তোমাদের যা বলার ছিল, বলছে কি তা বাংলাদেশ?

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি
লিখেছেন সাক্ষী সত্যানন্দ [অতিথি] (তারিখ: শুক্র, ২৮/০৩/২০১৪ - ১১:০১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:


[এই লেখার জন্য ক’মাস আগে গুঁতো দিয়েছিলেন হিমু ভাই। আর রায়হান আবীর তো দু’বছর ধরে গুঁতিয়েই যাচ্ছে। ব্যাপারটা এতই করুণ ও ক্ষেত্রবিশেষে ঘৃণার্হ যে কীবোর্ড চলে না। তবু কাউকে না কাউকে তো লিখতেই হবে। ২৫ মার্চের রাতে লেখাটা প্রকাশিত হলে যদিও যথার্থ হত, কী আর করা। একেবারে না হওয়ার চেয়ে বরং দেরিতে হোক। তাছাড়া এই লেখাটাএই লেখাটা চড় দিয়ে জানাল দেরী করার সময় আসলে নেই]

প্রথম ভাগঃ

১.১ আজ থেকে ৪৩ বছর আগের সেই রাতঃ

রাত প্রায় ১০ টা, শহীদুল্লাহ হলের দিকে এগুচ্ছেন ঔষধ বিদ্যার তরুণ অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী। পথ আটকে দাঁড়াল একদল ছাত্র, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একটিই অনুরোধ- “স্যার আজ রাতে হলে থাকবেন না, মিলিটারির গতিবিধি সুবিধার না।” আজাদ চৌধুরীর মুখে চিন্তার ছায়া। এত রাতে কোথায় যাবেন! আনমনে হলের ব্যাচেলর কোয়ার্টারের দিকে এগিয়ে যেতেই আত্মভোলা এক লোকের কথা মনে এল তাঁর, ছাত্ররা আড়ালে ডাকে আধপাগলা। অবশ্য পদার্থবিদেরা একটু আধটু পাগলামি না করলে মানায় ও না। নিজের দরজা থেকে উল্টো ঘুরে সেদিকেই এগুলেন, বিপদের এই সময়ে প্রতিবেশীর খোঁজ খবর রাখা উচিৎ বৈকি। প্রায় দশ মিনিট ধাক্কাধাক্কির পরে উশকো খুশকো চুলের অথচ নিরীহ চেহারার এক লোক বিরক্ত মুখে দরজা খুলে দিলেন। লুঙ্গির ওপরে একটা স্যান্ডো গেঞ্জি উল্টো করে পরা, সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই যদিও। অন্তর্মুখী এ লোকটিকে পারতপক্ষে কেউ ঘাঁটাতেন না। কিন্তু আসন্ন বিপদ তো আর নিয়ম মেনে আসে না। আজাদ চৌধুরী ভয়ে ভয়ে ছাত্রদের বলা কথা গুলো এক নিঃশ্বাসে বলে ফেলে হাঁফ ছাড়লেন। দম নিয়ে ভয়ে ভয়ে আবার বললেন- “সময়টা খারাপ, আমার সঙ্গে চলুন, দেরী হলে বিপদ”। শ্রোতাটির কোনও বিকার নেই, তাঁর শূন্য দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে একটু বিভ্রান্তই হলেন তিনি। মিনিট দেড়েক পরে ফেটে পড়লেন ভদ্রলোক- “আমাকে পেয়েছেনটা কি? আমি কি নেতা? আমি স্লোগানও দেইনা, মিছিলেও যাইনা। শিক্ষক মানুষ, ছাত্র পড়াই কেবল। কারো সাতেও নেই পাঁচেও নেই। মিলিটারির সাথে আমার কি সম্পর্ক? আমি কেন পালাব?” মাথা নিচু করে ফিরে আসলেন আজাদ চৌধুরী, চট করে কাপড়টা পাল্টেই প্রেসক্লাবের সামনে ব্যারিকেডের ফাঁকফোকর দিয়ে কোনমতে বেরিয়ে গেলেন বন্ধুর বাসার উদ্দেশ্যে। মাঝরাত্তিরে কানে ভেসে আসল ভারি অস্ত্রের আওয়াজ। উত্তর নাকি পশ্চিম, ঠিক ঠাহর করে উঠতে পারলেন না। আসলে গুলি চলেছিল দুদিকেই। সকালটা এল চট করে নাকি ধীর গতিতে বলা মুশকিল। গোলাগুলির শব্দ বন্ধ, দূরে কোথাও ট্যাঙ্কের জান্তব ঘর্ঘর শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। সাবধানে শহীদুল্লাহ হলের দিকে এগুলেন আজাদ চৌধুরী। কোয়ার্টারের দিকে এগুতে গিয়ে থমকালেন, সিঁড়ির ওপর কাত হয়ে পড়ে আছেন লুঙ্গিপরা মানুষটি, উল্টো স্যান্ডগেঞ্জিটা কাল রাতে ময়লাটে সাদা ছিল- এখন লাল, লালের ছড়াছড়ি সিঁড়িতেও। অভিযোগ ভরা চোখ দুটোর দিকে একবার তাকিয়েই চোখ ফিরিয়ে নিলেন। নিস্পলক চোখে গতরাতের অভিমান মাখা বিহ্বল দৃষ্টি চিরকালের মত স্থবির হয়ে ফরিয়াদ জানাচ্ছে- “আমাকে পেয়েছেনটা কি?” আজাদ চৌধুরী সারাজীবন সেই স্মৃতির হাত থেকে রেহাই পান নি।

১.২ আলোআঁধারির পরম্পরায় ২৫ বছরের নির্মাণ-বিনির্মাণ

২৫ মার্চের রাতে কেবল শহীদুল্লাহ হলেই নয়, জগন্নাথ হলেও ছাত্রের পাশাপাশি নিহত হলেন শিক্ষকেরা। আনোয়ার পাশা নামে বাংলার এক অধ্যাপক লিখে রাখলেন সেই রাতের কথা। বুয়েটের অধ্যাপক নূরুল উলা খানিকটা ভিডিও করেও রাখলেন। (আশ্চর্য, তিনি কি জানতেন যে কোনও এককালে “হিস্টরি উইল বি ডিফিকাল্ট ফর দ্য হিস্টরিয়ান্স”!) তারপরের সময়টুকু সবার জানা, ন’মাস ফাস্ট ফরোয়ার্ড করে বরং ১৪ ডিসেম্বর চলে যাই। আনোয়ার পাশা তাঁর বইয়ের শেষ বাক্যে বলেছিলেনঃ “এই রাতটুকুই তো, মাভৈ। কেটে যাবে!” ১৪ ডিসেম্বরের সেই রাত আর কাটেনি। দুদিন পরে বিজয়ের আনন্দে একদলা চাপা কান্না হয়ে থাকে এই দিনের নৃশংসতা। আনোয়ার পাশা অবশ্য মরার আগে জেনে যাননি যে একদিন তারা গোনাগুনতির ভিড়ে কেবল একটি বিতর্কিত (!) সংখ্যা হয়ে যাবেন, তাও ক্রমহ্রাসমান সংখ্যা। সে যাকগে আমরা আর একটু ফাস্ট ফরোয়ার্ড করে ১৯৭৫ সালে চলে যাই। বাংলার ইতিহাসে এমন ভাবগম্ভীর বছর আর নাই। শ্রাবণের শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন, ইচ্ছা করে নয় মোটেই। বন্দুক উঁচিয়ে তাঁর জায়গা নিলেন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। ভাবছেন দুজন প্রথম কিভাবে সম্ভব! (সে ইতিহাস রচিত হবে আরও ৪০ বছর পরে) আপাতত শুনে যান, বিশ্বাসে মিলায় রাষ্ট্রপতি, তর্কে বহুদুর। সে যাকগে, এভাবে প্রথম রাষ্ট্রপতির ইতিহাস অবশ্য প্রথম নয়। চীনের রাজা চীন-শীহ-হোয়াংতি জীবদ্দশায়ই একাজ করেছিলেন। প্রথমত্ব পোক্ত করতে আগের সব কাগজপত্র-ইতিহাস-দলিল পুড়িয়ে ফেলেছিলেন। তা, হোয়াংতির সূত্র ধরে এই প্রথম রাষ্ট্রপতিও তাই করলেন। দেশে ধর্ম চ্ছিলনা, ফিরিয়ে আনলেন। ব্যর্থপ্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে লালপানির নহর বইয়ে দিলেন, ধর্মে মানা তাতে কি? ধর্মের নাম নিয়ে শুরু করলে সাতখুনও (আক্ষরিক অর্থে) মাপ, লালপানি তো কোন ছার। খাল কেটে তিনি ফিরিয়ে আনলেন গোলাম আযমের মত পুণ্যাত্মা আর ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েনের অনুসারীদের। জেলের তালা ভেঙ্গে বেরিয়ে এলেন পাক পুণ্যভুমি রক্ষার জেহাদের দলবল, সাত খুনের আসামী, ধর্ষকের পাল আরও অনেকে। কাদের যেন হাত ফসকে গুলি ছুটে গিয়ে মারা গেলেন খালেদ মোশাররফ সহ ভারতের ছিঁচকে দালালেরা। জেলখানার সেলে মারা গেলেন প্রথম উপাচার্য ড. মতিন চৌধুরী, তিনি মারা না গেলে নতুন “প্রথম উপাচার্য” আসবে কোথা থেকে? তাই তাঁকে মরতেই হল। বাংলার হোয়াংতির রাজ্যে ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হল। সাড়ে তিন বছরের আইয়ামে জাহেলিয়াতের স্মৃতি লেখা হল নতুন করে, “প্রথম ইতিহাস” বলে কথা। আর তার আগের ৯ মাসের লজ্জার কথা ভোলার জন্য রাজবিদুষক আর সভাকবিরা হন্যে হয়ে লাগলেন। সে রাজত্ব চলল প্রায় অর্ধ দশক। তারপর এক দশকের জন্য এলেন রাজা দ্বিতীয় হোয়াংতি। কবি মানুষ কি রাজত্ব চালাতে পারে? দ্বিতীয় হোয়াংতিও পারলেন না। তারপর কিভাবে কিভাবে যেন রাজতন্ত্রের উচ্ছেদ হল। আরও বছর পাঁচেক পরে মানুষ একটু আধটু জেনে গেল হোয়াংতি রাজপুরুষদ্বয়ের কীর্তি। কার্পেটের নিচে, গোয়ালের মাচায়, ঘরের চালার চিপাচাপা থেকে ২৫ বছর আগের কথারা থাকতে না পেরে বেরিয়ে এল। এমন সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষপদে স্থান পেলেন এ কে আজাদ চৌধুরী। ২৫ বছর আগের সেই নিস্পলক দৃষ্টি তিনি ভোলেননি। বিবেকের দায় মেটাতে স্থানটিতে তিনি একটি ফলক বসিয়ে দিলেন, অনাগত দিনের শিশুরা অন্তত জানুক বাংলাদেশের শুরু কালো চশমা পরা রাজা হোয়াংতির বন্দুকের নল থেকে নয়। অনেক রক্তে গড়া এই দেশ। বহুবছর একটু হালকা বোধ করলেন তিনি।

১.৩ মধ্যরাতের অশ্বারোহীদের কাফেলায় অন্ধকারের পুনরাগমনঃ

চাষাভুষো মানুষ দিয়ে কি আর রাজকার্য চলে? মোটেই না। রাজা হোয়াংতির বংশধরেরা আবারও রাজ্য দখল করলেন। সেই ২৫ আর ১৪ তারিখে স্যান্ডো গেঞ্জি পরা আধপাগলা মানুষগুলোকে যারা সাফ করে ধর্মরক্ষায় আত্মনিবেদন করেছিলেন তাঁরাও অস্তিত্বের তাগিদে লাজশরম ভুলে রাজরক্তের অংশীদার হলেন। ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েন মারা গেছেন তাতে কি? তাঁর গুণগ্রাহীরা তো আছেন, ফি-বছর বংশবৃদ্ধিও করেছেন। বখতিয়ারের ঘোড়া ছুটিয়ে তাঁরা শহীদুল্লাহ হলে ধর্মকে ফিরিয়ে আনলেন। কোথাকার কোন আজাদ চৌধুরী দুদিনের জন্য এসে কিনা লুঙ্গি পরা এক লোকের নামে বেশরিয়তী ফলক বসাবে! কভী নেহি। ফলক ছুঁড়ে ফেলে পবিত্র পানি দিয়ে সাত বার সেস্থান ধোয়া হল। তারপর টাইলস দিয়ে পুরো এলাকা ঢেকে দেয়া হল। দেশে তখন উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যাচ্ছিল কিনা, তার এক ঝাপটা পানি সেখানে আসবে না তা কি করে হয়! তারপর, ধর্মানুভূতির লালুসালু দিয়ে ঢেকে দেয়া হল স্থানটি। সংবিধান বলে দেশে একটি রাষ্ট্রধর্ম আছে। অতএব রাষ্ট্রধর্ম চর্চার জন্য চাই উপাসনালয়। উপাসনালয় অবশ্য ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলের ১০০ গজের মাঝে তিন তিন খানা ছিল। তবু আজাদ চৌধুরীর মত ত্যাঁদড় লোকের তো অভাব নেই। যদি আবার কালক্রমে সেই পৌত্তলিক পাথরের টুকরো ফিরিয়ে আনেন তবে যে ধর্মনাশ। এ কিছুতেই হতে দেয়া চলে না। দেরী না করে ওই অঞ্চলের চতুর্থ উপাসনালয় হিসেবে ঘোষিত হল টাইলস ঢাকা ঘরটি। ধর্ম রক্ষা হল, টাইলসের আড়ালে চাপা পড়ে গেল উল্টো করে স্যান্ডো গেঞ্জি পরা উশকো খুশকো চুলের সেই মানুষটির অন্তিম আর্তনাদ। ধর্মরক্ষা করতে গেলে এসব নাফরমান লোকের কথা আমলে নিতে নেই। কিন্তু তবুতো কালে কালে ত্যাঁদড় কিছু লোক জন্মায়। নব্য হোয়াংতির অনুচরদের চোখ ফাঁকি দিয়ে অপসারনের আগেই ফলকটির ছবি তুলে রাখে তেমনই এক ত্যাঁদড় তরুণ।

দ্বিতীয় ভাগঃ

২.১ ইতিহাসের ইতিহাসঃ

রাজা হোয়াংতির ইতিহাস আপাতত এখানেই শেষ। লুঙ্গি পরা সেই মানুষটির পরিচয় দেয়া হয়নি এখনও। তাঁর নাম শহীদ আতাউর রহমান খান খাদিম। অকৃতদার এই ব্যাক্তি অত্যন্ত মেধাবী একজন পদার্থবিদ ছিলেন। থাকতেন শহীদুল্লাহ হলের দোতলায় শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘরে। বন্ধুবান্ধব তেমন ছিলনা। নিভৃতচারী ও অন্তর্মূখী স্বভাবের এই ভদ্রলোকের কোনও নিকটাত্মীয়ও জীবিত নেই। তাঁর একমাত্র ছোটবোনের মৃত্যু ঘটেছে ক’বছর আগে। তাঁর ইতিহাসটুকু ধরে রাখবার দায় তাই আমার আপনার সবার। ২৫ মার্চের রাতে জি সি দেব সহ অনেকের নাম আমরা জানি। কিন্তু অজাতশত্রু এই শহীদ বিজ্ঞানীর নাম আমরা জানিনা বললেই চলে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি না হলে আমিও হয়ত জানতাম না। অজ্ঞাত (!) কারণে ২০০৭ সালের কোনও এক সময়ে তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই মানুষটির শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকু মুছে ফেলতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে। কিন্তু আশার কথা যে ওই গায়েব হওয়া ফলকটির একটি ফটোগ্রাফ তাঁদের অজ্ঞাতে রয়ে যায় প্রমান হিসেবে। পরবর্তীতে বর্তমান হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উভয়েই তাঁর স্মৃতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন। শহীদুল্লাহ হল ডিবেটিং ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত অন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযগিতাটির নামকরণ করা হয়েছে “খান খাদিম স্মারক বিতর্ক”। ওই ক্লাবের প্রস্তাবনা অনুসারেই ইতোমধ্যে শহীদুল্লাহ হলের বর্ধিত ভবন দুটির নাম “শহীদ খান খাদিম ভবন” ও “শহীদ শরাফত আলী ভবন” রাখার প্রস্তাব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে অনুমোদিত হয়েছে।

২.২ আমাদের দায়মুক্তির পথঃ

প্রথমত, বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৪ জানাচ্ছে যেঃ

বিশেষ শৈল্পিক কিংবা ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন বা তাৎপর্যমণ্ডিত স্মৃতিনিদর্শন, বস্তু বা স্থান সমূহকে বিকৃতি, বিনাশ বা অপসারণ হইতে রক্ষা করিবার জন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

এর প্রেক্ষিতে, খান খাদিমের স্মৃতিসংরক্ষনের স্থান থেকে ফলকটি সরিয়ে ফেলার জন্য যে বা যারা দায়ী ছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ, যাতে ভবিষ্যতের হোয়াংতিরা এই দুঃসাহস আর না করে। আইন বিশেষজ্ঞ যারা আছেন তাঁরা আশা করি পথ বাতলাবেন এবং সকলেই সুযোগমত যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এ তথ্যগুলো পৌঁছে দেবেন।

দ্বিতীয়ত, আগেই বলেছি খান খাদিম স্যারের কোনও নিকটাত্মীয় জানামতে জীবিত নেই। তাঁর স্মৃতির উৎস তাঁর সহকর্মী ও ছাত্ররা যারা বয়সের প্রায় শেষসীমায় পৌঁছে গেছেন। সময় থাকতে এঁদের সাক্ষাৎকার নিয়ে না রাখতে পারলে সমূহ বিপদের আশঙ্কা থাকে। ছাত্রজীবনে বহুবার ভেবেছি কিন্তু এ কাজটা একা করে উঠতে পারিনি। এখন সবাই মিলে করে ফেলা যায় কিন্তু, কি বলেন? নিচে সম্ভাব্য ব্যাক্তিদের একটি (অসমাপ্ত) তালিকা করলামঃ

১। এ এম হারুন অর রশীদ
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং খান খাদিমের সহকর্মী-সহপাঠী

২। অজয় রায়
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং খান খাদিমের সহকর্মী

৩। এ কে আজাদ চৌধুরী
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান, খান খাদিমের শেষ প্রত্যক্ষদর্শী

৪। আর আই এম আমিনুর রশীদ
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, খান খাদিমের সহকর্মী

৫। মেসবাহউদ্দিন আহমদ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, খান খাদিমের সহকর্মী

৬। আজিজুর রহমান
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান ও শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ, খান খাদিমের ছাত্র

৭। খোরশেদ আহমদ কবীর
নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজী বিভাগের চেয়ারম্যান, খান খাদিমের ছাত্র

৮। শামীমা করীম চৌধুরী
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বসু উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক, খান খাদিমের ছাত্রী

এই তালিকা আরও বাড়তে পারে। কারো কাছে আরও কোন নাম থাকলে অনুগ্রহ করে মন্তব্যে যোগ করুন। কারো কাছে তাঁর সম্পর্কে জানার আর কোনও সূত্র থেকে থাকলে সেটাও জানান। ভূত-থেকে-ভূতে আমাদের বিশাল এক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারলে সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েনের ভূত পালিয়ে কূল পাবে না। তাঁর কোনও আত্মীয়ের (হোক সে নিকটাত্মীয় বা দূর সম্পর্কের) খোঁজ পেলে নিজ দায়িত্বে সাক্ষাৎকার নিন। যতটুকু সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করে রাখুন। উল্লিখিত তালিকায় ১, ২, ৬, ৭, ৮ নং ক্রমে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ মোটামুটি যোগাযোগের আওতায়, বাকিদের সাথে যোগাযোগের কোনও মাধ্যম থেকে থাকলে অনুগ্রহ করে সেটাও জানান। আগামী ২৫ মার্চে কেউ যেন বলতে না পারে- “খান খাদিম! উনি আবার কে?”

নিঃসঙ্গ এই মানুষটির স্মৃতির প্রতি অনেক অবিচার করা হয়ে গিয়েছে, ক্ষতিপূরণের দায়টা কিন্তু আমাদের সবারই। রাজা হোয়াংতির অসমাপ্ত ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিতে, আসুন কাজে নেমে পড়ি।

পাদটীকা

  • ১. কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ

    ১।
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ০৫/০৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রকাশনা “বোসন”

    ২।
    শহীদুল্লাহ হল ডিবেটিং ক্লাব প্রকাশিত খান খাদিম স্মারক বিতর্কের ফোল্ডার

    ৩।
    সৈয়দ রেজাউর রহমান নির্মিত তথ্যচিত্র

    ৪।
    নাম না জানা উইকিলেখক যিনি এই ভুক্তিটি যোগ করে পরিশ্রম কমিয়ে দিয়েছেন

    এবং,

    ৫।
    অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ, অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার ও অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম। এই ত্রয়ী যদি ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েনের অসমাপ্ত কাজের ভার এমন সুচারুভাবে তুলে না নিতেন, তাহলে এই লেখাটির প্রেক্ষাপট সৃষ্টিই হত না। নিরন্তর অনুপ্রেরণার উৎস এই তিন পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের প্রতি আকুন্ঠ কৃতজ্ঞতা।

ছবি: 
27/01/2012 - 9:56অপরাহ্ন

মন্তব্য

সত্যপীর এর ছবি

কৃতজ্ঞতা স্বীকারে ৫ নম্বরের আনোয়ারুল ইসলাম কি কেমিস্ট্রির? এনারা তিনজনেই হার্ডকোর সাদা, এই কাণ্ডে অবাক হওয়ার কিছু নাই।

..................................................................
#Banshibir.

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

হ্যাঁ, শহীদুল্লাহ হলের তৎকালীন প্রাধ্যক্ষ
অবাক হইনি, এটাই স্বাভাবিক

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

এক জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের যে ক্ষতি করে গেছে সেইটা লক্ষ লক্ষ শুয়োর মিলে একশ বছরেরো করতে পারবে না মনে হয়। খুব ভাল হয়েছে লেখা।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

এক লহমা এর ছবি

সহমত।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- কবি

[শুয়োরের মত নিরীহ একটা প্রানীর নামে প্রোপ্যাগান্ডা ছড়ানোতে দিক্কার]

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

অতিথি লেখক এর ছবি

অসাধারণ পরিশ্রম করে একটি তথ্যবহুল লেখার জন্য ধন্যবাদ।

- সুচিন্তিত ভুল

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- খান খাদিম স্যারের স্মৃতি সরিয়ে ফেলার সেই অন্ধকার সময়ের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে অনেকদিন ধরে এই স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছি। স্মৃতির চাপটুকু বয়ে নেয়া ছাড়া কোনও পরিশ্রমই আসলে করা হয়নি, পরিশ্রমের কাজ কেবল শুরু হল

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

এক লহমা এর ছবি

চলুক খুব দরকারী লেখা।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

[আরও অনেক আগেই লেখা উচিৎ ছিল, কত দেরী হয়ে গেল কে জানে!]

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

সচল জাহিদ এর ছবি

অনেক অনেক ধন্যবাদ রইল আপনার প্রতি লেখাটির জন্য।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- জাহিদ ভাই হাসি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

আব্দুল গাফফার রনি এর ছবি

হাততালি

----------------------------------------------------------------
বন পাহাড় আর সমুদ্র আমাকে হাতছানি দেয়
নিস্তব্ধ-গভীর রাতে এতোদূর থেকেও শুনি ইছামতীর মায়াডাক
খুঁজে ফিরি জিপসি বেদুইন আর সাঁওতালদের যাযাবর জীবন...
www.facebook.com/abdulgaffar.rony

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- সাথে আছেন নিশ্চয়!

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখায় গুরু গুরু

একটা প্রশ্ন

৪৪ বছর আগের রাত

এটা কি ৪৩ বছর হবে না??

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

তাইতো, গুনতে গিয়ে ক্রম আর অবস্থান গুলিয়ে ফেলেছিলুম লইজ্জা লাগে
ঠিক করে দিলাম, অনেক আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- সাথে থাকুন হাসি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

তাহসিন রেজা এর ছবি

আপনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা রইল এমন অসাধারণ লেখার জন্য।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------
“We sit in the mud, my friend, and reach for the stars.”

অলীক জানালা _________

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- আসুন কাজে নামি, চেনাজানা কোনও উৎস পেলে জানান

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

অতিথি লেখক এর ছবি

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যথাযত উদ্যোগ নিলে নিশ্চয়ই খান খাদিম স্যারের পূণ্যস্মৃতি রক্ষা পাবে। অন-লাইন অ্যাক্টিভিস্টদের কাজ হবে গুরুত্বপূর্ণ এই লেখাটিকে ছড়িয়ে দেয়া।
অভিনন্দন সাক্ষী সত্যানন্দ অসাধারণ পোস্টটির জন্য।

-দেব প্রসাদ দেবু

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

অবশ্যই রক্ষা পাবে, আরও অনেক খান খাদিমের স্মৃতি উচ্ছেদে হোয়াংতিরা সর্বশক্তি নিয়োগ করে রেখেছে, যেখানেই পাবেন রুখে দাঁড়ান, তাহলেই হবে

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- ছড়িয়ে দিন হাসি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

অতিথি লেখক এর ছবি

অসাধারন একটি লেখার জন্য গুরু গুরু
ইসরাত

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- হাসি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

তাসনীম এর ছবি

ব্যক্তিগত ব্যস্ততায় সচল পড়া হলেও মন্তব্য করা হয় না তেমন। এই লেখাটার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে যাই।

বুয়েটের অধ্যাপক নুরুল ইসলাম খানিকটা ভিডিও করেও রাখলেন।

নুরুল ইসলাম নয় নূরুল উলা হবে। উনি এখন জীবিত নেই। আমরা বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময়ে উনি হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। ওনার এক ভাগ্নী আমার সাথেই বুয়েটে পড়তো।

এই লেখাটাও সাপ্লিমেন্টাল রিডিং হিসাবে পড়া যেতে পারে।

http://www.sachalayatan.com/mmr_jalal/9806

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

ছি ছি... বিশাল টাইপো লইজ্জা লাগে ধরিয়ে দেবার জন্য আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

আপনারা ভাগ্যবান, ওনাকে পেয়েছেন
আচ্ছা তাঁর ভাগ্নীকে কি পাওয়া যাবে ইন্টারভিউয়ের জন্য??

জালাল ভাইয়ের লেখাটা আগেও পড়েছি, এই লেখাতেও লিঙ্কটা জুড়ে দিলাম হাসি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

মাহবুবুল হক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ। এভাবেই তুলে আনতে হবে ইতিহাস। তাতে কিছু মীর জাফরও চেনা যাবে। আর আমাদের বীরদের তালিকাও দীর্ঘ হতে থাকবে। আপনার উদ্যোগ সফল হোক। শুভকামনা।

--------------------------------------------------------
দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে/ লিখি কথা ।
আমি যে বেকার, পেয়েছি লেখার/ স্বাধীনতা ।।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- আপনার জন্যও শুভকামনা হাসি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

প্রোফেসর হিজিবিজবিজ এর ছবি

শেয়ার দিলাম।

____________________________

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- প্রোফেসর সাহেব... হাসি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

আয়নামতি এর ছবি

ইটা রাইখ্যা গেলাম... রেখে গেলাম সময় নিয়ে পড়বো।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

কোনও সূত্র থাকলে জানাবেন অবশ্যই আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

আয়নামতি এর ছবি

ভাই সত্যানন্দ, আপনার প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা এই অজানা(আমি খুব লজ্জিতবোধ করছি সত্যি! শহীদ আতাউর রহমান খান খাদিমের কথা জানতাম না বলে) মানুষটির কথা তুলে ধরবার জন্য। সত্যি বলছি এমন যে কোন কাজে সাহায্যের হাত হতে পারলে নিজেকে সৌভাগ্যবানদের একজন ভাবতাম। কিন্তু খুব আফসোসের সাথে বলি, যে দুজন এক্ষেত্রে আমাকে সাহায্য করতে পারতেন তাঁরা আজ আর কেউ নেই পৃথিবীতে! বড্ডবেশি দেরীর কিছু মাশুল তো দিতে হয় বলেন! তবুও আপনাদের মত কিছু মানুষ আছেন বলেই হতাশ হই না। ঠিক সময়ে স্মৃতিফলকের ছবিটি তুলে রেখেছিলেন বলে অশেষ কৃতজ্ঞতা আলাদা করে!

তারপর এক দশকের জন্য এলেন রাজা দ্বিতীয় হোয়াংতি। কবি মানুষ কি রাজত্ব চালাতে পারে? দ্বিতীয় হোয়াংতিও পারলেন না।

পারলেন না বললে ইতিহাসের একটা জঘন্য প্রেক্ষাপটকে কিছুটা হালকা করা হয়ে যায় যেন(ব্যক্তিগত মত আর কী!)। এই দুই অভিশপ্ত পাষণ্ডের জন্য আজকে এত দুর্গতি দেশটার! দ্বিতীয় হোয়াংতি পারেনি তা না। তাকে বাধ্য করা হয়েছিল গদি থেকে নামতে। ইতিহাসের এই বাঁকটা সামান্য কথায় জুড়ে দিলে ভালো হতো ভাই। আমরাও বেকুব বাঙ্গালি তাকেই বিনোদনের কুশীলব প্রধান করে ড্যাবড্যাবিয়ে ভাঁড়ামো দেখি এখন। অসহ্য লাগে এসব কিছু!!!
আপনার অনেক ব্যস্ততার মাঝে লেখাটা বেশ তাড়াহুড়োতে তৈরি করেছেন হয়ত। সে জন্য ধন্যবাদ।

*
একদম পুলিশি ভাববেন না প্লিজ! এমন একটা লেখায় টাইপো থাকা ঠিক হবে না(তাড়াহুড়োতে হয়েছে জানি)
সময় পেলে টাইপোগুলো শুধরে নেবেন।

শুন্য>শূন্য, নির্মান>নির্মাণ(একইভাবে বিনির্মাণ), ব্যার্থপ্রানের> ব্যর্থপ্রাণের, (চ্ছিলনা- এটা কি শ্লেষার্থে লিখেছেন? তাহলে ঠিক আছে।) পুণ্যভুমি>পুণ্যভূমি,ছিচকে>ছিঁচকে,পাচেক>পাঁচেক,গুনগ্রাহীরা>গুণগ্রাহীরা,স্যাণ্ডো গেঞ্জি পড়া> পরা, অপসারন>অপসারণ,(সংবিধানের অনুচ্ছেদটি কি কপিপেস্ট? আয়হায়! ওটাতেও ২টা টাইপো চোখে পড়েছে। একটা 'অপসারণ' আরেকটা 'ব্যবস্হা') গবেষনা>গবেষণা,ভুত>ভূত,ব্যাক্তিবর্গ>ব্যক্তিবর্গ, সাক্ষাতকার>সাক্ষাৎকার

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

১। অনেক আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- বায়না'দি

২। এই লেখায় আসলেই টাইপো থাকা অনুচিত মন খারাপ তাড়াহুড়ার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, যতটুকু সম্ভব ঠিক করে দিলাম, আরও কিছু চোখে পড়লে জানাবেন

৩। চ্ছিলনা টাইপো নয়, ছহীহ উচ্চারণ, রাজা প্রথম হোয়াংতি ঠিক এভাবেই ক্বালব্বের ভেতর থেকে বাতাস এনে একে উচ্চারন করতেন, বলার আগে মিনিট পাঁচেক দম নিতেন

৪। কবি হোয়াংতির ইতিহাস পরে একসময় বদলে দেব, এখন সময় নেই। তবে দুই হোয়াংতির আমলনামা পাশাপাশি রাখলে দ্বিতীয়জনকে হরলিক্সমেশানো দুধে ধোয়া বলেই মনে হয় (ব্যাক্তিগত পর্যবেক্ষণ, দ্বিমত থাকতেই পারে)

৫। বদলে যাও, বদলে দাও... থুক্কু... ভূত থেকে ভূতে ছড়িয়ে দিন, তাতেই মোক্ষ

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

অতিথি লেখক এর ছবি

আগে আপনি নিরপেক্ষ হোন ভাই খাইছে । বাংলাদেশে নিরপেক্ষর সংজ্ঞা হলো আমি বঙ্গবন্ধু ও শহীদ জিয়া দুজনকেই মহৎ নেতা মনে করি গড়াগড়ি দিয়া হাসি । এই লাইনে আসতে না পারলে আপনি নিরপেক্ষ না, তারপর আপনি বাকশালী পক্ষের লোক এবং সর্বশেষ আপনি নাস্তিকের ট্যাগ পাবেন। আমি অবশ্য তিনটার কোনটাতেই বিব্রত বোধ করি না।

লেখা বরাবরের মতো লেখা -গুড়- হয়েছে । অজানা ত্যাগের ইতিহাস জেগে উঠুক আপনাদের মতো মানুষের হাত ধরে। শুভেচ্ছা (ডারউইনকে খুঁজতে বান্দরবন গিয়েছিলাম বলে লেখাটা দেরিতে পড়লাম হাসি )

মাসুদ সজীব

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

হুমম... জীবন মানেই জী বাংলা, লাইনে আসুন। খাইছে
ইন্ডিয়ান হালাল গরুর গুস খায়া আইলেন নাকি? চিন্তিত

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।