কাসেলপুর আশ্রমে আশেকানা মেহফিল

ধুসর গোধূলি এর ছবি
লিখেছেন ধুসর গোধূলি (তারিখ: রবি, ০৬/০৯/২০০৯ - ১২:০৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

শনিতে শনিতে আষ্ট দিন অতিবাহিত হয়ে গেলো কাসেলপুরি বাবার কাসেলপুর আশ্রমে ভক্ত আশেকানগণ নানা কোণার মোকাম হতে ছুটে এসে নজরানা, আশেকানা, পেয়ারানা, গায়েবানা সব রকমের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং গোপন করেছেন। আশ্রমের হেড খতিব, খাদেমে আবুল জনাব আলিফ-হা ওরফে হিমু আল সুদানী'র পয়গামে ব্যতিব্যস্ত হয়ে ভক্ত আশেকুল গোষ্ঠী দিকবিদিক ছুটিয়া অবশেষে দুইটা দিন একসঙ্গে কাটাইয়া দোজাহানের অশেষ নেকি হাসিল করেছেন এবং বিশেষ বিষয়ে নিজেদের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছেন।

এই আশেকানে উরস মোবারক নিয়ে ইতোমধ্যে ভক্ত আশেকানগণ ভিন্ন ভিন্নভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা বয়ান করেছেন। আমি কেবল তাঁদের ছাড়িয়া ছুড়িয়া যাওয়া বিষয়গুলোতে কিঞ্চিৎ আলোকপাত করিয়া প্রস্থান করিবো। আমার বয়ানের মধ্যিখানে কেহ জায়গা ছাড়িয়া উঠিবেন না। এমনকি টাট্টিঘরে যাওয়ার আহ্বান লাগিলেও না। হাতের সণ্ণিকটে পলিথিন, পেলাশটিক, বোতল- যার যা কিছু তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকেন। বয়ানের মাঝে আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি, তোমরা যার যার কাজ সারিয়া লইবা। আমারে ডিশটাব দিবা না কইলাম!

সচল সকল

হল্যাণ্ডের আড্ডাটা ফসকে যাওয়ায় প্রায় সবাই আমার ওপর নাখোশ ছিলেন। তাতাপু জিটকে হুমকি ধামকি দিচ্ছিলেন। তাঁর নাকি লোকজন পিটিয়ে অভ্যাস আছে। থাকিও বেশি দূরে না। বেশি তাফালিং করলে হয়তো দলবল নিয়ে আমাকে জার্মানী এসে পিটিয়ে যাবেন, এই ভয়ে রাজী হয়ে যাই। কিন্তু ছোট একটা শর্ত জুড়ে দেই। তা হলো, আমি গতবার হল্যাণ্ড সফরে যে যে খাবার মিস করেছি, সে খাবারগুলো তাতাপুকে নিয়ে আসতে হবে, আমার জন্য। শুনে তিনি জিটকেই হাউকাউ লাগিয়ে দিলেন। মুষলধারায় লাইনের পর লাইন লিখতে লাগলেন। আমি কম্প্যুর সাউণ্ড বোবা করে দিয়ে ফেসবুকে ছাম্মকছাল্লো ললনা দেখতে থাকি। মাঝে মাঝে এসে দেখে যাই তাতাপুর বোমাবর্ষণ, বাজুকাবর্ষণ, অনলবর্ষণ থেমেছে কি না! তিনি কিছু আনতে নারাজ, কারণ তিনি 'গেস্ট'। আমিও খাবারের ব্যাপারে এক চুল পরিমানও ছাড় দিতে নারাজ, কারণ ঐ খাবার আমার হক। আমি তাতাপুকে ইসলামী কায়দায় বোঝালাম, রোজা রমজানের দিনে গরীবের হক আদায়ে কতো কোটি সওয়াব তিনি পাবেন সেই এত্তেলা দিলাম। এবার তিনি কিছুটা গললেন। রফা করলেন হালিম আর পুডিং-এ। তবে তিনিও শর্ত জুড়ে দিলেন, তাঁকে যেখানে সেখানে 'তনু' নাম ধরে ডাকা যাবে না। তাহলে তিনি খাবার আনবেন না। আমি বিনাশর্তে তাঁর শর্ত মেনে নিলাম।

শনিবার সকালে ঢুলতে ঢুলতে, ঝিমাতে ঝিমাতে, ঘুমুতে ঘুমুতে কাসেলপুরে গিয়ে হাজির হলাম। রাস্তায় নেমেই কিশোর কুমারের 'পৃথিবী বদলে গেছে' গানটা কানে ও মাথায় যুগপত বাজতে শুরু করলো। হয়তো ভাবছেন, "আহা কী রোমান্টিক পোলা, সেরকম সময়ে সেরকম একটা গান মনে করায়ে দিলা"! আসলে ঘটনা তা না। ঘটনা হইলো আমি যেখানে নেমেছি তার আশে পাশেই বদুরাম ওরফে বদ্দার ডেরা। কিন্তু কোনদিকে গেলে যে সঠিক দিকে হাঁটা সেই ব্যাপারেই মনস্থির করতে পারলাম না। ৮ মাসের ব্যবধানে কাসেল শহর মাথার শতকোটি নিউরণের মধ্যে হারিয়ে গেছে! হেড খাদেম আলিফ-হা'র অবশ্য সেখানে এসে আমাকে নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তিনি নাকি আগের রাতে ইসব গুলের ভূষি খেয়েছেন। আর তারই ফলশ্রুতিতে ঘণ্টাখানেক আগে থেকে তিনি টাট্টিঘরে অবস্থান নিয়েছেন। যারা তাঁর এই টাট্টিঘরের কাহিনী জানেন না, তাদের আর জেনে কাজ নেই। আমাকে তার টাট্টিবার্তা পৌঁছে দিয়েছেন গেস্ট রিপোর্টার হেঁসোরাম ওরফে হাসিব ভাই। তাঁর বিনাতার মারফত জানতে পারলাম, তিনি গতকালই কাসেলপুর তশরীফ এনেছেন এবং বলাইদা ওরফে বল্লুরামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। হেড খাদেম আলিফ-হাও সেখানেই।

তো আমি নিরূপায় হয়ে স্মৃতির পথ ঠুকরে, হাতরে অবশেষে বদুরামের ডেরা খুঁজে বের করলাম। বদুরাম আমাকে দেখেই হাউমাউ করে উঠলেন। "আর কইওয়ানা বাড়া, হারা রাইত ঘুমাই নাই। ঘরে ফিরছি রাইত চাইরটায়!" বুঝলাম, বিয়ের পর বদুরাম ওরফে বদ্দা অনবরত ইম্পিচমেন্টের উপর আছেন। শান্তি নাই বউময় এই দুনিয়ায়! আমরা কথা না বাড়িয়ে বল্লুরামের বাড়ির দিকে যাত্রা শুরু করলাম।

দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকেই যে জিনিষ নজরে পড়লো তা হলো, ডেগচি। বল্লুরাম জানালেন "দুই ডেগ রেডি, আরেকটা এই হইলো বইলা!"

দুই পাতিল রেডি, আরেক পাতিল অন দ্য ওয়ে

বলাইনী, হেঁসোরাম আর টাট্টিফেরত হেড খাদেম আলিফ-হা আল সুদানীর সাথে কুশল বিনিময়ের পর জানতে পারলাম। দুর্দান্ত ওরফে দুঁদেরাম এণ্ড কোং ও তাতাপু ওরফে ছাতিবানু এণ্ড কোং পথিমধ্যে আছেন। ততোক্ষণে এসে পড়েছেন তীরন্দাজ ওরফে তীরছিরাম এবং পুতুল ওরফে পুতলিরাম। সঙ্গীতপ্রিয় তীরছিরাম তাঁর সঙ্গে হারমোনিয়াম-তবলা নিয়ে এসেছেন দেখে হেড খাদেমের আনন্দ আর ধরে না। দুনিয়ার কাজ ফেলে বসে গেলো খাদুরাম সেই হারমোনিয়াম নিয়ে।

নাছোড়বান্দা গাতক

খাদুরাম যে কেবল বসেই গেলো তা নয়। দুনিয়ার কাজ সব পড়ে আছে সেদিকে তার খেয়াল নেই। অনবরত নাঁকি সুরের প্যানপ্যানানি করে যাচ্ছে তো যাচ্ছেই। এক পর্যায়ে হেঁসোরাম হাসিমুখে বিরক্তি এনে বললেন, "আইচ্ছা হেয় কি জানে যে হের সবগুলা গান একই সুরের হয়। রবীন্দ্রগীতি, নজরুল সঙ্গীত, আধুনিক গজল— কোনোটারইতো পার্থক্য বুঝিনা। অয় কী গায়? অরে থামতে কও পত্রপাঠ!"
আমি নিজে জানি, এই গাতক এখন জোশে আছে। একে থামানো কারও কম্ম না। এমনকি কাসেলে দ্বিতীয়বারের মতো বৈশ্বিক হামলার বোম্বিংও এই গাতককে থামাতে পারবেনা এখন! বিগত আড়াই ঘণ্টা যাবত তার সুরের অত্যাচারে সকলের কর্ণকূহরের অবস্থা ত্রাহি ত্রাহি। কাউচে বসে ঝিমুতে ঝিমুতে বদুরাম বেশ কয়েকবার হাউমাউ করে ধড়মরিয়ে উঠেছে খাদুরামের গীতের স্কেল পরিবর্তনের কারণে। নির্ঘাৎ দুঃস্বপ্ন!

'সময় নাই হাতে, বাইরে গিয়ে মুরগীর ঠ্যাং প্রোসেস শুরু করা হোক।' এই কথা শুনে আর ঠ্যাং ধরে টানাটানির কারণে খাদুরামের অবশেষে সুমর্জি হলো হারমোনিয়াম ছেড়ে ওঠার। তারপর আমরা সবাই বের হয়ে এসে মুরগীর ঠ্যাঙে 'ঠ্যাঙাগ্নি' করতে লাগলাম।

পুড়িবার বাসনায়...

এরমধ্যে হল্যাণ্ড থেকে আশেকান দুঁদেরাম এণ্ড কোং এবং ছাতিবানু এণ্ড কোং আশ্রমে তশরিফ এনে ফলেছেন। যেহেতু তাঁরা আমাকে আগে দেখেন নি, বিশেষ করে দুঁদেরাম। তাদের সঙ্গে একটু মজা করা যায় বৈকি! মুহূর্তের মধ্যে খাদুরামের মাথায় চলে আলো আমার নাম, মনির হোসেন। সচলে লেখি না, পড়ি। পরিচয়ের শুরুটা ভালোই চললো। কিন্তু মিনিট খানেক যেতে না যেতেই খাদুরাম 'সাধু', 'অসাধু' ভাষায় আমাকে ডাকাডাকি শুরু করে দিলো। আর তখনই দুঁদে গোয়েন্দা দুঁদেরাম বের করে ফেললেন আমার পরিচয়! পরিচয় পেয়ে তিনি আর আমার পাশ থেকে সরেন না। পরে অবশ্য বুঝলাম, তিনি সেখানে আমার সাথে পরিচয়ের জন্য না, বসেছিলেন মুরগীর ঠ্যাঙের আশায়। শুধু যে বসে ছিলেন তাও নয়। রীতিমতো বাসন ঠেলে ধরে বাউল গান গাইছিলেন, "দ্যাউ চরণ ভাইগো, দ্যাউ চরণ দ্যাউ!"

দ্যাও চরণ ভাইগো, দ্যাও চরণ দ্যাও

দুঁদেরামের পাতে মুরগীর কিছু চরণ তুলে দিয়ে আমরা খেলতে লেগে গেলাম। এই খেলার বয়ান বল্লুরামের লেখায় অলরেডি সবাই পড়ে ফেলেছেন। আমি আর কিছু না বলি, কেবল চিত্র যোগ করে যাই। হ্যাঁ ভাই, এই চিত্রটা সেই ওভারের যখন খাদুরাম ৩৩ রান দিয়ে রাগ করে বোলিং থেকে চিরতরে অবসরে চলে গেলো! [সবাই মন খারাপ করেন মন খারাপ ]

ম্যাচের সেরা বোলিং

উপরের ফটুকের কৃতজ্ঞতার জন্য চোখ রাঙিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ছাতিবানু। তিনি নাকি ক্যামেরায় কী স্পেশাল কারীকুরি করে বলের গতিবিধি ফোকাস করতে জানেন। এই করতে গিয়ে তিনি ব্যাটসম্যান আর উইকেট কীপারকে ঝাপসা করে ফেললেন। আর ঝাপসা হয়ে যাওয়া সহখেলোয়াড়ের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন ফিল্ডার!

এর একটু পরেই বদুরামের সেই চিরায়ত ডায়ালগ, "আর খেলুম না, খাইয়া লই"— এর পর খানাদানাপানা'র পাট চুকিয়ে, বৃষ্টির হাতে নাজেহাল হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে আমরা দেখতে পেলাম আখের শরবতের গেলাসে একটা বল্লা!

উড়ে যায় বল্লা ধা তিনতিন

এর পরের ঘটনার পুংখানুপুংখ বয়ান আপনারা ভক্ত আশেকান শ্রীমতি ছাতিবানু'র লেখনীতে পড়েছেন। তবে তিনি এখানে যা বলেন নাই তা হলো, মিসেস দুর্দান্ত আসলেই দুর্দান্ত গান। 'অই ঝিঁনুক ফোটা' গানটা তিনি অসাধারণ গেয়েছেন। আরেকজনের কথা বাদ পড়ে গিয়েছিলো তাঁর লেখায়। তিনি হলেন দুলাল ভাই ওরফে দুলুরাম। মারাত্মক গানের গলা তাঁর। আসর জমানোর মতো। তিনি পুরোটা সময় আসর মাতিয়ে রাখলেন একে একে গান করে। আমরা কেবল তাঁকে সঙ্গ দিলাম। কাটলো অসাধারণ একটা মন মাতানো সন্ধ্যা।

ছাতিপু'র নৃত্য পরিবেশনার কথা থাকলেও বল্লুরামের বৈঠকখানার ঘরের মেঝে কিঞ্চিৎ বাঁকা ছিলো বিধায় তিনি সেখানে নৃত্য করতে পারেন নি। অবশেষে আমরা সেদিনের মতো অধিবেশন সমাপ্তি ঘোষণা করলাম।

কিন্তু অধিবেশন এখানেই শেষ নয়। রাতের অধিবেশন চললো আরও কিছুক্ষণ। শয়নপর্ব নিয়ে। ৩ ঘণ্টা টানা গানের নামে জীবন নাশ করে ফেলার পরও গান গাইতে না দেয়ার অজুহাতে খাদুরাম আমার উপর চটে গেলো। বাতাসী তোষক ফুলানো নিয়ে। পাশের বড় বিছানায় তীরছিরাম, পুতলিরাম আর হেঁসোরামের শোবার বন্দোবস্ত করা হলে, টানাপোড়েন শুরু হলো বাতাসী তোষক নিয়ে। কে ফুলাবে এই তোষক! বল্লুরাম লাল রঙের একখানা পাম্পার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, "আমি কাইজ্যার মধ্যে নাই। ফুলাইলে তোষকে থাকবা না ফুলাইলে মাটিতে থাকবা। কিচ্ছা খতম। এইবার ঠিক করো কে পাম্প করবা আর কে ট্যালী করবা!" আধাঘণ্টা ঘর ঘর কি কাহানীর পর, খাদুরাম নিজেই মাসেল উঁচিয়ে লেগে গেলো পাম্পে কোপ বসাতে। একেকবার 'চ্যাঁও' করে শব্দ হয় আর আমি গুণি, "একটা"। এরকম করে সর্বমোট একশ তেরোটা 'চ্যাঁও' করার পর খাদুরাম ক্ষান্ত হলো। যেই না তোষক রেডি অমনি করে হেঁসোরাম লাফ দিয়ে এসে বাতাসী তোষকের ঠিক মাঝখানে পড়ে গেলেন। বললেন, "আইজকা সারাদিনে তোরা দুইটায় বহুত জ্বালাইছোস। অহন ঝালেমা না কইরা ঘুমাইতে দে!" নির্ঘুম রাত কাটানোর মহা টেনশনে বাঘে-সিংহে গলাগলি হইয়া হেঁসোরামের কবল হইতে মুক্তি পাইলো, এইটা রূপকথায় বর্ণিত আছে। আমরা খালি রূপকথার পুনরাবৃত্তি করলাম। হেঁসোরাম হাসিব ভাই, আবার চলে গেলেন বিছানায়। খাদুরাম তার দেশ থেকে পয়গাম আসা হৈতেও পারে বিবির ১০৪ কেজি ওজনের খোমা দেখতে লাগলো খোমাখাতায় আর আমি বায়বীয় তোষকে শুইয়া এপাশ ওপাশ করিতে করিতে যখন নিদ্রা দেবীর সাথে একটু টাংকি মারতে শুরু করবো ঠিক তখনি হেঁসোরাম, পুতলিরাম আর তীরছিরাম ত্রয়ী বিউগল বাজানো শুরু করলেন। যেনো ট্রয় নগরীতে আবার আগুন লেগেছে। এবং এইবার কারুরই ছাড়ান নাই। তিন মহাযোদ্ধা চ্যারিয়টে করে ছুটে চলেছেন বিশাল বড় বড় বিউগল বাজাতে বাজাতে। অবশেষে আমি আর খাদুরাম, আমরাও সেই বিউগলের পিছনে শীষ দিতে দিতে যুদ্ধে রওয়ানা হয়ে গেলাম।

ঘুম ভাঙলো খাদুরামের তড়াক করে লাফানীতে। "ঐ ওঠ, গেস্টরা সবাই চলে এসেছে!" আমি ওভাবেই বলি, "তুইও গেস্ট হয়া যা, ঝামেলা করিস না।" ঝামেলা সে করলোই। আমাকে উঠালো। সবাই তৈরী হয়ে নিচে বের হয়ে এক গাদা ফটোসেশন হলো। ফটোগ্রাফার ছিলেন আমাদের হেড খতিব খাদুরাম। তিনি নাকি কী কী সব কেরামতি করেন ক্যামেরা নিয়ে। গ্রুপ ছবি তোলার সময় ক্যামেরার সামনে তার চশমা খুলে এনে ধরলেন। অবশেষে ডেভেলপ, ধোলাই করার পর যে ছবি উঠলো সেটায় আর কারো খোমা চেনার উপায় থাকলো না। ছাতি'পুর সাথে ফটুক তুললে নাকি অবিবাহিতের গতি হয় (বিবাহিতের হয় না, যার জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ দুলুরাম ওরফে দুলাল ভাই। ছাতি'পুর সাথে এতো ছবি তোলার পরও দুলুরামের কোনো গতি হয় নাই। আপসুস)। ভাবলাম একটা ফটুক তুলে রাখি। খাদুরাম ক্যামেরা হাতে বললো, এমন ফটুক তুলে দিবে যে মেয়ের মাও নাকি পটে যাবে এই ফটুক দেখে। তো সে ফটুক তুললো। আমি আর কী বলবো, আপনারাই দেখে বলুন। শ্বাশুড়ি পটানো ফটুকটা কেমন হলো!

আমি ভূত, তুমি ভূত, কিম্ভূতকিমাকার

তারপর আমরা ঘুরতে বর হলাম অসম্ভব সুন্দর একটা জায়গায়। এটার বর্ণনা তাতাপু ওরফে ছাতি'পুর পোস্টে পাওয়া যাবে। সেখানে কয়েক পশলা ফটোসেশনের পর (রেজাল্ট প্রায় একই। একটা গ্রুপ ফটোসেশনে খাদুরামের তেলেসমাতি ফেসরিকগনিশন লেন্সের বদৌলতে সবার ফেসই দৌঁড়ের উপর আছে। তাকে এই ব্যাপারে চার্জ করা হলে সে জানায় কাসেল শহরে নাকি প্রচুর বাতাস। সেকারনেই সকল সচলের খোমা ভচকে গেছে। উল্টা সে কী ফাঁপড়। কয় আমাদের খোমা নাকি বাতাসেই উড়ে!)

ফটোসেশন

পাহাড় বেয়ে উপরে উঠার অভিপ্রায়ে জনৈক পালোয়ান অল্প একটু ওঠার পর আর না পারে এগুতে না পারে নামতে। এমতাবস্থায় সেই ঝুলন্ত অবস্থাতেই পাহাড় আরোহনের বিভিন্ন পজিশনের ফটোসেশনের পর হেড খতিব জনাব খাদুরামের বন্ধুত্বপূর্ণ সহায়তায় তিনি নেমে আসতে সক্ষম হন।

কেউ একটা চঙ্গ নিয়া আয় রে!

এর পরের ঘটনাও সবার জানা। বদুরাম ওরফে বদ্দার ডেরায় ফিরে শুরু হলো ত্রিমুখী তেহারী রান্না। বদুরাম হেড রাঁধুনী, তাঁর আবার যোগালী দুইজন। তীরছিরাম কেবল দর্শক। তো তেহারী যখন চুলায় উঠলো, তখন নিয়ম করে সবাই একবার করে সেটা 'লাইড়া' দিয়া গেলো।

লাইড়া দে তেহারী

তেহারীটা আসলেই সেদিন ব্যাপক মজাদার হয়েছিলো। এর জন্য আসলে পুরো কৃতিত্বটাই যাবে বদুরাম ওরফে বদ্দার ঝোলায়।

যাঁদের সীমাহীন উৎসর্গে এরকম একটা আয়োজন সম্ভব হয়েছে তাঁরা হলেন বল্লুরাম ওরফে বলাই দম্পতি। পরপর তিনদিন তাঁরা মুখ বুজে নানা অত্যাচার সহ্য করেছেন। আপনাদেরকে ধন্যবাদ দেবার ভাষা জানা নেই প্রিয় মানুষদ্বয়।

দুঁদেরাম ওরফে দুর্দান্ত'দাকে একটু অন্যরকম আশা করেছিলাম। দারুণ স্মার্ট একজন মানুষ। সহজেই যিনি যেকোনো পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারেন। ভাবীও চমৎকার মানুষ। তাঁদের দুই বাচ্চা সারাটাক্ষণ আড্ডাকে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে চলেছে। একেবারে ছোটজন তো প্রথম দেখাতেই আমাকে "ভালো আংকেল" আর হিমুকে "ভালো না আংকেল" বলে আখ্যা দিয়েছে। হিমু অবশ্য পরে ওকে কোলে নিয়ে অনেক কিছু দিয়ে "ভালো আংকেল" এর খেতাব অর্জন করতে পেরেছে।

ছাতি'পু ওরফে তাতাপুকে অনেকেই জানেন। কিন্তু জানেন না দুলুরাম ওরফে দুলাল ভাইকে। অসাধারণ বললেও কম বলা হবে তাঁকে। গম্ভীর একটা চেহারার আদলে যে এতো বন্ধুসুলভ একজন বসবাস করেন, সেটা দুলাল ভাইকে কাছ থেকে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবেন না। তাঁদের একমাত্র কন্যা মেঘবতি ওরফে মেঘ। বেচারি অসুস্থ না থাকলে হয়তো দুর্দান্ত'দার দুই মেয়ের সঙ্গে মিলে আমাদেরকে কোনঠাসা করে দিয়ে নিজেরাই আড্ডার চালকের আসনে বসে যেতো!

তীরছিরাম ওরফে তীরুদা, পুতলিরাম ওরফে পুতুল ভাই, হেঁসোরাম ওরফে হাসিব ভাই— আপনাদের তিন জনের অবদানও তো কোনো অংশে কম না। তীরুদা আর পুতুল ভাই হারমোনিয়ান-তবলা নিয়ে না এলে এমন জমজমাট একটা সন্ধ্যা আমরা কোথায় পেতাম! আর হাসিব ভাই টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে, বিশেষ করে হিমুর পোস্টে "১ লাগাও" এর মহৌৎসবে আপনার অবদান অনস্বীকার্য। বলাই'দাকেও এখানে স্মরণ করতে হয়। হাসি

কাসেলপুরী বাবার কাসেলপুর আশ্রমের হেড খতিব, খাদুরাম আলিফ-হা ওরফে আবুল হোছেন ওরফে মোঢিমু পুরো আড্ডাটাকে হাস্যরসাত্বক দুষ্টুমিতে মাতিয়ে রেখেছে। যদিও সে পুরোটা সময় আমাকে ২৮ ইউরো ৪০ সেন্টের ইউনুসীয় হিসাব দিয়ে দিয়ে কান ঝালাপালা করে দিয়েছে, কিন্তু তার আন্তরিকতায় কোনো ছেদ সে রাখেনি। সর্বশেষের ধন্যবাদটা তাই তার কপালেই জুটবে।

দেখা হবে আবারও আমাদের। এমনি করে। আমরা দূরে সরে যেতে যেতেই আবার কাছে এসে মিলিত হবো এক জায়গায়। হয়তো কাসেল-এ কিংবা বন-এ নয়তো মিউনিখে অথবা হল্যাণ্ডের আইণ্ডহোফেন কি রটারডাম-এ।


লেখায় ব্যবহৃত খিতাবি নামজঃ

  • বদুরাম = বদ্দা,
  • বল্লুরাম = বলাই'দা,
  • হেঁসোরাম = হাসিব ভাই,
  • তীরছিরাম = তীরুদা,
  • পুতলিরাম = পুতুল ভাই,
  • ছাতিবানু = তাতাপু,
  • দুলুরাম = দুলাল ভাই,
  • দুঁদেরাম = দুর্দান্ত'দা, এবং
  • খাদুরাম আলিফ-হা = পাপিষ্ঠ মোঢিমু।

জিজ্ঞেস করতে পারেন জনাব, "এই রামশাম ধাচের নাম কেনু?"
জবাব হইলো সোজা, "আশ্রম পরিদর্শনে আসলে রামদেরই আসা উচিৎ, রাবনদের না।" হাসি


আপডেটঃ
তাতাপুর সাথে ফটুক তুললে আসলেই বহুত ফায়দা হয়রে ভাই। ছবি তোলার টুয়েন্টি ফোর আওয়ার্সের মধ্যে বলাই বাভি "ছিলা, কিমুন আছো!" তাঁর মোবাইল খানা ঘুরিয়ে একখানা পাত্রির খোমা দেখালেন। পরিচয় দিলেন তাঁর চাচাতো বোন হিসেবে। কিন্তু বলাই'দার মনেহয় চাচাতো ভায়রা হিসেবে আমাকে তেমন পছন্দ না; ছবিটাকে "ইন্টারনেটে দেখছি" বলে চালিয়ে দিলেন। অবশ্য পরে তিনি চোখ টিপে জানালেন যে পাশেই তখন কালো রঙের হুলো বেড়ালটা বসে ছিলো কান খাড়া করে!


মন্তব্য

অনিকেত এর ছবি

এত ভাল লাগল যে হিংসাও করতে পারলাম না

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- চাইলে করতে পারেন অনিকেত'দা। সেই অধিকার থেকে আপনাকে বঞ্চিত করা ঠিক হবে না। কারণ বাংলাদেশের বিরাট বিশাল সব সচলাড্ডায়ও এরকম মজা হয় নাই যেটা কাসেলেরটায় হইছে! অতএব, কেউ হিংসা করলে আমরা মোটেও দোষ দেবো না। দেঁতো হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

নিবিড় এর ছবি

ছবি ঝাপসা করার তীব্র প্রতিবাদ জানাই


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- প্রতিবাদ লিপি পেশ করার আগে আমার সিগনেচার লইয়েন কৈলাম। যতো বেশি আদমি, ততো জোরদার প্রতিবাদলিপি। হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

জি.এম.তানিম এর ছবি

চেখে দেখার উপায় নেই, তাই দেখে চাখতে হলো।

বদ্দার তেহারির স্বাদ জানি না... তাই উপমা দিতে পারলাম না... লেখা তাই পুড়ন্ত কুক্কুটচরণের মতই উপাদেয় বোধ হলো।

ব্যানারটা মনে ধরিয়াছে...
-----------------------------------------------------------------
কাচের জগে, বালতি-মগে, চায়ের কাপে ছাই,
অন্ধকারে ভূতের কোরাস, “মুন্ডু কেটে খাই” ।

-----------------------------------------------------------------
কাচের জগে, বালতি-মগে, চায়ের কাপে ছাই,
অন্ধকারে ভূতের কোরাস, “মুন্ডু কেটে খাই” ।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

বদ্দার তেহারী— একটা জিনিষই রে ভাই। পরকালে বদ্দারে ফুসলাইয়া ফাসলাইয়া একটা তেহারী বিতান খুলতে পারি কিনা দেখি! বিশাল ব্যবসা হইবো। চোখ টিপি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

সবজান্তা এর ছবি

ভাই, আমারে শুধু একটা কথা কন- এতো কীসের লজ্জা আপনাদের ? কেউ নিজেদের একটা ছবি দ্যান না... কে ধুগো, কে হিমু, কে বলাই - এইটা জানলে কি আমরা আপনাগো ব্যাংক একাউন্ট হ্যাক করুম ?

এরকম করলে, এখন থেকে য়ুরোপ প্রবাসী সকল সচলের লেখা বয়কট করুম,কয়া দিলাম।


অলমিতি বিস্তারেণ

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ব্যাংক এ্যাকাউন্ট হ্যাক করিয়া কী করিবেন জনাব? ঐখানে তো ঘুঘু চড়ে!

রোজা রমজানের দিন বলিয়া কথা। বেগানা পুরুষকে দেখা ঠিক না। জাইনা শুইনা এই পাপ আমরা করতে পারি না। সেইজন্য ফটুক দেই নাই। আল্লাহ আমাদের সহায় হউন। আমিন।

তাছাড়া, ফটুকের ব্যাপারে আমার কথা তো মনেহয় বিশ্বাস করলেন না জনাব। জনৈক পাপিষ্ঠ ক্যামেরাম্যানের মাথায় কিলবিল করে আইডিয়া। নিজের পুরু লেন্সের চশমা খুলে ক্যামেরার লেন্সের সামনে ধরে ফটুক উঠালে তো বুঝলাম তাও কিছু একটা আয়-আবছা কিছু আসবে, কিন্তু যে ব্যাটা চশমা ছাড়া নিজের হাতের আঙুলই দেখে না সে ক্যামনে দশ-বারো মিটার দূরে দাঁড়ানো মানুষের ঠিকঠাক ফটুক তুলতে সক্ষম হবে আমারে আগে সেইটা বলেন!

ভাইসাব, একিন করেন, ঈমান আনেন পরহেজগার বান্দার ওপর। নিজের খোমা প্রদর্শনে বেগানা নারী পুরুষকে নিরুৎসাহিত করুন, নিজের খোমা প্রদর্শন থেকেও বিরত থাকুন। আমিন।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

মুস্তাফিজ এর ছবি

কে ধুগো, কে হিমু, কে বলাই - এইটা জানলে কি আমরা আপনাগো ব্যাংক একাউন্ট হ্যাক করুম ?

কিছু কিছু আন্দাজ করা যায়।

...........................
Every Picture Tells a Story

মুস্তাফিজ এর ছবি

না, কার ছরি কোনটা

...........................
Every Picture Tells a Story

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আচ্ছা, বলেন দেখি কে কোনজন! বলতে পারলে দিন পনেরো পরে বদ্দার তেহারীর সাথে আপনার জন্য এক প্লেট ধুগোর খিচুড়ি— একদম মুফত!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

মাহবুব লীলেন এর ছবি

৩ নম্বর ছবির মুরগির রানের ভেতরে কি ডিম ঢোকানো?
নাকি ডিম দিয়ে বানানো মুরগির রান?

০২

এইটার নাম হইতারে লজ্জবতী সচলাড্ডা

০৩

কারা যেন নাম আর মুখ লুকায়?
(পাবকিলকের জিগান)

তয় আমি তাতা আর বলাইরে চিনি
বাকি দুইজনের না হয় গায়েবানা জানাজা পড়ুম

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- এই মুরগির রানগুলা আসলে পেলাশটিক দিয়ে বানানো। আসল রানের আদলে বানানো সিমুলেটর। হাসি বাজার থেকে কিনে আনা কাবাব খাইছি আমরা। কিন্তু সামনে এরকম একটা জিনিষ না থাকলে বার্বিকিউ ব্যাপারটা ঠিক মনে হয় না কিনা! (দেখেন না চুলায় আগুন নাই, আছে পানি)। হাসি

লজ্জাবতী না জনাব, বলেন পর্দানশীল। আমরা রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় বদ্ধ পরিকর। আপনে না?

পাবলিকের মুখ কি আর সরকারী কাফিলার কষ দিয়া আটকায়া রাখা যায় জনাব?

পড়েন, গায়েবানা জানাজাই পড়েন। অন্তত মরার আগে নিজেই নিজের জানাজায় শরীক হয়া যাই। শুনছি, এইটাতেও নাকি অনেক সওয়াবের সিস্টেম আছে। লন এইবার বিসমিল্লাহ করেন।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

উদ্ভ্রান্ত পথিক এর ছবি

ছবি ঝাপসা করার তেব্র পেত্তিবাদ জানাই!!
-----------------------------
আমার ফ্লিকার

---------------------
আমার ফ্লিকার

কল্পনা আক্তার এর ছবি

ব্যাপক রকমের হিংসায়িত আর ছবি নিয়া আমাগো লগে মশকরা করার জন্য ব্যায়াপক নিন্দা।

........................................................................................................
সব মানুষ নিজের জন্য বাঁচেনা


........................................................................................................
সব মানুষ নিজের জন্য বাঁচেনা

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

হে হে হে হে...
...................................................................................................

আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ ব'সে অপেক্ষা করার সময় আছে।

এনকিদু এর ছবি

মাছি না মৌমাছি ঐটা কি জিনিস বুঝা যাচ্ছে না - ঐটাই একমাত্র ভাল ছবি হয়েছে ।


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- হ। কারণ সবাই মিনিমাম একবার করে এই একটা জিনিষের ছবি তুলেছে। এবং সবশেষে সবগুলা ছবি এইচডিআর করে এখানে আলোচ্য ছবিটা পাওয়া গেছে। সেইজন্যই ভালো হৈছে।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

এমন করে বর্ণনা করেন কিভাবে? সেহরীতে উঠে পড়ে ফেল্লাম। মজাদার লেখা কোন সন্দেহ নাই।

তানবীরা'র সাথে আপনার ছবিটা দেখে মনে হচ্ছে সবাই গণহারে ধূসর রঙের বোরকা পরেছে। খাইছে

বি.দ্র. লেখার শেষে শব্দার্থ দিয়ে দিলে ভালো হতো। রেফারেন্স হিসেবে কাজে লাগতো। মাঝে মাঝেই খেই হারিয়ে যাচ্ছিল, বিশেষ করে "হেসোরাম"।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- দিলাম পিপিদা আপনার সম্মানে লেখার শেষে শব্দার্থ যোগ করে। ফটুকের কোনো কৃতিত্বই আমার না। তাতাপুর সাথের ফটুকটায় যে ফিলিম ব্যবহৃত হয়েছিলো, ঐটা খুবই নগণ্যমানের ফিলিম, কোডাক ম্যাজিক্যাল মোমেন্টস সিরিজের না। রোদের তাপে ফটুক জ্বলে গেছে। আমার বৈবাহিক ভাগ্যটা জ্বলে না গেলেই হয়! মন খারাপ
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

বিবাহ ভাগ্যের জন্য তদবির করতে হবে। "বাবা ক্যাসেলপুরি" কিংবা "হল্যান্ডি মা"-র মুরিদ হয়ে যান চোখ টিপি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- মুরিদ হওয়ার আগেই দেখি অবস্থা সাংঘাতিক। মেম্বর এসে নিজে থেকেই আজকে বলতেছে তাঁর ভায়রা ভাইয়ের অবস্থা দেখে নাকি বুক ফাইট্টা কান্দোন আইতাছে! আমি তো ক্যাচালে পড়ে গেলাম। একদিকে বলাই'দার চাচাতো ভায়রা হওয়ার হাতছানি আরেকদিকে পুরানো (হৈতে পারতো) বিবি, মেম্বরের শ্যালিকা! আমি এখন কোন্দিকে যাই গো পিপিদা! মন খারাপ
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

শাহেনশাহ সিমন [অতিথি] এর ছবি

ভালৈছে মনির ভাই

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ধন্যবাদ
আলিফ-হা আছে, মিম-হা আছে; আলিফ-লাম-মিম পূরণ কর্তে এখন কেবল একজন লাম-হা এর শর্ট আছে কৈলাম! দেঁতো হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

শাহেনশাহ সিমন [অতিথি] এর ছবি

আমি দ্যাশেই ভালাছি দেঁতো হাসি

তীরন্দাজ এর ছবি

মজার লিখ্ছ! অক্টোবর ফেস্টের মাহফিল কবে বসবো!

**********************************
কৌনিক দুরত্ব মাপে পৌরাণিক ঘোড়া!

**********************************
যাহা বলিব, সত্য বলিব

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- অক্টোবর ফেস্টে আসতে হবে তীরুদা। নাইলে পরের বছর কে কই থাকে তার কোনো ঠিক আছে! ছাতি'পু, দুর্দান্ত'দা কী বলেন দেখা যাক।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

তানবীরা এর ছবি

অফিসিয়ালি ২১শে সেপেটম্বর ইউরোপে সামার শেষ, আমার ঘুরাঘুরিও শেষ। আবার হবেতো ২০১০ এ, এ দেখাই শেষ দেখা নয়তো।
---------------------------------------------------------
রাত্রে যদি সূর্যশোকে ঝরে অশ্রুধারা
সূর্য নাহি ফেরে শুধু ব্যর্থ হয় তারা

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

ফিরোজ জামান চৌধুরী এর ছবি

সচল-বাদ জিন্দাবাদ!

ঝিনুক নীরবে সহো, নীরবে সয়ে যাও
ঝিনুক নীরবে সহো, মুখ বুঁজে মুক্তো ফলাও।

ধুসর গোধূলি এর ছবি
দুষ্ট বালিকা এর ছবি

লজ্জাবতী সকল সচল সনে... ছবি ঘোলা করায় তেব্র দিক্কার জানাই!

লেখায় উত্তম জাঝা! ...

নিন তারা দিলাম কয়েক হাজার...[ছবি ঘোলা না হলে লক্ষাধিক হতে পারতো!] ... হাসি

-----------------------------------------------
আয়েশ করে আলসেমীতে ২৩ বছর পার, ভাল্লাগেনা আর!

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আমি দিক্কারে শামিল হৈলাম। কেবল লেখাটা দেখানোর জন্যই ফটুকটা ঘোলা করার নেন্দা জারী থাকলো। এতো তারা দিয়া করুম কী? আমার ঘর ছোটো, তারা রাখোনের জায়গা নাই। দেঁতো হাসি

নেন, আরেকটা ফটুক যোগাইছি। কিন্তু এইটাও সুবিধার না। প্রচণ্ড বাতাসের তোড়ে, ফেস-রিকগনিশ লেন্সের কেরামতিতে বেবাকের খোমা ভচকায়ে গেছেগা!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

পেন্সিলে আঁকা পরী এর ছবি

অন্যদের ছবিগুলা ঝাপ্সা করে দেয়ার কি মানে হইলো! আপ্নের ছবি তো ঠিক ই বুঝা যাইতেছে।SSssddaadfglfkdkSSSssass
ইয়ে, মানে...
-------------------------------------------------------
আমি সেই অবহেলা, আমি সেই নতমুখ, নীরবে ফিরে চাওয়া, অভিমানী ভেজা চোখ।

-------------------------------------------------------
আমি সেই অবহেলা, আমি সেই নতমুখ, নীরবে ফিরে চাওয়া, অভিমানী ভেজা চোখ।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আমার ফটুক কুনটা? আমার কি ঠেকা পড়ছে খাটনি কইরা মাইনষের ফটুক ঘোলা করোনের, কন্দেখি আপনে! এই ফটুক পয়দাই হৈছে ঘোলাইট্টা। নানান জনের নানান কিছিমের এক্সপেরিমেন্টের ফল। আমার যাও এট্টা ফটুক উঠছে, তাও খালি পিঠ দেহা যায়। সব ষড়যন্ত্র বুঝলেন, ঘোর ষড়যন্ত্র। মন খারাপ
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

রেনেসাঁ [অতিথি] এর ছবি

বয়ানটা জব্বর হইছে।

ভুতুম এর ছবি

এইটাই পইড়া সব্চে বেশি মজা পাইলাম। ঠ্যাঙ গুলা দেইখা রুজার দিনে মকরুহ হয়া গেলো আর কি...

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আরে এই ঠ্যাঙ দেইখা রোযা হালকা করলে ক্যামনে কি? ইফতারের পর আছে আসল কাহিনী। খালি মাগরিবের আযানটা পড়তে দ্যান! চোখ টিপি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অতিথি লেখক এর ছবি

বাহ্ বেশ মজার তো!

নৈশী।

ধুসর গোধূলি এর ছবি
দ্রোহী এর ছবি

পুস্ট পইড়া আমি কান্তে কান্তে শ্যাষ আমার ভায়রা ভাইয়ের কষ্ট দেইক্যা।

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

ছবিগুলা খুব সুন্দর। বিশেষ করে তাতাপু'র সাথে তোলা আপনারটা খাইছে

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

সবগুলা গ্রুপ ফোটু আমারে দিয়া তুলাইসে সবাই... এখন আর নিজেরই কোনো ফোটু নাই আমার মন খারাপ

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ক্যান, আছে তো। ঐ যে নীল জামা, পেট ঢোলা। ঐটারে কাইটা ক্যাপশন লাগায়া দেবো? "ইনসেটে বিডিআর"। হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

আরে আমি তো কই গ্রুপ ফোটুর কথা। সবার সাথে আমার কোনো ফোটু নাই মন খারাপ

ধুসর গোধূলি এর ছবি
খেকশিয়াল এর ছবি

এতো ঝাপসা আলো.. কাডাকুডা কিচ্ছু দেহি না..
অ মানিক.. কি বাত্তি লাগাইলি?

------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

ধুসর গোধূলি এর ছবি
মৃত্তিকা এর ছবি

লেখা অতি চমৎকার, খুবই ভালো লাগলো! কিন্তু ছবিগুলো ঝাপসা না করলে আরও ভালো লাগতো। তবে এটাও ভালো লাগছে, রহস্য রহস্য! দেখে ফেললে হয়তো অন্যরকম লাগবে একেকজনকে হাসি শুরুতে লোগোটা দারুণ করেছেন!

ধুসর গোধূলি এর ছবি
সমুদ্র এর ছবি

'মনির হোসেন' ওরফে বয়ানকারী খাজা বাবার খিতাবি নামটাতো জানা হইলো না!

"Life happens while we are busy planning it"

ধুসর গোধূলি এর ছবি
তুলিরেখা এর ছবি

হাসতে হাসতে পড়ে গেলাম। আপনার সিরিয়াসলি মজার লেখা লিখতে শুরু করা উচিত নিয়মিত। এইগুলি থেকে পাঠকদের বঞ্চিত করা একদম অনুচিত।
ছবি খুবই চমৎকার, আদর্শ গণতান্ত্রিক। সবাই সমান। হাসি
আরে আপনারে ইটের দেয়ালের সিমুলেশানের উপরে যা মানাইছে না, পুরাতন মিশরের কথা মনে পড়ে। হাসি
-----------------------------------------------
কোন দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ঠিক ধরছেন। আমিও চিন্তা করতেছিলাম, কোনো মতে সারা শরীরে সাদা ফিতা ফুতা জড়ায়া দিতে পারলে 'মমি' বলে চালায়া দেয়া যেতো আমারে।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখার মাঝে ছবি এ্যাড করবো কিভাবে দয়া করে জানাবেন? এখানে পড়ে বুঝতে পারিনি তাই একটু ডিটেইল দিতে সুবিধা হয়। ধন্যবাদ।

রেনেসাঁ
rjpbd@yahoo.com

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- বস, আপনে 'সাহায্য' লিংকে টিবি দেন। ঐখানে খালি ফটুক না, জগতের সকল জিনিষ কেমনে লেখায় যোগ করবেন সেই তথ্য আছে।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

তানবীরা এর ছবি

ফটু ঝাপসা করার তেব্র নেন্দা জানাই। আচ্ছা, তেহারী বদ্দা ঐটা কি দিছিলো? তেলের বোতলের পাশে ঐটা কি? হুমম, এইবার বুঝসি কারসাজি, কেনো এতো মজা হয়েছিল তেহারী।
---------------------------------------------------------
রাত্রে যদি সূর্যশোকে ঝরে অশ্রুধারা
সূর্য নাহি ফেরে শুধু ব্যর্থ হয় তারা

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

অতিথি লেখক এর ছবি

ছাতি'পুর সাথে ফটুক তুললে নাকি অবিবাহিতের গতি হয় (বিবাহিতের হয় না, যার জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ দুলুরাম ওরফে দুলাল ভাই। ছাতি'পুর সাথে এতো ছবি তোলার পরও দুলুরামের কোনো গতি হয় নাই। আপসুস)

না গধূ কথাটা ঠিক না। আমি যেদিন আমার বউয়ের সাথে ছবি তুলি, সেদিন আমার চোখে রঙ ধরে, রাস্তার সব ললনাদেরকেই আমার শালিকা মনে হয়। মাথার ভিতরে রাজ্যের স্বপ্ন ঘুরতে থাকে। ভাবি, বসব নাকি আর একবার পিড়িতে। কিন্তু বউয়ের ঝালকাঠি আর রামদার ভয়ে নিজেকে সামলে রাখি। তোমার "ছাতিপা"কেতো চিনোনা ............

দুলাল

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- হা হা হা দুলাল ভাই।

তাইলে তো আপনার বেশি বেশি 'ছাতিপা'র সাথে ফটুক তোলা উচিৎ। আখেরে দেখা যাচ্ছে আমারই লাভ! চোখ টিপি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

রানা মেহের এর ছবি

মনির হোসেন
তুমি এতো সুন্দর কেনু কেনু কেনু? দেঁতো হাসি
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

মামুন হক এর ছবি

ছবি ঝাপসা করে দেয়ার প্রতিবাদে ক্যামেরা নিজ হাতে তুলে নিয়ে লুকিয়ে চুরিয়ে কাসেল সচলাড্ডার ছবি তুলতে গিয়ে ধৃত এবং হার্ম্মাদীয় ভাবে প্রহৃত জনৈক দুর্ভাগা ফটো সাংবাদিক।
বিদ্রোহী
আসেন আসেন আমরা দলে দলে এই অবিচারের প্রতিবাদ করি, এবং কালো হাতের কারুকাজ বিহীন পরিস্কার সচল ছবি দেখার অধিকার আদায় করি।
দুনিয়ার সচল এক হও!!

ধুসর গোধূলি এর ছবি
পেন্সিলে আঁকা পরী এর ছবি

খাইছে! দেঁতো হাসি

-------------------------------------------------------
আমি সেই অবহেলা, আমি সেই নতমুখ, নীরবে ফিরে চাওয়া, অভিমানী ভেজা চোখ।

-------------------------------------------------------
আমি সেই অবহেলা, আমি সেই নতমুখ, নীরবে ফিরে চাওয়া, অভিমানী ভেজা চোখ।

কাজী আফসিন শিরাজী এর ছবি

দারুণ!! ছবি দেখা গেলে আরও ভালো লাগত।
____________________
যদিওবা মানুষ আমি কেন পাখির মত বাঁচি...

কীর্তিনাশা এর ছবি

হুহ্ এইডা একটা আড্ডা হইলো ! একটা ঝকঝকা গ্রুপ ছবি দেওয়ার সাহস নাই দিলে, হ্যারা আবার আড্ডা দেয়। হেই আড্ডার কাহিনী আবার আমগো শুনায়, হুহ্ !

এর চাইতে আমগো ঢাকাইয়া আড্ডা অনেক ভালু। আমরা মজাও করি আবার ছবি দিতেও ডরাই না।

ঢাকাইয়া আড্ডা জিন্দাবাদ !!

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- হ, এরা বড়ই ঈমানী বান্দা। ফটুক তোলায় নিষেধ আছে বইলা তোলেই না। দিবো ক্যামনে? দিক্কার সবগুলারে।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

নজমুল আলবাব এর ছবি

ছবি নিয়া করা কেরদানি ছাড়া সবকিছুই ভালো লাগছে।

------------------------
ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।