নবাবনামা - তিন

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: বুধ, ০৭/০৩/২০১২ - ৯:১৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রথম পর্ব | দ্বিতীয় পর্ব

সুজা খানের মৃত্যুর পরে পুত্র সরফরাজ খান বাংলা ও উড়িষ্যার মহান অধিপতি হিসেবে অটো প্রমোশন পান। তিনি পিতার মতই যুবতী ও বোতলের গোলাম ছিলেন, তবে বাপের তুলনায় অনেক মাথা গরম। তিন মন্ত্রি হাজি আহমেদ, আলম চান আর জগতশেঠকে তিনি ডিসমিস করে দিলেন না, চাকরি বহাল রইল। কিন্তু তাদের অবিশ্বাস্য অপমান করা হতে থাকল দিনের পর দিন।হাজিকে প্রকাশ্য দরবারে গালাগালি করা হতে থাকল।

এরপরে তিনি জগতশেঠকে বিরাট অপমান করে বসলেন। হিন্দু ভদ্রলোকের নাতি একটি টুকটুকে বউ বিয়ে করেছিল, সরফরাজ ওই বউয়ের চেহারা পর্দা নামিয়ে দেখার বায়না করলেন। জগতশেঠ বোঝালেন এরকম করা পরিবারের চরম অসম্মান, কে শোনে কার কথা। সরফরাজ অনড়, তিনি ঘোড়সওয়ার পাঠিয়ে জগতশেঠের বাড়ি ঘেরাও করে মেয়ে তুলে আনার হুকুম দিলেন। ওই রাতেই আস্ত মেয়ে ফিরত পাঠানো হল, কিন্তু জগতশেঠের পরিবার তখন অপমানে স্তব্ধ। মেয়েটিকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়।

এইরকম হাওয়াবাতাসে বিদ্রোহ একটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। যার হাতেই তলোয়ার ছিল সে-ই নবাবের কল্লা নামানোর ধান্দা শুরু করে দিল। হাজি, জগত আর আলম একত্র হল, গোলন্দাজ ফ্যাক্টরির প্রধান গানপাউডারের বদলে ধুলা দিয়ে কামান ভরে রাখল। ষড়যন্ত্র অনেক গভীর হল, ঠিক হল সরফরাজকে সরিয়ে বিহারের নবাব আলিবর্দিকে বাংলা আর উড়িষ্যার নবাবীও দেয়া হোক। হিন্দুস্তানের টলোমলো পরিস্থিতি তখন ষড়যন্ত্রের জন্য একদম পার্ফেক্ট, দিল্লীর মোগল বাদশা তখন নাদির শার আক্রমনে চরম কোনঠাসা। একটাই ভয় ছিল আলিবর্দির সাথে যোগাযোগের চিঠি না আবার সরফরাজের হাতে পড়ে যায়, ওইজন্য হিন্দু উজিরের দল হাজি আহমেদকে নির্বাসিত করার ভান করে পাটনায় পাঠিয়ে দিলেন আলিবর্দির কাছে।

দুই ভাই মিলে এইবার ঠান্ডা মাথায় শলা করতে বসলেন। হাজি আহমেদ সরফরাজ তাকে কত অপমান করেছে বলে ইনিয়ে বিনিয়ে ভাইয়ের কাছে কাঁদুনি গাইলেন, কিন্তু আলিবর্দি প্র্যাকটিকাল লোক। তিনি বললেন জান বাঁচানো ফরয, ভালো ফন্দী বের করতে হবে যেন মাঝপথে বিপদে না পড়ি। স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী আখের গুড়ের মত সুমিষ্ট চিঠি পাঠালেন সরফরাজের কাছে যেন তার ভাইকে মাফ করে দেয়া হয়।

সেই চিঠির উত্তরের অপেক্ষায় বসে থাকার লোক অবশ্য আলিবর্দি নন। তার সকল সৈন্য মাঠে জমায়েত করা হল, মুসলমানদের কুরানশরীফ আর হিন্দুদের তামা তুলসি গঙ্গাজল ছুঁইয়ে শপথ করানো হল যে আমরণ তারা লড়াই চালিয়ে যাবে আসন্ন যুদ্ধে। শপথের পরে সৈন্যরা জানতে পেল যুদ্ধ হবে সরফরাজের বিরুদ্ধে, আর এটা আসলে বাংলা উড়িষ্যার বিদ্রোহ সমর্থন ছাড়া কিছু নয়। তারা দোনোমোনো শুরু করলো, কিন্তু শপথ তো করেই ফেলেছে এখন ক্যামনে কি। তার উপর চতুর আলিবর্দি ঘোষনা দিলেন যে সৈন্যরা বাংলায় ঢুকামাত্র তাদের সকল বকেয়া বেতন তো পরিশোধ হবেই তার উপর তিন লক্ষ রুপী তাদের মাঝে ভাগ বাঁটোয়ারা করা হবে।

বাংলায় ঢুকে সিপাইরা কিন্তু হাউকাউ লাগিয়ে দিল। ট্যাকা দাও দুবাই যামু। আলিবর্দির পকেট ফাঁকা, ওই দাবি মিটানোর কোন সামর্থই তার ছিলনা। তিনি সিপাইদের আগে বাড়তে বললেন, আর কথা দিলেন টাকা আসবে। রাতে তার অনুচরদের নিয়ে সভা করলেন, টাকা পাব কই? মুর্শিদাবাদে লোক পাঠাবো টাকা ধার করার জন্য? নাকি ফিরে যাবো বিহার? আলিবর্দি পড়লেন বিরাট ঝামেলার তলে।

সমস্যা সমাধান করলেন পাটনার এক মহাজন। তার নাম উমিচাঁদ। তার সুদের ব্যবসা, সিপাইদের ধারকর্জ দেবার জন্যে সে আলিবর্দি বাহিনীর সাথেই ঘুরঘুর করছিল। তার ছিল মোটে হাজার বিশেক রূপী, ঐ দিয়েই তিনি মাঠে নেমে পড়লেন। সিপাইদের ফল ইন করিয়ে অল্পস্বল্প পয়সা ধরিয়ে দেয়া হল। পুরোটা নয়, কিন্তু কিছু কিছু। ঐ টাকা সিপাইরা পটাপট পাগড়ির ভিতর ঢুকিয়ে রাখল। এরপর ক্যাশ শেষ হয়ে গেলে উমিচাঁদ চেক দেয়া শুরু করলেন। সে এক মজার কান্ড। জার্নিতে সবাই অল্পবিস্তর উমিচাঁদের টাকা ধার করেছিল, এইবার উমিচাঁদ করল কি তাদের কাছে গিয়ে চেক কেটে আবার ঐ চেক তার আগের কর্জের বিপরীতে ফিরত নেয়া শুরু করলো। দিবে আর নিবে মিলিবে মিলাবে টাইপ ব্যাপার। উমিচাঁদই দেয় উমিচাঁদই নেয়। সিপাই পেল কচু। আঁধার ঘনিয়ে এল, সিপাইরা ততক্ষণে ভারি ত্যক্ত এই মহাজনী হাতসাফাই দেখে। তাদের অন্যমনস্ক করার জন্য হঠাত আজাইরা ঢোলবাদ্য পিটানো শুরু হল আর ছড়িয়ে দেয়া হল গুজব, সরফরাজ খাঁ এর লোক আসছে। পরদিন আলিবর্দি আবার মুর্শিদাবাদের দিকে মার্চ করা শুরু করলেন, সরফরাজের বাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার আগ পর্যন্ত ঢোলবাদ্যের ফলস অ্যালার্ম দিয়ে সিপাইদের বিভ্রান্ত করে রাখা হল।

সরফরাজ আলিবর্দির মুখোমুখি যুদ্ধে পটকা ফুটলো যত মানুষ তত মরে নাই। সকলেই কেমন গা ছাড়া দিয়ে যুদ্ধ করছিল মনে হয়। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কল্লা নামিয়ে দেয়া হল, সরফরাজের কল্লা। তাতেই সেই যুদ্ধের সমাপ্তি। আলিবর্দি তার সিপাইদের ইচ্ছেমত লুটের সার্টিফিকেট দিয়ে দিলেন, আর ভাই হাজি আহমেদকে মুর্শিদাবাদ পাঠালেন শহর দখলের লক্ষ্যে। দুইদিন বাদে গদাইলস্করী চালে আলিবর্দি মুর্শিদাবাদে প্রবেশ করেন আর গদিতে আসীন হন। ঢোল কত্তাল সানাই বাজিয়ে নয়া নবাবকে শুভেচ্ছা স্বাগতম জানানো হল, নানাবিধ বড়লোকের দল ভেট নিয়ে প্রাসাদে লাইন দিল।

আফগানীদের সাহায্যে আলিবর্দির উত্তরণ, বাঙালি সিপাইদের তিনি তুমুল ছ্যা ছ্যা করতেন। তার মেজর জেনারেল ছিল এক আফগানী ভাড়াটে সৈন্য, মুস্তাফা খাঁ। তাকে আলিবর্দি দক্ষিণ হস্ত হিসেবে তৈরী করলেন।

আলিবর্দির কোন ছেলে ছিলনা। তিনি ভাই হাজি আহমেদের তিনটে ছেলের সাথে নিজের তিনটে মেয়ের গণবিবাহ দিলেন। বড় ভাতিজা/জামাতাকে ঢাকার ডেপুটি নবাব, ছোট ভাতিজা/জামাতাকে বিহারের ডেপুটি নবাব আর মেজো ভাতিজা/জামাতাকে উড়িষ্যার ডেপুটি নবাব খাড়া করিয়ে দিলেন। শোনা যায় তিনি দিল্লীতে মোগলাই ফরমান পরয়ানার জন্যে ব্যাপক পয়সাকড়ি খরচ করেছিলেন, কিন্তু তা সম্ভবত শুধুই গুজব। তখন নাদির শা এর আক্রমনে মোগল বিধ্বস্ত, অযথা তাদের জন্যে টাকা ঢালবার লোক আলিবর্দি নন। বিবিধ মোগলাই ঢোলসহরত পাল্কি সিলগালা জাঁকজমক সহকারে মুর্শিদাবাদে এসেছিল বটে, কিন্তু তা খুব সম্ভবত পুরাই ফাঁকিবাজি। ধারণা করা হয় ওগুলো ব্যাংকার মহাজন জগতশেঠের সাপ্লাই।

উড়িষ্যার নতুন ডেপুটি নবাব পয়সা আর যুবতী ছাড়া চোখে আন্ধার দেখতেন। নানাবিধ বড়লোকের বাসায় হানা দিয়ে সুন্দরী নারী আর সিন্দুকের গায়ে হাত তোলা হতে থাকে। লোকে ফুঁসতে থাকে রাগে, সামনাসামনি কিছু না বললেও বাগে পেলে দেইখা লমু মার্কা চিন্তা সকলের মাথায় ঘুরপাক খায়। সরফরাজের ভ্রাতুষ্পুত্র মির্জা বাকিরের নেতৃত্বে শুরু হয় ষড়যন্ত্র।

হঠাত একদিন নরক ভেঙে পড়ে কটকের রাস্তায়, শুরু হয় রায়ট। তরুণ ডেপুটি নবাব তার খাস বডিগার্ডের দলকে পাঠান পরিস্থিতি সামাল দিতে, উল্টো ঐ বডিগার্ড প্রধানকে কেটে পঁয়ত্রিশ পিস করা হল। মির্জা বাকির এসে হাজির হলেন, প্রাসাদের ভিতরের সিপাইরা গারদ ভেঙে মির্জা বাকিরের দলে যোগ দিল। বাকির মিয়াঁ আনন্দের সহিত ডেপুটি নবাবকে জেলে ভরলেন, আর সেই নানান বড়লোকের কথা মনে আছে যারা কয়মাস আগে আলিবর্দির গ্র্যান্ড ওরিয়েন্টেশনে ভেট নিয়ে হাজির হয়েছিলেন? সেই একই লোকেরা এবার ভেট নিয়ে মির্জা বাকিরের দরজায় হুড়ো দিলেন।

আলিবর্দি এক লাখ রূপী বা দশ হাজার পাউন্ড স্টার্লিং অফার করলেন মির্জা বাকিরকে যেনো তারা ডেপুটি নবাবকে ছেড়ে দেয়। বাকির বুদ্ধিমান লোক, সে আলিবর্দির শক্তিমত্তা সম্পর্কে জ্ঞাত ছিল। রাজি হল এই শর্তে। কয়েদী ডেপুটি নবাবকে গরুর গাড়িতে সাদা কাপড়ে টাইট করে বেঁধে নিয়ে আসা হয়, দুইটি তাতার যোদ্ধার উপর নির্দেশ ছিল আলিবর্দি তেড়িবেড়ি করলেই যেন বন্দীকে ইন্নালিল্লা করে দেয়া হয়। তাদের ঘিরে ছিল মারাঠা ঘোড়সওয়ারের দল।

মির্জা বাকিরকে আক্রমন করা হয় আর সে কোনমতে জান নিয়ে বাঁচে। আলিবর্দির ঘোড়সওয়ারেরা দ্রুত গরুর গাড়ির দিকে রওনা দেয়। তাতারেরা মারাঠার বর্শায় চিৎপটাং হয়, আর ডেপুটি বাবাজি কেমনে কেমনে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে আলিবর্দি অপদার্থ ভাতিজা/জামাতাকে সরিয়ে নতুন লোক বসান।

আলিবর্দি মেদিনীপুরের জঙ্গলে শিকারে মত্ত থাকার সময় খবর আসে মারাঠা ঘোড়সওয়ারের দল নাগপুর থেকে এসে বীরভূমের পশ্চিম পাহাড়ের উপর দিয়ে বর্ধমানের দিকে এগুচ্ছে। তাদের কমান্ডার ছিল ভাস্কর পাঁট, রুগা’জি ভোঁসলের উজির। ব্যাপক লুটপাট আরম্ভ হল। আলিবর্দি মারাঠাদের নিম্নশ্রেণীর যোদ্ধা জ্ঞান করতেন, তবু ছোট একটি বাহিনী নিয়ে বর্ধমান রওনা দিলেন। ভাস্কর পাঁট যুদ্ধ করার জন্য তেমন উৎসাহী ছিলনা, সে শুধু চাইছিল চৌথ। তাই সে বলে পাঠাল আলিবর্দি যদি তাকে চৌথ বাবদ লাখখানেক রূপী পাঠায় তাহলে সে চলে যেতে রাজী আছে। এই অপমানে আলিবর্দির মেজাজ বিলা হয়ে গেল, বদমাইশে বলে কি। তিনি ভাস্করকে বলে পাঠালেন এক পয়সাও দিবনা, কি করবা কর। আগার মা কি দুধ পিয়ে তো বাংলা আক্রমন করে দেখ, পিটিয়ে তক্তা করে দেব।

শুরু হল মারাঠা বর্গীর লুটের রাজত্ব।

(চলবে)

জেমস হুইলারের “The History of India from the Earliest Ages: pt. I. Mussulman rule. pt.II. Mogul empire. Aurangzeb” অবলম্বনে।

…............................................................
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ লিখকের মতামতের জন্য অনুবাদক দায়ী নহেন।


মন্তব্য

ব্যাঙের ছাতা এর ছবি

হাততালি
সত‌্যপির (কি জানি কি হয়েছে দিরঘি কার, র ফলা, রেফ দিতে পারছিনা মন খারাপ ) রকস
হাততালি

সত্যপীর এর ছবি

ধইন্যবাদ চাল্লু

..................................................................
#Banshibir.

মন মাঝি এর ছবি

ইতিহাসের বাইরে একটা বই পড়তে পারেন। খুব সম্ভবত ঠিক এই রকম সময়ের প্রেক্ষাপটে গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের জীবনের চালচিত্র নিয়ে মহাশ্বেতা দেবীর তথ্যভারহীণ অথচ দারুন জীবন্ত ঐতিহাসিক উপণ্যাস 'আঁধারমানিক' পড়ে দেখতে পারেন। সুজা-মির্জা-বর্দী-চাঁদ-শেঠরা যখন বল্গ্বাহীণ লোভ-লালসা-হিংসা-ষড়যন্ত্রজাত লুটপাট-কাটাকাটি-ফাটাফাটি-***দির পরাবাস্তব দুঃস্বপ্নোৎসবে মদমত্ত, তখন রাজধানী আর ইতিহাসের আলো থেকে বহুদূরে ছায়ায় ঘেরা আঁধারে ঢাকা নিস্তরঙ্গ গ্রামবাংলায় সংখ্যাগুরু সাধারণ মানুষজনের জীবন এই ক্রান্তিকালে কেমন কাটছে তা জানার আমার খুব আগ্রহ ছিল। 'আঁধারমানিক' তার একটা চমৎকার ও উপভোগ্য ইতিহাসভিত্তিক ফিকশনাল পোর্ট্রেট।

****************************************

সত্যপীর এর ছবি

দিলেন মনডা খারাপ কইরা। ঐ বই এখন কই পাই, নীলক্ষেত তো নাই। তবে বেজায় থ্যাঙ্কু, একদিন ঠিক পড়ে ফেলবো।

..................................................................
#Banshibir.

কিম্ভূত এর ছবি

রকোস!

সত্যপীর এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

..................................................................
#Banshibir.

কালো কাক এর ছবি

সিরাজ ভাইএর জন্য অপেক্ষা করতেসি দেঁতো হাসি

সত্যপীর এর ছবি

হ সিরাজ আর অন্ধকূপ হত্যা যেদিন দিব সেদিন মনে হয় গালি দিয়া আমারে ব্যান খাইতে হইব সচল থেকে। সিরাজরে নিয়া তুমুল গালাগালি সবার ভালো না ও লাগতে পারে ইয়ে, মানে...

..................................................................
#Banshibir.

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ইতিহাস, তরতরিয়ে এগুচ্ছে। পড়তে ভালই লাগছে। চলুক

সত্যপীর এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, ভাল লাগা দিয়ে কথা!

..................................................................
#Banshibir.

দুর্দান্ত এর ছবি

"সমস্যা সমাধান করলেন পাটনার এক মহাজন। তার নাম উমিচাঁদ। তার সুদের ব্যবসা, সিপাইদের ধারকর্জ দেবার জন্যে সে আলিবর্দি বাহিনীর সাথেই ঘুরঘুর করছিল। তার ছিল মোটে হাজার বিশেক রূপী, ঐ দিয়েই তিনি মাঠে নেমে পড়লেন। সিপাইদের ফল ইন করিয়ে অল্পস্বল্প পয়সা ধরিয়ে দেয়া হল। পুরোটা নয়, কিন্তু কিছু কিছু। ঐ টাকা সিপাইরা পটাপট পাগড়ির ভিতর ঢুকিয়ে রাখল। এরপর ক্যাশ শেষ হয়ে গেলে উমিচাঁদ চেক দেয়া শুরু করলেন। সে এক মজার কান্ড। জার্নিতে সবাই অল্পবিস্তর উমিচাঁদের টাকা ধার করেছিল, এইবার উমিচাঁদ করল কি তাদের কাছে গিয়ে চেক কেটে আবার ঐ চেক তার আগের কর্জের বিপরীতে ফিরত নেয়া শুরু করলো। দিবে আর নিবে মিলিবে মিলাবে টাইপ ব্যাপার। উমিচাঁদই দেয় উমিচাঁদই নেয়।"

ঘটনা হল পুরো মোঘল প্রশাসনের মত এইসব সেনাদেরও বেতন দেয়া হত জগতশেঠের ব্য়ান্কনোটের মাধ্য়মে। এখনকার কারেন্সি মারকেটের মত, কোথায় ও কিরকম মাইনকা চিপায় সেই নোট ভানংগানো হচ্ছে, সেটা বিবেচনায় মানি এক্সচেন্জ তার ফি কেটে রাখবে। সাধারনত এই ব্য়ান্কনোটগুলো স্থানীয় জগতশেঠের কুঠিতে ফিক্স্ড ডিস্কাউন্টে ভানংগাতে পারার কথা।

কিন্তু এসময়ে মূলত মারাঠাদের ভয়ে পর পর দুইবার হুগলি/মুরশিদাবাদ/কাশিমবাজার থেকে কুঠির পরিচালকেরা পলায়ন করে। এসময়ে স্থানীয় উঠতি উদ্য়োক্তা উঁমিচাদ উচ্চ ডিসকাউন্টে সেই ব্য়ান্কনোট ক্য়াশ করেছিল।

সত্যপীর এর ছবি

জটিল মুদ্রা অর্থনীতি।

..................................................................
#Banshibir.

কুমার এর ছবি

আপনার কল্লা থাকলে হয় শেষ পর্যন্ত। সব মোঘল ফকীর নবাবদের ধরে ধরে পুটু যেভাবে মেরে দিচ্ছেন না, সেইরাম গো দাদা।

সত্যপীর এর ছবি

মোগল নবাবের ইজ্জতে টান দিলে অসুবিধা নাই অরা এক্সপায়ার্ড মাল, হাসিনারে গালি না দিলেই হইলো। কল্লা আস্ত থাকব ভয় নাই।

..................................................................
#Banshibir.

তারেক অণু এর ছবি

আলীবর্দির নাতি নিয়ে লেখা কবে আসবে! পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

তাসনীম এর ছবি

হিসাব অনুযায়ী পঞ্চম পর্বে আশা উচিত। আমিও পপকর্ন নিয়ে প্রস্তুত।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

সত্যপীর এর ছবি

ঠিক কথা। পঞ্চম পর্বেই আসবে মনে হচ্ছে।

তবে ওইটা জেমস হুইলারের লিখা থেকে দিবনা। দেখি অন্য কারো লিখা পাই কিনা ডিটেল। হুইলার ভাইয়ার ব্যাপক দুর্নাম। বাংলা বিহার উড়িষ্যার মহান অধিপতির লুঙ্গি ধরে টান দিতে আরো শক্ত কলমের জোর চাই।

..................................................................
#Banshibir.

দুর্দান্ত এর ছবি

এই বইটা আপনার ভাল লাগতে পারে।

সত্যপীর এর ছবি

কোলাকুলি

চমৎকার বই মনে হচ্ছে। কিন্তু কপিরাইটেড, অনুবাদ করা ঠিক হবেনা অনুমতি প্রয়োজন। দেখি এক্সপায়ার্ড মাগনা বই কিছু পাই কিনা।

..................................................................
#Banshibir.

দুর্দান্ত এর ছবি

এখানে একটা ইমেইল করে দেখতে পারেন। এই দশকে বাংলাভাষার বাজারে এদের সরাসরি আগ্রহ নেই বলেই জানি। সুতরাং অনুমতি মিলবার সমুহ সম্ভাবনা আছে।

সত্যপীর এর ছবি

আপনে লোকটা আসলেও দুর্দান্ত।

..................................................................
#Banshibir.

পথিক পরাণ এর ছবি

আপনার নিজস্ব বর্ণনাভঙ্গিটা অন্যরকম আনন্দদায়ক লাগছে। চলুক---

-----------------------------
পথেই আমার পথ হারিয়ে
চালচুলোহীন ছন্নছাড়া ঘুরছি ভীষণ---

সত্যপীর এর ছবি

অজস্র আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

..................................................................
#Banshibir.

তাপস শর্মা এর ছবি

চলুক চলুক চরম ভাবে দৌড়াইতাছে।

সত্যপীর এর ছবি

ধরেন ধরেন গেলগা তো... চাল্লু

..................................................................
#Banshibir.

অগ্নি এর ছবি

জগতশেঠের যে কাহিনি বললেন সে জন্যই কি ঐ মিয়া সিরাজের সাথে বেঈমানি করছিল নাকি আগে থেকে খারাপ ছিল??
আপনার কাছে আমার একটা প্রশ্ন ছিল এবং সেটার যৌক্তিক উত্তর আশা করি।মোঘলদের শাসন কেন ইংরেজদের মতো ঔপ্নেবেশিক না?? আকবর কে ভারতবর্ষের শ্রেষ্ট সম্রাট বলার কোন যৌক্তিকতা আছে কি ??

ব্যাঙের ছাতা এর ছবি

প্রথম প্রশ্নের জবাবে একটু বলতে চাই। মোঘলরা এদেশে এসছিল বাস করতে, শুধু শাসন করার জন্য নয়। ওরা আর কাবুলে ফিরে যাবার চিন্তা করেনি। ওরা এদেশের মানুষের মাঝে মিশে গিয়েছিল, আগত মোঘল সৈনিকেরা এদেশে বিয়ে করেছিল, পরিবার গঠন করেছিল।

বাকিটুকু সত্যপীর বা অন্যকেঊ আরও গুছিয়ে জবাব দিবেন হাসি

সত্যপীর এর ছবি

হাততালি

..................................................................
#Banshibir.

সত্যপীর এর ছবি

জগতশেঠের যে কাহিনি বললেন সে জন্যই কি ঐ মিয়া সিরাজের সাথে বেঈমানি করছিল নাকি আগে থেকে খারাপ ছিল??

জগতশেঠ সিরাজ দুইজনেই খাড়া শয়তান, তবে দুই রকম। একটা বুদ্ধিমান শয়তান আর একটা বলদ শয়তান। বলেন তো কোনটা কে?

আপনার কাছে আমার একটা প্রশ্ন ছিল এবং সেটার যৌক্তিক উত্তর আশা করি।মোঘলদের শাসন কেন ইংরেজদের মতো ঔপ্নেবেশিক না?? আকবর কে ভারতবর্ষের শ্রেষ্ট সম্রাট বলার কোন যৌক্তিকতা আছে কি ??

প্রশ্ন একটা না দুইটা মনে হচ্ছে। আমি "ঔপ্নেবেশিক" এবং "শ্রেষ্ট" শব্দদুটির মানে জানিনা দেখে যৌক্তিক উত্তর দিতে পারলামনা। দুঃখিত।

..................................................................
#Banshibir.

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

অনুবাদ কড়া হয়েছে। চলুক।

সত্যপীর এর ছবি

কড়া চায়ের স্বাদই আলাদা চাল্লু

..................................................................
#Banshibir.

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি
শাব্দিক এর ছবি

চা বিস্কুট পপকর্ণ সব কিছু নিয়া বসছি।

সত্যপীর এর ছবি

হ দেখসি আমারে কিন্তু সাধেন নাই।

..................................................................
#Banshibir.

রিক্তা এর ছবি

আমার আরো পুরান ইতিহাস জানতে মন চায়। ২০০০-৩০০ বছরের পুরান। এইজন্য মহাভারত পড়তে মজা লাগে অনেক।

লেখার বিষয়েঃ আপনার মত লেখকের অভাবে কোনদিন সামাজিক বিজ্ঞানটাকে ভালোবাস্তে পারলাম না। সমাজ বই পড়লে মনে হত আগের লোকজন সব বিরাট মহাপুরুষ ছিলো। কে তাদের সেইসব বোরিং ইতিহাস পড়তে চায়?

রিক্তা
--------------------------------
হে প্রগাঢ় পিতামহী, আজো চমৎকার?
আমিও তোমার মত বুড়ো হব – বুড়ি চাঁদটারে আমি করে দেব বেনোজলে পার
আমরা দুজনে মিলে শূন্য করে চলে যাব জীবনের প্রচুর ভাঁড়ার ।

সত্যপীর এর ছবি

হইতেও পারে মহাপুরুষ। কে জানে। মহাপুরুষের অন্য দিকও শুনে রাখা ভালো চাল্লু

..................................................................
#Banshibir.

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।