প্রিয় ধর্মে-বিশ্বাসীরা...

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি
লিখেছেন সবুজ পাহাড়ের রাজা (তারিখ: সোম, ১৫/১০/২০১২ - ১১:৪০পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রিয় ধর্মে বিশ্বাসীরা,

এখন ইন্টারনেটের যুগ। এখানে তোমাদের ধর্মকে নিয়ে বিদ্রুপ করা হবে; এর সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়াটাই উত্তম। যদি তোমরা এসবের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হও, তাহলে এখন যা হচ্ছে, তার পুরাবৃত্তি হতে থাকবে।

কিছু উগ্রবাদী ভিডিও ক্যামেরা ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে তোমাদের অন্ধ আবেগকে পুঁজি করে সারা পৃথিবীতে সাম্প্রদায়িক সংঘাত লাগিয়ে দিল। ফলশ্রুতিতে ক্ষতিগ্রস্থ হোচ্ছ তোমরাই। ওদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের ক্ষতি করো না।

বর্তমানে সারা মুসলমান বিশ্বে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে; কেন?
তোমরা মুসলমানরা কি এতটাই অন্ধ হয়ে গিয়েছ যে, আসল দৃশ্যটা দেখতে পাচ্ছো না?
ক্যালিফোর্নিয়ায় নাকোলা নামের এক ব্যাংক জালিয়াতকারী দৈনিক পঁচাত্তর ডলারের বিনিময়ে 'অভিনয় কলাকুশলী' ভাড়া করে নিম্নমানের ভিডিও রেকর্ডার দিয়ে মুসলমানদের নবী মুহাম্মাদ (সা.)-কে নিয়ে একটি নিম্নমানের কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরী করে। নাকোলা ভিডিওটির প্রায় চৌদ্দ মিনিটের একটি ট্রেইলার ইউটিউবে আপলোড করে, যা এক সপ্তাহ পর্যন্ত তেমন কারো নজরেই আসেনি। পরবর্তীতে, ভার্জিনিয়ার এক ইসলামবিদ্বেষী ভিডিও ট্রেইলারটির সাথে আরবী সাবটাইটেল যুক্ত করে মিশরের সাংবাদিক ও এ্যাকটিভিস্টদের কাছে প্রেরণ করে। মিশরীয় এক টিভি চ্যানেল এর কিছু অংশ সম্প্রচার করে। একজন মিশরীয় রাজনীতিবিদ এর নিন্দা জানায়, কিছু মুসলমান ইমাম সাবধানবাণী প্রচার করে। ধর্মে বিশ্বাসীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ফেসবুক, টু্ইটারের মত সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোর মাধ্যমে 'ধর্মবিশ্বাসী ধর্মান্ধরা' কায়রোর আমেরিকান দূতাবাস ঘেরাও করে। উগ্রতা ও সহিংসতা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। লিবিয়ার আমেরিকান দূতাবাসে একদল ধর্মান্ধ আক্রমন করে, মারা যায় আমেরিকান রাষ্ট্রদূত। ধর্মান্ধদের উগ্রতা ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে।

সারাবিশ্বে মুসলমানদের প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়লে কুরুচিপূর্ণ ভিডিওটির নির্মাণকারী উগ্রবাদী নাকোলা নিজেকে ইজরাইলী ইহুদী ও ভিডিওটি কয়েকজন ইহুদীদের প্রদত্ত অর্থে নির্মিত বলে দাবী করে। কিন্তু নাকোলার এই দাবী মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এরপর নাকোলা নিজেকে কপটিক খ্রীস্টান বলে দাবী করে এবং নাকোলাকে ভিডিওটি বানাতে সাহায্যকারী ব্যাক্তিটি নিজেকে বৌদ্ধ বলে দাবী করে।

ভিডিওটি আমেরিকায় নির্মিত অথচ ধর্মান্ধরা সুদানের ব্রিটিশ ও জার্মান দূতাবাসে হামলা চালায়। ডাচরা ভিডিও নির্মাণের সাথে জড়িত সন্দেহ করে মিশরে ধর্মান্ধরা ডাচ দূতাবাসেও হামলা চালায়। সারাবিশ্বে এভাবে ধর্মান্ধরা সহিংসতার পথ অবলম্বন করে।

ভিডিওটি নির্মাণের সাথে জড়িত মানুষরা বলেছিল, ইসলাম সহিংস ধর্ম। তাদের দাবীর প্রমাণস্বরূপ ভিডিওকে কেন্দ্র করে 'মুসলমান ধর্মান্ধদের' করা সহিংস কাজগুলোকে দেখাচ্ছে।
''মুসলমানরা সহিংস কাজ করতে সবসময় মুখিয়ে থাকে, ইসলাম ধর্ম সমাজের জন্য ক্যানসার'', বলছিল ইনোসেন্স অব মুসলিম নিমার্ণের সাথে জড়িত ব্যাক্তিরা, ''ভিডিওটি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘর্ষ প্রমাণ করে ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানরা কতটা বর্বর এবং আমাদের নির্মিত ভিডিওটির বিষয়বস্তু সঠিক''।

উগ্রবাদীদের উদ্দেশ্য সফল করার জন্য ধর্ম বিশ্বাসীদের অভিনন্দন!

বাকস্বাধীনতা ও ইন্টারনেটের এই যুগে এসব ভিডিওর প্রচার নিষিদ্ধকরণের আন্দোলন করা প্রকৃতপক্ষে নিষ্ফল। আর প্রচার নিষিদ্ধ করলেও প্রত্যাশিত ফল মিলবে, এমন আশা করাটা বোকামী। ইন্টারনেটের এই যুগে এইসব ভিডিও ঠিকই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে যাবে।

আমেরিকার ব্যাংক-জালিয়াতি আইন অনুসারে ব্যাংক-জালিয়াতির কাজে অভিযুক্ত এই ভিডিওটির পরিচালক নাকোলা অনুমতি ছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহার না করতে পারার কথা। আইন নাকোলাকে এই কাজ থেকে বিরত করতে পারেনি। আইন পারেনি ভার্জিনিয়ার সেই ইসলামবিদ্বেষী অনলাইন ইউজারকে আরবী অনুবাদসহ ভিডিও ট্রেইলারটি অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়া থেকে বিরত রাখতে।

অনলাইনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া ধর্মকে বিদ্রুপ করা ভিডিও, কার্টুন, ব্ক্তব্যগুলো ধর্মীয় কারণে বিশ্বজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখছে। অন্য সব সময়ের চেয়ে বর্তমানে মানুষ হত্যা করা খুব সহজ। বর্তমানে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ট রাষ্ট্রগুলোতে সন্ত্রাসীরা মানুষ মারতে ব্যবহার করে বোমা, আমেরিকায় সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করে গুলি, জাপানে ব্যবহার করেছিল গ্যাস, ওকলাহামা শহরে সন্ত্রাসীরা সারের তৈরী বোমা ব্যবহার করেছিল, এগারো সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করেছিল বক্স কাটার আর যাত্রীবাহি বিমান। এরপর সন্ত্রাসীরা চালু করল চিঠিতে এনথ্রাক্স বিষের ব্যবহার।

ধর্ম নিয়ে বিদ্রুপাত্মক কাজ নিয়ন্ত্রণ করা বাস্তবিক অর্থে সম্ভব না। বর্তমানে যেকোন ধর্মকে ব্যাঙ্গ করে বানানো ভিডিও ইন্টারনেটের কল্যাণে মুহুর্তকালের মধ্যে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব ভিডিওগুলোকে উসকানির কাজে খুব সহজেই ব্যবহার করা যায়। কিন্তু ধর্মবিশ্বাসীরা সচেতন হলে এসব উসকানিমূলক কাজগুলো হালে পানি পাবে না।

শুধুমাত্র মুসলমান ধর্ম নয়; হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান, ইহুদীসহ সব ধর্ম নিয়ে ব্যাঙ্গ করা প্রচুর ভিডিও ইউটিউবে আছে। এসব ভিডিওর কিছু আছে শিক্ষামূলক, আবার কিছু ভিডিও আছে কুরুচিপূর্ণ। কিছু উসকানিমূলক ভিডিও আছে, যেগুলো ইচ্ছা করে উগ্রবাদীরা বানিয়েছে ও আপলোড করেছে দুপক্ষের মাঝে সংঘাতমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য। ইনোসেন্স অব মুসলিম নির্মাণের সাথে জড়িত ব্যাক্তিদের কাজ থেকেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়। ইনোসেন্স অব মুসলিমের নির্মাতারা মর্মনদের বিরুদ্ধেও কাজ করেছে।

তোমরা ধর্মবিশ্বাসীরা যতদিন এভাবে উগ্রবাদীদের ফাঁদে পা দিবে, ততদিন সহিংস ঘটনা আর রক্তপাত হতেই থাকবে।
পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তোমাদের নবীকে বিদ্রুপের মাধ্যমে উসকানীদাতা উগ্রবাদীদের তোমাদের ইচ্ছার প্রভু হতে দিও না। ঠিক তেমনি, সায় দিও না ধর্মান্ধ কাঠমোল্লাদের কথাকে, যারা তোমাদের সহিংস কাজ করতে উৎসাহিত করে।
বুদ্ধি খাটাও, বিবেককে ব্যবহার কর, সহিংসতা কোন কিছু সমাধান হতে পারে না।
তোমরাই বল, তোমাদের ইশ্বরের বা, ধর্মের ধারণা কি এতটাই ঠুনকো যে কিছু উগ্রবাদীদের কথায়, ভিডিওতে, কার্টুনে তা ভেঙে পড়বে?

- উইলিয়াম সেইলটন।

* বাংলাটি মূল ইংরেজীর ভাবানুবাদ।
* মূল ইংরেজীর লিংক

ব্যাক্তিগত মতামত:

আমি নিজে একজন 'সংশয়বাদী ও নিয়মবাদী'।
'ধর্মান্ধদের' কাজ আর 'উগ্রবাদী-নাস্তিকদের' কাজ আমার কাছে সমার্থক; এই দু'ধরণের ব্যাক্তিরা 'উগ্রবাদী'।

নাকোলা যা করেছে, তা থেকে বলা যায়, ধর্মে বিশ্বাসী হলে সে ধর্মান্ধ, নাস্তিক বা, মধ্যমপন্থার কেউ হলে সে উগ্রবাদী। নাকোলার তৈরী করা ভিডিওর প্রতিবাদে লিবিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের 'মুসলমানদের যে অংশ' সহিংসতা দেখিয়েছে এবং ইউটিউব বন্ধ করার জন্য আন্দোলন করেছে, এরা ধর্মান্ধ।

সহিংসতা-ইউটিউব বন্ধ করা কোন সমাধান নয়। মুসলমানদের উচিত ছিল নাকোলার ভিডিওর উপাদানগুলোর ভুলগুলো দেখিয়ে দিয়ে একটি ভিডিও নির্মাণ করা, সেমিনার করা কিংবা, সভ্য উপায়ে প্রতিবাদ করা। যেহেতু ভিডিওর প্রচার ইন্টারনেটের কারণে বন্ধ করা সম্ভব নয়, মুসলমানদের উচিত ছিল প্রথম পন্থাটি অবলম্বন করা।

নাকোলার মত ধর্মান্ধ কিংবা উগ্র নাস্তিকরা প্রকৃতপক্ষে উগ্রবাদী, এরা সর্বদা ব্যস্ত চারপাশে হট্টগোল লাগাতে। এদেরকে সুযোগ করে দিচ্ছে বিশ্বাসীরাই।

আস্তিকদের ধর্মবিশ্বাস কি এতই ঠুনকো যে উগ্রবাদী, ধর্মান্ধ, উগ্র-নাস্তিক বা, উগ্র-মধ্যপন্থাবলম্বীদের কথায়, ভিডিওতে, কার্টুনে নিজেদের ধর্মের ভিত নড়ে যায়?
সভ্যতার পথ অবলম্বন করুন।
ধর্ম নিয়ে যারা বাজে মন্তব্য করে, কুরুচিপূর্ণ ভিডিও বানায়, প্রবন্ধ বা, গল্প লিখে, কার্টুন আঁকে; ধর্মবিশ্বাসীদের উচিত এদের জবাব দেয়া সেমিনার, আলোচনা, ভুলগুলো দেখিয়ে ভিডিও পোস্ট, প্রচারমাধ্যমে প্রবন্ধ লেখা ইত্যাদি সভ্য উপায়ের মাধ্যমে।
প্রতিবাদ করতে হলে তাও সভ্য উপায়ে করুন, সেজন্য আইন-আদালত আছে।

সহিংসতার পথ অবলম্বন করা, বাক-স্বাধীনতার টুঁটি চেপে ধরা, ইউটিউব বন্ধ করার মাধ্যমে ধর্মবিশ্বাসীরা শুধুমাত্র নিজেদের ক্ষতিই করছে। আর ধর্মান্ধদের এসব নৃশংসতার বলি হচ্ছে নিরীহ মানুষ।
বাংলাদেশের রামুতে 'ধর্মান্ধ-মুসলমানদের' দ্বারা বৌদ্ধরা, মায়ানমারে 'ধর্মান্ধ-বৌদ্ধদের' দ্বারা রোহিঙ্গা মুসলমানরা, ভারতে 'ধর্মান্ধ হিন্দুদের' দ্বারা মুসলমান ও খ্রীস্টানরা নিপীড়িত হচ্ছে।
তেমনি সোভিয়েত রাশায় আমরা দেখেছি নাস্তিক্যবাদের নামে উগ্রতা কিভাবে ধর্মবিশ্বাসীদের সাম্প্রদায়িক-ধোলাই করেছে।

অন্য ধর্মের প্রতি ও অন্য মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হলে এসব অমানবিক ঘটনাগুলো কখনোই বন্ধ হবে না। সবকিছুর উপরে মানুষ, মানবতা-এই চিন্তাধারা না আসলে সংঘাতপূর্ণ এই পৃথিবীতে শান্তি আসবে না।

মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান-ইহুদী-নাস্তিক-মধ্যপন্থীরা পরস্পরের বিশ্বাসের প্রতি সহানুভূতিশীল ও শ্রদ্ধাশীল হবে, এই আশা করি।

সকল প্রকার ধর্মান্ধতা নিপাত যাক!
নাস্তিক্যবাদের নামে উগ্রতা নিপাত যাক!
উগ্রতা নিপাত যাক!

মানবতার জয় হোক!


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

অনুবাদ করেছেন দেখে ভালো লাগলো। এখনো পড়িনি, পরে আরেকবার মন্তব্য করব। আপাতত বলি, মানবতার জয় হোক!
-রু

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

মানবতার জয় হোক!

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

লাফাং মন্তব্য।

ব্যাঙের ছাতা এর ছবি

চলুক
"মানবতার জয় হোক"

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ অনুবাদ করার জন্য।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
মানবতার জয় হোক!

সাফিনাজ আরজু  এর ছবি

ধর্মান্ধতা নিপাত যাক।
মানবতার জয় হোক !!!

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

ধর্মান্ধতা নিপাত যাক!
মানবতার জয় হোক !!

অতিথি লেখক এর ছবি

ধর্মান্ধতা নিপাত যাক
মানবতার জয় হোক

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

ধর্মান্ধতা নিপাত যাক!
মানবতার জয় হোক !!

ধুসর জলছবি এর ছবি

সকল প্রকার ধর্মান্ধতা নিপাত যাক!
উগ্র-নাস্তিক্যবাদ নিপাত যাক!
নৈরাজ্যবাদ নিপাত যাক!
মানবতার জয় হোক!

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

সকল প্রকার ধর্মান্ধতা নিপাত যাক!
নাস্তিক্যবাদের নামে উগ্রতা নিপাত যাক!
নৈরাজ্যবাদ নিপাত যাক!!!
মানবতার জয় হোক!!!!

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

চমৎকার কাজ সবুজ পাহাড়ের রাজা।
উগ্রতা এবং অসহিষ্ণুতা নির্মূল হোক।
শ্রদ্ধা করবার প্রবণতা জেগে উঠুক সবার মাঝে

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

উগ্রতা এবং অসহিষ্ণুতা নির্মূল হোক!
শ্রদ্ধা করবার প্রবণতা জেগে উঠুক সবার মাঝে!!

তাপস শর্মা এর ছবি

মূল বক্তব্যের সাথে সহমত চলুক

০২

ধর্মান্ধদের' কাজ আর 'উগ্রবাদী-নাস্তিকদের' কাজ আমার কাছে সমার্থক; এই দু'ধরণের ব্যাক্তিরা 'নৈরাজ্যবাদী'।

দ্বিধা আছে। এটা সমার্থক নয় মনে হয়। এই প্রসঙ্গে অরফিয়াস'কে কোট করছি - উগ্র আস্তিক বোমা মারে আর উগ্র নাস্তিক কেবল তর্ক করে

উগ্র নাস্তিক আর উগ্র আস্তিককে এক পাল্লায় মাপা যায় বলে মনে হয়না। এর অনেক কারণ আছে। উপরে একটা বললাম মাত্র

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

মতামতের জন্য ধন্যবাদ তাপস ভাই।

ধর্মান্ধ আস্তিক ফিল্ডে যেয়ে মানুষ মারে আর উগ্রবাদী নাস্তিক সংঘাতে সরাসরি ইন্ধন দেয়। দুজনেই কিন্তু নৈরাজ্যবাদী, দুজনেই নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। নৈরাজ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে দুজনেই সমান।

উগ্র নাস্তিক কেবল তর্ক করে

তর্ক-বিতর্কে অংশ নেয়া নাস্তিককে 'উগ্রবাদী' বলা যায় না। কারণ, 'উগ্রবাদী নাস্তিক' তর্ক-বিতর্কে অংশ নেয় না, এরা উসকানি দেয়।

হিমু এর ছবি

ধর্মান্ধ আস্তিক ফিল্ডে যেয়ে মানুষ মারে আর উগ্রবাদী নাস্তিক সংঘাতে সরাসরি ইন্ধন দেয়।

আপনার পর্যবেক্ষণটা ইন্টারেস্টিং। আপনি এটাকে এবার তথ্য দিয়ে করোবোরেট করুন।

৫ জন "উগ্রবাদী নাস্তিকের" নাম বলুন যারা সংঘাতে সরাসরি ইন্ধন দিয়েছে।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

উগ্রবাদী নাস্তিকদের দুটো ভাগে ভাগ করছি:

এক) যারা সরাসরি সংঘাত/নৈরাজ্য (Anarchy) সাথে সরাসরি জড়িত ছিল।
স্ট্যালিন।
ইয়েভজেনি তুচকোভ।
ক্লেমেন্ট গটওয়াল্ড।
এনভার হোজ্জা।
পলপট, প্রমুখ।

দুই) যারা সংঘাত/নৈরাজ্যতে ইন্ধন/উসকানি দেয়:
আনাতোলি লুনাকারাস্কি।
ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যাকইয়ার্ড স্ক্যাপটিক দল।
জামার্নির ব্যাডার মেইনহফ গ্যাঙ।
মেরিল্যান্ডের জেমস লী।
মলি নোরিস, প্রমুখ।

যুক্তি-তর্ক দিয়ে আলোচনা করা এক বিষয় আর ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা আরেক বিষয়।
আমি নিজে কোন ধর্মে বিশ্বাস করি না কিন্তু তাই বলে কোন ধর্মকে আমি বিদ্রুপ করে কিছু ফানাটিককে প্রভোক করার মাঝে কোন অর্জন দেখি না। বরং আমি যুক্তি-তর্ক-বিতর্ক-আলোচনায় বিশ্বাসী। একজন অবিশ্বাসী হিসেবে এটা আমার ব্যাক্তিগত বিশ্বাস।

হিমু এর ছবি

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহও একজন কষা নাস্তিক ছিলো। জিন্নাহর জীবদ্দশায় মুসলিম লীগের তত্ত্বাবধানে যেসব সংঘাত হয়েছে, সেগুলির জন্য আপনি উসকানিদাতা উগ্রবাদী নাস্তিকের লিস্টে জিন্নাহকে ঢুকাতে রাজি আছেন?

ফ্যানাটিকরা কীসে প্রভোকড হবে, সেটার পরিসীমাও ফ্যানাটিকরা ঠিক করে। বিদ্রুপের পরিসীমা ঠিক করার আগে স্পর্শকাতরতার পরিসীমা ঠিক করা প্রয়োজন। আপনি একবার বলছেন একজন কার্টুনিস্টকে আপনি একজন বোমাবাজের সাথে তুলনা করছেন না, আবার বলছেন এরা দুইজনই নৈরাজ্যবাদী। এটা হচ্ছে মিহি গলায় এ-ও খারাপ ও-ও খারাপ বলে কার্টুনের প্রতিবাদে বোমা মারার কাজটাকে পরোক্ষ স্বীকৃতি দেয়া।

তাপস শর্মা এর ছবি

উপরের নাম দেওয়া মানুষগুলির ফলে ঠিক কি কারণে এবং কিসের সংশ্লিষ্টতায় ( নাস্তিকতার বিচারে ) উগ্র আস্তিকদের সাথে ওদের তুলনা এবং একেবারে এদের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়াটা এসেছে? তা জানতে চাইলাম রাজা ভাই

০২

আপনি বলছেন ''যুক্তি-তর্ক দিয়ে আলোচনা করা এক বিষয় আর ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা আরেক বিষয়।'' - আচ্ছা 'ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ' করা আর 'বোমা মারা' এক হলেই ( মানে সম পর্যায়ে ) তো উগ্র নাস্তিকরা উগ্র আস্তিক এর মতো 'নৈরাজ্যবাদী' হবে নাকি ? এই ক্ষেত্রে তাহলে দেখা যাচ্ছে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ = নৈরাজ্যবাদী নাস্তিকতা ? তাই কি ? তাহলে এমন হয় যে একজন নাস্তিক যদি ধর্মের ঠুলি আর অন্ধ ধার্মিকের অপলাপ নিয়ে ব্যাঙ্গ করেন তাহলে উনি ( মানে নাস্তিক ) তিনি ( মানে আস্তিক ) একই ক্যাটাগরিতে পরবেন?

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

জিন্নাহ দলীয়ভাবে এথিইজম প্রমোট করেছে বলে আমার জানা নাই।

নৈরাজ্যবাদী/এনার্কিস্ট দ্বারা বুঝানো হয় সমাজে/অবকাঠামোতে অশান্তি সৃষ্টিকারী ও ইন্ধনদাতা। উগ্রবাদী নাস্তিক আর ধর্মান্ধরা সমাজে/অবকাঠামোতে অশান্তি সৃষ্টির দৃষ্টিকোণ হতে একই ধারায় পড়ে।

এখানে, যে বিষয়টি নিয়ে আপনার আর আমার সাথে দ্বিমত হচ্ছে সেটি অশান্তি/নৈরাজ্যের মাত্রা বিষয়ে। নৈরাজ্যের মাত্রা বিবেচনায় ধর্মান্ধ এবং উগ্র-নাস্তিকদের তুলনা হয় না।

আশা করি বিবাদভন্জন হল।

হিমু এর ছবি

স্তালিন, এনওয়ার হোজ্জা বা পল পট এথিইজম প্রমোট করতে গিয়ে সংঘাত বা "নৈরাজ্য" ঘটায়নি। স্তালিন আর পল পট প্রচুর মানুষ মেরেছে, কিন্তু সেটা নাস্তিকতার খাতিরে করেনি, নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে করেছে, গাদ্দাফির মতো। যদি জিন্নাহকে ঐ লিস্টে রাখতে রাজি না থাকেন, স্তালিন বা পল পটকে কীভাবে রাখবেন? স্তালিনকে উগ্রবাদী নাস্তিক বললে গাদ্দাফি আর হোসনী মুবারককেও উগ্রবাদী মুসলিম বলতে হয়, মুগাবেকেও উগ্রবাদী খৃষ্টান বলতে হবে।

আপনি একটা কার্টুন দেখে অশান্ত হয়ে উঠলে দুনিয়ার সব কার্টুনিস্টকেই অশান্তি সৃষ্টির দায়ে উগ্রবাদী ডাকা যায়। রাশটা টানতে হবে আপনাকে, ঐ কার্টুনিস্টকে না, কারণ অশান্তি একটা সাবজেকটিভ ব্যাপার। আপনার অশান্তির পায়ের মাপে দুনিয়ার সবাই জুতা বানাবে না। অপরাধ (সাধারণত অশান্তির অজুহাতে ধর্মান্ধরা যেটার আশ্রয় নেয়) সাবজেকটিভ ব্যাপার না। অশান্তির উত্তরে কেউ অপরাধ করলে দুইজনকে আপনি একই কবুতরের খোপে ভরে দিতে পারেন না। এখানে মাত্রার প্রশ্নও আসে না।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

প্রথম অংশের জবাবটা এভাবে দেই-
স্তালিন, এনভার হোজ্জা বা, পলপট এথিইজম প্রমোট করতে গিয়ে সংঘাত বা "নৈরাজ্য" ঘটায়নি, মানুষ মারেনি কিন্তু নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে এথিইজমের নাম ব্যবহার করে নির্যাতন করেছে।

আমার ঠিক সাল মনে পড়ছে না, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে একটা মিটিং হয়েছিল মস্কোতে, যার উদ্দেশ্য ছিল, যেভাবেই হোক স্টেট এথিইজম প্রতিষ্ঠা করা। সেই কমিটির সাথে ও এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দুজন সদস্য আনাতোলি লুনাকারাস্কি ও ইয়েভজেনি তুচকোভ জড়িত ছিল।
এই অমানবিক কাজটাও করা হয়েছিল ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য এথিইজম প্রতিষ্ঠার নাম করে।

দ্বিতীয় অংশের জবাবে বলব-
ধর্মকে বিদ্রুপ করে ধর্মবিশ্বাসীদের ধর্মের অপ্রয়োজনীয়তা বুঝানো যায় বা, বাস্তবিক অর্থে কোন অর্জন থাকে, তা আমার মনে হয় না। এরজন্য প্রয়োজন যুক্তি-তর্ক-আলোচনা।

যাই হোক, মেনি মেন, মেনি মাইন্ডস। চিন্তার পার্থক্য থাকবেই। একই পথের পথিকদের মাঝেও ভিন্নতা থাকে।

আলোচনা ভালো লাগল। হাসি চলুক

হিমু এর ছবি

ধর্মকে বিদ্রুপ করার উদ্দেশ্য তো "ধর্মবিশ্বাসীদের ধর্মের অপ্রয়োজনীয়তা বুঝানো" না-ও হতে পারে। আপনি যখন গরুর গোস্তো খান, সেটা কি কোনো হিন্দু বা বৌদ্ধকে আঘাত দেয়ার জন্য খান, নাকি নিজের প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর জন্য খান?

অরফিয়াস এর ছবি

চলুক

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

নিলয় নন্দী এর ছবি

গরুর গোস্ত নিয়ে বৌদ্ধদের কোন সংস্কার নেই @ হিমু

খেকশিয়াল এর ছবি

চলুক

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

দিগন্ত এর ছবি

স্তালিন, এনওয়ার হোজ্জা বা পল পট এথিইজম প্রমোট করতে গিয়ে সংঘাত বা "নৈরাজ্য" ঘটায়নি। স্তালিন আর পল পট প্রচুর মানুষ মেরেছে, কিন্তু সেটা নাস্তিকতার খাতিরে করেনি, নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে করেছে, গাদ্দাফির মতো।

এইটাই আসল কথা। এই বস্তুটা অনেকেই তাদের "যুক্তি"-তে ব্যবহার করে। দাড়িওয়ালা লোক খুন করলেই দাড়ির সাথে খুনের সংশ্লিষ্টতা থাকবে তার কোনও মানে নেই। পয়সার লোভে খুন করলে পয়সার লোভের সাথে সম্পর্ক থাকতে পারে।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

তাপস শর্মা এর ছবি

ধর্মান্ধ আস্তিক ফিল্ডে যেয়ে মানুষ মারে আর উগ্রবাদী নাস্তিক সংঘাতে সরাসরি ইন্ধন দেয়। দুজনেই কিন্তু নৈরাজ্যবাদী, দুজনেই নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। নৈরাজ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে দুজনেই সমান।

উঁহু। ঠিক বুঝলাম না রাজা ভাই। খোলসা করে বলেন ঠিক কিভাবে কারা ( মানে নাস্তিকরা ) এই কাজ সংগঠিত করেন। এই পৃথিবী সৃষ্টির পর কোন নাস্তিক এর কারণে ঠিক কোন কোন যায়গায় 'নৈরাজ্য' সৃষ্টি হয়েছে তার একটা রেফারেন্স দেন। দুইটারে একেবারে যেহেতু সমান করেই দিলেন, মানে আপনার ভাষায় ঐ 'নৈরাজ্যের দৃষ্টিকোণ' এইটা ক্লিয়ার হওয়া দরকার। ঠিক কিভাবে এটা হল এই ব্যাখা আর কি

০২

একটা আকাট ধর্মীয় উন্মাদ ঈশ্বরের মুতের আশ্রয় নিয়া জয়আল্লাহরিবোল বলে ঝাপাইয়া পড়ে আর সেই সংশয় আর পৈশাচিক কান্ডকে নাস্তিক নামের এক প্রাণী যখন নিজের যুক্তির দ্বারা খন্ডন করতে চান তখন তিনি যদি ওদের সম মানের হয়ে যান তাহলে ক্যামনে কি? আর ধর্মভক্ত মানেই কোন না কোনভাবে অন্ধভাবাপ্রায়ণ তো এদের চোখের ঠুলি উড়িয়ে দিতে যদি কোন নাস্তিক অধার্মিকের মতো কাজ করে তাতে কি সেও অন্ধ হয়ে গেলো? সব ক্ষেত্রে পাল্লাকে সম-পর্যায়ে নিয়ে আসা যায় না

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

খোলসা করে বলেন ঠিক কিভাবে কারা ( মানে নাস্তিকরা ) এই কাজ সংগঠিত করেন।

সব নাস্তিকের কথা তো বলি নাই। স্পষ্ট করে বলছি উগ্রবাদী নাস্তিক
আপনি উগ্রবাদী নাস্তিক আর যুক্তি-তর্ক প্রদর্শনকারী নাস্তিককে একই কাতারে সামিল করলে তার দায়ভার আপনার।

এই পৃথিবী সৃষ্টির পর কোন আস্তিক এর কারণে ঠিক কোন কোন যায়গায় 'নৈরাজ্য' সৃষ্টি হয়েছে তার একটা রেফারেন্স দেন।

আস্তিকের পক্ষে রেফারেন্স দেয়ার দায়টা আমার উপর বর্তায় কেমনে এটাই তো বুঝলাম না।

একটা আকাট ধর্মীয় উন্মাদ ঈশ্বরের মুতের আশ্রয় নিয়া জয়আল্লাহরিবোল বলে ঝাপাইয়া পড়ে আর সেই সংশয় আর পৈশাচিক কান্ডকে নাস্তিক নামের এক প্রাণী যখন নিজের যুক্তির দ্বারা খন্ডন করতে চান তখন তিনি যদি ওদের সম মানের হয়ে যান তাহলে ক্যামনে কি?

নাস্তিক আর ধর্মান্ধ সমান এই কথা লেখলাম কোন জায়গায়?
আপনি যদি উগ্রবাদী নাস্তিক আর যুক্তি-তর্ক প্রদর্শনকারী নাস্তিককে একই দৃষ্টি ভঙ্গিতে দেখেন, তার দায় আমার না।

আর ধর্মভক্ত মানেই কোন না কোনভাবে অন্ধভাবাপ্রায়ণ তো এদের চোখের ঠুলি উড়িয়ে দিতে যদি কোন নাস্তিক অধার্মিকের মতো কাজ করে তাতে কি সেও অন্ধ হয়ে গেলো?

আন্ডারলাইন করা অংশের বক্তব্য পরিষ্কার না।

তাপস শর্মা এর ছবি

এত দায়ভার চাপালে তো চলেনা রাজা ভাই। যেভাবে বলেছি সেটা নাস্তিকতার মানদন্ডেই বলেছি। উগ্র নাস্তিকতার পরিসীমাটা ঠিক কোন যায়গায় ক্ষতিকর তাই জানতে যাবতীয় প্রশ্নের অবতারণা

০২

ওটা আস্তিক ছিল না, নাস্তিক ছিল। ঠিক করে দিয়েছি। ওটা নাস্তিক হবে

০৩

উঁহু। হল না। ব্যাপারটা ঠিক এমন কি তাহলে - উগ্র নাস্তিক = ধর্মীয় মৌলবাদী = সমার্থক ? ( প্রথম মন্তব্যে উগ্র নাস্তিক এর কথাই বলেছি )

০৪

পরিষ্কার করি তাইলে। একজন ধর্মপরায়ণ মানুষ কোন না কোনভাবে অন্ধ হন ধর্মের ব্যাপারে। তো এদের প্রত্যক্ষ ইন্ধন না থাকলেও ধর্মীয় আগ্রাসনে এদের পরোক্ষ সমর্থন থেকেই যাই ( জাস্টিফিকেশনে ৯০ ভাগ তো বটেই )। তো একজন উগ্র নাস্তিক এদের এই ধর্মীয় আ(অনা)চার এর বিপক্ষে গিয়ে যদি কোন কান্ড ( এটাকেই অধার্মিকে মতো, মানে ধর্মহীন কাজ ) করেন; ধরুন একেবারে এক্সট্রিম - মন্দিরের মানে কুৎসা রটানো, ঈশ্বরের ব্যাঙ্গ করা, কোন ধর্মীয় পান্ডাকে দৌড়ানি দেওয়া, মন্দিরের সামনে মদ্যপান, বোতল ভাঙা ইত্যাদি ( - এগুলি এক্সট্রিম ) -- তাহলে এর পরিপ্রেক্ষিতে কি ঐ উগ্র নাস্তিক এবং একজন উগ্র আস্তিক সম পর্যায়ে চলে আসে? প্রশ্নটা একটা আবর্তে যাতে ঘুরপাক না খায় তাই এই করে বললাম। মানে ঐ প্রথম কথাটাই যে একজন উগ্র নাস্তিক বোমা মারেনা, মানুষ মারেনা, মন্দির মসজিদ ক্যাথিড্রাল ভাঙ্গেনা, ধর্ষণ করেনা কিংবা নাস্তিকতার নাম দিয়ে বেলেল্লাপনা করেনা। তাহলে উগ্র আস্তিক আর উগ্র নাস্তিক কি করে 'সমান' হয়ে যান?

[ এডিটেডঃ কিছু যায়গায় আস্তিক ও নাস্তিক দুই বাক্যে সমস্যা ছিল ]

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

চলুক

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

পড়ার জন্য ধন্যবাদ পৌঢ় দা।

ধর্মান্ধতা ও উগ্রবাদীতা নিপাত যাক!

সজল এর ছবি

নাকোলা কি একজন উগ্র নাস্তিক? কিংবা নিদেন পক্ষে একজন নাস্তিক? তার ধর্মীয় পরিচয়তো সব খানেই দেখি কপটিক খ্রিস্টান! সব সময় ব্যালেন্স করার চেষ্টাটা শেষ বিচারে ফেয়ার হয় না।
বোমা মেরে মানুষ উড়িয়ে দেয়া আর ধর্মকে মক করে কার্টুন/সিনেমা বানানোকে এক পাল্লায় মাপাটা ন্যায়বিচার নয়।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

সজল ভাই বোধ করি পোস্টটা ঠিক মতে পড়েন নাই।

'নৈরাজ্য সৃষ্টির' দৃষ্টিকোণ থেকে ধর্মান্ধ এবং 'উগ্রবাদী নাস্তিক' সমার্থক কথাটা বলেছিলাম, সেটা পোস্টে বেশ কয়েকবার ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেছি।

পোস্টে বোমা মেরে মানুষ হত্যার সাথে উসকানিমূলক কার্টুন আঁকা বা, ভিডিও নিমার্ণের তুলনার মত নাবালকীয় চেষ্টা করা হয় নাই।

সজল এর ছবি

এক বারতো পড়ছিলাম। ঠিক আছে, আরো দুই বার ঠিক মত পড়ে তারপর আবার জবাব দিতেছি।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

সজল ভাই মনে হয় মাইন্ড করলেন। সর‌্যি বস যদি কথা দিয়া হার্ট কইরা থাকি। মন খারাপ

সজল এর ছবি

আমি আপনার কথা অবিকল কোট করে আমার মন্তব্য করিনি, বরং আপনার পুরা লেখাটা (মূলত আপনার নিজের বক্তব্যটুকু) থেকে আমার উপলব্ধিটা লিখেছিলাম। আমার বুঝায় ভুল থাকলে বলতে পারেন ভুলটা কোথায়, কিন্তু যেকোন তর্কে আবার পড়ে আসুন বা ভালোমত পড়েননি এই কথা বলা মানে হচ্ছে তর্কটাকেই থামিয়ে দেয়া। যত দূর মনে পড়ে, এর একটা কেতাবী নামও আছে।
কিছুটা অফটপিকঃ ব্যাকরণের প্যাঁচ দিয়ে অনেক কিছু জাস্টিফাই করা যাবে। কিন্তু উগ্র ধার্মিক বলতে আমরা বুঝি ধর্মের নামে যে উগ্রতা করে, ঠিক একই ভাবে উগ্র নাস্তিক হচ্ছে যে নাস্তিকতার নামে উগ্রতা করে। স্টালিন নাস্তিক ছিলেন, উগ্রও ছিলেন, কিন্তু তিনি নাস্তিকতার নামে উগ্রতা করেননি। মোগলরা ভারত বিজয় করতে গিয়ে নিশ্চয় "উগ্রতা" দেখিয়েছে, কিন্তু তাই বলে তারা উগ্র মুসলিম হয়ে যায়নি, কারণ তারা ইসলামের নামে কিছু করেনি এই ক্ষেত্রে। তাই, উগ্র নাস্তিক, যারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে, এই ধরনের কোন ধারণার সাথে নিজেকে রিলেইট করতে পারলাম না।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

পার্ফেক্ট সজল! চলুক

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

সজল ভাই,

তর্ক থামিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে উপরের মন্তব্যটি করিনি। উপরে আমার ভাষা প্রয়োগে মাধুর্যহীনতার জন্য আমি দু:খিত।

Gosateizm-এর নীতিতে সোভিয়েত রাশায় যা হয়েছিল, তা কিন্তু এথিইজমের নামেই হয়েছিল।

উগ্র-নাস্তিক আর ধর্মান্ধদের সমার্থক চিন্তা করেছি সমাজে অশান্তি/নৈরাজ্য বিস্তারমূলক কাজের ক্ষেত্রে কিন্তু অশান্তি/নৈরাজ্যের মাত্রা বিবেচনায় ধর্মান্ধ এবং উগ্র-নাস্তিকদের তুলনা হয় না।

তারেক অণু এর ছবি

উগ্র ধার্মিক বলতে আমরা বুঝি ধর্মের নামে যে উগ্রতা করে, ঠিক একই ভাবে উগ্র নাস্তিক হচ্ছে যে নাস্তিকতার নামে উগ্রতা করে। স্টালিন নাস্তিক ছিলেন, উগ্রও ছিলেন, কিন্তু তিনি নাস্তিকতার নামে উগ্রতা করেননি। মোগলরা ভারত বিজয় করতে গিয়ে নিশ্চয় "উগ্রতা" দেখিয়েছে, কিন্তু তাই বলে তারা উগ্র মুসলিম হয়ে যায়নি, কারণ তারা ইসলামের নামে কিছু করেনি এই ক্ষেত্রে। তাই, উগ্র নাস্তিক, যারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে, এই ধরনের কোন ধারণার সাথে নিজেকে রিলেইট করতে পারলাম না। উত্তম জাঝা! সহমত।

পরমার্থ এর ছবি

আমি যে জানি মোঘল সম্রাট বাবার, অরান্গাজেব ইসলামের জন্য মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ গড়েছে, মানুষদের কাছে জিজিয়া কর আদায় করেছে .. এটাকি ভুল ?

খেকশিয়াল এর ছবি

রাইটো! চলুক

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

সাবেকা  এর ছবি

চলুক

রাজা এর ছবি

বুদ্ধি খাটাও, বিবেককে ব্যবহার কর, সহিংসতা কোন কিছু সমাধান হতে পারে না।
মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান-ইহুদী-নাস্তিক-মধ্যপন্থীরা পরস্পরের বিশ্বাসের প্রতি সহানুভূতিশীল ও শ্রদ্ধাশীল হবে, এই আশা করি।

সকল প্রকার ধর্মান্ধতা নিপাত যাক!
উগ্র-নাস্তিক্যবাদ নিপাত যাক!
নৈরাজ্যবাদ নিপাত যাক!
মানবতার জয় হোক!

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

মানবতার জয় হোক!

অতিথি লেখক এর ছবি

মানবতার জয় হোক।
সকল প্রকার ধরমান্ধতা নিপাত যাক।
অনুবাদ ও লেখা দুটোই চলুক

অমি_বন্যা

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

মানবতার জয় হোক!

চিলতে রোদ এর ছবি

পৃথিবীর বেশিরভাগ ধর্মবিশ্বাসী মানুষ সচেতনভাবে যেমন অন্যের ক্ষতি করছেনা, ঠিক তেমনি বেশিরভাগ নাস্তিক অন্যের ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করে কথা বলছেনা। একজন নাস্তিকের যদি তার অবিশ্বাস নিয়ে বেচে থাকার অধিকার থাকে তবে একজন বিশ্বাসীরও অধিকার আছে তার নিজস্ব দৃষ্টিভংগী(দর্শন নয়) নিয়ে নির্বিঘ্নে বেচে থাকার অধিকার।
ধর্মান্ধতা ও উগ্র নাস্তিকবাদের পতন হোক!

চলুক

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

ধর্মান্ধতা ও নাস্তিক্যবাদের নামে উগ্রতা নিপাত যাক!

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

লেখা পড়ে মনে হয়েছে লেখক সম্ভবতঃ মনে করে নাস্তিকতা একটা "ভিন্ন ধরণের ধর্ম"। এই "ভিন্ন ধরণের ধর্ম" যারা প্রতিষ্ঠা করতে চায় তারা অন্য ধর্মকে ব্যঙ্গ করে, উগ্রতা দেখায়। এধরণের কাজকে উগ্রবাদী-মুসলিমের মতো উগ্রবাদী-নাস্তিক তকমা দেয়া যায়।

দুঃখজনক বিষয় হলো নাস্তিকতা একটা "ভিন্ন ধরণের ধর্ম" এটা একটা খুব ভুল ধারণা। নাস্তিকতা হচ্ছে না আস্তিকতা। অর্থাৎ সকল প্রকার ধর্ম থেকে বেরিয়ে আসা। এটা কোনো মতবাদ নয় যে সেটা গায়ের জোরে "প্রতিষ্ঠা" করতে হবে, কিংবা অন্য ধর্মকে ব্যঙ্গ করে সেটাকে "জায়েজ" করতে হবে। এটা যুক্তিপূর্ণ অবস্থান, মতবাদ নয়। যুক্তিপূর্ণ অবস্থানকে প্রতিষ্ঠা করতে হয় না, সেটাকে যুক্তির মাধ্যমে খণ্ডন করতে হয়।

তাই যদি একজন নাস্তিক উগ্রবাদী হন, তাহলে তিনি শুধুই উগ্রবাদী। নাস্তিকতার সাথে তার কোনো যোগসুত্র নেই। উপরন্তু যুক্তির বাইরে গিয়ে যে উগ্রবাদী হতে পারে তার মাথায় যুক্তিপূর্ণ নাস্তিকতা কতখানি প্রভাব ফেলেছে সেটাও প্রশ্ন সাপেক্ষ।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

আমার লেখায় 'নাস্তিকতা একধরণের ধর্ম' প্রকাশ পেলে, সেটা লেখক হিসেবে আমার ব্যর্থতা বলতে হয়। তবে, নাস্তিকতা একটি বিশ্বাস; ইশ্বর ও ধর্মের অপ্রয়োজনীয়তার বিশ্বাস।

এটা কোনো মতবাদ নয় যে সেটা গায়ের জোরে "প্রতিষ্ঠা" করতে হবে, কিংবা অন্য ধর্মকে ব্যঙ্গ করে সেটাকে "জায়েজ" করতে হবে।

এটাই ছিল আমার পয়েন্ট। কিন্তু অনেক নাস্তিক তাই করছেন।

এটা যুক্তিপূর্ণ অবস্থান, মতবাদ নয়। যুক্তিপূর্ণ অবস্থানকে প্রতিষ্ঠা করতে হয় না, সেটাকে যুক্তির মাধ্যমে খণ্ডন করতে হয়।

এবিষয়ে একমত যুক্তি-তর্ক-বিতর্ক-আলোচনার মাধ্যমেই ধর্মের যুক্তিগুলোকে খন্ডন করা প্রয়োজন।
বিদ্রুপাত্মক কার্টুন-ভিডিও'র মাধ্যমে যুক্তি-তর্ক-বিতর্ক-আলোচনা কতটুকু হয়, সেটা আমার কাছে প্রশ্নসাপেক্ষ।

তাই যদি একজন নাস্তিক উগ্রবাদী হন, তাহলে তিনি শুধুই উগ্রবাদী। নাস্তিকতার সাথে তার কোনো যোগসুত্র নেই।

নাস্তিকতার সাথে উগ্রবাদীতার কোনো যোগসূত্র নেই- এই কথায় একমত।
কিন্তু নাস্তিকতার নামে কিছু মানুষ উগ্রতা দেখায়, এদের অনেকেই নাস্তিক হিসেবে সুবিদিত, এটাই সমস্যা। আমাদের বাংলাদেশেও অনলাইনে আমাদের আশেপাশে এধরণের প্রচুর উদাহরণ আছে।

উপরন্তু যুক্তির বাইরে গিয়ে যে উগ্রবাদী হতে পারে তার মাথায় যুক্তিপূর্ণ নাস্তিকতা কতখানি প্রভাব ফেলেছে সেটাও প্রশ্ন সাপেক্ষ।

চলুক

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

তবে, নাস্তিকতা একটি বিশ্বাস; ইশ্বর ও ধর্মের অপ্রয়োজনীয়তার বিশ্বাস।

ভুল!!! ভুল, ভুল, ভুল!!!

নাস্তিকতা কখনই "বিশ্বাস" না। এটি শক্ত এবং যুক্তি তর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা "অবস্থান"। উইকি দেখুন:

Wikipedia লিখেছেন:
Atheism is, in a broad sense, the rejection of belief in the existence of deities. In a narrower sense, atheism is specifically the position that there are no deities. Most inclusively, atheism is simply the absence of belief that any deities exist. Atheism is contrasted with theism, which in its most general form is the belief that at least one deity exists.

"বিশ্বাস" ডিফেন্ড করতে হয় না। চোখ নাক মুখে গুঁজে তালগাছ আঁকড়ে ধরলেই চলে। কিন্তু "যুক্তি তর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অবস্থান" কে যুক্তি তর্কের ভিত্তিতে দাঁড় করাতে হয়। যদি এই যুক্তি ভেঙ্গে পড়ে তাহলে এই অবস্থান, এক্ষেত্রে নাস্তিকতা ভেঙ্গে পড়বে।

সূর্য্যের চারিদিকে পৃথিবী ঘোরে। এটা "বিশ্বাস" নয়, রিজনড এবং প্রমানিত সত্য। একসময় ওর উল্টোটা মানুষ "বিশ্বাস" করতো। যদি উল্টোটা ঘটার আরো ভালো প্রমান কোনো দিন পাওয়া যায়, তাহলে নতুন প্রমানের ভিত্তিতে আমাদের জানাটাকে ঠিক করতে হবে। এই দায় "বিশ্বাস" এর নেই।

নৈষাদ এর ছবি

"বিশ্বাস" না। এটি শক্ত এবং যুক্তি তর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা "অবস্থান"। এক বাক্যে চমৎকার ভাবে ধারনাটা ব্যাখ্যা করা হল। চলুক

তাপস শর্মা এর ছবি
তারেক অণু এর ছবি
সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

মুর্শেদ ভাই,

আপনি 'অবস্থান' শব্দ দ্বারা যা বুঝিয়েছেন, আমি 'বিশ্বাস' শব্দটি দ্বারা এখানে সেটাই বুঝিয়েছি।
এটা ঠিক আমি সঠিক শব্দ বাছাইয়ে ভুল করেছি। আমার 'অবস্থান' শব্দটাই ব্যবহার করা উচিত ছিল।

ধন্যবাদ স্পেসিফিক করে দেয়ার জন্য।

স্যাম এর ছবি

"বিশ্বাস" ডিফেন্ড করতে হয় না। চোখ নাক মুখে গুঁজে তালগাছ আঁকড়ে ধরলেই চলে। কিন্তু "যুক্তি তর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অবস্থান" কে যুক্তি তর্কের ভিত্তিতে দাঁড় করাতে হয়। যদি এই যুক্তি ভেঙ্গে পড়ে তাহলে এই অবস্থান, এক্ষেত্রে নাস্তিকতা ভেঙ্গে পড়বে।

সূর্য্যের চারিদিকে পৃথিবী ঘোরে। এটা "বিশ্বাস" নয়, রিজনড এবং প্রমানিত সত্য। একসময় ওর উল্টোটা মানুষ "বিশ্বাস" করতো। যদি উল্টোটা ঘটার আরো ভালো প্রমান কোনো দিন পাওয়া যায়, তাহলে নতুন প্রমানের ভিত্তিতে আমাদের জানাটাকে ঠিক করতে হবে। এই দায় "বিশ্বাস" এর নেই।

পারফেক্ট! - চলুক চলুক

শিশিরকণা এর ছবি

একটু দ্বিমত করি। আমার অবস্থান তখনই ডিফেন্ড করা দরকার, যখন তাকে আক্রমণ করা হচ্ছে। এছাড়া আমার অবস্থান নিয়ে আমি দিন কাটিয়ে যেতে পারি কারও বাড়া ভাতে ছাই না দিয়েই। কেউ যদি আমাকে চ্যালেঞ্জ না করে তবে এই যুক্তি তর্কের ভিত্তিতে অবস্থানকে ডিফেন্ড করতে হয় কেবল নিজের কাছেই। নতুন তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নতুন অবস্থানও নিজের কমন সেন্সের কাছেই আগে জবাবদিহিতা করতে হয়।

কিন্তু কেউ যদি বলে "তুমি খোদায় বিশ্বাস করো না কাজেই তুমি দোজখে যাবা," তাতে কিন্তু আপনার কিছুই যায় আসেনা, কারণ আপনি খোদা দোজখ কিছুই বিশ্বাস করেন না। আপনার অবস্থানের জায়গায় আপনি পরিস্কার। কিন্তু তর্ক করে খোদা, দোজখ ইত্যাদি যে একটা ভ্রান্ত ধারণা এইটা যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করে সেই বিশ্বাসী বান্দারে দেখিয়ে দেওয়াটা হবে কেবল নিজের ইগো স্যাটিসফাই করা যে "আমিই সঠিক", সে বিশ্বাসীর কিন্তু দায় নেই সঠিক বলেই আপনার কথা মেনে নেওয়ার। আর যদি আশা করেন একতা যুক্তিসম্পন্ন জটীল লেকচার দিয়ে আপনি ঐ মুমিন বান্দাকে নাস্তিকতার বা যুক্তির পথ দেখায় দিলেন, তাইলে ঐ তাবলীগি হুজুর যে বেহেশতেরলোভ আর কবরের আজাব টাইপ লেকচার দিয়ে আপনাকে দ্বীনের পথে টানার চেষ্টা করে, তার সাথে আপনার পার্থক্য কি থাকলো?

বটমলাইনঃ অবস্থান যাই হোক, সেটা নিজের ছাড়া আর কারও কাছেই জাস্টিফাই করার প্রয়োজন নাই।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

অরফিয়াস এর ছবি

কিন্তু কেউ যদি বলে "তুমি খোদায় বিশ্বাস করো না কাজেই তুমি দোজখে যাবা," তাতে কিন্তু আপনার কিছুই যায় আসেনা, কারণ আপনি খোদা দোজখ কিছুই বিশ্বাস করেন না। আপনার অবস্থানের জায়গায় আপনি পরিস্কার। কিন্তু তর্ক করে খোদা, দোজখ ইত্যাদি যে একটা ভ্রান্ত ধারণা এইটা যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করে সেই বিশ্বাসী বান্দারে দেখিয়ে দেওয়াটা হবে কেবল নিজের ইগো স্যাটিসফাই করা যে "আমিই সঠিক", সে বিশ্বাসীর কিন্তু দায় নেই সঠিক বলেই আপনার কথা মেনে নেওয়ার।

সূর্য পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে এটা বিশ্বাস করে বাঁচতে চাই। মানুষকে বলে বেড়াচ্ছি, তাতেও সমস্যা নেই। কিন্তু এই ভুল তথ্যটার প্রতিবাদ করে কেউ কিছু বললেই সমস্যা !! বাহ দারুন যুক্তি। হাততালি

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

তাপস শর্মা এর ছবি

যদি আশা করেন একতা যুক্তিসম্পন্ন জটীল লেকচার দিয়ে আপনি ঐ মুমিন বান্দাকে নাস্তিকতার বা যুক্তির পথ দেখায় দিলেন, তাইলে ঐ তাবলীগি হুজুর যে বেহেশতেরলোভ আর কবরের আজাব টাইপ লেকচার দিয়ে আপনাকে দ্বীনের পথে টানার চেষ্টা করে, তার সাথে আপনার পার্থক্য কি থাকলো?

পার্থক্য আছে। আর আছে বলেই এত কথা। ঐ যে একেবারে প্রথম কথাটার সুত্র ধতেই বলা নাস্তিক, সে 'উগ্র' হোক আর যাই হোক ঐ হুজুরের মতো আকাট মূর্খভাবে কিছু মেনে নেয় না এবং বোমাবোম করেনা। হুজুর লেকচার দেয় মুমিনদের ব্রেইন ওয়াশ করে তার সাথে এটাও বলে যে - এই যে পিথিমি এটাকে চালায় আল্লা সব আল্লার দান, এই যে তুমি বেঁচে আছো এই যে তোমার সৃষ্টি সব আল্লার দান, তুমি শ্বাস নিতে পারছ আল্লার জন্যে। কিন্তু নাস্তিক বলে - পৃথিবী আল্লায়/ঈশ্বরে চালায় না, চলে কালচক্রের আবর্তে , তুমি শ্বাস নেও অক্সিজেনের দ্বারা, তোমার সৃষ্টি এবং তুমি চলছ বিবর্তনের ধারায়। -- তো এই একটা উদাহারণ দিয়ে আমরা কি বুঝলাম? এরপর কি আপনি বলবেন যে যদি নাস্তিকরা ঐ 'লেকচার' দেয় যা মুমিনরা মানবেনা তার দ্বারা এইটা প্রমাণিত হয় যে হুজুর আর একজন নাস্তিক এক পাল্লায় উঠে আসে? মাফ করবেন এর চেয়ে হাস্যকর যুক্তি আর দেখিনি

০২

বটমলাইনঃ অবস্থান যাই হোক, সেটা নিজের ছাড়া আর কারও কাছেই জাস্টিফাই করার প্রয়োজন নাই।

হয়। কখনো কখনো জাস্টিফিকেশনকে বৈধতা দিতে জাস্টিফাই করতে হয়। কেননা দশ জনে মিলে যখন আমাকে ভুল প্রমাণিত করতে বসে তখন আমার 'সত্য'টা বৈধতা দিতে গেলে আমাকে নিজেকে ডিফেন্ড করতেই হবে। আমি যদি ঘরে বসে এটা ভেবে নিশ্চিন্তে ঘুমাই যে আমি ঠিক আমার কাছে তাহলে সেটা কেউ মেনে নেবেনা। আর নেবেই বা কেন? ব্যাপারটা এমন যে পর্বতারোহী মুসা এভারেস্ট চড়েছেন বলে দিয়েছেন, সে তার কাছে কনফার্ম যে সে উঠেছে, কিন্তু অনেকে দাবি করছে 'যুক্তির' দ্বারা যে তার দাবী সংশয়ে আছে। । তো তার কি করণীয়? তাকে তো নিজেকে জাস্টিফাই করতেই হবে নিজেকে, নাকি? নাকি তার 'অবস্থান' তার কাছে ঠিক; মানে সে এভারেস্টে চড়েছে, বাকিরা মিথ্যে দাবী করছে যে সে চড়ে নাই, যুক্তির প্রমাণের মায়ের বাপ বলে সে বসে থাকবে এবং এইটা ভেবে নিজেকে জাস্টিফাই করার জন্য প্রমাণ দেবেনা যে সে বলেছে সে চড়েছে ব্যাস ????

শিশিরকণা এর ছবি

দাবী করতে গেলে তো জাস্টিফাই করতেই হবে। আবার আপনাকে আক্রমণ করা হলে তখনো আপনাকে আপনার অবস্থান ডিফেন্ড করতে হবে। এছাড়া আগ বাড়িয়ে নিজের ঢোল পিটাবার কোন প্রয়োজন কি আছে নিজের ইগো স্যাটিসফাই করা ছাড়া? আপনাকে যদি কেউ আক্রমণ করতে না আসে, তবে আপনার তাকে পাল্টা আক্রমণ করতে যাবার কি দরকার?

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

তাপস শর্মা এর ছবি

মজা পেলাম আপনার বক্তব্যে। এতগুলি জিনিষ বললাম আপনার কিছুই নজরে পড়ল না ? এভাবে না বলে একবারে ডাইরেক্ট বলতে পারতেন যে - আমার উচিত হয়নি আপনার বক্তব্যের নিচে বক্তব্য করা কারণ আপনি আগ বাড়িয়ে আমাকে কিছু বলেন নি বা আপনার ভাষায় '' এছাড়া আগ বাড়িয়ে নিজের ঢোল পিটাবার কোন প্রয়োজন কি আছে নিজের ইগো স্যাটিসফাই করা ছাড়া?'' কিন্তু কথা হচ্ছে এটা তো ব্লগ এখানে সবাই ওপেন আলোচনা করছে। ব্যাক্তি পর্যায় কোত্থেকে আসল ? আর ইগোর কি দেখলেন এখানে ? আর 'আক্রমণ' এর কি দেখলেন আমার মন্তব্যে?

সুমন চৌধুরী এর ছবি

যদি আশা করেন একতা যুক্তিসম্পন্ন জটীল লেকচার দিয়ে আপনি ঐ মুমিন বান্দাকে নাস্তিকতার বা যুক্তির পথ দেখায় দিলেন, তাইলে ঐ তাবলীগি হুজুর যে বেহেশতেরলোভ আর কবরের আজাব টাইপ লেকচার দিয়ে আপনাকে দ্বীনের পথে টানার চেষ্টা করে, তার সাথে আপনার পার্থক্য কি থাকলো?

অ্যা!

আচ্ছা যুক্তি মানে কী?

কৌস্তুভ এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি চলুক

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি
এই পোস্টে আগে ঢুকিনি। বিরাট মিস্করর্ছি গড়াগড়ি দিয়া হাসি

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

বটমলাইনঃ অবস্থান যাই হোক, সেটা নিজের ছাড়া আর কারও কাছেই জাস্টিফাই করার প্রয়োজন নাই।

হো হো হো...

সুমন চৌধুরী এর ছবি
দিফিও এর ছবি

এইটায় দ্বিমত পোষণ করলাম। আপনি যেটা বলছেন সেটা হয়ত সামাজিক মেলামেশার সময়ে ভারসাম্য রক্ষার জন্য কিছুটা কাজে লাগতে পারে, কিন্তু পাইকারী দরে সেই থিয়োরী("অবস্থান নিজের ছাড়া আর কারও কাছেই জাস্টিফাই করার প্রয়োজন নাই") সবজায়গায় প্রযোজ্য করা বিপদজনক। বিশেষ করে ব্লগে তো নয়ই। তাহলে আর ব্লগিংএর মূল্য থাকলো কী??

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

বটমলাইন: খারাপ বাতাস লাগলে রোগ হয়। ফকিরের পানিপড়া খেয়ে শুয়ে থাকা উচিত।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

দিগন্ত এর ছবি

এইটার সবথেকে বড় প্রমাণ হল নাস্তিকদের অধিকাংশই আস্তিক হতে প্রস্তুত ঈশ্বরের খোঁজ পাওয়ামাত্র।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

সাবেকা  এর ছবি

চলুক

তানিম এহসান এর ছবি

যদি একজন নাস্তিক উগ্রবাদী হন, তাহলে তিনি শুধুই উগ্রবাদী। নাস্তিকতার সাথে তার কোনো যোগসুত্র নেই। উপরন্তু যুক্তির বাইরে গিয়ে যে উগ্রবাদী হতে পারে তার মাথায় যুক্তিপূর্ণ নাস্তিকতা কতখানি প্রভাব ফেলেছে সেটাও প্রশ্ন সাপেক্ষ।

হাততালি

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

পোস্টে দুটো জায়গায় এডিট করা হল।
'উগ্র নাস্তিক্যবাদ' শব্দদ্বয়ের পরিবর্তে 'নাস্তিক্যবাদের নামে উগ্রতা' শব্দত্রয় ব্যবহার করা হল।

অরফিয়াস এর ছবি

Militant Atheist.

224604_410026565728811_1324598775_n

58775_10151435047479409_1507381668_n

রাজা, এখানে একটা জায়গায় দ্বিমত না শুধু ঘোরতর বিরোধিতা করবো। উগ্র নাস্তিক বলতে তুমি নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী একজন ব্যক্তিকে বোঝাতে চেয়েছ এই কথাটা মানতে পারলাম না। উগ্র নাস্তিক বড়জোড় খুব কটু ভাষায় ধর্মের বিরোধিতা করতে পারে, ব্যঙ্গ করতে পারে, কিংবা বড়জোড় উচ্চস্বরে তর্ক করতে পারে। সেখানে কোন সহিংসতা নেই। নাস্তিকতা তো কোন বিশ্বাস না যে তার জন্য কাউকে সহিংস আচরণ করতে হবে!!

আর উগ্র ধার্মিক কি সেটা বলে বোঝানোর দরকার নাই। এই দুটি বিষয়কে একই পাল্লায় মাপা মানেই ভুল। তুমি মানদন্ড আলাদা করে বিচার করো ঠিক আছে, কিন্তু নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী উগ্র নাস্তিক ব্যক্তি বলে কোন জিনিস আমি মানতে পারলাম না। যদি গণহত্যার জন্য স্তালিনকে তুমি উগ্র নাস্তিক বলে দাবি করতে চাও তাহলে সেটা তোমার দৃষ্টিভঙ্গির ভুল। সে তার নাস্তিকতার প্রসারে কোন হত্যা চালায় নাই, সেটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক।

উপরের পোস্টারগুলো দেইখো।

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

অরফিয়াস,

এনার্কিস্ট/নৈরাজ্যবাদী হতে হলে সবসময় সহিংস হবার প্রয়োজন হয় না।

'যুক্তি-তর্ক-বিতর্ক-আলোচনার মাধ্যমে যে নাস্তিক ধর্মের বিরোধিতা করে' তার সাথে 'নাস্তিকতার নামে উগ্র আচরণকারীর' মধ্যে পার্থক্য বুঝাতেই দুটো শব্দ ব্যবহার করেছি- উগ্রবাদী নাস্তিক আর যুক্তি-তর্ক প্রদর্শনকারী নাস্তিক।

বিদ্রুপের মাঝে অর্জন কতটুকু থাকে, তা নিয়ে আমার দ্বিমত আছে।

নৈরাজ্যবাদী/এনার্কিস্ট দ্বারা বুঝানো হয় সমাজে/অবকাঠামোতে অশান্তি সৃষ্টিকারী ও ইন্ধনদাতা। উগ্রবাদী নাস্তিক আর ধর্মান্ধরা সমাজে/অবকাঠামোতে অশান্তি সৃষ্টির দৃষ্টিকোণ হতে একই ধারায় পড়ে।
এখানে যে বিষয়টিতে তোমার সাথে দ্বিমত হচ্ছে সেটি অশান্তি/নৈরাজ্যের মাত্রা বিষয়ে। নৈরাজ্যের মাত্রা বিবেচনায় ধর্মান্ধ এবং উগ্র-নাস্তিকদের তুলনা হয় না।

রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রসারের জন্য নাস্তিকতাকে ব্যবহার করেছিল স্ট্যালিন।

অরফিয়াস এর ছবি

রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রসারের জন্য নাস্তিকতাকে ব্যবহার করেছিল স্ট্যালিন।

কিরকম?

বিদ্রুপের মাঝে অর্জন কতটুকু থাকে, তা নিয়ে আমার দ্বিমত আছে।

রম্যরচনা কিংবা স্যাটায়ার এ তাহলে কি অর্জন হয়? সেটা কি তাহলে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত?

নৈরাজ্যবাদী/এনার্কিস্ট দ্বারা বুঝানো হয় সমাজে/অবকাঠামোতে অশান্তি সৃষ্টিকারী ও ইন্ধনদাতা। উগ্রবাদী নাস্তিক আর ধর্মান্ধরা সমাজে/অবকাঠামোতে অশান্তি সৃষ্টির দৃষ্টিকোণ হতে একই ধারায় পড়ে।

একটি জিনিস ভুল না শুদ্ধ সেটা যদি ব্যাখ্যা করতে গেলে সমাজে অশান্তি সৃষ্টি হয় তাহলে সেটার দায় কার? যে ব্যাখ্যা করে না যে অশান্তি করে তার?

জোতির্বিদ্যার প্রসার এবং গবেষনার কারণে জিওর্দানো ব্রুনো কে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে ক্যাথলিক চার্চ। কারণ তারা প্রচার করতো পৃথিবীই সৌরজগতের কেন্দ্রবিন্দু। ব্রুনো তার বিরোধিতা করেন। এখানে দোষ কার? ব্রুনোর? নাকি মিথ্যা প্রচারের জন্য চার্চের?

যদি কোন ব্যক্তির ধর্মপ্রচারে কোন বাধা না থাকে তাহলে ধর্মের বিরোধিতায় কেন বাধা থাকবে? ধর্ম একটি ধারণা, এর বেশি কিছুতো নয়। যদি বিবর্তনের বিরোধিতা করে ডারউইনকে ব্যঙ্গ করে আধা বানর আধা মানুষ হিসেবে কার্টুন আঁকা যায় তাহলে ধর্মের বিরোধিতা করে কার্টুন আঁকা যাবেনা কেন?

পৃথিবীর প্রায় সব ধর্মই প্রকাশ্যে অন্য ধর্মের বিরোধিতা করে, উপাসনালয়গুলোতে তার প্রচারও প্রকাশ্যে হয় তাহলে এখানে শুধু ধর্মের বিরোধিতার কারণে নাস্তিকরা উগ্র হিসেবে বিবেচিত হবে কেন? সেভাবে যুক্তি দেখালে তো ধর্মপ্রচারকরা সকলেই উগ্র, কারণ তারা অন্য ধর্মের বিরোধিতা করে।

'নাস্তিকতার নামে উগ্র আচরণকারীর'

এই কথাটা ব্যাখ্যা করো। আচরণ কিরকম হলে সেটা উগ্র বলে বিবেচিত হবে?

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

শব্দটি বলে দিলাম: Gosateizm। এটা নিয়ে পড়ে দেখ।

'এভরিবডি ড্র মোহাম্মাদ ডে/নূড দূর্গা ডিসেপ্লে'-কে তুমি যদি 'স্যাটায়ার' বল তাহলে সেটা তোমার বিবেচনা। চিন্তার স্বাধীনতা সবার আছে, কি বল?

এভরিবডি ড্র মোহাম্মাদ ডে/নূড দূর্গা ডিসেপ্লে'র মাঝে কি যুক্তি ব্যাখ্যা করা হয়েছে, সেটা জানা গেলে ভাল হত। কার্টুন এঁকে, কুরুচিপূর্ণ ভিডিও বানিয়ে যদি ধর্মের ও ইশ্বরের অপ্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা যায়, তাহলে, এত এত জ্ঞানী মানুষরা শুধু শুধুই অবিশ্বাসের দর্শন নিয়ে অলোচনা করেছেন, বই লিখেছেন। উনাদের সবার উচিত ছিল কুরুচিপূর্ণ উসকানিমূলক কার্টুন আঁকা, ভিডিও বানানো, কি বল?

জিওর্দানো ব্রুনো, নিকোলাস কর্পানিকাস উসকানিকানিমূলক কাজ করতে যেয়ে ধার্মিকদের অত্যাচারের শিকার হন নাই। উনারা সত্যিটা যুক্তিপূর্ণ সভ্য উপায়ে প্রকাশ করায় ধার্মিকদের অত্যাচারের শিকার হয়েছেন।

হিমু এর ছবি

আপনি বারবার "উসকানিমূলক" শব্দটা ব্যবহার করছেন। উসকানি শব্দটার অর্থই হচ্ছে কোনো একটা অ্যাকশন শুরু করার প্রণোদনা যোগানো। এবং আপনি ধরে নিচ্ছেন যে কেউ একটা কার্টুন আঁকলে তার প্রতিক্রিয়ায় দাঙ্গাফ্যাসাদ করা একটা যৌক্তিক, স্বাভাবিক ও অবশ্যপালনীয় ক্রিয়া।

কেন?

জিওর্দানো ব্রুনো আপনার বিচারে সভ্য কাজ করেছে, কিন্তু চার্চের বিচারে তার বক্তব্য ছিলো উসকানিমূলক। সেজন্যই বলছি, যে দাঙ্গা বাধায়, সেই যদি নির্ধারণ করে কোনটা উসকানিমূলক আর কোনটা উসকানিমূলক না, তাহলে দুনিয়াতে কোনো কাজই তো উসকানিমূলকের সংজ্ঞার বাইরে পড়বে না।

অরফিয়াস এর ছবি

কার্টুন এঁকে, কুরুচিপূর্ণ ভিডিও বানিয়ে যদি ধর্মের ও ইশ্বরের অপ্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা যায়

ভিডিওটা দেখেছ? সেটা ঠিক কি কারণে কুরুচিপূর্ণ মনে হয়েছে তোমার কাছে?

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

তোমার কাছে ভিডিওর মোহাম্মাদের অংশটির চিত্রায়ন যদি কুরুচিপূর্ণ মনে হয়, তাহলে সেটা তোমার বিবেচনা।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

আরেকটি কথা যোগ করি,
যুক্তি দেখানো আর কুরুচিপূর্ণ ব্যাঙ্গ করার মধ্যে পার্থক্য আছে।

হিমু এর ছবি

অবশ্যই এই দুইটার মধ্যে পার্থক্য আছে। কিন্তু দুইটার কোনোটার জবাবই শারীরিক সহিংসতা হতে পারে না। আর যে ব্যঙ্গের শিকার হয়, রুচির সু আর কু যদি সে-ই নির্ধারণ করে, সকল ব্যঙ্গই কুরুচিপূর্ণ হিসাবে গণ্য হতে পারে।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

কিন্তু দুইটার কোনোটার জবাবই শারীরিক সহিংসতা হতে পারে না।

বিরোধীতার উত্তর সহিংসতা দিয়ে দিতে হবে, এমন কোন কিছু আমি পোস্টে বা, মন্তব্যে লিখি নাই।
বরং বিরোধীতার উত্তর সহিংসতা দিয়ে দেয়ার বিরোধীতায় করে এসেছি।

হিমু এর ছবি

আপনি লেখেননি, কিন্তু বারবার উসকানিমূলক শব্দটা ব্যবহার করে আক্রান্ত পক্ষের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন। উসকানি কি গজল গাওয়ার উসকানি নাকি শারীরিক সহিংসতার?

অরফিয়াস এর ছবি

ড্র মুহাম্মদ আর নুড় দূর্গা ডিসপ্লে কুরুচিপূর্ণ কারণ ধর্মীয় বিষয় বলে? তুমি কি জানো দূর্গা কিংবা কালীর অনেক প্রতিমাই নগ্ন বানানো হয় বিশেষ করে বুকের অংশটা ?? নাস্তিকরা সেটা কার্টুন আঁকলে সমস্যা কেন? আর বিখ্যাত শিল্পীদের নগ্ন চিত্রগুলো কি তাহলে কুরুচিপূর্ণ ??

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

প্রতিমা বানানো আর উদ্দেশ্যমূলক কার্টুন আঁকা এক কথা না।

অরফিয়াস এর ছবি

প্রতিমা বানানো আর উদ্দেশ্যমূলক কার্টুন আঁকা এক কথা না।

নগ্ন প্রতিমা ধার্মিক বানালে ঠিক আর নাস্তিক বানালে কুরুচিপূর্ণ !!!!! কি বলো !!

রাজা, তুমি ধরেই নিচ্ছ কেউ কার্টুন উদ্দেশ্য নিয়েই এঁকেছে আর তা হলো নৈরাজ্য সৃষ্টি। "predetermined"/"পূর্বনির্ধারিত" ধারণা হয়ে যাচ্ছেনা এটা?

ধরো, তুমি লাল রঙ দেখতে পছন্দ করো না, আমি সেটা জানিনা। কিন্তু আমি একদিন তোমার সামনে লাল জামা পড়েই চলে এলাম, তুমি কি ধরে নিবে আমি তোমাকে অপমান করার জন্যই এটা করেছি?

নাস্তিক কার্টুনিস্ট ধর্মকে/ধর্মের ধারনাকে ব্যঙ্গ করে কার্টুন আঁকলো, সেটা যদি কারো ধর্মানুভুতিতে আঘাত লাগে সে নাস্তিকতা কে ব্যঙ্গ করে কার্টুন আঁকুকনা !! দরকার হলে ঐ কার্টুনিস্টের নগ্ন কার্টুন এঁকে দেয়ালে দেয়ালে লেপ্টে দিক!! কিন্তু কার্টুনিস্ট এর মুন্ডু চাই বলে মিছিল করা আর কার্টুন এঁকে ব্যঙ্গ করা কি একই পাল্লায় দেখবে তুমি?

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

তাপস শর্মা এর ছবি

উগ্রতার সংজ্ঞা উপরে দিয়েছি খানিকটা। এইবার একেবারে অন্যধারায় যাই। আসলে উগ্রতা কি কেন ও কিভাবে। মানে নাস্তিক একটা মানুষ কিভাবে উগ্র হতে পারে

আমারা এক সময় রকে আড্ডা দিতাম। তো এক বন্ধুর এক বন্ধু এসে বলল যে তাকে অনুকূল ঠাকুর ( একটা বিশেষ ধর্মমত ) এর পান্ডারা ধরে শিষ্যত্ব নেওয়ার জন্য বহুদিন ধরে পিড়াপিড়ি করছেন উপরন্তু ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন যে ঠাকুর অনুকূল এবং এদের বড়দা, ছোড়দা, মেজ'দা, নানা দিদি এরা সবাই তাকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে তার অনিষ্ট হতে পারে এমন বলবেন। তাছাড়া ওদের গরীব পরিবারটার উপরও চাপ চলে আসে। এইবার আসুন একটু ধারণা নেই এই অনুকূল এবং তার পান্ডাদের সম্পর্কে। এরা মোটামোটি চেইন মারকেটিং করেন, যে যত মুরিদ খুঁজে এনে দেবে তার প্রোমোশন হবে এবং টাকার অঙ্কটাও স্ফিত হয় মুরিদদের নানা খরিদের ফলে। এই করেই দেওগরে কোটি কোটি টাকার অ্যাসেট গড়েছেন এই শ্রেণীর ঠাকুর। এদের ভন্ডামি একটা মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে পড়ে এবং মানুষের মানসিক, আর্থিক এবং জীবনকে নষ্টের দিকে ঠেলে দেয় ( ঠিক এমনই আছে - রাম ঠাকুর, রামকৃষ্ণ ঠাকুর, লোকনাথ ইত্যাদি অনেক আশ্রম ও এদের পান্ডা, সবাই মোটামোটি এক ) ...... তো এই ঘটনা সচরাচর হয় কিন্তু কেউ মাথা ঘামায় না। আর করেও লাভ নেই অন্ধ ধার্মিককে যুক্তি দেওয়া যায়না আর দিলে দা নিয়ে দৌড়ায় ( প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ) কিংবা খাজুরে আলাপ করে পাশ কাটিয়ে যায়। তাই আমরা সেদিকে যাই নাই। এক বিকেলে সোজা মন্দিরে ঢুকে এদের পান্ডাকে ( এরা হৃত্তিক বলে ) দুমাদুম পিটালাম। এরপর ওর ঘরের বারান্দায় হিসি করে চলে এলাম। মন্দিরের গাত্রে করার ইচ্ছে থাকলেও করিনি ( অন্য সময় অন্য মন্দিরে করেছি, সেই কারণ আলাদা )। এরপর থেকে ঐ গরীব ছেলেটির পরিবারের উপর আর চাপ যায় নি। উগ্রতা না করলে একটা পরিবার ধ্বংস হয়ে যেত। হয়তো এমন ঘটনা রোজই ঘটে, ক জনের খবর রাখা যায় কিন্তু এক জনকে তো অন্তত বাচানো গেলো

আরেকটা বলি, আমার পরিবার চায় আমি ধর্ম মতে নানা কাজ করি কিন্তু আমি তা করিনা তাই এর জন্যে আমাকে নানা কথা শুনতে হত প্রায়ই। তাছাড়া আমার কাজের জন্য আমাকে উঠতে বসতে নানা কথা শুনতে হয় এবং এখনো শুনি। কিন্তু আমার তো ধর্মে ইচ্ছে নেই। এই সহজ কথাটা আস্তিক ও ধর্মপ্রাণ মানুষরা বুঝেনা, যুক্তির তর্কের গুল্লিও মারেনা তারা। তো এভাবেই একদিন অসহ্য হয়ে আমি আমার ধর্মের শেষ সিম্বলটা মানে গায়ের পৈতেটা ( আমি ব্রাহ্মণ বিশেষ ছিলাম, যাতে ) ছিঁড়ে সকলের মুখের উপর দিয়ে টয়লেটে বিসর্জন করলাম। এরপর থেকে সব এমন সেন্টু খেল এবং চুপ, কেউ ঘাটায় না। উগ্রতা না করলে এটা কমত না

আসেন আরও কিছু বলি। আমাদের অঞ্চলে নয় সর্বত্রই মাইক লাগিয়ে ধর্ম চর্চা হয়। তো এদের কিছু বললেও যায় আসেনা। যুক্তি ? হাহ! পুলিশ কিংবা আইন এরও তোয়াক্কা করেনা তো যুক্তি কোন ছাড়। বৃহত্তর মন্দির মসজিদ এর ক্ষেত্রে কিছু করা যায়না। হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে একলা নাস্তিক গিয়ে যদি বলে মাইক বন্ধ করেন, তাহলে বুঝে নেন কি হবে। তাই এমন হয় যখন আমাদের পাড়াতে এই ধরণের আসর বসে ( লাইক - হরিনাম সংকীর্তন এন্ড অল দ্যাট ) এবং মাইক লাগানো হয় তখন আমি আমার সুপার সাউন্ড সিস্টেমে রক আর মেটাল গান লায়িয়ে দেই। তো এদের মাইকের ম্যারম্যারে সাউন্ড আমার সুপার সাউন্ডকে হার মানাতে পারেনা। এইবার কথা হল আমি যেটা করছি সেটা কি ঠিক? না ঠিক না। কারণ ওরাও মানুষের প্রিভেসি নষ্ট করছে আমিও করেছি। কিন্তু কেন করেছি সেটা দেখতে হবে। কারণ এর পরেরবার থেকে এরা সোজা হয়ে গেছে। আমার পাড়ায় এখন খুব কম মাইক লাগিয়ে ধর্ম চর্চা হয়। তোমার ঈশ্বরের চর্চা তুমি করতেই পার, নিজের মতো তাতে আমি বাধা দেওয়ার কেউ নই কিন্তু তা যদি ক্ষতি করে তাহলে ? ইশ্বর এর পাছা ধরে টানতে মাইকের দরকার হয় কেন? এটা কোন যুক্তি দিয়ে বুঝানো যাবেনা তাই এক্ষেত্রেও উগ্রতা করলাম

তাছড়া আরও এমন ভুরি ভুরি উদাহারণ দেওয়া যায়। বললে শেষ হবে না

মোদ্দা কথা হল ধর্মান্ধরা যুক্তির পথে মুক্তি চায় না। তো এদের টাইট দিতে উগ্র হতেই হয়। নইলে বিশাল ক্ষতি হয় কখনো কখনো। আমার সাফ কথা তোমার ঈশ্বর তোমার কাছে হে ধার্মিক। তোমার ঈশ্বর চর্চা যতক্ষণ না পর্যন্ত অন্যের, সমাজের কিংবা আমার ক্ষতির কারণ হচ্ছে ততক্ষণ আমার কোন মাথা ব্যাথা নেই। কিন্তু হলে আমি আমার সাধ্য ও সুযোগ মতো উপযুক্ত প্রতিবাদ করবই

নাস্তিকতার মধ্যে উগ্র যারা তারা বড় জোড় আমার মতো উগ্র আচরণ করে। উপরেই বলেছি এরা ধর্ষক, আগ্রাসী ও খুনি হন না। এই ধর্মশালা যেগুলি ঈশ্বরভক্তি করে এদের এখানেই বোমা বানানো হয় কিছু হলেই এরা এখান থেকেই দলে দলে জয় রাম কিংবা নারায়ে তাকবির বলে ঝাপায়া পড়েন। কিন্তু কোন নাস্তিক যিনি ক্ষেত্র বিশেষে উগ্রতা করেন তিনি কি করেন যে এদের সমার্থক হয়ে যাবে? নাস্তিকতা কোন ধর্ম নয়, নাস্তিকতা কোন পীর-মুরিদ সম্পর্ক নয়, নাস্তিকতা কোন বিশেষ দলের প্রোপ্যাগান্ডা নয়, বিচ্ছিরি অনুভূতি নয়। নাস্তিকতা মনের মুক্তি অন্ধত্বের মুক্তি

অরফিয়াস এর ছবি

যদি ধর্মের নামে কেউ মাইক বাজিয়ে কান ফাটায় তাহলে সেটা হবে ধর্মীয় সহনশীলতার উদাহরণ আর যদি তার বিরুদ্ধে কেউ ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন আঁকে তাহলে হবে ইন্দনদাতা কিংবা উস্কানিমূলক কর্মকান্ড !! হয়তো এটাই জঙ্গি নাস্তিকতা !! খাইছে

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

তাপস ভ্রাতা,

আমার কথায় আপনি আস্তিক, ধর্মবিশ্বাসী ব, ধর্মান্ধদের জন্য সমর্থন খুঁজে পাচ্ছেন কোথায়?

বিরক্ত উতপাদনকারী মাইক বন্ধ করার সাথে কুরুচিপূর্ণ কার্টুনের/ভিডিওর যোগসূত্র খুজে পেলে, আমার কিছু বলার নেই। ওটা আপনার বিবেচনা।

নাস্তিক্যবাদের বিপক্ষে আমার অবস্থান না। আমি নিজেই ধর্মে বা, ইশ্বরে বিশ্বাস করি না।

তাপস শর্মা এর ছবি

রাজা, আপনাকে কেউ এখানে ধর্মান্ধদের সমর্থনকারী হিসেবে ধরে নিচ্ছেনা। প্রত্যেকেই আপনার কিছু স্পেসিফিক বক্তব্যকে পয়েন্ট আউট করার চেষ্টা করছে

০২

বিরক্ত উতপাদনকারী মাইক বন্ধ করার সাথে কুরুচিপূর্ণ কার্টুনের/ভিডিওর যোগসূত্র খুজে পেলে, আমার কিছু বলার নেই। ওটা আপনার বিবেচনা।

আসেন এইবার আরও কিছু উদাহারণ নেই। ব্যাপারটা আরও স্পষ্ট করি। এইমাত্র আমার খোমাখাতায় একজন ফ্রেন্ডকে লিখতে দেখলাম - জিভে প্রেম করে যেজন, সেজন সেবিছে ঈশ্বর বুঝতেই পারছেন যে এটা বিবেকান্দের একটা বহু প্রচলিত উক্তির ( ''জীবে প্রেম করে যে জন, সে জন সেবিছে ঈশ্বর'' ) প্যারেডি। তো এইবার কথা হল সেটা করেছেন একজন উগ্র নাস্তিক। এবং ভুলে ভরা প্রচুর আকথা কুকথা বলা বিবেকানন্দ এবং তার স্ববিরোধীতার ( তিনি ব্রাহ্মণকে গালাগাল দিয়ে এথিস্ট সাজেন আবার জমিদার ব্রাহ্মণ এর রাজকীয় আথেতিয়তা নিয়ে পশু বলি এবং সতীদাহকে সমর্থনও করেন ) বিরোধিতা করে তাহলে তা কি 'কুরুচিপূর্ণ' হবে? কিংবা একে কেন্দ্র করে (ইয়ে)অনুভূতির দ্বারা বুস্ট পেয়ে এই প্যারেডিদাতা ( উগ্র নাস্তিক ) যিনি ধর্মীয় বিচারে একজন মুসলিম তার উপর যদি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের পান্ডারা ঝাঁপাইয়া পড়েন তাহলে কেমন হবে?

কিংবা এই যে দেব-দেবীর মূর্তি বা কার্টুন এর কথা বলছেন যা 'কুরুচি' আপনার ভাষায়, এই প্রসঙ্গে একটা উদাহারণ নেই। বিখ্যাত চিত্রকর প্রয়াত এম এফ হোসেইন হিন্দু দেব দেবীর কিছু নগ্নচিত্র এঁকেছিলেন। এবার এটাকে শিল্পী'রা 'কুরুচিপূর্ণ' বলেননি। কিন্তু বাল সাহেব ঠাকরে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সহ ভারতের নানা হিন্দু ধর্মের ধ্বজাধারী সংগঠন ও তাদের হোমরা চোমড়াদের ধর্মীয় শিশ্নানুভুতিতে তাহা ভয়ানক আঘাত দিয়েছিল। এর ফলাফল দেখেছে গোটা বিশ্ব। কি করে এজকন বিশ্বখ্যাত শিল্পীকে শেষ বয়েসে তার দেশ ছাড়তে হল। এর দুঃখ তিনি আমৃত্যু ভুলেন নি। কিংবা তসলিমা নাসরিন ( শুধু লজ্জার কথাই বলছি কিন্তু ) এর পরিণতি হল। এইগুলি কি তাহলে বলুন? আশা করি আপনাকে বুঝাতে পেরেছি

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

আপনি যে কনটেক্স থেকে আমার বলা 'নাস্তিক্যতার নামে উগ্রতার' ব্যাখ্যা করেছেন, ওরকম কোন কিছু আমার লেখায় ছিল না বা, আমি বুঝাতেও চাইনি।

হিমু ভাই এবং আমার কমেন্টগুলো দেখুন, তাহলে, যে কনটেক্স থেকে আমি 'নাস্তিক্যতার নামে উগ্রতার' কথা বলেছি, তার ধারণা পাবেন।

স্যাটায়ার, প্যারোডী বা, চিত্রকর্মকে কুরুচিপূর্ণ বলার মত অসুস্থ মস্তিষ্ক হয়নি আমার।

.

আমি 'ইশ্বর ও ধর্মের শৃঙ্খল' হতে মানুষের মুক্তি পথ হিসেবে সব সময় তর্ক, যুক্তি, বিতর্ক, আলোচনা---এগুলোকেই প্রাধান্য দেবো।

আমার 'ধর্ম ও ইশ্বর বিশ্বাসের' বিবর্তন: ধর্ম পালন করা আস্তিক -> ধর্ম পালন না করা ধর্মবিশ্বাসী আস্তিক -> ধর্মহীন আস্তিক -> মানুষের জীবনে ধর্ম ও ইশ্বর অপ্রয়োজনীয়, এই সিদ্ধান্তে অবস্থান গ্রহণ।

আমার এই মুক্তি এসেছে যে পথে আমি সে পথকেই প্রাধান্য দিব। আর তা এসেছে যুক্তি, আলোচনার পধে। পথে।

আলোচনায় অংশ নেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

তাপস শর্মা এর ছবি

কনটেক্সট এর অনুসারে টেক্সট এর প্রাসঙ্গিকতা বদলে যায়। এবং এটাই এই আলোচনায় হয়েছে। আমি কোথাও হতে উড়ে নিয়ে এসে আলোচনায় কিছু বসাইনি এনেছি টু দ্যা পয়েন্ট। আমার একটাই সোজা প্রশ্ন ছিল। সেটা হল - আপনার 'নৈরাজ্যের দৃষ্টিকোণ' থেকে একজন উগ্র নাস্তিক ও উগ্র আস্তিক > কি করে সমান হয়ে যায়? এর ব্যাখ্যা করতে এসে আপনি যাদেরকে নাস্তিক নৈরাজ্যবাদী হিসেবে নামিয়েছেন ওরা নাস্তিকতার নাম দিয়ে নৈরাজ্য করেন নি, এরা করেছে এদের নিজস্ব রাজনৈতিক ফান্ডায়, সুতরাং আপনার যুক্তিগুলি অপ্রাসঙ্গিক এখানেই হয়ে যায়। এরপর এরই প্রয়োজনে সব আলোচনা এসেছে। আপনি সারকাজম এর ব্যাখ্যা কিন্তু 'উস্কানি' হিসেবে দেখিয়েছেন আপনার আলোচনায় তাই উপরে উল্লেখিত কথাগুলি বলতে হয়েছে

০২

সহসচল হিমু ও আপনার আলোচনা নামে যে আলোচনার কথা আমাকে দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন তা আমি দেখেছি। তাই আপনার নির্দেশ পেয়ে আবারও দেখলাম। তাতেও আপনি ক্যানেস্ত্রা পিটিয়ে কমিউনিজম আগ্রাসনকে নাস্তিকতার প্যাকেটে ঢুকিয়ে দিতে চাচ্ছেন। এবং সহসচল হিমু, অরফিয়াস, কৌস্তুভ এরা প্রত্যেকেই সেই দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাই করেছেন এবং আপনার দাবী যে অবান্তর তাই দেখিয়েছেন

একজন আস্তিক যদি চোর হন তখন তাকে কি আস্তিক চোর বলা হয়? একজন নাস্তিক যখন পুলিশ হন তখন কি তাকে নাস্তিক পুলিশ বলা হয়?
কিন্তু একজন ধর্মীয় উগ্র মৌলবাদী আস্তিককে কখন এমন বলা হয়; যখন সে/গোষ্ঠী সরাসরি ধার্মিকতার নাম দিয়ে উগ্রতায় লিপ্ত হন। ঠিক তেমনি একজন নাস্তিক যদি সন্ত্রাসী হন এবং সন্ত্রাস করেন ‘নাস্তিকতা’র প্রসারে কিংবা নাস্তিক গোষ্ঠী নিয়ে নাস্তিকবিশ্ব বা নাস্তিক ম্যানিফেস্টো স্থাপনে ঝাপিয়ে পড়েন তখনই তাকে / তাদেরকে আগ্রাসী নাস্তিক হিসেবে আখ্যায়িত করা যাবে তার আগে নয়। আপসোস প্রথমটা এই বিশ্বে নিত্য দিনের ঘটনা হলেও নাস্তিকদের ক্ষেত্রে এমন একটা উদাহরণও কেউ দিতে পারল না

স্যাম এর ছবি

অফ ইজ আ টিভি চ্যানেল গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

If atheism is a religion then off is a TV channel.

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

এইটা মনে হয় বিল মাহের বলছিল তার কোন প্রোগ্রামে, 'If atheism is a religion then 'off' is TV channel, if atheism is a religion then abstinence is a sex position' দেঁতো হাসি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

মৃত্যুময় ঈষৎ(অফলাইন) এর ছবি

চলুক

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

ইতিমধ্যে লেখকের উপর অনেক সমালোচনার ঝড় গিয়েছে। তাই আমি আর লেখার বক্তব্য ধরে সরাসরি সমালোচনা করতে চাচ্ছি না। কিন্তু একই সাথে কিছু কথা একান্তই না বললেই নয়। কথাগুলো নিতান্তই আমার ব্যক্তিগত অভিমত হিসেবে গণ্য করতে পারেন।

আমার মতে নাস্তিকতা কোন বিশ্বাস, আদর্শ বা মতবাদ নয়। নাস্তিকতা একটা অবস্থান মাত্র। একজন মানুষ যখন সকল ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে একটা ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করে, তখন সেটাই নাস্তিকতা। একজন নাস্তিককে তার নাস্তিকতার কোন রকম চর্চাও করতে হয় না; তবুও সে নাস্তিকই থাকে। এমন কি সে যদি কখনও নাও বলে যে সে নাস্তিক, তবুও সে নাস্তিক থাকবে যদি সে সকল প্রকার ঈশ্বর বিশ্বাস মুক্ত হয়। লক্ষ্য করে থাকবেন, একজন বিশ্বাসীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে কিন্তু একজন নাস্তিকের নাস্তিকীয় অনুভূতিতে কখনও আঘাত লাগে না; কারণ তেমন কোন অনুভূতিই নেই। আর একারণেই একজন উগ্র-বিশ্বাসীর চিন্তা, কাজ ও ধ্যান-ধারণাকে একজন উগ্র-নাস্তিকের চিন্তা, কাজ ও ধ্যান-ধারণার সাথে ঠিক একই পাল্লায় কোন ভাবেই মাপা যায় না।

পুনশ্চঃ ক্লাস সেভেনে যখন প্রথম প্রথম এ্যালজাবরা করতে শুরু করলাম, তখন স্যারকে বারবার বলতাম x+y = কী হয়? স্যার বলতেন, x+y = x+y-ই । কারণ এদুটোকে এক সাথে যোগ করা যায় না। এদুটো আলাদা আলাদা চলক। এই পোস্টের আলোচনায় সে কথা আবার মনে পড়লো।

অরফিয়াস এর ছবি

একজন নাস্তিকের নাস্তিকীয় অনুভূতিতে কখনও আঘাত লাগে না; কারণ তেমন কোন অনুভূতিই নেই।

নিয়াজ ভাই, কথাটা মনে হয় এভাবে বললে ভালো হতো, নাস্তিকের কোন ধর্মীয় অনুভূতি নাই কিন্তু যৌক্তিক অনুভূতি আছে।

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

নিয়াজ ভাই, কথাটা মনে হয় এভাবে বললে ভালো হতো, নাস্তিকের কোন ধর্মীয় অনুভূতি নাই কিন্তু যৌক্তিক অনুভূতি আছে।

যৌক্তিক অনুভূতি আছে, সেটা সম্ভবত মানুষ মাত্রই থাকবে। কেউ যখন যুক্তি মানে না কিম্বা যুক্তিকে অন্ধভাবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তখন বিরক্ত লাগে। যে বুঝতে চাইছে না, তাকে বোঝানোর চেষ্টা করতে ইচ্ছে হয়; চেষ্টা করাও হয়। এতটুকুই। কিন্তু এই অনুভূতি কখনওই ধর্মীয় অনুভূতির মত না। যাকে বোঝাতে চাওয়া হচ্ছে, সে না বুঝলেও নাস্তিকের কিছু যায় আসে না। এমন কি তর্কের সময় নাস্তিকতাকে নিয়ে গালি দিলেও নাস্তিক হাসতে পারে। কিন্তু কারো নবীকে নিয়ে একটা সি-গ্রেডের চলচিত্র নির্মাণ হলে, বলি হতে হয় কোন দেশের রাষ্ট্রদূতকে, কোন কোন দেশে ইউটিউব বন্ধের জন্য মিছিল হয় এবং বন্ধও হয়ে যায়। কাউকে ধর্মগ্রন্থ মাড়ানো ছবিতে অন্য কেউ ট্যাগ করলে মন্দিরে আগুন লাগে। এগুলো মুমিনদের পক্ষ থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার প্রতিক্রিয়া যা কখনই নাস্তিকরা করবে না। আজ পর্যন্ত করেছে এমন প্রমাণ নেই। (একজন নাস্তিক উগ্রবাদী কাজ করেছে এবং একজন নাস্তিক নাস্তিকতার প্রচারে উগ্রবাদী কাজ করেছে - এক জিনিস নয়)।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

একজন নাস্তিক উগ্রবাদী কাজ করেছে এবং একজন নাস্তিক নাস্তিকতার প্রচারে উগ্রবাদী কাজ করেছে - এক জিনিস নয়।

এই জাজমেন্টটাতে আমি ভুল করেছিলাম। দুটোকে এক করে দেখছিলাম কিছু ইস্যুতে। তা না হলে, এই বিতর্ক হয়তো এড়ানো যেত।

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

হ্যা, আমারও মনে হয়েছে পোস্টের মূল বিতর্কের সূত্র ছিল এখানে। পরে সেটা বিভিন্ন দিকে প্রসারিত হয়েছে। তবে অনুবাদের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাবো।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

তবে অনুবাদের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাবো।

ধন্যবাদ। হাসি

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

নিয়াজ ভাই,

'বিশ্বাস' শব্দটি ব্যবহার করা ভুল হয়েছিল মানছি। এক্ষত্রে আমার 'অবস্থান' শব্দটিই ব্যবহার করা প্রয়োজন ছিল।
তবে, শব্দের প্রয়োগ যাই হোক, আমার বলার অর্থ একই ছিল।

তবে, অতীতে ও বর্তমানে নাস্তিক্যবাদের ছায়া দেখিয়ে অনেকেই উগ্রতা দেখিয়ে যাচ্ছে। এদের দায় নাস্তিক্যবাদের নয়, এটা ঠিক। তবে, এরাও কিন্তু উগ্রবাদী, এনার্কিস্ট।

মতামতের জন্য ধন্যবাদ।

পুতুল এর ছবি

এনার্কিষ্ট উগ্রবাদী?

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

নৈরাজ্যবাদ বা, এনার্কিজমের ধারণাটাই তো উগ্র।

হিমু এর ছবি

ধর্মকে বিদ্রুপ করে কার্টুন আঁকলে এর ফল নৈরাজ্য বা অ্যানার্কি পর্যন্ত গড়াতেই হবে, এটাই যদি আপনার বক্তব্যের স্বতসিদ্ধ হয়, আপনি নিজেই তো ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীলদের সমর্থন করে কথা শুরু করেছেন।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

ধর্মকে বিদ্রুপ করে কার্টুন আঁকলে এর ফল নৈরাজ্য বা অ্যানার্কি পর্যন্ত গড়াতেই হবে, এটাই যদি আপনার বক্তব্যের স্বতসিদ্ধ হয়, আপনি নিজেই তো ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীলদের সমর্থন করে কথা শুরু করেছেন।

এটা আমার বক্তব্য ছিল না।

আমার বক্তব্য হচ্ছে-কুরুচিপূর্ণ অঙ্কন (কিছু উদাহরণ দেই: মুসলমানদের নবীর উত্থিত লিঙ্গ-পেডোফিলিয়া-বহুগামিতা, রাবণের সাথে সীতার সংসর্গের, শ্রীকৃষ্ঞের বহুগামিতা, জীশুর সাথে মগধিলিনী মেরী, জীশুর মা মেরীর সাথে প্রধান র‌্যাবাইয়ের সংসর্গে জীশুর জন্ম)---এগুলোর মাধ্যমে কতটুকু অর্জন হচ্ছে?

একজন ধর্মে বিশ্বাসীকে সত্যের পথ দেখানোর জন্য, ইশ্বর ও ধর্মের মত মিথ্যা শিকল হতে মুক্ত করার জন্য কুরুচিপূর্ণ কার্টুন কতটুকু ভূমিকা রাখে?
আমার ব্যাক্তিগত মতামত, কোন ভূমিকা রাখে না।
ভূমিকা রাখে-যুক্তি-তর্ক-আলোচনা।

আমি নিজেও ধর্ম বা, ইশ্বরের বিশ্বাসের মত মেকি ধ্যান ধারণায় বিশ্বাস করি না। আমার নিজের মুক্তি এসব কার্টুন, কুরুচিপূর্ণ ভিডিও দেখে হয়নি, হয়েছে আলোচনা, যুক্তি, তর্ক, বই পড়ে।

বাস্তবের দিকটা দেখুন। মুসলমান ফ্যানাটিকরা এমনিতেই মুখিয়ে থাকে ঝামেলা পাকানোর জন্য আর আমাদের মধ্যবিত্ত মুসলমান সমাজ ফ্যানাটিকদের কথায় সায়ও দেয়। এটা অনেক বড় একটা এলার্মিং বিষয়। আমি নিজে যা সঠিক মনে করি, তা হল- ধর্ম ও ইশ্বরে বিশ্বাস করার মত অন্ধকারে থাকা এসব মানুষকে মুক্ত করবার পথ হলো আলোচনা, যুক্তি, তর্ক।

আমি ব্যাক্তি-স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। কুরুচিপূর্ণ কার্টুন বা, ভিডিও তৈরী ও বিতরণের অধিকার সবাই রাখে। এব্যাপারে কারো কোন জোর খাটানো সঠিক নয়।
তবে, আমি ব্যাক্তিগতভাবে কুরুচিপূর্ণ কার্টুন বা, ভিডিও পছন্দ করি না। এটা আমার কাছে অসভ্য উপায় মনে হয়। এটি আমার একান্ত ব্যাক্তিগত মতামত।

সভ্য আচরণের কোন বিকল্প নাই।

'Civilised way is the best way to solve a problem'-Skinner।

হিমু এর ছবি

আপনি কেন আপনার ফিতা দিয়ে আরেকজনের অর্জন মাপতে চাইছেন? যারা ওগুলো করছে, তারা কোনো কিছু অর্জনের জন্য করছে, সেটাই বা আপনি ধরে নিচ্ছেন কেন? এই যে লোকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, কোরবানি দেয়, হজে যায়, কী অর্জন হচ্ছে এতে?

আপনি বারবার একই কথা বলছেন। যে লোকটা কার্টুন আঁকছে, সে কোনো ধর্মবিশ্বাসীকে সত্যের পথ দেখানোর ঠ্যাকা নিয়ে আঁকছে, এটা আপনি কেন ধরে নিচ্ছেন? সে খামাখাই তো আঁকতে পারে।

আপনি ঝামেলা পাকানোর জন্য মুখিয়ে থাকা মুসলমান ফ্যানাটিক এবং তাদের সাথে সায় দেয়া মধ্যবিত্তের পায়ের মাপে বাকি দুনিয়াকে জুতো বানাতে বলছেন। বাকি দুনিয়ার কী ঠ্যাকা পড়েছে এদের মাপে জুতা বানানোর?

আপনাকে কেউ জোর করে কুরুচিপূর্ণ কার্টুন বা ভিডিও তো দেখাচ্ছে না। আপনি ইন্টারনেট থেকে আঁতিপাতি করে খুঁজে বের করে সেটা দেখে যদি শোরগোল করেন, তার দায় কতটা আপনার আর কতটা কনটেন্ট নির্মাতার?

সভ্য আচরণের কোনো বিকল্প নাই, কিন্তু সভ্যতার সংজ্ঞার প্রচুর বিকল্প বর্তমান। যে যার মাপে সভ্যতার আকাশ তৈরি করে নেয়, ঐটা স্কিনার বলতে ভুলে গেছে।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

হিমুদা,
সেজন্যই তো বললাম,
আমি ব্যাক্তি-স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। কুরুচিপূর্ণ কার্টুন বা, ভিডিও তৈরী ও বিতরণের অধিকার সবাই রাখে। এব্যাপারে কারো কোন জোর খাটানো সঠিক নয়।
তবে, আমি ব্যাক্তিগতভাবে কুরুচিপূর্ণ কার্টুন বা, ভিডিও পছন্দ করি না। এটা আমার কাছে অসভ্য উপায় মনে হয়। এটি আমার একান্ত ব্যাক্তিগত মতামত।

হিমু এর ছবি

আমিও ব্যক্তিগতভাবে কুরুচিপূর্ণ কার্টুন বা ভিডিও পছন্দ করি না। আপনি যদি কুরুচিপূর্ণ কার্টুন বা ভিডিও পছন্দও করতেন, কোনো ঊনিশ বিশ হতো না। তর্কটা "উসকানি" নিয়ে, আমাদের পছন্দ বা অপছন্দ অপ্রাসঙ্গিক।

অরফিয়াস এর ছবি

মুসলমানদের নবীর উত্থিত লিঙ্গ-পেডোফিলিয়া-বহুগামিতা, রাবণের সাথে সীতার সংসর্গের, শ্রীকৃষ্ঞের বহুগামিতা, জীশুর সাথে মগধিলিনী মেরী, জীশুর মা মেরীর সাথে প্রধান র‌্যাবাইয়ের সংসর্গে জীশুর জন্ম

এই বিষয়গুলো কি ব্যাঙ্গ করা হয়েছে দেখে আপত্তিকর নাকি বিষয়গুলোই মূল থেকে আপত্তিকর?

যদি বিষয়ের মূলটাই আপত্তিকর হয় তাহলে এর প্রতিবাদ বা ব্যঙ্গ কেন আপত্তিকর হবে তোমার দৃষ্টিতে?

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

পুতুল এর ছবি

নৈরাজ্যবাদ মানে হচ্ছে রাজার অনুগত নয়। আবিধানিক অর্থ এরকমই। কিন্তু বাস্তবে যারা আনার্খিষ্ট; তারা নিজের মতো নিজের যা আছে তাই নিয়ে থাকতে চায়। বানিজ্যিক অর্থে লেনদেন বা ব্যবসা-বানিজ্য এই সব করতে চায়না। অনেক সময় স্থানীয় পন্য ছাড়া আর কিছু ব্যবহারও করে না। আনার্খিষ্ট আমার বিবেচনায় নেগেটিভ কিছু নয়।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

অরফিয়াস এর ছবি

এনার্কিস্টদের মূল যেই ধারণা তা হলো, তারা কোন নির্দিষ্ট নিয়মের পরিপন্থী। তারা শৃঙ্খলা পছন্দ করেনা, বরং নিজেদের মতো জীবনযাপন করাটাকেই ধরণ বলে মনে করে। তারা প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় সরকার গঠনের বিরুদ্ধে এবং এধরনের কোন সুনির্দিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থারও বিরোধী। এই তো জানি।

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

পুতুল এর ছবি

এই রকমেরই অনেকটা। কিন্তু আমার কাছে সমাজের বা দেশের জন্য এদেরকে ক্ষতিকর মনে হয়না। ধরেন আমাদের মতো প্রথা ভাঙ্গা নাস্তিক, এই সমাজ-দেশের প্রেক্ষিতে।
জার্মানে এদের একটা দল আছে যারা আমদানীকৃত খাবার খায়না। কারণ সেটা অন্য দেশের অন্য মানুষের কাজে লাগা উচিৎ। আবার সেটা আমদানী করতে জ্বালানী শ্রম মিলিয়ে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এবং এই ধরণের আইন ব্যবসা রাষ্ট পুলিশ সব কিছুকে এরা অপছন্দ অপ্রয়োজনীয় মনে করে। কিন্তু শক্তি প্রয়োগ করে সমস্যা আরো বাড়িয়েও তোলতে নারাজ। আমার কাছে ওদেরকে ভালই লাগে।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

অরফিয়াস এর ছবি

আমিও এদের বিরোধী না কিন্তু। হাসি । এদের আমার খারাপ লাগেনা, যেমন লাগেনা ন্যুডিস্ট আর নেচারালিস্ট দের।

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

পুতুল এর ছবি

সেটাই বলেতে চেয়েছি। লেখক মনে হয় এদেরকে নেগেটিভ ভাবে দেখাতে চেয়েছেন, সে জন্যই অপ্রাসঙ্গিক হলেও আমার অভিজ্ঞতাটা জানিয়ে গেলাম। ধন্যবাদ অরফিয়াস।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

পুতুল ভাই আর অরফিয়াসের দেয়া এনার্কিজমের সংজ্ঞাটির নাম: কনটেম্পরারি এনার্কিজম।

মূলত: এনার্কিজম একটা নেগেটিভ ধারণাই।
Anarchism: A Documentary History বইটা পড়ে দেখতে পারেন।

হ্যালো  এর ছবি

রাজা ভাইয়ের পুরো বক্তব্য ভালো লাগ্লেও নাস্তিকদের সম্পর্কে যা বলেছেন তা মনে হচ্ছে এরকম>>>>

পুরোপুরি ধর্মান্ধদের দোষ দিলে হয়ত তাদের কাছে রাজা ভাই গ্রহণযোগ্য হবে না।তাই ঝিকে মেরে বউকে শেখানোর মতো দুই পক্ষকেই হাল্কা পাতলা বকুনি দিয়ে দিয়েছেন। নাস্তিকদের বকুনি দিলে ধার্মিকেরা খুশি হবে এই ভেবে যে না লোক্টা নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়া বলছে।তাই মনে হয় রাজা ভাই ....................

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

হা হা হা

নাস্তিকদের/ নাস্তিক্যবাদের বিপক্ষে কি কোন কিছু লেখা হয়েছে পোস্টে?

আমার বিপক্ষ অবস্থান ছিল ধর্মান্ধদের এবং যারা নাস্তিকতার নামে উগ্রতা দেখায় তাদের প্রতি।

কাউরে খুশী করার প্রজেক্ট হাতে নিই নাই, ওইটা নিয়া চিন্তা না করলেও চলবে। নিজের যুক্তিতে যা সঠিক বলে মনে করি, তাই লিখেছি।

পুতুল এর ছবি

নাস্তিকতার নামে উগ্রতা দেখায় তাদের প্রতি।

বুঝতে পারছি, অনেক পাঠকের অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে আপনাকে। তারপরেও কৌতুহল হচ্ছে কোথায় কোন নাস্তীক উগ্রতা দেখিয়েছে, এমন একটা উদাহরণ দিন।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

হিমু ভাইয়ের জবাবে দশজনের নাম বলেছি। উনাদের জীবনী পড়লে আশা করি 'নাস্তিক্যবাদের নামে উগ্রতা'র উত্তর পেয়ে যাবেন।

হিমু এর ছবি

কৌস্তুভের মন্তব্যে আপনার এই ধারণার বিপরীতে একটা ব্যাখ্যা আছে। পড়ে দেখতে পারেন।

পাঠক এর ছবি

প্রিয় লেখক, মামদো ভুত এবং গেছো পেতনী বিশ্বাসীদের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং শ্রদ্ধাশীল হতে বললে আপনার যেমন লাগবে, আপনার লেখাটা পড়ে আমার তেমন লাগলো।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

হুমম।
বক্তব্য পরিষ্কার করলে ভাল লাগত।

নয়তো এরকম আলটপকা মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

পুতুল এর ছবি

একটা ব্যাপর পর্যবেক্ষণ করে বেক্কল হয়ে গেলাম। দুনিয়াতে ঈশ্বর নেই এবং ঈশ্বর আছে এই নিয়ে কোন যুদ্ধ আমার জানা মতে হয়নি। হয়েছে কেবল আমার ঈশ্বর তোমার ঈশ্বরের চেয়ে মহান, এতো মহান যে সেই ঈশ্বরের নামে খুন করতে আমি বদ্ধ পরিকর। সেটা কিন্তু যেকোন বিশ্বাস বা ধর্মের জন্যই প্রযোজ্য। যারা আলোচিত বালচিত্র বানিয়েছে, তারাও বানিয়েছে, তাদের ধর্ম সহনশীল এবং মানবীয় সেটাই প্রচার এবং প্রতিষ্ঠিত করতে।

নাস্তিক হওয়ার সুবিধা হল যে; নাস্তিক হওয়ার জন্য কোন বাইবেল কোরান ছিনেমা কোন কিছু লাগে না। তার জন্য কোন নবি রসুলও দরকার নেই। শুধু নিজের মাথাটা খাটালেই চলে। জোড়জবরদ্স্তি কাইজ্যা কেরাঙ্গাল যুদ্ধ কিচ্ছু লাগে না।

কিন্তু কেন সব মানুষ সব চেয়ে সহজ "নিজের মাথা"টা না খাটিয়ে কে কী কখন কোথায় বলে গেছেন, তাই নিয়ে কামড়া কামড়ি করে! আমার ধারণা (বিশ্বাস); ধর্মকে এতো প্রাধান্য না দিলে দুনিয়াটা আরো একটু শান্তিময় হতো। সবার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি
স্যাম এর ছবি

চলুক

ক্লোন৯৯ এর ছবি

চলুক সুপার লাইক

কৌস্তুভ এর ছবি

১) লেখা অনুবাদ তো হল, কিন্তু আপনার সংযোজিত বক্তব্য যে সুইস চীজের মতই ছিদ্রময় তা তো অনেকেই ইতিমধ্যে দেখিয়ে দিয়েছেন। আমি অবাক হচ্ছি এই ভেবে, যে আপনি তো মুমিনদের মত এক বইয়ের পাঠক নন, যুক্তিবুদ্ধি দিয়েই লেখালিখি করেন, তাহলে আস্তিকদের ওই ছেঁদো যুক্তিগুলোর চর্বিতচর্বণ যে 'জঙ্গি নাস্তিক' হিচেন্স বা ডকিন্স বা আরো অনেকেই ইতিমধ্যেই বহুবার খণ্ডন করে দিয়েছেন, তা একটু পড়ে দেখলেন না?

২) সংশয়বাদী তো স্কেপটিক বুঝলাম, 'নিয়মবাদী' কী জিনিস?

৩) আপনি এখানে একাধিক কমেন্টে যে উদাহরণটা বারবার আনতে চেয়েছেন, এবং লোকে বুঝিয়ে দেওয়ার পরেও বুঝছেন না, তা এই যে সোভিয়েত বা চৈনিক কমিউনিজম একটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থান। এবং যেহেতু ফালুন গং বা খ্রীষ্টান ধর্ম তাদের বিপরীতে একটা সংগঠিন যা একটা শক্তিশালী সংগঠিত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রাখে, তাই তাদের মুড়িয়ে দেওয়া দরকার। কমিউনিজমের অনুসারে চিন্তাভাবনা করলে তার অংশ হিসেবে নাস্তিকতার ধারণাটা আসে, কিন্তু সেটা এদের কাছে ম্যাটার করে না। ওই অনুসারে চিন্তাভাবনা করলে চিনে পুঁজিবাদও ঘেঁষতে পারার কথা না, কিন্তু সবচেয়ে বড়লোক নেতাদের পরিবারগুলোই। নাস্তিকতা আসে স্রেফ প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসাবে ধর্মগুলোকে নির্মূল করার আনুষঙ্গিক হিসেবে।
অর্থাৎ, তারা 'নাস্তিকতার জন্য' ধর্মধ্বংসে আগ্রহী নয়, ধর্মধ্বংসের পরিণতি হিসেবে নাস্তিকতায় আগ্রহী। তাদের 'নাস্তিক্যবাদের নামে উগ্রতা' ক্লাসে ফেললে ভুল, 'কমিউনিজমের নামে উগ্রতা' ক্লাসে ফেলা দরকার।

৪) আপনার উদ্দেশ্য মেটে এমন একটা ঠিকঠাক উদাহরণ দিই বরং। এখানে মনে করা হচ্ছে, কিছু নাস্তিক দুটো চার্চকে ভ্যান্ডালাইজ করে 'গড = ডিলিউশন' বা 'এথেইজম' লিখে গেছে। সেটাকে সরাসরি নাস্তিকতার নামে উগ্রতা বলা চলবে।
(অবশ্য যারা 'athiesm' বানানটুকুও ভুল লেখে তারা আসলেই নাস্তিক নাকি এঞ্জেলস এন্ড ডিমনস-এর মত চার্চের ভাড়াটে গুণ্ডা তা নিয়ে সন্দেহ করাই যায়, তবে সেটা বাড়তি অ্যাজাম্পশন, তাই প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত ওকাম'স রেজর বলে যে নাস্তিকরাই এটা করেছে সেটা ধরে নেওয়াই উচিত।)
এখানে দুটো জিনিস এবার খেয়াল করুন। ক) এইধরনের ঘটনা কতটা দুর্লভ - এরকম 'নৈরাজ্যবাদী উগ্র নাস্তিকরা সর্বদা ব্যস্ত চারপাশে হট্টগোল লাগাতে', এটা মোটেই ঠিক না, খ) এটার ক্ষতিপূরণ হিসেবে নাস্তিকরা কীরকম সক্রিয়তা দেখিয়েছেন।

৫) আর ৩ নম্বর পয়েন্টটা আরো একবার স্পষ্ট করে দিতে আরেকটা উদাহরণ দিই, এখন যেখানে আছি সেখানকার। ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরি যখন বিবাহবিচ্ছেদ চাইলেন, ভ্যাটিকান আপত্তি জানাল। রাজা সেই ঝামেলা সমূলে উৎখাত করার জন্য চার্চ অফ ইংল্যান্ডই সৃষ্টি করে বসলেন। এখানে রাজা কিন্তু একজন ধর্মপ্রণেতা নয়, তাঁকে জোসেফ স্মিথ বা রন হাবার্ডের মত ক্যাথলিসিজমের স্পিন-অফ ধর্মের সৃষ্টিকর্তা বলে ধরা যাবে না। সে নিজের ব্যক্তিগত বৈবাহিক উদ্দেশ্য পূরণ করতে 'ধর্মের নামে' এই কাজ করেছে।
(অবশ্য এখন পরিহাস এমনই যে, এই চার্চ অফ ইংল্যান্ডই বলছে, 'বিবাহ'কে রিডিফাইন করা যাবে না, অর্থাৎ সমকামী বিবাহ বৈধ করা যাবে না। লে হালুয়া।)

৬) "ধর্ম নিয়ে যারা বাজে মন্তব্য করে, কুরুচিপূর্ণ ভিডিও বানায়, প্রবন্ধ বা, গল্প লিখে, কার্টুন আঁকে; ধর্মবিশ্বাসীদের উচিত এদের জবাব দেয়া..."
এটার বদলে বলা উচিত ছিল "ধর্ম নিয়ে যারা ধর্মবিশ্বাসীদের চোখে বাজে মন্তব্য করে, কুরুচিপূর্ণ ভিডিও বানায়..."
কারণ 'অপমানজনক', 'খারাপ', 'অনুভূতিতে আঘাতদানকারী' ব্যাপারগুলো যে ব্যক্তিনির্ভর সেটা হিমুদা স্পষ্টভাবেই দেখিয়ে দিয়েছেন।

৭) "অন্য ধর্মের প্রতি ও অন্য মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল" সত্যিই আমাদের হতে বলছেন? আমাদের বলছেন, ক্রিয়েশনিজমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে? আমাদের বলছেন, পৃথিবী একটা কূর্মের পিঠে ভর দিয়ে আছে, এটার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে? আমাদের বলছেন, আপনার তাজা হৃদপিণ্ডখানা উপড়ে নিয়ে উৎসর্গ না করলে কালকে সূর্য উঠবে না, এই ধারণার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে? যদি বলেন, তা না করলে পৃথিবীতে শান্তি আসবে না, এবং তার জন্য আমরা নাস্তিকরাই দায়ী থাকব, তাহলে দুঃখিত, আপনার মতের প্রতিও একফোঁটাও শ্রদ্ধাশীল হতে পারছি না।

অরফিয়াস এর ছবি

"অন্য ধর্মের প্রতি ও অন্য মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল" সত্যিই আমাদের হতে বলছেন? আমাদের বলছেন, ক্রিয়েশনিজমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে? আমাদের বলছেন, পৃথিবী একটা কূর্মের পিঠে ভর দিয়ে আছে, এটার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে? আমাদের বলছেন, আপনার তাজা হৃদপিণ্ডখানা উপড়ে নিয়ে উৎসর্গ না করলে কালকে সূর্য উঠবে না, এই ধারণার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে? যদি বলেন, তা না করলে পৃথিবীতে শান্তি আসবে না, এবং তার জন্য আমরা নাস্তিকরাই দায়ী থাকব, তাহলে দুঃখিত, আপনার মতের প্রতিও একফোঁটাও শ্রদ্ধাশীল হতে পারছি না।

চলুক

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

ক্লোন৯৯ এর ছবি

চলুক সুপার লাইক

তারেক অণু এর ছবি

"অন্য ধর্মের প্রতি ও অন্য মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল" সত্যিই আমাদের হতে বলছেন? আমাদের বলছেন, ক্রিয়েশনিজমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে? আমাদের বলছেন, পৃথিবী একটা কূর্মের পিঠে ভর দিয়ে আছে, এটার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে? আমাদের বলছেন, আপনার তাজা হৃদপিণ্ডখানা উপড়ে নিয়ে উৎসর্গ না করলে কালকে সূর্য উঠবে না, এই ধারণার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে? যদি বলেন, তা না করলে পৃথিবীতে শান্তি আসবে না, এবং তার জন্য আমরা নাস্তিকরাই দায়ী থাকব, তাহলে দুঃখিত, আপনার মতের প্রতিও একফোঁটাও শ্রদ্ধাশীল হতে পারছি না। চলুক

চরম উদাস এর ছবি

চলুক
কিছু বলার জন্য মুখ খুলছিলাম, এখন দেখি ব্যবাক কথা বলে দিলেন। এরপরে, আর কি কমু? নাহ, আপনে নাস্তিক হইলেও মানুষটা তত খারাপ না দেঁতো হাসি

কৌস্তুভ এর ছবি

এই উদাস থুক্কু উদার ছাট্টিফিকেটের জন্য ধন্যবাদ গো কত্তা! দেঁতো হাসি

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

চলুক গুল্লি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

খেকশিয়াল এর ছবি

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

সাবেকা  এর ছবি

চলুক

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

কৌস্তুভ ছেলেটা সেক্সি আছে!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

বিতর্ক অনেকদূর এগিয়ে গেছে।

নিজের একটা জবানবন্দী দেয়ার প্রয়োজনবোধ করছি।

নাস্তিক্যবাদের সাথে আমার কোন বিবাদ নেই। আমি নিজেও ইশ্বর বা, ধর্মে বিশ্বাস করি না। কোন ধর্মের কারও ধর্মীয় পুটু মারা হলেও, সে বিষয়েও আমার কোন সমস্যা নেই, যায় আসে না। দৈনন্দিন জীবনে ধর্ম বা, ইশ্বরের প্রয়োজনীয়তাও কখনো অনুভব করিনি।

নিজের অবস্থান হল সংশয়বাদী (স্কেপটিক) ও নিয়মবাদী/সিস্টেমিস্ট (মেটাফিজিকাল ন্যাচারালিজমের কাছাকাছি ধারণা)।

বিতর্কের শুরুটা হয় একটি লাইন থেকে, তা হল:

'ধর্মান্ধদের' কাজ আর 'উগ্রবাদী-নাস্তিকদের' কাজ আমার কাছে সমার্থক; এই দু'ধরণের ব্যাক্তিরা 'নৈরাজ্যবাদী'।

উগ্রবাদী-নাস্তিক বলতে বুঝিয়েছিলাম যারা নাস্তিক্যবাদকে সামনে রেখে উগ্রতা দেখায় বা, নৈরাজ্যমূলক কাজ করে।

ধর্মান্ধ ও 'উগ্রবাদী-নাস্তিক'কে নৈরাজ্যবাদী বলেছি এই অর্থে যে, এরা দুজনেরই সমাজের ব্যালেন্স নষ্ট করে, সভ্য পন্থা অবলম্বন করে না।

কিন্তু কর্মের-মাত্রা বিবেচনায় করলে 'ধর্মান্ধ' ও 'উগ্রবাদী-নাস্তিক'-এর কোন তুলনা হয় না।

কার্টুন বা, ভিডিও-এর মাধ্যমে 'নাস্তিক্যবাদের আলো' ধর্মবিশ্বাসীদের অন্ধকার মন কতটুকু আলোকিত করে, সেটি নিয়ে আমি সন্দিহান। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধর্মান্ধরা এটাকে ইস্যু করে সহিংস পরিবেশ সৃষ্টি করে।
এখানে কার্টুন আঁকিয়ে বা, ভিডিও নির্মাতার কোন দোষ নেই, অন্যায় নেই। বাক-স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবারই আছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ধর্মবিশ্বাসীদের মনে সত্যর সন্ধান দিতে কার্টুন বা, ভিডিও কতটুকু কার্যকর?
আমার বিশ্বাস এটা কার্যকর পদ্ধতি না।

যুক্তি, তর্ক, আলোচনার মাধ্যমে অবিশ্বাসের দর্শন ধর্মবিশ্বাসী মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে এই মানুষগুলো ধর্ম-ইশ্বরের ধারণার মত অপ্রয়োজনীয় ধারণা হতে বেরিয়ে আসতে পারে।

সিভিলাইজড ওয়ে বলে একটা কথা আছে। নিকোলাস কপারনিকাস, জিওর্দানো ব্রুনোদের কাজের সাথে নোরিসের কাজের তুলনা হয় না।

উপরে মন্তব্যে অনেকে লিখেছেন, 'আমার কথায় ধর্ম-বিশ্বাসীদের প্রতি সহানুভূতি পাওয়া যাচ্ছে।'

ধর্মান্ধরা/ধর্মবিশ্বাসীরা যা করে তার পুরোটাই তো অযৌক্তিক। এদের প্রতি আমার সহানুভূতি থাকাটা অসম্ভব পর্যায়ের।

নাস্তিক্যবাদকে সামনে রেখে যারা উগ্রতা দেখাচ্ছেন, তাদের সমালোচনা করাটা যদি ধর্মবিশ্বাসীদের প্রতি সহানুভূতি দেখানো হয়, তাহলে তা একান্ত মন্তব্যদানকারীর ব্যাক্তিগত বিবেচনা।

স্টেট এথিজমের নামে সোভিয়েত রাশা, পূর্ব ইউরোপের আলবেনিয়া, চেকোশ্লোভাকিয়া, রোমিনিয়ায় কি হয়েছে, তা আশা করি সবারই জানা আছে।

সবাই নাস্তিক, অজ্ঞেয়বাদী, সংশয়বাদী, প্রকৃতিবাদী বা, নিয়মবাদী হয়ে যাবে, এমনটা ভাবা ভুল হবে। ধর্মবিশ্বাসী কিছু থেকে যাবে। আমাদের মতবিরুদ্ধ সমাজের এই অংশটাকে আমরা কি একটারমিনেট করবো? নিশ্চয় না।
আবার, ধর্মবিশ্বাসীদের উঁচু সুরে বাজানো মাইক সহ্য করার নাম ধর্মবিশ্বাসীদের প্রতি মুক্তমনাদের সহনশীলতা না
যা কিছু বস্তুগত অকল্যাণকর, সব উপড়ে ফেলতে হবে, শক্তি প্রয়োগ করে হলেও।

কে কার্টুন আঁকবে, কে ভিডিও বানাবে, কে কোন নবীকে গাল দেবে, সেটা একান্তই কর্মসাধনকারীর ব্যাক্তিগত ব্যাপার। ওতে আমার-আপনার কথা বলা সাজে না।

কিন্তু সবার ব্যাক্তিগত মতামত থাকবে। ঠিক তেমনি আমারো আছে। আমার এবিষয়গুলো সিভিলাইজড ওয়ে মনে হয় না। আমার মতে এথিইজমের আলো ছড়ানোর বেস্ট ওয়ে হচ্ছে আলোচনা, তর্ক, যুক্তি।

আশা করি নিজের অবস্থান ক্লিয়ার করতে পেরেছি। আমার আড়াই বছরের ব্লগ জীবনে সবচেয়ে ব্যস্ত দিন কাটালাম। হাসি

হিমু এর ছবি

আপনি সারা বিতর্কে বারবার উসকানিমূলক শব্দটা ব্যবহার করে এসেছেন। আপনি নিজে নাস্তিক নাকি ধার্মিক, সেই প্রসঙ্গ অবান্তর (মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ স্মর্তব্য)।

আপনি যদি মনে করেন, একটা কার্টুন আঁকা আসলে দাঙ্গা লাগানোর উসকানি, অতএব কার্টুনিস্ট আর দাঙ্গাবাজ দুই পক্ষই দোষী (এই তর্কে আপনি মাত্রার কথা টেনে এনে ব্যাপারটাকে আবার হালাল ফ্লেভার দিতে চাইছেন), তাহলে সেটা পরিষ্কার করে বলুন, অথবা আপনার ব্যবহৃত উসকানিমূলক শব্দটা পুনর্বিবেচনা করে দেখুন। বিশ্বাসকে আপনি রিফ্রেইজ করে অবস্থানে যেতে পারলে, নিশ্চয়ই উসকানিমূলকেরও একটা বিকল্প পাবেন।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

ধর্মান্ধদের প্রতিক্রিয়া তো কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না, দাঙায় সরাসরি ধর্মান্ধরাই দোষী।
কার্টুন কি উদ্দেশ্যে এঁকেছেন, তা কার্টুনিস্টের একান্তই ব্যাক্তিগত এখতিয়ার, উনি ছাড়া অন্য কেউ তো আর এর উদ্দেশ্য বের করতে পারবেন না।
তবে, বাস্তবতা হল, এই কার্টুনগুলো সাম্প্রদায়িক হামলায় উসকানিতে ব্যবহৃত হয়, গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

হিমু এর ছবি

বাস্তবতার আরেকটা ডিটেইল আপনি উল্লেখ করতে ভুলে গেলেন, এই কার্টুনগুলো সাম্প্রদায়িক হামলায় উসকানিতে ব্যবহার করে ধর্মবিশ্বাসীরাই।

অরফিয়াস এর ছবি

চলুক

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

তাপস শর্মা এর ছবি
সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

এই কার্টুনগুলো সাম্প্রদায়িক হামলায় উসকানিতে ব্যবহার করে ধর্মবিশ্বাসীরাই।

তা তো অবশ্যই।

হিমু এর ছবি

উসকানিও দিচ্ছে ধর্মবিশ্বাসী, দাঙ্গাও বাধাচ্ছে ধর্মবিশ্বাসী, আর "উসকানিমূলক" আচরণের অভিযোগ আপনি আনছেন একজন কার্টুনিস্টের ওপর। তারপর বলছেন সে উগ্র নাস্তিক। তারপর বলছেন সে নিপাত যাক। এর মধ্যে যে সমস্যা আছে, সেটা কি আপনি ধরতে পারছেন?

কৌস্তুভ এর ছবি

লেখা -গুড়- হয়েছে

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

'উসকানি' প্রসঙ্গে কার্টুনিস্ট হয়তো জড়িত না। কারণ, উনার মনের ইচ্ছা উদ্দেশ্য আমাদের জানা সম্ভব না।
উসকানি দেয়ার জন্য এঁকেছেন নাকি, অন্য ইচ্ছায় সেটা সর্ম্পূণ নিজের উপর।
-এই প্রসঙ্গে আপনার বক্তব্যকে মেনে নিলাম।

তবে, শুধুমাত্র কার্টুনিস্ট/ভিডিও মেকার ইস্যুর জন্য 'উগ্র নাস্তিক' শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। আলোচনা ও বিতর্কে এর ব্যাপ্তি অনেকদূর গড়িয়েছে। নিচে দুটো বইয়ের কিছু রেফারেন্স দিলাম।

হিমু এর ছবি

আপনি মন্তব্যের মাঠে কমিউনিস্ট বলয়ে যে রাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট নাস্তিকতার কথা বলছেন, সেটা পোস্টের সাথে অপ্রাসঙ্গিক। আপনি যদি স্টেট এথিইজমকে ডিনাউন্স করতে চান, তাহলে দয়া করে আগে স্টেট এথিইজমের সঙ্গে আপনার পোস্টে উল্লিখিত "উগ্র নাস্তিকতা"র একটা সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করুন, তারপর সেটা নিয়ে কথা হতে পারে। স্টেট এথিইজম উত্তর কোরিয়া ছাড়া বোধহয় আর কোথাও চর্চিত হয় না এখন। উত্তর কোরিয়ার কারণে পৃথিবীর কোথাও ধর্মীয় সহিংসতার ঘটনার কথা আমি জানি না, আপনার জানা থাকলে আমাকে জানাতে পারেন।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

পোস্টে একটা লাইন ছিল-
তেমনি সোভিয়েত রাশায় আমরা দেখেছি নাস্তিক্যবাদের নামে উগ্রতা কিভাবে ধর্মবিশ্বাসীদের সাম্প্রদায়িক-ধোলাই করেছে।

হিমু এর ছবি

সোভিয়েত রাশিয়ায় নাস্তিক্যবাদের নামে উগ্রতা তো হয়নি। হয়েছে মার্ক্সিজম-লেনিনিজমের নামে, যার একটা বাইপ্রোডাক্ট এথিইজম। আপনি যদি সোভিয়েত রাশিয়ায় আরো পেছনে গিয়ে দেখতেন, তাহলে দেখতে পেতেন কীভাবে বলশেভিকরা স্টেট আর চার্চের সেপারেশন ঘোষণার পর রুশ অর্থোডক্স চার্চ হোয়াইট আর্মিকে সমর্থন দিয়ে কমিউনিজমের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে পক্ষ নিয়েছিলো। চার্চ সেখানে যুদ্ধে পরাজিত প্রতিপক্ষ। আপনার দেখার কাজটা ওখান থেকে শুরু না করলে তো আপনি এই ভুল বারবার করতে থাকবেন।

খেকশিয়াল এর ছবি

চলুক

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

ক্লোন৯৯ এর ছবি

চলুক

কৌস্তুভ এর ছবি

স্টেট এথিজমের নামে সোভিয়েত রাশা, পূর্ব ইউরোপের আলবেনিয়া, চেকোশ্লোভাকিয়া, রোমিনিয়ায় কি হয়েছে, তা আশা করি সবারই জানা আছে।

আপনাকে এতবার করে নানা জনে বোঝানোর পরেও সেই ফাটা রেকর্ড বাজিয়েই চলেছেন দেখে হতাশ এবং দুঃখিত হলাম।

নাস্তিক্যবাদকে সামনে রেখে যারা উগ্রতা দেখাচ্ছেন, তাদের সমালোচনা করাটা যদি ধর্মবিশ্বাসীদের প্রতি সহানুভূতি দেখানো হয়, তাহলে তা একান্ত মন্তব্যদানকারীর ব্যাক্তিগত বিবেচনা।

নাস্তিকতার নামে বা নাস্তিকতার জন্যে যারা উগ্রতা দেখাচ্ছেন এরকম ঠিকঠাক একটাও উদাহরণ তো দিতে পারলেন না আমাদের, বরং একটা জুতসই উদাহরণ আমাকেই দিতে হল। আগে সঠিক উদাহরণ নিয়ে আসুন, তারপর তো সমালোচনা করবেন।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

ফাটা রেকর্ডের রেফারেন্স:

Religion, State and Politics in the Soviet Union and Successor States (John Anderson)
Religious Policy in the Soviet Union (Sabrina Petra Ramet)

পড়ে দেখতে পারেন।

কৌস্তুভ এর ছবি

Gosateizm অনেক জায়গায় টেনে আনলেন দেখলাম, পরম এ শব্দটি বলে দিয়ে পড়ার উপদেশ দিলেন তাও দেখলাম। এখন সেটা নিয়ে দুটো বইয়ের নামও দিলেন। দশটাও দিতে পারতেন। কিন্তু তাতেও রেকর্ডটা ফাটাই থাকে, কারণ পয়েন্টটা এখনও ইনভ্যালিড। নাস্তিকরা কতবড় ধূর্ত সেটা বোঝাতে হারুন ইয়াহিয়া থেকে উইলিয়াম ডেম্বস্কি একশটা বইয়ের রেফারেন্স দিলেও যেমন ব্যাপারটা আসলে প্রতিষ্ঠিত হয় না।

কৌস্তুভ এর ছবি

সিভিলাইজড ওয়ে বলে একটা কথা আছে। ...

কে কার্টুন আঁকবে, কে ভিডিও বানাবে, কে কোন নবীকে গাল দেবে, সেটা একান্তই কর্মসাধনকারীর ব্যাক্তিগত ব্যাপার। ওতে আমার-আপনার কথা বলা সাজে না।

কিন্তু সবার ব্যাক্তিগত মতামত থাকবে। ঠিক তেমনি আমারো আছে। আমার এবিষয়গুলো সিভিলাইজড ওয়ে মনে হয় না। আমার মতে এথিইজমের আলো ছড়ানোর বেস্ট ওয়ে হচ্ছে আলোচনা, তর্ক, যুক্তি।

আয়রনি-হিউমার-স্যাটায়ার, রেটোরিকের এই অসামান্য ধারাগুলোকে যদি আপনি 'আনসিভিলাইজড' বলে মনে করেন, তাহলে আমাদের গলাই দড়ি দেবার জন্য কচুগাছ খোঁজা ভিন্ন পথ নেই। মন খারাপ

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

আয়রনি-হিউমার-স্যাটায়ার---এগুলো আনসিভিলাইজড ওয়ে হতে যাবে কেন?
আয়রনি-হিউমার-স্যাটায়ার---এগুলোকে আনসিভিলাইজড ওয়ে মনে করার কোন কারণ নেই।

কৌস্তুভ এর ছবি

ওখানেই বললেন, 'কে কার্টুন আঁকবে, কে ভিডিও বানাবে, ... ... আমার এবিষয়গুলো সিভিলাইজড ওয়ে মনে হয় না।' আবার বলছেন, 'এগুলোকে আনসিভিলাইজড ওয়ে মনে করার কোন কারণ নেই।' এ তো স্পষ্ট স্ববিরোধিতা।

অর্ণব হায়দার এর ছবি

লেখকের রচনা এবং মন্তব্য পড়ে একটা ব্যাপার পরিষ্কার হল। তিনি একটা কথা প্রতিষ্ঠা করতে কোমর বেঁধে লেগেছেন- উগ্রবাদী ধার্মিক আর উগ্রবাদী নাস্তিকের মধ্যে আদতে কোনো পার্থক্য নেই। যদিও তিনি তা প্রমান করতে নিদারুনভাবে ব্যর্থ।

তিনি নিজেকে সংশয়বাদী ঘোষনা দিচ্ছেন। অর্থাৎ তিনি নিশ্চিত নন, ইশ্বর আছেন কিনা। যেহেতু নিশ্চিত নন, এর অর্থ ঈশ্বরে বিশ্বাস থাকার প্রশ্নও তার নেই। অতএব তিনিও নাস্তিক। সংজ্ঞা অনুসারে যিনি আস্তিক নন, তিনিই নাস্তিক, কারণ নাস্তিক = অ-আস্তিক। এ তো সহজ ফর্মুলা। এর পরে বলা যেতে পারে, আমি অজ্ঞেয়বাদী, সংশয়বাদী ইত্যাদি ইত্যাদি।

লেখককে বলব, আপনার লেখায় এবং মন্তব্যে আপনার ধারনাপ্রসুত যে কথাগুলো বলেছেন, সেগুলোর স্বপক্ষে আপনি কোনো তথ্য ও প্রমান দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

উগ্রবাদী ধার্মিক আর উগ্রবাদী নাস্তিকের মধ্যে পার্থক্য আর মিল কিসে, তা উপরে অসংখ্যবার লেখা হয়েছে।

অর্ণব  হায়দার এর ছবি

'ফাটা রেকর্ডের রেফারেন্স' হিসাবে যেটা দিলেন, তাতে কোন তথ্য কিন্তু নেই। ওটা ওয়াশিংটন পোস্টের ব্লগ যেখানে একজন তার ব্যক্তিগত মতামত দিয়েছে। ওই পোস্ট থেকে কিছুই প্রমানিত হয় না, কারন কোনো তথ্য প্রমান তাতে নেই।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

মতামতটা কিসের উপর ছিল, সেটা নিয়ে বোধ হয় আপনার দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে।

শিশিরকণা এর ছবি

ধর্মকে বিদ্রুপ করে ধর্মবিশ্বাসীদের ধর্মের অপ্রয়োজনীয়তা বুঝানো যায় বা, বাস্তবিক অর্থে কোন অর্জন থাকে, তা আমার মনে হয় না।

- বিদ্রুপের ফল আরও খারাপ হয়, সে বরং তার বিশ্বাসকে আরও আঁকড়ে ধরে ডিফেন্সিভ মারমুখী হয়ে যায়। আর অনলাইনে বা ব্লগে হাউকাউ করা আমার কাছে আরও হাস্যকর মনে হয়, কারণ আপনি যুক্তি তর্ক দিয়ে জিতলেও ধর্মে বিশ্বাসী স্রেফ আপনাকে টিউন আউট করে দিয়ে তার মত লাইফ চালিয়ে যেতে পারে, সোজা ভাষায় আপনি তার বালটাও ফেলতে পারলেন না।

সবার মানসিক পক্কতা, বিবেকবোধ সমান নয়, এবং সবার থেকে সমান কমন সেন্স আশা করাও বোকামি। কেউ যদি কোন আজগুবি গল্পকে বিশ্বাস করে মানসিক শান্তি আর জীবনে ব্যালান্স খুঁজে নিতে পারে, তবে যতক্ষণ না সে আপনার জীবনে বাগড়া না দিচ্ছে, আপনার তার লাইফে বাগড়া দিতে যাবার কোন দরকার নেই। আপনি নাস্তিক, দিন দুনিয়া সমন্ধে আপনার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে আপনি একটা অবস্থান নিয়েছেন, কিন্তু সেই অবস্থানে অন্যকে টানাটানি করার চেষ্টা করতে গেলে সেটা ঐ তাবলীগি হুজুরদের দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার মতই দেখায় অপর পক্ষের কাছে। আপনি বড়জোর যেটা করতে পারেন আপনাকে অন্যদিকে টানতে গেলে নিজের অবস্থানটাকে যুক্তি সহকারে ব্যাখ্যা করতে পারেন। আফ্রিকার জঙ্গলে কোন টোটেম পোলের দেবতাকে বিশ্বাস করে নর্তন কুর্দন যেমনটা বিনোদনের দৃষ্টিতে দেখেন, অন্যান্য ধর্মের বিশ্বাসীদেরকেও তার থেকে ভিন্নভাবে দেখার বা অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে তাদেকরকে জ্ঞান বিলাতে যাবার তো কোন প্রয়োজন নেই। স্রেফ আর একটা ধর্মই তো।
নিজস্ব উপলব্ধি তৈরি না হলে তর্কে হারিয়ে কাউকে আপনি নাস্তিকতাবাদের ছাতার নিচে আনতে পারবেন না।

উগ্র মানসিকতার প্রথম লক্ষণ হলো, নিজেদের ধারণার বাইরে ভিন্ন চিন্তাধারার কিছু শুনলেই ক্যাঁও ম্যাঁও করে উঠে নিজেদের বিশ্বাস (অবস্থান) ভালো প্রমাণ করার জন্য একে-৪৭ (মতান্তরে কীবোর্ড) ধরা। সকল পক্ষকেই এক কথা বলতে চাই, "আপনার বিশ্বাস বুদ্ধি অবস্থান কি এতই টলমলে, যে কারও কথায় নাই হয়ে যাবে?"

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

অরফিয়াস এর ছবি

আর অনলাইনে বা ব্লগে হাউকাউ করা আমার কাছে আরও হাস্যকর মনে হয়, কারণ আপনি যুক্তি তর্ক দিয়ে জিতলেও ধর্মে বিশ্বাসী স্রেফ আপনাকে টিউন আউট করে দিয়ে তার মত লাইফ চালিয়ে যেতে পারে, সোজা ভাষায় আপনি তার বালটাও ফেলতে পারলেন না।

আসুন আজকে থেকে "সচলায়তনে" আমরা কোন বিষয়ে ব্লগ লিখে প্রতিবাদ করা বন্ধ করি। কারণ আমরা যেই বিষয়েই লিখে প্রতিবাদ করিনা কেন, আমরা তো "তার বালটাও ফেলতে ফেলতে পারবোনা"।

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

শিশিরকণা এর ছবি

আপনি নতুন ব্লগ লিখে নতুন কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন। যুক্তি সম্মত লেখা লিখতে পারেন, যেটা একজন ধর্মে বিশ্বাসীকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে। তারা চিন্তাধারা পালটাতে পারলে একস্ময় তাকে আপনি যুক্তির গুরুত্ব বুঝাতে পারবেন। কিন্তু ব্লগের মন্তব্য , পাল্টা মন্তব্য দিয়ে তর্কে জিতে এখন পর্যন্ত কোন ছাগুকে লাইনে আনতে পেরেছেন? এই তর্ক বিতর্ক স্রেফ সময়ের অপচয়, এর চে ICSF বা উইকিতে সময় ব্যয় করলে আপনি অনেক মডারেট ছাগুকে অন্য ভাবে চিন্তা করার খোরাক দিয়ে লাইনে আনতে পারতেন। একটা ছাগু পোস্টে আধ মাইল লম্বা মন্তব্যের চে মতিকন্ঠের একটা স্যাটায়ারিকাল নিউজ অনেক বেশি ইফেক্টিভ।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

তানিম এহসান এর ছবি

কিন্তু ব্লগের মন্তব্য , পাল্টা মন্তব্য দিয়ে তর্কে জিতে এখন পর্যন্ত কোন ছাগুকে লাইনে আনতে পেরেছেন? এই তর্ক বিতর্ক স্রেফ সময়ের অপচয়, এর চে ICSF বা উইকিতে সময় ব্যয় করলে আপনি অনেক মডারেট ছাগুকে অন্য ভাবে চিন্তা করার খোরাক দিয়ে লাইনে আনতে পারতেন। হাততালি

সময়ের পুরোপুরি অপচয় হয়তোবা নয় কিন্তু আমি আপনার এই বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে গেলাম। ব্লগ কতজন পড়ে? যারা ব্লগ পড়ে তাদের কতজন নিয়মিত শুধুমাত্র সচলেই আসে? বাংলাদেশের তাতে ব্লগ এক্টিভিজম নিয়ে যারা মিডিয়ায় কথা বলে তাদের ভেতরও ঘাপটি মারা মৌলবাদী আছে --- সাধারণ মানুষ তাদেরকেই দেখে, শোনে।

আম-জনতার বড় বিপদ, তাদের যা শোনানো হয় তারা তাই শোনে, যা দেখানো হয় তাই তারা দেখে -- নুন আনতে পান্তা ফুরায় যাদের তাদের এত সময় কোথায় বোঝার বেলায়! রামুতে তাই আগুন জ্বালাতে বাসে-ট্রাকে করে পশু আমদানি করতে হয়!

একটা সমাজকে ধীরে ধীরে নষ্ট করতে একজন উগ্র মানুষই যথেষ্ট, সেই মানুষগুলোর সংখ্যা কি আসলেই খুব বেশি বাংলাদেশে? আমাদের রক্ত কি আদ্যোপান্ত দুষিত? আমার মনে হয়না। ছড়িয়ে পড়া প্রয়োজন দেরি হবার আগেই।

হিমু এর ছবি

সেটাই তো। ব্লগ কয়জন পড়ে? আজকে থেকে ব্লগিং করা বাদ দিয়ে দেন।

তানিম এহসান (অফ্লাইন) এর ছবি

কয়জন পড়ে আর পড়েনা তাই হিসেব কষে কিন্তু সচলায়তনে আসিনি আমি, সেই হিসেব কষে ব্লগিং করা বাদ দেয়ার প্রশ্নও আসেনা। আমার বক্তব্যের কোথাও ব্লগিং বাদ দেয়ার প্রসঙ্গ আসেনি, আমি শিশিরকণা’র কথার প্রতিধ্বনি করেছি যে প্রাসঙ্গিকতা থেকে আপনি কিন্তু তার বাইরে যেয়ে এই কথাটা বললেন।

আপনি কি এভাবেই কথা বলেন সবসময়? হাল ছেড়ে দেয়ার মানসিকতা নিয়ে এতদূর আসিনি আমি, হাল ছেড়ে দেয়ার পরামর্শ আপনার মত ব্লগারের কাছ থেকে পেয়ে বরং সেই মানসিকতা আরও দৃঢ় হলো।

হিমু এর ছবি

আপনি খুব বেশি দূর আসেননি কিন্তু।

তানিম এহসান এর ছবি

হতে পারে। আপনাকে ধন্যবাদ নতুন করে ভাবার সুযোগ দেয়ার জন্য।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

নির্বাক হয়ে গেলাম। আপনারা দুজনেই পুরনো ব্লগার বলে জানি।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

অরফিয়াস এর ছবি

শহরের বাইরে থাকায় আপনার উত্তর দিতে দেরি হলো। আপনি হয়তো আমার ব্যক্তিগত কাজের ফিরিস্তি নিয়ে বসে আছেন আমি ঠিক কোথায় কোথায় সময় অপচয় করি আর ঠিক কি কি ভাবে সময় ব্যয় করলে আমার উন্নতি হতো, আর সমাজের উন্নতিতে ভূমিকা রাখা হতো। ICSF এ আপনি ঠিক কতোটা সময় দেন আমি জানতে আগ্রহী। জানার আকাঙ্খা একটু পূরণ করবেন। আর আপনার যখন এটাকে সময়ের অপচয় মনে হয় তখন এখানে মন্তব্য করে আবার অপচয় কেন?

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

শিশিরকণা এর ছবি

আপনার মন্তব্যের জবাব দিচ্ছি, কারণ আপনি যুক্তি বোঝেন, আপনার সাথে বিতর্ক করা চলে। কিন্তু যে তালগাছ ধরে বসে আছে, তাকে কিছু বলা বৃথা। আশে পাশে ছাগু ভাইরাসের সংক্রমণ দেখে শংকিত হই। কিন্তু তাই বলে সোনা ব্লগে গিয়ে যুক্তি দেখাইলে পুরাই সময়ের অপচয়। এর চেয়ে আমার পুরনো কোন সহপাঠিকে যখন দেখি ছাগু ভাইরাস অ্যাটাকের সিম্পটম দেখাতে তখন অন্তত তাকে ফেরানোর পিছনে সময় ব্যয় করি, কারণ তার জীবনে আমার কিছুটা হলেও প্রভাব আছে, যেটা কাজে লাগিয়ে তার ব্রেইন ওয়াশ ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করি। এন্ড রেজাল্ট মাথায় রেখে শক্তি ব্যয় করার চেষ্টা করি, একটা বিরাট ডায়লগ দিয়ে আমি আত্মতৃপ্তি পেতে পারি, যে খুব উচিত কথা বলছি, কিন্তু তাতে যদি সেমি ছাগুরে লাইনে আনতে না পারি, তাইলে সেইটা আমার ভাব নেয়ার বেশি কিছু তো আসলে হইল না। কড়া কথার চে যেই কথায় কাজ হবে সেইটা আমার কাছে পছন্দ না হইলেও এফেক্টিভ হইলেই আমি খুশি।

আপনি কোথায় সময় ব্যয় করেন জানতে চাই না, কিন্তু আপনার লেখাগুলি পড়ি এবং মনে করি এমন লেখার আরও অ্নেক বেশি প্রয়োজন, এইজন্য আপনি, হিমু এবং আরও অনেক শক্তিশালী ব্লগারকে এইসব গন কেস ছাগু পোন্দানোর পিছে সময় ব্যয় করতে দেখি, আফসোস হয় যে এই সময়টা আপনারা আরও এফেক্টিভলি ব্যবহার করতে পারতেন, কারণ আপনাদের সেই যোগ্যতাটা আছে। আমার ততখানি যোগ্যতা নাই, যা আছে, তাই দিয়ে আপনাদের কে সহায়তা দেয়ার জন্য একাত্তরের প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণের একটা বই ইংরেজি অনুবাদে হাত দিয়েছিলাম, যাতে শর্মিলা রুবাইয়াত আর পাকিস্তানি জেনারেলদের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এই পর্যন্ত কয়েকটা কিস্তি সচলের ইংরেজি সেকশনে দিয়েছি, এখনো নীড়পাতায় লিঙ্ক ঝুলছে, কেউ একবার পড়েও দেখেন নি মনে হয়। অথচ ফেসবুক গ্রুপে উৎসাহের কমতি দেখিনাই।

যাই হোক, যুদ্ধে অনেক অবস্থানে বিভিন্ন ধরণের লোকের দরকার হয়। আপনাদের সঙ্গে এক কাতারে না হলেও আমার অবস্থান নিয়ে আমি পরিস্কার। জানবেন যে একই পক্ষে আছি।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

হিমু এর ছবি

সচলের কেউ কি সোনাব্লগে গিয়ে যুক্তি দেখায়?

শিশিরকণা এর ছবি

জানিনা। বিনুদুনের জন্যও কখনো ঐখানে যাওয়া হয়নি।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

হিমু এর ছবি

সোনাব্লগ তাহলে এখানে অপ্রাসঙ্গিক। তর্ক লোকে সচলেই করছে। আপনার মতে এই তর্ক আসলে:

১. বৃথা
২. তার্কিকের ইগোকে স্যাটিসফাই করার টুল

সচল তো আপনার নিজস্ব টেরিটোরি। আপনি এখানে ছাগু কনটেন্ট দেখলে প্রতিবাদ না করে চুপ করে থাকবেন কেন? চুপ করে থাকলে সেই ছাগু কনটেন্ট একটা পরোক্ষ গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে যায়। আপনি তো এন্ড রেজাল্ট মাথায় রেখে কাজ করেন। এখন আপনার মতো সবাই যদি মৌনীবাবা হয়ে বসে থাকে, তাহলে সচলায়তনের সোনাব্লগ হওয়াটা শুধু সময়ের ব্যাপার, সেটা কি আপনি বুঝতে পারছেন?

যারা একটা ছাগু কনটেন্টের প্রতিবাদ করে, আপনি তাদের ইগো স্যাটিসফাই করার খোঁটা দিতে দৌড়ে এসেছেন। আপনার ভাষায় তারা ব্লগে "কাউমাউ" করে। একই ভাবে তো বলা যায়, আপনি আপনার হোলিয়ার দ্যান দাউ অ্যাটিচ্যুড থেকে ছাগু কনটেন্টের ব্যাপারে মৌন থেকে নিজের স্নবারি আর ইগোকে স্যাটিসফাই করছেন।

আপনি কি সচল ছাড়া অন্য কোনো ব্লগে সক্রিয়? আমার ধারণা, সক্রিয় নন। আপনি সচলায়তনে আছেন এর কনটেন্ট, আবহাওয়া, মেজাজ, এগুলো আপনার ভালো লাগে বলেই। আপনার ভাষায় যারা কাউমাউ করে, তারা কাউমাউ না করলে সচল ছাগু দিয়ে ভরে যেতো। আমার মনে হয়, তখন আপনি এবং আরো অনেকে সচলায়তনে আসতেনও না, থাকতেনও না।

সত্য আর মানবতা প্রচার নিয়ে আপনার লম্বাচওড়া কথাবার্তা শুনে আপনার পোস্টগুলো পড়ে দেখলাম। রেজিস্টার করার আড়াই বছর পর সাম্প্রতিক দুটি ইংরেজি অনুবাদ ছাড়া আপনার পোস্টের সংখ্যা ছয়, প্রতিটিই ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ। আপনি এই আড়াই বছরে সত্য ও মানবতা প্রচারে কেন নিজে সচলে কোনো উদ্যোগই নিলেন না, আপনিই ভালো জানবেন। কিন্তু এ নিয়ে অন্যের ওপর ঠিকই একহাত নিলেন। আইসিএসএফ আর উইকিতেও কি আপনি আদৌ সক্রিয়?

ছাগু ইস্যুতে আপনি নিজে সরব হলে, যাদের ঘাড়ে কাউমাউ করার অপবাদ চাপাচ্ছেন, তারা কিন্তু কাউমাউ বাদ দিয়ে "সত্য" আর "মানবতা" প্রচারের পেছনে সময় দিতে পারে। এটাও ভেবে দেখবেন।

এবার একটা বড় ব্যাখ্যা দিচ্ছি, মন দিয়ে পড়ুন।

ছাগুরা সচলে নিয়মিতভাবে ছাগু বক্তব্য ইনজেক্ট করে। এরা চারিত্রিকভাবেই প্যারাসাইটিক। এরা একটা হোস্ট চায়, যে হোস্টের গ্রহণযোগ্যতা তাদের চেয়ে বেশি। সেই হোস্টের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে এরা নিজেদের কথাগুলো পুশ করতে চায়। এ কারণেই সোনাব্লগে একটা আনচ্যালেঞ্জড ছাগুবক্তব্যের চেয়ে সচলায়তনে একটা আনচ্যালেঞ্জড ছাগুবক্তব্য বেশি বিপদজনক। আপনি চান বা না চান, সময় দিতে পারেন বা না পারেন, সচলায়তনে ছাগু কনটেন্টকে চ্যালেঞ্জড হতে হবে। বিনা প্রতিরোধে সেটা জায়গা করে নিলে ছাগুরা উৎসাহ পায়, এবং ছাগু কনটেন্টের ইনফ্লাক্স বাড়ে। আপনি নিজে সেটা প্রতিরোধ করতে না পারলে, আপনাকে কেউ জোর করছে না, কারণ আপনার সময় আপনি কীভাবে কাজে লাগাবেন সেটা আপনার ব্যাপার। যারা প্রতিরোধ করছে, আপনি তাদের বিদ্রুপ এবং অপমান করে গেছেন। হয় আপনি ব্যাপারটাকে এভাবে চিন্তা করে দেখেননি, অথবা আপনার স্বভাবই এটা। কোনটা সত্যি, সেটা চিন্তা করে আমাদের জানানোর সুযোগ আপনার আছে। যদি আপনি মনে করেন, আপনি কথাটা বলার আগে যথেষ্ট চিন্তা করেননি, আমার মনে হয় "কাউমাউ" কথাটার জন্য অন্তত এই পোস্টের সকল পারটিসিপেন্টের কাছে আপনার দুঃখ প্রকাশ করা উচিত। যদি আপনার স্বভাবই এমন হয়ে থাকে, সেটাও জানিয়ে দিতে পারেন।

শিশিরকণা এর ছবি

আপনার অন্য মন্তব্যের জবাবে একবার বলেছি, এখানে আবার বলি। " কাউমাউ" কথাটার জন্য আমি পোস্টে যারা সময় নিয়ে কমেন্ট করেছেন তাদের সময় নষ্ট করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে কেন এখানে "হাউকাউ" করা হচ্ছে এই ব্যাপারটি পরিষ্কার হয়েছে।

অপ্রাসঙ্গিকঃ সচলে আমার এই অব্দি পোস্টের সংখ্যা এগারো এর মধ্যে ৪টি স্মৃতিচারণ । ভবিষ্যতে সত্য আর মানবতা বিষয়ক পোস্ট দেবার আশা রাখি।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

অরফিয়াস এর ছবি

এখনো নীড়পাতায় লিঙ্ক ঝুলছে, কেউ একবার পড়েও দেখেন নি মনে হয়।

অনেকের মতো আপনিও দেখি প্রিডিটারমাইন্ড হয়েই উপসংহার টেনে দিলেন। একটা কথা আছে, ভালো কাজ যে করতে চায় তার ফলের জন্য অপেক্ষা করার দরকার পড়েনা। আপনি যদি সবসময় ফলের কথা চিন্তা করে পদক্ষেপ নেন তাহলে সেটার উপযোগিতা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

শিশিরকণা এর ছবি

ফলের অপেক্ষা করছি না। অনুবাদ চলছে। তবে আপনারা অনুবাদের মান বিচার করার জন্য রিভিউ করে দিবেন বলেছিলেন অনেকে ফেবু গ্রুপে। মুর্শেদ ভাই এর একটা মন্তব্য ছাড়া আর কোন পরামর্শ পাইনি। বাহবা চাইছি না, সহযোগিতা চাইছি।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

কৌস্তুভ এর ছবি

টোটেমের কথা যখন আনলেনই, তখন এই কার্টুনটাও এট্টু দেখেন।

একটা ছবি হাজারটে শব্দের সমান, এটা এইটার ক্ষেত্রে নেহাতই সত্যি। একটা বলদার্গু ধর্মের অনুসারী হয়ে আরেকটা বলদার্গু ধর্মের অনুসারীদের বলদ ডাকা যে নেহাতই বলদামি, সেটা কাউকে বিশদে ব্যাখ্যা করার চেয়ে এই ছবিটা ধরিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট, চাক্ষুষ প্রমাণ। এগুলোই ব্যঙ্গ, ব্যঙ্গচিত্র ইত্যাদির উপযোগিতার নিদর্শন। কারো যদি এই ছবিটা দেখে ঘৃণা জাগে, আপনি দশপাতা প্রবন্ধ লিখে 'যুক্তি সহকারে ব্যাখ্যা' বোঝাবার চেষ্টা করলেও কাজ হবার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তাই কাউকে কিছু বোঝাবার চেষ্টা না করাই কি একমাত্র পথ?

দিফিও এর ছবি

মন্তব্যের আলোচনায় মনেহয় "কোনটা করার দরকার আছে" আর "কোনটা করার অধিকার আছে" এটা প্রায়শই গুলিয়ে যাচ্ছে।

অধিকারের ব্যাপ্তি অনেক বড় (যদিও সর্বব্যাপি নয়), আর দরকারের গন্ডি আরো অনেক ছোটো, আরো অনেক সাব্জেকটিভ। আলোচনার সুবিধার্থে দুটোকে আলাদা রাখাই ভালো।

আমাদের ভার্সিটিতে কিছু গোঁড়া যাজককে মাঝে মধ্যে দেখি, লাইব্রেরীর সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে জোরে জোরে বাইবেল আওড়াচ্ছে আর আশে পাশের চলন্ত মানুষকে "তুই দোজখে যাবি" বলে চিৎকার করছে। আর ৩/৪টা ছাত্র মজা পেয়ে আরো খোঁচাচ্ছে। পাগলাযাজকের কাজটার অধিকার আছে, দরকার কতটুকু আছে সেটা সাবজেকটিভ।

কৌস্তুভ এর ছবি

এখানে এই প্রসঙ্গ আনার অর্থ পরিষ্কার হল না।

দিফিও এর ছবি

আমার মন্তব্যটা শিশিরকণার মন্তব্যের জবাবে করা, আপনার মন্তব্যের জবাবে এসেছে আমার ভুলে। শিশিরকণা সম্ভবত "দরকারের" কথা ভেবে তার মন্তব্য করেছেন, সেটাকে "অধিকারের" কথা বলে ধরে নিলে ভুল বোঝা হবে, সেটাই পরিষ্কার করতে চেয়েছি। শিশিরকণার মন্তব্য এবং এর জবাবে যেসব মন্তব্য এসেছে, সেগুলোতেও মনে হচ্ছে এই দুটো জিনিস খানিকটা গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে।

অরফিয়াস এর ছবি

মাইক লাগিয়ে প্রার্থনার ঠিক কতোটা অধিকার আর কতোটা দরকার?

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

শিশিরকণা এর ছবি

অধিকার যতটুকু সিটি কর্পোরেশন দেয় আর দরকারটুকু পুরাই বাজারি, একজন ক্যানভাসার তার বিজ্ঞাপনের জন্য যতটুকু প্রয়োজন মনে করে।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

অরফিয়াস এর ছবি

সিটি কর্পোরেশন এর অনুমতি নিয়ে এলাকার মসজিদে মাইক বাজে?

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

শিশিরকণা এর ছবি

পারফেক্ট ছবি। কিন্তু দুই নম্বর গ্রুপকে আসলে পাত্তা দেয়া লাগে, কারণ এরা সংখ্যায় ভারি বলে আমাদের জীবনে নাক গলিয়ে যন্ত্রণা সৃষ্টি করতে আসে। আপনি যদি দশ পাতা প্রবন্ধ লিখে কাউকে বুঝাবার চেষ্টা করতে যান, তবে বক্তার ভাষায় বললে সেটা তাদের মগজের ফায়ারওয়াল পেরিয়ে ঢুকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। যে ভাবে বললে আপনার অডিয়েন্সের মগজে সেটা ঢুকবে সেভাবে আপনাকে স্ক্রিপ্ট সাজাতে হবে। অনেকটা ট্রয়ের ঘোড়ার মতন, নয়ত কেবল বছরের পর বছর নিষ্ফল যুদ্ধই চলতে থাকবে।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

কৌস্তুভ এর ছবি

'দুই নম্বর গ্রুপ' কাদের বলছেন? আমার মন্তব্য তো একটাই ধাঁচের লোকেদের সম্পর্কে ছিল।

আমারো বক্তব্য তো এটাই ছিল যে সময় সময় দশ পাতা প্রবন্ধের চাইতে দুয়েকটা ব্যঙ্গচিত্র/রসিকতাতেই কাজ হয় বেশি। আপনার এই প্রত্যুত্তরে আপনি প্রকারন্তরে তাইই বললেন। অথচ শুরুতে বলেছিলেন "বিদ্রুপের ফল আরও খারাপ হয়"। ঘটনা কী বুঝতারিনা...

শিশিরকণা এর ছবি

দুই নম্বর গ্রুপ বলতে বুঝিয়েছি, মুস্লিম ক্রিশ্চান, হিন্দু, এইসব সংখ্যাভারী দেরকে, মানে দুই নম্বর ছবি তে যারা কপাল ঠুকছে।

আপনি আর আমি একই কথা বলছি, প্রকাশে হয়ত ভিন্নতা, কথা হচ্ছে যখন যেইটাতে বেশি কাজ দেয় তখন সেইটা করাই সবচে লাভজনক। কারও ক্ষেত্রে বিশ্বাসের মাত্রা এমন যে তাকে একটা কার্টুন দেখালে বিশ্বাসের অসারতা টের পেয়ে নতুন করে ভাবতে শেখে, আবার কেউ আছে বিশ্বাসের এমন পর্যায়ে আছে যে, একই কার্টুন দেখলে পরে উলটা ক্ষেপে গিয়ে অপোজিট এক্সট্রিমের দলে ভিড়ে গেল। মানুষের যে এই সাইকোলজিক্যাল ম্যাচুরিটির লেভেলটা হুজুরেরা দেখি এইটা খুবি বুদ্ধিমানের মত ইউটিলাইজ করে মডারেটদেরকে তাদের দলে ভেরানোর জন্য, যার জন্য যেরকম দাওয়াই, সেরকম সার্ভ করে, অর্থাৎ ইমোশন, বিশ্বাস, গুলতানির বিভিন্ন রকমের কাস্টম পোশন, বিভিন্ন ডোজ এ। এইজন্যই আজকালকাল একটু একটু বিজ্ঞান জানাওয়ালীদের জন্য স্পেশাল ডিশ আসছে " ডকটর" জাকির নায়েক। নতুন দেখতেছি, বিড়াল বা কিউট পশু পাখির ছবিতে লাইক দেয়া বালিকাদের জন্য স্পেশাল এডিশন সাহাবী "আবু হুরাইরা ওরফে বিড়ালের বাপ", যিনি কিনা বিড়াল খুব ভালবাসতেন ।।।। যদি আসলেই এইসব মানুষকে রূপকথা বিশ্বাস করা বাদ দিয়েই সত্যের খোঁজ করতে বলি, তাইলে তাদের কে কিরকম ডোজ দিতে হবে, সেইটাই হচ্ছে কথা।।। হুজুরেরা যেইরকম লং টার্ম ব্রেইন ওয়াশ প্রজেক্ট হাতে নেয়, সেইরকমই রিভার্স ব্রেইন ওয়াশ প্ল্যান লাগবে, একদিনের ঝাড়িতে এদের কিসসু হবে না।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

সজল এর ছবি

সৃষ্টিতত্ত্ব, চিকিৎসা পদ্ধতি, প্রকৃতির নিয়ম সম্পর্কে কেউ আজগুবি বিশ্বাস করলে আমি যদি সরাসরি সাফার নাও করি, সমাজের একটা অংশতো সাফার করছে। বিবর্তনই মানে না এমন কোন ইমিউনলিজস্ট যদি থাকে আমাদের চারপাশে, আমাদের কি একটু অ্যালার্মড হতে হবে না? এই সব ক্ষেত্রে কি আমার চুপ করে থাকাটাই শ্রেয়, নাকি আমার উচিত মানুষের ভুলটুকু ধরিয়ে দেয়া?
অন্যের ভ্রান্ত বিশ্বাস যদি মানবজাতির জন্য সরাসরি ক্ষতির কারণ হয় কিংবা অগ্রগতির পথে বিঘ্ন ঘটায়, তখনো কি আমি তার বিশ্বাসকে ইনডেমনিটি দিয়ে যাব? একটা মানুষ যদি সত্যি সত্যি তার বিশ্বাসকে ঘরে পুরোপুরি রেখে তার কর্মক্ষেত্রে আসতে পারত, তাতে হয়ত আমাদের চিন্তার কিছু ছিল না।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

শিশিরকণা এর ছবি

মানুষ যদি সত্যি সত্যি তার বিশ্বাসকে ঘরে পুরোপুরি রেখে তার কর্মক্ষেত্রে আসতে পারত, তাতে হয়ত আমাদের চিন্তার কিছু ছিল না।

এটাই সমস্যা, অনেকেই দু'টাকে আলাদা করতে পারে না। অনেকের জন্য উচ্চ শিক্ষা স্কিল ট্রেনিং এর বেশি কিছু হয় না। আপনি যদি মুখোমুখি কাউকে আলাপ করে কিছু বুঝাতে পারেন তো ভালো, আরও ভালো যদি উক্ত ব্যাক্তির উপর আপনার যদি কোন প্রভাব থাকে, তাহলেই আপনি একজন মানুষের মনে কিছুটা হলেও পরিবর্তন আনতে পারবেন। কিন্তু ব্লগে কাউমাউ করে সেই ইফেক্টটা ফেলতে পারবেন না। আমার পয়েন্টটা ছিলো যদি আমার জীবনে ডিরেক্ট/ ইনিডিরেক্ট কোন প্রভাব পড়ে তাহলে অবশ্যই আমি সেটা ডিফেন্ড করব। এবং যদি আমার এই সময় ও শক্তি ব্যায়ে কোন পরিবর্তন আসে তবেই না সেটা অর্থবহ হবে। আমি চেঁচিয়ে গেলাম, আর ও ব্যাটা কোন পাত্তাই দিল না, তখন সময়টাই কেবল নষ্ট।
এজন্য ছাগু বেছে চিল্লাই। কোন আশা না থাকলে প্রথমেই তালগাছ ধরায় বিদায় দেই।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক
সম্পূর্ণ সহমত! খুব ভালো বলেছেন।

সাফিনাজ আরজু

সাফিনাজ আরজু  এর ছবি

চলুক

তাপস শর্মা এর ছবি

আর অনলাইনে বা ব্লগে হাউকাউ করা আমার কাছে আরও হাস্যকর মনে হয়, কারণ আপনি যুক্তি তর্ক দিয়ে জিতলেও ধর্মে বিশ্বাসী স্রেফ আপনাকে টিউন আউট করে দিয়ে তার মত লাইফ চালিয়ে যেতে পারে, সোজা ভাষায় আপনি তার বালটাও ফেলতে পারলেন না।

বেশ মেনে নিলাম যে আস্তিক আর মুনিনদের বলে লাইনে আনা যাবেনা। ওরা বোমা মারবে মানুষ কাটবে মন্দির ভাংবে, ঈশ্বরের ইয়েটা কাঁধে নিয়ে সমাজ বিবর্তন করবে আমি তার বালটাও ছিঁড়তে পারব না

তো এইবার লাইনে আসি। এই সমস্ত সমস্যার ( ধর্মীয় উগ্রতার ) শুরুটা কিন্তু খুব নিচু লেবেল থেকে শুরু হয়। মানে মুমিন ( জঙ্গি ) তৈরি করার কাঠামোটা বেশ সহজ। টোটাল ব্রেইন ওয়াশ। আর এটা করতে শুরু করে একেবারে নিচু লেবেলের পাণ্ডা মোল্লারা। তো যদি এদের সমূলে উৎখাত করা যায় তাহলে কিন্তু সমস্যাটা অনেক কমে আসবে। তাহলে কি করা দরকার? একটা জিনিষ যে অসত্য আর মিথ্যার ধ্বজাধারীরা আর যাই হোক সত্য ও প্রমাণকে বড্ড ভয় পান। এদের কাছে যুক্তি নিয়ে গেলে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেবে এটাও ঠিক ( এই যেমন আপনার বলা কথায় বালটাও ছেঁড়া যাবেনা। ) কিন্তু এইবার আমি যদি বলি এদের বাল ছিঁড়ব তো আপনি কি বলবেন? মানে একটা দুটো করে সাধু ও মোল্লা ধরে তক্তা ডলা, বাঁশ ডলা দিয়ে দেই সবাই মিলে তো এদের দৌড়াত্ম কমবে এটা শতভাগ নিশ্চিত ( কজনকে দেওয়া যাবে সেটা পরের কথা ) ... এই ডলার ডরে এরা এদের দৌড়াত্ম কমাবে বৈ বাড়াবে না

তো ধরেন উপরের কাজটা আমরা করলাম। এর মানে কি দ্বারায় যে মৌলবাদীদের মতো আমরাও সহিংসতা করলাম, মানে বাল ছিঁড়তে পারবো না বলছিলেন দিলাম বাল ছিঁড়ে। তারপর আপনিই এসে বলবেন যে ঐ মৌলবাদীর সাথে আমরা, মানে নাস্তিকদের পার্থক্য কোথায় ?

অদ্ভুত

শিশিরকণা এর ছবি

অনলাইনের বাইরে বাস্তব জীবনে ডলা দিতে পারলে তাতে চলুক ... একজন স্রেফ কিছু একটা বিশ্বাস করে বলে যদি আপনি তাকে মাইর দিতে যান তাইলে তো হিন্দু বৌদ্ধ, আদিবাসী সবাইকেই মাইর দিতে হবে... বিশ্বাসের কারণে যদি কেউ সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে তাইলেই কেবল আপনি গিয়ে তাকে মাইর দিতে পারেন। এটা খুব সহজ ন্যায় অন্যায়ের প্রশ্ন। কেউ যদি অন্যায় করে থাকে, কেবল ধর্মের দোহাই দিয়ে সে মাফ পাবেনা, তাকে শাস্তি পেতে হবে। অপরপক্ষে কেউ যদি কোন অন্যায় না করে থাকে, তবে কেবল বিশ্বাসের জন্য সে কোন শাস্তি পেতে পারে না। এখানেই মৌলবাদীর সাথে পার্থক্য, সে স্রেফ তার সাথে ধর্মবিশ্বাস না মেলার কারণে অপরকে ঘৃণা করছে।
আপনি যখন আরেকজনের মানুষের প্রতি হাত তুলছেন, নিজের বিবেকের কাছে ন্যায়ের প্রশ্নে পরিষ্কার থাকতে হবে, এই শারীরিক আঘাত করা থেকে আপনি বা সমাজ কি অ্যাকমপ্লিশ করছে?

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

তাপস শর্মা এর ছবি

একজন স্রেফ কিছু একটা বিশ্বাস করে বলে যদি আপনি তাকে মাইর দিতে যান তাইলে তো হিন্দু বৌদ্ধ, আদিবাসী সবাইকেই মাইর দিতে হবে.

এই কথাটা কি গোটা আলোচনায় কোত্থাও বলেছি ??

০২

মূল কথাটা কিন্তু এখনো উত্তর দিলেন না। একটা সোজা প্রশ্ন করেছিলাম উলঙ্গ ধর্মীয় মৌল কুত্তাদের টাইট দিতে যদি কোন নাস্তিক ( প্রতীকী ভাষায় উগ্র ) সেই উগ্রের উগ্রতায় জবাব দেয় তাহলে কি সেই নাস্তিককে মৌলবাদীর সমপর্যায়ে টেনে নামাবেন? হ্যাঁ অথবা না ?

শিশিরকণা এর ছবি

না।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

বিদ্রুপের ফল আরও খারাপ হয়, সে বরং তার বিশ্বাসকে আরও আঁকড়ে ধরে ডিফেন্সিভ মারমুখী হয়ে যায়।

কথাটা সত্য। একে বলে সার্টেনিটি বায়াস। কিন্তু মাঠের ধারে খেলা দেখতে বসে থাকা কিছু মানুষের এতে চোখ খুলে যায়। তারা এগিয়ে আসে সত্যটা গ্রহণ করে। দ্যাটস হোয়ার দ্যা প্রগেস ইজ মেড। সেজন্য পোলারাইজেশন সৃষ্টি করলোও সত্যটা বেরিয়ে আসা দরকার। লক্ষ্য করুণ আমি কিন্তু পোলারাইজেশনের জন্য পোলারাইজেশনের কথা বলছি না। বলছি সত্যটা প্রকাশে যদি পোলারাইজেশন হয়, সেটা আমাদের মেনে নিতেই হবে।

আর অনলাইনে বা ব্লগে হাউকাউ করা আমার কাছে আরও হাস্যকর মনে হয়, কারণ আপনি যুক্তি তর্ক দিয়ে জিতলেও ধর্মে বিশ্বাসী স্রেফ আপনাকে টিউন আউট করে দিয়ে তার মত লাইফ চালিয়ে যেতে পারে, সোজা ভাষায় আপনি তার বালটাও ফেলতে পারলেন না।

আবারও বলি কিছু লোকের "বালটাও ফেলতে" (কথাটা কিন্তু ভীষণ অফেন্সিভ!) পারা যাবে না এটা সত্যি। কিন্তু সবাই সত্যটার মুখোমুখী হবে। শুধুমাত্র সেটার জন্য হলেও "অনলাইনে বা ব্লগে হাউকাউ" করতে আমি রাজি আছি। এবং আপনার মত যাদের বল্গকে "হাউকাউ" মনে হয় তাদের প্রতি করুণা করা ছাড়া আর কিছু করার নেই। মুসন বিরহমান কিংবা খাটের তলার সত্য লুকিয়ে রাখে রাজনীতিকদের সাথে এদের কোনো পার্থক্য দেখি না।

আর ব্লগিং যদি আপনার "হাউকাউ" মনে হয় এবং ব্লগিং করে যদি "বালটাও ফেলা" না যায় তাহলে আপনি কেনো মোসলেমা খাতুনের বাংলা বই অনুবাদ করছেন, যেটা আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ মনে হয়েছে, "হাউকাউ" নয়, সেটা অনেক মাথা চুলকেও বের করতে পারলাম না।

সবার মানসিক পক্কতা, বিবেকবোধ সমান নয়, এবং সবার থেকে সমান কমন সেন্স আশা করাও বোকামি।

ঠিক। আপনার কাছ থেকে আর "মানসিক পক্কতা, বিবেকবোধ এবং কমন সেন্স" আশা করার মতো বোকামী আর করছি না।

কেউ যদি কোন আজগুবি গল্পকে বিশ্বাস করে মানসিক শান্তি আর জীবনে ব্যালান্স খুঁজে নিতে পারে, তবে যতক্ষণ না সে আপনার জীবনে বাগড়া না দিচ্ছে, আপনার তার লাইফে বাগড়া দিতে যাবার কোন দরকার নেই।

বাগড়া দিচ্ছে না!!!!!! বাগড়া দিচ্ছে না!!!!!!!!!!!!!!!!! ও মাই গড, এটা কি বললেন???? এই যে বৌদ্ধদের উপর আক্রমণ, এই যে বিন লাদেনের টেররিজম। এর থেকে চোখ বুজে থাকবো? আমি তার লাইফে "বাগড়া" দিতে যাবো না? আপনার চোখে কি ঠুলি বাঁধা?

আপনি বড়জোর যেটা করতে পারেন আপনাকে অন্যদিকে টানতে গেলে নিজের অবস্থানটাকে যুক্তি সহকারে ব্যাখ্যা করতে পারেন।

একজাক্টলি! একমত!! ব্লগে তো সেটাই করা হচ্ছে, যেটা আপনার কাছে "হাউকাউ" মনে হয়। বরং প্রচলিত মিডিয়া এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারছে না, যেটা আপনার "হাউকাউ" মনে হয়না।

উগ্র মানসিকতার প্রথম লক্ষণ হলো, নিজেদের ধারণার বাইরে ভিন্ন চিন্তাধারার কিছু শুনলেই ক্যাঁও ম্যাঁও করে উঠে নিজেদের বিশ্বাস (অবস্থান) ভালো প্রমাণ করার জন্য একে-৪৭ (মতান্তরে কীবোর্ড) ধরা। সকল পক্ষকেই এক কথা বলতে চাই, "আপনার বিশ্বাস বুদ্ধি অবস্থান কি এতই টলমলে, যে কারও কথায় নাই হয়ে যাবে?"

একমত। অথচ আপনার "হাউকাউ" শব্দটার এবং "বালটাও ফেলা"র মতো গালির ব্যবহার দেখে আপনাকেই আমার উগ্র মানসিকতার মনে হয়েছে। পাঠক আপনার মনে হয়েছে কি?

পরিশেষে বলতে চাই, এই মন্তব্যে আপনাকে যেমন দেখছি আপনার অন্যন‌্য লেখায় বা মন্তব্য আগে কখনো এরকম মনে হয়নি আপনাকে। আপনার লেখা, মন্তব্য এবং ফেসিং ডেথের অনুবাদ আমাকে আলোড়িত, অনুপ্রানিত করেছে। আমি ভীষণ ভাবে চাইছি যে এই মন্তব্য আপনার একটা "জাস্ট আ ব্যাড ডে" প্রমানিত হোক।

ভালো থাকবেন।

কৌস্তুভ এর ছবি

চলুক

তবে জাস্ট আ ব্যাড ডে কিনা তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে, হিজাব পোস্টের স্মৃতি থেকে...

অরফিয়াস এর ছবি

হিজাব পোস্টের স্মৃতি থেকে

চলুক মডারেট কথাটা কি এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে? কোন নৌকায় পা দিতে হবে যারা সঠিক সময়ে বুঝতে পারেনা?

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

স্যাম এর ছবি

চলুক চলুক

স্যাম এর ছবি

আর হাউকাউ সমানে হওয়া উচিত - ভুল্ভাল হবে - কেটেও যাবে - হাউকাউ চলুক - তাতে কার কি ফালানো গেল না গেল নিজেরা না ভাবি - ওইটা তারা ভাবুক -
' কিন্তু সবাই সত্যটার মুখোমুখী হবে' চলুক চলুক - এটাই কি কম পাওয়া?

ধুসর জলছবি এর ছবি

আর হাউকাউ সমানে হওয়া উচিত - ভুল্ভাল হবে - কেটেও যাবে - হাউকাউ চলুক - তাতে কার কি ফালানো গেল না গেল নিজেরা না ভাবি - ওইটা তারা ভাবুক -
' কিন্তু সবাই সত্যটার মুখোমুখী হবে - এটাই কি কম পাওয়া?

স্যাম হাততালি চলুক

সাবেকা  এর ছবি

চলুক

ধুসর জলছবি এর ছবি

চলুক চলুক মুর্শেদ ভাইয়া।

আপনার "হাউকাউ" শব্দটার এবং "বালটাও ফেলা"র মতো গালির ব্যবহার দেখে আপনাকেই আমার উগ্র মানসিকতার মনে হয়েছে। পাঠক আপনার মনে হয়েছে কি?

হ্যা ।

আমি ভীষণ ভাবে চাইছি যে এই মন্তব্য আপনার একটা "জাস্ট আ ব্যাড ডে" প্রমানিত হোক।

আমিও তাই চাই।

শিশিরকণা এর ছবি

মুর্শেদ ভাই,

আমার মনে হচ্ছে আপনারা প্রথমেই ধরে নিয়েছেন আমি আপনাদের বিপক্ষ দলে, ফলে যে চশমার ভিতর দিয়ে দেখছেন তাতে কথাগুলোর রঙ বদলে যাচ্ছে।

ব্লগকে আমি মোটেও হাউকাউ মনে করি না। এর বিশাল শক্তি আছে, কিন্তু আমাদের দেশের বিশাল অংশ রয়েছে যারা ব্লগের বাইরে এবং ধর্মভীরু। এই ধর্মভীরুদেরকে ধর্মান্ধে পরিণত করা হচ্ছে ব্লগের চেয়ে ব্লগের বাইরের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাবহার করে আরও বেশি। ব্লগে যেগুলো মাঝে মাঝে সুযোগ নিতে আসে, যাদের সাথে তর্কে আপনারা সময় করেন তারা মোটামুটি দেখি ধর্মান্ধ এবং ঝাড়ি খেয়ে এখানে পাত তাড়ি গুটিয়ে অন্যখানে ওয়াজ করতে যায়। আমার কাছে এরকম গন কেস ছাগুর পিছে সময় ব্যয় করাটাকেই হাউকাউ আর অপচয় মনে হয়। এর চে ধর্মভীরুদেরকে যেন এদের দিকে টানতে না পারে, বা যারা বিশ্বাস অবিশ্বাসের মাঝমাঝিতে আছে, তাদেরকে সত্যের পথ দেখানোর জন্য ব্লগ লেখা বা অন্যান্য কন্টেন্ট তৈরি করাতে সময় ব্যয় করাকে আমার কাছে অনেক বেশি লাভজনক মনে হয়। এবং এই জন্যই কোন ছাগুর উপর মেজাজ খারাপ হইলেও তাকে ঝাড়ার পিছে সেই সময়টা দেই না বরং ১৯৭১ বইটার অনুবাদ করার পিছে সেইটুকু সময় দেই। তবে আপনার কথাও সত্যি, যে এই ঝাড়ি দেয়া থেকে মাঠের পাশে বসে থাকা কিছু লোকের চোখ ফুটে। এইখানে আসলে আমি কোন রাস্তায় আগাইলে কতখানি ইফেক্টিভ সেইটাকে গুরুত্ব দিচ্ছি। ইফেক্টিভনেসের মাত্রা নিয়ে মতপার্থক্য হইতে পারে কিন্তু আপনার আমার মূল উদ্দেশ্য কিন্তু একই।

কিন্তু যখন দেখি আমার পরিচিত সার্কেলের কারও ব্রেইন ওয়াশ হতে চলেছে, তাকে আটকাবার পিছে ঠিকই সময় দেই, অন্তত চেষ্টা করি। তবে যেটা মনে করি কড়া করে তাকে বললে লাভ হবে না। অবশ্য উক্ত ব্যাক্তির সাথে আপনার সম্পর্কের উপর এটা অনেকাংশে নির্ভর করছে, আমাকে সবাই চুপচাপ বলেই জানে, কাজেই আমি নম্রভাবেই তাদের চিন্তা ভাবনা ডাইভার্ট করার চেষ্টা করি। সম্ভবত একারনেই আমি যখন কিছু উগ্র ধরণের শব্দ ব্যবহার করি ( বাল ফেলা, হাউকাউ) সেটা আরও বেশি উগ্র শোনায়, কারণ এমনটা আমার কাছে শুনে আপনারা অভ্যস্ত নন। অথচ অন্যন্য আরও ব্লগারের মুখে এমন প্রকাশ প্রায়ই দেখি। হয়ত "মেয়েমানুষের" মুখে এসব কথা বেশি খারাপ শোনায়।

নিচে কেউ কেউ হিজাব পোস্টের স্মৃতি উল্লেখ করেছেন। ঠিক কি বলেছিলাম, এখন খুঁজে দেখতে যাইনি। স্মৃতি থেকেই বলি, ইদানিং আমার পুরনো অনেক সহপাঠিকে দেখছি হিজাব ধরতে, যাদেরকে কখনই সেই চেহারায় দেখব বলে ভাবিনি। হিজাব ধরেছে বলে তাদেরকে বাতিল করে দেয়ার আগে তাদের মনস্তত্ব বোঝার চেষ্টা করেছি, কেন তারা হিজাবের আশ্রয় খুঁজছে। সম্ভবত সেই অ্যানালাইসিসটাই এখানে শেয়ার করেছিলাম, কারণ সরাসরি হিজাবঅয়ালীর কাছে আপনি হয়ত এই বিশ্লেষণটা পাবেন না, তারা কিছু অন্ধ যুক্তিই ঘুরে ফিরে বলতে থাকে। একই ভাবে যারা ধর্মের আড়ালে আশ্রয় খুঁজে তাদের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করে বুঝার চেষ্টা করি, এর মাঝে কোথায় যুক্তির আবেদন রয়েছে, যাতে সেখানে টোকা দিয়ে তাদেরকে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করতে পারি। কারণ বেশিরভাগই এখনো অন্ধবিশ্বাসী হয়ে যায়নি, জায়গামতো খোঁচা দিতে পারলে তারা তাদের বিশ্বাসকে সেকেন্ড থট দেয় এখনো। ব্রুট ফোর্সের চেয়ে কৌশল খাটিয়ে উদ্দেশ্য পূরণ করাটাই আমার পছন্দের কায়দা বলতে পারেন। এখন বিশ্বাসীদের মনস্তত্ত্ব বুঝার চেষ্টা করতে গিয়েছি বলে আমাকে তাদের দলে ফেলে দিতে চাইলে কিছু বলার নেই, But I believe you should know your opponent well.
বিশ্বাসীদের সাথে তর্ক করে, যুক্তি দিয়ে কচু কাটা করে দিনের পর দিন পার করে দেয়া যায়, কিন্তু আশে পাশে দেখেন, কড়া, হালকা নানান লেভেলের বিশ্বাসীদের সংখ্যাই বেশি, এরা অনেকটা সুইং ভোটারদের মতন যেদিকে আদর যত্ন পাবে সেদিকে হেলে পড়বে। হুজুরেরা এদের মনস্তত্ত্ব খুব ভালো করে বুঝে, এবং সেটাকে কাজে লাগিয়ে এদের নিজের দলে ভিরিয়ে ফেলে, তাদের মন মতো রূপকথার গল্প শুনিয়ে। এবং সেটা একদিনে করে না, আস্তে আস্তে অল্প ডোজে এদের ব্রেইন ওয়াশ করা হয়। অথচ আমরা সরাসরি যুক্তি উপস্থাপন করি, সেই যুক্তি উপলব্ধি করার মত মানসিক অবস্থা শ্রোতার আছে কি না সেটা কতখানি পরোয়া না করেই। আর যদি বুঝতে না পারে, তবে সেটাকে বাতিল মাল ঘোষণা করে হাল ছেড়ে দেই, ফেসবুকে ব্লক করে দিয়ে হতাশ হই। এইজন্য মনে হয় এদের কাছে যুক্তি এবং সত্যের আবেদন করতে হলে এদের মানসিক অবস্থা বুঝেই করতে হবে, এবং হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। কারণ একটা র্পযায় পর্যন্ত এরা কিছু গায়েবী প্রমিজের মাঝেই স্বস্তি খুঁজবে। রুঢ় সত্য হজম করার মত অবস্থা অনেক শিক্ষিতেরই নেই, অশিক্ষিতের কথা তো বাদই দিলাম। যেখানে এসে আপনাকে শক্ত হতে হবে, তা হলো যখন এই বিশ্বাস ন্যায় অন্যায় বোধকে উপেক্ষা করে যাচ্ছে। তাই লাদেনের টেররিজম, রামুর হামলা বা মালালার আক্রমণের প্রতিবাদ হবে অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং বিশ্বাসীদের চোখ খুলে দেয়া কিভাবে তাদের বিশ্বাসের জন্য তারা ভুল সাইডে অন্যায়ের পক্ষে পড়ে যাচ্ছে। আপনি লড়ছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে, কোন বিশ্বাসের বিপক্ষে বা পক্ষে না। এইখানে হুজুর পার্টি ধোয়াশা তৈরির ব্যপক চেষ্টা করে। যতক্ষণ না আমি দেখছি কাউকে বিশ্বাসের অজুহাতে অন্যায় সমর্থন করতে ততক্ষণ আমি তার বিশ্বাস নিয়ে ঘাটাতে যাব না। সে যদি খোদার কুদরতি শেয়ার দিয়ে আমাকে দলে টানার চেষ্টা করতে পারে, আমিও বিং ব্যাং থিওরি আর মহাবিশ্ব সৃষ্টি রহস্যের কথা বলে তাকে লাইনে আনার চেষ্টা করতে পারি। কিন্তু খোদার কুদরতি বা সান্টা ক্লজ বিশ্বাসের কারণে কেবল তাকে আমি আক্রমণ করব না।

শেষ মেশ বলি, এভাবে গুছিয়ে মন্তব্য করে এক বারে আমার অবস্থান ডিফেন্ড করার সুযোগ দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমরা সবাই নিজ নিজ চশমার ভিতর দিয়ে দুনিয়া দেখি বলে একই জিনিষ ভিন্ন ভিন্ন রঙ্গের মনে হতে পারে অনেক সময় এটাও সেরকমই ভুল বুঝাবুঝি। চশমা সরিয়ে দেখার চেষ্টা করলে বুঝতে পারবেন যে আমরা শেষ পর্যন্ত একই জিনিষ চাইছি, সত্য ও মানবতার প্রতিষ্ঠা এবং মিথ্যা ও অনাচারের দমন। পার্থক্য হয়ত এখানেই আমি গুরুত্ব দিচ্ছি সত্য ও মানবতা প্রতিষ্ঠার দিকে, তাহলে মিথ্যা ও অনাচারের ঠাঁই মিলবে না, আর আপনারা ভাবছেন মিথ্যা ও অনাচার দমন করতে না পারলে সত্য প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। আমার মনে হয় দুটোই সমান তালে চলা উচিত, কিন্তু সত্য ও মানবতার প্রচারে অনেক অনেক কম এফোর্ট দেখি, এবং এটা নিয়ে আমার অনেক দিনের চাপা ক্ষোভটাই এখানে উগড়ে দিয়েছি।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

হিমু এর ছবি

যুক্তি = ব্রুট ফোর্স?

শিশিরকণা এর ছবি

আপনি পানি ঘোলা করতে চান ? ঠিক হ্যায়। করেন। আপনার যেভাবে খুশি ইমপ্লাই করতে চান।
যুক্তি নট ইকুয়াল টু ব্রুট ফোর্স। যুক্তি কারও মাথায় ঢুকছে না জেনেও গলা চড়িয়ে যুক্তি একই ভাবে বুঝানোর চেষ্টা করে যাওয়া ব্রুট ফোর্স।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

হিমু এর ছবি

আপনি চাইলে আমি আপনার টোনে আপনার সাথে কথা বলে যেতে পারি। কিন্তু সেটা আমাদের দুজনের জন্যই এমব্যারাসিং হবে। আপনি ‌এমন কিছু কথা ওপরে বলে গেছেন, যেগুলোর জবাবে আপনাকে কিছু কথা শুনতে হবে। সেগুলো শোনার আগে আপনি নিজে কীভাবে চিন্তা করেন, সেটা আপনার বোঝানোর সুযোগ পাওয়া উচিত। এটাকে আপনি যে কোনো রূপক দিয়ে বুঝে নিতে পারেন। ঘোলাপানি কুড বি ওয়ান অভ দেম।

একটা পোস্ট বা মন্তব্যের বর্তমান আর ভবিষ্যৎ পাঠক থাকে। তাদের সবাই তর্কে সক্রিয় থাকে না, চুপচাপ পড়ে। এ ছাড়া অনেক সময়ই একটা প্রসঙ্গের পুনরাবৃত্তি ঘটলে পুরোনো পোস্টের রেফারেন্স দেয়া হয়। আপনি কেন ধরে নিচ্ছেন, যার বক্তব্যের বিপরীতে কোনো যুক্তি দেয়া হচ্ছে, সেটা শুধু তার মাথাতেই ঢোকাতে হবে? ব্লগের সব পাঠককে তো আপনি চেনেন না। আপনি কীভাবে জানেন কোন পাঠক কোন তর্কের কোন যুক্তি কীভাবে বুঝতে পারঙ্গম বা অপারগ? আপনি কীভাবে জানেন যে ঐ একই তর্ক তাকে তার সহকর্মী, বন্ধু, আত্মীয়ের সঙ্গে করতে হয় না? আপনি কীভাবে জানেন যে সচলের তর্ক থেকে পাঠকের কোনো লাভ হয় কি হয় না?

শিশিরকণা এর ছবি

হুম! বুঝলাম। এই পয়েন্ট টাকে উপেক্ষা করেই অনেক তর্ক করে ফেলেছি। যুক্তি শুধু তর্কের অপর পক্ষই নয় পাঠকের জন্যও সমান বা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তর্ক থেকে যে পাঠকের লাভ হয় নিজেই সেটা অনেকবার উপকৃত হয়েছি, সুতরাং এটা কোনভাবেই অস্বীকার করতে পারি না। তবু আমার আফসোস থেকে যায় যে আপনার মত প্রতিভাবান লেখকদের এখানে সময় ব্যয় করতে হয় দেখে। যারা অমন লিখতে পারে না তারা এমন তর্ক করে কাটালে হয়ত এই আফসোসটা হতো না। কিন্তু অমন যুক্তি খন্ডনের জন্য হয়ত তেমন প্রতিভাই দরকার।
তর্ক অনেক দূর গড়ানোর জন্য কিঞ্চিত বিব্রত, কিন্তু দুঃখিত নই। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট টা বুঝতে পেরেছি বলে খুশি। খোঁচা দেয়া দুএকটা কথা তখন তখন গায়ে লেগেছিল বটে, তবে ভুলে যাচ্ছি কারণ ধরে নিচ্ছি সেটা ছিল তর্কের খাতিরেই। আপনি যদি তর্কের সমাপ্তি টানতে রাজি থাকেন, তবে আমিও এখানে ইতি টানতে চাই।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

হিমু এর ছবি

আমি, ইন ফ্যাক্ট, আপনার সঙ্গে তর্ক করছিলামও না। আমি এই পোস্টের লেখকের সঙ্গে তর্ক করছিলাম। তার এক পর্যায়ে আপনি এসে এমন কিছু কমেন্ট করেছেন, যেটা গ্যালারিতে বসে পানির বোতল ছুঁড়ে মারার মতো, যেটা আমার গায়েও বেশ ভালোমতো লেগেছে। আপনি এই কাজটা আগেও একবার করেছিলেন (৫৩ ও ৫৫ নাম্বার মন্তব্যে আমার প্রতিক্রিয়া দেখতে পারেন). আমি এবারও আপনাকে ধৈর্য নিয়ে বুঝিয়ে বলতে চাই, যখন কয়েকজন মানুষ তর্ক করছে, আপনি সেই তর্কে অংশ না নিয়ে হঠাৎ করে তাদের একজনকে বা সবাইকে ঠেস দিয়ে কথা বললে ব্যাপারটা টকে যায়।

শিশিরকণা এর ছবি

হুম! আবারও বুঝলাম। ধৈর্য ধারণের জন্য ধন্যবাদ।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

অরফিয়াস এর ছবি

আপনি কি সবসময়ই এধরনের পারস্পরিক সাংঘর্ষিক কিংবা বিপরীতধর্মী কথা বলে থাকেন? জানতে আগ্রহ হচ্ছে। আপনার পূর্বের মন্তব্যগুলো একবার নিজেই পড়ে দেখুন আর এখনকার মন্তব্যটা পড়ে দেখুন, যদি মেলাতে পারেন তাহলে কিছু বলার নেই তবে পাঠক হিসেবে আমি পারছিনা, আগেও পারিনি।

কিন্তু সত্য ও মানবতার প্রচারে অনেক অনেক কম এফোর্ট দেখি, এবং এটা নিয়ে আমার অনেক দিনের চাপা ক্ষোভটাই এখানে উগড়ে দিয়েছি।

বিষয়বস্তু আর পরিস্থিতির বিবেচনা না করেই আপনার ক্ষোভ কি যত্রতত্র উগড়ে দেন নাকি?

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

শিশিরকণা এর ছবি

আমার কাছে মনে হচ্ছে না, তবে এটাও ঠিক নিজের ত্রুটি চট করে নিজের চোখে ধরা পড়ে না, বা পড়লেও নিজের কাছে স্বীকার করতে সময় লাগে। আবার পড়ে দেখতে সময় লাগবে, তবে পড়ছি। আপনাদের চোখ দিয়ে নিজেকে দেখার চেষ্টা করব। যদি যুক্তিতে ভুল থাকে তবে শুধরে নেব, তবে কারও চোখে অনুমোদিত হবার জন্য নিজেকে বদলাবার কোন ইচ্ছা নাই। আমি যতদূর বুঝতে পারছি আমাদের মূল উদ্দেশ্য ও চিন্তাধারা ও যুক্তির ভিত্তি একই। এইসব মন্তব্যে তর্ক করে আমার সমন্ধে কারও মতামত পাল্টাবার তাগিদ নেই আমার। যদি পারি কাজেই প্রমাণ দেব।

আর ক্ষোভটা বিবেচনা করেই প্রকাশ করেছি। যে জন্য ক্ষোভটা জন্মেছে, এই পোস্টটা তার একটা উৎকৃষ্ট উদাহারণ।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

অরফিয়াস এর ছবি

ক্ষোভটাকে তীর্যক মন্তব্যে রুপান্তরিত না করে কাজে রুপান্তরিত করুন আশা করি উপযোগিতা এবং গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। আর আপনি যে কথা বারবার বলে যাচ্ছেন সেই আইসিএসএফ আর সত্য-মানবতার ঝান্ডা তুলে এগিয়ে যাওয়া সেগুলোতে আপনার অবদান কিন্তু আমি এখনও জানতে আগ্রহী, আপনি প্রশ্নের উত্তরটি এড়িয়ে গেছেন উপরে।

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

সজল এর ছবি

ব্লগে যেগুলো মাঝে মাঝে সুযোগ নিতে আসে, যাদের সাথে তর্কে আপনারা সময় করেন তারা মোটামুটি দেখি ধর্মান্ধ এবং ঝাড়ি খেয়ে এখানে পাত তাড়ি গুটিয়ে অন্যখানে ওয়াজ করতে যায়।

অযাচিত নাক গলানোর জন্য দুঃখিত। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আপনি একটা ট্রিভিয়াল ভুল করছেন। তর্ক করে বেশিরভাগ সময় বিপক্ষের মত পালটানো যায় না। কিন্তু তর্কের দরকার আছে, ইন্টেলেকচুয়াল স্ট্যান্ড পয়েন্ট বাদই দিলাম। কিন্তু প্রতিটা তর্কে প্রচুর দোদুল্যমান দর্শক আছে, যারা তর্কে উপস্থাপিত যুক্তি দেখে কোন একটা দিকে ঝুঁকে পড়ে। ফেইসবুকে প্রচুর "আজাইরা" তর্কে জড়াই, ওড়না পার্টি কিংবা মেয়েদের কেন সম্পত্তির অর্ধেক দেয়া উচিত না ইত্যাদি বিষয়ে। প্রায়ই গালি খাই, হুমকী পাই, যার সাথে তর্ক করছি, তার মতামতের কুটো'টাও নাড়াতে পারি না। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই তর্কের সময়ই কিন্তু অন্যদের লাইক আর কমেন্টের মাধ্যমে আমার মতামত যে কিছু মানুষের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সাহায্য করছে সেটা স্পষ্ট দেখতে পাই। তাই, যার সাথে তর্ক করছি, তার কিছু করতে না পারলেও আল্টিমেটলি অনেকের উপকার করা যায়। তাই কোন হাউকাউই বৃথা না।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

শিশিরকণা এর ছবি

কথা সইত্য। উপরে হিমুর কমেন্টের উত্তরে স্বীকার গেছি। আমি নিজেও মাঝে মাঝে তর্কের টোপ ফেলি ফেসবুকে, বন্ধু তালিকা নতুন করে চেনা হয় রেস্পন্স দেখে।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

সজল এর ছবি

বন্ধুদের চেনার চেয়েও কিন্তু তাদের মতামত পরোক্ষ ভাবে প্রভাবিত হওয়ার ব্যাপারটা আমি ফোকাস করতে চেয়েছি হাসি মানে যারা নিরাময়াতীত হয়ে যায়নি আর কি।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

শিশিরকণা এর ছবি

আপনার ফোকাস ধরতে পেরেছি। অনেক সময়ই কিছু বন্ধু বান্ধব সমন্ধে ধন্দে পড়ে যাই, তখন এই রকম এক্সপেরিমেন্ট করে দেখি তারা কতখানি নিরাময়যোগ্য আছে, কখনো কখনো লাইনে ফেরত আসতেও দেখি। কেউ কেউ পুরা লাইন চ্যুত ও হয়ে যায় দেখি, তবে সাধারণত তারা আগেই বে লাইনে চলে গেছে মনে হয়।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখকের পোস্টের মূল টোনের সাথে একমত। মানবতার জয় হোক।
নাস্তিকতাকে সামনে রেখে কিছু মানুষের উগ্রতার যে দাবী লেখক করেছিলেন, তার পিছনে উনি সোভিয়েতের উদাহরণ টানেন। সোভিয়েতের কম্যুনিজম মেশিনের একটা অংশ ছিল অ্যাথিইজম। লেখক এই বিষয়ের সাথে নাস্তিকদের উগ্রতার বিষয়টি গুলিয়ে ফেলেছেন। এতে উনার দোষ দিব না। অনেকেই গুলিয়ে ফেলেন।
লেখক একটা বিষয়ে ধন্যবাদ পাবেন। তিনি কোন গোর্য়াতুমি করেন নাই। নিজের ভুলগুলো বুঝতে পারার পর একে একে স্বীকার করেছেন। এই বিষয়টা বিরল। এজন্য হিমু, নিয়াজ আর মুর্শেদকে ধন্যবাদ দিব, বিশেষ করে হিমুকে।
কৌস্তুভ আর অরফিয়াস লেখককে বুঝানোর সময় অনেক অপ্রাসঙ্গিক বিষয় টেনে নিয়ে আসে এবং কিছুটা কঠোর আচরণও ওদের মাঝে দেখতে পাই। লেখককে একটা ট্যাগিংয়ের মাঝে ফালানোর চেষ্টা দেখতে পাই।
শেষে এটুকু বলব, রাজা সাহেব, আপনি লিখে যান। আপনার মধ্যে শেখার যে প্রবণতা তা বাংলা ব্লগে বিরল। অন্তত: একজন মুক্তমনাকে তো পেলাম যে তালগাছটা আমার বলে জিদ ধরে বসে থাকে নাই।
-ইকবাল খান।
সহকারী অধ্যাপক (লিয়েন), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

কৌস্তুভ এর ছবি

কৌস্তুভ আর অরফিয়াস লেখককে বুঝানোর সময় অনেক অপ্রাসঙ্গিক বিষয় টেনে নিয়ে আসে এবং কিছুটা কঠোর আচরণও ওদের মাঝে দেখতে পাই।

১) ইকবাল খান মহোদয়, "অনেক" যখন বলেছেন তখন অন্তত দুটো উদাহরণ দিন যখন এই পোস্টে আমি অপ্রাসঙ্গিক বিষয় টেনে এনেছি বোঝাবার সময়। নাহলে উল্টোপাল্টা কথা বলার দায়ে কিন্তু আপনার প্রতিও কঠোর আচরণ করবে লোকজন।

২) আপনার স্নেহশীল দৃষ্টিতে বোধহয় লেখকের 'সোভিয়েত কমিউনিজম = নাস্তিকতার নামে উগ্রতা' এই কাটা রেকর্ড বাজিয়ে চলাটা তালগাছবাদীতার শ্রেণীতে পড়ে নি। কিন্তু অনেকের পড়েছে, এবং বারবার সেই গোঁয়ার্তুমিতে তারা বিরক্তও হয়েছে। যদি কেউ সচলে 'উগ্র বিবর্তনবাদীতা' নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সেই বহুপুরাতন জরাজীর্ণ প্যালে'র ঘড়ির আর্গুমেন্ট নিয়ে এসে চেপে ধরে বসে থাকত, তাহলে যেমন লোকে শেষমেষ বিরক্তি থেকেই কঠোর আচরণ করতে বাধ্য হত, এখানেও তাই হয়েছে।

খেকশিয়াল এর ছবি

ছি ছি কৌস্তুভ! আপনি এতো কঠোর! মন খারাপ

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

কৌস্তুভের উত্তর ঠিক আছে। কেননা তার প্রসঙ্গ এসেছে। সে ডিফেন্ড করতে পারে। কিন্তু আপনি যেটা করলেন সেটা বুলি। এটার প্রয়োজন ছিলো না।

অরফিয়াস এর ছবি

সহকারী অধ্যাপক ইকবাল খান, (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়),

কৌস্তুভ আর অরফিয়াস লেখককে বুঝানোর সময় অনেক অপ্রাসঙ্গিক বিষয় টেনে নিয়ে আসে এবং কিছুটা কঠোর আচরণও ওদের মাঝে দেখতে পাই। লেখককে একটা ট্যাগিংয়ের মাঝে ফালানোর চেষ্টা দেখতে পাই।

এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিন, কোথায় কোথায় কঠোর এবং অপ্রাসঙ্গিক কথা বলা হয়েছে বলুন। উড়ে এসে জুড়ে বসার ভালো একটা তাগিদ আপনার মন্তব্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বসবেনই যখন একটু ভালোভাবেই বসুন। আর যদি পরের মন্তব্যে আপনার নির্দিষ্ট উত্তর না আসে তাহলে রাজার প্রতি কঠোর হলাম কিনা সে প্রসঙ্গ দুরে, আমি যে যাই ভাবুক আপনার প্রতি কঠোর হবো।

অগ্রিম ধন্যবাদ।

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

খেকশিয়াল এর ছবি

ছি ছি অরফিয়াস! আপনিও?! অ্যাঁ

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

অরফিয়াস আপনার মন্তব্যটা বেশ ঝাঁঝালো। সচলায়তনের বদনামগুলো এইরকম ছোটোখাট বিষয় থেকে সুত্রপাত হয়। আমি প্রফেসর ইকবালের মন্তব্যে এমন কিছু দেখিনি যেটা নিয়ে এতখানি আক্রমণ করতে হবে।

অরফিয়াস এর ছবি

মুর্শেদ ভাই,

তবে অহেতুক কোন ব্যক্তিকে যা খুশি তাই অভিযোগ করতে দেয়াতে সচলের ঠিক কতোটা সুনাম হবে সেটাও আমার সন্দেহ!! তিনি আমার বিরুদ্ধে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলা এবং কঠোর ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন, আমি নাকি পোস্ট লেখককে ট্যাগিং এর অপচেষ্টায় ব্যস্ত !!! এধরনের অভিযোগ আমার কাছে গুরুতর মনে হয়েছে। তাকে আমি সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছি কিন্তু তিনি কোন উত্তর দিয়ে যাননি, সুতরাং তার অভিযোগ একটি বাতুলতা মাত্র। আর যারা এধরনের ব্যবহার করে তাদের প্রতি আমার সহনশীলতা কম। যদি এতে আমি খারাপ ব্যবহারের জন্য অভিযুক্ত হই, আমি অনায়াসে মেনে নিতে রাজি আছি। কিন্তু দুঃখিত এধরনের ফালতু লোকেদের বিরুদ্ধে আমার ব্যবহার বদলাবেনা।

সচলায়তনের যদি আমার মাধ্যমে কোন বদনাম ঘটে তবে আমি সেদিন মনে হয়না আর সচলের অংশ হয়ে থাকতে চাইবো। দুঃখিত।

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

কৌস্তুভ এর ছবি

তুমি যদি আজকে গোলাম আজমের বিরুদ্ধে ব্লগ লেখো তাহলে এক শ্রেণীর লোকজন সচলের বদনাম করে বলবে, দেখেছ, ওরা কত খারাপ, ভাষাসৈনিক এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কুৎসা রটায়! সেদিনও তুমি আর সচলের অংশ হয়ে থাকতে চাইবে না তো? চোখ টিপি

অরফিয়াস এর ছবি

নাহ সেরকম হবেনা, তবে আমার ব্যবহার এমনিতেই অভদ্র কিনা। খাইছে

"প্রয়োজনে কঠর হতে পারি আমিও"

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

অতিথি লেখক এর ছবি

তাইলে যুদ্ধ শ্যাষ! বাপরে! আপনারা একই ঘরের মানুষেরা যা লাগাইছিলেন।
পোস্টের মূল বক্তব্যর সাথে পোস্ট লেখকের সাথে একমত, শুধু ওই উগ্র নাস্তিকের অংশবাদে।
অনুবাদে লেখা -গুড়- হয়েছে

চিত্তরন্জন দাস

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

অনুবাদ ভাল লাগল শুনে আমারো ভাল লাগল।

রু এর ছবি

সবুজ পাহাড়ের রাজা, আবার ধন্যবাদ জানাই লেখাটা অনুবাদ করার জন্য। অনুবাদ ভালো লেগেছে। এই ধরনের লেখা আমাদের খবরের কাগজে বেশি করে আশা দরকার। বাঙলাদেশিদের ভাবনার নতুন দৃষ্টিকোণ তৈরী করতে হবে। কোন মুক্তাদির যেন ফেসবুকের ছবি নিয়ে মানুষ জড়ো করতে না পারে। মুক্তাদিরদের গুরুরা যেন দুইবার হলেও ভাবে 'কোরানের ব্যঙ্গ করলো', 'মোহাম্মদকে বিড়াল বললো' এইগুলা পাবলিক আর খাবে না।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

মতামতের জন্য ধন্যবাদ।

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

অনেকেই এতো চমৎকারভাবে নাস্তিকতার প্রসঙ্গটি বুঝিয়েছেন, আমার আর বলা লাগছে না। দেঁতো হাসি

অ্যানার্কিজম নিয়ে কম বলা হয়েছে তাই এটা নিয়ে বলি। অ্যানার্কিজম মূল অর্থে কিন্তু একটা অবস্থান, একটা দর্শন। এটা অবস্থান পোষণকারীর কর্ম দিয়ে নির্ণীত নয়। অ্যানার্কিস্টরা মনে করে যে একজন মানুষের উপর অন্য মানুষের শর্তহীন "ক্ষমতা" থাকতে পারে না, যেমনটা রাজার থাকে, রাষ্ট্রের থাকে। অর্থাৎ শাসন ও ক্ষমতাকে সে প্রশ্ন করে। এর দুটো মূল ফ্লেভার। একদল প্রোপার্টি রাইট্স মানে, আরেক দল মানে না। নোয়াম চমস্কি হলেন একজন অ্যানার্কিস্ট। ভদ্র শান্তশিষ্ট মানুষ। আবার স্পেনে কি ইটালিতে অনেক জঙ্গি অ্যানার্কিস্টও আছে। কিন্তু তারা ভাঙচুরের জন্যে অ্যানার্কিস্ট নামে পরিচিত হন নি, তাদের অবস্থানের কারণে হয়েছেন।

অন্যদিকে ধার্মিকরা রেয়ারলি অ্যানার্কিস্ট। তাদের অনেকে আবার ধর্মশাসন মানে। এবং জঙ্গিপনার অধিকাংশই সেটার নামে করে। আর স্টালিন কিংবা পলপটকে অ্যানার্কিস্ট বলতে শুনলে গোষ্ঠিবাদী-অ্যানার্কিস্ট শিরোমণি Mikhail Bakunin গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করতেন। কম্যুনিস্টরা মনে করে তাদের বেহেস্তী যুগ আসার জন্যে চরম রাষ্ট্রবাদী শাসনের পথ মাড়ানো অবশ্যম্ভাবী। স্টালিনগং সেই অবশ্যম্ভাবীকে সম্ভব করার জন্যেই কাজ করে যাচ্ছিলেন।

ফলে, ভাঙচুর করলেই অ্যানার্কিস্ট নয়।

কৌস্তুভ এর ছবি

আমি এটাই ভাবছিলাম, যে অ্যানার্কিজমের যথার্থ সংজ্ঞা নিয়ে কেউ তো আলোচনা করলেন না। আর কেউ-দের মধ্যে আপনার প্রতিই আশাটা কিঞ্চিত বেশি ছিল। দেঁতো হাসি

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

দেঁতো হাসি

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

অনেক মূল্যবান যুক্তিতর্ক শেষে সুনির্দিষ্ট একটি মতামতে পৌঁছানো গেল। লেখাটার খুব প্রয়োজন ছিল। প্রয়োজন ছিল, লেখাটার মান বিশ্লেষণেরও। অনেক কিছু শেখা হলো, জানা হলো। অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ।

আমি হচ্ছি সেই প্রজাতির মানুষ, ঐ যে একটা চুটকি আছেনা-
রাজা মশাইয়ের মন খুবই বিষন্ন। মহামন্ত্রী বিষয়টি জানতে চাইলে রাজা মশাই তাঁর বউকে ডরানোর কথা জানালেন। মহামন্ত্রী সেটা জেনে রাজাকে আশ্বস্থ করলেন যে সব পুরুষই তাঁর বউকে ডরায়। প্রমাণের জন্য ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে প্রজাসকলকে একটি বিরাট ময়দানে জমায়েত করা হলো। মহামন্ত্রী প্রজাদের উদ্দেশ্যে বললেন, 'তোমাদের মধ্যে যারা বউকে ডরাও তারা সবাই ডান দিকে চলে যাও আর যারা বউকে ডরাও না তারা বাঁদিকে। কথা শোনামাত্র হুড়মুড় করে সবাই ডানদিকে দৌড় দিল। কিন্তু একটা দুবলা-পাতলা লম্বা লোককে মাঝখানে দাড়িয়ে থাকতে দেখে মহামন্ত্রী তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, কি তুমি বউকে ডরাওনা ? উত্তরে লোকটি বললো, অতশত বুঝিনে আমি দুর্বল মানুষ তাই আসবার সময় বউ বলে দিয়েছে, 'ভীড়ভাট্টার মধ্যে যাবেনা। নিরিবিলি জায়গায় থাকবে।' আম্মো তাই।

ক্রেসিডা এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি

__________________________
বুক পকেটে খুচরো পয়সার মতো কিছু গোলাপের পাঁপড়ি;

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

অতশত বুঝিনে আমি দুর্বল মানুষ তাই আসবার সময় বউ বলে দিয়েছে, 'ভীড়ভাট্টার মধ্যে যাবেনা। নিরিবিলি জায়গায় থাকবে।' আম্মো তাই।

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

আপচুচ এই জীবনে এখন পর্যন্ত একটা উগ্রবাদী-নাস্তিকদের দেখা পাইলাম না। শেইম অন মি।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি
স্যাম এর ছবি

রাজা দা - কিছু মনে না অরলে অনুবাদ টা নিয়ে একটা অনুরোধ করতে চাই - আরেকটু কি অন্যরকম করে লেখা যায় - মানে মূল যে লেখাটা ওটা আরো বেশি আরাম লেগেছিল -
আপনার অনুবাদ এর সব জায়গা না - কিছু কিছু শব্দ আরেকটু অন্যরকম করা যায় কিনা? আমাকে যদি এক্লাইন করে দেখাতে বলেন তাহলে কিন্তু পারবোনা চোখ টিপি এখন ইন্টারনেট প্রযুক্তির যুগ না বলে এখন ইন্টারনেট এর যুগ বলা যায় কিনা - এমন কিছু ---- যাতে ঐ মূল ফ্লেভারটা থাকে ----

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

ধুরর মিয়া,
মনে করার কিছু নাই। সাজেশানের জন্য থেংকস।

সুমিমা ইয়াসমিন এর ছবি

সকল প্রকার উগ্রতা নিপাত যাক।

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

আমেন।

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি
ক্লোন৯৯ এর ছবি

অনুবাদ ভাল হইছে

বাপরে পোস্ট আর মন্তব্য পড়তে পরতে ঘুমাইয়া পড়ছিলাম হেহ হেহ

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

হা হা
ভাল থাকবেন।

তানিম এহসান এর ছবি

অনুবাদ ভালো হয়েছে। এই লেখা এবং তার সাথে সাথে সবগুলো মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য মিলিয়ে আরও একটা উপস্থাপনা তৈরি হতেই পারে। পুরো বিষয়টি একটা সূক্ষ্ম সুতোর উপর ঝুলে আছে- চর্চায় -- মতান্তরে পথে তাল হারানোর প্রলোভন-ও যথেষ্ট।

প্রিয় ধর্মে-বিশ্বাসী’রা পরকাল নিয়ে যে পরিমাণ চিন্তিত তাতে ইহকালে উগ্রতার কিংবা যাঁতায় পড়লে প্রয়োজনে নম্রতার পথে হেঁটে যেতে যেতে আবার উগ্রতার স্বপ্ন দেখতে সবাই পারঙ্গম -- সবাই বেহেশত-স্বর্গে যেতে চায় এবং সারাজীবনের সঞ্চিত ভুলের হিসেবে নিজের কাছে দায়বদ্ধ না থেকে একজন আম-সিপারা পড়া মোল্লা কিংবা ভৃত্য পুরোহিতের মনগড়া কথায় আরেকজনের ইহকাল জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিতে তাদের জুড়ি নেই। উগ্রতা ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীর নিজস্ব বাড়-বাড়ন্তি এবং স্বার্থের সাথে মিলে মিশে একাকার।

সব ধরনের উগ্রতা নিপাত যাক। এইসব নিয়ে লেখার প্রয়োজন আছে। লিখা চলুক রাজা সাহেব।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
সব ধরনের উগ্রতা নিপাত যাক।
মানবতার জয় হোক!

দ্রোহী এর ছবি

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি
খেকশিয়াল এর ছবি

গুরু গুরু

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

ইয়ে, মানে... বড়ই সৈন্দর্য!!


_____________________
Give Her Freedom!

পরমাণুঅণুজীব এর ছবি

হাততালি ভাল লিখা। উগ্রতা মানেই অজ্ঞতা সেটা আস্তিকতা হোক আর নাস্তিকতা হোক।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

উগ্রতা মানেই অজ্ঞতা সেটা আস্তিকতা হোক আর নাস্তিকতা হোক।

চলুক
সব ধরনের উগ্রতা নিপাত যাক।

দ্রোহী এর ছবি

জঙ্গী নাস্তিকরে জঙ্গী আস্তিকের সমান বানানো কিছু ছাগুর প্রাণের দাবি।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

এইটা ঠিক কইছেন। চলুক
ছাগু তথা, ধর্মান্ধরা নিজেদের সহিংস কাজের বৈধতা দিতে এই চেষ্টা করে থাকে।

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

ধর্ম এমনি স্পর্শকাতর(!) বিষয় কথা কৈলেই সমুস্যা, কার না কার আবার কোমল বা রূঢ় অনুভূতিতে আঘাত লাগে!

কিছু কৈ বৈলা শুরু কর্লামঃ ধর্ম হৈল মানুষের সৃষ্টি, সে ই পালে-পুষে। অনেক আগের সৃষ্টি বৈলা ভুলভাল-সমুস্যা বেশি। চরম বিজ্ঞানের এই যামানায় ঐ সকল পুরান নিয়ম-কানুন বড়ই বেমানান-হাস্যকর। যাহারা বিজ্ঞানমনস্ক তাহাদের পক্ষে না হাইসা আসলে থাকা সম্ভুব না। ধৈর্মের সবই খারাপ তাও না, কারণ সে ও সৈত্য কৈতে কয়, সৎ কাজ করতে কয় তয় খালি রূপকথার মত ডেইটির ভয় দেখাইয়া এইডাও গিয়াঞ্জাম। ধৈর্মের পুরা ফ্রেমোয়ার্কটাই আসলে কেমন রূপকথা নির্ভর আর সেকেলে, আসলে হাজার বছর পূর্বে কতই বা আর বৈজ্ঞানিক দূরদৃষ্টি দেওন সম্ভব!

আমি ব্যক্তিগতভাবে ধার্মিক (অসহিংস) অপছন্দ বা ঘৃণা করি না, ভার্চুয়াল জগতে বা বাস্তবে দেখলে বা পাইলে লাথিও মারি না, যদি না ছাগুগিরি শুরু করে। আশে পাশে মডারেট ধার্মিকই অবশ্য বেশি দেখি!

নাস্তিকরা ধর্ম জোড়পূর্বক উৎখাত করতে চাইলে আমার এই জায়গায় একটু আপত্তি আছে। ধর্মের ফ্রেমোয়ার্ক আসলে এমনিতেই টিকতে পারতেছে না, সুতরাং এরে প্রাকৃতিকভাবেই নাশ হৈতে দেওয়া উচিৎ কষাকষির দরকার নাই। তবে মুক্তবুদ্ধির চর্চা চলতেই হবে ( আমি কষাকষির মধ্যে মুক্তবুদ্ধির চর্চা-যুক্তি ফেলি না)।

নাস্তিকরা ধর্মরে সংস্কৃতির মত দেখতে পারেন, অনেক জাতির সংস্কৃতিতে রূপকথা থাকে, কু-সংস্কার থাকে, অবৈজ্ঞানিকতায় হাস্যরস থাকে। তয় সংস্কৃতি আবার বৈচিত্র্যপূর্ণ থাকে, উৎসব গুলা তো ভালোই লাগে পূজা-পার্বণ-ঈদ-বড়দিন-----। আবার ধর্মের ক্ষতিকর দিকগুলোর চর্চা বন্ধ করা দরকার। দেখেন খালি অবস্থা প্যাচ লাগায় ফালাইলাম। এইজন্যই ধর্ম লৈয়া কথা কৈতে মন চায় না। ধর্ম রিফর্ম কৈরা টিকা থাকবো না পুরাই নিশ্চিহ্ণ হৈবো এইখানেই প্যাচ লাগে আমার!

যাই হোক, শেষ কথাঃ আস্তিক মানুষের মত মানুষ হৈলেই হৈলো আবার নাস্তিকও মানুষের মত মানুষ হৈলেই হৈলো। মানবতার ধর্মটাই আসলে দরকার।


_____________________
Give Her Freedom!

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

চলুক চলুক চলুক
মানবতার আবেদনটাই আসলে দরকার।

savage_mountain এর ছবি

"ধর্মের ফ্রেমোয়ার্ক আসলে এমনিতেই টিকতে পারতেছে না, সুতরাং এরে প্রাকৃতিকভাবেই নাশ হৈতে দেওয়া উচিৎ কষাকষির দরকার নাই।"

এইটা ভাল্লাগ্সে।

বিদ্যুৎ হাসান এর ছবি

এই রকম আলোচনার একটা মজার দিক হলো, অনেকের সযত্নে লুকিয়ে রাখা ল্যাঞ্জা প্রকাশ হয়ে পড়ে।

savage_mountain এর ছবি

মত একটু অমিল হলেই "লেন্জা বের হয়ে গেসে" এইটা বলা মনে হয় অনুচিত।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।