উহু বুয়েট, আহা বুয়েট

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বুধ, ১৪/০৫/২০১৪ - ১:৩০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ঘটনা ১
চোখেমুখে উত্তেজনা চেপে রাখার নিস্ফল চেষ্টা করে, বড় ভাই আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, “ঐ যে, আরেকটা মেয়ে আছে না? ওর নাম যেন কী? আসলে পড়ে কোথায়?”

আমরা যে ওনার উত্তেজনা বুঝতে পারছি, সেটা ওনাকে বুঝতে না দিয়ে আমরা কথাবার্তা চালাচ্ছিলাম, “কোন মেয়েটা?”

উনি চেয়েছিলেন আমরা সাথে সাথে বুঝে নেবো। তবু ঐ মেয়ে জাহান্নামে গেলেও ওনার যেন কিছুই যায় আসে না, এমন একটা ভাব ধরার চেষ্টা করে বললেন, “ঐ যে, স্বাস্থ্য একটু ভালো, গালে টোল পড়ে”

আমরা আগেই বুঝেছি উনি কার কথা বলছেন। দুইজনেই ওনার দিকে তাকালাম। এই বড় ভাই ডিভি পেয়ে আমেরিকায় এসেছেন, নিউ ইয়র্কে থাকেন। পেশার কথা না বলি, ওনার পরিচয় প্রকাশ করতে চাচ্ছিনা। এমনিতে হ্যাংলা পাতলা শরীর; বাসার মধ্যে স্যাণ্ডো গেঞ্জিতে আরো একটু দুবলা পাতলা দেখাচ্ছে।
টাইমস স্কয়ারে নিউ ইয়ারস ঈভ পালন করতে সারা আমেরিকা থেকে অনেকেই দলে দলে নিউইয়র্কে আসছিলো। আমেরিকাতে আসার পর, প্রথম ক্রিসমাসের ছুটিতে আমি আর আমার এক বন্ধু ঘুরতে গিয়েছিলাম নিউইয়র্কে। বাংলাদেশী কমিউনিটির অনেকের সাথেই দেখা হয়েছিলো তখন। হার্ভার্ড থেকেও বেশ কয়েকজন এসেছিলো। এর মধ্যে একটা মেয়েও ছিলো, যাকে দেখে এই বড় ভাই বেশ চঞ্চল হয়ে পড়েছিলেন।

ওনাকে আমরা গালে টোল পড়া মেয়েটার নাম বললাম, “ও আচ্ছা, ওর কথা বলছেন?”

উনি কিছুটা ধৈর্যহারা হয়ে বললেন, “আর পড়ে কোথায়?”

আমার বন্ধু সালমান উত্তর দিলো, “হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি”

ওনার মধ্যে নতুন করে কোনো ভাবান্তর দেখা গেলো না। আগের ভাবটা রেখেই বললেন, “হুম”

আমরা দুই বন্ধু খুব অবাক হয়ে একে অন্যের দিকে চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলাম। হার্ভার্ড অনেক র‍্যাংকিং লিস্টেই পৃথিবীর এক নাম্বার ইউনিভার্সিটি। যে লিস্টে এক নাম্বারে নেই, সেই লিস্টের দুই থেকে পাঁচের মধ্যে হার্ভার্ডের নাম অবশ্যই আছে। বাংলাদেশ থেকে আসা ছাত্ররা তো বটেই, হার্ভার্ডে পড়ে শুনলে এমনকি আমেরিকানদেরও চোয়াল ঝুলে পড়ে। কিন্তু এই বড় ভাই কোনো পাত্তাই দিলেন না।

কয়েক মুহূর্ত বিরতি নিয়ে, ওনার সেই “কিছুই-যায়-আসে-না” ভঙ্গিতে ফিরে যাওয়ার জন্য অরণ্যে রোদন করতে করতে জিজ্ঞেস করলেন, “আর বাংলাদেশে থাকতে কোথায় পড়তো?”

আবারো সালমান উত্তর দিলো, “বুয়েটে”

এইবার ওনার চোয়াল ঝুলে পড়লো। চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। আর সাথে সাথে ওনার মুখ থেকে বুলেটের মত ছিটকে বেরিয়ে এলো, “বুয়েএএএএট!”

দ্বিতীয় দফায় মুখ চাওয়াচাওয়ি করলাম আমি আর আমার বন্ধু!

ঘটনা ২
বিকেলের দিকে একটা ছেলে এসে দরজায় দাঁড়িয়ে সেলাম ঠুকলো। জুতো খুলে ভেতরে এসে বসতেই বললো, “ভাইয়া, আমি চিটাগাং ভার্সিটির স্টুডেন্ট, কিন্তু হায়ার স্টাডি করতে আমেরিকায় যাইতে চাই”

২০১২ সালের শুরুর দিকের কথা; আমি তখন বাংলাদেশে। নিজেও আমেরিকাতে পড়াশোনা করবো বলে চেষ্টা করছি। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া শেষ, পরীক্ষাগুলো (জিআরই, টোফেল) দিয়ে ফেলেছি, এপ্লাই করে ফেলেছি ভার্সিটিতে। নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য, অনলাইনে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা অর্জন করার পদ্ধতি নিয়ে লেখালেখি করছি। কিছু নাছোড়বান্দা পোলাপাইনের কবলে পড়ে চট্টগ্রামে একটা কোচিং সেণ্টারও খুলেছি। অনলাইনে এবং সামনাসামনি, এই ছেলের মত অনেককেই দেখি, যাদের ধারণা- তাদেরকে দিয়ে আমেরিকাতে পড়তে যাওয়া সম্ভব হবে না।

এই ছেলের কণ্ঠেও দ্বিধা। আমি উৎসাহ দিয়ে বললাম, “চমৎকার, বেশ ভালো চিন্তা। হোয়াই নট?”

ছেলেটা বেশ উদাসীন হয়ে পড়লো, “কিন্তু ভাইয়া, আমি তো বুয়েটের না”

আমি ওকে আশ্বস্ত করলাম, “আমিও কিন্তু চট্টগ্রাম ভার্সিটির ছেলে। তাহলে কি আমারো চেষ্টা করা বন্ধ করে দেয়া উচিৎ?”

ওর চেহারা দেখে বুঝলাম, ছেলেটা এই তথ্য জানতোনা। ও মনে করেছে, জিআরই- এর কোচিং সেণ্টার নিশ্চয়ই বুয়েটের ছেলেপেলেরাই চালায়। আমার কাছে সাজেশন চাইতে আসাটা ভুল হয়েছে সেই উপলব্ধি থেকেই হোক অথবা নিজের অজান্তেই সে আমাকে অপমান করে ফেলেছে সেই লজ্জা থেকেই হোক - সে চুপ করে থাকলো। তখন আমিই বলতে লাগলাম, “তুমি কি জানো যে এই সেণ্টারটা আমি আমার বন্ধু সালমান মিলে খুলেছি?”

সে কাঁচুমাচু করে জবাব দিলো, “না, ভাইয়া”

আমি আন্দাজ করেছিলাম। সে আরো একটা জিনিস জানে না, “তুমি কি জানো যে সালমান এখন আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ লুইজিয়ানাতে পিএইচডি করছে?”

সে আবারো না-সূচক মাথা নাড়লো। এবার বোমা ফাটিয়ে ওর দুনিয়া পাল্টে দেয়ার পালা, “সালমান অতীশ দীপংকর ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি থেকে ফার্মেসীতে অনার্স করেছিলো”

ওকে দেখে বোঝা যাচ্ছে, সে আসলেই বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। ওকে জিজ্ঞেস করলাম, “এখনো সন্দেহ আছে নিজেকে নিয়ে?”

এই পর্যায়ে গিয়ে ছেলেটা তার আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার কথা, চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তার মুখ আরো কালো হয়ে গেলো। বলতে লাগলো, “ভাইয়া, আমেরিকাতে একটা বড় ভাইকে ইমেইল করেছিলাম। কীভাবে উনি প্রসেসিং করেছেন, জানার জন্য। আমাকে কী করতে হবে জিজ্ঞেস করেছিলাম। উনি আমাকে লিখেছিলেন, ‘জিআরই এর নাম শুনসো? এইটা অনেক কঠিন। তুমি পারবা না এটা। চিটাগাং ভার্সিটির ছাত্র হয়ে এইসব চিন্তা করা বাদ দাও। বুয়েটে না পড়লে এসব হবে না। অন্য কিছু করার চিন্তা করো। সবাইকে দিয়ে কি সবকিছু হয়?’ জানেন ভাইয়া, আমার খুব খারাপ লেগেছিলো তখন। আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। বুয়েটে পড়িনি বলে কি আমার যাওয়া হবে না?”

কথাগুলো আমাকে বলতে গিয়ে সে আবারো প্রায় কেঁদে ফেলছিলো। সেই বুয়েটিয়ান যে-ই হোক না কেন, তার ওপর আমার প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ হচ্ছিলো।

ঘটনা ৩
দেড় বছর পর আমেরিকাতে কাটানোর পর প্রথমবারের মত দেশে গেলাম ২০১৩ এর ডিসেম্বরে, দুই বন্ধু মিলে। কতদিন পর দেশের মাটিতে পা রাখবো! কতদিন পর বন্ধুদের সাথে গলা ফাটিয়ে গান গাইবো, আড্ডা দেবো! আর একটা দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে কিছু সেমিনার করবো হায়ার স্টাডির ওপর। তখন আবার বাংলাদেশে অবতাল (অবরোধ + হরতাল) চলছে। তাই, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা থেকে আমন্ত্রণ পাওয়া স্বত্ত্বেও যেতে পারিনি। ওদেরকে আশা দিয়ে রেখেছিলাম। কথা দিয়ে কথা রাখতে পারিনি বলে বলে দুই বন্ধুরই মন খারাপ। শুধু চট্টগ্রামে করেছি চারটা। আর ঢাকায় করেছি একটা - বুয়েট এলাকার ফ্রেপড অডিটোরিয়ামে।

এর কয়েকদিন আগেই ফেসবুকে একটা মেয়ের সাথে পরিচয় হয়েছিলো। বুয়েটে পড়ুয়া মেয়ে। ভোকাবিল্ডার বইটা আর ঐ বইয়ের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষকের ওয়েবসাইটে পাবলিশ করা ভিডিওগুলো ওর নাকি খুব ভালো লেগেছে, এজন্য রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলো। হাল্কা-পাতলা কথা হয়েছিলো আমাদের মধ্যে।

যাই হোক, ওর নাকি রিলেশনশিপের ঝামেলা চলছিলো। ছেলেও বুয়েটের। কথাপ্রসঙ্গে মেয়েটা বললো, বয়ফ্রেণ্ডের সাথে নাকি ওর একদিন কথা হয়, তো দশদিন ঝগড়া চলে। ভেঙ্গে দেয়াই নাকি সবচেয়ে ভালো হবে, বললো। আরো বললো, এমন সময়ে আমার সাথে পরিচয় হয়েছে যে ঐ ছেলের সাথে ব্রেকাপ হলে এখন নাকি বেশি কষ্ট পাবে না। আমি, ভালো বন্ধুর মত, সান্ত্বনা দিয়েছিলাম। পরামর্শ দিয়েছিলাম, ভালো করে ভেবে একটা সিদ্ধান্ত নেয়ার। পছন্দ করার মত মেয়ে, তাই আমিও কিছুটা উৎসাহ দিয়েছি, অস্বীকার করবো না।

সেই মেয়েটা এসেছিলো ফ্রেপড অডিটোরিয়ামের সেমিনারে। ঐদিনই আমাদের দেখা হয়েছিলো, ঐ একবারই। তেমন কোনো কথাও হয়নি। আমাদের মধ্যেও আর কিছু এগোয়নি। আমিও আমেরিকাতে ফিরে এসেছি দুদিন পর, ব্যস্ত হয়ে গেছি। এর মধ্যে ঐ ছেলের সাথে মেয়েটার সম্পর্ক পুনরায় জোড়া লেগে গেছে, যা বুঝলাম।

ছেলেটা আমাকে মেসেজ পাঠালো একদিন। জিজ্ঞেস করলো, আমার সাথে ওর গার্লফ্রেণ্ডের কী কী হয়েছে। মেয়েটা কতটুকু অনেস্টলি ওর বয়ফ্রেন্ডকে কী কী বলেছে, আমাকে কতটুকু নিচে নামিয়েছে, বা নিজেকে কতটা দোষী দেখিয়েছে - আমি কিছুই জানিনা। ভদ্রতা দেখাতে গিয়ে ছেলেটাকে ব্লক করলাম না শুরুতেই। এটা করলে হয়তো মেয়েটার প্রতি সে আরো সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকাতো। আমি তাই ছেলেটার কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বেশ ভদ্রভাবেই বললাম, “আমাদের মধ্যে কিছুই হয়নি, এবং অনেকদিন ধরে কোনো যোগাযোগও নেই। আর এটা আপনার এবং আপনার গার্লফ্রেণ্ডের ব্যাপার। প্লিজ, আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করবেন না। ওকে জিজ্ঞেস করেননি? ও কী বলেছে?”

সে যদিও স্বীকার করলো যে, মেয়েটা জানিয়েছে- আমি প্রোপোজ করিনি, কিন্তু তারপরেও আমাকে মিথ্যা অভিযোগ করতে লাগলো। আমি যাই বলি, সে বিশ্বাস করে না। পরে বিরক্ত হয়ে যখন বললাম, “আমি অনেক ব্যস্ত, এবং আমাকে এসবের মধ্যে জড়াবেন না”

তখন সে আমাকে যা বললো, পড়তে পড়তেই আমার কান ঝাঁ ঝাঁ করতে লাগলো। গালাগালি করে যা বলতে লাগলো, তার সারমর্ম হচ্ছে, আমার পার্সোনালিটি নাই, মাইয়্যার রিলেশনে প্রবলেম চলছে বলে প্রোপোজ করে দিসি। এরপরেই উঁচু হয়ে উঠলো তার বুয়েটিয়ান নাক - “৩য় সারির বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পইড়া আসলে যা হয়, বুয়েটিয়ান মাইয়্যারে প্রপোজ করতে আসছে। বামন হয়ে চাঁদে হাত দেয়ার আগে এরপর একটু ভাইবা নিও”

ওকে আর বলতে ইচ্ছে হয়নি, “এই ৩য় সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলের স্পিচ শুনতেই কিন্তু তোমার প্রথম সারির বুয়েটিয়ান গার্লফ্রেণ্ড এসেছিলো।”

*****************************************************************
সমস্যা আসলে আমাদেরই। অনেক আগে থেকে আমরা বুয়েটকে এমন একটা স্থানে রেখেছি যে এটাতে পড়ুয়া ছেলেমেয়েদেরকে আমরা ভিনগ্রহের প্রাণী মনে করি। আমি নিশ্চিত, নিউইয়র্কের ঐ বড় ভাইয়ের মত অনেকেই আছেন, যাদের চোয়াল হার্ভার্ডের নাম শুনে ঝোলে না, বুয়েটের নাম শুনে ঝোলে। বিদেশে পড়তে আসা সবাই রেস্টুরেন্টে বাসন মাজে, আর বুয়েটে পড়ুয়া সবাই বাংলাদেশের সবচেয়ে মেধাবী ছেলেমেয়ে – এমন ধারণার বশবর্তী মানুষ কম নেই বাংলাদেশে।

আমার সেণ্টারে এসে ছেলেটা যে মর্মান্তিক কাহিনী শুনিয়েছিলো, সেই কাহিনী কিন্তু তখন প্রথমবারের মত শুনছিলামনা আমি। এর আগেও বিভিন্নজনের কাছ থেকে এই গল্পের ভিন্ন ভিন্ন ভার্সন শুনেছি। ডায়লগ ভিন্ন ছিলো, কিন্তু কাহিনী এটাই। কেউ বাচ্চাদেরকে বোঝানোর মত করে বুঝিয়েছে যে বুয়েট-পড়ুয়া ছাড়া এটা কারো পক্ষে সম্ভব না...... কেউ স্যাটায়ার করে বলেছে, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, তুমি এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে। তুমি পারবে, কারণ তোমার আছে নিডো” (শুনতে অসম্ভব মনে হলেও এই লাইনগুলো বলেছে এক বুয়েটিয়ান)...... কেউ অপমান করে বলেছে, “স্বপ্ন লিমিটের মধ্যে দেখা উচিৎ”

যতগুলো প্রাইভেট ভার্সিটির সেমিনারে বক্তৃতা করতে গিয়েছি, তত জায়গায় এই প্রশ্নটার সম্মুখীন হতে হয়েছে, “ভাইয়া, আমরা তো প্রাইভেট ভার্সিটির স্টুডেন্ট। আমাদেরকে কি নেবে? বুয়েট ছাড়া, এমনকি অন্যান্য পাবলিক ভার্সিটির ছেলেমেয়েরাও নাকি পারেনা?”

এই মানসিকতা বাংলাদেশীদের মধ্যে তৈরি হওয়ার পেছনে মূল কারণ কিন্তু বুয়েটিয়ানরাই। এটা অবশ্যই সত্যি যে, বুয়েট থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী আমেরিকাতে পড়তে যাচ্ছে। এবং এটাও সত্য যে, সব বুয়েটিয়ানরা একরকম নয়। সাহায্যের মন-মানসিকতা আছে অনেক বুয়েটিয়ানদের মধ্যেই। কিন্তু পাশাপাশি এটাও সত্যি যে, অন্যান্য ভার্সিটি থেকেও ছেলেমেয়েরা মাস্টার্স-পিএইচডি করতে আমেরিকাতে যাচ্ছে এবং অনেকেই নেগেটিভ এক্সপেরিয়েন্সের সম্মুখীন হয়েছেন বুয়েটিয়ানদের হাতে। যদি অন্যান্য ভার্সিটি থেকে কম যায়, সেটার পরোক্ষ এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে, প্রত্যক্ষ কারণ বুয়েটিয়ানরাই। ওরা একটা ধারা শুরু করেছে, কিন্তু আর কাউকে সেই বহতা ধারাতে হাত ধুতে দেবেনা, এমন মানসিকতা আছে অনেকের মধ্যে।

কেন এই মানসিকতা ধরে রেখেছে বুয়েটিয়ানরা? একে অপরকে সাহায্য করার মাধ্যমেই তো একটা জাতি ওপরের দিকে উঠবে। তাদের এই বুয়েটপ্রেমের কারণে তো দেশের অনেক মেধাবী সন্তান উৎসাহ হারায় এবং সর্বোপরি দেশের ক্ষতি হয়, এটা বোঝার বুদ্ধি নেই কেন বুয়েটে পড়ার পরেও? অন্যান্য ভার্সিটির ছাত্ররা যখন আমেরিকাতে পড়তে যায়, সেই উদাহরণগুলোর দিকে কেন ওরা অন্ধ?

আমাকে অপমান করা ঐ বয়ফ্রেণ্ড জানেনা, আমার ইউনিভার্সিটি অফ আরকানসা’র প্রশাসনিক কর্মকর্তারা কেউ বুয়েটও চেনে না, চিটাগাং ভার্সিটিও চেনে না। এই ছেলেও নিউইয়র্কের ঐ বড় ভাইয়ের মতই। আমেরিকান কোনো ইউনিভার্সিটিতে পড়েও আমি জাতে উঠতে পারিনি ওর চোখে। এই মানসিকতা কন্যার বাপ-মায়ের মধ্যেও দেখা যায় প্রায়ই। মেয়ের জন্য বুয়েটে পড়া ছেলে হলে যে আর কিছু লাগে না, সেটা নিয়ে অনেকেই লিখেছেন। আমি আর লিখলাম না।

নিঃসন্দেহে ইউনিভার্সিটি অফ কানেটিকাটে পিএইচডিরত সাইদ ভাইয়ের মত মাটির মানুষও আছেন, যারা বুয়েটে পড়েছেন এবং সবাইকে উৎসাহ দিচ্ছেন নিজের মেধাকে কাজে লাগানোর জন্য। অথবা রাগিব ভাইয়ের মত মানুষ আছেন, যারা এমন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন যেখানে অনেকের সাহায্য হবে। খুব আনন্দ নিয়ে বলতে চাই, ৩ বছর আগের চেয়ে এখনকার পরিস্থিতি কিছুটা ভালো। তবে, তারপরেও অনেকের উঁচু নাক এখনো আছে। তাদেরকে বলি - প্লিজ, বিনয় করা ভালো, অহংকার ভালো না। এটা বোঝার চেষ্টা করবেন দয়া করে। কেউ যদি আপনার কাছে সাহায্যের জন্যে আসে, তাহলে সে মেনেই নিচ্ছে যে আপনি তার চেয়ে বেশি জানেন। তাদেরকে অপমান করা বা লজ্জা দেয়া ঠিক নয়।

আর যারা মনে করেন বুয়েট ছাড়া বাকি সব প্রতিষ্ঠান ভুয়া, তাদেরকে বলি - এতোটা একপক্ষীয় চিন্তাভাবনা করার কোনো কারণ নেই। সব জায়গার মতোই, ভালো স্টুডেন্টদের পাশাপাশি, ওখানেও প্রচুর মাথামোটা ছেলেমেয়ে আছে। ওখানেও অনেকেই আছে যারা ৩ এর নিচে সিজিপিএ আর জিআরই তে বেশ কম স্কোর নিয়ে আসে, হায়ার স্টাডি পসিবল কিনা জানার জন্য। ওখানেই কিন্তু কাঠবলদ ধর্মান্ধদের আড্ডা জমে। বাংলাদেশের অনেক ভার্সিটিতেই ভালো ভালো রিসার্চ হচ্ছে, শুধু বুয়েটে না। অনেক ভার্সিটির ছাত্র-শিক্ষকরাই আন্তর্জাতিক ভালো মানের (পিয়ার রিভিউড) জার্নালে আর্টিক্যাল ছাপাচ্ছেন, শুধু বুয়েটিয়ানরা ছাপাচ্ছেনা। সম্মান দিন সবাইকেই, কিন্তু অতিভক্তি কোনো ক্ষেত্রেই ভালো না।

সবাইকে ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

ফরহাদ হোসেন মাসুম
গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট
ইউনিভার্সিটি অফ আরকানসা, যুক্তরাষ্ট্র


মন্তব্য

সাফি এর ছবি

কোচিং সেন্টারে কী শেখানো হত? ফি কেমন?

ফরহাদ হোসেন মাসুম এর ছবি

এটা এখানে আলোচনা করতে চাচ্ছিনা, দুঃখিত।

সাফি এর ছবি

কেন এই মানসিকতা ধরে রেখেছেন ভাইয়া? একে অপরকে সাহায্য করার মাধ্যমেই তো একটা জাতি ওপরের দিকে উঠবে। আপনি আমায় সাহায্য না করলে আমি কিভাবে কোচিং সেন্টার খুলব?

ধ্রুব আলম এর ছবি

গুরু গুরু

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

আমিও ফি জানতে চাই দেঁতো হাসি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

ধ্রুব আলম এর ছবি

উনি উনুছের মত, টেকাটুকার প্রশ্ন আসলেই, ভাগলবা! চোখ টিপি

অতিথি লেখক এর ছবি

এই মানসিকতা বাংলাদেশীদের মধ্যে তৈরি হওয়ার পেছনে মূল কারণ কিন্তু বুয়েটিয়ানরাই।

মূল কারণ কিভাবে হয়?? অন্যতম কারণ হয়তো হতে পারে, মূল কারণ কোনভাবেই না। কেউ একজন যদি আমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দিয়ে আমার জ্ঞান বিচার করে তাহলে তাকে আমি মুখের উপর কাঠবলদ বলবো, ভেউ ভেউ করে কাঁদবো না অতবা সব গেলো সব গেলো বলে হাল ছেড়ে দিয়ে বসে থাকবো না। আপনার পুরো লেখা পড়েই কিন্তু আমার ধারণা হলো মূল কারন ভুক্তোভোগীদের হীনমন্যতা আর প্রথম উদাহারণের ক্ষেত্রে অজ্ঞানতা।

কিছু মনে করবেন না, লেখাটা একপেশে মনে হয়েছে।

ফারাসাত

প্রোফেসর হিজিবিজবিজ এর ছবি

লেখাটা পছন্দ করতে পারছি না। বড্ড অভিযোগপ্রবণ এবং একচোখো লেখা। মনে হচ্ছে কেউ একজন গায়ের ঝাল মেটানোর জন্য লিখেছে। এরকম লেখা ব্যক্তিগত ব্লগে বা ফেসবুকে হয়তো চলতে পারে, সচলা‌য়তনে আশা করি না।

____________________________

ফরহাদ হোসেন মাসুম এর ছবি

আমি কিন্তু বলেছি, সাইদ ভাই বা রাগিব ভাইয়ের মত অনেকে আছেন, এবং তিন বছর আগের চেয়ে এখনকার মানসিকতা ভালো। কিন্তু, তারপরেও যা আমি পার্সোনালি দেখেছি, তা থেকেই লিখেছি। ওপরের প্রত্যেকটা ঘটনাই সত্য। সেগুলোকে অস্বীকার করার জো নেই।

প্রোফেসর হিজিবিজবিজ এর ছবি

ঘ্যাচাং - আর লিখতে ইচ্ছে করছে না এটা নিয়ে - এত প্যাঁচানো হয়েছে!!

____________________________

অতিথি লেখক এর ছবি

বেশির ভাগ সময়ই মানুষ মানুষকে নিরুৎসাহীত করে। অথচ একটু যদি উৎসাহ আর সাহস দেয়া যায় তবে এদেশের ছেলে-মেয়েরাই করতে পারে অসম্ভবকে সম্ভব। আর আমাদের দেশটা হতে পারে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ট দেশ।

এ এস এম আশিকুর রহমান অমিত

ফরহাদ হোসেন মাসুম এর ছবি

ধন্যবাদ। সবাই সবাইকে সাহায্য করার মত মানসিকতা এই মুহূর্তে আমাদের দেশে আসলেই অনেক বেশি দরকার।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

ভালো লেখা।

ইঞ্জিনিয়ারিং ফিল্ডে বুয়েটের মনোপলি যে শেষ, এটা বুঝতে সব বুয়েটিয়ানের এখনো অনেক সময় লাগবে। অনেকেই বুঝতেছে, অনেকেই বুঝতেছে না। রেশিওটা এখন ৩০:৭০র মতো হবে। বুয়েটে অনেক ধরনের অন্ধের হাতি দর্শন টাইপ ধারণা প্রচলিত আছে, যেটা থেকে সহজে উত্তোরণ ঘটা খুব কঠিন।

মানুষের সাফল্য একটা ডায়নামিক জিনিস। একবার বুয়েটে চান্স পাওয়া মানেই নিশ্চিত সাফল্য না। বুয়েটে চান্স না পাওয়া, বা বুয়েটে পড়তে উৎসাহী না হওয়া অনেক ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টই পরিশ্রম ও মেধার পরিস্ফূটনের ফলে বুয়েটের সেরা স্টুডেন্টের চাইতেও ভালো অবস্থানে আসা খুবই সম্ভব। কিন্তু এটা মেনে নেয়ার কালচার এখনো সৃষ্টি হয় নাই।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

বলাইদা, এই লেখা পইড়া আমার মনে হইছে রামভোদাই, নাকউঁচা বুয়েটিয়ান গোষ্ঠী আর এই লেখার লেখক মোটামুটি একই দোষে দুষ্ট। রামভোদাইগুলা যেমন বুয়েটে পড়াকে অন্য সবকিছুর উপ্রে জায়গা দেয়, এই লেখার লেখক সেই রকম একটা জায়গায় রাখছে গ্রাড স্টুডেন্ট হওয়া, জিআরই তে ভাল করাকে। আজকে যে জিআরই তে ভাল করল সে হয়ত ভাবতেছে আমি কি হনুরে, কিন্তু আজকে জিআরই তে কম স্কোর পাওয়া একটা ছেলে/মেয়ে অন্য জায়গায় অনেক ভাল করে ফেলতে পারে। যেইটা বললেন, সাফল্য মূলত ডায়নামিক, সেইটাই বড় কথা। লেখকের নিজের মধ্যেও গ্রাজুয়েট স্টুডেন্ট বলে একটা হামবড়া ভাব আছে, যেইটা লেখার মধ্যে প্রকাশ পাইছে। যারা সেই হামবড়া ভাব ধরতে পারবে না তাদের জন্য আবার লেখার নিচে লেখক পরিচয়ও আছে যাতে সবাই স্পষ্ট করে বুঝতে পারে লেখক একজন গ্রাজুয়েট স্টুডেন্ট।

উপসংহারের মূল সুর ঠিক থাকলেও ভুল লজিকে ভুল ভাবে ঠিক উপসংহারে পৌছানোরে কী হিসাবে ভাল লেখা বলা যায়?

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

সাফি এর ছবি

চলুক

ধ্রুব আলম এর ছবি

চলুক

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

নিচে একসাথে কমেন্টাই এই বিষয়টা। হাসি

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

অতিথি লেখক এর ছবি

অভিযোগপূর্ণ একপেশে গায়ের ঝাল মেটানো লেখা মনে হয়েছে।

বিদেশে যেকোন নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বুয়েটের ছেলেমেয়েদেরই সবচেয়ে বেশী দেখা যায়। প্রায় ৭০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী বুয়েটের হবে। তাদের মেধার কারনেই তারা এমন স্থান করে নিয়েছেন।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

ভালো অবজার্ভেশন। জিআরই, জিম্যাটের মতো টেস্টের সূচনা হয়েছে একারনেই যে, যেখান থেকেই পড়াশোনা করে আসুক না কেনো একই মানদন্ড যাচাই হয়ে যেনে পরের ধাপে যেতে পারে একজন ছাত্র। বুয়েটের সাথে এর কোনো সর্ম্পক নেই।

সেশন জট আর অন্যান্য ভালো ইউনিভার্সিটি গড়ে ওঠায় বুয়েটে আধিপত‌্য কমতে বাধ্য। বুয়েটে প্রসাশন এবং ছাত্ররা যত দ্রুত এটি অনুধাবন করেন তত মঙ্গল।

পৃথ্বী এর ছবি

এই মানসিকতা বাংলাদেশীদের মধ্যে তৈরি হওয়ার পেছনে মূল কারণ কিন্তু বুয়েটিয়ানরাই।

লেখার এই অংশটা বাদে বাকি সব কিছুর সাথে একমত। একটা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা এমনি এমনি "মুই কি হনুরে" সিন্ড্রোমে ভোগা শুরু করে না, এর পেছনে সমাজেরও ভূমিকা থাকে। ছোটবেলা থেকে একজন শিক্ষার্থী বুয়েট নিয়ে সবার মোহ দেখে বড় হয়, ভর্তি পরীক্ষার বেড়া ডিঙিয়ে বুয়েটে প্রবেশ করার সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তার মধ্যে অহংকার সঞ্চারিত হয়। বুয়েট থেকে পাস করে যেহেতু সহজেই চাকুরী পাওয়া যায় এবং বিদেশে যাওয়া যায়, আর এদেশে পোলাপানকে চাকুরী পাইয়ে দেওয়া আর বিদেশে রপ্তানি করাতেই যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্থকতা, তাই বুয়েটের মত একটা "সার্থক" বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ হতে পেরে অহমবোধে ভোগাটাই স্বাভাবিক। এই অহমবোধ বুয়েটিয়ানরা নির্মাণ করে নাই, সমাজই নির্মাণ করে দিয়েছে। সমাজ যদি প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় দিয়ে ব্যক্তির সম্ভাবনার সীমারেখা টেনে দেওয়ার হাস্যকর চর্চাটা বন্ধ করে, তাহলে এই অহমবোধ রাতারাতি পতিত হবে।

ব্যাপারটা সহজ। আপনার নাক তখনই উঁচু হবে যখন আপনাকে নিয়ে সবাই মাতামাতি করবে। মানুষ যদি আপনাকে দেবতুল্য মনে না করে, আপনিও নিজেকে দেবতা ভাবার সাহস পাবেন না।


Big Brother is watching you.

Goodreads shelf

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

য়েট থেকে পাস করে যেহেতু সহজেই চাকুরী পাওয়া যায় এবং বিদেশে যাওয়া যায়, আর এদেশে পোলাপানকে চাকুরী পাইয়ে দেওয়া আর বিদেশে রপ্তানি করাতেই যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্থকতা

১. বুয়েট ছাত্রদের চাকরী পাবার ব্যাপারে তেমন কিছু করে না
২. বুয়েট ছাত্রদের বাইরে যাবার ব্যাপারে কোনো সাহায্য সহযোগীতাও করে না।

পৃথ্বী এর ছবি

প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সাহায্য না করলেও ব্র্যান্ড নামটা কাজে দেয়। বাস্তবে আসলেও বুয়েটিয়ানদের চাকুরী কিংবা ফান্ডিং পাবার হার অন্যদের চেয়ে বেশি কিনা এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত না, তবে পাবলিক পারসেপশন অন্তত এটাই আর আত্মম্ভরিতায় ভোগা কেউ কেউ এই দাবিটাই করে।


Big Brother is watching you.

Goodreads shelf

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

দেশের বাইরে বুয়েট কেউ চেনে না। সেক্ষেত্রে ব্র্যান্ড নেইম কিভাবে কাজ করে?

সবজান্তা এর ছবি

একদমই চেনে না, এই কথাটা পুরোপুরি সত্যি না। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, কয়েকজন প্রফেসর বুয়েটের নাম জানেন। তারা জানেন কারণ তাদের কোনো প্রাক্তন কিংবা বর্তমান ছাত্র এসেছে বুয়েট থেকে, যাদের কঠোর পরিশ্রম এবং ভালো গবেষনার কারণে সেই প্রফেসরের মনে বুয়েট নিয়ে ভালো একটা ইম্প্রেশন আছে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, একই কথা যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেই খাটতে পারে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র যদি গবেষণায় ভালো হয়, তবে তার সুপারভাইজারও অবশ্যই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো নতুন ছাত্র অ্যাপ্লাই করলে, তার ব্যাপারে আগ্রহী হবেন। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, ব্যাপারটা নেগেটিভলিও সত্যি, অর্থাৎ একজন ছাত্রের কোনো স্টুপিডিটির (যেমন লাস্ট মোমেন্টে অফার রিজেক্ট করা, পিএইচডির কমিটমেন্টে ফান্ড নিয়ে মাস্টার্স করে চলে যাওয়া) কারণেও সেই বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা দেশের প্রতি প্রফেসররা বিরূপ ধারণা পোষণ করেন- এমনটাও দেখেছি।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

সেটা ঠিকাছে। কিন্তু প্রাথমিক মন্তব্যে বলা হয়েছে, "পোলাপানকে চাকুরী পাইয়ে দেওয়া আর বিদেশে রপ্তানি করাতেই যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্থকতা"। এতে মনে হতে পারে, বুয়েটের ছাত্রদের কোনো কৃতিত্ব নেই। বুয়েট অ্যাক্টিভলি চাকরী পাবার এবং বাইরে যাবার ব্যাপারে সহয়তা করছে।

অতিথি লেখক এর ছবি

আমি কিন্তু এটাও লিখেছি -

সমস্যা আসলে আমাদেরই। অনেক আগে থেকে আমরা বুয়েটকে এমন একটা স্থানে রেখেছি যে এটাতে পড়ুয়া ছেলেমেয়েদেরকে আমরা ভিনগ্রহের প্রাণী মনে করি। আমি নিশ্চিত, নিউইয়র্কের ঐ বড় ভাইয়ের মত অনেকেই আছেন, যাদের চোয়াল হার্ভার্ডের নাম শুনে ঝোলে না, বুয়েটের নাম শুনে ঝোলে। বিদেশে পড়তে আসা সবাই রেস্টুরেন্টে বাসন মাজে, আর বুয়েটে পড়ুয়া সবাই বাংলাদেশের সবচেয়ে মেধাবী ছেলেমেয়ে – এমন ধারণার বশবর্তী মানুষ কম নেই বাংলাদেশে।

যোগ্যকে সম্মান দেয়ার পক্ষপাতী আমি, সেটাতে আমি ছোটো হইনা। কিন্তু শুধু নামের জন্যেই কেউ সম্মান পাবে, এবং ওরা অন্যদেরকে অপমান করবে, এটাও মেনে নিতে পারিনা।

কেউ এর ছবি

[শুনে ভালো লাগলো যে] লেখক কোনোদিন বুয়েটের ভর্তি হবার বোধহয় চেষ্টা করেন নি।

অতিথি লেখক এর ছবি

না ভাই, আমি বুয়েটে পরীক্ষা দেইনি। পার্থিবের কৃষ্ণজীবনকে দেখে, ইচ্ছে ছিলো পরিবেশ বিজ্ঞানী হবার। সেই সাবজেক্টটা যখন পেয়ে গেছি, তখন আর কোথাও পরীক্ষা দেইনি। ঢাকা ভার্সিটি থেকেও ফর্ম নেয়া হয়েছিলো, সেখানেও পরীক্ষা দেইনি।

ঐ গল্প লিখেছিলাম এখানে, http://www.sachalayatan.com/guest_writer/49377

সবজান্তা এর ছবি

বুয়েটের অনেক ছাত্রই এক ধরনের সুপেরিয়রিটি কমপ্লেক্সে ভোগেন। ভালো ছাত্র যে বুয়েটের বাইরে যেকোন জায়গাতেই থাকতে পারে, এই সত্যটা তারা বুঝতে চান না, কিংবা মানতে চান না। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই ব্যাপারটা নিয়ে খুব বিরক্ত বোধ করি, যখনই সুযোগ এসেছে, তখনই এর প্রতিবাদ করেছি।

তবুও আপনার লেখাটা আমার কাছে একটু অদ্ভুত লেগেছে। আপনি মিথ্যা বলছেন বলে দাবি করছি না, তবে আপনার এই অনুচ্ছেদ,

এই পর্যায়ে গিয়ে ছেলেটা তার আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার কথা, চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তার মুখ আরো কালো হয়ে গেলো। বলতে লাগলো, “ভাইয়া, আমেরিকাতে একটা বড় ভাইকে ইমেইল করেছিলাম। কীভাবে উনি প্রসেসিং করেছেন, জানার জন্য। আমাকে কী করতে হবে জিজ্ঞেস করেছিলাম। উনি আমাকে লিখেছিলেন, ‘জিআরই এর নাম শুনসো? এইটা অনেক কঠিন। তুমি পারবা না এটা। চিটাগাং ভার্সিটির ছাত্র হয়ে এইসব চিন্তা করা বাদ দাও। বুয়েটে না পড়লে এসব হবে না। অন্য কিছু করার চিন্তা করো। সবাইকে দিয়ে কি সবকিছু হয়?’ জানেন ভাইয়া, আমার খুব খারাপ লেগেছিলো তখন। আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। বুয়েটে পড়িনি বলে কি আমার যাওয়া হবে না?”

পড়ে খুব বেশি নাটকীয় মনে হলো। আমি আমার পাঁচ বছরের আন্ডারগ্র্যাড জীবন, তিন বছরের চাকরি জীবন, এবং বর্তমানে দেশের বাইরে অসংখ্য বুয়েটিয়ান দেখেছি, আড্ডা মেরেছি। যেমনটা উপরেই বলেছি, অনেকেই সুপেরিয়রিটি কমপ্লেক্সে ভোগেন, এবং ইনার সার্কেলে তার হয়তো অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও তাচ্ছিল্য করেছে (তবে সত্যি বলি, তাদের সংখ্যা কিন্তু খুব বেশি না), কিন্তু এতোটা রুড আচরণ করতে কাউকে দেখিনি, শুনিনি। আপনার এই কথাটা শুনে মনে হলো যেন সিনেমায় কিংবা হিন্দি সিরিয়ালের কুটনী শাশুড়ি গরিব ঘর থেকে আসা বউকে অপমান করছে। স্যরি, আমি আসলেই ব্যাপারটা বিশ্বাস করতে পারছি না। আর এটা যে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে ট্রিট করবো, সেটাও সম্ভব না কারণ শেষ অংশে আপনি জানাচ্ছেন যে এমন অপমানজনক ভাষা বুয়েটিয়ানরা হরহামেশাই অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উপর ব্যবহার করছে। বুয়েটের ছাত্রদের এমন রুঢ়, কর্কশ ব্যবহারের শিকার হয়েছেন, এমন কারো মন্তব্য দেখতে পারলে ভালো হতো মন্তব্যের ঘরে।

একজন বুয়েটের ছাত্রের দুর্ব্যবহারে নিঃসন্দেহে আপনি আহত হয়েছেন, এবং আপনার বিরক্তি, রাগ স্বাভাবিক। তবে আশা করি সেটাকেই একমাত্র ভিত্তি হিসেবে লেখাটি লিখেননি।

অতিথি লেখক এর ছবি

না ভাইয়া, আমি শুধু সেই ভিত্তি থেকে লিখিনি। আমার কিছু ছাত্র এবং অনলাইনে (ফেসবুক গ্রুপে/পেইজে) পরামর্শ চাইতে আসা ছেলেপেলেদের খারাপ অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছি। আমি চাইনা, ওদের মত আর কেউ এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হোক। আমরা সবাই সবাইকে একটু সাহায্য করলে, একটু পথ দেখিয়ে দিলে কী হয়? সে পারুক না পারুক, কিন্তু কোন পথে চেষ্টা করা যায়, সেটা তো বলে দেয়াই যায়। এই মানসিকতাটা যাতে সবার মধ্যে তৈরি হয়, সেজন্য লিখেছি।

- ফরহাদ হোসেন মাসুম

অতিথি লেখক এর ছবি

আমার দেখা বেশিরভাগ বুয়েটিয়ানের মাঝে সমাজসৃষ্ট একটা অহংকার বা বড়াই থাকলেও অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতার সুযোগ থাকলে তাদের অধিকাংশই বেশ উদ্যোগী। ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস-মন্টিচেলোতে পড়ে আপনার নিজের ভেতরও অজান্তেই বড়াইয়ের (মনে করেছেন বিয়ের বাজারে পাত্রীর বাবা-মা দৌড়ে ছুটে আসবে ঠিক যেমনটা বুয়েটিয়ানদের একটা বড় অংশ ভাবে) একটা স্থান তৈরী হচ্ছে চিন্তা করে দেখুন। ফেসবুকে পরিচয়সূত্রে বুয়েটের একটি মেয়ের সাথে কিছুদিন চ্যাট, রিলেশনশিপে স্ট্রাগল করা একটা মেয়ের সাথে আপনার সাথে চ্যাট করাতেই মনে করেছেন সে আপনার প্রতি দুর্বল এবং তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ আপনাকে সচলে এই পোস্ট দিতে প্রভাবিত করেছে বলে আমার ধারণা। কোন না কোনভাবে আপনি বুঝাতে চেয়েছেন আপনি উচ্চশিক্ষায় তথ্যদাতা, কোচ বা গাইড হিসেবে একজন নিউক্লিয়াস-আর দেশে থাকা ছাত্র-ছাত্রীরা এই আকর্ষণে চারপাশে ঘূর্ণায়মান।

মূল কথায় আসি, বুয়েটিয়ানদের এই হামবড়া স্বভাবের মূলে আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষক এবং অভিভাবক সম্প্রদায়। অভিভাবক সম্প্রদায়ের কাছে বুয়েট নমস্য। স্কুল-কলেজের শিক্ষকেরা ক্লাসে একটা ছেলে বা মেয়ে ম্যাথ বা এনালাইটিকাল কিছুতে ভাল করলেই তাকে পারলে বুয়েটে এসে দিয়ে আসেন এই অবস্থা দেখেছি আমি যখন ছাত্র ছিলাম। প্রতিষ্ঠান হিসেবে বুয়েটের যে অবস্থা, বিষয় হিসেবে সিএসই-ইইই-জেনেটিক্স এর একই অবস্থা, ব্যাপারটা এমন যারা মেকানিকাল-ফিজিক্স বা জিওলজি পড়ে তারা শূদ্র সম্প্রদায়।

সমাজব্যবস্থা আমাদের অহংকারী করে, সেটা থেকে বের হয়ে আসতে নিজের সুস্থ চিন্তাভাবনা কাজে লাগাতে হবে।

অতিথি লেখক এর ছবি

সে আমার সাথে চ্যাট করেছে, এজন্য আমার প্রতি দুর্বল, এমনটা ভাবার কোনো কারণই নেই। সে বুয়েটে পড়া প্রথম মেয়ে নয়, যে আমার সাথে কথা বলেছে। আমি ওকে কিছুই বলিনি। আমি দেখাতে চাচ্ছিলাম, ওর বয়ফ্রেন্ড কীভাবে আমাকে অপমান করলো বুয়েটের সাথে চবি এর তুলনা করে। প্রেম ভালোবাসার মধ্যেও সে কোনো না কোনোভাবে বুয়েটকে তুলে নিয়ে এলো।

আমি নিউক্লিয়াস নই, ইলেকট্রনও মনে করছিনা নিজেকে। জাস্ট আয়রনিটা দেখাচ্ছিলাম।

আর একটু ক্ল্যারিফাই করি, শুধু বুয়েটে পড়ে বলে মা-বাবা যেমন দৌড়ে আসা উচিৎ না, বিদেশে পড়ে বলেও দৌড়ে আসা উচিৎ নয় বলে আমি মনে করি। আমার বিদেশে পড়া আমাকে কোনোভাবেই অন্যান্য দেশে থাকা ছেলেদের চেয়ে বেশি যোগ্য করে তোলে না। মানুষ কেমন, সেটা দেখা উচিৎ। কোথায় পড়ে, সেটা না।

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার লেখা পড়ে আদৌ মনে হয়নি যে আপনি ইন্সটিটিউটকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বরং মনে হয়েছে, ইন্সটিটিউট হিসাবে বুয়েটের চেয়ে আমেরিকার ইন্সটিটিউটের গুরুত্ব বেশি দিচ্ছেন। প্রমাণ:

হার্ভার্ড অনেক র‍্যাংকিং লিস্টেই পৃথিবীর এক নাম্বার ইউনিভার্সিটি। যে লিস্টে এক নাম্বারে নেই, সেই লিস্টের দুই থেকে পাঁচের মধ্যে হার্ভার্ডের নাম অবশ্যই আছে। বাংলাদেশ থেকে আসা ছাত্ররা তো বটেই, হার্ভার্ডে পড়ে শুনলে এমনকি আমেরিকানদেরও চোয়াল ঝুলে পড়ে।

আমি নিশ্চিত, নিউইয়র্কের ঐ বড় ভাইয়ের মত অনেকেই আছেন, যাদের চোয়াল হার্ভার্ডের নাম শুনে ঝোলে না, বুয়েটের নাম শুনে ঝোলে।

পাশাপাশি এটাও সত্যি যে, অন্যান্য ভার্সিটি থেকেও ছেলেমেয়েরা মাস্টার্স-পিএইচডি করতে আমেরিকাতে যাচ্ছে

কথাতেই মনে হচ্ছে এটা খুব ভালো ও মেধার পরিচায়ক কাজ।

আয়রনিটা হচ্ছে, ক্ষণে ক্ষণে আপনি নিজেকে ইলেক্ট্রন তো বটেই, নিউক্লিয়াস এমনকি গোটা পরমাণুটাই মনে করছেন। কাজেই, আপনার এই ক্ল্যারিফিকেশন অনেকটাই চাপে পড়ে কথা ঘুরানো মনে হচ্ছে। এই ক্ল্যারিফিকেশন লেখার মূল বক্তব্য থেকে অনেকটাই ডেভিয়েটেড।

বাই দ্য ওয়ে, আমি উপরের মন্তব্যকারী নই, যদিও তার কথায় মোটামুটি সহমত আছে।

অতিথি লেখক এর ছবি

এই যে ভাইয়া, ইন্সটিটিউট হিসাবে বুয়েটের চেয়ে আমেরিকান ইউনিভার্সিটির গুরুত্ব বেশি। আমি গুরুত্ব দেই আর না দেই, এটা একটা ফ্যাক্ট।

আমার মূল বক্তব্য থেকে ধরতে পারছেন না বলে সোজা ভাষায় ক্ল্যারিফাই করলাম। চাপে পড়ে কথা ঘোরানো নয় এটা।

অতিথি লেখক এর ছবি

অবশ্যই বুয়েটের চেয়ে আমেরিকান ইউনির গুরুত্ব বেশি। ঠিক যেমন বুয়েটের গুরুত্ব বেশি, বাংলাদেশের অন্যান্য ইউনির চেয়ে! দেঁতো হাসি

অন অ্যা সিরিয়াস নোট,

আমার বিদেশে পড়া আমাকে কোনোভাবেই অন্যান্য দেশে থাকা ছেলেদের চেয়ে বেশি যোগ্য করে তোলে না।

ইন্সটিটিউট হিসাবে বুয়েটের চেয়ে আমেরিকান ইউনিভার্সিটির গুরুত্ব বেশি। আমি গুরুত্ব দেই আর না দেই, এটা একটা ফ্যাক্ট।

একবার বলছেন ইন্সটিটিউটের গুরুত্ব নেই, আবার পরমুহূর্তেই গুরুত্ব তুলে ধরছেন। আবারো স্ববিরোধীতা হয়ে গেছে ভাইয়া! চোখ টিপি

অতিথি লেখক এর ছবি

নিচে দেখলাম, ফেইসবুক থেকে আমার এই কমেন্টটা কোট করেছেন।

অবশ্যই বুয়েটের চেয়ে আমেরিকান ইউনির গুরুত্ব বেশি। ঠিক যেমন বুয়েটের গুরুত্ব বেশি, বাংলাদেশের অন্যান্য ইউনির চেয়ে!

কী আজব ব্যাপার! আপনি যখন বলেন, "ইন্সটিটিউট হিসাবে বুয়েটের চেয়ে আমেরিকান ইউনিভার্সিটির গুরুত্ব বেশি।", তখন সেটা হয়ে যায় ফ্যাক্ট, আর আমি যখন বলি "বুয়েটের গুরুত্ব বেশি, বাংলাদেশের অন্যান্য ইউনির চেয়ে!", তখন সেটা হয়ে যায় হামবড়া ভাব?!

Consistency না রেখে কথা বলেন কেন? আপনার জন্য যেটা ভালো, আমার জন্যই সেটা খারাপ? কোন যুক্তিতে এই জিনিস দাঁড় করালেন? কোন প্রত্যঙ্গ থেকে বের হয় এসব যুক্তি?!

অতিথি লেখক এর ছবি

এই যে ভাইয়া, ইন্সটিটিউট হিসাবে দেশের অন্য ইউনির থেকে বুয়েটের গুরুত্ব বেশি। আমি গুরুত্ব দেই আর না দেই, এটা একটা ফ্যাক্ট হাসি

ভালো কথা আমি আমেরিকান ইউনি থেকে আন্ডারগ্রাড করেছি, দেশ থেকে আন্ডারগ্র্যাড করা যে কারো থেকে আমার কথার গুরুত্ব কিন্তু বেশি, হু হো হো হো

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনি বস ভাই! দরজায় দাঁড়িয়ে সেলাম ঠুকলাম! চোখ টিপি

অতিথি লেখক এর ছবি

সবিনয় পরামর্শ, বাংলাটা ভালো করে আয়ত্ত করবেন, প্লিজ। ইন্সটিটিউটের গুরুত্ব ইনস্টিটিউটের কাছে। এটা আমাকে বেশি যোগ্য করে তোলেনা। হার্ভার্ডে পড়েও কেউ খুবই বাজে মানুষ হতে পারে। মানুষ হিসেবে যোগ্যতার মাপকাঠি, তার ইন্সটিটিউশন নয়।

যারা নিজের কথার গুরুত্ব বেশি মনে করেন, সে কোথায় পড়েছে, সেটার ওপর ভিত্তি করে। তাদের জন্যেই এটা লেখা।

অতিথি লেখক এর ছবি

যারা নিজের কথার গুরুত্ব বেশি মনে করেন, সে কোথায় পড়েছে, সেটার ওপর ভিত্তি করে।

আপনি নিজেও তাদের দলে। হামবড়া বুয়েটিয়ানরা মনে করে তারা বুয়েটে পড়েছে বলে তাদের কথার গুরুত্ব বেশি। আর আপনি মনে করেন আপনি আম্রিকান ইউনিভার্সিটি অফ আরকানসায় পড়ছেন বলে আপনার কথার গুরুত্ব বেশি।

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখাটা দেখে মনে হল ঘটনাগুলা জোর করে বানানো, অনেকটা সিরিয়ালের কুটনির মত কিছু কথা শুনিয়ে দিয়ে সুখ পেলেন টাইপ। আরও অনেক বাস্তব সম্মত ঘটনা দিয়ে লেখাটা সাজানো যেত। "বিনয় করা ভালো, অহংকার ভালো না"- এই কথাটা লেখকের ক্ষেত্রেও যায় মনে হচ্ছে। লেখার মধ্যে কিছুটা বিনয় থাকলে লেখাটা আরেকটু ভালো হত মনে হয়।

অতিথি লেখক এর ছবি

বেশ কিছু অবজারভেশন আছে লেখা নিয়ে। এক এক করে আসি।

প্রথমত, ঘটনা ১ নিয়ে আমি যথেষ্ট সন্দিহান। আমি বলছি না যে কারো পক্ষে বুয়েট শুনলে চোয়াল ঝুলিয়ে ফেলা অস্বাভাবিক। বরং, এরকম আমাদের দেশে হরহামেশাই হয়ে আসছে। কিন্তু, এই পুরো ঘটনাটা আপনি যখন বলছেন, তখন কিন্তু আপনার নিজের চিন্তাভাবনা অনেকটাই জুড়ে দিচ্ছেন ঘটনার সাথে। যেমন, ঐ ভাই যে উত্তেজিত, কিন্তু তা চেপে রাখার চেষ্টা করছেন, আবার আপনারা তা ধরেও ফেলছেন, এগুলো কিন্তু নিতান্তই আপনার ব্যক্তিগত অবজারভেশন। এসব বিশেষণ পাঠকের কাছে ঘটনার গুরুত্ব কমিয়ে দেয় এবং ঘটনাটা পাঠকের মনে কীভাবে দাগ কাটবে, তা একটা নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টাকে পাঠকের সামনেই ফুটিয়ে তোলে। ব্যাপারটা হয়তো লেখক হিসাবে আপনি করতেই পারেন, তবে যেখানে আপনি এরকম সিরিয়াস একটা বিষয় নিয়ে লিখছেন এবং জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন, সেখানে নিজের জুড়ে দেয়া বিশেষণগুলো এড়াতে পারলে ভালো হয়। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, আমেরিকায় থাকা মানেই যে হার্ভার্ড চিনবে এমন নাও হতে পারে। আমাদের দেশে অনেক শিক্ষিত মানুষ আছেন, যারা ঢাকা ইউনিভার্সিটি চিনেন, কিন্তু হার্ভার্ড চিনেন না। এমআইটি বিশ্বের এক নম্বর প্রকৌশল ইউনিভার্সিটি। কিন্তু অনেকেই এটার নাম নাই জানতে পারে। আমি নিজেই আমার অনেক পরিচিত মানুষ দেখেছি, যারা উচ্চ-শিক্ষিত (ডাক্তার বা ঢাকা ইউনিভার্সিটি বা অন্য কোন ভার্সিটি থেকে অন্য কোন ভালো সাবজেক্টে পড়া), কিন্তু এমআইটি চেনে না। অথচ বুয়েট ঠিকই চেনে। এটা কিন্তু তাদের অজ্ঞতার কারণে না। এটার কারণ তারা ঐভাবে বাইরের বিশ্বের খবর হয়তো রাখেন না। কিন্তু নিজের দেশের ভার্সিটিগুলোর নাম জানেন। আর বুয়েটিয়ান নাক বা অন্য যে অঙ্গই উঁচু হোক না কেন, যেকোনো দিক দিয়ে এখনো বুয়েট দেশের এক নম্বর প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, সেটাও অস্বীকার করার উপায় নেই। কাজেই, কেউ যদি হার্ভার্ডের নাম না শুনে, কিন্তু বুয়েটের নাম শুনে, তার মানে যে সে হার্ভার্ড আর বুয়েটকে পাশাপাশি রেখে বুয়েটের প্রতি "উঁহু আহা" করে হার্ভার্ডকে অপমান করছে, তা নাও হতে পারে। তবে হ্যাঁ, ঐ ভাইকে যেহেতু আপনি ভালো চিনেন, আপনিই বলতে পারবেন উনি কোন সেন্সে কী বলেছেন। আমি শুধু মুদ্রার ওপিঠটা একটু দেখিয়ে দিলাম আর কি!

এবার আসি ঘটনা ২ এ। বলতে বাধ্য হচ্ছি, এটা খুবই নাটকীয় ও অবিশ্বাস্য ঘটনা। আমি নিজেও অনেক বুয়েটিয়ানকে চিনি, যারা নিজেদের সার্কেলে (বুয়েটিয়ানদের অভ্যন্তরে) হয়তো বুয়েটের প্রতি একটা উন্নাসিক ভাব দেখিয়ে বেড়ায়, কিন্তু কখনোই কাউকে অন্য ভার্সিটির কোন ছাত্রকে এতোটা প্রত্যক্ষভাবে হেয় করতে দেখিনি বা শুনিনি। উপরন্তু, যদি নিজ থেকে অন্য ভার্সিটির কেউ বুয়েটের কারো কাছে সাহায্য চায়, তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাহায্য করতেই দেখেছি। এভাবে সিনেমাটিক উপায়ে অপমান করাটা তো একেবারেই 'আনলাইকলি'। কাছাকাছি এরকম কোন ঘটনাকে বেশ খানিকটা অতিরঞ্জিত করা হয়েছে বলেই মনে হয়েছে আমার কাছে। তারপরেও, যেহেতু আপনি ঘটনার শ্রোতা বা বক্তা, এটার সততা আপনার উপরেই ছেড়ে দিলাম।

এবার এই ঘটনাটার অপর পিঠটা দেখাই। আমি নিজে কাউকে ডিস্কারেজ করার তীব্র বিরোধী, তবে এটাও কিন্তু ঠিক, সবার প্রতিভা কিন্তু আসলেই সব জায়গায় থাকে না। আপনার এই ঘটনার সাথে ক্লাস নাইন-টেনে সাইন্স নেয়ার জন্য ছাত্র ও শিক্ষকদের প্রতি অভিভাবকদের চাপ দেয়ার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। তখন ব্যাপারটা এমন ছিলো, কেউ সাইন্স পড়তে না পারলেই সে গাধা। আপনার ব্যাখ্যাও এরকম মনে হচ্ছে যে, কেউ জিআরই না দিতে পারলেই সে গাধা। আপনি নিজে এতো সাম্যের গীত গেয়ে যদি এরকম উন্নাসিক মনোভাব ফুটিয়ে তুলেন, তাহলে কীভাবে হবে? আপনার দেখা বুয়েটিয়ানরা বুয়েট অ্যাডমিশন টেস্টকে মেধার চরম মাপকাঠি হিসাবে দেখছে, আর আপনি দেখছেন জিআরইকে। তো ক্যাটাগরিকালি আপনাদের দুই জনের মধ্যে তফাতটা কোথায়? আপনি তো বললেন, অতিশ দিপংকর থেকে পাস করে জিআরই দিয়ে ভালো করা মেধার পরিচয়। কিন্তু যদি কেউ আরো নিচের দিকের একটা ডিগ্রি কলেজ থেকে পাস করে জিআরই না দেয়, তাহলেও কি আপনি তাকে মেধাবী বলবেন? আপনার লেখা পড়ে সেরকম কোন ইন্ডিকেশন কিন্তু পাইনি।

[এই প্যারাটা একটু হালকা টোনে লেখা] এবার আসি ঘটনা ৩ এ। ভাই রে, মাইনশের গার্লফ্রেন্ড নিয়া টানা হেঁচড়া করলে কিন্তু গালি একটু আধটু খাইতেই হবে। আপনি নিজেই বলছেন, আপনি তাকে রিলেশন ভেঙ্গে দেয়ার জন্য প্রোভোক করেছেন। এটা কিন্তু অনেক সেনসিটিভ একটা ইস্যু। ব্যাপারটা হচ্ছে, আপনি ঐ বয়ফ্রেন্ডকে রাগিয়ে দিয়েছেন আপনার কিছু আচরণে, তারপর সে আপনার উপরে তার রাগ ঝেড়েছে। রাগ ঝাড়ার সময় সে আপনাকে এমন কিছু বলেছে, যেটা তার অবশ্যই বলা উচিত হয়নি। ইন্সটিটিউট নিয়ে খোঁচা দেয়াটা আসলেই খারাপ হয়েছে। কিন্তু এরকম কিছু ব্যাপার অনেক কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এসব সেনসিটিভ ব্যাপারে ইন্সটিটিউট কেন, বাপ-মা তুলে গালি দেয়া নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। আমি গালি দেয়াটাকে জাস্টিফাই করছি না। বলতে চাইছি, এরকম সিচুয়েশনে কারো আচরণ তার নর্মাল অবস্থার আচরণ না। আর এই আচরণ দিতে একটা ইন্সটিটিউটকে জেনারালাইজ করাও মনে হয় ঠিক হবে না।

আপনার পুরো লেখার মধ্যে আপনি আমেরিকান ভার্সিটিতে পড়েন, জিআরইতে অনেক ভালো করেছেন এসব বিষয় কিন্তু প্রচ্ছন্নভাবে ফুটে উঠেছে। আমার ভুল কিনা জানি না, তবে ডিভি পাওয়া ভাইকে আপনি যেভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, তাতে কিন্তু তার প্রতিও আপনার একটি উন্নাসিক ভাব ফুটে উঠেছে বলে মনে হয়েছে। আপনি নিজে বুয়েটিয়ানদের যে দোষে দোষী সাব্যস্ত করছেন, সে দোষে আপনি নিজেও কিন্তু কম দোষী নন। এটা নিয়েও একটু ভেবে দেখবেন আশা করি। একটা কথা আছে না, "আপনি আচরি ধর্ম পরকে শেখাও"?

ওখানেই অনেকেই আছে যারা ৩ এর নিচে সিজিপিএ আর জিআরই তে বেশ কম স্কোর নিয়ে আসে, হায়ার স্টাডি পসিবল কিনা জানার জন্য।

বেশ বেশ! তো... তার মানে তারা গাধা, তাই তো? আপনি নিজে তো কম বিনয়ী নন হে [ব্যাবহৃত ফন্ট: সার্কাস্টিক]! দেঁতো হাসি

ওখানেই কিন্তু কাঠবলদ ধর্মান্ধদের আড্ডা জমে।

এই কথার পক্ষে তথ্য দেন। এইসব ফালতু কথা কোত্থেকে পাইছেন?!

যদি অন্যান্য ভার্সিটি থেকে কম যায়, সেটার পরোক্ষ এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে, প্রত্যক্ষ কারণ বুয়েটিয়ানরাই। ওরা একটা ধারা শুরু করেছে, কিন্তু আর কাউকে সেই বহতা ধারাতে হাত ধুতে দেবেনা, এমন মানসিকতা আছে অনেকের মধ্যে।

হাসালেন ভাই! কীভাবে বুয়েটিয়ানরা মানুষকে উচ্চ শিক্ষার জন্য বাইরে যেতে দেয় না? হাত-পা বেঁধে রাখে? নাকি ওদের অ্যাপ্লিকেশন সাবোটেজ করে কোনোভাবে?! আপনি নিজেই এক জায়গায় বলেছেন, বাইরে নাকি কেউ কোন ভার্সিটিই চিনে না (যদিও অনেক জায়গায় আমি দেখেছি বাংলাদেশ চিনে না, কিন্তু বুয়েট ঠিকই চিনে), এখন আবার বলছেন বুয়েটের লোকজন নাকি বাইরে যেতে বাধা দেয়। স্ববিরোধীতা হয়ে গেলো না? একটু ডিমোরালাইজিং কথা বললেই যে হতোদ্যম হয়ে পড়বে, তার উদ্যম কোন কালে ছিলোই না! হ্যাঁ, ডিমোরালাইজিং কথা যদি কেউ বলে থাকে সেটা খারাপ বটে। কিন্তু তার মানে তো এই না যে কাজটা করতে না পারার দায়ভার আপনি তার কাঁধে দিয়ে দেবেন। আপনার এই যুক্তিটা অত্যন্ত হাস্যকর ও বালখিল্য।

কিছু মন্তব্যে একটা ব্যাপার উঠে এসেছে, সেটা হচ্ছে বুয়েটের একচেটিয়া আধিপত্য, মনোপোলি ইত্যাদি। এই ব্যাপারটা কেন আসছে সেটাই তো বুঝতে পারছি না। বুয়েটের কাজ কি প্রকৌশলীদের চাকরি বা হাইয়ার স্টাডিজে 'মনোপোলি' ধরে রাখা, নাকি ফি বছর ইঞ্জিনিয়ার প্রোডিউস করা? আমার তো মনে হয় দ্বিতীয়টা, যেটা বুয়েট সফলভাবেই বছরের পর বছর ধরে করে আসছে। আর মনোপোলির কথা যদি বলতেই হয়, তাহলে মনোপোলি ধরে রাখার জন্য আইন করে কুয়েট, রুয়েট, চুয়েট ইত্যাদি ভার্সিটির ছাত্রদের বের হওয়া বন্ধ করতে হবে অথবা তাদের জন্য জিআরই দেয়া নিষিদ্ধ করতে হবে। বুয়েট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৮৭৬ সালে (ঢাকা ভার্সিটিরও অনেক আগে), ঢাকা সার্ভে স্কুল হিসাবে। এতো পুরনো একটা প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য অনেক বেশি হবে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায়, এটাই কি স্বাভাবিক না? কুয়েট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে '৬৯ এ, চুয়েট '৬৮ তে, রুয়েট '৬৪ তে। আর এই সবগুলো ইউনিভার্সিটির মর্যাদা পেয়েছে ২০০৩ এ। খুবই স্বাভাবিক যে, বুয়েটের তুলনায় প্রায় ১০০ বছরের জুনিয়র প্রতিষ্ঠানগুলো (বাকিগুলো তো আরো জুনিয়র) বুয়েটের ঐতিহ্য থেকেও ১০০ বছর পিছিয়ে থাকবে। এটা দোষের না, এটা স্বীকার করা মানে এসব প্রতিষ্ঠানকে অবজ্ঞা করাও না, আর এটা বলা মানে মোটেই এই না যে এসবের ছাত্ররা গাধা। যাই হোক, বলছিলাম মনোপোলি নিয়ে। একটা ভার্সিটি যদি প্রতিষ্ঠা হয়, সেখান থেকে ছাত্ররা অবশ্যই বের হবে, অবশ্যই চাকরি পাবে এবং অবশ্যই উচ্চশিক্ষার্থে বাইরে যাবে। এখানে অন্য কোন ভার্সিটির 'মনোপোলি'র প্রশ্নটাই তো অবান্তর। এটা তো মার্টিন সাহেবের গেইম অফ থ্রোন্স না যে একজনই সিংহাসনে বসবে আর বাকিরা মারা যাবে। এখানে তো ওরকম কোন লক্ষ্যই নেই। কাজেই, বুয়েটিয়ানদের মনোপোলি বা আধিপত্য কমে যাচ্ছে, এসব কথা বড়ই হাস্যকর। এরকম ভাবে বিষয়টাকে দেখারই সুযোগ নেই।

অতিথি লেখক এর ছবি

ঘটনা নিয়ে আপনি যতই সন্দিহান হোন না কেন, প্রত্যেক ঘটনার অ্যালিবাই আছে। প্রথমটাতে আমার বন্ধু, দ্বিতীয়টাতে ঐ ছেলেটা, তৃতীয়টাতে আমাকে পাঠানো মেসেজের স্ক্রীনশট!

আমি জিআরই এর কথা শুধু এজন্যে বলেছি, কারণ আমেরিকাতে এপ্লাই করতে হলে এটা লাগে। সবাই বুয়েটিয়ান শুনলেই যে জেনেরালাইজটা করে, সেটার ক্ষেত্রেই বললাম।

আমি মেয়েটাকে শুধু প্রোভোক করিনি। আমি বলেছি, ভালো করে ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে। টানাহেঁচড়া করিনি। তাই বলার সময় এভাবে না বলাটাই উচিৎ।

ডিমোরালাইজ করবেই বা কেন কেউ?

আমাদের দেশে অনেক শিক্ষিত মানুষ আছেন, যারা ঢাকা ইউনিভার্সিটি চিনেন, কিন্তু হার্ভার্ড চিনেন না। এমআইটি বিশ্বের এক নম্বর প্রকৌশল ইউনিভার্সিটি। কিন্তু অনেকেই এটার নাম নাই জানতে পারে। আমি নিজেই আমার অনেক পরিচিত মানুষ দেখেছি, যারা উচ্চ-শিক্ষিত (ডাক্তার বা ঢাকা ইউনিভার্সিটি বা অন্য কোন ভার্সিটি থেকে অন্য কোন ভালো সাবজেক্টে পড়া), কিন্তু এমআইটি চেনে না। অথচ বুয়েট ঠিকই চেনে। এটা কিন্তু তাদের অজ্ঞতার কারণে না।

এই যে ভাই, না জানা আর অজ্ঞতার মধ্যে পার্থক্য কী, বলতে পারবেন? হাসাইলেন ভালোই !!

ইরে নাকি কেউ কোন ভার্সিটিই চিনে না (যদিও অনেক জায়গায় আমি দেখেছি বাংলাদেশ চিনে না, কিন্তু বুয়েট ঠিকই চিনে), এখন আবার বলছেন বুয়েটের লোকজন নাকি বাইরে যেতে বাধা দেয়। স্ববিরোধীতা হয়ে গেলো না?

দুটো দুই ঘটনা। বুয়েট চেনেনা বাইরের দেশের ভার্সিটির কর্মকর্তারা। আর নিরুৎসাহিত করে যারা বুয়েট থেকে বাইরে পড়তে গেছে, ওরা। কাদেরকে? যারা বাংলাদেশ থেকে ওদের কাছে পরামর্শ চায়, ওদেরকে। স্ববিরোধী হবে কীভাবে?

পনি তো বললেন, অতিশ দিপংকর থেকে পাস করে জিআরই দিয়ে ভালো করা মেধার পরিচয়।

কখনোই এটা বলিনি। বলেছি, প্রাইভেট ভার্সিটি থেকে পাশ করেও আমেরিকাতে পড়তে যাওয়া যায়। শুধু বুয়েটিয়ানরাই যে যায়, তা নয়। কে কোন ভার্সিটিতে পড়ে, সেটা মেধার পরিচয় নয়। শেষ পর্যন্ত, কে ভালো কাজের মাধ্যমে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিলো, সেটাই মেধার পরিচয় বলে আমি মনে করি।

বুয়েটে কাঠবলদ ধর্মান্ধদের আড্ডা জমে। এমন কথা কই পেয়েছি? দুনিয়াদারি সম্বন্ধে দেখি কোনো ধারণাই নাই পনার? শুধু দুটো শব্দ লিখে গুগল করুন - বুয়েট ছাগু, এরপর একটার পর একটা লেখা পড়তে থাকুন।

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাই চিটাগং ইউনিকে তাহলে শিবিরের দখল থেকে মুক্ত করতে পেরেছেন অবশেষে হাসি আলহামদুলিল্লাহ

অতিথি লেখক এর ছবি

ঘটনাগুলো মিথ্যা আমি তা বলিনি। শুধু মুদ্রার অপর পিঠ দেখিয়েছি। হাসি

পছন্দ করার মত মেয়ে, তাই আমিও কিছুটা উৎসাহ দিয়েছি, অস্বীকার করবো না।

এটাকেই মনে হয় ইংরেজিতে প্রোভোক বলে। আমি অবশ্য জিআরই দেই-ই নি কিনা, তাই সঠিক নাও হতে পারে!

হ্যাঁ, "না জানা" আর অজ্ঞতার মধ্যে পার্থক্য নেই, তা ঠিক। তবে আমার উল্লিখিত "না জানা"টা দোষের না। আপনার উল্লিখিত "না জানা"টা দোষের।

ডিমোরালাইজ করবে কেন কেউ, সেটা এক প্রশ্ন; আর ডিমোরালাইজ করার কারণে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও একজন বিদেশে যেতে পারলো না, সেটা আরেক ব্যাপার। একবার বলেছি, আবারো বলছি, ডিমোরালাইজ করা অবশ্যই খারাপ। কিন্তু তার জন্য কেউ যদি হতোদ্যম হয়ে পড়ে, তাহলে তার উদ্যম কোন কালে ছিলোই না। এটার দায়ভার যে ডিমোরালাইজ করেছে, তার উপর কোনভাবেই বর্তায় না। সে বুয়েটের হোক, চবির হোক, বা এমআইটির হোক।

নিচে একজন ফেইসবুক থেকে কমেন্ট করেছেন। আমি কোট করছি।

আর আপনি নিজে চিটাগং ভার্সিটির হয়ে বুয়েট সম্পর্কে লিখেছেন ’ওখানেই কিন্তু কাঠবলদ ধর্মান্ধদের আড্ডা জমে’, That was really really cute. হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

‌You don't know what kind words can do, and how deep it hurts with demoralizing words.

বাহ, কী সুন্দর ! আমার না জানাটা দোষের, আর আপনার না জানা দোষের নয়। এটাও যুক্তি !!!!!

আমি প্রোভোক করিনি। আমার উৎসাহ ঐ অতটুকু পর্যন্তই ছিলো, যে বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নাও। আরেকটা অল্টারনেটিভ হচ্ছে, যত কষ্টই হোক, ওর সাথে পড়ে থাকো, এটা বলা। কেন আমি এটা বলবো কাউকে?

অতিথি লেখক এর ছবি

কী আজব রে ভাই! কথা বুঝেন না কেন?! আপনি অজ্ঞতাকে যেভাবে তুলে ধরছেন, আপনার এই স্টাইলে মনে হইছে তারা যা জেনে দোষ করে ফেলছে।

হার্ভার্ড অনেক র‍্যাংকিং লিস্টেই পৃথিবীর এক নাম্বার ইউনিভার্সিটি। যে লিস্টে এক নাম্বারে নেই, সেই লিস্টের দুই থেকে পাঁচের মধ্যে হার্ভার্ডের নাম অবশ্যই আছে। বাংলাদেশ থেকে আসা ছাত্ররা তো বটেই, হার্ভার্ডে পড়ে শুনলে এমনকি আমেরিকানদেরও চোয়াল ঝুলে পড়ে। কিন্তু এই বড় ভাই কোনো পাত্তাই দিলেন না।

মানে আপনার ভাবটা এমন, হার্ভার্ডের নাম না জেনে বড় দোষ করে ফেলছে। আমি বলছি, এই অজ্ঞতাটা দোষের কিছু না। নিচে একজন এরকম আরেকটা কমেন্ট দিছে। আমি বলতে চাইছি, বাংলাদেশের একটা সাধারণ পাবলিক হার্ভার্ডের নাম নাই শুনতে পারে বা গুরুত্ব নাও বুঝতে পারে। কিন্তু এটা তার দোষ না।

You don't know what kind words can do, and how deep it hurts with demoralizing words.

কেন? আপনার কি মনে হয় আমি সারাজীবন শুনে আসছি যে আমি পারুম, যেখানেই হার দিমু সেখানেই সোনা (gold) ফলবে? আমারে জীবনে কোনদিন ডিমোরালাইজিং কথা শুনতে হয় নাই? আজাইরা প্যাচাল পারেন কেন?!

আপনি যদি এরপরেও মনে করেন, কিছু কথা মানুষকে হার্ট করে তারে বাইরে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে, তাইলে আমার আর কিছুই বলার নাই।

অনেক হইছে ভাই, আপনে জিতছেন, আমি হারছি। এই নেন তালগাছ। তালগাছটা আপনাকে দিলাম

খোদা হাফেজ!

মেঘলা মানুষ এর ছবি

দেখুন, প্রতিষ্ঠান নিয়ে খানিকটা গর্ব (যদিও অসংগত) থাকে অনেকেরই, ছাত্র জীবনে কেউ আইডিয়াল স্কুলে পড়ার কারণে কাউকে বড় মনে করেছি, কাউকে হলিক্রসে, ভিকারুন্নিসায় পড়ে শুনে মস্ত কিছু মনে করেছি, তাদর গুটিকয় হয়ত 'ভাব' দেখিয়েছে অন্যদের -আমরা যখন তখন ব্লগে লেখার সুযোগ পেলে সেটা নিয়ে একটা পোস্ট দিয়ে দিতাম বকে মনে হয় না।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

অ্যা আপনে আইডিয়াল স্কুলের, তাইলে আপনেও আমার মত চৌধারি সাহেব চোখ টিপি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

মেঘলা মানুষ এর ছবি

না মানে, আমি 'চৌধুরি' না, আমি বস্তিবাসি 'রাজু' ইয়ে, মানে...

আসলে বলতে চাইছিলাম, কেউ আইডিয়াল স্কুলে পড়ে- এই কারণেই একসময় তাদের 'বড়' মনে করেছি।

আপনি আইডিয়াল স্কুলে পড়তেন? তাইলে আপনি বিরাট কবি!!! (সার্কাজম)

শুভেচ্ছা হাসি

মেঘলা মানুষ এর ছবি

চরম উদাস দা'র বুয়েট নিয়ে এই লেখাটা পড়ে আসুন, দয়া করে।

[url= http://www.sachalayatan.com/udash/50385]স্বলেহন[/url]

ওখানে তিনি যা বলেছেন, তার পরে আপনার এই পোস্টের মধ্যে নতুন যেটা পেলাম তা হল একজন ব্যর্থ প্রেমিক কর্তৃক প্রদত্ত হুমকি। দেখুন, আপনাকে গোপীবাগের একটা ছেলেও হুমকি দিতে পারে যদি সে মনে করে তার স্বপ্নের রাজকণ্যা আপনার প্রতি দুর্বল ("চিটাগাংয়ের ছেলে হয়ে কিভাবে গোপীবাগের একটা মেয়ের দিকে কিভাবে হাত বাড়াও")
তখন কি আপনি ঢাকার গোপীবাগবাসীদের বিরুদ্ধে ব্লগ লিখে ফেলবেন?

সত্যি বলতে কি, ঘটনা ৩ এর একজন ব্যর্থ প্রেমিকের বয়ান শুনে আপনি একটা প্রতিষ্ঠানকে বিচার করে ফেললেন। বিষয়টা অদ্ভুত না?

ধ্রুব আলম এর ছবি

আপনি কি গোপীবাগে থাকেন নাকি? আমার বাসা গোপীবাগ। (ভয় পাইয়েন না, ত্যক্ত করুম না, এখন বিদেশে থাকি)

যাউকগা, গোপীবাগ খুব সুবিধার এলাকা না, হে হে! চোখ টিপি

মেঘলা মানুষ এর ছবি

নাহ, গোপীবাগে থাকি না (ছিলামও না)
ঢাকার কোন একটা 'ডেঞ্জারাস' জায়গা খুঁজছিলাম, তখনই গোপীবাগ নামটা মনে আসলো চাল্লু

ধ্রুব আলম এর ছবি

আপনি আমার গোপিবাগনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন, নতুন পোস্ট আসলো বলে! চোখ টিপি

অতিথি লেখক এর ছবি

স্বলেহন পড়েছিলাম তখনই, যখন উনি লিখেছিলেন। কমেন্টও করেছিলাম যদ্দূর মনে পড়ে।

গোপীবাগবাসীদের যেমন এই হামবড়া ভাব মানায় না, বুয়েটিয়ানদেরও মানায় না। কাউকেই মানায় না। আমি চিটাগাং ভার্সিটিতে পড়ি বলে তো কখনো আমার মনে হয়নি, চবি এর মেয়েদের সাথে অন্য কোনো জায়গার ছেলেদের প্রেম করার ইচ্ছেটা ধৃষ্টতা !!

ঐ ছেলের কাছে কেন মনে হলো, বুয়েটিয়ান মেয়েদের দিকে আর কেউ তাকাতে পারবে না, ভেবে দেখেছেন? এটা একটা কালচার! এই কালচারটা তার মাথায় সেট হয়ে গেছে। এটাকেই ভাংতে চেয়েছি বলে লিখেছি পোস্টটা!

কেউ কোথায় পড়ে গর্ব করতে পারে, কিন্তু তার মানে তো এই না যে এজন্য আমি অন্যদেরকে গালি দেয়ার অধিকার রাখি।

অতিথি লেখক এর ছবি

কেউ কোথায় পড়ে গর্ব করতে পারে, কিন্তু তার মানে তো এই না যে এজন্য আমি অন্যদেরকে গালি দেয়ার অধিকার রাখি।

ভালো স্টুডেন্টদের পাশাপাশি, ওখানেও প্রচুর মাথামোটা ছেলেমেয়ে আছে।

ওখানেই কিন্তু কাঠবলদ ধর্মান্ধদের আড্ডা জমে।

হাততালি গড়াগড়ি দিয়া হাসি

নীলকান্ত এর ছবি

খুবই দরকারী পোস্ট।
মানুষের ধারণা প্রকাশ হওয়াটা আসলেই জরুরি।

আপনার এই লেখার সারকাস্টিক দিক আমি ধরতে পারতেছি না দুঃখিত সেই কারণে। প্রথম কারণ নাম।

বুয়েটের ছাত্রের অহংকার থাকতেই পারে। আপনি না বেইল দিলেই পারেন। সে যদি কষ্ট করে তার জায়গা করে নেয় অথবা কেড়েও যদি নেয়, দেশে আইন আছে বা আপনার সাহস থাকলে ওনার মতো করেন। বড় ভাইটারে চুপচাপ দেখে এর ওর মুখ চাওয়াচাওয়ির তো বিষয় না। মনে অহংকার থাকলেও অনেকের মুখে তা প্রকাশ পায় না—এই ধরনের লোকের সমস্যা তো আরো বেশি।
আপনার জায়গায় বরিশালের দূর গ্রামের এক ডিগ্রী কলেজে পড়ুয়া ছাত্র তার কাজিনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার গরিমা নিয়ে লিখতেই পারতো। তার কাছে তখন এমআইটি ঐ বুয়েট হইতো। কারণ তার জানার দৌড় বুয়েট পর্যন্ত।

নিচের ফেসবুক কমেন্টে লিখেছেন "আপনিও আরেকটা উদাহরণ, ভাই। শুধু বুয়েটিয়ানরাই গ্রেট, এটা মনে করছেন। কী আর বলবো, বলেন?"। সবাই এক একটা উদাহরণরে ভাই। হয়তো ঐ বুয়েটিয়ান ভাইটা অনেক কিছুই করেছেন এবং করছেন, তার লাগতেই পারে। আমার কাছে মা জাতি গ্রেট। যে সন্তানকে তার মা রেখে চলে যায় তার কাছে মা মানে খারাপ কিছু হইতেই পারে।
আপনার ব্যক্তিগত মতামত আপনি দিয়েছেন, খুব ভাল কথা। কিন্তু ব্যক্তিগত মতামত অন্যকে আঘাত করার জন্য হলে কি করা উচিত সেটা বলেন। আপনার এই পোস্ট দেখে এখন দশজন যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জিনিস নিয়ে লেখা শুরু করে, টানা হেঁচড়া করে জিনিসটা তো শোভনীয় হবে না, তাই না?
আমি এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে জীবনের একটা বড় সময় কাটিয়েছি এবং কাটাচ্ছি। আমি গর্ব করে বলতে পারি, বিশ্ববিদ্যালয় দুটি সেরা, অন্তত মুক্ত চিন্তা বলেন আর কাজের কথা বলেন সবদিক থেকে, আমার কাছে। এক একজনের কাছে এক এক রকম হবে।

ওহ, এটা কালচার না। কালচার এর সংজ্ঞা দেখতে পারেন। তর্কের খাতিরে তর্ক করবো না। প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী পাশ করে (স্নাতক)। উচ্চ শিক্ষার্থে যায় এর অনেকেই। আগেকার কথা চিন্তা করুন। বিষয়টা বুঝতে পারবেন। বাবা মার ধারণা হঠাৎ করে হয় নাই। বিদেশে পোলাপাইন আগে যাইতো বুয়েট আর ডিইউ থেকে, এখনও যায়। গত দুই দশকে প্রাইভেট ভার্সিটি থেকেও যায়। প্রথা ভাঙ্গুন এমনিতেই ধারণা ভাংবে। তাই বলে এক ভার্সিটির প্রতি ক্রোধ ঝাড়া ঠিক না।


অলস সময়

মেঘলা মানুষ এর ছবি

ঐ ছেলের কাছে কেন মনে হলো, বুয়েটিয়ান মেয়েদের দিকে আর কেউ তাকাতে পারবে না, ভেবে দেখেছেন? এটা একটা কালচার!
মাসুম ভাই, খেয়াল করুন, একজন প্রেমে পড়া লোকের মাথায় অনেক কিছুই আসতে পারে, একজনের মনে হতেই পারে যে 'গোপীবাগের মেয়েরা গোপীবাগের ছেলেদের সাথেই কেবল প্রেম করবে' এটা কালচার না। বুয়েটের অনেক মেয়েরই প্রেমিক বুয়েটে পড়ে না-এটা ঐ ছেলেও জানে। তার উত্তেজনা বা ক্রোধের কথা দিয়ে আপনি একটা 'কালচার' এর পরিচয় বের করে ফেললেন, ব্যাপারটা কেমন হল?

আপনি কি হলফ করে বলতে পারবেন, চিটাগাং ভার্সিটির কোন ছেলে তার কাঙ্ক্ষিত মেয়ের সাথে পরিচয় থাকা কোন ছেলেকে এমনটা বলে নি, "কোন সাহসে ডিগ্রি কলেজের ছেলে হয়ে চিটাগাং ভার্সিটির মেয়ের দিকে হাত বাড়িয়েছ? বামন হয়ে ... .... ...." এটা দিয়ে কি আমি চিটাগাং ভার্সিটির 'কালচার' বিবেচনা করব?

একই ঘটনা ঘটতে পারে একই ভার্সিটিতে পড়া দুটো ডিসিপ্লিনের মধ্যে,
"কোন সাহসে বোটানির ছেলে হয়ে ফার্মেসির মেয়ের দিকে হাত বাড়িয়েছ? বামন হয়ে ... .... ...."

একই ঘটনা ঘটতে পারে একই পাবলিক-প্রাইভেট ভার্সিটির মাঝে,
"কোন সাহসে পাবলিকের ছেলে হয়ে প্রাইভেট ভার্সিটির মেয়ের দিকে হাত বাড়িয়েছ? বামন হয়ে ... .... ...."
বা,
"কোন সাহসে প্রাইভেট ভার্সিটির ছেলে হয়ে পাবলিক ভার্সিটির মেয়ের দিকে হাত বাড়িয়েছ? বামন হয়ে ... ..."

একই ঘটনা ঘটতে পারে একই মেডিক্যাল কলেজগুলোতে,
"কোন সাহসে হয়ে সলিমুল্লাহ মেডিক্যালের ছেলে হয়ে ঢাকা মেডিক্যালের মেয়ের দিকে হাত বাড়িয়েছ? বামন হয়ে ... .... ...."

এই তালিকা কি শেষ হবে?

মেঘলা মানুষ এর ছবি

বি এর মেয়েদের সাথে অন্য কোনো জায়গার ছেলেদের প্রেম করার ইচ্ছেটা ধৃষ্টতা !!

-আপনার মনে হয় নি শুনে ভালো লাগলো। তেমনি, বুয়েটের অনেক ছাত্রেরই মনে হয় নি (বা হয় না)

আবার, আপনার চিটাগাং ভার্সিটিরই যে সহপাঠি তার প্রেমিকাকে অন্য এক প্রতিষ্ঠানের ছেলের কাছে হারিয়ে ফেলার ভয়ে শংকিত, তার কাছে কিন্তু চবি এর মেয়েদের সাথে অন্য কোনো জায়গার ছেলেদের প্রেম করার ইচ্ছেটা ধৃষ্টতা !! - বলেই মনে হবে। যেমনটা হয়েছে ঐ বুয়েটে পরা ছেলেটার মাথায়। ঐ ছেলেটের আচরণ অপরিণত, তবে আপনার থেকে তো আমরা আরেকটু পরিণত আচরণ আশা করতে পারি, তাই না? ঐ ছেলেটার চেয়ে আপনি, খুব সম্ভব, বয়সে বড় হবেন, আপনার জীবনদর্শন অন্য রকম হবার কথা। আপনার কি মনে হয়?

শুভেচ্ছা হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

আমার বান্ধবীদের সাথে অনেক ভার্সিটির ছেলেপেলের প্রেম ছিলো। আমার কখনো এমন মনে হয়নাই যে এটা ধৃষ্টতা। সম্পর্কের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আসাটাই তো ভুল। মানুষ কেমন, সেটাই আসল। তাইনা?

মেঘলা মানুষ এর ছবি

ভাইয়া, আমি বুঝতে পারছি না আপনি কেন আমার কথাটাই বুঝতে পারছেন না।

আমার বান্ধবীদের সাথে অনেক ভার্সিটির ছেলেপেলের প্রেম ছিলো।

আপনি রাগ করবেন না, কিন্তু ধরুন আপনারই এক বন্ধু যে কি না আপনার বান্ধবী 'শাবানা' (ছদ্মনাম) কে পছন্দ করে। কিন্তু, আপনার বন্ধু সন্দেহ করছে যে অন্য একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছেলের সাথে 'শাবানা'র আলাপ পরিচয় আছে। আপনার বন্ধুটি ঐ অন্য প্রতিষ্ঠানের ছেলের সাথে কথা বলতে বলতে রেগে গিয়ে বলল, "কোন সাহসে অন্য জায়গার ছেলে হয়ে কোন সাহসে চবির মেয়ের সাথে প্রেম করার চেষ্টা করো?" এটা কি পুরো চবির সবার মানসিকতার প্রতিনিধিত্ব করে?
একজন প্রেমিক যখন অন্য কাউকে 'হুমকি' মনে করে, তখন সে কতটা যুক্তি দিয়ে বিচার-বিবেচনা করে, সেটা নিশ্চয়ই আশেপাশে প্রেমে পরা বন্ধুদের দেখে কিছুটা হলেও জেনেছেন। "ও কে না পেলে আমি বাঁচবনা" -বলা বহু বন্ধু বান্ধব সবারই একজন-আধজন আছে।

আশা রাখছি এবার বুঝতে পারছেন যে, একজন প্রেমিকের রাগের মাথায় দেয়া হুমকি সিরিয়াসলি নেয়ার মত জিনিস কিনা, যেটা নিয়ে আপনি মনে ক্ষোভ পুষে রাখছেন।

শুভেচ্ছা হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

বৈদেশে হায়ার স্টাডির জন্য যাহা লাগে বলিয়া আমি বুঝিয়াছি তাহা হৈল রিসার্চ ওয়ার্ক-এক্সপেরিয়েন্স, আর কিছুই না। সিজি মিজি জিআরি স্কোর কোন বিষয় না। কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করছে সেটাও বিষয় না। ভালো রিসার্চ এক্সপেরিয়েন্স থাকলে কদু বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও স্ট্যানফোর্ডে যাওয়া যাবে। তবে রিসার্চ অভিজ্ঞতা না থাকলে সিজি জিআরি হেন তেন লাগবে। সেক্ষেত্রেও সিজি জিআরি হাই স্কোর নিয়া কদু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও যাওয়া যাবে। সুতরাং যেখান থেকেই পাশ করুক, যাওয়ার সুযোগ থাকছেই। (অবশ্য বাইরে যেতেই হবে এই রকম মানসিকতাই বা কেন সেইটাও চিন্তার বিষয়!)

বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বুয়েট চিনে না এইটা ঠিক না। প্রাক্তন ছাত্র থাকলে ঠিকি চিনবে এবং সেটা অন্য ইউনির জন্যও প্রযোজ্য। কোন প্রফেসর নর্থ সাউথের ভালো ছাত্র পেলে পরবর্তীতে সে নর্থ সাউথের এপ্লিকেন্টকে প্রাধান্য দিবে।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিছু বিষয়ে (পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন বন্ধ, প্রবৃদ্ধ সিলেবাস...) কড়াকড়ি হলে সেদিন দূরে নাই আরকানসা'র এসিস্ট্যান্ট প্রফেসরের (যে ৩.৫ বছরে নর্থ সাউথ থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করেছে) আন্ডারে তারই এইচেসসি ব্যাচের বুয়েট ছাত্র পিএইচডি রিসার্চ এসিস্ট্যান্টশিপ চাহিয়া মেইল করিয়াছে!

জনগণের টাকায় বুয়েট চলে সুতরাং সবাই বুয়েটরে গালি দিতে পারে এইটা সমস্যা না। বুয়েটে সমস্যার অন্ত নাই, সবাই গালাগালি চালু রাখতে পারেন...দেশটাই বুয়েটের জন্য ডুবে গেল...

[মৃষৎ]

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক বুয়েটিয়ানেরই হামবড়া ভাব থাকে। প্রথম দিকে একটু বেশিই থাকে। কিন্তু কিছুদিন পরে আর হামবড়া ভাব থাকে না। বিশেষ করে কর্মজীবনে ঢোকার পর ভাব কমে যায়। এরকম ভাব ঢাকা মেডিকেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদেরও থাকে। কিন্তু এইটা কি সচলায়তনে লেখার বিষয় হতে পারে?

অতিথি লেখক এর ছবি

এটা একটা সোশ্যাল ইস্যু, এটা অনেককে কষ্ট দেয়। আমার মনে হয়, এটা বিষয় হিসেবে ঠিকই আছে। শুধু হার্মলেস টপিক নিয়ে নয়, সংবেদনশীল ইস্যু নিয়েও লেখা প্রয়োজন আছে।

ধ্রুব আলম এর ছবি

আমরা দুই বন্ধু খুব অবাক হয়ে একে অন্যের দিকে চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলাম। হার্ভার্ড অনেক র্যাংককিং লিস্টেই পৃথিবীর এক নাম্বার ইউনিভার্সিটি। যে লিস্টে এক নাম্বারে নেই, সেই লিস্টের দুই থেকে পাঁচের মধ্যে হার্ভার্ডের নাম অবশ্যই আছে। বাংলাদেশ থেকে আসা ছাত্ররা তো বটেই, হার্ভার্ডে পড়ে শুনলে এমনকি আমেরিকানদেরও চোয়াল ঝুলে পড়ে। কিন্তু এই বড় ভাই কোনো পাত্তাই দিলেন না।

ভাইগো, র‍্যাঙ্কিং-এ একটা ব্যাপার কি জানেন? ইঞ্জিনিয়ারিং ও লাইফ সায়েন্স বা মেডিকেলের র‍্যাঙ্কিং ভিন্ন। প্রকৌশলের ক্ষেত্রে এম আই টি এক নম্বর (মোটামুটিভাবে)। এবং বুয়েটে পড়ার আগে আমি এমআইটির নাম শুনি নাই। তবে বুয়েট আর ঢাকা ভার্সিটির নাম শুনেছি, মাফ করে দিয়েন, মূর্খ মানুষ।

ওনার সেই “কিছুই-যায়-আসে-না” ভঙ্গিতে ফিরে যাওয়ার জন্য অরণ্যে রোদন করতে করতে জিজ্ঞেস করলেন, “আর বাংলাদেশে থাকতে কোথায় পড়তো?”

হার্ভাডে পড়লে কি সম্মান দেখিয়ে কথা বলতে হবে? বুয়েটে পড়লে হবে না। আম্রিকান বলে উহার জন্য আদেখলামি দেখালে দোষ নেই, বুয়েট আর ঢাকা ভার্সিটি নিয়ে দেখালেই দোষ। ভাই, দেশের ৯০% মানুষের কাছে, ঢাবি, মেডিকেল, বুয়েট- এই দেশের প্রেক্ষিতে হার্ভাড।

কিছু নাছোড়বান্দা পোলাপাইনের কবলে পড়ে চট্টগ্রামে একটা কোচিং সেণ্টারও খুলেছি।

ব্যক্তিগত প্রশ্নঃ আপনি কি এম এস করছেন? যদি তাই করেন, তাহলে বিদেশে বসে, দেশে কোচিংও খুলে ফেলেছেন! এমএস-এর চান্স পেয়েই কি আপনার মনে হয়েছে, আপনি এ বিষয়ে কোচিং খোলার মত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন? অনলাইন হেল্পই কি যথেষ্ট ছিল না? হয়তো মাঝে মাঝে দেশে এসে লেকচার দেয়া, চলতে পারে।

ব্যক্তিগত অভিমত, উপরে সাফি ভাই যে প্রশ্ন করেছেন, তা একটু বেশিই যথার্থ। কেউ সেবার লক্ষ্যে কোচিং সেন্টার খুলে না। আঘাত পেলে দুঃখিত, কোচিং ধারণাটিই খুব বেশি ভাল কিছু না।

আর যে ছেলে, কোথাকার কোন বুয়েটের বড়ভাই কি বলেছে, তাতে কাদতে কাদতে পেরেশান, তার পাছায় আমার পক্ষ থেকে দুটা লাথি দিয়ে দিয়েন। সরকারি চাকরি কি কোনদিন করসে বা করবে বলে আশা রাখে? নাকি বিদেশ যাওয়ার স্বপ্নেই সে বিভোর। কি কি শুনতে হয়, এবং কি পরিস্থিতিতে শুনতে হয়, এই সব পোলাপানের কোন ধারণা নাই। এদের অতি সত্ত্বর চোখে ডায়পার পড়ানোর ব্যবস্থা করে দিলে তারা উপকৃত হবে।

আর আপনার প্রেমঘটিত বক্তব্য নিয়ে কিছু বলার ইচ্ছা নেই, আশা করি, অন্যদের কথা থেকে কিছু ধারণা পেয়েছেন।

আর শেষাংশটুকু তো পুরোই আপনার মনের ঝাল।

যা হোক, এমন অদ্ভুত লেখা সচলে কমই পড়েছি!

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

মানে হ‌ইল র‍্যাঙ্কিং দেখে চোয়াল ঝুলে পড়া সিন্ড্রোম, তো সেই হিসাবে চৌধারি সাহেবরা আর মাসুম সাহেব একই সিন্ড্রোমে আক্রান্ত। দুইজনেই রেঙ্কিং দেইখা চোয়াল ঝুলে পড়ার দলে, মাসুম ভাই একটু বেশি জ্ঞানী বলে উনি বিশ্বের খোঁজখবর রাখেন আর চৌধারি সাহেবরা কূপমন্ডুক বলে এইসব খোঁজ রাখেন না। এইটুকু হইল পারথিক্য।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

তখন মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে মাত্র হাঁটি হাঁটি পা পা করছে। আমরা সদ্য পাস করা ২ বন্ধু মিলে এক ক্লোজ বড়ো ভাইয়ের কাছে গেলাম। সেখানে আলাপে আলাপে বড়ো ভাই আমাকে বললো মোবাইল ফোন কোম্পানিতে চাকুরির অ্যাপলাই করতে, আর আমার ফ্রেন্ডকে নিরুৎসাহিত করলো। কারণ, তার সিজিপিএ কম। এটা হলো বুয়েটের অভ্যন্তরীণ চিন্তা-ভাবনা। কিছু ব্যতিক্রম বাদে বুয়েটের ভিতরেই কম সিজিপিএ প্রাপ্ত স্টুডেন্টদেরকে নিঁচু চোখে দেখার কালচার আছে/ছিলো। সুতরাং এই পোস্টের দ্বিতীয় ঘটনা অসত্য হওয়ার সম্ভাবনা কম। আমার নিজের ভেতরেই অন্য ইউনির স্টুডেন্টদেরকে কম মেধাবী ভাবার অভ্যাস ছিলো। সেটা থেকে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি। এখনো পুরোপুরি সফল হয়েছি কি না নিশ্চিত না। বুয়েট কালচার সহজে ত্যাগ করা যায় না।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

ধ্রুব আলম এর ছবি

ইইই হইলো বুয়েটের কুলীন সমাজ খাইছে

মেঘলা মানুষ এর ছবি

বলাইদা, এটা কি শুধু বুয়েটের এক্সক্লুসিভ? এটাতো সবখানেই আছে, স্কুলে থাকতে ১ থেকে ১০ মেধাক্রমে থাকা ছাত্ররা কি অন‌্য রোল ৬৫ কিংবা রোল ৭৩ কে অন্য চোখে দেখে নি? হয়ত, পরবর্তীতে রোল ৬৫, রোল ৪ এর চেয়ে বেশি সফল হয়েছে, একজন ভালো মানুষ হয়েছে।

'এলিট ভাব' জিনিসটা সর্বগ্রাসী, এটা সবখানে আছে, বুয়েটে, ঢাবিতে, নর্থ-সাউথে, নটরডেমে, ভিকারুন্নিসায়, ক্যাডেট কলেজে, এমনকি মফস্বলের কলেজগুলোর মাঝেও আছে।

লেখক চিটাগাং ভার্সিটির; সেখানকার কেউ যে ডিগ্রি কলেজে পাস কোর্সে পড়া তার পাড়ারই বন্ধুটার চয়ে নিজেকে এলিট ভাবে না -এটা কি নিশ্চিত হয়ে বলা যায়?

শুভেচ্ছা হাসি

ধ্রুব আলম এর ছবি

চলুক

j9 এর ছবি

খুব পোড়া পোড়া গন্ধ আছে লেখাটাতে। দুই দল কিন্তু একই। একদল বুয়েটে ভর্তি হওয়াকে, আরেকদল আমেরিকায় যাওয়াকে অর্জন ভাবছেন। মামা, দিল্লী কিন্তু আরও দূর।।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

অন্যের খারাপ রিলেশানের সুযোগ নিয়ে নিজে রিলেশান করার চেষ্টায় সফল না হওয়াতে রাগ হইতেই পারে, বেপার না। আপনার লেখায় সত্যতা আছে। সেই সত্যের সাথে আপনার ব্যক্তিগত জীবনের ক্ষোভ মিলেমিশে মূল পয়েন্টটা আর ঠিকঠাক থাকে নাই। ব্যক্তিগত ক্ষোভ আর রিলেশান নিয়ে ডিস্টার্বড থাকলে একটু সময় দিয়ে লিখলে হয়ত লেখার মান ভাল হবে।

আপনার লেখার ব্যপারে আরেকটা ব্যক্তিগত মতামত বলি। এটা আমার 'ধারণা', কোন 'যুক্তি' না, সুতরাং ভুল হইলেও হইতে পারে। আপনি হয়ত আগেও দেখেছেন সচলে এর আগেও বুয়েটের পোলাপানের চৌধারি সাহেব সিন্ড্রোম নিয়ে বেশ পচানি হইছে, অনেক লেখা আসছে, সেইগুলা বেশ অ্যাপ্রিসিয়েশানও পাইছে। আবার দুই-একটা চৌধারি সিন্ড্রোমের লেখা আসলে সেগুলা বেশ ভালোই প্রতিবাদের সম্মুখীন হইছে। এগুলা দেখে আপনে ভাবছেন তাইলে একই ধরণের উপসংহার আসে এরকম যে কোন লেখাই বোধহয় উৎসাহিত হবে। এগুলা পর্যবেক্ষণ করে আপনি লেখাটা লিখছেন। লেখার অনেক বক্তব্য হয়ত সত্য, কিন্তু সেইখানে আপনার ব্যাক্তিগত ক্ষোভ ঢেলে দিছেন, ভাবছেন এই সুযোগ এইখানে উপসংহার ঠিক থাকলে যা ইচ্ছা তাই লেখা যাবে, বাহবা পাইবেন। সচলের ব্যপারে এই রিডিংটা আপনার ভুল হইছে বইলাই বোধ হয়।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

মেঘলা মানুষ এর ছবি

প্রাতিষ্ঠানিক গর্বের আরও কয়েকটা উদাহরণ দেখাই আপনাকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা মনে করে তারা দেশের সেরা বাংলাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, ঢাকা মেডিক্যাল এর ছাত্ররা মনে করে তারা দেশের সেরা মেডিক্যাল কলেজেরে ছাত্র, নর্থ-সাউথ ইউনির লোকেরা মনে করা তারা সেরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, তেমনি সবচয়ে পুরোনো প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হবার কারণেও বুয়েটের ছাত্রদেরও কিছুটা 'সেরা' ভাবার সুযোগ তৈরি হয়।

আপনি যে তিনটা ঘটনা বললেন, এরকম তিনটা ঘটনা উপরের বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়েও লিখে ফেলা অসম্ভব না।

কিছু উন্নাসিক লোকজন সবখানেই পাবেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ঢাকা মেডিক্যাল-এ, নর্থ-সাউথে তেমনি বুয়েটেও, তাই বলে উহু ঢাবি, আহা ঢাবি, উহু ঢামেক, আহা ঢামেক, উহু নর্থ-সাউথ, আহা নর্থ-সাউথ লিখে ফেলা কি যুক্তির পরিচায়ক?

শুভেচ্ছা হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

কিছু উন্নাসিক লোকজন সবখানেই পাবেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ঢাকা মেডিক্যাল-এ, নর্থ-সাউথে তেমনি বুয়েটেও

ঢাবি-তে আমাদের বিভাগে (নৃবিজ্ঞান) একবার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেয়া হল। ক্যান্ডিডেটদের মধ্যে একজন ঢাবি থেকে নৃবিজ্ঞানে বিএসএস করে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ করেছিলেন। তিনি নিয়োগ পাননি। এই ঘটনা নিয়ে সে সময় পত্রিকাতেও (২০০৩) কিছুটা লেখালেখি হয়েছিল। তো এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক প্রভাবশালী শিক্ষক মন্তব্য করেছিলেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএ আর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএ মানের দিক থেকে সমতুল্য না।

মাসুম সাহেব, আপনি যেহেতু আমেরিকাতে পিএইচডি করছেন, আশা করি একটা বিষয় লক্ষ্য করেছেনঃ আমেরিকার (এবং কানাডা; ইউরোপের কথা জানি না) বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সবচেয়ে কম্পিটিটিভ এবং প্রেসটিজিয়াস দুটো প্রোগ্রাম কিন্তু মেডিসিন এবং ল; ইঞ্জিনিয়ারিং না। আপনি মেডিক্যাল স্কুলের ছাত্রদের সঙ্গে একটু কথা বলার চেষ্টা করে দেখবেন; They won't look at you, they will look through you। বটম লাইন হলঃ উন্নাসিকতা বুয়েটের মনপলি না; এটা সব জায়গাতেই পাবেন (উপরে ঢাবি-র উদাহরণ তো দিলামই)।

আমি নিজে ছিলাম আর্টসের ছাত্র, অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে "ভুদাই" ছাত্র। মাস্টার্স পরীক্ষা দেয়ার পর যখন জিআরই-র জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করলাম, তখন বুয়েটের কিছু বন্ধুদের কাছ থেকে হাসি-ঠাট্টা শুনতে হয়েছিল। রেজাল্টে যখন দেখা গেলো আমার স্কোর তাদের চেয়ে বেশী, তখন কিন্তু তারা চুপ! যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করেছি, সেখানেও বুয়েটের ছাত্রদের একটা বড়সড় গ্রুপ ছিল। আমি ঢাবি/আর্টসের ছাত্র বলে কিন্তু আমাকে তারা কখনও অসম্মান করেনি। তারাও বুঝতে পেরেছিল যে বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমার বিভাগের যে র‍্যাঙ্কিং, তাতে ভেতরে সারবস্তু না থাকলে পিএইচডি-তে এডমিশন পেতাম না। আর পিএইচডি-তে যেহেতু এডমিশন পেয়েছি, সুতরাং ছাত্র হিসেবে আমি তাদের থেকে নিম্নমানের না। আসল কথা হল, বুয়েট থেকে যে হারে ছাত্ররা বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়তে যায়, সে হারে যদি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকেও পড়তে যাওয়া শুরু করে, তাহলে বুয়েটের ছাত্ররা সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে সম্মান দেখাতে বাধ্য হবে। সম্মান আদায় করে নিতে হয়, দাবি করে সম্মান পাওয়া যায় না। সম্মান পাওয়ার মত অর্জন যদি থাকে, তাহলে সচলায়তনে রাগী ব্লগ লিখতে হবে না, সম্মান এমনিতেই আসবে।

ভাল থাকবেন।

Emran

ধ্রুব আলম এর ছবি

চলুক

চরম উদাস এর ছবি

আমার ব্যক্তিগত বিবেচনায় লেখাটা অত ভালো হয়নি। কিছুটা অগোছালো এবং দুর্বল লজিক। ভাবলাম লেখাটার পয়েন্ট বাই পয়েন্ট সমালোচনা করবো। পরে কমেন্ট পড়ে মাথায় গিট্টু পাকায়ে গেছে। সেকেন্ড থট দিয়ে মনে হচ্ছে, লেখাটা পুরাপুরি ভুল না। অনেক কিছুই সত্য আছে। না থাকলে সো ফার ৪৪ টা কমেন্ট আর ৪৬ টা ফেসবুক কমেন্ট পড়বে কেন? সাধারণত বুরকা নিয়ে লিখলে এত উত্তেজিত কমেন্ট পড়ে। এখন বুঝলাম বুরকা আর বুয়েট দুইটাই বড় নাজুক বিষয় দেঁতো হাসি ...
মাথার গিট্টু খুললে পরে বিস্তারিত কমেন্ট দেই।

মেঘলা মানুষ এর ছবি

বুয়েটে কিছু ভাবওয়ালা আছে সত্য, বয়েটানুভূতি আঘাত লাগে এমন লোকও কম না, আবার একই সাথে ভাবলে নিজেকে পাহাড়-পর্বত মনে করেনা এমন ছেলেপেলেও তো কম না। একইভাবে এরকম ভাবওয়ালা আছে ঢাবি তে,ঢামেকে, নর্থ-সাউথে -এদেরকে গোনায় ধরার কি কারণ? আপনিই তো স্বলেহন লিখেছিলেন, সেই লেখার কমেন্ট/রিঅ্যাকশনের সাথে এই লেখার কমেন্ট/রিঅ্যাকশনের তফাৎটা দেখুন।

চরম উদাস এর ছবি

আমার লেখায় সচলে রিঅ্যাকশন কম, কারণ দুইটা -
১ তারছিড়া বলে আমাকে পাবলিক একটু ভয় পায়, রিঅ্যাকশন দেখালে তার উল্টা আমি আবার কি অ্যাকশন নিব এইটা নিয়ে টেনশনে থাকে।
২ আমি নিজে বুয়েট এর। আমি নিশ্চিত স্বলেহন লেখাটা আমি না লিখে বাইরের অন্য কেউ লিখলে রিঅ্যাকশন আরও অনেক বেশী হতো। রিঅ্যাকশন যে হয়নি সেটা ঠিক না। সচলে কম হয়েছে। কারণ সচল আমার হোম গ্রাউন্ড। এখানে আমার চারপাশে আমার অনেক কাছের মানুষ। অন্য অনেক জায়গাতে কিন্তু ঐ ঐ লেখার জন্য আমাকে কম ধোলাই করা হয়নি খাইছে

যাই হোক, এই লেখাটার ব্যাপারে অত বলার কিছু নেই। আগেই তো বললাম, অগোছালো লেখা, দুর্বল যুক্তি। কিন্তু লেখার জন্য লেখককে ধোলাইটা যেভাবে হচ্ছে সেটা দেখে মনে হয় ইগোর ব্যাপারটা পুরোপুরি মিথ্যা না। 'একইভাবে এরকম ভাবওয়ালা আছে ঢাবি তে,ঢামেকে, নর্থ-সাউথে -' কথা একদন সত্য। আমি প্রাইভেট এর অনেককে দেখেছি পাবলিক ভার্সিটির পোলাপানকে ক্ষ্যাত ইত্যাদি বলতে। তাই ভাব সবখানে আছে। তবে আবার ব্যাপারটা এভাবে চিন্তা করেন। আমি যখন মুসলমান ধর্মের নানা বিষয় নিয়ে লিখি, হয়তো বুরকার কথা বললাম তখন উত্তর আসে সতীদাহ বা হিন্দু ধর্মের জাতপাত নিয়ে কেন বলা হয়না। এখানে অনেক কমেন্টে কিন্তু লেখককে একেবারে ব্যক্তিগতভাবে ধারালো আক্রমণ করা হয়েছে। আক্রমনের ঝাঁঝটা দেখে তাই অনুভূতির ছেঞ্চিতিবিটি নিয়ে একটু প্রশ্ন জাগে, এই আরকি হাসি

ধ্রুব আলম এর ছবি

অনেক জায়গাতে কিন্তু ঐ ঐ লেখার জন্য আমাকে কম ধোলাই করা হয়নি খাইছে

হা হা হা! সে ধোলাই মানে, এক্কেবারে রামধোলাই (আমিও খেয়েছিলুম! বুয়েটের জনপ্রিয় মানব প্রিয়মও খেয়েছিল। আপনি এভাবে অনুভূতি ধরে টান দিবেন! আমাদের মত কুলাঙ্গার আবার তা শেয়ার দিবে, এ মেনে নেয়া যায় না!)

মেঘলা মানুষ এর ছবি

বুয়েটের 'ছেঞ্ছিতিব' লোক আছে, আবার একই সাথে বাইরের তীব্র বুয়েট বিদ্বেষী লোকও আছে। অনেক বুয়েট পাশ ছেলেপেলেকে চাকরি করতে গিয়ে খোঁটা শুনতে হয়েছে এমন গল্পও শোনা যায়। সেসব নিয়ে

লেখককে আক্রমণ করাটা ঠিক না, কেউ করে থাকলে আমি সেটা সমর্থনও করি না। কিন্তু কেউ যখন যুক্তি দিয়ে একটা কথা বলছে সেটা শোনা এবং অনুধাবন করারটা কি লেখকের জন্য জরুরি না?
যতবারই তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে, প্রেমে পাগল হওয়া একটা ছেলে অনেক কিছুই বলতে পারে, কিন্তু তিনি কেবল

কেউ কোথায় পড়ে গর্ব করতে পারে, কিন্তু তার মানে তো এই না যে এজন্য আমি অন্যদেরকে গালি দেয়ার অধিকার রাখি।

-এটা নিয়েই পড়ে থাকছেন। তাঁকে এই গালিটা একজন প্রেমিক দিয়েছে এটা উনি মানছেনই না! আমি এই লেখাটা লিখলে, অন‌্যদের কমেন্ট পড়ার পরে অন্তত স্বীকার করতাম যে ৩ নং গল্পটা একটা প্রেমঘটিত ব্যাপার, এর মাধ্যমে একটা প্রতিষ্ঠানের কালচার বিচার করতে বসা ঠিক না। এখানে, বুয়েটের যারা মন্তব্য করেছেন, তারা কেউই বলছেন না বুয়েটে উন্নাসিক নেই, সাথে সাথে অন্য যাই বলা হচ্ছে সেটা লেখক বিবেচনা করছেন বলে মনে হচ্ছে না।

আমি যখন মুসলমান ধর্মের নানা বিষয় নিয়ে লিখি, হয়তো বুরকার কথা বললাম তখন উত্তর আসে সতীদাহ বা হিন্দু ধর্মের জাতপাত নিয়ে কেন বলা হয়না।

-এখানে একটা জিনিস খেয়াল করুন উদাস দা, সতীদাহ কমন ঘটনা না, 'বুরকা' যতটা কমন।
কিন্তু বুয়েটের ছাত্রসংখ‌্যা {এবং ভাব দেখানেওয়ালদের সংখ্যা (=a)} কি ঢাকা ভার্সিটিতে পড়া { ভাব দেখানেওয়ালা (=b)} কিংবা নামকরা প্রাইভেট ইউনিতে পড়া (এবং ভাব দেখানেওয়ালা (=c)} এর কাছাকাছি না? (a=b=c)
[আপনি আবার কি কবিবিন্দু টিন্দু নিয়ে আসেন, তাই আগে ভাগেই ক্লাস টু'তে শেখা সমীকরণ বসিয়ে দিলাম দেঁতো হাসি ]

আর সবচেয়ে বড় কথা হল, বুয়েটের কিছু লোকের ভাব থাকতে পারে, কিন্তু মাপকাঠি হিসেবে একজন 'আনস্টেবল' প্রেমিকের দেয়া গালি -কে একটা কালচারের মানদণ্ড হিসেবে ধরাটা যে ভুল সেটা উনি বুঝতে পারছেন না।

চিটাগাং ভার্সিটিরই কম্পিউটার এঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের একজন ছাত্র দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটির (দাইই) একজন কম্পিউটার এঞ্জিনিয়ারিং একটা ছাত্রের চেয়ে নিজেকে সেরা ভাবতে পারে, পরবর্তীতে হয়ত দাইই এর ছেলেটা বেশি বড় ডিগ্রি নিতে পারে, বেশি সফল হতে পারে। কেউ যদি ভাব নিয়ে বসে থাকে, তবে তার জন্য তার ভাবের 'পরিণতি' অপেক্ষা করে আছে।

আপনাকে এবং লেখককে শুভেচ্ছা হাসি
[আজ হাতে কাজ কর্ম কম, এই পোস্টটাতেই সময় কেটে যাচ্ছে বেশ হাসি ]

সুবোধ অবোধ এর ছবি

ঘটনা সইত্য। আপনে নিজে বুয়েটের না হলে ওইলেখার জন্য আপনে ওইযে বর্ষা আফা (অনন্ত জলিল -বর্ষা) যেমুন ময়লা কাপড় কে "শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ধোলাই" দেয় তেমন ধোলাই খাইতেন! খাইছে

ধ্রুব আলম এর ছবি

হয় নাই, এই দেশে দুটা জিনিশ বিয়াপক নাজুক, ১। ধর্মানুভূতি আর ২। বুয়েটানুভূতি। 'ইয়ে'টার মতও, একটু চিপা লাগলেই "গেছিরে বাবা!"

সত্যপীর এর ছবি

"বুয়েট" ট্যাগের যেকোন পোস্টের কমেন্ট পপ্পনের পাহাড় নিয়া বসে পড়তে হয় দেঁতো হাসি

..................................................................
#Banshibir.

মেঘলা মানুষ এর ছবি

পপকর্নের দোকান দিয়েই দিলাম, সবই পীরের দোয়া:

মেঘলা মানুষ এর ছবি

@ত্রিমাত্রিক ভাই "নিজে রিলেশান করার চেষ্টায় সফল না হওয়াতে " -এটা মনে একটু বেশি ওভারডোজ দিয়ে ফেললেন। বাকি অংশে একমত।

সচলে এর আগেও বুয়েটের পোলাপানের চৌধুরি সাহেব সিন্ড্রোম নিয়ে বেশ পচানি হইছে, অনেক লেখা আসছে, সেইগুলা বেশ অ্যাপ্রিসিয়েশানও পাইছে।

উদাসদার স্বলেহন লেখাটাতেই ঐ চৌধুরীদের যথেষ্ট পরিমাণে বাঁশ দিয়েছেন। এরপর এই লেখাটা একজন ওয়ার্ল্ড ‌র‌্যাংর্কিং না জানা লোকের গল্প, একজন আত্মম্ভরী ছাত্রের গল্প, একজন রাগী প্রেমিকের গল্প এবং এসবের পরিপ্রেক্ষিতে উপসংহারে পৌঁছানো একটা লেখা।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

হেহে ওইটা জোক করে বলা, লেখক যেহেতু হালকা চালে রিলেশানশিপ ইস্যু নিয়ে আসছেন, আমিও একটু জোক্করলাম। সিরিয়াস কিছু না হাসি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

ধ্রুব আলম এর ছবি

বুয়েটে কোন শিবির নাই বলে একজন রামভোদাই উপাধি পাইসে, উনি আবার কাঠমোল্লার আস্তানা বানায় দিসেন। দুইটাই এক্সট্রিম।

আর যারা মনে করেন বুয়েট ছাড়া বাকি সব প্রতিষ্ঠান ভুয়া, তাদেরকে বলি - এতোটা একপক্ষীয় চিন্তাভাবনা করার কোনো কারণ নেই। সব জায়গার মতোই, ভালো স্টুডেন্টদের পাশাপাশি, ওখানেও প্রচুর মাথামোটা ছেলেমেয়ে আছে। ওখানেও অনেকেই আছে যারা ৩ এর নিচে সিজিপিএ আর জিআরই তে বেশ কম স্কোর নিয়ে আসে, হায়ার স্টাডি পসিবল কিনা জানার জন্য। ওখানেই কিন্তু কাঠবলদ ধর্মান্ধদের আড্ডা জমে। বাংলাদেশের অনেক ভার্সিটিতেই ভালো ভালো রিসার্চ হচ্ছে, শুধু বুয়েটে না। অনেক ভার্সিটির ছাত্র-শিক্ষকরাই আন্তর্জাতিক ভালো মানের (পিয়ার রিভিউড) জার্নালে আর্টিক্যাল ছাপাচ্ছেন, শুধু বুয়েটিয়ানরা ছাপাচ্ছেনা। সম্মান দিন সবাইকেই, কিন্তু অতিভক্তি কোনো ক্ষেত্রেই ভালো না।

এখানে ১ম লাইন পুরাই টিপিকাল স্টেরিওটাইপিং। এত সরল সোজাভাবে কেউ কি "বুয়েট ছাড়া বাকি সব বাতিল", এইভাবে চিন্তা করে। ফার্স্ট ইয়ারের পোলাপান করলেও করতে পারে। আর নাকউচু তো সবখানে পাবেন কিছু।

আর বুয়েট বাংলাদেশের বাইরের কিছু না। কিছু বুয়েটিয়ান মনে করে বুয়েট এই দেশ জাতির গর্বের স্থান, অতি পবিত্র বিদ্যাপীঠ। আসলে বুয়েট এই দেশের একটা ভার্সিটি, এইখানে ফেরেশতারা পড়ে না, বাঙ্গালিই পড়ে, তারা মতিঝিল চত্বরে যায়। বুয়েট ডুবলে দেশ ডুবে যাবে, এমন কিছুও না, বুয়েট কোনদিন দেশ উদ্ধার করে নাই।

তবে পোলাপান একটু গর্ব-টর্ব করে আরকি। আমেরিকানরা যদি নিজেদের আলাদা করে 'আইভি লীগ' বানায়, আবার মাঝে মাঝে একদল পোলাপান তাদের প্রতিদ্বন্দী ভার্সিটির পোলাপানরে ভিডিও বানায় পচায়, ক্ষতি কি, বরং মজাই তো। তবে বুয়েটিয়ানদের বাড়াবাড়ি আছে, স্বীকার করে নিচ্ছি। তবে এই তিন উদাহরণ দিয়ে সবাইকে মেপে ফেলা, সচলে পোস্ট দেয়া, লাস্টে এসে চিপায়-চাপায় বলা "আসলে সবাই এমন না!", অদ্ভুত ব্যাপার।

মাথামোটা পোলাপান বুয়েটে আছে, অবশ্যই আছে, কিন্তু আপনার মাথামোটার সংজ্ঞা কি সিজিপিএ দিয়ে নির্ধারিত হয়? তাহলে আপনার সমস্যা আছে বলতে হবে। মাথামোটা ওই পোলাটা, যে বলে, "আই হেট পলিটিক্স, আই হেট পাকিস্তান, বাট আই অলসো হেট ইন্ডিয়া।" বুয়েটে এদের সংখ্যা বেশি।

জি আর ই ফেটিশ আছে কি আপনার? জি আর ই না দিয়েই তো অনেকে বাইরে যাচ্ছে, ওটা না থাকলে উচ্চশিক্ষা সম্ভব না নাকি? জি আর ই তো মেধার নির্ণয়ক না। বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বুয়েটের সকলের একটা নাকউঁচু ভাব আছে, আপনার দেখি তা জি আর ই নিয়ে।

আর ভাই, দেশে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা হচ্ছে, ভাল ভাল পেপার ছাপাচ্ছেন অনেকে? কই থাকেন ভাই? স্বপণে? দেশে কিছুই হচ্ছে না। গবেষণা যদি সত্যি কেউ করেন, তবে তারা হলেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও গবেষণায় নিয়োজিতরা (এদের বিরাট অংশকে বাইরে যাওয়ার উপায় করে দিলে, এখুনি চলে যেতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস, এরা সে খোজ রাখে না), আর ২০,০০০ টাকা বেতনে চাকুরি করা সরকারি বৈজ্ঞানিকরা, যাদের অনেকেই আবার কৃষি ক্ষেত্র থেকেই আসা। এদের খোজখবর কেউ রাখে না, কেউ মিডিয়ায় লাফায়ও না।

ঢাবি কি করে জানিনা (কিছু করলে-টরলে তো জানতাম), বুয়েট টেকা-টুকা কামায়, এটা বলতে পারি (সিভিলের ফুলবাবুরা সিমেন্ট-বালু-রডে সিল-ছাপ্পড় মেরে টেকা নেয়)।

আপনি কি দেখেছেন জানিনা, আপনার কাছে মনে হতে পারে, বিদেশ যেতে পারাই একটা বিরাট অর্জন। অবশ্যই অর্জন। কিন্তু এই লেখায় সেটা নিয়ে অহমিকার গন্ধ বের হচ্ছে।

শেষে একটা আপনার মন জুড়ানো একটা কথা বলি, বুয়েটিয়ানরা বিদেশে মনে হয় সবচেয়ে বেশি না। ঢাবি, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরাও আছেন অনেকে। ইঞ্জিনিয়ারদের যাওয়া হয়তো সোজা, আর তারা প্রায় গত ৩০-৪০ বছর ধরেই সুলুক-সন্ধান বের করেছেন। আর আমি জানি না, তারা আপনার সাথে কি করেছে, আমি এদের বেশ হেল্পফুল বলেই জানি। ভবিষ্যতে অন্য ভার্সিটির থেকেও যাবেন, এখনো তো যাচ্ছে। সংখ্যায় কম হতে পারে, কিন্তু এখন যারা গেছে, তারা পথ সুগম করে দিবে বাকিদের।

**আর সত্য কথা কি বাজে মনে হয়? আমার সিজি খারাপ, এটা নিয়ে সিনিয়রদের থেকে সত্যটাই শুনেছি "ফান্ডিং-এর যা অবস্থা, তোমার আসা টাফ", "জি আর ই কোয়ান্টে এত খারাপ কেন? করসো কি?" বা "প্রফেসর, আরেকটু ভাল সিজি খুজতেসে"; তো এরপর আমার কি করা উচিত ছিল? সচলে এসে একটা পোস্ট দেয়া?**

অতিথি লেখক এর ছবি

আমি আপনার সাথে আরেকটু অ্যাড করি। সবসময় সত্য কথা বলা মানেই কিন্তু ডিমোরালাইজ করা না। আমি নিজে অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি করছি। আমি জানি, এখানে একটু মাঝারি মানের সিজিকে প্রাধান্য দেয়া হয় (ভালো হলে তো কথাই নেই)। কারণ, নর্থ আমেরিকার মতো জিআরই সিস্টেম এখানে নেই। কাজেই, কাউকে জাজ করার একটাই উপায়, তার আন্ডারগ্র্যাডের রেজাল্ট এবং রিসার্চ ব্যাকগ্রাউন্ড। টিচার ফাইটাররা ছাড়া সাধারণত কারো রিসার্চ ব্যাকগ্রাউন্ড তেমন সমৃদ্ধ থাকে না, কাজেই আন্ডারগ্র্যাডের রেজাল্ট একটা বড় ফ্যাক্টর এখানে। এখন, কেউ যদি সিজি ৩ (যেটা ফলাফল হিসাবে কিছুটা নিচের দিকেই) এর আশে পাশে নিয়ে আমার কাছে পরামর্শ চায় সে অস্ট্রেলিয়া আসতে পারবে কিনা, আমার তাকে কী বলা উচিত হবে? ৫/৬ মাস খরচ করে প্রফেসরদের কাছে মেইল করে ধরা খাওয়ার চেয়ে আমার কাছ থেকে hard truth টা জেনে নেয়াই (i.e. অস্ট্রেলিয়ায় তার স্কলারশিপ হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম) কি তার জন্য ভালো না? আমার কাছে এরকম কেউ পরামর্শ চাইলে আমি সরাসরি তাকে জানায় দেই, তুমি চেষ্টা করতে পারো, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় আসা তোমার জন্য টাফ হবে। জানানোর সময় আমি যথাসম্ভব মধু মাখায় কথাটা বলি, যাতে তার আঘাত না লাগে, কিন্তু বলি। সাথে এটাও বলি, জিআরই দাও, নর্থ আমেরিকায় যাও। কারণ লো সিজিদের নিজেকে প্রমাণ করার একটাই উপায়, জিআরই। আমার নিজের বন্ধু ৩ এর নিচে সিজি নিয়েও আমেরিকার টপ ভার্সিটিতে স্কলারশিপ পাইছে, জিআরইতে কোপানোর জন্য।

আবার কিছু দিন আগে বুয়েটের এক ছোটভাই লেকচারার অস্ট্রেলিয়ায় আসার জন্য পরামর্শ চাইলো। আমি তাকে বললাম, তার জায়গা down under (অস্ট্রেলিয়া বুঝাতে বাইরের বিশ্বের ব্যাবহৃত স্ল্যাং) না। তার জায়গা ইউএসএ এর বেটার কোন ভার্সিটি।

কাজেই, সবসময় "না" মানেই কিন্তু ডিমোরালাইজ করা না।

ধ্রুব আলম এর ছবি

চলুক

অতিথি লেখক এর ছবি

পুরা লেখাটা পড়ে শুধু ছেকা খাওয়া এক প্রেমিকের মনের ঝাল মেটানো বয়ান ছাড়া আর কিছু মনে হইল না। আমিও একবার ছেকা খেয়েছিলাম। তখন আমি প্রথম প্রথম আম্রিকা আসছি-ছেকা খেয়ে মোটামুটি বেকা হয়ে যাওয়ার অবস্থা মন খারাপ তখন পুরা দুনিয়ার সব মেয়ে মানুষরেই বেয়াকুব মনে হইত। মনে হইত পুরা নারী জাতটাই হয়ত এইরাম খ্রাপ, বেয়াকুব; আমার মত আম্রিকান পোলারে হাতের কাছে পেয়েও ধরে রাখতে চায় না হো হো হো

ধ্রুব আলম এর ছবি

খাইছে

ধ্রুব আলম এর ছবি

উনি আর এখানে জবাব-টবাব দেবেন না, ফেবুতে ৪০০-৫০০ লাইক কামিয়ে বগল বাজাচ্ছেন। চোখ টিপি

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখার মূল ভাবনার সাথে পুরোপুরি একমত হতে পারলাম না, স্যরি। সুপেরিয়রিটি কম্প্লেক্স ব্যাপারটা সবারই কম বেশী আছে - শুধু বুয়েট না।
তবে এই সুযোগে আমিও একটা রিয়েল লাইফ উদাহরণ দিয়ে দিই: ১৩-১৪ বছর আগের কথা, আমি তখন এইউবিতে পড়তাম। আমাদের জনৈকা বুয়েট পাশ শিক্ষিকা (সংগত কারণেই নাম প্রকাশ করছিনা) উনার প্রথম ক্লাসেই আমাদের ছোটখাট একটা ধাক্কা (শকড) দিয়ে দিয়েছিলেন। উনি কি বলেছিলেন তা এখন হুবহু মনে করতে পারছিনা তবে ভাবার্থ ছিল - আমাদের দ্বারা কিছুই হবেনা কারণ আমরা বুয়েটে পড়িনা (বা পড়ার যোগ্যতা অর্জন করিনাই), তাই আমাদের উপর উনার কোন অতিরিক্ত চাওয়া পাওয়াও নাই...! তবে এটা অবশ্যই একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল (আমি বুয়েটের আরও অনেক সাথে মিশেছি এবং এখনো মিশছি)।

বটমলাইন হলো এইধরনের ব্যাপার গুলো বেশীরভাগ দেশেই এবং বেশীরভাগ মানুষের মধ‌্যে দেখতে পাবেন, সুপেরিয়রিটি বা ইনফিওরিটি কম্প্লেক্স এই ব্যাপার গুলোর সাথে যত দ্রুতই মানিয়ে নিতে পারবেন ততই মঙ্গল (মানিয়ে নিতে না পাড়লে এড়িয়ে যান, আরও ভাল)

-----------
বাপ্পীহায়াত

সজল এর ছবি

সবই বুঝলাম, কিন্তু বুয়েটের চৌধুরী সাহেবেরা বাকি বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীদেরকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা যাত্রায় নিরুৎসাহিত করে কীভাবে? তারা কি নির্বাচনী প্রচারনার মত করে প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজে গিয়ে গিয়ে বাকিদেরকে গাধা বলে গালি দিয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস ভাঙচুর করে দেয়?

(মাঝে এত এত কমেন্ট দেখলাম, সবই অতিথি লেখকের, প্রায় কারোই নাম নাই, কে যে কার সাথে লড়াই করছে কিছুই বুঝতে পারছি না)

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

অতিথি লেখক এর ছবি

(গোলাম মুস্তাফা/দারাশিকো/আহমেদ শরীফ/খলিলুল্লাহ খানের উদ্দেশ্যে, আনোয়ার হোসেন-স্টাইলে উদাত্ত, কাঁপা কাঁপা গলায়), "চৌধুরী সাহেব, আমরা বুয়েটের ছাত্র না হতে পারি, কিন্তু আমাদেরও ইজ্জৎ আছে, স্বপ্ন আছে। একদিন আমরাও হার্ভার্ড/এমআইটি/স্ট্যানফোর্ড/ক্যালটেক-এ যাব; আপনার পাশে বসে ক্লাস করব, দেখিয়ে দেব মেধা শুধু বুয়েটের ছাত্রদের একচেটিয়া কেনা গোলাম না।

(আর ডায়লগ লেখতে পারলাম না; ইচ্ছামত যোগ/বিয়োগ করতে পারেন)।

Emran

ধ্রুব আলম এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

মেঘলা মানুষ এর ছবি

@লেখক, কি কারণে জানি না, দিনে কয়েকবার এসে এই পোস্টে ঘুরে গেলাম, মন্তব্য পড়লাম/করলাম। কিছু নাকউঁচু লোক সবখানেই আছে, আর পাগল প্রেমিকের প্রলাপে রাগ করে তার কথাকে মাপকাঠি ধরলে কি চলবে? (আমিও বোধহয় এই কথাটা অনেকবার বলে ফেলেছি) এবার মনে হয় ক্ষান্ত দিচ্ছি।

একটা হালকা রসিকতা * করে বিদায় নিচ্ছি।

একটা গবেষণায় দেখা গিয়েছে,
১। সকল সন্ত্রাসী এবং খুনিরা, এমনকি হিটলার, চেঙ্গিস খাঁ এরাও পানি পান করত।
২। মানুষের ডুবে মারা যাবার সবচেয়ে কারণ পানি।
৩। হাইড্রোজেন বোমার মূল উপকরণের সাথে পানির মূল উপকরণের সাদৃশ্য আছে।
৪। যারা কখনও না কখনও পানি পান করেছেন, তাদের মধ্যে ১০০% লোকই পরে মারা গিয়েছে।

অতএব, সকলকে এই নষ্টের গোড়া পানি না পান করার জন্য পরামর্শ দেয়া যাচ্ছে।

ভাল থাকুন, আশা রাখছি আপনাকে আঘাত করার মত কিছু বলে ফেলিনি, আহত করে থাকলে ক্ষমাও চেয়ে নিলাম। ব্লগ তো আলোচনা, সুস্থ্য বিতর্ক, যুক্তি-পাল্টা যুক্তিরই জায়গা। এখানে আপনি আপনার যুক্তি তুলে ধরবেন, আমি আমারটা -সবাই সবার থেকে কিছু একটা শিখে নিয়ে বাড়ি ফিরব, হয়ত নিজের বোঝাটাও (understanding) শুধরে নেব। নিজের ঢোল পেটাবো না, তবে আমার কাছেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন ইমেইল করেছিলেন (সংখ্যাটা খুবই ছোট, আপনার মত বড় হবে না), আমি আমার সীমিত জ্ঞানে যতটুকু পেরেছি উৎসাহ দিয়েছি, কাউকে বলিনি যে, অমুক জায়গার পড়ার কারণে তোমার কিছু হবে না। তাই, একজন লোকের অসহযোগিতামূলক আচরণকে নিয়ে আপনি যখন বললেন, সেটা আমার খারাপ লেগেছে। ঢাবি'র ফার্মেসিতে পড়া একজন, জাবি'র ফার্মেসির একজনকে হেলাফেলা করতে পারে, তাই বলে ঢাবি'র ফার্মেসিকে আমি দোষ দেবনা, ঢাবিকেও না। এমনকি, বুয়েটে পড়া আমারই একজন সহপাঠিনী, বুয়েটের আরেকজনকে বলেছিল যে, তোমার সিজি কম, তো আমি যেখানটায় পড়ছি (মোটামুটি ৪০ এর দিকে) সেখানটায় অ্যাপ্লাই করলে কিন্তু তোমাকে নেবে না, অন্য জায়গায় দেখো। এটা ঐ একজন মানুষের অসহযোগিতামূলক আচরণের সমস্যা, গোটা বুয়েটের না।

আপনি অন্যদের যদি নিস্বার্থভাবে সাহায্য করে থাকেন, আপনার জন্য তাদের শুভকামনা আপনাকে অনেকদূর এগিয়ে নেবে। ভালা‌ থাকবেন। শুভেচ্ছা হাসি

* মৌলিক লেখা না, নেটে বেওয়ারিশ কৌতুক হিসেবে পড়া

ধ্রুব আলম এর ছবি

ধুর মিয়া, আপ্নের কি কাম নাই? তাত্তারি ফেবুতে গিয়া লাইক মাইরা আসেন। উনি ৫০০র উপ্রে লাইক কামাই ফালাইসে, আবার কি?

ফেবুর লাইক-কামানোরা যখন সচলে আসে (যেমনঃ ৩ মিনিট কিঙ্করবাবু), তখন তারা ধরেই নেয়, এইখানেও লোকে সব কিছুতেই তালিয়া দিবে। না দিলে পরে ব্যকআপ তো আছেই, ফেছবুক! লাইকের বন্যায় ভেসে গেলুম। দেঁতো হাসি

নাইই এর ছবি

আপনার সব কথায় একমত; কিন্তু একটা সাজেশন। অন্যের সমালোচনা করার আগে নিজেকে ঠিক করে নেয়াটা জরুরী। সবার লাইফেই অনেক এ্যাচিভমেণ্ট আছে। কিন্তু তাই বলে পাব্লিক ফোরামে কোনো কারন ছাড়া কেউ ঢোল পিটায়না যদিনা অন্য কোনো উদ্দেশ্য (বিজনেস, প্রেম, লাইক) না থাকে।

২০১১ এ ৪ নভেম্বর হায়ার স্টাডি ফেসবুক গ্রুপ এ আপনার পোস্টঃ "আমার Revised GRE Score এসেছে। Verbal-(….) , Quant(……), Analytical (….)"

পাবলিক ফোরাম বলে স্কোরগুলো আর দিলাম না।

ভালো থাকবেন।

অতিথি লেখক এর ছবি

হেয় তো ফাডায়ালছে! গুল্লি
[একটু সার্চ করতেই পুস্টটা দেখতে পাইছি! জিআরই স্কোর কিন্তু আসলেই ভালা দেঁতো হাসি ]

নাইই এর ছবি

ধ্রুব আলম এর ছবি

ওই গ্রুপে অনেকেই মনে হয়, তাদের স্কোর দেয়, আমার মনে হয় উনি ঢোল পিটিয়ে দেননি। আর স্কোর খুব ফাটানো না, ভাল। যেমনে কইসিলেন, ভাবসি ৩৩০ প্লাস! খাইছে

তবে, এত পড়ে, আবার গাইড-টাইড বের করে ফেলে, স্কোর যদি এই হয়, তাইলে তো এত্তু প্রব আছে গুরু। উনি দেখলাম গ্রুপ লিভ করেছেন, নিজের গ্রুপের/ অন্য গ্রুপের প্রচারণাও চালিয়েছেন। তবে, এককালে ভালই হেল্পফুল ছিলেন, এখন একটু ব্যবসা ধান্ধা ধরেছেন নাকি? চিন্তিত

যা হোক, আমি উনার থেকে কম স্কোর নিয়ে, আম্রিকা যাইতে পারি নাই, কিন্তু উনার থেকে ভাল র‍্যাঙ্কের ভার্সিটিতে আছি। এটা নিয়ে কি একটা পোস্ট দেব? চাল্লু (ভাব নিলাম, আমি কিন্তু বুয়েটিয়ান চৌধুরিসাব, উনি আরেকবার আঘাত পেয়েছেন, নিশ্চয়ই)

**উনার ফেবুতে ম্যালা ফেন, ওইখানে তালি পেয়ে অভ্যাস তো, তাই এখানেও যে টপিকে পাব্লিক তালি দেয়, উনি তার থেকে সূচনা আর উপসংহার মেরে দিয়ে, মাঝে নিজের পটল-আলুর ঝোল মেখে ভাত খেয়েছেন। বড় দুঃখ, সচলে ভোদাই কম, তালিয়াও কম**

অতিথি লেখক এর ছবি

আমার কাছে জিআরই দেয়া মানেই বস পাবলিক। আমি নিজে বুয়েটিয়ান চৌধুরী হয়েও জিআরই দেয়ার সাহসই করলাম না! আর উনি কিনা জিআরই দিয়েই দিলেন সাহস করে। এতেই তো উনার মেধার প্রতি শ্রদ্ধায় আমার মাথা নত হয়ে আসছে। কিন্তু, আমি চৌধুরী-অনুভূতি আহত হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমি আবেগঘণ কণ্ঠে বলতে চাই, "জিআরই একটি অভিশাপ!" ওঁয়া ওঁয়া

অতিথি লেখক এর ছবি

মাসুম সাহেব, আপনি তো হামবড়া বুয়েটিয়ানদের লাইনে আনার জন্য এই পোস্ট দিয়েছেন, তাই না? আচ্ছা আপনাকে কিছু প্রশ্ন করি। ত্যানা না পেঁচিয়ে, পিছলা-পিছলি না করে সোজা ভাষায় দরাসরি উত্তর দেন তো দেখি প্লিজ।

১।

এই বড় ভাই ডিভি পেয়ে আমেরিকায় এসেছেন, নিউ ইয়র্কে থাকেন।

আপনার পোস্টের মূল উদ্দেশ্য যদি বুয়েটিয়ানদের লাইনে আনা হয়, তাহলে কেন আপনি "ডিভি পেয়ে" কথাটা উল্লেখ করেছেন? আপনি তো তাকে জাস্ট একজন বড় ভাই হিসাবেই পরিচয় করিয়ে দিতে পারতেন। উনি নিউ ইয়র্কে থাকেন এবং আপনার একজন পরিচিত বড় ভাই, সেটাই কি তার পরিচয় প্রকাশের জন্য যথেষ্ট ছিলো না? কেন আপনি তার ডিভি পেয়ে যাবার বিষয়টা উল্লেখ করলেন একটু বলে যাবেন প্লিজ?

২।

বাংলাদেশ থেকে আসা ছাত্ররা তো বটেই, হার্ভার্ডে পড়ে শুনলে এমনকি আমেরিকানদেরও চোয়াল ঝুলে পড়ে। কিন্তু এই বড় ভাই কোনো পাত্তাই দিলেন না।

নিউইয়র্কের ঐ বড় ভাইয়ের মত অনেকেই আছেন, যাদের চোয়াল হার্ভার্ডের নাম শুনে ঝোলে না, বুয়েটের নাম শুনে ঝোলে।

আপনি কি মনে করেন, হার্ভার্ড শুনলে মানুষের (বাংলাদেশি ও আমেরিকান উভয়ই) চোয়াল ঝুলে পড়া উচিত বা স্বাভাবিক? যেভাবে আপনি বলছেন, তাতে মনে হচ্ছে ঐ বড় ভাইয়ের বুয়েট শুনে চোয়াল ঝুলে পড়ায় দোষ হয়েছে, হার্ভার্ড শুনেই চোয়াল ঝুলে পড়া উচিত ছিলো। কেন হার্ভার্ড শুনলে বাংলাদেশি বা আমেরিকানদের চোয়াল ঝুলে পড়াকে সমর্থন করছেন, একটু বুঝিয়ে বলবেন প্লিজ?

৩। এটা ঠিক প্রশ্ন না, আমার ব্যক্তিগত একটা অব্জারভেশন। আপনার অনুভূতি জানতে চাইবো আমার এই অব্জারভেশন নিয়ে।

বিকেলের দিকে একটা ছেলে এসে দরজায় দাঁড়িয়ে সেলাম ঠুকলো।

আমার মনে হয়েছে, এই কথায় আপনার প্রচ্ছন্ন অহংকার ফুটে উঠেছে। দুটো কারণ। প্রথমত, "সেলাম" শব্দটা "সালাম" থেকে একটু ভিন্ন। সালাম মানে শুভেচ্ছা বিনিময়, কিন্তু সেলাম মানে অনেকটা সেলুট টাইপের। অ্যাট লিস্ট আমি সেরকমই জানি। আপনার কিছু কমেন্ট দেখে মনে হয়েছে আপনি বাংলায় অনেক ভালো। তাই আপনি হয়তো ভালো বলতে পারবেন। একটু ক্লিয়ার করা যাবে প্লিজ? দ্বিতীয়ত, সালাম "দেয়া" আর সেলাম "ঠুকার" মধ্যেও একটু পার্থক্য আছে। "ঠুকা" শব্দটা সেলুট দেয়াকেই বোঝায়। তো আপনি কেন তার আগমনকে এরকম গর্বভরে আমাদের সামনে তুলে ধরলেন, তা কি একটু ব্যাখ্যা করা যাবে প্লিজ?

৪।

রাজশাহী, সিলেট, খুলনা থেকে আমন্ত্রণ পাওয়া স্বত্ত্বেও যেতে পারিনি। ওদেরকে আশা দিয়ে রেখেছিলাম। কথা দিয়ে কথা রাখতে পারিনি বলে বলে দুই বন্ধুরই মন খারাপ। শুধু চট্টগ্রামে করেছি চারটা। আর ঢাকায় করেছি একটা - বুয়েট এলাকার ফ্রেপড অডিটোরিয়ামে।

হামবড়া বুয়েটিয়ানদের লাইনে আনাই যদি আপনার পোস্টের একমাত্র উদ্দেশ্য হয়, তাহলে আপনি কোথায় কোথায় সেমিনার করেছেন, কোথা থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন, এগুলোকে কি একেবারেই অপ্রয়োজনীয় নয়? আমার তো তাই মনে হয়েছে। আপনি কী মনে করেন?

৫।

আমেরিকান কোনো ইউনিভার্সিটিতে পড়েও আমি জাতে উঠতে পারিনি ওর চোখে।

আপনার কি মনে হচ্ছে, আমেরিকান ইউনিভার্সিটিতে পড়লে মানুষ জাতে উঠে বা উঠা উচিত? যদি মনে করেন, তাহলে সেটা বলেন। আর যদি না মনে করে থাকেন, তাহলে এই কথাটা কেন বললেন, একটু ব্যাখ্যা করা যাবে প্লিজ?

৬।

ওখানেও প্রচুর মাথামোটা ছেলেমেয়ে আছে। ওখানেও অনেকেই আছে যারা ৩ এর নিচে সিজিপিএ আর জিআরই তে বেশ কম স্কোর নিয়ে আসে, হায়ার স্টাডি পসিবল কিনা জানার জন্য।

অবশ্যই সব জায়গায় মাথা মোটা লোকজন পড়ে। বুয়েটে পড়ে, চবিতে পড়ে, ঢাবিতে পড়ে, এমআইটিতেও পড়ে। কিন্তু কথা হচ্ছে, মাথা মোটার ক্রাইটেরিয়া বলতে আপনি কোন বৈশিষ্ট্যকে মনে করছেন? সিজিপিএ ৩ এর নিচে পাওয়াকে, নাকি জিআরইতে খারাপ করাকে, নাকি সিজি ৩ এর নিচে পেয়ে ও জিআরইতে খারাপ করেও বাইরে যাবার চিন্তা করাকে? একটু বুঝিয়ে বলবেন প্লিজ?

৭।

গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট
ইউনিভার্সিটি অফ আরকানসা, যুক্তরাষ্ট্র

হামবড়া বুয়েটিয়ানদের লাইনে আনার জন্যই যদি আপনার এই লেখা লিখে থাকেন, তাহলে এখানে আপনি কোথায় পড়েন, সেটা কি খুব রিলেভেন্ট? আমার কিন্তু তা মনে হচ্ছে না। বরং সচলের একজন নিয়মিত পাঠক হিসাবে জানি (আপনিও নিশ্চয়ই আমার সাথে একমত হবেন), এখানে সবাই সবকিছু নিয়ে কথা বলতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই আমরা দেখেছি, বুয়েট নিয়ে কেউ হয়তো কিছু বলতে গেছে, তখন কেউ তাকে জিজ্ঞেস করেছে, সে কোথায় পড়ে, বুয়েটে না পড়লে নাকি বুয়েট নিয়ে কথা বলার অধিকার তার নেই ইত্যাদি। আর তখন সচলের অন্যান্য বুয়েটিয়ান লেখক পাঠকরাই প্রশ্নকর্তাকে তিরস্কার করেছেন এরকম uncalled for প্রশ্ন করার জন্য। কাজেই, আমার কাছে কিন্তু আপনার এই সিগ্নেচারকে একেবারেই অপ্রয়োজনীয় মনে হচ্ছে। এরকম সিগ্নেচার দেয়ার কারণটা কি একটু ব্যাখ্যা করবেন প্লিজ?

অতিথি লেখক এর ছবি

এই কমেন্টটা নিচে ইন্ডিপেন্ডেন্ট কমেন্ট আকারে দিতে চেয়েছিলাম। কেন যেন এখানে চলে এসেছে। মোডারেটররা কেউ কি ব্যাপারটা দেখবেন? আমি কিন্তু মেইনেই করেছিলাম। এটাকে কি মেইনে দিয়ে দেয়া যায়?
- উপরের প্রশ্নপত্রের প্রশ্নকর্তা

অতিথি লেখক এর ছবি

শুরুতেই বলে নিচ্ছি, যদি আমার লেখার কোনো অংশে হামবড়া ভাব প্রকাশ পেয়ে থাকে, সেটার জন্য আমি দুঃখিত। নিজেকে বা অন্য কোনো ইউনিভার্সিটিকে বড় করে দেখানো আমার উদ্দেশ্য ছিলোনা। আমি চেয়েছিলাম, যাতে বুয়েটিয়ানরা অন্যদেরকে শুধু তাদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ের জন্য ছোটো করে না দেখে। আবারো বলছি, সব বুয়েটিয়ান দেখে না। যারা দেখে, ওদের জন্য লিখেছি।

লাইন বাই লাইন পড়ে, তুলে আনার জন্য ধন্যবাদ। পরবর্তীতে যদি কিছু লিখি, তখনকার জন্য এই কথাগুলো মাথায় রাখবো। কারণ, এগুলোতে আমার মনের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পায়না। আমি একেবারেই অহংকারী নই।

১) এটা ওনার পরিচয়ের অংশ। আমি এটা দিয়ে কিছু প্রুভ করতে চাইনি।

২) চোয়াল যদি ঝোলেই কোনো কিছুতে, তাহলে সেটা কম্প্যারাটিভলি কারেক্ট হওয়া উচিৎ। ঢাবি আর বুয়েটের মধ্যে যদি বুয়েটের নাম শুনে ঝোলে, তাহলে হার্ভার্ড আর বুয়েটের মধ্যে হার্ভার্ডের নাম শুনে ঝোলা উচিৎ।

৩) আমি জানতাম না, এটাকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। আসলেই, জানতাম না।

৪) কোথায় গিয়েছিলাম, আর কোথায় যেতে পারিনি, that was just to set the premise, nothing else. এটাকে আমি দায়িত্বের মত করে দেখি। দায়িত্ব পালন করতে পারলে হামবড়া ফীল করিনা, কিন্তু না করতে পারলে মন খারাপ হয়। দেশ, দেশের মানুষ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। বিনিময়ে কিছু ফেরত দিতে পারলে গর্ববোধ করবো, অহংকার নয়। আশা করি, বুঝতে পেরেছেন।

৫) আপনি কি আগের লাইনটা পড়েননি? এই লাইনটাকে আলাদা করে পড়লে দৃষ্টিকটু লাগে, নিঃসন্দেহে। কিন্তু আগের লাইনটা সহ পড়ে দেখুন। সে আমাকে অপমান করতে চেয়েছিলো, তাই আমার বর্তমান ব্যাকগ্রাউন্ড বেছে না নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকগ্রাউন্ড বেছে নিলো, এবং নিজের বুয়েটিয়ান পরিচয় নিয়ে হামবড়া ভাব প্রকাশ করলো। সেটা ছিলো এই লাইনগুলোর মেইন পয়েন্ট - "আমার কারেন্ট ব্যাকগ্রাউণ্ড কিছুই মীন করে না তার কাছে"

৬) কোনোটাই না। বই পড়া, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খবরাখবর রাখা, জাতীয় স্বার্থে এগিয়ে আসার মত রাজনৈতিক বিশ্লেষণধর্মী ক্ষমতা রাখা - এগুলোকে আমি মেধার পরিচয় মনে করি। সিজিপিএ কম পাওয়া কেউ মেধাবী হতে পারে। আবার জিআরইতে খারাপ করা মানুষও মেধাবী হতে পারে। খেয়াল করলে দেখবেন, ওখানে আমি প্রত্যেকটা দাঁড়ি দিয়ে একটা একটা ব্যাপার আলাদা করেছি।

৭) এটা এই লেখার সাথে রেলেভেন্ট না, এটা আমার পরিচয়ের অংশ। এটার আগের লেখাটাতে, যেখানে আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পর্ক ছিলোনা, সেখানেও আমি এটা লিখেছি। সচলে আমার আইডি নেই এখনো। যখন এখানে হাচল বা সচল হবো, তখন এটার প্রয়োজন থাকবে না। যেমন, আমার প্রত্যেকটা ফেসবুক নোটের শেষে দিয়ে তো এমন কোনো সিগনেচার নেই।

অতিথি লেখক এর ছবি

হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। ওখানে অনেকেই স্কোর শেয়ার দেয়।

আমাকে যারা চেনে, তারা জানে, আমি পড়াশোনা করি খুব কম। এনিওয়ে, আমার স্কোর ৩৩০ প্লাস না। হলে কী হতো? কিছুই হতোনা। হেল্পফুল যতটুকু ছিলাম, যতটুকু আছি, সেটা নিয়ে আমি নিজের কাছে সন্তুষ্ট। ব্যবসার ধান্দা কোনোদিনই ভালো ছিলনা, এখনো নাই। প্রচুর ফ্রি কনটেন্ট বানিয়েছি, এখনো বানাচ্ছি। যে বইটার কথা বললেন, ওটাকেও ভিডিও আকারে ইউটিউবে পাবলিশ করে দিয়েছি সবার জন্য। ওটা আমার একাডেমিক সেণ্টারের ম্যাটেরিয়ালই ছিলো, ব্যবসার ধান্ধা করে ওটাকে রেখে দেই নাই। প্লিজ, কাউকে অপমান করার আগে তার ব্যাপারে একটু জেনে নিন। না জেনে কথা বলার অভ্যাসটা আমাদের সবারই ছাড়া উচিৎ, কী বলেন?

তালিয়ার দরকার নাই। এরপর কেউ হায়ার স্টাডি নিয়ে পরামর্শ চাইতে এলে একটু সাহায্য করে দিয়েন। আমার চেয়ে ভালো ইউনিভার্সিটিতে গেছেন, এটুকু দায়িত্ব তো আছেই, তাইনা?

- ফরহাদ হোসেন মাসুম

অতিথি লেখক এর ছবি

চৌধুরী সাহেব সিন্ড্রুমে ভোগা এই লেখক অনলাইনে নরম বুয়েট-গরম বুয়েট সবার কাছ থেকে যে পরিমাণ ধোলাই খেয়ে যাচ্ছেন তাতে বুঝা যাচ্ছে কতজনের বুয়েটানুভুতি কতটা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। একজন তো ফেবুতে সচলের লেখার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে ! ব্যাপারটা অনেকটা বিশেষ প্রকৃতির ইন্ডিয়া বিদ্বেষ টাইপের। উনাকে মাফ করে দিন না !

কন্দর্পকান্তি

ধ্রুব আলম এর ছবি

একটা ব্যাপার নজরে পড়েছে, আমাদের এক সিনিয়র ভাইয়ের স্ট্যাটাস ও কমেন্ট থেকে। আপনি ফেসবুকে সবাইকে জবাব দিয়ে যাচ্ছেন দেখে এখানে আপনাকে প্রশ্ন রেখে গেলাম।

https://www.facebook.com/sharif.choyon/posts/10203669637439737?comment_id=10203675552187602&offset=0&total_comments=23&notif_t=feed_comment_reply

একজন প্রাক্তন বুয়েটিয়ান (রিয়াসাত আজিম সারওয়ার) দাবি করেছেন, আপনি কিছুদিন আগে এম এস ইউ (মিসিগান স্টেট ইউনি)-তে গিয়েছিলেন। গিয়ে ফান্ড থাকার পরেও আপনি ছিলেন, দুইজন বুয়েটিয়ানের বাসায়। তারা আপনার খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু হতে পারে। কিন্তু একই জায়গায় আপনার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু থাকা বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়না।

বুয়েট আপনাকে খালি দাগা দিয়েই গেছে, তারপরেও আপনি তাদের আতিথ্য কেন গ্রহণ করবেন, যেখানে আপনার ফান্ডের কোন সমস্যা ছিল না? এখানেই শেষ না, আপনার কোন এক মনের জ্বালা জুড়াতে এখানে এসে লিখেও ফেলবেন, আবার কমেন্টেও বড় গলায় চেচাবেন, ফেবুতে খোড়া যুক্তি দিয়ে যাবেন।

আপনাকে কি বলা উচিৎ? আপনাকে আমার প্রচন্ডরকমের অসৎ ও ভন্ড মনে হচ্ছে। আমার এ ধারণার পরিবর্তন ঘটাতে আপনার যদি কিছু বলার থাকে, বলতে পারেন, অপেক্ষায় রইলাম।

অতিথি লেখক এর ছবি

মিশিগান নয়, মিসিসিপি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে গিয়েছিলাম। ওখানকার বাংলাদেশীদের সাথে পরিচিত হবার জন্য, ঘনিষ্ট হবার জন্যেই গিয়েছিলাম। এবং যথেষ্ট ভালো আতিথেয়তা পেয়েছি শামীম, মারুফ ভাইয়ের কাছ থেকে। অবার্ন ইউনিভার্সিটিতে গিয়েও শরীফ, সজীব - এদের সাথে চমৎকার সময় কাটিয়েছি। এমন মানুষ নেই, তা বলিনি তো একবারও। আমার এই লেখা পড়ে তাদের কেন মন খারাপ হবে? আমি তো তাদেরকে কিছু বলিনি। বলেছি, যারা খামোখা নাক উঁচু করে থাকেন, তাদেরকে। সবাই এটা নিজের ঘাড়ে না নিলেই খুশি হবো।

বুয়েট খালি আমাকেই কই দাগা দিলো। তিনটার মধ্যে শুধু একটা আমার ঘটনা। অন্যদের ঘটনাই বেশি। আছে আরো অনেক, কত লিখবো? কিন্তু আমাকে দুপক্ষ ব্যালেন্স করে লিখতে হবে, সেটা আমি বুঝিনি। খারাপ অভিজ্ঞতাগুলোকে ব্যালেন্স করে ভালোগুলোও লিখতে হয়, সেটা আমার জানা ছিলোনা।

অতিথি লেখক এর ছবি

যদিও আমি লিখেছি যে আমার নিজের দেখা অনেক ভালো বুয়েটিয়ান আছে (সাঈদ ভাই, রাগিব ভাই এর কথা পোস্টে বলেছি, অনীক ভাই এর কথা কমেন্টে বলেছি, আছে এমন আরো), কিন্তু তারপরেও সবার কেন মনে হচ্ছে আমি জেনারালাইজ করছি? নাক উঁচু পাবলিক বেশি আছে বুয়েটে, এটা এখনো আমার কাছে সত্য। তিনটা ঘটনার প্রথমটাতে মানুষ কী ভাবে, দ্বিতীয়টাতে সেটাতে কীভাবে কারো কারো ক্ষতি হয়, এবং তৃতীয়টাতে যে কোনো ঘটনাতে বুয়েটকে টেনে এনে নিজেকে বড় দেখানোর উদাহরণ দেখানো হয়েছে। এবং এগুলো হয়েছে অনেকের সাথে, অনেকবার। সবাই করে বলছিনা, অনেকে করে (এটা জেনারালাইজেশন নয়)

আমার যেটা ভুল হয়েছে, সেটা হচ্ছে - তিনটা ঘটনার পরে অফিসিয়ালি ডিসক্লেইমার দেয়া উচিৎ ছিলো যে, সকল বুয়েটিয়ান একইরকম নয়। সাইদ ভাই, রাগিব ভাইয়ের মত "অনেকে" আছেন, একথা পোস্টে বলার পরেও কাজ হলো না যেহেতু, ডিসক্লেইমার দিয়ে কতটুকু কটূক্তি ঠেকানো যেতো, জানিনা। তবুও অফিসিয়াল ডিসক্লেইমার দেয়া উচিৎ ছিলো।

এই পোস্টের মধ্যে সবাই কেন সবাই আমার হতাশা খুঁজে পাচ্ছেন, আমি জানিনা। আমি চেয়েছি, এটা পড়ার পর কেউ কেউ আয়নার সামনে একটু দাঁড়াক। নিজেকে জিজ্ঞেস করুক, আমিও কখনো এমন করেছি কিনা। যদি করে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে কারো সাথে এমন না করুক। ব্যস, এটুকুই।

প্রথম দুটো ঘটনাতে আমার কোনো সরাসরি যোগাযোগ নেই। তৃতীয় ঘটনাটা ব্যক্তিগত, এজন্য এটা দিয়েই আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে। জানতাম, এমনই হবে। তারপরেও খোলা মনে স্বীকার করার মত সৎ-সাহস আমার ছিলো। এটাকে যারা খামোখা আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। এবং এ ধরনের বাজে মনোভাব পোষণ করছেন যে, আমি আঙ্গুর ফল টক মনে করছি - এর চেয়ে বালখিল্য কথা আর কোনোদিন শুনিনি আমি। গেট দ্যা পয়েন্ট হিয়ার - নাক উঁচু বুয়েটিয়ানরা যে কোনো কিছুতে বুয়েটকে টেনে নিয়ে আসে, দ্যাট ওয়াজ দ্যা পয়েন্ট।

- ফরহাদ হোসেন মাসুম

ধ্রুব আলম এর ছবি

এই লেখাটি এদেশের হতভাগা, বিদেশ যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রতি বুয়েটিয়ানদের অপমান-লাঞ্ছনা-গঞ্জনার বিরুদ্ধে এক জলন্ত প্রতিবাদ, যেন রক্তেভেজা এক নির্মম দলিল। বাংলার শিক্ষাব্যবস্থার ক্রান্তিকালে, এমন লেখা আমাদের সেই পুরনো প্রশ্নের সম্মুখে আবারো দাড় করিয়ে দেয় "আমরা কি এই বুয়েট চেয়েছিলাম?" তালগাছটা আপনাকে দিলাম

এক লহমা এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি হো হো হো গড়াগড়ি দিয়া হাসি

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

সজল এর ছবি

"ওই গ্রামের সব শালা ুদির ভাই, তয় আক্কাস আর বাক্কাস ভালো" এইটা বলার পরেও ওই গ্রামের সবাই খেপে কেনো বুঝি না। আমিতো বলছি সবাই খারাপ না, ভালোও আছে।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

অতিথি লেখক এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

ফেইসবুকে লেটেস্ট স্ট্যাটাস দেখেন। শুধু আক্কাস-বাক্কাস না, ঐ পাড়ার মোখলেসও খারাপ না। খুউব হেল্পফুল! খাইছে

সুবোধ অবোধ এর ছবি

ক্যাচাল ম্যালা হইছে, আমি বরং একটু ভিন্ন বিষয়ে বলি। অনেক অনেক অতিথি লেখকের কমেন্ট দেখলাম নাম উল্লেখ করা নাই। সেন্সেটিভ বিষয় নিয়ে তর্ক হচ্ছে বলে নাম প্রকাশের সাহস পাচ্ছেন না নাকি?!!! পাছে কেউ নাম ধরে গালি দেয়?!!! এ যেন নেকাব পড়ে পার্কে বসে কুকাম করার মত, কেউ গালি দিলে দিক আমারে তো চিনতে পারবে না।
ভাই সকল, ভয় ডরের কিছু নাই। সচলে কেউ বেহুদা গালাগালি করে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না কেউ ছাগুপণা বা অযৌক্তিক কথা বলে ত্যানা প্যাচায়। সুতরাং যৌক্তিক আলোচনা চলুক, সাথে আলোচকদের নাম থাকুক। ধন্যবাদ।

মন মাঝি এর ছবি

এই পোস্টের সত্যমিথ্যা যা বা যতটুকুই হোক বা এর লেখক ভালমন্দ যাই হোন না কেন - কিন্তু এর প্রতিক্রিয়ায় যেরকম আইলা-সিডরের মত মন্তব্য-ঝড় বয়ে গেল, তাতে ঠাকুর ঘরে ক্যা-রে, আমি কলা খাই না! - র মতই হয়ে গেল পুরো ব্যাপারটা। দেঁতো হাসি হো হো হো

****************************************

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখক শুরুতেই স্বীকার করেচেন তার হাল্কা শুড়শুড়ি ছিল। এই কথার পর বাকি সব কথাই হাল্কা করে দেয়। আর এখানে কোথাকার পার্সোনাল ঘটনার সাথে বুয়েট জুড়িয়ে দেয়াটা মোটেই নিষ্কলুষ হয় না।
পলাশীর প্রান্তর

অতিথি লেখক এর ছবি

চরম এক পেশে লেখা। সম্ভবত লেখক তার বুয়েটে না পড়ার ক্ষোভ এর বিস্ফোরণ ঘটালেন। এই বুড়া বয়সেও যদি ভার্সিটি নিয়ে কামড়া কামড়ি করতে হয় তাহলে আর কি বলব।

একাকী মানব

হিমু এর ছবি
অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

অনেকগুলো কমেন্টেরই ফোকাস 'লেখক', যেখানে লেখককেও একই সৈয়দত্ব দোষে দুষ্ট বলা হয়েছে। লেখক যদি নিজে সৈয়দ হয়ে থাকেন, তাতেও বুয়েট নিয়ে বক্তব্য পালটায় না।

আমার মতে, পোস্টে লেখক নিজের উদাহরণ টেনে বরং পোস্টের বক্তব্যকে শক্তিশালী করেছেন। বুয়েট ছাড়াও সাফল্যের উদাহরণ হিসেবে তিনি অন্য কাউকে না টেনে নিজেকেই যদি টানেন, তাতে অসুবিধা দেখি না।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।