দক্ষিনের জানলায়: ফিরে যাবার আগে ০২

তানিম এহসান এর ছবি
লিখেছেন তানিম এহসান [অতিথি] (তারিখ: বুধ, ১৯/০৯/২০১২ - ৩:১০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

২০০৮ সাল, ২১ শে জুলাই, সড়কপথে জীবনে প্রথমবারের মত বরিশাল যাত্রা করলাম, ভোর থেকে বৃষ্টি। সফরসঙ্গী দুইজন, দুজনই সরকারী মানুষ, তাদের মধ্যে একজন যে আমাদের জাহাঙ্গীরনগরের ‘রাঙা ভাই’ তা জানা ছিলোনা। গাড়ী নিয়ে দাঁড়িয়েছি তার বাসার সামনে, তিনি বের হলেন, বহুবছর পর সেই চেহারা, কিসের ফর্মালিটি কিসের কি, ‘রাঙা ভাইইইইই! তুমিইই!’-- ঝপ করে গাড়ী থেকে নেমে তাকে ধরেই উপরে তুলে ফেললাম খুশীতে -- পুরো সফরটাই পাল্টে গেলো আমাদের। আরেক সফরসঙ্গী জুলফিকার ভাই এর বাড়ী জামালপুর, দারুণ মানুষ। বাঙালীর আত্মীয়তা খুঁজে বের করতে সময় লাগেনা, কোনভাবেই-না তবুও লতায়-পাতায় আত্মীয় আমরা...

ফরিদপুর যাওয়া হয়েছে প্রচুর, সেখানেই দুপুরের খাবার খেলাম। ফরিদপুর শহরকে পেছনে রেখে গাড়ী যখন চলতে শুরু করলো ততক্ষণে আমার ঘুম পেয়েছে। ঘুম ভাঙলো ‘ভাঙা’ বলে একটা জায়গায়, ‘রেইনবো’ ছেড়ে কবির ভাই চলে যাবার পর মুরাদ ভাই আর ভাবী মিলে রেইনবো ধরে রেখেছেন, মুরাদ ভাইদের বাড়ী ভাঙা -- মনে পড়লো।

জায়গার নাম আমাকে সবসময় আকৃষ্ট করে, নামকরণ এর মাহাত্ম্য জানতে ইচ্ছে করে। যেতে যেতে আমি জায়গার নাম খুঁজি, কোন নাম পছন্দ হয়ে গেলে জানতে চেষ্টা করি এই নাম কিভাবে রাখা হলো। তিনদিনের খুব টাইট শিডিউল, নাম নিয়ে এত বিলাসিতা করার উপায় নেই। গাড়ী চলতে থাকে, চালক রাজ্জাক ভাই এর বয়স অনেক, গানের দারুণ সমঝদার মানুষ, প্রচুর কালেকশন গাড়ীতে, গান বাজে...

দিগনগর বলে এক জায়গায় দেখলাম মুক্তিযুদ্ধের সময় ভয়াবহ যুদ্ধ হয়েছিলো তার বর্ণনা দিয়ে একটা ছোট ফলক জীর্ণ-শীর্ণ হয়ে ঘুমিয়ে আছে। জায়গার নাম চোখে পড়ে- টেকেরহাট, ঘটকচর, মোস্তফাপুর (সবাই বলে মোস্তাপুর), বাটাজোর, মাহিলারা... মাহিলারা পৌঁছুতেই তুমুল বৃষ্টি, আমি প্রথমবার কিছুটা হলেও টের পেলাম উপকূলের সৌন্দর্য আর তার অনন্যতা ...

বাংলাদেশে বাকি সব জায়গায় বৃষ্টিতে সবুজে থাকা ধুলাবালি ধুয়ে-মুছে যায় বলে খুব সুন্দর লাগে, কিন্তু উপকূলে সবুজ সবসময় প্রফুল্ল বলে বৃষ্টিতে সেই প্রফুল্লতায় একটা প্রগাঢ় এবং গভীর ভাব আসে; পাশাপাশি সব গাছের সাথেই পুকুর, ডোবা কিংবা জলাধার থাকে বলে সেখানে একটা দ্বি-মুখী প্রতিফলন ঘটে, সবুজের প্রতিবিম্ব যেমন জলে পড়ে তেমনি জলের একটা নির্মিলিত ছায়া সবুজের চারপাশ ঘিরে রাখে -- যে ক্যানভাস তৈরি হয় তাতে আলো-আঁধার একটা বহুমাত্রিক পরিসর তৈরি করে ফেলে তাই একসময় সব কথা হারিয়ে যায়, শুধু বেঁচে থাকে উপলব্ধি...

বরিশাল এর খুব কাছাকাছি একটা জায়গার নাম জয়শ্রী, তারপর ব্রিজ এর এপ্রোচ রোড দারুণ মসৃণ। জয়শ্রী নামটা’র সাথে ‘বিমূর্ত এই রাত্রি আমার’ গানটা জড়িত, শৈশবে দেখা জয়শ্রী কবির এর তিমির-স্নিগ্ধ মুখ মনে পড়ে। এরপর পরপর দুইটা ব্রিজ, ‘সন্ধ্যা’ নদী একই জনপদকে বিভক্ত করেছে দুইবার দুইভাবে, একপাশে তার নাম দোয়ারিকা, আরেক পাশে শিকারপুর। একটা ব্রিজ এর নাম মেজর এম এ জলিল সেতু, মেজর জলিল’কে নিয়ে আমার কৌতূহল শৈশব থেকেই, পড়তে পড়তে তার বিভিন্ন বিষয় জেনেছি; কেন যেন তার নাম দেখে ভালো লাগলো। তারপর বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু। সাত বীরশ্রেষ্ঠ’র মধ্যে এই একজন মানুষ নিজ বাড়ী থেকে বহুদূরে, একদম আরেক সীমান্তে শায়িত, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুবিখ্যাত সোনা মসজিদের পেছনেই তার কবর, তার পাশে ঘুমিয়ে আছেন আরেক বীর যোদ্ধা মেজর নাজমুল হক। বরিশাল তার শ্রেষ্ঠ সন্তানের সম্মানে প্রবেশদ্বারের নাম রেখেছে।

বরিশাল গেলাম, তারপর শুধু দৌড়। বরিশাল থেকে পটুয়াখালী, মির্জাগঞ্জ, মির্জাগঞ্জ থেকে নিশানবাড়িয়া দিয়ে পাথরঘাটা, আবার একইভাবে বরিশাল -- দুইদিন আমরা শুধু দৌড়ালাম। টের পেলাম বরিশালের মানুষজন তাদের পূর্বপুরুষের যে রক্ত লালন করে তাতে শুধু বেঁচে থাকার প্রত্যয় আর দুর্জয় সাহস -- প্রকৃতির সাথে প্রতিদিন যারা যুদ্ধ করে টিকে থাকে তাদের কথাবার্তা সরাসরি হবে, খুব বেশি আদিখ্যেতা তাতে থাকবেনা এটাই স্বাভাবিক। তার প্রমাণ পেলাম জায়গায় জায়গায়।

শুনতে অবাক লাগতে পারে কিন্তু বরিশাল বিভাগের মানুষ (তার সাথে বাগেরহাট-ও যুক্ত হবে) সাইক্লোন’কে বলে ‘বন্যা’। সেই বন্যার কথা শুনতে চাইলে তারা যে ভয়াবহ বর্ণনা দেয় তা বলে যায় নির্বিকার মুখে, শুধু স্বজন হারানোর কথা বলতে গেলেই তারা আর সব মানুষের মত হয়ে যায় কিন্তু বাকি জায়গার মত সেই স্বজন হারানোর ব্যথা দিয়ে বহুক্ষণ আক্ষেপ তরা করেনা, করার উপায় নেই। জোয়ারে আর ভাটায় নির্ধারিত জীবনে আক্ষেপ এর চাইতে তৎপরতার গুরুত্ব বেশি এখানে।

জানা গেলো বরিশাল বিভাগের প্রতিটি জেলা এবং উপজেলায় একটা ‘সদর রোড’ আছে এবং সেই একটা রাস্তাতেই সব দোকান, হোটেল আর যাবতীয় তৈজসপত্র -- মানে কিনা সব পাওয়া যাবে। এখানে উপজেলা পর্যায়ে রিকশা’র আধিক্য কেন, বলতে গেলে রিকশাই নেই, আছে মোটরসাইকেল; রাস্তাঘাট ভাঙে প্রতিবছর, সেই ভাঙা রাস্তা-ঘাটে’র পাশ দিয়েই মোটরসাইকেল এর চলাচলের সরু সরু ‘ট্রেইল’ তৈরি হয়ে গেছে। বরিশাল থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত রাস্তা বলতে গেলে ফাঁকা। বহুক্ষন পর একটা বাস হুশশ্ করে চলে যায়, কদাচিৎ একটা ভ্যান, নসিমন, মাঝে মাঝে কিছু পথচলতি মানুষ। চারপাশে গাছ, তারপরে গাছ, তারও পরে গাছ -- সৌন্দর্যে’র নয় বেঁচে থাকার প্রয়োজনে এখানে গাছ লাগানো হয়। উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পের আওতাও সমগ্র উপকূল জুড়ে পরিকল্পিতভাবে প্রচুর বৃক্ষ রোপন করা হয়েছিলো, সাইক্লোন ‘সিডর’ সে বেষ্টনী’র ভেতর ভাঙচুর চালিয়েছে চরম নির্মমতায়, সেসব চোখে পড়ে। সিডরের তান্ডব নদীঘাটে আটকানো ফেরী নদী থেকে উঠিয়ে বহুদূরে রাস্তায় নিয়ে ফেলেছে, রাস্তা ভেঙেছে, কিছু কিছু জায়গায় গাছের শীর্ষ আগুনে পুড়ে যাওয়ার মত ঝলসে আছে... একবছর হয়নি কিন্তু উপকূল আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে ধ্বংস্তুপ থেকে, টের পাই মানুষের সাথে কথা বলে...

সিডরে এতিম হওয়া শিশুদের এতিমখানায় না পাঠিয়ে তাদের জীবিত মা-বাবা কিংবা কাছের আত্মীয়দের সাথে রেখে কিভাবে একটি সমাজ-ভিত্তিক কর্মসূচী নেয়া যায় তার জন্য সবাই মিলে একটা সিচুয়েশন এসেসমেন্ট করা হলো, কথা বলা হলো সবার সাথে, এতিম শিশুদের বাড়ী বাড়ী যাওয়া হলো। আমি বিশেষভাবে-অজ্ঞ হিসেবে কাজ করছি তখন। একটা মোটামুটি ধারনায়ন এর শেষে ঢাকায় ফিরে রিপোর্ট দিলাম।

তখনো জানিনা আমার আবার বরিশাল ফিরে আসা হবে, শুধু বরিশাল বিভাগ নয়, দেখা হবে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা আর কক্সবাজার তথা বাংলাদেশের প্রায় সামগ্রিক উপকূল, নদীমাতৃক বাংলাদেশের বহুমুখী স্রোত, সাগরের তটরেখা ছোঁয়া হবে নানাভাবে, সুন্দরবনে যাওয়া যায় এমন প্রায় প্রতিটি পথে একবার হলেও যাওয়া হবে, মেশা হবে সংগ্রামী মানুষের সাথে, বাংলাদেশের মানুষের উপর বিশ্বাস ফিরে পাবো... ব্লগ এর ভাষা না বুঝেই হয়ে যাবো ব্লগার, সচলায়তন বলে একটা নিরাকার পটভূমিতে খুঁজে পাবো অদ্ভুত সব বন্ধু...

আর, একটা সময় পর নিজের ভেতর ভাঙা-গড়া পছন্দ করা এই আমি নিজেকে পুরোপুরি হারিয়ে ফেলবো একদিন, বহুদিন গত হবে, হতেই থাকবে... তারপর একদম আলাদা একটা নতুন অভিজ্ঞতা, উপলব্ধির শেষে কোন এক বোধোদয়ে... ঘরে ফিরে যাওয়ার প্রহর গুনতে শুরু করবো... কাটাবো জীবনের দীর্ঘতম একটি মাস...

দক্ষিণের জানলায়: ফিরে যাবার আগে ০১


মন্তব্য

ব্যাঙের ছাতা এর ছবি

শেষের অনুচ্ছেদটা বোধহয় সবার জন্যই প্রযোজ্য হবে। মনে হলো আমার মনের কথাগুলোই পড়ে ফেললাম এক নিমেষে। ধন্যবাদ।

অন্য প্রসঙ্গঃ কবিতা বা গান আর পড়তে পাচ্ছিনা মন খারাপ যে।

তানিম এহসান এর ছবি

হাসি আপনাকেও ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন, শুভকামনা।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি
তানিম এহসান এর ছবি

ধন্যবাদ রাজাসাহেব হাসি

স্যাম এর ছবি

চলুক হাসি

তানিম এহসান এর ছবি

হাসি

তারেক অণু এর ছবি

জমায়ে এবসলিউট ট্যুর দিমু।

অরফিয়াস এর ছবি

লাইনে আসেন। চোখ টিপি

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

তানিম এহসান এর ছবি

আমারও মনে হয় লাইনে দাঁড়াতে হবে এখন থেকে খাইছে

তানিম এহসান এর ছবি

আচ্ছা, দেখা যাবে হাসি

অরফিয়াস এর ছবি

ভাঙ্গা-গড়ার জীবন। তানিম ভাই, আপনার লেখায় উপকূলের বর্ণনা শুনে তো প্রেমে পড়ে যাচ্ছি, বরিশালের ঐদিকে যাওয়া হয়নি কখনো।

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

তানিম এহসান এর ছবি

প্রেমিক হৃদয়! খাইছে বরিশাল বিভাগ পুরোটা আর খুলনা বিভাগের বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জটিল জায়গা। একটার চাইতে আরেকটা সুন্দর। আসলেই হয়।

অরফিয়াস এর ছবি

প্রেমিক হৃদয় !! দেঁতো হাসি

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

বইপোকা এর ছবি

লেখাটি পড়তে পড়তে আমিও যেন লেখকের ভ্রমন-সঙ্গী হয়ে পড়েছিলাম। ধন্যবাদ লেখককে।

তানিম এহসান এর ছবি

আপনাকেও ধন্যবাদ পড়া এবং মন্তব্যের জন্য হাসি

কল্যাণ এর ছবি

ভাল্লাগছে তানিম্ভাই চলুক

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

তানিম এহসান এর ছবি

জেনে আমারও ভাল্লাগলো হাসি

ফাহিম হাসান এর ছবি

আহারে বরিশাল!

লেখা দারুণ হয়েছে।

তানিম এহসান এর ছবি

ধন্যবাদ ফাহিম ভাই হাসি

বন্দনা এর ছবি

আপনি এত্ত ঘুরেন কেন ভাইয়া, আমার এই পাশের কিছুই দেখা হয়নাই মন খারাপ

তানিম এহসান এর ছবি

কই ঘুরলাম, কিছুই দেখা হয় নাই এখনো মন খারাপ

অতিথি লেখক এর ছবি

ভালো লাগছে লেখাগুলো - পরম মমতায় একটা একটা করে দৃশ্য খুঁটে তুলে নিয়ে এসে শব্দের জাল দিয়ে বুনে চরম উপাদেয় করে তুলে ধরছেন আমাদের পাতে - আপনাকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা আমার নেই।

দেশের বাকী জায়গা গুলো নিয়ে এমন কোন স্মৃতি নেই?

-অয়ন

তানিম এহসান এর ছবি

স্মৃতি নিয়েই বেঁচে আছি। ধন্যবাদ আপনাকে হাসি

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

আমি কিন্তু প্রতিদিনই স্বপ্নের হাত ধরে রূপসী বরিশালে যাই, তোমার নেমন্তন্ন নিতে!

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

তানিম এহসান এর ছবি

আপনার আর আসা হবেনা রোমেল ভাই, জেনে গেছি।

অতিথি লেখক এর ছবি

বরিশালের সদর রোডের কাছেই এক রোডের নাম স্ব- রোড! এবার হোটেল অ্যারেনায় ছিলাম তো, ঢাকার ফেরার পথে ঐটুকু রাস্তায় আমাদের চালকভাই পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তখনই দেখা হয়েছিল নামটা।

অস্পৃশ্যা।

তানিম এহসান এর ছবি

এই রোডের নাম শুনিনিতো। খোঁজ নিতে হবে। ধন্যবাদ আপনাকে হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক

দক্ষিণ খোলা জানালা...

কড়িকাঠুরে

তানিম এহসান এর ছবি

দক্ষিণ খোলা জানাল, ঠিক বলেছেন। ‘আমার দক্ষিণ খোলা জানালা’, মহিনের ঘোড়াগুলির একটা গান আছে হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক প্রিয় গানটা- অনেক... ওখান থেকেই লাইনটা নিয়েছি... হাসি

কড়িকাঠুরে

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

তাইতো, বেলস পার্কের ছবি কই ?
লেখা ভাল লেগেছে। অনেকগুলো পরিচিত জায়গার নাম অনেকদিন পর পড়লাম। বেশ আগে, কয়েকবার ফরিদপুর হয়ে সড়কপথে বরিশাল গিয়েছি। তখন বরিশাল যেতে ফেরি পার হতে হতো। ব্রিজগুলো তখনও হয়নি।

তানিম এহসান এর ছবি

বেলস পার্কের ছবি দিবো।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।