ফাইনম্যানের টালমাটাল পিরিচ

অবনীল এর ছবি
লিখেছেন অবনীল (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৭/০৩/২০১৯ - ৩:০৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মনে হয় সব মানুষের জীবনেই একটা সময় আসে যখন, যে কাজ তার ধ্যান-জ্ঞান, নেশার মতো । যা নিয়ে দিনরাত পড়ে থাকলেও উৎসাহের কোন ঘাটতি হয় না, সেই ভালোলাগার ক্ষেত্রতেও বিতৃষ্ণা ভর করে। তাৎপর্যহীন জীবনে যে কর্মক্ষেত্রকে আলিঙ্গন করে নিজের জীবনকে অর্থবহ করে তোলার চেষ্টা করা হয়, সে ক্ষেত্রটাই হয়ে ওঠে অসহনীয়। এরকম অবস্থা থেকে কি ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব ? কিভাবে ফিরে পাওয়া যায় সেই পুরোনো ভালো লাগার অনুভূতিটাকে ?

রিচার্ড ফাইনম্যান। আইনেস্টাইনের পরপরি যাঁকে এই দুনিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন পদার্থবিদ বলে ধারণা করা হয়। জীবনের একটা পর্যায় এসে তিনিও বিতৃষ্ণ হয়ে গিয়েছিলেন পদার্থবিদ্যার গবেষনায়। আশ্চর্য হলেও সত্যি যে, একটা টলমলে পিরিচ তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল তার প্রায় হারাতে বসা কর্মজীবন। কি হয়েছিলো আসলে ? তাঁর রেখে যাওয়া জীবনালেখ্য থেকে জানা যাক ঘটনাটা -


ছবিঃ পিরিচের টালমাটাল অবস্থার ডায়াগ্রাম । বৃত্তগুলো দিয়ে কক্ষপথ বোঝানো হয়েছে। কালো বিন্দুগুলো টালমাটাল কক্ষপথের ছেদ। (সূত্রঃ [১])

...তারপর মাথায় আরেকটা চিন্তা আসলোঃ পদার্থবিদ্যায় একটু বিরক্তি লাগে আমার এখন। কিন্তু এসব সমস্যা নিয়ে ভাবতে একসময় বেশ ভালো লাগতো । কেন ভালো লাগতো ? ভালো লাগত কারন আমি পদার্থবিদ্যা নিয়ে খেলতাম। যে সমস্যা নিয়ে কাজ করবো মনে হতো সেটা নিয়ে পড়ে থাকতাম - নিউক্লিয়ার বিজ্ঞানের জন্য গুরুত্বপূর্ন হতে হবে এরকম কোন ব্যাপার ছিল না। বরং সমস্যাটা নিয়ে কাজ করতে আমার মজা লাগছে কিনা সেটাই মূখ্য ছিলো। যখন স্কুলে ছিলাম, দেখতাম পানির কল থেকে জল পড়ার সময় ধারাটা ক্রমাগত সরু হয়ে যায় আর ভাবতাম এই সরু হবার কারনটা বের করতে পারি কিনা। পরে বের করলাম ব্যাপারটা তেমন জটিল কিছু না। সমাধান বের করতেই হবে এমন কোন সমস্যা ছিলো না সেটা । বিজ্ঞানের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ন কিছু ছিলো না ব্যাপারটা, অন্যকেউ ইতিমধ্যেই ব্যাপারটা সমাধান করে ফেলেছে। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসেনি আমার। নিজের আনন্দের জন্য আমি এসব আবিস্কার করতাম, নানারকম সমস্যা নিয়ে খেলা করতাম ।

এই বিরক্তি থেকে নতুন একরকম মনোভাব তৈরী হলো - মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে গেছি আমি এখন। আমার পক্ষে আর কিছু অর্জন করা সম্ভবপর নয় । বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে একটা ভালো চাকরী পেয়েছি। চাকরীটা ভালই লাগে। এই চাকরীটা করে যাব আর আরব্য রজনী যেমন মজা লাগার জন্য পড়ি, তেমনি পদার্থবিদ্যা নিয়েও সেইরকমভাবে মজা পাবার জন্য খেলাচ্ছলে কাজ করবো। যখন ইচ্ছা। বিজ্ঞানের জন্য তা কতটা গুরুত্বপূর্ন সেসব নিয়ে দূঃশ্চিন্তার আর কোন প্রয়োজন নেই।

দিন কয়েক বাদে একদিন ক্যাফেটেরিয়ায় বসে আছি। দেখি এক লোক মজাচ্ছলে একটা খাবারের পিরিচ ছুড়ে দিল ছাদের দিকে । পিরিচটা ঘুরতে ঘুরতে উপরে উঠছে আর টলমল করছে। লক্ষ্য করলাম পিরিচের মাঝখানে কর্ণেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লাল সিলটা ঘুরছে। পরিস্কার বুঝতে পারলাম লাল সিলটার ঘুর্ননগতি , পিরিচের টালমাটাল ঘুর্ণনগতির থেকে দ্রুততর। হাতে কোন কাজ ছিলো না, তাই ঘুর্ণায়মান পিরিচের গতির হিসেবটা বের করার চেষ্টা করলাম। আবিস্কার করলাম যখন কোণটা খুব ছোট, তখন সিলটার ঘুর্ণনগতি পিরিচের টালমাটাল গতিবেগের দ্বিগুন - দুই-এর এক। জটিল একটা সমীকরন থেকে এটা বের হয়ে আসলো! তারপর ভাবলাম, "আরও মৌলিকভাবে কি ব্যাপারটাকে দেখা যায়, বলবিদ্যা অথবা গতিবিদ্যার দিক থেকে কি ব্যাখ্যা করা যায় কেন সম্পর্কটা দুই-এর এক ?" কিভাবে সমাধান করেছিলাম মনে নেই। কিন্তু শেষপর্যন্ত বের করতে পেরেছিলাম ভরকণাদের গতিপ্রকৃতি কিরকম, আর সমস্ত ত্বরণ ভারসাম্যে এসে দুই-এর এক অনুপাত সৃষ্টি করে। আমার এখনো মনে আছে হান্স বেথের কাছে গিয়ে বলেছিলাম, "হান্স ! মজার একটা ব্যাপার লক্ষ্য করলাম। পিরিচ যখন ঘুরতে থাকে তখন দুই-এর এক অনুপাত সৃষ্টি হয়, কারণ হলো..." তাকে ত্বরণ-এর পরিমাপগুলো দেখালাম। সে বললো, " ফাইনম্যান, বেশ মজার ব্যাপার, কিন্তু এর গুরুত্ব কি ? কেন কাজ করছো এটা নিয়ে ? " "হাহ! " আমি বললাম, "কোনোই গুরুত্ব নেই। শুধু মজা লাগে তাই করছি। " তার প্রতিক্রিয়ায় আমার উৎসাহে ভাটা পড়লো না। আমি মনে মনে ঠিক করে ফেলেছি আমি পদার্থবিদ্যা উপভোগ করবো। যেটা ভালো লাগে সেটা নিয়ে কাজ করবো।

টলমলতার সমীকরনগুলো বের করে ফেললাম। তারপর ভাবতে লাগলাম কিভাবে ইলেকট্রন আপেক্ষিকতার মধ্যে দিয়ে অক্ষে প্রদক্ষিন করে। তারপর সেখান থেকে ইলেক্টডাইনামিকসের ডিরাক সমীকরন। আর তারপর কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রোডাইনামিক্স। আর কিছু বুঝে ওঠার আগেই (খুব বেশী সময় লাগেনি) আমি "খেলছি" - আসলে কাজ করছি - সেই একি পুরোনো সমস্যা নিয়ে যেটা খুব ভালোবাসতাম কিন্তু কাজ করা ছেড়ে দিয়েছিলাম লস আলমোসে যাবার পরঃ আমার থিসিসের সাথে সম্পর্কিত সমস্যাবলী, পুরোনো ধাঁচের, চমৎকার জিনিস ঐসব। অনায়াসে হয়ে যাচ্ছিল সব। এইসব নিয়ে কাজ করা ছিলো আমার জন্য সহজ। অনেকটা বোতলের ছিপি খোলার মত, সবকিছু আপনা আপনি ভেতর থেকে উগরে আসতে লাগলো। আমার তো প্রায় নিজেকে আটকাবার দরকার হয়ে পড়লো! শুরুতে যা নিয়ে কাজ করছিলাম তার প্রায় কোনই গুরুত্ব ছিলো না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেইসব গুরত্বহীন কাজগুলোই আমাকে গুরুত্বপূর্ন কাজের কাছে পৌছে দিলো । সেই ডায়াগ্রামগুলো (ফাইনম্যান ডায়াগ্রাম) আর যে সমস্ত কাজের জন্য নোবেল প্রাইজ পেলাম তা আসলো সেই টলমলে পিরিচের সমস্যা নিয়ে মজাচ্ছলে কাজ করতে করতে ।

[১] স্লাভোমের তুলেজা এবং অন্যান্য, ফাইনম্যান্স ওবলিং প্লেট, আমেরিকান জার্নাল অব ফিজিক্স (২০০৭)
[২] স্মৃতিলেখ্যটা নেওয়া হয়েছে রিচার্ড ফাইনম্যানের "শিওরলি ইউ আর জোকিং, মিস্টার ফাইনম্যান" নামক বই থেকে। ডক্টর ফাইনম্যান নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী যার অন্যতম কাজ হচ্ছে লস আলমোসে তৈরী বিশ্বের প্রথম আনবিক বোমা।


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখাটার জন্য ধন্যবাদ অবনীল। পড়তে পড়তে বিবিসির ডকুমেন্টরিটার কথা মনে পড়লো। চোখের সামনে ভেসে উঠলো ফাইনম্যানের হাসি- ইনফেকশাস।

--মোখলেস হোসেন

অবনীল এর ছবি

সময় করে পড়ার জন্য আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ। আর পরবর্তি লেখা পড়ার জন্য আগাম আমন্ত্রণ।

___________________________________
ঈশ্বরের মত, ভবঘুরে স্বপ্নগুলো।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

সপ্তম না যেন অষ্টম শ্রেণীর 'পরিবেশ পরিচিতিঃ বিজ্ঞান' বইয়ে আণবিক বোমা তৈরির ফরমুলা দেয়া ছিল যার ভাষাটা মোটামুটি এমন ছিল - তার পর নানা রকম মালমশলা আনুপাতিক হারে মিশিয়ে বানানো হয় আণবিক বোমা। এই লেখাতে ফাইনম্যানের টালমাটাল পিরিচের সমস্যা, তার সমাধান আর সেখান থেকে আরও সমাধানের পথ উন্মোচনের রাস্তা খোলার বিবরণ ঐ আণবিক বোমা বানানোর ফরমুলার মতো লাগলো।

ফাইনম্যানের মতো সেলিব্রিটিকে নিয়ে বাজারে প্রচুর জনপ্রিয় গল্প আছে। সেগুলো জানা ভালো, তবে তারচেয়ে বেশি ভালো ফাইনম্যানের কোন কাজের ওপর বাংলায় বিস্তারিত পড়তে পাওয়া। সেটা এই লেখাটার মতো সাবলীল ভাষায় হলে আরও ভালো হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

হিমু এর ছবি

দস্যু মোহন সিরিজের একটা গল্প ছিলো, সেখানে দস্যু মোহনের শত্রুরা পরমাণু বোমা খাড়া করে ফেলছে, কই যেন মারবে। দুঃসাহসী দস্যু মোহন তার ভোজালিখান সম্বল করে একে কিলিয়ে ওকে ঠেঙিয়ে অবশেষে পরমাণু বোমার গুদাম পর্যন্ত পৌঁছে দেখে, বিরাট লম্বা সে বোমা দাঁড় করিয়ে রাখা আছে। একটু পরেই সেটা উড়াল দিবে, তারপর হিরোশিমা-নাগাসাকি। উপায়ান্তর না দেখে দস্যু মোহন স্থির করলো, এ বোমা আগাম পয়মাল করতে হবে। ভোজালি নিয়ে বোমা বেয়ে উঠে বোমার যে অংশে পরমাণু রাখা, সেখান বরাবর ভোজালির এক কোপ বসিয়ে দিলো সে। তারপর কী ঘটলো?

লেখকের ভাষ্যে "টপটপ করিয়া পরমাণু পড়িতে লাগিলো"।

অবনীল এর ছবি

হাহাহা। লেখায় পদার্থবিদ্যার খুটিনাটি ব্যাপারগুলো উপেক্ষা করতে পারেন। আমার মতে, পরিভাষাগুলো সম্বন্ধে জানা থাকলেই হবে। আমি হয়ত পরিস্কারভাবে বুঝাতে পারিনি। আমার লেখার উদ্দেশ্য আসলে তিনি কি সমস্যা সমাধান করেছিলেন সেটার ব্যাখ্যা নয় । বরং একজন বিজ্ঞানমস্ক মানুষের চিন্তার গতিপ্রকৃতি কিরকম সেটাই তুলে ধরা। যেমন, কোন সমস্যাকে ছোট করে না দেখা, দৈনন্দিন জীবনের তুচ্ছ ঘটনাকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে দেখা এবং তাকে বিশ্লেষণ করতে করতে পিয়াজের খোসা ছাড়ানোর মত গভীর থেকে গভীরতর পর্যায় চলে যাওয়া। এই ব্যাপারগুলো আমাকে অনুপ্রাণিত করে। সেই অনুভূতিটাই ভাগাভাগি করে নিতে চেয়েছি।

___________________________________
ঈশ্বরের মত, ভবঘুরে স্বপ্নগুলো।

হিমু এর ছবি

আপনার লেখা প্রসঙ্গে এই আখ‍্যানটা বলিনি। নিউক্লিয়ার বোমার আগিলা-দিনের-ব‍্যাখ‍্যা নিয়ে কথা ওটায় হঠাৎ মনে পড়ে গেলো।

অবনীল এর ছবি

ওহ আচছা । হাহাহাহা।

___________________________________
ঈশ্বরের মত, ভবঘুরে স্বপ্নগুলো।

অবনীল এর ছবি

মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ পান্ডবদা। আপনি ঠিকি বলেছেন যে টেকনিকাল ব্যাপারগুলো ঝাপসা এখানে। তবে আমার উদ্দেশ্য ছিলো না সেই ব্যাখ্যায় যাবার। একজন প্রতিভাবান মানুষ মানসিক বাধার দেওয়াল কিভাবে ডিঙায় তার একটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ফাইনম্যানের এই ঘটনাটা। আর ঘটনাটার বর্ণনা তার নিজের স্মৃতিকথায় যেভাবে আছে সেভাবেই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

___________________________________
ঈশ্বরের মত, ভবঘুরে স্বপ্নগুলো।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

লেখায় যেসব ছবি দিয়েছেন সেগুলো দেখলে সলিড জিওমেট্রি, ভেক্টর, গ্রীন'স থিয়োরেম, কার্ল থিয়োরেম, লাইন ইন্টিগ্র্যাল, সার্ফেস ইন্টিগ্র্যালের বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা মনে হয়। লেখাটার বহিরঙ্গ দেখে ভেবেছিলাম ঐসব বিভীষিকার কিছু বুঝি এখানে সহজ ভাষায় বলা হয়েছে।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

ভেবে দেখেন ফাইনম্যানের হাতে যদি সোশালমিডিয়া থাকত, আর সে পিরিচ ইত্যাদি বস্তুর দিকে না তাকিয়ে যদি ক্যান্ডিক্রাশ খেলত বসে বসে...

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

অবনীল এর ছবি

হাহাহা। দূঃখজনক হলেও সত্য। এসব মনযোগ দখলকারী যন্ত্রপাতি আসলেই চিন্তাভাবনার সময়েটাকে কেড়ে নেয়। নতুন একটা টপিক নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে আজকাল - 'ডিজিটাল মিনিমালিজম' । ক্যাল নিউপোর্টের একটা বই আছে শুধু এই ব্যাপারের উপর।

___________________________________
ঈশ্বরের মত, ভবঘুরে স্বপ্নগুলো।

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

আপনি এটা কেন লিখেছেন, সে ব্যাখ্যা দিয়েছেন হিমু ভাইয়ের মন্তব্যের উত্তরে, সাধু! কিন্তু আমরা আম জনতা তো পড়লাম সমস্যায়। হান্স বললো, " ফাইনম্যান, বেশ মজার ব্যাপার, কিন্তু এর গুরুত্ব কি?" হান্স তো যাও হোক মজা পেয়েছিল, কিন্তু আমরা না পেলাম মজা(সেটা অবশ্য এত সহজে পাওয়ার কথাও নয়), না বুঝতে পারলাম এর গুরুত্ব।

অবনীল এর ছবি

হাহাহা আবদুল্লাহ ভাই অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। কিন্তু আম জনতা আপনি না আমি। সচলের পাঠকদের লেভেল আমি ভালো করেই জানি। সেই সাথে বিরিয়ানীসম লেখা পড়তে পড়তে হঠাৎ ডাল-ভাতসম লেখা পড়লে ধাক্কা খাওয়া স্বাভাবিক। আমার একটা অনেকদিনের ভাবনা - শুধু বিজ্ঞানের ঘটনাবলীর কথা বলে হয়ত পাঠককে এর গুরুত্ব বোঝান সম্ভব, কিন্তু এর থেকে পাঠকের মনে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির উদয় হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। যদি না বৈজ্ঞানিক চিন্তা-ভাবনার গতিপ্রকৃতিকেও সরাসরি তুলে ধরা না হয়। বিজ্ঞানমন্সকতা চাই। শুধু বিজ্ঞান জানাটাই যথেষ্ট নয়। সামনে আরো ভালো লেখা দেবার চেষ্টা করবো। আশা করি এই লেখা পড়ে আমার উপর হতাশ হয়ে যাবেন না। আবারো ধন্যবাদ।

___________________________________
ঈশ্বরের মত, ভবঘুরে স্বপ্নগুলো।

জি.এম.তানিম এর ছবি

গণিত, বিজ্ঞান এইসব বিষয়গুলোকে কঠিন, আঁতেলদের বিষয়, সবার জন্যে না এই রকম একটা ধারণা ছোটবেলা থেকেই মানুষের মগজে গেঁথে দেওয়ার একটা চেষ্টা এখনো সমাজে বিদ্যমান। ছোটবেলায় খেলার ছলে গণিতের সমস্যা সমাধান করতাম, কিন্তু সেটা বাইরে বলার সাহস ছিল না চিহ্নিত হয়ে যাওয়ার ভয়ে। গবেষণায় কিংবা জ্ঞানচর্চায় এই খেলার ছলের ব্যাপারটা বেশ প্রয়োজনীয়। আশা করি এই রকম আরও ঘটনার কথা জানতে পারবো।

-----------------------------------------------------------------
কাচের জগে, বালতি-মগে, চায়ের কাপে ছাই,
অন্ধকারে ভূতের কোরাস, “মুন্ডু কেটে খাই” ।

অবনীল এর ছবি

আপনার সাথে সহমত তামীম ভাই। মনে আছে ছোট থাকতে আনন্দমেলার পূজাবার্ষিকীতে মজার মজার ধাঁধা দেওয়া থাকত । সেই সাথে বিজ্ঞানের মজার সব গল্প ত ছিলই। এরপর পেলাম জাফর স্যারের নিউরনে অনুরণন । আর ভ্যালাদলিদ প্রোগ্রামিং কন্তেস্টের সমস্যা সমাধানের মজা । সময় নিয়ে পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আশা করি সামনে আরও ভালো কিছু উপহার দিতে পারবো।

___________________________________
ঈশ্বরের মত, ভবঘুরে স্বপ্নগুলো।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

ছোটবেলায় খেলার ছলে গণিতের সমস্যা সমাধান করতাম, কিন্তু সেটা বাইরে বলার সাহস ছিল না চিহ্নিত হয়ে যাওয়ার ভয়ে

- ঠিক! এই বুড়া বয়সে চিহ্নিত হবার ভয় আর না করে একটা কথা বলি। কখনো এমন অশান্ত সময় আসে যখন বই, গান, চলচ্চিত্র, আড্ডা, শিল্পকর্ম, শিল্পচর্চ্চার কোনটাই মনকে শান্ত করতে পারে না। অমন সময়ে একটা জুতসই গাণিতিক সমস্যা পেলে, বিশেষত ডিজাইন সংক্রান্ত সমস্যা যেখানে সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই, তাতে ডুবে যেতে পারলে মন শান্ত হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

অবনীল এর ছবি

আপনার গণিতপ্রিয় দিকটার কথা জানতে পেরে ভালো লাগলো। পূর্বনির্ধারিত দৃষ্টিভঙ্গি অনেকক্ষেত্রেই মানসিক বাধার দেয়াল হয়ে দাড়ায়। ফাইনম্যান এখানে আসলে এই দেয়াল ভাঙার একটা উপায় বাতলে দিয়েছেন এই ঘটনায়। বাকীটুকু আপনার আমার উপর।

___________________________________
ঈশ্বরের মত, ভবঘুরে স্বপ্নগুলো।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।