথম কয়েকমাসের মধ্যেই নতুন সংবিধানে তিনি সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা অন্তর্ভুক্ত করেন যদিও রাজনীতি থেকে ধর্মকে সম্পুর্ন বিচ্ছিন্ন করার পক্ষপাতি তিনি ছিলেননা। তিনি তার জনগনের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগনের সংহতির একটা জোরালো উপাদান হিসেবে ইসলামকে বিবেচনা করেছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারত রাষ্ট্রের অত্যন্ত শক্তিশালী সাংস্কৃতিক প্রভাব থেকে নিজের রাষ্ট্র ও জনগনকে আলাদা রাখার সচেতন চেষ্টা ছিলো তার। জনসংখ্যার হিসেবে পাকিস্তানের চেয়ে ও বেশী মুসলমান জনগোষ্ঠীর হিসেবে তিনি বাংলাদেশকে দক্ষিন এশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন। পাকিস্তানের স্বীকৃতি লাভের মাধ্যমে ওআইসির সদস্য হতে তিনি সচেষ্ট ছিলেন। অন্যসব মুসলিম রাষ্ট্র বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোর স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য ওআইসিকে তিনি ব্যবহার করতে চেয়েছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন নিশ্চিত করার জন্য তিনি মরীয়া ছিলেন। এসময় লিবিয়া, আলজেরিয়া ও মিশরের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনে তিনি সফল হন।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের ফলে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে বাংলাদেশের যে অনস্বীকার্য্য কৃতজ্ঞতার সম্পর্ক তৈরী হয়, শেখ মুজিব সচেতন ছিলেন এই সম্পর্কের সুযোগে যেন ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন কোন সুযোগ নিতে না পারে, যেনো বাংলাদেশ এই দুই দেশের উপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে। সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে তিনি কুটনৈতিক ভাবে একটা সাম্যাবস্থা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন।
তিনি বাংলাদেশকে অবশ্যই লিবিয়া, সৌদী আরব, পাকিস্তানের মতো ধর্মাচ্ছন্ন রাষ্ট্র নয় বরং মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো ইসলামী মুল্যবোধসম্পন্ন কিন্তু আধুনিক ও গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ন স্থায়ী সম্পর্ক স্থাপনে তার আপত্তি ছিলোনা কিন্তু ভারত-সোভিয়েত মিত্রজোটে তিনি তার দেশকে অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী ছিলেননা।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জোটনিরপেক্ষ থেকে আভ্যন্তরীন রাজনীতিতে সুস্থতা ও স্বাভাবিকত্ব ফিরিয়ে আনা তার কাছে জরুরী ছিলো।
কোন কোন রাজনৈতিক দলের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ভুমিকার জন্য তিনি মর্মাহত ছিলেন কিন্তু কারো বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়া কিংবা শাস্তি দেয়ার উদ্যোগ তিনি নেননি। বরং তিনি উদ্যোগী ছিলেন পুরনো সবকিছু ভুলে নতুন রাষ্ট্রে সকল নাগরিকের সংহতি নিশ্চিত করতে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকা, ত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে যে ‘ফাদার ফিগার’ ইমেজ গড়ে উঠেছিলো, শেখ মুজিবের পক্ষে সম্ভব হয়নি তা ভেঙ্গে বেরিয়ে আসার। পিতৃস্নেহে তিনি সকলকেই সংযুক্ত করতে চেয়েছিলেন নতুন রাষ্ট্র বিনির্মানে।
এই সুযোগে বেসামরিক আমলা ও সামরিক কর্মকর্তা যারা মুক্তিযুদ্ধ এবং মুজিবের নেতৃত্বের বিরোধী ছিলো তারা প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীতে আগের মর্যাদায় ফিরে আসে। এদের শাস্তি দেয়া তো দূরের কথা বরং মুজিব সতর্ক ছিলেন যেনো এদের প্রতি কোন অবিচার(!) না হয়, যেনো তার ক্ষমায় অনুতপ্ত হয়ে এরা রাষ্ট্রগঠনে আরো বেশী আন্তরিক হয়।
এ ক্ষেত্রে ও সাম্যবস্থা নিশ্চিত করতে তিনি যুদ্ধকালীন মুজিবনগর প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গুরুত্বহীন করতে থাকেন।
শেখমুজিব সংশয়ী ছিলেন যে, মুক্তিযুদ্ধে অনুপস্থিতির কারনে দেশবাসীর কাছে তিনি তার গ্রহনযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছেন। সকলের প্রতি পিতৃসুলভ সমান আচরন করে তিনি তার হারানো গ্রহযোগ্যতা ফিরে পেতে চেয়েছিলেন।
যুদ্ধকালীন সময়ে বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য নিন্দিত খন্দকার মোশতাক ও তাহেরউদ্দীন ঠাকুরকে গুরুত্বপুর্ন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বদান, মুক্তিযুদ্ধে অংশে নেয়নি এমন সামরিক-বেসামরিক আমলাদের সরকারের শীর্ষপর্যায়ে প্রবেশের সুযোগ দেয়া, এই লোকেরা অন্তর্ঘাতমুলক কাজ করতে পারে- শুভাকাংখীদের এমন সতর্কতাকে পাত্তা না দেয়া এগুলো তার সম্পর্কে আমার ধারনার সপক্ষে কয়েকটি প্রমান মাত্র।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

এই তথ্যসমৃদ্ধ লেখাটা আলাদা পোস্টে রাখলে বেশী চোখে পড়বে মনে হয়।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

পুরো বইটাই খুব গুরুত্বপূর্ণ। 'Persona of Seikh Mujibur Rahaman' অধ্যায়টা অনুবাদের ইচ্ছে ছিলো সচলায়তনের জন্য।
সময় হলোনা।
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

দিগন্ত এর ছবি

মন্তব্য/লেখাটা দারুণ ... অপেক্ষায় রইলাম অনুবাদটা পড়ার জন্য। বছরখানেক বাদে হলেও চলবে। ততদিন আমি বইটা পড়বনা। কিন্তু অনুবাদ চাই ...


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

সময়, সময় বড়ই বেরহম দিগন্ত।
এক একটা বই পড়ি আর মনে হয়- আহা এটা কেনো আমার ভাষায় লেখা হলোনা?

বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম,ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক এরকম কম্পেক্ট বই মনে হয়না খুব একটা বেশী আছে। অনেক ধারনা বদলে যেতে বাধ্য।
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

পল্লব এর ছবি

মন্তব্যটা জটিল হইসে। তবে এইটা আরেকটু বাড়ায়ে আলাদা পোস্ট করলে প্রিয় পোস্টে জমায়ে রাখতে পারি দেঁতো হাসি

==========================
আবার তোরা মানুষ হ!

==========================
আবার তোরা মানুষ হ!

শ্রাবন্তি এর ছবি

~~~...তার যে সহকর্মীরা তার নামেই মুজিব নগর সরকার গঠন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সফল নেতৃত্ব প্রদান করে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন- মুজিব তাদের প্রতিই সন্দেহপ্রবন এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ইর্ষাপরায়ন হয়ে উঠেন...~~~
এই সন্দেহ প্রবণতা এবং ঈর্ষাপরায়নতা সৃষ্টি হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে অনুপস্থিতির সংকোচ থেকে।আজীবন দাবী আদায়ের মিছিলে অগ্রপথিক মুজিব তার সিদ্ধান্তহীনতাটির জন্য আজীবন কষ্ট পেয়ে থাকবেন।
একে অপরের সম্পূরক হয়ে উঠা এই মুজিব-তাজউদ্দিন জুটির ভেঙ্গে যাওয়ার সাথে সাথেই বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারের বাকী ব্যাটসম্যানরা শয়তানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

আপনার এই লেখাটি একটি আলাদ পোস্ট হিসেবেই আসতে পারে।
ধন্যবাদ।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

ভাসানী সম্পর্কে হাত খুইলা লিখেন না ক্যান? শিরোনাম দেইখা ঢুকলাম।

কতগুলা বামনের গড়াগড়ির ইতিহাস দেখলাম। এইটাই আমাদের জাতীয় ইতিহাস ... জাতীয় উপার্জন ...
___________________________
Any day now, any day now,
I shall be released.


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

অনলাইনে হাজার খানেক শব্দ অনেক লম্বা,তাই আজ থামলাম।ভালো থাকবেন।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

কুলদা রায় এর ছবি

আব্দুল জব্বারের ঘটনাও বলেন। শুনি--
...............................................................................................
'এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর'

...............................................................................................
'এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর'

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

ফিল্মে দেখেছি মাতাল বাবা পয়সার বিনিময়ে মেয়েকে সাহেবের জুরিগাড়ীতে তুলে দিচ্ছেন। বাস্তবে দেখলাম দেশটাকে সামান্য স্কচের বিনিময়ে অনেকে তালিবান ডঙ্কিকার্টে তুলে দিতে চেয়েছিলেন।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

সাইফ শহীদ এর ছবি

আহসান,

আজকের এই জাতীয় কলংকের দিনে উপরে নিবিড়ের কথা মনে আলোড়ন তুললোঃ

একজন হত্যাকারীর থেকেও এই ছদ্মবেশী বুদ্ধিজীবিরা বেশী ভয়ংকর

হাসান মোরশেদ যা লিখেছেন - সবই খুব খাটি কথা - যদিও হয়তো অনেকের পছন্দ হবে না। সত্য কথা মাঝে মাঝে অপ্রিয় শোনায়।

আহসানকে অনেক ধন্যবাদ তার নিজের অভিজ্ঞতা এবং মনের দরজা খুলে সেগুলি আমাদের সাথে ভাগ করে নেবার জন্যে।

এই সময় আরও অনেক প্রাণ অকালে ঝড়ে গেছে। আমার কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিচের লিঙ্ককে লিখেছিলাম। অন্যদের তেমন অভিজ্ঞতা জানতে চাই।


দেশে কি এমন কেউ ছিলো না

সাইফ শহীদ

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার লেখাটা পড়লাম। আপনি ৭২-৭৫ সময়টা নিয়ে আরো লিখুন, তাতে আমরা উপকৃত হব। ইতিহাসের নির্মোহ বয়ান আপনার কাছ থেকে পাওয়া যাবে, আমি নিশ্চিত,কারণ আপনার যাপিত জীবন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মেরুকরণের বাইরে, নান্দনিক এক জীবন চর্যা।আপনার মতো মানুষেরা পেশাগত ব্যস্ততায় লেখালেখিতে না আসাতেই ছদ্ম বুদ্ধিজীবীরা ঢাকা আলো করে বসে আছে।থাকুক তারা। আমরা আপনার মতো আধুনিক মননের যারা তাদের লেখাই পড়তে চাই।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

আবুল খায়ের এর ছবি

অনেকগুলো অজানা তথ্য দিয়েছেন। আপনার লেখায় নিশ্চয়ই অনেকের বিভ্রান্তি কাটবে আশা করি। একমত।

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

ধন্যবাদ।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

মোহাম্মদ মামুন মিয়া এর ছবি

আশির পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাপরবর্তী ইতিহাস আসলেই একটা গোলকধাঁধাঁ। এরকম আরো অনেক ঐতিহাসিক আলোচনা-পর্যালোচনা প্রয়োজন, সঠিক ইতিহাস উদ্ধারের জন্য।

মোহাম্মদ মামুন মিয়া এর ছবি

আশির পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতাপরবর্তী ইতিহাস আসলেই একটা গোলকধাঁধাঁ। এরকম আরো অনেক ঐতিহাসিক আলোচনা-পর্যালোচনা প্রয়োজন, সঠিক ইতিহাস উদ্ধারের জন্য।

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

আর লেখাগুলো আসতে হবে ওইসময় যাদের বোঝার বয়েস ছিল তাদের কাছ থেকে। আমার বয়স ছিল পাঁচ। ফলে বিশবছর পরে রেডিও ভবনে অনেক বেশী কাঠখড় পুড়িয়ে সত্য খুঁজতে হয়েছে।তাই ৭২-৭৫ সালে যারা দশ-পনের বয়েসে ছিলেন, তারা লিখবেন সেই আশায় আছি।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

দ্রোহী এর ছবি

এধরনের লেখাগুলো সরাসরি লেখাই ভাল। মানে বলতে চাইছি আপেল মাহমুদের নামোল্লেখ করে লেখাই ভাল হতো। হাসি

লেখা ভাল হয়েছে। আপেল মাহমুদ সম্পর্কে নতুন কিছু জানলাম।


কি মাঝি, ডরাইলা?

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

নামটা লিখে দিলেতো খুঁজে বের করার চেষ্টাটাই তরুণরা করবেনা। কে এই লোক তা খুঁজতে গেলে তরুণরা হয়তো আরো কিছু জরুরি তথ্য বের করে ফেলবে,যেটা হয়ত আমি পারিনি। তাই একটু ব্রেন স্টর্মিং।আখেরে লাভটা তরুণদেরি। অনেক ভালো লাগলো লেখাটা আপনার চোখে পড়েছে শুনে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

অতিথি লেখক এর ছবি

এক্ষেত্রে কিছু ঝামেলা আছে। যেমন ধরুন আমি যে সোর্স থেকে বিষয়টি নিয়ে জানতে পারবো সেই সোর্স বায়াসড কোন মত ধরিয়ে দিতে পারে, সেক্ষেত্রে লাভের চেয়ে ক্ষতিই হবে বেশি। এমনটি অনেকবার আমার সাথে ঘটেছে। এসব ক্ষত্রে কোন সূত্র বা সোর্স দেওয়া থাকলে সম্ভবত ভালো হয়। সেক্ষেত্রে সঠিক জিনিসটা জানবার সুযোগ বেশি থাকবে।
পলাশ রঞ্জন সান্যাল

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

মন্তব্যে এসে পাজল জোড়া দেওয়ার জন্য গল্পের মধ্যে কিছু প্রতীক বা চিহ্ন ছড়িয়ে দেয়া। মন্তব্য গুলো জোড়া লাগিয়ে ক্যাচালায়তনের বাধা ঠেলে ইতিহাসের ল্যাবিরিন্থটা সবাই মিলে পার হয়ে সচলায়তনে পৌঁছানোর চেষ্টা। ধন্যবাদ।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

শাহরিয়ার লীন এর ছবি

অনেকেই কথা বলছে এখন, যাদেরকে আমরা কখনো কথা বলতে শুনিনি।
ভাল লক্ষণ। ১৭ জন জোগাড় হবে মনে হয় হাসি
এখন দরকার ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখ্‌তিয়ার খিলজি হাসি তবেই হয়ত দেশ থেকে এইসব 'কুলক্ষণ'বিদেয় হবে।
রাজনীতি দরকার, গুন্ডামি আর কতদিন!?
আপেল-কমলা'র আর দোষ কি মাসকাোয়াথ!? ঘি মাখন সহ্য হবে না জেনে কি সারমেয় মশাই রোজা করেন? বলে না 'স্বভাব যায়না মলে'!!?

ধুসর গোধূলি এর ছবি

বস, আমাদের ক্ষমতা কি নাই হয়ে গিয়েছে? আমরা কেনো আরেকজন ভিনদেশী ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী'র জন্য অপেক্ষা করতে থাকবো! কেনো আশা করবো কোনো এক বিদেশী এসে আমাদেরকে আমাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিয়ে যাবেন! আমরা নিজেরা কেনো নিজেদের প্রাপ্য আদায় করার স্বপ্ন দেখি না!



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

হিমু এর ছবি

বখতিয়ার খলজি ছিলো একটা মূর্খ তুর্কি। সে কোনো "কুলক্ষণ" বিদায় করেছিলো, এমন কোনো প্রমাণ ইতিহাসে নেই। বখতিয়ার খলজি ছাগুদের হিরো। আপনারও হিরো নাকি?



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

আরিফ [অতিথি] এর ছবি

"আমার বয়েস তখন পাঁচ,থাকি ঈশরদী বাবুপাড়ায়, জাসদ তখন আমাদের প্রতিবেশী।এখন বুঝতে পারি কেন আমাদের পাড়াতে বঙ্গবন্ধু হত্যার কোন প্রতিক্রিয়া দেখলাম না।"

কি প্রতিক্রিয়া দেখতে চেয়েছিলেন জাসদের কাছ থেকে?
জাসদ আপনার প্রত্যাশা কেন পূরণ করতে পারেনি?
তখন অন্য কোন কোন অর্গানাইজেশনের তরফ থেকে কেমন কেমন প্রতিক্রিয়া দেখতে পেয়েছিলেন?

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

ঈশরদীর জাসদ নেতাদের দেখে খুব চিন্তিত মনে হয়েছে,খুশী মনে হয়নি।পাড়ার মহিলাদের মধ্যে শোক ছিল। হিসেবী পুরুষেরা সেগুলো লুকাতে বলছিল। আওয়ামী লীগের নেতারা ঈশরদীতে শোক আর অনিশ্চয়তার মাঝে ছিলো। সেসময়ের তাদের মুখাবয়বের অভিব্যক্তিকে এখন এভাবে লিখছি।পাশের মসজিদের ঈমাম দোয়া দরুদ পড়ছিলেন, মসজিদের বারান্দায় বসে। তবে কী হতে যাচ্ছে আবার যুদ্ধ বেধে গেল কীনা সবাই বলাবলি করছিল, আমার আব্বা আমাকে এটা আরেকটা যুদ্ধ হিসেবে বলেছিলেন। বলেছিলেন শত্রুরা আবার আঘাত হেনেছে। তাই মাঠে খেলতে যাওয়া ঠিক হবে না। তার চেয়ে রেডিও শোনা ভালো।পরে উনি হত্যার ঘোষণা আমাকে শুনতে নিষেধ করেছেন। ফলে রেডিওর প্রতি আকর্ষণ তৈরী হয়েছিল।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

নাদির জুনাইদ এর ছবি

বেশ অনেক দিন পর আজ সচলায়তন-এ এসে আপনার লেখার শিরোনামটা দেখে পড়া শুরু করতেই হলো, আর পুরো লেখাটা পড়ে আপনাকে জানাতে ইচ্ছে করলো যে এই সাহসী লেখাটা খুব ভাল লেগেছে। শেষের দুটি অনুচ্ছেদের কিছু মন্তব্য যেমন "রাজনীতিটা পেশী-গলাবাজী-ক্যাডার পোষা আর ছদ্ম বুদ্ধিজীবীদের জায়গা হয়ে গেলো তাজউদ্দীনের রাজনৈতিক মৃত্যুতে", আর "বঙ্গবন্ধু বিদেশী শত্রুর মোকাবেলা করেছেন,যুদ্ধ জিতেছেন, কিন্তু দেশীয় রক্ষীবাহিনীর অপকর্ম বনাম দেশজ সেনাবাহিনী-যুদ্ধাপরাধী-বাম ছায়া নর্তকদের পরাজিত করতে পারেননি" খুব অল্প কথায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিছু বক্তব্য দারুণভাবে প্রকাশ করেছে। দুঃখ লাগে এ কারণেই যে, চার-পাঁচ যুবক বা আরো কেউ কেউ বঙ্গবন্ধুকে তাজউদ্দীনের বিরুদ্ধে বোঝালো, আর তারপর একসময় তাজউদ্দীনকে দূরে সরে যেতে হলো। অথচ এই যুবকদের এমন আচরণ বা তাজউদ্দীনের নীরবে সরে যাওয়া যে কোন মঙ্গল বয়ে আনবে না তা অনেকেই বুঝলেন না। আমাদের দেশে আমরা কেবল ভুলই করেছি বার বার, আর সেই ভুল থেকে ফায়দা লুটেছে আড়ালে থাকা ক্রূর মানসিকতার লোকেরা, আর আমরা কেবল দেখেছি কষ্ট আর যন্ত্রণা --- অনেক মানুষের, পুরো সমাজের। সেই বিষ তো এখনো পীড়িতই করছে আমাদের; বছর গড়িয়ে যাচ্ছে একের পর এক, কিন্তু যে ভুলগুলো কেবল আমাদের হতাশা আর কষ্টই উৎপন্ন করছে, সেই ভুলকে আর মুছে ফেলা হচ্ছে কোথায়?

অনেক ভাল একটা লেখা পড়লাম, মাসকাওয়াথ ভাই। অনেক ধন্যবাদ।

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ। তোমার লেখা পড়তে চাই। ভালো থেকো।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

শাহরিয়ার লীন এর ছবি

ধুসর গোধুলী,
আপনার মত মন্তব্যই আশা করেছিলাম। ধন্যবাদ, একটি পরিণত প্রতিক্রিয়ার জন্য। এটাই এখন প্রশ্ন, নীলটুপি চাই নাকি আমরা? 'কুলক্ষণ'রা কি সেদিকেই নেবেন আমাদের?

হিমু,
(স্বনাম কি? আমারটা কিন্তু নিজ নাম, চাইলে ফোন নাম্বারটাও দিতে পারি!)
আপনি ইতিহাসবিদ সেটা ভাল কথা, তবে বয়সটা বোধহয় কম হাসি
শব্দ নয়, শব্দের পেছনের মানেটা খুঁজতে শিখুন। ব্লগিংটা জ্ঞানী এবং চিন্তাশীলদের জন্য হাসি এখানে 'হিমু' টাইপ বক্তব্য শুধু ভদ্রলোকদের দুরে ঠেলতেই কাজে লাগে; নাকি আপনি সেটাই চাইছেন?
একজন বাংলা জানা তুর্কি আপনার বক্তব্য পড়লে জাতিগতভাবে আমরা কত সম্মানিত হব বলতে পারেন? তুর্কিরা মুর্খ ছিল কি না তা আপনার মত ইতিহাসের ছাত্ররা বলবেন, আমাদের মত আম জনতা দেখবে ১৯৭১ সালে তুরস্ক কি ছিল, আর এখন কি।
বাংলাদেশের অশালীন ভাষা ব্যবহারকারী নব্য সচেতনরা শুধু গো-চানা হতেই শিখছেন, বিষয়ের একটু গভীরে যেতে শিখলে আমরা এইসব দুস্কৃতিকারী রাজনীতিবিদদেরকে কিছুটা সারি তে আনতে চেষ্টা করতে পারি হয়ত।

ইব্রাহিম লোদী, বখতিয়ার খিলজি, আকবর, সিরাজ, মাউন্ট ব্যাটন, ইয়াহিয়া কিংবা দেশীয় পোশাকধারীরা যা শেখাতে চেয়েছেন সেটাই যদি শিখে বসি, তাহলে আর এত কথার প্রয়োজন কি? জাষ্ট লেট আস বি ডিভাইডেড, এন্ড লেট দেম রূল ! চোখ টিপি আমরা কি সেই দিকেই যেতে চাই?

হিমু এর ছবি

জনাব শাহরিয়ার, স্বনামই। তবে আপনার ফোন নাম্বারে আগ্রহ নেই।

শব্দের পেছন শুঁকে আপনি যে অভ্যস্ত, সেটা জেনে ভালো লাগলো।

বখতিয়াল খিলজি পুরো এক বৌদ্ধবিহার ভর্তি নিরীহ নিরস্ত্র ভিক্ষুকে হত্যা করেছিলো, এই তথ্য আপনার মতো বখতিয়ার ভক্তরা সম্ভবত জানে না। বিহার প্রদেশের নামটাই এসেছে বখতিয়ারের হাতে ম্যাসাকার হওয়া বৌদ্ধবিহার থেকে। আপনি ভদ্রলোক কি না জানি না। তবে এ জানি, বখতিয়ার এতোই মূর্খ ছিলো যে ভূটান দিয়ে তুরস্কে ফিরে যেতে চেয়েছিলো। বইপত্রের সাথে সংশ্রব থাকলে পড়ে দেখবেন।

তুর্কিরা কী ভাবলো, সেটা দিয়ে আমাদের সম্মান ঠিক কবে থেকে নির্ধারিত? তুরস্ক এমন একটা জাতি যা ছিয়ানব্বই বছর ধরে আর্মেনিয়া গণহত্যাকে অস্বীকার করে আসছে।

শালীন ভাষায় ছাগলামো করে যাওয়া কত ছাগু দেখলাম, নতুন একটাকে দেখে তাই বিশেষ প্রতিক্রিয়া হয় না আজকাল। শুধু বলি, বইপত্র পড়ুন, কিছু জানতে পারবেন। বখতিয়ারের লেজ ধরে দোল খেয়ে ভক্তি বাড়বে হয়তো, শিক্ষা বাড়বে না।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

শাহরিয়ার লীন [অতিথি] এর ছবি

হিমু,
ফোন নাম্বারে আগ্রহ না থাকবারই কথা। কাপুরুষরা পরিচয় গোপন রাখতে চায়!
সচল এবং সচেতনদের ব্লগেও যে ছিঁচকে 'বুদ্ধিজীবি'রা আক্রমন করছে, জানা ছিল না। হাসি
তাজউদ্দিন'রা এইসব কারনেই অনুপস্থিত তা বলা বাহুল্য।

আপনার বিদ্যা জাহির করার প্রবণতা এবং ভাষা ব্যবহারই বলে দেয় আপনার পড়শোনার দৌড় কতদুর, কিংবা ঠিক কোন ধরনের বই পূস্তকের সঙ্গে আপনার সংশ্রব থেকে থাকতে পারে! তা নাহলে বখতিয়ারকে নিয়ে এমন তূর্কি নাচন নাচতেন না। লেখাটা আরেকবার পড়ুন, তারপরেও মানেটা না বুঝলে একজন মানসিক চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন। ভবিষ্যতে হয়ত অকারণ ঈর্ষাম্বিত হবার অসুখটা থেকে বেঁচে যাবেন।

'পেছন' শব্দটা নিশ্চই খুঁজে পেতে কষ্ট হয়েছে? হাসি কারন আপনারা আরও সরাসরি অশালীন বাক্যে অভ্যস্ত সেটা বোঝা যাচ্ছে। যা হোক, আর কষ্ট করার প্রয়োজন নেই, একজন 'লক্ষণ সেন অথবা হিমু সেন' এর পরাজয়টা এত শব্দ করে জানান না দিলেও চলবে।

তুর্কিরা কি ছিল তাতে আমার আগ্রহ নেই, আমার আগ্রহ একটি অসাম্প্রদায়িক, সহিষ্ণু, যুদ্ধপরাধী ও ধর্মীয় গোড়ামীমুক্ত একটি আধুনিক জনপদ। সেখানে আপনার ব্যবহৃত শব্দসমূহ অচল। মাসকাওয়াথের লেখাটা আবার পড়েন, আমার প্রথম মন্তব্যটাও, এবং চিকিৎসকের কাছে এই দুটো'র প্রতিলিপি নিয়ে যেতে ভুলবেন না যেন! হাসি ভাল থাকুন, সুস্থ হয়ে উঠুন, এই কামনা রইল।

হিমু এর ছবি

গায়ে পড়ে ফোন নাম্বার দিতে চাওয়া যদি সাহসিকতার লক্ষণ হয়, তাহলে পৃথিবীতে সবচেয়ে সাহসী বোধহয় ইনস্যুরেন্সের দালালরাই। আপনার নাম শাহরিয়ার লীন কি না, সেটা বোঝারও কোনো উপায় নেই।

আমার পড়াশোনার দৌড় আপনি পায়জামার ফিতা খুলে মেপে ফেলতে পারবেন, সমস্যা নেই। আপনার লেখার মানে পড়েছি। সতেরোজন মার্সেনারিকে নিয়ে আপনি এক মূর্খ তুর্কি, যে কিনা দরবেশের আশ্বাসে ভারতে রাজ্য দখল করতে এসেছিলো, তাকে কামনা করেন কুলক্ষণ দূর করার জন্যে। আর কোনো উদাহরণ ছিলো না? নাকি বখতিয়ারের নামটাই শিখেছেন কেবল?

বললাম তো, কত শালীন ভাষার ছাগু দেখলাম, নতুন আরেকটাকে ম্যাৎকার করতে দেখলে, তাই দীর্ঘশ্বাস আসে।

অসাম্প্রদায়িক, সহিষ্ণু, যুদ্ধাপরাধী ও ধর্মীয় গোড়ামীমুক্ত একটি আধুনিক জনপদের কথা বলতে গিয়ে একদিকে মুখে ফেনা বের করছেন, অন্যদিকে টিপছেন বখতিয়ারের নামাঙ্কিত তসবি। যুদ্ধাপরাধী বাদে বখতিয়ার আপনার বলা বিশেষণগুলোর একটারও যোগ্য নয়। আগে পড়াশোনা করে রোল মডেল ঠিকমতো বাছুন, তারপর নাহয় মন্তব্য করতে আসবেন।

মাসকাওয়াথের ধরি মাছ না ছুঁই পানি মার্কা লেখাটা পড়েছি। তার সাথে আপনার মন্তব্য মিলিয়ে পড়ে মনে মনে হেসেছি। বখতিয়ার খলজি আর তার সাথের সতেরো জনের সাথে তুলনা দিতে পারি রাতের অন্ধকারে জড়ো হওয়া ঐ ষোলো সতেরোজন ঘাতক সেনা অফিসার আর জওয়ানেরই। আর লক্ষণ সেনের সাথে তুলনা দিতে পারি তার কয়েক বছর পর সেনা হামলার ভয়ে লুঙ্গি পরে বাড়ি থেকে পালানো জেনারেল জিয়ার। রেফারেন্স চাইলে মাসকাওয়াথের দোস্তো আনিসুল হকের আয়েশামঙ্গল পড়তে পারেন।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সবজান্তা এর ছবি

কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক হলেও একটা মন্তব্য না করে পারছি না এই প্রসঙ্গে।

আমি ঠিক জানি না আমাদের দেশে নিচু ক্লাসের পাঠ্য বইগুলিতে বখতিয়ার খিলজীর কথা অত্যন্ত বীর রসে জারিত করে উপস্থাপিত করা হয়। একটু বড় হয়ে যখন আমি নিরীহ বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যার কথা জেনেছিলাম, ছোটবেলায় মনের মধ্যে তৈরি হওয়া সেই দিগ্বিজয়ীর 'ইমেজ' ভেঙ্গে ছত্রখান হয়ে গিয়েছিলো। একই রকম অবাক হয়েছিলাম উচ্চ মাধ্যমিকে আমাদের কাজী নজরুল ইসলামের যে কবিতাটা পাঠ্য ছিলো সেটা পড়েও। সেখানেও উচ্চকণ্ঠে কালাপাহাড়কে যৌবনের প্রতীক বলে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা হয়েছে। তখনো কালাপাহাড় সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। কবিতার পরে টীকা অংশে দেখতে পেলাম, কালাপাহাড় অত্যন্ত নিষ্ঠুর একজন লোক ছিলেন যিনি নির্বিচারে বহু হিন্দু মন্দির ধ্বংস করেছেন। পরবর্তীতে যেখানেই কালাপাহাড় সম্পর্কে পড়েছি এর ব্যতিক্রম কোথাও চোখে পড়েনি। শাসকদের সবাই-ই কম বেশি শোষণ কিংবা অত্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত, এ সত্যটুকু স্বীকার করে নেওয়ার পরও অত্যাচারের মাত্রাভেদের কারণেই খিলজী কিংবা কালাপাহাড়কে কোন বীর বলে স্বীকার করে নিতে আমার আপত্তি আছে। শুধু এই না, তীব্র আপত্তি আছে শিশু কিংবা কিশোর মানসে একজন অত্যাচারীকে বীর বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়াতেও।


অলমিতি বিস্তারেণ

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

মন্তব্যটা অপ্রাসঙ্গিক নয় বলেই মনে করছি। পাঠ্যপুস্তকে অনেক খুনে লুটেরাকেও জাতীয় হিরো বানানো হয়েছে। ইতিহাস বিকৃতির এই ধারা পাঠ্যপুস্তক থেকে যদিও বা বিদায় করা গেছে, মানুষের মনে তা বিদায় হয়নি। বঙ্গবন্ধুর মূল্যায়নে এই মানসিকতাই তো অন্তরায় আজো, তাই না?
___________________________
Any day now, any day now,
I shall be released.


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

আঘা শাহরিয়ার লীন, বয়স নিয়ে খোঁটা দেয়াটা একধরণের নীচুমানের বর্ণবাদ। আপনার মত কি?
___________________________
Any day now, any day now,
I shall be released.


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

শাহরিয়ার লীন [অতিথি] এর ছবি

অনিন্দ,
বর্ণ গন্ধ যেখানে অনুপস্থিত, সেখানে আপনার প্রশ্নটি ছেলেমানুষি হাসি হিমু সাহেব যে আশি বছরের বৃদ্ধ নন, এই নিশ্চয়তা আমাকে কেউ দেয়নি হাসি কাজেই, মানেটা বোঝার চেষ্টা করুন।
আর হ্যাঁ, আঘা শব্দটার অর্থ বুঝিনি, বলারও প্রয়োজন নেই, কারন শব্দটা এই পরিবেশে উচ্চারিত হতে পারে কি না, ভাবার সময় বোধহয় আপনার ছিলনা। যা হোক - এটা পাড়ার মাস্তানদের জন্য জমিয়ে রেখেন, এখানে ব্যবহার না করাই ভাল।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

Agha - title for a civil or military leader (especially in Turkey)

সূত্র : http://www.thefreedictionary.com/agha

জনাব, আপনাকে সম্মানসূচক অভিধায় ডেকেছি কেবল। মাস্তানি পেলেন কোথায়?

___________________________
Any day now, any day now,
I shall be released.


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

হিমু এর ছবি

মাসকাওয়াথের পোস্ট পড়ে দেখলাম, ওখানেও আপেল মাহমুদ এককালে ঘাড় ফুলিয়ে বেশি বয়সের দাপট দেখাতে চেয়েছিলেন। মাসকাওয়াথের দোস্তো এই শাহরিয়ারও দেখছি কথা শুরুর আগে রায় ঘোষণা করে ফেলছে, তর্কে প্রতিপক্ষের বয়স কম।

×× পেকে তামার তার হয়ে যাওয়া কিছু লোকের একটা সমস্যা হচ্ছে, এরা স্বীকার করতে চায় না যে বয়স বাড়লেও এদের শিক্ষাদীক্ষা ক্লাস এইটে পড়া ইতিহাস বইয়ের চেয়ে বেশি এগোয়নি। তাই তর্কের শুরুতেই লুঙ্গি তুলে তামার তারের আঁটি দেখিয়ে চোখ রাঙিয়ে মনে করিয়ে দেয়, তারা এক একটি বৃদ্ধ কচ্ছপ, মাঝে মাঝে ভুস করে ভেসে ওঠে কোনো এক ব্লগের সৈকতে জ্ঞানগর্ভ ডিম পেড়ে আবার ডুব দেয়ার জন্যে। সেই ডিমের দুর্গন্ধ বয়সে ছোটোদের মুখ বুঁজে সহ্য করে যেতে হবে, কারণ এরা যখন বয়সে ছোটো ছিলো, তাদের আমলের দামড়াদের তেল দিয়ে দিয়ে তর্ক করার ফুরসত আর পায়নি।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

হিমু, আপনি আমার একটি পোস্টকে গান্ধী নিধনের হটস্পট হিসেবে বেছে নেওয়ার পর আমি ইমেইলে অনুরোধ করেছি আলোচনাকে ডিরেইল না করার জন্য। আপনি লিখেছিলেন 'আচ্ছা'। কিন্তু আবার এই পোস্টে হাজার বছর পেছনে নিয়ে গেলেন আলোচনা। আপনি এক অতিথিকে বখতিয়ার খিলজীর নাম উল্লেখ করায় ছাগু হিসেবে রায় দিলেন। বাঘ বকরী খেলায় বঙ্গবন্ধু-তাজ আলোচনাটা ক্যাচালায়তনে জড়িয়ে গেলো। সচলায়তনের শুরু থেকেই আমার লেখার সুযোগটা রয়ে গেছে। তাই এখানে লিখবোই। আপনি প্রসঙ্গে থেকে আলোচনায় অংশ নিন। আমাকে চোখ রাঙ্গিয়ে লাভ নেই। তাতে সময় নষ্ট। আপনার হাতে অনেক কাজ। প্রায়োরিটিতে আমার মত একটা অষ্টম শ্রেণী পাশ তাম্রলিপিকে না রেখে বড় কাজগুলো শেষ করুন। নেভারেস্ট তিনের জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু হিমু এটা মনে হচ্ছে আইফেল টাওয়ার কেস। তাহলে আমরা সবাই বলদ প্রতিপন্ন হতে চলেছি। আপনাকে অভিবাদন, আপনি সেই আরজ আলী মাতুব্বর আমাদের বলদায়তনে। গোটা দেশটার কথা বলছি। আপনি বাঘমানুষ বরাহ শিকার করুন। বলদদের মাফ করে দিন ফেলুদা।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আমি দুঃখিত যে এই মন্তব্যের মাঝে নাক বাড়িয়ে দিচ্ছি। উপরের মন্তব্যটা যতোটুকু আমি বুঝেছি, শাহরিয়ার লীনকে উদ্দেশ্য করে। মাসকাওয়াথ ভাইকে উদ্দেশ্য করে নয়। শাহরিয়ার লীন শুরুতেই হিমুকে "বয়স কম" জাতীয় অপ্রয়োজনীয় বিশেষণে আখ্যায়িত করতে চেয়েছেন। এইটা কতোটুকু যুক্তিসঙ্গত?

হিমুর বয়স বারো নাকি বাইশ কি বত্রিশ, সেটা তো এখানে বিবেচ্য হওয়ার কথা না। আসল নাম নকল নাম, এইসবও না। এইখানে বিবেচ্য হলো কতোটা অন দ্য রেকর্ড কথা বলা হচ্ছে, সেটা। তো সেই শিষ্টাচার তো শুরুতেই লীন সাহেব ভেঙে বসে আছেন।

একজন ম্যারাডোনা, 'বলবয় মুয়েলার' এর সাথে সংবাদ সম্মেলনে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাকে অপমান করার ফলটা কিন্তু হাতে নাতেই পেয়েছিলেন। লীন সাহেবের সেটা মনে থাকার কথা।

আর লীন সাহেবের চোখে কি আমাদের তাজউদ্দীনদের পড়ে নি? বখতিয়ার খলজির মতো একজন তুর্কী হিংস্র মানুষকে কেনো আমদানী করতে হবে আমাদেরকে সুপথ দেখনোর জন্য। মুসলমান বলে? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে! সেই কারণটা কি 'না-জানা'? আমাদের নিজেদের ইতিহাস-অজ্ঞতা? দেখুন, কারণ যেটাই হোক, লীন সাহেবের চিন্তার দৈন্যই পাওয়া যায় এতে। বয়সে হয়তো হিমু তার হাঁটুর সমানও হবে না, নামেও হয়তো অতো বাহারী কিছু নেই। কিন্তু জানার ক্ষেত্রে? লীন সাহেব তো মনে হচ্ছে নিম্ন মাধ্যমিকের (খুব সম্ভবত ক্লাস এইটের) সমাজ বিজ্ঞান বইয়ে জানা খলজিকে সেখানেই আবদ্ধ করে রেখেছেন। সেই জানাকে আর সমৃদ্ধ করেন নি। করলে তিনি হয়তো বখতিয়ার খলজিকে টানতেন না।

আপনার কি তাই মনে হয় না মাসকাওয়াথ ভাই?



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

ছাগু শব্দটা বহু ব্যবহারে জীর্ণ,জায়গা মতো ব্যবহার না করলে,এসব অযথা ক্যালরী ক্ষয়, এই লিন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ছেলে, রাজশাহীতে শিবির প্রতিরোধে অংশ নিয়েছে।এই জেনেসিস দরকার আছে।কাজেই তাকে ছাগু ট্যাগিং করে লাভ কী।তবে বখতিয়ার খলজির মতো দখলদারকে রোলমডেল বললে প্রতিবাদ আসবেই, যেমন তুমি করেছো। অন্যরাও করেছে। সব সময় হাতে বল্লম নিয়ে ঘুরলে বিপদ।সংলাপে আস্থা থাকা দরকার।
তবে আমাকে কচ্ছপ ও দুর্গন্ধ সমাচারে এনে লাভ নেই। ধূগো যদিও আমি এই বিষয়টাতে মজাই পেয়েছি। কারণ আমি তো কচ্ছপই। খরগোশ তো নই।তবে এই পকেটমার পিটিয়ে খিস্তি বিনোদনে যেভাবে চলছে চলুক। তুমি তো জানো চোখ রাঙ্গানি আমার সঙ্গে কতটুকু কাজে লাগে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

হিমু এর ছবি

আপনি যদি চক্ষুষ্মান হন, আর নিরক্ষর না হন, ওপরে দেখতে পাবেন আলোচনা কখন ডিরেইলড হওয়া শুরু হয়েছে। জায়গামতো গিয়ে আওয়াজ দিন, কাজ হবে। সব দোষ হিমুর ওপর চাপালে চলবে না। নাহয় সে আপনার দোস্তো আনিসুল হকের একটু সমালোচনা করেছেই, ভবিষ্যতেও করবে, তার জন্যে গোস্যা করে থাকলে তো সব ভাত আপনাকে মাটিতেই খেতে হবে। আপনার বিষণ্ণতার শহরের প্রথম কপি কিনে কেউ কোনো বিশেষ ছাড়পত্র পেয়ে গেলে, সেই ছাড়পত্রের দাম আপনার কাছেই নাহয় থাকুক?



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

আপনি আপনার প্রিয় শব্দ ছাগুটা এনে,জ্যোতিষীর মতো লিনকে ছাগু নাকি, অভ্যাস বশত বলেই ফেললেন। কোন দখলদারকে গ্লোরিফাই করবেন না,লিনকে ধূগো সঠান বলে দিলো। আপনিও সুন্দর তুর্কী গণহত্যা অপরাধের তথ্য দিলেন। এতেই তো বার্তা দেয়া যায়। আপনার হয়তো বিউটিফুল মাইন্ডের মতো হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধী বিচার আর চারপাশে জিহাদী ষড়যন্ত্রে আপনি উতকন্ঠায় আছেন। চারপাশে ছায়ানৃত্য দেখে সাবধান হতে চাচ্ছেন।সেটা হতেই পারে,কিন্তু আমার সঙ্গে গন্তব্যহীন তর্কে আপনার সময় নষ্ট হচ্ছে। আনিসুল হক বড় ভাই, আমরা ট্র্যাডিশনাল সমাজে বড় ভাইকে দোস্ত বলিনা। আর আনিসুল হক নিয়ে কথাতো সেদিন হয়েই গেছে। এসব আমি মনে নিয়ে বসে নেই। তবে ব্লগের ঝগড়াগুলোকে উপভোগ করে ভুলে যাওয়াই ভাল। ভালো থাকবেন।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

হিমু এর ছবি

আবারও চক্ষুষ্মান হতে বলি।

আমি আপনার দোস্তো শাহরিয়ার লীনকে তো ছাগু ডাকিনি। স্মরণ করিয়ে দিয়েছি বখতিয়ার খিলজি কাদের রোল মডেল। তিনি তার উত্তরে সন্দেহ প্রকাশ করলেন আমার নাম আসল কি না [যেটা একটা অভদ্রতা বলেই জানি], জানালেন আমার বয়স কম [তাতে কী এসে যায় কে জানে, দুনিয়ার সবাইকে লোমপাকা বৃদ্ধ হতে হবে নাকি], এবং জানালেন ব্লগটা জ্ঞানী ও শিক্ষিতের জন্য [দুটোর একটিও তিনি নন]। এসব মন্তব্যের নিচে সূত্রধার হিসেবে আপনার কোনো জ্ঞানগর্ভ আক্কেলরসে জারিত মন্তব্য বা সতর্কবার্তা নেই। আপনি বন্ধুকৃত্য করতে গিয়ে তার আক্রমণটিকে মৌনতার চামর দুলিয়ে বাতাস করলেন, সতর্ক করতে গেলেন অনিন্দ্যকে তথা ভাসুরের নাম না নিয়ে আমাকে। শাহরিয়ার লীনের বাপচাচা কী ছিলো কিংবা সুদূর অতীতে তিনি কী কী উৎপাটন করেছিলেন, আমি জানি না, জানার প্রয়োজনও বোধ করি না, কারণ টাইগার সিদ্দিকীকেই দেখি প্রেস কনফারেন্স ডেকে নিজামির সাফাই গাইতে।

বন্ধুকৃত্য ভালো জিনিস, কিন্তু একচক্ষুষ্মান হয়ে থাকা খারাপ। ব্লগের "ঝগড়া" যে আপনি ভোলেননি বা ভোলেননা, সেটা ভবিষ্যতে প্রমাণের দায় আপনার কলমের ওপরই থাকবে। আপনার প্রতি আমার কোনো পুষে রাখা ক্ষোভ নেই, আমি কিছু বলতে চাইলে সরাসরি এসে জানিয়ে যাই, চুড়ি কা দুকানের ওপর গোরি কা মাকান বসাই না।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

কোলনের নয়মাকটে বসন্ত চক্ষু চর্চা উতসবে চক্ষুষ্মান হবার ক্ষমতা কমেছে। আর লিন কোথাও গিয়ে একটা ক্যাচাল না করে ভদ্র থাকলেই মনে হত গম্ভীর কাদের সিদ্দীকী হচ্ছে কীনা। কিন্তু ক্যাচালেই বোঝা গেল ও মৌলিক মানুষ, আমি আপনাদের রেসলিংটাকে ইগনোর করতে চাইলাম। পরে হাল ছেড়ে দিলাম। আরেকজন এগিয়ে এলে তাকে অনুরোধ করলাম গণপিটুনী না দিতে। এইতো।আপনার মধ্যে হুমায়ুন আজাদের আগুন দেখি। উনাকে খুব রাগী ভাবতাম। বইমেলায় বাংলাদেশ বেতারের পক্ষ থেকে সাক্ষাতকার নিতে চাইলে, উনি বললেন তুমি তো জানি রেকর্ড করবে, কিন্তু ওরা তোমাকে আমার কথা প্রচার করতে দেবে না। পরে উনি ইন্টারভিউ দিলেন, প্রচার হয়েছে আনকাট। কঠিন লোক,এতো ব্যস্ততার মধ্যে রেডিও শুনে, বইমেলায় বেশ একটা অপ্রত্যাশিত হাসি না লুকিয়ে বললেন, দ্যাখো কবে রাঙ্গামাটি পাঠিয়ে দেয়। আমি আর কথা বাড়াইনি, আপনার সঙ্গেও সম্পর্কের সুষমাটা থাকুক। নেভারেস্ট তিন লেখাটা নামান। এইটা ভ্যান্টেজ পয়েন্ট ছবির মতো আরেকটা ছবি হতে পারে, বা ওশান ইলেভেন জাতীয়। সজল বানাতে পারবে হয়ত।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

হিমু এর ছবি

হুঁ, বুদ্ধিটা ভালোই। আপনি আনিসুল হকের রোলে নামলে খুবই মানাবে কিন্তু। সজল খালেদ মনে হয় আপনার বন্ধু, সে নিশ্চয়ই রাজি হয়ে যাবে। টানা দশ মিনিট কান্তে পারলেই অডিশনে উৎরে যাবেন।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

আচ্ছা।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

সরি ধূসর। এটা ইনফ্যাক্ট আমার বা হিমুর চাইল্ড লাইক রিএকশন। ভার্চুয়াল আড্ডা বলে তা সবার সামনে হচ্ছে। তাতে ক্ষতি নেই। আমরা কিন্তু জরুরী বিষয়ে সহমতেই সবসময়,প্রত্যেকটা তর্ক হয় ইতিহাসের চরিত্র নিয়ে। আমার পশ্চাদদেশ আর হিমুর পাছা দেখানোর বালখিল্য অপচয় নয়। এখন গান্ধী সম্পর্কে আমার মূল্যায়নে হিমু সাহায্য করেছে। হুমায়ুন আজাদ যেটা করতেন। হিমু ইচ্ছা করে এটা করেনা, যারা এবাভ এভারেজ হয় তারা নেটওয়ার্ক ছবির ম্যাডম্যানের মত হতে বাধ্য। আমরা এভারেজ লোকেরা আমি বা আমার বখতিয়ার খলজি স্কুল মেট রাজশাহীর ভাটিয়ালী সারল্যে হিমুর হুমায়ূন আজাদ হয়ে ওঠার লক্ষণগুলো বুঝি না। ছাত্রদের মিডিয়া কন্সপিরেসি বোঝাতে ম্যাডম্যান ছবির ক্লিপ দেখতে গিয়ে আমার মনে হল, হিমুকে বোঝার ক্ষমতাই আমার নাই। তবে সচলায়তনের মত একটি এবাভ এভারেজ প্লাটফর্ম থাকায় হিমু একটা কফি হাউজ বা বিউটিবোর্ডিং পেয়েছে,শক্তি বা সঞ্জীব চৌধুরীর মত আড্ডার অনুপান পেয়েছে। শার্ল বদলেয়ার বা শক্তিকে না বুঝতে পারা সামাজিক মিথ।তবে আমি এখন হিমুর পাছা-তামা-শরীরের আড়াল প্রত্যঙ্গের বিশেষণ সহ উদগীরিত প্রজ্ঞা ধরতে পারি,আমি মিডিওকার হলেও বদলেয়ারের বা শক্তির ভক্ত। তাই এখন হিমুর ভক্ত। হিমুকে বুঝতে না পারার বামনতায় আমি আমার সমস্ত প্রোফাইলে লেখক শব্দটিকে পাঠকে রুপান্তর করলাম। কারণ কবি হুমায়ন রেজা-মুনির রানা-ধূসর গোধুলী আমাকে বন্ধুতার ঘোরে লেখক বলেছিল। আমি সেই ডিলিরিয়ামে নিজেকে লেখক ভেবে হিমুর সঙ্গে দর্শন এবং প্রত্যঙ্গ বিশেষণ বিনিময়ের গোল্লাছুটে জড়িয়েছিলাম। কিন্তু এখন নিজেকে ঐকান্তিক পাঠক হিসেবে আইডেন্টিফাই করে রণে ভঙ্গ দিলাম। বা আত্মসমর্পণ করলাম। এইখানে গান্ধী বা আরেফিন স্যারের জয়। আমাকে অহিংস চর্চায় সক্রিয় রেখেছেন। জয়তু সচলায়তন।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

আরিফ জেবতিক এর ছবি

এটাই আসল কথা। সচল থাকুন, সচল রাখুন।

হাসিব এর ছবি
মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

অনীন্দ্য ফেসবুকে আপনার নবীন বরণের ছবি খানিকটা নস্টালজিক করলো। আপনি এই অতিথি মন্তব্যকারীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন। আমি এই পোস্টের সূত্রধার হিসেবে আপনাকে সেটা একটু মনে করিয়ে দিলাম।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

ফারুক হাসান এর ছবি

একমত না। বরং মনে হলো সেই অতিথি মন্তব্যকারীই ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন।


ব্লগিংটা জ্ঞানী এবং চিন্তাশীলদের জন্য হাসি এখানে 'হিমু' টাইপ বক্তব্য শুধু ভদ্রলোকদের দুরে ঠেলতেই কাজে লাগে; নাকি আপনি সেটাই চাইছেন?

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

নাকি আপনি সেটাই চাইছেন?

বঙ্গবন্ধু-তাজউদ্দীন নিয়ে লেখা পোস্টের আলোচনা চেয়ার ছোঁড়াছুড়িতে পন্ড হতে চলেছে। আর আপনি জ্যোতিষীর মতো প্রেডিক্ট করছেন আমি কী চাইছি।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

শাহরিয়ার লীন [অতিথি] এর ছবি

ফারুক সাহেব,
আপনার উদ্ধৃতিটা আমার জবাব ছিল। হিমু সাহেবের আক্রমনটা বোধহয় আপনার চোখে পড়েনি হাসি

হিমু এর ছবি

আসলে ভাসুর এখানে হিমু। তাই "গোরী কা মাকান" মার্কা মন্তব্যের নিচে "চুড়ি কা দুকান" বুঝে নিতে হবে।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

Agha - title for a civil or military leader (especially in Turkey)

সূত্র : http://www.thefreedictionary.com/agha

আপনাকে মান্যবর মন্তব্যকারীকে সম্মানসূচক অভিধায় ডেকেছি কেবল।

----

জ্বি ওই নবীন বরণের পরে আমার জীবনের কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ বছর সাম্রাজ্যবাদী নষ্টামী দেখে দেখে কেটেছে ... আমিও তাই একপ্রকার 'নষ্টালজিক' হলাম ...

___________________________
Any day now, any day now,
I shall be released.


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

হিমু এর ছবি

আবারও গলা খাঁকারি ... তর্কে সুবিধা হবে না বুঝতে পেরে মনে করিয়ে দেয়া, ওরে, তুই তো নবীন, তুই যে নেহাত কাঁচা, মারতে আসিস মুরুব্বিদের ... ওনার ভাষায় পশ্চাদ্দেশ?

অথচ পোস্ট পড়ে আমরা শিখলাম, মুরুব্বিদের মাতবরি সবসময় পাত্তা দিতে হয় না, মাসকাওয়াথ যেমন দেননি আপেল মাহমুদকে। অথচ আচরণে আপেলের চেয়ে ভালো কিছু হতে পারছি না আমরা। আফসোস।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

তায়েফ আহমাদ [অতিথি] এর ছবি

তাঁর মৃতদেহকে ৩২ নম্বরের সিঁড়িতে ফেলে রেখেই এরা নতুন সরকারের অনুগত্য মেনে নিয়েছিল, গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে গিয়েছিল। এরা গাছেরও খেয়েছে, তলারটাও কুড়িয়েছে। আজো কুড়াচ্ছে বোধ করি।

বাড়তি কিছু বলার ভাষা খুঁজে পেলাম না...

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

সহমত।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

আহেম। অনেক কথা।
আর কারো না হোক মাসকাওয়াথ ভাইয়ের মনে থাকার কথা।
খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের আমল। এরশাদের ঝাড়ুদার আনোয়ার জাহিদ বিএনপির তখন প্রভাবশালী নীতিনির্ধারক। তার বুদ্ধিতে সেবার প্রথম বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়( তাহলে রবার্ট ক্লাইভ ও বাংলা বিজয়ই করেছিল, তাইনা?) পালিত হলো মহাসমারোহে। এমনকি ঢাকার রাজপথে সতেরজন ঘোড়সওয়ারের মহড়া ও হলো।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাওয়া, প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক দাবীদার কোন মানুষকে এই প্রথম এক লুটেরা দস্যুকে রোলমডেল মানতে দেখে ঘটনাটা মনে পড়ে গেলো।

ও হ্যাঁ ঝাড়ুদার জাহিদ ও যৌবনে অতিকড়া বামপ্রগতিশীল ছিলো-সে তো আপনি জানেনই
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

আর শাহ মোয়াজ্জেম বলেছিলেন,সমস্ত বঙ্গোপসাগরের পানি কালি হলে আর সমস্ত বাঁশঝাড় কলম হলে এরশাদের কীর্তি লিখে শেষ করা যাবে না। আনোয়ার জাহিদ আরো কঠিন লোক। মজার সব রাজনীতি-থিয়েটার।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

দরকারী লেখা। মন্তব্যগুলোও বেশ ভালো লাগলো। এমন লেখা আরও চাই।

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

হিমু বনাম অতিথি লিন আমার পোস্টে আপনাদের এই রেসলিং বন্ধ করুন। এই পোস্টের আলোচনা চলতে দিন ।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

অন্ততঃ এই পোষ্টে অতিথি লীন এর মন্তব্য প্রকাশ না করার অনুরোধ করছি মডারেটরদের।
আগেও অনেকবার হয়েছে আতিথ্যের সুযোগে কেউ কেউ মন্তব্যের ফাঁকে ব্ল্যাকসিড বপন করে দেন, আর সেটা নিয়ে কথা বাড়তে বাড়তে পোষ্টের মেরিট নষ্ট হয়।
হয়তো উদ্দেশ্যটা তাই থাকে। যেমন একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক ভাবে এখানে বখতিয়ার খলজীকে টানা, মন্তব্যকারীর না জানার কথা নয় বখতিয়ার খলজীর উদাহরন এখানে প্রতিবাদ/ বিতর্ক উস্কে দেয়া ছাড়া কোন ফল বয়ে আনবেনা।
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

আরিফ জেবতিক এর ছবি

কাহিনী বখতিয়ার খিলজীরে নিয়া না, বা এখানে এমন কোনো ইতিহাস চর্চাও হচ্ছে না যেটা ডিরেল হলে বিরাট ক্ষতি। কাহিনী আপেল মাহমুদরে নিয়া। এরকম সুবিধাবাদী আমাদের দেশে গন্ডায় গন্ডায় আছে, এইটা জানা কথা।

একজন যদি আইসা হুট করে বলে দেয় যে হাসান মোরশেদ বা হিমু বা মাসকাওয়াথ আহসান তো আসল নাম না, সেক্ষেত্রে কমনসেন্সে ধরে নেয়া যায় যে এই পাঠক সচলায়তনের সঙ্গে পরিচিত না। এসব নাম অন্য ব্লগ বাদ দিলেও, খালি সচলায়তনেই ৩ বছরের উপর নিয়মিত ভেসে উঠছে।

কাহিনী হইলো গিয়া এই যে শাহরিয়ার লীন সাহেবরা হঠাৎ আবির্ভূত হন, উনারা কি আশায় কার কাছ থেকে খবর পেয়ে এখানে আসেন, এইটা আমার বড় জানার ইচ্ছা।

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

এই লিন আমার স্কুলের বন্ধু, তার বখতিয়ার খিলজি বিতর্ক যে রাজনৈতিক চেহারা নিচ্ছে, তাতে তাকে আমরা ছাগু বানিয়ে দিতে পারি হুরমতির মতো কপালে ছ্যাকা দিতে পারি। কিন্তু ওর বাপ-চাচা কুষ্টিয়ায় প্রথম পতাকা তোলা ডাকসাইটে মুক্তিযোদ্ধা। ও রাজশাহী নিউ ডিগ্রী কলেজের শিবির খেদাওএর সচেতন ছেলে। ব্লগ সংস্কৃতিতে যারা অভ্যস্ত নয় তাদের রিফ্লেক্স স্লো হবেই। বখতিয়ার খিলজী হয়তো ইতিহাস বই থেকে ভুল শেখা নাম। আমার লেখা পড়তেই এই পাঠক এই নাগরিক আড্ডায় এসে হুরমতী হয়ে গেলো। তবে লিন খুব ক্যাচাল প্রিয়। ও কোথাও গেছে আর অযথা সেমসাইড জাতীয় ক্যাচাল কমেডি হয়নি,এমন ঘটনা বিরল। বোঝা যায় ও বদলায়নি। আর ঠিকুজি দিতে হলো, কারণ দশচক্রে ভগবান ভূতের ক্রসফায়ারে লিনের কিছু হবে না, তবে খিলজীর কথা বলে আমার আড্ডা ভন্ডুলের জন্য ওকে ছাড়বো না।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

আরিফ জেবতিক এর ছবি

লীন সাহেবের পরিচয় জানলাম। এখানে বিষয়টা রাজনৈতিক চেহারা পাওয়ার না, আমি যতদূর দেখেছি সচলায়তনে পার্টিজান লোকজন আমার তেমন চোখে পড়ে না, বিচ্ছিন্ন দুয়েকজন থাকলেও থাকতে পারে, কিন্তু মূলস্রোতধারায় সচলরা কোনো দলের ফ্ল্যাগপোস্ট না। সুতরাং রাজনৈতিক ট্যাগিং এখানে অবান্তর। জামায়াত শিবিরের প্রতি ঘৃণা সচলের জন্মগত। কিছু অতিথি মন্তব্যকারী মাঝে মাঝে যে মন্তব্য করে বসেন তাঁদের অনেকেরই সুপ্ত জামায়াত প্রেম হুট করেই বেরিয়ে পড়ে। এর বিরুদ্ধে একটা প্রতিক্রিয়া এবং আশংকা থাকেই। সুতরাং আমার কৌতুহল যে এই স্রোতটা আসলে কিভাবে আসে।

একটা ফোরামে কথা বলার কিছু নর্মস থাকে, লীন সাহেবের মন্তব্যের ধারাটা আমার কাছে মনে হয়েছে সংগতিপূর্ণ না।
পূর্বাপর না জেনে অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য কেউ করলে সেটা দুঃখের বিষয়। এখানে কিছু মন্তব্যের ক্রম থেকে মনে হচ্ছে আনিসুল হক নিয়ে হিমু এবং আপনার মাঝে আগে কোথাও কথা চালাচালি হয়েছে। এখন এটা আমার চোখে পড়ে নাই, সুতরাং আমি হুট করে এটা নিয়ে বলতে পারি না বা হিমু কেন আনিসুল হক সংক্রান্ত উদাহরন টানছেন সেটা না বুঝে আমি বলতে পারি না যে হিমু অফটপিকে কিংবা আক্রমনাত্মক ভাবে কথা বলছেন।
কিন্তু লীন সাহেবের মন্তব্যের ধার ও ধারা থেকে কৌতুহল হয়েছে যে উনি কি আগে থেকেই কোনো নির্দিষ্ট চিন্তা নিয়ে মন্তব্য শুরু করলেন নাকি কথাপ্রসঙ্গে বীর বখতিয়ার এখানে হাজির হলেন।
স্পেসিফিক লীন সাহেব সম্পর্কে আগ্রহ থেকে নয়, সচলের ট্রাফিক সংক্রান্ত একটা কৌতুহল জেগেছিল উনার মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই। একক ভাবে লীন সাহেবের পরিচয় দিয়ে আপনি তার খানিকটা নিবৃত্ত করেছেন।

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

এটা ভার্চুয়াল আড্ডার কুফল। আই কন্ট্যাক্ট ছাড়া সেরা যোগাযোগ হয়না। আবার অনলাইন নর্মস শেখা চর্চার বিষয়,তাই এটা আমাদের শিক্ষণ প্রক্রিয়া। কিন্তু কাজও হয়েছে,বখতিয়ার খলজীর চরিত্র আলোচনায় দুজন পাঠকো যদি ইতিহাসের ভ্রান্তি থেকে মুক্তি পেয়ে থাকেন,তাহলে বুঝতে হবে কিছু ক্যাচাল ফলদায়ী। বিতর্কেও প্রথম কথাটাই তো দুটি পক্ষ, এন্টিথিসিস তৈরি করে থিসিসে পৌঁছালো। মাঝের ক্যাচাল আসলে অনুপান। খুবই মজার। লেটস এনজয় দ্য গ্রাইন্ড। বাংলাদেশের জন্য এই ক্যাচাল যেহেতু কোন ঝুঁকি তৈরি না করে বরং সত্য অনুসন্ধানের বস্টন লিগ্যাল কোর্ট রুম তৈরি করছে। সুতরাং এটাকে মজা হিসেবে নাও প্লিজ।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

লীন [অতিথি] এর ছবি

মাসকাওয়াথ,
তোমার সমালোচক বন্ধুরা যে খিলজি আর ১৭ জনের মানে বুঝতে এত পারঙ্গম তা কি আর আমি জানতাম!? চোখ টিপি
আর আমাকে ছাড়া না ছাড়া বাদ দিয়ে লেখা চালাও, তোমাদেরকে (যারা এগিয়ে এসেছে) থামানোর জন্য শব্দ ধরে টানাটানি হতেই পারে, তা বলে কি বাক্য মানে হারাবে?
আমার ব্যাক্তিগত পরিচয় ওভাবে দিয়ে আমাকে অপমান করা তোমার উচিৎ হয়নি। যারা ছাগল আর মানুষের পার্থ্ক্য বোঝেনা, তাদের মানুষের ছবি দেখিয়ে লাভ নেই, তারা বরং ব্যঘ্র ফ্যান্টাসিটাই বেশি পছন্দ করে।
এত চোস্ত ব্লগাররা একজন নিউ কামারকে যেভাবে স্বাগত জানালো, তাতে বড়ই মজা পেয়েছি চোখ টিপি ভবিষ্যতে রজনিগন্ধা বিনিময়ের আকাঙ্খা রইল।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

বাংলাদেশ থেকে সব কুলক্ষণ দূর করার জন্য, সব আপেল টাইপের হলুদ মশলাকে দূরে কোথাও, দূরে দূরে নির্বাসিত রাখার জন্য, স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী ঘৃণিত রাজাকারদের চাবকে এদেশ থেকে বিতাড়িত করার জন্য, সুযোগ সন্ধানী জাতীয়তাবাদী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর মুখোশ টেনে খুলে ফেলার জন্য, বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করে তোলার জন্য আমাদের কোনো বৈদেশী অবতারের দরকার নেই। দরকার নেই ঘোড়সওয়ার বখতিয়ার খলজী কিংবা আধুনিক পোশাকের একজন মাহাথিরের। আমাদের চাই কেবল সাদামাটা একজন বঙ্গতাজ। আমাদেরই একজন তাজউদ্দীন।

আমরা আশা করতে পারি এমনকি একজন মি. জিব্রিলেরও। কিন্তু দিনশেষে আমাদের হয়ে কাজ করার জন্য তৈরী থাকবেন একজন তাজউদ্দীনই, মি. জিব্রিল নন।



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

মোস্তাফিজ রিপন এর ছবি

ভাল্লাগছে।

লালন এর ছবি

এক কানা কয় আরেক কানারে
চল এবার ভবপারে
নিজেই কানা পথ চেনেনা
পরকে ডাকে বারংবার
এসব দেখি কানার হাটবাজার...

শান্ত [অতিথি] এর ছবি

আপেল মাহমুদ সম্পর্কে জেনে খারাপই লাগলো। আমি উনাকে পছন্দ করতাম। বঙ্গবন্ধু আর তাজউদ্দীনের মধ্যে কি হয়েছিল জানতে চাই।

লেখাটা ভালো লেগেছে।

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ, মন্তব্য অংশ থেকে বখতিয়ার খিলজী-লক্ষণসেন প্রসঙ্গ এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে। কারণ দখলদার কাপুরুষদের নাম শুনতে চাইনা।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

আরিফ জেবতিক এর ছবি

এবার লেখা নিয়ে মন্তব্য করি।
আপনার লেখার আগের সৌন্দর্যটাই আছে, উপভোগও করা যায় লেখনী শৈলী, কিন্তু আমার কাছে মনে হয় ইদানীং আপনার লেখাগুলোর বেশির ভাগই অনেকটা এবস্ট্রাক্ট হয়ে যাচ্ছে।
আপেল মাহমুদের নাম উচ্চারনের জন্য ব্লগই তীর্থস্থান, অন্য মিডিয়ায় সম্ভব না।
কিন্তু এখানেও যদি রিটন ভাই পরিস্কার না করতেন, তাহলে হয়তো জানা হতো না।
লেখায় এ বিষয়গুলো আরো স্পষ্ট ভাবে এলে গড় পাঠকের সুবিধা হয়।
ভাসানী কেন রিটায়ার্ড হার্ট, এ নিয়ে লেখায় কোনো বিশ্লেষন পাই নি।

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

আমার প্রিয় লেখক হিমু বলেছেন, আমার অধিকাংশ কথাই তিনি বুঝতে পারেননা,যেটা তুমি একটু ইউফেমাইজ করে বললে আবস্ট্রাক্ট। এরপর আমি ইস্যুটাকে সিরিয়াসলি নিলাম। বিষণ্ণতার শহর সম্পর্কে রাইসু একি কথা বলেছিল।রাইসু আমার বন্ধু,কখনো আমার সঙ্গে ওর কোন কাট্টি হয়নি (কারণ আমাদের আড্ডাগুলো অসম্ভব মজার হয়)। আমার ধারণা আমি মিঠুন ভাই গোছের লেখক। ওয়ালীউল্লাহ হওয়া আমার কম্মো নয়। প্রথম আলো মিঠুন ভাইয়ের সঙ্গী হওয়ায় আর ভাষা সাবলীল হওয়ায় উনি বেস্ট সেলার,আর ভোরের কাগজ (রেজা-সাগর-তুমি-সঞ্জীব দা-অমিতদা ) মিলে আমার বিষণ্ণতার শহর ছাপায় আমার বই এখন ভোরের কাগজের মতোই কম বিক্রী হয়। সঞ্জীব দা ছিলেন আমার ডিলিরিয়ামের গুরু। উনি ভালোবাসা সংখ্যায় আমার বাজিকর গল্পটা পড়ে টেকিলা সাঁঝ আয়োজন করেছিলেন। বললেন প্রকাশকের ছাপার খরচ উঠলে আর তুমি কিছু পেলে বই হতে পারে। নঈম তারেক চুপচাপ উপকার করা ছেলে। সে সাম্যকে দিয়ে বিষণ্ণতার শহর ছাপালো,রেজা ভোরের কাগজে আর রানা প্রথম আলোতে বিজ্ঞাপন দেয়ায় পাঁচশো কপি মেলা থেকে গেলো।সাম্য প্রত্যেকদিন মেলায় আমাকে ম্যারাথন পুরি -চা খাইয়ে আকাঙ্ক্ষার শহর লিখতে অনুরোধ করলো।আর পড়ুয়ার কাজল ভাই আগের বছর মৃত্যুর শহর লিখিয়েছিল বন্ধুতার কারণেই। ফলে আমার এই পাঁচশো-এক হাজার বই বিক্রির বনসাই লেখক হবার জন্য আমি একাই দায়ী নই,অবশ্যি প্রথম আসামী। এখন রিয়্যালিটি একসেপ্ট করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সাহায্যে আনিসুল হকের মতো স্টার বা আমার মতো ডাস্ট হয়। কিন্তু হুমায়ুন আজাদ বা হিমু হয় নির্ঘুম রাত,নিরন্তর পাঠ, প্রজ্ঞা চর্চার মাঝ দিয়ে। তাই ধূগোর জবাবে জানিয়েছি আমার লেখক প্রমোশন ফর্ক করে ঐকান্তিক পাঠক হবার কথা। সচলায়তন চাইলে এই নিবন্ধন ক্যানসেল করে অতিথি বা পশ্চিমা সিনিয়র সিটিজেন রাইটস দিয়ে হাচল করে দিতে পারে। এই দৃষ্টান্তটি ভবিষ্যতে মিডিওকার স্টার বা ডাস্টের অশুভ ব্যাঙ্এর ছাতা নিধনে সাহায্য করতে পারে।কারণ মিডিয়ার সাহায্য নিয়ে তৈরি স্টারডাস্ট লেখক যুদ্ধাপরাধী, কারণ আমাদের তুলতে গিয়ে অনেক ভালো লেখক নিহত হয়েছে। ভেবে দেখো গদ্য কার্টুনের বিষয় না পেয়ে রানার ডেস্কে মিটুন ভাই বলতেন কী লিখি, কিছু পাচ্ছিনা, বিষণ্ণতার শহর নিয়ে রেজ়ার ডেস্কে আমারো একি প্রশ্ন। প্রভাব খাটিয়ে দখল করা প্রথম আলো বা ভোরের কাগজের ঐ স্পেসগুলোতে ঠিক যে সপ্তাহে আমরা ট্যাশ লিখেছি, ওই সপ্তাহে একটা কবিতা তার হোলোনা কোথাও ছাপা অন্তত দুজন লেখা বাদ দিয়ে টেন্ডার বা বিবাহ সন্ত্রাসে চলে গেছে। মানে লেখকের মৃত্যু হয়েছে। তাই এই কনফেসনের ভিত্তিতে আমাকে অনলাইন আদালতে দন্ডিত করা বরাহ নিধন প্রকল্পের ধারাবাহিকতায়।।আমাকে হিমুর রিমান্ড থেকে ছাড়িয়ে ধূগো আবার সেই প্রভাব খাটিয়ে ডাস্ট পুনর্বাসন করছে, এটি একটি অশুভ উদ্যোগ,ধূগোকী কাদের সিদ্দিকী হয়ে গেলো,প্রেস কনফারেন্সে লেখক হত্যার নায়ক প্রসঙ্গে প্রশমন ইঞ্জেকশন দিচ্ছে। আরিফ এগুলো প্রতিরোধ কর, তাহলে ভোরের কাগজে আমাকে পৃষ্ঠপোষকতার দায়মুক্তি হবে। কারণ অনলাইন আসলে হুমায়ুন আজাদ বা হিমূদের মুক্তির প্লাটফর্ম। এইখানে বনসাই লেখক পুনর্বাসন চলবে না। চলবে না।জয়তু সচলায়তন।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

আরিফ জেবতিক এর ছবি

এই মন্তব্যে অভিমানের সুর পাইলাম।
একটা লেখা হিমু বুঝতে পারে না কিংবা আরিফ জেবতিক বুঝতে পারে, এটা ব্যক্তি পর্যায়ের আলোচনা। আপনার লেখার স্টাইল আপনার নিজস্ব, আমারটা আমার, হিমু কিংবা ধূ.গোরটা তাদের নিজেদের মতো করেই।
কমিউনিকেশনে কে কতোটা বিস্তৃতি চায়, সেটা আপেক্ষিক। আমি প্রণবভট্টের মতো জনপ্রিয়তা চাই না, এটা আমার সিদ্ধান্ত, সুতরাং এখানে তুলনাটা অবান্তর। প্রণবভট্টের পাঠক আমাকে পড়তে চাইবেন না, পড়লেও কমিউনিকেট করতে পারবেন না, এটাই সত্যতা। সব লেখক সব পাঠকের জন্য হয়ে উঠতে পারেন না। কেউ চান না, কেউ চাইলেও হয় না। আমার ধারণা আপনি প্রথম দলের।

আমার টপিকটা হচ্ছে আলোচনার লক্ষ্য অনুযায়ী লেখার স্টাইল পুনর্বিবেচনা। বিষন্নতার শহর কিংবা মৃত্যুর শহরের সাহিত্যের আলাদা গুন আছে, কিন্তু যখন লেখাটা ইতিহাস চর্চার বিষয়, তখন বেশি স্পষ্টতা লেখার টার্গেট দলের জন্যই প্রয়োজন।

রিটন ভাই কমেন্ট করেছেন,

গায়কটির নাম যে আপেল মাহমুদ সেটা না বললে নতুন প্রজন্ম বুঝবে কেমন করে মাসকাওয়াথ?

এই প্রসঙ্গেই আমি দৃষ্টি আকর্ষন করছি। সেটা লেখার স্টাইল নয়, লেখার উদ্দেশ্যের বিষয়। আপেল মাহমুদ যে আলোচ্য ব্যক্তি, সেটা রিটন ভাইয়ের কমেন্ট ছাড়া আমি বুঝতে পারি না। আমি লেখা কমিউনিকেট করতে পারি, বুঝতে পারি একজন সুবিধাবাদী চরিত্রের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু চরিত্রের নামটা পরিস্কার করা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য প্রয়োজন।

লালন এর ছবি

কানা'য় কানা'য় ওলা মেলা
বোবা তে খায় রসগোল্লা গো-
... এসব দেখি কানা-র হাটবাজার হাসি

আরিফ জেবতিক এর ছবি

উচ্চস্তরের দার্শনিকতা।

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

ব্রাভো।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

অতিথি লেখক এর ছবি

একজন অতিমাত্রয় মুর্খের আবেদন
আনোয়ার জাহিদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই।
কেউ কি সাহায্য করতে পারবেন?

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।