গরুটারই চরিত্র ভালো নয়

হিমু এর ছবি
লিখেছেন হিমু (তারিখ: বিষ্যুদ, ১১/০৭/২০১৩ - ৫:৪৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:


সবাই আগেই টের পেয়েছিলো, গরুর শ্লীলতাহানির সালিশে বেদম মজা হবে। তাই বিকেলের দিকে এলাকার লোক সরোয়ার মেম্বারের বাড়ির প্রশস্ত উঠানে এক মহোৎসব বসিয়ে দিলো।

সরোয়ার মেম্বার স্থানীয় মুরুব্বিদের নিয়ে বসার সময়ই ফিসফাস চলছিলো রবাহূতদের মাঝে। গ্যালো ইউপি নির্বাচনে সরোয়ার মেম্বারের কানের পাশ দিয়ে গুলি গিয়েছিলো, সতেরো ভোটে হেরেছিলো মাঝাপাড়ার কালাম মেম্বার, সে তার স্যাঙাৎ শফিককে নিয়ে সালিশে মুরুব্বি হিসেবে উপস্থিত। খেলা না জমেই যায় না।

সরোয়ার মেম্বার কেবল প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টার তালেব মাস্টার আর গ্রামের মসজিদের ইমাম মৌলবি সদরুদ্দিকে শুধিয়ে ফট করে রায় দিয়ে বসলো, ধর্ষিতা গরুটিকে কিনে নিতে হবে কিশোর মশিউরের বাপকে।

আর তখনই জমে উঠলো খেল।

মুরুব্বি কালাম সরোয়ার মেম্বারের বাড়ির ফিনফিনে সাদা কাপে পরিবেশিত চায়ে গগনবিদারী চুমুক দিয়ে গলা খাঁকরে বললো, কেন?

এই একটি প্রশ্নের পর গোটা সালিশ চুপ। শুধু একটু দূরে একটা লিচু গাছে এক বেয়াদপ কাঠঠোকরার সশব্দ অধ্যবসায় প্রথমবারের মতো সকলের মরমে পশলো।

সরোয়ার মেম্বার ঘাস খেয়ে মেম্বার হয়নি। সে পায়ের ওপর পা তুলে গম্ভীর গলায় বললো, সেইটাই দস্তুর। কোনো মেয়েছেলের উপর এই বলাৎকার ঘটে থাকলে আমরা বলতাম, দুইজনের বিবাহ দিয়ে দাও। সংসার করুক। এই লাফাঙ্গা মশিউর গিয়ে বলাৎকার করলো জাবেদ আলীর অবোলা গরুটাকে। এখন গরু তাকে কিনে নিতে হবে।

এবার সাদা কাপে বাজখাঁই চুমুকের পর শোনা গেলো কালামবন্ধু শফিকের মিহি গলার আওয়াজ, কেন?

সরোয়ার মেম্বার এবার তাকায় তালেব মাস্টারের দিকে। তালেব মাস্টার তাকায় মৌলবি সদরুদ্দির দিকে। মৌলবি সদরুদ্দি আড়চোখে হাতের ঘড়ি আর উঠানে গাছের ছায়া দেখেন। মাগরিবের ওয়াক্ত হতে দেরি আছে।

সরোয়ার বলে, আবার কেন বলেন কেন শফিক ভাই? মশিউর জাবেদ আলীর গরুর ইজ্জত লুটছে। এখন এই বেইজ্জত গরু নিয়া জাবেদ আলী কই যাবে?

জাবেদ আলী ফুঁপিয়ে ওঠে, আমার কাজলী গাইটারে হারামজাদা মশিউর দিনে দুপ্রে খোলা আসমানের নিচে একটা ঘন্টা ধরে ... ।

আর বলতে পারে না জাবেদ আলী, তার গলা ধরে আসে। জাবেদের প্রতিবেশিনী আসমা চেঁচিয়ে ওঠে, আমরা সবাই দেখেছি, হারামজাদা মশিউর কাজলী গাইটাকে একেবারে সর্বনাশ করে ছেড়ে দিছে। আরো সর্বনাশ করতো, কিন্তু আমরা দূর থেকে চিক্কুর দিয়ে বললাম, ওরে হারামজাদা তুই শুধু ঐখানে দাঁড়া তোর বিচি যদি হাঁসুয়া দিয়ে না ফেলছি ...।

সরোয়ার মেম্বার হাত তোলে, বুবু থামেন।

আসমা চুপ করে যায়। কাঠঠোকরাটাও থেমে যায় হঠাৎ। উঠানের মানুষ মৃদু গুঞ্জন করে ওঠে, না, সরোয়ার মেম্বার একটা মরদ বটে।

কালাম মেম্বার দীর্ঘদিন ধরে মেম্বারির দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত থাকলেও সে লোকটা তো কালাম মেম্বারই, মেম্বারি তার রগে মজ্জায়। সে আরেকটি রসঘন চুমুক দেয় চায়ের কাপে, একটা কাঠবিড়ালি শিউরে উঠে তরতরিয়ে পালিয়ে যায় পেছনের কাঁঠাল গাছের উচ্চতর ডালে।

কালাম মেম্বার বলে, এক ঘণ্টা ধরে?

জাবেদ আলী ফোঁস করে ওঠে, হাঁ! কত্তবড় শুয়ার হলে একটা অবোলা জীবের ওপর একটা ঘণ্টা ধরে ...।

আবারও তার গলা ধরে আসে।

শফিক সপ্রশংস দৃষ্টিতে দূরে উঠানের মেঝেতে বসে থাকা মশিউরকে দেখে। কালাম মেম্বার বলে, এ তো পরিষ্কার মিছা কথা মেম্বার সাহেব। এক ঘণ্টা ধরে একা একটা বাচ্চা ছেলে এই কাম কীভাবে করবে?

সালিশের দর্শকদের মাঝে জোর গুঞ্জন ওঠে। তাই তো?

কালাম মেম্বার মৃদু হেসে বলে, এইখানে এক ঘণ্টা ধরে এই কাজ করার মতো কেউ আছেন? থাকলে হাত তোলেন।

মশিউরের পাশে বসে থাকা মশিউরের পিতা আলতাব খপ করে মশিউরের সরণোন্মুখ কব্জি চেপে ধরে। বাকি সবাই উসখুশ করে নড়েচড়ে বসে বা দাঁড়ায়।

সরোয়ার মেম্বার নিজের ঘরের কাপের চায়ে ভুরু কুঁচকে চুমুক দেয়। বলে, আপনি কী বলতে চান কালাম ভাই?

কালাম মেম্বার কাপের চা শেষ করে কাপ নামিয়ে রেখে গামছা দিয়ে ঠোঁট মোছে। তারপর হাসিমুখে বলে, এক ঘণ্টার কথা বাদই দিলাম। তিরিশ মিনিট কে কে পারবেন? হাত তোলেন।

মশিউর গর্বিত চোখে উপস্থিত ভিড়কে যাচাই করে। প্রৌঢ়রা মাথা নাড়ে, জাবেদ আলীর দাবিতে সত্যতার গন্ধটা একটু একটু করে ফিকে হয়ে আসে।

তালেব মাস্টার গলা খাঁকরে বলেন, কিন্তু একটা শ্লীলতাহানি হয়েছে, এটা তো সত্য, নাকি? সাক্ষীর তো অভাব নাই।

কালাম মেম্বার মধুর হাসে। বলে, জাবেদ আলী জানলো কীভাবে, যে মশিউর তার আদরের কাজলী গাইকে এক ঘণ্টাব্যাপী শ্লীলতাহানি করেছে?

জাবেদ আলী গর্জে ওঠে, এই মশিউর হারামজাদারে যখন আমরা দৌড়ানি দিয়ে ধরলাম, তখন তো সে নিজেই স্বীকার করছে সব! আর ... আর ... এই যে আসমাবু দেখছে, সালেহাবু দেখছে, ঐ যে মনসুরের মেয়ে পপি সেও দেখছে নিজের চোখে, যে এই অমানুষ মশিউর কাজলীর উপর কী করে গিয়ে চড়াও হইছে!

কালাম মেম্বার হাসে। শফিকও হাসে।

সরোয়ার মেম্বার গম্ভীর গলায় বলে, হাসেন কেন কালাম ভাই?

এবার কালাম মেম্বার থেমে যায়। উঠানে সম্মিলিত শ্বাসের শব্দ হুট করে মিলিয়ে যায়। কাঠঠোকরাটা অনিশ্চিত কয়েকটা ঠোকর দেয় লিচু গাছের কাণ্ডে।

প্রতিটি শব্দ চিবিয়ে চিবিয়ে কালাম মেম্বার বলে, একটা ঘণ্টা ধরে যদি এই নামরদ দুধের কিশোর মশিউর জাবেদ আলীর কাজলী গাইয়ের সঙ্গে কিছু করেই থাকবে, তো কাজলী গাই কেন আপত্তি করলো না?

সবাই পার্শ্ববর্তীর মুখ দেখে। তাই তো?

কালাম মেম্বার বলে, কেন কাজলী গাই দুইটা হাম্বা হাম্বা বলে আশেপাশের গরুবাছুর বা মানুষকে জানান দিলো না, যে মশিউর তার শ্লীলতাহানি করতেছে?

তালেব মাস্টার অস্বস্তিভরে জাবেদ আলীর মুখ দেখেন। মৌলবি সদরুদ্দি আবারও আড়চোখে গাছের ছায়া আর হাতের ঘড়ি দেখে নেন।

শফিক বলে, একটা ঘণ্টা ধরে এই ঘটনা কাজলী গাই ঘটতে দিলো কেন? সে তো অন্য সময় হাম্বা হাম্বা ডাকে, এই একটা ঘণ্টা সে কেন চুপচাপ ছিলো? সে কি নিজের ইচ্ছায় অবোলা ছিলো তবে?

কালাম মেম্বার চাপা গর্জন করে বলে, জাবেদ আলী তোমার গাইটার চরিত্র ভালো না। এই কথা আর দশজনের সামনে এসে বলতে হবে, আমি কখনও কল্পনা করি নাই। কিন্তু সত্য কথা এইটাই। তুমি তোমার গাইরে সঠিক সহীহ তরিকায় বড় করতে পারো নাই।

মশিউর আর আলতাবের মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

জাবেদ আলী চেঁচিয়ে ওঠে, তার মানে কী? আমার কাজলীর কী দোষ? সে ছিলো মাঠে বান্ধা, তারে ঘাস খাওয়ানোর জন্য আসমাবু নিয়া গেলো, তারপর আসমাবু বাড়ি ফিরলো দুইটা দানাপানি মুখে দেওয়ার জন্য। তারপর আবার মাঠে ফিরা গিয়া দেখে এই হারামজাদা মশিউর লুঙ্গি তুলে কাজলীরে ...।

আবার অশ্রুরুদ্ধ কণ্ঠে থেমে যায় জাবেদ আলী।

কালাম মেম্বার হিংস্র হাসে, আড়চোখে সরোয়ার মেম্বারকে মাপে সে। বলে, আসমা যে বাড়ি ফিরা গেলো, দানাপানি মুখে দিলো, কাজলীর কাছ থেকে কোনো কমপেলেন কি সে এই সময়ের মধ্যে পাইছে? হ্যাঁ? তোমার কাজলীর চরিত্র যদি ভালোই হবে, সে কেন দুইটা লম্বা হাম্বা ডাক দিয়া আসমারে ডাকলো না?

জাবেদ আলী গর্জে ওঠে, আরে গাইয়ের আবার চরিত্র কী?

কালাম মেম্বার ঠা ঠা করে হেসে বলে, তাইলে গাইয়ের আবার শ্লীলতা কী?

সরোয়ার মেম্বার গলা চড়িয়ে বলে, কালাম ভাই, কথা প্যাঁচায়েন না বড় ভাই। মশিউর জাবেদ আলীর গাইরে কী করছে এইটা এখন অঞ্চলের বেবাক মানুষ জানে। এখন শাস্তির পালা, শাস্তি কী দিতে হবে সেটাই কন।

কালাম মেম্বার মৃদু হেসে বলে, আমি তো এইখানে কোনো অপরাধই দেখতে পাচ্ছি না মেম্বার সাহেব। একটা বাচ্চা ছেলে, একটা ডবকা গাইয়ের কাছ থেকে কী ইশারা পাইয়া এমন কাম করে, আপনিই বিচার করেন। এই বয়সে তো কত রকম ভুলই মানুষ করে। তাই বলে কি কাউরে জোর করে দুশ্চরিত্র গাইগরু বেইচা দিবেন নাকি? আমি তো বলি শাস্তি দিতে হইলে কাজলী গাইরেই পঞ্চাশটা দোররা মারার কাম। বেলেল্লা গরু, পর্দাপুশিদার কোনো ঠিক নাই।

আলতাব সম্মতিসূচক সজোর কাশি দেয়। মশিউর মৃদু হাসে। জনতা গুঞ্জন তোলে। কালাম মেম্বারের ধার কমে নাই। সতেরো ভোট কম পেয়েছে তো কী হয়েছে?

সরোয়ার মেম্বার অসহিষ্ণু গলায় বলে, এটা একটা কথা নাকি? একটা দামড়া ছেলে একটা নিরীহ গরুরে ধর্ষণ করবে আর আপনারা তার ওকালতি করবেন?

শফিক সরু গলায় বলে, ধর্ষণ তো হয় যদি ধরেন দুইজনের মধ্যে মতের অমিল থাকলে।

কালাম মেম্বার কথাটা টুক করে তুলে নেয়। বলে, জাবেদ আলীর বেলেল্লা কাজলী গাই যে অরাজি ছিলো, এইটা বুঝার উপায় কী গো মেম্বার সাহেব? একটা ঘণ্টা সে ইয়ে পেতে চুপচাপ দাঁড়ায়ে থাকলো, একটা হাম্বারব পর্যন্ত নাই। বেচারা মশিউরের উপর কী কষ্টটাই না গেছে এই একটা ঘণ্টা? কী রে মশিউর, কষ্ট পাস নাই?

মশিউর দাঁত বার করে হাসে।

আসমা চেঁচিয়ে ওঠে, গরু কবেত্থেকে মানুষের সঙ্গে এই কামে রাজি হওয়া শুরু করলো?

কালাম মেম্বার কড়া গলায় বলে, জাবেদ আলী, তোমার বুজিরে বলো চুপ থাকতে। ব্যাটাছেলেদের সালিশে জেনানারা কথা বলে কেন?

জাবেদ আলী কিছু বলে না, আগুনঝরা চোখে কেবল তাকায় কালামের দিকে।

আসমা তবু চেঁচায়, আরে আমি দেখলাম, সালেহাবু দেখলো, পপি দেখলো, তারপরও আপনেরা কন দোষ গাইটার?

কালাম মেম্বার চকিতে তাকায় মৌলবি সদরুদ্দির দিকে। মৃদু হেসে বলে, হুজুর, শুনলেন মেয়েলোকের কথা? আরে এইসব কেসে কমপক্ষে চারজন নারী সাক্ষী লাগে। তোমরা আছো তিনজন। তোমাগো চৌঠা সাক্ষী কই? আনো তারে। ডাকো এই সালিশে।

জাবেদ আলী ফ্যালফ্যাল করে তাকায় মৌলবি সদরুদ্দির দিকে। মৌলবি সাহেব গলা খাঁকরে বলে, দ্যাখো কালাম, ব্যাপারটা হইতেছে গিয়ে ...।

কালাম মেম্বার গর্জে ওঠে, ব্যাপার পরে হবে মৌলবি সাহেব! আগে হাদিসকোরানের বিধানটা বলেন! জবরদস্তি চোদার কেসে নারী সাক্ষী কয়জন লাগে? চারজনের কমে হয় নাকি হয় না?

উঠানে জোর গুঞ্জন ওঠে। অভিজ্ঞরা সপ্রশংস চোখে কালাম মেম্বারকে দেখেন। একটা ফিসফাস ওঠে, আসমাদের বাড়ির মেয়েছেলেদের ভোটের কারণেই সতেরোটা ভোট কালাম মেম্বারের পাতে কম পড়েছে কি না।

সদরুদ্দি কেশে গলা সাফ করে নিয়ে বলেন, তা দ্বীনের বিধিতে চারজনই লাগে বটে।

জাবেদ আলী বলে, আমার কাজলী গাই নিজেই তো চতুর্থ সাক্ষী!

শফিক চিকন গলায় হা হা করে হাসে। কালাম মেম্বার হাসতে হাসতে গামছা দিয়ে চোখের কোণ মুছে বলে, জাবেদ আলী, তুমি কি মশিউরের বাপের কাছে কাজলীরে বেচনের জন্যই এই রকম সালিশের এন্তেজাম করাইলা? হ্যাঁ? আরে গরুর আবার সাক্ষ্য কী? গরু কি কথা কইতে পারে?

জাবেদ আলী এবার মোড়া ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়, বলে, ক্যান ক্যান, গরুর যদি খারাপ চরিত্র থাকতে পারে, সাক্ষ্য থাকবে না ক্যান?

কালাম মেম্বার হাতে কিল মেরে বলে, তাহলে ডাকো তোমার কাজলী গাইরে। জিজ্ঞাসাবাদ হোক। সে কি বাংলা ভাষা পারে? আইনকানুন দেওয়ানী ফৌজদারী হাদিসকোরান ইজমাকেয়াস সে বোঝে কিছু?

জাবেদ আলী ধুপ করে আবার মোড়ায় বসে পড়ে, তারপর সানুনয় চোখে তাকায় সরোয়ার মেম্বারের দিকে।

সরোয়ার মেম্বার মন্দ্রস্বরে গর্জে ওঠে, বাকোয়াজি বন্ধ করি আমরা। মশিউর গরুটারে বেইজ্জতি করছে এইটা ফাইনাল। এইবার শাস্তি হবে। শাস্তি সব থেকে নরম শাস্তিই বলতেছি। কাজলী গাইরে আলতাবের কাছে বিক্রি করা হবে। মশিউর তার বাপের গাইয়ের সঙ্গে যা খুশি করুক, কেউ আপত্তি করবে না। কিন্তু জাবেদ আলীর গাইয়ের উপর সে হামলা করতে পারে না।

জাবেদ আলী ফুঁপিয়ে ওঠে, কাজলী রে ...।

কালাম মেম্বার এবার পকেট থেকে কৌটা বার করে এক খিলি পান মুখে ঠেসে বলে, গরুর জায়গা গোয়ালে। গরু গোয়ালে থাকবে, খড়বিচালি খাবে, গোয়াল ঘরের দেখশোন করবে, গরম উঠলে আমাদের মাঝাপাড়ার হাশেমের ষাঁড়টারে দিয়া পেট করাতে হবে, তারপর বাছুর দিবে, দুধ দিবে। এই হচ্ছে গরুর জীবন। আলেমওলামারাও এই কথাই বলেন। তুমি জাবেদ আলী গরুরে ঘরের বাইরে খোলা মাঠে ছাইড়া রাখবা, গরু খালি গায়ে ওলান ঝুলায়ে উদাম ঘুরবে, কাজল দেওয়া চোখে কচি কচি ছেলেদের দিকে আড়ে আড়ে চাইবে, আর তারপর তার ওয়াসওয়াসায় ফাঁসায়ে বাচ্চা বাচ্চা ছেলেদের এক ঘণ্টা ধরে খাটাবে, আর সালিশে তার চরিত্র নিয়া দুইটা কথা বললে তোমরা বলবা কালাম মেম্বার সতেরোটা ভোট কম পাইছে। বরকত নাই জাবেদ আলী, বরকত নাই। এইসব কি ভালো?

মশিউর আর আলতাব মাথা নাড়ে। মোটেও ভালো নয়।

শফিক মিহি গলায় বলে, আদুল গরু হইলো গিয়া পাকা তেঁতুলের মতো।

এরপর সালিশের বাতাবরণটাই নষ্ট হয়ে যায়। একেকজন একেক কথা কইতে থাকে, মৌলবি সদরুদ্দিকে উদ্ধারের জন্যে উঠানে গাছের ছায়া ক্রমশ মাগরিবের ওয়াক্তের দিকে ধেয়ে আসে। কাঠঠোকরাটা লিচুকাঠে মাথা ঠুকে মরে।


মন্তব্য

মরুদ্যান এর ছবি

হো হো হো

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

বেচারাথেরিয়াম এর ছবি

ইয়ে মানে বলতেছিলাম কি, হ্যাপি রমজান। তেতুল বড়ই টক, আর তা যদি কাজলী গাই এর মত তেতুল হয় তাইলেতো মশিউরদের জন্য জিভে জল আসা স্বাভাবিক গড়াগড়ি দিয়া হাসি

মেঘা এর ছবি

হায় রে! কারও নিস্তার নাই দুনিয়াতে! বেরহম দুনিয়া!

--------------------------------------------------------
আমি আকাশ থেকে টুপটাপ ঝরে পরা
আলোর আধুলি কুড়াচ্ছি,
নুড়ি-পাথরের স্বপ্নে বিভোর নদীতে
পা-ডোবানো কিশোরের বিকেলকে সাক্ষী রেখে
একগুচ্ছ লাল কলাবতী ফুল নিয়ে দৌড়ে যাচ্ছি

পিয়াল এর ছবি

অনেকদিন পর গল্প লিখলেন, কিন্তু ধার কমে নাই। অসাধারণ বর্ণনা।

অতিথি লেখক এর ছবি

গুরু গুরু গুরু গুরু
ক্লাসিক। আর কিছু বলতে গেলে অনেক কথা বলা যেতে পারে কিন্তু তাতে এই সাংঘাতিক গল্পটাতে যা বলা হয়েছে তার থেকে বেশী কিছু বলা হবে না।
- একলহমা

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

এহেম এহেম ।।।

এ হাসনাত এর ছবি

গুল্লি

মইনুল রাজু এর ছবি

চলুক চলুক

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

তামান্না ঝুমু এর ছবি

ব্যভিচারিণী গরু।

guest_writer এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি সেইরাম হৈসে গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি

মসীলক্ষণ পণ্ডিত এর ছবি

সোমত্ত কাজলী গাইরে জাবেদ আলী পর্দা করা শিখায় নাই !

তিথীডোর এর ছবি

ইয়া মাবুদ! হো হো হো গড়াগড়ি দিয়া হাসি হো হো হো
এখন হাসি থামাই কেমনে?

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

চলুক

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

উদ্ভ্রান্ত পথিক এর ছবি

গুল্লি

---------------------
আমার ফ্লিকার

প্রোফেসর হিজিবিজবিজ এর ছবি

সেরাম হইসে!!!

শফি মিয়া তো দেখি বাংলা সাহিত্যের জন্য ভালো একটা অনুঘটক হিসেবে কাজ করলো। গত কয়েকদিনে অনেকগুলো জোশ লেখা পেলাম সচলায়তনে।

সাফি এর ছবি

দেঁতো হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

একটাই কথা বলা যায় - অসাধারণ!!!!! !

----------------
সুবোধ. অবোধ

চরম উদাস এর ছবি

চলুক

মিলু এর ছবি

হাসতে পারলাম না ভাই, মনটা খারাপ হয়ে গেল। আশেপাশ সব এমন মানুষেই ভরা।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

শফিতরের (শফি+ইতর) বদ্দোয়ায় হালিম হয়ে যাবেন কইলাম গুল্লি

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

হাসিব এর ছবি

পিষে ফেল মিজান!

মহন এর ছবি

উত্তম জাঝা!

স্বপ্নহীন এর ছবি

এইসব বিষয়ে স্যাট্যায়ারে মুখার বিকল্প নাই। মুখারে মিস্করি (মুখার মুখ দিয়ে যা বলা যায় তা অন্য মুখে হয় না)

কাল খবরটা পড়ার পর ভাবছিলাম মুখা ফিরা আইব। কিন্তু আইল না।

লেখায় উত্তম জাঝা!

মুখা ফিরা আইয়েন।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

গল্পটা পড়ে কেমন যেন লাগলো, ডার্ক কমেডি মন খারাপ

রাজিব মোস্তাফিজ এর ছবি

দারুণ চলুক

----------------------------------------------------------------------------
একশজন খাঁটি মানুষ দিয়ে একটা দেশ পাল্টে দেয়া যায়।তাই কখনো বিখ্যাত হওয়ার চেষ্টা করতে হয় না--চেষ্টা করতে হয় খাঁটি হওয়ার!!

কল্যাণ এর ছবি

আহারে, বাছা মশিউরের বড় পরিশ্রম হইছে ওঁয়া ওঁয়া

একটা বাচ্চা ছেলে, একটা ডবকা গাইয়ের কাছ থেকে কী ইশারা পাইয়া এমন কাম করে, আপনিই বিচার করেন। এই বয়সে তো কত রকম ভুলই মানুষ করে। তাই বলে কি কাউরে জোর করে দুশ্চরিত্র গাইগরু বেইচা দিবেন নাকি? আমি তো বলি শাস্তি দিতে হইলে কাজলী গাইরেই পঞ্চাশটা দোররা মারার কাম। বেলেল্লা গরু, পর্দাপুশিদার কোনো ঠিক নাই।

=ডবকা গাই খুব খ্রাপ

কালাম মেম্বার গর্জে ওঠে, ব্যাপার পরে হবে মৌলবি সাহেব! আগে হাদিসকোরানের বিধানটা বলেন! জবরদস্তি চোদার কেসে নারী সাক্ষী কয়জন লাগে? চারজনের কমে হয় নাকি হয় না?

= নারী সাক্ষী না পুং সাক্ষী লাগে?

গুরু গুরু

দারুণ দারুণ সব মন্তব্য মনে হয় মডুমামাদের কোপে ঘ্যাচাং হয়ে যাচ্ছে ব্যাকগ্রাউন্ডে চিন্তিত

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

স্যাম এর ছবি

দারুণ বর্ণনা যথারীতি।
কালাম মেম্বারের শেষ প্যারাগ্রাফ তো দুর্ধর্ষ, ব্যাটা ওয়াজ শুন্তে যায় মনে হয় নিয়মিত।

খেকশিয়াল এর ছবি

কখনো ভাবছিলেন এরকম একটা বিষয়ে গল্প লেখবেন?

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

হিমু এর ছবি

নাহ। পুরাই মাননীয় স্পিকার হয়ে লিখলাম।

অতিথি লেখক এর ছবি

ঘটনা কি এইডা হিম্ভাই??!!
অ্যাঁ

-----------------------------
সুবোধ অবোধ

হিমু এর ছবি

ঘটনা কী সেটা তো গল্পের একেবারে শুরুতেই ইউআরএল দিয়ে বলা রে ভাইডি।

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখা দেইখা ওইটা আর খেয়ালই করছিলাম না!! খাইছে

--------------
সুবোধ অবোধ

রিয়াজ এর ছবি

Blogger and Online Activist Network -BOAN হিমুভাইয়ের এই পোস্টের লিঙ্ক শেয়ার করেছে। হাততালি

মাহবুব লীলেন এর ছবি

একখান টেকনিক্যাল প্রশ্ন
গাই সোমত্ত মানে তো কমপক্ষে সাড়ে তিন ফিট উচা
তাইলে মশিউরের হাইট কত?

হিমু এর ছবি

সোমত্ত গাইয়ের উচ্চতা আপনে এতো ভালোমতো জানেন ক্যাম্নে? কই আমরা কেউ তো জানি না? হুমমমম?

খেকশিয়াল এর ছবি

ধ্বংস!

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

ওডিন এর ছবি
কল্যাণ এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

কল্যাণ এর ছবি

অ্যাঁ চিন্তিত শয়তানী হাসি

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

অতিথি লেখক এর ছবি

একটু আশ্বস্ত হয়েছিলাম, তেঁতুল সমাজকে ঘরে আবদ্ধ করে রাখলেই দ্বীনি ঈমান আমান ঠিক রাখা যাবে, কিন্তু দুনিয়ায় যে দুশ্চরিত্র গাইও আছে সেটাও তো দেখি একটা বড় মুসিবত।

আব্দুল্লাহ এ এম

তাপস শর্মা এর ছবি

অসাধারণ। ভয়ানক স্যাটায়ার। একটুও হাসি পেল না কেন জানি। বরং বিষণ্ণ হয়ে গেলাম

রনি রনউক এর ছবি

বেবাক বেসরম গাইয়ের দোষ, সে বাইরে বাইরাইছে ক্যালা ! হেরে ৭০ দিন দোররা মাইরা বাক্সবন্ধী করা হউক !!

অতিথি লেখক এর ছবি

তেতুল, সবই তেতুলের প্রভাব। গুল্লি

------------------
মিলন

নিরীহ মানুষ  এর ছবি

আপনি একটা কমিনিষ্ট , লা হাওলা…..

রামগরুড় এর ছবি

লিচু গাছের কথা পড়ে ধারণা করতেছিলাম কাহিনী উত্তরবঙ্গের, পরে ইউ আর এল দেখলাম, ঠিকই আছে। কিন্তু খবরেতো লেখছে

আলতাব হোসেনের কিশোর পুত্র মশিউর রহমান (১৫) গরুটির সামনে যায়। গরুটিকে ধর্ষন করতে থাকে।

"সামনে থেকে" কিভাবে জেনা করা সম্ভব? আমি আবুল কালাম আজাদ (৩৫) ও শামসুর রহমানের পুত্র সফিকুল আলমের পক্ষ নিলাম।

হিমু এর ছবি

মশিউর এক বিস্ময়কিশোর। ০.১৫ মিলিয়ন বছর ধরে মানবজাতি যা করতে পারেনি, সে ১৫ বছরেই সেটা করে দেখিয়েছে।

ছাইপাঁশ  এর ছবি

শিরোনামটার ভেতর জাপানি হাইকু টাইপ কিছু আছে, পড়ার পরই কল্পনায় এক সাথে অনেক কিছু এসে জোর হয়। সমাজের বর্তমান দৈন্যতা চোখে ভেসে উঠে, অনেকটা কিছুটা দুঃখী কমেডিয়ানের মত!

গল্পটা পড়ে আমার যে কথাটি মনে হলো, সেটাও আপনারই লেখাঃ

স্বর্ণখনির ভেতরে সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু লোহার শাবল। গল্পকারদের জন্য এই কথাটি মর্মান্তিক সত্য। গল্পের উপকরণ ছড়িয়ে আছে প্রতিদিনের জীবনে, কিন্তু তা যেন পাথরের মাঝে মিশে থাকা স্বর্ণের মতোই, তাকে গুঁতিয়ে কুপিয়ে খুঁড়ে বার করে এনে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাক করার পরই অভীষ্টের দেখা মেলে।

অহেতুক এর ছবি

উতলা বয়সে, সামনে তেতুল দেখলে জিভে জল না পানি আসে?

আয়নামতি এর ছবি


যথেষ্ট মজারু করে লেখা গল্পটা, তারপরও হাসি পেলো না কেন জানি! সিরিকাস হয়া গেলাম মনে হয় মন খারাপ


রোজারমজানের দিনে

ব্যাটাছেলেদের পোস্টে জেনানারা মন্তব্য কর্লে দুষ হয় কিনা, বড় সংকটে পড়িয়া তাহাই ভাবিতেছি

চিন্তিত

পিয়াল এর ছবি

"গেরামে তো আরও কত্তো গাই আছে কৈ অন্য কোনও গাইয়ের লগে তো এই আকাম কেউ করে নাই, তাগোরেতো কেউ দিসটাব দেয়না, কাজলী গাইয়ের লিশ্চয়ই কুনু সমিস্যা আসে " এই ধরনের একটা কুযুক্তিও আসতে পারতো।

Jemsbond এর ছবি

ইয়া মাবুদ গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি

সাকিন উল আলম ইভান  এর ছবি

করছেন কি , আরে করছেন কি

হাসতে হাসতে চেয়ার থাইক্কা উল্টাইয়া পইড়া গেছি । গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি

তবে ঘটনা টা সত্য মন খারাপ :(

রু এর ছবি

বুলস আই, মানে ষাঁড়ের চোখ দিয়ে দেখুন।

হিমু এর ছবি

হা হা হা হা ... লাইলিরা বায়দ ব চশম মজনুন দীদ?

তিথীডোর এর ছবি

হো হো হো

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

মাইশা আলম এর ছবি

জনাব হিমু, আপনার লেখার প্রশংসা না করে পারছি না। কিন্তু আমার একটা প্রশ্ন আছে। আপনার মাঝে এত দেশপ্রেম, দেশের জন্য আপনার এত ভালোবাসা, তাহলে সেই প্রিয় দেশকে ছেড়ে আপনি বিদেশে পড়ে আছেন কেন? আপনার মত প্রতিভাবান তরুণ প্রজন্মের ছেলেরা যদি দেশের জন্য এত মায়া-মমতা দেখিয়ে বিদেশে গিয়ে বসে থাকে, তাহলে দেশটাকে এইসব শকূনের হাত থেকে রক্ষা করবে কে?

হিমু এর ছবি

প্রিয় মাইশা আলম, আপনিও আপনার মাকে ভালোবাসেন, বাবাকে ভালোবাসেন। কিন্তু সারাক্ষণ তাদের কোলে চড়ে থাকেন না। স্কুলকলেজে যান, দোকানপাটে হাটে মাঠে ঘাটে যান, কাজ করেন, তাই না? কিন্তু যখন স্কুলে যান, দোকানে যান, কাজে যান, বাপমায়ের জন্য ভালোবাসা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে না, তাই না? কেউ বলে না, তুমি যে প্রিয় মাবাবাকে ছেড়ে স্কুলে এলে, এখন তোমার বাপমার হবেটা কী, তাই না?

নাকি এরকম কাঠবলদও আছে এই গোছের প্রশ্ন করার জন্য?

মসীলক্ষণ পণ্ডিত এর ছবি

হাততালি

অতিথি লেখক এর ছবি

সহমত হিমু ভাই।

মানুষ আজকের অবস্থানে এসেছে দেশত্যাগ করেই, নইলে অনেক আগেই আফ্রিকাতে জন্মস্থানেই মানবজাতির কবর খোঁড়া হয়ে যেত!

নির্ঝর অলয়

ফুজিয়ামা এর ছবি

বিদেশে গিয়ে পড়ে আছেন উচ্চতর শিক্ষার জন্য। এবং সেই পড়াশুনার ফাঁকেও সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশের জন্য কিছু করার। তাঁর মত প্রতিভাবান তরুণ প্রজন্মের ছেলেরা দেশের জন্য এত মায়া-মমতা দেখিয়ে বিদেশে আত্মগোপন করার জন্য যেয়ে বসে নাই, তাদের উচ্চতর শিক্ষা আদতে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে আনছে।

হিমু এর ছবি

নাহ, চিন্তা করে দেখলাম, উচ্চশিক্ষা গৌরবটৌরব এগুলি সবই বাকোয়াজ। বাকিদের কথা বলতে পারি না, আমি দেশ ছেড়েছি বিদেশে গিয়ে গোধর্ষণের ওপর স্যাটায়ার লেখার জন্য। যাওয়ার সময় দেশরক্ষার দায়িত্ব মাইশা আলমের কান্ধে দিয়ে গিয়েছি।

সাকিন উল আলম ইভান  এর ছবি

কিয়ের মধ্যে কি কুইশ্চেন

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

জবরদস্তি চোদার কেসে নারী সাক্ষী কয়জন লাগে? চারজনের কমে হয় নাকি হয় না?

সাক্ষীদেরকে আবার সওয়াল করা হয়,'এইরূপ দেখিয়াছ কি, যেই রূপ কূয়ার ভীতর বালতি প্রবেশ করে ?

হিমু এর ছবি

এই ধরনের সালিশ প্রত্যক্ষ করে থাকলে তার ওপর একটা পোস্ট দেবেন নাকি? আরো অনেকে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরতে পারবেন সে পোস্টে। সালিশের নামে কী হয় না হয়, একটা ছবি পাওয়া যাবে।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

সে বেশ অনেক আগের কথা। আমিও তখন কিশোর। কৌতুহলবশত দূরে দাঁড়িয়ে দেখেছিলাম। কিছু ছওয়াল-জবাব কানে এসেছিলো। এইটা মনের মাঝে গেঁথে গিয়েছিলো। আর সে সালিসে চেয়ারম্যান-মেম্বর কেউ ছিলেন না। এলাকার বুজুর্গ এবং মৌলানা-হুজুর শ্রেণীর লোকজন। যতদূর মনে পড়ে, হাদিস-কুরআন আউড়েই তাঁরা এই সালিস করছিলেন।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

গুরু গুরু
গুল্লি

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

ছি ছি আপনে বিদেশে পলাইয়া থাইকা স্যাটায়ার লেকেন?

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

আশিস এর ছবি

আপনার লেখা কপি করে নিউজ বানাইছে।http://www.newsagency24.com/crime/163-2013-06-12-12-17-19/16639-2013-07-10-05-56-19

হিমু এর ছবি

না রে ভাই। এই খবরের ওপরই গল্প লেখা।

মাহবুব ময়ূখ রিশাদ এর ছবি

গুল্লি

------------
'আমার হবে না, আমি বুঝে গেছি, আমি সত্যি মূর্খ, আকাঠ !

ধুসর জলছবি এর ছবি

প্রথমে গল্প টা পড়ে দম ফাটা হাসি হাস্লাম। মন্তব্ব্যের ঘরে এসে নিউজ টার কথা জেনে এখন সেটা পড়ে মাথা ঘুড়ছে।

শিয়াল পন্ডিত এর ছবি

ভাবছি, ডবকা দেখে কয়েকটা গাভি কিনে স্লাট ওয়াক করাবো, তাতে যদি প্রাণী ধর্ষণ কমে।

ফুজিয়ামা এর ছবি

ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী ধর্ষনের শাস্তি মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু ধর্ষনের শিকার মহিলা/শিশুর পক্ষে অধিকাংশ সময়ই উপযুক্ত প্রমান (!) এর অভাব থাকে। যদি ধর্ষক নিজে শিকার করেযে সে ধর্ষন করেছে অথবা অন্তত চারজন পুরুষ সাক্ষী যদি এই মতামত প্রকাশ করেযে তারা ঐ নারী/শিশু ধর্ষনের প্রত্যক্ষসাক্ষী, তবেই নারী/শিশু ধর্ষনের অভিযোগে অভিযুক্ত ধর্ষক শাস্তি পেতে পারে ইসলামী আইন অনুযায়ী। তবে ধর্ষক নিজে কোনদিন নিজের পাপ শিকার করেনা, আর চারজন তামাশা দেখতে থাকা পুরুষ সাক্ষীও পাওয়া যায়না, ফলে ভুক্তভোগী নারী/শিশুর আনা ধর্ষনের অভিযোগকে বিবাহবহির্ভূত যৌনসম্পর্কের আওতাভুক্ত করে জিনা করার অপরাধে তাদেরকেই শাস্তির সম্মুখীন করা হয়।

hafizur rahman এর ছবি

এখন হাসি থামাই কেমনে?

রাত-প্রহরী এর ছবি

মোগাম্বো খুশ হুয়া হিম্ভাই।

-----------------------------------
কামরুজ্জামান পলাশ

মুনেম আহমাদ কিশোর এর ছবি

ভাই এত সুন্দর কইরা কেমনে পারেন? দেঁতো হাসি :-D মাশাআল্লাহ

himel khaled এর ছবি

খিক খিক খিক ......হাসি

Shamira Alam এর ছবি

সত্যি অসাধারণ লিখেছেন।

মীম হাসান এর ছবি

খুব ভালো লাগলো

অতিথি লেখক এর ছবি

অসাধারণ! মন্ত্রমুগ্ধের মতো পড়লাম।

-এস এম নিয়াজ মাওলা

সুবোধ অবোধ এর ছবি
সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

সুবোধ অবোধের কারণে গল্পটা চোখে পড়ল। আপনার লেখা গল্প পড়ে হাসি শেষে বুকের ভেতর কোথায় যেন ব্যথা করে।

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেকদিন পরেও হলেও পড়া হলো গল্পটা। সাথে কমেন্টগুলোও দেখার মতো ।
শুভকামনা রইলো

অপর্ণা মিতু

নজমুল আলবাব এর ছবি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।