বিস্ময়কর ব্যাঙ জগৎ

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি
লিখেছেন সবুজ পাহাড়ের রাজা (তারিখ: বুধ, ১৯/০৯/২০১২ - ১১:০৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মাদাগাস্কারের রংধনু ব্যাঙ

মাদাগাস্কারের রংধনু ব্যাঙ প্রাণী জগতের এক বিস্ময়। এদের বৈজ্ঞানিক নাম Scaphiophryne gottlebei, ইংরেজীতে বলে Malagasy rainbow frog। এরা দক্ষিণ-পশ্চিম মাদাগাস্কারের ইসালো ম্যাসিফ অঞ্চলের ভ্যালী দ্যস সিনগেসের পাহাড়ী ও শুকনো পাথুরে বনাঞ্চলে বসবাস করে।

এরা আকারে খুব ছোট হয়ে থাকে; স্ত্রী ব্যাঙগুলো আকারে চল্লিশ মিলিমিটার আর পুরুষ ব্যাঙ ত্রিশ মিলিমিটার পর্যন্ত বড় হয়ে থাকে। শরীর প্রায় গোলাকার। এদের পিঠের অংশটুকু মসৃন এবং সাদা, কালো, লাল, নীল, সবুজ রঙে ভরা। আর, পেটের দিকটা অমসৃন এবং ধূসর রঙের। এদের মায়াবী চোখগুলো দেখার মত বড় বড়। পোকামাকড় এদের প্রধান খাদ্য।

IUCN এদের Endangered প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। প্রতিবছর পোষার জন্য যে হারে এদের অপহরণ করা হচ্ছে, তাতে, অতি শীঘ্রই এই সুন্দর প্রাণীটি হারিয়ে যাবে। তবে, দু:সংবাদের সাথে সুসংবাদও আছে মাদাগাস্কারের ইসালো ন্যাশনাল পার্কে এদের সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ভিয়েতনামের শেঁত্তলা ব্যাঙ

ব্যাঙ জগতের আরেক বিস্ময় ভিয়েতনামের শৈবাল ব্যাঙ। এদের বৈজ্ঞানিক নাম Theloderma corticale, ইংরেজীতে বলে Vietnamese Mossy Frog। এরা সাধারণত: উত্তর ভিয়েতনামে ও ভিয়েতনামের উত্তারাংশের চীন সীমান্ত সংলগ্ন গ্রীষ্মমন্ডলীয় বনাঞ্চলের আদ্র পাহাড়ী এলাকা, আদ্র নিঁচু এলাকা, পাথুরে এলাকা ও পরিষ্কার বিল অঞ্চলে বসবাস করে।

এদের ত্বক বেশ খসখসে। এদের সারা শরীরে শেঁত্তলা মত দেখতে সবুজ ও বাদামী রঙের অনেকগুলো কন্দ (বিচির মত দেখতে) থাকে, যেগুলো দেখে মনে হয় পাথরের উপর জন্মানো শেঁত্তলা। এরা আকৃতিতে মোটামুটি বড়ই; স্ত্রী ব্যাঙগুলো একশ মিলিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে, পুরুষ ব্যাঙগুলো একটু ছোট হয়ে থাকে। এরা ঝিঁঝি পোকা, নানাবিধ পোকামাকড়, মাছি খেয়ে থাকে।

ভিড্যুব্যাম লিংক (ইউটিউবে আপলোড করতে পারলাম না, তাই ভিড্যুব্যামে আপলোড দিলাম)

IUCN এদের ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। প্রতিবছর পোষার জন্য যে হারে এদের অপহরণ করা হচ্ছে, তাতে, অতি শীঘ্রই এই সুন্দর প্রাণীটি হারিয়ে যাবে। এছাড়া, এদের আবাসভূমিতে মানুষের আগ্রাসন তো রয়েছেই। তবে, আশার কথা হল, ভিয়েতনাম সরকার এদের সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

দৈত্য ব্যাঙ

মধ্য-পশ্চিম আফ্রিকার ক্যামেরুনের স্যানাঙ্গা অববাহিকা হতে শুরু করে নিরক্ষীয় গিনির বেনিতো নদীর অববাহিকা অঞ্চলে দৈত্য ব্যাঙ পাওয়া যায়। এদের বৈজ্ঞানিক নাম Conraua goliath, ইংরেজীতে বলে Goliath frog।

দৈত্য ব্যাঙ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ব্যাঙ। এরা পনেরো ইন্ঞি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে আর ওজনে সাড়ে তিন কেজির কাছাকাছি। এদের পিঠের অংশ কন্দে ভরা এবং সুবজাভ বাদামী, পেটের অংশ হলদে সবুজ।
দৈত্য ব্যাঙ অন্য প্রজাতির ব্যাঙ, কাকড়া, সাপ, ছোট কচ্ছপ, মাছ, বাদুর, কীটপতঙ্গ, পোকামাকড়, ফড়িং, মাছি খেয়ে থাকে।

IUCN এদের Endangered প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
দৈত্য ব্যাঙ প্রাগ-ঐতিহাসিক প্রাণী, অথচ, কোটি কোটি বছর ধরে নানান বির্বতনে বেঁচে থাকা এই প্রাণী কেন আজ বিলুপ্তির মুখে?
কারণ:
• পোষার জন্য এদের শিকার করা হয়।
• ক্যামেরুন ও নিরক্ষীয় গিনি অঞ্চলের মানুষের দৈত্য ব্যাঙ খায়, নিয়মিতভাবে এদের খাওয়ার জন্য শিকার করা হয়।
• এদের বসতি আছে এমন নদীগুলোতে মাছ শিকার করতে যেয়ে জালে ধরা পড়ে দৈত্য ব্যাঙ, জেলেরা ছেড়ে দেয়ার বদলে এদের খাওয়ার জন্য ধরে নিয়ে যায়।
• কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য নি:সরণ।
• ইন্জিনচালিত জলযানগুলোর তেল নি:সরণ।

ক্যামেরুন ও নিরক্ষীয় গিনির দুর্বল প্রাণী সংরক্ষণ ব্যবস্থা পারবে কি দৈত্য ব্যাঙদের রক্ষা করতে নাকি, হারিয়ে যাবে এই প্রাগ-ঐতিহাসিক প্রাণীটি? মূল্য দিবে মানুষের নিমর্মতার।

পুটো ব্যাঙ

পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট ব্যাঙ হল পুটো ব্যাঙ। পুটো ব্যাঙ পাওয়া যায় পাপুয়া নিউগিনির বনাঞ্চলে। পুর্নবয়স্ক পুটো ব্যাঙের দৈর্ঘ্য মাত্র এক সেন্টিমিটার। ক্রিসটোফার অস্টিন ও এরিক রিটমেয়ার ২০০৯ সালে নিউ গিনিতে পূর্বাঞ্চলে অ্যামাও নদীর তীরে পুটোদের খুঁজে পান। এদের বৈজ্ঞানিক নাম Paedophryne।

আদর করে বাংলায় এদের পুটো নাম দিলাম। হাসি

.
রেফারেন্স:
Encyclopedia of Frogs & Toads (Complete Pack Set), edited by Mac Peterson.


মন্তব্য

তানিম এহসান এর ছবি

খাইসে! ক্যাটেগরি একটু কমিয়ে দিলে মনে হয় ভালো লাগতো ভাই। পুটো ব্যাঙটাই দেখতে বেশি ভালো লাগলো কেন যেন, স্মল ইজ বিউটিফুল।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

বেশি হয়ে গেছে, তাই কি? আচ্ছা কমিয়ে দিচ্ছি। হাসি

পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

নীলকান্ত এর ছবি

খাইছে।


অলস সময়

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

কেনু ভাই? হাসি

পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

তারেক অণু এর ছবি

দারুণ দারুণ!, খুব ভাল লাগছে যে আপনি নিয়মিত এদের নিয়ে লিখছেন হাততালি

টিটিকাকা হ্রদে খুব স্পেশাল এক ব্যাঙ থাকে যে কিনা চামড়া দিয়ে শ্বাস নেয়, যার জন্য তার চামড়া শরীরের তুলনায় বড়, আমরা অবশ্য তার দেখা পায় নি।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

Telmatobius culeus-এর কথা বলছেন তো। এটিও এক প্রকার বিশালাকৃতির ব্যাঙ।
এর দেখা পাবেন কি করে? এরা তো প্রায় বিলুপ্ত প্রাণী। মন খারাপ

পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

কল্যাণ এর ছবি

ব্যাংও পোষে মানুষ!!! কৈ আছি!!!

ছবিগুলোর সূত্র উল্লেখ করে দিলে ভালো হত রাজা ভাই।

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

ব্যাঙের ব্যবসায়(?) সেরকম লাভজনক। ৫০০ ডলার পর্যন্ত বিক্রি হয়।

রেফারেন্স দিয়েছি তো, ওটা শুধু বই নয়, অডিও-ভিডিও সিডি, ছবির অ্যালবামসহ বিশাল এক ব্যাঙ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহশালা।

পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

কল্যাণ এর ছবি

হাসি

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি
অতিথি লেখক এর ছবি

২ নং ব্যাঙ টা ভয়ংকর ইয়ে, মানে...

ইফতি

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

ভিয়েতনামের শেঁত্তলা ব্যাঙ কিন্তু Pet হিসেবে জনপ্রিয়। চোখ টিপি

পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

অতিথি লেখক এর ছবি

সুন্দর

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

ফাহিম হাসান এর ছবি

চমৎকার পোস্ট। সংরক্ষণের বক্তব্যটুকুও বেশ ভালো লাগল। আপনার ব্যাঙ বিষয়ক পোস্ট চালিয়ে যান। চলুক

তবে একটা কথা - Goliath frog কে প্রাগৈতিহাসিক বলা বৈজ্ঞানিকভাবে কতটুকু যুক্তিযুক্ত জানিনা। ব্যক্তিগতভাবে মনে করি prehistoric/ প্রাগৈতিহাসিক ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা বিপদজনক, অনেক সময় বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

Goliath frog বা, দৈত্য ব্যাঙ নিয়ে বিস্তারিত লিখব। সেখানে এ নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করা যাবে। হাসি

পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

মন মাঝি এর ছবি

চলুক

মাদাগাস্কারের 'লিমার' নিয়ে একটা লেখা দেন না এইবার, রাজাবাবু!

****************************************

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

লিমারদের নিয়ে পোস্ট দেয়ার চেষ্টা করব। প্রকৃতির আরেক বিস্ময় এক প্রাণী।
মাদাগাস্কার মুভির লিমার রাজা কিং জুলিয়ানের কথা মনে আছে? আমার খুব প্রিয় একটি চরিত্র।

পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

বন্দনা এর ছবি

হুম এই পোস্টটা ভালূ হয়ছে, ছবিগুলা দারুন। মানুষ ব্যাং ও পোষে, কত অদ্ভুত শখ মানুষের।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

মানুষের সখের কি আর শেষ আছে?

পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

প্রতি মুহূর্তের বেঁচে থাকাটাই তো এক আশ্চর্য বিস্ময়! লেখাটা পড়ে আনন্দ পেলুম।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

প্রতি মুহূর্তের বেঁচে থাকাটাই তো এক আশ্চর্য বিস্ময়!

দারুন বলেছেন।

পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ব্যাঙ বিষয়ে অনেক কিছু জানা হলো। লেখা চলুক।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

হাসি
পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।