পরি তুমি ভাসবে মেঘের মাঝে

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: শুক্র, ২৮/০৩/২০০৮ - ৪:৩৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

-নিরিবিলি

খুব আস্তে আস্তে চোখ খুললো মৌ।ঝাপ্সা চারদিক।অনেক আশা নিয়ে চোখ দুইটা আবার বন্ধ করে আস্তে আস্তে খুললো।তারপরও ঝাপ্সা।মৌ দেখল মা কাছে আসছেন,

-কি রে সব দেখতে পাচ্ছিছ তো?
মৌ কি বলবে,প্রতিবারের মতো আবারও বলল,
-ভালোই দেখতে পাচ্ছি।শুধু একটু ঝাপ্সা।
মাকে হতাশ করতে মন চায় না।গত তিন বছর ধরে তিনবার চোখের অপারেশন হয়েছে।আর তিনবারই সে একি কথা বলেছে।তবে এবার মৌকে অবাক করে দিয়ে ছোট মামা একটা কোন আইসক্রিম নিয়ে এসে হাজির।কোনটা হাতে নিয়ে আর একবার অবাক হয় মৌ।মামা তার জন্য একটা ফুল আইসক্রিম এনেছে!মামা আইসক্রিম আনবে আধা খাওয়া,দোকান থেকে বাসা পর্যন্ত খেতে খেতে
আসবে এটাই স্বভাবিক।মামার দিকে আইসক্রিমটা এগিয়ে দিয়ে বললো

-আস্তা আইসক্রিম খাওয়ার আভ্যাস নাই।
-ঢং করিস না এমন সুযোগ আর পাবি না। আস্তা আইসক্রিম খাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।
অনেক কষ্টের মৃদু হাসি দেখা গেল মামা ভাগনীর মুখে।ভাবের সহিত মৌ মামার দিকে কথা ছুরে দেয়
-আধা খাওয়া দিলে বউ বেশীদিন কপালে জুটবে না।

মৌএর মা সারাদিন রাত জায়নামাযে বসে কোরান পড়েন আর আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে দোয়া করেন,আমার সহজ সরল মেয়েটার চোখের আলো ফিরিয়ে দাও...............।মৌএর এখন আর নিজের জন্য খারাপ লাগে না।খারাপ লাগে ওর
মা বাবার জন্য।একসময় বাবা প্রতিটা কাজের জন্য শাসন করত।এখন এত মায়াভরে ডাকে মনে হয় আজকেই মৌ শ্বশুর বাড়ি চলে যাচ্ছে।বাবা মার কথায় মৌ বুঝতে পারে বাকিটা জীবন মানুষের করুনায় তাকে বেঁচে থাকতে হবে।প্রতিদিন বিকালে মৌ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে হাসপাতালের বাইরের একটা মাঠে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের খেলা দেখে।যদিও ঝাপ্সা এটুকু বুঝতে পারে ছেলে মেয়ে গুলা হয়তো সামনের এতিমখানার।ওরাও মানুষের দয়ায় বেঁচে থাকে।যেদিন চোখের সঞ্চিত আলোটুকুও থাকবে না সেদিন আমিও মানুষের দয়ায় বেঁচে থাকবো।ভাবতেই গায়ে কাটা দেয়...।

আজকাল চোখের সামনে অন্ধকারের আভাটা বেশী লাগে। মৌ আকাশ দেখায় চেষ্টা করে।নীল আকাশটা দিন দিন কালো হয়ে আসছে।সারাক্ষন মেঘ জমে থাকে।জগৎ টাকে মনে হয় প্রয়োজনের চেয়ে বেশী দেখে ফেলেছি তা না হলে আমারই কেন চোখের আলো থাকবে না?অনেক কথা একসাথে মনে পড়ে যায় ওর।শেষবার যেদিন ছোট মামার সাথে নৌকায় উঠেছিলাম মাজপুকুরে নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছিল।বর্ষার ভরা পুকুরে প্রায় ডুবেই গিয়েছিলাম।...রাতে রাস্তার দুইপাশে বিলের উপর হাজার হাজার শাপলা দেখে মনে হতো উপরে এক আকাশ নিচে হাজার তারার আকাশ।জোছনার আলোতে আমাদের বিরাট বুকুল গাছের নিচে গানের আসর বসতো।বাদ্যযন্র ছাড়া খালি গলায় গানের আসর।...বৃষ্টির প্রথম ফোটা টা যেন আমার গায়েই পরে এই কামনায় মেঘের আভাস
পেলেই চলে যেতাম বাইরে।...মৌ আবিস্কার করতে থাকে বর্ষার বার্তা তাকে অনেক টানে!হঠাৎ সেই পরিচিত রিং টোন কানে বাজতে থাকে 'আজ তোমার মন খারাপ মেয়ে......'।বাপ্পার গান খুব ভালো লাগে ওর।মন খারাপ করা গান।তারপরও
রিং টোনটা বাজলে নিজ়ের হতাশা ভুলে
যায়।নিজেকে পরিপূর্ণ ভাবতে ভালো লাগে ওর।ভাবতে ভাবতে কল রিসিভ করে মৌ অন্য
জগতে চলে যায় "এখন কেউ ভালোবাসলেও করুনা মনে হয়।এক অন্ধকারকে ভালোবেসে কি হবে?".........।

safina901@yahoo.com


মন্তব্য

রায়হান আবীর এর ছবি

ভালৈছে...
---------------------------------
এভাবেই কেটে যাক কিছু সময়, যাক না!

ধুসর গোধূলি এর ছবি
পরিবর্তনশীল এর ছবি

হোটেল নিরিবিলি চলুক
---------------------------------
ছেঁড়া স্যান্ডেল

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

ভালো ।

কনফুসিয়াস এর ছবি

হুম।
-----------------------------------
... করি বাংলায় চিৎকার ...

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু এবং বইদ্বীপ

অতিথি লেখক এর ছবি

সবাইকে একসাথে ধন্যবাদ।
-নিরিবিলি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।