বানানবিভ্রান্তি ও বানান সংশোধন

মহাস্থবির জাতক এর ছবি
লিখেছেন মহাস্থবির জাতক (তারিখ: বিষ্যুদ, ২২/০৪/২০১০ - ৪:৪৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বানান নিয়ে নানান কাহিনি দেখা গেলো কিছুদিন ধরে। শেষমেষ ব্যাপারটা একটা দুঃখজনক সমাপ্তি পেলো এটাই কষ্টের। আমার সমস্যা হলো কেউ একেবারে চলে গেলে একটা মন-খারাপ লাগা তৈরি হয়, অবশ্য যদি সে নিতান্তই অপরাধী না হয়। যাহোক, আজ কিছু বানান সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা এবং আমার কিছু ব্যক্তিগত মতামত ভাগাভাগি করি।

কিছুদিন আগে সচলায়তনের আনুষ্ঠানিক তথ্যপ্রদায়ক নিক 'সন্দেশ' থেকে একটি পোস্ট প্রদান করা হয়। ওটি ছিলো অভ্রের 'শব্দশুদ্ধি' নামক বাংলা বানান ভুলের সংশোধক সফটওয়্যারের কাজের জন্যে স্বেচ্ছাসেবক আহ্বানসংক্রান্ত পোস্ট। ঘটনাক্রমে ওটিতেই একটি বানানভ্রান্তি আমার নজরে আসে এবং পোস্টটি স্টিকি হওয়ায় বারবার ভুলটি চোখে পড়তেই থাকায় অবশেষে তা জানাই। এর আগে অবশ্য অভিধান খুলে দেখে নেই আমার ঔদ্ধত্য যুক্তিসঙ্গত কি-না।

কিছুদিন পরে আর পোস্টটি দেখতে পাই না।

পরে একদিন আবিষ্কার করি ওটি বামদিকে 'অভ্র শব্দশুদ্ধি' শিরোনামে ঝোঝুল্যমান। দেখি, আমার মন্তব্যটি মডারেশন কিউ পেরিয়েছে এবং তার নিচে হিমুর একটিমাত্র মন্তব্য, তাতে শব্দসংখ্যা এক। 'ইন্টারেস্টিং'। ভিনরঙা শব্দটি দেখলেই বোঝা যায়, ওটির গন্তব্য কোন লিংক। ওতে চাপ দিয়ে দুরুদুরু বুকে অপেক্ষা করতে থাকি। আমার সামনে সেকেন্ড ক'য়েক বাদে উদ্ভাসিত হয় সংসদ বাংলা অভিধানের একটি লিংক যেখানে আমার জানামতে ভুল শব্দটি (স্তুপ) একাধিক অর্থসহ সদাপটে বিরাজমান। আমি আশাহত চিত্তে আমার জানা এবং কিছুদিন আগে অভিধানে-দেখা শুদ্ধ শব্দটি (স্তূপ) লিখে তাদের মতামত জানতে চাই। অভিধান দেখায় এশব্দটিও (স্তূপ)।

এবার রেগেমেগে অভিধান খুলি। বাসায় আছে বাংলা একাডেমীর বাংলা বানান অভিধান, ডিসেম্বর, ২০০০; সংসদ অভিধান, মার্চ, ১৯৮২ এবং চলন্তিকা।

কিমাশ্চর্যমতঃপরম্।

কোথাও, আবারো বলছি, কোথাও স্ত-এর সাথে হ্রস্ব উ-কারযুক্ত শব্দ নেই। একটিতেও না। অর্থাৎ, 'স্তুপ' বানানের কোন শব্দ বাংলা ভাষায় নেই।

যাক, আমি নিষ্কলঙ্ক।

কিন্তু, যাঁরা এ-বানানটি লিখলেন শুদ্ধ ভেবে, বা ব্যবহার করছেন, বা অনলাইন অভিধান দেখছেন, তাঁদের কী হবে!

ধুসর গোধূলি ওয়াইল্ড-স্কোপের বানান নিয়ে তপ্ত পোস্টটিতে একজায়গায় বলেছেন, সন্দেহ হলে তিনি অনলাইনেই বানান দেখেন। কিন্তু, ওতে যে-হাজারো ভুল!! খোদ উইকিতেই প্রচুর বানানবিভ্রাট। রাগিব নিজেই খুঁজছেন বানাননিরীক্ষক।

ধুসর গোধূলির মন্তব্যটা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বিধায় তুলে দিচ্ছি:

ইউনিকোডে বাংলা চর্চা শুরু করার পর যে কর্মটা হয়েছে তা হলো গুগলে খোঁজা শুরু করলেই সাঁই করে একেকটা লিংক চলে আসে। এখন চিন্তা করে দেখেন, আমি আপনি নাহয় কোনোমতে ঠিকবেঠিক ভাবে ভ্রান্ত ধারণা নিয়েই ব্লগে উল্টা পালটা বানানে লিখে চলে যাবো। কিন্তু পরবর্তী প্রজন্ম, যারা হয়তো বইয়ের চেয়ে নেটের উৎসকেই বেশি প্রাধান্য দিবে, তাদের কী হবে! তারা যখন একটা শব্দের উৎস খোঁজার চেষ্টা করবে গুগলে বা বিং বা হোয়াটএভার নামক সার্চ ইঞ্জিনে, কী পাবে তারা? তাদের চোখের সামনে হাজির হবে আমাদের রেখে যাওয়া কতোগুলো জঞ্জাল! ঠিক হবে কাজটা?
স্পেল চেকারের কথা বলবেন বোধ'য়। মানি ততোদিনে হয়তো খুব ভালো আর নির্ভরযোগ্য একাধিক স্পেলচেকার চলে আসবে নেটের বাজারে। কিন্তু সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ বোধ করবেন কোনটায় আপনি নিজে? একটা স্পেলচেকারে বানান চেক করা নাকি সিম্পলি গুগলে সার্চ মারা? আমারটা বলি, আমি গুগলেই স্বচ্ছন্দ বোধ করবো।

আমি নেহাৎ পুরনো মানুষ। বানান শিখেছি বই পড়ে পড়ে। অভিধান ওল্টাই কালেভদ্রে। তবে, সেখানেও ভুল চোখে পড়েছে, এমনকি আমি যেটা সবচাইতে বেশি ব্যবহার করি, সেই বাংলা একাডেমী অভিধানেও। অনলাইনে বেশি থাকি না। বানান দেখার তো প্রশ্নই নেই। কিন্তু, আশঙ্কার কথা, আজকালের টেকি-প্রজন্ম প্রচুর ভুল বানান দেখছে অনলাইনের নানা লেখায়। ব্লগে লিখছেন বা পড়ছেন অনেকেই। ওখানেও সহস্র ভ্রান্তি। আর অনলাইন অভিধানে ভুল থাকলে তো পোয়াবারো (এই বাগধারাটির উৎপত্তির উৎস জানেন?)।

অভ্র এখন শব্দশুদ্ধি সফটওয়্যার তৈরি করছে। কিন্তু, দেখলাম ওখানেও গণ্ডগোল আছে। কিছু সমস্যার কথা গৌতম উল্লেখ করেছেন সন্দেশ-এর পোস্টটিতে। কাজ করতে গিয়ে আরো কিছু সমস্যা অনুধাবন করেছি।

দু'একটা উদাহরণ দেই। একটা এরকম। হুমায়ুন আজাদের ভাষায় বলি।
" 'যাব' আমার কাছে ত্রিমুখি দ্ব্যর্থতার নিদর্শন। এটাকে পড়তে পারি ব্যঞ্জনান্ত্য শব্দরূপে, পড়তে পারি বাঙলাদেশের অ-অন্ত্য শব্দরূপে এবং ও-অন্ত্য শব্দরূপে। ত্রিমুখি দ্ব্যর্থতা থেকে রেহাই দেয়ার জন্যে ব্যবহার করি <ও>।" মানে, তিনি 'যাব' না লিখে লেখেন 'যাবো'। ('বাঙলাদেশ' এবং 'দেয়া' বানান লক্ষণীয়)।

প্রথম আলোর ভাষারীতির বইটি, যেটি তাদের ব্যবহৃত স্টাইলশিটের প্রকাশিত রূপ, জানাচ্ছে যে, কোথাও ক্রিয়ার ক্ষেত্রে যেন শেষে 'ও' ব্যবহার করা না হয়।

ব্যক্তিগতভাবে আমি ভুল বোঝা দূর করতে এবং দৃষ্টিসৌকর্যের জন্যে এই ক্রিয়া পদান্তের 'ও' ব্যবহারের পক্ষপাতী। যেমন: 'ধরল'। এটি দেখতে ভালো লাগে না এবং উচ্চারণ বিভ্রান্ত করতে পারে ভিনদেশি যাঁরা বাংলা শিখছেন বা শিশুদের।

বাংলা একাডেমীর প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, ২০০০-এ (২.০৯) বলা হচ্ছে,

বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া অনুরূপ ো-কার ব্যবহার করা হবে না। বিশেষ ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে এমন অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়াপদ এবং বিশেষণ ও অব্যয় পদ বা অন্য শব্দ যার শেষে ো-কার যুক্ত না করলে অর্থ অনুধাবনে ভ্রান্তি বা বিলম্ব ঘটতে পারে।

অর্থাৎ, নিজের মতো করে ভাবার বিপজ্জনক সুযোগটা দিয়েই রাখা হল।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৩৫-৩৬ সালের বানান সংস্কারের এই ফাঁক দিয়েই কিন্তু বেনোজল ঢুকেছিল প্রচুর পরিমাণে।

সমাসবদ্ধ পদ নিয়ে আরেক বিপদ। কেউ লিখবেন একসাথে, কেউ মাঝে হাইফেন দিয়ে। তবে, বিশেষণ পদ পরবর্তী পদের সাথে যুক্ত হবে না।

কিন্তু যদি সমাসবদ্ধ পদ অন্য বিশেষ্য বা ক্রিয়াপদের গুণ বর্ণনা করে তাহলে স্বভাবতই সেই যুক্তপদ একসঙ্গে লিখতে হবে। যেমন-কতদূর যাবে। একজন অতিথি, তিনহাজার টাকা, বেশির-ভাগ ছেলে, শ্যামলা-বরণ মেয়ে। তবে কোথাও কোথাও সংখ্যাবাচক শব্দ একসঙ্গে লেখা যাবে। যেমন-দুজনা।

এই মত বাংলা একাডেমীর (৩.০৩)। এবং, এই মত স্পষ্ট নয়।

ধরা যাক, 'নীলকমল' শব্দটি। এটি সমাসসাধিত পদ, তাই শব্দ দুটো একত্রে-রাখা। কিন্তু, 'নীল ফুল'? এটাও সমাসসিদ্ধ পদ হতে পারে, কিন্তু এক্ষেত্রে 'নীল' শব্দটি তো বিশেষণও বটে এবং একারণে আলাদাই রাখা যায়।

বিভ্রান্তি! বিভ্রান্তি!!

এছাড়া আরো কিছু চোরাকাদা আছে।

তাই, সামগ্রিকভাবে বাংলা বানানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আশাবাদী হতে ভয় পাচ্ছি। এছাড়া, ইচ্ছেমত আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা তো আছেই। এতে করে ভুল শুদ্ধ শনাক্তিও অসম্ভব হয়ে পড়ে।

যেমন: অভ্র শব্দশুদ্ধিতে কাজ করতে গিয়ে একটা বানান পেলাম: 'ঘিরস'। এটা আঞ্চলিক বানান, এবং সে-কারণে প্রমিত রীতিতে ব্যবহৃত হয় না। কিন্তু, এটা সাহিত্যে চলতেই পারে। আবার, কেউ যখন ভুলভাবে এটা লিখবেন প্রমিত রীতিতে, তখন কিন্তু শব্দশুদ্ধি এটা ঠিক দেখাবে।

হুমমম.....

যাক, সামগ্রিকভাবে এখানে বানান নিয়ে দু'চারকথা।

প্রথমত, তিথীডোরের ক্ষেত্রে বলতে হয় (আমার শহরনিবাসী হলেও), তাঁর নামের বানানটি ভুল। আমি তা চিহ্নিত করার পরও তিনি বলেছেন, ভুল হোক বা শুদ্ধ, এ-বানান তিনি ছোটবেলা থেকেই লিখে আসছেন এবং আমৃত্যু লিখবেন। এছাড়া, তিনি এ-ও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, তিথি এবং তিথী-দু'টো বানানই শুদ্ধ। এরপর আর কিছু বোধহয় বলার থাকে না। তবে, 'তিথী' বানান এখনো কোন বাংলা অভিধানে খুঁজে পাই নি। যাহোক, তাঁর নাম, যেভাবে খুশি লিখবেন, এই স্বাধীনতা তাঁর আশা করি আছে।

প্রসঙ্গ যখন এসেই গেলো, ধুসর গোধূলিও তাঁর নামের বানান ভুল লেখেন। তিনি ব্লগজন্মের পর থেকেই এই ভুল বানানে নিজস্ব নিক লিখে আসছেন। সামহোয়্যার-ইনে গেলে এখনো দেখা যাবে তাঁর পূর্বজন্মের লেখায় ভুল বানানের নিক, যা এজন্মেও তিনি বহন করে চলেছেন। মজার ব্যাপার হলো, কেউ কেউ ভুল করে তাঁর নামের বানান ঠিক করে লেখেন ('ধুগো', না লিখে 'ধূগো'), যেমন: মূলত পাঠক, হিমু, তাসনীম প্রমুখ। আশা করি, তিনিও আমৃত্যু ভুল বানানে নিজের নিক/নাম লিখে যাবেন।

দ্বিতীয়ত, ধুসর গোধূলি উক্ত পোস্টে কথাপ্রসঙ্গে বলেন যে,

গুগলে বা হোয়াটএভারে সার্চ মারার পর বানান বিষয়ে যদি সচলায়তনের লিংক আসে, তাহলে যে কেউ যেনো সেই বানান চোখ বন্ধ করে ব্যবহার করতে পারে কোনো স্পেলচেকারে ক্রসচেক না করেই, সর্ব সচল এবং সচলায়তনের কাছে আমার এটাই সুদূরপ্রসারী চাওয়া।

কিন্তু, আবারো বলছি, সচলের মুখপাত্র সন্দেশ-এর পোস্টেও কিন্তু বানান ভুল থাকেই। সর্বশেষ পোলপোস্টটিতেও জ্বলজ্বল করছে এমনি বানান ভুল। 'উচিত' বানানটি সেখানে লেখা হয়েছে 'উচিৎ', যা কোন বাংলা অভিধানে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এছাড়া, পোস্টটির ওপরে 'পূর্ববর্তী নৈর্ব্যক্তিক পোস্ট'-এই বাক্যাংশেও বানান ভুল ছিলো। 'নৈর্ব্যক্তিক' শব্দটি লেখা হয়েছে 'নৈর্বক্তিক'।

তাই, চাওয়াটি একটু সুদূরপ্রসারী বটেই। অন্তত, এখন পর্যন্ত।

তা, কথা হচ্ছে, বানান ভুল আমরা চাই না। কিন্তু, বোধহয় আরো চাই না এ-নিয়ে কোন মনোমালিন্য বা বন্ধুবিচ্ছেদ। প্রায়ই শোনা যায়, সচল পরিবার-এই মধুর শব্দযমল। লুৎফর রহমান রিটনের জন্মদিনে যে-অনুষ্ঠানের সচিত্র প্রতিবেদন দেখা গেলো, তা সত্যিই অনবদ্য। কিন্তু, এজাতীয় ঘটনাগুলো বোধহয় পরিবারের আসল অর্থের প্রতি পরিহাসসূচক হয়ে পড়ে। ওয়াইল্ড-স্কোপের মোলায়েমভাবে বানান ভুল ধরার আবেদনটি বোধহয় পরিবারের অন্য সদস্যদের আরো একটু মোলায়েমভাবেই বিবেচনা করার কথা ছিলো। এ-প্রসঙ্গে আবারো মুহম্মদ জুবায়েরকে মনে পড়ে যায়, যিনি বানান ভুল দেখিয়ে দিতেন ই-মেল করে।

এখানে বুনোহাঁসকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করছি। এখন যেভাবে তিনি বানানশুদ্ধি প্রয়োগ করছেন, এর পেছনের শ্রম ও রুচি সত্যিই অনবদ্য। আফসোস, এই বুদ্ধিটি এলো বেশ পরে!

যাই হোক, শুদ্ধ বানানের বিকল্প নেই, সত্যিই। কিন্তু, কতটুকু তা পালিত হতে পারে এবং সমস্যা ও সমাধান ইত্যাদি নিয়ে বোধহয় আরো আলোচনা ও সচেতনতা জরুরি।

---মহাস্থবির জাতক---


মন্তব্য

সাইফ তাহসিন এর ছবি

অনেক শ্রম দিয়ে সুন্দর করে একটি পোস্ট লিখলেন, খুবই দরকারি পোস্ট, বানানের রেফারেন্সে গণ্ডগোল আছে, এইবার আসলেই ডরাইছি, তাহলে কোনটাকে স্ট্যান্ডার্ড ধরব জানালে ভালো হয়। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার নামে বাবা-মা একখানা হসন্ত (্) আর ঈ ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন, মাধ্যমিক পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপের সময় সেগুলা কোথায় যে হারিয়ে গেল ইয়ে, মানে...
================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

অতিথি লেখক এর ছবি

হুম, বানানের ব্যাপারে আসলেই গোলমাল আছে।

সম্ভবত, লওহে মাহফুজে সংরক্ষিত আছে।

---মহাস্থবির---

হাসিব এর ছবি

পোস্ট ভালো লাগলো । তবে ওয়াইল্ড স্কোপের পোস্টে "মোলায়েমভাবে বানান ভুল ধরার অনুরোধ"-এর কোমলতা নিয়ে আমার দ্বিমত জানিয়ে রাখলাম ।

স্পর্শ এর ছবি

গোছানো সুন্দর পোস্ট। পঞ্চতারকা খচিত হইলো। চলুক


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

রণদীপম বসু এর ছবি

হুমম, বানান নিয়ে আসলেই ভাবতে হবে আমাদের।
ব্যক্তিগতভাবে আমি যদিও বানানের ব্যাপারে একটু খুঁতখুঁতে, তবু ভুল থেকে রেহাই পাই না আসলে। যেখানেই অভিধান দেখতে আলসেমি করি, ঘটনা সেখানেই ঘটে যায়। এই যেমন মেহদীর ভাষা উন্মুক্ত হবেই পোস্টটাতে লোলুপতা লিখতে গিয়ে লিখলাম লুলোপতা। সচলে হয়তো এডিট করা যায়। কিন্তু ফেসবুকেও যে ভুলটা করে ফেলেছি ! সেখানে কি এডিট করার সুযোগ আছে ? দু'দিন ধরে মনের মধ্যে খুটখুট করছে বিষয়টা। জানিনা অজান্তে আরো কতো যে ভুল করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত !
যাক্, কী আর করা ! এ থেকেও যদি আলসেমি ঝেড়ে ফেলার শিক্ষাটা হয় !

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

এই যেমন মেহদীর ভাষা উন্মুক্ত হবেই পোস্টটাতে লোলুপতা লিখতে গিয়ে লিখলাম লুলোপতা।

বুঝছি। অচেতনে বা চেতনে কুথাও লিশ্চয় লুল ফালানোর পর আইসা টাইপাইছেন। ফ্রয়েডিয়ান স্লিপদেঁতো হাসি

-------------------------------------------------------------------------------------
অভ্র আমার ওংকার

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

লেখাটি খুবই ভালো লাগলো।

পল্লব এর ছবি

হুমমম, অনলাইন সংসদের সাথে এখন ব্যবহৃত বাংলা একাডেমীর প্রমিত নিয়মের অমিল পেয়েছি আমিও। কয়েকদিন আগেই ব্যবসা/ব্যাবসা বানান নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়েছিলাম অনলাইন সংসদ অভিধান দেখতে গিয়ে।

একটা পূর্ণাঙ্গ একক রেফারেন্স দরকার আসলেই।

==========================
আবার তোরা মানুষ হ!

==========================
আবার তোরা মানুষ হ!

স্বাধীন এর ছবি

লেখাটি বেশ গোছানো । ভালো লাগাটি জানিয়ে গেলাম।

নৈষাদ এর ছবি

অনেক শ্রম দিয়ে ভাল একটা ব্লগ লিখলেন। ভাল লাগল।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আমার নিকের ব্যাপারে বলি, যখন এই নিকের জন্ম হয়েছিলো, তখন বানানটা দেখে নেয়ার সুযোগ ছিলো না। ভুল বানানটাই প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলো। আমার হয়তো উপায় ছিলো বানানটা ঠিক করে নেয়ার, করি নি, এটা আমার সীমাবদ্ধতা বলতে পারেন।

একটা কুযুক্তি দেই এই প্রসঙ্গে, "নামের কোনো ভুল নাই বস!" চোখ টিপি

সচলায়তনের অনেকেরই লেখা শতভাগ শুদ্ধ বানানে লিখা না। সন্দেশও এই অনেকের মধ্যেই পড়েন। সবাই একদিনে মূলা'দার মতো করে শুদ্ধ বানানে লিখতে সক্ষম হয়ে যাবো, এই আশাটা আমি করছি না। আমি এই জন্য সময় ও সুযোগ, দুই-ই দেয়ার পক্ষে। অনলাইন অভিধানে যদি ত্রুটি থাকে তাহলে আমাদের অবশ্যই বিকল্প ত্রুটিমুক্ত উপায়ের খোঁজে নামতে হবে। কিন্তু আলটিমেট যে গন্তব্য, সেটা অবশ্যই পরিপূর্ণ হতে হবে, এটাই আমার উল্লিখিত মন্তব্যের মূল বক্তব্যে বলতে চেয়েছি।

ওয়াইল্ড স্কোপের পোস্টে, যতোদূর মনে পড়ে, এমন কোনো অ-মোলায়েম পরিস্থিতির সূচনা হয় নি, যে উনি সব পোস্ট মুছে দিয়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেন। ব্যাপারটা আমার কাছে অন্তত স্বাভাবিক মনে হয় নি।

উনি ব্লগ যেহেতু, তাই এখানে বানানের ব্যাপারে উদাসীন থাকলেও চলবে— অবস্থান থেকে মোটামুটি একটা স্বাস্থ্যকর আলোচনাই চালিয়ে আসছিলেন। তাঁর যুক্তিকে যুক্তি দিয়েই অন্যরা প্রশমন করছিলেন, এবং সেটা যথেষ্ট মোলায়েম ভাবেই।

অবশ্যই আমরা চাই না কেবল বানান কেনো, যেকোনো কারণেই বন্ধুহারা হই! কিন্তু আমাদের নিজেরও এটা বুঝতে হবে। আমরা যারা কিছু হলেই, "থাকুম না, যামুগা" বলে চলে যেতে উদ্যত হই, এই মানসিকতা থেকেও তাদের বের হয়ে আসতে হবে। এই প্রসঙ্গে সেই পোস্টেই একটা মন্তব্য করেছিলাম বোধ'য়। এই পোস্টের সাথে অপ্রাসঙ্গিক বলে সেটা আর টানলাম না এখানে।

পরিশেষে বলি, আপনার আলোচনাটা ভালো লেগেছে। চলুক
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ।

দেখুন কোন সুযোগ আছে কি-না আপনার নামের বানানটা ঠিক করার। এতো কিছু পারেন আর এই ছোট্ট জিনিসটা পারবেন না?

আর, ওয়াইল্ড-স্কোপ যে-ব্যাপারটা নিয়ে লিখেছিলেন, তাতে আমার বিন্দুমাত্র সম্মতি নেই। বানানশুদ্ধি কেবলার দিকে সিজদা করেই লেখালেখি শুরু করা উচিত বলে আমার ধারণা। লেখকেরাই যদি ভুল বানানে লেখেন, তবে পাঠকেরা তো সেটাই শিখবে, তাই না?
কিন্তু, এটা যেহেতু ব্লগ, তাই তিনিও একটু খেয়ালখুশিতে চলতে চাইলেন, সবার সেটা ভালো লাগলো না...এই আর কি...

আপনার সিলটা সেরকম, আমায় একটা বানিয়ে দিন না??? (ডয়েচ বাড়ির আব্দার)

মুস্তাফিজ এর ছবি

ধন্যবাদ ভাল একটা লেখার জন্য

...........................
Every Picture Tells a Story

তিথীডোর এর ছবি

পোস্টে চলুক

"আমার শহরনিবাসী হলেও" বাক্যটি অপ্রয়োজনীয়!

আমার ডাক নাম 'তিথী',
অভিধানে অনুপস্থিত এ বানানটি ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করি এবং করব!

ধন্যবাদ জানবেন..

--------------------------------------------------
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

অতিথি লেখক এর ছবি

নাশতারান এর ছবি


বোধোদয় হতে দেরি হলো বলে আফসোস করবেন না। আমরা প্রতিনিয়ত বিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাই। তাছাড়া আমার বিশ্বাস, শুরু থেকেই বানানশুদ্ধিতে যাঁরা অকুণ্ঠ প্রেরণা ও প্রশ্রয় দিয়ে এসেছেন, আজও পোস্টে মন্তব্য আকারে বানান বিষয়ক আলাপচারিতাকে তাঁরা সাদরে গ্রহণ করবেন।


ভাষা বহতা নদী। এর ক্রমাগত পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হবে নিশ্চিত।
কোন ভাষার বানানরীতি বহুলাংশে সে ভাষার সাহিত্যিকদের উপরও নির্ভরশীল। তাই অভিধানই শেষ কথা নয়। বাংলা একাডেমীর রীতিও কোন ধ্রুবসত্য নয়। তবুও বানানশুদ্ধির ক্ষেত্রে আমি আপাতত বাংলা একাডেমীর বানানরীতি অনুসরণের পক্ষপাতী।
বাংলা বানানকে সরলীকরণের জন্য বিকল্প বানান পরিহারের যে প্রয়াস বাংলা একাডেমীর, সেটা স্বস্তিদায়ক।

দেয়া, দেওয়া দুইই প্রদান করা অর্থে প্রয়োগ করা হতো আগে। বাংলা একাডেমী এখন বলছে "দেয়া" মানে মেঘ। "দেওয়া" মানে প্রদান করা। অর্থাৎ তারা যথাসম্ভব বিকল্প বানান এড়াতে চাচ্ছেন। এটা আমি সমর্থন করি।

আবার “বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া অনুরূপ ো-কার ব্যবহার করা হবে না” রীতিটি অপছন্দ আমার। আমি সব ক্রিয়াপদে ও-কার দেওয়ার পক্ষপাতী।

যেসব তৎসম শব্দে ই-কার, ঈ-কার দুইই প্রযোজ্য সেক্ষেত্রে বাংলা একাডেমী ঈ-কার পরিহারের পক্ষে। যেমনঃ চিৎকার/ চীৎকার দুইই সংস্কৃত ব্যাকরণমতে ঠিক। বাংলা একাডেমী শুধুমাত্র “চিৎকার” বানানটি রেখেছে।

একই ভাবে উ-কার, ঊ-কার দুইই হয় এমন তৎসম শব্দে শুধুমাত্র উ-কার রাখার কথা বলা হয়েছে। অথচ বানান-অভিধানে দেখলাম দূতের স্ত্রীলিঙ্গ “দূতী” লেখা। হিসেবমতো এটা হওয়ার কথা “দূতি”। কারণ সংস্কৃত ব্যাকরণমতে দুটো বানানই ঠিক।

এমন কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি এখনো আছে। তবুও বিভিন্ন বানানরীতি দেখে বিভ্রান্ত হওয়ার চেয়ে বিবর্তনের একটি ধারা অনুসরণ করা আমার মতে ভালো। তৎসম, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি শব্দগুলোর উৎসভেদে বানানের ভিন্নতা নিয়ে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়। আশা করি ক্রমাগত সংশোধনীর মধ্য দিয়ে এগুলোও দূর হবে। এবং বাংলা বানান সংস্কৃত ব্যাকরণের ঘেরাটোপ থেকে বের হয়ে নিজস্ব একটি সার্বজনীন রূপ পাবে।

আপাতত যেখানে রীতিতে সংশয়ের অবকাশ থাকে, সেখানে সহজবোধ্যতার দিকে নজর রাখা দরকার। “নীলকমল” যদি ফুলের নাম হয়, তাহলে একত্রে, যদি নীল রঙের যে কোন কমল বোঝাতে হয়, তাহলে “নীল কমল”।


বাংলা একাডেমী বিদেশি বানানে ঈ-কার উঠিয়ে দিচ্ছে। অথচ তার নিজের নামের ইংরেজি শব্দটিতে ঈ-কার।
“বাংলা একাডেমী” বানানটি যে কারণে ঠিক, সেই একই কারণে ধুসর গোধূলি আর তিথীডোরের বানানও ঠিক। অর্থাৎ দস্তাবেজ বিষয়ক জটিলতা।


এমন একটা পোস্ট লেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আপনাকে ধন্যবাদ আমার শ্রম বাঁচিয়ে দেওয়ার জন্য। (আমি নিশ্চিত আমাকে অনেক বেশি মাথা চুলকাতে হতো। তারপরেও সেটা কতখানি ভালো হতো সে বিষয়ে নিশ্চিত নই।)

অফটপিকঃ আপনার "কতিপয় বাংলা বাগধারার উৎসে ভ্রমণগমন"এর বাকি কিস্তিগুলো কই? ওই ধারাবাহিকটা বেশ পছন্দের ছিলো আমার। হাসি

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ।


দেয়া, দেওয়া দুইই প্রদান করা অর্থে প্রয়োগ করা হতো আগে। বাংলা একাডেমী এখন বলছে "দেয়া" মানে মেঘ। "দেওয়া" মানে প্রদান করা। অর্থাৎ তারা যথাসম্ভব বিকল্প বানান এড়াতে চাচ্ছেন। এটা আমি সমর্থন করি।

এটা বাংলা একাডেমীর কোন দলিলে পেলেন একটু জানাবেন, সম্ভব হলে রেফারেন্সসহ। কারণ, আমি এই ব্যাপারগুলো সংগ্রহ করতে পছন্দ করি এবং সম্ভব হলে করেও থাকি। তাদের অভিধানেই কিন্তু ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অর্থে 'দেওয়া' ও 'দেয়া' একই ভুক্তির অন্তর্গত।

একই ভাবে উ-কার, ঊ-কার দুইই হয় এমন তৎসম শব্দে শুধুমাত্র উ-কার রাখার কথা বলা হয়েছে। অথচ বানান-অভিধানে দেখলাম দূতের স্ত্রীলিঙ্গ “দূতী” লেখা। হিসেবমতো এটা হওয়ার কথা “দূতি”। কারণ সংস্কৃত ব্যাকরণমতে দুটো বানানই ঠিক।

আপনি লিখছেন 'বানান-অভিধান', কিন্তু বাংলা একাডেমীর বইটায় প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে সর্বত্রই 'বানান অভিধান'। আর ওখানে শুধু 'দূতী' আছে এমন তো নয়, বরং দেখলাম 'দূতি, দূতী, দূতিকা, দোতি' চারটে শব্দ একইসাথে রাখা আছে। Btw, আপনি বাংলা একাডেমীর বানান অভিধানের কথাই বলছেন তো, নাকি আমিই ভুল করছি???

আপাতত যেখানে রীতিতে সংশয়ের অবকাশ থাকে, সেখানে সহজবোধ্যতার দিকে নজর রাখা দরকার। “নীলকমল” যদি ফুলের নাম হয়, তাহলে একত্রে, যদি নীল রঙের যে কোন কমল বোঝাতে হয়, তাহলে “নীল কমল”।

বিনীতভাবে দ্বিমত পোষণ করি।

সমাসবদ্ধ পদ কি-না, সেটাই মূলত বিবেচ্য। এখানে 'নীলকমল' সমাসবদ্ধ পদ। এটা কর্মধারয় সমাস (ব্যাসবাক্য: নীল যে কমল ), তাই এটা আলাদা করার সুযোগ নেই। কিন্তু, 'নীল ফুল'-এটা সমাসবদ্ধ পদও হতে পারে, আবার বিশেষণ হিসেবেও 'নীল' শব্দটা আসতে পারে। তাই বিভ্রান্তি। আপনার 'বানান-অভিধান' শব্দটিই এমন একটি উদাহরণ। আপনি ওটা সমাসবদ্ধ পদ হিসেবে ভেবেছেন, তাই শব্দ দুটো একত্রে (হাইফেনযুক্ত করে লিখেছেন)। কিন্তু, বাংলা একাডেমী ওটা বিশেষণ হিসেবে ব্যবহার করেছে, তাই আলাদা করেছে, যদিচ শব্দটি বিশেষ্য।

“বাংলা একাডেমী” বানানটি যে কারণে ঠিক, সেই একই কারণে ধুসর গোধূলি আর তিথীডোরের বানানও ঠিক। অর্থাৎ দস্তাবেজ বিষয়ক জটিলতা।

আবারও দ্বিমত, সবিনয়ে।

বাংলা একাডেমী তৎকালীন প্রচলিত বানান রীতিতে লেখা। সেটা এখন পাল্টেছে। কিন্তু, 'ধূসর' বা 'তিথি' ঠিক বানান, সবসময়েই তাই ছিলো, তাই এটা অন্য কোনভাবে লেখাটাই ভুল। আর, নিচে অনার্য-এর মন্তব্যটা দেখুন। নিজের ভুল নামের বানানটা তিনি কিন্তু ঠিকই পাল্টিয়েছেন।

এই ব্যাপারে আমি আর মন্তব্য করতে চাই না। শুভেচ্ছা জানবেন।

---মহাস্থবির---

নাশতারান এর ছবি

সমাসবদ্ধ পদ ভেবে হাইফেন দিয়ে "বানান-অভিধান" লিখি নি। দেখে দেখে লিখেছি।

banan-avidhan

এই অভিধান থেকেই নিচের রেফারেন্সগুলো দিচ্ছি।

deya

dewa

duti

এ অভিধানে "দূতি" নেই।

"নীলকমল" আর "নীল কমল" সম্পর্কে আপনার আর আমার ভাবনা একই। আমি এলেবেলে ভাষায় লিখেছি। আপনি লিখেছেন ব্যাকরণের ভাষায়।

নামকরণের ব্যাপারে আমার যুক্তি হয়তো ঠিকভাবে বুঝাতে পারিনি। কিন্তু আপনি যেহেতু এ ব্যাপারে আলাপ করতে অনিচ্ছুক, সেহেতু আর কিছু বলছি না।

বানান বিষয়ে আপনার সচেতনতার জন্য ধন্যবাদ।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

লীন এর ছবি

হুম আমার কাছে বাংলা একাডেমীর ব্যবহারিক বাংলা অভিধানের সর্বশেষ সংস্করণ আছে, তাতে যাচাই করে দেখেছি বানান 'স্তূপ'
ইন্টারনেটে বাংলা বানান লেখায় আমাদের সতর্ক হওয়া আবশ্যক

______________________________________
লিনলিপি

স্নিগ্ধা এর ছবি

পোস্টটা ভালো লাগলো শুধু লেখার গুণেই নয়, লেখকের পরিমিতি বোধের পরিচয় পেয়েও আমি মুগ্ধ! হাসি

না, জানি না - 'পোয়াবারো' বাগধারাটির উৎস-কাহিনী (নাকি 'কাহিনি'?!) কী?

অতিথি লেখক এর ছবি

একই মন্তব্য দু'বার এসে গেল দেখছি।

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনাকে মুগ্ধ করতে পেরে আমিও হাঁপ ছাড়লাম একটু। কারণ, কারা যেন বলছিলো, আপনি নিতান্তুই মোলায়েম স্বভাবের আর প্রেমময়, ঠিক আপনার নামের মতোই...

'কাহিনি' শব্দটা হিন্দি 'কহানি' থেকে এসেছে বলে সংসদ এবং চলন্তিকা জানাচ্ছে। তাই, হ্রস্ব ই-কার হওয়া বাঞ্ছনীয়। বাংলা একাডেমীর বানান অভিধান বলছে এটা সংস্কৃত 'কথনিকা' থেকে আগত, এবং 'কাহিনি' ও 'কাহিনী' দুটো বানানই রেখেছে। কিন্তু, সংস্কৃত শব্দে হ্রস্ব ই-কার থাকলে, এর অর্ধ-তৎসম রূপে দীর্ঘ ঈ-কার আসার প্রশ্নই ওঠে না। তাই, 'কাহিনি'-ই ঠিক।

আর, বাগধারাটির মূল নিয়ে হয় তো আবারো একদিন লিখবো।

আচ্ছা, আপনিই কি মুক্তমনার স্নিগ্ধা আলী?

ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

---মহাস্থবির---

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

ভালো লেগেছে।

একটা বিষয়ে একমত। কারো কারো পরামর্শ (বানান/ব্যাকরণ ইত্যাদি বিষয়ে) কখনো কখনো ভাল লাগেনা আমার কাছে। কারো কারো পরামর্শের ধরণে আবার ধন্য এবং কৃতজ্ঞ হই।

[আমি কিন্তু নিজের অর্ধযুগ পুরোনো নাম "অনার্য্য" বদলাবোনা বদলাবোনা করতে করতে শেষ পর্যন্ত এই সেদিন বদলে ফেলেছি।]
____________________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ !

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

পলাশ রঞ্জন সান্যাল [অতিথি] এর ছবি

লেখাটি সময়োপযোগী এবং যথার্থ। আসলে বিষয়টি আগে এভাবে মাথায় আসেনি। বানান ভুল গর্হিত অপরাধ (যা প্রতি নিয়ত করে যাচ্ছি)। ছোটবেলায় দেখতাম শিক্ষকরা পর্যন্ত দ্বিধায় বানান নিয়ে, তার উপর ই-কার,ঈ-কার,উ-কার, ঊ-কার এর জ্বালায় অবস্থা খারাপ থাকতই।
তবু পরবর্তী প্রজন্মের কথা ভেবে হলেও আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত। আর ইদানীং কোনকিছু দেখেই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারি না, এক জায়গায় এক রকম তো অন্য জায়গায় আর এক।মাঝে মাঝে বেশি দ্বিধায় থাকলে শব্দটাই আর ব্যবহার করি না। ( বিপদ দেখে না মুখোমুখি হয়ে পাশ কাটিয়ে যাওয়া আর কি!)
পলাশ রঞ্জন সান্যাল

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনার লেখার হাত, পরিমিতিবোধ ও ভাষা প্রয়োগ অনুকরণীয়। বিষয়টাও আমার পছন্দের, বলাই বাহুল্য। যাঁরা বানান ভুল দেখিয়ে দেন, আমি সে দলে অনিয়মিত হলেও আছি বলে ঐ নিয়ে বিশেষ কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি না। তবে অভিমান করে চলে যাওয়া নেহাতই ছেলেমানুষী (মেয়েমানুষী আর বললাম না), তাতে কারোরই কোনো লাভ হয় না। সব মিলিয়ে, আমি স্টাটাস ক্যুয়ো নিয়ে সন্তুষ্ট।

আরো লিখুন, এমন লেখার হাতে মরচে ধরানো কোনো কাজের কথা নয়।

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার লেখার হাত, পরিমিতিবোধ ও ভাষা প্রয়োগ অনুকরণীয়।

ব্যাপক পেলুম দাদা, আমাকে বলছেন না-কি?

'ছেলেমানুষি' হলেই ভালো (ঠিক) নয়?

স্ট্যাটাস ক্যুয়োটা ঠিক কার? মাথার এট্টু ওপর দিয়ে গেলো।

আরো লিখুন, এমন লেখার হাতে মরচে ধরানো কোনো কাজের কথা নয়।

আবারো ভ্রেম হলো বোধহয় আপনার।

আশা করি, শিগগিরই 'এমন লেখার হাত' নিয়ে আপনার ভুল ভাঙবে, কারণ আমি আসলেই শূন্যকুম্ভ।

শুভেচ্ছা নিরন্তর।

---মহাস্থবির---

অবাঞ্ছিত এর ছবি

সাবাশ পোস্ট... আর বুনোহাঁসের কমেন্টে উত্তম জাঝা..

এইরকম একটা লেখা আসলেও দরকার ছিলো, আমি একবার লেখার কথা ভেবেছিলাম, কিন্তু বাংলায় সীমিত দখলের কারণে সাহস পাইনি।

আমি একটু ত্যাড়া ঘাড় নিয়েই বলতে চাই যে (আমার একান্তই ব্যক্তিগত অনুধাবন) বাংলা ব্যাকরণে অনেক কিছুই আছে যেগুলো সচরাসচর আমরা ব্যবহার করিনা... আমার কাছে অনেক নিয়মই রিডান্ডেন্ট (অপ্রয়জনীয় কি?) মনে হয় । যতদূর মনে আছে (ভুল হতে পারি) বাংলা ভাষায় শব্দ গঠনের প্রায় সাড়ে চার হাজার রীতি আছে। সবগুলো কেউই জানে না, জানার দরকার আছে বলেও আমার মনে হয় না। আমি জানি যে বাংলা ভাষার নিয়ম ঠিক করার দায়িত্ব আমাকে কেউ দেয়নাই, এবং আমি কি ভাবি না ভাবি তারও খুব একটা গুরুত্ব নাই। কিন্তু আমার মনে হয় ভাষা যেহেতু গতিশীল, একে আপন গতিতেই চলতে দেওয়া উচিত। আমি বলবো / করবো লিখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। "কী" এর ব্যবহার আমি জানলেও, আমি অনেকটা ঘাড় ত্যাড়ামি করেই ঠিক করেছি যে "কী" ব্যবহার করবো না. আমার কাছে "কি" দেখতেই ভালো লাগে, এবং আমার মনে হয় এতে মনের ভাব প্রকাশ এতটুকু ব্যাহত হয় না.. যেমন বাড়ী/পাখীর ক্ষেত্রে হয়েছে। যদি যথেষ্ট সংখ্যক মানুষ "কি" লিখে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাইলে তাই থাকুক না.. বই পত্রেও ইদানিং "কী" এর তেমন ব্যবহার আছে কি? অধিকাংশ মানুষ যদি "ভুল" বানানে লেখে, আমার মতে সেইটাই সঠিক বানান হওয়া উচিত।

বানান শুদ্ধি অবশ্যই দরকার আছে। যেমন কেউ "দর্শন"কে "ধর্ষণ" লিখলে অবশ্যই কেলেঙ্কারী হয়ে যাবে, কিন্তু সাধারণ বানানে, যেটার নতুন (নূতন..) প্রচলন হচ্ছে তাতে বোধহয় ছাড় একটু দেওয়াই যায়। হাজার হলেও মিল্টন-শেইক্সপিয়ার গেল তল, আর আমি বলি কত জল?

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

নাশতারান এর ছবি

এইমাত্র খোমাখাতায় কয়েকজনের সাথে ণ-ত্ব, ষ-ত্ব বিধানের হ্যাপা নিয়ে আলাপ হচ্ছিলো।
আমরা স্কুলে একটা ছড়া মুখস্থ করতাম। নিপাতনে সিদ্ধ ণ সমৃদ্ধ শব্দগুলো দিয়ে।
"বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা,
কল্যাণ শোণিত মণি ..."

যে রীতিতে নিপাতনে সিদ্ধ বলে কিছু আছে বুঝতে হবে সেই রীতিটি দুর্বল। যে শব্দের বানানের নিয়মের উৎস জানা নেই সেটা মুখস্থ করে কেন মনে রাখতে হবে? "বেনু বীনা কঙ্কন কনিকা, কল্যান শোনিত মনি" লিখলে সমস্যা কোথায়? ণ, ষ, ৎ, ঃ এগুলো সংস্কৃত ব্যাকরণের অজুহাতে বাংলা ভাষায় আসন গেড়ে ঝামেলা পাকাচ্ছে। আজ হোক, কাল হোক ব্যবহারিক সুবিধা মাথায় রেখে এগুলো কমিয়ে আনতে হবে। "কুৎসিত" কে "কুতসিত" লিখলে কি বুঝতে সমস্যা হয় কোন?

কি আর কী'র ব্যাপারে বলি। ভাষার মূল ধর্মই হলো প্রকাশ করা। শব্দের সহজবোধ্যতা এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় আমার কাছে। ভাষা যেন ভাবের অন্তরায় না হয়।

কি আর কী'র প্রয়োগ ভাবের ভিন্নতা প্রকাশে সহায়ক। যেমনঃ

কিঃ আপনি কি লিখছেন? (Are you writing?) (উত্তর হ্যাঁ অথবা না)
কীঃ আপনি কী লিখছে? (What are you writing?) (হ্যাঁ/না দিয়ে উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়)

একইভাবে কীসব, কীসের, কীভাবে-এগুলোতে ই-কারের পরিবর্তে ঈ-কারের প্রয়োগ আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়।

পুরোনো বানানে অভ্যস্তদের ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে আমিও সহমত। তবুও নতুনটা জানা ভালো। কারণ পুরোনোদের দেখেই নতুনেরা শেখে।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

অবাঞ্ছিত এর ছবি

কি আর কী এর ব্যাপারটা জানি হাসি তাই তো বললাম... ঘাড় ত্যাড়ামি করেই আমি "কি" লিখতে ভালোবাসি.... ভুল করে নয় .... কিন্তু "কিসব, কিভাবে, কিসের" লিখলে অন্য কি ভাব প্রকাশ পেতে পারে এব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারিনি। (এই দেখেন, আপনি কিন্তু বুঝে ফেলেছেন আমি "কি" দিয়েও হ্যাঁ না প্রশ্ন করিনি... এইটা মনে হয় বলার উপর নির্ভর করে... তবু স্বীকার করেই নিচ্ছি... এইটা আমার গোঁয়ার্তুমি হাসি ছোটোবেলা থেকেই এভাবে লিখে/পড়ে অভ্যস্ত .. সেকারণেই হয়তো।) যতদূর মনে হচ্ছে এগুলো দিয়ে হ্যাঁ না প্রশ্ন বোঝানো একটু কষ্টসাধ্যই হয়ে উঠবে। অনুগ্রহ করে উদাহরণ দেবেন ? এই ব্যক্তি বলছে দুটোই ঠিক কিসের ক্ষেত্রে ( বাকি দুটো কি আদৌ আভিধানিক ভাবে এক শব্দ? অনলাইন সংসদে পেলাম না... কিন্তু সত্যি বলতে খুব কিছু কি এসে যায়?)

ওহ মজার ব্যাপার... এই দেখুন... অভিধানে তৃতীয় ব্যক্তি বানান কেমনে লিখসে ..

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

নাশতারান এর ছবি

অন্য একটা উদাহরণ দেই। বাংলা একাডেমী বানান বিষয়ক জটিলতা কমাতে বিকল্প বানান ত্যাগ করছে। সেটা আগেই বলেছি।

তারা বলছে হওয়া অর্থে "হল" লেখা যাবে না। শুধুমাত্র "হলো" লিখতে হবে। হল অর্থ লাঙল। কিন্তু "ছিল (chhilo)" লেখা যাবে, ছিলো নয়। কারণ ছিল'র অন্য কোন অর্থ নেই। তাই অপেক্ষাকৃত সহজ বানানটি অগ্রাধিকার পাবে।

এতে কী হবে?
কোথায় ও-কার হবে আর কোথায় হবে না সেটা ঠিক করতে হয় মুখস্থের আশ্রয় নিতে হবে, তা না হলে বাংলা ভাষার সব শব্দ সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হবে যাতে বিকল্প সহজ বানান চিনে নেওয়া যায়।

এরচেয়ে একটা সার্বজনীন নিয়ম যদি থাকতো যে হলো, গেলো, ছিলো সবগুলোতেই ও-কার হবে সেটাই কি সুবিধাজনক হতো না?

কী লেখা হয় কোনটি (what, which) বোঝাতে। একই অর্থে কীভাবে (কোনভাবে), কীসব (কোনসব), কীসের (কোনটির) হয়। (উল্লেখ্য, বাংলা একাডেমী কীসব, কীসের, কীভাবে লিখছে। আপনার লিঙ্কগুলো সংসদ বাংলা অভিধানের। ওখানে বিকল্প বানান এখনো আছে। বাংলা একাডেমী একটি অর্থের জন্য একটি মাত্র শব্দ বেঁধে দিচ্ছে। তারপরেও বানানরীতিতে এখনো ফাঁকফোকর আছে যেগুলো রয়েসয়ে বন্ধ করতে হবে।)

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

অবাঞ্ছিত এর ছবি

ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। একটা অফটপিক প্রশ্ন করি , "সংসদ বাঙালা অভিধান" কি তবে নাম পাল্টে অবশেষে বাংলা অভিধান হলো? নাকি দুটো আলাদা?

auto

এই ছবি দেখে একটু বিভ্রান্ত বোধ করছি।

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

নাশতারান এর ছবি

আমিও বিভ্রান্ত হয়েছি। "সংসদ বাঙ্গালা অভিধান" শৈলেন্দ্র বিশ্বাস কর্তৃক সঙ্কলিত। উনার নাম "সংসদ বাংলা অভিধান" এও দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ভুক্তিগুলো মূল অভিধানের প্রকাশকের হাতের নিচ দিয়ে গেছে কি না নিশ্চিত নই। ভুক্তিগুলো প্রায় একই। "বাঙ্গালা" কে "বাংলা" লেখা এখানে আইনি কৌশল হতে পারে। (অনুমানে বলছি)

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

সহজীয়া এর ছবি

মানিক বন্দোপাধ্যায় কখনোই 'কী' ব্যবহার করতেন না। তার সমগ্র লেখাতেই এটি দেখেছি। আরো অনেকেই আছেন যারা কী ব্যবহার না করারই পক্ষে। আম্মো তাই দেঁতো হাসি
________________________________
বিধিবদ্ধ পঙ্কিলতা।
জীবন বাবু,তাঁর কবিতা।
তৃপ্তিদায়ী আত্মশ্লাঘা।
এবং এ রাতজাগা।
************************************

নাশতারান এর ছবি

বাংলা বর্ণমালা থেকে যখন ঈ উঠে যাবে ঈ-কারও উঠে যাবে আপনা আপনিই। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগের পরের অনেক সাহিত্যিকই অনেককিছু লিখতেন বা লিখতেন না। তার কোনোটিই ধ্রুবসত্য তো নয়।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

গৌতম এর ছবি

আমরা যদি জোর করে না উঠাই তাহলে ঈ-কার উঠবে না কোনোদিন; কারণ ঈ-কার ব্যবহারের একটা ভিত্তি আছে, নিয়মকানুন আছে।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

ফারুক হাসান এর ছবি

"কুৎসিত" কে "কুতসিত" লিখলে আমার কাছে কুৎসিত লাগছে যে! কারণটা হয়ত কুৎসিতে অভ্যস্ত চোখ।

নাশতারান এর ছবি

ঠিক বলেছেন। অভ্যাস। একসময় "শাদা" বানান দেখলে চোখ কটকট করতো। আমি "সাদা" দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু উচ্চারণ অনুযায়ী শাদা লেখাই কিন্তু বেশি যুক্তিসঙ্গত।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

অতিথি লেখক এর ছবি

ণ, ষ, ৎ, ঃ এগুলো সংস্কৃত ব্যাকরণের অজুহাতে বাংলা ভাষায় আসন গেড়ে ঝামেলা পাকাচ্ছে। আজ হোক, কাল হোক ব্যবহারিক সুবিধা মাথায় রেখে এগুলো কমিয়ে আনতে হবে।

বলাটা মুশকিল। ভবিষ্যৎ-ই নির্ধারণ করবে। তবে, বানান সংস্কারের ইতিহাস নিয়ে একটা সিরিজ শুরু করেছিলাম অন্যত্র। সেটা আর শেষ করা হয়ে ওঠে নি। তাতে হয় তো আপনার মতামতের পুরনো নজির দেখানো যেতো।

কি আর কী নিয়ে একটা পোস্ট দেওয়ার ইচ্ছে আছে। তবে, এখানে মৃদু গলায় জানিয়ে যাই, বাংলা একাডেমীর নিজের নিয়ম এ-ব্যাপারে স্পষ্ট না।

---মহাস্থবির---

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি

বানানের সমস্যা নিয়ে সুন্দর করে একটি পোস্ট লিখেছেন, পোস্টটা ভালো লাগলো। আজ কাল কিচ্ছু মনে থাকেনা। তাই বানান শেখার চেষ্টা করিনা। আমি যখন কিছু লিখি তখন মুলত পাঠকের লেখা থেকে বানান শুদ্ধ করে নেই। যে শব্দ গুলি খুঁজে পাইনা সে গুলি ভুলই রেখে দেই। আপনার পোস্টে দ্বিমত পষোণ করছি না। শুধু নিচের কিছু অংশের পরিপেক্ষিতে খুব সাদামাটা ভাবে দুটো কথা লিখতে চাই।

“বোধহয় আরো চাই না এ-নিয়ে কোন মনোমালিন্য বা বন্ধুবিচ্ছেদ। প্রায়ই শোনা যায়, সচল পরিবার-এই মধুর শব্দযমল। লুৎফর রহমান রিটনের জন্মদিনে যে-অনুষ্ঠানের সচিত্র প্রতিবেদন দেখা গেলো, তা সত্যিই অনবদ্য। কিন্তু, এজাতীয় ঘটনাগুলো বোধহয় পরিবারের আসল অর্থের প্রতি পরিহাসসূচক হয়ে পড়ে। ওয়াইল্ড-স্কোপের মোলায়েমভাবে বানান ভুল ধরার আবেদনটি বোধহয় পরিবারের অন্য সদস্যদের আরো একটু মোলায়েমভাবেই বিবেচনা করার কথা ছিলো।“

ধরা যাক, উদাহরণ স্বরূপ আপনার এই উপরের লেখা গুলি। আমি শতকরা একশত ভাগ সুনিশ্চিত যে, আপনি এটা লিখেছেন সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে, সচলায়তন ও এখানকার সবার প্রতি প্রচন্ড ভালোবাসা থেকে। সচল পরিবারের একজন হয়েই। কিন্তু সব জেনেও আমি এখানে দুটো কথা লিখবো। কেন? কারণ আপনার লেখার পাঠিকা হিসাবে আমি আপনার সাথে একমত নই। পাঠিকা হিসাবে সে অধিকার আমার শতকরা একশ ভাগই আছে। তাইনা? আমি শুধু আপানার লেখাটা নিয়েই আলোচনা করবো, আপনার মন নিয়ে নয়। এবং আপনি আমার বন্ধু কী বন্ধু নয় সেটা নিয়েও নয়। সুতরাং মনোমালিন্য বা বন্ধুবিচ্ছেদ নামের বিশেষণ গুলো এখানে কী সুসংগত ? আমার মনে হয় না!
আমি মনে করি সচলায়তন যারা পড়ে ও এখানে লেখালেখি করে, তাদের পরিচয় হওয়া উচিত লেখক/লেখিকা এবং পাঠক/পাঠিকা হিসাবে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের দায় দায়িত্ব্য আমরা সচলায়তনের কাঁধে কেন চাপাবো? সচলায়তনকে ভালোবেসে প্রায় তিন বছর এখানে একসাথে লিখতে লিখতে, পড়তে পড়তে আমাদের কারো কারো মাঝে একধরণের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সে সব সম্পর্ক সচলায়তনের পাতা ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে এসেছে। গাভীর থেকে গাভীরে গিয়ে পরিবারে রূপান্তরিত হয়েছে। তাই আমরা বলি একটি সচল পরিবার। কিন্তু এই পরিবারে অন্তর্ভূক্ত হওয়া লেখক/লেখিকার সম্পুর্ন ব্যক্তিগত অভিরুচি। কোন বাধ্যবাধকতা তো নেই। সচলায়তনের শ্লোগান তো "একটি সচল পরিবার” নয়। যেসব অনুষ্ঠানের সচিত্র প্রতিবেদন এখানে দেখা যায় সেগুলোও কিন্তু কোন না কোন লেখক/লেখিকার পোস্ট। সেই পোস্টে পাঠক/পাঠিকা একাত্ত্বতা পোষণ করতে পারেন। নাও পারেন। আর তাই আপনি যখন বলেন,“এজাতীয় ঘটনাগুলো বোধহয় পরিবারের আসল অর্থের প্রতি পরিহাসসূচক হয়ে পড়ে।“ তখন আমি আপনার সাথে একমত পোষণ করিনা। আর যদি তর্কের খাতিরে সচলে পরিবার তন্ত্রের চর্চা হয় ধরে নেই, তাহলেও নয়।

যেমন, তাসনীমের সাথে আমার সচলের বাইরেও পরিচয় ও বন্ধুত্ব আছে। -- এখন তাসনীম একটা লেখা লিখলো, যেটার সাথে আমি একমত নই। আমার কী করা উচিত? ও বন্ধু বলে ওকে সহমত জানিয়ে যাবো? মনে কষ্ট পাবে বলে মোলায়েমভাবে অমত জানাবো? কী করা উচিত আমার? আমার উত্তর ---
তাসনীম যখন এখানে লিখবে, তখন সে একজন লেখক। আর আমি পাঠিকা। আমি চাইলে তার লেখাটাকে চুল-চেরা বিচার করবো। সমালোচনা করবো। নিজের মতামতকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে তর্ক করবো, যুক্তি দেবো যুক্তি খন্ডাবো। লড়াই করে যাবো যতক্ষন পর্যন্ত না আমি তৃপ্ত হই এবং আমার মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে না পারি। এখন এই তর্কের মাঝে মামুনের মনে হলো আমার সাথে ও একমত, তাই আমার পক্ষে ও ওর মন্তব্য দিলো। হিমুর ও মনে হলো আমরা ঠিক। ও ওর মন্তব্য লিখলো। দূগো এসে হিমুর সাথে যোগ দিলো ( গ্রট ম্যান থিং এ’লাইক, হি হি হি)। স্নিগ্ধার মনে হলো তাসমিন যেটা বোঝাতে চাইছে আমরা সেটা বুঝিনি, ওর লেখাকে ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করেছি। ও ওর মতামত লিখলো। এবার হিমু ও স্নিগ্ধার মাঝে তর্ক( লিখে, লিখে) শুরু হলো। মুল লেখক তাসনীম একটা দুঃখ প্রকাশ করে মন্তব্য দিলো। কিন্তু তখন ওদিকে মন দেবার মানসিকতা করোই নেই। মন্তব্যের পাতা সরু হতে হতে ভার্টিক্যল হয়ে গেছে। শুধুই তর্কের খাতিরে ওরা এবার ব্যক্তিগত ভাবে অক্রমন করলো নিজেদেরকে। যদিও ব্যক্তিগত ভাবে তারা দুজন দুজনকে চোখেও দেখে নি কখনো। পাঠক( দর্শক অর্থে) এতক্ষন যারা পপকর্ন নিয়ে বসে ছিলেন তাদের মধ্যে অতি উৎসাহী ক’জন গেল, গেল রব উঠালেন, সচলায়তনের নীতিমালা লঙ্ঘন হয়েছে। মডু কই? মডু? মডু এলেন, হাতুরি পিঠিয়ে অর্ডার ! অর্ডার !! বলে হাজতে ভরার হুমকি দিয়ে চলে গেলেন। এর পরও দুই/একটা মন্তব্য প্রতিমন্তব্য চল্লো বটে কিন্তু ততক্ষণে খেল খতম। এর পর সবার ‘মাইন্ড ইয়োর ওন বিজনেস’ তো হওয়া উচিত তাইনা? কিন্তু সেটা না হয়ে যদি এমন হয়---
তাসনীম ও স্নিগ্ধা “সচলে ফ্যাসিজমর চর্চা হয়। এখানে সংঘবন্ধ ভাবে অক্রমন করা হয়। এইটা হবু সদস্যদের উপর মনস্তাত্বিক অবৈধ চাপ সৃষ্টি করে” বলে সচল ত্যাগ করলো। ওদের যারা বন্ধু তারাও একই অভিযোগ করে সচল ছেড়ে চলে গেলো বা বলা যায লেখা বন্দ করে দিলো, যদিও তারা পরক্ষ বা প্রত্যক্ষ কোন ভাবেই এর সাথে সম্পর্কিত নয়। তাসমীন যেহেতু আমার বন্ধু আমি একটা ফোন করে ব্যাপারটা মিটিয়ে নিলাম। তাহলে কেমন হয়?
যদিও এট সম্পুর্ন বানানো একটা প্লট। তবুও সাদা মনে পর্যালোচনা করলে কী মনে হয় না, যে তারা তাদের লেখক সত্বার উপরে আমিত্বকে স্হান দিলেন।? ওদের প্রতিক্রিয়াটা বড় বেশী অন্যায় ও অনৈতিকতায় ভরা? যারা শুরুতে তর্ক শুরু করেছিলেন, তারা কিন্তু এই উদ্দেশ্যে তর্ক শুরু করেন নি যে আজ তাসনীমকে আর ওর সহযোগিদের অপরাধী বানাবো এবং সচল ছাড়া করবো। আর তাই
"শেষমেষ ব্যাপারটা একটা দুঃখজনক সমাপ্তি পেলো এটাই কষ্টের। আমার সমস্যা হলো কেউ একেবারে চলে গেলে একটা মন-খারাপ লাগা তৈরি হয়, অবশ্য যদি সে নিতান্তই অপরাধী না হয়"
এধরণের কথাগুলি সচলে একটা নেগেটিভ পরিবেশ তৈরী করে বলে আমার ধারণা।
মনে আছে ছোট বেলায় খেলার মাঠে খেলতে গিয়ে খেলার সাথীদের সাথে মারামারি করে আড়ি দিয়ে বাড়ি চলে যেতাম। রাগ কম হলে পরদিনই মাঠে ফিরে আসতাম। তারপর বুড়ো আর কনে অঙ্গুল বাড়িয়ে দিয়ে বলতাম আড়ি না ভাব? ভাব হলে তক্ষুণী সব ভুলে খেলা শুরু করে দিতাম। আর রাগ বেশী হলে ক’ দিন পর খেলার জন্য প্রচন্ড ব্যকুলতা নিয়ে মাঠে ফিরে আসতাম। এসে দেখতাম মাঠে পূর্ণদমে খেলা চলছে, আমাকে বাদ দিয়েই। ভাংগা মন নিয়ে চলে যাবার জন্য পা বাড়াতেই খেলার সাথীরা আমাকে দেখতে পেয়ে হৈ হৈ করে উঠতো। জলদি আয়, তোকে ছাড়া জমছে না বলে জোর করে ভাব করে নিয়ে, খেলা শুরু করে দিতো। সচলে ঘটে য়াওয়া ঘটনা গুলিকে এই খেলোয়ার সুলভ মনোভাব নিয়েই দেখা উচিত বলে আমি মনে করি।

--------------------------------------------------------------------------------

নাশতারান এর ছবি

চলুক

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

অতিথি লেখক এর ছবি

নববর্ষের শুভেচ্ছা আপনাকে এবং আপনার সন্তানদের।

আসলে আমার এই লেখাটা লেখার সময় আমি অসম্ভব সতর্ক ছিলাম, যাতে করে নতুন কোন বিতর্ক জন্ম না নেয়। মূল লেখাটা লিখেছি এক বৈঠকেই। কিন্তু, কয়েকটা লাইন লিখবো, লিখবো না করেও অনেক সময় নিয়েছি। এমনকি, বাদ দিয়েছি অনেক ক'টা লাইন। এমনকি পোস্ট করার সময়ও বড্ড দ্বন্দ্বে আর দ্বিধায় ছিলাম। নিজের কোন লেখার প্রতিই আমি এতো সম্পাদনার হাত বাড়াই নি।

তারপরও, দেখছি, একেবারে এড়াতে পারি নি।

আসলে পরিবার শব্দটা আমার কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার এবং সহমর্মিতার জায়গা। তাই, হয়তো...

যাহোক, আশা করছি কাউকে আমি আহত তেমন করি নি। আর, সচলায়তন নিজের জায়গা মনে করেই কথাগুলো বলা। আর কিছু নয়।

ভালো থাকবেন।

---মহাস্থবির---

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখাটির জন্যে লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ!
--আরিফ বুলবুল,

দ্রোহী এর ছবি

বলুন দেখি বাংলা একাডেমী আরো কতো বছর পর তাদের অভিধানটা অনলাইনে দেবে?

মামুন হক এর ছবি

আমার ধারণা পাঁচ-ছয় বছর লাগতে পারে, আপনি কী বলেন?

সুমন চৌধুরী এর ছবি

দশ বছরেও যে দিবে এমন সম্ভাবনা তো দেখি না।



অজ্ঞাতবাস

মামুন হক এর ছবি

হায় হায়, তাইলে উফায় বদ্দা? আসেন সবাই মিলে একটা পিটিশিন পাঠাই বাংলা একাডেমির কাছে। একটা অনলাইন অভিধান খুবই জরুরি।

নাশতারান এর ছবি

বাংলা একাডেমীর অভিধানের অনলাইন সংস্করণের তীব্র প্রয়োজন বোধ করছি আসলেই।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

যূথচারী এর ছবি

এখন একটা কাহিনী কন। পাণ্ডুলিপি বানানের নিচে হ্রস্ব উ কার কেন দিতে হবে? ণ্ড-এর মধ্যেই তো হ্রস্ব উ-কার বিদ্যমান। যেমন শু-এর নিচে বিদ্যমান। নিচের দিকে ৩-এর মতো যে টান সেটিই প্রাচীন বাংলায় হ্রস্ব উ-কার ছিল। পরে এটা ু রূপ লাভ করে। প্রাচীন বাংলা লিপিতে তো বটেই এমনকি অ-কম্পিউটরিয় বাংলায় তো আলাদা করে হ্রস্ব উ-কার দেয়ার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু বাংলা একাডেমি বা পরবর্তীকালের লিপিকার-রা কেন যুক্তবর্ণটির আকার বদল করে ড-কে ত-এর মতো বানিয়ে ফেললেন এবং আলাদা হ্রস্ব উ-কার যুক্ত করলেন। এতো এতো কঠিন কঠিন বর্ণ আছে বাংলায়, শুধু পাণ্ডুলিপির বেলায় কেন এই বৈষম্য?


চোখের সামনে পুড়ছে যখন মনসুন্দর গ্রাম...
আমি যাই নাইরে, আমি যেতে পারি না, আমি যাই না...


চোখের সামনে পুড়ছে যখন মনসুন্দর গ্রাম...
আমি যাই নাইরে, আমি যেতে পারি না, আমি যাই না...

নাশতারান এর ছবি

তাই তো! এটা তো চোখে পড়ে নি! Smiley

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

অতিথি লেখক এর ছবি

বাংলা বর্ণগুলোর মধ্যে কিছু কিছু নানা জায়গায় নানা রূপ ধারণ করে। এই ভিন্নরূপিতার নাম 'এ্যালোগ্রাফ' (Allograph)। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিন্নরূপ ধরে 'উ' স্বরবর্ণটি। এটি কমপক্ষে চারটি রূপ নিতে পারে।

যেমন: অরুণ (এখানে ব্যঞ্জনের পাশে)

--পাংশু (এখানে ব্যঞ্জনের নিচে)

--আকুল (এখানেও ব্যঞ্জনের নিচে, তবে ভিন্ন রূপে)

--বাহু (এটা শুধু 'হ'-এর সাথে হয়)।

আপনার অভিযোগ, পাণ্ডুলিপি শব্দটিতেই হ্রস্ব উ-কার আছে, যা বিবর্তিত হয়েছে এবং রূপ নিয়েছে ু-এই রূপে।

পাণ্ডুলিপি বানানের নিচে হ্রস্ব উ কার কেন দিতে হবে? ণ্ড-এর মধ্যেই তো হ্রস্ব উ-কার বিদ্যমান।

একটু রেফারেন্স দিতে পারবেন? আমি কোথাও এরকম তথ্য পাই নি। দয়া করে জানাবেন।

এখানে একটা নাগরী বর্ণমালার যুক্তরূপ সমগ্রের লিংক দিলাম। ওখানে দেখবেন 'ন্ড' (ন+ড) এবং 'ণ্ড' (ণ+ড)-দুটোরই কোমর ভাঙা। তাই রূপটা ওখান থেকে বিবর্তিত হতেই পারে এবং সেটা স্রেফ যুক্তব্যঞ্জনের রূপ থেকেই, এর সাথে হ্রস্ব উ-কার যুক্ত না হলেও।

ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

---মহাস্থবির---

অতিথি লেখক এর ছবি

খুব 'ইন্টারেস্টিং' আলোচনা। লেখককে ধন্যবাদ।
আর আমি পারৎপক্ষে অনলাইন বাংলা অভিধানটা ব্যবহার করি না, কারণ আপনি যা বলেছেন তাই, ওতে ভুল বিস্তর। আবার ধরুন এই 'পারৎপক্ষে' শব্দটাই ওখানে নেই।

কৌস্তুভ

অতিথি লেখক এর ছবি

নেই, কারণ শব্দটা আসলে 'পারতপক্ষে', 'পারৎপক্ষে' নয়।

ভালো থাকবেন।

---মহাস্থবির---

অতিথি লেখক এর ছবি

যাঁরা পড়েছেন বা মন্তব্য করেছেন, সবাইকেই অনেক শুভেচ্ছা আর কৃতজ্ঞতা।

---মহাস্থবির---

রাহিন হায়দার এর ছবি

লেখা ও আলোচনা দুই'ই দারুণ!
________________________________
তবু ধুলোর সাথে মিশে যাওয়া মানা

________________________________
মা তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো...

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনাকেও ধন্যবাদ।

গৌতম এর ছবি

১.

ব্যক্তিগতভাবে আমি ভুল বোঝা দূর করতে এবং দৃষ্টিসৌকর্যের জন্যে এই ক্রিয়া পদান্তের 'ও' ব্যবহারের পক্ষপাতী।

দৃষ্টিসৌকর্যের জন্য ভাষাকে ইচ্ছেমতো ব্যবহার না করাটাই ভালো। বরং দৃষ্টিসৌকর্য ব্যাহত হলেও নিয়ম মেনে ভাষা ব্যবহার করা হলে একসময় তা সহনীয় হয়ে যায়। তখন আর খারাপ লাগে না।

২.

নিজের মতো করে ভাবার বিপজ্জনক সুযোগটা দিয়েই রাখা হল।

কোথায়? তাঁরা তো এভাবেই একটা নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করে দিলেন। এখানে নিজের মতো করে ভাববার অবকাশ কোথায়? কেউ নিয়মটা বুঝতে না পারলেই বরং বিপজ্জনক হতে পারে।

৩. বানান নিয়ে আমাদের অনেকেরই একটা খণ্ডিত ধারণা রয়েছে। আমরা মনে করি, ভুক্তি-অনুযায়ী লিখলেই বুঝি বানান শুদ্ধ হয়ে গেল। প্রকৃতপক্ষে বানানশুদ্ধির রূপ তিনটি- ভুক্তি-অনুযায়ী লেখা, একই স্টাইল পুরো লেখায় মেনে চলা (অনেকে একে বানানশুদ্ধির আওতায় আনতে চান না- কিন্তু এক ডকুমেন্টে একবার কত, আরেকবার কতো লেখা হলে তা অশুদ্ধির আওতায়ই পড়ে) এবং সমাসবদ্ধ শব্দগুলোকে একসাথে লেখা। আমরা অধিকাংশই প্রথমটি ছাড়া বাকিগুলোর প্রতি উদাসীন।

৪. লেখাটা ভালো লেগেছে। এরকম লেখা আরও আসুক। তাতে শেখা যায় অনেককিছু। তবে খুশি হব যদি বানান-সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু লিখেন।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

অতিথি লেখক এর ছবি

১.

দৃষ্টিসৌকর্যের জন্য ভাষাকে ইচ্ছেমতো ব্যবহার না করাটাই ভালো।

শুধু দৃষ্টিসৌকর্যের জন্যে নয়। হুমায়ুন আজাদের দেওয়া উদ্ধৃতিটা দেখতে পারেন।

২.
আবারো নিয়মটার শেষ লাইন উদ্ধৃত করি:

তবে কোথাও কোথাও সংখ্যাবাচক শব্দ একসঙ্গে লেখা যাবে। যেমন: দুজনা।

কোথায় লেখা যাবে, আর কোথায় নয়, এর সুনির্দিষ্ট কোন নিয়ম উল্লিখিত হয় নি।
যেমন: সাতরং না সাত রং? সাধারণত, বৃহদাকার শব্দ আলাদা করেই লেখা হয়। কিন্তু, এটা কি নিয়মে এসেছে? যেমন: 'একজন', কিন্তু 'এক সম্পদশালী ব্যক্তিত্ব'। দ্বিতীয়টা কি একসাথে লিখবেন, না আলাদা?
আমি আলাদা লিখবো, কিন্তু কেউ যদি নিয়মের প্রেরণায় একসাথে লিখতে চান?

৩.
একমত। আমার নিজেরও দ্বিতীয়টি হয়। কোন কোন সময় এটা ভালো লাগে, তো কখনো ওটা। জানি ভুল। তবে, সেসব ক্ষেত্রেই হয় যেখানে নিয়ম শিথিল। এছাড়া, ব্যক্তিগত প্রবণতা তো আছেই।

৪.
ধন্যবাদ। বানান-সংস্কার নিয়ে লেখাটা কঠিন, কারণ চলমান প্রক্রিয়ার সা্থে আমি যুক্ত নই। কিন্তু, বানান-সংস্কারের দুর্বল দিকগুলো নিয়ে বা অমীমাংসিত ধূসর স্থান নিয়ে লেখার ইচ্ছে আছে। আর, বানান-সংস্কারের ইতিহাস নিয়ে একটা লেখা শুরু করেছিলাম অন্য জায়গায়, শেষ করা হয় নি। আশা আছে, কোন একদিন...

শুভেচ্ছা নিরন্তর....

---মহাস্থবির---

অতিথি লেখক এর ছবি

ইশ, এট্টা ভুল কল্লাম।

আপনি বলছিলেন এটার কথা।

বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া অনুরূপ ো-কার ব্যবহার করা হবে না। বিশেষ ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে এমন অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়াপদ এবং বিশেষণ ও অব্যয় পদ বা অন্য শব্দ যার শেষে ো-কার যুক্ত না করলে অর্থ অনুধাবনে ভ্রান্তি বা বিলম্ব ঘটতে পারে।

অর্থাৎ, নিজের মতো করে ভাবার বিপজ্জনক সুযোগটা দিয়েই রাখা হল।

ভাই, যুক্তিটাই তো গোলমেলে।

অর্থ অনুধাবনে ভ্রান্তি বা বিলম্ব কিন্তু অন্য ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়াপদ ছাড়া কি অন্যত্র সমস্যা সৃষ্টি হয় না?

বলুন তো এগুলোর বানান কি একই হওয়া উচিত? ফাটল (বিশেষ্য) এবং ফাটল (ক্রিয়া); ভরত (বিশেষ্য), ভরত (ক্রিয়া); পরত (বিশেষ্য), পরত (ক্রিয়া), চালান (বিশেষ্য), চালান (ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য), চালান (সম্ভ্রমাত্মক নাম পুরুষের সাধারণ বর্তমান বা বর্তমান অনুজ্ঞার রূপ) ইত্যাদি। শেষটায় 'চতুর্মুখী সমরূপতা' দেখা দিয়েছে।

ক্রিয়াগুলোর একটাও কিন্তু তাঁদের ভাষায় 'অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়াপদ' নয়।

তাঁদের উদাহরণে তাঁরা যেগুলো লিখেছেন, সেখানে আছে ক্রিয়াপদ 'করাতো', যেটি তাঁদের ভাষায় 'অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়াপদ' নয়। তাহলে, এটিতে দেওয়া হলে অন্য ক্রিয়ারূপগুলোর দোষ কী?

'আনো' প্রত্যয়ান্ত শব্দে আমি অবশ্যই পদান্তে ও-কার চাই। কিন্তু, ক্রিয়াপদের ক্ষেত্রে এটা নিয়ে আরো আলোচনার দরকার আছে বলে মনে করি।

---মহাস্থবির---

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।