'যুদ্ধাপরাধ' না 'মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ'?

হাসান মোরশেদ এর ছবি
লিখেছেন হাসান মোরশেদ (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৫/০৩/২০১০ - ৪:৫২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সম্প্রতি প্রথম আলোতে প্রকাশিত আইনমন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিক আহমেদ এর একটি সাক্ষাৎকার নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে কিছু প্রশ্ন তৈরী হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে আইনমন্ত্রী বলেছেন বাংলাদেশ সরকার যুদ্ধবন্দীদের নয় বরং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধসমুহের বিচার করতে যাচ্ছে এবং উপস্থিত সংবাদকর্মীদের অনুরোধ জানিয়েছেন 'যুদ্ধাপরাধ' এর বদলে 'মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ' এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করার জন্য।

যেহেতু 'যুদ্ধাপরাধ', 'যুদ্ধাপরাধী' শব্দগুলো ব্যাপক অর্থে প্রচারিত এবং মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় সেকারনেই আইনমন্ত্রী বক্তব্য এবং অনুরোধ নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা সৃষ্টির প্রয়াস হয়েছে, অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, কেনো 'যুদ্ধাপরাধ' নয়?

এ বিষয়ে কথা বাড়ানোর আগে দেখে নেয়া যেতে পারে ৯ডিসেম্বর ১৯৪৮ জাতিসংঘের সাধারন পরিষদের অধিবেশনে CONVENTION ON THE
PREVENTION AND PUNISHMENT OF
THE CRIME OF GENOCIDE নামে পাশকৃত রেজুলেশনটি।
এর মুখবন্ধে গনহত্যাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলে ঘোষনা করে বলা হয়েছেঃ-
' genocide is a crime under international law, contrary to the spirit and aims of the United Nations and condemned by the civilized world;
Recognizing that at all periods of history genocide has inflicted great losses on humanity; and
Being convinced that, in order to liberate mankind from such an odious scourge, international co-operation is required'

রেজুলেশনের ২৬০(৩) ধারার অনুচ্ছেদ ২ এ নির্ধারন করা হয়েছে , শুধু হত্যা নয় আরো কিছু অপরাধ গনহত্যা হিসেবে গন্য হবে ---

১।পরিকল্পিত ভাবে একটি জাতি বা গোষ্ঠিকে নির্মুল করার জন্য
তাদের সদস্যদেরকে হত্যা বা নিশ্চিহ্নকরন
২।একই উদ্দেশ্যে শারীরিক বা মানসিক ক্ষতিসাধন
৩।একটি জাতি বা গোষ্ঠিকে নির্মুল করার উদ্দেশে এমন পরিবেশ
সৃষ্টি করা যাতে তারা সম্পুর্ন বা আংশিক ভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে
যায়
৪।এমন পরিবেশ তৈরী করা যাতে একটি জাতি বা গোষ্ঠীর
জীবনধারন কষ্টসাধ্য , সেই সংগে জন্মপ্রতিরোধ করে জীবনের
চাকা থামিয়ে দেয়া হয়
৫।একটি জাতি বা গোষ্ঠি শিশু সদস্যদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে
তাদের জন্ম পরিচয় ও জাতিস্বত্বা মুছে ফেলা ।

গনহত্যার সংজ্ঞা নির্ধারনের পর ধারা ৩ এ গনহত্যা সংশ্লিষ্ট অপরাধ সমুহ ও চিহ্নিত করা হয়েছে

১। গনহত্যা চালানো
২।গনহত্যা চালানোর ষড়যন্ত্র/পরিকল্পনা করা
৩। প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে গনহত্যা উস্কে দেয়া
৪।গনহত্যা চালানোর চেষ্টা করা
৫।গনহত্যায় যে কোন প্রকারে সহযোগী হওয়া ও সমর্থন করা

ধারা ৩ এর পর ধারা ৪ এ বলা হয়েছে--
উপরোক্ত যে কোনো একটি অপরাধেই, অপরাধী যুদ্বাপরাধী হিসেবে বিবেচিত হবে- তা সে সাংবিধানিক সরকার, সরকারের আজ্ঞাবাহী কর্মচারী, কোন দল কিংবা একক কোনো ব্যক্তি ই হোক ।

ধারা ৭ এ আবার স্পষ্ট করে বলা হয়েছে --
ধারা ৩ এ বর্নিত অপরাধ সমুহ কোনো ভাবেই রাজনৈতিক অপরাধ বলে গন্য হবেনা ।

জাতিসংঘের দেয়া গনহত্যার সংজ্ঞা এবং আইনী ঘোষনার আলোকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং তাদের সহযোগীরা মানবতার বিরুদ্ধেই অপরাধ করেছে, যেহেতু গনহত্যা শেষপর্যন্ত মানবতার বিরুদ্ধেই অপরাধ।
অত্যন্ত যৌক্তিক ভাবেই গনহত্যার জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিচার হওয়া উচিত। শুভবোধে ভরসা রেখে আমরা স্বপ্ন দেখতেই পারি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আমাদের গ্রহনযোগ্যতা ঐ পর্যায়ে যাবেই একদিন যেদিন ঐ বর্বরদের বিচার ও আমরা করতে পারবো।
কিন্তু আজকের বাস্তবতা ঠিক ততোটা নয়।

বরং এ ক্ষেত্রে আইনমন্ত্রীকে আমার কাছে বেশ কৌশলী মনে হয়েছে। সম্ভবতঃ সরকার অত্যন্ত সতর্কভাবেই বিষয়টিকে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীন বিষয় হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে উপস্থাপন করতে চাইছে কারন যুদ্ধাপরাধের জের টানলে পাকিস্তান, ভারত, মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র সহ টান পড়বে।
এই ঝামেলায় না জড়িয়ে সরকার একে 'মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ' বলতে চাইছে, তাহলে বল গড়িয়ে পড়ে সমগ্র মানবগোষ্ঠীর পায়ে এবং 'মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে' অন্ততঃ প্রকাশ্যে কেউ দাঁড়াতে পারবেনা।

যাই হোক, যে নামেই সংজ্ঞায়িত করা হোক- বাংলাদেশের মানুষ জানে কারা অপরাধী। তাদের বিচারের জন্যই ৩৯ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা।
প্রতীক্ষার শুভ অবসান হোক।


মন্তব্য

মুস্তাফিজ এর ছবি

ব্যাপারটা পরিষ্কার হলো আমার কাছে।
আমিও বলি প্রতীক্ষার শুভ অবসান হোক।

...........................
Every Picture Tells a Story

হাসান মোরশেদ এর ছবি

অবশেষে
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

মুস্তাফিজ এর ছবি

অবশেষে

এদের উপর আস্থা রখতে চাই।

...........................
Every Picture Tells a Story

সুরঞ্জনা এর ছবি

প্রতীক্ষার শুভ অবসান হোক।
...............................................................................
জগতে সকলই মিথ্যা, সব মায়াময়,
স্বপ্ন শুধু সত্য আর সত্য কিছু নয় ।

............................................................................................
এক পথে যারা চলিবে তাহারা
সকলেরে নিক্‌ চিনে।

হাতুড়ে_ডাক্তার [অতিথি] এর ছবি

ব্যাপারটার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহে ভুগছিলাম এই কয়েকদিন, আপনার বিশ্লেষণের জন্য ধন্যবাদ

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

প্রাথমিক অবস্থায় খটকা লাগলেও লেখাটা পড়ে বুঝলাম এই পথই ঠিক। "যুদ্ধ" সংশ্লিষ্ট যেকোন কিছুতে গেলেই ক্যানভাসটা অনেক বড় হয়ে যাবে। যতটুকু গিলতে পারবো, তার চেয়ে বেশি আপাতত মুখে না নিলেও চলবে।

বিদ্যুতের জন্য যেমন শুধু খাম্বায় চলে না, তেমনি যুদ্ধাপরাধী বিচারের জন্যও শুধু রাজপথে হুঙ্কার যথেষ্ট না। এর জন্য আইনগত প্রস্তুতি এবং নিখুঁত তদন্ত প্রয়োজন। সেই আলোকে এই পদক্ষেপকে সমর্থন করি। আপাতত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য শাস্তি হোক, পরে নাহয় মরণোত্তর যুদ্ধাপরাধ জুড়ে দেওয়া যাবে। নয়তো এর-তার আপত্তির নিষ্পত্তি করতে করতেই এই মেয়াদ চলে যাবে।

সাবিহ ওমর এর ছবি

আমার পরিচিত এক পাকমনপেয়ারু বলছিল যে এটাকে যদি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ধরা হয়, তাহলে নাকি পল্টন ময়দানে বিহারী আর রাজাকার মারার জন্য কাদের সিদ্দিকিরও বিচার হওয়া দরকার। বুঢ়া আমার চেয়ে প্রায় চল্লিশ বছরের বড় না হলে তার কানের নিচে কইষে একটা লাগাইতাম।

তবে রাজাকাররা যা দেখাচ্ছে, এরপর এরকম কোন মামলা হয়ে গেলেও অবাক হব না।

অমিত এর ছবি

আবেগহীন ভাবে দেখলে যেকোন হত্যাই মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হওয়া উচিত। কিন্তু সেগুলো গণহত্যা না। বিহারি জাতিকে কেউ নিশ্চিন্থ করতে চায় নি, বাঙ্গালি জাতিকে চেয়েছিল।

সাবিহ ওমর এর ছবি

এটাতো আবেগের ব্যাপার ছিল না, এটা অপরাধও ছিল না। কতগুলা ছিচকে খুনী হাতেনাতে ধরা পড়ার পর তাদেরকে মারা হয়েছিল। যাদেরকে মারা হয়নি তাদের কীর্তিকলাপই কি প্রমাণ করে না যে এদের মারা যুক্তিযুক্ত ছিল? দেশদ্রোহীতা পরের কথা; এরা খুনী, ধর্ষক এবং লুটেরা..দেশের আইনে এদের বিচার কি?

টিউলিপ এর ছবি

আমি এত কিছু বুঝতে চাই না, আমি খালি গো.আ., নিজামীদের ফাঁসি দেখতে চাই, আর বাংলার বাতাস এদের দূষিত নিঃশ্বাস থেকে মুক্ত হোক এটা চাই।
___________________

রাতের বাসা হয় নি বাঁধা দিনের কাজে ত্রুটি
বিনা কাজের সেবার মাঝে পাই নে আমি ছুটি

___________________

রাতের বাসা হয় নি বাঁধা দিনের কাজে ত্রুটি
বিনা কাজের সেবার মাঝে পাই নে আমি ছুটি

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

যে টার্মেই ডাকা হোক, বিচার শুরু হোক-- এই মুহূর্তে এটাই প্রত্যাশা।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

তানভীর এর ছবি

হ্যাঁ, প্রতীক্ষার শীঘ্রই শুভ অবসান হোক।

আপনার ব্যাখা পড়ে আমার খটকা অবশ্য আরো বেড়ে গেল। গণহত্যা ও এর সাথে সংশ্লিষ্টতা অবশ্যই 'মানবতার বিরূদ্ধে অপরাধ'। সে হিসাবে এ দেশীয় অপরাধীদের গণহত্যার সহযোগী হিসেবে বিচার করা যায়। কিন্তু তার আগে মনে হয় পাকিস্তান সেনাবাহিনী গণহত্যা করেছিল সেটা প্রমাণ করতে হবে (পক্ষে-বিপক্ষে প্রচুর দলিল আছে- শর্মিলা বোস, সিসন/রোজ, সাইকিয়া প্রমুখের গবেষণামতে কোন গণহত্যা হয় নি)। তারপর সহযোগিতার প্রশ্ন আসবে। তাই-
"যুদ্ধাপরাধের জের টানলে পাকিস্তান, ভারত, মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র সহ টান পড়বে।"-
পাকিস্তানকে না টেনে কীভাবে গণহত্যার সহযোগী হিসাবে এ দেশীয় কুকুরদের বিচার সম্ভব তা বুঝতে পারছি না।

এর চেয়ে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আগে তাদের বিচারটাই কি সহজ নয়? এক্ষেত্রে তাদের ব্যক্তিগত অপরাধের বিচারের জন্য সমষ্টিগত অপরাধ প্রমাণের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না।

আমি শুধু আমার আশংকার কথাই বলছি- গণহত্যা হয়েছিল যদি আদালতে প্রমাণ করা না যায়, তবে হয়তো সবই যাবে ফস্কে। আর প্রমাণ করার সদিচ্ছা থাকলে পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, চীন সবাইকেই টানতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান নিশ্চয়ই সহজে চাইবে না তাদের নামে এমন একটা কলংক জোটাতে। ফাঁকতালে গোআ, মইত্যারাও হয়ে যাবে 'মিঃ ক্লিন'। আমরা হয়ত সে পথেই আগাচ্ছি।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

পাকিস্তানকে না টেনে কীভাবে গণহত্যার সহযোগী হিসাবে এ দেশীয় কুকুরদের বিচার সম্ভব তা বুঝতে পারছি না।
সম্ভব তো তানভীর ভাই। বাহাত্তরে যে "দালাল আইন" হয়েছিলো সেটার এবারকার সংশোধনীতেই তো খুব সম্ভবত এই কুত্তাদের বিচার করা সম্ভব।

যুদ্ধাপরাধ বললে ব্যাপারটা বিস্তৃতি পায়। এই বিস্তৃতি বিলম্বেরও কারণ হবে নিঃসন্দেহে। আর বাংলাদেশের সাপেক্ষে বিলম্বিত বিচারকার্য কতোটা ফলপ্রসূ হবে, এই নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

এদেশী রাজাকারদের বিচারকার্য শুরু করলে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে পাকিস্তানিরা অটোমেটিক আসবে রাজাকারদেরকে ব্যবহারের কারণে। তখন তাদেরকেও ফাসানো যাবে কোনো স্যাম চাচুদের হাদুমপাদুম ছাড়াই।

কিন্তু পাকিস্তানীদের আগে ফাসাতে গেলে স্যাম চাচুরা গোস্বা করে ফেলতে পারে। একবার তারা গোস্বা করে বসলে পরে সেই ফাক ফোঁকড় দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের দালালরাও গলগল করে বেরিয়ে যাবে।

আইনমন্ত্রী মনে হয় না সেই পথে যেতে চাচ্ছেন।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

পলাশ দত্ত এর ছবি

আপাতত অবশেষে বলে যাই।

যুদ্ধাপরাধ না বলে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বললে যে-আইনে বিচার হবে সেই আইনে কোনো ঝামেলা হয় কি না। সেই বিষয়টা একুট নেড়েচেড়ে আবার আসবো।

==========================
পৃথিবীর তাবৎ গ্রাম আজ বসন্তের মতো ক্ষীণায়ু

==========================
পৃথিবীর তাবৎ গ্রাম আজ বসন্তের মতো ক্ষীণায়ু

মামুন হক এর ছবি

যাই হোক, যে নামেই সংজ্ঞায়িত করা হোক- বাংলাদেশের মানুষ জানে কারা অপরাধী। তাদের বিচারের জন্যই ৩৯ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা।
প্রতীক্ষার শুভ অবসান হোক।

--একমত হাসান ভাই।
বিষয়টা তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ জানবেন।

নজমুল আলবাব এর ছবি

আরো অপেক্ষা করি, তারপরে বলবো।

------------------------
ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল

রায়হান রশিদ এর ছবি

ধন্যবাদ হাসান মোরশেদ, জরুরী এই বিষয়ে আলোচনার সূত্রপাত করার জন্য।

বরং এ ক্ষেত্রে আইনমন্ত্রীকে আমার কাছে বেশ কৌশলী মনে হয়েছে। সম্ভবতঃ সরকার অত্যন্ত সতর্কভাবেই বিষয়টিকে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীন বিষয় হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে উপস্থাপন করতে চাইছে কারন যুদ্ধাপরাধের জের টানলে পাকিস্তান, ভারত, মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র সহ টান পড়বে।

একমত হতে পারছি না। ঠিক কাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে, তদন্তের পর ঠিক কার কার বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার মতো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, সে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইবুনাল) এক্ট ১৯৭৩ এর ঠিক কোন্ কোন্ ধারায় কোন্ কোন্ অপরাধের আলোকে অভিযোগ আনা যাবে বা আনা সম্ভব - সেটা সম্পূর্ণই তদন্তকারী দল আর প্রসিকিউশন টিমের ব্যাপার। সেখানে অনেক অপশন যেমন অপ্রযোজ্য মনে হতে পারে, আবার পাশাপাশি নতুন অনেক বিকল্প অপশনও বেরিয়ে আসতে পারে। এই সব অপশন বা বিকল্পের ভালমন্দ যাচাই সম্পূর্ণরূপে ট্টাইবুনালের নিজস্ব ক্ষমতার বা এখতিয়ারের আওতাধীন। ট্রাইবুনালের 'স্বাধীনতার' সেটাই মূল কথা, যার ওপর এই পুরো বিচার প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা (দেশে এবং বিদেশে) নির্ভর করবে। এটা অনেকেরই মত - সরকারের কাজ শুধু বিচারের ফ্রেমওয়ার্ক তৈরী করে দেয়া, আর ট্রাইবুনালকে প্রয়োজনীয় অর্থ এবং লজিসটিক্স জোগান দেয়া, এর বেশী কিছু না। এর পর ট্রাইবুনাল কি করবে না করবে সেটা মনে হয় ট্রাইবুনালের হাতেই ছেড়ে দেয়া উচিত।

তাই, আমি মনে করি আইনমন্ত্রী কথাটি ওভাবে না বললেও পারতেন। কারণ, এর ফলে ট্রাইবুনালের সম্ভাব্য অপশনগুলোকেই তিনি সীমিত করার ইঙ্গিত দেননি, এই ট্রাইবুনালের কার্যক্রমকে এবং স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করারও সুযোগ তৈরী করে দিলেন।

যুদ্ধাপরাধের বিচারের ব্যাপারে বহির্বিশ্বের নাক গলানোর (বা ইস্যুটিকে বিপদজনকভাবে বিস্তৃত করে দেয়ার ব্যাপারে) যে আশংকা প্রকাশ করেছেন আপনি, তা অমূলক নয়। সমস্যা হল - সেটা কিন্তু আইনমন্ত্রীর 'কৌশলী' বক্তব্যের ফলে বন্ধ হবে না, যেভাবেই তিনি সেটা দিন না কেন। বিশ্বাস না হয়, আসুন আগামী এক বছর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘটনার গতিপ্রকৃতি একটু খেয়াল করতে থাকি। গত এক বছরের নজির তো রয়েছেই হাতের কাছে।

এই আলোচনাগুলো আরও বেশী করে হওয়া দরকার আসলে। সেজন্য আবারও ধন্যবাদ আপনাকে।

===================
মুক্তাঙ্গন: নির্মাণ ব্লগ
===================

হিমু এর ছবি
হাসান মোরশেদ এর ছবি

রায়হান ভাই,
আপনার কাছ থেকে পোষ্ট আশা করছি।
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

অতিথি লেখক এর ছবি

আমারো আইনমন্ত্রীর কথায় খটকা লেগেছিল। আপনার ব্যাখ্যায় সেটা পরিস্কার হয়েছে। খুবই খুশি হব যদি এই এই টার্মের ভিতরেই বিচার শেষ হয়।

প্রতীক্ষার শুভ অবসান হোক।

===অনন্ত===

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখার মধ্যে অক্ষরের বদলে খালি বাক্স-বাক্স দেখি! ১, ২, ৩ পয়েন্ট করা সবগুলাই খালি বাক্স! ওঁয়া ওঁয়া কি করন যায়?

--আশাহত

তৌফিক হাসান [অতিথি] এর ছবি

আশাহত ভাই, ফায়ারফক্স ব্যবহার করেন। তাইলেই পুরা ফকফকা দেখবেন।

পথেপথিক এর ছবি

আলোচনা চালু রাখা উত্তম ।
যুদ্ধাপরাধীরা বা পূরাতন মানবতা বিরোধীদের শুধু বিচার করলে দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের মানবতা রক্ষা পাবে কিভাবে ? মানবতা রক্ষার জন্য আরো আইন সংযোজন করা প্রয়োজন। নয়া পদ্ধতিতে কিভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হতে- পারে তা জানতে হবে, গবেষণা করতে হবে এবং গণমাধ্যমকে জানাতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের কাছে দীর্ঘদিন ট্রেনিং প্রাপ্ত সাগেরদরা যেন এই দেশে আর কোন মানবতা লঙ্ঘন করতে না পারে সেজন্য আমাদের আরো আলোচনা এবং আইন বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

স্বপ্নহারা এর ছবি

আমিও প্রথমে ব্যাপারটা বুঝি নাই; আপনার বিশ্লেষনে কিছুটা পরিস্কার হল...ধন্যবাদ মোরশেদ ভাই।

আসলে বিচারটা তাড়াতাড়ি করা জরুরী...যেভাবেই হোক! আজকে ৫০ জনের মনে হয় একটা তালিকা দেখলাম। মেরুদন্ডগুলা ভেঙ্গে দিতে পারলে পরে বাকিটা ভালভাবে করা যাবে...আর ওইদিকে গো আ- মনে হয় ৯০ ছুঁই ছুঁই...মরার আগে ওরে মারতে চাই...
-------------------------------------------------------------
স্বপ্ন দিয়ে জীবন গড়া, কেড়ে নিলে যাব মারা!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

শোহেইল মতাহির চৌধুরী এর ছবি

কৃতজ্ঞতা হাসান মোরশেদ!
-----------------------------------------------
মানুষ যদি উভলিঙ্গ প্রাণী হতো, তবে তার কবিতা লেখবার দরকার হতো না

-----------------------------------------------
মানুষ যদি উভলিঙ্গ প্রাণী হতো, তবে তার কবিতা লেখবার দরকার হতো না

দ্রোহী এর ছবি

কয়েকটা খটকা পরিষ্কার হলো।

আশা করছি সরকার শীঘ্রই বিচারের কাজ শুরু করবে।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

আমি অপেক্ষা করছি মামলা বিচারের এজলাসে গড়ানো পর্যন্ত ......



অজ্ঞাতবাস

শরতশিশির এর ছবি

যেভাবেই হোক বিচার শুরু হোক। আমরা অধীর অপেক্ষায় আছি।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমি দেখতে চাই না বন্ধু তুমি
কতখানি হিন্দু আর কতখানি মুসলমান
আমি দেখতে চাই তুমি কতখানি মানুষ।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমি দেখতে চাই না বন্ধু তুমি
কতখানি হিন্দু আর কতখানি মুসলমান
আমি দেখতে চাই তুমি কতখানি মানুষ।

শামীম এর ছবি

ধন্যবাদ হাসান মোরশেদ।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।