উটকা দুধ

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি
লিখেছেন অকুতোভয় বিপ্লবী (তারিখ: রবি, ১৪/০৩/২০১০ - ৪:১৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ভারতভ্রমণে গিয়েছিলাম ২০০৬ সালে। আমি যেখানে পড়েছি সেখানকার একটা রেওয়াজ হল তৃতীয় বর্ষের পড়াশুনা শেষ করে সবাই মিলে ভারতভ্রমণে যাওয়া। এই উপমহাদেশের মধ্যে ভারত হচ্ছে এমন একটা দেশ যেখানকার স্থাপত্যকলা আর স্থাপত্য ইতিহাস নিয়ে আমরা বিস্তর পড়াশোনা করেছি আর তার কারণ হল ভারত বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে নানাভাবে স্থাপত্যসম্পদে সমৃদ্ধ হয়েছে। সেটা দক্ষিণ এশিয়ার সব এলাকার জন্যে সত্যি হলেও ভারত বরাবরই স্থাপত্যের ছাত্রছাত্রীদের কাছে আগ্রহের বিষয় তার বিশাল আকার আর সেকারণে সেখানে বিভিন্ন রীতির স্থাপত্যসম্পদের প্রাচুর্য। কয়েক শতকের স্থাপত্যসম্পদকে এক ট্যুরে অবলোকন করার এই সুযোগ সাধারণত কেউ হাতছাড়া করে না।

আমাদের একমাসের ট্যুরের যাত্রাপথ ছিলো এমন - কলকাতা-দিল্লী-চণ্ডীগড়-আগ্রা-জয়পুর-জয়সলমীর-আহমেদাবাদ-আওরঙ্গাবাদ-কলকাতা। আমরা চেষ্টা করেছিলাম কুল্লু-মানালী এবং গোয়া এই সূচীতে রাখার জন্য। কিন্তু টার্ম ফাইনাল শেষ হওয়ার পর নতুন টার্ম শুরু হবার আগ পর্যন্ত যে সময় পাওয়া গিয়েছিল তাতে এই দুই বিশেষ আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি।

লম্বা ভূমিকা দিয়ে ফেললাম। কারণ প্রেক্ষাপটটা পরিস্কার না হলে ধোঁয়াটে লাগতে পারে। এবার আসল কথায় আসি। ঘটনাস্থল আগ্রা। তাজমহলের কাছে তারকাখচিত হোটেল ওবেরয় এর পাশে একটা মোটিমুটি মানের গেস্ট হাউসে উঠেছিলো আমাদের সাঁইত্রিশ জনের বিশাল দলটি। নাম ছিল হোটেল রেশমী। সামনে একটা মাঝারি আকারের সাইনবোর্ডে বিশেষভাবে লেখা ছিল যে এই গেস্ট হাউসটির নাম লোনলি প্ল্যানেটে উল্লেখিত আছে। তিনতলাবিশিষ্ট এই হোটেলটির তৃতীয়তলায় ছিল বড় একটা টেরাস, যেখান থেকে তাজের চূড়া দেখা যেত।

তো আমাদের দলে যারা ছিল তাদের মধ্যে সংখ্যায় মেয়েরা বেশি। এমনিতেই আমাদের ক্লাসে মেয়ে ছিল ২৯ জন, আর ছেলে মোটে ১৯, ট্যুরে তো মেয়ে বেশি হবেই। মেয়েরা কেন জানি হিন্দি ভাল বুঝে এবং বলতে পারে। কাজেই আমার মতন যে কয়জন ছিল হিন্দি-বলতে-গেলে-আলজিভ-বের হয়ে যাবার মতন অবস্থা, তারা একটু ভরসা করতাম সহপাঠীনীদের উপর।

এক বন্ধুর নাম ছিল তপন। ওর স্থান হিন্দি-বলতে-গিয়ে-দাঁতভাঙা গোষ্ঠীতে হলেও আশ্চর্যরকম আত্মবিশ্বাসের সাথে সে ভুলভাল হিন্দি-বাংলা-ইংরেজি আর সেসাথে হাত-পা-মাথার বিচিত্র নড়ন-চড়ন দিয়ে বেশ ভালই কাজ চালাচ্ছিল। স্বভাবতই সেটা বেশ মজার খোরাক জুটিয়ে যাচ্ছিল।

এক বিকেলে তপনসহ আমরা কয়েকটা ছেলে বসেছিলাম হোটেলের টেরাসে। গল্প করতে করতে দেখছিলাম রাস্তা দিয়ে গদাই লস্করী চালে যাচ্ছে উটে টানা গাড়ী। হঠাৎ তপন পিঠসোজা করে উঠে বলল - উটের দুধ খাওয়ার ব্যবস্থা করা যায় না? আমরা বাকি ক’জন একসাথে বললাম - আলবাৎ যায়। উট থাকলে উটের দুধও থাকবে, আর সেটা খাওয়াও সম্ভব। আমি বললাম - এখন তো বিকেল, উটের দুধে চা হলে কেমন হয়? দেশে গিয়ে মজাসে গফ্ মারা যাবে যে উটের দুধে চা খাইসিলাম খাইছে শুনে সবাই লাফিয়ে উঠল - উটের দুধে চা খাওয়া চাই দেঁতো হাসি

আমরা যেমন দেশে বয়-বেয়ারাদের মায়ের ভাই বানিয়ে দিয়ে মামা বলে ডেকে ফেলি, ভারতের হিন্দি ভাষাভাষী অঞ্চলের রেওয়াজ হল “ভাইসাব” (সাব=Sab) বলে ডাকা। যতদিন ছিলাম, মনটা খালি আঁকুপাকু করত মামা বলে হাঁক দেবার জন্যে। ভাইসাব ভাইসাব করতে করতে জিভ খসে পড়ার দশা 

তো যাইহোক, সমার্ট বয় তপন “য়ে ভাইসাব” বলে বছর তিরিশেক বয়সের এক বেয়ারাকে কাছে ডাকল। ডেকে জিজ্ঞেস করল, “ভাইসাব, ইধার উটকা দুধ দিয়া চা মিলেগা?”
বেয়ারা বলল, “অ্যাঁ!”
তপন বিন্দুমাত্র অপ্রতিভ না হয়ে আবার জিগেস করল, “আপ কি পাস উটকা দুধ দিয়া চা মিলেগা?”

বেয়ারা এক মূহুর্ত কী যেন ভেবে ভারতীয় কায়দায় মাথা নেড়ে (এই কায়দায় মাথা নাড়লে মনে হবে সে না বলছে, কিন্তু আসলে হ্যাঁ ধরে নিতে হবে) বললো, “হাঁ হাঁ জরুর মিলেগা”।

তপন বেশ খুশি হয়ে সবকয়টা দাঁত বের করে বলল, “আমাদের পাঁচজন কে লিয়ে পাঁচ কাপ লিয়ে আসেন”।
বেয়ারা মাথা ঝুঁকিয়ে চলে গেল।

আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি, উটের দুধে চা খাব বলে ... আহ্ ! কী অভিজ্ঞতাটাই না হবে! দলের মধ্যেও এই মজাটা সবাই পাবেও না ভাবতেই বুকের ছাতি ফুলে উঠছিল খাইছে

দীর্ঘ দশ-বারোটি মিনিট অপেক্ষা করার পর একটা ট্রেতে পাঁচটি কাপ নিয়ে ভাইসাব হাজির হলেন। আমরা নড়েচড়ে বসলাম। একে একে পাঁচজন পাঁচটি কাপা হাতে নিলাম। কাপের দিকে তাকিয়ে দেখলাম - কালো কুচকুচে রঙের তরল দিয়ে কাপভর্তি। সবাই ভাবলাম - আজব এক প্রাণী এই উট, সর্বক্ষণ একইসাথে ঢেঁকুর আর বাতকর্ম চলতেই থাকে তার, চেহারা সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল, ক্যাবলামার্কা একটা হাসি ঠোঁটে ঝুলেই থাকে, শরীরের গঠনটাও বিচিত্র, সবকিছু অদ্ভুত বলেই হয়ত তার দুধের রঙও কালো, যে কারণে চা-টা কালো হয়ে গেছে।

চায়ের মিষ্টি একটা ভুরভুরে গন্ধ ভেসে আসছে কাপ থেকে।

উটের দুধের চা খাব - এই আনন্দে সবাই চীয়ার্স করলাম।

প্রথম চুমুক। মনে হল অমৃত - আহা !

সবাই একযোগে বলে উঠলাম - এমন ভালো চা জীবনে খাইনি।
কেউ কোন কথা না বলে মন দিয়ে চা খাই। পিনপতন নিরবতার মাঝে শুধু সুড়ুৎ সুড়ুৎ শব্দ।

একসময় সবার চেহারা আস্তে আস্তে কুঁচকাতে শুরু করলো। আমি জিগেস করলাম - এই চায়ে কি আসলেই উটের দুধ দেয়া হয়েছে? এটাকে তো লাগছে মোতাব্বীরের কাগুর লাল ছায়ের মত। কাহিনীটা কী?

অন্য সবাই আস্তে আস্তে বলতে শুরু করল - আসলেই তো, এটা তো আসলে রংচার মত লাগে, কালা-চায়ের মত লাগে ইত্যাদি ইত্যাদি ...

তপনের দিকে চোখ গেল, সে মহা বিরক্ত। বললাম ডেকে জিগেস করতে ব্যাপার কি? ও ডাকল “ভাইসাব” কে।

- এর মধ্যে উটকা দুধ দিয়ে আপনে ?
- অ্যাঁ ?
- মে বোলতাহুঁ এই চা তে উটকা দুধ নেহি দিয়ে আপনে ?
- (এখানে বেয়ারা যা বলেছিল তার মানে হল - আমি আপনার কথা বুঝতেসি
না)
- (একটু সামলে নিয়ে) এই চা তে ক্যামেল’স মিল্ক নেহি দিয়ে আপনে?
ক্যামেল’স মিল্ক নেহি মিলা আপকি পাস?
- নেহি নেহি সাব, ক্যামেল’স মিল্ক নেহি মিলেগা, নেহি মিলেগা ...

আমরা বজ্রাহতের মত কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম, একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলাম, একটু পর টেরাস ফাটিয়ে গড়াগড়ি খেয়ে হাসতে লাগলাম সবাই দেঁতো হাসি

এখনো মাঝে মাঝে আড্ডায় এই প্রসঙ্গ উঠলে খুব একচোট হাসাহাসি হয় - ধন্য তপন, ধন্য তপনের হিন্দি বলার ইস্মার্টনেস খাইছে


মন্তব্য

তিথীডোর এর ছবি

দুদিন আগের এক মন্তব্যে হিন্টস পাওয়া গিয়েছিলো, আজ পুরোটা জানা গেলো... হুমম!

কয়েকটা ছবি জুড়ে দিতে পারতেন বোধহয়,
পাঠকরাও এক চক্কর ঘুরে আসার সুযোগ পেতো আর কি.. হাসি

--------------------------------------------------
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

দেঁতো হাসি

---------------------------------------------------
ইটের পরে ইট সাজিয়ে বানাই প্রাণের কবিতা ...

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

পেশাগত কারণে একবার দেওয়াবাগের 'পিরসাবের' উটের খামারে গেসিলাম ... দুই বোতল উটের দুধ ফিরি পাইসিলাম, তো আমার ক্যামেরাম্যান কইল ওর ভাইস্তার হাঁপানি, উটের দুধের কাম হয়, সত্যমিথ্যা জানিনা, দুই বোতলই দান করসি ... চাইখা দেখি নাই, শেষমেষ পাইলাম আপনের গল্পে, তয় দুধের স্বাধ ঘোলে ...


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

হিমু এর ছবি

"দু'চাকায় দুনিয়া" নামে একটা বই আছে, লেখকের নাম বিমল ভট্টাচার্য (নাকি চক্রবর্তী? ভুলে গ্লাম মন খারাপ )। লেখক বেশ নামজাদা স্পোর্টসম্যান ছিলেন, হকি খেলতেন। গত শতকের বিশের দশকে তিনি সাইকেলে চড়ে গোটা পৃথিবী প্রদক্ষিণের সংকল্পে ভারতবর্ষ ছেড়ে বেরিয়েছিলেন। দু'চাকায় দুনিয়া মূলত তাঁর মধ্যপ্রাচ্য আর ইয়োরোপ ভ্রমণের কাহিনী। খুবই চিত্তাকর্ষক সব গল্প। তো শুরুর দিকে আরবে তিনি এক বেদুঈনের তাঁবুতে আতিথ্যগ্রহণ করে উটের দুদু গিলতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাঁর মতে, এর মতো দুর্গন্ধময় ও বিস্বাদ জিনিস আর হয় না। এটা পড়ে উটের দুধ শুঁকে দেখার প্রবল আগ্রহ হয়েছিলো আমার।

দেওয়ানবাগী পীরের উটের খামার থেকে নাকি উটের প্রস্রাবও বোতলে করে ভক্তরা নিয়ে গিয়েছিলো বলে শুনেছি। সত্যাসত্য জানি না।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

ইট নিজে যেমন একটা গান্ধা প্রাণী, তার দুধ যে তেমনই হবে তা আর বিচিত্র কী ! হো হো হো
উটের চামড়াও কিন্তু বিষম দুর্গন্ধময় জিনিস, চামড়া হিসেবে দারুণ, দেখতেও চমৎকার, কিন্তু কারো কাছে উটের চামড়ার কোন কিছু থাকলে আর আশেপাশে থাকা যায়না। এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত ঐ 'সুবাস' চারিপাশ মাতিয়ে রাখে মন খারাপ

---------------------------------------------------
ইটের পরে ইট সাজিয়ে বানাই প্রাণের কবিতা ...

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- অনেকে ভেড়ার দুধুও খায়। আমি ছাগলের দুধুও নাকের কাছে আনতে পারি না কেনো জানি! দুধের মধ্যে কেবল গরুরটা খাই। কাঁচাও ট্রাই দিয়ে দেখেছি। ছাগল বা ভেড়ার দুধু জাল দেয়ার পরেও এর ধারে কাছে পৌঁছায় না।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

ওডিন এর ছবি

দুধ জিনিসটা আমার দুই চক্ষের বিষ! ছোটবেলায় বাপমা আমার সহজিয়া জীবনটারে পুরা দুর্বিষহ করে দিছিলো এই দুধের গ্লাশ নিয়া। তবে একটু জ্ঞানবুদ্ধি হবার পরে নিজেরে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট হিসাবে ঘোষনা দিলাম, তারপর থেকে সব ঠিক! কেউ ঝামেলা পাকায় নাই আর শয়তানী হাসি
______________________________________
যুদ্ধ শেষ হয়নি, যুদ্ধ শেষ হয় না

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

হাহাহাহা ! ভাল বুদ্ধি।
আমার কিন্তু আবার ভালই লাগে (দেঁতো হাসি)

---------------------------------------------------
ইটের পরে ইট সাজিয়ে বানাই প্রাণের কবিতা ...

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- এই জিনিষ আমারও খুবেকটা পছন্দ না। বাড়িতে গরু ছিলো বিধায় রাতের বেলা মায়ের হাতে অত্যাচার সহ্য করতে হইছে। আমি স্বভাব সিদ্ধভাবে প্রতিবারই গাঁইগুঁই করছি এবং মা-ও স্বভাবসিদ্ধ ভাবে আমারে কেটি সাইজ করছে। পরিণামে যা হৈছে তা হলো, গ্লাসের দুধ তো খাইতে হৈছেই সাথে উপরি হিসাবে দুয়েকটা চটকানাও খাইতে হৈছে। প্রতিবারই সেম কেইস। মন খারাপ
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

নাশতারান এর ছবি

গল্পটা আব্বুর মুখে শোনা। আমি তখন অনেক ছোট। তাই ঘটনাটা মনে নেই।

আমরা তখন ইরানে থাকি। ইরানীরা খুবই অমায়িক জাতি। এদের সৌজন্যবোধ তীব্র। আব্বুর এক বন্ধুপত্নী তখন ইরানে নতুন। ফারসি শিখে ওঠেন নি তখনো। কোন এক দাওয়াতে গিয়েছেন। ঘর থেকে বেরুনোর আগেই তাঁকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছে খাবার যেমনই হোক না কেন খাওয়া শেষে বলতে হবেঃ "গাযা খুশমাযযে শুদে" অর্থাৎ "খাবার অতিশয় সুস্বাদু ছিলো"।

তো সেই আন্টি দাওয়াতে গেলেন। দরজা খুলে নিমন্ত্রণদাতা সালাম দিতেই উনি বললেনঃ গাযা খুশমাযযে শুদে।

বুঝুন অবস্থা !

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

খিকয্ হো হো হো

---------------------------------------------------
ইটের পরে ইট সাজিয়ে বানাই প্রাণের কবিতা ...

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

ওডিন এর ছবি

এইখানে আমার মন্তব্য করা ঠিক না কারন আমার অবস্থা আপনার বন্ধু তপনের চেয়েও খারাপ- অনেক বেশি খারাপ- অনেক অনেক বেশি খারাপ। ইয়ে, মানে...

তবে আজকাল কোথাও গেলে আমার কাছে এখন স্কেচপ্যাড আর পেনসিল থাকে। চাল্লু
______________________________________
যুদ্ধ শেষ হয়নি, যুদ্ধ শেষ হয় না

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

হে হে হে খাইছে
এই অবস্থা খারাপের কিন্তু একটা অজানা প্রশান্তি আছে, বলে বুঝাতে পারব না, আপনি কি টের পান বিষয়টা?

---------------------------------------------------
ইটের পরে ইট সাজিয়ে বানাই প্রাণের কবিতা ...

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

ওডিন এর ছবি

খুবই ভালোমতো পাই! দেঁতো হাসি ঝামেলা হয় কিন্তু কখনো অপরাধবোধ জাগে না!

______________________________________
যুদ্ধ শেষ হয়নি, যুদ্ধ শেষ হয় না

সহজীয়া [অতিথি] এর ছবি

মজা পেলাম।
কখনো সুযোগ হয়নিতলদ ইম্পলরে, ভাবছি একবার টেস্ট করে দেখতেই হবে!

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

অনেক মজা পেলাম আপনার লেখায়। বর্ণনাটা দ্রুত শেষ হয়েছে বলেই মনে হয় ভালো লেগেছে। এধরনের লেখা বেশী লম্বা করলে তাল কেটে যায়।

যাই হোক, আপনার পর্যবেক্ষণ বেশ ভালো, বিশেষ করে মেয়েদের হিন্দী বলা/বুঝা নিয়ে যা বলেছেন। আমি একবারই ভারত গিয়েছিলাম এবং সেখানে গিয়ে গরুর ঘিলু মনে করে মোষের ঘিলু খেয়েছিলাম।

লেখা সুন্দর এবং কলকল করে শেষ হয়ে গেল। ৪ দিলাম। তবে সমার্ট জিনিটা ঠিক বুঝিনি চোখ টিপি

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ পিপিদা, আপনার মন্তব্যটা খুব ভাল লেগেছে হাসি
আমার আরেকটা ছোট্ট পর্যবেক্ষণ বলি, ভুলও হতে পারে, সেজন্যে আগেভাগেই সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। মেয়েরা তুলনামূলকভাবে ছেলেদের চেয়ে বেশি হিন্দি সিনেমা দেখে, গান শোনে, এজন্যে হয়তো তাদের হিন্দি জ্ঞান ছেলেদের চেয়ে একটু বেশি। আমার একান্ত ব্যক্তিগত একটা অভিজ্ঞতা হচ্ছে, যে কোন মেয়েরই প্রিয় ছবির তালিকায় অন্তত একটা হিন্দি ছবি কমন, সেটা হল "দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে"। এইরকম আরো কয়েকটা ছোট ছোট অভিজ্ঞতা নিয়ে দু'য়ে দু'য়ে চার মিলিয়ে আমার ধারণা হয়েছে যে - মেয়েরা হিন্দি ভাল বুঝে।

---------------------------------------------------
ইটের পরে ইট সাজিয়ে বানাই প্রাণের কবিতা ...

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

হা হা .. কমন হিন্দি ছবিটাও তো মনে হয় আপনার ভাবীর সাথে মিলে যাবে।

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

হে হে হে চোখ টিপি
একটা কথা বলে রাখি, দু'দিন আগে একটা লেখার কমেন্টে বলেছিলাম 'কিঁউ কি সাঁস ভিঁ' মানে আমি মনে করতাম 'কিউতে দাঁড়িয়ে শ্বাস বন্ধ হবার দশা' জাতীয় কিছু। এখন বলি, 'দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে' মানে ভাবতাম 'দিলওয়ালা কেউ জাঙ্গিয়া দুলাতে দুলাতে চলে যাচ্ছে' গড়াগড়ি দিয়া হাসি

---------------------------------------------------
ইটের পরে ইট সাজিয়ে বানাই প্রাণের কবিতা ...

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

সমার্ট শব্দটা হল স্মার্ট আর কি চোখ টিপি
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর হলে আমাদের পাঁচজন ছেলেকে গণর‌্যাগ দেয়ার সময় এক সিনিয়র ভাই আমাদের ধোপদুরস্ত একজনকে 'সমার্ট বয়' বলে ডেকেছিলেন খাইছে

---------------------------------------------------
ইটের পরে ইট সাজিয়ে বানাই প্রাণের কবিতা ...

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

এহ হে, আমিতো ভাবছি ওটা লিখতে গিয়ে ওরকম হয়ে গেছে খাইছে

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

আর্কির লুকেদের হিংসা পাই...

_________________________________________

সেরিওজা

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

আহা লে খাইছে

---------------------------------------------------
ইটের পরে ইট সাজিয়ে বানাই প্রাণের কবিতা ...

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

তুলিরেখা এর ছবি

উটের দুধের চা তো ফেলুদারা বারে বারে খেলেন। তবে সেটা রাজস্থানে! হাসি
আমি নানা রিয়েল আর ভার্চুয়াল স্থানে ভাষাশিক্ষা আর তার পদ্ধতি আর কখন বাচ্চাদের অন্য ভাষা শিখতে শুরু করা উচিত এইসব নিয়ে বিস্তর তর্কাতর্কি আর মৌখিক কোস্তাকুস্তি দেখার পরে বুঝলাম ভাষাশিক্ষার ক্ষেত্রে টিভি সিরিজের উপরে ওষুধ নাই। হাসি দুপুরে বিকালে রাতে টিভি সিরিয়ালে যে ভাষার সিনামা নাটক দেখবেন আর ঝগড়াঝাঁটি শুনবেন, পাকাপাকি সে ভাষা বলতে শিখে যাবেন একেবারে চমৎকার! হাসি
-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

আজ্ঞে ফেলুদাদের কথা মনে করেই চোখের সামনে উট দেখে উটের দুধের চা পান করার খায়েশ হয়েছিল। কিন্তু "উটকা দুধ" নিয়ে যে উটকো ঝামেলা হল তার পরে সোনার কেল্লা এলাকায় গিয়েও আর ওই জিনিস খাওয়ার ইচ্ছে হয়নি খাইছে

---------------------------------------------------
ইটের পরে ইট সাজিয়ে বানাই প্রাণের কবিতা ...

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

আপনার বর্ণনা পড়ে এখন মনে হচ্ছে উটের দুধের রঙ কালো মন খারাপ
আচ্ছা, উটের দুধ সাদা তো, তাইনা? তাইতো হওয়ার কথা চিন্তিত

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

হা হা হা হো হো হো
উটের দুধ অবশ্যই সাদা। এটা আমাদেরও জানা ছিলো, কিন্তু ভাষাগত 'উটকো' ঝামেলায় পড়ে মেসেজটাই দেয়া হয়নি বেয়ারাকে, তাই সে ব্ল্যাক টি নিয়ে এলেও সেটাই হবে ভেবে ধরে নিয়েছিলাম উটের দুধ বুঝি কালোই হয় চোখ টিপি

---------------------------------------------------
ইটের পরে ইট সাজিয়ে বানাই প্রাণের কবিতা ...

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

টিভি সিরিয়াল দেখে ভাষা শিক্ষার বিষয়ে তীব্রভাবে সহমত খাইছে

---------------------------------------------------
ইটের পরে ইট সাজিয়ে বানাই প্রাণের কবিতা ...

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

বোহেমিয়ান এর ছবি

আর্কিদের হিংসাই রেগে টং
আমরা কি দুষ করছি?!!!
তবে উটের দুধের চা খাওয়া নিয়ে গর্ব করতে না পারলেও উটের দুধের চা না খাওয়া নিয়ে ভালৈ তো লিখলেন! চোখ টিপি
_________________________________________
বোহেমিয়ান কথকতা

_________________________________________
ওরে! কত কথা বলে রে!

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

হেহেহে ... তোমরা দোষ করসো আর্কিটেক্ট না হয়ে চোখ টিপি
লেখাটা পড়া আর মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে আর ছোট কর্লাম্না হো হো হো

---------------------------------------------------
ইটের পরে ইট সাজিয়ে বানাই প্রাণের কবিতা ...

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

দুষ্ট বালিকা এর ছবি

মজা পাইলাম! তুলিরেখাদির মতো আমারও প্রথমেই ফেলুদার কথা মনে হয়েছে! ওরা কিন্তু সুস্বাদু বলেছিলো...অন্তত লালমোহন বাবুতো বলেছিলেন বটেই! দেঁতো হাসি

-----------------------------------------------------------------------------------
আমি সব দেবতারে ছেড়ে আমার প্রাণের কাছে চলে আসি, বলি আমি এই হৃদয়েরে; সে কেন জলের মতন ঘুরে ঘুরে একা কথা কয়!

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

আমরাও বলেছি - প্রথম 'উটের দুধ কালো' ভেবে ব্ল্যাক টি-তে চুমুক দিয়ে সেটাকে চোখ টিপি

---------------------------------------------------
ইটের পরে ইট সাজিয়ে বানাই প্রাণের কবিতা ...

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- কিছু জিনিষ জানতে চাইছি, অনেকটা কৌতুহল থেকেই।

  • আমাদের দেশের স্থাপত্যশৈলীর প্রতি স্থাপত্যবিভাগের শিক্ষার্থীদের কিঞ্চিৎ অনীহা লক্ষ্য করা যায়, এটা কেনো?

  • ভারত ভ্রমনটা আসলে কতোটা শিক্ষা-সফর আর কতোটা পিকনিক?

  • এমন শিক্ষা-সফর আমাদের দেশের অভ্যন্তরে হলে শিক্ষনীয় ক্ষেত্রের অন্তরায়গুলো কী কী?

  • এমন কী হতে পারে যে আমাদের স্থাপত্যশৈলীর শিক্ষার্থীরা আমাদেরই দেশের যে সকল পুরনো স্থাপত্য আছে, সেগুলোর বাহ্যিক গড়ন ঠিক রেখে নতুন করে নির্মান করলো এবং সেগুলো যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের উপায় বের করলো!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

ধূগোদার প্রশ্নগুলো সুন্দর। কৌতুহল থাকাটা যৌক্তিক।

১। আমাদের দেশের স্থাপত্যশৈলীর প্রতি মোটেও অনীহা নয়, বরং আমরা যারা ভারত ভ্রমণ করেছি তাদের মধ্যে প্রায় সবাই দেশের স্থাপত্যসম্পদগুলোকে ভালমত স্টাডি করার পরই বাইরে গিয়েছি। ভারত আকারে বড় এবং একটি দেশের মধ্যেই বেশ কয়েকপ্রকার জলবায়ু বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এলাকা দেখা যায়। খুব স্বাভাবিকভাবেই একেক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এলাকায় একেক ধরণের নির্মাণশৈলী দেখা যায়। এই প্রকরণগুলো প্রত্যক্ষ করা এবং এগুলো নিয়ে স্টাডি করা জরুরি। তাছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থাপত্যশৈলীর সাথে ভারতের বিভিন্ন এলাকার স্থাপত্যশৈলীর তুলনা করা এবং এই প্রকরণগুলোর কৌশলগত কারণগুলো ঊপলব্ধি করাটা একটা বড় ব্যাপার।
আরেকটা ব্যাপার হল ভারতে পেশাদার স্থপতিদের কাজের সুযোগ এবং পরিমাণ বেশি থাকায় সেখানে আধুনিক কাজ দেখার সুযোগটাও অনেক বেশি। বাংলাদেশের বয়স কম এবং নানা কারণে এখানে টেকনিক্যাল লোকেদের কাজ করার সুযোগ বাধাগ্রস্ত হয়, স্থপতিদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আরো বেশি সত্য। অন্যদিকে ভারতে প্রায় প্রথম থেকেই স্থাপত্যের পেশাগত চর্চাটা বেশ প্রতিষ্ঠিত। এ কারণে ভারত একই সাথে ভারতীয় এবং অন্য বিদেশী বিখ্যাত স্থপতিদের কাজে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি সমৃদ্ধ। একজন স্থপতি যতটা টেকনিক্যাল লোক ঠিক ততটাই শিল্পী, তাই তার দেখার চোখটাও সমৃদ্ধ থাকাটা জরুরি। কি কারণে কি হচ্ছে এই উপলব্ধিটা ভাল থাকলে নিজের কাজে তার ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়, আর তাতে সামগ্রিকভাবে সমৃদ্ধ হয় দেশের স্থাপত্য।

২। ভারতভ্রমণ যতটা শিক্ষাসফর ঠিক ততটাই পিকনিক। উপরের পয়েন্টটা লক্ষ্য করলেই বুঝবেন কেন শিক্ষাসফর। আর যেহেতু পিকনিক প্রসঙ্গে বললেনই তাহলে কেন পিকনিক সেটাও নিশ্চয়ই বুঝেছেন।

৩। আগেই বলেছি, আমরা যারা ভারত ভ্রমণ করেছি তাদের মধ্যে প্রায় সবাই দেশের স্থাপত্যসম্পদগুলোকে ভালমত স্টাডি করার পরই বাইরে গিয়েছি। বিভিন্নসময় বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরেই আমরা দেখেছি বাংলাদেশে কী আছে, কেন আছে এবং তার ঐতিহাসিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক পটভূমি কী। ভারতভ্রমণ ব্যাপারটাকে দেশকে অগ্রাহ্য করে বিদেশ ঘুরতে যাওয়ার মত ব্যাপার ভাবলে ভুলই হবে। বিদেশভ্রমণের থ্রিল অবশ্যই আছে, তবে মোটাদাগে সেটা শিক্ষণীয় ব্যাপার হিসেবেই আমরা বেশি বিবেচনা করি। ইতিহাস, ঐতিহ্য আর আর্থ-সামাজিক নানান বিষয়-আশয় নিয়ে সত্যিকার অর্থে স্থপতিকেই সবচেয়ে বেশি কাজ করতে হয়, তাই অবলোকন আর উপলব্ধির বিষয়টাতে সমৃদ্ধ হওয়াটা খুব জরুরি।
শিক্ষণীয় ক্ষেত্রের অন্তরায় আসলে একটাই - সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন বিষয়েই শিক্ষার্থীদের তোমন কোন পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হয়না। এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠসূচী বিষয়টিকে উৎসাহিত করলেও সময় বা অন্য কোন ক্ষেত্রেই কোনরকম সহায়তা করা হয়না। শিক্ষকরা ব্যক্তিগত যোগাযোগের সূত্রে অনেক রকম সহায়তা অনেকে করেন, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোন সহায়তা শিক্ষার্থীরা পায়না বললেই চলে।

৪। চতুর্থ প্রশ্নে আপনি যে বিষয়টা বলেছেন সেটার জন্যে আমাদের প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর বলে একটা জিনিস আছে, যেখানে অজানা কোন এক কারণে স্থপতিদের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই বললেই চলে। অথচ এই একটি জায়গাতে স্থপতিদের অংশগ্রহণটা খুবই জরুরি। সরকার এ বিষয়ে কোন মনোযোগ দেয়না এবং এই বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে কাজ করাও অসম্ভব। প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরে যাঁরা আছেন তাঁদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি - তাঁদের কাজ নানা সময়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং তাঁরা কোন এক বিচিত্র কারণে এই প্রশ্নবিদ্ধ কাজগুলোই পৌনপুনিকভাবে করতে ভালবাসেন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্থপতিদের বা স্থাপত্যের শিক্ষার্থীদের সেখানে কাজির সুযোগ দেয়া হয়না বলেই এই বিষয়গুলো নিয়ে জোরালোভাবে কিছু করার সুযোগ আমরা পাইনা। অথচ আমাদের রয়েছে গর্ব করার মত প্রাচীন স্থাপত্যকর্ম, যেগুলি যথাযথ কৌশলগত ব্যবস্থাপনার অভাবে তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছে।
ভারত তো বটেই, অনেক দেশেই প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থাপত্যকর্মগুলোকে প্রতিনিয়ত রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিশেষভাবে পুনর্নির্মাণ করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। আমাদের দেশে এই চর্চাটা খুবই স্তিমিত সরকারের যথাযথ মনোযোগের অভাবে আর প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের নানাবিধ উদাসীনতায়।

---------------------------------------------------
ইটের পরে ইট সাজিয়ে বানাই প্রাণের কবিতা ...

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

নাশতারান এর ছবি

কিছু বন্ধু আছে আমার যারা স্থাপত্যকৌশলের ছাত্র। দেশের স্থাপত্যশৈলীর প্রতি স্থাপত্যবিভাগের শিক্ষার্থীদের অনীহা আছে এমনটা আমি অন্তত মনে করিনা। ক'মাস আগে এক হবু স্থপতি বান্ধবীর সাথে গিয়েছিলাম বগুড়ায়। আমি গিয়েছিলাম ঘুরতে, ও গিয়েছিলো মহস্থানগড়ের উপর প্রজেক্টের কাজে। ওর উৎসাহ, আগ্রহ, স্পৃহা, নিষ্ঠা কোনটারই কমতি দেখিনি।

ভারত ভ্রমনের যে ভীষণ উৎসাহ ওদের সেটা যতখানি না বেড়াতে যাওয়ার তার চেয়ে বেশি স্থাপত্যনিদর্শনগুলো খুব কাছ থেকে স্পর্শ করার সুযোগের লোভে। ভারত দেশটা যেমন বিশাল, তেমনি বৈচিত্র্যময় এর ভৌগোলিক কাঠামো আর স্থাপত্যকলা। ভারতভ্রমনে এটাই উৎসাহের কারণ।

আমাদের দেশের পুরনো স্থাপত্যের সংস্করণ ও পুণর্নিমাণের কাজগুলো কিন্তু হচ্ছে, এই স্থপতিদের হাত ধরেই। তবে অনেক স্থাপত্য যে বেণিয়াদের পুঁজির ভারে ধ্বসে পড়ছে না তা নয়। স্থপতিদের অনীহা নয়, বরং সরকারি উদ্যোগ ও উৎসাহের অভাবই এর কারণ বলে মনে হয়।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

নব রুদ্র [অতিথি] এর ছবি

বিপ্লবী ভাই, আপনার লেখা পড়ে ভাল লাগল। উটকা দুধ নিয়ে উটকো ঝামেলা হয়ত আমরা অনেকেই পড়ি, আর তার মধ্য দিয়ে বিস্তর আনন্দের খোরাকও নিশ্চয়ই পেয়ে যাই। তবে আপনার লেখা আনন্দ দিয়েছে যেমন তেমনি মনে করিয়ে দিয়েছে বন্ধুদের সাথে কাটানো অনেক স্মৃতি। আর একটা কথা, পাঠকদের মন্তব্যগুলোও খুব প্রানবন্ত মনে হয়েছে; তাই আপনার সাথে সাথে মন্তব্যকারী পাঠকদেরও ধন্যবাদ।

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

---------------------------------------------------
ইটের পরে ইট সাজিয়ে বানাই প্রাণের কবিতা ...

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।