পতিদেবতা

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: সোম, ০১/০৯/২০১৪ - ৬:৪৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মধ্য দুপুরের ভয়ংকর রোদ। ঘোড়াটা থেমে থেমে চিঁহি আওয়াজ করছে। তেষ্টা পেয়েছে মনে হয়।

মুকুন্দরাম হাতের তালুর উলটা পিঠ দিয়ে কপালের ঘাম মুছে নিলেন। মুখটা তেতো হয়ে আছে, সকাল থেকে কিছু পেটে পড়েনি। সেই গত সন্ধ্যায় একটা পাখি ঝলসে খেয়েছিলেন চান্দার ঝিলের ধারে, এরপরে একটানা পথচলা। এলাকা সুবিধার না, আরো কিছুদূর যেতে হবে তবেই নিরাপদ জায়গা শুরু। থামা চলবে না, সে যতই তেষ্টা পাক।

তবে প্রস্রাবের বেগ ধরেছে, কোথাও থেমে নেয়া জরুরী। খামোকা চুড়িদার ভিজানোর মানে হয়না।

নেমে ঘোড়া বাঁধতে বাঁধতে মুকুন্দরামের মনে হল আচ্ছা এত প্রস্রাব পেটে জমল কোথা থেকে? গতকাল পাখি সাবাড় করে জলপান করেছিলেন এক আঁজলা, এই তো। তার আগে টানা দুইদিন যুদ্ধের মাঠে কোন জল পেটে গিয়েছিল বলে তো মনে পড়েনা! কয়দানা ফল খেয়েছিলেন কেবল, ভোররাতে বিক্রম দিয়েছিল। আহা বিক্রম, ভাবতেই মনটা খারাপ হয়ে গেল মুকুন্দরামের। পালোয়ান ছেলেটা তার চোখের সামনেই চোখের ভিতর তীর ঢুকে মারা গেল। মা মা বলে ভারি কাঁদছিল ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে। গাঁয়ে ফিরে বিক্রমের মায়ের সাথে দেখা করে বলতে হবে।

এলাকাটা পাহাড়ের গায়ে, বেশ উঁচুতে। একটা বড় পাথরে ঘোড়া বেঁধে মুকুন্দরাম পাহাড়ি পথের কিনারের দিকে এগিয়ে গেলেন। তার অনেক ছোটবেলার অভ্যাস উঁচু জায়গা থেকে প্রস্রাব করা, বালকবেলার মতই আনন্দ নিয়ে নিচে তাকিয়ে দেখতে পছন্দ করেন প্রস্রাবের ধারা অনেক অনেক নিচে পড়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে বাতাসে সেই ঝিরি উড়িয়ে নিয়ে যেতে থাকে। চমৎকার দৃশ্য বটে। পায়জামার কষি আলগা করতে করতে তিনি এগুতে থাকলেন।

এমন সময় মুকুন্দরামের প্রশিক্ষিত কানে যেন আবছা একটা শব্দ ভেসে এল। ঘোড়া নাকি? ঘোড়াই তো, একাধিক ঘোড়ার খুরের আওয়াজ মনে হচ্ছে। কারা নিচে?

হামাগুড়ি দিয়ে বন্য খরগোশের মত দ্রুত সরে গেলেন মুকুন্দরাম। দুইটা বড় পাথর পাশাপাশি, তার ফাঁক দিয়ে চোখ রাখলেন তিনি নিচে। ছোট একটা দল দেখা গেল যাচ্ছে, পনেরো বিশজনের বেশি হবেনা। মাঝের কয়েকজনের হাতে অস্ত্র নেই কোন, কোমরে কেবল খঞ্জর বাঁধা। পিছনে জনা পাঁচেক সৈন্য হাতে ফিরাঙ্গি তলোয়ার নিয়ে ঘোড়ায় বসা, সামনের তিন সৈন্যের হাতে সাধারণ তলোয়ার। আর হাতে ঢাল। মাঝখানে কয়টা গাধা ভার টানছে, লুটের মাল সম্ভবত। বড় বাক্স।

স্থির চোখে দলটাকে জরিপ করে মুকুন্দরাম গোঁফ চুমরে মনে মনে বললেন, কুত্তার বাচ্চা মারাঠি। মালোজী এর দলের লোক এরা সম্ভবত। সামনাসামনি লড়ার হিম্মত নাই, আঁৎকা ছুটা মারামারি করে পিট্টান। অপদার্থের দল। প্রকৃত রাজপুত এদের ছুঁলেও সাথেসাথে স্নান করে পবিত্র হওয়া উচিৎ, এরা এতই ঘিনঘিনে। অন্য সময় হলে কোমরে গোঁজা খাণ্ডা তলোয়ার দিয়ে এদের হাতামাথা সমান করে দিতে তিনি মোটেই দ্বিধা করতেন না, কিন্তু এখন সময় তার বিপক্ষে। যেকোন মূল্যে গাঁয়ে ফিরে গিয়ে আরেকটা দল গড়তে হবে দ্রুত, আক্রান্ত হবার আগেই। মালোজীর দল নিশ্চয়ই এগুচ্ছে দ্রুতপায়ে।

রোদ বাঁচিয়ে পাথরটার পিছনে হেলান দিয়ে বসলেন মুকুন্দরাম। নিজের উপর ভয়ংকর রাগ হতে থাকল তার। তিনি জানেন পাগড়িতে আটকানো সাতটা চক্রম দিয়ে তিনি সহজেই এদের চমকে দিতে পারেন, এরা কিছু বোঝার আগেই সামনের সৈন্যদের কল্লা নেমে যাবে নিখুঁত নিশানায় ছুঁড়ে দেয়া চক্রমের ঘায়ে। তারপরে বাকিদের সামলে নেবার পালা। সাথে যদি বিক্রম থাকত তাহলে কোন চিন্তাই ছিলনা, দলটাকে এরকম হাতের কাছে পেয়েও ছেড়ে দিতে হতনা মুকুন্দরামের।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে মুকুন্দরাম ঘোড়ার দিকে আবার হামা দিয়ে এগিয়ে গেলেন। রোদের তেজ তখন একটু কমে এসেছে।

……………………………………………………………………

গ্রামে যখন মুকুন্দরাম ফিরে এসেছেন তখন ভোর, আঁধার পুরো কাটেনি। ঘোড়াটা নেতিয়ে পড়েছে প্রায়, একটা কুয়ার কাছে থেমে তাকে একটু জল খাওয়ালেন তিনি, আর নিজেও মুখে ঘাড়ে কয় আঁজলা ছিটিয়ে দিলেন। অল্প দূরে তখন কে একজন বিড়বিড় করে মন্ত্র পড়ছিল, কুয়াপাড়ে মুকুন্দরামকে দেখে মন্ত্র দ্রুত পড়ে শেষ করে এগিয়ে এসে বলল, কে গো?

ক্লান্ত মুকুন্দরাম দেখলেন মন্দিরের পুরোহিত। খুবই বাচাল লোক, কানের পোকা নড়িয়ে দেয় কথা বলতে বলতে। মুকুন্দরাম কিছু না বলে হাত মুখ ধোয়া শেষ করতে থাকলেন। পুরোহিত তখন কাছিয়ে এসেছেন। ভালো করে দেখে তিনি কেমন ভয়ের গলায় বললেন, অমা কে মুকুন্দ নাকি?

শ্বাস ফেলে মুকুন্দরাম চুপ করে রইলেন। এই বেকুবের সাথে কথা বলে দিন শুরু করা অর্থহীন। তিনি উঠে আবার ঘোড়ায় চড়ে বসলেন।

বৃদ্ধ পুরোহিত ঠাকুর আচমকা চিৎকার করে ও মা গো বাবা গো কে আছিস গো ধর গো বাঁচাও গো বলে মেঠো ইঁদুরের মত দ্রুত উল্টোদিক দৌড়ে পালালেন। হতভম্ব মুকুন্দরাম ভাবলেন, এ আবার কী কাণ্ড! ঠাকুর ব্যাটা পাগল হয়ে গেল নাকি? কে জানে। যাকগে।

তিনি ঘরের দিকে ঘোড়া ছুটালেন।

পৌঁছে ঘরের পিছনে ঘোড়া নামিয়ে তিনি পাছদুয়ার দিয়ে প্রবেশ করলেন। ছোট বোন তারা এক কোণে বসে কলসি মাজছিল, সে মুকুন্দরামকে দেখে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলল, দাদা!

সেই চিৎকারে বের হয়ে আসল পরিবারের জনা কয়েক। ভূত দেখার মত করে তারা মুকুন্দরামের দিকে চেয়ে রইল। মুকুন্দরাম ও ভারি ভ্যাবাচেকা খেয়ে চেয়ে রইল। ঘটনা কী?

পিতা মোহনলাল সম্বিৎ ফিরে পেয়ে বললেন, মুকুন্দ? বাবা বেঁচে আছিস?

দীর্ঘ অনিদ্রায় কাতর মুকুন্দরাম লাল চোখ আরো লাল করে বললেন, না ভূত হয়ে এসেছি। দেখতে পাচ্ছেন জলজ্যান্ত লোকটা দাঁড়িয়ে আছি, আর বলছেন কিনা বেঁচে আছি না মরা ভূত। কি ফ্যাসাদ!

তারপর মায়ের দিকে চেয়ে মুকুন্দ বললেন, মা কিছু খেতেটেতে দেবে নাকি হাঁ করে চেয়ে থাকবে? গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল যে।

মা ডাক শুনে ভেউ ভেউ করে কেঁদে দিলেন মাতা লক্ষ্মীবাঈ। ছুটে এসে মুকুন্দরামের ঘাড়ে পিঠে হাত বুলিয়ে বললেন নিশ্চয়ই বাবা অবশ্যই বাবা। দিচ্ছি খেতে। আমার বাবাটা ফিরে এসেছে ভগবান আমার বাবাটা ফিরে এসেছে। ওরে কে আছিস দেখ ভগবান আমার সোনাটাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

তারপর দৌড়ে গেলেন পাকশালার দিকে আর বললেন, লস্যি দিচ্ছি বাবা বোস। এক্ষনি দিচ্ছি লস্যি এক্ষনি। এক্ষনি।

একটা মোড়া টেনে ক্লান্ত মুকুন্দরাম বসলেন। তারপর বললেন, আমি মরে গেছি কে বলল?

পিতা মোহনলাল হড়বড় করে বলে চললেন, আরে তিন দিন আগেই যে খবর এল লড়াইয়ে আমাদের হার হয়েছে আর মালোজীর দল জিতেছে। সেই লড়াইয়ে তুই আর বিক্রম মারা গিয়েছিস।

কে দিল এই আজগুবি খবর?

মাল সিং। সে পিছনে ছিল আর পালিয়ে আসতে পেরেছে।

কটমট করে মুকুন্দরাম বললেন, মাল সিং বেঁচে আছে? ব্যাটা বদমাইশ আমার তলোয়ার ধার করে দিবে বলেছিল তারপরে আর খবর নাই। সে তাহলে লড়াই শুরু হতেই নগদে পালিয়েছে। আর আমি ভোঁতা তলোয়ার নিয়ে লড়াই করে করে এসেছি। শা-

গালি দিতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিলেন মুকুন্দরাম। বৃদ্ধ পিতামাতা রয়েছেন। জামার খুঁট দিয়ে কপালের ঘাম মুছলেন একটু, লক্ষ্মীবাঈ ততক্ষণে ঠাণ্ডা লস্যি নিয়ে উপস্থিত। বড় এক চুমুক লস্যি খেয়ে মুখ মুছে মুকুন্দরাম বললেন, দীপিকা কই, তাকে দেখছিনা? এত বেলা পর্যন্ত ঘুমুচ্ছে নাকি?

সকলে কেমন চমকে উঠল এই কথায়। দীপিকা মুকুন্দরামের বউ, বছর দুয়েক হল বিয়ে হয়েছে। পিতা মোহনলাল আমতা আমতা করে বললেন, সে তো, ইয়ে...সে তো, আচ্ছা। হুমম।

কিছুই বুঝলেননা না মুকুন্দরাম। তিনি বললেন, অ্যাঁ?

মাতা লক্ষ্মীবাঈ নিচু গলায় বললেন, সে তো সতীমাতা হয়ে গিয়েছে।

হতভম্ব হয়ে চেয়ে রইলেন মুকুন্দরাম। এরা বলে কি! তিনি বললেন, সতীমাতা হয়ে গেছে মানে?

স্নিগ্ধ গলায় লক্ষ্মীবাঈ বললেন, তোর দেহত্যাগের খবর শুনে দীপিকা বলল, মিছে এ নশ্বর জীবন। বলল সতীব্রত নেবে, আর জীবনের অপর পারে চলে যাবে তার পতিদেবতার সাথে মিলনে। আহা মুখে ঝলকে উঠছিল তেজ আর দীপ্তি, যেন স্বয়ং মা সতী ভর করেছিলেন। তোর জুতো মাথায় নিয়ে অনুমরণে চিতায় ওঠার সময় টুঁ শব্দটি করেনি, এমনই ছিল তার মনের জোর!

পাশ থেকে ছোট বোন তারা বলে উঠল, তবে মিলিন্দ বলছিল শব্দ করেনি দুধের মধ্যে ভাং দেবার জন্যে…

ঝটকা দিয়ে তাকে সরিয়ে দিলেন লক্ষ্মীবাঈ, যা তো সর এখান থেকে। যত সব বাজে কথা। যা এখান থেকে।

হঠাৎ সবার মাঝখানে ধমক খেয়ে কেঁদে দিল তারা, আর ছুটে ঘরে চলে গেল। এদিকে মুকুন্দরামের ঘোর তখনো কাটেনি, তিনি আরেক চুমুক লস্যি খেয়ে ঘড়ঘড়ে গলায় বললেন, মরে গেছে?

একটা অস্বস্তিকর নীরবতা নেমে এল ঘরে। মুকুন্দরাম তেজী বালক, ঘরের সকলে তাকে তোয়াজ করে চলে। পিতা বর্তমান থাকতেও ছোট পরিবারটির কর্তা অনেক আগে থেকেই মুকুন্দরাম। দীপিকা তার পছন্দের বউ, ছোটবেলার পরিচিত। এই ঘটনা ঠিক এভাবে সামাল দেবার জন্য প্রস্তুত ছিলনা কেউই।

ক্লান্ত মুকুন্দরাম দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ালেন, আর কোমরের খাণ্ডা তলোয়ার খুলে আস্তে আস্তে ঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন। যেতে যেতে বললেন, যাই স্নান করে আসি... আর ধকল নিতে পারছিনা। মা স্নানের জল তোলা আছে কিনা দেখ। আর ভালো দেখে একটা মেয়ে পাও কিনা খোঁজ নাও, রেঁধে দেবার একটা লোক তো চাই নাকি?


মন্তব্য

রায়হান হামিদ এর ছবি

দিন শেষে এটাই সত্য।।।। রেঁধে দেয়ার জন্য হলেও একজন মানুষ লাগেইত।।।

সত্যপীর এর ছবি

মুকুন্দরামের মতন কথা বললে চলপে?

..................................................................
#Banshibir.

তিথীডোর এর ছবি

মতিকন্ঠ বলে-- 'নারীর সঙ্গে দেখা হবে রুটি বেলার কাঠে, কাপড় কাচার ঘাটে, রাইতের বেলা খাটে।'
কিন্তু কথা তো আসলে খাঁটি-ই। চোখ টিপি

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

সত্যপীর এর ছবি

মেরি মি আফ্রিদি!

(উর্দু ভিড্যুর জন্য দুঃখিত। সাবটাইটেল পাইলামনা)

..................................................................
#Banshibir.

মেঘলা মানুষ এর ছবি

আমি প্রথমে মনে করছিলাম ব্যাটায় প্রশ্ন বুঝে নাই, সাক্ষাৎকারওয়ালাও তাই মনে করেছে। কিন্তু, আবার যখন একই কথার পুনরাবৃত্তি করল -তখন বুঝতে পারলাম 'বর্বর'টা তার নিজের আসল চেহারা প্রকাশেই উদগ্রীব।

মন মাঝি এর ছবি

চলুক
দারুন হইছে!
মুকুন্দরামরে খবর দ্যান - ওর জন্য চারটা পাত্রীর খবর পাওয়া গেছেঃ https://www.youtube.com/watch?v=BKezUd_xw20

****************************************

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

হে হে হে, বাড়ির আর কেউ মনে হয় রান্ধার টেরনিং করে নাই শয়তানী হাসি

ভালৈছে চলুক চলুক

মেঘলা মানুষ এর ছবি

"নিখুঁত নিশানায় ছুঁড়ে দেয়া চক্রমের ঘায়ে"
চক্রম জিনিসটা কি?

শুভেচ্ছা হাসি

মরুদ্যান এর ছবি

ছবিতে চাকতি গুলারে চক্রম বলে। রাজপুতরা ব্যভার করত। কইতে পার ভারতীয় নিনজা। দেঁতো হাসি

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

সত্যপীর এর ছবি

নিনজা মার্কা অস্ত্র ঠিকই চলুক

মুকুন্দরাম কোমরে যে "খাণ্ডা তলোয়ার" নিয়ে ঘুরতেছিল, ছবিতে গোল চক্রমের ঠিক বামের তলোয়ারটা সেই খাণ্ডা তলোয়ার। সাধারণ তলোয়ারের মতন আগাটা চোখা না, খেয়াল করেন ভোঁতা। অতএব এইটা শত্রুর পেটে হান্দানোর কাজে ব্যবহৃত হইত না। ফলা দিয়া কল্লা নামাইতে হইত খাণ্ডা দিয়া। ব্লেডটাও পুরা সোজা, তলোয়ারের মত টিপ বাঁকানো না। এইটারও জানি কি একটা মাজেজা আছে কোথায় পড়ছিলাম, ভুইলা গেছি।

..................................................................
#Banshibir.

মরুদ্যান এর ছবি

ধুর ধুর কবুতর ফারুকের কাছে এসব মুকুন্দ ফুকুন্দের কোন বেল নাই। খাইছে

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

সত্যপীর এর ছবি

হা হা কবুতর ফারুক আসব বস,চিন্তা নাই। আপাতত অন্য একটা ধান্দায় আছি, সিজ ওয়ারফেয়ার নিয়া কিছু নামানো যায় কিনা ভাবতেছি।

..................................................................
#Banshibir.

নীড় সন্ধানী এর ছবি

কথা সত্য! কবুতর ফারুকই এখনো পর্যন্ত সেরা দেঁতো হাসি

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

স্যাম এর ছবি

এক্কেরে হক কথা।

আয়নামতি এর ছবি

ধুর! ফারুকের সাথে তুলনা কেন বুঝলাম না তো! তাহার তুলনা শুধুই সে চোখ টিপি

সত্যপীর এর ছবি

মেঘলা মানুষ বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রের কথা শুনছেন না? এইটা ওইরকম চাকতি টাইপ অস্ত্র, শিখ রাজপুত এরা ব্যবহার করত। ফ্রিজবির মতন ছুঁড়ে মারতে পারেন, গলায় লাগলেই চিরে দুই ফাঁক! যুদ্ধের ময়দানে ফ্রিজবির মতন না মেরে লম্বালম্বি মারতে হয় যেন ভুলে নিজের দলের লোকের গায়ে না বিঁধে।

..................................................................
#Banshibir.

মেঘলা মানুষ এর ছবি

হুম, ব‌হুৎ কিছু জানলাম। নিনজাদের শুরিকেনের মত একটা জিনিস যে আমাদের উপমহাদেশেও আছে এটা জানা ছিল না।

খাণ্ডা তলোয়ার তো আকারে একটু ছোট মনে হল। এর রহস্য কি কে জানে!

শুভেচ্ছা হাসি

সত্যপীর এর ছবি

আকারে ছোট নাকি? উপরের বাঁকানো ধারালো টিপ নাই বইলা হয়ত। তবে নানাবিধ মিউজিয়ামে যে রাজাগজাদের তলোয়ার দেখা যায় এক মানুষ লম্বা সেগুলি বেশিরভাগই শো অফ, যুদ্ধক্ষেত্রে ভারি লম্বা বর্শার মত নয় বরং ছোট হাল্কা এবং এক হাতে চালানো সহজ এরকম তলোয়ার চালু ছিল। খাণ্ডা অবশ্য হাল্কা ছিল কিনা জানিনা। ভারতীয় কারিগর খাণ্ডা বানাইত। সাইডে কাটা কাটা স্পাইক থাকত খাণ্ডায়, কোপ দিয়া টান দিলেই খুদাপেজ মন খারাপ

..................................................................
#Banshibir.

মরুদ্যান এর ছবি

ছোট না তো! গড় সাইজ তো দেখলাম ৯০ সেমি! তলোয়ারের মতন একধার না হয়ে দুইধার, ইওরোপিয়ানদের মতন, যদিও অত ভারী না। দুইধার হওয়ার সুবিধা হচ্ছে হাতহুত ঘুরায় যেমনেই কোপান, লাগলেই শ্যাষ!

সবচেয়ে পিচকি সাইজের সোর্ড মনে হয় প্রাচীন মিশরীয়রা ব্যবহার করত, ব্রোঞ্জের তৈরি। এর উপরে কই জানি একটা লেখা পড়সিলাম, মনে নাই।

তবে যে যাই বলুক, কাটানার উপরে কিছু নাই (আমার মতে)। কিন্তু কাটানা বেশ ভারী (আমি রেপ্লিকা তুলে দেখসি), যোদ্ধা অল্প সময়েই হয়রান হয়ে যাওয়ার কথা। এইজন্য সামুরাইদের যুদ্ধ করার কৌশলটাও মনে হয় ভিন্ন, অনেকক্ষণ ধরে মারামারি করেনা। ডুয়েলে কয়েক মিনিটেই কেল্লাফতে।

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

সত্যপীর এর ছবি

কাটানা খাণ্ডা কোনটাই দেখিনাই, কইতে পারলাম না। তবে ৯০ সেমি বা তিন ফুট তো খুব লম্বা মনে হইতেছে না, তিন ফুট শুধু ব্লেড হইলে অবশ্য ভিন্ন কথা।

বিবিধ দেশের তলোয়ারবাজি নিয়া একটা পোস্ট দেন। কুপাকুপি আলোচনা হৌক।

..................................................................
#Banshibir.

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

মুকুন্দ্রাম তো দেখি বেজায় ভাগ্যবান! অন্যেরা মরার পর হয়, কিন্তু সে জীবন্ত "সতী নারীর পতি"। হাততালি

সত্যপীর এর ছবি

পরের বউও সতীব্রত নিলে মুকুন্দরামের পোয়াবারো একবারে!

..................................................................
#Banshibir.

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

খাইছে! আপ্নে কি এরপর থেকে কিছুদিন পরপর মুকুন্দ্রামের বাড়ীতে তার ভুয়া মৃত্যুর খবর পাঠাতে থাকবেন নাকি? অ্যাঁ

এক লহমা এর ছবি

একটা অস্বস্তিকর নীরবতা ... আমারও মন খারাপ

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

সত্যপীর এর ছবি

আরে কয়দিন পরে মুকুন্দরামের শুভবিবাহের আঞ্জাম হইতেছে, বাদ দেন। রাজস্থানি বিবাহ খুব ধুমধাড়াক্কা হয় শুনছি। কে চিতায় মরল এত হিসাবের সুমায় কার?

..................................................................
#Banshibir.

এক লহমা এর ছবি

কত মেয়েকে যে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল!

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

Sohel Lehos এর ছবি

স্কুলে পড়ার সময় ক্লাসে একবার এক জাপানীজ নাটক দেখেছিলাম। টেবিলে খাবার বেড়ে দিয়ে অসুস্থ স্ত্রী পটল তুলে টেবিলের পাশেই পড়ে আছেন। স্বামী মহাশয় তখন তার ছেলেপেলেদের তাড়া দিয়ে বলল, তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও। খাবার ঠান্ডা হয়ে গেলে গরম করে দেবে কে? গল্পের শেষে মা'কে উদ্দেশ্য করে মুকুন্দরামের ডায়ালগ শুনে সেই ভিডিওটার কথা মনে পড়ে গেল। গল্প ভাল লেগেছে। চলুক

সোহেল লেহস
-------------------------------------------------------
এইটা কি লেখলেন ভাই! গল্পের ট্যুইস্ট দেইখা পেটে কেমন জানি একটু মোচড় দিল হাসি

সত্যপীর এর ছবি

মন খারাপ

..................................................................
#Banshibir.

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

বহুদ্দিন পর ইটাছাড়া গপ্প... হাততালি
এইবার মাথা ফাটাফাটি নাই, কল্লা নামানি নাই...
কিন্তুক কেমুন জানি... এমুন ধাক্কা আগে খাই নাই ইয়ে, মানে...

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

সত্যপীর এর ছবি

একান্ত বাধ্য না হইলে ইটা রাখি না। টানা লিখতে বিরক্ত লাগে। ছোটগল্পই ভালো।

গল্পটা আমি একটু পাল্টে লিখেছি। অরিজিনাল খসড়ায় ছিল মুকুন্দরাম গ্রামে প্রবেশ করবে দীপিকার অনুমরণের সময়, দাউদাউ করে চোখের সামনে পুড়া কমপ্লিট হওয়া সে হতভম্ব মুখে তাকায় দেখবে এইরকম নাটুকে ব্যাপারস্যাপার। একগুষ্টি লোক হাসিমুখে হাত্তালি দিচ্ছে আর তাদের সামনে হেভিলি ড্রাগড একটা অর্ধ-অচেতন কিশোরি মেয়েকে সকলে পুড়িয়ে মারছে, তার আবছা চিৎকার ঢাকার জন্য উচ্চস্বরে ঢোল বাজাচ্ছে সাত পালোয়ান ঢাকী... এইরকম গ্রাফিক কিছু একটা লিখতে চেয়েছিলাম কিন্তু লিখতে ভালো লাগছিল না। তাই সিনটা কাটায় দিলাম। খালি খালি।

..................................................................
#Banshibir.

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

নাহ, ঐ লাইনে গেলে শেষ লাইনটা আসত না বোধ হয়...
আসলে, শেষ লাইনটাই ধাক্কা মারে (যদিও বাস্তবতা)

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

এক লহমা এর ছবি

অবশ্যই। ঐ শেষ লাইনটায় এ গল্প যে নির্মমতাকে তুলে ধরেছে, মেয়েজীবনের প্রতি অমানুষিক বঞ্চনার যে ইতিহাসকে মূর্ত করেছে মাত্রই গোটা কয়েক শব্দে, পাঠককে তা আচ্ছন্ন করে রাখে গল্প পড়া শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও বহুক্ষণ! এ নির্মাণ, এ মুন্সিয়ানা পীর সাহেব-এর নিজের লেখাগুলির মধ্যেও এ গল্পকে বিশিষ্ট করে তুলেছে।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

সত্যপীর এর ছবি

পতীব্রত সতীব্রত সতীমাতা সহমরণ অনুমরণ এইসব থিওরি পড়তেছিলাম গত কয়দিন। পুরা ক্রিমিনাল মাস্টারমাইন্ড এগুলি যারা লিখছে, কোন দিক বাদ রাখেনাই একবারে নিখুঁত প্ল্যান করা সব। মাথা ঠাণ্ডা করে লিখা। আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে কিছু কঠিন শুয়োরের বাচ্চা ছিল।

..................................................................
#Banshibir.

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

হুমম... হিম্ভায়ের একটা সায়েন্স ফিকশন ছিল না? "মা*া**োদ"

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

আয়নামতি এর ছবি

মুকুন্দের মত ফাজিলের অভাব নাই এই পিতিমিতে! ব্যাটা বদের বদ। মরলেই পারতো কিন্তু খাইছে
তবে গল্পটা খুব ভালু লাগলো চলুক

সত্যপীর এর ছবি

আরে নাহ মরবে ক্যান। সামনে মুকুন্দরামের শুভ বিবাহ, হাতে ভালো পাত্রী থাকলে জানান। ধুমধাম কইরা শাস্ত্রমতে বিবাহ হইবেক। পচুর খানাদানা ব্রাহ্মণভোজন ধুতি চাদর খড়ম দান কিছুই বাদ থাকব না।

আচ্ছা রাজস্থানি বিবাহ ছাড়েন মোগলাই বিবাহের একটা ছবি দেখেন, দারা শুকোর বিবাহের শোভাযাত্রাঃ

দেখছেন? খুব গ্র্যান্ড না? আইচ্ছা। ছবিটায় একটা দুষ্টামি আছে। ছয়টা হাতি মাঝখানে, তাদের মধ্যে একবারে সামনের মাহুত মামারে দেখেন, সবুজ পাঞ্জাবি পরা। কড়া ভাব নিয়া ভাইজান হাতি চালাইতেছে। একটা ক্লোজাপ দেইঃ

ভাইজানের কান্ধে যে পিছনের সুন্দরি চামে ভালুবাইসা হাত রাখছে সবার সামনে দেখছেন নি কাণ্ড শয়তানী হাসি

..................................................................
#Banshibir.

কল্যাণ এর ছবি

এত টেকা ফইসা খরচ করে বিয়ে করে শেষ পর্যন্ত লাভ হল কিছু? মুন্ডুটা কি বাঁচল ইয়ে, মানে... ?

_______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

সত্যপীর এর ছবি

শেষ পর্যন্ত মুণ্ডু আপনের আমার কারোরই কি বাঁচব? মুণ্ডু আইজ আছে কাইল ফক্কা। বাদ্দেন, আইসেন মাহুতের পিছের সুন্দরীর মত ভালুবাইসা জীবনটা কাটায় দেই।

..................................................................
#Banshibir.

কল্যাণ এর ছবি

ফাঁকিবাজি ছাড়েন কফা কো?

_______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

তারেক অণু এর ছবি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।