রেডমন্ডের ফটোকপিয়ারগুলো

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: সোম, ৩০/০৮/২০১০ - ১:১০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

auto

প্রচন্ড প্রতিযোগিতার প্রযুক্তির দুনিয়ায় এক মুহুর্তের বিশ্রামও মহা সমস্যার কারণ। কারণ আপনার প্রতিযোগীরা মোটেও থেমে নেই আর তারাও আপনার মতই বা আপনার চেয়ে বেশী পরিশ্রমী। তাই কাছাকাছি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস থাকলে নতুন কোন ফিচার একজন আবিষ্কার বা তৈরি করলে খুব দ্রুতই সেটি অন্যান্য প্রতিযোগীদের প্রোডাক্টে চলে আসে। আর আপনার পরবর্তী ভার্সন আসতে যদি দেরী হয় তবে আপনার ভার্সন স্বভাবতই অন্যদের অনুকরণ বলে মনে হবে। ঠিক এই বিষয়টিই ঘটেছিল উইন্ডোজ এক্সপির ব্যাপারে। প্রচন্ড জনপ্রিয় এই অপারেটিং সিস্টেমের পরবর্তী সংস্করণ আনতে বেশ অনেক বছর সময় নেয় মাইক্রোসফট এই চার পাঁচ বছরে সম্পুর্ণ প্রযুক্তিবিশ্বেই যেসব নতুন ধারণা ও আবিষ্কারগুলো এসেছিল তার অনেকগুলোই আরো ছোট লাইফ সাইকেলের অপারেটিং সিস্টেমগুলো নিয়ে এসেছিল। তাই প্রতিবছর নতুন ভার্সন সমৃদ্ধ এপেলের OS-X প্ল্যাটফর্ম তখন মাইক্রোসফটকে নিয়ে বেশ রগড় করত। ২০০৬ সালের ডেভেলাপার কনফারেন্সের তো স্বাগতম ব্যানারেই লিখে ফেলল। “রেডমন্ড স্টার্ট ইয়োর ফটোকপিয়ার্স|” অর্থাৎ আমাদের নতুন ফীচারগুলো দেখে তারপরে তোমাদের সিস্টেমে ঢুকাও। মাইক্রোসফট অপারেটিং সিস্টেমের ভেতরে সার্চ ঢোকানোর বেশ আগেই এপেলের ফাইন্ডার রেডী। উইন্ডোজের ডেস্কটপের গ্যাজেটের বহু আগে থেকেই ম্যাকে আছে উইজেটগুলো। আরো ম্যালাকিছু। এইখানে মাইক্রোসফটের দোষ একেবারেই নেই তা নয়, অনেক অর্থেই ম্যাকের একুয়া ইন্টারফেসের কপিই মনে হবে আজকালকার উইন্ডোজগুলোকে।

তবে সত্যি কথা হল, ঠিক মাইক্রোসফটের বদনাম করার জন্য আজকের পোস্ট না, বরং উল্টোটাই সত্যি। অনেক ক্ষেত্রেই মাইক্রোসফট বহু বছর ধরেই প্রতিযোগীদের ধরার জন্য হাঁসফাঁস করে দৌড়াচ্ছে, বিশেষ করে ইন্টারনেটের তো কথাই নেই। গুগলকে ধরা তো দূরের কথা সুদূর ভবিষ্যতেও ধরতে পারবে তার সম্ভাবনাও নিতান্তই ক্ষীণ তা মাইক্রোসফট নিজেও জানে। এক্কেবারে হোপলেস হবার পরেও প্রথমে এমএসএন সার্চ, তারপরে লাইভ সার্চ ও বর্তমানে বিং সার্চ ইঞ্জিন বেশ চেষ্টা করে যাচ্ছে গুগলের সার্চ দুর্গে ক্ষীণ আক্রমনের। তবে এই প্রথম দেখলাম গুগল তাদের মূল কোন প্রোডাক্টের পরিবর্তন করল যেটি দেখতে মাইক্রোসফটের প্রডাক্টের মত। গুগলের আগেও সার্চ ইঞ্জিন অনেকগুলোই ছিল কিন্তু যতদূর মনে পড়ে ছবি খোঁজার ব্যাবস্থা গুগলই প্রথম বা একদম প্রথমগুলোর মধ্যে ছিল। আর সত্যি কথা হল, এতদিন গুগল ছেড়ে অন্য সার্চ ইঞ্জিনে ছবি খোঁজার কথা চিন্তাও কখনো করিনি। সেই প্রথম উদ্বোধনের পরে এই প্রথম গুগল ইমেজ সার্চের বড়সড় ইন্টারফেসগত পরিবর্তন দেখে প্রথম যেই কথা মনে হয়, তা হল, এইটা মাইক্রোসফটের সার্চ থেকে কপি করা হয়েছে। একেবারে প্রায় দশপাতা পরিমাণে ছবি দেখানো, ছবির ওপরে মাউস রাখলে বড় প্রিভিউ সাথে সাথে সম্পুর্ণ লুক এন্ড ফিল অনেকটাই বিং থেকে ধার করা মনে হয়। (আগের চেহারা আর আজকের চেহারা, বিং চেহারা) তবে কিছুটা প্রেরণা মনে হয় ফায়ারফক্সের প্রচন্ড জনপ্রিয় ছবির প্লাগিন কুলিরিস থেকেও নেয়া হয়েছে। সাবাশ মাইক্রোসফট!

শুধু একটি বিষয় নিয়ে এতো লম্বা লেখার উৎসাহ থাকতো না যদি না আরেকটি মহা কাজের টুল আবিষ্কার করতাম। উইন্ডোজের রিমোট ডেস্কটপের ব্যাবহারকারী সবাই নাহলেও খুব কম না। শুধু রিয়েল আইপি থাকলেই আপনার মেশিনকে সারা পৃথিবীর যেকোন খান থেকে নিজের সামনের টার্মিনালে নিয়ে আসার বেশ চমৎকার একটি ব্যাবস্থা। আর রিমোট ডেস্কটপের সাথে সংযোগের জন্য উইন্ডজের সাথেই বিল্টইন থাকে “রিমোট ডেস্কটপ কানেকশন”। সেটিও মোটামুটি কাজের জিনিষ। কিন্তু সমস্যা বাধে যখন আপনাকে বেশকিছু কম্পিউটারে নিয়মিত লগিন করা লাগে, আর একই মেশিনে একাধিক একাউন্টে ঢোকা লাগে, সেই অবস্থায় অথেন্টিকেশন তথ্য গুছিয়ে রাখার জন্য উইন্ডোজের রিমোট ডেস্কটপ কানেকশন মহা ফালতু জিনিষ। প্রতিবার ইউজার বদলানোর জন্য ইউজারনেম আর পাসওয়ার্ড লেখো। কি ঝামেলা! কিছুদিন আগেই খুঁজতে গিয়ে দেখলাম কানেকশনগুলোর তথ্য নিয়ন্ত্রনের জন্য “রিমোট ডেস্কটপ কানেকশন ম্যানেজার” নামে একটী টুল বের হয়েছে, আর বের করেছে স্বয়ং মাইক্রোসফট আর জেনুইন উইন্ডজ থাকলে একদম ফ্রী! ইচ্ছেমত সার্ভার যোগ করে তাদের প্রয়োজনমত তথ্য সংরক্ষণ করে কাজ করার জন্য দেখলাম এটি চমৎকার টুল। সত্যি কথা বলতে একদম ড্রীম কাম ট্রু টাইপের। বেশী লিখলাম না, যারা রিমোট ডেস্কটপ নিয়মিত ব্যাবহার করেন তারা ঘেঁটে দেখতে পারেন।

তৃতীয় ফীচার যেটির কথা লিখব এখন তা হল এন্টিভাইরাস! সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাইরাসবান্ধব অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে উইন্ডোজের অপারেটিং সিস্টেম পরিবার এখনো অপ্রতিদ্বন্দী। আর তাই যত ভাইরাস ততো এন্টীভাইরাস কোম্পানী। বাংলাদেশে থেকে চুটিয়ে ব্যাবসা করতে পেরেছে এমন রেকর্ড মাইক্রোসফট, এডোবি, সান, এপল কারোরই নেই কিন্তু সেই দুর্গে একমাত্র আঘাত হেনেছে ক্যাস্পার্স্কি আর নড৩২। সেই রাশিয়া আর পোল্যান্ডের এন্টিভাইরাস কোম্পানী এসে বাঙ্গালীর পকেট থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে যাবে কে ভেবেছিল? সম্ভবত মুদি দোকানে বাকী রাখা যায়, ট্যাক্স ফাঁকি দেয়া যায় কিন্তু চাঁদা দিতেই হয়, নাকি? এই প্রসঙ্গে যা লেখা শুরু করেছিলাম তা হল, সব এন্টীভাইরাস কোম্পানী লুটেপুটে খাচ্ছে দেখে বিলু মামারও শখ হল যে তিনিও এন্টিভাইরাস বানাবেন। তাই লাইভ ওয়ানকেয়ার নামে বেশ খেটেখুটে এন্টিভাইরাস বানালো ডেভুরা। কিন্তু জনগণ মুরগী পাহারার জন্য শেয়ালকে বিশ্বাস করে সারতে পারলো না। তাই গড়পড়তা ভাল হবার পরেও তেমন কেউ কিনলো না সেটি। ফলে মনের দুঃখে কিছুদিন পরে সেটিকে ফ্রি করে দিল মাইক্রোসফট। বর্তমানে মাইক্রোসফট সিকিউরিটি এসেনশিয়াল নামে কাজ ডাউনলোড করা যায় এই এন্টিভাইরাসটি। রিসোর্স খাবার দিক থেকে বেশ হালকা চুপচাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে আর গত দেড় বছর ব্যাবহার করছি একই অপারেটিং সিস্টেম নতুন ইন্সটলেশন ছাড়াই আরামে। আর সর্বোপরি ফ্রি। এটিও জেনুইন উইন্ডোজে চলে।

আরেকটি ফীচার যদিও এটি গুগলের সাথে ‘ক্যাচ আপ’। গুগলের ডকুমেন্টস ব্যাবহার করে আসছি প্রায় গত তিন বছর ধরেই। আজকাল সব ফাইলেরই এক কপি থাকে মেঘের ভেলায়। কিছুদিন হয় মাইক্রোসফটও তাদের অফিস লাইভ চালু করেছে। দিব্যি ডকুমেন্ট, স্প্রেডশীট, প্রেজেন্টেশন, নোট ইত্যাদি অনলাইনেই সেরে ফেলা যায় অফিসের পরিচিত ইন্টারফেসে। হটমেইলের স্কাইড্রাইভ থেকেও সারা যায়। আজকাল ২৫ গিগাবাইট যায়গা দিচ্ছে ফাইলপত্র রাখার জন্য। মন্দ না।

আর ওপেন সোর্স? তাদের সাথেও আজকাল একটু নরম সুরে কথা বলা শুরু করেছে। হাজার হোক তারাও তো কাস্টোমার


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

নামসই!
ফরিদ
বইমেলা

ইমরান [অতিথি] এর ছবি

রিয়েল আইপি ছাড়াও আপনি রিমোট ডেস্কটপ ব্যবহার করতে পারেন যে কোনও জায়গা থেকে, যদি আপনি dyndns অথবা no-ip এর সার্ভিস নিয়ে রাউটার এর পোর্ট ফরওয়ার্ড করে কনফিগার করে নেন।

লেখা ভাল লেগেছে।

অতিথি লেখক এর ছবি

রিয়েল আইপি বলতে আমি পাড়ার ইথারনেট বেজড প্রোভাইডারদের আইপি হলে বাইরে থেকে ব্যাবহার করা মুশকিল। তখন আবার লগমিইন ধরণের কিছু ব্যাবহার করা লাগে

কৌস্তুভ এর ছবি

হুম, ভালই লাগল পড়ে। লিখতে থাকুন।

অতিথি লেখক এর ছবি

আমার রাউটারটা কিভাবে যেন রিয়েল আইপি ছাড়াও বাইরে থেকে এক্সেস করা যায়... ওপেন ডিএনএস এর ব্যাপার স্যাপার আছে বোধহয়....

---------------------------------------------------------
ধূসর স্বপ্ন, rupokc147 এট gmail ডট com

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

লেখার শেষের বাক্যে দাড়ি দেন নি। তার মানে চলবে ... হাসি
লেখা ভালো লেগেছে।

অতিথি লেখক এর ছবি

হুঁহ! অতিথি পাইয়া ঝাড়ি লন!!

দাঁড়ান অন্য টপিকে লেখা দিচ্ছি কদিন পরে, অর্থযোগের ব্যাপার স্যাপার আছে হাসি

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

ফরিদ ভাই, আপনি এত অনিয়মিত কেন?

ফরিদ এর ছবি

আইলসেমী নামের এক ভয়াবহ শক্তিশালী দানবের সাথে প্রতিনিয়ত জিহাদে লিপ্ত আছি!

দেখতেই পাচ্ছেন সাফল্যের হার খুব সন্তোষজনক নয়।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

RDCMan এর জন্য ধন্যবাদ। স্টিভের উত্তর পেয়েছিলেন?

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

ফরিদ এর ছবি

হুঁহুঁ ভায়া, যেই কয়জন তালেবরকে RDCMan এর ঠিকানা দিয়েছি সব্বাই ডেকে ডেকে থ্যাঙ্কু দিয়ে যায়। কি চমৎকার জিনিষটাই বানিয়েছে।

স্টিভের মেইলটা পাব্লিকে দেব কিনা চিন্তা করছি। জবাব দিলোনা ক্যান এই জিদ্দে

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

মেইলটা অনেক লম্বা ছিল। আর এমন একজনের কাছ থেকে যে কিনা আইফোন ব্যবহার করে না। আপনার ক্লেইমটাও সাবস্ট্যানশিয়েট করেন নাই ঠিকমত। অথচ বলে দিয়েছেন যে আইফোন ডুমড। সরি টু সে, আমি কিন্তু ধরেই নিছিলাম রিপ্লাই পাবেন না। খাইছে

আপনি এক কাজ করেন। বাংলায় একটা ব্লগ লিখেন। তারপর সেটার ফিডব্যাকের উপর ভিত্তি করে আরেকটা ইমেইল পাঠাতে পারবেন।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

ফরিদ এর ছবি

আইফোন ডুমড কৈনাই, কৈসিলাম যে ২০০৭-০৯ পর্যন্ত আইফোনের যে একচেটিয়া রাজত্ব ছিল স্মার্টফোনের মার্কেটে সেইটা আগামীতে থাকবো না। আর ক্যারিয়ারের সাথে কন্ট্রাক্ট লক এই উপমহাদেশের জন্য অসম্ভব একটা বিজনেস মডেল। আইপডকে শাফল থেকে টাচ পর্যন্ত স্প্রেড না করলে আজকে এই অবস্থায় আসতে পারত না। তাই আরেকটু রিজেনবল দামে আনলকড ডিভাইস ছাড়লে সমস্যা কি?

রণদীপম বসু এর ছবি

আহারে, এই পোস্ট কম্পুকানাদের জন্যে না !

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

ফরিদ এর ছবি

আপ্নে মানুষ ভালা না, কম্পু লুলার পোস্ট কম্পু কানায় পড়লে আর কি বলার আছে হাসি

আলমগীর এর ছবি

WinXp প্রফেশনাল ভার্শনে RDC একটা মাত্র ইউজার সাপোর্ট করে। মাইক্রোসফটের একটা ছোটলোকি কাজ এটা। এ সমস্যার সমাধান করার জন্য আমি নেট ঘেঁটে ২০০০ এর কিছু ফাইল দিয়ে রিপ্লেস করে দিয়েছি।

মাইক্রোসফটের সি++ কম্পাইলার এখনো সেরা।

আপনি কি আইটির লোক নাকি চোখ টিপি আরো লিখুন।

বোহেমিয়ান এর ছবি

হুমম!
আরও লিখুন

ব্যবহার হবে শব্দটি।
_________________________________________

_________________________________________
ওরে! কত কথা বলে রে!

ফরিদ এর ছবি

ব্যবহারের অভাবে আ-কার গজিয়ে গেছে :।

নুরুন নেসা বেগম এর ছবি

লেখা খুবই সাবলীল, তথ্যবহুল। কম্পিউটারের সংগে যাদের সম্পর্ক তারা এর ক্রমবিবর্তনের অনেক তথ্য, প্রাসংগিকতার বিষয়ে জানতে পারবে। এমন কাজের লেখার জন্য লেখককে ধন্যবাদ। লেখনী চলতে থাকুক। অপেক্ষায়---

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

খুব ভাল, এইসব টপিকে এভাবে গুছিয়ে লেখা সহজ না।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।