কুফা

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি
লিখেছেন অছ্যুৎ বলাই (তারিখ: শুক্র, ১৩/১১/২০০৯ - ৭:৪৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১.

আমার পাড়াতুতো দোস্ত আবু সায়্যিদ মুহাম্মাদ মুয়ীনুদ্দিন একটা ভন্ড। অবশ্য তাকে একবার ভন্ড বললে সাথে সাথে তিনবার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ে তওবা করতে হয়। এই তওবার শানে নুযূল যারা বুঝেন নাই, তাগো ঈমান দুর্বল, নবীজির প্রতি ভালোবাসা নাই, বদজ্বীনের আছর হইছে, হুজুরের কাছ থিকা এক শ' এক টাকা হাদিয়া দিয়া তাবিজ লিখাইয়া লন। হাদিয়া দিতে ভুলবেন না; কারণ, তাবিজ কাজ করবে কিনা, তা নির্ভর করে পুরাটাই হাদিয়ার ওপর, নাইলে পরোপকারী হুজুর কেন আপনাকে হাদিয়া চার্জ করতে যাবেন! এনিওয়ে, যারা এই তাবিজ চিকিৎসার পরামর্শেও তওবার কারণ ধরতারেন নাই, তাগো দিলে মোহর পইড়া গেছে, তাবিজেও কাম হইবো না, সত্বর ৪০ দিনের চিল্লায় বাইরাইয়া পড়েন, আল্লাহ চাহে ত পানাহ পাইলেও পাইতে পারেন।

সবকিছুই আল্লাহর চাওয়া, না চাওয়ার ওপর নির্ভরশীল, তবে সেটা নিতান্তই পরিস্থিতিসাপেক্ষ। সেই আলোচনায় যাওয়ার আগে তওবার কারণ বুঝাইয়া কইয়া যাই। আপনেরা পাপীতাপী মানুষ হইলেও আশরাফুল মাখলুকাত, আপনাগো সম্মান না রাখলে পুলসিরাতের মাঝখানে ট্রেনের কলকব্জা বিগড়ায়া যাইতে পারে। আমার দোস্ত আবু সায়্যিদ মুহাম্মাদ মুয়ীনুদ্দিনকে যে খারাপ কথা কওন যাইবো না, এইডা বুঝতে পারি নিতান্তই ছোটবেলায়। তখন রোজ বিকেলে ফুটবল খেলি। রিফ্লেক্স না থাকলেও মাইরের টেকনিক সায়্যিদ্যা ভালো জানে। তার পায়ে বল থাকলেই সে শোয়েব আকতার সিস্টেমে দুইহাত দুইদিকে দিয়া উড়াল দেয়, আমাগো নাকেমুখে কনুই দিয়া আঘাত করায় তার জুড়ি মেলা ভার। একবার সে এইরকম কনুইয়ের গুতা দিয়া আমার নাকের বারোটা বাজাইয়া দিছে, পুরা রক্তারক্তি কান্ড। আমিও কম যাই না, পরের চান্সেই তার পায়ে গোড়ালি দিয়া এমুন পাড়া মারছি যে খোড়াইতে খোড়াইতে সোজা সাইডলাইনে। সেইদিন বিকেলেই সায়্যিদ্যারে বগোলদাবা করে তার বাপ মোজাফফর চাচায় আমাগো বাসায় হাজির। বিশাল নালিশ। তবে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, আমি নাকি সায়্যিদ্যারে লাথি মাইরা ইসলামের অবমাননা করছি, তার নামে মুহাম্মদ আছে। সুতরাং তারে ল্যাং মারা মানে আল্লাহর রসূলকে ল্যাং মারা। বাপে আমারে পিটায় নাই। তবে রসূলকে ল্যাং মারার শাপে হোক আর কনুইয়ের গুতায় ভাঙ্গা নাকের ব্যথায় হোক অথবা বৃষ্টিতে ভেজার আফটার এফেক্ট হোক, এরপর তিনদিন আমি বিছানায়, ভীষণ জ্বর, জ্বরের ঘোরে নাকি অনেকবার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়েছি।

আমি অবশ্য এরপরে সায়্যিদ্যার সাথে মাইরপিট এড়ায়া চলি। তারে নিয়া একান্তই বাজে কথা বলতে হলে সাথে সাথে তিনবার আসতাগফিরুল্লাহ পড়লে আর ঝামেলা হয় না। এই যে তারে ভন্ড বললাম, মানে অটোমেটিক্যালি নবীকে ভন্ড বলা হলো, এতেও আমার কিছু হবে না। কারণ, তওবার দোয়া পইড়ালাইছি। অবশ্য এগুলা হলো ছোট কিসিমের পাপ, একটু বড়ো বেয়াদ্দবি হইলে এতো সহজে নাজাতের কোনো তরিকা নাই।

২.

প্রতিবছর ক্লাসে ফার্স্ট হওয়া কাউকে পড়াশুনা নিয়া অবজ্ঞা করা চাট্টিখানি কথা নয়। তবে মুজা চাচা চাট্টিখানির ফর্মূলা বেটে পানিদিয়ে গুলিয়ে সুড়ুৎ করে চুমুক দিয়ে খেয়েছেন। ক্লাস ফাইভের পরে সায়্যিদ্যাকে তিনি মাদ্রাসায় দিয়ে দিলেন। আমার বাপকেও কয়েকবার উপদেশ দিলেন ছেলেকে আল্লাহর রাস্তায় দেয়ার জন্য। বাংলাস্কুলে খ্রিস্টানগো ভাষা শিক্ষা কইরা ছেলে যে দিন দিন গোল্লায় যাবে, আমার বাপজানকে দেখা হলেই সে সবক দেন। বাপে কয়, ছেলে ফার্স্ট বয়, মুজা চাচা কয়, ফার্স্ট বয় মানে ছেলে বড়ো ইবলিশ হবে। তারপর কিসব কেতাব টেতাব থেকে ইবলিশ শয়তানের জীবনকাহিনী শুনায়। ইবলিশেও নাকি আমার লাহান মেধাবী আছিলো!

সায়্যিদ্যা মাদ্রাসায় যায়, সুর করে কোরআন তেলাওয়াত করে, ১০ পারার হাফেজ। সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিলো; কিন্তু এর মধ্যেই মাদ্রাসার হুজুরের অভিযোগ পাওয়া যায়, সে মাদ্রাসায় রেগুলার না। কিছু পোলাপাইন তারে বাসা থেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে টুপি-পাঞ্জাবি খুলে ময়ূরী সিনেমাহলে ঢুকতে দেখেছে। মুজা চাচা চেষ্টার কমতি করেন না; কিন্তু সায়্যিদ্যা তখন নিরাময় অযোগ্য। তার এক কথা মাদ্রাসা ভাল্লাগে না। বংশের বাত্তির কাছে মুজাচাচা হার মানেন। দুইবছর লস করা সায়্যিদ্যা আবার স্কুলে ফেরে, মানসম্মানের মাথা খাইয়া জুনিয়র পোলাপাইনের সাথে ক্লাস করে। মুজা চাচা একদিন আমারে ডাইকা আদর কইরা কন, 'অরে একটু পড়াশুনা দেখাইয়া দিও তো বাপ!'

আমি চান্স নেই, মিনমিনাইয়া কই, 'চাচা, অরে যে আবার বাংলাস্কুলে দিলেন, পাপ হইবো না?' চাচার চোখ জ্বল জ্বল করে, 'পাপ হইবো ক্যান? হাদিসে আছে না, বিদ্যার্জনের জন্য চীনদেশে যাওয়ার কথা? চীনদেশে তো আর আরবি শিখতে কেউ যাইবো না। তাই বাংলা স্কুলে গেলেও পাপ হইবো না।'

আমি ধর্মের ইউটার্ন ব্যাখ্যায় চমৎকৃত হই।

৩.

সায়্যিদ্যার একটা বড় দোষ টাকা নিয়া ঠিকমতো ফেরত দেয় না। নেয়ার সময় কাচুমাচু করে বলবে, 'দোস্ত দুইশডা ট্যাকা দে। তিনদিন পরেই দিয়া দেবো ইনশাআল্লাহ।' তিনদিন পরে টাকা চাইলে সে আকাশ থেকে পড়ে। সে নাকি দুনিয়ার মাইনসের কাছে হাজার হাজার টাকা পায়। সব শালা জোচ্চোর, কেউ তার টাকা ফেরত দেয় নাই।

আমি কই, 'কিন্তু আমারে যে তিনদিনের কথা কইলি!'

সে তখন আমারে শানে নুযূলসহ ইনশাআল্লাহর তাফসীর বুঝায়। আল্লাহ চায় নাই, তাই আমার টাকা সে দিতে পারতেছে না। কয়দিনের দুনিয়া! আল্লাহ না চাইলে গাছের পাতাও নড়ে না, আমি এখন তার কাছে জোর করে পাওনা টাকা চাওয়া মানে বেসিক্যালি আল্লাহর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা! আমি শুধু মনে মনে ভাবি, শালায় একটা খচ্চর। তারপরে দেরি না করেই তিনবার আসতাগফিরুল্লাহ পড়ে ফেলি।

৪.

সায়্যিদ্যার আপায় এক কওমী মাদ্রাসার শিক্ষিকা। বাপের আশা পূর্ণ করে পড়াশুনা শেষ করে সেই মাদ্রাসায়ই মোদারেস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে। অবশ্য নিয়োগপ্রাপ্তিতে বড় হুজুরের হাত আছে। বড় হুজুর আবার তার দুলাভাই। আমলে সন্তুষ্ট হয়ে শিক্ষকটি তার মতো পরহেযগার ছাত্রীটিকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছে। তাদের বাসায় আপা-দুলাভাই প্রায়ই এটাওটা দেয়। এই সেদিনও একটা গালিভার সাইজের ফ্রিজ কিনে দিয়ে গেছে।

এমনিতে আমপাবলিকের মতো আমারও ধারণা ছিলো হুজুরেরা মূলত অর্থকষ্টে থাকে। দ্বীনদুনিয়ার ওপর তাদের মায়া কম, অর্থলিপ্সা বলে কোনো শব্দ তাদের অভিধানে নাই, তার ওপর নবীর সুন্নাহ মানতে মানতে সিজদায় সিজদায় কপাল আর ডান পায়ের গোঁড়ালিতে দাগ ফেলে দিয়েছে। দারিদ্র্যও যেহেতু নবীর সুন্নাহর অংশ, সেহেতু বাড়তি অর্থকে তারা সাপের ন্যায় ত্যাজ্য মনে করে। কিন্তু ঠাঁটেবাটে তো দেখি অবস্থা ভিন্ন। সায়্যিদ্যারে ধরা করি, 'তোর দুলাভাই এত টাকা কই পায়?' আমার প্রশ্নে সে কিছুটা কৌতুক অনুভব করে। তারপরে জানা যায়, এই টাকা আসলে কালেকশনের টাকা থেকে আসে। কালেকশনের টাকা কি? মিডলইস্টের ধনী দেশগুলায় তার দুলাভাই মাদ্রাসার অর্থ সাহায্যের জন্য বছরে বারদুয়েক ভ্রমণ করে। কোন হাদিসে নাকি আছে, যাকাত আদায়কারী সাহাবীরা আদায়কৃত অর্থের এক তৃতীয়াংশ পেতো। তার দুলাভাইও সেই ফর্মূলায় .....। আমি হাদিসের সুবিধায় চমৎকৃত হই। 'ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়' কথাটা কতো সত্য, আবারও ভাবি। যতো আকামের ইচ্ছাই হোক, 'ইসলাম' নাম দিয়ে সেটাকে জায়েজ করার জন্য কি নাই দুনিয়ায়? হাদিস আছে, ইজমা, কিয়াস আছে, দেওয়ানবাগী, রশিটানাটানি পীরসাবেরা আছে, বুজুর্গ ইসলামী স্কলাররা আছে, আছে বড় হুজুর!

তবে বড়ো হুজুরের দুই পোলাকে আমি দুই চক্ষে দেখতে পারি না। সায়্যিদ্যার এই দুই ভাইগনার নাম আহাম্মদ আর মুহাম্মদ। বদের হাড্ডি। দেখা হইলেই প্রথমে পকেটে হাত দেয়। প্রথম প্রথম লজেন্স-টজেন্স কিনে দিতাম, ছোটখাটো খেলনাও কিনে দিয়েছি অনেকবার। কিন্তু এখন ব্যাপারটা অসহ্যের পর্যায়ে গেছে। বিশেষ করে, যখন থেকে উনাদের আর খেলনায়ও মন ভরে না। টাকা চাই, টাকা দিয়ে উনারা উনাদের ইচ্ছেমতো খায়েশ পূরণ করবেন। আমরা ছোটবেলায় অনেক পিটানি খাইছি; কিন্তু এগুলারে নাকি কেউ পিটায়ও না। যেহেতু নাম মুহাম্মাদ আর আহাম্মদ, সেহেতু এদেরকে পিটালে নাকি সোজা নবীর গায়ে গিয়া লাগবো! এই দুই বাঁদরকে দেখলেই আমি যথাসম্ভব অন্যগলিতে ঢুকে যাই।

কিন্তু পরশু বিকেলে আর শেষরক্ষা হলো না। সায়্যিদ্যা দুই পিচকারে নিয়া পুরা আমাদের বাসায় হাজির। কম্পুটারের সামনে বসে আছি, ভাগ্যভালো পরনে পকেটবিহীন টি-শার্ট, মানিব্যাগও আশেপাশে নাই। কিন্তু তাতেও দেখি নিস্তার নাই, পিছন থেকে দুই পুচকা একজন কাতুকুতু দেয়, আরেকজন চুল ধরে টান মারে। কয়েকবার হাত সরায়া দিছি, কাম হয় নাই। অবশেষে বিরক্তির চরমে গিয়া দুইটারে কান ধরে রুম থেকে বের করে দেই।

রাগের মাথায় কাজটা করে ফেলেই বুঝি, বিরাট ভুল হয়ে গেছে। এক আবু সায়্যিদ মুহাম্মাদ মুয়ীনুদ্দিনকে ল্যাং মেরে তিনদিন জ্বরে প্রলাপ বকেছি আর এবার মুহাম্মাদ, আহাম্মদ দুইজনকে কানে ধরার ঠেলা কেমনে সামলাবো আল্লাহই মালুম! গুণে গুণে সাতবার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ি। তারপরেও গতকাল বিকেলেই হাতেনাতে ফল পেয়ে যাই। রিক্সায় আসছিলাম, সাইড থেকে এক ট্রাকে ঘসা মেরে যায়, রিক্সা উলটায়, ঠোঁট কেটে গেছে, হাত নাড়াতে পারি না। অবশ্য এক্স-রেতে দেখা যায়, হাড্ডিগুড্ডি ভাঙ্গি নাই। বুঝা গেলো, এইটা ছিলো সতর্ক বার্তা, এরপরে দুই নবীর কানে ধরার পাপ এত সহজে মোচন হবে না।

৫.

আজ সকালবেলায়ই আবার সায়্যিদ্যার সাথে দেখা। হালায় দাঁত কেলায়া কয়, "খবর হুনছোস?"

"কি খবর?"

"আরিফ্যার আবার জেল হইছে।"

"কোন আরিফ্যা?"

"ওই যে, নবীজিরে বিড়াল কইয়া কার্টুন আঁকছিলো। আগেরবার ৬ মাসের পর ছাড়া পাইছে, এইবার আর রেহাই পাইবো না। একের পর এক মামলা চলতেই থাকবো।"

আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করি, গতকালের অ্যাক্সিডেন্টও আমাকে ঠিকঠাক হেদায়েত দিতে পারে নাই। মেজাজ খারাপ হচ্ছে, প্রচন্ড খারাপ। ইচ্ছে করছে, আবু সায়্যিদ মুহাম্মাদ মুয়ীনুদ্দিনকে একটা ঠাটাইয়া চটকানা মারি। আমি নিজেকে সামলে নেয়ার চেষ্টা করি, অন্য দিকে হাঁটা দেই, নবীজিকে থাপ্পড় মেরে গযবের রিস্ক নিতে আমার মতো বড়ো ইবলিশও ডরায়!


মন্তব্য

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

চরম চলুক
................................................................................................
খাদে নামতে আজ ভয় করে, নেই যে কেউ আর হাতটাকে ধরা ...

স্নিগ্ধা এর ছবি

আরিফকে নিয়ে যে প্রহসন, তার সম্বন্ধে এর চাইতে উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া আর হয় না! সিনেমা রিভিউ তো আর লেখেন না, এই লেখাটাতে সেটার অভাব একটু হলেও মিটলো হাসি

যদিও - আমার নিরাপদ দূরত্বে বসে লেখা পড়ার মজা আরেকজনের অর্থহীন, কুৎসিত দুঃসময়ের সাথে সম্পর্কিত, এই গ্লানির হাত থেকে মুক্তি পেলাম না! গতকাল আরিফ জেবতিকের পোস্টটা পড়ে এতোই হতাশ লাগছিলো, যে মন্তব্যও করিনি। এটাতেও যে কেন করলাম, জানি না ......

ফাহিম এর ছবি

ধর্মীয় গুন্ডামীর যে কবে অবসান হবে! আদৌ হবে কিনা তাও বা কে জানে!!

=======================
ছায়ার সাথে কুস্তি করে গাত্রে হলো ব্যাথা!

=======================
কোথাও হরিণ আজ হতেছে শিকার;

উদ্ভ্রান্ত পথিক এর ছবি

জাঝা!!!

---------------------
আমার ফ্লিকার

সাইফ তাহসিন এর ছবি

বলাইদা, রম্যরচনার আড়ালে অনেকগুলো সত্যি কথা খুব সুন্দর করে গুছিয়ে বললেন, শেষে এসে আসল ঘটনা বুঝতে পারায় শুরুতে পাওয়া রসিকতা নিয়ে আর হাসা গেল গেল না। বরং লজ্জা লাগল নিজেদের ধর্ম নিয়ে এমন অশিক্ষিত আচরন দেখে। লেখাটা চরম হয়েছে। আপনে নমস্য!!

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদ্বপি গরীয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

ওডিন এর ছবি

এইমাত্র জেবতিক ভাইয়ের পোস্টটা পড়লাম। সেইখানে কোন কমেন্ট করা হয় নাই- দরকারও মনে হয় নাই, কারন আমার বালখিল্যসুলভ মন্তব্যের বদলে এই একটা বাঘা পোস্ট আইসা পরসে! গুল্লি

---------------------------------------------
ফুল ফোটে? তাই বল! আমি ভাবি পটকা। চিন্তিত

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

চ্রম।

আরিফের বিষয়ে আমাদের মানবাধিকার গোষ্ঠিরা কিছু করেনি? তার পক্ষে কি কোন উকিল ছিলনা? নাকি ছোট্ট এই বাচ্চাটাকে নিয়ে সবাই খেলছে আর খালি তামাশা দেখতেছে!

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

চরম ভালো পোস্ট।

রহমান এর ছবি

আরিফ আল্লাহর অনেকগুলো নামের একটা, অর্থ জ্ঞানী।
আমাদের দেশে সব হুজুগে চলে। আর তা না হলে কী মোহাম্মদ কে বাঁচাতে আল্লাহ্‌কে ফাঁসী দেয়া হয়?
সাবধান, সব বড় যুদ্ধাপরাধীর নামের সাথে মোহাম্মদ আছে।

স্বাধীন এর ছবি

লিখাটা ভাল হইছে। কিন্তু আমদের ক্ষমতা কি শুধু লেখা আর মন্তব্য পর্যন্তই? আমাদের কি আসলেই কিছু করার নেই....................................। গত লেখায় একই প্রশ্ন ছিল আমার ..........................................।

ধুসর গোধূলি [অতিথি] এর ছবি

আমারে এখন থাইকা কোনো হামদু গালি দিলেই হয়, ডাইরেক্ট ফৌজদারী আইনে মামলা কৈরা দিমু। মিনিমাম ছয় মাস কনফার্ম। আমার নামের আশেপাশেও মোহাম্মদ আছে, চাট্টিখানি কথা না অর মায়রে বাপ!

সাফি এর ছবি

অসাধারণ হয়েছে বলাইদা।
আমার নামেও মুহাম্মদ আছে, গালি দিলে কইলাম সুজা হেডকো্য়ার্টার থেইকা একশান হবে
লেখায় উত্তম জাঝা!

অতিথি লেখক এর ছবি

ধুগোদা, এইডা কী কইলেন! আপ্নেরে গাইল পাড়ব এমুন মকবুল দেশে আসে নাহি?? মামলা করনের কাম নাই, খালি নামডা আমার কানের কাসে আইসা কইয়া দিয়েন। আমি অরে এওয়ার্ড দিমু!
কুকড়ি

তানবীরা এর ছবি

লেখা ভালো হয়েছে যথারীতি আর আরিফ সম্বন্ধে কিছু বলার নাই। কার্টুন আঁকার শাস্তিতো রিক্সা থেকে উলটে পরার চাইতে ভয়াবহই হবে।

**************************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

শামীম রুনা এর ছবি

দারুণ লেখা!!!!
_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

আলো এর ছবি

বেশিরভাগ মানুষই আসল ধর্ম আর ধর্ম ব্যবসায়ীদের বানানো ধর্মের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না.... এই লেখায় অবশ্যই মুসলমানদের অনুভুতিতে আঘাত করা হয়েছে ... শুধু মুহাম্মদ (স:) এর নামের পরিবর্তে দূর্গা, বুদ্ধ , যিশু , নানক আর মোজেস বসিয়ে পড়ুন , ঠিকই ধরতে পারবেন

সাইফ তাহসিন এর ছবি

আমার বুদ্ধিসুদ্ধি কম, একটু কি বুঝায় বলবেন? ঠিক কিভাবে মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত হানা হইসে? ভুদাইচরিত মানুষ আমি, মাইন্ডা খাইয়া তব্দা মাইরা থাইকেন না। সহজ সমালোচনা গ্রহন করতে পারেন না, যেচে পরে যদি নিজের ঘাড়ে দোষ টেনে আনেন, তাহলে কিভাবে হবে? আমি কিন্তু নিরপেক্ষ লেখা হিসাবেই দেখেছি এটাকে। ধর্মকে কিন্তু কটাক্ষ করতে দেখিনি লেখককে, আর ধর্ম নিয়ে কথা বলতে গেলে ঝগড়া ঝাটি ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয় বলে এখানে সেটা নিরুৎসাহিত করা হয়। আমার হিসাবে বলাইদা সেটা মাথায় রেখেই লেখাটা লিখেছেন।

কিন্তু যারা ভালো বুঝেন, তারা হয়ত দেখতে পাচ্ছেন, যা আমি দেখতে পাইনি, আগেই বলেছি, আমার আবার বুদ্ধিসুদ্ধি কম। আপনার উত্তরের অপেক্ষায় থাকলাম।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদ্বপি গরীয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

যুধিষ্ঠির এর ছবি

বসালাম। পড়লাম। ধরতে পারি নাই। একটু ধরায়ে দেন পারলে।

বিড়ালের আগে মোহাম্মদ বসানোর এই কৌতুকতো আরিফের তৈরী না, এইটা বহুকাল ধরে প্রচলিত আছে। তাছাড়া বিড়াল তো অন্য কোন স্রষ্টার তৈরী প্রানী না। এর নামের আগে একটা ছোট ছেলে যদি ভুল বুঝে মোহাম্মদ বসায়, তাহলে যে ধর্মের বা ধার্মিকের অনুভূতিতে আঘাত লাগে, তারা আধুনিক পৃথিবীর জন্য, দুঃখজনক হলেও সত্যি, অযোগ্য। শুধুমাত্র কৌতুকটা না বুঝলেই এটাতে আঘাত পাওয়া সম্ভব। এখানে কৌতুকের খোঁচাটা ধর্ম বা মোহাম্ম্মদের প্রতি না। ইসলামিক নাম নিয়ে মানুষের ভুল ধারণা, এবং সেটা থেকে ছোটদের ভুল শিক্ষা পাওয়াটাই এখানকার কৌতুক, এটা স্বীকার করেন কি না বলেন। তারপর আমাকে একটু ধরায়ে দেন কেনো এটাতে কারো ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগবে।

যুধিষ্ঠির এর ছবি

ও, এখন মনে হচ্ছে আপনার মন্তব্য অছ্যুৎ বলাইয়ের পোস্ট নিয়ে, আমি বোধহয় ভুলক্রমে ভেবেছি ওটা আরিফের বিতর্কিত কৌতুকটা নিয়ে বলা। যাহোক, সেটা ভুল হলে মন্তব্যের এই অংশটা শুধু প্রযোজ্য হবে এক্ষেত্রে:

বসালাম। পড়লাম। ধরতে পারি নাই। একটু ধরায়ে দেন পারলে।

স্নিগ্ধা এর ছবি

কই না তো! ধরতে পারলাম না তো! বিভিন্ন এঙ্গেল থেকেই ভাবলাম, যেসব নাম বললেন সেগুলো বসিয়েই ভাবলাম, কিন্তু ফলাফল একই!

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

প্রিয় আলো,

আপনার মন্তব্যটা (সারকাজম না হলে) খুবই অর্থবহ।

বেশিরভাগ মানুষই আসল ধর্ম আর ধর্ম ব্যবসায়ীদের বানানো ধর্মের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না

এই পোস্টের মূলকথাও একই।
এই লেখায় অবশ্যই মুসলমানদের অনুভুতিতে আঘাত করা হয়েছে।

আগের বাক্যের পরে এই বক্তব্যকে রসিকতা হিসেবে নিচ্ছি। কারণ, আসল ধর্মে মুহাম্মদ নামের কাউকে বকা দিলে সেটা নবী ( সাঃ )কে বকা হয় না, অন্যদিকে আরিফের ঘটনায় দেখি, এমনকি সেটাকে 'অপরাধ' হিসেবে গণ্য করে আইনী সাজাও দেয়া হচ্ছে।

এবার, এই বক্তব্যটা রসিকতা না হয়ে যদি আক্ষরিক অর্থে একটা অভিযোগ হিসেবে নেই, তাহলে কিছু জিনিস পরিষ্কার করা যাক। পোস্টে যে ঘটনাগুলো উল্লেখ করা হয়েছে, তার প্রত্যেকটা মূলত ধর্মকে বিকৃত করে স্বার্থসিদ্ধির উদাহরণ। উদাহরণগুলো আরেকটু ভালোভাবে লক্ষ্য করা যাক:

১) মুহাম্মদ নামের কাউকে ল্যাং মারলে সেটা রাসূল (সাঃ ) এর সাথে অসোসিয়েট করার কোনো ভিত্তি কোরআনে নাই।

২) ধর্মের ব্যাখ্যা কিভাবে নিজের সুবিধামতো দেয়া হয়, তার উদাহরণ। আরিফ জেবতিক ভাইয়ের পোস্টে ৩৩ নং মন্তব্যে এই জিনিসটা আরো সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন অনার্য্য সঙ্গীত।

৩) ইনশাআল্লাহর এই অর্থটার অপব্যবহার হতে হরহামেশাই দেখেছি। এটা মূলত মিথ্যা বলার একটা কৌশল। পরে আল্লাহর ওপর চাপিয়ে দিয়ে এরকম মিথ্যা বলাটা অহরহ ঘটে। অথচ যে মিথ্যাটা বলে, সে কিন্তু ঠিকই জানে, সে চালাকি করছে। আল্লাহর সাথেও চালাকি করতে বাধে না ধর্মের অপব্যবহারকারীদের।

৪) এখানে বর্ণিত ঘটনা নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে নেয়া। এরকমভাবে কালেকশনের টাকায় ভাগ বসানোর ফতোয়া প্লাস মুহাম্মদ নামের পোলার ফাজলামি দুইটাই বাস্তব।

একটা জিনিস লক্ষ্য করবেন, পোস্টের কোথাও আমি নবী শব্দের পরে দরুদ শরীফ যোগ করি নাই। কারণ, এভাবে একজন মানুষের আকামের বোঝা নবী (সাঃ ) এর ওপর যারা চাপায়, তারাই মূলত ধর্মের অবমাননা করে। তাদের সংজ্ঞা মেনে মুহাম্মাদ নামের এক আকাইমা পাবলিককে নবী (সাঃ ) এর সাথে অ্যাসোসিয়েট কেনো করবো?
আরেকটা জিনিস লক্ষ্য করবেন, পোস্টের কোথাও কোরআন সম্পর্কে খারাপ কথা লেখা হয় নাই। বুখারীর লেখা হাদিস আর ধান্দাবাজ সো-কলড মুসলিম স্কলারদের লেখা পর্বতসম বই দিয়া বড়জোর টিস্যু পেপারের কাজ করা যেতে পারে, তা থেকে ইসলামের কিছু পাওয়ার চেষ্টা করার কথা আল্লাহ বলেছেন বলে জানা নাই। অন্যদিকে তাদের বিকৃতি সম্পর্কে আল্লাহ নিজেই সাবধান করে দিয়েছেন বহুবার!

সুতরাং প্রকৃত মুসলমানের জন্য এই পোস্ট সঞ্জীবনী সুধা হোক বা নাহোক, তাদের অনুভূতিতে আঘাত করার কোনো কারণ নাই। আঘাতপ্রাপ্তরা হয় আবালটাইপ নামে মুসলমান, নাহয় ধান্দাবাজ ধর্ম ব্যবসায়ী।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

মূলত পাঠক এর ছবি

আপত্তি জানালাম, এবং নিচে বিশদে লিখেছি।

অবাঞ্ছিত এর ছবি

লেখা অসাধারণ!!!!!

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

**না এর ছবি

আহারে আরিফ!!!! মন খারাপ

সংসপ্তক এর ছবি

চরম!
আমিও এইজিস পাইসি!!! নামে আহমেদ আসে, কোন শালা আর গালি দিয়ে দেখুক......
আর 'আলো' ভাই......আপনার জবাব নাই। কি ইক্যুয়েশন বাইর করলেন! শাইট ম্যান!! শিশুকাল থেকেই ঘিলুর গোড়ায় উত্তম গোবর সার না পরলে এমন হয় না.....(যদি ফাজলামি করতে পোস্টটা দিয়ে থাকেন, তাইলে হ্যাটস অফ)

.........
আমাদের দূর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা

.........
আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা

ভ্রম এর ছবি

অসাধারন লেখা।

দ্রোহী এর ছবি

আলো আপা। ভালো আছেন? শুনেছি আপনার নাকি বাচ্চা হবে?

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

লাইক মারলাম
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

গুল্লি
গুল্লি
গুল্লি
______________________________________________________

মধ্যরাতের কী-বোর্ড চালক

মূলত পাঠক এর ছবি

চমৎকার পোস্ট, যদিও হতাশাবাদীর মতোই মনে হয়, আমরা তো লিখেই যেতে পারি, আমাদের নিজেদের আরো সচেতন করে তুলতেও পারি, কিন্তু আরিফের মতো লোকেদের বাঁচানো যায় না তাতে। পথ কোথায়, খুঁজে তো পাই না!

আর আলো, আপনার মন্তব্যটা এতোই কুৎসিত যে অনেক পাঠকেরই বিশ্বাস হয় নি ওটা সিরিয়াসলি লেখা, তাই সারকাজমের কথা এনেছেন তাঁরা। আপনি কি বুঝতে পারছেন আপনার মতবাদ শুধু অনন্য নয়, কদর্যও বটে? উদাহরণও বেশ মূর্খের মতো দিয়েছেন ('মতো' বলারও দরকার নেই), বুদ্ধ-নানক এঁদের সাথে দুর্গা এক সারিতে এলেন কী হিসেবে? হিন্দু ধর্মের কোনো প্রবক্তা না থাকুন, হিন্দু ধর্মের কথা মানুষকে বলেছেন এমন কারোর নাম আপনার জানা নেই (আশ্চর্য হলাম না তাতে, মূর্খামি নাম্বার ২, নাকি আরো বেশি হবে?), অতএব ভুল উদাহরণ দেবেন? তার ওপর বানান ভুল, সেটা সকলের ক্ষেত্রে মাফযোগ্য হলেও আপনার মতো হাইপার-সেনসিটিভকে ছাড় দিচ্ছি না হিন্দু হিসেবে। আপনার মৌলবাদের উত্তরে উদারতা দেখানোর প্রশ্নই আসে না। আপনার ঐ নিক'টা বদলে "অন্ধকার" করে নিন, মানানসই হবে।

সচলে এই সব মন্তব্য প্রকাশিত না হওয়ার বিষয়ে আমার পুরোনো মতে বহাল রইলাম। দুনিয়া বদলানোর ক্ষমতা না রাখতে পারি, কিন্তু তা বলে ঘরের উঠোন পথের কুকুরকে নোংরা করতে দেবো না।

যুধিষ্ঠির এর ছবি

সচলে এই সব মন্তব্য প্রকাশিত না হওয়ার বিষয়ে আমার পুরোনো মতে বহাল রইলাম। দুনিয়া বদলানোর ক্ষমতা না রাখতে পারি, কিন্তু তা বলে ঘরের উঠোন পথের কুকুরকে নোংরা করতে দেবো না।

সহমত

আলমগীর এর ছবি

চলুক

মঈন-উ-দ্দীণূরে মাথায় নিয়া যারা অক্টোবরফেস্টে গেল তাদের কী শাস্তি হবে আল্লাই জানে দেঁতো হাসি

হিমু এর ছবি

ঐ দ্দীণূরও কিন্তু নামের শেষে ...



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

মোল্লা এর ছবি

আমি এ ব্যাপারে একটু মোল্লাপক্ষের মতামত প্রকাশ করি।
কিছু সমালোচনা করব অবশ্যই কিন্তু
বিতর্ক উস্কে দেয়া, বা কাউকে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য নয়।
ধর্ম অবমাননার যে সুবিধাবাদী সংজ্ঞা আমাদের সমাজে প্রচলিত, তা আপনি (পয়েন্ট) ১ থেকে ৪ - এ তুলে ধরেছেন, বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। ১ থেকে ৪ এ নির্মিত ধারণার উপর ভর করে, হুট করে ৫ এ গিয়ে যে ভাবের অবতারণা করেছেন, তা গুণগত দিক দিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার। ১-৪ এ বর্ণিত তথা-কথিত ধর্ম-অবমাননা ৫ এর সমতুল্য নয় । অবিনয় মার্জনা করবেন, কিন্তু গদ্যের প্রবাহমানতায় আপনি, ৫ নং পয়েন্টটি মিশেল দিয়েছেন বলে মনে হয়েছে। ৫ এর যৌক্তিক ভিত্তি ১-৪ হতে পারে না ।

ধর্মান্ধতা, ধর্ম-পরায়ণতা, ধর্ম-আবমাননা --- এগুলোর মধ্যে সীমারেখাটা কোথায় টানা প্রয়োজন তা নিয়ে মুসলিম পাঠকদের মধ্যে কিছুটা আলোকপাত করা উচিত। আলপিনের কার্টুন ও বুখারী শরীফ নিয়েও কিছু বিভ্রান্তি দূর করা দরকার। বিশেষ করে আমার মত তরুণ মুসলিমদের জন্য এ ব্যাপার গুলো জানা জরুরী।

মুহাম্মাদ বা আহমাদ নামধারী কাউকে ল্যাং মারা যাবেনা বা এই নামধারী শিশুদের শাসন করা যাবেনা ----- এ জাতীয় ধারণা যে ধর্মান্ধতা বা ধর্মের অপব্যবহার, তা যে কোন সাধারণ বুদ্ধিমত্তার মানুষই বোঝেন। বরং এই নামের অজুহাতে কাউকে মনুষ্য বিচার-বিবেচনার ঊর্ধ্বে তুলে দেয়া, বা তাকে দেবতুল্য জ্ঞান করাই ধর্মচ্যুতি। "ইনশাল্লাহ্‌"- শব্দের আশ্রয়ে যে আপনার বন্ধু নির্লজ্জ হঠকারিতা চালিয়ে যাচ্ছেন, তা খুবই স্পষ্ট। আর, কথা দিয়ে কথা না রাখা টা হল one of the key signs of Hypocrisy is Islam. আপনি নিজেও ধরতে পেরেছেন যে, সায়্যিদ জানে সে চালাকি করছে।

কিন্তু ভেবে দেখুন, আপনি যখন সায়্যিদকে ফুটবল খেলার সময় ল্যাং মেরেছেন তখন কিন্তু আপনি তার নামের আগ-পাছ এত কিছু ভেবে ল্যাং মারেননি। বরং সেটা Natural Reflex.
শৈশবের খেলার মাঠে এত কিছু কে ভাবে ?

কিন্তু একজন কার্টুনিস্ট যখন পত্রিকায় প্রকাশনার জন্য, সময় নিয়ে কার্টুন আঁকেন তখন কিন্তু অনেক চিন্তার অবকাশ থাকে। আমরা যে কোন শিল্প সৃষ্টির আগেই কিন্তু তা নিয়ে অনেক ভেবে দেখি। যেমন লেখালেখির ক্ষেত্রে হয়ত শেষ করার পর বার-কয়েক নিজের লেখা পড়ে দেখি, নিজেদের পাঠকদের অবস্থানে বসাই...... নানান দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপার টা দেখি--- ইত্যাদি। এবার কার্টুনিস্ট এর thought process টা কেমন তা ভেবে দেখুন। ফ্রেম গুলো সাজানো, সংলাপ তৈরী ......এগুলোর মাঝখানে একবারো সাধারণ মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতির ব্যাপারটা তার মাথায় খেলে যায়নি-- সেটা খুব বিশ্বাসযোগ্য নয়। বয়সে তরুণ হবার কারণে কার্টুনিস্ট আরিফ হয়তো ভুল করেছেন। ধরে নিলাম, ব্যাপারটা যে এত সংবেদনশীল তা তিনি ধারণা করতে পারেননি। কিন্তু অনেক গুলো editorial review পার করে তবেই একটা লেখা বা আঁকা পত্রিকায় ঠাঁই পায়। যারা প্রবীণ সম্পাদক তারা '৮৭ তে "Satanic Verses" নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, তা সম্পর্কে নিশ্চয়ই ওয়াকিবহাল ছিলেন।

অবমাননার ব্যাপারটা আপেক্ষিক

বোঝা প্রয়োজন যে, অবমাননার ব্যাপারটা আপেক্ষিক। একটু উদাহরণ দিয়ে বলি, ... মুহম্মদ জাফর ইকবাল যখন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতেন তখন একদিন ক্লাসে আবর্জনা-সমস্যা নিয়ে কথা ওঠে। একজন মার্কিন ছাত্রী জোক হিসেবে মতামত দেয় যে, সব আবর্জনা একসাথে করে বাংলাদেশে ফেলে দিয়ে আসলে কেমন হয় ? সাথে সাথে হাসির রোল ওঠে ক্লাসে। স্বাভাবিক ভাবেই জাফর ইকবাল সাহেব আহত হন। To Others, it was a perfectly normal Joke. একজন মার্কিন তরুণী বাংলাদেশ কে আবর্জনার-দেশ বলাতে কিন্তু আমাদের গর্বের স্বাধীনতা মিথ্যে হয়ে যায়নি। এটা আপনি, আমি বা জাফর ইকবাল সবাই জানি। তারপরও কিন্তু অনুভূতির কথা থেকে যায়। তারপরো কিন্তু দেশ নিয়ে কেউ এমনটা বলছে শুনলে আহত হই। বাংলাদেশ যেমন আমাদের পরম ভালোবাসার, প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলিমের হৃদয়ের অন্তঃস্থলে তেমনি নবীজির জন্য ভালোবাসার স্থান রয়েছে। কাজেই কার্টুনের ক্ষেত্রে, নবী করিম (সাঃ) এর অবমাননার বিষয়টি ছাপিয়ে কিন্তু একসময় পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার প্রশ্নটি বড় হয়ে ওঠে।

এবার বাংলাদেশের একটা বস্তির কথা বলি। সন্ত্রাসীদের আখড়া। পানির তীব্র সংকট। পানি নিয়ে কাড়াকাড়ি মারামারি। ভোর হয় গৃহিণীদের ঝগড়ায় আর অশ্লীল, অশ্রাব্য গালিগালাজে।

যুধিষ্ঠির বলেছেন,
তাহলে যে ধর্মের বা ধার্মিকের অনুভূতিতে আঘাত লাগে, তারা আধুনিক পৃথিবীর জন্য, দুঃখজনক হলেও সত্যি, অযোগ্য।

Honestly, ...... this is like saying to a kid growing up in slums with gangsters and prostitution that, "if you can not tolerate the beatings, slang and bad-words hurled at your mother, then you are unfit in the slum." Solution is NOT to train up the Kid to make him fit in the harsh environment of the slum. Rather solution is to fix the corrupt society and create an atmosphere where everyone respects one another.

সুস্থ সমাজের অন্যতম সূচক হল পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা।

কুরানের একটি আয়াতঃ

যারা ধর্মপ্রাণ, তাদের জন্য নিচে প্রাসঙ্গিক একটি আয়াত তুলে ধরলাম।

when ye hear the signs of Allah held in defiance and ridicule, ye are not to sit with them unless they turn to a different theme. if ye did, ye would be like them

{ Chapter = Women
// সূরা আন-নিসা
verse = 140 // আয়াত - ১৪০
}

বুখারী শরীফ, ফাতওয়াহ ও টিস্যু পেপার :

[ আমার মন্তব্যের এই অংশটি কতক-বিভ্রান্ত তরুণ মুসলিমদের জন্য, যারা ঠিক হাদীস এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিরূপণ করতে পারেন না বা হাদীসের বিভিন্ন Controversial ইসলামী নিয়ম ইত্যাদি নিয়ে যারা সংশয়ে থাকেন।
মোল্লাদের আরোপিত ফাতওয়াহ কতটা ইসলামিক বা অনৈসলামিক তা নির্ধারণ কিভাবে করা যাবে তা নিয়ে তারা কিছু চিন্তার খোরাক পাবেন হয়ত এখানে। "অছ্যুৎ বলাই" ভাই এই অংশটা skip করে যেতে পারেন]

অন্তত বিশ্বাসীদের দৃষ্টিতে, ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। অর্থাৎ, শুধু অর্চনা বা Set of Rituals নয়,... বরং অর্থ-ব্যবস্থা, সমাজের বিভিন্ন স্তরের ভিতর সম্পদের বন্টন, রাষ্ট্র পরিচালনা, খাজনা-নীতি, খাদ্যাভাস, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে ব্যবহার রীতি ---- এই সব কিছু মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনরীতি। কুরান মূলত বিশ্বাস, দর্শন, বিশ্ব সৃষ্টি, মানব জাতির জন্য খুব মৌলিক কিছু Moral Code, ও অধিকারের কথা সংক্ষিপ্ত পরিসরে বর্ণনা করে। কিন্তু প্রাত্যহিক মানব জীবনের শতধা বিষয়-আশয়ের খুটিনাটি আলোচনা কুরান নাজিলের মূল উদ্দেশ্য নয়। এ জন্য বার বার কুরানে, হাদীসের কাছে ফিরে যাবার কথা বলা হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম চর্চার জন্য নবীর দিক নির্দেশনা, মুখ নিঃসৃত কথা (যা মূলত হাদীস) ও তাঁর জীবনযাপন রীতি আঁকড়ে ধরার কথা কুরানে বার বার বলা হয়েছে।
এ কারণে সুন্নাহ ( নবীর কথা ও জীবন রীতি ) মুসলমান দের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এ জন্য কোন ফতওয়াহ জারি করা হলে তার ভিত্তি খুঁজতে হবে প্রথমত কুরানে তারপর হাদীসে। হাদীস বর্জন করলে তাই দিক নির্দেশনার অল্পই অবশিষ্ট থাকে। আর ফাতওয়াহ কোন অর্ধশিক্ষিত গ্রামীণ মোল্লার চাপিয়ে দেয়া ব্যক্তিগত মতামত হতে পারে না। বরং তা হতে হবে কুরান ও সুন্নাহর আলোকে নির্ধারিত সুচিন্তিত মতামত। ( These two, form the main basis of Islamic Jurisprudence). প্রতিটি সুশিক্ষিত / আলোকিত মুসলিমের তাই উচিত ফাতওয়াহর ভিত্তি যাচাই করা। কোন আয়াত বা হাদীসের আলোকে ফাতওয়াহ দেয়া হল তা প্রশ্ন করা। ( অন্তত আমি তাই চেষ্টা করি )

হাদীস সংগ্রহঃ

ইসলামের দৃষ্টিতে নবী হলেন একজন Proxy বা Messenger মাত্র।
He does not speak of his own will. অর্থাৎ তাঁর মুখ নিঃসৃত কথা তাঁর নিজস্ব বা ব্যক্তিগত মতামত নয়। এখানে অন্যান্য মনীষী যেমন গৌতম বুদ্ধের সাথে নবীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য লক্ষণীয়। বুদ্ধের বাণী যেমন তাঁর নিজের চিন্তালব্ধ, নিজস্ব গবেষণা ও ধ্যান এর মাধ্যমে পুঞ্জীভূত জ্ঞান... নবীর বাণী কিন্তু তেমনটা নয় অর্থাৎ তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বাণীগুলোতে মনুষ্য বিচার বিবেচনার প্রভাব নেই বলে বিশ্বাস করে মুসলমানেরা। He speaks as he is instructed to speak.

কাজেই বিভিন্ন বিষয়ে রাসূলের উপদেশ, নির্দেশনা --- ইত্যাদি খুব গুরুত্বের সাথে সংগ্রহ করে রাখা হত। তবে নবীর জীবদ্দশায় হাদীসের লিখিত সংকলন নিষিদ্ধ ছিল কেননা তা কুরানিক verse গুলোর সাথে মিশ্রিত হয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। হাদিস গুলো নবীর সহচরদের স্মৃতিতে ও মুখে মুখে ভেসে বেড়াত। কিছু হাদীসে নবী (সাঃ) -এর direct reference দেয়া হত যেমন, "নবী বলেছেন XYZ". আবার কিছু হাদিসের স্বরূপ অনেকটা এরকম ---- "সাহাবী/সহচর X বলেছেন যে, 'আমি অমুক পরিস্থিতিতে নবীকে অমুক কথা বলতে শুনেছি' বা 'আমি দেখেছি নবী (সাঃ) অমুক সমস্যা অমুকভাবে সমাধান করেছিলেন' "...... দিন মাস বছর পেরিয়ে যায়। নতুন প্রজন্মের মুখে মুখে হাদিস গুলো ঘুরতে থাকে। নবীর মৃত্যুর বহু বছর পর বেশ কিছু Complex form এর হাদিস পাওয়া যায় যেমন,

"আমার বাবা বলেছিলেন যে এক সাহাবা বলেছেন যে নবী বলেছেন যে... XYZ"

আজ পর্যন্ত সংরক্ষিত সকল হাদিসের তথ্যসূত্র এবং "CHAIN OF NARRATION" স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ আছে। অর্থাৎ, প্রতিটি হাদিসের সাথে তার পরম্পরা ( কোন কোন ব্যক্তির হাত ধরে হাদিসটি এসেছে ) কড়াকড়ি ভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

আমাদের বন্ধুদের ভেতর অনেক প্রকৃতির মানুষ থাকে। কোন বন্ধু হয় একটু ভুলোমনো, কেউ একটু চাপাবাজ প্রকৃতির হয়, কেউ আবার খুব Punctual হয় ... ঠিক যেই সময়ে কথা দেবে টায় টায় তখনই এসে হাজির। কেউ আছেন যাদের মূল গল্পের উপর একটু রঙ চড়িয়ে বলার ( exaggeration ) অভ্যাস রয়েছে বা যাদের মুখের নীতির সাথে কাজের মিল কম। আমরা তাই কারো কারো কথায় পাত্তা দেই কম। কিন্তু ওই একই সংবাদ যখন স্বল্পভাষী, পরিশ্রমী বন্ধুটি দেয় তখন আমরা সমীহ করি। কারণ ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত তাকে কখনো কথার এদিক-ওদিক করতে দেখিনি।

নবী (সাঃ) -এর মৃত্যুর পর থেকেই অল্প অল্প করে হাদিস সংগ্রহ শুরু হয়। এ সংগ্রহের সময় খুব কড়া যাচাই ( strict scrutiny ) প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়। সূত্রের ( Source of the hadith ) ব্যাপারে বিস্তারিত অনুসন্ধান, সূত্রের বিশ্বস্ততা নিরূপণ ( ব্যক্তিগত জীবনে সে কতটা নীতিবান/ আস্থাভাজন ছিলেন ) ---- ইত্যাদির পর হাদিসটিকে বিশ্বাসযোগ্য বলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। হাদিসের "Chain of Narration" -এ প্রতিটি অন্তর্বর্তী ব্যক্তির সততা যদি অবিসংবাদিত না হয়ে থাকে , তাহলে সেই হাদিস সহীহ বলে পরিগণিত হয় না। নিচের গবাদি পশুর ঘটনা শুনলে বুঝতে পারবেন।

গবাদি পশুর ঘটনাঃ

এক হাদিস সংগ্রাহক জানতে পারেন যে অনেক দূর অঞ্চলে এক খামারীর কাছে একটি বিশুদ্ধ হাদিস রয়েছে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে খামারীর কাছে যাবেন হাদিসটি সংগ্রহ করতে। এরপর সংগ্রাহক যাত্রা শুরু করেন দূর অঞ্চলের উদ্দেশ্যে। দুর্গম মরু অঞ্চল পেরিয়ে, দিন কয়েক বাদে তিনি খামারীর বাড়িতে পৌছান। তখন গোধূলি লগ্ন। খামারীর গবাদি পশুটা সেদিন বড্ড বেয়াড়াপানা করছিল। সন্ধ্যা নেমে যাচ্ছিল কিন্তু পশু শাবক টাকে কিছুতেই ঘরে ফেরানো যাচ্ছিল না মাঠ থেকে। খামারী অবশেষে পাতাওয়ালা একটা গাছের ডাল ভেঙ্গে শাবকের মুখের সামনে ধরে তাকে আস্তে আস্তে ঘরের ভেতরে নিয়ে আসছিলেন। এই অবস্থায় সংগ্রাহক খামারীর দুয়ারে উপস্থিত হন। হাদিস সংগ্রাহক তৎক্ষণাৎ ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত নেন ( হাদিসটি না নিয়েই )। খামারী তাকে থামিয়ে বললেন,

-- কেন এসেছিলেন আমার বাড়িতে?
সংগ্রাহকঃ -- আমি শুনেছিলাম আপনার কাছে একটি সহীহ্‌ ( বিশুদ্ধ ) হাদিস রয়েছে।
খামারীঃ হা ঠিকই শুনেছেন। কিন্তু তা না নিয়েই ফিরে চললেন কেন ?
সংগ্রাহকঃ না, আসলে আপনি যে এই নির্বোধ শাবকটিকে পাতার প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে ফিরিয়ে আনছেন তা এক অর্থে তার সাথে প্রতারণা। আমি আমার হাদিস সংগ্রহের ক্ষেত্রে খুব সতর্কতা অবলম্বন করছি। সূত্র খুব ন্যায়নিষ্ঠ, আর ধার্মিক না হলে হাদিস অন্তর্ভুক্ত করছিনা।

খামারীঃ দেখুন আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। ব্যক্তিগত জীবনে আমি নীতিবান। একজনের বার্তা অপরজনের কাছে পৌছে দেবার সময় শব্দের অদল বদল করিনা। হাদিসটি আমার কাছে একদম অপরিবর্তিত অবস্থায় আছে। আর এটা তো একটা নির্বোধ শাবক মাত্র

সংগ্রাহকঃ
দেখুন আমাকে মার্জনা করবেন। কিন্তু নির্বোধ শাবক হলেও এই আচরণ আমার কাছে ভালো লাগেনি। হাদিস টি আমি নিতে পারছিনা।

এই অতি সতর্কতার কারণ হল এই সংগৃহীত হাদিস শত শত মুসল্লীর জীবনযাপন রীতি কে প্রভাবিত করবে। এতে এতটুকু গলদও থাকা চলে না।

হাদিস সংগ্রহের কঠোর নীতি :
( STRINGENT Criteria for Hadith Collection )

a) not **FORGETFUL** :
শুধু ধর্মপরায়ণ, সৎ বা নীতিবান হলেই অন্তর্বর্তী ব্যক্তির উপর আস্থা রাখা যায়না। ভুলোমনো, উদাস প্রকৃতির Narrator থেকে বর্ণিত হাদিস গুলোও শেষ পর্যন্ত গৃহীত হয়নি। যাদের স্মৃতিশক্তি প্রখর ছিল, বারবার নথি না দেখেই যারা অবিকল বাণীগুলো পুনরায় বলতে পারতেন, তাদের হাদিস গুলো সহীহ বলে প্রাধান্য পায়। ইমাম বুখারী ছিলেন প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী। তিনি নবীর ১০০০ সাহাবী, সাহাবীদের প্রত্যেক এর অসংখ্য ছাত্র, সেই সব ছাত্রের ছাত্র ------- সবার তথ্য অকপটে বলতে পারতেন। জীবদ্দশায় তিনি বিভিন্ন পরম্পরা ও সূত্র থেকে সংগৃহীত ৬০০,০০০ ( ছয় লক্ষ ) হাদিস মুখস্থ করেছিলেন।

b) Pious, Just, Honest etc.

ইমাম বুখারী ও হাদিস
ইমাম বুখারী ৮১০ সালের দিকে উজবেকিস্তানে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৬ বছর বয়স থেকে বিভিন্ন অঞ্চল, রাষ্ট্র ঘুরে ঘুরে হাদিস সংগ্রহ করতেন। জীবদ্দশায় তিনি ৬০০,০০০ হাদিস সংগ্রহ করেন ( বিশুদ্ধ, অর্ধশুদ্ধ ও অল্পশুদ্ধ সব মিলিয়ে )। এরপর তিনি এসব হাদিসের চুলচেরা বিশ্লেষণ ও তুলনামূলক গবেষণা শুরু করেন। এদের মধ্যে একই হাদিস ( saying ) বিভিন্ন পরম্পরা ধরে আসার অনেক নজির ছিল। এরকম একই হাদিস নানান Chain ধরে আসলে তার সত্যতা সম্পর্কে আস্থা বাড়ে। কিছু হাদিস ছিল কুরানের সাথে খুবই সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিছু হাদিসের পরম্পরার অন্তর্বর্তী ব্যক্তিরা ছিলেন খুবই বিশ্বাসযোগ্য। এভাবে নানান ছাঁটাই বাছাই এর পর তিনি ৬০০,০০০ ( ছয় লক্ষ ) হাদিস থেকে মাত্র ৭২৭৫ টি হাদিস কে সহীহ বলে সংকলিত করেন। বোঝা প্রয়োজন যে, ওই সময় কাগজ, মুদ্রণশিল্প ইত্যাদির অবস্থা খুবই অনুন্নত ছিল। এই সংকলন তাই ছিল অশেষ পরিশ্রমের কাজ। আর তাছাড়া তখন World Wide Web বা Google Index এর কোন বালাই ছিলনা। হাদিস গুলো কে তিনি তাই বিভিন্ন Category তে Organize করে নিজের Index গড়ে তোলেন। যাতে করে মুসল্লিরা সহজে প্রয়োজনীয় হাদিস চিহ্নিত করতে পারে। এক কথায়, তিনি তাঁর জীবনের বড় অংশ উৎসর্গ করেন হাদিস সংগ্রহ, সংকলন ও গবেষণার কাজে।

USC Collection

ক্যালিফোর্নিয়ার প্রথিতযশা বিশ্ববিদ্যালয় University of Southern California -এর CMJE ( Center for Jewish Muslim Engagement ) -এর ওয়েবসাইটে পুরো বুখারী শরীফের ইংরেজী অনুবাদ বর্তমানে সংরক্ষিত আছে। এখানে সার্চের সুবিধাও রয়েছে।

আমি এত বিস্তারিত আলোচনা করলাম, যাতে বিভ্রান্ত মুসলিম পাঠকেরা বুখারী শরীফ ও হাদিসের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেন। শুধু কুরআন এর উপর নির্ভর করলে ইসলাম অনেকাংশেই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এত পরিশ্রমে সংকলিত বুখারী শরীফ কে টিস্যু পেপার এর সমতুল্য ধরায় আহত হলাম। সুন্নী মুসলমান হিসেবে আমি মৌন নিন্দা জ্ঞাপন করছি।


জাকাত এর এক তৃতীয়াংশ আমার !!

"অছ্যুৎ বলাই" লিখেছেন
আমি হাদিসের সুবিধায় চমৎকৃত হই।

বুখারী শরীফে এ সংক্রান্ত হাদিস খুঁজে পেলাম না। আপনি খুঁজে পেলে উৎস সহ জানাবেন। অপর হাদিস গ্রন্থ "সহীহ্‌ মুসলিম" - এ এই সংক্রান্ত বেশ কিছু হাদিস পেলাম। যার একটি নিম্নরূপ,

ইবন আল সা'দি মালিকি বলেন,
" উমর বিন খাত্তাব ( রাঃ ) আমাকে সদকা ( charity ) সংগ্রাহক হিসেবে নিয়োগ দেন। আমি আরোপিত দায়িত্ব সম্পাদন পূর্বক তাঁকে ( উমর (রাঃ)-কে ) সেগুলো হস্তান্তর করলাম। তিনি আমাকে কাজের জন্য কিছু বখশিশ গ্রহণের নির্দেশ দিলেন। আমি বললাম, এ দায়িত্ব আল্লাহর উদ্দেশ্যে করা, তিনিই এর প্রতিদান দেবেন। উমর (রাঃ) বললেন, 'যা তোমাকে দেয়া হয়েছে সেটা গ্রহণ কর, কারণ আমি নিজেও রাসূল (সঃ) -এর সময়কালে এই একই দায়িত্ব পালন করতাম। তিনি ( নবী (সাঃ) ) আমাকে সদকা সংগ্রহের দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং আমিও তোমার মত একই কথা বলেছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তখন বলেছিলেন, তুমি না মাগতেই ( without you begging for it ) যখন তোমাকে কিছু দান করা হয় তখন (তা গ্রহণ কর), আহার কর এবং সদকা ( Charity ) হিসেবে তা অনুদান কর।

উৎস = Translation of Sahih Muslim

সহীহ মুসলিমের আর একটি অংশে "pleasing of the collector" সম্পর্কে হাদিস আছে,

জাবির বিন আব্দুল্লাহ বলেন,
" বেদুঈন ( People of the Desert ) দের থেকে একজন আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর কাছে এসে বলল, 'সদকা সংগ্রহকারীরা আমাদের কাছে আসে এবং অন্যায় আচরণ করে।' রাসূল ( সাঃ ) তা শুনে বললেন, 'তোমার সংগ্রহকারীদের সন্তষ্ট করবে' ... জারির বললেন, রাসূলের এ কথা শোনার পর কোনো সংগ্রাহক আমার কাছ থেকে খালি হাতে ফিরে যায়নি"

---- উৎস = Translation of Sahih Muslim

--- এখানে বোঝার ব্যাপার রয়েছে। অন্যান্য উৎস থেকে এর ব্যাখা পড়ে যতটুকু ধারণা করতে পারছি তা নিম্নরূপঃ

যাকাত ও সদকার বিধান ইসলামের প্রারম্ভিক কালে খুবই অজনপ্রিয় ছিল এবং কেউই তা দিতে চাইত না। সদকা আদায়কারীরা তাই বেদুঈনদের মধ্যে খুবই অপ্রীতিকর উৎপাত বলে পরিগণিত হত। সেই নালিশ জানাতেই রাসূলুল্লাহ (সাঃ ) এর কাছে তাদের আসা। কিন্তু রাসূলুল্লাহ বরং উত্তরে সদকার উপর জোরারোপ করেন। অর্থাৎ "তোমার আদায়কারীদের সন্তুষ্ট করবে" মানে এই নয় যে তাদেরকে ব্যক্তিগত অনুদান দেবে .........বরং এর অর্থ আদায়কারীরা আসলে পরে যাকাত বা সদকা তাদের হাতে তুলে দেবে।

সুতরাং কোন হাদিসেই "Demand" হিসেবে "এক তৃতীয়াংশ" বেঁধে দেয়া হয় নি। দ্বিতীয় হাদিসটিতে যতটুকু বুঝি, আদায়কারীর অংশ নয় বরং সাধারণ সদকার ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর প্রথমটিতে আদায়কারীর নিস্পৃহ থাকার ব্যাপারে ( without you begging ) জোর আছে,........."দাবী" হিসেবে এক তৃতীয়াংশ তো দূরের কথা।

যুক্তি খন্ডন বা পালটা যুক্তি উপস্থাপন নয়, বরং ধর্ম-অবমাননার বিষয়টা খোলাসা করা, হাদিস প্রভৃতি নিয়ে সংশয় দূর করা এবং সার্বিক মুসলিম ( এবং অমুসলিম) পাঠকদের মধ্যে চিন্তার খোরাক জোগানো ছিল মন্তব্যের মূল উদ্দেশ্য।
মন্তব্যটি প্রকাশিত হলে অত্যন্ত বাধিত থাকবো।

------ মোল্লা ।

হিমু এর ছবি

এগুলোর মাঝখানে একবারো সাধারণ মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতির ব্যাপারটা তার মাথায় খেলে যায়নি-- সেটা খুব বিশ্বাসযোগ্য নয়।

"সাধারণ" মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতির অজুহাত দিয়ে দুনিয়ার যে কোনো কাজের বিরুদ্ধেই তো মনে হয় হাউকাউ শুরু করে দেয়া সম্ভব তাহলে।

একজন "সাধারণ" মুসলিম, তাহলে এই কার্টুনের ব্যাপারে আপনি সম্পাদক বরাবর চিঠি লিখে প্রতিবাদ করতে পারেন, ফোন করে আপত্তি জানাতে পারেন। যখন "সাধারণ" মুসলিমরা লাঠিসোঁটা হাতে রাস্তায় নামেন, তখন কলঙ্কের দায়ভার সাধারণ মুসলমানের স্কন্ধেই চাপে, যে মুসলমান মাত্রেই অসহিষ্ণু ও সহিংস। আপনি যেমন জানেন, তেমনি আমরা জানি, আরিফ এখানে নেহায়েতই বলির পাঁঠা, ব্যারিস্টার মঈনুল আর সম্পাদক মতির মধ্যে রেষারেষির সূত্রে "অসাধারণ" মোল্লাগোষ্ঠীর শিকার।

আর আপনি নিশ্চয়ই মোল্লাগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জানাবেন, ইতিপূর্বে (সম্ভবত ১৯৯৮ সালে) ইসলামী ছাত্র শিবিরের কিশোরপটানো গেলমানমোহন পত্রিকা "কিশোরকণ্ঠ"-এ ঠিক এই একই কার্টুনটি প্রকাশ করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে "সাধারণ" মুসলিমরা কী অ্যাকশন নিতে পারে বা নেয়া উচিত?



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

চলুক

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

ধুসর গোধূলি [অতিথি] এর ছবি

এরকম একই হাদিস নানান Chain ধরে আসলে তার সত্যতা সম্পর্কে আস্থা বাড়ে।
এই লাইনটা পড়ে একটা কথা মাথায় এলো। নানান রূপকথা আছে যেগুলোর একই কাহিনী বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন chain ধরে প্রচলিত হয়ে আসছে। সেক্ষেত্রে কি ঐ রূপকথাগুলোও সত্যতা পাবে এই চেইন রিএ্যাকশনের কারণে? বুদ্ধি কম তো, তাই জানতে চাই মোল্লা ভাইয়ের কাছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ইসলামী মোল্লা সমিতি এ ব্যাপারে কী বলেন!

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

মোল্লা ভাই, বিশাল এবং বিস্তারিত মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

বিশেষ করে দ্বিমতের স্থানগুলোয় একটু আলোকপাত করি:


৫ নং পয়েন্টটি মিশেল দিয়েছেন বলে মনে হয়েছে। ৫ এর যৌক্তিক ভিত্তি ১-৪ হতে পারে না ।

মিশেলের কারণ হিসেবেও আপনার বক্তব্য পরিষ্কার। যার সারসংক্ষেপ, "একজন মানুষ অন্য একজনের প্রতি তার আচরণের জন্য তেমন ভাবনা-চিন্তা না করলে, সেটা গ্রহণযোগ্য, যেমন, ফুটবল খেলার মাঠে পায়ে ল্যাং মারা; কিন্তু পত্রিকার কার্টুনিস্টকে সম্ভাব্য রিঅ্যাকশন চিন্তা করে আঁকতে হবে।"

আপনার কথায় যুক্তি আছে। একজন মানুষের ব্যক্তিগত ভাবনা আর পত্রিকার পাতায় লেখা প্রকাশের গুরুত্ব অবশ্যই আলাদা। কিন্তু ব্যক্তিগত হোক আর সমষ্টিগত, এখানে প্রশ্নটা আদৌ অন্যায় করা হয়েছে কিনা। আমি মনে করেন খুব ভেবেচিন্তেই মুহাম্মাদ নামের একজনকে ল্যাং মারলাম, তখন কি ধর্ম অবমাননা হবে? আরিফের আঁকা কার্টুনের কৌতুক আসলে বহুল প্রচলিত। আমাদের দেশে নামের আগে এতো মুহাম্মাদ (নানান বানানে) যে, বিদেশে গিয়েও অনেককেই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। মুহাম্মাদ ইফতেখার, মুহাম্মাদ শামছুল ইসলাম, মুহাম্মদ বাকিবিল্লাহ - প্রত্যেকেরই ফার্স্ট নেইম 'মুহাম্মাদ'। আরিফের কৌতুক মূলত এই জিনিসের ওপরই ফোকাস করা। বাংলাদেশের মতো ৯০% মুসলমানের দেশে আরিফের মতো একজন নবীন আঁকিয়ের খেয়েদেয়ে আর কাজ নাই, মানুষের ধর্ম নিয়ে টানাটানি করার!

সে যাক, ধরলাম আমরা সব মনপড়ুয়া, আরিফের মনে আসলেই ঐ বদইচ্ছা ছিলো; কিন্তু ধর্ম অবমাননার দায় চাপানোর আগে দেখতে হবে, ধর্মে এই সম্পর্কে বিধান কি। বিড়ালের নামের আগে মুহাম্মাদ যোগ করলে সেটা নবী (সাঃ )কে অবমাননা করা হয়, কুরআনে কি এ বিষয়ে কিছু আছে? না থাকলে যারা ধর্ম অবমাননার অজুহাত দিলো, অরাজকতা সৃষ্টি করলো, ক্যাচাল বাধালো, প্রকৃতপক্ষে তারাই কি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করলো না?

অবমাননার ব্যাপারটা আপেক্ষিক

হ, কোনো আবাল পাবলিকের দিকে পিছন ফিরে পানিত্যাগ করলেও সে হয়তো মনে করতে পারে, তারে অবমাননা করা হইছে। এই জন্যই ধর্ম অবমাননার প্রশ্ন উঠলে প্রথমেই ধর্মের নির্দেশটা কি, তা দেখা প্রয়োজন। অবমাননা বিষয়ে ইসলাম কতোটা সহনশীল আর কতোটা যুদ্ধংদেহী মনোভাবের - অবমাননা ফতোয়া দানকারীদের কাছ থেকে প্রথমে এই বিষয়টার রেফারেন্স চাই। তারপরে আলাপ হবে ধর্মের দাবীটা কতোটা জাস্টিফায়েড।

when ye hear the signs of Allah held in defiance and ridicule, ye are not to sit with them unless they turn to a different theme. if ye did, ye would be like them

আপনার রেফার করা এই আয়াতটি অবমাননা থিওরিস্টদের কিছুটা হেদায়েত করতে পারে। এমনকি সরাসরি আল্লাহর নামে উপহাস করলেও উপহাসকারীদের প্রতি তেড়ে যাওয়ার কথা বলা হয় নাই, স্রেফ আলোচনা না চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেখানে কোটি কোটি মানুষের ফার্স্ট নেইম নিয়ে একটা বহুল প্রচলিত কৌতুক পত্রিকার পাতায় দেয়ায় সেটাকে নবীর সাথে অ্যাসোসিয়েট করে পুরা জঙ্গীবেশ! এই জঙ্গীরা কি মুসলমান?

---------------------
হাদিসের গুরুত্ব বা ইসলামী অনুশাসন হিসেবে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে একটা সময়ে কিছু পড়াশোনা করেছিলাম। আমার মোটিভেশন ছিলো মূলত হাদিস জিনিসটা কতোটা কাজের তা দেখা। কারণ, যারাই ইসলাম নিয়ে সমালোচনা করত, তারা দেখা যেতো বেশিরভাগ সময়ই হাদিসের রেফারেন্স টানছে। আজব আজব সব কথাবার্তা সেই হাদিসগুলোয়। তখনই প্রথম হাদিস নিয়ে ধন্দে পড়ি। এরপরে একটু ঘাটাঘাটির পরে যা জানতে পারি, তাতে হাদিসকে ইতিহাস হিসেবে স্যালুট দিলেও ইসলামী অনুশাসন হিসেবে এটাকে টিস্যু পেপারের চেয়ে দামী মনে হয় না, ইনফ্যাক্ট, হাদিস হলো ইসলামকে বিকৃত করার প্রধান ধাপ।

সবগুলো রেফারেন্স হাতের কাছে নেই। তবু আপনার বক্তব্যের কয়েকটার ওপর আলোকপাত করি।

কুরান মূলত বিশ্বাস, দর্শন, বিশ্ব সৃষ্টি, মানব জাতির জন্য খুব মৌলিক কিছু Moral Code, ও অধিকারের কথা সংক্ষিপ্ত পরিসরে বর্ণনা করে।

এই কথাটা কুরআনের অন্তত নিচের আয়াতগুলোর সাথে কন্ট্রাডিক্টরি:
"আমি আপনার প্রতি গ্রন্থ নাযিল করেছি, যেটি এমন যে, তা প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলমানদের জন্য সুংসবাদ।" সুরা: আয়াত ১৬:৮৯

"তবে কি আমি আল্লাহব্যতীত অন্য কোনো বিচারক অনুসন্ধান করবো, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন।" সুরা: আয়াত ৬:১১৪ (এখান থেকে এর পরের আয়াতগুলোও অর্থবহ, যেখানে মানুষের মনগড়া কথা বলার প্রবণতা সম্পর্কে বলা আছে।)

এখানে দেখা যাচ্ছে, আল্লাহ নিজেই বলছেন যে কুরআন 'বিস্তারিত' গ্রন্হ। তাহলে এখানে সংক্ষিপ্ত পরিসরের কথা আসছে কেনো? আপনার দেয়া উদ্ধুতিটা কোরআনে কোথাও আছে?

কিন্তু প্রাত্যহিক মানব জীবনের শতধা বিষয়-আশয়ের খুটিনাটি আলোচনা কুরান নাজিলের মূল উদ্দেশ্য নয়। এ জন্য বার বার কুরানে, হাদীসের কাছে ফিরে যাবার কথা বলা হয়েছে।

কুরআন থেকে এইটারও রেফারেন্স চাই। যেখানে আল্লাহকে বলতে হবে শতধা বিষয়-আশয়ের খুঁটিনাটি কুরআনে নাযিলের উদ্দেশ্য না, অথচ সেই খুঁটিনাটিগুলো এতোই মূল্যবান যে, হাদিসের কাছে ফিরে যেতে হবে? [সেই সময় কি কুরআনের পাশাপাশি হাদিসও ছিলো নাকি? নবী(সাঃ ) নিজে থেকে কোনো কথা যদি না বলেন, তাহলে ইসলামের নির্দেশ হিসেবে তিনি যা বলেন, তাতে কুরআন থেকে বাড়তি কিছু থাকে নাকি? আর বাড়তি কিছু ইসলামের অনুশাসন হিসেবে থাকলে তার কতো অংশ বুখারীরা ২০০ বছর পরে লিখতে পেরেছেন আর কতো অংশ হারিয়ে গেছে? নবী (সাঃ ) প্লাস আল্লাহ এতোই অবিবেচক যে, এভাবে ইসলামকে পঙ্গু হতে দিলেন?]

হাদীস বর্জন করলে তাই দিক নির্দেশনার অল্পই অবশিষ্ট থাকে।

তাই নাকি? হুম, আল্লাহর কুরআনে তাইলে দেখা যাচ্ছে ইসলামের অল্পই আছে। আচ্ছা, ধরলাম, কুরআন খুব অল্প অংশই। তাইলে ইসলামের যে বুহদাংশ, অর্থাৎ নবীর বাণী (ইনক্লুডিং ১৩ বিবিকে বিভিন্ন কায়দায় আই লাভ ইউ বলা) এবং কাজ (ঘুমানোর দোয়া, সঙ্গমের দোয়া, বায়ুত্যাগের দোয়া, মলত্যাগের দোয়া, দোররা মারার স্টাইল, পাগড়ি বাঁধার স্টাইল ইত্যাদি) এর কতোভাগ আমাদের হাদিস সংগ্রাহকরা লিখতে পেরেছেন? বুখারী মিয়া একাই যদি ৬ লাখ থেকে মাত্র ৭২৭৫ টি হাদিস (১.২%, হুম বিশাল ইম্প্রেসিভ ফিগার!)কে সহীহ বলে রায় দেন, তাহলে বাকিগুলা যে হারিয়ে গেলো। এখন মনে করেন বুখারী মিয়া যদি ৬ লাখ বাণী কালেক্ট করতে সক্ষম হন, তাইলে নবীজি (সাঃ ) কতো কোটি কথা বলে গেছেন, চিন্তা করে দেখেন। দ্যাট মিনস, নবী(সাঃ ) এর কথা ও কাজের সাথে তুলনায় এই হাদিসগুলা বড়জোর আটালন্টিকে সূঁচের সাথে তুল্য। তাইলে মোল্লা ভাই, আমারে বলেন, ইসলামী অনুশাসনের আর অবশিষ্ট থাকলো কি? ইসলাম তো সিংহভাগই অলরেডি গন কেস!

আরেকটা জিনিস এই প্রসঙ্গে আলোচনায় আসে, তাহলো, কোরআন খুব দুর্বোধ্য জিনিস। তাই এটা পড়ে বুঝা সাধারণ পাবলিকের কম্ম নয়! কিন্তু এটাও ডাহা মিথ্যা কথা। আল্লাহ কুরআনেই বেশ কয়েক যায়গায় বলেছেন কুরআন একটা বক্রতামুক্ত ক্লিয়ারকাট গ্রন্হ।

এখানে আরেকটা প্রশ্ন অনেকে উত্থাপন করেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কথা হাদিস না থাকলে কই পামু? কুরআনে ওযুতে কি কি করতে হবে বলা হয়েছে; কিন্তু নামাজের ওঠানামার ডিটেলস নাই। এক্ষেত্রে বলা যায়, রিচুয়ালটাকে আল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন নি। যেমন, নামাজে আমি এক মাযহাবের অনুসারী হয়ে বুকে হাত বাঁধি আর অন্য মাযহাবের অনুসারী হয়ে নাভিতে হাত বাঁধি, ডাজন'ট ম্যাটার। এতে একজনের নামাজ হবে আর আরেকজনের হবে না, এই জাতীয় কাহিনী হলে আল্লাহকে ধরা করা যাবে। আল্লাহ ন্যায় বিচারক।

আর ভাই, হাদিস সংগ্রহের সময় কি কি সতর্কতা অবলম্বন করা হইছিলো, হাদিস বর্ণনাকারীর চরিত্র কেমন ছিলো, এইসব গল্প শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। আপনিও নিজে একটু চিন্তাভাবনা করে দেখেন। খোলাফায়ে রাশেদিনের খলিফারাই যেখানে সেই মুসলমানদের হাতে খুন হয়, তখন মুয়াবিয়ার চেলা আবু হুরায়রাহর রেফারেন্সের হাদিস আরো দশহাত ঘুরে বুখারীর জাজমেন্টের ওপর ভিত্তি করে লেখার পর সেইটারে আপনি ইসলামের অনুশাসন বলতে চান? হু দ্য হেল ইজ বুখারী? সে কি নবী-রাসূল নাকি? তারে কে দায়িত্ব দিছে ইসলামের 'অনুশাসন' লেখার?

কোরআন থেকে আল্লাহর বাণী

"What is wrong with you? How do you judge? Do you have another book which you study?" সুরা: আয়াত ৬৮: ৩৫-৩৬।

হাদিসের কন্ট্রাডিকশনের আলাপে আর গেলাম না। মানুষের তৈরি মাল, বুখারী যতোই ছাঁকনি দিয়ে বেছে মাত্র ১% রাখুক, তার মধ্যেও কন্ট্রাডিকশন বের হবেই। ইসলামের নামে ইসলামে হাদিসের মতো যে সব আবর্জনা ঢুকেছে, এগুলা বাদ দেন, দেখবেন ইসলাম তখন আর জঙ্গী ধর্ম নাই, তখন হুট করে আরেকজনের মাথার দাম হাঁকা যায় না, আরিফদের নামে মামলা করা যায় না, ইসলাম তখন বাস্তবিকই শান্তির ধর্ম হয়।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

দ্রোহী এর ছবি

খোমাখাতার মতো করে এইটারে 'লাইক' কর্লাম।

যুধিষ্ঠির এর ছবি

প্রিয় মোল্লা, আপনার সুদীর্ঘ এবং বিশ্লেষনী মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। একটা বিশেষ ধন্যবাদ আপনাকে, এ ধরনের মন্তব্য করতে গিয়ে অনেকেই অন্যকে অসম্মান করেন বা উপরে আলো'র মন্তব্যের মত কদর্যতার আশ্রয় নেন, সেটা আপনি করেননি। কিছু বলার আগে, একটা কথা এখানে পরিষ্কার করে নেই। আমি ধর্মে অবিশ্বাসী মানুষ। আপনার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ধরে নিচ্ছি আপনি ধার্মিক মানুষ, ভুল হলে ক্ষমা করবেন। আপনার মন্তব্যের একটা দীর্ঘ অংশ এসেছে বিশ্বাস থেকে। সে বিষয়গুলো নিয়ে আমার যত দ্বিমতই থাক, তর্কে যাবো না। বিশ্বাস নিয়ে তর্ক হয় না, হওয়া উচিৎও না। বিশ্বাসের জিনিস যুক্তি দিয়ে কাউকে বোঝানো বা পাল্টা যুক্তি দিয়ে খণ্ডানোর চেষ্টা করাটা অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করি। আপনার ধর্মবিশ্বাসের প্রতি আমার যথেষ্ট সম্মান থাকলো। আমি নীচে যা বলবো, যথাসাধ্য চেষ্টা করবো আপনার ধর্মবিশ্বাসে আঘাত না দিতে।

এবার আমার মন্তব্যের যে অংশটুকু উদ্ধৃত করলেন, সেটা নিয়ে সংক্ষেপে বলি।

ধর্ম বা ধার্মিকের আধুনিকতা নিয়ে আমি যেটা বলেছি, তার সমর্থন আপনি নিজের লেখাতেই দিয়েছেন। সুস্থ সমাজের অন্যতম সূচক হল পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা। 'সমাজ' কথাটার জায়গায় 'ধর্ম বসাতে চাই আমি। আমার বোঝানোর ভুল হতে পারে, তবে আপনি আমার কথার উদ্ধৃতি দিয়ে যে উদাহরণটা দিলেন, সেটা আসলে আমার বক্তব্যকেই আরও শক্তিশালী করে। এই যে আপনি বস্তির উদাহরণ দিলেন, ধর্ম বা ধার্মিকেরা যদি মনে করে যে তাদের নিজেদের ধর্মের বাইরের দুনিয়াটা হলো সন্ত্রাসী আর দেহব্যবসায়ীদের দিয়ে ভরা নোংরা একটা সমাজ, ধর্ম দিয়ে যেটার সংস্কার না করে অন্য কিছু করা সম্ভব না, তখনই ধর্ম আর ধার্মিকরা আধুনিকতা হারায়। ধর্মকে, বিশেষতঃ ইসলাম ধর্ম আর ধার্মিককে বুঝতে হবে যে তাদের বিশ্বাসের বাইরেও সভ্য মানুষ থাকতে পারে, আছে, আর ধর্মের বজ্র আঁটুনীর বাইরেও 'সভ্যতা'র আরও বিশাল ব্যাপ্তির একটা সংজ্ঞা আছে। আর সেটা মেনে নেয়াটা হবে আধুনিকতা। একটা সময় হয়তো জ্ঞানার্জনের জন্য চীনদেশে যাওয়াটা "সুদূর" এবং আধুনিক একটা ব্যাপার ছিলো, কিন্তু উদাহরণ হিসেবে ওটা আজকের যুগেও আঁকড়ে ধরে থাকলে তাতে আধুনিকতা আর থাকে না। আমেরিকার টক শো গুলোতে জেসাস এবং ক্রিস্চিয়ানিটি নিয়ে, মোজেস বা জুডেইজম নিয়ে যে কী ভয়াবহ রঙ্গ-তামাশা হয়, তার উদাহরণ ইউটিউবে ভুড়ি ভুড়ি আছে, ইচ্ছে হলে দেখে নিয়েন। এতে করে এদেশে কারো ধর্মবিশ্বাসের অবমাননা হয় না। এর উত্তরে যদি কেউ বলেন, তাহলে আমেরিকার মানুষরা আসলে ভালো ধার্মিক না - সেটা তখন ধর্মের কুপমণ্ডুকতার একটা ভালো উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়।

ধর্ম বা ধর্মবিশ্বাস এত ঠুনকো কোন জিনিস না, যেটা আরিফের নির্বিষ কৌতুকের মাধ্যমে ভেঙ্গে পড়বে। সেটা প্রকৃতপক্ষে সালমান রুশদী বা তসলিমা নাসরীনের লেখাতেও ভেঙ্গে পড়ার কথা না। তাও আপাতঃ দৃষ্টিতে পড়ে। কেন পড়ে, সেটা বুঝতে গিয়ে আরিফ, রুশদী বা তসলিমাকে ধর্মের শত্রু বানিয়ে ধর্মের রক্ষাকর্তারা যে মানবিকতার আসল শত্রুদের লুকিয়ে রাখেন 'বিশ্বাসী'দের চোখ থেকে, সেটার রাজনীতিটা বোঝানোটাই বলাইয়ের এই লেখাটার, বা আমার আর অন্য অনেকের মন্তব্যের উদ্দেশ্য ছিলো, আছে। অন্য যে কোন আলোচনাই এখানে আসলে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়ায়।

ধর্ম অবমাননা প্রসঙ্গে আর একটা কথা বলি। ছোটবেলায় গল্পে পড়েছি, ইসলামের নবী তাঁর চলার পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখা বুড়িকে কি অভুতপূর্ব দয়ামায়া দেখিয়েছিলেন। পথে কাঁটা বিছানোর মত সর্বজন স্বীকৃত অবমাননার পরও ইসলামের নবী ওই আচরন দেখিয়েছিলেন। এই গল্পটা মনে হয় আজকালকার ধর্মীয় শিক্ষার বইতে আর অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।

সাফি এর ছবি

বলাইদা,
যুক্তি তর্কের সময় এরকম কটুক্তিমূলক বেফাঁস কথা না বলে বরং টু্ দ্যা পয়েন্ট থাকাই ভাল মনে হয় -

" (ইনক্লুডিং ১৩ বিবিকে বিভিন্ন কায়দায় আই লাভ ইউ বলা)"

তাতে মূল বিষয় থেকে দূরে সরে যাবার সুযোগ থাকেনা। এছাড়া এই কথাটা পছন্দও হয়নাই।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

সাফি ভাই,

উপস্থাপনা কনফিউজিং হতে পারে, স্বীকার করছি; কিন্তু এই ১৩ বিবির ঘটনাও আসলে মূল পয়েন্টের সাথে রিলেটেড। নবী (সাঃ ) যা করে গেছেন, আমাদের জন্য ইসলামী অনুশাসন এক্কেরে কাঁটায় কাঁটায় ঠিক তা না। তিনি ৪ এর অধিক বিবাহের পারমিশন পেলেও আমাদের জন্য ম্যাক্সিমাম ৪।

একইভাবে তিনি আরব্য আলখাল্লা পরলে পোশাক হিসেবে সেটা ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় না। শীতপ্রধান দেশের ভারী জ্যাকেটের সাথে ইসলামের কোনো বিরোধ নাই।

(উপস্থাপনার দোষে বক্তব্যে কনফিউশন থাকলে সরি। এমনিতে রাত জাগি না; কিন্তু কাজের জন্য জাগতে হচ্ছে। কাজের ফাঁকে একটানে লেখা মন্তব্য। ক্ষমা পেতে পারি। হাসি )

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সাফি এর ছবি

বলাইদা,
এসব ক্ষমাটমা বাদ দেন তো। লেখা সম্পর্কে মন্তব্য আগেই ঝেড়েছি। তাও বারবার যুক্তি তর্ক দেখার লোভে ঢু মেরে যাচ্ছি। বিশ্বাস করুন, অনেক অনেক বার দেখেছি, এমন দু - একটা ছোট্ট কথাকে পুঁজি করে মূল আলোচনা অন্যদিকে সরিয়ে নিতে, তাই মন্তব্য করেছিলাম। সুতরাং এনিয়ে আর কথা না বাড়িয়ে চলুন মূল লেখায় ফিরে যাই হাসি

স্বাধীন [অতিথি] এর ছবি

নবীজীর অধিকাংশ বিবাহ (শুধু খাদিজা (রাঃ) ও আয়েশা (রাঃ) ব্যতীত) ছিল সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে। কিন্তু তার জন্য স্ত্রীদের তালাক দেয়াও সম্ভব ছিল না। কারন উনার স্ত্রীরা আমাদের মায়ের মত। উনি তালাক দিলে আর কেউ উনাদের বিবাহ করতে পারতো না। তৎকালীন সমাজে স্বামী ব্যতীত নারীদের জীবন কঠিন ছিল। তাছাড়া কোরান এ ও উনার তালাকের ব্যপারে নিষেধ করা হয়েছে। আর বিয়ে করে তো কারো কোন ক্ষতি উনি করেন নাই। জোর করেও বিয়ে করেন নাই। আপনার ৪ টার বেশি বিয়ে করতে ইচ্ছা হলে করুন না ! একটাকেই সামলাতে পারেনা অনেকে !

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

উনার স্ত্রীরা আমাদের মায়ের মত। উনি তালাক দিলে আর কেউ উনাদের বিবাহ করতে পারতো না।

আমার মন্তব্যের ফোকাসও তাই। নবী (সাঃ ) এর জন্য যা বৈধ, দেখা যাচ্ছে আমাদের জন্য তা অক্ষরে অক্ষরে বৈধ না। তার অর্থ নবীজির হাগা-মুতা-লাগালাগির 'ডিটেলস' ঠিক ইসলামের নির্দেশ না (কারণ, এসবক্ষেত্রে অক্ষতিকর বৈচিত্র থাকা খুব স্বাভাবিক এবং ইসলাম মানুষকে দরকার ছাড়া আষ্টেপৃষ্ঠে দমবন্ধ করে বেঁধে ফেলার ধর্ম না), ইসলামের বইখানায় আল্লাহ যা লিখে দিয়েছেন, ওটাই ইসলামের নির্দেশ।
আপনার ৪ টার বেশি বিয়ে করতে ইচ্ছা হলে করুন না ! একটাকেই সামলাতে পারেনা অনেকে !

ইচ্ছে তো হয়ই। চোখ টিপি কিন্তু ৪টার বেশি বিয়া করতে যে কোরআনেই নিষেধ করা। বিয়ে করতে না পারলে সামলাতে পারবো কিনা, তা বুঝা ও তো টাফ।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

পোষ্ট সরাসরি প্রিয়তে ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

সাফি এর ছবি

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2009-11-15/news/19567

এবার হাসিনার অবমাননা চোখ টিপি

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

হা হা হা হা... ব্যাপক মজা পাইলাম...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

মামুন হক এর ছবি

ভালো লাগলো। জানার কোন শেষ নাই।

আলো এর ছবি

কাউকে আঘাতের জন্য লিখি নাই, শুধু পড়ে দেখুন কেমন শোনায়...

গণেশের এই দুই ভাগিনীর নাম দূর্গা আর লক্ষী... দুই দেবীর কানে ধরার পাপ এত সহজে মোচন হবে না....দেবতাকে থাপ্পড় মেরে শাপের রিস্ক নিতে আমার মতো বড়ো রাবণও ডরায়!

অবশ্যই ভাল না, তাই না?

আমার commment এ শুধু দুর্গার নাম নিয়েছি বলেই একজন ব্যাপক প্রতিক্রিয়া করলেন। আমার আপত্তি নামে ছিল না। ছিল "নবী" শব্দ ব্যবহারে...

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

গণেশের এই দুই ভাগিনীর নাম দূর্গা আর লক্ষী... দুই দেবীর কানে ধরার পাপ এত সহজে মোচন হবে না....দেবতাকে থাপ্পড় মেরে শাপের রিস্ক নিতে আমার মতো বড়ো রাবণও ডরায়!
খারাপ শোনায় নাই। কারণ, কারো নাম দুর্গা আর লক্ষ্মী হলে তার কান ধরলেই দেবীদের কান ধরা হয় না।

নেক্সট কোয়েশ্চেন প্লিজ।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।