যে মানুষটি অসীমকে জানতেন-১

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: সোম, ০৫/০৯/২০১৬ - ৪:২২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

অবশেষে 'The men who knew infinity' মুভিটা দেখা হল।অনেক দিন ধরেই মুভিটা দেখার ইচ্ছে ছিল।যদিও রামানুজনের সত্যিকার জীবনের সঙ্গে কিছু জায়গায় এর বেশ অমিল ছিল।সত্যি কথা বলতে, মুভিটা দেখতে গিয়ে খুব বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে গিয়েছিলাম।হয়তো গণিতের ঈশ্বরের সূক্ষ্ম কারুকার্যের কিছুটা হলেও আমি উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম।অবাক হয়ে ভাবছেন যে রামানুজনকে কেন গণিতের ঈশ্বর বলছি?কারণ তাঁর ছিল এক রহস্যময় আধ্যাত্মিক প্রতিভা।

আমরা যারা বিজ্ঞান ও গণিত সম্পর্কে টুকিটাকি খোঁজ-খবর রাখি তারা সাধারণত অনেক বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ সম্পর্কেই জানি।কিন্তু সত্যিকার অর্থে,মানব ইতিহাসে এমন কিছু প্রতিভার আবির্ভাব ঘটে,যাঁদেরকে বোঝার মতো বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতা খুব কম মানুষেরই থাকে।তাই তাঁদের সম্পর্কে মানুষ খুব বেশি জানে না।এমন একজন বিরল প্রতিভাধর গণিতবিদ ছিলেন শ্রীনিভাস রামানুজান আয়েঙ্গার।তাঁকে বলা হয়ে থাকে 'গণিতবিদদের গণিতবিদ'!!!!নিউটন,আইনস্টাইন কিংবা গাউসের মতো তিনি অতটা বিখ্যাত নন।এই ব্যাপারটিকে মুহাম্মাদ জাফর ইকবাল খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর একটি প্রবন্ধেঃ-

রামানুজনের নাম খুব বেশি মানুষ জানে না।সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত হতে হলে যেসব আকর্ষণের দরকার হয় তার কিছুই রামানুজনের নেই।মাদ্রাজের এক গরিব গোঁড়া হিন্দু পরিবারে জন্ম,পড়াশোনা বেশি নয়,ম্যাট্রিক পাশ করেছিলেন কিন্তু কলেজ পর্যন্ত যেতে পারেননি।ছোটখাটো মানুষ,পোশাক পরিচ্ছদে নজর নেই।নিজে গোঁড়া হিন্দু,মাছ মাংস ছুঁয়ে পর্যন্ত দেখেন না।শিল্প-সাহিত্যে উৎসাহ নেই,একাউন্ট অফিসের কেরানি হিসেবে কাজ করেছেন দীর্ঘকাল।যক্ষ্মা রোগে ভুগে ভুগে মারা গেছেন মাত্র ৩৩ বছর বয়সে।এরকম একটি চরিত্র সাধারণ মানুষকে আকর্ষণ করবে কেন?সাধারণ মানুষ তাঁর নাম শুনে কি করবে?তাই সাধারণ মানুষ রামানুজনের নাম জানে না,রামানুজনের নাম জানে শুধু গণিতবিদেরা।পৃথিবীর প্রতিটি গণিতবিদ রামানুজনের নাম শুনে শ্রদ্ধায় মাথা নত করে,করবে না কেন,রামানুজন ছিলেন পৃথিবীর সর্বকালের সর্বযুগের শ্রেষ্ঠ গণিতবিদদের একজন।

রামানুজন,যাকে কিনা বলা হয় সংখ্যাতত্ত্বের জাদুকর,তাঁর জন্ম হয় ১৯৮৭ সালে মাদ্রাজের এরোদ গ্রামে এক অতি গরিব হিন্দু পরিবারে।রামানুজনের বাবা মার বিয়ের পর অনেকদিন তাদের কোনও সন্তান হয়নি।কথিত আছে,তারা হিন্দুধর্মের এক বিশেষ দেবী 'নামগিরি দেবী'-এর কাছে সন্তান লাভের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন।এর পরেই রামানুজনের জন্ম হয়।তাই রামানুজনের বাবা-মা তাঁকে নামগিরি দেবীর আশীর্বাদ মনে করতেন।রামানুজনের বাবা শ্রীনিবাস আয়েঙ্গার একটি শাড়ির দোকানে কেরানীর কাজ করতেন।আর রামানুজনের মা কমলাতাম্মাল ছিলেন গৃহিণী;পাশাপাশি স্থানীয় একটি মন্দিরে গান গাইতেন।রামানুজনের বয়স যখন মাত্র ৫ বছর তখন তিনি স্থানীয় কাঙ্গায়ান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন।তাঁরা ছিলেন গোঁড়া ব্রাহ্মণ।প্রাইমারি স্কুলে থাকাকালীন সময়েই তাঁর মা তাঁকে ব্রাহ্মণ ধর্মীয় বিভিন্ন আচার আচরন শিক্ষা দিতে থাকেন।১০ বছর বয়সের আগেই তিনি ইংরেজি,তামিল,ভূগোল ও পাটিগণিত নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় পাশ করেন।রেজাল্ট দেখে সবার আক্কেল গুড়ুম,রামানুজন পুরো ডিসট্রিক্টের মধ্যে ফার্স্ট!পরের বছর তিনি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন,যেখানে তিনি প্রথমবারের মতো সত্যিকার গণিতের সাথে পরিচিত হন।

উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরেও ১৯০৩ সালের আগ পর্যন্ত তাঁর গাণিতিক প্রতিভা তেমন লক্ষণীয় ছিল না।১৯০৩ সালে যখন তাঁর বয়স ১৬ বছর,তখন তাঁর এক বন্ধু তাঁকে জি এস কারের লেখা ' A Synopsis of Elementary Results in Pure and Applied Mathematics' বইটির লাইব্রেরী কপি এনে দেয়।জি এস কার ঐ সময় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।তাঁর এই বইটি খুব অসাধারণ কিছু ছিল না।বইটিতে ক্যালকুলাস,সংখ্যাতত্ত্ব,গাণিতিক বিশ্লেষণ,ত্রিকোণমিতি ও অসীম ধারা সম্পর্কিত প্রায় ৬৫০০ উপপাদ্য কোনোরূপ প্রমাণ ছাড়াই বিবৃত ছিল।এই বইটি কার লিখেছিলেন,কেমব্রিজের ট্রাইপস পরীক্ষার শিক্ষার্থীদের জন্য,যেখানে তিনি ট্রাইপস পরীক্ষার কোচ ছিলেন।এই বইটিই রামানুজনের ভেতরকার অস্বাভাবিক প্রতিভাকে উস্কে দিলো।তিনি তাঁর নিজের অর্জিত জ্ঞানের আলোকে বইটির সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করতে লাগলেন।প্রায় অনেকগুলো সমস্যাই তিনি নিজে নিজে সমাধান করে ফেললেন।

দেখতে দেখতে তিনি হাই স্কুল পাশ করলেন এবং সরকারি আর্টস কলেজে পড়াশোনার জন্য বৃত্তিও পেয়ে গেলেন।কিন্তু সমস্যা শুরু হল কলেজে পড়তে গিয়ে।রামানুজন গণিতের প্রতি এতোটাই নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছিলেন যে তিনি অন্য সকল বিষয় পড়া বাদ দিয়ে দিলেন।ফলাফল যা হবার তাই হল,তিনি তার বৃত্তি হারালেন।সরকারি আর্টস কলেজ ছেড়ে দিয়ে রামানুজন পরের বছর পাচিয়াপ্পা কলেজ থেকে এফএ(ফেলো অব আর্টস) পরীক্ষায় অংশ নিলেন।কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তিনি পরীক্ষায় পাশ করতে ব্যর্থ হলেন(অধিকাংশ বড় মনিষীদের জীবনে যা হয় আরকি)।দুঃখে অপমানে তিনি কলেজের ডিগ্রি সম্পূর্ণ না করেই কলেজ ছেড়ে দিলেন।এরপর থেকে তিনি দিনরাত গণিতচর্চায় মগ্ন হয়ে গেলেন।তাঁর অবস্থা দেখে তাঁর বাবা মা কিছুটা চিন্তিত হয়ে উঠেছিলেন।তাঁরা ভাবলেন,তাদের ছেলেকে বিয়ে দিলে হয়ত ছেলে কিছুটা সংসারী হবে।যেমন ভাবা তেমন কাজ।১৯০৯ সালে রামানুজন ১০ বছর বয়সের বালিকা শ্রীমতী জানাকির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন।উল্লেখ্য,জানাকির বয়স ১২ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে রামানুজনের সাথে থাকতে দেওয়া হয়নি।

বিয়ের পর রামানুজন উপলব্ধি করলেন,সংসার চালানোর জন্য তাঁর কিছু করা উচিত।কিন্তু তিনি কি করবেন ভেবে পেলেন না।তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অবস্থা শোচনীয়।এছাড়া তাঁর কোনও কারিগরি দক্ষতা নেই।গণিত ছাড়া আর কিছুই তিনি পারেন না।তাহলে তিনি কি কাজ করবেন?এমন সময়ে তিনি কার কাছ থেকে যেন শুনতে পেলেন 'Indian Mathematical Society'এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রামচন্দ্র রাও নাকি একজন বড়মাপের গনিতপ্রেমিক।এছাড়া তিনি লোক হিসেবেও খুব প্রভাবশালী।রামানুজনের মনে খানিকটা আশার সঞ্চার হল যে,রামচন্দ্র রাও এর কাছে গেলে হয়ত তিনি কোনও একটা কাজ পেতে পারেন।তিনি দেরি না করে রামচন্দ্র রাওয়ের অফিসে চলে গেলেন।তিনি রামচন্দ্র রাওকে তাঁর কিছু আবিষ্কার বোঝানর চেষ্টা করলেন।প্রথমে শুরু করলেন সহজ কিছু গণিত দিয়ে।আস্তে আস্তে কঠিন বিষয়ে চলে গেলেন;হাইপারজিওমেট্রিক সিরিজ ও শেষের দিকে ডাইভারজেন্স সিরিজ।মজার ব্যাপার হচ্ছে,রামচন্দ্র রাও এসব জটিল গণিতের কিছুই বুঝলেন না।কিন্তু তাঁর এটা বুঝতে বাকী থাকলো না যে,পৃথিবীতে এক অসম্ভব প্রতিভাবান গণিতজ্ঞের আবির্ভাব ঘটেছে।তাঁর নিজের ভাষায়ই বলা যায়ঃ-

ছোটখাটো,জীর্ণ,স্থূলকায় গঠন সম্পন্ন খোঁচা দাড়ি ও প্রায় অপরিচ্ছন্ন একজন ব্যক্তি;কিন্তু তার ছিল সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একজোড়া চোখ,সঙ্গে একটি ছেঁড়া নোটবুক নিয়ে এলো।সে ছিল খুব বেশিমাত্রায় গরিব...সে তার নোটবুক খুলে আমাকে তার কিছু আবিষ্কার বোঝানোর চেষ্টা করতে লাগলো।আমি কিছুক্ষণের জন্য সেখানে তাকালাম এবং বুঝতে চেষ্টা পারলাম যে সেখানে বিশেষ কিছু একটা আছে।কিন্তু সে কি ঠিক বলছে নাকি ভুলভাল বকছে তা বিচার করার মতো গাণিতিক যোগ্যতা আমার ছিল না।...আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে সে কি চায়।সে বলল যে সে ছোটখাটো একটি কাজ চায় যাতে করে সে সংসারের ব্যয়ভার বহন করতে পারে এবং নিশ্চিন্তে গণিত নিয়ে তাঁর গবেষণা চালিয়ে যেতে পারে।

রামচন্দ্র রাও রামানুজনকে কাজের ব্যাবস্থা করে দেওয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দিলেন এবং তাঁকে মাদ্রাজে ফিরে যেতে বললেন।এদিকে রামচন্দ্র রাও অনেক চেষ্টা করেও রামানুজনের জন্য কোনও কাজ কিংবা বৃত্তির ব্যাবস্থা করতে পারলেন না।তার কারণ রামানুজনের সুনির্দিষ্ট কোনও কলেজের ডিগ্রি নেই।এইসময়েই Journal of the Indian Mathematical Society তে রামানুজনের প্রথম গবেষণাপত্র প্রকাশিত হল।তিনি ইলিপটিক মডুলার সমীকরণের উন্নতি সাধনে কাজ করেছিলেন।বার্নোলি নাম্বারের উপর তাঁর পেপারটি প্রকাশিত হবার পরে তিনি প্রথমবারের মতো সত্যিকারঅর্থে স্বীকৃতি পেলেন।তাঁর কোনও বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও তিনি মাদ্রাজ এলাকায় একজন গাণিতিক প্রতিভা হিসেবে সুপরিচিত হয়ে উঠলেন।১৯১২ সালে মাদ্রাজের পোর্ট ট্রাস্ট অফিসে রামানুজন কেরানীর পদের জন্য আবেদন করলেন।এবার কিন্তু খুব সহজেই চাকরীটা পেয়ে গেলেন।কারণ,জার্নালে পেপার প্রকাশ করার পর থেকেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপকদের কাছে সুপরিচিত হয়ে উঠেছিলেন।ফলে,এবার রামানুজন আবেদনপত্রের সাথে অধ্যাপকদের প্রশংসাপত্র সংযোজন করে দিয়েছিলেন।

এবার চাকরির পাশাপাশি তিনি নিবিড় মনে গবেষণা চালিয়ে যেতে লাগলেন।রামানুজনের অফিসে তাঁর সহকর্মীদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন প্রশিক্ষিত গণিতবিদ।তাঁরা আস্তে আস্তে রামানুজনের প্রতিভা অনুভব করতে শুরু করলেন।এদের মধ্যে মাদ্রাজ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর অধ্যাপক সি এল টি গ্রিফিথ রামানুজনের কাজ নিয়ে খুব আগ্রহি ছিলেন।তিনি আবার লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যাপক এম জে এম হিলকে বেশ ভালভাবেই চিনতেন।তাই তিনি রামানুজনের কাজের কিছু কপি হিলকে পাঠিয়ে দিলেন।উত্তরে হিল বললেন তিনি ডাইভারজেন্স সিরিজ নিয়ে রামানুজনের কাজের অনেক কিছু বোঝেননি।রামানুজন আরও কয়েকজন নামকরা গণিতবিদদের কাছে তাঁর কিছু গবেষণার ফলাফল পাঠিয়ে তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছিলেন,কিন্তু তাঁরা কোনও সাড়া দেননি।হয়তো তাঁরা রামানুজনের কাজ বোঝার মতো বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতাই ধারন করেন না।এবার রামানুজনকে কেউ কেউ পরামর্শ দিলেন কেমব্রিজের অধ্যাপক জি এইস হার্ডির কাছে চিঠি লিখতে।হার্ডি তখন অনেক বড় এক গণিতবিদ।বিশ্বজোড়া খ্যাতি তাঁর।তিনি হয়তো রামানুজনের কাজের মর্ম বুঝবেন।
(চলবে......)

তথ্যসূত্র ও সহায়ক বইঃ
The man who knew infinity trailer
Srinivasa Aiyangar Ramanujan
Ramanujon's lost notebook-Bruce C. Berndt
রামানুজন-নিউরনে অনুরনন-মুহাম্মদ জাফর ইকবাল
সংখ্যাতত্ত্বে আনন্দভ্রমন-রক্তিম বড়ুয়া

- আশরাফুল মাহিন

ছবি: 
24/08/2007 - 2:03পূর্বাহ্ন
24/08/2007 - 2:03পূর্বাহ্ন
24/08/2007 - 2:03পূর্বাহ্ন

মন্তব্য

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

চলুক

আশরাফুল মাহিন  এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- হাসি

সোহেল ইমাম এর ছবি

ভালো লাগলো। আগামী পর্বের প্রতখ্ষিায় থাকলাম।

---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।

আশরাফুল মাহিন  এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- খুব শীঘ্রই আগামী পর্ব পাবেন। হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

রামানুজন সম্পর্কে আরও অনেক কিছু জানতে পারব মনে হচ্ছে হাসি
চলুক চলুক

আশরাফুল মাহিন  এর ছবি

হাসি পরের পর্বে তাঁর কাজের কিছু পরিসংখ্যান দেখানোর চেষ্টা করবো।

তারপর এর ছবি

মুভিটা একটা ট্রিবিউটের মত হইছে। সিনেম্যাটিক ভ্যালু তেমন পাওয়া গেলনা। রামানুজনের চরিত্রে অ্যান্টি-হিরোয়িক চেহারার কাউকে মানাত।

guest_writer এর ছবি

হা,আপনার সাথে পুরোপুরি সহমত।মুভিতে রামানুজনের চরিত্রে যে অভিনয় করেছে(ডেভ পাটেল) তার সাথে রামানুজনের কোনও দিক দিয়েই কোনও মিল নেই।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ হাসি

-আশরাফুল মাহিন

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখা ভালো হইসে । ঘটনাপ্রবাহের বর্ননায় রামানুজনের প্রতি একটা শ্রদ্ধা এবং মমত্ব টের পাচ্ছি বেশ ভালো ভাবেই । ভালো জিনিস একটু তারায়ে তারায়হে লেখেন । পইড়া আরাম পাওয়া যায় ।

সিনেমার সবচেয়ে বিরক্তিকর ইলিমেন্ট ছিল দেভ পাটেল । পোলাটার অভিনয় দেখলেই আমার থাপড়াইতে মন চায় । হলিউড মনে হয় ইন্ডিয়ান চরিত্র বলতে ওরে ছাড়া আর কাউরে চিনে না । ইরাফান খান একটু বয়স্ক হয়ে যায় । তাও মনে মেকআপ দিলে দেভ পাটেলের চেয়ে ভালো অভিনয় করতো । সিনেমাটা দেইখা যারপরনাই হতাশ ।

মামুনুর রশীদ [ ভবঘুরে শুয়োপোকা ]
========================
mamun babu ২০০১ at gmail.com
হাজার মানুষের ভিড়ে আমি মানুষেরেই খুজে ফিরি

bashabi এর ছবি

পোলাটার অভিনয় দেখলেই আমার থাপড়াইতে মন চায় ।

চলুক একমত।.খুব ই বিরক্তিকর। এর মনে হয় ভালো লবিং আছে

সত্যপীর এর ছবি

চমৎকার। রামানুজন নিয়ে লেখা শেষ করে উপমহাদেশের গণিতের ইতিহাস নিয়ে ভাগে ভাগে লিখুন। রামানুজন ভারতীয় গনিতের একমাত্র ঈশ্বর নন। চতুর্দশ শতাব্দীর গণিতবিদ মাধবকে নিয়ে লিখুন, নিউটনের কয়েকশ বছর আগে তিনি সাইন কোসাইন নিয়ে প্রাথমিক কাজ করে গেছেন। বৃত্ত নিয়ে তার দখল এমন ছিল যে পরবর্তী ভারতীয় পণ্ডিতেরা সংস্কৃতে তাকে গোল-বিদ ডেকে গেছেন। দ্য ম্যান হু নিউ ইনফিনিটির মত দ্য ম্যান হু রিয়েলি নিউ সার্কলস। ব্রহ্মগুপ্তকে নিয়ে লিখুন যিনি শূন্য নিয়ে মৌলিক কাজ করে গেছেন। তার পাঁচশ বছর পরে গনিতের আরেক ঈশ্বর দ্বিতীয় ভাস্করকে নিয়ে লিখুন যিনি প্রমাণ করে গেছেন ব্রহ্মগুপ্ত ১+০ = ১ ইত্যাদি ঠিক লিখলেও ১/০ = ০ এই হিসাবটা ভুল করে গেছেন। পঞ্চদশ শতাব্দীর তামিল বই কানাকাথিকরম (উচ্চারণ সম্ভবত ভুল লিখলাম) নিয়ে লেখা আসুক যেইখানে সজারু আর কুকুরের আঁক কষতে দেয়া আছে। সজারু দিনে তিরিশ কদম দৌড়োয় আর কুকুর পয়লা দিন এক কদম, দ্বিতীয় দিন দুই কদম, তৃতীয় দিন তিন কদম ছোটে। কথা হল সজারুকে ধরতে কুকুরের কত দিন লাগবে। অ্যারিথমেটিক প্রগ্রেশন। ছয়শ বছরের পুরানো আঁক।

লিখে চলুন। গুগল বুক্স এ প্রচুর বই পাবেন, অনলাইনেও। এছাড়া বইপত্র তো আছেই। শুভকামনা।

..................................................................
#Banshibir.

guest_writer এর ছবি

আপনার সুন্দর মন্তব্বের জন্য ধন্যবাদ।

উপমহাদেশের গণিতের ইতিহাস নিয়ে লেখার কথা মাথায় আছে।

শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ।

-আশরাফুল মাহিন

অতিথি লেখক এর ছবি

রামানুজনকে নিয়ে খুব কমই জানি। আপনার লেখা পড়ে উপকৃত হলাম। বিস্তারিত লিখতে চেষ্টা করুন। এমন প্রচেষ্টার জন্য অগ্রিম শুভেচ্ছা।

ফাহমিদুল হান্নান রূপক

Sohel Lehos এর ছবি

রামানুজন,যাকে কিনা বলা হয় সংখ্যাতত্ত্বের জাদুকর,তাঁর জন্ম হয় ১৯৮৭ সালে মাদ্রাজের এরোদ গ্রামে এক অতি গরিব হিন্দু পরিবারে।

???? ১৮৮৭ হবে।

সোহেল লেহস
----------------------------------------------
হে দূর্দান্ত ভাবনারা, হেয়ালি করো না। এসো এ বাহুডোরে।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।