রসরাজের চোখে বিদ্রোহী ও দরদী

মন মাঝি এর ছবি
লিখেছেন মন মাঝি [অতিথি] (তারিখ: রবি, ২৬/০৯/২০১০ - ৮:১৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

 

মনমাঝি

 

(কাজী নজরুল ইসলাম ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে শিবরাম চক্রবর্তীর স্মৃতিচারন)

 

 

 

 

বাংলা সাহিত্যে শিশু সাহিত্যিক ও রস-লেখক হিসেবে খ্যাত শিবরাম চক্রবর্তীর নতুন করে পরিচয় দেয়া নিষ্প্রয়োজন। তার ‘হর্ষবর্ধন’ চরিত্রটার সাথে অনেকেরই হয়তো অনেক সহর্ষ পাঠস্মৃতি জড়িয়ে আছে।

শিবরাম চক্রবর্তী বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমসাময়িক এবং তার ...

 

মনমাঝি

 

(কাজী নজরুল ইসলাম ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে শিবরাম চক্রবর্তীর স্মৃতিচারন)

 

 

Kazi Nazrul IslamSharatChandra

 

 

বাংলা সাহিত্যে শিশু সাহিত্যিক ও রস-লেখক হিসেবে খ্যাত শিবরাম চক্রবর্তীর নতুন করে পরিচয় দেয়া নিষ্প্রয়োজন। তার ‘হর্ষবর্ধন’ চরিত্রটার সাথে অনেকেরই হয়তো অনেক সহর্ষ পাঠস্মৃতি জড়িয়ে আছে।

শিবরাম চক্রবর্তী বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমসাময়িক এবং তারা পরস্পর বন্ধুও ছিলেন বটে। দু’জনের জীবনে মিলও বোধহয় রয়েছে প্রচুর,বিশেষ করে তাঁদের জীবনের বাস্তব সংগ্রামমুখরতায় এবং তৎকালীন কোলকাতার সাহিত্যিক এলিটিস্ট চক্রের কিছুটা বাইরে তাঁদের অবস্থানের কারনে।

কিছুদিন আগে শিবরামের আত্মজীবনী ‘ঈশ্বর পৃথিবী ভালবাসা’(নবপত্র প্রকাশন,কলিকাতা) পড়ার সুযোগ হলো। সত্যি উপভোগ করার এবং একটানা পড়ার মত একটা বই । নিজের কথা ছাড়াও এতে সমসাময়িক বিশিষ্ট লেখক-শিল্পী-সাহিত্যিক-রাজনীতি ও রাজনীতিবিদ- আন্দোলন - নেতা ও বিপ্লবীদের,যাদের অনেকের সাথেই তার ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল,তাদের সম্পর্কে অনেক ভিন্নস্বাদের ও অত্যন্ত নিজস্ব পর্যবেক্ষন রয়েছে তার। এক্ষেত্রে শিবরাম বেশ আন-ইভেইসিভলি স্পষ্ট ও জোরালো মতামত-সম্পন্ন, নিজের ভালোমন্দ প্রকৃত অনুভূতি-অভিজ্ঞতা-মতামত সরাসরি ব্যক্ত করতে বিব্রত-সংকুচিত নন,যা কারো কারো কাছে ক্ষেত্রবিশেষে বেশ ইররেভারেন্ট বা ঝাঁঝালো মনে হতে পারে।

নিজের ইতি-নেতি অনুভূতি প্রকাশে তিনি যেমন অকপট, তেমনি প্রশংসা-সমালোচনা অনুরাগ-বিরাগেও অকপট, অকৃপন এবং অকৃত্রিম। নন-কমিটাল সুকৌশলী শহুরে নিরপেক্ষতা বা অনিশ্চয়তার সুক্ষতা, অথবা ধরি-মাছ-না-ছুঁই-পানি-মার্কা নিরপেক্ষতার কুটনৈতিক ছদ্মবেশ বা নাগরিক সংযমের জটিল পরিশীলন সর্বদাই যার হলমার্ক নয়। কারো কারো কাছে অবশ্য বইটার এই দিকটা কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে, তবে এতে একজন সৎ, অকপট কিন্তু অভিমানী শিল্পী হৃদয়ের ছোঁয়া হয়তো পাওয়া যায়।

শিবরামের ভাষা শৈলীও তারই মতো : এলিটিস্ট ছূৎমার্গমুক্ত  এবং মাঝেমধ্যে আরবি-ফার্সি মশলার ছিঁটেফোটাসহ শ্লেষ (pun/irony), অনুপ্রাস আর শব্দ নিয়ে খেলায় ভরপুর  -- তাঁর  একান্ত নিজস্ব স্টাইলের অনুগত।

শিবরাম তার এই আত্নজীবনীতে তার নিজের মা-বাবা ছাড়া, বিশেষ করে সমসাময়িকদের মধ্যে, যার সম্পর্কে সবচাইতে বেশী মুখর, উচ্ছসিত ও সপ্রশংস - তিনি বোধহয় কাজী নজরুল। শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীচৈতন্য আর নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর সাথে নজরুলকে তুলনা করার মধ্যে তার এই মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়।

এছাড়া ‘দরদী’-অভিধাপ্রাপ্ত সমকালীন জনপ্রিয়তম কথাসাহিত্যক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সংক্রান্ত তার অভিনব অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষনও রীতিমত চমকপ্রদ এবং প্রতর্কিতভাবে চক্ষুরুন্মীলকও বটে।

যাই হোক, তার এই আত্নজীবনী থেকে আকর্ষনীয় ও ব্যতিক্রমী মনে হওয়ায় শিবরামের নজরুল সংক্রান্ত কিছু অকৃপন মন্তব্য, মূল্যায়ন, পর্যবেক্ষন ও অভিজ্ঞতার উদ্ধৃতি এখানে তুলে ধরার লোভ সামলাতে পারলাম না। শরৎচন্দ্র সংক্রান্ত তাঁর চমকপ্রদ স্মৃতিচারনের অংশটুকু তারপরে আসবে।

 

বইয়ের নাম : ‘ঈশ্বর পৃথিবী ভালবাসা’;

লেখক : শিবরাম চক্রবর্তী ;

কপিরাইট : গোপাল বন্দোপাধ্যায় ও শিবসত্য চক্রবর্তী ;

প্রকাশক : প্রসূন বসু, নবপত্র প্রকাশন, ৬ বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রীট, কলিকাতা - ৭০০০৭৩ ;

প্রকাশকাল : প্রথম নবপত্র প্রকাশ : ১ লা বৈশাখ, ১৪০১ ;

পৃষ্ঠাসংখ্যা : ৪৬৬ ;

মূল্য : ১২৫ টাকা ।

 

 

বিদ্রোহী নজরুল

[ কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে শিবরাম চক্রবর্তী ]

(সব শিরোনাম আর শ্রেণীবিন্যাস আমার )

 

মূল্যায়ন

১। “কি রকম সঙ্গীতমত্ত মানুষ ছিল সে জানেন তো! কাজীর ব্যক্তিত্ব শতধা বিকীর্ণ, সহস্ররূপে বিচ্ছুরিত, অজস্র ধারায় উচ্ছল। যেমন তার শিল্পীসত্তা, বিপ্লবীসত্তা, সাধকসত্তা, তেমনি তার প্রেমিক-সত্তা, আর সব ছাপিয়ে ছিল তার পুরুষসত্তা। সবগুলোই সমান সত্য। তার কোনো ব্যক্তিরূপকে বাদ দিয়েই কাজী নয়, সব মিলিয়ে মিশিয়েই নজরুল। আমার তো মনে হয়, বাংলার মাটিতে শ্রীচৈতন্যদেবের পর সুভাষচন্দ্র আর নজরুল এক আবির্ভাব। মানুষের গড্ডালিকা প্রবাহে এক ফেনোমেনা।” (পৃঃ ১৪০ )

২। “কোনো বিধিনিয়মের রুল দিয়েই তাকে ধরা যায় না,মাপা যায় না, ব্যাখ্যা করা যায় না। সেই অভিব্যক্তির আখ্যান হতে পারে, কিন্তু ব্যাখ্যান নেই। এমন পরমাশ্চর্য বুঝি এর আগে দেখা গেছল সেই নবদ্বীপেই - বাংলার আবালবৃদ্ধবনিতাকে যা মাতিয়েছিল আরেকবার। অপর দৃষ্টান্ত দ্বাপরের - বৃন্দাবনের মেয়েপুরুষকে পাগল করে তুলবার সেই।” *(পৃঃ ৩৯৩ )

৩। “কল্লোল-গোষ্ঠীর নৃপেনকে আমার কেমন যেন অলৌকিক বলে মনে হোতো। অবশ্যি অলৌকিকত্ব ছিল ওদের প্রায় সবারই - অচিন্ত্য, প্রেমেন, বুদ্ধদেব। আর বিশেষ করে ওই কাজীর তো বটেই। অলৌকিকতার প্রাচুর্যে সে ছিল যৎপরোনাস্তি ।” (পৃঃ ৪৩৩ )

৪। “অতিমানুষ আর অতি মানস, সত্যি বলতে, দুই-ই আমার ধারণার বাইরে। আমার মনে হয়, কেউ যদি কোনো একটা পেশায় এক মনে একটানা লেগে থাকে তাহলে এককালে হয়তো সে অতীব মানুষ না হয়েও ঐ অতি মানুষের পর্যায়ে পরিচিত হতে পারে। কিন্তু একমাত্র পেশায় একপেশে হয়ে যাওয়ায়,ভালোটা কোথায় ? হিটলারের ন্যায় অতিমানবিক পেশায় নিজের অক্টোপাশে নিজেই জড়ীভূত হয়ে আশেপাশের সবাইকে সমপেষণ ছাড়া আর কী ? ছোটখাট পরিধিতে নাতিখর্ব কি খর্বাকার হিটলার হয়ে সবাই মিলে সমান নিষ্পিষ্ট হওয়া বইতো নয়। সেটা কি বাঞ্ছনীয় ?

আমার মতে, অতীব নয়, সম্পুর্ণ হওয়াটাই সার্থক। সম্পুর্ণ হওয়ার জন্য বড় হতে হয় না, কাউকে পেষার দরকার করে না; নিজের হওয়ার সাথে সাথে সে-ই হওয়ায়, তার আশেপাশের আর সবাইকেও সে হওয়ায়।

সুন্দরই হচ্ছে স্বয়ংসম্পূর্ণ। সুন্দর সুষম হওয়াই সম্পূর্ণ হওয়া। ফুল যেমন তার ছোট্ট বৃন্তে, সামান্য বৃত্তেই রূপে রসে গন্ধে - আনন্দের ছন্দে হয়ে ওঠার বৃত্তিতে পরিপূর্ণ।

আমাদের কালে সম্পূর্ণ মানুষ দেখা গেছে রবীন্দ্রনাথকে। নজরুলকেও আমরা দেখেছি।” (পৃঃ ৩৯২ )

 

বহরমপুরের জেলে

৫। “কিন্তু সেখানকার সেল থেকে বেরিয়ে বহরমপুরের জেলে গিয়ে যেন হাতে হাতে স্বর্গ পেলাম।......

সেখানে গিয়ে জে এল বাঁড়ুয্যে, নজরুল ইসলামের দেখা পেলাম। আলাপ হোলো কবি বিজয় চাটুয্যে , বিপ্লবী বীর পূর্ণ দাসের সাথে। আরো কে কে যেন ছিলেন, মনে পড়ে না এখন - তাঁদের প্রত্যেকেই দিকপাল। কাজী বলত,ছোটবেলায়,সে নাকি কোথায় বাবুর্চির কাজ করেছে - সব রকমের রান্না জানে। প্রমাণ দেবার জন্যে সবার রান্নাটা সে-ই করত। আর কী খানাই যে বানাত মশাই কী বলব ! বিরিয়ানি পোলাও থেকে শুরু করে চপ কাটলেট কোপ্তা কোর্মা কাবাব কারি - কাবাব আবার দু’কিসিমের -- শিক এবং নন-শিক -- কারিকুরি কত না !

‘রান্নাবান্না ছাড়া আর কিছু করত না কাজী ?’

‘তার গানে কবিতায় আবৃত্তিতে গল্পগুজবে আড্ডায় মাতিয়ে রাখত। এমন মজার মজার কথা কইত সে! অমন প্রাণোচ্ছল প্রদীপ্ত যুবক জীবনে আমি আর দেখিনি।’ খানাকুলের থেকে আমি কৃষ্ণনগরের দিকে এগোই – ‘তার প্রেমের গান সেইখানেই শুনেছিলাম ! তার বিদ্রোহের কবিতার পাশাপাশি দোলনচাঁপার কাহিণী ! প্রেমের স্মৃতিচারণ তার অবিস্মরণীয় যতো গজল। সোজা গজালের মতন গিয়ে গেঁথে যায় মগজে।’

‘বিদ্রোহের গানটান গাইতো না ?’

‘গাইত না আবার ! তার বিদ্রোহী কবিতাটার আবৃত্তি তার মুখে মুখে বার বার শুনলাম। আর বিপ্লবের যতো গান ! কারার ঐ লৌহকপাট/ভেঙ্গে ফ্যাল কর রে লোপাট/রক্তজমাট/শিকল পূজার পাষাণবেদী/ওরে ও পাগলা ঈশান/বাজা তোর প্রলয় বিষাণ/রক্তনিশান/উড়ুক প্রাচী-র প্রাচীর ভেদি।’ মনে হয় এ-গানটা তার ঐ জেলেই বাঁধা। কী উল্লাসে গাইত যে !’

‘আর কী করত কাজী ?’

‘তাছাড়া কবিগুরুর গানও গাইত একেক সময়। তার মুখে কবির ঋতু পর্যায়ের গানগুলো এমন ব্যঞ্জনা পেত যে বলা যায় না। তোমারি গেহে/পালিছ স্নেহে/তুমি ধন্য ধন্য হে ! কবির এ গানটার এমন চমৎকার এক প্যারডি বেঁধেছিল সে। গেয়ে গেয়ে সেটা শুনিয়েছেও আমাদের।’

‘গানটা কী শুনি ।’

‘আমি তো গাইতে পারব না, শোনাতে পারি - তোমারি জেলে/পালিছ ঠেলে/তুমি ধন্য ধন্য হে !/তোমারি অশন/তোমারি বসন/তুমি ধন্য ধন্য হে !’”  (পৃঃ ৮০-৮১ )

৬। “পরদিন সকালে লপসিখানা খেয়েই জেলখানার থেকে বেরুলাম। একশো এগারো নম্বরের এক ছ্যাকরা ঘোড়ার গাড়ি চেপে দু’জন পাহারাওয়ালার জিম্মায় বহরমপুরের উদ্দেশে শেয়ালদা রওনা হলাম আমরা। লপসির প্রাতরাশের পর সেখানে গিয়ে পড়লাম একেবারে মুর্গির কারি আর বিরিয়ানি পোলাওয়ের ওপর। এক গোরুতর পরিস্থিতিতে গিয়ে পড়লাম বলতে কি !

আমাদের দেখেই কাজীর সোল্লাস অভ্যর্থনা – ‘লে হালুয়া ! দে গোরুর গা ধুইয়ে !’

অতুলনীয় - অতুলনীয়। --

গোড়াতেই কাজীর কাছে ওই গোরুত্ব লাভ করে সহজেই সেখানে আমরা স্বাগত হলাম। প্রাচীন এবং নবীন প্রসিদ্ধ দেশব্রতী আর বিপ্লব-পথিকদের সঙ্গে অর্বাচীন আমরা অবলীলায় মিশে গেলাম। চিনি যেমন জলের সঙ্গে মিশে যায়, চেনাচিনির আপেক্ষা রাখে না, চিহ্ন থাকে না, তেমনি অসারবৎ আমাদের নিছক জলাঞ্জলিও মিশ খেয়ে সরবতের একাত্না হয়ে গেল।

প্রকান্ড একটা হলঘরে অনেকগুলো লোহার খাট পড়েছিল পাশাপাশি। তারই দুটোর ওপর জেলের আপিস থেকে পাওয়া আমাদের দুখানা করে কম্বল বিস্তৃত হল। খট্টাঙ্গের সেই কম্বলবিস্তারে সাষ্টাঙ্গে আমি সবিস্তার হতে যাচ্ছি, বাধা দিল কাজী।

‘আরে, এখনই শোবে কি হে ?’

‘তার মানে ? খাওয়ার পরেই শোয়া - এই তো জানি । খাই আর শুই - কাজ তো এই দুই - - -’

‘এখন আমাদের গান, আবৃত্তি,  হৈ-হল্লা কতো কী হবে - - - ’

‘হোক না ! তার শ্রোতাও চাই তো ? আমিই সেই শ্রোতা। শুয়ে শুয়ে শুনব এখন। আমি তো আর গায়ক ও আবৃত্তিকারের পার্ট নিতে পারব না ভাই !’

‘দাঁড়াও এঁদের সঙ্গে তোমার পরিচয় করিয়ে দিই আগে, এসো।’

‘এখান থেকেই চিনিয়ে দাও না। দূরের থেকেই চিনে রাখা ভালো তো। কিছু মনে কোরো না ভাই, আমি কীরকম বেখাপ্পা। কারো সঙ্গে মিশতে পারি না সহজে। খাপ খাওয়াতে পারি না তেমনটা।’ - - - - - -

‘সে কী হে ! একটা বিপ্লবী কাগজের সম্পাদক তুমি, অথচ অনুশীলন পার্টি, যুগান্তর পার্টির নাম শোনোনি ? আশ্চর্য্য !’ কাজী তো হতবাক।

‘যুগান্তরের আবার পার্টি কিসের ? একজনই তো জানি যুগান্তরের - এই আমি। আমিই পার্টি - এক এবং অদ্বিতীয়। আমার আবার পার্টি কোথায় ?’

‘আহা, যুগান্তর পার্টি, অনুশীলন পার্টি - নামকরা সব বিপ্লবীদের দল - শ্রী অরবিন্দের গড়ে যাওয়া - জানো না ? সেইসব দলের নায়ক তো এরাই - এই পূর্ণ দাস, পুলিন দাস, যাদুগোপাল, কিরণদা, অমরদা, বিপিনদা - - - ’ - - -

‘যাক গে, যেতে দাও। আমার অবাক লাগছে, কোনো বিপ্লবী দলের সঙ্গে তোমার যোগাযোগ নেই - - -’ - - -

‘কোনো বিপ্লবী বা বিপ্লবীদের সঙ্গে সংযোগ নেই, অথচ তোমার কাগজটা বিপ্লবের - ঐ যুগান্তর ?’

‘যুগান্তর না বলে হুজুগান্তর বলো বরং ! তোমার ধূমকেতু দেখে,  তোমার দেখাদেখি আরো সবাই কাগজ বার করেছে দেখে,সেই হুজুগে আমিও ঐ - আমারও ধুমধাম !’

আমার সঙ্গে কোনো বিপ্লবী বা বিপ্লবীর সংযোগ নেই দেখে,কেন নেই, বলে কাজী যেমন সপ্রশ্ন আর হতভম্ব হয়েছিল, সেইরকমের এক বিমূঢ় জিজ্ঞাসা ছিল বোধ হয় তখনকার সরকারেরও। - - -” (পৃঃ ৩৮৩-৩৮৬ )

৭। “বহরমপুরের কারাবাসের এক মাস দেখতে দেখতে ফুরিয়ে গেল আমাদের। এগিয়ে এলো খালাস পাবার তারিখ।

দেখে দেখে আর চেখে চেখে ফুর্তির মধ্যেই কেটেছিল দিনগুলো। দেখবার ছিল একজনই কেবল - সেই কাজী। সে-ই একমাত্র দ্রষ্টব্য। মুহূর্তে মুহূর্তে তার রূপ বদলাচ্ছে,সুর বদলাচ্ছে,মেজাজ বদলাচ্ছে। মূহুর্মুহু সে অপরূপ।

কোনো বিধিনিয়মের রুল দিয়েই তাকে ধরা যায় না, মাপা যায় না, ব্যাখ্যা করা যায় না। সেই অভিব্যক্তির আখ্যান হতে পারে, কিন্তু ব্যাখ্যান নেই। এমন পরমাশ্চর্য বুঝি এর আগে দেখা গেছল সেই নবদ্বীপেই - বাংলার আবালবৃদ্ধবনিতাকে যা মাতিয়েছিল আরেকবার। অপর দৃষ্টান্ত দ্বাপরের - বৃন্দাবনের মেয়েপুরুষকে পাগল করে তুলবার সেই।

দ্রষ্টব্যই নয় কেবল কাজী, শ্রোতব্যও বলতে হয়। সুরের তালে অহরহ তার আনাগোনা। নিজেও সে যেমন মাতোয়ারা, তেমনি গানে গানে মাতিয়ে রাখত আমাদের সবাইকে। নিজের গানের চেয়েও বেশি গাইত সে রবীন্দ্রসঙ্গীত।

চোখে দেখার দিকে যেমন,চেখে দেখার দিকেও তেমনি সে। ভালোমন্দ নানান খানা, নানা খাবার চাখা-র চাখাবার সে ছাড়া কে আর ? কয়েদখানার পাকিস্তানের কায়েদে আজম নজরুল। কতো রকমের রান্নার কায়দাকানুন জানা তার, তা বলবার নয়।

অবশ্যি আমাদের খানা পাকানোর থেকে তাবৎ পরিচর্যার জন্য জেলের থেকে কয়েকজনা মেট মজুদ ছিল, কিন্তু তাহলেও কাজী নিজগুণেই রান্নাঘরের হাতা-খুনতিতে গিয়ে হাত লাগাতো বেশির ভাগ।

কতো দেশবিদেশের রান্নাবান্নাই না জানত সে। শেখদের হারেমের শিককাবাব(নাকি, শেখদের কাবু করা শেখকাবাব ?) থেকে শুরু করে তুর্ক মুল্লুকের মুর্গমুসল্লাম (যা খেয়ে বোগদাদের আমীররা তুর্কীনাচন নাচতেন), আফগানি পোলাও থেকে বেলুচিস্তানের চাপাটি পেরিয়ে পেশোয়ারী প্যাটিস হয়ে পাটনাই চাঁপ পর্যন্ত - হরেক কিসিমের মোগলাই কারিকোর্মা রোস্ট - সেই সঙ্গে আমাদের এদেশী বিরিয়ানি আর চিরদিনের পরমান্ন নিয়ে - কতো রকমের খানদানি খানাপিনা যে !

খেয়ে খেয়ে চেহারা ফিরে গেল আমার, চেকনাই দেখা দিল। ক’খানা হাড় নিয়ে কয়েদখানায় গেছলাম, অদৃষ্ট হাতে করে - সেখানেই এগুলোর সদগতি হবে সেই আশায়, এদিকে নানান খানায় হৃষ্ট হয়ে গায়ে গত্তি গজিয়ে সেখান থেকে বেরুলাম, বেশ পুষ্ট হয়ে।” (পৃঃ ৩৯৩ )

৮। “কবি, বিপ্লবপথিক আর প্রেমিক একদিক দিয়ে সতীর্থই - তাদের ওই পাগলামিতেই। সেদিক দিয়ে ধরলে পাগলামির তীর্থক্ষেত্র এই বহরমপুরের একদা খ্যাত পাগলা-গারদের এক গোয়ালে সগোত্রদের সবাইকার ঠাঁই করে দিয়ে সরকার বাহাদুর বেশ রসবোধের পরিচয় দিয়েছিলেন।” (পৃঃ ৩৮৮ )

 

ধূমকেতু

৯। “ ‘নজরুলের ধূমকেতু কি তখনকার কাগজ না ? কেমন চলত ধূমকেতু ?’

‘দারুন। বিশ পঁচিশ হাজার কপি বিকিয়ে যেত বাজারে পড়তে না পড়তেই। সময়ের মতন কাগজটাও ছিল গরম। সে সময়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল ঐ ধূমকেতু - সবার চেয়ে বেশি চাহিদা ছিল তার। তাছাড়া, বারীনদা নলিনীদাদের বিজলী,উপেনদার আত্নশক্তি, আর ‘শঙ্খ’বলেও একটা যেন কাগজ বেরুত তখন,কাদের জানি না। সমসাময়িক সাপ্তাহিক সব। সাপ্তাহিক পত্রের যেন জোয়ার এসেছিল সে-সময়টায়।’

‘সেই জোয়ারেই আপনারা গা ভাসিয়েছিলেন সবাই ?’

‘আমার বেলায় অনেকটা তাই, আপনি বলতে পারেন। নজরুলের বেলায় তা নয়, ওর একটা মিশন ছিল না ? বিপ্লববার্তা ঘোষণার ? সে যেমন কবি তেমনি এক যুগন্ধর নেতাও যে আবার। আর, বিজলী ছিল এক অভিজাত পত্রিকা। বীরবল, পন্ডিচেরির নলিনী গুপ্ত, সুরেশ চক্রবর্তী প্রমুখ জাতলিখিয়েরা লিখতেন তাতে। নলিনীদার দারুন খাতির ছিল সাহিত্য সমাজে - এমন চমৎকার হাসির গান গাইতেন তিনি , আবার বানাতেও পারতেন তিনি। দাঠাকুরের ( শরৎ পন্ডিতমশাই ) ‘কলকাতার ভুলে ভরা’ গানখানা তাঁর গলার থেকে তো চালু হয়ে যায়। রবীন্দ্রজয়ন্তীর কালে অমল হোমকে নিয়ে তাঁর রচিত গানটাও বাজার মাত করেছিল। চমৎকার গানখানা, কিন্তু তার একলাইনও আমার মনে নেই - যা আমার বিষ্মৃতিশক্তি না !’

‘ধূমকেতুর সঙ্গে আপনার যুগান্তরের তফাতটা ছিল কোথায় ?’

‘নজরুলের লেখায় খোলাখুলি রাজদ্রোহের কথা থাকত। বিপ্লবের প্রেরনায় ভরা। তবে কবি তো সে, উপমা-ইঙ্গিতের আড়ালে তার বক্তব্যটা প্রকাশ পেত স্বভাবতই। আইনের প্যাঁচে তার নাগাল পাওয়া সহজ ছিল না। যেমন ধরুন না - ধূমকেতুতে বেরুনো ‘দুঃশাসনের রক্ত চাই’ বলে বিখ্যাত কবিতাটা। বলরে বন্য হিংস্র বীর/ দুঃশাসনের চাই রুধির/ চাই রুধির রক্ত চাই/ ঘোষো দিকে দিকে এই কথাই/ দুঃশাসনের রক্ত চাই/ দুঃশাসনের রক্ত চাই/ ওরে, এ যে সেই দুঃশাসন/ দিলো শত বীরে নির্বাসন/ কচি শিশু বেঁধে বেত্রাঘাত/ করেছে রে এই ক্রুর স্যাঙাৎ/ মা বোনেদের হরেছে লাজ/ দিনের আলোকে এই পিশাচ/ বুক ফেটে চোখে জল আসে/ তারে ক্ষমা করা ভীরুতা সে/ হিংসাশী মোরা মাংসাশী/ ভন্ডামি ভালো বাসাবাসি। এমনি পড়লে মনে হবে যে মহাভারতের উল্লেখ-কাহিণী, কিন্তু আসল অর্থটা কী,পাঠকের তা বোঝার কিছু বাকী থাকবে না। বাংলার উদ্ধত যৌবন তখন কাজীর কবিতায় উম্মত্ত হয়েছিল। কিন্তু এহেন অর্থের দ্বিত্ব থাকা সত্বেও সরকারের দ্বিধা বেশিদিন থাকেনি। আইনের পাকে অচিরেই পড়তে হয়েছিল নজরুলকে। জেল হয়েছিল দু’বছরের জন্য। কারাবরণের আগে আদালতে তার আত্নসমর্থনে যে কবুলতি সে দেয়, সেই ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ অবিস্মরণীয় এক দলিল।’

‘আপনার যুগান্তরের প্রেরণাটা কী ছিল ?’

‘রাজদ্রোহ নয় ঠিক। সমাজদ্রোহ বলা হয়ত যায়। আমাদের কালের সমাজ-ব্যবস্থায় যে সব অবিচার অনাচার অত্যাচার মনে প্রচন্ড নাড়া দিত, তার বিরুদ্ধেই আমি কলম ধরেছিলাম। ইংরাজের শাসন আমায় তেমন পীড়িত করেনি,যাকে বলে Social Injustice সেই সব - যেমন অব্রাহ্মণদের ওপরে বামুনদের অত্যাচার, প্রজাদের ওপরে জমিদারের শোষণপেষণ - এই সবেই আমি বেশি অভিভূত হয়েছিলাম। সমাজবাদের ধুমধাড়াক্কা তখনো তেমনটা পড়েনি, সোভিয়েট মুল্লুকে সমাজতন্ত্র পত্তনের নামগন্ধ বাতাসে ভাসছিল, ঘুনাক্ষরের বার্তায় আসছিল - শুধু তারই সুদূর হাতছানি কাউকে কাউকে যেন কেমন উন্মনা করছে সে সময়। যার আবহে মনে হয় , প্রেমেন লিখেছিল, আমি কবি যত কামারের/ কুমোরের/ যত ছুতোরের আর ইতরের/ ইত্যাদি (মিস-কোটেশন হয়ে গেল হয়ত বা ! যে মেমারি !) । প্রত্যাসন্ন যুগের সেই সম্ভাবনার আবছায়াতেই আমার সে সময়ের লেখা যত না। পরে সেই সব ভাব-ভাবনাই ফলাও করে প্রবন্ধাকারে আমি ফলিয়েছি তারানাথ রায় সম্পাদিত নবশক্তির পাতায় - যা পরে আমার মস্কো বনাম পন্ডিচেরি আর ফানুসফাটাই - এই দুই নিবন্ধ বইয়ে প্রকাশ পেয়েছে। কাজীকেও এই পথে আসতে হয়েছিল শেষপর্যন্ত - তার ‘সাম্যের গান’ কবিতায় যার পরাকাষ্ঠা দেখা যায় । তবে কাজী ছিল আসলে জন্মবিদ্রোহী - তার সেই সর্বপ্রথম কবিতার মতই কায়মনোবাক্যে সর্বদাই বিদ্রোহী সে। এমন কি তার ফাউন্টেন পেনের কালিও ছিল লাল। ‘ রক্ত ঝরাতে পারি না তো একা/ তাই লিখে যাই এ রক্তলেখা –’ তার কোন কবিতার কোথায় যেন আছে না ?’”  (পৃঃ ৩৫০-৩৫২ )

 

তারুণ্যোচ্ছল রসময়তা

১০। “তার ওপরে সেদিন কাজী সঙ্গী আবার ! কাজী যেখানে আনন্দ সেখানে - জীবন যেন তরল পানীয়ের মতই শত ধারায় উচ্ছল-উচ্ছসিত ! ------- (পৃঃ ১৩৮ )

হেমেনদা, নজরুল, নৃপেন আর আমি চারজন চললাম ট্যাক্সি নিয়ে।

হ্যারিসন রোডের কাছাকাছি আসতেই প্রায় একটা অ্যাক্সিডেন্ট বাধে আর কি ! কাজীও চেঁচিয়ে উঠেছে - রোকো রোকো ! ট্যাকসিটাও দাঁড়িয়ে পড়েছে তক্ষুনি। ড্রাইভারটা ছিল বেশ হুঁশিয়ার।

কিন্তু তারপর আর ছাড়েই না গাড়িটা !

- এই, রোকা কাহে ?

- আপ খাড়া করনে বোলা না ?

- তুমকো নেহি, ঘোড়াকো।

(এক ঘোড়ার এক্কা - একটা ফিটন গাড়ীও পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল সেই সময় !) ” (পৃঃ ১৩৯)

......................................................................

*যথাক্রমে শ্রীচৈতন্য এবং শ্রীকৃষ্ণ ?

 

 

দরদী শরৎচন্দ্র

[ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে শিবরাম চক্রবর্তী ]

 

১। “শিশিরকুমারের নাট্যমঞ্চে শরৎচন্দ্রের ‘ষোড়শী’ নিয়েই এই অঘটন । শরৎবাবুর দেনাপাওনা উপন্যাসের নাট্যরূপ ঐ  ষোড়শী।

অবশ্য ষোড়শী নিয়ে মারামারি এই প্রথম নয় এবং আজকেরও না - ট্রয় নগরী ডেস্ট্রয়ের মূলেও ছিল এই ষোড়শীই, এমনকি তারও আগে সুন্দ-উপসুন্দের আমল থেকেই চলে আসছে এই কান্ড।

তবে এবারকার লড়াইটা ছিল কাগজে কাগজেই।

আমার সেই তরুণ বয়সে ইবসেনের নাটক পড়ে বিষয়বস্তূতে তো বটেই,আরো বেশি করে তার রচনার টেকনিকে আমি অভিভূত হয়েছিলাম।

আমাদের দেশে সেকালে থিয়েটারের পালা পাঁচ অঙ্কে অসংখ্য গর্ভাঙ্কে বহু পাত্রপাত্রী এবং সুদীর্ঘ দেশকালে বিস্তৃত বেশ এক গন্ধমাদনী কান্ডই ছিল। সেখানে অল্প সময়কালে ঘনবিন্যস্ত ইবসেনের নাটকগুলি স্বভাবতই চমকিত করেছিল আমায়।

বাংলায় কি এমনটা করা যায় না ?

আমার মাথায় তখনও মৌলিক নাট্য রচনার কোনো প্লট দানা বাঁধেনি। শরৎচন্দ্রের দেনাপাওনা সে সময় সবে ‘ভারতবর্ষে’ বেরিয়েছে। আমার মনে হল  ওই উপন্যাসটিকে নিয়ে এধরনের নাট্যরূপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায় বোধ করি। - - - - - -

- - - - যাই হোক, ইবসনি কায়দায় সেই বিস্তৃত বইকে চার অঙ্কের - প্রত্যেক অঙ্ক একটিমাত্র দৃশ্যে সম্পুর্ন - নাট্যাকারে ঘনসম্বন্ধরূপে দাঁড় করানো গেল। সেই নাট্যরূপ নিয়ে আমি শিশিরবাবুর কাছে গেলাম, তিনি তখন ঘোষ লেনের বাড়িতে থাকতেন।

কিন্তু কেন জানি ওটা তাঁর মনে ধরল না।

তখন আমি নাটকটি নিয়ে ‘ভারতী’ সম্পাদিকা সরলা দেবীকে দিলাম। জগৎ ভট্টাচার্য তখন পত্রিকাটার কার্যনির্বাহক ছিলেন। সম্পাদনা কার্যও করতেন তিনি।

ভারতীর পূজাসংখ্যায়, সেইটাই তার নবপর্য্যায়ের শেষ সংখ্যা আবার, বেরিয়ে গেল রচনাটা।

বেরুল কিন্তু শরৎবাবুর নামেই। নাট্যরূপান্তর সাধনের জন্য তার কোথাও আমার নামগন্ধ কিছুই ছিল না। সেটা যে ব্যবসায়িক কারণেই তা বোঝা তেমন কষ্টকর হয়নি। তাছাড়া সেই জগতের নিয়ম - ব্যবসায়ী জগতের ধারাই তাই। এইরকমটাই ধারণা হয়েছিল আমার - আমার বন্ধু জগৎ ভট্টাচার্যের ওপর কোনো কটাক্ষ করছিনে।

যাই হোক, ওই প্রকাশের ফলে সাড়া পড়ে গেল থিয়েটার পাড়ায়। স্টার থিয়েটারের প্রবোধ গুহ মশাই ওটা তাঁর পাদপিঠে মঞ্চস্থ করতে চাইলেন। এবং তারপরও টনক নড়ল শিশিরবাবুর।

প্রবোধবাবুর আগেভাগেই তিনি পানিত্রাসে গিয়ে শরৎবাবুর কাছ থেকে অভিনয় স্বত্ব নিয়ে এলেন।

 

মহাসমারোহে অভিনীত হয়েছিল বইটা। দীর্ঘকাল ধরে অব্যাহত সাফল্যে চলেছিল সে-পালাটা। - - - -

 

যাই হোক - - - -  তার জন্য আমার কোনো মাথাব্যাথা ছিল না, নাট্যরূপের জন্য আমার নাম না থাকলেও নয় তেমনটা কিন্তু উক্ত প্রয়াসে আমার অংশ হেতু, কৃতিত্ব গৌরবের কিছুটা না হোক, আংশিক অর্থ প্রাপ্তির কিঞ্চিৎ প্রত্যাশা স্বভাবতই ছিল আমার।

একজন সংগ্রামী নবীন লেখকের পক্ষে - যদিও এখনকার ব্যাপকতর ভূমিকায় মহত্তর অর্থের সংগ্রামী নয় - নিছক নিজের তুচ্ছ জীবনধারনের জন্যই যার জীবনসংগ্রাম - তার কাছে নাম বা টাকা কোনটাই নেহাত ফ্যালনা নয়।

কিন্তু এই ব্যাপারে নাম তো হলই না, আর টাকাও যা পেলাম তা নামমাত্রই - শতখানেকের বেশী নয় কোনমতেই। সত্যিই এই ব্যাপারটা আমার কাছে ভারী মর্মান্তিক ঠেকেছিল তখন।

এবং স্বভাবতই শরৎচন্দ্র আর শিশিরকুমারের প্রতি আমার রাগ হয়েছিল দারুন। - - - - - -  অবশ্যি আমার তখনকার সেই মর্মদাহ বেশিদিন থাকেনি। সে বয়সে সবাই স্বভাবতই সব কিছু ক্ষমা করতে পারে, সহজেই ভুলে যায় সব। - - - - - -

বলতে গেলে, আমার ভাগ্যে পর্বতের সেই মূষিক প্রসবে আমার কোনো দুঃখ নেই এখন আর। এবং দুঃখিত নই অনেকদিন থেকেই। আমার জীবনের সেই বিষাদ পর্বকে জীবনের স্বাদ-বয়ে-আনা একটা পার্বন বলেই মেনে নিয়েছিলাম আমি। তখন তখনই। মনে হয়েছিল আমার যে, ইহাই নিয়ম। পৃথিবীর চেহারাই এই। দুনিয়ার হালচাল এই ধারার।  এ নিয়ে দুঃখ করে কোনো লাভ নেই। আর সেই দুঃখ মনের মধ্যে পুষে রাখার মতন অপুষ্টিকর কিছু আর হয় না।  

ষোড়শীর সূত্রে টাকা আর স্বীকৃতি পেলে তার সাফল্যে আমি নাট্যজগতের বিপথেই চলে যেতাম। হয়ত - রঙ্গমঞ্চের চোরাগলিতেই ঘুরে মরতাম এতদিন। সেই পোষ মাস আমার সর্বনাশ ডেকে আনত। তার বদলে যে ধারাবাহিক উপোস মাসগুলি আমায় কাটাতে হয়েছিল, হয়ত তার হেতুই আমার জীবনের সত্যিকার পথ আমি খুঁজে পেয়েছি। তার জন্যই আমি ধন্য। আমি কৃতার্থ।  

সেই জন্যেই শিশিরকুমার এবং শরৎচন্দ্রের প্রতি কৃতজ্ঞ আমি আজ। তাঁদের শাপ আমার বরাতে বর হয়ে এসেছে। - - - - - - - -  

প্রবীণ মানুষদের প্রাজ্ঞ মুখোশের রাজ্য থেকে নির্বাসন লাভ করে তরতাজা কিশোর-কিশোরীদের একান্ত আপনার হয়ে তাদের অনন্ত মাধুরী অফুরন্ত মধুর সাম্রাজ্যে আসবার সুযোগ পেলাম আমি।

নাকের বদলে নরুন নিয়ে নাকাল না হয়ে আমার সম্মুখে এল যতো কচি কচি হাসি হাসি মুখ।

বিতর্কিত ষোড়শী নিয়ে কোনো দুঃখই থাকে না আর মনে, নতুন নতুন ষোড়শীরা এসে দেখা দেয় জীবনে। ‘দূরকে করিলে নিকট বন্ধু পরকে করিলে ভাই’ কবির সেই স্বপ্নটাই সত্য হয়ে ওঠে,সব ঠাঁই নিজের ঘর খুঁজে পাই বুঝি। নিত্যকালের কিশোর-কিশোরীদের চিত্তলোকেই।’(পৃষ্ঠাঃ ১৩৪-১৩৬)

 

২। “ষোড়শী নিয়ে লড়ালড়ি চিরদিনের - সেই সুন্দ-উপসুন্দের আমল থেকেই । আর দেনাপাওনার জেরও কখনই মেটে না। আর সেই সব মিলিয়ে সমস্ত ব্যাপারটাই কেমন যেন অসুন্দর।

জানি ; কিন্তু জানলেও মন মানতে চায় না। এমন কি, কোনো ভাবমুর্তি নিছক মনগড়া হলেও তা ভাঙলে মনে লাগে, না লেগে পারে না। নিতান্ত পৌত্তলিকতা যদিও,অন্তর্গত সেই পুতুল (বা প্রতিমাই) ভেঙে পড়লে মনের খানিকটা নিয়েই পড়ে বুঝি।

আমার মর্মের পীঠস্থান থেকে শরৎচন্দ্রের মর্মর মূর্তির স্খলন সেদিন আমার মনে বেশি লেগেছিল - লাভালাভের নীট হিসেবের থেকেও। তাঁর সেই ভঙ্গুর দশাই তখন আমার কাছে মর্মান্তিক।

ভাবমূর্তি উপে গিয়ে কী ভাবমূর্তিই না দেখেছিলাম তাঁর সেদিন।

ষোড়শীর বেনিফিট নাইটে আমারও কিছু প্রাপ্যগন্ডা থাকবে আশ্বাস পেয়েছিলাম শিশিরবাবুর।

অভিনয় শেষে গ্রীনরুমে গিয়ে জানলাম, (শিশিরবাবুর স্বমুখেই) সেদিনকার বিক্রির সব টাকা একটা থলেয় ভরে রাখা হয়েছিল, সেই থলিটা নিয়ে শরৎচন্দ্র চলে গেছেন খানিক আগেই। শিশিরবাবু আমার অংশত দাবীর কথাটা তাকে জানিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি নাকি তা দাবিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন – ‘শিবরাম টাকা নিয়ে কী করবে ? বিয়ে করেনি কিচ্ছু না ! তার ছেলে নেই পুলে নেই, ঘর নেই সংসার নেই - টাকার তার কীসের দরকার !’                                            

এই বলে থলে নিয়ে ট্যাকসি ডাকিয়ে এতক্ষনে হয়ত হাওড়া স্টেশনে।

তবুও শিশিরকুমার বলতে গেছলেন – ‘ক্ষমাঘেন্না করেও কিছু অন্তত দিন ওকে শরৎদা !’

তার জবাবে তিনি এই বলেছেন, ‘আমার বেনিফিট নাইটের বখরা ওকে দিতে যাব কেন ? এ রাত্তিরে টিকিট বিক্রি হয়েছে আমার নামে, আমার জন্য টাকা দিয়ে দেখতে এসেছে সবাই। এর ভেতর সে আসছে কোথা থেকে ?’

আমি আর কিছু কইতে পারি না। সত্যি ! আমার টাকার দরকার কী ! মেসের টাকা বাকী, এর ওর তার কাছে ধার, এটা ওটা সেটার দরকার - কিন্তু তা নিয়ে উচ্চবাচ্যর কী প্রয়োজন ! আমার অভাবের চাকী এখানে ঘুরিয়ে কী লাভ ? তা শুধু আমাকে পিষ্ট করার জন্যই, অপরের পৃষ্ঠপোষকতা লাভের নিমিত্ত নয়। আমার নিজের চরকায় আর কেউ তেল দিতে আসবে কিসের গরজে ?

আমি চুপ করে থাকি । শিশিরবাবু তাঁর এক ভাইকে বলেন – ‘দ্যাখ তো কিছু পড়ে আছে কিনা কোথাও।’

‘ক্যাশবাক্সে যা ছিলো, সবই তো দেওয়া হয়ে গেছে শরৎদাকে। টিকিটঘরে একটা পয়সাও পড়ে নেই আর।’

‘আমার চেক বইটা আন।’চেক বই এলে আমাকে শুধান, ‘ক্রস চেক দেবো ?’

‘ভাঙাবো কোথায় ? আমার কি কোনো অ্যাকাউন্ট আছে কোথাও !’

‘একটা পে টু সেলফ্‌ লিখে দাওনা দাদা,’ তাঁর ভাই বাতলায়।

একশ’কুড়ি টাকার একখানা সেলফ্‌ চেক কেটে দেন তিনি তৎক্ষণাৎ। ‘ আমার সেভিংস অ্যাকাউন্টে এই টাকাটাই পড়ে আছে দেখছি।’

এর বেশি আর কিছু বললেন না। যা পাই যথা লাভ জ্ঞান করে আমিও বাক্যব্যয় বাহুল্য বোধ করি।

সেই একশ’কুড়িই আমার কাছে এক কাঁড়ি। তখনকার মতন দুঃখ প্রশমনের পক্ষে অনেক টাকা। এই সেলফ্‌ হেলপেই চলে যাবে দিনকতক।

কিন্তু সত্যি বলতে, শিশিরবাবুর দিক থেকে ততটা নয়, শরৎচন্দ্রের ব্যবহারে আমার আঁতে লেগেছিল যেমনটা । উপন্যাসের দরদী শরৎচন্দ্র জীবনের বাস্তববিন্যাসে এক নিমেষে কোথায় যে হারিয়ে গেলেন।

মনে পড়ল কবির কথা, কাব্য পড়ে যেমন ভাবো, কবি তেমন নয় গো। কিন্তু তাহলেও একী ! যার লেখার পত্রে, ছত্রে ছত্রে এত দরদ, টাকার দিক দিয়ে ধরতে গেলে তার এই দস্তুর ! টাকার কষ্টিপাথরে আর কষ্টের অকুল পাথারেই মানুষের যথার্থ পরিচয় বলে যে, তা মিথ্যে নয়।  

কিন্তু এটাই স্বাভাবিক - আজ আমি তা বুঝতে পারি। সাধারণ মানুষ অসাধারণদের চেয়ে মানুষ হিসেবে অনেক বড় সত্যিই। এবং সবার উপরে মানুষ সত্য যে মানুষ, সে হচ্ছে এই জনসাধারণ। উপরওয়ালা মানুষরা না। যেহেতু যে মানুষ যত উঁচোয় উঠেছে, আরেক দিকে সে ততটা নিচেই নেমে গেছে। যে প্রাসাদ যত উর্দ্ধলোকে স্থিত, নিশ্চিতরূপেই তার ভিত নেমেছে তত নিচেয় - যত নিভৃতই হোক না। সমস্তরে সাধারণ মানুষ সমান স্তরের সকলের সঙ্গে সমতুল্য ব্যবহার করে মানুষের মতই, কিন্তু উচ্চলোকে অভিব্যক্তিরা (তাঁদের শিল্পে,সাহিত্যসৃষ্টিতে,যেরূপেই দেখা দিন না) সাধারণদের তুচ্ছ জ্ঞান করে থাকেন। অতি-মনুষ্যরা অবশ্যই অবমনুষ্য হতে বাধ্য। না হয়ে যায় না।  

প্রতিভার এটা অভিসম্পাত কিনা জানি না, তবে সপ্রতিভদের এই উৎপাত। বিশ্বাত্নবোধে বিশ্বকে আত্নসাৎ করার ভগবদ্দত্ত ন্যায্য অধিকার তাঁদের। অন্তত তাঁরা তাই মনে করেন। এবং সেই কর্মের হেতু কোনো দুঃখ দরদ দূরে থাক,সঙ্কোচমাত্র বোধ করেন না। এইহেতু প্রতিভাধরদের থেকে দূরে থাকাই নিরাপদ।  

প্রতিভার অবদানই শ্রেয়, তাই আমাদের গ্রহনীয় হওয়া উচিত। কিন্তু সেই সঙ্গে প্রতিভার প্রতিভুকেও নিতে গেলে তাঁর খাঁই মেটাতে নিজের লেশমাত্রও অবশেষ থাকে না, অবশেষে নিজেও যেতে হয়। প্রতিভা সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম। পতঞ্জলির অষ্টাঙ্গযোগে নিয়মের পর যমের স্থান - প্রতিভা সেই যম। আশপাশের সবকিছু, সবাইকেই তিনি হজম করেন। তাই করেই বেঁচেবর্তে থাকেন, বাড়বাড়ন্ত হয় তার।

গোরুর চেয়ে গোরুর দুধ ভালো, তাই খেয়েই খুশি থাকতে হয়, তার ওপরেও যে গোসেবায় এগোয়, সে-হতভাগা কখনো না কখনো গোরুর গুঁতো খায়ই - যদি তার নিজেরও সমান গোরুত্ব না থাকে। দুঃখের কথা, এই জ্ঞান আগের থেকে কারু হয় না। হলে পর হাড়ে হাড়ে সেই শিক্ষালাভের পর তা আর যাবার নয়। সেই শিক্ষা কখনই সে হারায় না আবার। তাবৎ প্রতিভার থেকে তার পর থেকে সে সুদূরপরাহত হয়ে থাকে। অবশ্য দূরের একটা নমস্কার রাখেই।  

পৃথিবীতে চিরদিনই দু’ধরনের মানুষ আছে,থাকবেও। এক দল দিয়ে ফতুর - বিদ্যাসাগর, দেশবন্ধুগোত্রীয় ; আরেক দল নিতে চতুর। তাদেরই হরণ পূরণে অদানে প্রদানে চলতি দুনিয়া। এর খেলা চালু রাখতে সবারই দরকার। এটা শুধু জীবনযাপনেরই মূল কথা নয়, এর ভেতর দিয়েই অন্তরালের খেলোয়াড় চিরদিনের সেই লীলাময়ের মোলাকাত। সেই যিনি বহু বাসনার প্রাণপণ চাওয়ার থেকে বঞ্চিত করে সারা জীবন বাঁচান আমাদের বঞ্চনার ছাইয়ের গাদা থেকে পরম সোনার সঞ্চয় উদ্ধার করেন বারংবার। থাবড়া মেরে ব্যথা দিয়ে ভুল পথের থেকে মুখ ঘুরিয়ে ঠিকপথে নিয়ে আসেন শেষতক্‌। নিজের বৃত্তিপথের অমৃত উত্তরণে আনেন। ভগবান যা করেন ভালোর জন্যই, মিথ্যে নয়। শেষ পর্যন্ত বেশই হয়। - - - - - --”  (পৃষ্ঠা : ৪০৫ - ৪০৭)

 

-----------------------------------

 

শিবরাম চক্রবর্তীর বই




মন্তব্য

কৌস্তুভ এর ছবি

অনেক পরিশ্রম করেছেন দেখছি।

উদ্ধৃত অংশগুলো বেশ ইন্টারেস্টিং। মানুষ হিসাবে শিবরামও দোষে-গুণে। অর্থাভাব তাঁর প্রচণ্ডই ছিল, এবং সে বিষয়ে তাঁকেও শরৎবাবুর মতন বাস্তববাদী হতেই শুনেছি।

হিমু এর ছবি

বইটা পড়ার খুব ইচ্ছা আছে।

শেষদিকের কথাগুলো পড়ে খুব কষ্ট পেলাম। হয়তো শিবরাম হাসির গল্প লিখে হাসিয়ে মেরেছেন বলেই তাঁর আর্তনাদ খুব পীড়া দিলো।

অনেক পরিশ্রমসাধ্য পোস্ট। ধন্যবাদ জানাই।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

মনমাঝি [অতিথি] এর ছবি

প্রথম যখন পড়ি তখন আমিও কষ্ট পেয়েছিলাম খুব। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

সুজন চৌধুরী এর ছবি

ভাবলাম কাজী সাহেবের মতই দারুণ কিছু পড়বো শরৎবাবুর বিষয় কিন্তু গেলো মনটা খারাপ হয়ে।অনেক খাটুনি গেছে আপনার, অনেক ধন্যবাদ লেখার জন্য।
বইটার কী কোন অনলাইন লিংক আছে কারো কাছে?


লাল গানে নীল সুর, হাসি হাসি গন্ধ

মনমাঝি [অতিথি] এর ছবি

আপনাকেও ধন্যবাদ পড়ার জন্য। আমার কাছে এই বইয়ের কোন অনলাইন লিঙ্ক নেই। তবে পোস্টটার নীচে একটা লিঙ্ক দিয়েছি - ওটা চেক করে দেখতে পারেন।

তাসনীম এর ছবি

খুব ভালো লাগল। বইটা আমার খুব প্রিয় বই, বিশেষ কিছু স্মৃতি জড়িয়ে আছে, মন খারাপ হলে এই বইটার অংশ বিশেষ পড়তাম এক সময়, এখন মাঝে মধ্যে খুলে দেখি। একটা রিভিউ লেখার ইচ্ছে ছিল বইটা নিয়ে, পরিশ্রমের ভয়ে আর করা হয় নি।

এই সুন্দর শ্রমসাধ্য কাজটা করার জন্য অনেক ধন্যবাদ এবং সচলে স্বাগতম।

+++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

মনমাঝি [অতিথি] এর ছবি

আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। রিভিঊ লেখার সময় যদি না পান, আর অন্য কোন অসুবিধা যদি না থাকে তাহলে আপনার ঐ "বিশেষ কিছু স্মৃতি" নিয়েই কিছু একটা লিখে ফেলুন না। আপনার লেখা 'স্মৃতিচারন' নির্ঘাৎ উপভোগ্য সুস্বাদু কিছু একটা হবে! স্মৃতিচারন-মাস্টারের কাছে এইটুকু আমাদের প্রাপ্য।

তিথীডোর এর ছবি

চলুক
সচলে স্বাগতম।

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

মনমাঝি [অতিথি] এর ছবি

ধন্যবাদ।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

অনেক খেটেছেন।

লেখালেখির ব্যায়াম চালু রাখুন।

----------------------------------------------------------------
অভ্র আমার ওংকার

মনমাঝি [অতিথি] এর ছবি

এটা যতটা না 'লেখালেখির' ব্যায়াম, তার চেয়েবেশি টাইপিং-এর ব্যায়াম হয়ে গেছে! খাটুনি আসলে গিয়েছে আঙুলের উপর দিয়ে। মাথার ব্যায়ামটা হচ্ছে না। যেসব বিষয় নিয়ে লিখতে চাই, সেসবে তো হাত দেয়ারই সাহস পাচ্ছি না আসল খাটুনির ভয়ে।

দময়ন্তী এর ছবি

এই বইটা আর এর পরের 'ভালবাসা পৃথিবী ঈশ্বর'ও আমার প্রিয় বইগুলির অন্যতম৷
-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

মনমাঝি [অতিথি] এর ছবি

নামের শব্দগুলি একটু অদল-বদল করে এরপরেও এই বইয়ের আরেকটা খন্ড আছে নাকি ? জানতাম নাতো !!

সংসপ্তক এর ছবি

দারুন লেখা! বইটা পড়তে মঞ্চাইছে। পড়ে ফেলুম।
.........
আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা

.........
আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা

মনমাঝি [অতিথি] এর ছবি

পড়ে ফেলুন। ভালো লাগবে।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

সচলে স্বাগতম। আপনি লম্বা রেসের ঘোড়া, দৌড়টা বন্ধ করবেন না। এতে আপনার কী লাভ হবে জানিনা, তবে আমাদের ফায়দা হবে।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

মনমাঝি [অতিথি] এর ছবি

রেস হলে তো পারবো না ভাই! একা একাই যট্টুক পারি হেঁটে, খুঁড়িয়ে, দৌঁড়ে চলতে চেষ্টা করবো। এক্ষেত্রে ঘোড়ার চেয়ে বরং কচ্ছপই আমার আদর্শ দেঁতো হাসি

আপনাকে ধন্যবাদ।

স্নিগ্ধা এর ছবি

কিছুদিন ধরেই মন্তব্যে আপনার নাম দেখছিলাম, মানে আপনার মন্তব্য দেখছিলাম। আজকে চমৎকার এই পোস্ট পড়ে বুঝতে পারলাম সচলায়তন আরও একজন দারুণ লেখক পেতে যাচ্ছে হাসি

মনমাঝি [অতিথি] এর ছবি

ধন্যবাদ। শুধু মন্তব্য না, আমার এর আগে আরো (মাত্র) ২ টা পোস্ট আছে।

সবুজ বাঘ এর ছবি

শরৎ চাটুজ্যে নাকি ওই টাইমেই ষাইট আজার ট্যাকা দিয়া কলিকাতা ছিটিতে বাড়ি বানাইছিল। ট্যাকার থইলা এমনে ঘাই দিয়া না নিলে কি তা সুম্ভাব?

লেকা ফাইনৈছে। পইড়া আমোদ কুড়াইলাম।

দ্রোহী এর ছবি

আপনার পরিশ্রমটুকু আন্দাজ করে নিজে কতটা অলস সেটা আরেকবার বুঝতে পেরে মুষড়ে পড়লাম। মন খারাপ

চমৎকার গোছান লেখা। মুগ্ধ হলাম।


কাকস্য পরিবেদনা

মনমাঝি [অতিথি] এর ছবি

অলস = অ+LOSS = কোন LOSS নাই (অলস ব্যাক্তির) = নো চিন্তা ডু ফুর্তি দেঁতো হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক

মনমাঝি ভাই,
যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন। খুব ভালো লাগল।

অট : আচ্ছা, উদ্ধৃতিগুলো কীভাবে দিলেন? টাইপ করতে হয়েছে নাকি? সর্বনাশ!

কুটুমবাড়ি

মনমাঝি [অতিথি] এর ছবি

অট : আচ্ছা, উদ্ধৃতিগুলো কীভাবে দিলেন? টাইপ করতে হয়েছে নাকি? সর্বনাশ!

উত্তরঃ দেঁতো হাসি :-D

অতিথি লেখক এর ছবি

ভয় পেয়েছি ভাই। এত পরিশ্রম কি সম্ভব! অসাধার লেখা।

অনন্ত

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।