লন্ডন অলিম্পিক ২০১২ এর মশাল ভ্রমণ (ছবি ব্লগ)

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি
লিখেছেন নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী (তারিখ: রবি, ১০/০৬/২০১২ - ৭:২৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এ বছর লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অলিম্পিক প্রতিযোগিতা। সে কারণে আলিম্পিকের মশাল লন্ডন থেকে যুক্তরাজ্য এবং আয়ারল্যান্ড ভ্রমণে বেরিয়েছে। এ দুই দেশের বিভিন্ন শহরে ঘুরে মশাল আবার ফিরে যাবে লন্ডনে।

গত কয়েক দিন ধরেই ই-মেইল পাচ্ছিলাম দুই দেশের দুই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আমার প্রাক্তন বিশ্ববিদ্যালয় আয়ারল্যান্ডের ট্রিনিটি কলেজ-ইউনিভার্সিটি অব ডাবলিন থেকে এ্যালামনাই ই-মেইল একাউন্টে মেইল এলো যে মশাল ৬ জুন ডাবলিন পৌঁছবে। ট্রিনিটির চারজন এ্যাথলেট, তিনজন বর্তমান ছাত্র এবং একজন প্রাক্তন ছাত্র, মশাল বহন করবে। এছাড়া মশালের ভ্রমণ পথও ট্রিনিটি হয়ে যাবার ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। মনে মনে খুব আফসোস হচ্ছিল তখন। ইশ, যদি ডাবলিন থাকতাম তাহলে তো “অলিম্পিক মশাল” দেখতে পারতাম।
আমার আফসোস খুব বেশীক্ষণ স্থায়ী হতে পারে নি। প্রায় সাথে সাথেই ই-মেইল পেলাম ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগো থেকে। ৮ জুন অলিম্পিক মশাল গ্লাসগো এসে পৌঁছবে। সাথে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটাও জানিয়ে দিল যে মশাল আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিক মাঝ দিয়ে যাবে এবং মেইন গেইটে সন্ধ্যা ছয়টায় এসে পৌঁছবে। আর যায় কোথায়! DSLR হাতে প্রস্তুত হয়ে নিলাম ফটো তোলার জন্যে।
বিবিসি তাদের সাইটে একটা সেগমেন্ট করেছে যেখানে অলিম্পিক মশালের রিয়েল-টাইম মুভমেন্ট দেখা যায়। বিকেল চারটায় সেখানে দেখলাম মশাল তখনও গ্লাসগো থেকে অনেক দূরে। কিন্তু আগে গিয়ে জায়গা দখল করার কথা ভেবে সোয়া চারটার মধ্যেই মেইন গেইটে গিয়ে দাঁড়ালাম। তখনও সেভাবে লোক-সমাগম হয় নি। আমার সাথে ছিল শিফা (আমার স্ত্রী) এবং সোম (কলকাতার ছেলে, এক সাথেই আমরা পিএইচডি করছি)। তারা দাবী জানালো তাদের ফেইসবুকের “প্রোফাইল পিকচার” তুলে দেয়ার জন্যে! তাই পরবর্তী কিছু সময় তাদের নিয়ে ফটোসেশন করলাম। কিন্তু সময় আর কাটে না। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছবি নিলাম। এলোমেলো মানুষেরও ছবি নিতে থাকলাম।


[গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট।]


[ইউনিভার্সিটি এ্যাভিনিউ তখনও ফাঁকা। টুরিস্টরা এখানে সেখানে হাঁটাহাটি করছে, ছবি নিচ্ছে]


[আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে আসা মানুষদের ছবি নিতে শুরু করি।]


[মেইন গেইটের সামনেই ফ্রেজার বিল্ডিং। সেখানে একটা ছোট মাঠ আছে। তাতে বসে অপেক্ষা করতেও দেখলাম ছাত্রছাত্রীদের একাংশকে।]


[দিনটা খুব বেশি ঠাণ্ডাও ছিল না, আবার গরমও না। বাহিরে বসে গল্প করার জন্যে আদর্শ দিন।]


[গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের টাওয়ারের একাংশ]


[সন্ধ্যা নামতে তখনও অনেক দেরি। কিন্তু ক্যাম্পাসে আলো জ্বলে উঠেছে তখনই]


[প্রফেশনাল ফটোগ্রাফাররাও এরই মাঝে ছবি তুলতে শুরু করে দিয়েছে।]


[জনতা অপেক্ষা করছে]

আরো অনেক পরে, পৌঁনে ছয়টার দিকে পুলিশের বাইক গার্ড দিয়ে নিয়ে আসতে শুরু করলো বহর। প্রথমে এলো কিছু কার এবং বাসে করে স্থানীয় এ্যাথলেটরা যাদের আমি একজনকেও চিনি না। মানুষের চিৎকার আর বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে তাদের সায় দেয়া দেখে বুঝলাম এরা হবে কিছু একটা!


[আগ্রহ নিয়ে তাঁকিয়ে আছে মানুষ।]


[পুলিশের বাইক নিয়ে আসতে শুরু করলো মশাল বহর]


[বাসে আসা এ্যাথলেটদের ফটো তুলতে শুরু করলো মানুষ। আর আমি তুললাম মানুষের ছবি]


[বাস থেকে এ্যাথলেটরা হাত নেড়ে অভিনন্দন গ্রহণ করছেন]


[কেউ কেউ এলো এভাবে]


[এরা চলে গেলে আবার মানুষের অপেক্ষা শুরু]


[কেউ কেউ দেখলাম বিরক্ত-ক্লান্ত]

এরপর আসতে শুরু করলো স্পনসরদের গাড়িগুলো। কোকাকোলা ফ্রি কোক বিতরণ করছিল। স্যামসং বেলুন দিচ্ছিল। কেউ কেউ গানও গাইছিল। ব্যাঙ্ক অব স্কটল্যান্ডও কি সব করছিল। কিন্তু তাদের দেখার সময় কই তখন? আমারা সবাই আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি মশাল দেখার জন্যে, কিন্তু সেই মশালেরই দেখা নেই।


[মানুষের মাঝে ফ্রি কোক বিতরণ করা হচ্ছিল]


[এবার এলো গানের দল!]


[ছেলেটা গাইছিল বেশ।]


[কিন্তু এর পর আবার হতাশা। মশাল আর আসে না]


[কেউ কেউ দেখলাম আড্ডা দিচ্ছে]

আমরা তখন প্রচণ্ড ক্লান্ত এবং বিরক্ত। বিরক্ত কেন সেটা আর এখানে ব্যাখ্যা করলাম না। পুরো দিনে ঐ সময়টাই আমি ভুলে যেতে চাই। অন্যান্য মানুষদেরও দেখলাম ঠিক কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না। মশাল আর কত দূর? এটাই ছিল সবার প্রশ্ন। আমি আমার আইফোন থেকে বিবিসির ওয়েব সাইটে যেই ঢুকতে যাবো, তখনই একটা চিৎকার শুনলাম। মশাল চলে এসেছে। দ্রুত ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে এগিয়ে গেলাম মশালের কাছে। আমাদের মেইন গেইটের সামনে এক মশাল থেকে আরেক মশালে আগুন বিনিময় হলো। তারপর সাধারণের জন্যে মশালটা তুলে ধরে দেখানো হলো। প্রফেশনাল ফটোগ্রাফাররা ছবি নিচ্ছিল। প্রথমে আমি রাস্তার পাশ থেকে ছবি নিচ্ছিলাম। কিন্তু পরে ধীরে ধীরে ঢুকে পড়লাম প্রফেশনালদের ভিড়ে। রাস্তায় নেমেই ছবি নিতে শুরু করলাম।


[এক মশাল থেকে আরেক মশালে আগুন নেয়া হচ্ছে]


[আমি কিছুটা রাস্তায় গিয়ে ছবি নিতে শুরু করলাম]


[নূতন মশালে আগুন জ্বলছে। এই মশালই তুলে দেয়া হবে আরেকজন এ্যাথলেটের হাতে যিনি এটা নিয়ে দৌড়ে যাবেন।]


[আমি তখন পুরোপুরি রাস্তায়। ক্রমাগত ছবি তুলে যাচ্ছি মশালের]


[আবার শুরু হলো দৌড়। মশাল নিয়ে চলে যাচ্ছেন আরেকজন এ্যাথলেট]

এভাবে কিছু সময় মশালটা দেখানোর পর আবার যাত্রা শুরু করলো। ইউনিভার্সিটি এ্যাভিনিউ হয়ে গিবসন স্ট্রিন এবং উডল্যান্ডস রোড ধরে মশাল চলে গেল জর্জ স্কয়ারে। আর আমরা দাঁড়িয়ে রইলাম পেছনে। না, হতাশা নিয়ে নয়। দুই ঘণ্টার কষ্ট সার্থক হয়েছে সুন্দর কিছু ছবি নিতে পারায়।

ফ্লিকার থেকে পুরো এ্যালবামটা দেখতে এখানে ক্লিক করুন


মন্তব্য

অমি_বন্যা এর ছবি

অনেক ভাল লাগলো আপনার ছবি ব্লগ চলুক

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

আপনার জন্যে শুভেচ্ছা রইলো।

তারানা_শব্দ এর ছবি

হাসি এক কথায় অপূর্ব! দারুণ লাগলো লেখা এবং ছবি দু'টোই।

"মান্ধাতারই আমল থেকে চলে আসছে এমনি রকম-
তোমারি কি এমন ভাগ্য বাঁচিয়ে যাবে সকল জখম!
মনেরে আজ কহ যে,
ভালো মন্দ যাহাই আসুক-
সত্যেরে লও সহজে।"

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

শুভেচ্ছা রইলো। হাসি

সচল জাহিদ এর ছবি

লেখা ছবি দুইটাই সেইরকম হইছে।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

অসংখ্য ধন্যবাদ জাহিদ ভাই। ইচ্ছে আছে অলিম্পিকের সময় আরো কয়েকটা ইভেন্ট কভার করে ছবি ব্লগ পোস্ট করার। পড়ার-দেখার আগাম আমন্ত্রণ রইলো।

তাপস শর্মা এর ছবি

কি দিয়েছেন দাদা। প্রি-অলিম্পিক দামামা। ফাটাফাটি হাসি হাসি

[ প্রথম পাতায় সারসংক্ষেপটা একটু বেশী বড় হয়ে গেছে মনে হয়েছে। ]

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

প্রথমেই অনেক অনেক ধন্যবাদ। উৎসাহ পেলাম অলিম্পিকের ইভেন্ট থেকে ছবি ব্লগ দেয়ার।

প্রথম পাতার অংশটা আমারও মনে হচ্ছিল বড় হয়ে গিয়েছে। ছোট করে দিয়েছি এখন।

কৌস্তুভ এর ছবি

আরে বাহ, দারুণ তো! ছবিগুলোও তেমনি। অলিম্পিক দেখতে আসছেন নাকি?

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

ফুটবল ফাইনাল দেখতে ওয়েম্বলি যাবার ইচ্ছে আছে। তবে এখনও নিশ্চিত না। আসলে জানাবো। হাসি

অরফিয়াস এর ছবি

নিয়াজ ভাই, দারুন লাগলো। আপনার চোখ দিয়ে " অলিম্পিকের মশাল" দেখা হলো। ছবিগুলো আসলেই দারুন এসেছে। হাসি

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

উৎসাহের জন্যে অনেক অনেক থ্যাঙ্কস হাসি

তারেক অণু এর ছবি

হাততালি
ডাবলিন ফিরবেন কবে। সামারের শেষ দিকে একটা ঢুঁ মারতে পারি।

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

আমি ডাবলিন থেকে পুরোপুরি চলে এসেছি। এখন শেকড় ছড়িয়ে বসেছি স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে হাসি

ক্রেসিডা এর ছবি

কি জীবন্ত সব ছবি। দারুন। লেখাও। একটানে পড়ে ফেলার মতো।

__________________________
বুক পকেটে খুচরো পয়সার মতো কিছু গোলাপের পাঁপড়ি;

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

অসংখ্য আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

'অলিম্পিক মশাল' ভাল লাগলো। সেই সাথে অন্যান্য ছবি এবং আপনার লেখাও।

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

শুভেচ্ছা রইলো। হাসি

মরুদ্যান এর ছবি

ছবিগুলো খুবই সুন্দর এসেছে!! হাততালি

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি
অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

চমৎকার হাততালি

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

অনেক অনেক আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক সুন্দর... হাততালি

কড়িকাঠুরে

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

শুভেচ্ছা রইলো।

অতিথি লেখক এর ছবি

ছবিগুলো খুব সুন্দর।

দেব মুখার্জি
[db.dev.m@gmail.com]
--------------------------------------------------------------
দেব এর উঠোনফেইসবুকগুগলপ্লাস

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

শুভেচ্ছা রইলো। পুরো এ্যালবাম ফ্লিকারে পেয়ে যাবেন হাসি

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

ক্যাম্রা আর লেন্স কী বস?

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

ফ্লিকার থেকে পেয়ে গেলাম

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি
শান্ত এর ছবি

চমৎকার ছবি আর লেখা।

__________
সুপ্রিয় দেব শান্ত

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

শুভেচ্ছা রইলো।

বন্দনা এর ছবি

খুব সুন্দর লাগলো ছবিগুলা।

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি
akash এর ছবি

খুব ভালো লাগলো আপনার এই ছবি ব্লগ। গত বেইজিং অলিম্পিকে আমি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছিলাম, সে এক দারুণ অভিজ্ঞতা। মশাল এর ছবি গুলো খুব সুন্দর এসেছে। আশা করি পরবর্তীতে গেমস দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে আরো সুন্দর সুন্দর পোষ্ট দিবেন।

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

গেইমস এর সময়ের ছবি দেয়ার ইচ্ছে আছে। তবে ব্যস্ততার মাঝে সময় করাটাই মূল সমস্যা। চেষ্টা করবো।

রংধনুর কথা এর ছবি

চলুক

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি
তদানিন্তন পাঁঠা এর ছবি

কঠিন সব ছবি তুলেছেন ভাই। গুরু গুরু

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

অনেক অনেক ধন্যবাদ হাসি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

চমৎকার সব ছবি। চলুক
স্মৃতি জাগানিয়া। মন খারাপ
কোনো এক অলিম্পিকের মূল ইভেন্ট শুরু হবার পর, মশাল দৌড়ে ব্যবহৃত মশালগুলো (আগুনহীন) হাতে ধরার সুযোগ পেয়েছিলাম। মজার ব্যাপার হলো, একটা চেয়ারের উপর দাঁড়িয়ে মশাল উঁচিয়ে ধরে ভাব মেরে ফটুকও খিঁচেছিলাম।

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

বলেন কী?!!! সেই ছবি কোথায়? সচলের পক্ষ থেকে আমাদের দাবী সেই ছবি প্রকাশ করা হোক হাসি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।