না বলা কথা (পর্ব-২)

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: সোম, ১৭/০৩/২০০৮ - ১১:০৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আজকাল প্রতিদিন সন্ধ্যায় নিয়ম করে এক ঘন্টার জন্য কারেন্ট যায়। মেজাজ টাই খারাপ হয়ে যায়। গরম একদমই সহ্য হয় না। ঘামতে শুরু করলে মনে হয় যেন মাত্র ফ্রিজ থেকে বের করা ঠান্ডা এক কোকের বোতল যার সারা গা থেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি টপটপ করে ঝরছে! আজ মেজাজটা একটু বেশিই তিতিয়ে আছে, কারণ সন্ধ্যা থেকে তিন তিনবার কারেন্ট গেছে আর গরমটাও অন্যান্য দিনের চেয়ে একটু বেশিই মনে হচ্ছে। অবশ্য সচলায়তনে ঢুকে মনটা ভাল হয়ে গেল "পরিবর্তনশীল" আর "স্বপ্নাহতের" সুন্দর দুটো লেখা পড়ে। পড়তে পড়তে মনে হয় একটু জোরে হেসেও ফেলেছিলাম যার ফলশ্রুতিতে আম্মার একটু ভ্রুকুটি, "পোলা আমার একলা একলা হাসে কেন" (মনে মনে)!

কারেন্ট না থাকলে একটা কাজ খুব বেশি করা হয়, সেটা হল স্মৃতিচারন। চিন্তার ছিপি খুলে যায়। পুরোন দিনের অনেক বন্ধ দরজা সপাটে খুলে যায় আর দলে দলে স্মৃতিরা আসতে শুরু করে। বেশ লাগে তখন। ছোটবেলার একটা মজার ঘটনা আজ মনে পড়ে গেল। রহস্যপত্রিকায় পাঠাতে চেয়েছিলাম ঘটনাটা, কেন যেন পাঠানো হয়ে ওঠেনি। সচলায়তনের পাঠকদেরই না হয় বলি।

আমি তখন ক্লাস এইট কি নাইনে। থাকি পাবনার চাটমোহরে। আমার চাচা থাকতেন ঈশ্বরদীতে। উনি পিডিবি-র প্রকৌশলী, থাকতেন পিডিবি-র কোয়ার্টারেই। চাচার দুই ছেলে। বড় ছেলের চিকিত্সার জন্য চাচা-চাচী ওকে নিয়ে ইন্ডিয়া গিয়েছিলেন, বাসায় ছিল ছোট ছেলে আর আমাদের দাদী। ও একা থাকবে জন্য মাসখানেকের জন্য আমিও ছিলাম ওদের বাসাতেই। কোন এক কারনে স্কুলও তখন বন্ধ ছিল। যাই হোক, ওখানেই ঘটেছিল ওই ঘটনা টা। প্রতিদিন খাওয়ার পর আমি চাচাত ভাইকে নিয়ে হাটতে বেরোতাম। কোয়ার্টারটা খুবই সুন্দর, গোছানো আর নিরাপদ ছিল।

তা, ঘটনার রাতে আমি একাই বের হয়েছিলাম হাটতে। খানিক পরে শুনি বেশ খানিকটা পেছন থেকে একটা মেয়ে জোরে জোরে ডাকছে, "রনি, এই রনি"। আমি তো খুবই অবাক। এখানে আমাকে আবার কে ডাকবে! আমাকে তো চেনারই কথা না কারো। পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখি দুইটা মেয়ে! রাস্তায় আলো বেশ কম, মোটামুটি অন্ধকারই বলা চলে। কিছুটা দূরের স্ট্রীটল্যাম্পের আলোয় ভালো করে কিছু ঠাউরে উঠতে পারছিলাম না। অশরীরি কেউ না তো! মনে মনে নিজেকে গালি দিলাম আয়তাল কুরসি মুখস্ত না করার জন্য। ওদের চেহারা দেখতে পারছিলাম না, শুধু অবয়বটা বুঝতে পারছিলাম। চারপাশ শুনশান। বাড়িঘর বেশ দূরে। কোন লোকজনেরও দেখা পাচ্ছিলাম না। আমি কিছুটা পা চালিয়ে আবারো হাটা ধরলাম। আবার শুনি, "রনি, এই রনি"। দৌড় লাগাব নাকি মনে মনে চিন্তা করছি, ততক্ষণে মেয়ে দুটোও দেখি পা চালিয়ে বেশ কাছাকাছি চলে এসেছে। স্ট্রীটল্যাম্পের আলোয় ঝটপট দেখে নিলাম। নাহ, ওদের পা মাটিতেই আছে! তার মানে ভূত-টুত কিছু না! ওরা কাছাকাছি চলে আসাতে আমি আর কি অবাক হব, এবার ছিল ওদের অবাক হবার পালা!

"ও মা! এ তো দেখি রনি না!"
"কেন! আমার নাম তো রনি!"
"ওহ স্যরি! আসলে আমাদের একটা বন্ধু আছে, ওর নাম রনি। আর ও পেছন থেকে দেখতে না ঠিক তোমার মত!"
আমার তো তখন আকাশ থেকে পড়ে স্বপ্নভঙ্গের পালা। শুকনো মুখে,
"ও তাই! আমি ভাবছিলাম তোমরা আমাকে কিভাবে চিনলে! ডাক শুনে খুব চমকে গিয়েছিলাম। তা, কোন ফ্ল্যাটে থাকো তোমরা?"
"অমুক নাম্বারে, আর ও অমুক নাম্বারে।"
ইয়াল্লা, একজন তো দেখি ঠিক আমাদের পাশের বিল্ডিংয়েই থাকে! এক রাতে আর কত কাকতাল ঘটতে দেখব!
এরপর এ কথা সে কথা থেকে বের হল ওরা আসলে আমার সমবয়সী। ওরাও প্রতিরাতেই হাটতে বের হয়। এরপর একসঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ গল্প-গুজব করে হাটতে হাটতে ফিরে গেলাম যার যার পথে।

বাসায় ফিরতেই চাচাত ভাইয়ের অনুযোগ, "কি ভাইয়া, কখন থেকে ব্যাট-বল নিয়ে বসে আছি, রুম ক্রিকেট খেলব, এত দেরি করে এলে!"
আমি তো আমতা আমতা স্বরে, "না মানে, আজকের ওয়েদারটা বেশ সুন্দর তো, তাই একটু বেশি সময় হেটে এলাম। চল, টস টা করেই ফেলি!"

এরপর অবশ্য দিনের আলোতেও দেখা হয়েছিল ওদের সঙ্গে। পরে এটা নিয়ে আমরা হাসাহাসিও করেছিলাম বটে অনেক। এরপরের কাহিনী? না থাক, আজ না, আরেকদিন।

"অতন্দ্র প্রহরী"


মন্তব্য

পরিবর্তনশীল এর ছবি

রনি ভাই।।।.।.।.
সিরিজ দারুণ হইতেছে।.।.।.
তবে আজকে সাইজটা একটু ছোট হয়ে গেল।
আরো বেশি করে লিখেন
---------------------------------
ছেঁড়া স্যান্ডেল

পরিবর্তনশীল এর ছবি

বিঃদ্রঃ পরীক্ষা চলতেছে।
পরীক্ষার সময় আইইউটিটা কেমন লাগে মনে আছে নিশ্চয়ই???
---------------------------------
ছেঁড়া স্যান্ডেল

স্বপ্নাহত এর ছবি

হায় হায়... আমি তো ভাবসিলাম রুম ক্রিকেট জিনিসটা ক্যাডেটগো একার সম্পত্তি।এখন দেখি আপনেও ভাই বেরাদর নিয়া ভাগ বসাইছেন।

লেখা ভাল হচ্ছে। waiting এ থাকলাম চোখ টিপি

=-=-=-=-=-=-=-=-=-=-=-=-=-=-=-=-=-=-=
LoVe is like heaven but it hurts like HeLL

---------------------------------

বাঁইচ্যা আছি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- সিরিজের গুল্লি মারেন। নেক্সট লেখায় ঐ দুই রমনীর গল্পো লেখেন বস!
_________________________________
<সযতনে বেখেয়াল>

পরিবর্তনশীল এর ছবি

সারা জীবন রমণীর গল্প পইড়াই কাটাইবেন...
এবার কিছু একটা কইরা দেখান।

---------------------------------
ছেঁড়া স্যান্ডেল

রায়হান আবীর এর ছবি

আরে গল্পটা এইখানে শেষ কেন। রণি ভাই ফাকিঁবাজীঁ বন্ধ করেন। পুরাটা ছাড়েন...
---------------------------------
এসো খেলি নতুন এক খেলা
দু'দলের হেরে যাবার প্রতিযোগিতা...

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ "ধূসর গোধূলি" ভাইজানরে। লিখুম, ওই দুই রমনীরে নিয়া অবশ্যই লিখুম। কওয়া যায় না, আরো অনেক রমনীর কাহিনীও কালক্রমে আইতে পারে! হাহাহা!
আগামীকাল অফিসের পার্টি। অনেক কিছু আয়োজন করতে হইতেছে। মিউজিক ভিডিও, আরো হাবিজাবি কিছু। টাইমে কুলাইতেছিল না, মনও মানতেছিল না বইলা ঢুইকা পরলাম সচলায়তনে। পরের লেখা আশা করি শীঘ্রই আসবে।

অতন্দ্র প্রহরী

অতিথি লেখক এর ছবি

রায়হান, পরিবর্তনশীল ও স্বপ্নাহত,
ধন্যবাদ ভাইয়ারা। আজ জিপি তে গেছিলাম। কিছু বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিল। তো, কথা প্রসঙ্গে তোমাদের কথা চলে এল। আমিই বলছিলাম আর কি ওদেরকে সচলায়তন সম্পর্কে। তোমাদের লেখায় ফুটে ওঠা আই.ইউ.টি যে এখনো আমাদের কতটা টানে, সেটাও ছিল আলোচনার একটা অংশবিশেষ। আর আমার তো এখনো মিড এর ঝক্কিঝামেলা আর অডিটোরিয়ামে বসে নানান গল্প কাহিনীর প্লট চিন্তা করার বিষয়টা মনে পড়ে, আর হাসি পায়। কি দিনগুলোই না ছিল!
তোমরা কিন্তু বেশি বেশি কইরা আই.ইউ.টি নিয়া লেখবা। আমার লেখার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু তোমাদের লেখার হাত চরম! পড়তে খুব ভাল লাগে।
কালকের অফিস পার্টি টা শেষ হোক, নতুন লেখা পাঠাব আশা করি। ব্যস্ত সময় যাইতেছে। চিন্তা কইরো না, ওই দুই রমনীর প্রসঙ্গে সামনে আসবে কোন না কোন পোস্ট।

অতন্দ্র প্রহরী

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।