দেশবিদেশের উপকথা(৪)

তুলিরেখা এর ছবি
লিখেছেন তুলিরেখা (তারিখ: মঙ্গল, ০৫/০৫/২০০৯ - ৮:৩৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

স্ক্যান্ডিনেভিয়ার উপকথা(চলছে)

দেবতারা প্রচুর জ্বালানি বিস্ফোরক সাজিয়ে রেডি হলেন, যেই না চিল লোকী সগ্গের পাঁচিলের উপর দিয়ে ভিতরে ঢুকে পড়েছে, অমনি ওনারা আগুন দিলেন বিস্ফোরকে। থেয়াসের পাখায় আগুন লেগে গেলো। থেয়াস মরে গেলো আর তার চোখজোড়া আকাশে ছুঁড়ে দিয়ে তারা বানিয়ে দিলেন আদিদেবতা অদীন, যাকে কিনা সাহেবরা বলে ওডিন, যার নামে বুধবার।

থেয়াসের মেয়ে সব শুনে অত্যন্ত শোকে কাতর হলো তারপরে তার খুব রাগ হলো, সে অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে স্বর্গের দুয়ারে এলো, যুদ্ধ ঘোষনা করলো। বাপের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে চায়। কিন্তু ওডিন বললেন অনেক রক্তপাত হয়েছে দুইপক্ষে, আর যুদ্ধ নয়। তিনি দেবেন যা ক্ষতিপূরণ চায় দৈত্যকন্যা। দৈত্যকন্যা বললো,"বাবার মৃত্যুর সংবাদ পাবার পর থেকে আমি হাসতে ভুলে গেছি,আমায় হাসি ফিরিয়ে দিন।" অদীন অত্যন্ত সমব্যথীর মতন তাকিয়ে রইলেন, হাসি তিনি ওকে ফিরিয়ে দেবেন কিকরে?

এখানে আবার এলেন লোকী, নানারকম হাসির অভিনয় করে দৈত্যকন্যাকে তিনি হাসালেন। এরপরে দৈত্যকনার স্বয়ম্বরের ব্যবস্থা করলেন অদীন, সব দেবতারা এক ভারী পর্দার পিছনে দাঁড়াবেন, শুধু তাদের পায়ের পাতা আর ঠ্যাঙের কয়েক ইঞ্চি দেখা যাবে, সেই দেখে নির্বাচন করতে হবে দৈত্যকন্যাকে। দৈত্যকন্যা নির্বাচন করলেন ফিওর্ডকে, তার পা ছিলো মর্মরপাথরের মতন সুন্দর মসৃণ, তিনি হ্রদের দেবতা, টলটলে নীল তার চোখ। বিয়ে হয়ে দুজনে চলে গেলেন সমুদ্রতীরে বাস করতে।


কিন্তু এইসব ভালোমন্দ সুখ দু:খ সব চলতে থাকলেও দেবতাদের মনে খুব দু:খ বিষাদ, বালডার নেই বলে। এদের মনমরা ভাব কমাতে এক বড়োলোক দেবতা এক ইয়া জমকালো পার্টি দিলেন,সেখানে সকলে নিমন্ত্রিত, কেবল লোকীর নেমন্তন্ন হয় নি। খানাপিনা গানবাজনা নাচ লাফালাফি চলছে উত্সাহে, সবাই দু:খ ভুলেছেন সাময়িক--এমন সময় সেই লোকী! তিনি এসে যাচ্ছেতাই গালাগাল দিচ্ছেন, সবাইকে নেমন্তন্ন করে আমাকে না করা? দুদিনের উঠতি বড়োলোক হয়ে মাটীতে তোমার পা পড়ে না, না?

দেখতে দেখতে সবাই গরম হয়ে যাচ্ছেতাই গন্ডগোল শুরু হলো, সবাই লোকীর দোষপত্তর বলতে শুরু করলো-এই ব্যাটাই যত নষ্টের গোড়া, এর জন্যেই যত ঝামেলা, শুরু থেকে ঝামেলা এই শুরু করেছে। আগে কত সুখ ছিলো, এখন যে এত দু:খ সব এর জন্যে। এরই জন্যে আমাদের প্রানপ্রিয় বালডারকে হারালুম, এরই জন্যে ইদুনকে হারাতে বসেছিলাম। একে আর বাড়াবাড়ি করতে না দিয়ে কোথাও আটকে রাখা হোক।

শোনামাত্র লোকী চম্পট দিলেন। কিন্তু এইবারে দেবতারা ছেড়ে দেবার পাত্র নন, ছোটো ছোটো দলে ভাগ হয়ে খোঁজ করা শুরু হলো। লোকী পাহাড়ের উপরে ছোট্টো হাইড-আউট বানিয়ে সেখানে ছিলো, কিন্তু ধরা পড়ে গেলো। ওরই তৈরী জাল দিয়ে মাছ হয়ে জলে লুকিয়ে থাকা ওকে তুলে আনলো দেবতারা।

তারপরে ভারী বীভত্স ব্যাপার। অনেক শাস্তি টাস্তি দিয়ে লোকীকে বেঁধে রাখা হলো বিষঝর্ণার নীচে। বিসর্জনের রঘুপতির মতন তখন ও অভিমান করে বললো না, ইদুনকে উদ্ধার করে আনা দেখলে না? আটপা ঘোড়াটা তো তখন দিব্যি নিয়ে নিলে? সেই বেলা? থাক গিয়ে! লোকীর বৌ সিগীন ওর সেবা করার জন্যে কাছে রইলো।

এর পরে আরো অনেক ঝঞ্ঝাট-ঝামেলা হলো, ক্রমেই দৈত্যদানবদের সঙ্গে আরো আরো বেশী ঝগড়া শুরু হলো দেবতাদের। যেমন হয় আরকি। তারপরে শুরু হলো আলো ও অন্ধকারের যুদ্ধ। লোকী বন্দীত্ব থেকে মুক্ত হয়ে দৈত্যপক্ষে লড়তে শুরু করলেন, দেবতা দৈত্যে ঘোর মহারণ শুরু হলো। সেতু পাঁচিল সব ভালো ভালো মহাকীর্তি গুঁড়িয়ে ধুলা-যুদ্ধক্ষেত্রে অসংখ্য মৃতদেহ, একেবারে শেষে দৈত্যরাজের আগুনের অস্ত্র সর্বলোকে আগুন জ্বালিয়ে সব শেষ করে দিলো।

শেষযুদ্ধের পরে আবার নতুন করে সব গড়া হবে। গোল মুখ নিয়ে হাসিমুখে চাঁদ আর সূর্য আবার বেরিয়ে আসবেন। বালডার নতুন হয়ে আসবেন, সকলে ফের নতুন হবে। তারপরে আবার সেই নতুন জগতের নতুন সুখ-দু:খময় কাহিনি ....

(শেষ)

(তাড়াতাড়ি করে শেষ করে দিলাম, একটু ফাঁকিবাজি হলো বটে কিন্তু আমি নিরুপায়। বেশ কিছুদিন ছুটি নিতে হচ্ছে সচলায়তন থেকে,আবার দেখা হবে। সকলে ভালো থাকবেন।)


মন্তব্য

মূলত পাঠক এর ছবি

অদীনের ফুট ফেটিশ ছিলো নাকি, ওই রকম অদ্ভুত সয়ম্বরের ব্যবস্থা?

যাক এবারের ফাঁকিবাজিটা খারাপ লাগলো না, যুদ্ধটুদ্ধ সংক্ষেপে হওয়াই ভালো। তাড়াতাড়ি ফিরুন আপনার হাইড-আউট থেকে, বেশি দেরি করলে কিন্তু সচলেরা জাল নিয়ে বেরিয়ে পড়বে!

তুলিরেখা এর ছবি

এ হে হাইডআউট পাইলেন কই?
হাইডইন করতে গেলাম, সৈয়দ দেলগীর যারে কন ইনার জার্নি , পারলাম কই? অর্ধেক রাস্তা যাইতে না যাইতেই.... হায় আমার কি হবে!
-----------------------------------------------
কোন দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

কদ্দিনের ছুটিতে যাচ্ছেন? আপনা্র লেখা মিস্কর্বো।

তুলিরেখা এর ছবি

যেতে আর পারলাম কই?
কট হয়ে গেলাম! মন খারাপ
-----------------------------------------------
কোন দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

আবার দেখা হবে হাসি
___________________________
বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ

তুলিরেখা এর ছবি

আজকেই দেখা হয়ে গেলো! হাসি
-----------------------------------------------
কোন দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।