বারিন্দায় ছফা পেতে শুয়ে

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বুধ, ১১/০৯/২০১৯ - ৮:৪১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বারিন্দায় ছফা পেতে শুয়ে
একবার নক্ষত্রের পানে আর একবার বেদনার পানে
চেয়ে চেয়ে বেলা করি গুজরান।

ঘটনা জটিল তাই আস্তে আস্তে বলি।
পালঙ্কের পাশে ড্রয়ারের গোপন খনিতে মোর কবিতার খাতা
তালাচাবি দিয়া রাখি যেন মোর প্রাণপ্রিয়া বজ্রমুষ্ঠি শক্তিমতী পত্নী হোসনে আরা
উহা খুলিয়া পড়িতে নারে।
তবে যেহেতু সকল চাবি হোসনের কবলে তাই কুন খাতা কুন বই নিরাপদ নহে
তাই সকল কাব্য আমি চর্চা করি ওষুদ কম্পানির পেডে
আর হেলাভরে ফেলে রাখি টেবিলের 'পরে
যেন কিছুই যায় আসে না যদি হোসনে ধরে
আর পড়ে।
ড্রয়ারের খাতাখানি ভরে
লিখে রাখি মিষ্ট মধু দাম্পত্য প্রেমের কাব্য
বেশিরভাগই বিবিরে তোয়াজি
কবে সে কুন আমলে কি পরিয়াছিল তার পুঙ্খ চিরি বর্ণিয়া বর্ণিয়া
লিখি আহা বিবি কবে ফের য়্যামোনে সাজিবে ইত্যাদি ইত্যাদি
আর হোসনেরে শুনাইয়া সেই ড্রয়ার বন্দো করি তালা দেই খটাখট
সারাদিন পেশাদার কবির জীবন ঠেলি যবে ফিরি বাড়ি
হোসনে বিবি কিটিপিটি হাসে কিন্তু ভাব করে কদাপি সে আমার ঐ ড্রয়ার খুলে না
সেও খুশি আমি খুশি এইভাবে কেটেছিল বেলা।

কিন্তু একদিন কুন কুক্ষনে
কি কামে খুলিয়া পেড হোসনে বিবি ফোসফাস বাষ্পখাকি ইনজিনের ন্যায়
উঠিল চিক্কুর দিয়া
ওরে মিনসে এইসব কি
হুদাফাকিসাপোস্টুবি আলেয়া আলম আলো?
বৈঠকখানায় আমি বসিয়া বসিয়া
খাইতেছিনু কফি কিন্তু বুক উঠে ধড়াশ করিয়া
চকিতে হোসনে বিবি হানা দিয়া পাকঘরে
ঢুঁড়িয়া আনিল তার ওয়ালথার পিপিকে খন্তা
এবং আসিয়া মোর কলার ধরিয়া ফের কবিতার পেড খুলি পড়িল সশব্দে
“ওগো আলেয়া আলম আলো
সেদিন পরিয়াছিলে মিস্কিনসুলভ এক ইস্কিনটাইট পেন্ট
লেগেছিল ভালো
যেন বিদ্যুৎ হিল্লোল গেল বহিয়া বহিয়া
পেন্টের সিলি বরাবর
কুটি কুটি এম্পিয়ার।”

কফিমোহ ত্যাজি
গিলিয়া শতেক ঢোঁক চেষ্টিনু বুঝাতে বিবিরে
আহাহা আলেয়া সে তো সিরাজুদ্দৌলার ইয়ে
কিন্তু বিবি কুন কথা কানেই তুলে না
উল্টাইয়া পেডের পাতা পাঠ করে পরের কবিতা
“হে আলেয়া আলম আলো
সেইদিন ওয়ালিমা খাইতে গিয়া দেখিনু তুমায়
গুলাবি লেহাঙ্গা পরে আনমনে আছিলে বসিয়া একটি মুর্গার রান হাতে
লেগেছিল ভালো
যেন বিদ্যুৎ হিল্লোল গেল নাচিয়া নাচিয়া
তুমার ঐ হাবশী নিতম্বদেশে লেহাঙ্গার খাঁজভাঁজ ধরে
কুটি কুটি এম্পিয়ার।“

এদিকে দরদর ঘামি পেশাদার কবি আমি
তুতলিয়া বলি আহা কি না কি লিখেছি কবে ওষুদের পেডে
আসল কবিতা রাখি সযতনে তালাচাবি দিয়া...
শোনে না হোসনে বিবি বজ্রমুষ্ঠি প্রাণপ্রিয়া।
এক হাতে আমার কলার, এক হাতে খন্তা ওয়ালথার, এক হাতে পেডের কবিতা আর অন্য হাতের
অঙ্গুলিতে ছেপ দিয়া উল্টাইয়া পৃষ্ঠা পড়ে পরের কবিতাখানি
“আহা আলেয়া আলম আলো
সেদিন আসিয়াছিলে আপিসে সম্বল শুধু টিশার্ট
আর স্কার্ট
একটি ওড়না হুদাহুদি আছিল লম্বিত তব স্কন্ধ পরে
লাঠি হাতে সিকুরিটি যেমতি বেকম্মা থাকে এটিয়েম পাশে
কুন কাজেই আসে না কিন্তু না রাখলে সমাজ বলে এসব ঠিক্না কিন্তু
লেগেছিল ভালো
ওদিকে গর্জাইতেছে বিদ্যুৎ হিল্লোল তব মঙ্গোলীয় গতরের উচুনিচু পথে
কুটি কুটি এম্পিয়ার।“

ফুপাইয়া কহিনু বিবিরে
ওগো প্রায়শ আমায় খুব কবিতায় পায়
কি লিখিতে কি লিখিয়া বসি তার নাই কুন ঠিক
আলেয়া আলম আলো তার প্রতি নাই মম একবিন্দু সেক্স
সে একটি চলক মাত্র, এলজেব্রায় যেমন আমরা লিখিতাম ধরি মশল্লার দাম ইজিকল্টু এক্স
কুন ব্যাখ্যা কুন অজুহাত
কানেই তুলে না বিবি। আচমকা হঠাৎ
হুঙ্কারিয়া বলে, মিনসে, তলে তলে এসব শয়তানি
বিদ্যুৎ হিল্লোল তোর কুন জায়গায় খেলে আমি ভালমত জানি।
লেহাঙ্গা পেন্টুল শার্ট ইস্কার্টের এসব বাহানা
আর চলবে না ওরে সসুরার ছানা।
তারপর সে বাতাসে শানাইয়া তার খন্তাখানি
বিদ্যুৎ হিল্লোল পিটে ধমাধম কষিয়া কষিয়া
কুটি কুটি এম্পিয়ার
যেন মহাকাশ হতে কুন টুটাফাটা সেটেলাইট আসিয়া আঘাত হানে মাজা মাঝে মম

অধিক কি আর কব পাঠক তা কমবেশি জানে
বারিন্দায় ছফা পেতে শুয়ে সজল চক্ষু মেলি একবার নক্ষত্র
আর তারপর আয়না ধরি নিতম্বে খন্তার দাগ বরাবর
বেদনার পানে।

---------------
নামঃ খেলায়েত
পেশাঃ কবি


মন্তব্য

হাসিব এর ছবি

কুটি কুটি এম্পিয়ার লাগিয়ে পিষে ফেল খেলায়েত!

অন্তরা রহমান এর ছবি

পুরা আগুন হয়েছে কবিতাটা। আহ খেলায়েত, বাহ খেলায়েত। গুল্লি

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

ওরে একি বিস্ফোরন! হুদাফাকিসাপোস্টুবি নামে একটা নতুন আইকন এখন সময়ের দাবী। খেলায়েতের জন্য একাউন্ট বরাদ্দের আব্দার জানিয়ে গেলুম মডুদের কাছে।

বেলায়েত এর ছবি

হাউয়াবাউটদিসোয়ান?

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

পুরাই কুটি কুটি এম্পিয়ার

বেলায়েত এর ছবি

কুটি কুটি এম্পিয়ারের জন্যও এরকম একটা কিছু দরকার।

তাসনীম এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

“ওগো আলেয়া আলম আলো
সেদিন পরিয়াছিলে মিস্কিনসুলভ এক ইস্কিনটাইট পেন্ট
লেগেছিল ভালো
যেন বিদ্যুৎ হিল্লোল গেল বহিয়া বহিয়া
পেন্টের সিলি বরাবর
কুটি কুটি এম্পিয়ার।”

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

মনজুর এলাহী এর ছবি

একটি ওড়না হুদাহুদি আছিল লম্বিত তব স্কন্ধ পরে
লাঠি হাতে সিকুরিটি যেমতি বেকম্মা থাকে এটিয়েম পাশে

উপমা দেখে টাষ্কিত হয়ে গেলাম। গড়াগড়ি দিয়া হাসি গুরু গুরু

আর একটা ব্যাপার না বললেই না। কবিতাটি খুবই "এনার্জেটিক"। গড়াগড়ি দিয়া হাসি

তুলিরেখা এর ছবি

ও হো হো হো হি হি হি ওরে বাবা হা হা হো হো হি হি হি হি হিহহহহহি হাসি

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

কুটি কুটি এম্পিয়ার অবশেষে
নিতম্বের পানে?
এটা হোসনে আরা না হয়ে হোসেন আলি হলে তো একেবারে কেলেঙ্কারিয়াস কান্ড ঘটে যেত!

তারেক অণু এর ছবি

কুটি কুটি এম্পিয়ার গড়াগড়ি দিয়া হাসি

মন মাঝি এর ছবি

স্যাররে মাপ কইরা দ্যান ভাই!

****************************************

করবী মালাকার এর ছবি

দারুন !

SOJASAPTA এর ছবি

একটি ওড়না হুদাহুদি আছিল লম্বিত তব স্কন্ধ পরে
লাঠি হাতে সিকুরিটি যেমতি বেকম্মা থাকে এটিয়েম পাশে

উপমা দেখে টাষ্কিত হয়ে গেলাম।

বিবর্ণ সময় এর ছবি

অসাধারণ হাসি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।