নরকের দারোয়ান

হিমু এর ছবি
লিখেছেন হিমু (তারিখ: শনি, ১২/০৭/২০১৪ - ১:৪৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

খালিদ টেবিলের ওপরে হাসিমুখ ধরে রেখে টেবিলের নিচে আমার পায়ে একটা লাথি মারলো। বিশ্বকাপের সিজনের কারণেই হয়তো লাথিটাতে প্রয়োজনের চেয়ে বাড়তি বিষ ছিলো।

ভদ্রলোক ভুরু ওপরে তুলে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, "কী হইলো?"

আমি শার্টের হাতায় চোখের কোণ মুছলাম, খালিদ স্কুলে শেখা প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব শব্দটাকে আবার মনে করিয়ে দিয়ে বললো, "উফফ, মশা!"

ভদ্রলোক আবার সোৎসাহে শুরু করলেন। তিনি অভিজ্ঞ মানুষ, দুনিয়ার হেন কোণাকাঞ্চি নাই যেখানে তিনি যান নাই, মশার কামড়ে দুনিয়াতে নিশ্চয়ই কেউ না কেউ কেঁদে ফেলে।

খালিদ আমাকে কথায় কথায় বলদ ডাকলেও আমি আসলে সরল মানুষ। অনেক কিছুই না বুঝে বলে ফেলি, কিংবা বলার আগে অগ্রপশ্চাৎ ভাবি কম। আমাদের টেবিলে বসা ভদ্রলোককে তাই আঙ্কেল ডেকে বসেছিলাম শুরুতে। তিনি যে সেটা ভালোভাবে নেননি, সেটা বুঝতে সময় লেগেছে একটু। হাত ধুতে যখন উঠেছিলেন তিনি, তখন খালিদ আমার দিকে তাকিয়ে দাঁত খিঁচিয়ে বলেছিলো, আঙ্কেল আবার কী? ভাইয়া বলতে পারিস না?

আমি মিনমিন করে বলেছিলাম, চাচার বয়সী লোক ...।

খালিদ বিরক্ত হয়ে ছ্যাক করে একটা শব্দ করে বলেছিলো, ওনার ওয়াইফকে ভাবী ডাকি আমরা। কাজেই উনি ভাইয়া। আবার আঙ্কেল ডাকলে লাত্থি খাবি। আর কথা না বলে চুপ থাক। বলদ কোথাকার।

খাবারের জন্য অপেক্ষা করতে করতে ভদ্রলোকের কথা শুনতে থাকি। পায়ের হাড়ে লাথির ব্যথাটা আস্তে আস্তে ফেসবুকের বাসি হুজুগের মতো স্তিমিত হয়ে আসে।

"... বেলা শেষে সবই হইতেছে গিয়া সেতুর নিচে পানি, ওয়াটার আন্ডার দ্য ব্রিজ।" বোরহানির আগাম জগ থেকে গ্লাসে সামান্য একটু ঢেলে শুঁকতে শুঁকতে বললেন ভাবীস্বামী আঙ্কেল। "কী ব্যাপার, পুদিনা ছাড়াই কি বোরহানি বানাইয়া ফালাইছে নাকি? কোনো ধক নাই!"

খালিদ সায় দেয়। ওর মতলবটা ধরতে পারি না। তবে বুঝতে পারি কোনো একটা মতলব তার আছে। লোকজনের কথায় সায় দিয়ে সে সহজে কিছু বলতে চায় না।

আঙ্কেলমুখো ভাই বলেন, "কিন্তু বুঝলা তোমরা, সেদিন আমি বার্মা গেছিলাম একটা জরুরি কামে। ... না না, আমার এনজিওর কোনো অপারেশন নাই বার্মায়। এমনেই আরেকটা কামে গেছিলাম আর কি। ইয়ানগন এয়ারপোর্টে নামার পর কী হইলো শোনো। ইমিগ্রেশনের নাকচ্যাপ্টা এক হালায় আমারে জিগায়, ওহ, ইউ আর ফ্রম বদি'স কান্ট্রি?"

আমি বোরহানির গ্লাসে বোরহানি ঢালতে ঢালতে বলে ফেলি, "বদি কে?"

খালিদ আমাকে আবার মুখ খুলতে মিডফিল্ডারদের মতো আড়ে আড়ে তাকায়।

ভাই অবশ্য অসন্তুষ্ট হন না। বলেন, "আরে আসতেছি সেই কথায়। ... তো আমার গেলো মেজাজ খারাপ হইয়া। আমি কইলাম, ইয়েস, ইউ মিন বাংলাদেশ। আই অ্যাম ফ্রম বাংলাদেশ। হালায় চিঙ্কু তখন মিটমিট কইরা আমার দিকে চায়, কাগজপাতি ঘাঁটে আর ফ্যাকফ্যাক কইরা হাসে। চিন্তা কইরা দেখো ব্যাপারটা, কী তামশা?"

খালিদ বলে, "কঠিন তামশা।"

আমি বদিকে চিনি না বলে তামাশাটা কোথায়, ধরতে পারি না।

বেয়ারারা সারি বেঁধে সুরভিত পোলাওয়ের থালা নিয়ে হুড়মুড় করে টেবিলে টেবিলে ছুটতে থাকে। সেদিকে তাকিয়ে ভাই বলেন, "ঘটনা কিন্তু এইখানেই শেষ না। বরং এইখানে শুরু। এরপর মালয়েশিয়া গেলাম তোমাদের ভাবীরে নিয়া। বেড়াইতেই গেছিলাম, আবার একটু মেডিক্যাল চেকআপও করাইয়া আসলাম। মালয়েশিয়া, বুচ্ছো তো, অনেক উন্নত হইয়া গেছে। অনেক উন্নত। মাহাথির স্যারের মতো স্যার পাইলে আমাদের দেশটা যে কোনদিকে যাইতো ... কী আর কমু কও? সবই তো বুঝো, সবই তো জানো। এইসব গণতন্ত্র ফনতন্ত্র দিয়া আসলে দেশ সামনে আগাইতে পারে না। জবরদস্ত একজন ক্যাপ্টেন না থাকলে লঞ্চ চড়াতে ঠেকবোই ঠেকবো। আমার শালা খালি পাকনামি করে, কয় দ্যাহেন দুলাভাই, মাহাথির কিন্তু স্বৈরশাসক, তার আত্মীয়স্বজন ব্যাপক দুর্নীতি করছে। আমি তারে ঐদিন দিছি ধমক। কইলাম, চুদির ভাই তুই জানস কী। টাইটের উপর না রাখলে দেশ আউগায় নাকি? আর একলাই খাবি, ইষ্টিগো দিবি না?"

খালিদ মাথা দুলিয়ে বলে, "ট্রু, ট্রু।"

পোলাও চলে আসে, মুখ খুলতে সাহস না পেয়ে পাতে অল্প একটু পোলাও নিয়ে নাড়াচাড়া করি। ভদ্রলোক তখনই পাতের দিকে হাত বাড়ান না, অ্যাপল ফোনে কিছুক্ষণ আঙুল দিয়ে নাড়াচাড়া করে আবার শুরু করেন, "মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনেও এক হালায় আমারে জিগায়, ওহ, ইউ আর ফ্রম বদি'স কান্ট্রি? ... কী বুঝলা?"

আমি চিন্তা করতে যাই বলদের মতো, খালিদ চাল্লু মাল, সে এইসব ভাবনা চিন্তার দিকে না গিয়ে বোঝার কাজটা আবার ভাইয়ের পাতে ঠেলে দিয়ে বলে, "বুঝেন অবস্থা!"

ভাই নড়েচড়ে বসে বলেন, "আমি তো থান্ডারড! কিন্তু শেষমেশ তারে কইলাম, ইয়েস, ইউ মিন বাংলাদেশ। হালায় কিটিপিটি চায় আমাগো দিকে, পাসপোর্ট ছানে, আর খ্যাক খ্যাক হাসে। কী আর কমু, কও?"

রেজালার ঘ্রাণ ভেসে আসে নাকে। বেয়ারার দল সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট আর কালো বো টাইয়ের স্রোত হয়ে ভেসে আসে সাথে।

কিন্তু ভাই রোস্টের জন্য অপেক্ষা করেন। "এনজিওর কাম আমার, বুঝোই তো, দেশে বেশিদিন একটানা থাকতে পারি না। ডাইনে বামে যাইতে হয়। টার্কিশ এয়ারে গেছো কোনোদিন? যাও নাই? ইস্তাম্বুল শহরটা ঘুইরা দেখার একটা সুযোগ পাইবা গেলে। দারুণ শহর। আমি তো কাবাব খাইতে খাইতে হয়রান। কিন্তু ইমিগ্রেশনের লোকজনগুলি ছাক্কা মাদার... সরি। মুখ খারাপ হইয়া যায়। কিন্তু তোমরা তো ইয়ংম্যান। আমার পাসপোর্ট আটকাইয়া চেহারার লগে ছবি মিলায় আর একটা আরেকটারে কী কী জানি কয়। শেষমেশ আরেক কুতুব আইসা আমারে কোনোমতে ইংলিশে জিগায়, ওহ, ইউ আর ফ্রম বদি'স কান্ট্রি?"

খালিদ রোস্টের জন্য অপেক্ষা করে না, রেজালার বাটিতে চামচ চালাতে চালাতে বলে, "ভাই শুরু কইরা দিলাম, মনে কিছু নিয়েন না।"

ভাই মনে কিছু করেন না, রোস্টের থালা নিয়ে বেয়ারার স্রোত অনুকূলে চলে আসে।

আমি পোলাও দিয়ে গোগ্রাসে রেজালা সাঁটাতে থাকি। রোস্টের ওপর দিয়েই তুর্কি ইমিগ্রেশন অফিসারের জন্য বরাদ্দ ঝালটা ঝাড়েন ভাই। তারপর ধকল সামলে মিনিট পাঁচেক পর বলেন, "বুচ্ছো কী অবস্থা? আমি আর কী কমু। কইলাম, ইয়েস, ইউ মিন বাংলাদেশ। তিন মাদার... ঐ তো, বুচ্ছো তো, তিনজন একলগে খিলখিল কইরা হাসে। তাইলেই কও আমারে, দেশটা চলতেছে আসলে ক্যামনে?"

খালিদ গভীর সমবেদনা নিয়ে খায়।

ভদ্রলোক দ্রুত রোস্টের উল্লেখযোগ্য অংশ বিনাশ করে রেজালার বাটির দিকে অনিসন্ধিৎসু চোখ রাখেন, তারপর তুড়ি মেরে বেয়ারাকে ডাকেন। বাটিতে যা ছিলো তা আসলেই গুণীতোষ পরিমাণ নয়।

রেজালা শেষ করে রোস্টের দিকে হাত বাড়াই। খালিদও সময়টাকে নষ্ট না করে রেজালার বাটির অবশিষ্টাংশ পাতে নিয়ে বলে, "ভাই শেষ কইরা দিলাম, মনে কিছু নিয়েন না।"

একটা বেয়ারা রেজালার বাটি হাতে ভেসে আসে বন্ধু-বন্ধু-ভাব প্রেত ক্যাসপারের মতো। ভাই রেজালার বাটি থেকে দরাজ হাতে তিন ভাগ স্থল আর এক ভাগ জলে পাতের পোলাওকে ভারাক্রান্ত করে বলেন, "কিন্তু ঘটনা যদি এইখানেই শেষ হইতো, একটা কথা ছিলো। নাইজেরিয়া গেছিলাম সেদিন। আবুজাতে নামছি, সেই রকম কালা এক কালা আমারে ইমিগ্রেশনে আটকাইয়া কয়, ওহ, ইউ আর ফ্রম বদি'স কান্ট্রি?"

খালিদ অপেক্ষা করে আরো কিছু শোনার জন্য, না শুনতে পেয়ে বলে, "ভাই, সেইরম অবস্থা!"

তারপর অবশ্য ভাই চুপ করে যান। আরেকটু বোরহানি খান, আইসক্রিমের বাটিটাও যত্ন করে শেষ করেন। শেষমেশ আসা পানমশলার খিলিটা মুখে পুরে বলেন, "আমি হাত ধুইয়া আসি। তোমরা তো আমার বাসার ঐদিকেই যাইবা, নাকি? চলো আমার সাথে, আগাইয়া দিমুনি।"

খালিদ স্বস্তির শ্বাসটাকে গোপনে চোরের মতো ছাড়ে। এবার বুঝতে পারি তার জ্বিহুজুরির রহস্য। এতো রাতে সিয়েনজি পাওয়া মুশকিল এখানে।

ভাইয়ের আলিশান গাড়ির সামনের সিটে চড়ে বসে খালিদ, আমি চুপচাপ গ্রাম থেকে আসা আত্মীয়ের মতো গাড়ির পেছনের সিটে জড়োসড়ো হয়ে বসি। ভাই পাকা হাতে গাড়ি বের করে রাস্তায় নেমে বলেন, "কিন্তু ঘটনা কিন্তু শেষ হয় নাই। ঐদিন ম্যানচেস্টার গেছিলাম, তোমাদের ভাবীর বড় বোন থাকেন ঐখানে। হিথ্রো হইয়া যাইতে হয়, বুচ্ছো তো? হিথ্রোতে ধবধবা ফর্সা এক লম্বা চওড়া ইংরাজ সাহেব আমারে ইমিগ্রেশনে থামাইয়া সুন্দর একটা হাসি দিয়া কইলেন, সো মাইট, ইউ আর ফ্রম বদি'স কান্ট্রি? আমিও হাইসা কইলাম, ইয়েস, রাইট ইউ আর! চিন্তা করছো অবস্থাটা? কোথায় কোন চিপায় পইড়া রইছে আমাগো বাংলাদেশ, কিন্তু সাহেবরা ঠিকই খোঁজ খবর রাখে! এখন তোমরাই কও, এই বদি না থাকলে কি সে আমাগোরে চিনতো?"

আমি নিজেকে সময় মতো থামাতে পারি না, আবার বলে বসি, "বদি কে?"

এবার অবশ্য খালিদ রাগ করে না, বাড়ির পথে গাড়িতে চড়েই বসেছে যখন। সে-ও মধুর গলায় বোল তোলে, "হ ভাই, কোন বদি এইটা কন তো?"

ভাইয়ের চেহারা পেছনের আসন থেকে ঠিকমতো ঠাহর করতে পারি না অন্ধকারে, তিনি মধুমন্দ্র গলায় বলেন, "আরে দ্যাখো নাই, ঐ যে ঐদিন পুলিশ ধরছে ... পেপারে টিভিতে ফেসবুকে সবখানে নিউজ আসছে তো। সাংবাদিকরা, বুচ্ছো না, পাইছে এক চান্স, দিছে কোকেন সম্রাট বানাইয়া। কোকেন সম্রাট বদি।"

আমি ভেতরের বলদটাকে থামাতে না পেরে বলে ফেলি, "কোকেন সম্রাট বদিরে এতো দেশের লোকে চিনে?"

ভাই একটু যেন বিরক্ত হন, তিনি একবার ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনের সিটে বসা অন্ধকার আমাকে এক ঝলক দেখে নিয়ে বলেন, "একটা লোক, তারে সারা দুনিয়ার মানুষে চিনে, তারে দিয়া লোকে আমাদের দেশটারে চিনে, তারে তোমরা কোকেন সম্রাট বানাইয়া দিলা। আমারে যদি জিগাও, আমি কমু কামটা ঠিক হয় নাই। যেই দেশে গুণীর কদর নাই, সেই দেশে গুণী জন্মাইতে পারে না। আমাগো জাতিটাই খারাপ, বুচ্ছো?"

আমি খুব একটা চিন্তিত হই না অবশ্য, সামনের সিটে বসে খালিদ আমাকে লাথি মারতে পারবে না।

ভাই গাড়ি ঘুরিয়ে ভিআইপি সড়কে উল্টোবাগে চলতে চলতে বলেন, "আমার শালা একটা পাকনা, ইউনিভার্সিটিতে পড়ে তো, পাকনা কিছু ফাউলগো লগে ঘুরে, তারা যা কয় সে সেগুলিই সারা দিন শোনে, রাইতে বাসায় আইসা খাওনের টেবিলে সেইসব উগড়ায়। সে আমারে কয়, দুলাভাই গুণীর জন্য কি আইন আলাদা? লাইন আলাদা? সে কি নিয়ম কানুন মানবে না? আমি তো তোমাদের ভাবীর সামনে তারে বেশি কিছু কইতেও পারি না, সেইদিন বারিন্দায় বিড়ি খাইতে গিয়া তারে পাইয়া কইলাম, আব্বে শ্বশুরার পো, নিয়ম মাইনা কে কবে বড় হইছে রে? নিয়ম বানানোই হইছে তর মতো আবুলগোরে লাইনে রাখতে। ঐ লাইন টপকাইতে না পারলে সারাজীবন এক জায়গায় খাড়াইয়া বালটা ফালাবি? দিনদুনিয়ার সমঝদারি কবে হইব তর?"

খালিদ কিছু বলে না।

ভাই গজগজ করতেই থাকেন। বলেন, "বাঙ্গালি এক আচোদা নেশন, বুচ্ছো তো? বাঙ্গালির নরকে দারোয়ান লাগে না। একজন বাইর হইতে গেলে আরেকজন ঠ্যাং ধইরা টাইনা রাখে।"

গাড়ির অন্ধকারে বসে টের পাই, নিয়ম মানেই নরক। সে নরক থেকে বেরোতে গেলে তো কিছু নিয়ম ভেঙে খানখান হবেই?

গাড়িটা হঠাৎ হোঁচট খেয়ে থেমে যায়, ফটাশ করে শব্দ হয় বাইরে। ভাই ব্রেক কষে স্টিয়ারিঙে কিল মেরে চিৎকার করে উঠেন, "ধুর বাল! এই শাউয়ার লোহার কাঁটা বহাইয়া কি দেশটারে শেষ করবি? আরে এইটা কেমন গণতন্ত্র? দেখি খালি আর কয়দিন পাওয়ারে থাকতারস ...।"

খালিদ একবার শুধু পেছনে তাকিয়ে আমাকে টপকে দেখে নেয় আর কোনো গাড়ি আসছে কি না, তারপর স্মার্ট ছেলের মতো গড়গড়িয়ে বলে, "ভাইরে তো মনে হয় গ্যারেজ থেকে লোক ডাকায়ে বাড়ি যাইতে হবে। আচ্ছা ভাই, আজকে আসি তাইলে, দেখা হবে আবার যদি দেশে থাকেন। ঐ, নাম বে!"

ভাই হয়তো চাকা বদলানোর জন্য আমাদের দুজনকে ভরসা ধরে নিয়েছিলেন, খালিদ তাকে মুখ খোলার সুযোগ না দিয়ে আমার হাতে ধরে টানতে টানতে দ্রুত পায়ে রাস্তা টপকে উল্টোদিকে গিয়ে এক সিয়েনজি মামুকে মধুর গলায় বলে, "চলেন মামু, বাসায় যাই। মিটার ফালাইয়া রাখেন, মিটারের মায়রে বাপ।"

বদির দেশের ভিআইপি রোডে চাকাফাটা একটা গাড়ি বুকভরা দিনদুনিয়ার সমঝদারি নিয়ে থমকে থাকে স্রোতের উল্টোদিকে। স্বর্গের দারোয়ানরা এ কথা কোনোদিন জানতে পারবে না, ভাগ্যিস!


মন্তব্য

মাহবুব লীলেন এর ছবি

গল্পের ধার কইমা গেছে ক্যান?

হিমু এর ছবি

ক্ষুদ্র ঋণ নিয়া ধার শোধ করতেছি, তাই।

দীনহিন এর ছবি

ধার কইমা গেছে, লীলেনদা? কই, আমার তো মনে হইল, সব ধারে কাটল, সব দিক দিয়া, সার্থকতার সাথেই! হাসি

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

দীনহিন এর ছবি

অসাধারণ, হিমু ভাই!

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

মাহবুব-উল-আলম এর ছবি

আবিরে আনন্দ খুঁজে পেলাম।

টিউলিপ এর ছবি

আফসুস, এত্তবার এত্ত এয়ারপোর্টে গেলাম, কেউ জিগাইল না আমি বদির দেশের লুক কি না। কি বৈদেশযাত্রা করলাম তাইলে আর!

___________________

রাতের বাসা হয় নি বাঁধা দিনের কাজে ত্রুটি
বিনা কাজের সেবার মাঝে পাই নে আমি ছুটি

মুস্তাফিজ এর ছবি

ভাবতেছি বদির পোস্টার বানাইয়া ঘরে লাগামু, আর গেঞ্জিতে তার ছবি। হাসি

...........................
Every Picture Tells a Story

হাসিব এর ছবি

সাথে অটোগ্রাফ।

এক লহমা এর ছবি

চলুক

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

মেঘলা মানুষ এর ছবি

কোথায় কি হচ্ছে? মাথার উপর দিয়ে গেল যে!
"কোকেন সম্রাট বদি" লিখে গুগল করলাম, কিছুই খুঁজে পেলাম না।
সাহায্য করতে পারেন এমন কাপ্তান আছেন কেউ?

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

বদির দেশে থাইকা যদি বদিরে না চিনেন তাইলে ক্যাম্নে কী! যখন বিদেশ যাইবেন তখন তো বিদেশের ইয়ারপুটের সবতে আপ্নেরে বদির কথা জিগাইবো। তখন কী উত্তর দিবেন!


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

হাসিব এর ছবি

জবাব না দিতে পারলে বলবে তোর পাস্পুট নকল।

মন মাঝি এর ছবি

হায় হায়... বইদ্যার দ্যাশের লোক হইয়া তার খোঁজে আপ্নে বেপাড়ায় গুগুল মিয়াঁর কাছে গ্যাছেন? ছি ছি! এই লইজ্জা রাখি কুথায়! আরে হ্যার কথা তো এই সচলায়তনেই কত হইছে! চাল্লু

****************************************

দীনহিন এর ছবি

গল্পের চরিত্র গুগল করতে আছে, মেঘলা? রিয়েল ওয়ার্ল্ডে গুগল করেন, আশে-পাশে তাকান, তাইলে বদিদের খুঁইজা পাইতে বিলম্ব হওয়ার কথা না! হাসি

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

স্যাম এর ছবি

হাহাহা সুস্বাদু গল্প !
মজা পেয়েছি।
বেয়ারাদের আসা যাওয়াগুলো অতীব চমৎকার!

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক

আমি নিজেও শালা গুণীদের সম্মান করতে শিখলাম না! বদি-সদির মতো গুনীদের সম্মান না করার কারণে হুজুগে ফেবুতে এখন আনেকের চক্ষুশূল হয়ে গেলাম। চোখ টিপি

মাসুদ সজীব

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

আঙ্কেল্ভাই এর কপাল খারাপ। বেচারা প্রথম দিনেই উল্টাবেগে চলতে গেছেন, একটা দিন পরে গেলেই আর ধরাটা খাইতে হইত না।

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনি তো ভয়াবহ লেখেন!! গল্পটা খুবই চলতি আর খুবই আটপৌরে। নিশাচর জীব।

আয়নামতি এর ছবি

চলুক
লাথি খাওয়ার চান্স নেই যখন, তখন আমিও জান্তে চাই বদি'টা কে?
গল্প পড়ে মজা পেলুম।
***
অ:ট:
#
'ছায়াগোলাপ' বইয়ের শেষ গল্প চন্দন লাগে বিস্বাদ' এর শুরুতেই যে কবিতাটা আছে ওটা কী লেখকের নিজের কবিতা?

#
আপনার একটা গল্প পড়েছিলাম, নাম ধাম কিচ্ছু মনে নেই...বিষয়বস্ত্ত খানিকটা এমন .... 'যে বাড়িতে আগে থাকতো তারা অনেক বছর পর সেই বাড়িতে এসেছে ছেলেটা। স্মৃতির ভারে একসময় নুয়ে পড়ে...' প্লিজ বলবেন গল্পটার নামটা? ওটা নিয়ে মুভি করার কথা হচ্ছিল মন্তব্যের ঘরে। মনে পড়েছে? আমার খুব খুব প্রিয় গল্প ওটা। খুঁজে পাইনি বলে আপনার দ্বারস্হ হলেম।

হিমু এর ছবি
কল্যাণ এর ছবি

এক্কেরে শোয়ায় ফেলছেন!

(অফটপিকঃ ইয়ে মানে চন্ডী'র দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা নাই হিম্ভাই ?!?!! ইয়ে, মানে... !?!?#@?)

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

হিমু এর ছবি

এককাপ চা খাইতে পারি না আপনাদের জ্বালায়।

এক লহমা এর ছবি

হো হো হো

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

কল্যাণ এর ছবি

এহহহ, খালি হাসলে চল্পে? কোথায় ছাই নিয়া চাইপা ধর্বেন তা না........

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

এক লহমা এর ছবি

আর ছাই। চন্ডী-র দেখা চাই ঠিক-ই। কিন্তু আপনের অনুস্মৃতি-র ১ নং-এর পর দেড় বছরের বেশী পার হয়ে গেছে। শেষ লেখার পর প্রায় দশ মাস পার হয়ে গেছে। এই সব কথা বলে কে! মন্তব্য করতেও আর আপনারে প্রায় দেখাই যায়না, সেই কথাই বা বলে কে! দলে দলে পুরানো সচলরা প্রায় অদৃশ্য। ছাই-এর বড়ই আকাল! হাসি

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

কল্যাণ এর ছবি

ইয়ে, মানে... বুঝেনইতো লইজ্জা লাগে

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

সুবোধ অবোধ এর ছবি

কি সব চাইপা চুইপা ধর্তে কন!!! চিন্তিত
চোখ টিপি

কল্যাণ এর ছবি

আপনে কোনডা বুঝছেন কন্দেখি? চিন্তিত

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

কল্যাণ এর ছবি

ভাইরে এত বড় কাপে চা খাওয়া কি ঠিক চিন্তিত

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

মন মাঝি এর ছবি

আরে রাখেন আপনার ছোট-বড়! এইগুলা আপেক্ষিক ব্যাপার জানেন না? এইটা অনেকটা একটামাত্র সেকেণ্ড হ্যান্ড ভাঙা টাটা ন্যানো কিনতে জিহ্‌বা বাইরায়া যায় এমন লোক শার্ট-প্যান্টের প্রতি পকেটে-পকেটে ৫ মিলিয়ন ডলারের ল্যাম্বোরঘিনি ভিনিও রোডস্টার যে রাখে তাকে বলা - ভাইরে এত দামি গাড়িতে চড়া কি ঠিক? চিন্তিত

মুদ্দা কথা হইলো, আপনার-আমার মত আম-পাব্লিক উনার জন্য একটা নর্মাল চায়ের কাপের ভিতর শয়ে শয়ে নৌকা ও মাঝিমাল্লাসহ দেশি নৌকা-বাইচ থেকে শুরু করে পালতোলা আমেরিকা'স কাপ ইয়টিং চ্যাম্পিয়নশীপ প্রতিযোগিতা পর্যন্ত আয়োজন করতে পারব। এ্যালা বুঝেন কার সাইজ কত! আমাদের যত বড় মুখ না তত বড় চায়ের কাপ নিয়া খোটা দেওয়া উচিৎ না, বুঝছেন? এইবার উনারে একটু শান্তিমত চা খাইতে দ্যান! দেঁতো হাসি

****************************************

হিমু এর ছবি

কাপটা বড় না। চুমুকগুলি সূক্ষ্ম। এক এক চুমুকে ধরেন গিয়ে ন্যানোলিটার পরিমাণ চা খাই।

কল্যাণ এর ছবি

চলুক

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

কল্যাণ এর ছবি

জটিল কথা বলেছেন মাঝিদা চিন্তিত

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

আয়নামতি এর ছবি

অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা এবং কবির জন্য দাঁত খিঁচানি(কেন লিখেন্না আর কবিতা??)

প্রিয়তে কিভাবে নিতে হয় পোস্ট? হাচলদের কী এই সুবিধা আছে? একটু বললে খুশি হতেম।
বিরক্ত করে থাকলে তাহা নিজ গুণে হজম করিয়া লইবেন পিলিসস দেঁতো হাসি

হিমু এর ছবি

সচলায়তনে "প্রিয়তে নেওয়ার" সিস্টেম মনে হয় নাই। সচল-হাচল কেউই পারে না। তার চেয়ে আবার লাগলে আওয়াজ দিয়েন।

আয়নামতি এর ছবি

বুঝলাম। বুকমার্ক করে নিলাম। ধন্যবাদ।

রকিবুল ইসলাম কমল এর ছবি

ইউরোপ, আমেরিকা, মিডিলইস্টের ইমিগ্রেশন পার হয়েছি অনেকবার কিন্তু কেউ জিজ্ঞেস করে নাই- আপনি কি ´বদি´র দেশের মানুষ?
শুধু নরওয়েতে একজন জিজ্ঞেস করছিলো আমি ´বদি´ কে চিনি কিনা কারণ কাকতালীয় ভাবে সে বাংলাদেশের একজন ´বদি´র এক পুরুস্কার বিতরণের অনুষ্ঠানে বাদ্য বাজাইয়াছিল। কিন্তু সে এটাও চিন্তা করছে, যত বড় পুরুস্কারই সে পাক না কেন, বাংলাদেশের সব মানুষ তাকে নাও চিনতে পারে।

সুবোধ অবোধ এর ছবি

বেশ বেশ!

তাহসিন রেজা এর ছবি

দারুণ!

------------------------------------------------------------------------------------------------------------
“We sit in the mud, my friend, and reach for the stars.”

অলীক জানালা _________

সবজান্তা এর ছবি

আমি তো একদম টিউবলাইট হয়ে গেলাম। পুরা লেখাটা পড়তে পড়তে ভাবলাম "কোকেন সম্রাট" বদি মনে হয় আওয়ামী লীগের ইয়াবা সম্রাট, টেকনাফের সাংসদ বদি। মন্তব্যের ঘরে এসে বুঝতে পারলাম, বদিটা আসলে কে।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

বদিকে না হয় চিনতে পারলে, কিন্তু বদি আলমকে কি চেনো? এই দেখো বিখ্যাত 'বদি আলম'।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

আমার নিকটতম প্রতিবেশী বদি আলমকে যারা চিনতে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে নিন্দা নিন্দা নিন্দা!! চাল্লু
বদির দেশের মানুষ হয়েও দুনিয়ার কোন এয়ারপোর্টে আমাকে বদির কথা কেউ জিজ্ঞেস না করায় দুক্ষু দুক্ষু দুক্ষু!! ওঁয়া ওঁয়া

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

অতিথি লেখক এর ছবি

যারা বদিকে চিনতে পারেন নাই, তাদের পাসপোর্ট জব্দ করা হোক। আর যাদের পাসপোর্ট নাই তাদের জাতিয় পরিচয় পত্র জব্দ করা হোক। ছি!! বাঙ্গালি এত বিস্মৃতিপরায়ণ কেন ???

লেখায় গুল্লি

অতিথি লেখক এর ছবি

ভালোলাগল

aliahasan

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

চলুক

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

প্রোফেসর হিজিবিজবিজ এর ছবি

আহ!! এক্কেরে যায়গা মতো!! কদিন পরে উড়াল দেয়ার প্ল্যান আছে, বদির পুরো প্রোফাইল মুখস্ত করে ফেলবো কিনা ভাবছি!! চিন্তিত

____________________________

অতিথি লেখক এর ছবি

অইতো সেই পুরনো ঘটনা
আগে লীগ-দল নাম ভাংগানো পরে গডফাদার। ওই একই কক্সবাজার এর বিএনপির নেতা আগে রোহিংগাদের ভোটার করত, রাবার বাগান উজাড় করতো যেটা এখনকার এমপি করে। সব দোষ আমাদের, দেখলাম কেন
ট্রোল

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।