এ কি বৈষম্য নয় !?

সাবরিনা সুলতানা এর ছবি
লিখেছেন সাবরিনা সুলতানা (তারিখ: শনি, ০৬/১১/২০১০ - ৫:১৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গত মঙ্গলবার সচলে একটি লেখা দিয়েছিলাম "প্রতিবন্ধি পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ১৫ মিনিট সময় এবং কিছু কথা" শিরোনামে। সেদিন কিছুটা তৃপ্তি ছিলো মনে সরকারের এই ঘোষণায় যা প্রথম আলো পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারি। কিন্তু সেদিন ঘুনাক্ষরেও বুঝতে পারিনি এখানেও হতে হবে বৈষম্যের স্বীকার। আমরা জানতাম আমার ছোট বোন অতিরিক্ত পনেরো মিনিট বরাদ্দ সময়টুকু পাবে। কিন্তু পরীক্ষার আগের দিন রাতে জানলাম পনেরো মিনিট অতিরিক্ত সময় শুধুমাত্র শ্রুতিলেখক নিয়োগেই পাওয়া যাবে। তার মানে কি দাড়ালো! সরকার একটি আইন করেছেন যাতে প্রতিবন্ধি মানুষেরা পরীক্ষার হলে অতিরিক্ত কিছু সময় পাবেন। কিন্তু সেটি শুধুমাত্র শ্রুতিলেখকের সাহায্যেই! যারা কষ্ট করে হলেও ধীরে ধীরে নিজেরা লেখার চেষ্টা করে, কিন্তু শারীরিক অক্ষমতার কারণে তাদের কিছু নাম্বার ছেড়ে দিয়ে আসতে হয় তাদের কি অপরাধ!? কেনো সব ধরণের প্রতিবন্ধি মানুষই সমানভাবে এই সুবিধে পেতে পারে না!?

আমার ছোট বোনের শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যাঙ্গ'র মাংসপেশী ক্ষয়ে যাছে। সে ধীরে ধীরে শক্তিহীন হয়ে পড়ছে। ডাক্তার বলেছেন, নিজের কাজ নিজে করার চেষ্টা অব্যহত রাখতে হবে তাকে। যতটা পারা যায় সচল থাকার চেষ্টা করতে হবে। আমরাও চাই সে যা নিজে করতে পারে কষ্ট হলেও সেই চেষ্টা অব্যহত থাকুক। মানুষের কটাক্ষ চাহনী -বিদ্রুপ সহ্য করে হলেও সে নিয়মিত স্কুলে যাক। আর দশজনের মতোই স্বাভাবিক নিয়মে পড়ালেখা চালিয়ে নিক। সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক। আমি নিজে যা পারিনি সে তা করে দেখাক। আর তার জন্যেই আমার এ অসমযুদ্ধে নামা। পরীক্ষার হলে সীমিত সময়ের মধ্যে সবার মতোন তাড়াহুরো করে লেখা তার পক্ষে সম্ভব হয় না। প্রায় সময়েই হাতের সমস্যার কারণে দশ/পনেরো নাম্বার ছেড়ে দিয়ে আসতে হয় তাকে। যখন শুনলাম "সরকার সব ধরণের প্রতিবন্ধি মানুষের জন্যেই একটি আইন করেছেন যাতে করে আমার ছোট বোনটিকে এখন থেকে আর পরীক্ষার হলে নাম্বার ছেড়ে দিয়ে আসতে হবে না" মনটা খুব উৎফুল্ল হয়ে উঠলো। কিন্তু এমন খবরে মাথা ঠিক রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কেউ সুবিধে পাবে আর কেউ বঞ্চিত হবে এমন বৈষম্যমূলক আইন আমি ঠিক মেনে নিতে পারছি না। এমতাবস্থায় আমার কি করণীয় আপনারাই বলুন!


মন্তব্য

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

এইসব আইন প্রনয়ণ যারা করেন তাদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ কি থাকেন? মনে হয় না। থাকলে এমন অবস্থা হবার কথা না। চোর না পালানো পর্যন্ত আমাদের বুদ্ধি কখনোই খোলে না।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

অতিথি লেখক এর ছবি

আমাদের দেশের সব আইনেই এমন কিছু না কিছু ফাঁক আছেই। কিন্তু এভাবে আর কতো দিন! কেউ কি কিছু করতে পারে না!? ভুক্তভোগীরা তো কষ্ট পেয়েই চলেছে..... মন খারাপ

ধন্যবাদ।
ভালোতে থাকুন।
আলোতে থাকুন।
সাবরিনা সুলতানা

দ্রোহী এর ছবি

হায়রে দেশ! হায়রে মানুষ!


কাকস্য পরিবেদনা

অতিথি লেখক এর ছবি

মন খারাপ :( মন খারাপ

সাবরিনা সুলতানা

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

সরকারকে ধিক্কার


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

অতিথি লেখক এর ছবি

কিছু কি করা যায় না? শুধু ধিক্কার জানিয়েই চলে যাবেন!

ধন্যবাদ।
ভালোতে থাকুন।
আলোতে থাকুন।
সাবরিনা সুলতানা

হাসিব এর ছবি

নতুন কিছু না এগুলো। নির্বোধ না হলে মনে হয় সরকারী কর্মকর্তা হওয়া যায় না।
________________________________________________
নীড়পাতা.কম ব্লগকুঠি

অতিথি লেখক এর ছবি

হুমম ...নতুন কিছু নয়। বাঙ্গালী এই যদি না করে তবে আর বাঙ্গালী পরিচয়ে গর্বিত হবে কি করে! কিন্তু এভাবেই কি চলবে!?

ধন্যবাদ।
ভালোতে থাকুন।
আলোতে থাকুন।
সাবরিনা সুলতানা

সাইফ শহীদ এর ছবি

কেউ কি খোঁজ করে বের করতে পারে এই সিদ্ধান্তের ফাইলে কোন কেরানী, কোন সেকশন অফিসার, কোন ডেপুটি সেক্রেটারী, কোন জয়েন্ট সেক্রেটারী আর সেক্রেটারী সাক্ষর করেছে?

তার পর বলবো কি কি করতে পারি আমরা সবাই মিলে।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

অতিথি লেখক এর ছবি

পত্রিকার কিছু লাইন উদ্ধৃতি করে দিলাম --
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ফাহিমা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, গত মে মাসে উপকমিটির সভায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সময় হিসেবে ১৫ মিনিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। গতকাল শ্রুতিলেখক নিয়োগ এবং অতিরিক্ত ১৫ মিনিট সময় বরাদ্দের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।

এর বাইরে আমি আর কিছুই জানি না। তবে খোঁজ নেবার চেষ্টা করতে পারি। কিন্তু আপনাকে জানাবো কিভাবে !?

সাবরিনা সুলতানা

শাহেনশাহ সিমন এর ছবি

জনস্বার্থে করা আইন আর কাজির গরু এক জিনিস হয়ে যাচ্ছে
_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

অতিথি লেখক এর ছবি

মন্তব্যের জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ভালোতে থাকুন।
আলোতে থাকুন।
সাবরিনা সুলতানা

মঈনুল ইসলাম [অতিথি] এর ছবি

সাবরিনা,
আপনার বোনের প্রতি রইলো সংগ্রামী শুভেচ্ছা। আমি আপনার দুটো আর্টিকেলই পড়েছি, যদিও আমি সচলে অনেকটাই অনিয়মিত। আপনার এই বিষয়টি নিয়ে আমি সিরিয়াসলি ভাবছি। প্রতিবন্ধিদের সহায়তায় আমার আগ্রহের কমতি নেই। জানিনা, এজন্য প্রয়োজনীয় অসীম ধৈর্য্যের কতটুকু আমার আছে।

আমি সাধারণ একজন মানুষ। কী করে আপনার বোনের সমস্যার মতো হাজারো প্রতিবন্ধি বোনের সমস্যার সমাধান করা যায় আমি সেটা জানি না।
আপনি প্রথম লেখায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় না কোন মন্ত্রণায়লকে চিঠি দেয়ার ব্যাপারটি বলেছিলেন। সেরকম একটা প্রতিবাদ-লিপি আপনি পাঠাতে পারেন। আপনি যা পাঠাবেন, আমাকে তার একটা কপি পাঠাতে পারেন। আর অবশ্যই কিভাবে তা পাঠাচ্ছেন, তাও জানাবেন দয়া করে। আমি এসবের কিছুই জানিনা।
আমি যে কাজটা করবো, আপনার সমস্যাটুকুকে সামাজিক সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে আমিও ওভাবে একটা প্রতিবাদলিপি পাঠাবো।

আমাদের বন্ধুদের একটা সমবায় সমিতি আছে। আমাদের সেই ছোটখাটো সংগঠন (অনিবন্ধিত) থেকেও প্রয়োজনে আমি সেটা পাঠানোর জন্য প্রস্তাব রাখবো। সমিতি রাজি হলে সমিতির পক্ষ থেকে আমরা সেটা পাঠাতে পারি। তাতে ব্যাপারটা আরো কিছুটা জোরালো হতে পারে।

বুদ্ধিটা কেমন, জানিনা।
কিন্তু আমরা শ্রেফ ধিক্কার জানিয়ে চলে গেলে সমস্যা আগের মতোই থাকবে।
তারচেয়ে কিছুতো একটা করি। ঐসব বিশেষজ্ঞহীন কমিটির কানে অন্তত ব্যাপারটা পৌঁছানোর চেষ্টা করতে পারি।

আমার ই-মেইল ঠিকানা:

অতিথি লেখক এর ছবি

আমার লেখাটা ব্লগে দেওয়ার উদ্দ্যেশ্য একটাই। যারাই এ লেখা পড়বেন নিজের নিজের অবস্থান থেকে যেনো এগিয়ে এসে কিছু করার চেষ্টা করেন। আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানোর কথা ভেবেছিলাম। আপনার বুদ্ধিটা ভালো লেগেছে আমার। এভাবেই তো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে আমাদের।
যাই হোক, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপনাকে মেইল করেছি আমি।
ভালোতে থাকুন।
আলোতে থাকুন।
শুভকামনা নিরন্তর।
সাবরিনা সুলতানা

আরিফ জেবতিক এর ছবি

লড়াই চলবে। আজ শ্রুতি লেখক দিয়ে শুরু হয়েছে, কাল অন্যদেরও হবে।
আশা ছাড়বেন না, লড়াই ছাড়বেন না।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।