বাংলা শিশু সাহিত্য ও বিনোদন

শিশিরকণা এর ছবি
লিখেছেন শিশিরকণা (তারিখ: শনি, ২২/০৮/২০১৫ - ১২:২৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বিদেশ বিভুঁইয়ে এখনও বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা ধরে রাখা বাবা মাদের নিত্য যুদ্ধ লেগে থাকে বাচ্চাকে বাংলা ভাষা শিক্ষা দেবার, চর্চা করার। অনেকেই কিছুদিন লেগে থাকার পর হাল ছেড়ে দেন। কারণ ভাষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির উপাদান তো চাই। বিদেশে বাংলা বই এর অভাব, শিশু সাহিত্য তো আরও দুর্লভ। আর বাংলায় বাচ্চাদের টিভি অনুষ্ঠানের তো অস্তিত্বই নেই। নিজে ছানা পোনা ঘরে আনার আগে তাই কোমর বেঁধে প্রস্তুতি নিলাম। বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা জাগাতে তাই সব রকম বাংলা শিশু সাহিত্যের বই জোগাড় করলাম। উপেন্দ্রকিশোর, সুকুমার থেকে শুরু করে হালের হুমায়ুন আহমেদ, জাফর ইকবাল সবাই হাজির হলেন । ছানার আগমনের পর সেগুলো গুড়া বয়সেই তাকে পড়ে শোনাতে গিয়েই হলো বিপত্তি।

তার নানী তাকে কোলে নিয়ে টোনাটুনির গল্প শোনায়। টোনা সবার থেকে সাহায্য নিয়ে উপকরণ জোগাড় করে , টুনি পিঠা বানায় এত মজার যে নিজেরাই সব খেয়ে ফেলে। এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল, কিন্তু তারপরই গল্পের শেষ অংশ বা বলা যায় গল্পের শিক্ষণীয় বা সার অংশ আসে যেখানে সব সাহায্যকারীদের পিঠার ভাগ দেওয়ার হাত থেকে বাঁচতে টোনাটুনি গিয়ে লুকিয়ে থাকে আর বোকা বনে যাওয়া সাহায্যকারীদের ভেঙ্গাঁতে থাকে। বেচারি নানী পড়ে শোনান আর নাতিকে বলে, দেখ এইরকম দুই নম্বুরি করা যাবে না, বুঝেছ?

একদম ছোটো বাচ্চাদের শিশু সাহিত্য যেগুলো হয়ত আসলে বাবা মা পড়ে শোনাবে সেরকম বই খুবই কম। বাংলাতে যা পেলাম বেশীরভাগই অন্য ভাষায় প্রকাশিত বই কে অনুবাদ করে প্রকাশ হয়েছে। ক্লাসিক যেগুলো আছে। সেগুলো মূলত মৌখিক ভাবে প্রচলিত রূপকথা বা লোককাহিনীর লেখ্য রূপ। এই গল্প গুলো ছোট বেলায় যখন শুনে বড় হয়েছি, অত কিছু ভাবিনি, কিন্তু এখন যদি বিশ্লেষণ করতে বসি, তখন দেখি এগুলো কিভাবে শিশুর মনস্তত্ব গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রভাব ফেলছে। প্রথমত , বেশীরভাগ রূপকথার গল্পেই থাকবে রাজা এবং সুয়োরানী আর দুয়োরানী। একজন খুব খুব খুউব ভালো আর একজন বিরাট বদ। শিশু মনে এর সম্ভাব্য প্রভাব এমন যে মানুষের একটি মাত্র ঘটনার প্রেক্ষিতে রূপ দেখেই সাদা কালো এক খোঁয়াড়ে পাঠিয়ে দেয়া। যেমন অমুকে মুহম্মদ বিড়াল কৌতুক শুনে হেসেছে, কাজেই সে নাস্তিক বা উনি দাঁড়ি-টুপি পড়া নামাজী মানুষ মানেই উনি সদা সত্য কথা বলেন। সব মানুষই ভালো মন্দ মিশিয়ে, মন্দের উপর কারও নিয়ন্ত্রণ বেশি, কারও কম, ভালো মন্দের সংজ্ঞাও সবার কাছে এক নয়। পরিস্থিতি ভেদে এক একসময় একই মানুষের ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেখি । ভালোমত মানুষ চিনতে শেখার আগেই গল্পে গল্পে বাইরের দুনিয়া সমন্ধে যে ধারণা শিশু পাচ্ছে তাতে চরমপন্থীভাবে মানুষকে বিচার করছে, শত্রু মিত্র বুঝতে ভুল করছে।

এরপর আসা যাক, প্রচলিত অনেক গল্পের মাঝে নৃশংসতা নিয়ে। কত গল্পের মাঝে অমুককে শূলে চড়ানো হলো, মাথা কাটা পড়লো, নাক কাটা পড়লো, আগুনে পুরে মরলো, ঘাড় মটকে খেলো, বাঘে খেলো এরকম বর্ণনা আছে, মনে করতে পারেন? আবার আগের পয়েন্ট থেকে আসি, যেহেতু ভালো আর খারাপ পরিষ্কারভাবে আলাদা করে দেয়া হয়েছে, যে খারাপ, তাকে আর মানুষ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না, কাজেই তাকে শাস্তি দেয়া ঠিকাছে, ভয়াবহ সব নির্যাতন বা পরিণতি নিয়েও তাই বিচলিত হবার কিছু নাই, কারণ সে তো আর মানুষ না। কাজেই যখন একজন নাস্তিককে ভালো খারাপের সংজ্ঞায় খারাপ দলে ফেলে দেয়া হচ্ছে তাকে নৃশংস ভাবে হত্যা করলেও তা একজন সংজ্ঞায়িত ভালোর গায়ে ফুলটোক্কা লাগার তুলনায় কিছুই না।। খারাপদের তো অমনই হয় । এগুলোই তো আমরা গল্পে গল্পে জেনে এসেছি।

তারপর ধরা যাক, গল্পের মূল চরিত্র কিভাবে বাহাদুরি পাচ্ছে সেই প্রসংগে। টোনা সবাইকে কথা দিল পিঠার ভাগ দিবে। এই গল্পের একটি বর্ণনায় পাচ্ছি, টোনা টুনি নিজেরা সব পিঠা খেয়ে ফেলার পর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে থাকল, আর সবাই পিঠে খেতে এসে বোকা বনে ফেরত গেল আর টোনা টুনি লুকিয়ে তা দেখে খুব মজা পেল আর ছড়া কাটল। অর্থাৎ কথা দিয়ে না রাখা কোন ব্যাপার না, ধরা না পড়লেই ফুর্তি। একই গল্পের আরেকটা বর্ণনায় পাচ্ছি, সব পিঠে খেয়ে ফেলার পর টোনা গু অথবা মাটি দিয়ে পিঠের বানিয়ে রেখে দিল, বাঘ এসে সেটা হালুম হুলুম করে খেয়ে নিয়ে পরে টের পেল সে ভারি বিস্বাদ আর ক্ষেপে তর্জন গর্জন করলো। টোনা টুনি ফুরুত করে পালিয়ে গেল। সেই একই শিক্ষা, ভেজাল দাও, ফাঁকি দাও ধরা না পরলেই তুমি বাহাদুর। তবে কেন কেউ সততা সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা অবলম্বন করবে আর? একই শিক্ষা আছে কুমড়োতে করে গড়িয়ে চলা বুড়ির গল্পে, সবাইকে কথা দিয়ে পরে পালিয়ে বেড়ানোতেই বুড়ির ভারি বাহাদুরি।
গল্পের এই ছাঁচটা আমাদের উপমহাদেশের বৈশিষ্ট্য কি না জানি না যেখানে অপরকে ধোঁকা দেয়া, ঘোল খাওয়ানোর মাঝে আনন্দ খুঁজে নেওয়া হয়। সম্প্রতি আফ্রিকার লোককাহিনী সংকলন পড়লাম। সেগুলোতে এই ছাঁচের অনুপস্থিতি চোখে পড়েছে। বরং আফ্রিকার গল্পগুলি জীবনের ভালো মন্দ বিভিন্ন দিকগুলির সরল বর্ণনা এবং খারাপকে দুঃখজনক বলা এবং ভালোকে আনন্দদায়ক বলার সোজা সাপটা পদ্ধতি ভালো লেগেছে। তুলনা করে আমাদের সংস্কৃতির নীচতাকে পূজনীয় দেখানো মনোভাবের ছড়াছড়ি দেখে লজ্জিত বোধ করেছি।
ডিসক্লেইমারঃ সম্প্রতি হট্টিটি প্রকাশনের কিছু বই পেয়েছি শিশুদের উপযোগী।

একদম গেদা বাচ্চাদের জন্য মুখে মুখে বলা লোককাহিনীগুলোর পরে আসে পড়তে শিখেছে এই বয়সের বাচ্চাদের জন্য বই। বই মেলাতে শিশুদের বই প্রকাশ করে এমন স্টলগুলোতে গেলে সবসময় হতাশ বোধ করি। ছয় থেকে দশ বছরের বাচ্চাদের জন্য সাহিত্য বলতে সেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানারকম ভূতের গল্প আর রূপকথার ঠাকুমার ঝুলি, বড়ো জোর ঈশপের গল্প নানারকম চেহারার সংকলনে। যে বয়সটাতে বাচ্চাদের নৈতিকতাবোধ তৈরি হয় তখন তাদের হাতে আমরা কি তুলে দিচ্ছি? বা তুলে দেওয়ার মত আদৌ কি উপকরণ আছে? কাজেই তারা এ বয়সে হা করে টিভি দেখে। টিভির কার্টুন গুলোও কি বাবা মায়ের খেয়াল করে দেখেন যে কি দেখছে বাচ্চা? তাও যদি বা বিদেশি কার্টুন আছে দেখার মতো, বাংলাতে বাচ্চাদের উপযোগী অনুষ্ঠান কি আছে দেখবার মত? টক শোর ভিড়ে বাচ্চাদের কোন অনূষ্ঠান কি এই হাজার বিজারে চলা চ্যানেল গুলি বানায়? ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠান হিসেবে একটা বাচ্চাদের অনুষ্ঠান দেখতে বসেছিলাম, সেখানে বেচারা জুয়েল আইচকে ম্যাজিশিয়ান হিসেবে নিয়ে এসে একটা বাচ্চাকে দিয়ে তাকে নানারকম প্রশ্ন করা হলো, আরেকটা টক শোর বেশি কিছু না। আরও কিছু বাচ্চাকে বসিয়ে রাখা হয়েছিল গল্প শোনার আসর আবহ দেবার জন্য, তাদের অধৈর্য্য উসখুসই বলে দেয় বাচ্চাদের অনুষ্ঠান কচু হয়েছে সেই টক শো । ভারতীয় বাংলা চ্যানেলে যদি বা কিছু করার চেষ্টা করে অনেক সময় পেডোফাইলদের মনোরঞ্জনের জন্য বাচ্চাদের দিয়ে অশ্লীল নাচানাচি পর্যায়েই পর্যবসিত হয় শেষ পর্যন্ত। বাচ্চাদের জন্য অনুষ্ঠান তৈরি করতে অনেক গবেষণা আর পরিশ্রম করতে হয়, সেই সময় বা অর্থ লগ্নী করারই আগ্রহ দেখি না অনুষ্ঠান নির্মাতাদের মধ্যে। কেবলমাত্র অনুদানের অর্থায়নে বানানো সিসিমপুর বা মীনা দিয়ে আর কতদিন? বাণিজ্যিকভাবে শিশুদের অনুষ্ঠান কেন তৈরি হয় না?

একটা শিশু জন্মায় একদম পরিষ্কার সাদা একটা মন মস্তিষ্ক নিয়ে। আমরা কত অসচেতনে সেটা হাবিজাবি দিয়ে ভরে ফেলে নষ্ট করে ফেলি দ্রুত। দুনিয়ার সবকিছু থেকে আড়ালে আগলিয়ে তো রাখতে পারবো না , সম্ভবও না, চাইও না তা করতে। কিন্তু বাস্তবতার মুখোমুখি করার আগে পরিষ্কারভাবে চিন্তা ভাবনা করার মত মনটা অন্তত গড়ে দিতে চাই। কিন্তু তার সহায়ক উপকরণই বা কোথায়? শিশুর শরীরের ওজন বাড়াতে, কি পরীক্ষার গ্রেড বাড়াতে শিক্ষিত বাবা মায়েদের যত উতলা হতে দেখি শিশুর মনস্তত্ব নিয়ে অতটাই উদাসীনতা কেন? যারা সচেতন তাদের কি একত্র হওয়া উচিত শিশুকে যেমন শিক্ষা দিতে চান তার উপযোগী উপদান তৈরিতে?


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

কিছুটা অফটপিক হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ............. রাশান বইগুলো পড়াতে পারেন। আমি বাচ্চাদের অনেক বই পড়ি। সত্যি বলতে কি বাংলাদেশের চেয়ে অন্যদেশের বাচ্চাদের বইগুলোই বেশি বাচ্চাময় লাগে। এই যেমন এটা!

- ইমতিয়াজ!

শিশিরকণা এর ছবি

আমি আসলে বাংলাতেই লেখা হয়েছে বাচ্চাদের জন্য এমন বই বা বই এর অভাব নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়ছিলাম। বাংলাতে বাচ্চাদের উপযোগী বই খুঁজতে হলে কেবলই রাশান অনুবাদ বা অন্য দেশীয় কাহিনীর অনুবাদে যেতে হয়। একদম দেশীয় আমেজে লেখা বইগুলোতে এমন অবস্থা কেন বলুন তো?

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

সত্যপীর এর ছবি

গল্পের আরেকটা বর্ণনায় পাচ্ছি, সব পিঠে খেয়ে ফেলার পর টোনা গু অথবা মাটি দিয়ে পিঠের বানিয়ে রেখে দিল, বাঘ এসে সেটা হালুম হুলুম করে খেয়ে নিয়ে পরে টের পেল সে ভারি বিস্বাদ আর ক্ষেপে তর্জন গর্জন করলো। টোনা টুনি ফুরুত করে পালিয়ে গেল। সেই একই শিক্ষা, ভেজাল দাও, ফাঁকি দাও ধরা না পরলেই তুমি বাহাদুর।

একটু ডেভিলস অ্যাডভোকেসি করি। আপনি যেভাবে বলছেন সেভাবে নেওয়া যায়, তবে সেইভাবে কোন শিশুই নেয়না বলে ধারণা করি। এই গল্প পড়ে একটি শিশুর সততার পথ থেকে সরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম, বরং এই গল্প পড়ে শিশুটির কল্পনাশক্তি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রবল।

জিনিসটাকে অন্যভাবেও দেখা যায়। সততার প্রসঙ্গ এভাবেও আনা যায় যে, একটি শিশুকে আমরা বলছি বাঘ আর টোনাটুনি কথা বলছে, টোনা আর বউ টুনি পিঠা বানাচ্ছে, এই সবই তো মিথ্যা। আপনি আমি ভালো করেই জানি এইগুলি কখনো ঘটেনি এবং ঘটবেও না, এবং এও জানি যে শিশুটি জানেনা যে বাঘেরা টোনার সাথে কথা বলতে পারেনা। অতএব সততার প্রসঙ্গে বলা যায় যে আমরা জেনেবুঝে মিথ্যে তথ্য দিচ্ছি বাচ্চাটিকে। আমাদের গল্পে বলা উচিৎ টোনা নামক পাখি একবার বাদার গহন জঙ্গলে বাঘের সামনে পড়ল, আর বাঘ হালুম করে তার ঘাড় মটকে তাকে সাবাড় করে দিল। সেই দেখে বাঘের বাচ্চা এসে দুর্বল গলায় কেঁউ কেঁউ করল, আর তারপর বাঘ তাকেও খেয়ে ফেলল। তারপর বাঘ ঝিরিতে পিশাব করল।

বাঘে স্ন্যাক হিসাবে পাখি খেতে পারে এইটা যেমন ঠিক, বাঘের পিশাবও একটি প্রমাণিত সত্য। কিন্তু এইটা একটি মানব শিশুকে বলার মত কোন গল্পই হয় নাই। দাদি আর নানির মুখে বাঘে গু খেয়ে হাউকাউ করার গল্প শুনে মাটিতে আছড়ে পড়ে হেসেছিল যেই বালক, তাকেই আমরা ভবিষ্যতে একদিন প্রতিভাধর একটি মানুষে পরিণত হতে দেখতে পারি। গল্প কবিতা উপন্যাসের মিথ্যে অংশটুকু ছাড়া সে সম্ভবত হবে নিতান্তই সাধারন একজন বোধবুদ্ধিহীন বালক। কল্পনার চারাকে ছায়া দেয়া জরুরি।

মেলা বকলাম এইবার থামি। আপনাকে ভুল বলছিনা, কিন্তু অ্যাঙ্গেলটা যেভাবে তুলে ধরেছেন আসল জিনিস এতো কড়া না বলে ধারণা করি। পরিশুদ্ধ ডিস্টিলিড ওয়াটার খাওয়ার অযোগ্য, সুপেয় পানির মধ্যে কিছু ময়লা থাকেই।

..................................................................
#Banshibir.

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার মতই আমার ধারণা। বাচ্চারা বোধহয় ওদের মতই চিন্তা করে, বড়দের মত করে না। The Giving Tree পড়েছেন? গুডরিডস এর রিভিউগুলো পড়ে দেখবেন। কত বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে যে গল্পটা দেখা হয়েছে। অথচ আমার মনেই হয়না একটা বাচ্চা ওভাবে দেখবে ব্যাপারটা।

- ইমতিয়াজ!

শিশিরকণা এর ছবি

বাচ্চাদেরকে এত হেলাফেলা করবেন না। ওদের মাথাতেও নানারকম প্রশ্ন নিশ্চয় এসেছে, কয়টার উত্তর মিলেছে আর কয়টা ধমক দিয়ে বা আব্জাব বুঝ দিয়ে চুপ করিয়ে দেয়া হয়েছে তার হিসাব কেউ রেখেছে? গুডরিডসে রিভিউ লিখতে পারেনা বলে কি ছোট মনগুলির ভিতরে চিন্তাভাবনা নেই? আমার তো মনে হয় বাচ্চা বয়সে আসা চিন্তাগুলোই বুড়ো বয়সে এসে রিভিউ তে প্রকাশিত হয়েছে।
আমরা বড়ো হয়ে বাচ্চা বয়সের মনটা ভুলে যাই কেন বলুন তো?

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

এক লহমা এর ছবি

"সুপেয় পানির মধ্যে কিছু ময়লা থাকেই।" "ময়লা" কথাটা একটু পাল্টে নেওয়া যাক। "অশুদ্ধি" বলি বরং। এবারে আরও একটু এগোই।
যে পানি "পরিশুদ্ধ ডিস্টিলিড" নয়, সে পানির মধ্যে অশুদ্ধি থাকবে। কিন্তু, অশুদ্ধি মাত্রেই ত আর অপেয় নয়। আবার, অনেক অশুদ্ধি অবশ্যই অপেয়। কাজটা হচ্ছে, অশুদ্ধির বাছাই। এই পোস্টের মূল সুরটা আমার কাছে এই অশুদ্ধির বাছাই নিয়েই মনে হয়েছে। শিশুদের জন্য লেখায় এই অশুদ্ধি বাছাই করে - যা জলকে পানের অযোগ্য করে, দূষিত করে তাকে যতটা সম্ভব বাদ দিতে পানিকে সুপেয় করে দিতে পারলে - সেটা ত ভালোই মনে হয়।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

অতিথি লেখক এর ছবি

সহমত

স্বয়ম

শিশিরকণা এর ছবি

ধন্যবাদ। আপনি মূল সুরটা ধরতে পেরেছেন। বাস্তবতা যদি পানি হয়, তবে গল্পের পশুপাখির কথা বলা হলো তাতে চিনি লেবুর মিশ্রণ। কিন্তু পানি বা শরবত যা-ই খান, তা সুপেয় হওয়া দরকার। অন্তত, কোনটা সুপেয় আর বাস্তবে যে পানি পাওয়া যায় তা থেকে কিভাবে পানি সুপেয় করে নিতে হবে, সেই শিক্ষাটা শিশুরা পাক।
এই উপমা ধরেই যদি বলি, তাহলে আজকাল আমরা বেশি পরিশুদ্ধ করতে গিয়ে একেবারে জীবানুমুক্ত এলকোহল পানীয় গিলিয়ে দিচ্ছি কি না সেটাও ভাবার আছে।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

শিশিরকণা এর ছবি

একদিক দিয়ে আপনি ঠিক। আমি যত বিশ্লেষন করছি, বাচ্চারা অত ভাবছে না। তারা আসলে সারাক্ষণই বুঝতে চেষ্টা করছে দুনিয়া কিভাবে চলে, কি করা যায় আর কি করা যায় না, কেন করা যায় না। এজন্যই আসলে দুশ্চিন্তা হচ্ছে, যে আমি কি বাচ্চাকে কি মেসেজ দিচ্ছি। আমরা বাচ্চাদের মনস্তত্ব খুব সোজা মনে করি, কিন্তু নিজের গেদাকে একদম ন্যাদা ন্যাদা বয়স থেকে লক্ষ্য করছি আর দেখছি, আমাদের প্রতিটা কথা কাজ, তার প্রতিটা অভিজ্ঞতা কিভাবে তার মানসিকতা আর ব্যক্তিত্ব তৈরি করছে। নিচে হিমু ভাই যেমন বলেছেন, একটা গল্পে দিয়ে বাচ্চার মানসিক গঠন পালটায় না। হাতে কলমে কি দেখছে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। হাতে কলমে শিক্ষা নাহয় দিলাম, কিন্তু বই এ যদি উলটা শিক্ষা থাকে, তবে যে আমার দেয়া শিখা প্রশ্নের মুখোমুখি হয় এই এক জ্বালা।

কল্পনাশক্তি গড়ে উঠার জন্য বাচ্চাকে ধান্দাবাজি শেখানোর কি দরকার আছে? পাখি বাঘ কথা বলছে। এটা তো আমারই কল্পনা করতে ভালো লাগে, মানুষ ছাড়া বাকি জীব জন্তুরা কিভাবে আলাপ সালাপ করছে। পিঠা বানানো এমনকি বাঘকে গুয়ের পিঠা খাইয়ে দেয়া পর্যন্তও যাওয়া যায়, হাসাহাসিও চলতে পারে, তারপরে বাঘের কাছে দুঃখপ্রকাশ করে আবার সবাই মিলে পিঠা বানিয়ে খাওয়া হলো এমনভাবে গল্প শেষ হলে কিন্তু মেসেজটা ভিন্ন হয়ে যায়। হাসিব ভাই কমেন্ট করেছেন যে, ইউরোপীয় রুপকথাগুলি সময়ের সাথে পুনঃলিখিত হয়েছে, আমাদের গুলোকেও এমন একটু করলে বেশ হয়।

আবার আপনি যেভাবে লিখেছেন, সেইভাবেও গল্প লিখলে কিন্তু মন্দ নয়। সত্য অনেক চটকদার হয় কল্পনার থেকে। অ্যাাটেনবরোর ডকুমেন্টারি দেখলেই মনে হবে কি চমৎকার গল্প চলছে। তাতে বাস্তবতাও জানা হবে। উপস্থাপনাটা কেমন সেটা গুরুত্বপূর্ণ।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

অতিথি লেখক এর ছবি

আমি ছোটবেলায়, আক্ষরিক অর্থেই ছোটবেলায় রূপকথার বই, শিশুপাঠ্যের সাথে গোগ্রাসে গিলতাম রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিম, শরৎ, বিভূতি, মাণিক, মুজতবা আলী, ওয়ালিউল্লাহ্ থেকে শংকর, সুনীল, সমরেশ, শীর্ষেন্দু পর্যন্ত। কিছু বুঝতাম কি না জানি না, পড়তাম সবকিছু। লোকে বলত আমার নাকি জীবনে পুরো বখে যাওয়ার সম্ভাবনা বেজায় প্রবল ছিল; সেই ধারণা ছিল না খালি আমার বাবার এবং আর সবার ধারণা সত্যি না হলেও বাবার ধারণাই ঠিক হয়েছে বলে এখনও আমার মনে হয়। খারাপের মধ্যে যা হয়েছিল সেই ছোটবেলায় একবার দুর্গা হতে চাইতাম তো একবার রোহিনী (কী কারণে কে জানে ভ্রমরের চেয়ে রোহিনী আর তিলোত্তমার চেয়ে আয়েশা আমার বেশি পছন্দ ছিল!)

রুপকথার গল্প বা বাচ্চাদের গল্পের মধ্যে এই ধরনের চালাকি, অন্যকে ফাঁকি দেবার প্রবণতার গল্পগুলো নিয়ে আমিও ভাবি কখনও সখনও। আবার নিজের ছোটবেলার ঘটনা মনে পড়লে এগুলো আর তেমন মনে হয় না কারণ এগুলোর থেকেও ভয়ঙ্কর গল্প শুনে শুনে বড় হয়েছি ছোটবেলায়। তবে ছোটবেলায় পড়া এই গল্পটা বলার স্টাইল ভালো লাগে খুব, এই গল্পে অহেতুক দোষারোপ আর শাস্তি কম আছে বলে মনে হয়। বাচ্চাগুলো উড়তে শেখার আগে মায়ের আচরণে চালাকির চাইতে উদ্বেগটাই চোখে পড়ে বেশি। এরকম মমতাময় গল্পগুলো বেশ।

দেবদ্যুতি

শিশিরকণা এর ছবি

যখন রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিম পড়ার মত বয়স হয়েছে তখন বাচ্চাদের ভালো মন্দ আলাদা করতে পারার মত যথেষ্ট অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু বাচ্চাদের এই বোধ সৃষ্টি হয় আসলে আরও ছোটবেলায়, ২-৩ বছর বয়সে, অথচ আমরা ধরে নেই তখন তারা কিছু বুঝেই না। আসলে তারা তখন সবকিছু বুঝবার চেষ্টা করছে। তখন তারা কি তথ্য, অভিজ্ঞতা পাচ্ছে, সেটা তার নৈতিকতা, ব্যক্তিত্ব তৈরিতে অনেক বড়ো ভূমিকা রাখে। আরও বড় হতে হতে এটাই ফাইন টিউনড হয়। আমি তাই যে গল্পগুলোর খুঁত ধরেতে বসেছি, সেগুলো একদম বাচ্চা বয়স, যখন ভালোমত পড়তেও শিখে নি, হয়ত বাবা মা পড়ে শোনাচ্ছে সেই বয়সের গল্প।

পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

হিমু এর ছবি

বাচ্চারা আসলে গল্প থেকে যতো না শেখে, তারচেয়ে বেশি শেখে পরিবারের সদস্যদের আচরণ দেখে। শুধু গল্প শুনিয়ে একটা বাচ্চাকে সমাজ বা জীবন সম্পর্কে শেখানো যায় না। ভালো ভালো গল্প শুনিয়ে তারপর যদি তার সামনে বলা হয়, বা হাতেকলমে করে দেখিয়ে দেওয়া হয় যে বেদ্বীনের সম্পত্তি মেরে খেলে কোনো সমস্যা নাই, তাহলে সে ওটাকেই স্বাভাবিক হিসাবে ধরে নিতে শিখবে।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

চলুক

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

শিশিরকণা এর ছবি

সহমত। আপনার মন্তব্যের উল্টোপিঠ হচ্ছে, আমি বাচ্চাকে হাতে কলমে , চর্চায় ভালো ভালো জিনিস শেখালাম, কিন্তু গল্পের চরিত্র যদি দুই নম্বুরি করে বাহবা পায়, তখন বাচ্চা আমাকে এসে জিজ্ঞেস করবে না, ওরা এরকম করছে কেন? এটা কি ভালো? উত্তর দিতে হলে আমাকে গল্পের সাথে লেজ জুড়ে ব্যখ্যা দিতে হবে, যে সেটা ভালো কাজ ছিলো না, এরপরে এর ফল ভোগ করেছে, বা পরে অন্যভাবে ক্ষতি পুষিয়ে দিয়ে মাফ চেয়েছে বা এরকম কিছু। এরকম গাড্ডায় পড়েছি বলেই এই লেখার অবতারণা অন্য অভিভাবকদের জন্য, চোখ বুজে এই গল্প পড়ে ফেলবেন না বাচ্চাদের সামনে, একটু ঘষামাজা দরকার আছে।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

হিমু এর ছবি

এটা মনে হয় মা-বাবার "অকুপেশনাল হ্যাজার্ড"-এর মধ্যেই পড়ে। গল্প পড়ে শোনানোর পর যদি বাচ্চারা কোনো প্রশ্ন না করে ঘুমিয়ে পড়ে, তাহলে বুঝতে হবে সে আগ্রহ পায়নি। যে গল্প বাচ্চাদের আগ্রহ জাগিয়ে তোলে, সেটা নিয়ে তারা নানা প্রশ্ন তো করবেই। অন দ্য ফ্লাই অনেক কিছু বানাতে হয় তখন।

আমরা আমাদের ভাগ্নিকে জুজুবুড়ির গল্প শুনিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করতাম, যাতে সে দুপুরে সবাই ঘুমিয়ে থাকলে একা একা কোনো কিছু করতে না যায়। কিছুদিন পর দেখা গেলো সে জুজুবুড়ো নামে আরেকটা ক্যারেক্টার নিজেই বানিয়ে ফেলেছে। সেটা নাকি জুজুবুড়িকে নিউট্রালাইজ করে রাখে, যাতে সে আর ভাগ্নিকে ভয় দেখাতে না পারে।

বাচ্চাদের প্রশ্নের ভয়ে গল্প বাছতে গেলে লাইব্রেরি উজাড় হয়ে যাবে।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

বাহ, ভাগ্নীকে উত্তম জাঝা! বড় হয়ে লেখালেখি শুরু করেছে কি?

বাচ্চাদের প্রশ্নের ভয়ে গল্প বাছতে গেলে লাইব্রেরি উজাড় হয়ে যাবে।

চলুক

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

শিশিরকণা এর ছবি

বাচ্চাদের বেছে বেছে বই পড়তে দিতে নেই। তাইলে তো সবই আউট বই হয়ে যাবে। বাংলা শিশু সাহিত্য যা ছে বেশিরভাগই একটা বাচ্চা নিজে পড়তে শেখার বয়সে আসার পর পড়বার উপযোগী। ততদিনে তাদের একটা ব্যক্তিত্ব নিজস্ব চিন্তাভাবনা আরও নানা পারিপার্শ্বিক উপাদান থেকে তৈরি হয়ে যায়। এই পারিপার্শ্বিক উপাদানগুলোর দিকে আমরা খুব একটা খেয়ালী না, যেটা আসলে আরও কম বয়সে ভূমিকা রাখছে। এর মদ্যে রূপকথার গল্পগুলি একটা উপাদান মাত্র।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

মন মাঝি এর ছবি

যা সবচেয়ে জরুরী, তা হলো বাচ্চাদের বাচ্চা বয়স থেকেই empathy শেখানো, আর এর উলটো শিক্ষা দেয় এমন ধরণের ইনপুট থেকে তাদের রক্ষা করা।

****************************************

শিশিরকণা এর ছবি

বাচ্চাকে যেকোন কিছু শেখানোর জন্য প্রথম দরকার তার মাথায় কি চিন্তা চলছে সেটা ধরতে পারা, এবং সেইভাবে পারিপার্শ্বিকতা সেট-আপ করা যেন সে পরের স্টেপটা আপনি যেরকম চাচ্ছেন সেদিকেই নেয় স্বাভাবিকভাবেই। বাচ্চার উপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দিয়ে "এটা কোর না, ওটা করতেই হবে" কিছু শিখানো প্রায় অসম্ভব চেষ্টা (অন্তত আমার বেলায়)। তারা যুক্তি বুঝে তাদের লেভেলে, এবং সেভাবে ব্যখ্যা করলে তাদেরকে লাইনমত চালানো সম্ভব। কিন্তু এক্ষেত্রে বাপ মাকে বাচ্চার থেকে দুই স্টেপ আগায় থাকতে হবে।
বই নিয়ে ঘ্যান ঘ্যান করছি এইজন্যই, বাচ্চা যখন এই গল্প পড়বে, তখন উত্তর রেডি রাখা, বা আগেই বই এর গল্পের শেষে লেজ জুড়ে রাখা, যাতে প্রশ্নটাই না আসে।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

রংতুলি এর ছবি

খুব শখ করে ছেলে-কে বাংলা শিখালাম। গাদা গাদা বইও আনছিলাম দেশ থেকে। কিছু কমিক নন্টে ফন্টে, হাঁদা-ভোঁদা ছাড়া বাংলা বইয়ের প্রতি ওর তেমন আগ্রহ জন্মালো না বা আগ্রহ ধরে রাখা গেল না দেখে কষ্ট হয়। তবে পড়ার মতো বই নেই বলে বাংলা ওদের কাছে বাতিল হয়ে যাবে এটা মেনে নিতে পারি না, অন্তত বাংলা বর্ণমালা চিনুক, পড়তে ও লিখতে শিখুক। পড়ার অভ্যাস থাকলে নিজের পছন্দমাফিক উপাদান একসময় নিজেই খুঁজে নিবে। শিশুদের সেলফ ইম্যুউনিটি’র উপর আস্থা রাখা প্রয়োজন। কাদামাটিতে ছেড়ে দিলে হাগুমুতু ফিল্টার করে নিরেট আনন্দটাই ওরা নিতে শিখবে।

একদম ছোট বাচ্চাদের মুখে মুখে বলার মতো বা পড়ে শুনানোর জন্য কাক কলসি, বাঘ ও ইঁদুর, বটগাছ, লেজ কাটা শেয়াল এইটাইপ গল্পগুলো বোধয় মোরালিটির দিক দিয়ে অতটা খারাপ না। বা নিজেও বানিয়ে বানিয়ে এরকম গল্প বাচ্চাদের বলা যায়। শিশুরা বাবা-মা, নানু-দাদুদের ছোটবেলার গল্পগুলোও কিন্তু বেশ আগ্রহের সাথে উপভোগ করে।

শিশিরকণা এর ছবি

আপনার ছেলে কি বাংলা পড়তে পারে? বাহ! চমৎকার তো!
বাংলাতে একদম ছোট বাচ্চাদের পড়ে শোনানোর জন্য আরও চমৎকার ছবির বই দরকার। যেগুলো আছে, হয় বিদেশী অনুবাদ নয়তো খুবই সাধারণ মানের।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

অতিথি লেখক এর ছবি

কিছু ব্যাপারে দ্বিমত থাকলেও আপনার লেখাটা ভালো লেগেছে।

ফাহমিদুল হান্নান রূপক

শিশিরকণা এর ছবি

পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

নীড় সন্ধানী এর ছবি

বাচ্চাদের জন্য বইপত্র তবু যাও খুঁজে কিনে পাওয়া যায় কিন্তু টিভি প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে সেটা হবার নয়। টিভিতে যা গেলাবে তাই গেলে শিশু। এই যুগের বাচ্চা মানে বাসাবাড়িতে খোয়াড়বন্দী এক প্রাণী তার সামনে প্রধান বিনোদন টেলিভিশনের কার্টুন ছবি। এই দৃশ্য ঘরে ঘরে। কোন কোন বাচ্চার হাতে মোবাইল বা ট্যাব তাতেও সেই কার্টুন বা গেম। মোদ্দাকথা বিনোদনের প্রধান ক্ষেত্রটি ভিজ্যুয়াল এবং সেই ভিজ্যুয়াল প্রোগ্রামগুলোতে বাচ্চা উপযোগী কোন অনুষ্ঠানই নাই। বিটিভি যুগে তাও কিছুমিছু ছিল, এখন অধিকাংশ বাচ্চা কার্টুন বা বড়দের অখাদ্য অরুচিকর অনুষ্ঠান দেখেই বড় হচ্ছে। হয়ে উঠছে ইচড়ে পাকা কিছু কিছু ক্ষেত্রে চরম বখাটেপনাও। সত্যি বলতে কি আজকাল অনেক বাচ্চার আচরণ আমার কাছে বাচ্চাসুলভ মনে হয় না। তার কারণ ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার অপ প্রভাব। বইপত্রের চেয়ে টেলিভিশনের দুরাবস্থার কারণে বাচ্চাদের মননশীলতা নষ্ট হচ্ছে বেশী। তাই যুগোপযোগী বইয়ের কিছু অভাব থাকলেও দেশীয় শিশুসাহিত্যের অভাবকে আমি খুব বেশী সমস্যাসংকুল মনে করি না। আসল সমস্যা বিনোদনঘটিত। ভিজ্যুয়াল মিডিয়া যদি কিছুটা সময় বাচ্চাদের জন্য না রাখে, শিশুদের মননশীলতা সুপথে যাবার কোন সম্ভাবনা নাই। বিজ্ঞাপনের প্রতি অতিরিক্ত লোভ কমিয়ে এদিকে মনোযোগ দেবার মতো সুস্থ মিডিয়া মালিক এদেশে কজন আছে তাতে ঘোর সন্দেহ আছে। সেক্ষেত্রে কি সরকারকেই আইন করে বলতে হবে, ওই মিয়া তোমরা সপ্তাহে তিনটে করে বাচ্চাদের অনুষ্ঠান না বানালে লাইসেন্স বাতিল হবে?

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

অতিথি লেখক এর ছবি

সত্য, সরকারের পক্ষ থেকে এই হুমকিটার দরকার আছে মনে হয়।

স্বয়ম

শিশিরকণা এর ছবি

সত্য কথা, বই পত্র তাও কিছু পাওয়া যায় বলে সমালোচনা করতে পারলাম। টিভিতে তো কিছুই নেই যে বলবো। আর আমার দৃষ্টিতে বাচ্চাদের জন্য প্রোগ্রাম না বানানোটাই মিডিয়া মালিকদের বোকামি লাগে। টক শো আর নিউজ এর স্যাচুরেটেড বাজারে কামড়াকামড়ি করছে, অথচ বাচ্চাদের অনুষ্ঠানের ময়দান পুরো ফাঁকা , সেখানে গোল দিতে কেউ আগ্রহী না। বাবা মা রা তো বাচ্চাদের জন্যই খেটে মরে, পয়সা খরচ করে, ভালো জিনিস বানালে তারা কি কিনবে না? ডিজনি, ডঃসিউস, বা কিউরিয়াস জর্জের মার্চেন্ডাইজিং বাজার কত বড় কারও হুশ আছে? কেউ গুছিয়ে নামলে লালে লাল হয়ে যাবে।
বিটিভির আমলে তাও বাইরের প্রোগ্রাম বাংলায় ডাব করে টরে দেখাতো। সেটাও তো কোন চ্যানেল করে না। "এসো গান শিখি", মুস্তফা মনোয়ারের পাপেট আর ছবি আকা শেখার অনুষ্ঠান এরকম কো অনুষ্ঠান কি এখন হয়? বুড়ো বাচ্চা সবাই দেখত এই অনুষ্ঠানগুলি।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

কি জানি! পিচ্চিদের "পণ্য" ব্রান্ডিং করার একটা ভাল প্ল্যাটফর্ম হবার কথা বাচ্চাদের অনুষ্ঠান। নাকি, স্পন্সরেরাই আগ্রহী না? ইয়ে, মানে...

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

শিশিরকণা এর ছবি

প্রচুর বিজ্ঞাপন দেখি বাচ্চাদের চকলেট, চিপ্স, নুডলস এসবের। আর বাচ্চাদের অনুষ্ঠান বাবা মায়েরা দেখে না কে বললো? জুতো, টিফিন বক্স এসবের বিজ্ঞাপন তো এর মধ্যেও দেয়া যায়। কেউ ব্যাবসা করতে চাইলে আকর্ষনীয় চরিত্র তৈরি করে, তার গল্প দিয়ে কার্টুন অনুষ্ঠান বানায় তার ছবি ছাপা জিনিস বেচেই তো বড়লুক হয়ে যেতে পারে।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

কেউ ব্যাবসা করতে চাইলে আকর্ষনীয় চরিত্র তৈরি করে, তার গল্প দিয়ে কার্টুন অনুষ্ঠান বানায় তার ছবি ছাপা জিনিস বেচেই তো বড়লুক হয়ে যেতে পারে।

হ, ঠিক হেইডাই কইচ্চি। (বোঝাতে পারিনি বোধহয়)
[কিন্তু, বাস্তবে এটা হতে দেখি না। উদ্যোক্তার অভাব?]

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

শিশিরকণা এর ছবি

সব হুজুগে চলে। একজন যদি শুরু করে টেকাটুকা করতে পারে, পালে পালে এই লাইনে এসে ভিড়বে। স্বকীয় চিন্তাভাবনার অভাব বলেই মনে হয়।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

হুমমমমম................ আইবিএ জাতীয় প্রতিষ্ঠানের কোনও আধ-পাগলা ছাত্রকে এই মন্তব্যগুলো পড়ানো যায় না? চাল্লু

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

শিশিরকণা এর ছবি

কেনে? আপনে নিজে টেকাটুকা কামাইতে চান না?

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

অতিথি লেখক এর ছবি

ভালো লাগল লেখাটা। বাচ্চাদের বড় হবার পেছনে পরিবেশ ও পরিকাঠামোর একটা বিরাট ভূমিকা আছে সেখানে বই একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বৈ কি। তবে অন্য ভাষার বই ও চলতে পারে সেখানে অবাধে।
-------------------------------------
ইচ্ছে মত লিখি
http://icchemotolikhi.blogspot.in/

শিশিরকণা এর ছবি

এটাই দুঃখ যে, অন্য ভাষার বই এর উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। নিজেরদের সাহিত্য এত সমৃদ্ধশালী কিন্তু শিশু সাহিত্য ভান্ডারের দৈন্যতা দুঃখ দেয়।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

এক লহমা এর ছবি

ভাববার মত। চলুক

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

শিশিরকণা এর ছবি

ধন্যবাদ।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

বিশ্লেষণ ভালো লেগেছে। এখানে দ্বিমত থাকতেই পারে। তবে এমন আলোচনাটা দরকারী। যাদের হাতে ক্ষমতা আছে তারা শিশু কেন, কাউকে নিয়ে ভাবিত না।

আমি যত দূর খেয়াল করেছি, এখন বাচ্চারা ৪/৫ বছরের মধ্যে রূপকথার জগত থেকে বের হয়ে আসতে শুরু করে। বড় জোর ৮/১০ বছর, এর মধ্যে এরা সব ধরণের মায়ার জগতের বাইরে চলে যায়। পরিপার্শ্ব থেকে আর যাবতীয় প্রকার বোকাবাক্স থেকে এরা নিজেদের ঠিক-ভুল, সত্য-মিথ্যা, বিশ্বাস-অবিশ্বাস, শ্রদ্ধা-অশ্রদ্ধা, ভালোবাসা-ঘৃণা ঠিক করে ফেলে।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

শিশিরকণা এর ছবি

"পরিপার্শ্ব থেকে আর যাবতীয় প্রকার বোকাবাক্স থেকে এরা নিজেদের ঠিক-ভুল, সত্য-মিথ্যা, বিশ্বাস-অবিশ্বাস, শ্রদ্ধা-অশ্রদ্ধা, ভালোবাসা-ঘৃণা ঠিক করে ফেলে"

কি করবে বেচারারা? আমরা কি ওদের মায়ায় বেধে রাখার মত কিছু দিতে পারছি? না দেবার চেষ্টা করছি? আবার চিন্তা করি, যে দিন কাল এসেছে, মায়ার জগতে থাকলে পরে কি পোষাবে ওদের? না আগে ভাগেই বাস্তবতা বুঝতে শেখা উচিত? দু'টোর ব্যলান্স কোথায় খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

অতিথি লেখক এর ছবি

দরকারি আলোচনা। মূলত শিশুদের বিশেষত শহুরে শিশুদের বিনোদনের ঘাটতি ভয়াবাহ মাত্রায় গিয়ে ঠেকেছে। টিভি অনুষ্ঠানতো শূণ্যের কোটায়। খোলা মাঠে খেলাধুলা এখন ঠাকুরমার ঝুলির গল্প। বই পড়াটাও নেই বললে চলে। এটা নিয়ে ভাববার আছে গুরুতরভাবে।

জরুরি আলোচনা তুলবার জন্য ধন্যবাদ।

স্বয়ম

শিশিরকণা এর ছবি

হ্যা। বাচ্চাদের সুন্দর মন বিকাশের জন্য আমাদের উপকরণের অভাব রয়েছে। বাবা মায়েরাও সময় দিতে পারে না ব্যস্ত জীবনে। বাচ্চারা নিজেরা নিজেরা কুৎসিত বাস্তবতা দেখে বড়ো হচ্ছে।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

হাসিব এর ছবি

গল্পের এই ছাঁচটা আমাদের উপমহাদেশের বৈশিষ্ট্য কি না জানি না যেখানে অপরকে ধোঁকা দেয়া, ঘোল খাওয়ানোর মাঝে আনন্দ খুঁজে নেওয়া হয়।

কোন গল্প শিশুদের উপযোগি এই সিদ্ধান্ত সময়ের সাথে পাল্টায়। ইউরোপিয় রূপকথাগুলোর কতোগুলো এখনকার সময় বিবেচনায় বিভৎস। সেগুলো যুগোপযোগি করে পুনর্লিখন হয়েছে। আমরাও মূল ঠাকুরমার ঝুলি পড়ি না। সংশোধিত ও পরিবর্তিত একটা ভার্সন পড়ি। সমস‍্যা হলো এই সংশোধন ও পরিমার্জনের কাজটা থেমে গেছে বহু আগেই।

শিশিরকণা এর ছবি

"কোন গল্প শিশুদের উপযোগি এই সিদ্ধান্ত সময়ের সাথে পাল্টায়। ইউরোপিয় রূপকথাগুলোর কতোগুলো এখনকার সময় বিবেচনায় বিভৎস।"

আমার মনে হয় সংশোধন আর পরিমার্জনের এই কাজটা কিছু অভিভাবকের নিজ হাতে তুলে নেয়া উচিত।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

সংশোধন আর পরিমার্জনের এই কাজটা কিছু অভিভাবকের নিজ হাতে তুলে নেয়া উচিত।

চলুক হ, একমত।

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

শিশিরকণা এর ছবি

নিজের ঘাড়ে তুললাম। কিন্তু অন্য বাপ মায়ের কাছে পৌছুবার উপায় কি? অন্য বাপ মা-রা আগ্রহী কি না তাই বা কিভাবে বুঝবো?

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

হরাইজন্টাল চিন্তা কইরা লাভ নাই, ভার্টিক্যাল চিন্তা করেন। নিজে যেই পিচ্চিগুলারে লাইনে আনবেন, বড় হয়ে তারাও (অন্য বাপ মা হিসেবে) তাদের পিচ্চিদের লাইনে আনবে এইটা ছাড়া "আশা করার মত" আশা দেখি না, সমাজ বদলের দিল্লি বহুদূর।

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

শিশিরকণা এর ছবি

ভার্টিক্যালি আর কতদিন যাবে? কোপ মোপ খায়া হরাইজন্টালের পায়ের নিচে চলে যাবে। ডায়াগোনালি যেতে পারলে যদি কিছু হয়।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

গগন শিরীষ  এর ছবি

তোমার কথায় যুক্তি আছে।নিজেকে প্রশ্ন করলাম ছোট বেলায় আমি যখন গল্পগুলো শুনেছি, আমার কেমন লেগেছিল।আমার ধারনা আমাকে যারা গল্প শুনিয়েছিল তারা আমাকে এটাও বুঝিয়েছিল যে গল্প জিনিসটা আসলেই 'গল্প'।এখানে শিয়াল পন্ডিতি করবে,ঘোড়া আকাশে উড়বে।চারপাশে সব সময় যা হয় তার বাইরের কিছু 'গল্পে' হয়।সম্ভবত সেকারনে গল্পে ভাল মন্দ খুঁজিনি।শিক্ষামূলক গল্পের আশেপাশেও কখনো যাইনি!

শিশিরকণা এর ছবি

গল্পগুলাতে অযথা ভায়োলেন্স আছে। আমরা সবাই সেটা স্বাভাবিক ভাবে নিচ্ছি সমস্যা দেখছি না। এটাই কি প্রবলেম স্টেটমেন্ট না? চোর ধরা পড়লে মাইর দেঅ, শূলে চড়াও, এটাই স্বাভাবিক ভাবছি, কারও চোরের জন্য খারাপ লাগলে সেটা হয় গল্প। গল্পই যে সময়ে বাস্তব হয়ে যায় আমাদের আচরণের আর চর্চার মাধ্যমে। অথচ একজন মানুষ আরেকজন মানুষ বা প্রাণিকে বিনা কারণে আঘাত করতে দুঃখ পাবে সেটাই স্বাভাবিক হওয়া উচিত ছিল।
বাচ্চারা শিক্ষামূলক গল্প কোনকালেই পাত্তা দেয় না। গল্পের চরিত্রের কি হলো সেটাই মনে রাখে কেবল।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

সো এর ছবি

লেখার কিছু জিনিসের সঙ্গে একমত না হলেও, মন্তব্যে যে গুরুত্বপূর্ণ কথাটা উঠে এসেছে তার সাথে একমত - বাংলা গল্পগুলোর নতুন সংস্করনে পরিমার্জন দরকার।
যে বিষয়গুলোয় একমত না সেগুলোতে আসি। শুধু দেশীয় না, বিদেশি সাহিত্যেও খুব সহজে বেচা যায় এমন দুটো বস্তু হলো ভায়োলেন্স এবং সেক্স (এখনকার নামকরা বিদেশী সিরিয়ালগুলো একটু ভালো করে দেখলেই দুটোর একটাকে কেন্দ্র করে গল্পগুলো ঘুরবে। শিশুসাহিত্যে যেহেতু দ্বিতীয়টা ব্যবহার করা যায় না, তাই প্রথমটার ব্যবহার হয়েছে যথেচ্ছ, এবং লাগামহীনভাবে। আপনি যদি গ্রিমস ফেয়ারী টেলস এর প্রথম সংস্করণ পড়েন (যেখান থেকে কয়েকশ ধাপ ফিল্টারিং এর পরে ডিজনী গল্পগুলো এসেছে), দেখবেন যে সে তুলনায় ঠাকুমার ঝুলি অনেক ধাপ এগিয়ে আছে।
টোনাটুনির পিঠা খাওয়ার গল্প, বা শেয়ালের কুমিরকে ঠকানোর গল্প, এগুলো আলাদাভাবে পড়লে যদিও মনে হয় এখানে মানুষ ঠকানোর ব্যাপারটাকে উত্সাহ দেয়া হচ্ছে, কিন্তু অনেকগুলো গল্প পাশাপাশি পড়লে দেখা যাবে যে বাঘ, রাজা, কিংবা কুমির মোটামুটি সবগুলো গল্পেই একজন ক্ষমতাধর ভিলেন - আজকে এর মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে যাচ্ছে, কালকে ওর মুন্ডু কাটছে, তাই গল্পগুলোর বটম লাইন মোটামুটি একটাই - শঠে শাঠ্যম সমাচরেত। খুব ভালো শিক্ষা নয়, কিন্তু গল্পগুলো যখন লেখা হয়েছিল, তখন শিক্ষার তুলনায় 'এন্টারটেইনমেন্ট ভ্যালু'টাই সম্ভবত মুখ্য ছিল।
তবে একটা দরকারী জিনিস বাদ গ্যাছে। ঠাকুমার ঝুলির গল্পগুলো প্রবলভাবে পুরুষতান্ত্রিক। চোখ অন্ধ করে দেয়া, শুলে চড়ানো, সব কিছুই কিন্তু হত দুয়োরানির ওপর, অথবা হিংসুটে সৎ মায়েদের। ভালোমানুষ রাজা যে ভুল করে রানীদের চাকরানী বা ঘুটেকুরানী দাসী বানিয়ে রাখত, শেষে তার 'ভুল' বুঝতে পেরেই পার পেয়ে যেত সবসময়। নতুন সংস্করণ করতে গেলে এগুলো ঠিক করা জরুরী বটে। কাহিনীতে খুব বেশি না বদল এনেও এসব বদলে দেওয়া যায়।

এক লহমা এর ছবি

মন্তব্যে উত্তম জাঝা!

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

রানা মেহের এর ছবি

খুব গুরুত্বপূর্ন লেখা।
বাচ্চাদের মনস্তত্ত্ব একটা জটিল ব্যাপার। কোথায় যে কোন জিনিস কীভাবে লেগে যায়।

বিস্ময় যেমন বইয়ে হোক টিভিতে হোক ভায়োলেন্স একদম পছন্দ করেনা, ভয় পায় রীতিমতো। আমার কিন্তু ছোটবেলা থেকেই ভায়োলেন্সে সমস্যা নেই। মানে পড়তে পছন্দ করিনা, কিন্তু ভয়ও পাইনা।

আমার বড় বোন বাংলার ছাত্রী ছিলেন। তাই বাসাময় ছিল মোটা মোটা জ্ঞানী গুণী বই। এগুলোর ভীড়ে রুপকথা, সুকুমার পড়েছি বড় হয়ে। রুপকথা ক্লাস এইট-নাইনে, সুকুমার বিশ্ববিদ্যালয় লেভলে। তাই বাচ্চাদের ওপর রুপকথার প্রভাব কেমন পড়তে পারে সেই ব্যাপারে একদমই কাঁচা।

আপনি কিছু ব সংশোধন শুরু করলে আমাকে একটু দেবেন প্লিজ।

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA