ঢাকা থেকে ১১: মানুষ কিংবা জানোয়ার

অমিত আহমেদ এর ছবি
লিখেছেন অমিত আহমেদ (তারিখ: শুক্র, ৩১/০৭/২০০৯ - ৬:১১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ছেলেবেলার একটা গল্প বলি। থাকতাম মধ্য পীরেরবাগ, মিরপুর। এলাকাটা তখন আক্ষরিক অর্থেই সুজলা সুফলা শস্য-শ্যামলা। ফলজ আর ওষধী গাছের সারি, তার ফাঁকে ফাঁকে শাপলা-শালুক-কচুরিপানা ভর্তি পুকুর। কাঁচা রাস্তার দু'পাশ জুড়ে ওয়ালী মিয়ার জমিতে সবুজ ঝির ঝিরে ধানি বাতাস। আহ!

সেদিন বিকেলে আমি গেছি পুকুর পাড়ে। গিয়ে দেখি বস্তির চার-পাঁচজন আমার বয়সী ছেলে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওদের সাথে বোম্বাস্টিক আর সাতচারা খেলি। সবাই চেনা। আমার আগ্রহ হয়। ব্যাপার কী? সবাই এক সাথে দাঁড়িয়ে কী করে? আমি ঠেলে-ঠুলে ওদের মাঝে ঢুকি। যা দেখি তাতে আমার মাথা ঘুরে যায়।

সবাই মিলে একটা জ্যান্ত ব্যাঙ ধরে এনেছে। আমার সামনেই সেই ব্যাঙের দুই পা টেনে ওরা হড়-হড় করে ছিঁড়ে ফেলে! ব্যাঙের হা করা মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হয় না; ঠোঁট দু’টো কেবল থর থর কাঁপতে থাকে। আমি হতভম্ব ভাব কাটিয়ে চিৎকার করি, "এইটা তোরা কী করলি?" ওরা ভাবে আমি ভয় পেয়েছি। দাঁত বের করে বলে, "আরে এমন ব্যাঙ কত্তো আছে!"

আরেকবার, কলেজের পাট শেষে, এক দোকানে বসে কলা-বন খাচ্ছি। দেখি বাচ্চা একদল ছেলে-মেয়ে একটা চড়ুইছানা ধরে এনেছে। সেই নিয়ে ওদের মধ্যে খুব আমোদ চলছে। চড়ুইয়ের এক পায়ে সুতা বেঁধেছে আর সেই সুতার অন্যপ্রান্ত ধরে বন-বন করে ঘোরাচ্ছে। মাঝে মাঝে আবার পাখিটাকে একে অন্যের গায়ে ছুঁড়ে মারছে। আমি দৌঁড়ে গিয়ে কোনো মতে ওদের থামাই।

আরেকবার, যাচ্ছি রাজশাহীতে। বাস থেমেছে নাটোরে। সেখানে নেমে ভাবছি কাঁচাগোল্লা খাবো। এমন সময় একটা দৃশ্য দেখে খাবার রুচি উবে যায়। একটা কুকুর। বটগাছের নিচে পুরানো ময়লা বস্তার মতো পড়ে রয়েছে। সারা গা জুড়ে দগদগে ঘা।

জিজ্ঞেস করে জানলাম ক'দিন আগে কোনো এক দোকানী এর গায়ে ফুটন্ত পানি ঢেলে দিয়েছে! সেই যে গাছের নিচে এসে শুয়েছে, আর নড়েনি। আমি কুকুরের চোখের দিকে তাকাই। সেই চোখে যন্ত্রনা ছাড়া আর কিছু নেই। এক চুল নড়লেও প্রচন্ড ব্যাথা, তাই হয়তো একদমই নড়ে না। আমি একটা রুটি কিনে মুখের সামনে দেই। কুকুরটা খাবারের দিকে চেয়েও দেখে না। সে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে। আমার অসহ্য লাগে। মনে হয় সাথে একটা পিস্তল থাকলে এই যন্ত্রনা থেকে ওকে মুক্তি দিতে পারতাম।

আজ কেনো বলছি এসব? কারণ, সেদিন একটু দূর থেকেই দেখলাম এক গাড়িচালক ইচ্ছে করে শুয়ে থাকা কুকুরের উপর গাড়ি চালিয়ে দিলেন। ভাগ্য যে গাড়ির চাকা পড়েছিলো কুকুরের পায়ে। আমাদের কয়েকজনের চিৎকার উপেক্ষা করেই তিনি গাড়ি সেই অবস্থাতে রেখে খানিকক্ষণ অপেক্ষা করলেন। আশে-পাশে সবার মুখ হাসি-হাসি। কুকুরের যন্ত্রনাক্লিষ্ট আর্তনাদে যখন টেকা দায় হয়ে পড়লো, তখন তিনি যেনো অনিচ্ছা সত্বেই গাড়িটা সাঁ করে চালিয়ে চলে গেলেন। আর বেচারা কুকুর, বেঁকে যাওয়া মোচড়ানো পা নিয়ে তিন পায়ে কোনো মতে পালিয়ে বাঁচলো।

সেদিনের পর থেকেই আমি লক্ষ্য করে যাচ্ছি - ঢাকায় যেসব কুকুর আছে তাদের অনেকেরই পা বাঁকানো, কিংবা ভাঙা। অনেকের গায়ে দগদগে ঘা। আরেকটার দেখলাম গায়ে কালশিটে পরা, বোঝাই যায় রড কিংবা ওইরকম কিছু দিয়ে পেটানো হয়েছে। রাস্তায় বেড়াল তো এখন বলতে গেলে একদমই দেখতে পাই না। আগে গাছে কাঠবেড়ালি দেখতাম, পাখির বাসা, একটু জংলা জায়গায় গুঁইসাপ। এসব কোথায় গেলো?

প্রানীজগতের প্রতি আমার মমতা জন্মগত। আমার পোষা কুকুর ছিলো দু'টো। একটা খলশে মাছ। মুনিয়া পাখি ছিলো চারটা, যাদের এক পর্যায়ে ছেড়ে দিয়েছিলাম। ব্যাঙও পুষেছি। আমার ধারণা আমার এই মমতা এসেছে আমার দাদা আর নানার কাছে থেকে। দাদা গরু, ছাগল, মুরগি, ইত্যাদি পালতেন। আমি দেখেছি কী মমতা নিয়েই না তিনি পশুগুলোর যত্ন নিতেন। আর নানা পেলেছেন কুকুর, কথা বলা ময়না, বেড়াল, বানর, ইত্যাদি। আমি নিশ্চিত যে, খুঁজলে দেখা যাবে কম-বেশি আমাদের সবার দাদা-নানাই পশু-পাখি পেলেছেন।

আমি বলছিনা আমরা সবাই বর্বর। এর বিপরীত চিত্র অবশ্যই আছে। তবুও। আমরা কৃষিপ্রধান দেশের মানুষ। জন্ম থেকেই আমরা মানুষ ও পশুর সহাবস্থান দেখে এসেছি। তাহলে কেনো এক-টুকু বর্বরতাও অতিথিপরায়ন ও সংস্কৃতিমনা হিসেবে পরিচিত কৃষক-বাউল-কবি-মাঝি কেন্দ্রিক বাঙালির মধ্যে থাকবে?

© অমিত আহমেদ


মন্তব্য

রণদীপম বসু এর ছবি

মানুষ হচ্ছে প্রাণীজগতের হিংস্রতম প্রাণী। অন্য প্রাণী আত্মরক্ষার তাগিদে হিংস্র হয়ে ওঠে, আর মানুষ তার বর্বর আনন্দ প্রকাশ করে হিংস্রতার মধ্য দিয়ে। অন্য প্রাণীদের নিজস্ব জগতে তাদের ভাষা বা উপলব্ধি সম্পর্কে জ্ঞাত নই আমি। তবে ধারণা করি তাদের নিজস্ব জগতে নিকৃষ্টতম প্রাণী হিসেবে গণ্য করা হয় মানুষকেই। আমার তো বিশ্বাস অন্য প্রাণীরা তাদের বখে যাওয়া স্বজাতিকে নিকৃষ্ট গালিটা দেয় 'মানুষের বাচ্চা' বলে !

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

অমিত আহমেদ এর ছবি

এমন মাঝে মাঝে আমারো মনে হয়। আমি প্রানী হত্যার বিপক্ষে নই। খাদ্য কিংবা বস্ত্রের জন্য আমরা খাদ্য শেকলের উপরের প্রানীরা তো শিকার করবোই। কিন্তু নিছক বিনোদনের জন্য পশু নিধন এবং পশু নির্যাতনের কোনো ক্ষমা নেই। ধন্যবাদ রণ'দা।


ওয়েবসাইট | ব্লগস্পট | ফ্লিকার | ইমেইল

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

ইশ।তোমার অবজারভেশন খুব পরিস্কার অমিত। পশুপাখি আমাদের দেশে "পেট" নয় "পেস্ট" হিসেবে গন্য করা হয়। এদরকে যারা ভালোবাসেনা মানুষকেও তারা ভালোবাসতে পারে কি?

অমিত আহমেদ এর ছবি

এটা খুব ভালো প্রশ্ন করেছেন পিপি'দা।
আমার তো মনে হয় না।


ওয়েবসাইট | ব্লগস্পট | ফ্লিকার | ইমেইল

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

দারুণ লেখা চলুক

দময়ন্তী এর ছবি

কিচ্ছু বলার নেই৷
----------------------------------------
"নিভন্ত এই চুল্লিতে মা
একটু আগুন দে
আরেকটু কাল বেঁচেই থাকি
বাঁচার আনন্দে৷'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

যুধিষ্ঠির এর ছবি

আমাদের দেশে বা সংস্কৃতিতে এই অ্যানিম্যাল রাইটস ইস্যুতে সচেতনতার ভয়াবহ অভাব দেখতে পাই। অনেক আধুনিক শিক্ষিত মানুষের মধ্যেও। বুঝিনা কেন। অথচ "জীবে দয়া করে যেইজন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর" বা "জীবহত্যা মহাপাপ" এগুলোতো আমাদেরই সংস্কৃতি, কারো চাপিয়ে দেয়া নয়।

অ্যানিম্যাল রাইটস বা হিউম্যান রাইটস বলুন, প্রতিবন্ধীদের অধিকার, হিজড়াদের অধিকার, পরিবেশ সচেতনতা - যাই বলুন না কেন সব কিছুতেই কেন যেন কেউ এনজিও খুলে আমাদের শিখিয়ে না দিয়ে যাওয়া পর্যন্ত আমরা বা আমাদের নীতিনির্ধারকেরা নাক গলাতে চাই না।

বিষয়টি তুলে আনার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

দুষ্ট বালিকা এর ছবি

কিছু বলার নেই। দেখি, কষ্ট পাই, ভুলে যাই। কখনও কিছু করিনি। মনে হয়না কখনও কিছু করব!

--------------------------------
কাঠবেড়ালি! তুমি মর! তুমি কচু খাও!!

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

কিছু বর্বরতা আমরা পুষেই রাখি।
যে লোকটা কুকুরকে চাপা দিল, সে তো বদমাশ, কিন্তু আশপাশের একটা লোক্ও কোনো প্রতিবাদ তো করল না, বরং হাসল... কেমন ব্যাপার!
--------------------------------------------------------
বুদ্ধিমানেরা তর্ক করে, প্রতিভাবানেরা এগিয়ে যায়...

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

অমিত আহমেদ এর ছবি

সবাই কিন্তু না। আমরা দু'তিন জন দূর থেকেই চিৎকার করেছিলাম। তবে সেটা গনায় না নেবার মতোই। এছাড়া আর সবাই মজাই পাচ্ছিলো। আশাপাশে লোক কম ছিলো না। ৮/১০জন লোক তো একদম কাছেই দাঁড়ানো ছিলো। আরেকটু দূরে, আমরা যেখানে ছিলাম, সেখানে থই থই মানুষ।


ওয়েবসাইট | ব্লগস্পট | ফ্লিকার | ইমেইল

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

মানুষ নিয়া কিছু বলার নাই... কোরবানীর ঈদে রীতিমতো পালায়া থাকতে হয় আমার।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

জাহিদ হোসেন এর ছবি

আপনার এই সিরিজটি মনোযোগ দিয়ে পড়ছি (যদিও সব সময় মন্তব্য করা হয়ে ওঠেনা)। গেল বছর আমি দিন দশেকের জন্যে দেশে গিয়েছিলাম, এবং তার বিবরণও লিখেছিলাম অন্য ব্লগে। আমি অবাক হয়ে দেখছি যে আপনার দৃষ্টিতে কত কিছু এসেছে, যার কোনকিছুই আমি দেখতে পাইনি (বা চাইনি)।
আমি নিজে পশুপাখি পছন্দ করিনে (যদিও মানুষ হয়েছি কুকুর, বেড়াল, হাঁস-মুরগী ওয়ালা পরিবেশে), কিন্তু তাই বলে ওদের প্রতি নিষ্ঠুরতা সহ্য করতে পারিনে। আসলে এখন বাংলাদেশের লোকেরা এতখানি নিষ্ঠুর সময়ে বসবাস করে, যে সবাই এইসব ব্যাপারে ভীষণ ইনডিফারেন্ট। কারো কোন কিছুতেই কিছু যায় আসে না। আজকাল মানুষ গাড়ীতে চাপা পড়লেই বা ক'জন ঘাড় ঘুরিয়ে তা দেখে বলুন?
আশাকরি দেশে আপনি অনেক ভালবাসাময় জিনিসও দেখবেন।
_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।

অমিত আহমেদ এর ছবি

আমার একটা সিরিজ ছিলো আমার ব্যক্তিগত ব্লগে, নাম ছিলো "সহসা ভালোবাসা"। বিপদের সময় একদম অচেনা-অজানা মানুষ, যাঁরা বিপদে-সংকটে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে সেই সিরিজ। দেশে সেই ভালোবাসা এখনো আছে। আছে বলেই দেশটা টিকে আছে। তবে প্রতিবার দেশে এসে ভালোবাসা নতুন করে অনুবাদ করে নিতে হয়। এবং দিন দিন এই ভালোবাসার ভাষা এতোই দুর্বোধ্য এবং ঝাপসা হয়ে উঠছে যে অনুবাদ করতে কষ্ট হচ্ছে। এটা হয়তো আমারই সমস্যা; আর যদি আমার সমস্যা না হয়ে থাকে তবে এ বড় ভয়ের ব্যাপার!


ওয়েবসাইট | ব্লগস্পট | ফ্লিকার | ইমেইল

মূলত পাঠক এর ছবি

আমি ঠিক পশুপ্রেমিক নই, অ্যানিমাল কিংডম আমার প্রিয় চ্যানেল নয়। কিন্তু এই নৃশংসতার গল্প আমাকেও স্পর্শ করলো।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- শিউরে উঠলাম অমিত।
আমার ভেতরে একটা দগদগে অপরাধবোধ আছে, খুব ছোটবেলায় করা। ছোটবেলার দোহাই দিয়ে যদিও সেই বিশাল অপরাধটাকে কখনোই জাস্টিফাই করা যাবে না। আমার কিছুদিন ধরেই সেই ঘটনাটা নিয়ম করে মনে পড়ে যাচ্ছে, আমার মনটা ভয়ানক খারাপ হয়ে যায়। কাঁদতে ইচ্ছে করে। আমি কোনোদিন ক্ষমাও চাইতে পারবো না। সেই উপায়ও নাই। এটা যে কী রকম কষ্ট, কোনোদিনই কাউকে বুঝাতে পারবো না।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

খুব ছোটবেলায় আমিও ছোট্ট সুড়কি দিয়ে ঢিল মেরেছিলাম একটা মুরগির বাচ্চাকে তাড়াতে। ঢিলটা ওর গায়ে লেগেছিল এবং চোখের সামনে ম'রেই গিয়েছিল সেই ছোট্ট বাচ্চাটা! মনে হ'লে আজো খারাপ লাগে অনেক। মন খারাপ
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

অমিত আহমেদ এর ছবি

ধুসর গোধূলি ভাই ও সাইফুল আকবর খান,
একদম বাচ্চাদের প্রানীনিধন কিন্তু মোটামুটি স্বাভাবিক বলেই জানি। দেয়ালে হেঁটে যাওয়া পিঁপড়ার সারি তুলে তুলে মুখে দেয়া, ফড়িং এর ডানা ছিঁড়ে ফেলা, ব্যাঙ দেখলে ঢিল মারা, কেঁচো দুই টুকরো করে ফেলা, এসব শিশুরা করে কৌতুহলের কারণেই। তখন গুরুজনদের দায়িত্ব থাকে তাদের বোঝানোর। একটু বয়স হলে তাদের কৌতুহলটাও মিটে যায়, জীবহত্যা ভালো নয় সেই বোধটাও আসে। সেটা না হয়ে বিপরিত হলে বুঝতে হবে সামাজিক কিংবা পারিবারিক আবহাওয়ায় কোনো সমস্যা আছে।

এতো কিছু বললাম কারণ ঠিক/ভুল বোধ না থাকায় একদম ছোটবেলায় করা অপরাধ তো ঠিক অপরাধ বলে ট্যাগ করা যায় না। তবে আপনারা যে এখন অনুতপ্ত, সেটারও দরকার আছে।


ওয়েবসাইট | ব্লগস্পট | ফ্লিকার | ইমেইল

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

মন খারাপ
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

স্বপ্নহারা এর ছবি

আমি পশুপ্রেমী নই...কিন্তু জ্ঞান হওয়ার পর থেকে মশা, কেঁচো, আর মাছ ছাড়া কোন প্রাণী মারতে পারিনি।

চমৎকার লাগল...

হতাশাবাদীর হতাশাব্যঞ্জক হতশ্বাস!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

.....................

শাহেনশাহ সিমন এর ছবি

আমি মাকড়সা অনেক ভয় পাই, নিজে মারতে পারি না, একসাথে থাকতেও পারিনা।

_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

অমিত আহমেদ এর ছবি

@ অতন্দ্র প্রহরী, ধন্যবাদ।
@ দময়ন্তী, পড়ার জন্য ধন্যবাদ দময়ন্তী।
@ যুধিষ্ঠির, খুব খাঁটি কথা বলেছেন। ধন্যবাদ।
@ দুষ্ট বালিকা, একটু সচেতন হবেন প্লীজ। এর বেশি আর কিছুর দরকার নেই।
@ নজরুল ইসলাম, কোরবানী দেন না?
@ মূলত পাঠক, ভাইরে পশুপ্রেম লাগে না, এসব দেখলে যে কোনো মানুষ মাত্রেই চমকে যাবে। যারা করে তারা তো আর মানুষ থাকে না।
@ স্বপ্নহারা, ধন্যবাদ। আমরা সবাই একটু সচেতন হলেই কিন্তু এসব আর দেখতে হয় না।
@ পান্থ রহমান রেজা, পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
@ শাহেনশাহ সিমন, আমার সাপ জিনিসটা একটু অস্বস্থি লাগে। তবে সেই সাপও অনেকবার ধরেছি। যদিও শখ করে। সাপুড়ের পোষা সাপ।


ওয়েবসাইট | ব্লগস্পট | ফ্লিকার | ইমেইল

কল্যাণ এর ছবি

মনটা খারাপ হয়ে গেলো মন খারাপ

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।