Warning: Creating default object from empty value in i18ntaxonomy_term_page() (line 34 of /var/www/sachalayatan/s6/sites/all/modules/i18n/i18ntaxonomy/i18ntaxonomy.pages.inc).

মোগল শাসন

পরাজিত নবাব সিরাজউদ্দৌলা - দুই

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: বিষ্যুদ, ২২/০৩/২০১২ - ৮:১০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সিরাজ উদ্দৌলা, সিংহাসনে অধিরুঢ় হইয়া, মাতা মহের পুরাণ কর্ম্মকারক ও সেনাপতিদিগকে পদচ্যুত করিলেন। কুপ্রবৃত্তির উত্তেজক কতিপয় অল্পবয়স্ক দুষ্ক্রিয়াসক্ত ব্যক্তি তাঁহার প্রিয়পাত্র ও বিশ্বাসভাজন হইয়া উঠিল। তাহারা প্রতিদিন তাঁহাকে কেবল অন্যায্য ও নিষ্ঠুর ব্যাপারের অনুষ্ঠানে পরামর্শ দিতে লাগিল। সেই সকল পরামর্শের এই ফল দর্শিয়াছিল, যে তৎকালে প্রায় কোন ব্যক্তির সম্পত্তি বা কোন স্ত্রীলোকের সতীত্ব রক্ষা পায় নাই।”
শ্রীযুক্ত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বাঙ্গালার ইতিহাস।
….....................

(প্রথম পর্বের পর)

নবাব আলিবর্দি মারা যাবার পর তাকে গোর দেবার আগেই সিরাজউদ্দৌলা তখতে লাফ দিয়ে বসেন। বসেই তিনি প্রথম কলকাঠি নাড়া আরম্ভ করেন খালা ঘষেটি বেগমের ঘষটামি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে। ঘষেটি তার অঢেল পয়সাকড়ি নিয়ে মতিঝিল প্রাসাদে থাকতেন। প্রাসাদের চতুর্দিকে পানি, শক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ভিতরে ঘষেটি বেগম তার লাভার নাজির আলি আর কয়টা সিপাই। কিন্তু ফাইট হলনা, আলিবর্দির বিধবা স্ত্রীর অনুরোধে ঘষেটি আত্মসমর্পণ করেন। নাজির আলিকে কানে ধরে দরবার থেকে বের করে দেয়া হয়, ঘষেটিকে চালান করা হয় হেরেমে আর তার পয়সাকড়ি চালান করা হয় কোষাগারে। এ সবই হয় আলিবর্দি দেহরক্ষার দশ দিনের মধ্যে। নবাব কিছুটা চিন্তামুক্ত এখন। তবে পুর্ণিয়ার নবাব, শওকত জং আর ইংরেজের সাথে বোঝাপড়া বাকি।


পরাজিত নবাব সিরাজউদ্দৌলা - এক

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: সোম, ১৯/০৩/২০১২ - ১০:০৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

(নবাবনামার পর)

মারাঠা যন্ত্রণা কিছুটা কমে আসার পর আলিবর্দি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নানান ফ্যামেলি ঝামেলি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তার অতি আদরের ধন সিরাজ গদি পাবার জন্য লাফঝাঁপ আরম্ভ করে দেয়, ১৭৫০ সালে সে বিদ্রোহও করে বসে। তরুণ গর্দভটিকে আলিবর্দি ক্ষমা করে দেন, বৃদ্ধ নবাবের এই নাতিটির প্রতি অসীম ভালবাসা ছিল। সেই ভালবাসার সুযোগ নিয়ে সিরাজ ইচ্ছেমত পাইকারি বজ্জাতি চালিয়ে যেতে থাকে। স্থানীয় ঐতিহাসিক গুলাম হুসেন খানের মতে,

“ভালমন্দের বাছবিচার না করে, আদব লেহাজের ধার না ধেরে তিনি যখন যা খুশী তাই করতেন। ছোট বড় মেয়ে মদ্দ কারুরই ছাড় ছিলনা তার সামনে। অতি অল্প সময়ে মিশরের ফারাও এর মতই তিনি ঘৃণ্য হয়ে উঠলেন, আর তাকে দেখা মাত্র লোকে মনে মনে ভাবত ও আল্লা বাঁচাও ডরাইসি!”


নবাবনামা - চার

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: রবি, ১১/০৩/২০১২ - ১:৪৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রথম পর্ব দ্বিতীয় পর্বতৃতীয় পর্ব

মারাঠারা তাদের রীতি অনুযায়ী যুদ্ধে আগে বাড়ার আগে শত্রুপক্ষের সাপ্লাই লাইন কেটে দিতে মত্ত হল। আলিবর্দি তাদের ফাইট দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার সাথের আফগানেরা বেঁকে বসে। তাঁবুর পেছন দিক দিয়ে দ্রুত এগিয়ে আসে মারাঠা ঘোড়ার দল, অগুণতি সিপাই ঘিরে ধরে ক্যাম্প। আলিবর্দি পড়লেন বাটে। তিনি দূত পাঠিয়ে বললেন আচ্ছা যাও যাও চৌথ বাবদ দশ লাখ রূপী চাইছিলে তা দিয়ে দিচ্ছি। মারাঠা জেনারেল তখন ফট করে দাম বাড়িয়ে দশ লাখ নয় এক কোটি রূপী চৌথ হেঁকে বসলেন।


নবাবনামা - তিন

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: বুধ, ০৭/০৩/২০১২ - ৯:১৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রথম পর্ব | দ্বিতীয় পর্ব

সুজা খানের মৃত্যুর পরে পুত্র সরফরাজ খান বাংলা ও উড়িষ্যার মহান অধিপতি হিসেবে অটো প্রমোশন পান। তিনি পিতার মতই যুবতী ও বোতলের গোলাম ছিলেন, তবে বাপের তুলনায় অনেক মাথা গরম। তিন মন্ত্রি হাজি আহমেদ, আলম চান আর জগতশেঠকে তিনি ডিসমিস করে দিলেন না, চাকরি বহাল রইল। কিন্তু তাদের অবিশ্বাস্য অপমান করা হতে থাকল দিনের পর দিন।হাজিকে প্রকাশ্য দরবারে গালাগালি করা হতে থাকল।


পাইরেটস অফ চিটাগং - টু

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: রবি, ০৪/০৩/২০১২ - ৩:১৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

চাটগাঁও জিলা কয়েকশো বছর ধরে বাংলার মুসলিম শাসক আর আরাকানের মঙ্গোল শাসকদের টানাটানির বস্তু ছিল। পঞ্চদশ শতাব্দীতে এক পলাতক আরাকানরাজ বাংলায় আশ্রয় পান, পরে ১৪৩০ সালে গৌড়ের মিলিটারির সাহায্যে তিনি গদি ফিরে পান। কৃতজ্ঞতাস্বরুপ তিনি হুকুম জারি করেন তার বংশের লোক বার্মিজ পালি নামের সাথে আলি খান, সিকান্দার শা বা সেলিম শা এইরকম মুসলিম টাইটেল যুক্ত করবেন। ঐ নামে কয়েনও ইস্যু করা হয়। কিন্তু পরের প্রজন্মের আরাকানেরা বাংলার সাথে ভাই বেরাদরি তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয় আর ১৪৫৯ সালে পুরো চাটগাঁও জিলা বাংলার সুলতান বুরবক শা এর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়।


নবাবনামা - দুই

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৩/০২/২০১২ - ১২:৪৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রথম পর্ব এখানে

মুর্শিদ কুলির মৃত্যুর পর কটক থেকে দুই অনুচর নিয়ে বাংলায় হাজির হন জামাতা সুজা খান। ওই দুই অনুচর ছিল দুই ভাই, একজনের নাম হাজি আহমেদ আরেকজনের নাম আলিবর্দি খাঁ। কেউ বলে এরা দিল্লীর বিরাট বংশের লোক, তবে দুষ্টলোকের রটনা হল হাজি আহমেদ ছিল একটি ভৃত্য আর আলিবর্দি ছিল হুক্কাবরদার। বড় ভাই হাজি আহমেদ অতি চতুর ও বুদ্ধিমান, তিনি মন্ত্রিপদ বাগিয়ে নিলেন। শোনা যায় নবাবের হেরেমে পাইকারি মেয়ে সাপ্লাই করার জন্য তিনি দাগী আসামীদের নিয়ে দল গড়েন। তিনি নাকি একটি কচি সুন্দরী ভেট হিসেবে বগলে না নিয়ে কখনোই নবাবের দরবারে যেতেন না। ছোট ভাই আলিবর্দি ছিলেন কড়া ধাঁচের, পাক্কা সৈনিক মনোভাব। তাকে নবাবের অধীনে একটি ঘোড়সওয়ার কোম্পানীর প্রধান বানানো হয়।


নবাবনামা - এক

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: শনি, ১৮/০২/২০১২ - ১০:২১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বাংলার নবাব মুর্শিদ কুলি খান ছিলেন অত্যন্ত কড়া শাসক। মৌলবাদ হল অফ ফেম এর সুপারস্টার আওরঙ্গজেবের তল্পিবাহক মুর্শিদ কুলি, যেমন গুরু তেমনই তার চেলা। মানুষ প্রজা নিপীড়ন করে তিনি প্রজা জমিদার দুটাই নিপীড়ন করতেন। তিনি ছিলেন কনভার্টেড মুসলমান, দলে দলে লোকে খৎনা করে মুসলমান হচ্ছেনা দেখে তার খালি মনে হত কেনু কেনু। ঠিক আওরঙ্গজেবের মত (অথবা জিন্নার মত, অথবা মোল্লা ওমরের মত, অথবা জামাতের মত) তার দৃঢ় সংকল্প ছিল সোনার দেশটা মুসলমান দিয়ে ভরিয়ে তোলার।


পাহাড়ের ইঁদুর

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৬/০২/২০১২ - ১০:৫১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ছত্রপতি শুনলে মনে হয় ছাতি মাথায় মানুষ বুঝি। মারাঠি ভাষায় ছত্রপতি অর্থ সম্রাট। সংস্কৃত শব্দ ক্ষেত্র (এলাকা) থেকে ছত্র, সুতরাং ছত্রপতি=ক্ষেত্রপতি=ফিল্ড মার্শাল। মোগল সাম্রাজ্যের মাথাব্যথার কারন হয়ে ওঠা দুর্ধর্ষ মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ ভারতের সকল হিন্দু মৌলবাদীদের কলিজার টুকরা। হিন্দু প্রজানিপীড়নকারী মুসলমান মোগল বাদশার বিপক্ষে তিনি ধারাল হিন্দু তলোয়ার নিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন বলে কথিত আছে। তবে পৃথিবীর অন্যান্য নেতার মতই তার আসল ধর্ম ছিল ক্ষমতা, ক্ষমতার লোভে তিনি যে মোগলের সাথে আজ আড়ি দিতেন কাল তাকেই বুখে আয় বাবুল বলে ডাক দিতেন। শিবাজী প্রতিষ্ঠিত মারাঠা বাহিনী ছিল প্রথম শ্রেণীর গেরিলা যোদ্ধা, সংখ্যায় বৃহত্তর সৈন্যবাহিনীকে ছোট ছোট সুশিক্ষিত মারাঠা দলের হিট অ্যান্ড রান পদ্ধতিতে নাকাল করতে জুড়ি ছিলনা। ছেলে ঘুমালো পাড়া জুড়ালো বর্গী এল দেশে, ছেলেবেলায় পড়া কবিতার বর্গী হল এই মারাঠা গেরিলার দল।


টেরম টেরম যুদ্ধ

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: শনি, ১১/০২/২০১২ - ১০:৩২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মোগল সাম্রাজ্যের সর্বশেষ প্রতাপশালী বাদশা আওরঙ্গজেব ছিলেন একটি এক্সপোর্ট কোয়ালিটি শয়তানের লাকড়ি। গদিতে বসার জন্য তিনি তার প্রতিটি ভাইকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হত্যা করেন, পিতা শাজাহানকে জেলের ভাত খাইয়ে মারেন। গদিতে বসে তিনি গণহারে হিন্দুদের খৎনা করে মুসলমান বানাতে থাকেন, ধর্মীয় বৈষম্যমূলক জিজিয়া কর পুনরায় চালু করেন, হাজার বছরের পুরোন মন্দির প্যাগোডা ধুলোয় মিশিয়ে দেয়া হয়। তিনি ভন্ডামীরও বাদশা ছিলেন, সকাল বিকাল কুরান শরীফ মাথায় ঠেকিয়ে জিহাদি জোশ দেখালেও রাতে নিজেরই বিয়ে করা হিন্দু বউয়ের কোমল বুকের খাঁজে নাক ডুবিয়ে ঘুমাতে তার আটকাতো না। প্রখর বুদ্ধিমান, প্রতারকশিরোমণি ও চরম ধুরন্ধর মহীউদ্দিন মুহম্মদ আওরঙ্গজেব ছিলেন একটি ক্রিমিনাল মাস্টারমাইন্ড।


মিরিয়াম

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: শুক্র, ২০/০১/২০১২ - ৪:২৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আকবর বাদশার বিয়ের বাতিক ছিল, তার বউয়ের সংখ্যা কোন বইয়ে ৩৬ কোন বইয়ে ৩০০ দেখতে পাই। বউ ছাড়াও হেরেমে ঢলাঢলি করার জন্য দুনিয়া চষে হাজার পাঁচেক মেয়ে মজুত ছিল তার। বীর্য বিলিয়ে বেড়াতে আকবর তুলনাহীন ছিলেন, সব জাতের সব ধর্মের মেয়ে চেখে দেখার স্বভাব ছিল তার। মিরিয়াম ছিল আকবরের খ্রিস্টান বউ। গোয়ার পর্তুগীজ যাজক সম্প্রদায়ের লোকের চোখ চকচক করে ওঠে আকবর মিরিয়ামের বিবাহে, মোগল বাদশাকে খ্রিস্টান কর