ক্যালিডোস্কোপ - ১২

এক লহমা এর ছবি
লিখেছেন এক লহমা [অতিথি] (তারিখ: মঙ্গল, ২৩/০৬/২০১৫ - ৬:১০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আরও একবার ঘোরাই ক্যালিডোস্কোপ (বিশুদ্ধ উচ্চারণে ক্যালাইডোস্কোপ। কিন্তু ছোটবেলায় যে নামে চিনেছি তারে সেই নাম-ই রয়ে গেল এই খানে)।

উত্তরবঙ্গের দিনগুলোয় আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ তখনও এসে পৌঁছায়নি। ঘরে ঘরে তেলের আলো। দিনের বেলায় বাবা যত্ন করে কেটে সমান করত সেজবাতি কি হ্যারিকেন-এর সলতের প্রান্তভাগ। কিন্তু, সন্ধ্যা যখন গড়িয়ে যেত রাতের ঘেরাটোপে, একটু একটু করে খোঁচা জেগে উঠত সলতের মাথায়। শিখা সেখানে ঘোরাল হয়ে উঠত। চিমনীর গায়ে তির তির করে পড়ত কালির পরত, আর ঘরের ভিতর, সেদিকটার দেয়ালে অন্ধকার আসত আরও জমিয়ে। যতই কাঁচ-ঘেরা হোক, বাতাসের ছোবল থেকে রেহাই মিলত না কোন বাতির। সলতের উপরে থেকে থেকে কেঁপে ওঠা আলো আমাদের বসিয়ে রেখে দিত আলো-আঁধারের প্রান্তসীমায়। যে জগৎ-টা নানা রহস্যে ভরা, কে জানে কোন আদিম কাল থেকে মানুষের সঙ্গী হয়ে আছে, মনে হত সে যেন ওঁত পেতে বসে আছে আমাদের ঠিক পাশেই - যে কোন সময় লাফিয়ে পড়বে আমাদের সামনে।

উত্তরবঙ্গে আমাদের সে বাসায় বিজলীর আলো আসার আগেই আমরা সেখান থেকে চলে আসি। যেখানে এলাম সেখানে বিজলী বাতির আলো। কিন্তু, সইল না। কিছুদিনের মধ্যেই, ‘লোডশেডিং’ নামের এক দানবের হাত ধরে অঙ্গরাজ্য বাংলায় নেমে এসেছিল দীর্ঘস্থায়ী অন্ধকার-যুগ। সে আঁধার নামিয়ে আনার কৃতিত্ব ছিল আলো জ্বালানোর দায়িত্বে থাকা প্রশাসন আর রাজনীতির লোকেদের। তাদের লোভ আর অবিমৃষ্যকারীতার ফল ভুগেছে রাজ্য জুড়ে নিরুপায় মানুষেরা। আলোআঁধারির রহস্যময়তা নয়, আমাদের সঙ্গী হয়ে গিয়েছিল হতাশা আর অবক্ষয়-এর প্রায় অন্তহীন অন্ধকার।

আলোর অপেক্ষায় থাকা আঁধারে সতর্কতা ছিল, ভয় ছিল, রোমাঞ্চও ছিল। আশা ছিল - আলো আসবে, আলো আসছে। কিন্তু, আলোর উল্টো পথে চলে যে আঁধারে পৌঁছান, আলোর সম্ভাবনাগুলোকে ধ্বংস করে আঁধারের সমুদ্রে যে ক্রম-নিমজ্জন সে বড় ভয়াবহ, সে বড় মর্মান্তিক।

উত্তরবঙ্গের দিনগুলো ছিল আমার চেতনার উন্মীলনের কাল। আমি চোখ মেলছিলাম আর আলো জ্বলে উঠছিল, এক আকাশ থেকে আরেক আকাশে। আমার বাবা ভিটে মাটি ছেড়ে আসার সময় বস্তু হিসাবে দাম আছে এমন প্রায় কিছুই আনতে পারেনি। শুধুমাত্র দু’-একটা বই ছাড়া। পাতা খসে আসা এরকম-ই একটা বই ছিল - গল্প, নাটক, কবিতার। পড়া একটু কঠিন - বহু কথার অর্থ জানা নেই। তবে, পড়তে পড়তে আরও খানিকটা করে বোঝা যায়। বড় চমক লেগেছিল এ বইয়ের কবিতায়। নেশা ধরান, অদ্ভুত ধরণের কবিতা। পড়লে ছন্দ আছে অথচ পংক্তি শেষের মিল নেই। বাবা বলল, এ হচ্ছে, অমিত্রাক্ষর ছন্দ। যিনি লিখেছেন এ কবিতাগুলি বাংলা ভাষায় তাঁর স্বীকৃতি শুধুই একজন কবি-র নয়, মহাকবি-র। চলিত ধারণার বাইরে গিয়ে তিনি বঞ্চিতকে বসিয়েছেন নায়কের আসনে। সেই শুরু। তারপর আরও বহুকাল ধরে ফিরে ফিরে গেছি মধুকবির কাছে। একসময় পড়েছি সেই কবিতাও - সভায় সভায় যা আবৃত্তি করে বেড়িয়েছি - “রেখো মা দাসে রে মনে … … মধুহীন কোরো না গো তব মনঃ কোকনদে।” মধুকবির আকাঙ্খা পূর্ণ হয়েছিল। অমর পদ্ম হয়েই ফুটেছিলেন তিনি। আমার সে গুণ নেই। এ পরবাসে যেদিন ঝরে যাব, মিলিয়ে যাব এমনিই, কোথাও কোন চিহ্ন না রেখে।

ঐ দিনগুলিতে একটি ছোট্ট ঘটনা আমার চেতনায় গভীর প্রভাব রেখেছিল। যদিও তখন সেভাবে বুঝিনি। আমাদের বাড়িতে তখন প্রশাসনের নানা মাপের, নানা দরের মানুষের আসা-যাওয়া। একদিন এক বিশিষ্ট ভদ্রলোক বাবার সাথে দীর্ঘ বৈঠক শেষে বিদায় নেওয়ার আগে আমার কাছে এগিয়ে এসে খোঁজ নিলেন আমি কোন শ্রেণীতে পড়ি ইত্যাদি। সম্ভবতঃ তখন চতুর্থ শ্রেণী চলছে। দু-চার কথার গল্পের পর জানতে চাইলেন আমি সম্রাট অশোকের ছেলে মহেন্দ্র ও কন্যা সংঘমিত্রার কথা জানি কি না। তারা যে বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারে সিংহলে গিয়েছিলেন সে কথা জানিয়ে আমি বললাম যে অনেকে কিন্তু বলে মহেন্দ্র আসলে অশোকের ভাই। আর সংঘমিত্রা মহেন্দ্রর স্ত্রী। উনি অবাক হয়ে জানতে চাইলেন এমন কথা আমি কোথায় পেলাম। আমি ইতিহাস বই খুলে দেখিয়ে দিলাম যে সেখানে ‘মতান্তরে' বলে তাদের উভয় পরিচয়ই লিপিবদ্ধ রয়েছে। মানুষটি মন দিয়ে অনুচ্ছেদটি পড়ে মহা খুশী হলেন। এমন খুঁটিয়ে পড়া আর মনে রাখা ছেলে যে কালে কালে বিরাট কিছু হবে সে নিয়ে পূর্ণ নিশ্চয়তা জানানোয় বিপুল উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠলেন। পরবর্ত্তীতে ঐ অন্য মতের সন্ধান আমি আর কোথাও পাইনি। তেমনি, ওনার আশায় জল ঢেলে আমারও কিছুই হওয়া হয়ে ওঠেনি। কিন্তু নিজের নানা বিষণ্ণ, ভেঙ্গে পড়া সময়ে ওনার সেই উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠা প্রত্যয় অন্ধকার নদীর বুকে আমাকে অনেক নড়বড়ে সাঁকো পার করে দিয়েছে।

সম্ভবতঃ দ্বিতীয় শীতে এক দিন এক কাণ্ড ঘটল। বাবার সহকর্মীদের আমরা ডাকতাম সম্পর্কে জড়িয়ে নিয়ে। সেইরকমই শেখানো হয়েছিল। কাজের জায়গায় পদমর্যাদায় বাবা বড়, কিন্তু বাড়িতে আমাদের কাছে সেই সব কাকু আর পিসীদের অবস্থান ছিল যার যার সম্পর্ক আর আন্তরিকতার মাপকাঠিতে। কেউ কেউ নিয়মিত আসতেন আমাদের বাড়িতে গল্প-আড্ডায়। বাবা বেশী কথার লোক ছিল না। মা-র সাথেই জমিয়ে গল্প হত তাদের। সেইরকমই একজন, চিত্রাপিসী সেই বিকেলে একটা ছোট আধহাত উচ্চতার সাদা মূর্তি নিয়ে এসে হাজির আমাদের বাড়িতে। সরস্বতী মূর্তি। তার দু-একদিন আগে মা-র সাথে গল্প-আড্ডায় মা-র একটি অপূর্ণ ইচ্ছের কথা পিসী জানতে পেরেছিল। তার ফলেই সেই বিকেলের ঐ উপহার। মা এ উপহার আশা করে নি। আনন্দ পেল, আবার সেই সাথে মহা চিন্তায়ও পড়ে গেল।

মায়ের দুশ্চিন্তা একটুও অমূলক ছিল না। বাবা বাড়ি এসেই অত্যন্ত রেগে গেল
- তুমি জানো, আমি পূজা-আর্চা করি না। তবু তুমি এই মূর্তি ঘরে তুললা?
- আমি কি নিজে এনেছি?
- যে আনছে তারে দিয়া দিবা।
আমি কেন দিতে যাব? তোমার নিজের অফিসের লোক, তুমি দিয়া দিও। বচ্ছরকার দিনে বাড়িতে মূর্তি নিজে এল। আর তুমি তারে বিদায় করে দেবে। ছেলেপিলের ঘর, যা ভাল বোঝ কইরো, আমার কি!

বাবা যতই দোর্দন্ডপ্রতাপ হোক, মা প্রায়ই মোক্ষম চালটা চেলে দিত। আর এইবারে ত ঠাকুমাও তার দিকে। ফলে সেই সন্ধ্যায় আমাদের খেলার ঘরটা সেজে উঠল অপরূপ সাজে। কাছের দোকান থেকে বাবা সন্ধ্যা নাগাদ নিয়ে এল নানা নানা রং-এর ঘুড়ি বানানোর কাগজ। তারপর সেই কাগজ কেটে তৈরী হল - শিকল, মালা, ফুল, ফুলের ঝাড়, আলপনা - কত কি। দোকান থেকে কাগজ ছাড়াও এসেছিল খাগ-এর কাঠি। তাই কেটে কলম তৈরী হল। খালি হওয়া কালির শিশিতে দুধের কালিতে ডুবিয়ে খাগের কলম দিয়ে লেখা হবে কলাপাতায় - ব্রাহ্মীতু ভারতী ভাষা … …।

অনেক রাত পর্যন্ত জেগে সাজানোর কাজ চলার সময় বাবাকে পেলাম খুব কাছে থেকে। কাগজ কাটার কারিগরি শেখাতে শেখাতে অল্প কথার মানুষ বাবা সেদিন অনেক গল্প করেছিল -
- ঈশ্বরকে ডাকতে পূজা করতে লাগে না। পূজা-আর্চা ত দেখনদারি।
- কেন?
- ঈশ্বর ত নিজের মনের মধ্যে। আমি তারে নিজের মনে ডাকি। তাকে ডাকতে গেলে অন্যান্যদের দেখিয়ে ডাকতে হবে কেন?
- তা হলে তুমি যে এখন পূজা করবার জন্য এসব করছ?
- না করলে তোমাদের মা কষ্ট পাবে। সবাই পূজা করে, তারও ইচ্ছা করে আর কি। এতদিন রাজী হই নাই। এইবার আর পারা গেল না। সংসার করলে নানা কিছুই মানতে লাগে।
- আচ্ছা বাবা?
- বলো
- ঈশ্বর-কে কি ডাকতেই হবে?
- নাঃ! লোকজন ঈশ্বর-কে ডাকে মনের মধ্যে জোর পাওয়ার জন্য, কি, মন শান্ত করার জন্য; কোনও সময় গভীর দুঃখে সান্ত্বনা পাওয়ার জন্য। যে ঈশ্বর-এর সাহায্য ছাড়াই সেটা করে ফেলতে পারে তার ঈশ্বররে ডাকতে লাগে না।
- তুমি ডাকো?
- ডাকি। আমি সাধারণ মানুষ, নিজের মনে ডাকি। তা বলে তোমারও ডাকতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নাই।
- ঈশ্বরকে না ডাকা কি পাপ?
- ঐগুলা প্রচার। দুনিয়ায় ঈশ্বররে ডাকার নামে যত পাপ হইছে সেইগুলারে ঢাকা দেয়ার জন্য তারা এই প্রচারডা চালায়। আসল পূজা কি জান? জ্ঞানের পূজা। আমি আর তোমারে কতটুকু বলতে পারব। বই থেকে জানবা। বই পড়বা। সব রকম বই পড়বা।

আরও কিছু কথা হয়েছিল যা আজ আর মনে নেই। আজ শুধু এইটুকুই মনে পড়ে যে সেই রাতেই আমার সূচনা হয়েছিল জিজ্ঞাসার আলো হাতে আঁধারের যাত্রীদলের সঙ্গী হয়ে যাওয়া।

আমার বই জুটত বেশ মজার উপায়ে। যে বাড়িতে যখন যেতাম, হাতের কাছে যা পেতাম টেনে নিয়ে বসে যেতাম। বইয়ের ব্যাপারে কোন বাছ-বিচার ছিল না। বৎসরান্তে অবশ্য স্কুল থেকে কয়েকটা বই পাওয়া যেত, বয়সোপযোগী বলে বিবেচিত, একেবারে নিজের করে - বার্ষিক পরীক্ষায় আর বার্ষিক উৎসবে আবৃত্তি প্রতিযোগীতায় সাফল্যের সুবাদে।

এর মধ্যে একদিন বাবা একটা বই কিনে দিল। সেই সময়ের পাঠের অভিজ্ঞতায় বেশ মোটা বই - অথচ একটাই গল্প। বাবা জানাল, একে বলে উপন্যাস। অসাধারণ লেখার ধরণ। জমজমাট গল্প। ফিরে তাকিয়ে মনে হয়, আজকের বলিউডি চলচ্চিত্রের আদিকালের সংস্করণ প্রায়। কিন্তু গল্পটা কেমন যেন! স্বাধীনতার আন্দোলনের কথা বলবে বলে মনে হয়েছিল। তার বদলে ইংরেজদেরকেই দেশের দায়িত্ব নিতে বলল আর মুসলমানদের সমস্ত দোষের জন্য দায়ী করল, বিশ্রী ভাষায়। লেখা পড়তে পড়তে রীতিমত আবেগাপ্লুত হয়ে যাচ্ছিলাম। অথচ কি রকম এক সমস্ত গুলিয়ে দেওয়া পরিণতিতে ঠেলে দেয়া হল পড়ুয়াকে। রাত জেগে পড়া শেষ করে ছুটির সকালে ধরলাম বাবাকে, কেন এরকম করলেন লেখক, মানে কি হল এর। বাবা বলল, লেখক ইংরেজের প্রশাসনে বড় পদে কাজ করতেন। বাবার নিজের ভাষায় - “বঙ্কিম চাটুয্যে মহা ধড়িবাজ লোক ছিল।" ইংরেজ-এর হাত থেকে বাঁচতে সে লোক নাকি ঐরকম কায়দা করেছিল। আর কাজও হয়েছিল। এই বইয়ে লেখা গান গেয়ে স্বাধীনতার আন্দোলনের সৈনিকেরা প্রাণ বলিদান দিয়েছে। আমার মুখ দেখে বাবা বুঝল যে উত্তরটায় আমি খুশী হইনি। স্বীকার গেল যে কাজটা লেখক ভাল করেনি। তবে বাবার সাথে আমিও একমত হলাম যে ঐ বইয়ের ভাষা, গল্প বলার কায়দা এগুলো আমার জন্য নূতন অভিজ্ঞতা ছিল, শেখার মত ছিল। এইভাবে ‘ক্রিটিকাল রিভিউয়ের’ জগতে সেদিন আমার হাতেখড়িটা হয়ে গিয়েছিল।

দিন গড়াতে গড়াতে ঐ সময়কালে আমার শেষ দুর্গাপূজা দেখার ঋতু এসে গেল। খানিকটা বড় হয়েছি, উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। একা একাই অনেকটা দূর ঘুরে আসি। সপ্তমীর দুপুরে প্যান্ডেলে গিয়ে হাজির। কেউ নেই সেই সময়টায়। ঢাকীরাও কোথাও একটু জিরিয়ে নিচ্ছে। আমি চুপি চুপি বাঁশের বেড়া গলে মূর্তি যেখানে আছে সেই অংশে হাজির হলাম। কি তীব্রভাবে যে বিশ্রী লাগার অনুভূতি হল! সামনে থেকে দেখতে অত সুন্দর! আর আড়ালে এই দশা - মাটি, কাঠ, খড়, রং নেই কোন, একেবারে উল্টো ছবি! বছর তিনেক আগে একবার একঝলক দেখে এতটা ধাক্কা খাইনি। এবার ভাল ভাবে জানা হল।

কাছে গেলে দেবতার, খসে পড়ে আংরাখা।
অপরূপ রূপের আড়ালে - ঢাকা থাকে
মাটি কাঠ খড়! ভ্রান্তিবিলাস ঘুচে গেলে
অপার গরিমা জলে ভেসে চলে যায় - নিঃশেষে।

উত্তরবঙ্গের দিনগুলোকে দেখতে চেয়ে ক্যালিডোস্কোপ ঘোরান শুরু হয়েছিল। মাঝে মাঝে অন্য অন্য দিনের কথাও এসেছে। বারো পর্বের অধ্যায় শেষে এবার সময় হল ক্যালিডোস্কোপকে তুলে রাখার, অনির্দিষ্ট কালের জন্য।


মন্তব্য

তিথীডোর এর ছবি

লোকজন ঈশ্বর-কে ডাকে মনের মধ্যে জোর পাওয়ার জন্য, কি, মন শান্ত করার জন্য; কোনও সময় গভীর দুঃখে সান্ত্বনা পাওয়ার জন্য। যে ঈশ্বর-এর সাহায্য ছাড়াই সেটা করে ফেলতে পারে তার ঈশ্বররে ডাকতে লাগে না

এই লাইনগুলো অনেকদিন মনে থাকবে। চলুক

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

এক লহমা এর ছবি

ধন্যবাদ দিদি।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

অতিথি লেখক এর ছবি

ক্যালিডোস্কোপ তুলে রেখে দিচ্ছ, অনির্দিষ্টকালের জন্য? মন খারাপ সিরিজটা পড়তে ভালো লাগে, মন খারাপ হয়, মন ভালোও হয়ে যায় আবার।

তোমার উত্তরবঙ্গের সাথে আমার উত্তরবঙ্গের কত মিল, মায় সেজবাতি আর হ্যারিকেনটা পর্যন্ত। বাবারও ছিল পাতা খসে খসে যাওয়া বই। বঙ্কিমবাবুর এই বইটা অবশ্য ঝকঝকে নতুন ছিল মানে রচনাবলীটা বাবা বেশ পরে কিনেছিল তাই। বাবা পূজো করে না মোটেই, বাড়িতেই দুর্গাপূজো হয়, বাবাকে অঞ্জলি দিতে দেখিনি কোনোদিন; বাবা অবশ্য রোজই ঈশ্বরকে প্রণাম করে মনে মনে, জানি। একটা সময় আমিও অঞ্জলি দিতাম না-পূজোআচ্চা করতাম না, পরে বুঝতে শুরু করলাম আমি এট্টু দুর্বলচিত্ত সাধারণ মানুষ। বছরের অঞ্জলি তাই দিই সাড়ম্বরেই ;); রোজকার পূজোয় আপত্তি আছে । ঈশ্বরকে ডাকতে যে লোক দেখানো পূজোর দরকার নেই, বাবার কাছ থেকেই শিখেছিলাম; আদৌ যে কারও কারও ডাকবারই প্রয়োজন না থাকতে পারে, তাও। পড়তেও শিখেছি বাবার থেকে-ক্লাসের, ক্লাসের বাইরের সব পড়া। বাবার এসব কথা মনে পড়ল ফের।

দেবদ্যুতি

এক লহমা এর ছবি

কিছুদিন এই সিরিজটা বন্ধ রাখতে না পারলে অন্যান্য ভাবনাচিন্তাগুলো গুছিয়ে উঠতে অসুবিধা হয়ে যাচ্ছে।

"এট্টু দুর্বলচিত্ত সাধারণ মানুষ"ঃ একদিন যেন তুমি লিখতে পারো - 'এট্টু দুর্বলচিত্ত সাধারণ মানুষ ছিলাম'! তোমার বাবারও তখন খুব ভাল লাগবে বলেই মনে হয়।

লেখায় ভাল লাগা জানানোর জন্য অনেক আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

অতিথি লেখক এর ছবি

আগেরগুলো পড়া হয়ে ওঠে নাই তবে এটা পড়েই মনে হলো আগের পর্বগুলো পড়া দরকার। অনেক সুন্দর লেখনী আপনার।

@জিল্লুর রহমান সোহাগ

এক লহমা এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

বারো পর্বের অধ্যায় শেষে এবার সময় হল ক্যালিডোস্কোপকে তুলে রাখার, অনির্দিষ্ট কালের জন্য।

আরে! বলেন কি?

এক লহমা এর ছবি

বলা ঠিক হইল না? আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- হাসি

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

ক্যালিডোস্কোপ তুলে রাখলাম - এমন ঘোষণা দেবেন না, নিজেও অমন ভাববেন না। বরং যখন আপনার মনে হবে ক্যালিডোস্কোপটা একবার তুলে নিলে ভালো লাগবে তখন আবার সেটা তুলে নেবেন। কলেবর আরেকটু বাড়লে কাউকে দিয়ে ক্যালিডোস্কোপকে একটা ই-বুক বানিয়ে ফেলবেন।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

কল্যাণ এর ছবি

হ।

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

এক লহমা এর ছবি

ঠিক আছে। হাসি

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

রকিবুল ইসলাম কমল এর ছবি

ই-বুক বানানোর জন্য বান্দা হাজির! হাসি

www.rupantarbooks.com

এক লহমা এর ছবি

এ ত পুরাই দেখি আলাদীনের প্রদীপের মত হল! কথা ওঠা মাত্রই দৈত্য হাজির। হাসি
আগে কিছু আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- দিয়ে নিই। তারপরে বলেন আমায় কি করতে হবে! চিন্তিত

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

রকিবুল ইসলাম কমল এর ছবি

ব্লগ গুলোকে একত্র করে একটি পাণ্ডুলিপি তৈরী করুন। লেখা গুলোকে ব্লগ থেকে বইয়ে রূপান্তর করার জন্য হয়তো কিছু পরিমার্জন পরিবর্ধন করতে চাইতে পারেন। পাণ্ডুলিপিটি রেডি হলে রূপান্তরবুকসকে প্রকাশের অনুমতি দিয়ে rupantarbooks@জিমেইল.কম ঠিকানায় পাঠিয়ে দিন। বইয়ের রয়েলটি বিষয়ক প্রশ্ন বা আপনার অন্য যেকোনো জিজ্ঞাসা থাকলে দয়াকরে ইমেইলে যোগাযোগ করুন।

এক লহমা এর ছবি

বুঝলাম। ঠিক আছে। কাজ শুরু করি তা হলে। হাসি আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

রকিবুল ইসলাম কমল এর ছবি

আপনার পাণ্ডুলিপির অপেক্ষায় থাকবো। হাসি

এক লহমা এর ছবি

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এক প্রতিভাধর কিশোরকে গৃহশিক্ষক হিসাবে পড়ানোর সুযোগ জুটেছিল। পড়ানো হত ঘণ্টা, তাকে শুধু সঙ্গ দিতাম। বাকি কাজ সে নিজেই করে ফেলত। এই বন্ধুটির যে জীবনসঙ্গিনী এল, সেও মহা গুণী মেয়ে। দুজনেই আমার অত্যন্ত প্রিয় মানুষ। এই যুগল আমাদের দুই বুড়ো-বুড়িকে জানিয়ে রেখেছে যে যতদিন তারা ঘোষণা না দিচ্ছে আমাদের বুড়ো হওয়া চলবে না, নিষেধ একেবারে। আমরা মেনে নিয়েছি। না নিয়ে আর উপায় কি! প্রসঙ্গ কিঞ্চিৎ ভিন্ন হলেও দশা একই। অতএব, যথা ইচ্ছা আপনার, মাঝে মাঝে তুলে নেব ক্যালিডোস্কোপ, আর, তাকে "তুলে রাখলাম - এমন ঘোষণা" দেব না। হাসি অনেক ভালোবাসা হে সখা, ষষ্ঠ পাণ্ডব।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

লেখার মতো আপনার এই মন্তব্যও অসাধারণ! আমি এক্ষুণি যেয়ে বলছি, আমাদেরও বুড়ো হওয়া চলবে না হাসি

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

এক লহমা এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ সাদিয়াদিদি। খুব ভালো সিদ্ধান্ত। হাসি

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

অনেক যুবকের শরীরের ভেতরে এক একজন বৃদ্ধ বাস করে, আবার অনেক প্রৌঢ়ের শরীরের ভেতরে বাস করে এক একটা টগবগে তরুণ। এরমধ্যে কোনটা বেছে নেবেন সেটা আপনার পছন্দ। তবে শুধু শুধু বুড়িয়ে যাওয়াটা কোন কাজের কথা না। এই ধরুন আমাদের রিটন ভাই। কিছু দিন পর পর যখন তাঁকে সাক্ষাত করার সুযোগ হয় তখনই দেখি আগের বারের চেয়ে তাঁর বয়স আরেকটু কমে গেছে। প্রতি নিয়ত তিনি নিজেকে এতোটা আপডেটেড রাখেন যে আমরা তাঁর বয়োকনিষ্ঠ হয়েও তাল মিলিয়ে রাখতে পারি না। আপনিও চাইলে অমন তরুণ হতে পারেন। একটাই তো জীবন! সেটাকে রঙ-রূপ-রস-শব্দ-গন্ধে উপভোগ করাটাই তো উচিত। কী লাভ খামাখা বুড়িয়ে গিয়ে!


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

এক লহমা এর ছবি

মজার কথা বলি। যেই ঋতুতে মানানসই ছিল, সেই সময় জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে নানা কর্মকান্ড করতাম। তার মধ্যে একটা ছিল হাটে-বাজারে, বাসে-ট্রামে হকার-রা যে সব অসাধারণ ধারাবিবরণী চালাত সেগুলিকে তুলে আনা বা তাদের 'প্যারডি' করা। একটা এইরকম টুকরো ছিল দাঁতের মাজন বিক্রি করা - প্রতিদ্বন্দ্বী বেচন্দাররা ইমিট্টেসান পোকা দেখিয়ে ভয় দেখায় সেই কথা বলে নিজেকে খাঁটি বিক্রেতা বলে প্রমাণ করে, খাঁটি লোকের মালও খাঁটি এই যুক্তিতে নিজের মাজন বিক্রি করা। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আবার ঐসব নিয়ে মেতে উঠতে। যদি উঠি, আপনার এই মন্তব্য-টা আমাদের ছোটবেলার সেই দ্রাক্ষারিষ্ট বিক্রির বক্তৃতা হিসাবে বানিয়ে নেব। বেশী কিছু করতে হবে না। পুরো মন্তব্যটা একটু রস ঢেলে বলে, শেষে "তাই বলছিলাম, আজ-ই নিয়ে যান, মাত্র এক ফাইল - আমাদের, শুধু আমাদের-ই কাছ থেকে পাওয়া যায়, চির-যুবক থাকার অব্যর্থ ওষুধ, আম্রিকার টপ কোম্পানীর ফর্মুলায় বানানো, খেলেই বুঝবেন, বেশী খাবেন না, রোজ রাতে মাত্র দু' চামচ, একবার করে খেলেই হবে, ... ... (মঞ্চ বুঝে ইত্যাদি ইত্যাদি)।"

ফাজলামি রেখে বলি, না বুড়োনোর চেষ্টা অবশ্যই জারি আছে। তবে মাঝে মাঝে বুড়ো হওয়ার মধ্যেও বেশ মজা পাই। আজকাল আবার স্রেফ খোমা দেখে, জিজ্ঞাসাবাদ না করেই কোথাও কোথাও সিনিয়র সিটিজেন ডিস্কাঊন্ট দিয়ে দেয় - এইসব মিলিয়ে প্রাপ্তির পরিমাণ খারাপ নয়! দেঁতো হাসি

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

নীড় সন্ধানী এর ছবি

কিছু মানুষ বুড়ো হয় না। আমি ৭০ বছর বয়সের মানুষকেও দেখেছি পঁচিশের যৌবনের মতো কথা বলছে।
আবার কিছু মানুষ বেশী বুড়ো। ৩০ বছর পার হতেই এমন পেকে যায় যে ইহকাল ছেড়ে পরকালের কথা ভাবতে শুরু করে।
আপনি প্রথম দলেই পড়বেন। প্রথম দলটিকে আমার বরাবরই পছন্দ কেননা পৌনে পঞ্চাশের পথে থেকেও আমি নিজেও প্রথম দলে আছি এখনো হাসি

আপনার বাবার সাথে আপনার যে সংলাপ শুধু সেই অংশের জন্যও লেখাটাকে পাঁচতারা দেয়া যায়। চলুক

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

এক লহমা এর ছবি

ধরেছেন যথার্থই! হাসি দলে ভারী হওয়ার মজাই আলাদা! দেঁতো হাসি

অনেক ধন্যবাদ নীড়ুদা!

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

তারুণ্য ধরে রাখার প্রধান বাধাটি অবশ্য ঘরের ভেতর থেকেই আসে। পান থেকে সামান্য একটু চুন খসলেই শুনতে হয় " বুড়ো বয়সে ভীমরতি"। ভীমের তিনটি প্রধান বৈশিষ্টের মধ্যে একটি ছিল রতিক্রিয়ায় তার অসাধারন পারদর্শিতা, সে থেকেই "ভীমরতি" শব্দের উদ্ভব। এমন নয় যে আপনি সত্যি সত্যি তরুন বয়সের ভীমের মত একটি বিশেষ কর্মের উত্তম পারফর্মার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন, তবুও ভাল মন্দ যে কোন কাজই আপনি করুন বা করতে চান না কেন, বারংবার অহেতুক ভীমরতির খোটা দিয়ে প্রকারান্তরে আপনি যে আসলে একজন বৃদ্ধ ছাড়া আর কিছুই নন, চোখে আঙ্গুল দিয়ে সেটাই দেখিয়ে দেয়ার মাধ্যমে আপনার বার্ধক্য ত্বরান্বিত করার একটা প্রচেষ্টা গৃহের মাঝেই শুরু হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়াও- ছেলেমেয়ে বড় হয়েছে, এবার চ্যাংড়ামো বাঁদরামো ত্যাগ করে বরং একটু ধর্ম কর্মে মন দাও, এ জাতীয় পরামর্শও শুনতে হতে পারে। তবে জানি, বৌদির তরফ থেকে এ ধরনের বিপদের আশঙ্কা নেই। সুতরাং আপনার আর ভাবনা কী?

হিমু এর ছবি

শব্দটা আসলে ভীমরথী। ভীমরতি তার অপভ্রংশ, রতিক্রিয়ায় ভীমের কাবিলপনার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। সাতাত্তর বছর সাত মাস সাত দিন পার করলে যে লগ্ন আসে, তার নাম ভীমরথ।

এক লহমা এর ছবি

আচ্ছা, যে সংস্কৃত শ্লোক-টিতে ঐ ভয়ানক রাত্রির “ভীমরথী" নামটির উল্লেখ আছে সেই শ্লোকটির উৎস জানা আছে?

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

দাদা,
সপ্তসপ্ততিতমে বর্ষে সপ্তমে মাসি সপ্তমী। রাত্রিভীমবথী নাম নরাণাংদুরতিক্রমা ........... শ্লোকটির উৎস- স্মৃতিশাস্ত্র "বৈদ্যক"।

এক লহমা এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ ভাই। এইরকম একটা ভয় দেখান শ্লোকের অস্তিত্বের প্রাসঙ্গিকতাটা এবার বোঝা গেল। এটি একটি চিকিৎসা সংক্রান্ত বইয়ের অংশ। হাসি

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

আমার কথাটা আক্ষরিক অর্থে নেবেন না, আভিধানিক অর্থে তো নয় ই। পণ্ডিতজনের বাইরে যে রয়েছেন বিপুল সংখ্যক আমজনতা, তাঁরা বাংলা ভাষার অনেক শব্দেরই মূল অর্থ বিসর্জন দিয়ে ভিন্ন অর্থ তৈরি করে নিয়েছেন। যেমন- বৃদ্ধ, অর্থাৎ যাহা বা যে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছে। রসাতল, পৃথিবী পৃষ্ঠের নিচের দিকে ষষ্ঠতম অঞ্চল, নিকৃষ্ট বা পতিত কোন স্থান নয়। ভীমরথী বা ভীমরাত্রি কে ভীমরতি বানানোর মধ্য দিয়ে এর মূল অর্থ কতটুকু বজায় রাখা গিয়েছে কে জানে।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

এই পৃথিবী আবার ভূ-অভ্যন্তরে সাতটি অঞ্চলে বিভক্ত। (১) অতল - ময়পুত্র মহামায়ার রাজত্ব, (২) বিতল - হাটকেশ্বর হর , (৩) নিতল - বৈরোচন বলি,
(৪) সুতল - অঙ্গ-বঙ্গ, কলিঙ্গ, (৫) তলাতল - ময় ত্রিপুরাধিপতি, (৬) রসাতল - দানবজাতি ও (৭) পাতাল - নাগজাতি। পুরাণের প্রাজ্ঞ ব্যাখ্যাকারগণ এমনটাই বলেছেন।

এক লহমা এর ছবি

এই তল-গুলির পরিচয় দেখলে তার সাথে সপ্তস্বর্গ-র পরিচয় মেলালে সেই সময়ের আর্যাবর্তের মানুষদের স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল-এর ধারণার বেশ জমাটি একটা ছবি পাওয়া যায়। রাহুল সাংকৃত্যায়ণের ভোলগা থেকে গঙ্গা বইটা খুঁজলে কি সপ্তস্বর্গ-র স্থান-পরিচয়টা পাওয়া যেতে পারে? স্মৃতি বড় ঝামেলা করে থেকে থেকে। বিশেষ করে যেহেতু দিনের পর দিন কেটে গেছে এই সব নিয়ে কারো সাথে কথা না বলে। পরবাসে থিতু হওয়ার দাম ভালই দিতে হয়েছে।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

মার্কন্ডেয় পুরাণ অনুসারে জম্বুদ্বীপের উত্তর ও দক্ষিণ দিক ছিল নিচু ও অপ্রশস্ত। আর মধ্য ভাগ ছিল উঁচু ও বিস্তৃত। এই উঁচু ও বিস্তৃত অংশেই ছিল মেরু পর্বতের অবস্থান। মেরু
পর্বতের ঠিক মধ্যিখানেই ছিল, ইলাবৃতবর্ষ। সুমেরুর পূর্বে ভদ্রাশ্ববর্ষ (চীনদেশ), পশ্চিমে কেতুমালাবর্ষ এবং দক্ষিণে ভারতবর্ষ। আবার তদ্দক্ষিণে হরিবর্ষ এবং উত্তরে কামাকবর্ষ।
আরও উত্তরে হিরণ্ময়বর্ষ এবং তার পরে উত্তর কুরুবর্ষ।

আবার পুরাণের প্রাজ্ঞ ব্যাখ্যাকারগণ বলেছেন, "ভারতের উত্তরে হিমালয়। হিমালয়ের উত্তরে হেমকূট, তার দক্ষিণে কিম্পুরুষবর্ষ। হেমকূটের উত্তরে হরিবর্ষ। হরিবর্ষের উত্তর সীমা,
নিষধ পর্ব্বত। নিষধের উত্তরে 'ইলাবৃতবর্ষ'। ইলাবৃতের উত্তরসীমা, নীলাচল। এই ইলাবৃতবর্ষ, এখনকার মধ্য এশিয়ার অন্তর্গত। আধুনিক পামির, পূর্ব তুর্কীস্থান, ইলাবৃতবর্ষের অন্তর্গত।
এই ইলাবৃতবর্ষই হচ্ছে স্বর্গ।

হাসি

সনাতন ধর্মমতে ১৪টি লোক আছে। ১)ভূলোক, ২)ভূবলোক, ৩)স্বলোক (স্বর্গলোক), ৪)মহালোক, ৫)জনলোক, ৬)তপলোক, ৭)সত্যলোক (ব্রহ্মলোক)। বাকি ৭টির কথা আগেই লিখেছি। হাসি

এক লহমা এর ছবি

হাঃ হাঃ, ঠিক-ই বলেছেন আপনি। ঘরের মানুষের থেকে আমার কোনই চাপ নেই। তবে তার পক্ষে আমার মত কিছুতেই-বয়সোপযোগী-না-হয়ে-ওঠা একটা লোকের সাথে সেই কোন দূর অতীত থেকে ঘর করে যাওয়া যে প্রবল চাপের ব্যাপার সেইটা নিয়ে কোন দ্বিধার অবকাশ নেই। হাসি

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

লেখাটি আমার খুব ভালো লেগেছে। একেবারে পাঁচতারা। 'উত্তরবঙ্গ' বলতে কোন ভৌগলিক পরিসীমা বোঝাতে চাইছেন সেটি জানতে পারলে ভালো হত। বোঝা গেল, আপনি যথেষ্ট সময় নিয়ে যাপিত জীবনকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন, জীবনের বিবিধ অনুসঙ্গের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন এবং উত্তর থেকে অর্জিত অভিজ্ঞান টুকে রাখেন।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

এক লহমা এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ কবি।

ভৌগোলিক পরিসীমাঃ ক্যালিডোস্কোপ - ১-এ ফিরে গেলে পাওয়া যাবে তাকে - "উত্তরবঙ্গ, উত্তরবঙ্গের কোচবিহার (ইংরেজী বানানে কুচবিহার)।"

আমি যে কোনটা খুঁটিয়ে দেখি আর কোনটা চোখের সামনে পড়ে থাকলেও নজরে আসেনা সেটা আমার নিজের কাছেই রহস্য।

আমি জন্ম-কুঁড়ে; কোন কিছু টুকে রাখার মধ্যে নেই। যেটা আমি করি, করে চলেছি, সেটা বড় মজার। সেই যেদিন প্রথম চিঠি লেখা শিখেছিলাম, সেদিন থেকে জীবনভর, সারাদিন ধরে অজস্র চিঠি লিখে যাই মাথার মধ্যে, কাউকে না কাউকে। এমন কত চিঠি আপনাকেও লিখেছি। সেই যে আপনি রোদেলার জন্য বই কেনার গল্প লিখলেন, যেখানে কিছু লাইন বাদ গেলে ভালোই হত, সেই গল্প পড়ার পর থেকে কত চিঠি লিখেছি আপনাকে আর আপনার বন্ধুটিকে। এইরকম ভাবে বার বার যে ছবি, যে কথাগুলি মাথার মধ্যে ঘুরে ঘুরে যায় তাদের কখনো কখনো লিখে ফেলি। সব লেখা সচলের মানমত হয় না, জমা দেয়ার পর বাদও যায়। যেগুলি বাদ যায় না, আপনারা পড়েন। এই ত, আর কিছু না।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

অতিথি লেখক এর ছবি

একবার কোট করা হয়েছে তারপরও দুটি অংশ আবার কোট করার লোভ সামলাতে পারলাম না।

লোকজন ঈশ্বর-কে ডাকে মনের মধ্যে জোর পাওয়ার জন্য, কি, মন শান্ত করার জন্য; কোনও সময় গভীর দুঃখে সান্ত্বনা পাওয়ার জন্য। যে ঈশ্বর-এর সাহায্য ছাড়াই সেটা করে ফেলতে পারে তার ঈশ্বররে ডাকতে লাগে না।

দুনিয়ায় ঈশ্বররে ডাকার নামে যত পাপ হইছে সেইগুলারে ঢাকা দেয়ার জন্য তারা এই প্রচারডা চালায়। আসল পূজা কি জান? জ্ঞানের পূজা। আমি আর তোমারে কতটুকু বলতে পারব। বই থেকে জানবা। বই পড়বা। সব রকম বই পড়বা।

গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু
এমন মানুষের দেখা পাওয়া ভাগ্যের, আর পিতা হিসেবে পাওয়া ? সে তো পরম সৌভাগ্য। আশ্চর্য একটা স্মৃতিমেদুরতা আছে আপনার লেখায়। ই - বুক করার প্রস্তাবের সাথে সহমত। নতুন কেনা স্মার্টফোনের পর্দায় ই – বুক পড়তে মন্দ লাগে না। তবে এই ধরণের স্মৃতিমেদুর লেখাগুলোর রস তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করার সবচেয়ে ভাল মাধ্যম ছাপা বই।

আমি তোমাদের কেউ নই

এক লহমা এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ হে অবশ্যই কেউ। হাসি
হ্যাঁ, সেটা আমার পরম সৌভাগ্য।
ছাপা বই-এর একটা অন্যরকম ভাল লাগা - ঠিক। আমার অবশ্য ই-বইও ভাল লাগে।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

কবিগুরু কয়েছিলেন

যেতেছ চলিয়া?
সকলি সাঙ্গ হল দু'কথা বলিয়া!
দ্বাদশ পর্ব পরে এই কি বিদায়?

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

এক লহমা এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

এদ্দিন পর জল ছলছল চোখে একখানা সিরিয়াস মন্তব্য করলুম! আর লোকে কিনা হেসেই গড়াগড়ি খাচ্ছে? আমার রবীন্দ্রানুভূতিতে আঘাত লাগছে বলে দিলুম! চাল্লু

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

এক লহমা এর ছবি

হ। বড়ই ইঞ্ছেঞ্ছেতিব ব্যাপার। ওঁয়া ওঁয়া

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

ইয়ে, মানে...

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

আয়নামতি এর ছবি

যেমন পোস্ট তেমন সব মন্তব্য। চলুক বাড়তি পাওনা ভীমরতির শুদ্ধ শব্দ। হাসি
সিরিজটা বন্ধ হচ্ছে না জেনে আনন্দ পেলাম ভাইয়া!

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

ভীমরথে চেপে বসে আলুপোড়া মতি
খতীবেরে ডেকে বলে করিনিকো ক্ষতি
সচলেতে জেঁকে বসে ক্যালীডো'র গতি
তাই হেসে কুটি কুটি আয়না'র মতি চোখ টিপি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

এক লহমা এর ছবি

হো হো হো

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

এই কবিতা না পড়লে আয়নামতিতেও যে 'মতি' আছে সেটা খেয়ালই করতাম না।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

এক লহমা এর ছবি

হাসি আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

বিশেষ কারণে অথবা অকারণেই কিছুকাল সচলে আর তেমন করে ব্রাউজ করা হয়না, তাই হয়তো লেখাটা নজর এড়িয়ে গিয়েছিলো। যাহোক, লেখাটা পড়ে আমারও বাবার কথা মনে পড়ে গেল। আমার বাবা অবশ্য সাধারন ধার্মিকই ছিলেন তবে তিনি কখনও আমাদের উপর ধর্ম চাপিয়ে দেননি। তাঁর মতে, ধম্ম-কম্ম একান্তই নিজস্ব ব্যাপার। হ্যাঁ, তবে ধর্ম সম্বন্ধে জানতে হলে প্রচলিত সব ধর্মমত সম্পর্কেই জানতে হবে এবং নিজের বুদ্ধি-বিবেচনা মতো তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। হ্যাঁ, সেই বাবার কথা মতোই যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি বিভিন্ন ধর্মমত সম্পর্কে জানতে।
হ্যাঁ, যা বলতে চাইছি, লোটা দারুণ হয়েছে। পাঁচ তারা অবশ্যই।

গীতায় চার শ্রেণীর ভক্তের কথা বলা হয়েছে।
১) আর্ত: যে ব্যাক্তি বিপদে পড়ে বিপদ হতে পরিত্রাণের জন্য পরম সত্তার সাহায্য প্রার্থনা করে।
২) অর্থাথী: যে ব্যক্তি কোন বিপদে পড়ে নয়, কোন বিশেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য ঈশ্বরের প্রসাদ প্রার্থনা করে।
৩) ভক্ত: উচ্চ স্তরের মানুষ। কোন ব্যবহারিক প্রয়োজনে নয়, ঈশ্বরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা হেতু সে অহেতুক শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
৪) জিজ্ঞাসু: যে ব্যক্তি পরম সত্তাকে জানার ইচ্ছা করে।

এক লহমা এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, ভাবনা-দা! আপনাদের মন্তব্যগুলি এই পোস্টকে আমার আশাতীত ঋদ্ধ করেছে।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA