| ‹ পুরোনো ব্লগ | সব ব্লগ | নতুন ব্লগ › |
গতকাল গুগল ডকস-এর একটা নিউ ডকুমেন্টের পাতা খুলে কিছুক্ষন বসে ছিলাম, অমিত আহমেদের জন্য একটা অণুগল্প লিখবো বলে।
দেশ ছেড়ে আসার পর অনবরত অনেক চিঠি পাই আমি--বাবার, আপুদের, বন্ধুদের। কাগুজে-কলমে চিঠি নয় অবশ্যই, মুঠোফোনের বার্তা অথবা ই-চিঠি। আজও পেলাম এমন দু'টো। একটা বাবার, একটা বড় আপুর।
বাবার শরীরটা ভালো নেই। বয়স বেড়ে যাচ্ছে। আমার ভীষন হ্যান্ডসাম বাবাটা দিনকে দিন বুড়ো হয়ে যাচ্ছে। আর মাত্র ক'দিন পরেই অবসর নিতে হবে কাজ থেকে। বাবার মেসেজগুলোতে ইদানিং সেই ছাপ পড়ছে। আমরা ইংরেজীতে বাংলা টাইপ করে মেসেজ লিখি, বাবা আগের যুগের মানুষ, এটা তার কাছে অদ্ভুত লাগে। তাই সে ইংরেজীতেই লিখে। আমাদের একেবারেই মধ্যবিত্ত পরিবার। আমি জানি বাবার বাঁধা মাইনের চাকরীতে এখনকার জিনিসপত্রের হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়াটা কতটা প্রভাবে ফেলবে। ক'দিন আগে ফোনে তাই জিজ্ঞেস করেছিলাম। এমনিতে কখনও কোন সমস্যা বলে না...আজ লিখেছে, "The price level of the country has gone so up that I have been compelled to think different alternatives about my retired life which is coming soon". আমার এক্কেবারে গভীরে খুব টান লাগে। আমার খুব ইচ্ছা করে বাবাকে বুকের মধ্যে আগলে রাখি। বলি, তুমি নিশ্চিন্তে থাকো সোনা, আমি আছি না? ঠিক যেমনটা ছোটবেলায় বাবা-মামণি আমাদের আগলে রেখেছিলো...।
ছোটবেলায় মামণির সাথে খুব নিয়মিত একটা ঝগড়া হতো যখন মা বলতো, "আমি মরে গেলে বুঝবি মজা"! আমার সহ্য হতো না। জোরে জোরে মা'কে ঝাকুনি দিয়ে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলতাম, "কখখনো না, কখখনো তুমি মরবে না, সব বাজে কথা"। খুব তাড়াতাড়ি সেই বাজে কথাটাকেই সত্যি করে মা বুঝি আজ দুষ্টু মিষ্টি হেসে বলছে, "এবার বুঝলি তো মজা?" ...এমন কেন হয়? ছোটবেলার স্বপ্নমাখা রঙীন ঘুড়িটা কেন আর তেমন করে ওড়ে না? সব রঙ ফিকে হয়ে যায়...সবচেয়ে প্রিয় মানুষ চলে যায় অনেক দূরে, বাকিরা বুড়ো হতে থাকে...। প্রিয় নিশ্চিন্ত সময়গুলো হাজার দুর্ভাবনায় ভারী বোঝার মত হয়ে রয় মাথার ওপরে...।
বড় আপুরও শরীর ভালো নেই, ভীষন জ্বর অনেকদিন ধরে। ওরা আমাকে বলে না এসব কিছু, এত দূর থেকে টেনশান দিতে চায় না। আবার অনেকটা সময় পেরুলে না বলেও পারে না। বড় আপু আমাদের তিন বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড়, কিন্তু সবচেয়ে ছেলেমানুষ। আজ অনেক কথার শেষে লিখেছে, " তুমি কি কয়দিনের জন্য আসবে......" লিখেই বুঝেছে কি অবাস্তব কথা লিখে ফেলেছে, তাই তারপরের শব্দদু'টো হচ্ছে "হি...হি..."।
আমার বুকের মধ্যে দুম করে দুর্যোগের ঘনঘটা শুরু হয়, দ্রিম দ্রিম দ্রিম...বাজতে বাজতে অনাহুতের মত সেই শব্দ জলোচ্ছ্বাসের রূপ নিয়ে দাপাদাপি করে দু'চোখে।
অণুগল্পটি আমার আর লেখা হয় না। সেই "নিউ ডকুমেন্ট" পাতাটি ভরে ওঠে ব্যক্তিগত কথনে।
২
আহারে।
এই আমাদের জীবন এখন।
মাঝেমাঝেই ভাবি, কেন? ঠিক কিসের জন্য এইভাবে থাকা?
ভাল্লাগেনা।
৩
মন খারাপ করে দেয়া লেখা।
...........................
সংশোধনহীন স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন দেখি একদিন
৪
তিথিপু, মন খারাপ হয়ে গেল তো ![]()
_________________________________
ভরসা থাকুক টেলিগ্রাফের তারে বসা ফিঙের ল্যাজে
৫
একটা মানুষ মন খারাপ করে থাকলে কী বলতে হয়...আমি ঠিক জানি না।
শুধু বলছি...
এতগুলো মানুষের সমবেদনা দেখে একটু হাসেন তো প্লীজ। আকাশকে দেখিয়ে দ্যান তো... মন খুব খারাপ হলেও মানুষ হাসতে পারে! তার জন্য এতগুলো মানুষের মমতা দেখে...
---------------------------------
ছেঁড়া স্যান্ডেল
৬
হুমম। মন খারাপ করা লেখা। এই মন খারাপ লাগাকেই ম্যানিপুলেট করুন। একটা চমৎকার লেখা চাই অণুগল্পের জন্যে।
৭
খুব মন খারাপ হয়ে গেল আপনার লেখা পড়ে। চট্রগ্রামে ফেলে আসা বাবা মার কথা মনে পড়ছে ভীষন
৮
দেশ ছেড়ে এলে টান সবারই বেড়েই যায়। কি আর করা, মানুষের মন বলে কথা ...
---------------------------------
হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।
৯
হলো ত চোখের কোনায় পানি জমে গেছে।মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক।আনুগল্পটা লিখে ফেলেন দেখবেন ভাল লাগবে।
-নিরিবিলি
১০
আপু আমারো রোজ এমন লাগে।কিছু ভাললাগে না।অনেক দোয়া রইল।সব ঠিক হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। চল সবাই মিলে ফিরে যাই। ![]()
::একাকিত্বের বিলাস আমার অনেকদিনের সাধ::
১১
কারুর মন খারাপের সময় কী বলা উচিত, যদি জানতাম!
১২
ধুর,একদিন ঠিকই ঘুম থেকে উঠে দেশে চলে যাবো ।
----------------------------------------
শমন,শেকল,ডানা
১৩
তিথি, আমি বহুদিন ধরে দেশ থেকে কোন ফোন আসলেই আতঙ্কিত হয়ে যেতাম। আব্বা আম্মার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে, তাঁদের ক্রমশঃ খারাপ হতে থাকা শরীর নিয়ে, দরকারের সময় চট করে দেশে চলে যেতে না পারা নিয়ে - হায়রে কত যে মন খারাপ করা মূহুর্ত পার করেছি।
ভাল একটা গান শুনুন - ভাল লাগতে পারে।
১৪
আমার কথাই বলে দিলেন। এক দিকে অমিত ভাইয়ের তাগাদায় ভীত হয়ে প্রতিদিন একটা করে নতুন ফাইল খুলি... লিখতে বসলে অণুগল্পের চেয়ে জীবনের খণ্ডচিত্রই ভেসে আসে বেশি।
১৫
ওরা আমাকে বলে না এসব কিছু, এত দূর থেকে টেনশান দিতে চায় না। আবার অনেকটা সময় পেরুলে না বলেও পারে না।
- - - - -
১৬
আমার এক বন্ধু আছে।টিউশনি করে নিজে পড়ে,ভাইকে সাথে হলে রেখে পড়ায়।মাস শেষে বাড়ীতে টাকা পাঠায় বিধবা মায়ের কাছে।দেখা হলে আমাকে বলে দোস্ত আর পারিনা।এই বয়সেই সে বুঝে গেছে জীবনের লেনদেন।আমি চেষ্টায় থাকি কেটে পড়ার,বলাতো যায়না যদি টাকা ধার চায়(মধ্যবিত্ত হলে যা হয় আর কি!,অমানুষিকতা!)।
এসব নিয়েই আমরা বেঁচে থাকি,স্বপ্ন দেখি।মন খারাপ করবেন না।মন ভাল হওয়ার দিন নিশ্চয় আসবে।ভাল থাকুন।
eru
--------------------------------
সুগন্ধ বিলোতে আপত্তি নেই আমার
বস্তুত সুগন্ধ মাত্রই ছড়াতে ভালবাসে।
১৭
...এমন কেন হয়? ছোটবেলার স্বপ্নমাখা রঙীন ঘুড়িটা কেন আর তেমন করে ওড়ে না? সব রঙ ফিকে হয়ে যায়...সবচেয়ে প্রিয় মানুষ চলে যায় অনেক দূরে, বাকিরা বুড়ো হতে থাকে...।
১৯
আমরা সবাই দেশের কথা ভেবে, আপনজনদের কথা ভেবে বিষাদাক্রান্ত হবো, চলে যাবো বলে সংকল্প করবো। কিন্তু সেই সংকল্প ভুলে যাবো পরদিন সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে। আমাদের আর যাওয়া হয়ে উঠবে না। যাবো-যাচ্ছির বিলাসিতাই সার। কাউকে ছোটো করার জন্যে বলছি না, এটা আমার নিজের কথা বলা। নিজেকে ধিক্কার দেওয়া। বাইশ বছর হয়ে গেলো ....
২০
এই পোস্ট দিয়ে চুপচাপ থেকে সবার ভালোবাসা টের পেয়েছি।
স্বপ্নাহত, মাশীদাপু, সুলতানা শিমুল, তারেক, পরিবর্তনশীল, রাবাব, ইরতেজা, দিগন্ত, বিবাগিনী, সন্ন্যাসী ভাই, হাসান ভাই, স্নিগ্ধা আপু, ইশতিয়াক রউফ, শিমুল, বিপ্লব ভাই, অমিত আহমেদ, জুবায়ের ভাই এবং অতিথি লেখক নিরিবিলি, ইমরুল কায়েস,
আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক অনেক ধন্যবাদ আমার খারাপ সময়টায় পাশে থাকার জন্য। ব্লগের মানুষগুলো কোন ফাঁকে যেন কাছের মানুষ হয়ে গেলো।
মাশীদাপু, তোমাকে ব্লগে দেখি না কেন? কিছু লিখো। ছড়াগুলো গেলো কই?
----------------------------------------------------
আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ
১
মন কি বেশি খারাপ??