ছবিব্লগঃ দূর পাহাড়ের টানে (প্রথম পর্ব) ...

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি
লিখেছেন অনুপম ত্রিবেদি (তারিখ: সোম, ২০/১০/২০১৪ - ৯:৩৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমি পাহাড়প্রেমি মানুষ। পাহাড় এবং পাহাড় জাতীয় সবকিছুই বেশ ভালু পাই (মু হা হা হা হা)। দিগন্ত রেখা বরাবর পাহাড়ের সারি আমাকে মুটামুটি পাগলই করে দেয়। আর কাছে থেকে দেখা তো আরো পরম পাওয়া যেনো! আপাতত জীবনের আলতু ফালতু ব্যাস্ততায় কোথাও খুব একটা যাওয়া হয়ে উঠছে না। জীবন চুষে রে ভাই (লাইফ সাক্স, ব্রো) !! বেশ ক’দিন ধরেই এমন একটা আভাশ পাচ্ছিলাম যে, কোথাও যাওয়া হচ্ছে। আমার খুব ইচ্ছা বান্দরবানে আবারও যাওয়া। যদিও গিয়েছি অনেক বার, কিন্তু বান্দরবানের অসীম দিগন্তজোড়া পাহাড়ের সারি আমায় হাতছানি দেয় বার বার। এতোবার যাবার পরও মন ভরে না, শুধু ছুটে যেতে ইচ্ছে হয় আবারও! সব জল্পনা-কল্পনা শেষে একটা মিটীং হয়েই গেলো যে আমরা বান্দরবান যাবো এন্ড দ্যা ডেসটিনেশন ইজ বগালেক। কিন্তু ঘটনা হলো – কবে যাবো, কয়দিন থাকবো, কবে আসবো – এগুলো নিয়ে। মানে, আসল সমস্যা তো আমার! যেই অফিসে কামলা খাটি সেখানে মালিক পক্ষ আমাকে নিজেদের লোটা-বদনা মনে করে, আহা, আমি এতই আপন গো!! ৫-৬ দিনের ছুটি চাইলে তো ঘটনা গরম হতে পারে !! কিন্তু কি এক তামশা যে, এমন কিছুই ঘটলো না! চোখের নিমিশে মিলে গেলো ছুটি, তাও আবার পাক্কা ৬ দিনের!!! মেঘ না চাইতেই দুনিয়া ভাঙ্গা তুফান !!!!

আমাদের টিমটা ছিলো ভয়াবহ মজার, সবার মধ্যে শুধু এডভেঞ্চার না, হুল্লোড় করারও প্রবনতা আছে। এবার পরিচয় করিয়ে দেই তাহলে, এদের সবাই আমার খিলগাঁওয়ের ছোটো ভাই আর আমি হলাম সবচেয়ে বুইড়া ...

১) দ্যা হাট্টিমাটিম টিম-

বাঁ থেকে প্রথমেই রাব্বি – একটি ব্যাংকের আইটি ডিপার্টমেন্টে কামলা খাটে, এবং ফটোগ্রাফিটা তার কাছে একটা অনেক বড় নেশা। পুরোটা ট্যুর জুড়ে সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা-রাত-ভোর সে তার ক্যামেরা আর ট্রাইপড নিয়ে আমার ছায়া সঙ্গী ছিলো এবং যথারীতি আমার প্রবল গরম মেজাজের সবচেয়ে বড় তাপ ভোগী! তারপর আমি – দ্যা বুইড়া বেডা। আমার পেছনে নোমান – দ্যা টাইগার! কেনো টাইগার, কি তার কারণ সেটা বলা যাচ্ছে না, কিন্তু বিশাল শরীর নিয়ে একটা বাচ্চা মানুষের মনকে সে লালন করে তার ভেতরে। মাঝে মধ্যে পিছলে পড়ে যাবার ঐতিহ্যবাহী ইতিহাসের ধারক। তারপর রনি, অফুরান প্রাণশক্তিতে ভরপুর একটা ছেলে এবং এইটাইপ মানুষগুলো যেমন হয়, ঠিক তেমনই ডোন্ট কেয়ার কেটাগরির। সারা ট্যুরে মজা করার কোনো একটা চান্সও সে ছাড়েনি। এরপর বাঁশে ভর করে দাঁড়িয়ে আরিফ, দ্যা লোহার গ্রিলস (নামের কারন, বলা বারণ)। এই ছেলেটিও প্রাণশক্তিতে ভরা একজন ডোন্ট কেয়ার ফেমেলির সদস্য এবং এ্যডভেঞ্চারই তার জীবনের মূল পাথেয়। পথিমধ্যে একবার হোচট খেয়ে আরেকটু হলে আমাকে হার্ট এ্যাটাকেই ফেলে দিয়েছিলো বেটা! সবার শেষে কুমার (চীরকুমার নয়!), আমাদের টোটাল টিম এন্ড ট্যুর ম্যানেজার। খুব ঠান্ডা মাথার গোছানো বালক, ফটোগ্রাফিটাকে সে খুব ফিল করে কিন্তু জানেনা ঠিক কোথায় যাবে! তার গানের গলা মাশাল্লাহ, বেশ ভালো। সাতটা দিনের ট্যুরে আমরা এই ছয়টা পাগল একেবারে ভাইয়ের মতোই মশে ছিলাম এক আত্মায়! ভ্রাতৃত্ববোধের গভীর আনন্দটা অনেকদিন পর যেনো পেলাম।

প্ল্যান ফাইনাল, ২৪ মার্চ ২০১৪ রাতের বাসে সোজা বান্দরবান। সে কথা মতোই একে একে সবাই হাজির হতে থাকলাম কুমারের বাসায় আর সেই সাথে চললো আমাদের ব্যাকপ্যাকের ওজন করা। কিন্তু যখনই নোমানের ব্যাগ ওজন করা হলো দেখা গেলো সেটা ১৫ কেজি!!! শুধু কাপড় আর ব্যাবহার্য জিনিশ নিয়েই ১৫ কেজি, অথচ আমার দুইটা বিশাল ক্যেমেরা, ৪টা ল্যান্স, জামা-কাপড় সব সহ মাত্র ১২ কেজির ব্যাগ! কিন্তু, সারা ট্যুরে সেই ১৫ কেজি ব্যাগের মহা উপকার আমরা পেয়েছি। কারন খেজুর, গ্লকোজ, বিস্কুটের একটা চলন্ত ডিপো ছিলো ঐ ব্যাগ। কুমারের বাসায় রাতের খাবার সেরে কমলাপুর বাসস্ট্যান্ডে এসেই আমরা আমাদের মতো আড্ডাফাইয়িং শুরু করলাম এবং সেই সাথে চললো বাস কোম্পানির নামে গীবৎ, কারন তারা সারাজীবন কেবল লেটই করে গেলো! কিন্তু কিছুক্ষণ পর কাউন্টারে লোকজনের হৈচৈ শুনে মনে হলো কিছু একটা হয়েছে, কাছে গিয়ে জানতে পারলাম যে বান্দরবান যাবার বাসের ৬ জন যাত্রী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! এবং যখন ঐ কাউন্টারের লোকজন আবিষ্কার করলো যে, আমরাই সেই ৬ কালপ্রিট, তখন গরুর মতো দাবড়ানি দিয়ে আমাদের বাসে তোলা হলো। শুরু হলো যাত্রা ... ইয়াআআআআআ ...

সকাল বেলা পৌছে গেলাম বান্দরবান শহরে। সেখানে জামান হোটেলে নাস্তা সারার ফাকে পরিচয় হলো আমাদের গাইড বিকাশ দত্তের সাথে। যার গুনাগুন বর্ণনা করার জন্যে আলাদা একটা ব্লগই লিখতে হবে। ঐ পাহাড়ে গিয়ে এতো একটা কেয়ারিং মানুষের সাথে পরিচয় হবে, ভাবতেও পারিনি। যেখানে অন্যান্য গাইডগুলোকে দেখেছি গেষ্টদের রেখে বিন্দাস নিজের মতো ঘুরতে বা পাহড়ি পথ নিয়ে ভয় দেখাতে, সেখানে বিকাশ পুরোই উলটো। সারাক্ষন আমাদের নিয়েই রাজ্যের যতো ব্যাস্ততা তার আর সেই সাথে একটু কষ্ট করে হাঁটতে পারলেই এই বান্দরবানের সৌন্দর্য দেখা যাবে - এই আশ্বাস।

২) বিকাশ 'দ্যা বিক্কু ম্যান' -

সকালের নাস্তা সেরে উঠলাম বাসে, গিয়ে পৌছলাম রুমা ঘাট। সেখান থেকে চান্দের গাড়িতে করে রুমা বাজার আর্মি ক্যাম্পে এন্ট্রি করলাম এবং একটা জিপ ভাড়া করে সোজা বগালেক আসার ইচ্ছা থাকলেও রাস্তা খারাপের কারনে কমলা বাজার, লদুংগ্রি পাড়ায় নেমে যেতে হলো। সেখান থেকেই শুরু হয়ে গেলো আমাদের পাহাড়ে উঠার অভিযান। প্রায় তিন বছর পর পাহাড়ে গেলাম, এর মধ্যে ঠিকমতো একটু হাঁটাও হয়নি। সুতরাং যা হবার তা'ই হলো, প্রাণ উষ্ঠাগত!! তবুও কোনোমতে হেঁচড়-পেঁচড় করে এলাম বগালেক এর পাড়ে। এই অবস্থায়ও বগালেকটা চোখে সামনে দেখেই সব ক্লান্তি যেনো জুড়িয়ে গেলো! সেখানেও আর্মি ক্যাম্পে এন্ট্রি করতে হলো। তখন ঐ ক্যাম্পের এন্ট্রির দায়িত্বরত আর্মির লোকটি মোবাইলে মহা মৌজে প্রেম করছিলো, আহা সে কি রসালো কথোপকথন গো! তারপর সবাই চলে এলাম বগা লেগের উত্তর অংশে ২৫-৩০টি পরিবার নিয়ে তৈরি খেনারি পাড়া'র একটা দোতলা কটেজে, খুব পরিপাটি, খুব সুন্দর। বগা লেকের এই পাড়ায়ই মুলত পর্যটকদের থাকার জন্যে ব্যাবস্থা আছে। দক্ষিন দিকের ৪-৫টি পরিবারের ছোট্ট একটি পাড়ার নাম মং টুইং চিং পাড়া আর তার থেকে আরো একটু দক্ষিনে নীচে নেমে গেলে প্রায় ১৮-২০ টি পরিবারের থু টাইং জো পাড়া। পাহাড়ি মানুষের সাজানো গোছানো পাড়া গুলো দেখে বেশ ভালো লাগলো। শুধু শান্তির মধ্যে চরম অশান্তি হিসেবে পেলাম খেনারি পাড়ায় কিছু গাড়ল পর্যটকদের ইতরপণা।

৩) পাহাড় বেয়ে উঠলে প্রথমেই বগালেকের যে ভিউ দেখতে পেলাম -

৪) খেনারি পাড়ার একটি প্যানারোমা -

৫) আরেকটু খেনারি পাড়া -

৬) লেকের পাড়ে মং টুইং চিং পাড়া -

৭) পাহাড়ের উপর থেকে দেখা থু টাইং জো পাড়া -

সেখানে পৌছে আমরা যে যার মতো ব্যাগ রেখে ঝাপিয়ে পরলাম বগা লেকের পানিতে, শান্তি, শান্তি, শান্তি ... সন্ধ্যায় খেলাম দুপুরের খাবার - ভাত, জুম মরিচ দিয়ে বানানো আলু ভর্তা, ডিম ভাজি আর টমেটোর সালাদ, আহা অমৃত! রাতে আমাদের আপ্যায়িত করা হলো বিকাশের নিজস্ব সিসটেমে করা মুরগির বারবিকিউ দিয়ে আর সাথে ছিলো বিশেষ 'টাইগার'! তবে এখানে বলে নেয়া ভালো যে, এতো মজার বারবিকিউ আমি আজঅব্দি কোথাও খাইনি, ইটস মোর দ্যান অসাম এন্ড ইয়াম্মি!

রাতে শুরু হলো আমাদের লং-এক্সপোজার এক্সপেরিম্যান্ট গুন্ডামি। আশে-পাশে কেউ গেলেই গলা উঁচু করে চিৎকার - ভাই লাইট জ্বালাবেন না, ছবি তোলা হচ্ছে। মানুষগুলোর রিএ্যকশন দেখার মতো হচ্ছিলো। কেউ কেউ দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলো পাগলামি দেখার জন্যে, কেউ কেউ তীর্যক মন্তব্য ছুড়ে দিচ্ছিল - এই অন্ধকারে কিসের ছবি? আবার কারও আগ্রহ আরও এক ডিগ্রি উপরে - ভাই, দেখি কি ছবি তুললেন! তবে সবচেয়ে মজা হয়েছিলো রাত ৪টায় আমি আর রাব্বি গেলাম বগালেক ঢুকার মুখে যেই পাহাড় তার উপরে লং শাটার কসরত করতে। কিছুক্ষন পর আর্মি ক্যাম্প থেকে চিৎকার করে জানতে চাওয়া হলো আমরা কারা আর এতো রাতে ওখানে কি করছি। আমি জোর গলায় উত্তর দিলাম - ছবি তুলি। শুরু হলো মুহুর্মুহু টর্চ মারা, আর চিৎকার - ঐ আপনারা কারা, এদিকে আসেন, ওখানে কি করেন? দিলাম ঝাড়ি কড়া করে - ঐ, টর্চ বন্ধ করেন, এইখানে এসে দেখে যান কি করি! সে এক বিশাল মজার সিচুয়েশন। তিনজন তাগড়া জোয়ান টর্চ মারতে মারতে এলো, তবে কাছে নয়, একটু দূর থেকেই জিজ্ঞেস করলো - আপনারা কারা, এখানে কবে এসেছেন, কি উদ্দেশ্যে এসেছেন, এতো রাতে এখানে কি করেন ইত্যাদি। যাই হোক বহু কাঠ-খড় পুড়িয়ে তাদের পুরো ব্যাপারটা বোঝানো হলো। কিন্তু ততক্ষনে ছবি তোলার সব ইচ্ছা মাঠে মারা ... তারপর ভোরের কিছু ছবি তুলে দিলাম ঘুম।

৮) সন্ধ্যার বগালেক -

৯)

১০) শেষ আলোতে নিঃসঙ্গ জুম ঘর -

১১) স্টার ট্রেইল এন্ড বগালেক-

১২) স্টার ট্রেইল এন্ড একাকী বৃক্ষ -

১৩) স্টার ট্রেইল এন্ড একটা নষ্ট ট্রাক (পেছনে জুমের আগুনের আভা) -

১৪) ভোরের আলো ফুটছে -

১৫) ভোরের আলোয় একাকী নৌকা -

১৬) ভোরের আলোর বিমুগ্ধ দর্শক -

১৭) রঙ্গীন আলোর খেলা -

১৮)

ঘুম থেকে উঠে সকালে খেনারি পাড়া আর মং টুইং চিং পাড়ায় হেটে, আসে-পাশের পাহড়ে হালকা দস্যুপনা করে আর ওখানের লোকজনের সাথে কথা বলে সময় পার করে দিলাম। সেদিন ছিলো ২৬ মার্চ,২০১৪, সারা বাংলাদেশে একই সাথে আমাদের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার একটা আহবান ছিলো। পাহাড়ের উপর থেকে শুনলাম নীচের একটা স্থানীয় স্কুলে সবাই মিলে গাইছে, আমরাও পাহাড়ের ওপর থেকে গলা মেলালাম। বিকেলে বিকাশ, আরিফ, কুমার, নোমান আর রনি গেলো বাদুর গুহা দেখতে, আমি আর রাব্বি ওখানেই রয়ে গেলাম। রাত হলে পরে আবার চললো আমাদের লং-এক্সপোজার নিয়ে কারিকুরি। তবে একটু তারাতারিই শেষ হলো আমাদের কারিকুরি, কারন ভোরে উঠেই রওনা দিতে হবে পুকুরপাড়ার উদ্দেশ্যে। হাঁটা পথে প্রায় ৭-৮ ঘন্টা পাহাড় বেয়ে যেতে হয় ওখানে। সুতরাং রাতে ভালো করে ঘুমিয়ে স্ট্যামিনা জমিয়ে নিতে হবে সকালের সেই অভিযানের জন্যে।

১৯) মং টুইং চিং পাড়ার পাশের পাহাড়ের উপর থেকে বগালেক -

২০) খেনারি পাড়ার ঘাট থেকে বগা লেক (প্যানারোমা) -

মং টুইং চিং পাড়ায় ক্লিকিং -

২১)

২২)

২৩) ছবি তুলতে চাওয়ায় সে কী হাসির রোল -

২৪) নাহ, হাসি আর থামলোই না -

এবার খেনারি পাড়ায় ঘুরে বেড়ানোর সময় কিছু ক্লিকিং -

২৫) গভীর মনোযোগে চলছে বুননের কাজ -

২৬) বাবা - মেয়ে -

২৭) মায়ের সাথে এই পিচ্চিও কাজে হাত লাগালো -

২৮) পিচ্চি -

২৯) পিচ্চি -

৩০) পিচ্চি -

৩১) জুমের জন্যে পাহাড়ে আগুন -

৩২) বগালেকের পাড়ে জুমের ধোয়া -

৩৩) জুমের ধোয়ায় খেনারি পাড়া -

৩৪) পাহাড়ের বুকে ছোট্ট একটা জুম ঘর -

৩৫) বগালেক থেকে পুকুর পাড়া রওনা হবার জন্যে প্রস্তুত হাট্টিমাটিম টিম -

... চলবে ...


মন্তব্য

মাসুদ সজীব এর ছবি

ঠিক একই দিনে আমিও তো বান্দরবান গিয়েছিলাম চিন্তিত । যদিও আমার রুট ভিন্ন ছিলো। থানচি-সাকাহাফং-বেলাকুম-নাইক্ষ্যংকুম-আমিয়াকুম-নাফাকুম-রিমাক্রি বাজার হয়ে ফিরেছি। সচলে সেটা নিয়ে পোষ্ট ও ছিলো।

সচলে যাদের ছবি আমায় মুগ্ধ করে তাদের মাঝে আপনি অন্যতম, তাই আপনাকে হিংসে চোখ টিপি । ছবি এখানেও অসাধারণ হয়েছে, লেখাও তাই। পরের পর্বের অপেক্ষায়। শুভেচ্ছা হাসি

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

ধন্যবাদ।

এইতো কিছুদিন আগে হুদহুদের তান্ডবের সময় ভয়ংকর রুপ দেখে এলাম আমিয়াখুম, নাইক্ষুম, নাফাখুমের। সেটা নিয়ে লেখা আসছে। আপনার লেখাটা দেখে মনে হলো আবারও শীতে যাবো বলে যে মনস্থির করেছি, তা এক্কেবারে ঠিক! তবে আমাদের রুট ছিলো রুমা দিয়ে ঢুকে থানচি দিয়ে বেরিয়ে আসা।

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

নজমুল আলবাব এর ছবি

সুন্দল্লাগের

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

দেঁতো হাসি থেঙ্কু প্রিয় বাউল ...

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

অদ্ভুত সুন্দর!!!

আর ফূর্তিও করছেন মন ভইরা। কি যে কমু!

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

ধন্যবাদ।

হুম, সেরাম ফূর্তি করলাম পুরা ট্যুরে।

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

মরুদ্যান এর ছবি

শব্দটা 'প্যানারোমা' না 'প্যানোরামা'।

ছবির জন্য আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ।

শব্দটা আসলে 'প্যানোরামা', আমি ভুল করে প্যানারোমা লিখে ফেলেছি! শুধরে নিচ্ছি।

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

মেঘলা মানুষ এর ছবি

মনটা কেমন কেমন হয়ে গেল ছবিগুলো দেখে, এতসুন্দর কেন জায়গাগুলো!

অন্ধকারে ছবি উঠানোর গল্প শুনে মজা লাগলো।
শুভেচ্ছা হাসি

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

আসলেই বাংলাদেশটা অনেক অনেক সুন্দর।

হুম, এই ট্যুরের আরো কতো গল্প তো বলাই হলো না

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

৩০ নাম্বার ছবির হিরুরে জলদি হলিউডে পাঠানোর ব্যবস্থা করো!

লেকটার অবস্থা তো বিশেষ কাহিল বলে মনে হচ্ছে। পর্যটক যাওয়া সীমিত করতে না পারলে বা বছরে একটা/দুইটা নির্দিষ্ট মৌসুম বন্ধ না রাখলে বিপদ আছে। আরো দরকার ঠিক লেকের পাড়ে বাস করা অধিবাসীদের একটু দূরে পুনর্বাসন করা।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

ভাই, পিচকিটা জবর সুইট।

হ, বগালেকের অবস্থা এখন প্রায় ধানমন্ডি লেকের কাছাকাছি। আর একটা বছর যাইতে দেন, দেখবেন এক্কেলে রামপুরা খাল বানায়া ফালাইবো পাবলিকে। পর্যটনে আগ্রহী করারই কোনো পদক্ষেপ নাই সরকারের আবার থামাইবো ক্যামনে??

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

শান্ত এর ছবি

বরাবরের মতোই সবগুলো সুন্দর সুন্দর আর সুন্দর। হবে ৮ নম্বর ছবিটা গুরু গুরু

__________
সুপ্রিয় দেব শান্ত

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

ধন্যবাদ শান্ত দা

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

অতিথি লেখক এর ছবি

ছবিগুলো ঠিকমত দেখা যাচ্ছে না। ১০, ১৪, ২০, ২৩, ২৫ , ২৭, ৩১ , ৩২, ৩৪ দারুন।

আভাশ, মিটীং, নিমিশে, যেনো, ক্যেমেরা, বগা লেগের, ইতরপণা

কিছুই না, তবে পাঠকের মনোযোগকে সামান্য হলেও বিঘ্নিত করে।

সন্ধ্যায় খেলাম দুপুরের খাবার - ভাত, জুম মরিচ দিয়ে বানানো আলু ভর্তা, ডিম ভাজি আর টমেটোর সালাদ, আহা অমৃত!

আলু ভর্তা, ডিম ভাজি এমনিতেই প্রিয়, তবে ভ্রমনে গেলে বুঝি সত্যি অমৃত লাগে, যেকোন খাবারই। খাদ্যের সাথে পরিবেশের এই সম্পর্কটা ভেবে দেখার মত।

যেই অফিসে কামলা খাটি সেখানে মালিক পক্ষ আমাকে নিজেদের লোটা-বদনা মনে করে

সার্বজনীন।
.....
রৌদ্র

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, রৌদ্র।

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

হাততালি চলুক পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

খাইছে আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- চোখ টিপি

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

খুব সুন্দর। বাচ্চাদের জন্য দূরে কোথাও যাওয়া হলো না। ভাবি, এরা আর একটু বড় হোক তারপর যাবো। কবে যে বড় হবে!

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

এরা বড় হতে হতে আপনি বুড়ো হয়ে গেলে তো সেরাম সমিস্যা!!

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক অনেক ভালো।

ছবিগুলো অসাধারণ!

শুভকামনা অনিঃশেষ।

দীপংকর চন্দ

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ।

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

Sohel Lehos এর ছবি

ছবিগুলো অসম্ভব সুন্দর! চলুক

পাহাড় আমারও প্রিয়। সমুদ্র থেকে পাহাড় আমাকে অনেক বেশি টানে। কয়েকদিন আগে আমি নিজেও পাহাড়/পর্বত দাবড়িয়ে এলাম। হাজার তিনেক ছবি তুলেছি। এখন লুঙ্গি কাছা দিয়ে একখান ভ্রমণ কাহিনী লেখার জন্য উঠে পড়ে লেগেছি। কোনমতে লেখাটা সাইজ করতে পারলে সচলে দেব আশা করছি হাসি

সোহেল লেহস
----------------------------------------------
হে দূর্দান্ত ভাবনারা, হেয়ালি করো না। এসো এ বাহুডোরে।

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

ধন্যবাদ।

আরে, তারাতারি লুঙ্গি এক্কেবারে গিট মেরে লেখা নামিয়ে পোস্টিয়ে ফেলুন।

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

আয়নামতি এর ছবি

কিছু ফটুক এত সুন্দর যে গপাগপ খেয়ে ফেলতে ইচ্ছা করলো চলুক
ভাগ্যিস শেষের ফটুকটা দিয়েছিলেন, নইলে আপনার প্রথমের বর্ণনার সাথে বসে থাকা টাইগারের মিলই পাচ্ছিলাম না দেঁতো হাসি
তবে আপনি বেশ বুইড়া কিন্তু! এতদিন ভাবতেম আপনি কচিখোকাটি খাইছে
একটা অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করি? এই যে ৬জন লুক আপনারা ভ্রমণে গেলেন কখনো সখনো ক্যাচাল লাগে?
মানে মন কষাকষি? ও কেন অমন কর্লো! কেনু ঐরাম বল্লো টাইপ??
আমাদের ত্রিবেদী ভাবীও তো দারুণ ফটুরে তার ফটুক তোলা দেখিনা অনেকদিন।
ভালো থাকুন।

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

হুম, ইহা হয় আসলেই টাইগার। আমি আসলে কাগজে-কলমে অনেক বুইড়া, মাগার সত্যি করে বলছি, এখনও কচি খোকাটিই রয়ে গেছি ... হুম ... চোখ টিপি

আসলে আমরা এতোটাই আডভেঞ্চারে ব্যাস্ত থাকি যে, ওগুলো নিয়ে ভাবার ফুরসৎ পাই না। কেবল ঐ এডভেঞ্চার আর ফটোগ্রাফি নিয়েই আমরা পড়ে থাকি আর কি!!

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

শাব্দিক এর ছবি

অমানুষিক ছবি!
হিংসা জ্ঞাপন করে গেলাম মন খারাপ

---------------------------------------------------------
ভাঙে কতক হারায় কতক যা আছে মোর দামী
এমনি করে একে একে সর্বস্বান্ত আমি।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।