যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী।।৩।।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি
লিখেছেন শুভাশীষ দাশ (তারিখ: শনি, ২১/০৮/২০১০ - ৯:৩৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আজকের প্রসঙ্গ বদরুদ্দিন উমর। মার্কসবাদী লেখক হিসেবে তাঁর পরিচিতি। তাঁর পিতা আবুল হাশিম ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ। উমর সাহেব পূর্ব পাকিস্তান কম্যুনিস্ট পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন ১৯৬৯ সালে। সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে তাঁর বই আছে। বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন , বাংলাদেশ লেখক শিবির সহ কিছু প্রতিষ্ঠানের তিনি প্রেসিডেন্ট। লেখক শিবির নিয়ে তাঁর ঘটনাক্রম জানা যায় ১৯৯৩ স ...

আজকের প্রসঙ্গ বদরুদ্দিন উমর। মার্কসবাদী লেখক হিসেবে তাঁর পরিচিতি। তাঁর পিতা আবুল হাশিম ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ। উমর সাহেব পূর্ব পাকিস্তান কম্যুনিস্ট পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন ১৯৬৯ সালে। সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে তাঁর বই আছে। বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন , বাংলাদেশ লেখক শিবির সহ কিছু প্রতিষ্ঠানের তিনি প্রেসিডেন্ট। লেখক শিবির নিয়ে তাঁর ঘটনাক্রম জানা যায় ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত আহমদ ছফার প্রবন্ধ ‘একাত্তর: মহাসিন্ধুর কল্লোল’ প্রবন্ধে।

১৯৭০ সালের দিকে পূর্ব পাকিস্তানের লেখকদের একই ছাদের নিচে জমায়েত করতে আহমদ ছফা এবং অন্যান্যরা লেখকদের একটা সংঘ করেন। ‘লেখক সমিতি’ নামটির প্রতিবাদ করেন ছফা। নাম দেন ‘লেখক সংগ্রাম শিবির। জামায়াতে ইসলামী পরে তাদের ছাত্র সংগঠনের জন্য শিবির নামটি ছিনতাই করে। সেই সময় উমর সাহেব এক কাণ্ড করে বসেন। দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকায় সাড়ে তিন কলাম দীর্ঘ একটি চিঠি লিখলেন। আবেদন জানালেন, এই লেখক শিবিরের সাথে যেন কেউ যোগাযোগ না রাখে। পরের ঘটনাক্রম ভিন্ন। লেখক শিবিরের প্রেসিডেন্ট পদটি দখল করে বসেন উমর সাহেব। ছফার ভাষ্যে-

… অদৃষ্টের কি নির্মম পরিহাস, আজকের দিনে উমর সাহেব লেখক শিবিরের নেতা। সেই লেখক শিবিরে লেখার কী কাজ হয় এবং বিপ্লবের কী অগ্নিশলাকা প্রস্তুত করা হয় আমি জানি না। লোকে এখন লেখক শিবির এবং বদরুদ্দীন উমরকে এক করে দেখে। উমর সাহেব নিষ্ঠাবান, একগুঁয়ে এবং জেদি মানুষ। ষাট পেরুবার পরও পনের বছরের তরুণদের মত উদ্দীপনা প্রদর্শন করতে পারেন। লেখক শিবিরটা কব্জা করে লেখা এবং লেখকদের কী উপকারটা তিনি করেছেন? রাজনীতির কতটা লাভ করেছেন, সেটা রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলতে পারবেন। যখন বয়স কম ছিল, উমর সাহেবের এই ধরণের কর্মকাণ্ড দেখলে প্রচণ্ড রেগে যেতাম। এখন বয়স হয়েছে, মজা লাগে।…

উমর সাহেব তাঁর লেখালেখিতে আওয়ামী লীগ সরকারের গিবত করার কাজটা খুব নিষ্ঠার সাথে করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। সরকারের ভুল-ভ্রান্তি দেখিয়ে দেয়া মন্দ কাজ নয়। এই দিক দিয়ে ভাবলে উমর সাহেবের কাজ কিছুটা জাস্টিফাই করা যায়। তবে বদরুদ্দিন উমরের মতো লেখকেরা তাঁদের অনুমিত কথা নিজেরা বিশ্বাস করেন না। লেখক শিবির বিরোধী উমর সাহেব সুযোগ পেয়ে সেটির প্রেসিডেন্ট হয়ে বসেছেন। ইদানীং সমকাল, যুগান্তর, আমার দেশ এই তিনটি পত্রিকায় নিয়মিত বিরতিতে তিনি কলাম লিখে চলছেন। উপর্যুপরি কলাম লেখার প্রণোদনায় নতুন কথা আসে না। চর্বিতচর্বণ হয় একই কথার। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে তাঁর তিনটি প্রবন্ধে (দুটি ছাপানো হয় কালের কণ্ঠে, একটি আমার দেশ পত্রিকায়) ঘুরেফিরে একই কথা উচ্চারণ করেছেন।

আমার দেশ পত্রিকায় তাঁর একটি কলাম ছিল ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ে আওয়ামী লীগের ভূমিকা’ (বাইশে জুলাই, ২০১০)শিরোনামে। শেখ মুজিবের ভ্রান্তি নিয়ে কথা শুরু হয়। তিনি আলোকপাত করেন-

১। একাত্তরে দেশ স্বাধীন হবার পরপরই যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি না দিয়ে শেখ সাহেব তাঁদের আহবান করেন দেশ গড়ার কাজে অংশ নিতে। এটা বড় মাপের ভুল।

২। ১৯৫ জন পাকিস্তানি সামরিক অফিসারকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। বাংলাদেশের কারাগারে আটক রাখাই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বাক্ষর হিসেবে প্রয়োজন ছিল। কিন্তু নিজেদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের দাবি জলাঞ্জলি দিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাদের ভারতীয় সামরিক কর্তৃপক্ষের হাতে ছেড়ে দেয়। ভারত পরে ১৯৫ জনকে পাকিস্তানের কাছে ফেরত দেয়। শেখ মুজিব এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানান। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এর ব্যাখ্যা দেয়া হয়, এই ১৯৫ জনকে না ছাড়লে পাকিস্তানে আটকে পড়া হাজার হাজার বাংলাদেশিকে পাকিস্তান সরকার হত্যা করতো। সেই কালে আওয়ামী এই নাবালক যুক্তি মহামূর্খের কথার মতো শোনায়।

৩। ১৯৭৪ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত ইসলামী সম্মেলনে শেখ মুজিব ভুট্টোকে ‘আমার প্রিয় পুরনো বন্ধু’ বলে সম্বোধন করে তার গালে চুমু খেয়েছিলেন! তিনি ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এ প্রসঙ্গে ভারতীয় সাংবাদিক কুলদীপ নায়ারের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, অতীত আঁকড়ে থাকা ঠিক নয়। অতীতকে ভুলে গিয়ে সামনের দিকে তাকানো দরকার!! হায়রে মহানুভব শেখ মুজিব।

৪। আওয়ামী সরকার ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে জামায়াতের সাথে সমঝোতা করে সরকার গঠন করেছিল। ফলে নৈতিক এক্তিয়ারে এদের শাস্তি আওয়ামী লীগের হাতে হতে পারে না।

তাঁর জোর খাটিয়ে তৈরি করা উপপাদ্যগুলো নিয়ে অনেক বিশদে আলোচনা সম্ভব। আপাতত এখানে হালকা উত্তর করি-

এক। শেখ মুজিব একটা ভগ্ন দেশ পেয়েছিলেন। ফলে কিছু কিছু বিভ্রান্তি প্রাথমিকভাবে তাঁকে চেপে ধরে। তবে যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা তিনি কখনোই করেননি। তাঁর আমলেই একাত্তরে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে যারা সোচ্চার ছিল তাদের প্রায় ১০ হাজার লোকের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়। ১৯৭৫ সালে তাঁকে সপরিবারে খুন করার পর মেজর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার ভার নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের মুক্ত করে দেন; পুনর্বাসিত করেন। অথচ জিয়ার এসব গুরুতর অপরাধের দিকে চোখ ফেরান না বদরুদ্দিন উমর।

দুই। পাকিস্তানি ১৯৫ সেনা যুদ্ধাপরাধীকে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজন হয়েছিল কিছুটা আন্তর্জাতিক চাপে। আবার সেই সময় পাকিস্তানে আটকে পড়েন বাংলাদেশের অনেক সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা। এদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার দায় ছিল মুজিব সরকারের ওপর।

তিন। উপরে উপরে চুমু খাওয়া আর ডিপ্লোম্যাসিকে এতো গুরুত্ব দেয়ার কী প্রয়োজন? মার্কসবাদের তথাকথিত পোড় খাওয়া লেখক কুযুক্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চলছেন এক নাগাড়ে। শেখ মুজিব কোন কালে শুয়োর ভুট্টোকে চুমু খেতে বাধ্য হয়েছেন বলে যুদ্ধাপরাধীদের এখন বিচার করা যাবে না। বাহ্।

চার। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদেও আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গ এনেছিল। এই বিষয়ে কোনো কাজ শুরু হলে নানামুখী চাপ শুরু হয়। ইসলামিক দেশগুলো চাপ দেয়। দেশের ভেতরের তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা (যেমন মকসুদ, মজহার, উমর) নানা কন্সপিরাসি থিয়োরি বিড়বিড় করতে থাকেন। বলতে থাকেন, আরব দেশে শ্রমিক পাঠানো বন্ধ হয়ে যাবে; সরকার তার গলদ ঢাকতে এই যুদ্ধাপরাধীর শাস্তির প্রসঙ্গ এনে মোড় ঘোরাতে চাইছে; আওয়ামী সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে পারবে না কারণ মুজিব ভুট্টোকে চুমু খেয়েছেন। ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রপাগান্ডা চালানোর মতো বুদ্ধিজীবীর অভাব সেই সময়ে হয়নি। এখনো হচ্ছে না। ১৯৯৬ সালে দীর্ঘসময় পরে আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠন করে- এই কথাটাও মাথায় থাকা প্রয়োজন। গড়িমসি কিছুটা ছিল না সেটা নয়। সব মিলিয়ে সেই মেয়াদে এদের শাস্তি দেয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

এই কলামের চারটা উপপাদ্য কালের কণ্ঠ পত্রিকায় (সাত এপ্রিল ২০১০) ‘একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে’ শিরোনামের কলামে পূর্বেই উল্লেখ করেছিলেন। তখনো যুদ্ধাপরাধীদের হাজতে ভরা হয়নি। উল্লেখ করেন সেই কলামে –

… যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ৩৮ বছর পর শুরু করার এই চেষ্টার ফলে অনেক যুদ্ধাপরাধীই এখন আর জীবিত নেই। এ অবস্থায় হাজার হাজার যুদ্ধাপরাধী পাকড়াও করার চেষ্টার মধ্যে ব্যক্তিগত শত্রুতার ভূমিকা অগ্রাহ্য করার নয়। তা ছাড়া বয়সেরও একটা ব্যাপার আছে। দেখা যায়, এমন লোককে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে, যাদের অপরাধ করার বয়স সেই সময় ছিল না।… বর্তমান সরকার মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির সংকটে জর্জরিত। এ অবস্থায় তাদের জনপ্রিয়তা দ্রুত ও দারুণভাবে কমে আসছে। কাজেই অবস্থা দেখে এটাই মনে হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সরকারের আসল উদ্দেশ্য নয়। আসল উদ্দেশ্য হলো, এই বিচারের ধুয়া তুলে জনগণের দৃষ্টি তাদের আশু সমস্যাগুলো থেকে অন্যদিকে সরিয়ে রাখা।

তাঁর ভয় ছিল, এমন লোককে যুদ্ধাপরাধী করা হবে যাদের যুদ্ধাপরাধ করার বয়স হয়নি। জামায়াত প্রীতির আবরণে ঢেকে তিনি এসবে ভয় পান। যদি তরুণ সব শিবির নেতাকে হাজতে পোরা হয় তাহলে ভবিষ্যতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ভেঙ্গে খাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়বে। বদরুদ্দিন উমর সাহেবের তথাকথিত মার্কসবাদী জ্ঞানে এইসব তরুণ রগকাটা যুবকদের রাষ্ট্রের স্বার্থে প্রয়োজন। একটা সরকারের সফলতা ব্যর্থতা ঠিক করবে দেশের জনগণ। সরকার বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করতে পারছে না, সুতরাং যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা যাবে না- এই টাইপের ছাগু যুক্তি বদরুদ্দিন উমরের মারফতি জ্ঞান থেকে নব্য ছাগুরা পায়। পরে নানা জায়গায় লাদে।

একুশে জুলাইয়ের (২০১০) কলামে (‘একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে’)কিছুটা পরিবর্তন এসে গেছে কারণ পাখি তখন খাঁচায়।

… যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অনেক আগেই সম্পন্ন হওয়া দরকার ছিল সেটা না করে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারকে ধামাচাপা দিয়ে যারা দেশের জনগণের সঙ্গে বেঈমানি করে এসেছে, তারা হঠাৎ এমন কোন কারণে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে বিরাট তোলপাড় শুরু করেছে, এটা সাধারণভাবে অনেকের কাছে রহস্যজনক মনে হতে পারে। কিন্তু এর মধ্যে কোনো রহস্য নেই এবং রহস্য যে নেই, এটা বোঝার জন্যই সবার প্রয়োজন যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের পূর্বকীর্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়া। … এরা এখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে হঠাৎ করে যে মাত্রাতিরিক্ত দাপাদাপি ও মাতামাতি শুরু করেছে, যেভাবে ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে কাড়ানাকাড়া বাজাচ্ছে, তার কারণ বোঝা দরকার। আসলে এদের আঠারো মাসের নানা অপকর্মের ও জনবিরোধী কার্যকলাপের ফলে এদের পায়ের তলা থেকে মাটি খুব দ্রুত সরে যাচ্ছে। অন্যভাবে বলা চলে, এরা এখন সাঁতার না জানা লোকের মতো অগাধ পানিতে পড়ে খাবি খাচ্ছে এবং খড়কুটো ধরে বাঁচার চেষ্টা করছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মতো একটি বিষয়কে এরা এখন খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরেই নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করছে। শুধু তা-ই নয়, এ ব্যাপারে তাদের এখন এমন দিশেহারা এবং উন্মাদের মতো অবস্থা যে, তারা নিজেরা ছাড়া অন্য সবাইকেই তারা যুদ্ধাপরাধীদের সমগোত্রীয় বলে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানোর চেষ্টা করনেওয়ালা হিসেবে অপবাদ দিয়ে নিজেদের এই হঠাত্ উন্মাদনাকে জনগণের কাছে গ্রাহ্য করার চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে দেশে ও বিদেশে অবস্থিত তাদের চাকরবাকর বুদ্ধিজীবীরা সংবাদপত্রে কলাম লিখে এবং সভা-সমিতি করে আওয়ামী লীগের পক্ষে বাতাস গরম করছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের পায়ের তলা থেকে মাটি দ্রুত সরে যাচ্ছে। এরা এখন অগাধ পানিতে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে তারা যেভাবে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর চেষ্টা করছে, এটা তাদের রক্ষা করার ক্ষেত্রে কানাকড়ি অবদানও রাখবে না।…

এসব ত্যানা প্যাঁচানো কথা ব্যাখ্যার কোনো দরকার পড়ে না। নিজের বাচনেই স্বরূপ বুঝিয়ে দেয়।

উনত্রিশে জুন ২০১০ এ জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারী মোহাম্মাদ মুজাহিদ আর নায়েবে আমির দেলাওয়ার সাঈদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। কালের কণ্ঠে পহেলা জুলাই(২০১০) ছাপানো হয় উনত্রিশে জুন তারিখে (যুদ্ধাপরাধীদের হাজতে সান্ধানোর দিন) লিখিত উমরের কলাম ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে’। শেখ মজিবের সাধারণ ক্ষমা, ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ভারতের হাতে সমর্পণ, ভুট্টোকে চুমু খাওয়া, ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে জামায়াতের সাথে সমঝোতার প্রসঙ্গ আবারো উল্লেখ করেন। এই কলামে তাঁর মুখোশ খুলে যায়।

… প্রসঙ্গটি হলো, ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধ শুধু অবাঙালি ও পাকিস্তানপন্থীরাই করেনি। বাঙালিরাও তখন যুদ্ধাপরাধ করেছে। যুদ্ধাপরাধের অর্থ শুধু স্বাধীনতার সক্রিয় বিরোধিতা নয়। যুদ্ধের সময় নিরপরাধ ব্যক্তি এবং আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন করাও অপরাধ। এ কাজ তখন দুই পক্ষেই হয়েছিল। ১৯৭১ সালের মার্চ-এপ্রিলে অনেক অবাঙালি নিরাপরাধ নারী-শিশু-বৃদ্ধ ব্যক্তি বাঙালিদের হাতে নিষ্ঠুরভাবে নিহত হয়েছে। আমি নিজের চোখে এ হত্যাকাণ্ড দেখেছি মার্চ মাসের শেষদিকে। আমার আত্মজীবনী 'আমার জীবন'-এর তৃতীয় খণ্ডে আমি এর বর্ণনা দিয়েছি (জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ, পৃষ্ঠা : ১৭২-১৭৩)। এটা এমন ব্যাপার ছিল, যা গোপন বা অস্বীকার করার উপায় নেই।
'মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর' নামে একটি বই ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে 'প্রথমা' প্রকাশনী কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে। গোলাম মুরশিদ লিখিত বইটিতে এ বিষয়ের কিছু উল্লেখ আছে। এর থেকেও মনে হয়, অবাঙালিদেরও যে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা দরকার এবং তাদেরও যে ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে_এ চিন্তা মুক্তিযোদ্ধা নামে পরিচিত লোকদের ছিল না। এ জন্য হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে সে সময় বাঙালিরা এমনভাবে অনেক অবাঙালি নিধন করেছিল, ঠিক যেভাবে বাঙালি নিধন করেছিল অবাঙালি পাকিস্তানিরা। গোলাম মুরশিদ লিখেছেন, "আইন হাতে তুলে নেওয়ার একটি বড় রকমের দৃষ্টান্ত দেখা যায় ১৮ তারিখ মুক্তিযোদ্ধাদের এক সমাবেশে। এই সমাবেশে দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধারা দেশ গড়ার ব্যাপারে সবাইকে উৎসাহ দেন।...কিন্তু এই সমাবেশের পরেই হঠাৎ মুক্তিযোদ্ধারা চারজন 'দালাল'কে পেটাতে আরম্ভ করেন। বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিলেন কাদের সিদ্দিকী। তাঁকে নিয়ে গর্ব করতাম আমরা সবাই। সত্যিকার অর্থে তিনি যেভাবে নিজে একটি বিশাল মুক্তিবাহিনী গড়ে তোলেন, তা বিস্ময়ের ব্যাপার। যেভাবে যুদ্ধ করে তিনি টাঙ্গাইল অঞ্চল দখল করে রাখেন, তাও অবিশ্বাস্য। বস্তুত তিনি সবারই শ্রদ্ধা অর্জন করেন। কিন্তু ১৮ তারিখে 'দালাল' পেটানোর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনিই। শেষ পর্যন্ত তিনি বিদেশি টেলিভিশনের সামনে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে এই দালালদের হত্যা করেন" (মাঈদুল, ১৯৯২)। বলাবাহুল্য, আইন হাতে তুলে নেওয়ার এ দৃষ্টান্ত শ্রদ্ধার বস্তু ছিল না। বহু দেশেই এই ঘটনার ছবি দেখানো হয়। ফলে যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বসমাজের যে শুভেচ্ছা ও সহানুভূতি তৈরি হয়েছিল, তখন থেকেই তাতে ভাটা পড়তে আরম্ভ করে (পৃষ্ঠা: ১৭৬-'৭৭)। 'কাদের সিদ্দিকী বেয়োনেট দিয়ে এক দালালকে হত্যা করতে যাচ্ছেন'_এই শিরোনামে একটি ছবিও এতে ছাপানো হয়েছে; যাতে দেখা যাচ্ছে কাদের সিদ্দিকী বেয়োনেট দিয়ে একজনকে হত্যা করে আর একজনকে হত্যা করছেন।

এই অবাঙালি নিধনের জন্য যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বাঙালিদের কারো কোনো বিচার হবে এমন চিন্তা বাংলাদেশে দেশদ্রোহিতার শামিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও এর উল্লেখ করা হলো এ কারণে যে এর মধ্যে দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাদের একটা বড় অংশের উগ্র জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিস্ট চরিত্রের প্রতিফলন ঘটে, যে চরিত্র কোনো মতেই প্রশংসাযোগ্য নয়।

হায়রে টাইগার সিদ্দিকী। যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে ইদানীং তিনি সংবাদ সম্মেলন করছেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের কয়েকজনকে ফাঁসি দেয়ার সময়কালে কাদের সিদ্দিকী বলেছেন ‘কয়েকজনকে ফাঁসি দিলেই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শেষ হবে না’। তাঁর আরো যুক্তি ছিল, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা না করলে প্রকৃত বিচার হবে না। কাদের সিদ্দিকীর চশমায় দুনিয়া দেখলে আর চলে না। শাস্তি দেয়ার কাজ শুরু করতে হবে, সবাইকে একসাথে জড়ো করে শাস্তি দেয়ার তুঘলকি শুরুর আবদার করলে এই ফাঁকে বুড়ো ষাঁড় বরাহ সবাই এক এক করে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করতে শুরু করবে। শাস্তি তাঁদের কপালে জুটবে না। মিডিয়া ভাঁড়ে পরিণত হয়ে কাদের সিদ্দিকী এক অর্থে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানকে খাটো করে চলছেন নিয়মিত।

ক্রিটিক্যাল মানবতাবাদী হিসেবে উমর মকসুদ আসিফ ফরহাদ গং-এর ভূমিকা দেখা মিলছে ইদানীং। ত্রিশ লক্ষ লোকের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা বিচ্ছিন্ন কিছু বিহারি হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পর্কিত করা এক ধরণের ক্লিশে কাজ। এই সূত্র অনেকবার ব্যবহার হয়ে গেছে। বিহারিদের একটা বিরাট অংশ রাজাকার আলবদরদের সাথে মিশে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষদের নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। ফলে দেশদ্রোহীদের হত্যা করায় বা সেটা সমর্থন না করে ক্রিটিক্যাল মানবতাবাদী সাজা সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজ নয়। কারণ তখন দেশ জ্বলছে, স্ত্রী বা মা বা বোন ধর্ষিত বা শহীদ, পিতা বা ভাই শহীদ।

তাঁর সাম্প্রতিক কলামে (‘পাকিস্তানে বন্যা ও মানবিক সাহায্য প্রসঙ্গ’- সমকাল, দশ আগস্ট,২০১০) এই পাকিস্তান প্রীতি খোলনলচে অবিকৃত রেখে সামনে আসে।

… বিশেষ করে বিস্ময়কর দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর আচরণ। ভারত পাকিস্তানের শুধু নিকট প্রতিবেশীই নয়, হাজারো ঐতিহাসিক সূত্রে এ দুই দেশের জনগণ সম্পর্কিত। এ সম্পর্ক সরকারি দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষের দ্বারা ছিন্ন হওয়ার নয়। কিন্তু পাকিস্তানের এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ভারতের সরকার অথবা কোনো রাজনৈতিক দল অথবা অন্য কেউই এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করছে না। বাংলাদেশের অবস্থা একই প্রকার। পাকিস্তানের শাসকশ্রেণী এ অঞ্চলের জনগণের ওপর অনেক শোষণ-নির্যাতন করেছে, ১৯৭১ সালে তারা এখানে গণহত্যা করেছে তার জন্য এখানকার সরকার ও সরকারের দ্বারা উদ্বুদ্ধ লোকেরা শুধু পাকিস্তান সরকার বা তাদের সেনাবাহিনী নয়, সেখানকার গরিব জনগণকেও শত্রু মনে করে তাদের বিরুদ্ধে এমন বিদ্বেষভাব ধারণ করে আছে যাতে তাদের দুঃখ-দুর্দশার প্রতি কোনো মানবিক বিবেচনা এদের নেই। এ কারণে পাকিস্তানে এখন যে বন্যা পরিস্থিতি ও দুর্যোগ দেখা দিয়েছে, সেদিকে তাকানোর মতো দৃষ্টিভঙ্গি এদের নেই। পুঁজিবাদী এবং নিকৃষ্ট পুঁজিবাদী চিন্তা-ভাবনাই যে এর আসল কারণ, এতে সন্দেহ নেই।

এই পুঁজিবাদী সমাজে থেকে পত্রিকায় কলাম লিখে সেই পয়সা ঠিক সময়ে আদায় করেন বদরুদ্দিন উমরেরা। আর লেখায় আনেন মানবতা।

আরেক সেলিব্রেটি কলাম লেখক দেঁতো হাসি আবদুল গাফফার চৌধুরী (বিশ জুলাই ২০১০- কালের কণ্ঠ) বদরুদ্দিন উমরকে আখ্যা দিয়েছেন একাত্তরের রাজাকার-আলবদরদের নয়া স্পোকসম্যান হিসেবে। নামটাও খানিক বদলে দিয়েছেন আলবদর-উদ্দীন উমর। উমর সাহেবের, গাফফার বাবুর মতে, আওয়ামী ফোবিয়া এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে প্যাথলজিক্যাল হেট্রেডে ভুগে ভুগে অবস্থা এমন হয়েছে যে, নিজের মনগড়া মিথ্যাকেই তিনি একমাত্র সত্য মনে করেন। একাত্তরে বাঙালিরাও যুদ্ধাপরাধ করেছে- এই বাণীর বিপরীতে তুলোধুনো করা যায় ইচ্ছামতো। গাফফার সাহেব সেদিকে কসুর করেননি। কালের কণ্ঠে বদরুদ্দিন উমরের লেখার পাশাপাশি গাফফার চৌধুরির প্রতিক্রিয়ামূলক কলাম এবং আরো দুইটি লেখা প্রকাশিত হয়। অবশ্য গাফফার চৌধুরির প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে বদরুদ্দিন উমর মুখ খোলেননি। একটু উল্লেখ করি, প্রথম আলোতে সৈয়দ আবুল মকসুদ আর আসিফ নজরুলের জামায়াতের ভাড়া খাটা কলামের বিপরীত প্রতিক্রিয়া এই পর্যন্ত তারা ছাপানোর প্রয়োজন মনে করেনি।

পরের পর্বে ভাবান্দোলক ফরহাদ মজহার।

--

যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী।।২।।


মন্তব্য

বিপ্লব কুমার কর্মকার এর ছবি

১।
ইরানের খাতামি ফতোয়া দিয়েছিল রুশদির মৃত্যুদন্ড,
সিলেটের হাবীবুর ফতোয়া দিয়েছিল তসলিমার শিরোচ্ছেদ
কোন এক অজপাড়াগাঁয়ের এই অধম ফতোয়াবাজ ফতোয়া দিচ্ছে যে,
’৭১ এ আমাদের বুদ্ধিজীবীদের নির্যাতন কেমন ছিল- তা বোঝানোর জন্য আসিফ নজরুল,মকসুদ,উমর,ফরহাদ প্রমুখ বুদ্ধিজীবীদের মোহাম্মদপুরের সেই ফিজিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে নিয়ে একটি “ডলা” দিতে হবে ।

২।শেখ হাসিনা মতিউর রহমান রেন্টু নামে এক মুক্তিযোদ্ধাকে গৃহভৃত্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে পুরস্কার পেয়েছিলেন ”আমার ফাঁসি চাই” নামে একটি বই। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তানের মত স্নেহ পাওয়া আসিফ নজ্রুলও হয়ত জাহানারা ইমাম বেঁচে থাকলে এরকমই একটি বই লিখে তার প্রতিদান দিতেন।

৩।সবাই জানেন তবুও বলছি সিরাজকে ছুরিকাঘাতে হত্যাকারী অনাথ মোহাম্মদী বেগকে ছোটবেলায় লালন পালন করেন সিরাজের মা।

বিপ্লব কুমার কর্মকার

লীন [অতিথি] এর ছবি

হা হা হা হা । হাস্যকর লজিক গুলা আলবদর উদ্দীন সাহেব কিভাবে দিলেন? একটু লজ্জা করলো না!? সবচাইতে মজার ছিল বন্যার প্রসঙ্গটা। অনেক ধন্যবাদ লেখা টার জন্য।

একটা প্রশ্ন ছিল (উত্তর টা আমার জানা নেই বলে প্রশ্ন টা করতে একটু লজ্জা পাছ্ছি), ১৯৯৬ এ লীগ কি সমোঝোতা করেছিল জামাত এর সাথে?

হিমু এর ছবি

রাজাকারদের বিচার করতে কি এক্সট্রা বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস লাগছে? রাজাকারদের বিচার তো আর সার কারখানায় হচ্ছে না।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

ডিম সিদ্ধ করতে পানি,গ্যাস দুইটাই লাগে
___________________________
Any day now, any day now,
I shall be released.


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

কুলদা রায় এর ছবি

দাদা, বদরুদ্দিন উমরের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ঠিকুজিটা দিলে ভাল লাগত। লেখাটা তার সাম্প্রতিক কলাম নিয়ে হয়ে গেল।
আশ মিটে না।
...............................................................................................
'এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর'

...............................................................................................
'এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর'

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

ডিটেইলে যাওয়া যেত। ষষ্ঠ পাণ্ডব আর মোরশেদ ভাই কিছুটা বলেছেন।

মৌলবী আবুল কাশেমের নাতি আর আবুল হাশিমের ছেলে হয়েও রাজনীতিতে পাত্তা পান নাই- এই ক্ষোভ তাঁকে এই বৃদ্ধ বয়সেও তাড়িয়ে বেড়ায়।

---------------------------------------------------------------
অভ্র আমার ওংকার

অতিথি লেখক এর ছবি

- হে হে হে... বেশ মজা পাইলাম। তবে পত্রিকা গুলোর উচিত এই আলবদর সাহেবরে টেকা না দিয়ে আমগো বিখ্যাত রাসেল ভাইডিরে টেকা দেয়া। ডটু সাহেব কম টাকায় এর চেয়ে ভাল লেখা লিখতে পারবে।

- আর একটা দাবি জানাচ্ছিঃ বদর উদ্দিন উমরকে জামায়াতে ইস্লামি কম্যুনিস্ট পার্টির প্রধান করা হোক।

অনন্ত

হিমু এর ছবি
মনমাঝি [অতিথি] এর ছবি

শুভাশীষ, বরবাদ মজহারের উপর পর্বটা একটু বিশদে লিখবেন প্লিজ। অনেক মজার উপাদান আছে দেঁতো হাসি দরকার হলে তার পুরনো লেখাগুলি ঘেটে দেখতে পারেন। বিশেষ করে ডাফফার চৌ-এর সাথে তার লাগালাগির লেখাগুলি যদি পান। আপনার আগের এক লেখার মন্তব্যে একজন বলেছিলেন পুরনো লেখাগুলি তার সংরহে আছে। দরকার হলে তার থেকে চেয়ে নিতে পারেন।
৫ম পর্বের ক্যান্ডিডেট হিসেবে আরেকটা নাম দেই - সাবেক সচিব আসফদ্দৌলা। এই আরেকটা চিড়িয়া।

আর হ্যাঁ, এই পচা শামুক আর রদ্দি মালগুলির পিছনে খুব বেশি সময় নষ্ট না করে সাবস্টেনশিয়াল কোন বিষয় ধরুন আবার। ছফাগিরিতো ভালোই চলছিল, বাদ দিলেন কেন ? ওটা যদি শেষ হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে আরেকটি নাম দেই যার বিষয়ে মনে হয় এখনো খুব বেশি কিছু লেখা হয়নি, অথচ আমার মতে এমন লেখক বোধহয় বাংলাদেশে আর দ্বিতীয়টি জন্মায় নি। হ্যাঁ, সত্যেন সেন। এই অসামান্য মানুষটি সম্পর্কে আবারো সবাইকে মনে করিয়ে দেওয়া, আগ্রহী করে তোলা খুবই জরুরি বলে মনে করি। সত্যেন সেনের লেখা পড়েছেন তো ? না পড়ে থাকলে বলবো দারুন ঠকে গেছেন। এখুনি পড়ে নিন। সবগুলি। বাংলা একাডেমি বোধহয় তার রচনা-সমগ্র বের করেছে।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী সিরিজের জন্য পুরানো লেখার দিকে বেশি যাচ্ছি না।

সত্যেন সেন সমগ্র পড়া হয়নি। গোটা পাঁচেক বই পড়েছি। উনার ব্যাপারে আমার আগ্রহ আছে।

ছফাগিরি কিছুদিন পর আপাবো। এই সিরিজ আরো অনেকদূর আগাবে।

----------------------------------------------------------------
অভ্র আমার ওংকার

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

ত্রিশ লক্ষ লোকের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা বিচ্ছিন্ন কিছু বিহারি হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পর্কিত করা এক ধরণের ক্লিশে কাজ।

হত্যার সাথে হত্যার বর্বর তুলনা করে মানবতাবাদী হওয়া যায় কি? উমরের মার্ক্সিস্ট ডায়ালেক্টিকের বোঝাপড়া দেখে বিস্মিত হইলাম।

সেই সময় পাকিস্তানে আটকে পড়েন বাংলাদেশের অনেক সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা।

- এই বিষয়ে আমি আরেকটা লিখা লিখতেসি। তবে আরেকটু জানতে হবে।

___________________________
Any day now, any day now,
I shall be released.


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

হ্যাঁ, লিখে ফেলেন।

---------------------------------------------------------------
অভ্র আমার ওংকার

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

আবুল হাশিম এক হিসাবে রাজনীতিতে সোহরাওয়ার্দীদের সিনিয়র। সেই হিসাবে তাঁর পুত্র রাজনীতিতে শেখ মুজিবদের চেয়ে উচ্চ আসন পাবেন এমনটা হয়তো আশা ছিল। কিন্তু ঐসময়ের রাজনীতি তো এখনকার মত পরিবারতান্ত্রিকতার রূপ পায়নি, আর বাংলা ভাগ হয়ে যাওয়ায় আবুল হাশিমও কোনঠাসা ছিলেন। তাই এই ঘটনাটি আর ঘটেনি। প্রশ্ন করতে পারেন এমন ভাবার ভিত্তি কী? ভাবার ভিত্তিটা হচ্ছে কারণে-অকারণে আওয়ামী বিদ্বেষ। আওয়ামী লীগকে দুধে ধোয়া ভাবার কোনো কারণ নেই। তবু তার ভালো কাজগুলোকেও নাকচ করার কোনো কারণ নেই। সেই নাকচ করার সূত্র ধরে মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন বা তাদের সমর্থন দেবারও কোনো কারণ থাকতে পারেনা।

অটঃ বাংলাদেশে অনেকেই বদরুদ্দীন উমরের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণকে বিশেষতঃ মার্কসবাদ প্রসঙ্গে তার ব্যাখ্যাগুলোকে বেশ গুরুত্ব দেন। তারা এমনকি দেশের রাজনীতি প্রসঙ্গে বদরুদ্দীন উমরের চিন্তা-ভাবনাগুলোকে গুরুত্ব দেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে জনাব উমর মার্কসবাদ বিষয়ক ও দেশের রাজনীতি বিষয়ক তার এই সব থিয়োরী কোথায় পরীক্ষা-নীরিক্ষা করেন। তার সংগঠন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন বা গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোট কোথায় কোথায় এই তত্ত্বগুলো প্রয়োগ করে কী কী ফল পেয়েছে? আমি দীর্ঘদিন ধরে তাদের মুখপত্রগুলো পড়ে বা তাদের কর্মীদের সাথে কথা বলে এমন কিছু জানতে পারিনি। কেউ কি এই ব্যাপারে আলোকপাত করতে পারেন?



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

কিছু প্রান্তিক (আঞ্চলিক) কর্মকাণ্ড পেলাম। যেমন এটা। নীতিগতভাবে তারা জাতীয়তাবাদী পলিটিক্স করে না বলেই জানি।
___________________________
Any day now, any day now,
I shall be released.


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

সুমন চৌধুরী এর ছবি
শুভাশীষ দাশ এর ছবি

---------------------------------------------------------------
অভ্র আমার ওংকার

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

মানিক চন্দ্র দাস এর ছবি

বদর তো দেখি বিকিনি পড়া জামাত।

আসিফ [অতিথি] এর ছবি

ইতিহাসের একটা বড় শিক্ষা হলো, ইতিহাস কাউকে ছাড়েনা সে যত বড়ই হোক না কেন। আল মাহমুদ বা বদরুদ্দিন উমর বাংলা সাহিত্য বা চিন্তার জগতে কিছুটা হলেও স্থান করে নিতে পেরেছিলেন তাদের পূর্বেকার কর্ম দিয়ে, ধারণা করি। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের চিন্তাজগত ভালোই বিবর্তিত হয়েছে।

ইতিহাস হয়তো শুভাশীষ দাশকেও ছাড়বে না, যদি তিনি তেমন বড় হন কাল পরিক্রমায়।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আল মাহমুদ বা বদরুদ্দিন উমর এরা নিজের নিজের কাজ করেছেন। কিন্তু দেশ নিয়ে এদের চিন্তা গোড়া থেকেই বেশ বিভ্রান্তির মধ্যে।

--------------------------------------------------------------
অভ্র আমার ওংকার

অতিথি লেখক এর ছবি

বদরুদ্দীন উমরের আওয়ামী লীগ ও মুজিবের প্রতি গাত্রদাহের কারণ পষ্ট হলনা। আনাড়ি পাঠকের জন্য এ সম্পর্কে আরেকটু আলোকপাত করা যায় কী?

অদ্রোহ।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

শেখ মুজিবের প্রতি বদরুদ্দীন উমরের ব্যক্তিগত অসূয়ার কারন যথেষ্ট আছে।
শেখ মুজিব ছিলেন গোপালগঞ্জ থেকে কলকাতায় পড়তে যাওয়া মধ্যবিত্ত বাঙ্গাল কৃষকের সন্তান। তার আগে পিছে কোন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতি, পারিবারিক তকম লাগানো ছিলোনা।
ব্যক্তিগত দক্ষতায় কলকাতায় গিয়ে তিনি তখনকার মুসলীম লীগের অন্যতম নেতা সোহরাওয়ার্দীর প্রীতিভাজন হয়ে উঠতে সক্ষম হন। বদরুদ্দীন উমরের পিতা আবুল হাশিম তখন বঙ্গীয় মুসলিম লীগের সাধারন সম্পাদক।

পরবর্তীতে দেখা গেলো মুখ্যমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী কিংবা মুসলীম লীগের সাধারন সম্পাদক আবুল হাশিমের মতো হেভীওয়েটের এলিট বাচ্চা-কাচ্চাদের সহস্রযোজন পেছনে ফেলে কোথাকার কোন বাঙ্গাল কৃষকের পোলা হয়ে উঠলো বাংলার অবিসংবাদিত নেতা।
মানা যায়? ব্যথাটা টের পাওয়া যায়?

হ্যাঁ, টের পাওয়া যায়- গর্তে এক পা রেখেও অবিরাম বদরুদ্দীন উমরের মুজিবনিন্দা আর '৭১ ও '৭১ এর পরে সোহরাওয়ার্দী কন্যা বেগম আখতার সোলায়মান এর বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকান্ডে।

মুজিবের প্রতি বদরুদ্দীন উমরের এই আচরনকে তার শ্রেনীতত্ব দিয়েই ব্যখ্যা করা সম্ভব।

আর বিহারী হত্যা প্রসঙ্গে একটা ফয়সালা হওয়া দরকার। বিহারীরা কখনোই নিরীহ, নিরস্ত্র ছিলোনা। ২৫শে মার্চ রাত থেকে ১৬ ডিসেম্বর বিকেল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধকে সীমাবদ্ধ করা আরেকটা ধান্দাবাজি।
১লা মার্চ থেকে ২৫শে মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও বিহারীদের আক্রমনে অন্ততঃ হাজারখানেক বাঙ্গালী নিহত হয়েছেন সারাদেশে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষনে উল্লেখ দেখুন- 'রক্তের দাগ এখনো শুকায় নাই'। গনহত্যার শুরু মুলতঃ মার্চের প্রথম থেকেই।
মীরপুরে বিহারীদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ করতে হয়েছে জানুয়ারী পর্যন্ত। বিহারীদের একটা বিশাল বাহিনী বিপুল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পার্বত্য চট্রগ্রাম দখল রেখেছিলো ১৬ ডিসেম্বরের পরে এদের দমনের জন্য বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক ব্রিগেড সৈন্য থেকে গিয়েছিলো জুন '৭২ পর্যন্ত।

যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গে আলোচনায় বিহারীদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শনের ধান্দাবাজি বন্ধ হোক।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

জাহামজেদ এর ছবি

আবুল হাসিমের ছেলে হয়ে যখন নিজে কোনো আবাল হতে পারেননি তখন আল বদর উদ্দিন উমরের নিজের ভিতরে অনেক জ্বালা থাকতে পারে। পরবর্তীকালে তারেক রহমানকে যখন আল বদর উদ্দিন উমর দেখেছেন, জিয়ার ছেলে হওয়ার সুবিধাটা তারেক কিভাবে কড়ায় গন্ডায় উসূল করেছে, তখন তার দুঃখটা হয়তো আরো বেড়ে গেছে। সেই দুঃখ আর জ্বালা মেটানোর জন্য তো একটা জায়গার দরকার। তাই তিনি লিখেন,

১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধ শুধু অবাঙালি ও পাকিস্তানপন্থীরাই করেনি। বাঙালিরাও তখন যুদ্ধাপরাধ করেছে।

আল বদর উদ্দিন উমর, গাফফার চৌধুরীকে এমন মজাদার একটি নামকরণের জন্য ধন্যবাদ।

লেখককেও অশেষ ধন্যবাদ।

.............................................................................
বৃষ্টির মধ্যে রোদ হয়ে তুই
পাতার গায়ে নাচ
কষ্টের রঙে সুখ হয়ে তুই
আমার মাঝে বাঁচ...

__________________________________
মরণের পরপারে বড় অন্ধকার
এইসব আলো প্রেম ও নির্জনতার মতো
__________________________________

একুশ তাপাদার [অতিথি] এর ছবি

৭১ এ মুক্তিযুদ্ধকে বদরুদ্দিন উমর ও কমরেড তোহা নাকি বলেছিলেন- "দু কুত্তার কামড়াকামড়ি "

তো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ইত্যাকার ইস্যুতে ইনার অবস্থান এরকম হবে এটা খুব অস্বাভাবিক না । এদের গতিপথ লক্ষ্য করা দরকার। ভালো পোষ্ট দিছেন । একাত্তরে উনার ভূমিকা নিয়ে একটু আলোকপাত করলে ভালো হইতো ।

শুধু ইনি না , মজহার ঘরানার কিছু বামপন্থী এরকম নানা - ছল ছাতুরী করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন ফেইসবুক সহ বিভিন্ন মাধ্যমে । এদেরকে সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে ।

মূর্তালা রামাত এর ছবি

এইসব কথিত বুদ্ধিজীবীরা ইনিয়ে বিনিয়ে আসলে কী বলতে চান তা খোলাসা করার সময় এসেছে....আওয়ামী লীগ বিরোধীতার নামে তারাতো আসলে ৭১ এরই বিরোধীতা করছেন!!! লেখককে দন্যবাদ এটি তুলে ধরার জন্য।

মূর্তালা রামাত

হিমু এর ছবি
সচল জাহিদ এর ছবি

ভাল বিশ্লেষণ, অনেক খাটাখাটনি করছিস। চলুক।

---------------------------------------------------------------------------
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট
কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

-----------------------------------------------------------
অভ্র আমার ওংকার

কুলদা রায় এর ছবি

বরিশালের স্বরূপকাঠিতে এক সময প্রতিদিন যেতে হত। এই উপজেলার সন্ধ্যা নদীর পূবপাড়ে সমুদয়কাঠি, জলাবাড়ি, কুড়িয়ানা এবং স্বরূপকাঠি ইউনিয়ন অবস্থিত। কুড়িয়ানা ও জলাবাড়িতে বিখ্যাত পেয়ারা বাগান অবস্থিত।
auto

এই বাগানে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি ছিল। এখানে পাকবাহিনীর সঙ্গে বেশ কয়েকটি যুদ্ধ হয়েছিল। এই এলাকায় সর্বহারা পার্টি আছে। এরা রাইতা পার্টি। এদের কাজ হল--পেয়ারা বাগান থেকে চাঁদা তোলা। আর বিএনপির এমপি শহিদুল হক জামালের হয়ে ভাড়া খাটা। শহিদুল হক এমপি তারেক রহমানদের লঞ্চ ব্যবসার দেকভাল করত।
সেহাঙ্গলের মোড়ে একটি সাইনবোর্ড--পরিমলের রাজত্ব। তিনি তখন জীবিত সর্বহারা নেতা। তার কথা ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না। এই সাইনবোর্ডের কাছেই একটি নারিকেল গাছে একটি পোস্টার দেখলাম--ঢাকায় কি এক কনভেনশন হচ্ছে--তার প্রধান বক্তা বদরুদ্দিন উমর।
এক পেয়ারা চাষী আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন--এই উমর লোকটা কেডায়? আফগানিস্তান থেইকা আইছে নাকি?
উমরের পোস্টার তখন বরিশালের অন্য কোথাও দেখি নি। দেখেছিলাম--শুধু পরিমলের রাজত্বে। যেদিন পরিমল গুলি খেল--রাস্তার পরে পড়েছিল তার মরা দেহ, তখন লোকজন উল্লাস ভরে দেখতে এসেছিল মৃতদেহটিকে। এক বুড়ি তার নুনুটিকে ঝামটি গাছের ডাল দিয়ে বাড়ি মেরেছিল। তার মেয়েটির সম্ভ্রম গিয়েছিল এই সর্বহারা নুনুটির দ্বারা।
এই দৃশ্যটি আমায় দেখতে হয়েছিল।

...............................................................................................
'এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর'

...............................................................................................
'এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর'

নৈষাদ এর ছবি

শুভাশীষ, সিরিজটা চমৎকার হচ্ছে। লেখার পিছনে আপনার শ্রমের ছাপটুকু দেখেও ভাল লাগল।

ইম্পেক্ট যেমনই হোক, আপনার পরের পর্বে ভদ্রলোক কিন্তু একটা ‘জিনিস’ (যদিও তার লেখা পড়িনা)। আপনার বিশ্লেষণের অপেক্ষায় রইলাম।

পুতুল এর ছবি

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

নৈষাদ এর ছবি

রণদীপম বসু এর ছবি

বদরুদ্দিন উমরকে আমরাই হয়তো একসময় একটু বেশিই গুরুত্ব দিয়েছিলাম তার গবেষণামূলক কাজগুলোর জন্যে। তখন তা যাচাই করার উপায় থাকলেও আমাদের হয়তো সেই শ্রম ও নিষ্ঠা ব্যয়ের সময় ছিলো না। বরং অন্যদের কাজকে উমরে সাথে মিলিয়ে নেয়ার একটা প্রবণতা ছিলো হয়তো। কিন্তু তাঁর বর্তমান যুদ্ধাপরাধ-বান্ধব কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে তার পুরনো কাজগুলোও এখন যাচাই-বাছাই করে নেয়া প্রয়োজন।

তবে তিনি বরাবরই একজন তাত্ত্বিক হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু তাঁর তত্ত্ব আসলে কতোটা বাস্তবধর্মী ? দিনে দিনে সন্দেহ বাড়তেই থাকবে।

আপনার সিরিজ চলুক---

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

পুতুল এর ছবি

পূর্বইউরুপে সমাজতন্ত্রের পতনের একটা বিশ্লেষণ পরেছিলাম বোদারুদ্দীন উমরের। এমন বাস্তবতা বিবর্জিত জনবিচ্ছিন্ন বিশ্লেন করে করেই এই শ্রেণীর বিপ্লবিরা সমাজ পরিবর্তন করে।
যেহেতু আমারটাই সঠিক আর সব ভুল। কাজেই তাদের দলে (বাম শিবির) সবাই সঠিক এবং সংগত কারণে প্রত্যাকের একটা সঠিক দল আছে। তৃমত পোষণকারী কিন্তু সঠিক পথের দিশারীদের নির্দেশনায় আজকের বামপন্থী আন্দোলনের এই বেহাল অবস্থা।
বেলাশেষে ভীমরতির বেলাভূমিতে আটকেপড়া এই সব বোয়াল মাছেরা শেষ চাটি দিচ্ছে।
আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার ব্যার্থতা বিফলতার অন্ত নেই। তাদের সমালোচনা করে সেই ভুল এবং ব্যার্থতাগুলো ধরিয়ে দেয়া যে কোন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কর্তুব্য। কিন্তু যুদ্ধাপরাধী বা মানবতার বিরোদ্ধে আপরাধ করার অভিযোগে বিচার প্রকৃয়া, কেন তাদের অন্য ব্যার্থতার দায়ে ঢাকা পড়বে! আমার বিবেচনায় সরকার এখানে যথেষ্ট গড়িমসি করছে। বিচার প্রকৃয়ায় আরো গতি আসা দরকার। আমাদের উচিৎ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য সরকারকে আরো চাপ দেয়া।
কিন্তু আল বদরুদ্দীন উমররা ব্যাপারটা এমন ভাবে ব্যাখ্যা করেণ যে, যুদ্ধাপরাধের চাইতে আরো জরুরী অনেক কাম কাইজ আছে। কাজেই সেগুলিই করো। যুদ্ধপরাধের বিচার বাদ দাও।

আপনার এই লেখাটা না পড়লে বদরুদ্দীন উমরের ভীমরতিটা জানতে পারতাম না। আশা করি মগ(বাজার) মাজহারের আমল নামা আর একটু বিস্তারিত হবে।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

---------------------------------------------------------------
অভ্র আমার ওংকার

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাই, ভাল লেখা... কি আর বলবো! এদের নিয়ে কিছু বলার নেই!

--- থাবা বাবা!

মাহবুবুল হক এর ছবি

শুভাশীষ, চমৎকার হচ্ছে। দীর্ঘদিন অপেক্ষায় ছিলাম এমন একটি সিরিজের জন্য । আমি নিজে তলের খবর খুব বেশি জানি না, তবে এসব মুখোশধারীদের চিনি। যারা আরো কোন তথ্য জানেন তারা সাথে যোগ করে দিতে পারেন। সবাই মিলে একটা ভালো জিনিস দাঁড়িয়ে যাক।
--------------------------------------------------------
দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে লিখি কথা
আমি তো বেকার পেয়েছি লেখার স্বাধীনতা

--------------------------------------------------------
দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে/ লিখি কথা ।
আমি যে বেকার, পেয়েছি লেখার/ স্বাধীনতা ।।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।