জাগো বাংলাদেশ নিয়ে যত কথা

রেজওয়ান এর ছবি
লিখেছেন রেজওয়ান (তারিখ: শনি, ০৫/১১/২০১১ - ৫:৩৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গতকাল অফিসে যাবার সময়ে শেরাটন হোটেলের সামনের মোড়ে দেখলাম হলুদ টিশার্ট পরা কয়েকজন ছেলেমেয়ে বিভিন্ন গাড়ির কাছে এসে কিছু জিজ্ঞেস করছে। গাড়ি সিগন্যালে থামতেই ১৪-১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী এগিয়ে এল। স্যার বলে সম্ভাষণ করে তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা শুরু করতেই গাড়ি আবার নড়ল। দ্রুত পকেটে হাত দিয়ে কিছু টাকা হস্তান্তর করতেই Primary Education For All লেখা একটি স্টিকার পেলাম। অন্য গাড়িতে দেখলাম ফুল দেয়া হচ্ছে।

এরপর অফিস যেতে যেতে ভাবছিলাম যে ওইখানে প্রায়ই পথশিশুরা ফুল নিয়ে দাড়িয়ে থাকে অথচ তাদের কাছ থেকে কালে ভদ্রে কিছু কেনা হয় না। তাহলে আমি ঐ হলুদ পোশাক পড়া কিশোরীকে কেন সাহায্য করলাম?

বিভিন্ন ব্লগে এই নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে যার বেশীরভাগেই দেখলাম তথ্যের অভাবে গালগল্প, ব্র্যান্ডিং ও কাঁদা-ছোড়াছুড়ি চলছে। এইসব কিশোর-কিশোরী বা তাদের কে পাঠিয়েছে তা সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি? কালকের এই আয়োজনটি কিন্তু রীতিমত পাবলিক ক্যাম্পেইন করা একটি কর্পোরেট পৃষ্ঠপোষকতার উদ্যোগ। ডেইলি স্টারে এসেছে যে জাগো বাংলাদেশ নামক এনজিওর ভলান্টিয়ার্স ফর বাংলাদেশ শাখার প্রায় ৭০০০ স্বেচ্ছাসেবক যারা বিভিন্ন ইংরেজী ও বাংলা মাধ্যমের স্কুল এবং কলেজ ইউনিভার্সিটিতে পড়ে তারা দেশের দশটি শহরে রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাড়িয়ে জাতিসংঘের উৎসাহে প্রবর্তিত ইউনিভার্সাল চিলড্রেনস ডে সম্পর্কে জানাবে এবং পথশিশুদের জন্যে অর্থ সংগ্রহ করবে ৩রা নভেম্বর ২০১১ তারিখে। একই দিনে তারা ১৮০০ পথশিশুকে বিভিন্ন খেলার যায়গায় নিয়ে যাবে, তাদের খাবার এবং চিকিৎসা দেবে। এর মূল স্পন্সর আমেরিকান দুতাবাস এবং সহায়তা করেছে এয়ারটেল, পিজ্জা হাট, কেএফসি, ফারইস্ট লি: ওয়ান্ডারল্যান্ড, টিটিএল এবং অন্যান্য সংস্থা। অনেক প্রতিথযশা যেমন জাফর ইকবাল স্যারও তাদের উৎসাহিত করেছেন ( এবং তার বিরুদ্ধে ফতোয়া দেবার ধৃষ্টতা পেয়েছে ছাগুরা)। জাগো বাংলাদেশ ২০০৭ সাল থেকেই ইউনিভার্সাল চিলড্রেনস ডে পালন করে আসছে।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশী যুব্ক করভি রক্ষান্দ ধ্রুবের গল্প স্বপ্নের মতন, অন্তত দেশে বিদেশে সেভাবেই প্রচারিত। বিলেত থেকে ২১ বছর বয়সে আইনে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফেরে ধ্রুব। কথা ছিল পারিবারিক ব্যবসা সামলাবে সে, কিন্তু মাথায় ভুত চাপল পথশিশুদের জন্যে স্কুল করবে সে। ২০০৭ সালের এপ্রিল মাসে রায়ের বাজারে বন্ধুদের সাহায্যে একটি রুম ভাড়া নেয় জাগো এবং একটি ছোট ইংরেজী স্কুল খোলে যেখানে ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের এডএক্সেল কারিকুলামে পড়ানো হয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি মেলে খাবার ও চিকিৎসা। বাড়ি যাবার সময় আবার আধা কেজি চালও পায়। ধ্রুব করিৎকর্মা ছেলে, তার যোগাযোগ, সামাজিক মর্যাদা ইত্যাদি কাজে লাগিয়ে দেশী-বিদেশী সাহায্য যোগাড় করে স্কুলটি এগিয়ে নেয়। এর জন্যে আকর্ষনীয় প্রেজেন্টেশন, ভিডিও ও নানা ক্যাম্পেইনের উদ্যোগ নেয়।

বর্তমানে এই বিল্ডিং এর দুই তলা জুড়ে ৩৬০ জন করে দুই শিফটে ৭২০ জন পথশিশু শিক্ষা নেয়। তাদের ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ অন্যান্য কয়েকটি শহরে আরও গুটি কয়েক ছোট স্কুল আছে। ইতিমধ্যে দেশী ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছে ধ্রুব। এছাড়াও দ্যা ঢাকা প্রজেক্ট নামে আরেকটি স্কুল আছে যেখানে বিশেষ ভাবে এমিরেটস এর বিমানবালাদের অর্থায়নে বাংলা ও ইংরেজী মাধ্যমে পড়ানো হয়।

দুবছর আগে বাড়ি থেকে তাকে জানিয়ে দেয়া হয়, বেছে নাও - পারিবারিক ব্যবসা না তোমার খামখেয়ালি। ধ্রুব বাড়ি থেকে বের হয়ে স্কুলের একটি রুমে আশ্রয় নিয়ে বলে দিনের অধিকাংশ সময়তো এখানেই থাকি, নাহয় আরেকটু থাকলাম। জাগো বাংলাদেশে আরও বিভিন্ন সামাজিক কাজের সাথে জড়িত - তাদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী

ইউনিভার্সাল চিলড্রেনস ডের ২০১০ সালের অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০০ স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেয়। এইসব স্বেচ্ছসেবকদের আনুষ্ঠানিক কাঠামো দিতে অঙ্গসংস্থা ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ গঠিত হয় কাকরাইলে এবছর আমেরিকান দুতাবাসের সহযোগীতায়। উদ্দেশ্য আগামী ২ বছরের মধ্যে ২১টি স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরি করা। তাদের চুড়ান্ত লক্ষ্য ৬৪টি জেলায় স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরি করা। তাদের কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সামাজিক মিডিয়ার ব্যবহার - আপনি যোগ দিতে চান? ফেসবুক লগিন ব্যবহার করে যোগ দিতে পারেন। ফেসবুকে তাদের স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা ৬০০০ এর উপরে। এবারের ইউনিভার্সাল চিলড্রেনস ডে উপলক্ষ্যে ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ বেশ কটি ওয়ার্কশপের আয়োজন করে দেশজুড়ে -চট্টগ্রাম, ঢাকার আইএসডি, সেইন্ট যোসেফ ইত্যাদি নামকরা স্কুল ছাড়াও ওয়ান্ডারল্যান্ডে ছিল এইসব আয়োজন। নয়নকাড়া ভিডিও এবং ছবি ফেইসবুক ও ইউটিউবে শেয়ার করা হয়েছে এবং আরও ছাত্রছাত্রী উদ্বুদ্ধ হয়েছে। আমি কেন সেই কিশোরীকে সাহায্য করলাম সেটি এখন খোলাসা হল। এটি ছিল পূর্ব প্রস্তুতি নেয়া ইভেন্ট এবং এতে একটি স্টানিং ইফেক্ট ছিল। এতজনের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণের পেছনে সামাজিক মিডিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। টুইটারের মাধ্যমে জানা যায় যে ঢাকার উত্তরাংশে পুলিশ গতকাল তাদের কার্যক্রমে বাধা দেয় এবং ধ্রুব গুলশান থানায় গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

আজকে অরিত্রের লেখায় জাগো বাংলাদেশের পক্ষে বিপক্ষে অনেক কথা এসেছে। অনেকে স্বেচ্ছাসেবকদের পোষাক নিয়ে আপত্তি করেছেন (সাবিহ ওমর ভালো জবাব দিয়েছেন তাদের)। অনেকে কত টাকা উঠেছে তার হিসেব চা্চ্ছেন। অনেক স্বেচ্ছাসেবককে টিশার্ট পরিহিত অবস্থায় শিশা বারে দেখা গেছে সেসব ছবি এসেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই সবই কিন্তু বিভিন্ন ব্লগে আসার সাথে সাথে তাদের ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট হয়ে যাচ্ছে এবং জবাব চাচ্ছে অনেকে। আগ্রহীরা চাইলে ধ্রুব, জাগো ফাউন্ডেশন এবং ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ ফেসবুক পেইজে এইসব নিয়ে আলোচনা দেখতে পারেন। সামাজিক মিডিয়ার সুবিধাটা এইখানে - পত্রিকার মত একপেশে রিপোর্ট না। জবাবদিহীতার আশা করা যায়।

এইসব স্বেচ্ছাসেবক দেশের দুর্নীতিগ্রস্ত সমাজের অন্তর্গত - কাজেই গুটিকয়েকের ব্যক্তিগত দুর্নীতিকে জেনেরালাইজ করা হয়ত ঠিক হবে না। ২০১০ সালে ৬ ঘন্টায় তোলা হয়েছিল ২৪ লাখ টাকা, এবার শোনা যাচ্ছে ৩৮ লাখ টাকার কথা - জাগো বাংলাদেশ তাদের আয় ব্যয়ের রিপোর্ট প্রদানে স্বচ্ছ হবেন এ আশা রইল - না হলে সবাই যা বোঝার বুঝে যাবেন।

ধ্রুবর ফেইসবুক স্ট্যাটাস থেকে একটি অংশ তুলে ধরার লোভ সামলাতে পারছি না:

One parent of a volunteer complained:

I can't find a parking lot at JAAGO School in Karail. Can you please find me a parking lot and please do make a school with parking lot next time?

Korvi Rakshand answered:
The kids who comes to the JAAGO School don't have cars. Actually, they don't have 3 meals a day. Right now, JAAGO is trying to arrange education and food for them. Once they study, become rich and can buy cars, we will definitely relocate the school which will have a parking lot and most probably a Helipad also.

এই প্রশ্নোত্তর পর্ব দিয়ে বোঝা যায় যে জাগোকে অনেক প্রতিবন্ধকতার মোকাবেলা করতে হয়েছে বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এতজন স্বেচ্ছাসেবকদের একত্রিত করতে। তবে তাদের জন্যেই দামী স্কুলের এইসব উচ্চবিত্ত ঘরের স্বেচ্ছাসেবকরা যাদের অনেকে আদর করে ফার্মের মুরগি বলে ডাকে তারা এই প্রথমবার অ্যাক্টিভিজমের স্বাদ পাচ্ছে। আমেরিকান দুতাবাসের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠান বলে হয়ত তাদের পিতামাতা তাদের রাস্তায় ছেড়েছে। তারা ভবিষ্যৎে দেশের সংকটময় মুহূর্তগুলোতে এইভাবে নেমে আসবে কিনা এবং কর্পোরেট বেনিয়া গন্ধ ছাড়া উদ্যোগগুলোতে তাদের অংশগ্রহণ কেমন সেটা দেখার আকাঙ্খা রইল। তারাও দেশেরই অংশ এবং আমরা শ্রেণীভেদ করে তাদের যেন দুরে না ঠেলি। স্বেচ্ছাসেবকতা করা তাদেরও অধিকার এবং দেখা যাক তেল গ্যাস রক্ষার মত বা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এর মত জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে তাদের ভূমিকা কেমন থাকে।

এখানে উল্লেখযোগ্য গতকালের আয়োজনে আলোকচিত্রে স্বেচ্ছাসেবা দিয়ে সহায়তা করেছে থ্রু দ্যা লেন্স (টিটিএল) নামক অ্যামেচার ফটোগ্রাফারদের সংগঠন (আমার কয়েক বন্ধুও আছে সেখানে)। জাতীয় অন্যান্য অ্যাক্টিভিজমে তাদের সচরাচর দেখা যায় না। ভবিষ্যৎে কি তাদের পাওয়া যাবে?

জাগো বাংলাদেশ আর ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশের উদ্দেশ্য মহৎ হলেও আমেরিকান সরকারের ভূমিকা এখানে প্রশ্নবিদ্ধ। ৬৪টি জেলায় স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক হলে তাদের কি লাভ? বিষয়টা এতটা জটিল যে বলতে হয় খুব খেয়াল কৈরা।

(ছবি: গতকাল সিলেটে ড: জাফর ইকবাল ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশের হলুদ টি শার্ট পরা। সৌজন্যে জাগো বাংলাদেশ ও টিটিএল)

ছবি: 
10/07/2007 - 12:15am

মন্তব্য

তৌফিক জোয়ার্দার এর ছবি

জাগো'র সাথে আমার কোনকালেই কোন সংশ্লিষ্টতা ছিলনা। করভিকে চিনি আমার সংগঠন 'United Nations Youth and Students Association of Bangladesh' (ইউনিস্যাব) করার সুবাদে; অন্যান্য ইউথ অর্গানাইজেশনের খবরাখবর রাখতে হয় বলে। কিন্তু; আজকে দূর প্রবাসে বসে সামহয়্যারইনব্লগে যখন স্বদেশের ঘ্রাণ নেয়ার জন্য বরাবরের মত লগইন করেছি, দেখি কটুকথার দুর্গন্ধে ভেসে যাচ্ছে পুরো ব্লগ। কেউ প্রশ্ন করেছে- এত অল্প বয়সে এমন সংগঠন গড়া যায় কিনা। কেউ স্কুলের কিশোরীদের ছবি দিয়ে অশ্লীল মন্তব্য জুড়ে দিয়েছে। কেউ শিশার ছবি দিয়ে বলছে জাগোর ছেলে মেয়েরা গাঁজা খাচ্ছে। কেউবা তাদের গালি দিচ্ছে ইয়াবাসেবী হিসেবে। মনটা এত বিক্ষিপ্ত হল যে পড়াতে মন দিতে পারলামনা আর। করভিকে এত বছর পর ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালাম; মেসেজে ওকে শান্তনা দিলাম এই বলে যে- 'যখন কারো কাজ কোন ইম্প্যাক্ট সৃষ্টি করে তখনই সেটা নিয়ে নানা কথা হয়। তোমার প্রোগ্রাম নিয়ে এত কথা হচ্ছে- তার অর্থই হল এটা একটা ইম্প্যাক্ট তৈরি করতে পেরেছে।'। ওর জবাব পেলাম প্রায় সাথে সাথেই। জবাব পেলেই মনখারাপ ভাবটা গেলনা। ভাবলাম দেখি 'সচলায়তনে' এ সম্পর্কে কিছু পাই কিনা। আপনার লেখাটা এতটা নির্মোহ বিশ্লষণে ঋদ্ধ যে সত্যিই মনটা ভাল হয়ে গেল। এখন গিয়ে পড়তে বসা যাবে। হাসি

স্পর্শ এর ছবি

এই লিঙ্কটা এখানে প্রাসঙ্গিক...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

তিথীডোর এর ছবি

খুব সকালে অফিসে যাওয়ার সময় চোখে পড়েছিলো সেদিন, হলুদ টিশার্ট পরা বেশ কয়েকজন ছেলেমেয়ে রাস্তায় হাসিমুখে দাড়িয়ে ছবি তুলছে। হাতে স্টিকার..ফুল।
তখন ঠিক জানতাম না, কেন?

এই আয়োজনের ফলে একটি পথশিশুও যদি একবেলা খাবার পায়, মন্দ কী? হাসি

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

রাইহান এর ছবি

এই আয়োজনের ফলে একটি পথশিশুও যদি একবেলা খাবার পায়, মন্দ কী?

আমার মনে এটা একটা ফালতু যুক্তি। একজন ব্যক্তিগত ভাবে কিছু ফানের পাশাপাশি কিছুটা জনসেবা করে কারো একবেলার খাবারের ব্যবস্থা করলে হয়ত কিছু বলার নাই, কিন্তু এত খরচ,এত জাকজমকের পর একটা সংগঠনের কার্যক্রম যদি মাত্র একবেলা খাবার যোগানোর মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে তবে সেটা অবশ্যই প্রসংশনীয় নয়।

শিশিরকণা এর ছবি

এত লেখা লিখে পড়ে ফেললেন, আর এইটুকু একটা বাক্য চোখে পড়ল না যে, জাগো এই টাকা দিয়ে শুধু এক'বেলা খাবার না, একটা স্কুল চালাচ্ছে, প্রতিদিন আধা কেজি চাল দিচ্ছে যাতে সেই বাচ্চাগুলো নিয়মিত খাবার পায়। আপনাদের ফিল্টার করা চোখ দিয়ে খালি খারাপ জিনিষ গুলাই চোখে পড়ে। কেবল সন্দেহই করেন। সন্দেহ দূর করার জন্য কিছু খোজ খবর করার চেষ্টাও করতে পারেন না? আর খোজ খবর করলেও করেন শর্মিলা বসু স্টাইলে।
আপনাদের মন কবে পরিষ্কার হবে? কিভাবে পরিষ্কার হবে? বলেন তো ?

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

১. আপনাদের ফিল্টার করা চোখ দিয়ে খালি খারাপ জিনিষ গুলাই চোখে পড়ে।
২. কেবল সন্দেহই করেন।
৩. সন্দেহ দূর করার জন্য কিছু খোজ খবর করার চেষ্টাও করতে পারেন না?
৪. আর খোজ খবর করলেও করেন শর্মিলা বসু স্টাইলে।
৫. আপনাদের মন কবে পরিষ্কার হবে?
৬. কিভাবে পরিষ্কার হবে? বলেন তো ?

সামুতে কিছু লেখা আসে মাঝে মধ্যে! আমার বন্ধুরা কখনো সেসব "নির্মল বিনোদনের' জন্য শেয়ার করেন বলে চোখে পড়েছে! একবার পড়েছিলাম একজন আবিষ্কার করেছে জ্বীনেরা অ্যান্টিম্যাটার দিয়ে তৈরি! যেই সেই লেখার সমালোচনা করেছে (সমালোচকদের বোধ দেখেও আমি অবাক!) তাদেরকেই লেখক বলেছে, "আল্লাহ আপনাকে বিজ্ঞান বোঝার তৌফিক দিন'। সে এক বিরাট বিনোদন! আমার মন বিক্ষিপ্ত থাকলে মাঝে মধ্যে গিয়ে সেসব পড়ে আসি!

দোয়া করেন, আমাদের মন পরিষ্কার হোক!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

রাইহান এর ছবি

জাগো'র সমালোচনাতে আমি যাই নি, এমন কি এই লেখার সকল যুক্তিখন্ডন ও আমার উদ্দেশ্য ছিল না। কেউ কেউ শুধু একবেলা খাবারের দোহাই দিয়ে জাগো'র মহত্ত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিলেন, সেজন্য এই কথাটা বললাম।

আমি যে শুধুমাত্র একটি পয়েন্টে কথা বলছি সেটা কি আমার কমেন্ট টা থেকে বোঝা যায় না?

অতিথি অন্যকেউ এর ছবি

চমৎকার একটা লেখা, রেজওয়ান। আপনার বিশ্লেষণ ভালো লাগলো।

সোহেল এর ছবি

আমি নিশ্চিত না, আপনি কি এদের কথাই বলছেন? এই link এ একটা ছবি আছে, আমি Paste করতে পারলাম না।
http://www.facebook.com/photo.php?fbid=183244261760955&set=a.112792445472804.26447.112791575472891&type=1&theater

রেজওয়ান এর ছবি

এই ছবিতে আপনার গাত্র দাহ হচ্ছে কেন? শিশা বা হুক্কা কি বেশরিয়তি কিছু? ওতে তো তামাক ছাড়া কিছু থাকে না। আপনার দাদা নানার বয়সীরা খায়নি এদেশে? যতক্ষণ না প্রমান আনছেন যে তারা দানের পয়সা খরচ করে এসব করছে (কেন তাদের নিজের পয়সা থাকতে পারে না?) ততক্ষণ আপনার অনুমান অন্যের উপর চাপাবেন না আশা করি। ধন্যবাদ।

সদানন্দ ঘরামী এর ছবি

আপনি "ওনার গাত্রদাহ হচ্ছে" এই অনুমান ওনার ওপর চাপালেন কেন? ওনার মন্তব্যে তো ছবির ব্যাপারে ওনার কোন মতামত দেখলাম না।

পথের ক্লান্তি এর ছবি

ভাল কাজের সমালোচনা এদেশে হবেই।

নাহিদ তানভীর খান এর ছবি

'জাগো'র কার্যক্রম নিয়ে গতকাল বিভিন্ন ব্লগ এ প্রচুর সমালোচনা দেখলাম। আমিও বেশ সন্দিহান হয়ে পরেছিলাম। ভাবলাম একটু খোজ নিতে হয়। একেবারে ব্যর্থ হইনি। পক্ষে বিপক্ষে জল্পনা-কল্পনার কমতি নেই। তবু আমি এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই।

রেজওয়ান এর ছবি

ঠুঠো জগন্নাথ হয়ে বসে না থেকে উন্নয়নের জন্যে যে কোন উদ্যোগই কার্যকরী। সমস্যা হচ্ছে জল্পনাতেই সবাই ব্যস্ত - সুষ্ঠু সমালোচনায় নেই। যেমন একটি আলোচনায় উঠে আসলো না - যে পথশিশুদের ইংরেজী মিডিয়াম পড়িয়ে তাদের ভবিষ্যৎ কি হবে - বাংলা মিডিয়ায় নয় কেন?

তৌফিক জোয়ার্দার এর ছবি

১০০% সহমত। আলোচ্য বিষয় হওয়া উচিত ছিল এ ধরণের ইস্যু; আর আমরা আলোচনা করছি কি নিয়ে!

হিমু এর ছবি

একটা ছোটো অঙ্ক করি। জাগোর পথে নেমে চাঁদা সংগ্রহে প্রায় ৭০০০ স্বেচ্ছাসেবী অংশ নিয়েছে। জাগোর টার্গেট পথশিশুর সংখ্যা ধরলাম সারা দেশে ১০০০। সেক্ষেত্রে পথশিশু প্রতি ৭ জন ভলান্টিয়ার, যারা মোটামুটি সচ্ছল পরিবারের কিশোর-তরুণ বলেই বোঝা যায়, রয়েছে। একজন পথশিশুর শিক্ষার জন্যে ৭ জন ভলান্টিয়ারকে রাস্তায় নামতে হয় কেন? কিংবা মার্কিন দূতাবাস বা কেএফসিকেই বা কেন এইসব কাজ স্পনসর করতে হয়? ৭ জন ভলান্টিয়ার যদি তাদের একদিনের পকেট মানি চুপচাপ ঐ বাচ্চাদের জন্য দেয়, তাহলেই তো সেই পথশিশুর পড়ালেখার মাসের খরচ উঠে যাওয়ার কথা।

পথে নেমে শো-অফ করাটা হয়তো সংগঠনের প্রচারণা কার্যক্রমেরই অংশ। জাগো আরো বিস্তৃত হতে চায়, লোকজনের চোখে পড়তে চায়, হয়তো আরো বেশি পথশিশুর উপকারে আসতে চায়। কিন্তু সংগঠন যখন বিস্তৃত হয়, তখন তার কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ন্ত্রণও কঠিন হয়। জাগোর প্রতিষ্ঠাতার উদ্দেশ্যের সাথে তার তৃণমূল স্বেচ্ছাসেবীর আচরণ সবসময় সঙ্গতিপূর্ণ কি না, সেটা নিশ্চিত করা খুবই কঠিন কাজ, কিন্তু তার দায়ভার কিন্তু শেষ পর্যন্ত সংগঠনের ঘাড়ে গিয়েই চাপে। আমি দেখতে পাচ্ছি, জাগোর মাঠ পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবীদের কাজকর্মকে এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক পরিচিতি দিয়ে আড়াল বা হালাল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা সম্ভবত দীর্ঘমেয়াদে জাগোর জন্যই ক্ষতিকর হবে।

ষাটের দশকে নটরডেম কলেজকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান একইভাবে খুব তোল্লাই দিতো। তখন নটরডেমে সমাজের প্রভাবশালী বা আর্থিক দিক থেকে অগ্রসর মানুষের সন্তানরাই পড়ার সুযোগ পেতো। কলেজের মাঠে বেঞ্চ পেতে মার্কিন ছাত্রদের সাথে নটরডেমের ছেলেরা গড়গড়িয়ে ইংরেজিতে তর্ক-আড্ডার সেশন করতো, এমন সাদাকালো ছবি কলেজের স্মরণিকায় দেখেছি। ঐ সময় পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক পরিবেশ ছিলো মারাত্মক ভাইব্র্যান্ট, নটরডেম কলেজে এইসব মার্কিন প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য ছিলো, ছাত্রদের চলমান রাজনীতি থেকে একটু দূরে সরানো, এলিয়েনেট করা। বিশেষ লাভ হয়নি অবশ্য। জাগোর কাজকর্মের পেছনে মার্কিন দূতাবাসকে দেখে পুরনো কথা মনে পড়ে গেলো।

পথশিশুদের জন্যে ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা দেয়ার আইডিয়াটা প্রথমে যত মহৎ লাগে শুনতে, খতিয়ে চিন্তা করে দেখলে ততই নিরর্থক মনে হয়। আমাদের ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলাম যেখানে ভদ্দরলোকের ছেলেমেয়েদেরই দেশের ইতিহাস আর কৃষ্টি সম্পর্কে উদাসীন করে রাখে, সেখানে এই বাচ্চাগুলো, যাদের একটা বড় সময় কাটে রাস্তাঘাটে, তারা এই শিক্ষাকে নিজের জীবনের সাথে কীভাবে সংযুক্ত করবে? শিক্ষা তো সার্টিফিকেটের ব্যাপার না, পারিপার্শ্বিকের সাথে নিজের সংযোগরেখাগুলোকে জোরদার করার টুল। যে পথশিশুরা এডএক্সেলের কারিকুলামে পড়ছে লিখছে, তারা কি নিজেদের বর্তমান বা ভবিষ্যৎ জীবনে এ্‌ই শিক্ষার সুফল ঘরে তুলতে পারবে? আজ যদি জাগো ফাউণ্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতার মন পরিবর্তন হয়, তিনি যদি কোনো এক রোদেলা দুপুরে পারিবারিক ব্যবসা সামলাতে আবার ঘরে ফিরে যান, তাঁর স্কুলটি যদি লাটে ওঠে, ঐ পথশিশুরা কি তাদের ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা কনটিনিউ করার সুযোগ পাবে? কিংবা পরিবর্তে বাংলা মাধ্যমের শিক্ষায় মাঝপথে যোগ দিতে পারবে? আমরা বারবার স্বল্পমেয়াদে লাভের যুক্তি দিই, বলি, এই কার্যক্রমে অন্তত একটা বাচ্চা একদিন খেতে পারছে, একদিন পার্কে যেতে পারছে, এক বছর ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে, কিন্তু এই একদিনের হুজুগ কি সাস্টেইনেবেল কোনো ব্যবস্থা হতে পারে? কওমি মাদ্রাসাগুলোও তো একইভাবে কোনো জ্ঞানপাপীর পারলৌকিক রোজগারের চেষ্টার ফল, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা কি ঐ দরিদ্র শিশুদের জীবনে খুব কাজে আসে? আমরা আমাদের স্বেচ্ছাসেবাকাম চরিতার্থ করবো, আমাদের সোশ্যাল ওয়ার্ক ফেটিশ চরিতার্থ করবো এই পথশিশুদের শিখণ্ডী বানিয়ে?

ধনিক শ্রেণীর সন্তানদের আলাদা করে কেন স্বেচ্ছাসেবাকাম চরিতার্থ করতে হবে? তারা তাদের বাপচাচাদের ঠিকমতো ট্যাক্স দিতে উদ্বুদ্ধ করুক, ঘরে Giving tax for 'em means giving max for 'em! লেখা টিশার্ট পরে র‍্যালি করুক, প্রাইমারি এজুকেশনে বরাদ্দের জন্য সরকার প্রচুর টাকা পাবে, যেটা আসলেই কাজে লাগবে।

যারা জাগো ফাউণ্ডেশনে যোগ দিয়েছে, কাজ করছে, তাদের ঢালাওভাবে অপরাধী বা দুর্বৃত্ত হিসেবে ইঙ্গিত করার উদ্দেশ্য আমার নেই। কিন্তু তাদের এই প্রাণশক্তি, আর এই উৎসাহ দীর্ঘমেয়াদে ফল দিচ্ছে কি না, সেটা ভেবে দেখার দায়টিও তাদের, সেইসঙ্গে আমাদেরও। পথশিশুদের জন্যে একদিন রোদে দাঁড়িয়ে চাঁদা তোলার মধ্যেই যদি তাঁদের এই প্রাণশক্তি খরচ হয়, সেটা একটা দুঃখজনক অপব্যয় হবে। বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ, জাগোর এই সাত হাজার ভলান্টিয়ার আগামী ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা ভূমিকম্পের সময় কী করেন, জানার অপেক্ষায় থাকবো। ঐসব দুর্যোগে মার্কিন দূতাবাস, ওয়ান্ডারল্যান্ড বা কেএফসি পিৎজা হাট সাধারণত এগিয়ে আসে না, আশা করি তাঁরা এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই তখন বাংলাদেশের দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াবেন। যদি তাঁরা কেবল এবং কেবলমাত্র পথশিশুদের শিক্ষার ওপরই ফোকাস করতে চান, তাহলে আমি অনুরোধ করবো, তাঁরা যেন সেই শিক্ষার ব্যয় সংগ্রহের জন্যে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করেন, যাতে করে একটি পরিষ্কার আর্থিক নিরীক্ষার সুযোগ থাকে। একই সাথে, পথশিশুদের শিক্ষার মাধ্যম, কারিকুলাম এবং শিক্ষক নির্বাচন নিয়ে যেন তাঁরা দেশের শিক্ষাবিদদের পরামর্শ নেন। জাফর ইকবাল স্যার তো শিক্ষানীতি প্রণয়নের কাজে যুক্ত ছিলেন, তিনি জাগোর হলুদ গেঞ্জি যখন গায়ে দিয়েছেন, তাদের এই এডএক্সেল ভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ কার্যক্রম পথশিশুদের কাজে কতটুকু আর কীভাবে আসবে, সে ব্যাপারে নিশ্চয়ই কিছু বলতে পারবেন।

রেজওয়ান এর ছবি

চলুক

ষাটের দশকে নটরডেম কলেজকে আমেরিকা সরকার পৃষ্ঠপোষকতা করতো - এই ব্যাপারটি জানা ছিল না। আসলে আমার মতে জাগোর এই ছেলেমেয়েরা হয়ত জানে না তারা কারও ক্রীড়ানক হয়ে যাচ্ছে্। আমি ইন্দোনেশিয়াতে দেখেছিলাম ইউএসএইডের ফান্ডে করা পলিটিকাল ব্লগিং প্লাটফর্ম - বাংলাদেশে ভবিষ্যতে হবে - কেননা ব্লগে-ফেসবুকে সবাই খোঁচাখুচি করে। তাদের ও তো আয়ত্বে রাখতে হবে।

আউটসাইডার এর ছবি

উত্তম জাঝা!

কল্যাণF এর ছবি

গুরু গুরু

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

আমরা আমাদের স্বেচ্ছাসেবাকাম চরিতার্থ করবো, আমাদের সোশ্যাল ওয়ার্ক ফেটিশ চরিতার্থ করবো এই পথশিশুদের শিখণ্ডী বানিয়ে?

চলুক

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

স্পর্শ এর ছবি

আসলে জাগো যে স্কুল চালায়। সেটা ওদের বর্ণনায় বেশ ‘থরো’ বলে মনে হয়েছে। বাচ্চাদের চিকিৎসা, তাদের পরিবারের কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে, তাদের কাপড় ধোয়ার সাবানও দেওয়া হয়। এ ধরনের কার্যক্রম রাতারাতি বিরাট আকারে শুরু করা যায় না। আর এই ৭০০০ ভলেন্টিয়ারও ওসব কর্মকান্ডে জড়িত নয়। ক্ষুদ্র একটা ‘অতি-ডেডিকেটেড’ সাবসেটই জড়িত। যারা প্রায় ৩৬০ জন শিশুকে ও তাদের পরিবারদের শিক্ষা ও অন্যান্য সুবিধা যোগাচ্ছে। বাকিরা স্রেফ এই দিবস উজ্জাপনের ব্যাপারে ভলেন্টিয়ার। তাই জাগোর ‘মূল কার্যক্রম’ আর এই ‘শিশুদিবস উজ্জাপন’ এই দুইটাকে পৃথক নিক্তিতে বিচার করতে হবে। দুটোকে রিলেটেড ভাবলেও একেবারে একই ব্যাপার হিসাবে দেখা ঠিক না।

৭০০০ ছেলেমেয়েই (তা তারা যে ব্যাকগ্রাউন্ডেরই হোক) পথশিশুদের জন্য প্রতিদিন ক্লাস নেবে। বা প্রতিদিন কিছু করবে তেমন কল্পনা করা বা এক্সপেক্ট করা অন্তত এই মূহুর্তে বাস্তবসম্মত নয়। কিন্তু তারা সবাই এই দিবস উপলক্ষে এই প্রয়াসের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করছে। এইটা বড় ব্যাপার। ধীরে ধীরে এই একাত্মতার মাত্রা আরো বাড়বে এমন একটা আশা আমরা করতেই পারি।

“ধনিক শ্রেণীর সন্তানদের আলাদা করে কেন স্বেচ্ছাসেবাকাম চরিতার্থ করতে হবে? তারা তাদের বাপচাচাদের ঠিকমতো ট্যাক্স দিতে উদ্বুদ্ধ করুক”

এমন কিছু করার জন্য ভারতীয় কিছু বিজ্ঞাপন দেখেছি। আমাদের দেশেও হতে পারে। আপনি, আমি বা অন্য কেউ শুরু করেই ফেলি না এধরনের সচেতনতা সৃষ্টির একটা প্রয়াস! খুবই ভালো হবে তাহলে। কিন্তু ‘কেউ’ একটা কিছু করার চেষ্টা করছে বলে, ‘সে’ কেন অন্যটা করছে না? (বিশেষকরে ভলেন্টিয়ারি কার্যক্রম নিয়ে) প্রশ্নরূপে এমন দাবী করা সঠিক বলে মনে করি না। বরং, ওরা ওটা করছে, কিন্তু এটাতো করতে পারছে না(বা করছে না)। দেখি আমরা এটা করে ফেলি! এমন চিন্তা নিয়ে কিছু করাটাই এগিয়ে যাওয়ার একটা পথ হতে পারে। আর, কেউ যেমন ইচ্ছা করে দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয় না, তেমনই ইচ্ছা করে ধনী বা মধ্যবিত্ত পরিবারেও জন্মনেয় না। তাই বলে তাদেরকে স্রেফ কোনো এক প্রকারের কাজ করতে হবে। তেমন ভাবাও ঠিক নয়।

“কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা কি ঐ দরিদ্র শিশুদের জীবনে খুব কাজে আসে?”

আর ‘কাওমি মাদ্রাসার’ সঙ্গে স্রেফ ‘ইংরেজী ভাষাটুকু’ শিক্ষারই একটা বিরাট ব্যবহারিক পার্থক্য আছে। এই বিশ্বে কর্মক্ষেত্রে ইংরেজী জানা থাকলে আপনি লাভবান হবেনই। আর জাগোর স্কুলে তো শুধু মাত্র ইংরেজী সেখানো হচ্ছে না। তাই আধুনিক শিক্ষার সাথে কাওমি শিক্ষার তুলোনাটা এত সহজে আমি টানতে পারছি না।

আর এমনতো নয়, যে এই শিশুরা বাংলাভাষায় শিক্ষিত হয়ে উঠছিলো, এরা গিয়ে তাদের টেনে এনে ইংরেজী শেখাচ্ছে জোর করে। এরা স্রেফ নিজেদের ‘ফিল্ড অফ এক্সপার্টিজ’ অনুযায়ী একেবারে সুবিধাবঞ্চিত কিছু শিশুদের নিয়ে কাজ করার বা সমাজে অবদান রাখার চেষ্টা করছে। আপনার বা অন্য কারো যদি মনে হয় এদের কারিকুলামে হয়তো দেশের ইতিহাস/কৃষ্টি/কালচার তেমনভাবে উঠে আসছে না। তাহলে আপনি বা সেই ব্যক্তি নিজেই কিন্তু এগিয়ে যেতে পারেন। প্লাটফর্মটাতো ভলেন্টিয়ারদের জন্য ওপেনই মনে হলো। আপনি গিয়ে হোন না ইতিহাস বা বাংলা-সংস্কৃতির শিক্ষক! সাদরেই গৃহীত হবেন মনে হয়! ওরা অমন করুক, ওরা তেমন না করু্‌ অংশগ্রহণ না করে বাইরে থেকে এসব বলাও তেমন কোনো কাজের কথা নয়। আর দেশীয় উৎসবগুলো ওরা বেশ ঘটা করেই পালন করে দেখেছি। একুশেফেব্রুয়ারীতে জাগোর পথশিশুদের (তাদের স্কুলে) করা অনুষ্ঠানের ভিডিও বা ছবি নেটে খুঁজে হয়তো পাওয়া যাবে।

কিছু একটা শুরু করা এবং সেটাতে একটা প্রাথমিক মোমেন্টাম অর্জন সহজ কিছু নয়। আমরা যারা সমাজে কখনও না কখনো অবদান রাখার ইচ্ছা পোষণ করি, তারা এ ধরনের প্রয়াস থেকে শিখতে পারি অনেক কিছুই। সে হিসাবে জাগো প্রসংশনীয় একটি উদ্যোগই।

আর ঘটা করে একটা উৎসব করায় দোষের কিছু দেখছি না। কিছু পথশিশু ভালো একটা দিন কাটালো। কিছু 'রাজশিশুও' ভালো একটা দিন কাটালো। ঐ টাকা দিয়ে ডাইরেক্ট কিছু করলে নিশ্চই লাভ হতো। কিন্তু এই যে সব শ্রেনীর শিশুরা রাস্তায় নেমে এলো। জগৎটাকে একে অপরের চোখে (কিছুটা হলেও) দেখার সুযোগ পেল। এর পরোক্ষ লাভও অনেক বেশিই। তাই পুরো ব্যাপারটাকে একেবার তুচ্ছ ভাবতে পারছি না।

সব শেষে, অভ্রর মেহেদী হাসান খানের বলা একটা কথাকে এখানে কোট করছি,
"There are so many people who will tell you that what you are doing is bullshit, yet nobody will point to the right direction. I'll rather vouch for your wrong deeds, because you tried, and inspired others to try again in another way." - Mehdi Hasan Khan


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

হিমু এর ছবি

জাগোর দুই কার্যক্রমকে আলাদা নিক্তিতে মাপলে জাগোর ওপরই অবিচার করা হবে, কারণ কার্যক্রম দুটিই তাদের নামে হচ্ছে। তারা একটির জন্য সাধুবাদ পেতে পারে, অন্যটির সমালোচনা নিতে তাহলে সমস্যা কোথায়?

পথশিশুদের জীবনে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা কতটুকু কাজে আসবে, তা নিয়ে আমি সন্দিহান। সংশ্লিষ্ট অন্য কার্যক্রমগুলো, যেভাবে দাবি করা হয়েছে সেভাবে চলে থাকলে নিশ্চয়ই প্রশংসনীয়। কিন্তু শিক্ষার ব্যাপারটা কেবল আগ্রহী ভলান্টিয়ারদের ফিল্ড অব এক্সপার্টিজ অনুগামী হলে মুশকিল। এ কারণেই আমাদের স্কুলগুলোতে একটা কারিকুলাম অনুসরণ করা হয়, যেটা শিক্ষানীতি প্রণেতাদের গবেষণা অনুযায়ী শিশুদের বাংলাদেশের সমাজের পরিচালনা আর বিকাশের জন্যে উপযোগী করে তুলতে পারে বলে ধরে নেয়া হয়। ধরা যাক কারিকুলামের কোনো গুরুত্ব নাই, আজকে আমি সমাজে অবদান রাখার তীব্র বাসনায় এক পথশিশুকে ধরে জার্মান ভাষা আর ইন্টেগ্রাল ক্যালকুলাস শেখানো শুরু করলে, সেটা তার কিছু কাজে আসবে হয়তো, কিন্তু তার প্রতিদিনের পরিপার্শ্বের সাথে নিজের সংযোগকে শিথিলই করবে। আজ আমি সমাজে অবদান রাখার জ্বরে ভুগে চলে গেলাম শিশুদের বাংলার কৃষ্টি শেখাতে, দুইদিন পর আমার উৎসাহ মরে গেলে, সেই শিশুদের শিক্ষাও কি আমার মত আরেকজন ভলান্টিয়ারের খামখেয়ালের অপেক্ষায় থাকবে না? আর দুইজন ভলান্টিয়ার কি একই জিনিস শেখাবে শিশুদের? কারিকুলাম তো এটাই ঠিক করে দেয়, কখন কী শেখানো হবে, কীভাবে শেখানো হবে। এরকম কিছু না থাকলে, সেটা শিক্ষাদান হয় না, শিক্ষা কার্নিভালের স্টল চালানো হয়। এডএক্সেলের শিক্ষাক্রম অনুসরণ করে পথশিশুরা তাদের প্রতিদিনের শ্রান্ত জীবনের সাথে নিজেকে কতটুকু মেলাতে পারবে?

মেহদীর কথা কোট করে আপনি সম্ভবত বলতে চাইছেন, আমি ঠিক ডিরেকশনটা বাতলে না দিয়ে বাকতাল্লা মেরে যাচ্ছি। আমার মন্তব্যের শেষেই অনুরোধ করেছি, জাগো যদি পথশিশুদের শিক্ষা নিয়ে আন্তরিক হয়, তাহলে যেন অন্তত কিছু জিনিস নিয়ে শিক্ষাবিদদের সাথে পরামর্শ করে। এটা যদি কারো বিচারে ঠিক ডিরেকশন না হয়, আমার করার তেমন কিছু থাকে না। ভলান্টিয়ারনির্ভর শিক্ষাদান একটা খাপছাড়া সিস্টেম, এর পেছনে উদ্দেশ্য যতই মহৎ হোক, এর ফল নিয়ে আমার সন্দেহ যাচ্ছে না। পথশিশুদের নিয়ে এটা বড় স্কেলে একটা এক্সপেরিমেন্ট মাত্র। জাগো ফাউন্ডেশনের কোনো ভলান্টিয়ার কি তার ছোটো ভাইবোনকে এই স্কুলে পড়াবেন? যদি না পড়ান, তাহলে একটু জানাবেন, কেন পড়াবেন না।

সমাজে অবদান রাখার জন্য মোমেন্টাম অর্জন অবশ্যই প্রশংসনীয়, কিন্তু খালি মোমেন্টাম অর্জিত হলেই কি চলবে? অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনাহীন মোমেন্টাস প্রপঞ্চগুলোর একটা ডাকনাম আছে, হাইপ। উট কোরবানিও বাংলাদেশে খুব মোমেন্টাম পেয়েছে, কিন্তু সমাজে কতটুকু অবদান রেখেছে, জানি না। হয়তো আমি এ প্রসঙ্গে খুব পেসিমিস্ট, কিন্তু এই সোশ্যাল ওয়ার্ক ফেটিশ জ্বরকে আমার হাইপ ছাড়া আর কিছু মনে হচ্ছে না। আমার মনে হওয়াটা অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ কিছুও নয়।

সমাজ পাল্টে দিতে চাওয়াই মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা। যারা সে চেষ্টা করেন, তারা অবশ্যই অনেক মানুষের সহযোগিতা আর অনেক মানুষের বৈরিতা অর্জন করেন। আমি জাগোর এই প্রচেষ্টাকে সহযোগী বা বৈরী, কোনো চোখেই দেখছি না, শুধু আনকনভিন্সড বীক্ষকে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরছি। এটা হয়তো তাঁদের কাজে লাগতে পারে।

স্পর্শ এর ছবি

আচ্ছা, 'শিক্ষা' সবারই কাজে লাগে। শিক্ষার মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ হলেও মূখ্য নয়। নইলে তো বাংলাদেশে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের উপস্থিতিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়! তাই, ইংরেজী ভাষার মাধ্যমে শিখলেও, এই পথশিশুরা যদি কিছু শেখে, সেটা একেবারে কিছু না শেখার চেয়ে অনেক ভালো! তাই "মোটেই কাজে লাগবে না"। এমন কিছু বলতে পারছি না।

"দুইদিন পর আমার উৎসাহ মরে গেলে, সেই শিশুদের শিক্ষাও কি আমার মত আরেকজন ভলান্টিয়ারের খামখেয়ালের অপেক্ষায় থাকবে না?"

দুইদিন পরে আপনার উৎসাহ, এমনকি আপনি নিজেও মরে জেতে পারেন। 'ভলেন্টীয়ারি বেইজড' কার্যক্রমের একটা বড় দুঃখ এখানেই। "কী-ফিগার" যদি মারা জান বা নিজেকে অপসারণ করেন তখন পুরো কার্যক্রমই অনেক সময় অনাথ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় থাকে। কিন্তু ভাবুন, আপনার মতো যদি আরো অনেকেই বাংলাকৃষ্টিকালচার ইতিহাস শেখাতে এগিয়ে আসে। তখন একক আপনি উৎসাহ হারালেন কি না, সেটার ইফেক্ট কমে যাবে। সিস্টেমটা 'রোবাস্ট' হয়ে যাবে বেশি মানুষের অংশগ্রহণেই।

আর এমনও হতে পারে, যে দুদিন পরে করভীর গেল উৎসাহ চলে। তখন এই পুরো কার্যক্রমই হয়তো টিকবে না।

বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্রের আবদুল্লাহ আবু সায়ীদকে যেমন হাহাকার করতে দেখি, দায়িত্ব তুলে দেওয়ার জন্য তার নিজের মত কাওকে এখনও খুঁজে পাননি বলে। ভলেন্টিয়ারি কার্যক্রম এর এই বেদনাটা থাকবেই।

"জাগো ফাউন্ডেশনের কোনো ভলান্টিয়ার কি তার ছোটো ভাইবোনকে এই স্কুলে পড়াবেন?"

এই প্রশ্নটাও কোথা থেকে আসছে আমি বুঝতে পারছি না। একটি সেবামূলসংগঠনের ইন্ট্রিগ্রেটেড একটা কার্যক্রম হচ্ছে এই স্কুল। এই স্কুলের শিশুদের মা দের শেলাইফড়ির কাজ শেখানো হয়, বাবাদের কর্মসংস্থানের জন্য ফ্রেমওয়ার্ক দেওয়া হয়। বাচ্চাদের দেওয়া হয় চিকিৎসা, আরো অনেক কিছু। এই প্রশ্নটির লাইন ধরে আপনার পরের প্রশ্ন হতে পারে, 'তারা তাদের নিজেদের মা কে এখানে শেলাইফড়ি শেখাবে কী না?' এমন।

ভুলটা কোথায় হচ্ছে ধরতে পারছেন কি? আমার এক বন্ধু সোমালিল্যান্ডে গেলো দেশটা স্বাধীন হবার পর পর। শিক্ষক হিসাবে। এর মানে এই না যে সে তার ছোটো ভাই বা বোনকে যুদ্ধবিদ্ধস্ত সোমালিল্যান্ডে নিয়ে সেই প্রতিষ্ঠানে পড়াতে চাইবে। তাতে তার আন্তরিকতা বা প্রচেষ্টা কি খাটো হলো কোনো অংশে?

ভলান্টিয়ারনির্ভর শিক্ষাদান একটা খাপছাড়া সিস্টেম, এর পেছনে উদ্দেশ্য যতই মহৎ হোক, এর ফল নিয়ে আমার সন্দেহ যাচ্ছে না

আবারও বলি, ভলেন্টিয়ার নির্ভর যেকোনো কার্যক্রম নিয়েই এই সন্দেহের অবকাশ আছে। ভলেন্টিয়ারদের মোরাল ডাউন হয়ে গেলে, বা খেয়াল পালটে গেলে প্রকল্প অনাথ হয়ে পড়ে। তার মানে এই না, যে ভলেন্টিয়ারি বেসিসে কোনো কার্যক্রম শুরু করা যাবে না! উইকিপিডিয়া, ওপেনসোর্স নেটওয়ার্ক, এধরনের এমন হাজারটা সফল উদাহরণ আছে!

বিকল্প কী কী করতে পারতো এরা? একটা গঠনমূলক তালিকা আসুন করে ফেলি। হাসি

কিন্তু এই সোশ্যাল ওয়ার্ক ফেটিশ জ্বরকে আমার হাইপ ছাড়া আর কিছু মনে হচ্ছে না

আমার নিজেরও এমন মনে হয় অনেক বিষয়েই। কিন্তু, এসব ব্যাপারে আগে থেকে বলার কোনো উপায় নেই। একমাত্র সময়ই বলতে পারবে এটা বিপ্লব নাকি হাইপ। 'জাগো' কিন্তু অনেক বছর ধরেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

আর নিক্তির ব্যাপারটা বলেছিলাম। কারণ অনেকেই পুরো ঘটনাটাকেই একদিনের সীমাবদ্ধ একটা কার্যক্রম হিসাবে দেখছে। এই পোস্টের অন্যান্য মন্তব্যে চোখ বুলালেই দেখতে পাবেন।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

হিমু এর ছবি

বুঝলাম, ভলান্টিয়াররা তাদের ভাইবোনকে এখানে পড়াবেন না। কভি নেহি। তাঁদের হয়তো পথশিশুদের জন্য আন্তরিকতা আছে, কিন্তু নিজেদের কাজে অতটুকু ভরসা নাই যে ঐ স্কুলে নিজেদের ভাইবোনকে পড়াবেন। ভালো। লঙ্গরখানায় কিন্তু খাবার দিলে, নিয়ম হচ্ছে এক হাতা খাবার আয়োজককে নিজে খেতে হয়। কওমী মাদ্রাসা খুলে পরকালে বাহাত্তরটা হুরের সাথে সঙ্গমের রাস্তা যারা প্রশস্ত করে, তারাও তাদের বাচ্চাকাচ্চাকে কওমী মাদ্রাসায় পড়ায় না। এখানেও একই মানসিকতার ভলান্টিয়ারদের মোচ্ছব, এটাই বুঝলাম।

শিক্ষার মাধ্যম ছাড়াও আরেকটা কথা বলেছিলাম, কারিকুলাম, সেটা আলোচনায় আসছে না। এডএক্সেলের কারিকুলামের সাথে পথশিশুরা নিজেদের প্রত্যেকদিনের জীবনকে রিলেট করতে পারবে কি না, এ ব্যাপারে কবি প্লাটিনামময় নিস্তব্ধতা অবলম্বন করছেন। বাংলাদেশে ইংরেজি মাধ্যমে যারা পড়ে, তারা তাদের জীবনাচরণের সাথে পাঠ্যক্রম আর শিক্ষাসূচিকে একাত্ম করতে পারে। পথশিশুরা কি পারবে? এ কথা সত্য, ঐ বাচ্চাগুলো হয়তো কোনো কিছু না শিখেই তাদের জীবন পার করে দিতে পারতো। তার মানে এ-ই না, তাদের নিয়ে একটা এক্সপেরিমেন্ট করে ফেলা যায়। শিক্ষাকে উইকি স্টাইলে চালাতে গেলে সেই সিস্টেমে নিজের ভাইবোনকেও ঢোকানোর মতো সিনারিও তৈরি করতে হবে। রবীন্দ্রনাথ যখন শান্তি নিকেতন খোলেন, নিজের পরিবারের চ্যাংড়াদের কিন্তু অন্য কোথাও পড়তে পাঠাননি।

আমাদের স্কুলে একটা কারিকুলাম থাকে, যাতে করে আমাদের শিক্ষকরা নিজেদের উৎসাহ আগ্রহ মোতাবেক বিষয়গুলোর নিজস্ব সংস্করণ পড়াতে না পারেন। সেরকম ঘটলে বাংলার ইতিহাস ছাগু ভলান্টিয়ার একরকম শেখাবে, বরাহশিকারী ভলান্টিয়ার শেখাবে আরেকরকম। শয়ে শয়ে লোক একটা সিস্টেমে ঢুকলেই সেটা রোবাস্ট হয়ে যায় না।

উইকিপিডিয়ার উদাহরণটা যখন এলোই, তখন উইকিপিডিয়ার "ইন্টেগ্রিটি" রক্ষার জন্য প্রশাসকদের কী পরিমাণ সময় আর উদ্যোগ ব্যয় করতে হয়, সেটাও বিবেচ্য। জাগোতে এই কাজটা কারা কীভাবে করে, বা আদৌ করে কি না, সেটা এই একদিনের আনন্দোৎসব দেখে অনুমান করা কি ঠিক হবে? অনেকে করছেন।

একদিনের সীমাবদ্ধ কার্যক্রম দিয়ে জাগো মানুষের চোখের সামনে আসছে। এভাবে মানুষের নজরে আসার সিদ্ধান্তটাও তাদের। কাজেই সেই একদিনের কার্যক্রমের দায় তারা নেবে না তো কারা নেবে?

"ভলান্টিয়ারি বেসিসে কার্যক্রম শুরু করা যাবে না" এরকম কোনো ফতোয়া দিইনি তো। কিন্তু "ভলান্টিয়ারি বেসিসে শুরু হলে সেটার সমালোচনা করা যাবে না", এমন একটা আন্ডারটোন পাচ্ছি আপনার মন্তব্যে। আমি নাচার।

বিকল্প কী করতে পারতো এরা, সেটার গঠনমূলক লিস্ট না করে, এখন যা করছে, তার একটু গঠনমূলক রিভিউ করতে পারেন। ভলান্টিয়াররা যখন নিজের ভাইবোনকে এই সমাজ বদলের টেস্টটিউবে ঢোকাতে নারাজ, নিশ্চয়ই কোনো গিয়ানজাম আছে এতে, নাকি?

স্পর্শ এর ছবি

। কিন্তু "ভলান্টিয়ারি বেসিসে শুরু হলে সেটার সমালোচনা করা যাবে না।এমন একটা আন্ডারটোন পাচ্ছি আপনার মন্তব্যে।

না এমন কিছুই নাই। আপনার মনে তেমন ছাপ এসে গেলে মুছে ফেলুন প্লিজ। হাসি

তবে ভলেন্টিয়ার বেসিসে কিছু হলেই সেইটার ভবিষ্যত অন্ধকার। তেমন একটা আন্ডারটোন আমিও পাচ্ছি আপনার বক্তব্যে।

আপনি যে অর্থে সমালোচনা করছেন। সেই অর্থে আপনার সাথে আলোচনা চালানো যায় বলেই এখানে আলোচনা চালাচ্ছি। কিন্তু সবাই 'সমালোচনা' শব্দটার একই অর্থ করেন না সেটা এই পোস্টের বাইরে আরো অনেক যায়গাতেই চোখে পড়ছে।

কারিকুলামের কথায় আসি। এক্সাক্টলি জানিনা। তবে একবার কথা হয়েছিলো করভীর সাথে। ওরা কারিকুলামকে শিক্ষার্থীরা যাতে এ থেকে সামাজিক/অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হতে পারে সেটা মাথায় রেখেইস সাজিয়েছে। ওদের সাথে যোগাযোগ করে (বা ওয়েবসাইট থেকে) কারিকুলাম চেয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবো। তারপর কারিকুলাম নিয়ে আলোচনা এগোবে। (আপনি হয়তো এমন বলেন নাই) কিন্তু অনেকেই 'ইংরেজীতে শেখালেই গেল গেল...' রব তুলছিলো। তাই 'মাধ্যম'-এর চেয়ে 'শিক্ষাটা' বড় সেটা বলতে চেয়েছিলাম। (যেহেতু আমাদের এই আলোচনার আরো পাঠক আছেন তাদের কথা ভেবেই)

আর, আমাদের দেশে ভকেশনাল ট্রেইনিং, বা কারিগরি ট্রেইনিং এর জন্য স্কুল/কলেজ ধরনের প্রতিষ্ঠান আছে। সরকারী বেসরকারী দুধরনেরই আছে মনে হয়। এর মানে এই না। যে সেগুলোর প্রতিষ্ঠাতারা তাদের নিজেদের সন্তানদেরও এখানে পড়ান।
বুয়েটে থাকতে, দেখতাম হলের ক্যান্টীনের ছেলেগুলোকে পড়ালেখা শেখানোর চেষ্টা করতো কিছু ছেলেমেয়ে। তাদেরও একটা সেবামূলক প্রতিষ্ঠানই ছিলো সেটা। এখনও আছে হয়তো। সেখানেও এই প্রশ্ন আসতে পারে যে তারা তাদের ছোটোভাইবোনকে কেন ওখানে পড়াচ্ছেন না?

এখানে সুবিধাবঞ্চিতদের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। আর (আমার মনে হচ্ছে) আপনি ভাবছেন 'কমিউনিজম ঘরনার' কিছু।

'ওরা ক্ষতিকর কিছু শেখাচ্ছে বলে নিজের ছোটোভাই বা বোনকে এখানে পড়াতে রাজি হবে না'। এমন আমি ভাবতে পারছি না। তবে আপনার স্বাধীনতা আছে তা ভেবে নেবার। আমি স্রেফ আমি কেন অন্যরকম ভাবছি সেটাই বলতে চেষ্টা করেছি।

ঐ বাচ্চাগুলো হয়তো কোনো কিছু না শিখেই তাদের জীবন পার করে দিতে পারতো। তার মানে এ-ই না, তাদের নিয়ে একটা এক্সপেরিমেন্ট করে ফেলা যায়।

আসলে একাডেমিক, বা কোনো বড় সংগঠনের গবেষণা শাখা যখন শিশুদের নিয়ে কোনো ধরনের গবেষণামূলক পাইলট প্রোজেক্ট করে তখন নানান রকম রিভিউইং এর মধ্যে দিয়ে যেতে হয় সেই পরিকল্পনাকে।

কিন্তু 'নবীন উদ্যোগ' বাই ডেভিনিশন এক ধরনের পরীক্ষাই। তাই নতুন কিছু করতে গেলে ওধরনের রিভিউ বোর্ড বাদ দিয়েই (অবশ্যই সাংগঠকদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা-বিশ্লেষণ হয়) করে ফেলে মানুষ। আর শিশুদের নাহয় দু-পাতা ইংরেজী বা 'ক্যালকুলাস অফ ভেরিয়েন্স' শিখিয়েই ফেললো ওরা। এর ফলে কি শিশুটি ক্ষতিগ্রস্থ হলো? রাস্তায় টোকাই হিসাবে ঘোরার চেয়ে, একটা স্কুলে সুন্দর কিছু সময় কাটালো। শিক্ষা, চিকিৎসা, কিছু খাদ্য, কিছু মানুষের ভালোবাসা পেলো। এই এক্সপেরিমেন্টটুকুকে আপনি কেন কোনো ধরনের 'ড্রাগ টেস্ট' বা 'ঔষধের পরীক্ষার' মত করে একই দাগে দেখছেন? আর কু-শিক্ষা ছাড়া কোনো শিক্ষাই বিফলে যায় না। বড়জোর, আপাত দৃষ্টিতে অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে।

যদি সন্দেহ হয় ওরা কু-শিক্ষা দিচ্ছে, তাহলে প্রমাণ সহ সে অভিযোগ করলেই হয়।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

হিমু এর ছবি

এই পোস্টের বাইরে আপনি কী দেখলেন, সেটা নিয়ে আমার সাথে কথা বলা নিরর্থক। আমি কেবল আমার নিজের লেখা আর মন্তব্যের দায় নিয়ে কথা বলতে পারি।

মাধ্যমের চেয়ে শিক্ষা বড়, সে কারণেই শিক্ষা নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করাও খানিকটা বিপদজনক। দেশে একমুখী শিক্ষা নামে এক ধর্মকাতর সিস্টেম চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছিলো, যতদূর জানি খুব কষ্টে সেটাকে ঠেকানো গিয়েছে। মাধ্যমের চেয়ে শিক্ষা বড় বলেই সম্ভবত।

আমি জাগোর চিকিৎসা, খাদ্য বা ভালোবাসা নিয়ে তো আপত্তি তুলছি না। বাচ্চাগুলো সুন্দর সময় কাটাচ্ছে, তাতেও আমার কোনো আপত্তি নেই। আমার একটাই আপত্তি, মাধ্যম আর কারিকুলামে। রেজওয়ান ভাই বলছেন, বাচ্চাদের পড়ানো হচ্ছে এডএক্সেলের কারিকুলামে। সেটা এই পথশিশুদের জন্য কতটা কার্যকর বা উপকারী, সেটা নিয়ে আমি সন্দিহান, এবং এ কারণেই আমার অনুরোধ ছিলো, এ নিয়ে শিক্ষাবিদদের সাথে পরামর্শ করার। ৭২০ জন পথশিশুকে পড়ানো হচ্ছে, তার মানে এটা ঢাকার যে কোনো বড় স্কুলের সমান। সেখানে কী পড়ানো হবে, সেটা কয়েকজন তরুণ ভলান্টিয়ার মিলে ঠিক করে বসে থাকবেন কেন, যখন তাঁরা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের সুবিধা নিতে পারেন? মার্কিন দূতাবাস আর কেএফসির সাথে যোগাযোগ করা গেলে, কয়েকজন শিক্ষাবিদের সাথে যোগাযোগ করতে সমস্যা কোথায়?

এই পয়েন্টটাকে আপনি ঠেলে একটা অভিযোগের আকার দিতে চাইছেন দেখলাম, যেটা আগেও বলেছি, আমার পর্যবেক্ষণমাত্র।

স্পর্শ এর ছবি

কারিকুলাম নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার ব্যাপারে যে কথাগুলো বললেন শুরুতে প্রিসাইজলি সেটুকু বললে এত কথা বাড়তো না। কারণ এই ব্যাপারটা যৌক্তিক। এবং সহমত।

কিন্তু আলোচনার বিস্তার বাড়ছিলো আপনার বলা, 'এসব না করে বাপ চাচাদের ট্যাক্স দিতে বলুক', 'সোস্যাল ওয়ার্ক ফেটিশ' , 'ভলেন্টিয়ার মরলে কী হাল হবে', 'ভাই-বোনকে কেন এই স্কুলেই পড়ানো হচ্ছেনা', 'এই এক্সপেরিমেন্ট করার অধিকার' 'আরো বড়ো ইস্যুতে এরা একাত্ম হবেন কি না'... ইত্যাদি নানান বিষয়ের অবতারনার আলোকেই।

আর কোনো কিছুকেই ঠেলে কোনো কিছুর আকার দিতে চাইনি। আমার কোন কথায় এমন মনে হলো বুঝতে পারছি না। আমি স্রেফ অপ্টিমিস্টিক দৃষ্টিকোন থেকে দেখার চেষ্টা করেছি তরুণদের একটা উদ্যোগকে। কারিকুলাম নিয়ে শিক্ষাবিদদের মতামত নেওয়া দরকার ছিলো। (ওরা নিয়েছে কি না জানিনা)এই খুঁত ধরে তারা কোনো ধরনের 'ফেটিস চরিতার্থ' করছে। এমন কিছু আপনি আমাকে কখনোই বলতে শুনবেন না।

ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি সমালোচনার ভাষা এমন হওয়া উচিত নয় যেটা মানুষকে হতোদ্যম করে দিতে পারে। কারণ হয়তো আপনি সঠিক। হয়তো উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কিছু একটা ভুল করেছে। ধরিয়ে দেওয়ায় এখন সে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু কটুবাক্যযোগে এমনকি সঠিক সমালোচনা প্রয়োগ করলেও তাকে গঠনমূলক সমালোচনা বলে না...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

হিমু এর ছবি

বাপচাচাদের ট্যাক্স দিতে বলায় এত গোস্বা করার কারণ কী, বুঝলাম না। হয়তো সবার বাপচাচাই ঠিকমতো ট্যাক্স দেয়, তারপরও যাদের বাপচাচা ঠিকমতো ট্যাক্স দেয় না, তারা ছেলেমেয়েদের ঠ্যালায় ট্যাক্স দেয়া শুরু করলে সরকারের হাতে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে সুবিধা হবে।

সোশ্যাল ওয়ার্ক ফেটিশ কি ভুল বললাম নাকি? সোশ্যাল ওয়ার্ক উদযাপন যখন সোশ্যাল ওয়ার্কের চেয়ে বড় এবং খরুচে হয়ে যায়, সেটাকে সোশাল ওয়ার্ক ফেটিশ চরিতার্থ করাই মনে হয়। পোভার্টি দূর করার উৎসবের উদযাপন যখন বিপুল খরচের মাধ্যমে হয়, মনে পড়ে যায় ভিয়েতনাম যুদ্ধকালে বিক্ষোভকারীদের প্ল্যাকার্ড, ফাইটিং ফর পিস ইজ লাইক ফাকিং ফর ভার্জিনিটি।

"ভলান্টিয়ার মরলে কী হাল হবে" এই জিনিসটা আমি একবারও বলিনি, বলেছি ভলান্টিয়ারের উৎসাহ মরে গেলে কী হবে, যেটাকে আপনি টেনে বলেছিলেন, "উৎসাহ কেন, আপনিও মরে যেতে পারেন।" আবার পড়ুন।

ভাইবোনকে এই স্কুলে কেন পড়াচ্ছে না, এই জিনিসটাকে এভাবে দেখুন, আপনি একটা জিনিস দাঁড় করিয়েছেন, সেটাকে শিক্ষাদান হিসেবে প্রোমোট করছেন এবং তার জন্যে ফান্ড তুলছেন। সেটা গরীবের বাচ্চার জন্যে যত কার্যকর, আপনার নিজের পরিবারের বাচ্চার জন্যেও সমান কার্যকর হওয়া উচিত। এমন না, আপনাকে নিজের বাচ্চা ওখানে পড়াতেই হবে, কিন্তু নিজের বাচ্চাকে ওরকম একটা সিস্টেমে পড়তে দিতে আপনি তৈরি কি না। যদি তৈরি না থাকেন, আপনার দাঁড় করানো জিনিসের ওপর আপনার নিজের অনাস্থা প্রকাশ পাবে। আমরা কয়েকজন মিলে সচলায়তন তৈরি করেছিলাম, আমরা যদি নিজেরা এখানে না লিখে অন্যত্র লিখতাম, তাহলে ব্যাপারটা যেমন দাঁড়াতো, তেমনি।

এক্সপেরিমেন্ট করার অধিকার নিয়ে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, আমি বারবার প্রশ্ন তুলবো। গরিবের বাচ্চাকে পড়াচ্ছি খাওয়াচ্ছি চিকিৎসা করাচ্ছি অতএব যেম্নে খুশি তেম্নে পড়াবো, এই ধারার চিন্তা আমার পছন্দ না। আমি এ কারণেই কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে। জাগো যদি পথশিশুদের এডএক্সেল ধরে পড়ায়, আমি এটাকে এই বাচ্চাদের নিয়ে একটা এক্সপেরিমেন্টই মনে করবো। জাফর ইকবাল স্যার তো গরিব বাচ্চাদের মগজ নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট নিয়ে একটা উপন্যাসই লিখে ফেলেছেন, উনি এ বিষয়ে ভবিষ্যতে কী বলবেন, সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। আর একটা প্রশ্ন প্রথম মন্তব্যে করেছিলাম, যদি কোনো কারণে এই কর্মসূচি থেমে যায়, বাচ্চাগুলো কি তাদের ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা চালিয়ে যেতে পারবে, নাকি মাঝপথে বাংলা মাধ্যমের লেখাপড়ায় যোগ দিতে পারবে? উত্তর আসেনি, এবার সময় পেলে দিতে পারেন।

আপনি বলেছিলেন, কুশিক্ষা দিচ্ছে এমন মনে হলে প্রমাণসহ অভিযোগ করলেই পারি। তখনই বুঝলাম, আপনি একটা পর্যবেক্ষণকে অভিযোগ উত্থাপন আকারে দেখার চেষ্টায় আছেন। সেটা দুইবার স্পষ্ট করেছি।

আপনি "ফেটিশ চরিতার্থ" নিয়ে কিছু বলেন কি বলেন না, সেটা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নাই।

গঠনমূলক সমালোচনা কাকে বলে...

স্পর্শ এর ছবি

বাপচাচাদের ট্যাক্স দিতে বলায় এত গোস্বা করার কারণ কী

না এতে গোস্বা করি নাই।
কিন্তু ধনীর ছেলেমেয়ে বলে অন্য কোনো স্বেচ্ছাসেবা করা যাবে না(শুরুতেই আপনার সমালোচনার ভাষায় যেটা 'স্বেচ্ছাসেবাকাম')। আগে বাপচাচাদের ট্যাক্স দিতে বলতে হবে এ কথাটা লঘু , তাই বলেছি।

আর ট্যাক্স দেওয়ার সময় যদি নির্দেশ করে দেওয়া যেত। (আমার দেওয়া ট্যাক্সটা শুধু প্রাইমারিশিক্ষা খাতেই বা অমুক-তমুক খাতে ব্যয় করতে হবে) তাইলে কতোই না ভালো হতো! কিন্তু সরকার কোন খাতে যে কতটাকা ব্যয় করে তা তো আর বুঝতে পারি না।

আবার ঐ যুক্তিতে কোনো এনজিওই তো চালাইতে দেওয়া ঠিক না। তারা যেসব মূলধন জোগাড় করে, সেগুলো নিয়ে মাঠে ঘাটে দৌড়াদৌড়ি করার বদলে, সংশ্লিষ্ঠ সরকারি প্রতিষ্ঠানে দিয়ে দিলেই হয়! তাইলে এই কথা জাগো ওয়ালাদের বলার সময় তাদের বাপ ধনী কি না সে প্রসঙ্গ তুলছি কেন?

আর শেষমেষ জাগো একটা এনজিওই। বাকি সব এনজিওকে যে ধরনের সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখি। জাগোকেও সে দৃষ্টির মধ্যে দিয়েই যেতে হবে। এবং সচেতন যে কেউ সেটা করবে নিশ্চই।

আর আপনার,

"আমি জাগোর এই প্রচেষ্টাকে সহযোগী বা বৈরী, কোনো চোখেই দেখছি না, শুধু আনকনভিন্সড বীক্ষকে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরছি।"

এ প্রচেষ্টার জন্য সাধুবাদ। কিন্তু সেটা করার সময় শুরুতেই যেসব শব্দচয়ন করেন। তাতে জাজমেন্টাল টোন কাটিয়ে উঠতে পারেন না। সেকারণেই গঠনমূলক সমালোচনার সংজ্ঞা নিয়ে কথা তুলতে হয়।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সজল এর ছবি

পুরো আলোচনা সম্পর্কে আসলে কোন মতামত দিচ্ছি না, নিজেই কনফিউজড বলে। শুধু ট্যাক্স দেয়ার প্রসঙ্গে আপনার একটা কথার টোনের সাথে একমত হতে পারলাম না (যদি ঠিক বুঝে থাকি)। আমাদের দেয়া ট্যাক্স সরকার নয় ছয় করতেই পারে, গত বছর বানানো রোড আইল্যান্ড ভেঙ্গে নতুন একটা বানাতে পারে, রাশিয়ার জাঙ্কইয়ার্ড থেকে একটা মিগ-২৯ ও কিনতে পারে। কিন্তু তাই বলে কিন্তু আমাদের ট্যাক্স না দেয়ার পক্ষে সেটা কোন অজুহাত হতে পারে না। সরকার নয়-ছয় করলেও কিন্তু ট্যাক্সের টাকার একটা অংশ শিক্ষা খাত বা প্রপার কোন পথে খরচ হয়, আমরা ট্যাক্স কম দিলে সেটাও কমে আসে। সরকারের ট্যাক্সের টাকা নয়ছয়ের প্রতিকার তাকে ঠিক পথে খরচ করতে বাধ্য করা, ট্যাক্স ফাঁকি দেয়া না।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

স্পর্শ এর ছবি

ট্যাক্স দেব না বলিনাই। বলেছি। ট্যাক্স দিচ্ছি। তাই স্বেচ্ছাসেবা করবো না। বা 'স্বেচ্ছাসেবাকাম' তোর করার কী দরকার? বাপকে ট্যাক্স দিতে বল। তাইলেই তো প্রাইমারি শিক্ষা ফুঁলে ফেঁপে ওঠে। এ ধরনের লঘু মতামতের ব্যাপারে। আমি ট্যাক্স দিচ্ছি বলেই কোনো একটা নির্দিষ্ট খাত এ প্রবৃদ্ধির জন্য নিজেও কিছু করতে পারবো না, হাতগুটিয়ে বসে থাকতে হবে, তা তো নয়।

আর সবাইকে ট্যাক্স দিতে উদবুদ্ধু করার ব্যাপারে আগের এক মন্তব্যে আমি নিজেও বলেছি।

পুরো আলোচনা ফলো না করে হঠাৎ মন্তব্য করা ঠিক নয়।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সজল এর ছবি

পুরো আলোচনা ফলো করেছি, তা নাহলে হঠাৎ করে এই নেস্টেড কমেন্টে চোখ পড়বে কেন? আর কমেন্ট করার আগেতো আমার কনটেক্সট আমি বলেই নিয়েছি। ঠিক হতো না যদি পুরো আলোচনা না বুঝে অথবা না পড়ে পুরো আলোচনা নিয়ে কমেন্ট করতাম।

আর ট্যাক্স দেওয়ার সময় যদি নির্দেশ করে দেওয়া যেত। (আমার দেওয়া ট্যাক্সটা শুধু প্রাইমারিশিক্ষা খাতেই বা অমুক-তমুক খাতে ব্যয় করতে হবে) তাইলে কতোই না ভালো হতো! কিন্তু সরকার কোন খাতে যে কতটাকা ব্যয় করে তা তো আর বুঝতে পারি না।

এইটুকু পড়ে আমার মনে হয়েছে, আপনি ট্যাক্স না দেয়ার ব্যাপারটাকে লঘু করে দেখানোর জন্য কিছু ইনডিরেক্ট কথা বলছেন। আমি যদি ভুল বুঝে থাকি সেটা সরাসরি বলতে পারেন। আর যদি আমি ঠিক বুঝে থাকি, তাহলে পুরো আলোচনা যা নিয়েই হোক না কেন, আমার কমেন্টকে আমি এখনো সাপোর্ট করছি।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

স্পর্শ এর ছবি

ঐ তো! পুরও আলোচনা চলছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে। তার মধ্যে একটা প্যারাগ্রাফ পড়েই একটা কিছু আপনার মনে হয়ে গেল। আর বললেন আরকি।

ট্যাক্স দেওয়ায় উদবুদ্ধু করা নিয়ে মতামত আগেই বলেছি। এখানে প্রসঙ্গ অন্যদিকে টানতে চাচ্ছি না।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সজল এর ছবি

আমার কোন অংশ নিয়ে মন্তব্য করতে ইচ্ছা করলো সেটাতো আমার উপরই নির্ভর করবে। এখন সেটা নিয়ে মন্তব্য করতে হলে যে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে চলে আসা প্রতিটা বিষয়ে মন্তব্য করতে হবে সেটা বুঝিনি। আমার মনে হচ্ছিলো, স্বেচ্ছাসেবার জন্য ট্যাক্স দেয়া পূর্ব শর্ত না, তা নাহলে প্রতিটা ভালো কাজের জন্য আরো অনেক ভালো কাজের একটা অসীমতক ডিপেনডেন্সী তৈরী হবে। কিন্তু সেটা বলতে গিয়ে ট্যাক্সের টাকা কোন খাতে খরচ হচ্ছে সেটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে কিনা এই প্রসঙ্গ আসবে কেন, এই খানেই আমার খটকা লাগে। তার এই কমেন্ট করা। কিন্তু আপনার এই কমেন্টের

তার মধ্যে একটা প্যারাগ্রাফ পড়েই একটা কিছু আপনার মনে হয়ে গেল। আর বললেন আরকি।

এই অংশটা পড়ে মনে হলো সীমিত বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আসলেই নাক গলানো উচিত হয়নি। যাকগে, বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত। আলোচনা প্রাসঙ্গিক থাকুক। ভালো থাকুন।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

স্পর্শ এর ছবি

শোনেন আপনাকে বুঝিয়ে বলি। কারণ আমার মনে হচ্ছে কী বলতে চেয়েছিলাম সেটা বলতে পারি নাই ঠিক মত। (হিমুভাই মনে হয় বুঝতো। একারণেই আমি আর হিমুভাই ছাড়াও যে আরো পাঠক আছেন এই আলোচনার সেই কথা বলেছিলাম এক মন্তব্যে। যেটা নিয়ে হিমুভাই মাথা ঘামাবেন না বলেছেন।)

আপনার কোট করা অংশ তার আগের পরের কন্টেক্সট মিলিয়ে বলতে চেয়েছি যে,

-ব্যক্তি হিসাবে আমি ট্যাক্স দিচ্ছি। আমার বাপচাচারা ট্যাক্স দিচ্ছে। মানেই যে প্রাইমারী শিক্ষা ফুলে ফেপে উঠবে সেই নিশ্চয়তা কেউ পাচ্ছি না। বর্তমান সরকার ব্যবস্থা সেই নিশ্চয়তা দিচ্ছেনা। অদূর ভবিষ্যতেও দেবে কি না জানি না। এমতাবস্থায়, কেউ যদি কিছু 'সেচ্ছাসেবা' করতে চায়। তখন, তাকে নিয়ে 'তোর এসব করার কী দরকার বাপকে ট্যাক্স দিতে বল'। এধরনের কথা বলা স্রেফ লঘু মন্তব্য। (বাপ-চাচারা ট্যাক্স নাদিলেও চলে এমন কিছুই বলিনাই)

বরং তারা সেচ্ছাসেবা হিসাবে যেটা করছে, সেটার কার্যকারিতা, বা মেথডলজি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা হতে পারে।

আর, প্রতিটা বিষয়ে আপনাকে বলতে হবে বলিনাই। বলেছি একটা চলমান আলোচনায় অংশগ্রহনের আগে কী নিয়ে কেন কীভাব আলোচনা হচ্ছে সে ধারনা পরিষ্কার না হলে। আলাদা থ্রেডে কথা বলাই শ্রেয়।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

হিমু এর ছবি

ধনীর ছেলেমেয়ে যদি দরিদ্রের সেবা করতে চায়, সবার আগে কি গরিব রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায় চোকানোটাই টপ প্রায়োরিটি হওয়ার কথা না? পনেরো কোটি লোকের দেশে মোটে আট লক্ষ নিবন্ধিত করদাতা, এই দেশে মন্ত্রী এমপিরাও আইন পাশ করার পর কায়দা করে কর না দিয়ে এক বছর কাটিয়ে দেয়, সবেধন নীলমণি নোবেলচি ড. ইউনূস তার নোবেল পুরস্কারের ওপর কর রেয়াতের জন্য আবেদন করেন, তারপরও আপনি বলবেন, আগে বাপচাচাদের ট্যাক্স দিতে বলা ঠিক না? আপনি আপনার স্কুলের ফি না দিয়ে ক্লাসমেটদের টিফিনের পয়সায় দাতব্যের ওম পোহাতে পারবেন? সেটা কি ঠিক?

ট্যাক্স না দেয়ার পক্ষে আপনার ওকালতিতে আমি মুগ্ধ। তবে আমরা এইসব বলে ট্যাক্স দেই না, সে কারণেই হয়তো ট্যাক্সের টাকা কীভাবে ব্যয় হয় তা নিয়ে আমরা জোর গলায় কিছু বলতে পারি না। আমাদের ট্যাক্সের টাকায় মন্ত্রীরা পালে পালে লোকজন নিয়ে বিদেশ সফরে যায়, আমরা কিছুই বলতে পারি না।

বেশ, বুঝলাম, ট্যাক্স না দিয়ে সেই টাকা আমরা নিজেদের তত্ত্বাবধানে পথশিশুদের শিক্ষার জন্য ব্যয় করবো, সেইসাথে চিলড্রেনস ডে সেলিব্রেট করা উপলক্ষ্যে গেঞ্জি ছাপাব, শিশা টানবো আর ব্যয়বহুল ডিনার সাঁটাবো। এতে করে ট্যাক্স না দেয়ার কারণে বেঁচে যাওয়া টাকার কিছু অংশ ট্রিকল ডাউন করে ঐ গরিবগুর্বোদের উপকারে আসবে। সরকারকে দিলে তো সরকার মেরেই দিতো। ভালো।

ট্যাক্স না দিয়ে এনজিও চালানো যায় কি? আমি জানি না ঠিক। আপনি মাঠেঘাটে দৌড়াদৌড়ি করে টাকা যোগাড় করছেন, খুবই ভালো, কিন্তু সেটা কি আপনাকে ট্যাক্স থেকে রেয়াত দেবে?

দয়া করে কথার মাঝখানে শব্দগুলো বোল্ড করে দিয়েন না। এতে মনে হয়, আপনি এই শব্দগুলো চিৎকার করে বলছেন, যেটা খুবই বিরক্তিকর। আমি মন্তব্য মন দিয়ে পড়ি, পড়ে তারপর প্রতিমন্তব্য করি, আপনি বোল্ড আন্ডারলাইন না করলেও আমি বুঝতে পারবো আপনি কীসের ওপর এমফ্যাসিস দিচ্ছেন।

এবার জাজমেন্টাল টোন নিয়ে ভবিষ্যতে প্রিচিং করার আগে, দুটো জিনিস দেখুন। আপনি জাগোমুগ্ধ, আমি নই। আমার চোখে জাগোর কাজের কিছু পদ্ধতিগত ত্রুটি ধরা পড়েছে, সেগুলো আমি বলেছি। মাখন মাখিয়ে বলতে পারতাম, কিন্তু প্রয়োজন বোধ করিনি। মাখন মাখিয়েও কিন্তু প্রচুর বাজে এবং জাজমেন্টাল কথা বলা যায়, এমনকি জাজমেন্টাল টোন লুকিয়েও। তাতে করে কিছু লোকের আরাম হয়। ঐসব লোকের আরাম নিয়েও আমার মাথাব্যথা নাই। আমার কাছে আপনার জাগোমুগ্ধতাকেও জাজমেন্টাল মনে হয়েছে, কিন্তু তাতে কি কিছু যায় আসে? শেষ পর্যন্ত তো যুক্তিই দিচ্ছি আমরা। আর জাজমেন্টাল টোন সম্পর্কে আরো জানতে নিচে সজলকে করা আপনার মন্তব্য দেখুন। ওখানে আপনি এক কথায় বলে দিয়েছেন, পুরো আলোচনা ফলো না করে মন্তব্য করা ঠিক না। এটা শুধু জাজমেন্টাল টোনই নয়, বরং একটা অভদ্র মন্তব্য। আপনার সাথে যিনি ব্লগিং করছেন, তার প্রতি আপনার তাচ্ছিল্যটাই প্রকাশ পেয়েছে কেবল।

এটাও লঘু মন্তব্য করে ফেললাম বোধহয়। আপনার কাছে মাঝেমধ্যে গুরু গুরু মন্তব্য করতে শিখতে আসবো। সময় দেবেন আশা করি।

স্পর্শ এর ছবি

কী আর বলবো।
জাগো মুগ্ধতা আমার মধ্যে নেই। কিন্তু সবাই মিলে যখন কুৎসিত বিষোদাগারে লিপ্ত হয় কোনো নতুন প্রয়াসের ব্যাপারে। তখন সে ব্যাপারে কিছুটা সরব হওয়ার দায়িত্ব বোধ করি।

আমি বলছি যেটা তা হলো,
আপনার চোখে কিছু পদ্ধতিগত ত্রুটি ধরাপড়েছে, অমনি সেই জাগোর মেয়েরা ফর্সা তারা টিশার্ট পড়ে টাইপ মন্তব্য যারা পুরো ইণ্টারনেট জুড়ে করছিলো (অনেকটা) তাদের সুরেই, 'সেচ্ছাসেবাকাম' টাইপ শব্দ উচ্চার শুরু করেন। এইটা করা যে ভুল সেটা আপনি স্বীকার করবেন না। আপনাকে স্বীকার করাতে আমি চাইও না।

আর মাঝেমধ্যে বোল্ড করে, ইটালিক করে, কোট করে দেওয়ার পরেও আপনি বুঝলেন যে আমি ট্যাক্স না দেওয়ার পক্ষে ওকালিতি করছি! তাহলে আমার আর বলার কী থাকে!!
আবার বোল্ড করে বলি,
আমি স্রেফ বলতে চেয়েছি, 'তোর স্বেচ্ছাসেবা করার কী দরকার, বাপকে ট্যাক্স দিতে বল!' এটাইপের কথা বলা লঘু। হ্যা নেক্সট টাইম পাবলিক প্লেসে এসব লঘু কথা না বলে একটু গুরু-গুরু করেই বলবেন। প্লিজ।

আর হ্যা, সেবামূলক কর্মকান্ড চালালে প্রতিষ্ঠান অনেক সময় 'কর ছাড়' পায়। এ তথ্যটা জানেন নিশ্চই। (যদিও এ প্রসঙ্গে আমি বলিনাই কিছু। বলার উদ্দেশ্যও নাই)

ভবিষ্যতেও অন্য যেকোনো বিষয়ে, আপনি সমালোচনা করবেন। কঠোর সমালোচনা করবেন। অবশ্যই করবেন। বস্তুনিষ্ট সমালোচনা করার, সেটার সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করার প্রয়োজন আছে। এবং সে দায়িত্ব আপনি বোধ করতেই পারেন। এবং হয়তো পদ্ধতিগত ত্রুটি সত্যিই আপনি বের করে ফেলবেন। কিন্তু সব ত্রুটি মানুষ ইচ্ছা করে করে না। কারো ত্রুটি ধরে ফেলার পর পরই যদি কুৎসিৎবাক্যবানে তাকে জর্জরিত করেন তাহলে। সেই সমালোচনা কাজের হয় না। ওধরনের সমালোচনা সম্পর্কে রুজভেল্টের (অনুবাদ উৎস)একটা কথা কোট করি।

"যারা সমালোচনা করছে তারা গুরুত্মপূর্ণ না। যারা আঙ্গুল উঁচু করে দেখিয়ে দিচ্ছে শক্ত মানুষটি কিভাবে হোঁচট খাচ্ছে তারাও গুরুত্মপূর্ণ না। যারা বাইরে থেকে উপদেশ দিয়ে বেড়াচ্ছে কিভাবে কাজটা আরো ভালোভাবে করা যেতো ওরাও গুরুত্মপূর্ণ না। সব কৃতিত্ব হচ্ছে তাঁর যিনি আসলে সত্যিকার মাঠে নেমে যুদ্ধ করছেন। যাঁর মুখ এবং দেহ ধূলা, ঘামে, এবং রক্তে রঞ্জিত। যিনি জীবন দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যিনি বারবার ভুল করছেন এবং জয়ের একেবারে শেষ মাথায় এসে পৌঁছাচ্ছেন। যিনি চরম উৎসাহ, আগ্রহ, সাধনা নিয়ে নিজেকে একটা অর্থপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করেছেন। যিনি বিজয়ী হওয়ার কৃতিত্বের কথা জানেন, কিংবা যদি জয়ী হতে নাও পারেন, অন্ততপক্ষে বীরের মতো চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। অতএব, তাঁর স্থান কখনোই সেইসব ভীরু এবং দূর্বল মানুষের সাথে হবেনা যারা জয় কিংবা পরাজয় কোনোটার স্বাদ কখনো পায়নি।"


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

হিমু এর ছবি

আমি কি জাগো সম্পর্কে কোনো কুৎসিত বিষোদগার করেছি? আমার চোখে পড়ছে না। আপনি চাইলে কোট করতে পারেন। আর যদি স্বেচ্ছাসেবাকাম শব্দটা শুনেই আপনার কোমল মনে আঘাত লাগে, তাহলে আপনার মনকে শক্ত করতেই বলবো। কারণ বেলা শেষে, এটা এক স্বেচ্ছাসেবাকাম চরিতার্থ করা ছাড়া আর কিছু মনে হচ্ছে না আমার কাছে। আপনি এর সাথে ফর্সা টিশার্ট পরা মেয়েদের সংযোগ খুঁজে পেয়ে উত্তেজিত, সম্ভবত কাম শব্দটা দেখে আপনি একটাই মানে বের করতে পেরেছেন, আপনার এই উত্তেজনা আমি গুরু-গুরু মন্তব্য করেও প্রশমন করতে পারবো না তো। আপনি যে কলার ধরে ভুল স্বীকার করাতে চাইছেন, আর ফাঁকতালে সুন্দর করে আমার প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছেন, যেটা এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো করছি, এই স্বেচ্ছাসেবার হাইপ মাঝপথে ফুরিয়ে গেলে বাচ্চাগুলোর শিক্ষার বিকল্প কী ব্যবস্থা হবে, বা আদৌ হবে কি না, সে ব্যাপারে আবার ভেবে উত্তর দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সারমন দিয়ে পিছলে যাবেন না।

রুজভেল্টের কথাটা আলবদরের ক্ষেত্রে খাটান, খাটবে। জেএমবির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করুন, সুন্দর খাপে-খাপ বসে যাবে। রুজভেল্টের কথা মেনে চললে, বাংলাদেশের দুই প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বা খালেদার সমালোচনার অধিকার আমরা হারাবো, কারণ আমরা তো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জয় বা পরাজয়ের স্বাদ পাইনি, আমরা ভীরু আর দুর্বল, রক্তে রঞ্জিত দুই বীর নারীর সমালোচনা তাই আমাদের মানায় না। আমরা আমাদের সেনাবাহিনীর জেনারেল, বিমানবাহিনীর এয়ার মার্শাল বা নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরালদের সমালোচনার অধিকারও হারাবো। আমরা মতিউর রহমানের সমালোচনা করতে পারবো না কারণ আমরা পত্রিকা চালাইনি (চালাবোও না), আমরা ইভা রহমানের সমালোচনা করতে পারবো না কারণ আমরা বেসুরা গলায় টিভিতে গান গাইবো না, আমরা জাগো ফাউণ্ডেশনেরও সমালোচনা করতে পারবো না কারণ আমরা পারিবারিক ব্যবসা ফেলে স্বেচ্ছাসেবাকাম চরিতার্থ করছি না।

তবে রুজভেল্টের কথা সত্য, সমালোচনা যারা করছে, তারা গুরুত্বপূর্ণ না। এখানে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ঐ ৭২০টা বাচ্চা, যাদের নিয়ে একটা এক্সপেরিমেন্ট চলছে, আর সেই এক্সপেরিমেন্টকে আমরা হাততালি দিচ্ছি অগ্রপশ্চাৎ না ভেবে। যারা অগ্রপশ্চাৎ ভাবার কথা বলছে, তারা হয় লঘু মন্তব্যকারী, অথবা তারা গুরুত্বপূর্ণ না।

আমি দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম জাফর ইকবাল স্যারকে নিয়ে। উনি তো পত্রপত্রিকায় প্রায়ই কঠোর সমালোচনা করেন দেখি। স্যারের ঐসব সমালোচনা যে গুরুত্বপূর্ণ না, রুজভেল্টের এই অমর বাণী তাঁকে কে শোনাবে, কে আছে সেই আগুয়ান জোয়ান?

আর আরেকটা জিনিস, গরীব বাচ্চাদের নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট যারা করে, তাদের আপনার মাপকাঠিতে কুৎসিত বাক্যবাণে জর্জরিত করার একটা সময় বোধহয় হয়েছে। আপনি একতাল মাখন নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করুন, আমি কিন্তু আপনাকে কলার ধরে কঠোর সমালোচনা করতে ডাকবো না। যে কঠোর সমালোচনা করছে, তাকে গিয়ে সুর নরম করতে বলে চোখ রাঙানোর যে মহান দায়িত্ব আপনি নিয়েছেন, সেটা পালন করতে গিয়ে আপনার মূল্যবান এনার্জি অপচিত হবে শুধু।

স্পর্শ এর ছবি

ধরে নিচ্ছি আপনি জাগোকে জেএমবি গ্রুপে ফেলেন নাই। তারপরও জেএমবি ইস্যুতে রুজভেল্টের কথাটা কীভাবে কাজ করে ব্যাখ্যা করি।

রুজভেল্ট বলছে,বাইরে থেকে সমালোচনা গুরুত্বপূর্ণ না। আপনি যদি স্রেফ জেএমবি, বা সামরিক শাসন, বা অবক্ষয়িত গণতন্ত্র এসব নিয়ে বাইরে থেকে 'সমালোচনা' করেই বসে থাকেন তাহলে আসলেই ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ না। বরং অই ইস্যুতে যারা মাঠে নেমে কিছু করবে তারাই গুরুত্বপূর্ণ।

যেমন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইস্যুতে ছেলেমেয়েরা যদি মাঠে না নেমে শুধু সমালোচনা লিখে যেত। বা বুয়েটের সনি হত্যা ইস্যুতেও তাহলে সেসব সমালোচনা অগুরুত্বপূর্ণই হতো। সমালোচনার চেয়ে অ্যাকশন কী নেওয়া হলো সেটাই মূখ্য।

আপনার মনে হচ্ছে এরা এসব না করে তাদের পিতামাতাদের ট্যাক্স দিতে বলুক। (এখানে স্বচ্ছল মানেই ট্যাক্স ফাকী দেয়। এমন একটা প্রচ্ছন্ন স্টেরিওটাইপিং আপনি করছেন)। যদি আসলেই তাদের প্যারেন্টস ট্যাক্স দেয়?

ধরি, দেয় না।

তখন শুধু এখানে মন্তব্যে বলে লাভ হবে না। ট্যাক্স দেওয়ার ব্যাপারে উদুদ্ধু করুণ! নিজে সোচ্চার হোন। প্রচারণা চালান। ভারতীয় সেই অ্যাডগুলোর মত অ্যাড বানান। গল্প লিখুন, নাটক বানান, গান করুন... সক্রিয় প্রচারণা চালান।

আমিতো এতে কোনো আপত্তি দেখছি না। আপনার সমালোচনার ভাষার কঠোরতা কমাতেও বলছি না। কিন্তু কঠোর ভাষা আর হেয় করার মত সার্কাস্টিক টোনে বলা ভাষা এক জিনিস না।

Sarcasm neither wins debate nor wins heart.

আর জাগোর স্টুডেন্ট মনে হয় দুই শিফট মিলে ৩৬০ জন। এদেরকে শিক্ষা দিতে চেয়েছে জাগোর প্রতিষ্ঠাতারা। প্রশ্ন করুন, এই বাচ্চারা সরকারি প্রাইমারি স্কুলে কেন যায়নি? ওটাতো ফ্রিঈ ছিলো। বৃত্তি উপবৃত্তি তো ছিলোই। অলরেডী সরকারি স্কুলে পড়ছে তাদের তো ধরে এনে জাগোতে ভরা হয় নি।

কারণ তাদের আর্থসামাজিক অবস্থা তাদের কে বাধ্য করছিলো। ফুল বিক্রি বা ভিক্ষা করতে। স্কুলে না গিয়ে। জাগোর কথা মতে তারা সেসব বিষয়েও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আর ইংরেজী শেখানো হচ্ছে মানেই কাওমি মাদ্রাসা হয়ে গেল? ওদেরকে যে এখন ইংরেজিতে পড়ার কারণে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হবেই না। সেই দিব্বি কে দিলো? শিক্ষাটাতো আধুনিক শিক্ষাই! কাজে লাগবে না কেন? সরকারি প্রাথমিক স্কুল থেকে কত জন উচ্চশিক্ষায় যায়?

এক্সপেরিমেন্ট এ আপত্তি থাকলে, কিছু করুন। তাদের কারিকুলামকে বিশ্লেষণ করুন। বা পরিচিত শিক্ষাবিদদের দিয়ে করান। আপনি কাজটা করে দিতে চাইলে ওরা তো নিষেধ করবে না। মানুষের সীমাবদ্ধতাকে বিবেচনায় আনুন।

ক্ষুদ্র একটা অবস্থাথেকে তিলে তিলে এমন একটা দাত্যব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে যে পরিশ্রম আন্তরিকতা দেওয়া লাগে, সেটার কোনো মূল্যায়ন আপনার মন্তব্যে নেই।

বিশেষ আর্থসামাজিক গ্রুপের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা যেতেই পারে। তার উপর তারা আকাশ থেকে কিছু কারিকুলাম সেট করেছে বলে মনে হয় না। আরো অনেক কিছুর সাথে, স্টান্ডার্ড টেক্সটবই ই পড়ানো হয়।

টেডের এই ভিডিওটা দেখুন, ভারতে একজনের বিশেষ ধরনের একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করার ব্যাপারে। এমন কিছু এদেশে কেউ করতে চাইলে সমস্যা কোথায়?


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

হিমু এর ছবি

এ কারণেই তো বললাম, আলবদর বা জেএমবির অ্যাকশনটাই মুখ্য। তখন পত্রপত্রিকায় এর যেসব সমালোচনা হয়েছে, সেগুলি একেবারেই ফালতু। রুজভেল্ট আমাদের সেটাই বলেন।

হ্যাঁ, আমি আবারও বলছি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর কেএফসির বদান্যতায় টিশার্ট-শিশা-ডিনারশোভিত একদিনের এই স্বেচ্ছাসেবাপিকনিকের চেয়ে বাপচাচাদের ট্যাক্স দিতে উদ্বুদ্ধ করা অনেক, অনেক বেশি কার্যকর। এই যে ৭২০ টা বাচ্চা আজ যেতে পারছে না স্কুলে, তাদের মতো আর হাজার হাজার বাচ্চাকে স্কুলে টেনে নেয়ার মতো প্রোগ্রাম তৈরি করতে পারে সরকার। আর সচ্ছলরা ট্যাক্স ফাঁকি দেয়, এটা তো স্বাভাবিক স্বতসিদ্ধ, হাভাতেরা কি ট্যাক্সেবল ইনকাম করে?

সারকাজম তো হাওয়া থেকে আসে না, সারকাজমের ক্ষেত্র তৈরি থাকতে হয়। আপনি সেই ক্ষেত্র তৈরি করে রাখলে কেউ না কেউ এসে সারকাস্টিক হবেই। আর হেয় করিনি তো, সমস্যাগুলো তুলে ধরেছি। সেই সমস্যাগুলো বাস্তব, উদ্যোগকে সেগুলো হেয় যদি করে থাকে, সেটা কি আমার ত্রুটি? হাগন্তির লাজ নাই দেখন্তির দোষ? আপনি এর আগে বললেন, ত্রুটি লোকে ইচ্ছা করে করে না। ত্রুটি তারা ইচ্ছা করে করছে, এমনটা তো বলিনি, বলেছি ত্রুটি আছে। আর চার বছর হয়ে গেছে, একটা সংস্থা একদিনে সাত হাজার ভলান্টিয়ার নামাতে পারে, মার্কিন দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারে, আর তাদের ত্রুটিগুলি ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখে আমাদের শুধু মাখন লাগিয়ে কথা বলতে হবে? আপনি মাখন লাগিয়েই বলুন, আমি বাধা দেবো না তো। আমি আমার মতো করে বলি।

হৃদয়জয় করতে তো নামিনি ভাই, তর্কে জিততেও নামিনি। দূর থেকে একটা সিস্টেমে একটা সিরিয়াস ত্রুটি চোখে পড়েছে, সেটার ওপর জোর দিচ্ছি। আপনি যদি এসে বলেন, জোর দেয়া যাবে না, মাখন লাগাতে হবে, গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে, তো বেশ, করুন না! আমাকে কি আপনার সাথে এ ব্যাপারে এক সুরে কথা বলতেই হবে? আপনি কি এখানে অবশ্যানুকরণীয় টেমপ্লেট?

আপনি ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখুন, কওমী মাদ্রাসার সাথে মিলটা কোথায়। কতগুলো বাচ্চা খেতে পায় না ঠিকমতো, শিক্ষা তো দূরের কথা, কওমী মাদ্রাসায় তারা দুই বেলা খাবার পায়, আর ফাটিয়ে আমপারা পড়ে। এই আমপারার শিক্ষা তাকে পরিপার্শ্ব থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। আপনার আমার বাচ্চা এডএক্সেল কারিকুলামে পড়ে সারভাইভ করতে পারবে, কারণ তার পুরো শিক্ষাজীবনের আর্থিক নিশ্চয়তা আপনি আমি আর আমাদের আত্মীয়স্বজন মিলে নিশ্চিত করছি। আপনাকে প্রশ্ন করছি, যে যদি আজ জাগোর এই শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, বাচ্চাগুলি কি তাদের ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা কনটিনিউ করতে পারবে? আপনার কোনো উত্তর নাই, আপনি লঘু-গুরু, সারকাজম-গঠনমূলক নিয়ে কথা বলেই যাচ্ছেন বলেই যাচ্ছেন। প্রশ্ন করছি, আজ জাগোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে বাচ্চাগুলি প্রচলিত বাংলা মাধ্যমেও সুইচ করতে পারবে কি না, কোনো উত্তর নাই, আবারও সেই লঘু-গুরু-সারকাজম-গঠনমূলক। উত্তর নাই কেন ভাই? আর আধুনিক শিক্ষা কী কাজে লাগছে, শিশিরকণার কমেন্টে দেখুন। বাচ্চাগুলো ইংরেজিতে ফুল বিক্রি করছে আপনার আমার মতো হুজুগমুগ্ধ গাড়িঅলা মানুষের কাছে। তাদের আধুনিক শিক্ষার দৌড় ঐটুকুই, তারা এখন ইংরেজিতে ফুলবিক্রি একেএ ভিক্ষাবৃত্তি করে। আপনি হয়তো এটাকেই বিপ্লব ভেবে রাতে হাসিমুখে ঘুমিয়ে পড়ছেন। আমি বলছি, এর চেয়ে বেটার একটা অপশন আছে, সেটা কেন নেয়া হচ্ছে না। উত্তর নেই। উত্তরে শুধু টেডের ভিডিও আসে।

আমাকে কি ত্রুটিগুলো নিয়ে কথা বলতে গেলে আগে এক বালতি মাখন নিয়ে জাগোর কাজের যাবতীয় ভালো দিকগুলো নিয়ে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে নিতে হবে? ওভাবে মূল্যায়ন হবে? ওভাবে তো মূল্যায়ন আপনি করছেন, শিশিরকণা করলেন, আমি তো আপত্তি করিনি। তারা বাচ্চাদের চিকিৎসা দিচ্ছে, তাদের বাবামায়ের জন্যেও কর্মসংস্থানের সুযোগ করছে, আমি কি এগুলো নিয়ে কোনো আপত্তি বা ত্রুটিনির্দেশ করেছি? করিনি। আমি শিক্ষার মাধ্যম আর কারিকুলাম, আর স্বেচ্ছাসেবাকাম চরিতার্থের বদলে বাপচাচাকে ট্যাক্স দিতে বলার ওপর জোর দিয়েছি।

আপনি বলছেন, কিছু করুন, কিছু করুন। আমি আবার দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। হাসিনার কোনো কাজের সমালোচনা করবো, আপনি এসে বলবেন, আগে নিজে কিছু করুন, দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে দ্যাখান। আবুলের সমালোচনা করতে যাবো, আপনি বলবেন, কিছু করুন, ঠিকাদার থেকে মন্ত্রী হয়ে দ্যাখান। মনে করুন, আমি একজন নিষ্কর্মা বিশ্বনিন্দুক। আমি কিছু করি না, অন্যের কাজের সমালোচনা করি। এই অপরাধে কি আমার যুক্তিগুলো খেলো হয়ে যাবে? আমার প্রশ্নের উত্তরে শুধু লঘু-গুরু-সারকাজম-গঠনমূলক-টেডভিডিও আসবে?

ক্ষুদ্র একটা অবস্থা থেকে তিলে তিলে একটা দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেই যদি সেটাকে সমালোচনার নাগালের বাইরে কোনো শিকায় ঝুলিয়ে রাখতে বলেন, তাহলে তো মুশকিল। দুনিয়ার ভালো খারাপ সব জিনিসই ক্ষুদ্র থেকে তিলে তিলে বড় হয়। যেমন ধরেন ক্যানসার। ক্যানসারের চিকিৎসা করতে চাই আমরা, সেটার ক্ষুদ্র থেকে তিলে তিলে বড় হওয়াকে মূল্যায়ন না করেই।

সমস্যা কোথায়, আমি বহুবার বলেছি। আপনি সমস্যাটা দেখতেই নারাজ। আপনি দেখছেন উদ্যোক্তাদের চোখ দিয়ে, আমি দেখছি ঐ বাচ্চাগুলোর চোখ দিয়ে। এখানেই পার্থক্য। আপনি দেখছেন কিছু তরুণ দেশের উপকারে এগিয়ে এসেছে আর আমি এক নিকম্মা সারকাজম প্র্যাকটিশনার তাদের এই মহান উদ্যোগের পেছন মারছি। আর আমি দেখছি, কিছু তরুণ দেশের সত্যিকার উপকার করতে পারতেন, কিন্তু তারা পদ্ধতিগত কিছু ত্রুটি রেখে দিয়েছেন, যার কারণে দেশের উপকারটা লক্ষ্য না হয়ে উপলক্ষ্য হয়ে যাচ্ছে, মাঝখানে বেশ কিছু বাচ্চার শিক্ষাজীবন (যা আরো ভালোমতো নিশ্চিত করা যেতো) একটা হাইপনির্ভর এক্সপেরিমেন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পার্থক্যটুকু আপনি ধরতে পারেননি, বদলে আমাকে বারবার এসে শেখাতে চাচ্ছেন কীভাবে লঘু মন্তব্য না করতে হয়, কীভাবে সারকাজম এড়িয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করতে হয়।

আপনি নিজেকে করভী রাখসান্দের জুতো থেকে বের করে এনে ঐ ৩৬০ বা ৭২০টা বাচ্চার একজনের ছেঁড়া স্যাণ্ডেলে ঢোকান। তারপর ভাবুন। দেখবেন, আমাকে দেখানোর মতো টেড ভিডিও আর খুঁজে পাচ্ছেন না।

স্পর্শ এর ছবি

ওহ, তাহলে মনে হয় আপনার চোখ এড়িয়ে গেছে। এই আলোচনাতে অনেক আগেই একটা মন্তব্যে বলেছিলাম,

স্পর্শ লিখেছেন:
কারিকুলাম নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার ব্যাপারে যে কথাগুলো বললেন শুরুতে প্রিসাইজলি সেটুকু বললে এত কথা বাড়তো না। কারণ এই ব্যাপারটা যৌক্তিক। এবং সহমত।

শুধু শুধুই সাতকাণ্ড রামায়ন হয়ে গেল...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

হিমু এর ছবি

প্রশ্ন ১: আজ জাগোর কার্যক্রম স্থগিত বা লুপ্ত হলে এই বাচ্চাগুলি ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা কনটিনিউ করতে পারবে কি? অথবা, তারা পরিবর্তে মাঝপথে অবৈতনিক বাংলা মাধ্যমে সুইচ করতে পারবে কি?

প্রশ্ন ২. প্রশ্ন ১ এর উত্তর যদি "না" হয়, তাহলে এই বাচ্চাদের শিক্ষার জন্য জাগোর কার্যক্রম সাস্টেইনেবল নয়, এ কথা বলা যায় কি?

প্রশ্ন ৩. প্রশ্ন ২ এর উত্তর যদি "না" হয়, পাবলিক কেন একটা আনসাস্টেইনেবল সিস্টেমের জন্য পয়সা দেবে?

শিশিরকণা এর ছবি

আমার ভাই বোন কোথায় পড়বে, এই সিদ্ধান্ত কখনো আমার ছিলো না। আমি মত দিতে পারি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বাপ-মার হাতে। উদ্যোক্তাদের পোলাপান হোক তখন বলতে পারেন কোন স্কুলে পড়াবে।
ভলান্টিয়ার কার্‍্যক্রম চালানোর মূল সমস্যা উৎসাহী লোক পাওয়া। রিসোর্স যোগাড় করা। যেটুকু রিসোর্স পাওয়া যায় তাই দিয়ে যেভাবে সম্ভব ম্যানেজ করতে হয়। যতটুকু বুঝতে পারছি, এখানে মূল উদ্যক্তা করভির নেটয়ার্ক আর রিসোর্স ইংলিশ মিডিয়াম বা ধনিক শ্রেনী থেকে আসছে, কাজেই সেই মতো কার্যক্রম চলছে। বাংলা শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর মতো লোক এবং রিসোর্স পাওয়া গেলে সেটাও চলবে।
ইংলিশ পড়াচ্ছে বলে সব সময় যে তাই চলবে এটা তো ধর্মগ্রন্থের পাতার মত অক্ষয় বানী না, বা আপনি অন্য উপদেশ দিলে যে আপনাকে রাম দা নিয়ে তেড়ে আসবে, তাও না।

যেটা ভালো দিক মএন করছি, সেটা হল এরা একটা আন্‌ট্যাপড এনার্জিকে কাজে লাগাচ্ছে, যারা আগে এসব নিয়ে একদমই উদাসীন ছিল। এই গ্রুপ আগেও শীসা ফুকতো, পার্টি করত, এখনো করবে, ফাঁকে এদের যে টাকা, এনার্জি এরা ধোয়ায় উড়াচ্ছিল, সেটাকে চ্যানেল করে এনে একটা ভালো কাজে লাগানো গেছে। এদের একদিনের মাসোহারার টাকা নিয়ে যতটুকু লাভ, এর চে এদেরকে কন্টিনিউয়াস ইনভল্ভড করতে পারলে আরো বেশি লাভ। এমনকি এটা উইন-উইন সিচুয়েশান। আপনি আপনার সমাজ সেবার কাজ উদ্ধার করে নিলেন, এরাও একটু ভাল কাজ করার অ্যাডভেঞ্চার পেল, ফান পেল। যেই মাছ যেম্নে খেলায় তুলতে হয় আরকি!! ?

জাগোর মূল কার্যক্রম কে সাধুবাদ আর এই একদিনের স্টান্টবাজিকে দারুন সাংগঠনিক চাল হিসেবে তালিয়া বরাদ্দ করলাম।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

হিমু এর ছবি

আমি যা বুঝতে পারলাম, এই গোটা প্রক্রিয়াটাকে আপনি একটা পরিকল্পিত কাঠামোর মধ্যে ফেলার প্রয়োজনীয়তাটুকু প্রথমেই সরিয়ে দিচ্ছেন। আজ ইংরেজি মাধ্যমের এডএক্সেলে পড়ানো হচ্ছে, কাল বাংলায় পড়ানো হবে, পরশু হয়তো মাদ্রাসাফেরত কেউ আরবীতে পড়াবে, আর আমরা এই গোটা প্রক্রিয়াটাকে শুধু স্বাভাবিকই ভাবছি না, তালিও দিচ্ছি। আমাদের নিজেদের বাচ্চাদের আমরা এই ধরনের ফ্লাকচুয়েশনের মধ্যে ফেলতে রাজি আছি কি? গরীবের বাচ্চাকে আমার রিসোর্স খরচ করে পড়াচ্ছি, অতএব যেমন খুশি তেমন করে তাদের পড়াবো, এটা কি সঠিক অ্যাপ্রোচ?

শিশিরকণা এর ছবি

ভুল বুঝছেন।
আমি বলতে চাইছি, এদের এই মূহুর্তে পরিকল্পিত কাঠামো নাই বলেই এইভাবে কার্যক্রম চলছে। যেভাবে পারছে, বা বলতে পারেন যেভাবে সহজ ও সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু যেভাবে হওয়া উচিত সেরকম রিসোর্স নাই বলে কি পুরা কার্যক্রম বন্ধ করে হাত পা গুটায় বসে থাকা উচিত? নিশ্চয়ই না।
পুরা উদ্যোগটাকে কিরকম কাঠামোয় নিতে পারলে সবচে' ভাল হবে এই পথশিশুগুলোর জন্য সেটার চিন্তা হয়ত এই প্রতিষ্ঠানের মূল সংগঠকের মাথায় আছে। না থাকলেও সেটা এদের জানানো যেতে পারে।
এখানে আরেকটা ব্যাপার হলো পরিকল্পিত কাঠামো ধরে রাখতে নিয়মিত নিশ্চিত ফান্ডের বা রিসোর্সের নিশ্চয়তা থাকা লাগবে। টাকার কথা বাদ দিলাম, শুধু শিক্ষকের কথা ভাবেন, বেতন দেয়া শিক্ষক রাখলে আপনি সব সময় বাংলা বা ইংলিশ মিডিয়াম চালু রাখতে পারলেন। ভলান্টারি হলে সব সময় সব রকমের শিখক পাবেন না। আপনি ভাববেন যে কাউরে পাওয়া না গেলেল আমি কেম্নে কাজ চালাইতে পারি। বা বলা যায়, শুরুর সময় নিজে যা পারব সেটা দিয়েই শুরু করেছি, সেটাই চলে আসছে। উদ্যোক্তা নিজে ইংলিশ মিডিয়ামের বলে জিনিশটা তার সুবিধার দিকে গেছে। যাই হোক এগুলা পুরাই অনুমান, না জেনে এর বেশি সাফাই গাওয়া ঠিক না।

যেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হতে পারে , এই প্রাইমারী শিক্ষা শেষ করার পর এই পথশিশুরা কি করছে/ করবে? সেই ফুল/ পপকর্ন ই বেচবে? তাদের জীবন উন্নত করার পরবর্তীতে এই শিক্ষা সে কিভাবে কাজে লাগাবে? সেখানে কি জাগো কোন উপায় বাতলে দিচ্ছে না সেটা পথকলির নিজের সমস্যা? যতদিন স্কুলে পড়ছে, ততদিন এরা প্রতিদিন ক্লাসে আসলে আধা কেজি চাল পাচ্ছে। যেদিন ক্লাস ফাইভ পাস করে ফেলবে সেদিন থেকে কি চাল বন্ধ? একে স্কুল থেকে বের করে দেয়া হবে?

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

হিমু এর ছবি

আপনি নিশ্চয়ই জানেন, ইংরেজি মাধ্যমের পড়ার উপকরণগুলোর মূল্য বাংলা মাধ্যমের পড়ার উপকরণের চেয়ে অনেক, অনেক বেশি। আপনার কি মনে হয় না, ৭২০ জন শিশুর জন্যে ইংরেজি মাধ্যমের বই আর সাপ্লিমেন্টারির চেয়ে প্রচলিত বাংলা মাধ্যমের উপকরণ ব্যবহার করলে যে ব্যয় সাশ্রয় করা যেতো, সেটা দিয়ে অন্তত একজন ফুলটাইম শিক্ষক নিয়োগ করা যেতো?

আপনি উদ্যোগটাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, আমি পদ্ধতিটাকে গুরুত্ব দিতে চাই। জাগো ফাউণ্ডেশন তার এনজিও কার্যক্রম টিকিয়ে রাখাকে প্রায়োরিটাইজ করছে, আমি চাই তারা প্রায়োরিটিটুকু দিক বাচ্চাগুলোর শিক্ষার ওপর। আপনি এটাকে একটা স্কুল হিসেবে ব্র্যাণ্ড করছেন, এটার জন্য টাকা তুলছেন, তারপর স্কুলিংটাকে অ্যাড-হক বানিয়ে রাখছেন, এটা কেন?

আর বার বার রিসোর্সের কথা আসছে, আপনি নিচে দেখুন, অনার্য সঙ্গীত একটা হিসাব দিয়েছে। একদিন টিশার্টের পেছনেই খরচ হচ্ছে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। রিসোর্সের টানাটানি আছে বলে তো আমার কাছে মনে হচ্ছে না।

আপনি রিসোর্স অনুযায়ী আপনার প্রোগ্রাম সাজাবেন, এহ বাহ্য, কিন্তু ৭২০ জন পথশিশুকে শিক্ষা, খাদ্য আর চিকিৎসা যদি দিতে পারেন, তাহলে এভাবেও চিন্তা করা যায়, আপনি কেন আপনার পদ্ধতিটিকে সর্বোত্তম না করে স্কেল বাড়াচ্ছেন?

আর যেটা শুরুতেই বললাম, শিক্ষা জিনিসটা ভলান্টিয়ারনির্ভর হয়ে গেলে কেবল অনিশ্চয়তা বাড়ে। আপনার হাতে টাকা আছে, আপনি বেতনভোগী শিক্ষকই তো রাখতে পারেন। ঢাকায় এই পথশিশুদের এক বেলা পড়ানোর জন্য পার্ট টাইম শিক্ষক পাওয়া যাবে না, এটা বিশ্বাস্য?

অনেক প্রশ্নই আছে, কিন্তু আমরা প্রশ্ন করলে ক্ষেপে যাচ্ছি। মনে করছি একটা উদ্যোগকে বালু চাপা দেয়া হচ্ছে। এরকম চিন্তার কারণ কী, আমি জানি না। একটা যুক্তির বদলে আরেকটা যুক্তি দিলে সেটা আমাদের কারো কারো চোখে "ত্যানা প্যাঁচানো" হয়ে যাচ্ছে, অথচ এভাবে কেউ ভেবে দেখছেন না যে এই চিন্তাগুলো আমাদের সবারই করে দেখা দরকার। দাও নিয়ে জাগো ফাউণ্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতাকে দৌড়ানি তো দিচ্ছি না, একটা রিভিউ করছি। এই রিভিউ হয়তো তার চোখেও পড়বে না, বা পড়লেও সে কাজে লাগাবে না, কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎ চিন্তার কাজে হয়তো আসবে।

কল্যাণF এর ছবি

সেটাই। পুরোপুরি সহমত। পরিস্কার উদ্দেশ্য নিয়ে চললে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে ভয় কোথায়? সেবা দেওয়াটাই যদি উদ্দেশ্য হয় তাহলে সেটা নিশ্চিত আর সর্বোচ্চ ফল্প্রসু করতে দশ জনের দশটা সমালোচনা তো উদ্যোগটা বন্ধ করে দেবে না বরং যাকে বলে অপ্টিমাইজ করবে। আর গণমুখী কাজগুলোইতো বরং সবসময় স্বচ্ছ, পরিস্কার ও আত্মসমালোচনায় সংশোধনে থাকা দরকার। বিনা পয়সায় যে কন্সাল্টেন্সিটা পাওয়া গেলো সেটাই তো বরং লাভের খাতায় যোগ। সমালোচনা করলেই তেড়ে আসা বা প্রতিরক্ষামূলক খোলোশের মধ্যে ঢুকে পড়ার দরকারটা কি বুঝি না।

শিশিরকণা এর ছবি

এরকম গঠনমূলক সমালোচনা বা পরামর্শ এদের কানে তুলতে পারলে কাজের কাজ হবে। নাহলে আলোচনাই সার।
আর ভুল বুঝবেন না, আমি এদের সাফাই গাইছি না। বরং এখন তারা যেভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে তার পিছনে এদের ভাবনা চিন্তা টা বুঝার চেষ্টা করছি। যেকোন কাজই অনেক শ্রেয়তর উপায়ে করা যায়, কিন্তু সেটা কেন অনেক সময় করা হয় না তার কারন থাকে কিছু একটা। আমি এখন দুম করে একটা পরামর্শ দিলেই যে সেটা কাজে লাগানো তাদের পক্ষে সম্ভব হবে , সেটা নাও হতে পারে। কাজেই তাদের অবস্থানটা বুঝে তারপর সেই অনুযায়ী পরামর্শ দিলে সেটা মাঠ পর্যায়ে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এখানে এপ্রোচ টা এমন, " First understand, then seek to be understood".
নয়ত আমার আপনার বুদ্ধিজীবীদের মতো জ্ঞান বিলানোই কেবল হবে, যাদের উদ্দেশ্যে বলা, তারা শুনবে, হয়ত কিছু বিবেচনাও করবে, তারপর আরেক কান দিয়ে বের করে নিজেদের সুবিধামতো উপায়ে চলতে থাকবে।

শুধু সমালোচনা করে তো লাভ নাই, যদি তার কোন আফটার এফেক্ট না থাকে। তাইলে কি সমালোচনা বন্ধ? অবশ্যই না! আলোচনা থেকে সমাধান বেরিয়ে আসবে আসবে এক এক কয়রে। একি ভাবে জাগো যা করছে সেটাও চলতে থাকুক এবং আস্তে আস্তে সঠিক পরিকাঠামোর দিকে আসুক, এটাই কামনা।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

কল্যাণF এর ছবি

বুঝতে পেরেছি। কিন্তু দেখুন এই পথে চিন্তা করলে শেষ পর্যন্ত দাঁড়ায় তাহলে আর আমাদের এত আলোচনার দরকার কি। নিজের মতটা স্বাধীনভাবে শেয়ার করলে বা ভিন্ন মতটা যথার্থ মনে করে সেটাকে সমর্থন করলে যদি সেটাকে বুদ্ধিজীবীর জ্ঞান বিলানো বলেন তাহলেতো মানে মানে আমার ফুলস্টপ হয়ে যাওয়া দরকার। কিন্তু দেখুন এখানে সামাজিক অবস্থা, পারিপার্শ্বিকতার গুরুত্ব, চলমান পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ফলাফল ও উপযোগিতা ইত্যাদির বিচারে রিসোর্স আর গরীব মানুষের অসহায়ত্বটা ব্যবহার না করার উপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এজন্য চুপ করে থাকাটাও অপরাধ হয়ে দাঁড়ায় তা শুনতে যতই বুদ্ধিজীবীর মত শোনাক না কেন। এই ব্লগ হয়তো কারো চোখে পড়বে না, এই সব আলোচনা পরামর্শ উপদেশ হয়ত কয়েকশ কিলোবাইটের পেজ হয়ে থেকে যাবে, কিন্তু তাই বলে কোন পদ্ধতিগত ভুল যদি নজরে পড়ে আর সেটার বিশ্লেষণ করতে হাতের কাছে ব্লগটার সাহায্য না নেয়া হয় তাহলে কিভাবে হবে? তাহলে কি চুপ করে শুধু দেখে যাওয়াই সমাধান? বিরুদ্ধ মত তো থাকতেই পারে, কিন্তু বিরুদ্ধ মতটা পরিবেশগত ভাবে কতদূর ফলদায়ক সেটাওতো বিবেচ্য। যে বিষয়টায় এখানে আপত্তি করা হচ্ছে তা এত পরিস্কার ভাবে হিমু আর অনার্য সঙ্গীতের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে নতুন করে সেখানে আর যোগ করার মত কিছু পাচ্ছি না। ইংরেজী মাধ্যমে শিক্ষা দিতে যে খরচ হয় তার থেকে অনেক কম খরচে প্রচলিত বাংলা মাধ্যমে শিক্ষা দিলে এই সেবার আওতায় আরো অনেককে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে, এতে সেবার ব্যাপ্তিটাও বেড়ে যায় সেই সাথে সুবিধা বঞ্চিত কিছু শিশুকে একটা প্রচলিত, বোধগম্য, তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য মান্দন্ডে নুন্যতম পর্যায়ের শিক্ষা সমাপ্তির সুযোগ দেয়া যায় যেটা পরবর্তি পর্যায়ের শিক্ষার আওতাভুক্ত করতেও সুবিধাজনক। শেষে একটা জিনিস শুধু বলি পার্থক্যটা হয় ফলপ্রসু নির্বাচনে, উদ্দেশ্য যদি দাঁড়ায় শহরের আভ্যন্তরীণ যোগাযোগের উন্নতি করতে পরিবহনের ব্যবস্থা করা তখন ৫টা বিলাসবহুল স্ক্যানিয়ার জায়গায় ২৫টা টয়োটা মিনিবাস অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত। ভাল থাকবেন।

শিশিরকণা এর ছবি

আমি কিন্তু বলেছি আলোচনা চলবে। কিন্তু দুইটা পক্ষ নিয়ে গলার জোর পরীক্ষার চে মনোযোগ দিতে হবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজার দিকে। যেমন,

* এরা ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা কেন দিচ্ছে? বাংলা মিডিয়াম করার পথে এদের বাধাটা কোথায়? এই বাধা দূর করতে কি করা যেতে পারে?

* বাংলা হোক আর ইংলিশ হোক বাচ্চাগুলার পরবর্তী ভবিষ্যৎ কি?
প্রথম যখন জাগোর কথা শুনি গল্পটা ছিল এইরকম, রাস্তায় একটা পথশিশু এসে একজঙ্কে বিশুদ্ধ ইংলিশে বলছে," প্লিজ বাই আ ফ্লাওয়ার ফ্রম মি", এরপর ফুল বেচে থ্যাঙ্কিউ ভেরি মাচ বলে উক্ত ব্যাক্তিকে টাশকিত কয়রে আবার ছুটে গেছে আরেক গাড়ির জানলায়। তাদের শিক্ষার ব্যাবহার যদি ইংরেজি বলে ফুল বেচা পর্যন্তই হয় তাহলে কেম্নে কী?

* কী রকম কারিকুলাম হইলে বাচ্চাগুলা সেটা কাজে লাগাতে পারবে? তাদেরকে আয় রোজগার করতেই হবে এক সময় না এক সময়। সবাই কি জজ ব্যারিস্টার চাকুরিজীবী হবে? শিক্ষাটা কোন ক্ষেত্রে গেলে তারা কাজে লাগাতে পারবে, সে রকম কিছু ভালো অল্টারনেট পথ ভাবা প্রয়োজন।

এই প্রশ্নগুলার উত্তর খুঁজতে হবে। আলোচনা হোক এমন ভাবে যেন আমরা একটা উদ্যোগকে অপ্টিমাইজ করার উপায়টা এই উৎসাহী পোলাপান গুলাকে বাতলে দিতে পারি।

আপনি যতই ভালো কথা বলেন না কেন, সেটা কাউকে কানে তুলতে হবে। আপনি একজনের কাজের ভালো দিকটুকু ( যত সামান্য হোক ওটাই হয়ত ব্যাক্তির কাছে অনেক বড়) রেকগ্নাইজ করার আগে যদি কেবল তাকে সমালোচনা শোনান, তাহলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আপনার আমার ফার্স্ট রেসপন্স হবে এমন, " যা বেটা, তোর ভালোচনার আমি খেতা পুড়ি। " সত্যি কি না বলেন? এই স্টেপ পার হয়ে ভালো পরামর্শতে কান দেয়ার পর্যায়ে অনেক সময় জিনিসটা আর গড়ায়ই না। এটা মাথায় রেখে আলোচনা আগাতে বলছি।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আপনি একজনের কাজের ভালো দিকটুকু ( যত সামান্য হোক ওটাই হয়ত ব্যাক্তির কাছে অনেক বড়) রেকগ্নাইজ করার আগে যদি কেবল তাকে সমালোচনা শোনান, তাহলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আপনার আমার ফার্স্ট রেসপন্স হবে এমন, " যা বেটা, তোর ভালোচনার আমি খেতা পুড়ি। " সত্যি কি না বলেন?

আপনার চিন্তাধারা ভালো লেগেছে। তবে আমি যদি কাউকে কোনো বিষয়ে ঠকাতে চাইতাম, তাহলে এরকম চিন্তাধারার লোককে বেছে নিতাম। হাসি

একটু অফটপিকে, মিথ্যে বলার সবচেয়ে স্মার্ট উপায় হলো ৯টা অগুরুত্বপূর্ণ বা কম গুরুত্বপূর্ণ সত্যের সাথে একটা গুরুত্বপূর্ণ মিথ্যে ঢুকিয়ে দেয়া। তাতে ওই সত্যগুলোর সাইনবোর্ডে আসল কাজটা করে নেয়া যায়।

আরেকটু অফটপিকে, সেনাশাসনের সময়ও দেশের যানজট কম থাকে, হেলমেট পরে মটর সাইকেল চালাতে হয়। সেনাশাসনের 'টোটাল' ফল কি, তা মনে হয় কোনো সচলকে বলে দিতে হবে না।

কর্পোরেট স্পন্সরড জাঁকজমকপূর্ণ এরকম আপাত মহৎ উদ্যোগের ক্ষেত্রে এজন্য কোনোরকম আংশিক গুডবয় সার্টিফিকেট দেয়ার আগে 'টোটাল' খোঁজা জরুরি।

আলোচনা হোক এমন ভাবে যেন আমরা একটা উদ্যোগকে অপ্টিমাইজ করার উপায়টা এই উৎসাহী পোলাপান গুলাকে বাতলে দিতে পারি।

এখানে অপ্টিমাইজেশনের বিষয়টা আসবে পরে। আগে উদ্যোগটার উদ্দেশ্য ও পন্থা সম্পর্কে জানতে হবে। যদি মনে হয় উদ্দেশ্য ও পন্থা যথেষ্ট ভালো ও কাজের, শুধুমাত্র কিছুকিছু ক্ষেত্রে ফাইন টিউনিং দরকার, তখন অপ্টিমাইজেশনের ব্যাপারটা আসে। কিন্তু যদি উদ্দেশ্য ও পন্থায় বিরাট ঘাপলা থাকে, তাইলে অপ্টিমাইজেশন না করে প্রোজেক্ট বাতিল!

সেমি অফটপিক উদাহরণ, গাড়ির মেরামতের জন্য খরচা বেশি হলে সেই গাড়ি পরিত্যাগ করে নতুন একটা কেনা দরকার।

আরেকটা অফটপিক উদাহরণ, জামায়াত শিবিরকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে 'ভালো' মানুষ বানানোর প্রোজেক্ট।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

শিশিরকণা এর ছবি

সহমত।
হিমুর মন্তব্যে তেনা পেচানোর গন্ধ পেলাম, যেটা ভাল্লাগালো না।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

হিমু এর ছবি

আমার আর স্পর্শের তর্কের মাঝখানে যে কোনো জায়গায় আপনি অংশগ্রহণে সাদরে সমাদৃত, কিন্তু এই যে বললেন "তেনা পেচানো", এখানেই জিনিসটা টকে গেলো। আমরা দু'জন তো যথেষ্ট চিন্তা আর সময় খরচ করেই কথা বলছি, আপনি দুম করে সেটাকে ত্যানা প্যাঁচানো বানিয়ে দিলেন?

শিশিরকণা এর ছবি

আগেই চেতেন কেলা? যখন মন্তব্য লিখেছি তখন গন্ধ পাইছিলাম। মন্তব্য ছাড় হয়ে আসতে আসতে অনেক ভালো আলোচনা হয়ে গেছে, এর মাঝে আর এখন ত্যানার বদ'বু নাই।
আসেন আলোচনা করি। উপরে আপনার মন্তব্যের জবাব দিয়েছি।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

হিমু এর ছবি

চেতি নাই, একটু বিরক্ত হয়েছি। দুইজন মানুষ কথা বলছে, মাঝখানে আপনি এসে একজনকে বলছেন সে ত্যানা প্যাঁচাচ্ছে। এতে করে ঐ দুইজনের এফোর্টকেই ছোটো করে দেখা হয়। কোনো ভুল যুক্তি দিলে ধরিয়ে দিতে পারেন, তাতে উপকার হয়।

শিশিরকণা এর ছবি

ভাইরে! হাচল মানুষ, বললাম তো মন্তব্য বাইর হতে হতে কথা অন্যদিকে গড়ায় যায়, তখন প্রথমে যা বলছিলাম সেটা আর প্রাসঙ্গিক থাকে না। মন্তব্য যখন দিয়েছি, তখন খালি আপ্নের কমেন্ট খানাই ছিল। এইটার কোন উপায় করা যায় না? কখন মন্তব্য জমা পড়ছে সেই টাইম স্ট্যাম্প অনুযায়ী মন্তব্য প্রকাশ হবে, কখন ছাড় হইছে সেই হিসেবে না। মাঝে মাঝে একটা দুইটা কথা বলে কেমন জানি বেকুব লাগে, যখন অনেক তলায় গিয়ে সেটা প্রকাশ হয়, অনেকটা অপ্রাসঙ্গিক ভাবে।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

শাব্দিক এর ছবি

হিমু'দার মন্তব্যে একমত।

দুই দিনের বৈরাগী এর ছবি

চলুক

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

অনেকগুলো ভালো দিক আছে এই আয়োজনের। নিশ্চয়ই। একটা পথের শিশু যদি একবেলা খেতে পায়, সেটা যে কারণেই হোক, তাহলে সেটা খুব ভালো ব্যপার।

জাগো'তে অনেকেই (আশা করছি সিংহভাগ) সত্যিকারের সেবা দিতে যুক্ত হয়েছেন বলে ধরে নিলাম। তাঁদেরকে অভিনন্দন এবং শ্রদ্ধা।

কিন্তু যে আয়োজনটার কথা ফেসবুকে বেশ ছড়িয়েছে সেটাকে আমি সত্যিকারের সেবা বলতে রাজি নই। এইসব সেবকদের শ্রদ্ধা করতেও রাজি নই। এটা অনেকটা they did something for the poor and had fun! এতে এইসব শিশুদের জীবনে এবং এসব সাধারণের সমাজ বহির্ভূত (সবার কথা বলছি না।) ছেলেমেয়েদের জীবনের কোনোকিছুই বদলায় না। ঈদের দিন সবাই যেমন রিক্সা ওয়ালাকে দুই টাকা বেশি দেয়, ফকিরকে ফেরায়না, সেরকম। আজকে যারা পথশিশুদের তুলে মুখে খাবার তুলে দিয়েছে কালকে তারাই ওই একই রাস্তা দিয়ে যাবে, ওই শিশুটির দিকে তাকানোর সময়ও তাদের হবে না। "সেবা' করার আত্মতৃপ্তি পাওয়ার জন্য এই যে আবেগ, এই আবেগকে আমি শ্রদ্ধা করতে পারিনা।

কিন্তু আমি এসবের বিরোধিতা করছি না। কেবল নিজের অবস্থান জানাচ্ছি। এমনিতে, বেশতো, স্বাধীন দেশের স্বাধীন ছেলেমেয়েরা (কারো ক্ষতি না করে) যেটা করে ভালো থাকে থাকুক! হাসিখুশি মুখ দেখতেও তো ভালো লাগে।

তবে আমি আগে একজন অতিথির পোস্টে এবং আপনার পোস্টেও খানিকটা বিরক্তি নিয়েই মন্তব্য করেছি। সেই বিরক্তিটা লেখকের উপর নয়। বিরক্তিটা অন্য জায়গায়। আমি জাগো সম্পর্কে খুব বেশি জানিনা। এদের আয়োজন সম্পর্কেও না। কিন্তু শিকারী বেড়ালের গোঁফ দেখেলেই চেনা যায়। আমিও যে অল্প একটুখানি ফেসবুক/ব্লগে নজরে এসেছে তাতেই এদের উপর শ্রদ্ধা হারিয়েছি। এই কথাগুলো খানিকটা আমি আগেও বলেছি একটা মন্তব্যে।

আমার ভালো লাগেনি এদের আয়োজনে সবার চোখ ঝলসে দেবার ইচ্ছে। এদের চেঁচামেচি। সবার মনোযোগ আকর্ষনে এদের নিরন্তর চেষ্টা। এটা তো ভণ্ড রাজনীতিবিদদের কাজ। সবার "স্বীকৃতি'র এদের এতো প্রয়োজন কেন? এদের কেন ডিজাইন করে গেঞ্জি বানিয়ে রাস্তায় নামতে হবে? একটা গেঞ্জির দাম ৫০ টাকা হলে সেটা দিয়ে তো আরো একটি শিশু সেবা পেতে পারত! সেবা করাটা এদের লক্ষ্য নাকি "সেবা করছে সেটা দেখানো' এদের লক্ষ্য? একটি শিশুর সত্যিকার কষ্ট লাঘবে এদের আত্মতৃপ্তি? নাকি কিছু হোক নাহোক সেবা করার জন্য তারা নিজেরা সারাদিন রোদে ঘুরেছে সেটাতে তাদের আত্মতৃপ্তি!?

এমনিতে বাচ্চাদের জন্য স্কুল হয়েছে শুনেছি। অসাধারণ! বাচ্চারা খাবার, কাজ, সেবা পাচ্ছে! দারুণ! সংশ্লিষ্টদের আমার অভিনন্দন রইল। শুভকামনাও রইল। কিন্তু যে ৭০০০ স্বেচ্ছাসেবকের কথা বলা হয়েছে তারা আসলে ওই একদিনের জন্যই (খুব আশা করে থাকি সেটা না হোক)! ৭০০০ মানুষ যদি সত্যি সত্যি শিশুদের জন্য কাজ করতে থাকে, তাহলে সেটা দেখার জন্য মিডিয়ার দরকার নেই। সেটা সবার নজরে এমনিতেই পড়বে। একটা শহরে পরিবর্তনটা হবে খুব স্পষ্ট। কোনো সন্দেহ নেই।

একটি প্রশ্ন, জাফর ইকবাল স্যার গেঞ্জি গায়ে দিয়ে এদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছেন অথবা কেএফসি, ওয়ান্ডারল্যান্ড, দূতাবাস এদের সঙ্গে আছে তাতে কী প্রমাণ হলো বুঝতে পারিনি!?

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

রেজওয়ান এর ছবি

"একটি প্রশ্ন, জাফর ইকবাল স্যার গেঞ্জি গায়ে দিয়ে এদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছেন অথবা কেএফসি, ওয়ান্ডারল্যান্ড, দূতাবাস এদের সঙ্গে আছে তাতে কী প্রমাণ হলো বুঝতে পারিনি!?"

-

আমি আসলে যুক্তিতে কাচা আমি শুধু অ্যানোমালিগুলো উস্কে দিয়েছি আলোচনার জন্যে- কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি। আমিও কনফিউজড। তবে ভেবে দেখুন এগুলো কেন সম্ভব হয়েছে - আর অন্য জাতীয় আন্দোলনগুলোতে আক্কু চৌধুরীর পিজ্জা হাটকে পাই না কেন? এর পেছনে কারা আছে - টিটিএল কে দিয়ে ছবি তোলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে - কোন মিডিয়াকে নয়।

তবে আমাদের সমালোচনা এমন হওয়া উচিৎ বলে মনে করি যাতে তা যেন এইসব নবীন স্বেচ্ছাসেবকদের (যারা সত্যিই মনপ্রাণ দিয়ে বিশ্বাস করছে যে তারা ভাল কিছু করছে) আহত না করে। তারা যদি ভুলও করে সেগুলো তাদের প্রতি সম্মান রেখেই তাদের ধরিয়ে দিলে ফল পা্ওয়া যেতে পারে। নাহলে তাদের দরকারের সময় পাওয়া যাবে না। তাদেরও বুঝতে হবে কোনটি আসল অ্যাক্টিভিজম।

কল্যাণF এর ছবি

গুরু গুরু

কল্যাণF এর ছবি

সংযুক্তিঃ ইমোটা উপরে অনার্য সঙ্গীতের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে দেয়া, মন্তব্যের জবাব ক্লিক করে দেয়া হলেও কেমনে কেমনে সরে গেছে।

অরফিয়াস এর ছবি

কিছু দিন ধরেই ভালো তর্ক বিতর্ক চলছে ব্যাপারটা নিয়ে, আমার পরিচিত কয়েকজন জাগো এর সাথে কাজ করছে তাই তাদের থেকে কিছুটা ধারণা ছিলো, বিশেষ করে আগের ঈদ এর আয়োজন সম্পর্কে, কিন্তু এবার জাগো নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে তাতে ভালো করে আবার দেখলাম জাগো সংশ্লিষ্ট সাইটগুলো, কিছু ব্লগ, এবং মন্তব্য, প্রথমেই বলছি জাগো এর আয়োজনে যদি সত্যি কিছু দুস্থ শিশুর ভালো হয়ে থাকে, তাহলে তার জন্য সাধুবাদ|

কিন্তু একই সাথে কিছু প্রশ্নেরও জন্ম হচ্ছে, জাগো তাদের কার্যক্রম নিয়ে যে পরিমান প্রচার করেছে, বিশেষ টি-শার্ট, স্টিকার আরও জিনিসপত্রের পিছনে যা খরচ হয়েছে, সেই টাকার অঙ্ক মনে হয় কমনা, তাহলে এত বিপুল প্রচারের পেছনে টাকা খরচ না করে সেটা কি সরাসরি দুস্থ শিশুদের জন্য ব্যাবহার করা যেতোনা???

তরুণ মাত্রই উদ্দাম-উন্মাদনা থাকবে, ভালো কথা, কিন্তু প্রতিটা কার্যক্রমকে এতটা হাইলাইট করাতে যেটা হয়েছে, মানুষের নজরে তরুনদের উচ্ছাসটাই বেশি চোখে পরেছে, তাই এর পেছনের গুরুত্ব অনেকটাই হারিয়ে গেছে, কার্যক্রম পরিচালনাকারী সদস্যদের এব্যাপারে নতুন করে ভাবা উচিত|

পথশিশুদের সাহায্য করার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুগম্ভীর একটি কাজ হাসি-ঠাট্টা, কিংবা তারুন্যের প্রানের আবেগে ভাসিয়ে দিলে চলবে কি??? হয়তো সাধারণ জীবন থেকে বাইরে এসে কিছু একটা করার থ্রিলে অনেকেই ঝোকের বসে কার্যক্রমে অংশও নিচ্ছে, কিন্তু তাদের এই কাজ বড় পরিসরে ফাউন্ডেশনের কাজকে কতটা সাহায্য করছে বা কতটা ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে সেটা দেখাও প্রয়োজন|

কোনো পদক্ষেপ নিতে গেলে হাজারো প্রশ্ন উঠে, সেটা সমাজে স্বাভাবিক, তাই অনেকে পদক্ষেপ নেওয়া থেকেই বিরত থাকে, কিন্তু যদি সাহস করে কেউ এগিয়ে যায় তাহলে এই সংক্রান্ত সব ঘটনার দায় দায়িত্বও তাকেই বহন করতে হবে, তাই কার্যক্রমে জবাবদিহিতা ও সচ্ছতা প্রয়োজন| আর যেই বিপুল পরিমান স্বেচ্ছাসেবী অংশ নিয়েছে, তাতে তাদের অনুদানই যথেষ্ঠ বড় হওয়া উচিত, তার সাথে যে পরিমান অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে তাতে বেশ ভালো ভাবেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারা উচিত, সেক্ষেত্রে এত বিপুল পরিমান অর্থের হিসেবে সচ্ছতা একান্ত কাম্য|

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

নজরুল ইসলাম এর ছবি

জাগো নিয়ে এতো বেশি আলোচনা চারদিকে, একপর্যায়ে পড়াই বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আপনার ব্লগটা ভালো লাগলো।
ফুল বিক্রিলব্ধ টাকা দিয়ে কী করা হচ্ছে? গতবার ২৪ লাখ, এবার ৩৮ লাখ... এই টাকাগুলো পথশিশুদের কতটুকু উপকারে লাগছে?

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

উচ্ছলা এর ছবি

বছর জুড়ে স্কুলের বাচ্চাদের বই-খাতা, খাদ্য, চিকিৎসা এবং আনুসাঙ্গিক খরচ বহন, স্কুল বিল্ডিং মেইটেনেন্স, ইউটিলিটি বিলস্...এসবের যোগান কোথ্থেকে, কিভাবে আসে বলতে পারেন? হাসি

'জাগো'র প্রেসিডেন্ট ছেলেটির সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বলে দেখুন না; আপনার ভালো লাগবে। গ্যারান্টিড। আপনাদের একটুখানি মোরাল সাপোর্ট পাবার জন্য ওরা কতটা উন্মুখ হয়ে আছে, যদি জানতেন।

উচ্ছলা এর ছবি

চমৎকার পোস্ট।

স্পর্শের বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি সহমত।

এখানে একজন বলেছেন,

"আমার ভালো লাগেনি এদের আয়োজনে সবার চোখ ঝলসে দেবার ইচ্ছে। এদের চেঁচামেচি। সবার মনোযোগ আকর্ষনে এদের নিরন্তর চেষ্টা। এটা তো ভণ্ড রাজনীতিবিদদের কাজ।"

- সমাজসেবায় আরও বেশি সংখ্যক কিশোর-তরুনদের উদ্বুদ্ধ করার উদ্দেশ্যেই এভাবে ইচ্ছাকৃতভাবে আয়োজনটিকে বর্ণীল করা হয়েছে। আপনার-আমার মত মাঝবয়সী অ-তরুনদের কাছে যা 'চেঁচামিচি', ওদের কাছে তা রঙিন, উল্লাসময়। ওদের Perspective-এ ব্যাপারটি দেখতে চেষ্টা করুন অনুগ্রহ করে।

'সমাজসেবা' conceptটি 'গুরুগম্ভীর' হলে স্বাভাবিকভাবেই কিশোর-তরুনদের তা আকৃষ্ট করবে না। 'সমাজসেবা' হৃদয় দিয়ে উপভোগ করার বিষয়, যে কোনো Changemaker-কে জিজ্ঞেস করলে তা জানতে পারবেন। নিঃস্বার্থভাবে অন্যের জন্য কাজে নামা কতটা আনন্দের, এটা বুঝাতেই সেদিনের কর্মসূচি এত প্রাণপ্রাচুর্যময় করে সাজানো হয়েছিল।

"এদের কেন ডিজাইন করে গেঞ্জি বানিয়ে রাস্তায় নামতে হবে?"...ক্ষতি কোথায় হলো তাতে?...শহরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য এটি প্রয়োজনীয় ছিল। নিজেদের গেঞ্জির খরচ ওরা নিজেরাই যুগিয়েছে।

"সবার "স্বীকৃতি'র এদের এতো প্রয়োজন কেন?"...নতুন donors, sponsorsদের স্বীকৃতির প্রয়োজন আছে কর্মসূচীকে সফল/সচল রাখতে। যে কোনো কর্মসূচীর প্রসার ঘটাতে প্রচারের প্রয়োজন আছে বৈ-কি।

'জাগো'র সাম্প্রতিক কর্মসূচির কারণেই আমি দশজন sponsorsকে উদ্বুদ্ধ করেছি প্রতিমাসে মাত্র ১০,০০০ টাকা দেয়ার জন্য যা দশজন পথশিশুর স্কুল এবং আনুসাঙ্গিক খরচ বহন করবে।( কিছু না করে বসে থাকার চেয়ে স্বল্প পরিসরে কাজ করে যাওয়াকে আমি ব্যক্তিগতভাবে শ্রেয় মনে করি)।

কোনো প্রচেষ্টাই ত্রুটিমুক্ত নয়। আশা করছি, ভুল-ত্রুটি শুধরে নিয়ে 'জাগো' এগিয়ে যাবে অমিত শক্তিতে।

শিশিরকণা এর ছবি

চলুক

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

অরিত্র অরিত্র এর ছবি

চলুক

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

"একজন' বলতে আমাকে বুঝিয়েছেন? নাম ধরতে কোনো সমস্যা নেই। হাসি

আপনার-আমার মত মাঝবয়সী অ-তরুনদের কাছে যা 'চেঁচামিচি', ওদের কাছে তা রঙিন, উল্লাসময়। ওদের Perspective-এ ব্যাপারটি দেখতে চেষ্টা করুন অনুগ্রহ করে


আমি মাঝবয়েসি অ-তরুণ কিনা সে নিয়ে তর্কে যাচ্ছি না, কিন্তু আমি "আপনার মতো' নই সেটা নিশ্চিত। হাসি

রঙিন এবং উল্লাসময় ব্যপারটাতেই আমার প্রশ্ন। সেই প্রসঙ্গে পরে আসছি। আগে বলে নেই, আমি কোন ব্যক্তি/গোষ্ঠীর চোখ দিয়ে কিছু দেখতে রাজি নই। যেটা সত্য এবং সরল সেটা যার চোখ দিয়েই দেখেন বদলাবে না। কোথাও কেউ যদি কোন অপরাধীকে সবার সামনে গলা কেটে মেরে ফেলে তাহলে সেটা তার দৃষ্টিভঙ্গীতে ন্যায় হতে পারে কিন্তু আমি তার দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখে সেটাকে ন্যায় বলে মেনে নেব না। (এই উদাহরণটা আপনার জন্য। জাগো'র দৃষ্টিভঙ্গি খারাপ বলে কোন ইঙ্গিত করছি না।)

রঙিন এবং উল্লাসময় প্রসঙ্গে আসি। এমনিতে কারো কাছে কিছু রঙিন এবং উল্লাসময় হলে তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু (যেমনটা আমি আমার মন্তব্যে বলেছি কিন্তু আপনি এড়িয়ে গেছেন) রঙিন এবং উল্লাসময় কোনোকিছুকে যখন শিশুসেবার নাম দিয়ে স্বীকৃতি দাবী করা হয় সেই স্বীকৃতি দিতে আমি রাজি নই। রঙিন এবং উল্লাসময় করার জন্য একটি শিশুর পেছনে যতো ব্যয় হয়েছে এরা তারচাইতে বেশি অর্থ খরচ করেছে নিজের পেছনে! একটি শিশুর হাসিমুখ দেখেই তো এদের আত্মা পরিশুদ্ধ হয়ে যাওয়ার কথা, হয়নি কেন? একটি শিশু তৃপ্তি নিয়ে খেতে পাচ্ছে সেটা দেখেই তো এদের দিন রঙিন এবং উল্লাসময় হয়ে যাওয়ার কথা, হয়নি কেন?

দেশের নেতা তার বিলাসবহুল গাড়ি থেকে নেমে দুমিনিট মাটি কোপালে সেটা তার কাছে অনেক কিছু। ওই পরিশ্রমটাই সে কখনো করেনা। কিন্তু তাতে দেশের কিছু যায় আসে না। যায় আসে কিছু মানুষের যারা নিজেদের নেতার পরিশ্রম দেখে অর্গাজমের সুখ পান। এবং সেই মাটি কোপানো ছবি দেয়ালে টাঙিয়ে রাখেন। এই নেতারাই সাংবাদিক না থাকলে দান করতে পারেন না! এই ৭০০০ ছেলেমেয়ে ৫০০ টাকা করে দিলে তো ৩৫ লক্ষ টাকা হয়, জাগো'র এবছরের বাজেট হয়ে যাওয়ার কথা! আমাকে কী বিশ্বাস করতে বলছেন এদের সেটা দেবার সামর্থ নেই?

মুই কী হনুরে' দেখানো যখন উদ্দেশ্য তখন সেই কাজকে আমি শ্রদ্ধা করতে রাজি নই।

বললেন, নিজেদের টাকায় গেঞ্জি কেনার কথা। (তিতা হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তবুও একটা উদাহরণ হিসেবে আবার কচলাই) একটা সাধারণ হিসেব করি, ৭০০০ কর্মী যদি ৫০ টাকা দিয়ে একটা গেঞ্জি বানিয়ে থাকে, তাহলে তার মূল্য হয় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা। বাকি সব বাদ দিলাম, এই একটাই ধরি, ১ হাজার শিশুর একদিনের খুশির জনসেবা করতে যদি সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা "have fun' বাজেট হয় তাহলে সেই জনসেবা দেখে আমি কেন নাক কুঁচকাবো না?

আপনিই বললেন, মানুষকে জানানো দরকার, লোক দেখানো দরকার। ডোনারকে দেখানোর জন্য হলে পিকনিক না করেও সেটা করার উপায় আছে। চেষ্টা করলেই জানতে পারবেন। স্বীকৃতির যে কথাটা বললেন, সেইখানে আসি, আমি সাধারণ মানুষের একজন। আয়োজন দেখে আমার কী মনে হয় সেটা আমি বলবই। আপনি যদি আশা করে থাকেন আপনি যাই করবেন তাতে দেশসুদ্ধ মানুষ এসে কোলে তুলে বাহবা দেবে তাহলে তো বিপদ! লোকের কাছে স্বীকৃতি চাইলে লোকের প্রশ্নের মুখেও পড়তে হবে!

প্রশ্নের মধ্য দিয়ে যেতে না পারলে কিছু করার চেষ্টা না করাই ভালো। আমার মন্তব্যের বিরাট অংশ কোট করতে ভুলে গেছেন আপনি,

অনেকগুলো ভালো দিক আছে এই আয়োজনের। নিশ্চয়ই। একটা পথের শিশু যদি একবেলা খেতে পায়, সেটা যে কারণেই হোক, তাহলে সেটা খুব ভালো ব্যপার।
জাগো'তে অনেকেই (আশা করছি সিংহভাগ) সত্যিকারের সেবা দিতে যুক্ত হয়েছেন বলে ধরে নিলাম। তাঁদেরকে অভিনন্দন এবং শ্রদ্ধা।
কিন্তু আমি এসবের বিরোধিতা করছি না। কেবল নিজের অবস্থান জানাচ্ছি। এমনিতে, বেশতো, স্বাধীন দেশের স্বাধীন ছেলেমেয়েরা (কারো ক্ষতি না করে) যেটা করে ভালো থাকে থাকুক! হাসিখুশি মুখ দেখতেও তো ভালো লাগে।
এমনিতে বাচ্চাদের জন্য স্কুল হয়েছে শুনেছি। অসাধারণ! বাচ্চারা খাবার, কাজ, সেবা পাচ্ছে! দারুণ! সংশ্লিষ্টদের আমার অভিনন্দন রইল। শুভকামনাও রইল।

অনেকখানি পরামর্শের মতো ব্যপারও ছিল আমার মন্তব্যে। সে যাকগে। আপনার সেসব ভুলে যাওয়াই শ্রেয়। পিকনিকে যেতে চাইলে সেসব কোনো কাজর লাগবেনা আপনার।

[অশেষ শুভকামনা এবং অভিনন্দন জাগোর সেইসব কর্মীকে জন্য যাঁরা, শিশুদের খুশি দেখলে খুশি হন। যাঁদের আত্মতৃপ্তির জন্য শিশুদের হাসিমুখই যথেষ্ট। লোকের চোখে পড়ার জন্য গেঞ্জি বানিয়ে, ঢাক পিটিয়ে, শিশু কোলে ছবি তুলে প্রোফাইল পিকচার দেবার যাঁদের দরকার নেই! জাগো'র বিরুদ্ধে আমি নই। আমিও জাগোর একজন হতে চাই। কিন্তু জাগো যদি বারুদের বিস্ফোরণ হয় তাহলে আমি সেই দলে আমি যেতে পারিনা। আমি যেতে পারি যদি জাগোর একেকজন একএকটি প্রদীপ হয়ে রাতভর জ্বলতে থাকেন অবহেলিত শিশুদের পাশে।]

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

দ্রোহী এর ছবি

গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু

রাজিব মোস্তাফিজ এর ছবি

অশেষ শুভকামনা এবং অভিনন্দন জাগোর সেইসব কর্মীকে জন্য যাঁরা, শিশুদের খুশি দেখলে খুশি হন। যাঁদের আত্মতৃপ্তির জন্য শিশুদের হাসিমুখই যথেষ্ট। লোকের চোখে পড়ার জন্য গেঞ্জি বানিয়ে, ঢাক পিটিয়ে, শিশু কোলে ছবি তুলে প্রোফাইল পিকচার দেবার যাঁদের দরকার নেই! জাগো'র বিরুদ্ধে আমি নই। আমিও জাগোর একজন হতে চাই। কিন্তু জাগো যদি বারুদের বিস্ফোরণ হয় তাহলে আমি সেই দলে আমি যেতে পারিনা। আমি যেতে পারি যদি জাগোর একেকজন একএকটি প্রদীপ হয়ে রাতভর জ্বলতে থাকেন অবহেলিত শিশুদের পাশে।

খুব ভালো লাগল এ কথাগুলো । নিচের রিপোর্টটা পড়ে কিন্তু আমার মনে হলো বারুদ না হয়ে প্রদীপ হয়ে জ্বলতে থাকার
কাজটুকু ওঁদের কেউ কেউ শুরু করে দিয়েছে --

এর সূচনাটা অবশ্য এ শহরে নয়, সিলেট শহরের কোনো একটা আস্তাকুঁড়ের পাশে। সিলেট শহরে একটা জরিপ চালাতে গিয়ে কয়েকটা পথশিশুর সঙ্গে পরিচয় হয় একুশে পা দেওয়া তরুণ করভী রাখসান্দের। কাজ শেষ করে যখন ফিরতে যাবেন করভী, তখন সেই বাচ্চাগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে ছোট মেয়েটা তাঁর হাত টেনে ধরল। তারপর আবদারি গলায় বলল, ‘তুমি কি আমার বাবা হবা? আমাকে নিবা তোমার সঙ্গে?’
হতভম্ব করা সেই প্রশ্নের জবাব করভীর জানা ছিল না। তাই কোনো জবাব না দিয়েই সেদিন চলে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু অবুঝ মেয়েটার করা সেই আকুতিময় প্রশ্নটা তাঁর পিছু ছাড়ে না। ঘুমে, জাগরণে তারিয়ে নিয়ে বেড়ায় তাঁকে দিনের পর দিন। করভী রাখসান্দ তাই একদিন ঠিক করে ফেললেন, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুগুলোর জন্য তাঁকে কিছু একটা করতে হবে। একদিন বন্ধুবান্ধবকে ডেকে বস্তির গরিব শিশুদের জন্য একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল খোলার কথা বললেন। শুনে বন্ধুরা হেসেই খুন। বস্তির পোলাপানের জন্য স্কুল? তাও আবার ইংলিশ মিডিয়াম? কে-ই বা তাতে সায় দেয়? সাতজন বাদে শেষতক সবাই কেটে পড়ল। এই সাত বন্ধুকে নিয়ে শুরু হলো ‘জাগো ফাউন্ডেশন’-এর পথচলা। রায়েরবাজারের সাদেক খান রোডের বস্তির পাশে ঘর ভাড়া নেওয়া হলো। সারা দিন বস্তিতে ঘুরে ঘুরে বাচ্চাদের ধরে আনা হলো স্কুলে। ১৭টি বাচ্চা জুটল প্রথম দফায়। মায়ের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে একটা হোয়াইট বোর্ড এনে দেয়ালে বসালেন করভী। এক বড় ভাইয়ের দেওয়া টাকায় কার্পেট কিনে মেঝেতে বসার ব্যবস্থা হলো।
ব্যস, শুরু হয়ে গেল স্কুল। কিন্তু সমস্যা হলো, এই বাচ্চাগুলো কাজ করে তাদের সংসারের অর্থ জোগায়। ওরা যদি কাজ বাদ দিয়ে স্কুলে আসে, তাহলে খানিকটা হলেও কমে যাবে সংসারের আয়। তাই সিদ্ধান্ত হলো, এদের স্কুলে ধরে রাখতে প্রত্যেককে প্রতিদিন আধা কেজি করে চাল দেওয়া হবে। প্রথম দিকে নিজেদের পকেট থেকেই এ খরচ মেটাতে হলো করভী ও তাঁর বন্ধুদের। কিছুদিন যাওয়ার পর তাঁদের পরিচিতরাও কেউ কেউ বাড়িয়ে দিলেন সাহায্যের হাত। তাতে স্কুল চলছিল ভালোই। কিন্তু ১৭ জন থেকে এর মধ্যেই চল্লিশে দাঁড়িয়ে গেল শিক্ষার্থীর সংখ্যা। খরচটাও বেড়েছে অনেক। টাকার টানাটানিতে কয়েক মাসের বাড়িভাড়া বাকি পড়ল। এর মধ্যেই হঠাৎ করে একদিন বিথী নামের একটি মেয়ে করভীকে বলল, ‘স্যার, আমার আর চালের দরকার নাই। সেই টাকা দিয়ে আপনারা বাসাভাড়া দেন। তবু এই স্কুল যেন বন্ধ না হয়ে যায়।’
পরদিন ৪০টি বাচ্চার অভিভাবকেরা এসে হাজির। তাঁদের কারোরই চাল দরকার নেই। সেই পয়সা বাঁচিয়ে স্কুলঘরের ভাড়া মেটাতে বললেন তাঁরা। স্কুলটা যেন এখানেই থাকে। দুই মা তাঁদের গলার চেইন পর্যন্ত খুলে দিলেন। স্কুল তাই টিকে গেল। তারপর দেখতে দেখতে তিন বছর কেটে গেছে। এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৮০।

লিংক

----------------------------------------------------------------------------
একশজন খাঁটি মানুষ দিয়ে একটা দেশ পাল্টে দেয়া যায়।তাই কখনো বিখ্যাত হওয়ার চেষ্টা করতে হয় না--চেষ্টা করতে হয় খাঁটি হওয়ার!!

কল্যাণF এর ছবি

গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

বাংলাদেশ সরকারের একটা অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ হলো প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। সামরিক খাই মিটিয়েও শিক্ষাখাতে যে অপ্রতুল বাজেট বরাদ্দ দেয়া সম্ভব হয়, সেটা দিয়ে শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এমনকি দশম শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের বৃত্তি দেয়াও হয়। পথশিশু হোক আর ঘরের শিশু হোক, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার জন্য পর্যাপ্ত স্কুল আছে, বইপত্র আছে। এরপরেও যারা স্কুলে যায় না, তাদের কারণ ভিন্ন: অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা ও পিতামাতার অসচেতনতা।

সুতরাং শিশুদের আসলেই উপকার করতে চাইলে ওই সেক্টরগুলোয় কাজ করতে হবে। শিক্ষার জন্য বিকল্প ইনফ্রাস্ট্রাচারের দরকার নাই। ইংরেজি মিডিয়ামে শিক্ষা দিয়ে বরং শিশুদের ক্ষতি করা হচ্ছে। এরা দেশের মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার সাথে পাল্লা দিতে সমর্থ হবে না। 'উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশগমন' এর সুযোগ ছাড়া ইংরেজি মিডিয়াম বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে নিম্ন আয়ের বাপমায়ের সন্তানের জন্য একটা সমস্যা।

'কিছু একটা তো করছে' - কোনোকিছুকে সমর্থন করার জন্য এই বক্তব্য কামের না। কি করছে, কেন করছে - এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার আগে ছাড়পত্র দিলে সমস্যা। কর্পোরেট নিজের স্বার্থের বাইরে কিছু করে না - এটা ধ্রুবসত্য। সেই স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে গরীবের আদতে উপকার হচ্ছে, না ক্ষতি হচ্ছে - এই হিসাবটা খুবই বাস্তব।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

দ্রোহী এর ছবি

গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

চলুক

চরম উদাস এর ছবি

কার্যক্রমে কিছু সমস্যা হয়তো আছে, যার কিছু আলোচনায় উঠে এসেছে। সেগুলো কাটিয়ে উঠে জাগো এগিয়ে যাক এই কামনা করি।

বন্দনা কবীর এর ছবি

কদিন ধরে জাগোকে নিয়ে যত পোস্ট পড়েছি এটি সেরা । চমতকার লেখা।

আর কমেন্টার স্পর্শএর যুক্তিতর্ক/বক্তব্য প্রশংসনীয় স্বচ্ছ।

যে কোন নূতন উদ্যোগে প্রথমেই সন্দেহে ভুরু কোঁচকানো আমাদের স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ আন্তরিকতা নিয়ে ভাল কাজ করতে চাইলেও করতে পারেনা এই সন্দেজের শরের ভয়েই। ধ্রুবকে সেই অর্থে সেল্যুট আপাততঃ।

বাংলা/ইংলিশ মিডিয়াম বলে বলে দুটো জাতি তৈরীর চেষ্টা দেখে প্রচন্ড ধাক্কা খেলাম। আমার এক ছেলে ইংলিশ আরেকটি বাংলা মিডিয়ামে হলে কি তারা আমার কাছে আলাদা মর্যাদা বা অবহেলা পাবে?!
আর ধনীর সন্তান মানেই সে বোধহীন মাকাল এমন ভাবনাও হাস্যকর। আমাদের ইতিহাস ঘাঁটলেই দেখতে পাওয়া যায় বড় বড় বিপ্লবের হোতাদের বেশিরভাগই ছিলেন জমিদার তনয় বা সেইরকমের পয়সাওয়ালা ঘরের সন্তান।

সুন্দর একটা গঠনমূলক লেখার জন্য রেজোয়ানকে অনেক ধন্যবাদ।

হিমু এর ছবি

আর ধনীর সন্তান মানেই সে বোধহীন মাকাল এমন ভাবনাও হাস্যকর। আমাদের ইতিহাস ঘাঁটলেই দেখতে পাওয়া যায় বড় বড় বিপ্লবের হোতাদের বেশিরভাগই ছিলেন জমিদার তনয় বা সেইরকমের পয়সাওয়ালা ঘরের সন্তান।

আমাদের ইতিহাসে যত বিপ্লবী জমিদারনন্দন আছে, বোধহয় তার এক হাজার গুণ বেশি অত্যাচারী, লম্পট ও প্রজানিপীড়ক জমিদারনন্দন আছে। কিন্তু তারপরও আপনার এই কথাটা খুব মজার। আমিও খণ্ডিত ঢাকার মেয়র হিসেবে বলদিয়ার বিপ্লবী জমিদার ইড়াদ ভাইয়াকে ভোটাবো ভাবছি।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

আমাদের ইতিহাস ঘাঁটলেই দেখতে পাওয়া যায় বড় বড় বিপ্লবের হোতাদের বেশিরভাগই ছিলেন জমিদার তনয় বা সেইরকমের পয়সাওয়ালা ঘরের সন্তান।

হো হো হো মাইরা ফালাইবেন নাকি! হো হো হো

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

সজল এর ছবি

আমাদের ইতিহাস ঘাঁটলেই দেখতে পাওয়া যায় বড় বড় বিপ্লবের হোতাদের বেশিরভাগই ছিলেন জমিদার তনয় বা সেইরকমের পয়সাওয়ালা ঘরের সন্তান।

উদাহরণ স্বরূপ?

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

হিমু এর ছবি

সিধু
কানু
বিনয়
বাদল
দীনেশ
সূর্যসেন
ক্ষুদিরাম
প্রফুল্ল চাকী
ব্যাটম্যান
রবিন
ইড়াদ ভাইয়া

এরা সবাই হয় জমিদার নয়তো রইস ঘরের ছোলপোল। নাকি?

দ্রোহী এর ছবি

"দুদুরাম" নামে বাংলার জনৈক জমিদারনন্দন বিপ্লবীকে নিয়ে একটা গল্প লেখবেন নাকি আমি নিজেই লেখব?

ব‌্যাটম‌্যানের মত একজন জমিদারতনয় রাতের অন্ধকারে রবিনের মত অল্প বয়সী একটা ছেলেকে নিয়ে কী করে সেটা কি বুঝি না আমরা? চোখ টিপি

বন্দনা কবীর এর ছবি

ধুৎ ভাল্লাগেনা... তিন তিন্টে ইমো যে দিলাম কমেন্টটায় সেগুলো কই গেল?!!

আর ধনীর সন্তান মানেই সে বোধহীন মাকাল এমন ভাবনাও হাস্যকর।

আমাদের ইতিহাস ঘাঁটলেই দেখতে পাওয়া যায় বড় বড় বিপ্লবের হোতাদের বেশিরভাগই ছিলেন জমিদার তনয় বা সেইরকমের পয়সাওয়ালা ঘরের সন্তান।
চোখ টিপি ;) খাইছে (কমেন্টটা ছিল এইরকম মন খারাপ )

ভাইরে/বইনরে , ল্যাপির এই পাশে বসে কি বোর্ডে লেখার সময় লেখকের মুখের এক্সপ্রেশন বোঝার জন্যই তো ইমোর উদ্ভাবন, নাকি?
এখন আপনাদের সার্ভারের ত্রুটির কারনে যদি সেগুলো না আসে তো আমার কি করা? :i

তবে... কেউ কেউ যে ব্যাপক হেসেছেন সেটাও মন্দ কি? কারুর মুখে হাসি ফোটানোও "বিড়াট" ব্যাপার। সোয়াবের কাজ।
সামান্য দুইটা ইমো না আসার ভুলে যদি কারো স্বাস্থ্যের কিছু উন্নয়ন হয়(হাস্লে স্বাস্থ্য ভালু থাকে), সেটাই বা কম কি? দেঁতো হাসি
হাসতে থাকুন ভালু থাকুন।

হিমু এর ছবি

হুঁ সচলের সার্ভার খুব দুষ্টু।

শাহেরীন আরাফাত এর ছবি

'জাগো ফাউন্ডেশন' মূলত একটি এনজিও। যাদের টাকার মূল যোগানদাতা বেশকিছু মাল্টি-ন্যাশনাল কর্পোরেট হাউজ, আর সেই সাথে জড়িত থাকে এদেশে তাদের স্বার্থ। এই ফাউন্ডেশনের সাথে মূলত যারা জড়িত, তারা হলেন এদেশের উচ্চ ও মধ্যবিত্ত। আর এই শ্রেণী চরিত্র হতেই তারা নিজের দায়বদ্ধতা ঘুচাতে সমাজ-সেবার নামে প্রহসন করে বেড়ান।
এদেশের ৫০%, মানে প্রায় ৯ কোটি মানুষ দরিদ্র অথবা অতি-দরিদ্র, আর শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে এই অর্ধাহারে-অনাহারে ভোগা মানুষগুলোর কষ্ট অনুভব করা, বা একবেলা ফুল বেচে ফেরী করা সুবিধা-বঞ্চিত শিশুদের কষ্ট অনুভব করা এই ইংলিশ মিডিয়ামের লস্ট জেনারেশনের পক্ষে কদ্যপি সম্ভব নয়।
অনেকেই এসব ফাউন্ডেশনে যান নিজের সুশীলত্ব জাহির করতে, মিডিয়া কাভারেজ পেতে, আবার কেউ কেউ টাঙ্কি মারতে, বা আড্ডা দেওয়ার উদ্দেশ্যেও যান। তবে শোষণ, বঞ্চনা রোধে এমন জায়গাতে একটি প্রাণীও যান বলে আমি অন্তত মনে করিনা।
আমি মোটেও সুশীল নয়, আর তা হতে চাই-ও না। রাজনীতির বাইরে কিছুই নাই, একটা কাপড়ের টুকরা থেকে মহাকাশযান পর্যন্ত; সবকিছুতেই আছে রাজনীতি। আর এই শোষণের অবসানের জন্যও রাজনীতির বাইরে যাওয়ার কোন অবকাশ নাই। ইউনুস, আবেদ, জাফর ইকবাল, প্রথমালু, চ্যানেল আই গং'দের মত যারা 'রাজনীতি কলুষিত' বলে তরুণদের রাজনীতির বাইরে থাকার পরামর্শ দেন, তারা যে পুঁজিবাদ/সাম্রাজ্যবাদের এদেশীয় দালাল/পা-চাটা কুত্তা; তা অন্তত আমার কাছে পরিষ্কার। আর তাদের বিরাজনীতিকরণ তত্ত্বের মাঝে লুকিয়ে আছে বর্তমানের ন্যায় ভবিষ্যতেও এদেশে তাদের মণিবদের দালাল/মেরুদন্ডহীন সরকার টিকিয়ে রাখার দুরভিসন্ধি...
একটা লেখা এখানে শেয়ার করছি-
http://wp.me/p1T4sZ-5K

পরিশেষে, এ ধরণের সমাজ সেবায় (!) কেবলই মিডিয়া কাভারেজ আর দায় এড়ানোটাই থাকে মুখ্য...এর সাথে আজ যারা জড়িত হচ্ছে, কাল হয়ত তাদের মাঝেই কেউ কেউ একজন ইউনুস, একজন আবেদ, বা একজন মতি, একজন জাফর ইকবাল হিসেবে সমাজে প্রকাশ পাবে... কিন্তু আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, এদের মাঝে কোন লেনিন, স্ট্যালিন, মাও, সিরাজ সিকদার হবে না। আত্মকেন্দ্রিক, লোভী, পুঁজিবাদ/সাম্রাজ্যবাদই হবে তাদের পাথেয়... আমি শ্রেণী চরিত্রের বিশ্লেষণ থেকেই কথাটা বলেছি, আর ব্যতিক্রম কখনোই উদাহরণ নয়...সঠিক রাজনৈতিক চর্চ্চা ও এর অনুশীলনের মাধ্যমেই আমরা এথেকে মুক্তি পেতে পারি বলে মনে করি...

হিমু এর ছবি

লেনিন স্তালিন মাওয়ের পর সিরাজ সিকদারের নাম দেখে হাসতে হাসতে চোখে পানি চলে এলো। বাংলার বামদের এতো দুরবস্থা? এরচে বাংলার চে গুয়েবাড়া ফারুক ওয়াসিফের নাম বললেও তো হৈত!

সিরাজ সিকদার একটা স্টান্টবাজ হিটখোর ছিলো, আশা করি সিরাজ সিকদারকে এ যুগের পোলাপান রোল মডেল বানাবে না। লেনিন স্তালিন মাও হওয়ারও দরকার নাই, মানুষ সামগ্রিক সমাজের ভালো বুঝতে শিখলেই তো কাজ হয়।

শাহেরীন আরাফাত এর ছবি

আপনার জ্ঞানগর্ভ বুলি আপনার কাছেই থাক। মানুষের অনেক কিছুতেই চোখে পানি আসতে পারে, আবার কোরবানির আগে গরুর চোখেও জল আসে।
আমার মতামত আমি প্রকাশ করেছি, আর তা আপনিও প্রকাশ করবেন এটা খুবই স্বাভাবিক। তবে কারো উপরে তা চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। আর ভবিষ্যতই বলে দিবে সিরাজ সিকদার এদেশে কতটা প্রাসঙ্গিক...

হিমু এর ছবি

আমি কিন্তু এখনও হাসছি। সিরাজ সিকদারকে প্রাসঙ্গিক করে তোলার জন্য আমাদের আর কতটা ভবিষ্যৎ পাড়ি দিতে হবে ভাইডি? চলুন, আমরা বান্দরবানের পাহাড়ে সব বিপ্লবীরা মিলে উইকেণ্ডে সিরাজ সিকদার মেমোরিয়াল টানেল খোঁড়া শুরু করি। ওনার অসমাপ্ত কাজ তো আমাদেরই সমাপ্ত করতে হবে, তাই না?

নজরুল ইসলাম এর ছবি

সিরাজ শিকদার নিয়ে একটা সিরিজ ম্যালাদিন ধরে লিখবো লিখবো ভাবছি, হাজার আলসেমিতে আটকেই আছে

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

কল্যাণF এর ছবি

হেল্লেগাই এত অধঃপতন ( চোখ টিপি )। তয় আপনারেও খুচানোর ম্যাটেরিয়াল পাওয়া গেল, যাক এইডাই বা কম কি।

মৃত্যুময় ঈষৎ(অফ্লাইন) এর ছবি

লেখায় হাত দিন প্লিজ..............

হাসিব এর ছবি

আপনে মনে হয় সিরাজ সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না। এইরকম বালখিল্য রাজনীতিবিদ এখন আর নেই এটা একটা ভালো বিষয়।

হিমু এর ছবি

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, কমরেড শাহেরীন আরাফাত সচলায়তনের কুখ্যাত গুণ্ডা এডমিন হিমুর বিরুদ্ধে ফেসবুকে বামজিহাদ ঘোষণা করেছেন। তিনি অতীত স্মৃতিচারণ করে দেখিয়েছেন যে ফারুক গুয়েবাড়া ও মনজুফাউলের মতো ত্যাগী বামদের সচলায়তনের গুণ্ডা এডমিন হিমু ২০০৮ সালে নির্মমভাবে পুন্দিয়েছিলেন। তিনি সাম্রাজ্যবাদের পা চাটা দালাল হিমুর ধ্বংস কামনা করে সচলায়তনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে তাঁর ফেসবুক ফ্রেণ্ড তালিকা থেকে কেটে পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

কিন্তু কমরেড সিরাজ সিকদার মেমোরিয়াল টানেল খননের ব্যাপারে কমরেড শাহেরীনের হিরন্ময় নিস্তব্ধতা আমাদের দুঃখিত করে। ৪৫ বছর আগে সিরাজ সিকদার বান্দরবানে টানেল খননের মাধ্যমে এদেশে বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। এরপর উত্তরে তোরসা থেকে শুরু করে দক্ষিণে সাঙ্গু ধরে কত জল বয়ে গেলো, কোনো কমরেডই কমরেড সিরাজ সিকদারের সেই প্রকল্পটি সম্পন্ন করলেন না। আজ ফারুক গুয়েবাড়াদা পরীবাগে বসে বৈঠকখানার বিপ্লব করছেন, কমরেড মনজুফাউল ফেসবুকে অন্য কমরেডদের বিপ্লবী স্ট্যাটাসে লাইক মেরে মেরে নতুন বিপ্লবের সূচনা করছেন, অথচ কমরেড সিরাজ সিকদার মেমোরিয়াল টানেলটি হারিয়ে যেতে বসেছে বিস্মৃতির অতলে। এভাবে চলতে পারে না কমরেড ভায়েরা ও নারীরা আমার! ইনকিলাব জিন্দাবাদ, ভিভা লা রেভোলুসিওন, সিয়েম্প্রে পারা লা লিবেরতাদ ই লাস মুখেরেস ই উন পোকো আগারদিয়েন্তে!

কল্যাণF এর ছবি

ও ভাই আপ্নে এডমিন নাকি? বাহ ভালু ভালু, বিপ্লবের উপকারিতা টের পাইলাম। আগে টের পাইলে তেল টেল কিছু ছাড়তাম। সুযোগটা ফস্কাইয়া গেলো, আফসুস বাংলাদেশের বাম বিপ্লব বড়ই দেরীতে হয়। যাইহোক ফ্যাসিস্ট হিমুর মুন্ডু লইয়া গেন্ডুয়া খেলতে চাই ফ্যান ক্লাব কইরা বিখ্যাত হওয়ার এই একটা চান্স মনে হয় আইছে। আবার ধরেন এই বিপ্লব থিকা একটা ঝাকানাকা প্লটও বাইর হইয়া আসতে পারে। বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোউক। সেলাম ঠুকি ঠ্যাংপদ্মে।

হিমু এর ছবি

সিরাজ সিকদার মেমোরিয়াল টানেলের জন্য কিছু মেতিকাল দ্যান না। ৪৫ বছর কেটে গেলো, কেউ কথা রাখেনি মন খারাপ

কল্যাণF এর ছবি

৪৫ বছরে যখন কেউ কথা রাখলো না তখন আর কথা রাখার সম্ভাবনা নাই বইলাই মালুম হয়। তয় বিপ্লবী সমাজে মুখ্যু লোকের মালুমের তো আবার বেইল নাই। ওই টানেলে আমার মেটিক্যাল তল পাইবো নারে ভাই, ডলার-পাউন্ড হইলে তাও একটা কথা ছিল। ম্যাঁও

দ্রোহী এর ছবি

জোসেফ স্ট্যালিন একজন ভালু লোক!!!!!!!! আমি তো জানতাম "বাঞ্চোত" শব্দের প্রতিশব্দ হিসাবে স্ট্যালিনের নাম বলে লোকে!!!!!

তাহলে কার ভুলে এরকম "ফারিশতা কি তাহরা" ভালু লুককে খ্রাপ জানতুম আমি!

নীল ঘূর্ণী এর ছবি

হো হো হো হো হো হো রাজনীতি বিষয়ে আমি নিতান্তই গন্ডমূর্খ হওয়ায় চিন্তায় পড়ে গেছিলাম, এই সিরাজ সিকদার টা কে?? এরশাদ সিকদারের ছোট ভাই নাকি।। চোখ টিপি

রাজিব মোস্তাফিজ এর ছবি

সবাইকে এক ব্রাকেট বন্দী করে গালি দেয়ার কায়দাটা দারুণ

----------------------------------------------------------------------------
একশজন খাঁটি মানুষ দিয়ে একটা দেশ পাল্টে দেয়া যায়।তাই কখনো বিখ্যাত হওয়ার চেষ্টা করতে হয় না--চেষ্টা করতে হয় খাঁটি হওয়ার!!

কল্যাণF এর ছবি

বাংলাদেশের বাম নেতারা হচ্ছে এক একটা প্র্যাক্টিক্যাল জোকের (কাউকে কাউকে জোঁক ও বলা যেতে পারে মতান্তরে) অতি উৎকৃষ্ট নমুনা। উদাহরণ আপনার মন্তব্যেই ফ্যালফ্যাল করে তাকায়ে আছে। হিপক্রিট বাঞ্চতের উদাহরণ দিতে বদলে দাও এর ধারক ও বাহক মহোদয় একাই যথেষ্ট। সবকিছুতে রাজনীতি মাখায়া মাখায়া আর হাই কমান্ডের ঘাড়ে ভর দিয়া সব আচরনের ব্যাখ্যা দেয়া যে কত সোজা তা কি আর বুঝতে বাকি আছেরে ভাই? এই সব যুক্তি নতুন মুর্গীদের জন্য রাখেন মাথা খাওয়ার জন্য।

দ্রোহী এর ছবি

যে দেশে গরীব মানুষের বাড়ির চাল খুলে নিলে নোবেল শান্তি পুরষ্কার মেলে, সে দেশে জাগোর মত প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো নোবেল শান্তি পুরষ্কার পাওয়া উচিত। কে জানে, অদূর ভবিষ্যতে হয়তো পাবে।

আমাদের সিস্টেমই আলাদা!!! আমাদের সেরা লেখক ক্যানসারাক্রান্ত হয়ে আমেরিকায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে শপথ নেন দেশে ফিরে নতুন একটা ক্যানসার হাসপাতালের জন্য দুয়ারে দুয়ারে হাত পেতে টাকা তুলবেন। মিরপুরে যে একটা ভাঙ্গাচোরা ক্যানসার হাসপাতাল আছে সেটার জন্য হাত পাতার লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।

তেমনি আমাদের গরীব দেশে সেনাবাহিনীর ব্যয় এড়িয়ে যেটুকু টাকা প্রাথমিক শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দেয়া হয় তা রীতিমতো হাস্যকর রকমের অপ্রতুল। কিন্তু সে টাকা দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষাখাতে যেটুকু উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে তা ঈর্ষণীয় পর্যায়ের। ধারণা করতে পারি প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের দায়িত্বে যারা আছেন তাদের ভেতর কিছু অসাধারণ মানুষ আছেন। তাদের উদ্যোগেই হয়তো প্রাথমিক শিক্ষায় আমাদের এটুকু আছে, না হলে তাও থাকতো না। আফসোস, আমাদের দুর্বল প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমকে সহযোগিতা করার জন্য কোনদিন "জাগো" প্রতিষ্ঠিত হবে না।

কেউ এসে পোঁদফোড় সেজে ফোঁড়ন কাটতে পারে, "কোন ভাল উদ্যোগ দেখলেই বড় বড় কথা কন, আগে নিজে কিছু করে দেখান মিয়া!"

তাদের এই বলে আশ্বস্ত করতে চাই - কোনদিন দেশে ফিরে গেলে "হাগো" নামে একটা প্রতিষ্ঠান খুলে দেশ-বিদেশ থেকে ফান্ড কালেক্ট করে আরাম করে হাগার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আংরেজি পায়খানায় এক বেলা হাগার ব্যবস্থা করবো। কেউ টাকা পয়সার হিসাব চাইতে এলে মেরে পস্তা উড়িয়ে দেব।

আমরা বাঙালিরা কখনো সিরিজ কানেকশনে চলতে পারি না। আমরা সবসময়ই প্যারালাল। এ জন্যই বিদেশে যত জন বাঙালি ততোগুলো রাজনৈতিক দল। স্বপ্ন দেখা ভাল, কিন্তু স্বপ্নে কন্ট্রোল না থাকলে স্বপ্নদোষ হয়ে লুঙ্গি ভিজতে বাধ্য।

বাঙালি হিসাবে আজন্ম চুন খেয়ে খেয়ে মুখ পুড়িয়েছি। তাই সন্দেশ দেখলেও চুন বলে সন্দেহ হয়, হতে বাধ্য। চোখ টিপি

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

চলুক

হিমু এর ছবি

প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের উচিত একটা ফাণ্ড ওপেন করা। সেটা কেমন সাড়া পায়, দেখা দরকার। কারা সাড়া দেয়, সেটাও দেখা দরকার।

কেউ কোনো ভালো কাজ করলেই আপনারা গিয়ে তার সমালোচনা করেন, এগুলি কি ভালু?

দ্রোহী এর ছবি

ভালু'র সংজ্ঞা কী? "জাগো বাংলাদেশ" তো শেষ পর্যন্ত একটা এনজিও, নাকি ভুল বললাম?

তাইলে বাংলাদেশের ৫টা এনজিওর নাম বলেন দেখি যারা ভালু?

প্রথম দুইটা আমি বলি বাকি তিনটা আপনে বলেন:

  • ১. জাগো বাংলাদেশ
  • ২. হাগো বাংলাদেশ
  • ৩.
  • ৪.
  • ৫.

প্রথম আলোর এই খবরটা দেখেন। ৬০ বছর বয়সী জয়নাল আবেদিন ঢাকায় রিকশা চালিয়ে ময়মনসিংহে হাসপাতাল গড়েছেন। পনের কোটি মানুষের জন্য ৬ শয্যার হাসপাতাল। আছেন একজন পল্লী চিকিৎসক, সার্বক্ষণিক।

শুধু রিকশা চালিয়ে একজন অক্ষরজ্ঞানহীন জয়নাল একটি বিদ্যালয় গড়েছেন। হোক সেখানে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা। তাতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখন ১২০। বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে সকালে মক্তব বসে। গ্রামের শিশুরা সকালে সেখানে আরবি পড়ে।

ড. জাফর ইকবাল এবং আমি দ্রোহী জয়নাল আবেদিনের প্রতিষ্ঠানের জন্য টাকা তুলতে রোদে গিয়ে দাঁড়াবো না। জয়নাল আবেদিন তা আশাও করেন না। দিনের শেষে আমি ও ড. জাফর ইকবাল দুজনেই বিদেশে শিক্ষাপ্রাপ্ত, উচ্চ শিক্ষিত, এক কথায় সমাজের উঁচু তলার মানুষ। আমরা দুজনেই "জাগো"র জন্য, গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য কান্নাকাটি করবো। কারণ জাগো, গ্রামীণ ব্যাংক সাদাদের চোখে দেশের উচ্চতা ফুটখানেক উঁচু করে। জয়নাল আবেদিনের মত রিকশাওয়ালারা করে না।

ড. ইউনূসের জন্য, 'জাগো'র জন্য যাদের প্রাণ কাঁদে তারা যদি আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্যাক্স ফ্রি ৫৩ কোটি টাকা ভরে দেন তাহলে আমিও দেশের জনগণের জন্য উদয়াস্ত খাটতে খাটতে পাছার লুঙ্গি মাথায় তুলবো।

হিমু এর ছবি

জয়নালের উচিত ছিলো ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় এসে প্রথমেই মার্কিন দূতাবাস, কেএফসি আর পিৎজা হাটের সাথে বসা। কিছু মনকাড়া প্রেজেন্টেশন দেয়া। তা না করে সে গেছে রিকশা চালাতে। হাউ কোয়েইন্ট! এখনও সময় আছে জয়নাল কাকা, দুইটা হলুদ গেঞ্জি ছাপান, একটা নিজে পরেন, আরেকটা জাফর ইকবাল স্যাররে পরান। আজকাল সবার হাতেই ডিএসএলআর থাকে, একটা ছবি তোলানো সমস্যা হবে না। কিন্তু ওহ নো, আপনার তো ফেসবুক নাই রে কাগু। নাহ, কোনো ভরসা নাই।

নজরুল ইসলাম এর ছবি

এই মন্তব্য পড়ে গইড়ায়া হাসলাম

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

রাজিব মোস্তাফিজ এর ছবি

ড. জাফর ইকবাল এবং আমি দ্রোহী জয়নাল আবেদিনের প্রতিষ্ঠানের জন্য টাকা তুলতে রোদে গিয়ে দাঁড়াবো না। জয়নাল আবেদিন তা আশাও করেন না। দিনের শেষে আমি ও ড. জাফর ইকবাল দুজনেই বিদেশে শিক্ষাপ্রাপ্ত, উচ্চ শিক্ষিত, এক কথায় সমাজের উঁচু তলার মানুষ।

আপনি তাহলে মোটামুটি নিশ্চিত যে ড: জাফর ইকবাল জয়নাল আবেদিনের মত মানুষদের এবং তাঁদের প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধ্যমত তাঁর সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন না ?

----------------------------------------------------------------------------
একশজন খাঁটি মানুষ দিয়ে একটা দেশ পাল্টে দেয়া যায়।তাই কখনো বিখ্যাত হওয়ার চেষ্টা করতে হয় না--চেষ্টা করতে হয় খাঁটি হওয়ার!!

দ্রোহী এর ছবি

আপনি তাহলে মোটামুটি নিশ্চিত যে ড: জাফর ইকবাল জয়নাল আবেদিনের মত মানুষদের এবং তাঁদের প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধ্যমত তাঁর সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন না ?

না, আমি নিশ্চিত না। জাফর ইকবাল স্যারকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। তাঁর সাথে আমার পরিচয় তাঁর লেখা বই, পত্রিকার কলাম এবং তার সামাজিক অ্যাকটিভিটির মাধ্যমে। এর বেশি তাকে চেনার প্রয়োজন ও নাই। যতদূর জানি আপনি তার সরাসরি ছাত্র। সে হিসাবে তাঁর প্রতি আপনার একধরণের অন্ধভক্তি আছে যা আমার নেই। আমি তাঁর ভালো কাজের যেমন অকুণ্ঠ প্রশংসা করবো, তেমনি তার মন্দ কাজের নিন্দা করবো। স্যারের সাথে পূর্ব পরিচয়ের কারণে আপনি হয়তো তা করতে পারবেন না।

জাফর ইকবাল স্যারকে সূদের কারবারি ডঃ ইউনূসের পক্ষে কলম ধরতে দেখেছি। জাগোর পক্ষ নিয়ে হলুদ গেঞ্জি পরে রাস্তার দাঁড়ানোর ছবি তো এই পোস্টেই দেওয়া আছে। কিন্তু জয়নাল আবেদিন বা এমন কারো জন্য এখনো তেমন কিছু করতে দেখিনি। তাই বলতে পারি এখন পর্যন্ত তিনি জয়নাল আবেদিনদের জন্য কিছু করেননি। তাই বলে উনি ভবিষ্যতে কিছু করবেন না সেটাও নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। তেমনি কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না বিশ বছর বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে গিয়ে আমিও "হাগো বাংলাদেশ" নামের একটি এনজিও প্রতিষ্ঠা করবো কি না।

আসলে মূল সমস্যাটা জাফর ইকবাল স্যারকে নিয়ে না। মূল সমস্যাটা আমাদের নিয়ে। আমরা বাঙালিরা বড় পীর-পূজারি। আমাদের পীর-পূজা ঈর্ষণীয় পর্যায়ের। আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দীনের মৃত্যুর পর আমরা পড়েছি প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরিকে নিয়ে। ভূমিকম্প সমিতির প্রেসিডেন্ট ও তিনি, আবার কম্পিউটার সমিতির নেতৃত্বেও তিনি। খোঁজ নিলে হয়তো দেখা যাবে কারওয়ান বাজারের আলু ব্যবসায়ীরা প্রফেসর চৌধুরিকে তাদের সমিতির প্রেসিডেন্ট বানানোর চেষ্টা করেছে।

জাফর ইকবাল স্যার একজন বিজ্ঞানী, লেখক, শিক্ষক, ও সামাজিক আন্দোলনের উদ্যোক্তা। সত্যি বলতে বাংলাদেশে তার মত ব্যক্তিত্ব আরেকজন নাই। কিন্তু তাই বলে ওনার সব কাজ , সব সিদ্ধান্ত নির্ভুল এমনটা দাবি করা তো সম্ভব না। উনি ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে কলম ধরেছেন দেখেই কিন্তু ইউনূস সম্পর্কে আমার ধারণা বদলে যায়নি। একইভাবে উনি জাগোর গেঞ্জি পরে রাস্তায় নেমেছেন দেখেই "জাগো একটি ভালু এনজিও" - এ সিদ্ধান্তে আসা যায় না।

খোঁজ নিয়ে দেখেন তাকে কেউ গিয়ে বলেছে, "স্যার পোলাপান দেশে-বিদেশে ভিক্ষা করে গরীব পোলাপানদের জন্য স্কুল চালায়। আপনি এক ঘণ্টা সময় দিলে অনেক উপকার হবে।" আর ডঃ ইকবাল সবকিছু ভালু মনে করে সম্মতি দিয়ে গেঞ্জি পরে রাস্তায় গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। সুতরাং, ডঃ ইকবাল জাগোর পক্ষ নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন দেখেই জাগো একটি ভালু এনজিও যাদের লক্ষ্য সমাজসেবা, এমন সিদ্ধান্ত ক্যামনে নিই?

পনেরো কোটি মানুষের দেশে ৫টা এনজিওর নাম বলেন দেখি যারা ভালু? যারা ব্যবসা করে না, জনসেবা করে।

হিমু এর ছবি

স্যারকে হলুদ গেঞ্জি গায়ে দেখে কপিল দেবের মগ হাতে বুস্ট ইজ দ্য সিক্রেট অব মাই এনার্জির কথা মনে পড়ে গেলো। এনজিও সেবার বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে অবশ্য স্যারকে খুবই হ্যাণ্ডসাম দেখাচ্ছে।

রাজিব মোস্তাফিজ এর ছবি

জাফর ইকবাল স্যারকে সূদের কারবারি ডঃ ইউনূসের পক্ষে কলম ধরতে দেখেছি। জাগোর পক্ষ নিয়ে হলুদ গেঞ্জি পরে রাস্তার দাঁড়ানোর ছবি তো এই পোস্টেই দেওয়া আছে। কিন্তু জয়নাল আবেদিন বা এমন কারো জন্য এখনো তেমন কিছু করতে দেখিনি। তাই বলতে পারি এখন পর্যন্ত তিনি জয়নাল আবেদিনদের জন্য কিছু করেননি।

স্যারের ছাত্র হিসেবেই তাঁর কাছাকাছি থাকার কারণে এরকম কিছু বিষয়ে আপনার চেয়ে আমার কাছে বেশি তথ্য আছে বলেই আপনাকে উপরের প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করেছি !আমি সেগুলোর ফিরিস্তি দিয়ে এখানে স্যারকে ছোট করব না ! সবকিছু ডিএসএলআর-এ ছবি তুলে পত্রিকায় ছাপানো গেলে হয়ত খারাপ হতো না !

আমরা তো তথ্যের উপর ভিত্তি করেই আমদের যু্ক্তিগুলো সাজাই, তাই আমাদের সিদ্ধান্ত বিপরীত হওয়া হয়ত অস্বাভাবিক নয় । আপনি দেখি তাতে আবার আমাকে অন্ধভক্ত বলে গাল দিলেন! স্যার, আমাদের জন্য এত কষ্ট করেছেন/করছেন, আমি না হয় তাঁর জন্য একটু গালই খেলাম -- সমস্যা নাই !

----------------------------------------------------------------------------
একশজন খাঁটি মানুষ দিয়ে একটা দেশ পাল্টে দেয়া যায়।তাই কখনো বিখ্যাত হওয়ার চেষ্টা করতে হয় না--চেষ্টা করতে হয় খাঁটি হওয়ার!!

দ্রোহী এর ছবি

রাজিব ভাই,

আমি একজন মানুষকে চিনি [চিনতাম বলা উচিত, একমাস আগে মানুষটা মরে গেছেন] যিনি ময়মনসিংহে এক লোক রিকশা চালায়ে হাসপাতাল বানাইছে শুনে সেই লোকেরে ১ লাখ টাকা দান করেছেন। রিকশাওয়ালাটা জয়নাল আবেদিন কি না তা কনফার্ম করতে পারবো না। তবে ময়মনসিংহে আর কেউ রিকশা চালায়ে হাসপাতাল না দিলে লোকটা অবশ্যই জয়নাল আবেদিন। পয়েন্ট হচ্ছে আমার পরিচিত সেই মানুষটার কাছে ১ লাখ টাকা কিছুই না কিন্তু ১ লাখ টাকা দেশের অংকে বেশ বড় টাকা। তিনি যেমন পত্রিকার পাতায় ঠাঁই পাওয়ার জন্য টাকাটা দেন নাই তেমনি সেই রিকশাওয়ালাও হলুদ গেঞ্জি নিয়ে তার কাছে টাকাটা চাইতে আসেনি।

ডঃ জাফর ইকবাল জাগোর গেঞ্জি পরে রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন এবং সে ছবি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে বলে আমি তার সমালোচনা করছি। তিনি পত্রিকার অন্তরালে কোন জয়নাল আবেদিনকে কত টাকা দান করেন সেটার তো সমালোচনা করছি না।

আপনি তাঁর সরাসরি ছাত্র, তাই আপনি জানতে পারেন স্যার কাকে কত টাকা দান করেছেন কিন্তু আমার সে কথা জানার সম্ভাবনা কম। কেননা স্যারের সাথে আমার পরিচয় সেই ডিএসএলআরে তোলা পত্রিকার ছবির মাধ্যমে। কথা হচ্ছে দানের জোরে হিসাব করতে গেলে দেশে স্যারের চাইতে বড় দানবীর বহু মানুষ আছে। তাই দানের হিসাব করতে গেলে জাফর ইকবাল স্যারেরে পীর মানার কথা না। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়, মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারকে আমরা পীর মানি কেন?

জাফর ইকবাল স্যারকে আমরা পীর মানি কারণ তিনি হচ্ছেন জাতির বিবেক। আমরা বাঙালিরা সংখ্যায় ১৫ কোটি হলেও আদতে আমরা জাতি হিসাবে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। তাই তো মুহম্মদ জাফর ইকবালকে আমাদের বুদ্ধির দায়িত্ব নিতে হয়।

কনকোফিলিপসের সাথে গ্যাস উৎপাদন চুক্তি দেশের স্বার্থ-বিরোধী কি না তা আমরা নিজেরা বুঝতে পারি না। জাফর ইকবাল স্যার আমেরিকা থেকে ফিরে এসে কী বলেন আমরা তার জন্য হা করে বসে থাকি। জাফর ইকবাল স্যার ফিরে এসে তড়িঘড়ি করে যখন বলেন এই গ্যাস চুক্তি দেশের স্বার্থ-বিরোধী তখন আমরা হাঁফ ছেড়ে বাঁচি। ডঃ জাফর ইকবাল আমাদের বলে দেন কোনটা ভাল, কোনটা খারাপ। আমরা তার কথা দিয়ে ভাল-খারাপ বিচার করি।

তাহলে জাতির বিবেক জাফর ইকবাল স্যার হলুদ গেঞ্জি পরলে আমার সমস্যা হয় কেন? গেঞ্জি কি বেশি টাইট, নাকি গেঞ্জির তলা দিয়ে স্যারের বুক দেখা যায়?

আমি তো ছাগুরাম ত্রিভুজ না যে স্যারের বুক দেখে ঈমান শক্ত হয়ে যাবে! তাহলে স্যার জাগোর গেঞ্জি পরলে আমার জ্বলে ক্যানো?

আমার সমালোচনার কারণগুলো আমার প্রথম কমেন্ট ও অচ্ছুৎ বলাইয়ের কমেন্টগুলোতে ইতিমধ্যেই এসে পড়েছে।

তারপরও বিশদ আলোচনা করি:

১. বাংলাদেশে ৫ টা ভালো এনজিওর নাম কেউ বলতে পারে না। সেই হিসাবে "জাগো বাংলাদেশ" একটা ভাল এনজিও, সেখানে টাকা পয়সার কোন নয়ছয় হয় না এমন কথা কীভাবে মেনে নিই? বড় লোকের বিদেশ ফেরত ছেলে নবী-রসূলের মত পূত-পবিত্র হবে এমন কোন কথা আছে কি?

২. যদি প্রমাণ হয় "জাগো বাংলাদেশ" একটা ভালো এনজিও, সেখানে টাকা পয়সার কোন নয়ছয় হয় না। তাদের উদ্দেশ্য পুরোপুরি সৎ। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে আগেভাগেই ভালোমন্দ না জেনে আমার জ্বলুনি হয় ক্যানো?

আমরা দেখতে পাচ্ছি জাগো বাংলাদেশ ৭২০টা পথ-শিশুকে শিক্ষা দিচ্ছে। শিক্ষার সাথে সাথে তারা পাচ্ছে খাবার ও চিকিৎসা। আবার বাড়ি ফেরার পথে সাথে করে নিয়ে যাচ্ছে আধা কেজি চাল। ধরে নিতে পারি আধা কেজি চালের পয়সা রোজগার করার জন্য যারা সরকারী প্রাইমারি স্কুলগুলোতে যেতে পারছে না জাগো বাংলাদেশ তাদের এনে শিক্ষা দিচ্ছে, চিকিৎসা দিচ্ছে, আবার আধা কেজি করে চাল দিচ্ছে।

অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। পয়সা মেরে ধরেও যদি ৭২০টা ছেলেপিলে ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের এড-এক্সেল কারিকুলামে A-B-C-D শেখার পাশাপাশি প্রতিদিন আধা কেজি করে চাল পায় তাহলে ক্ষতি কী?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছিলেন, আমাদের বাংলা মিডিয়াম, ইংরেজি মিডিয়াম, আর মাদ্রাসা মিডিয়ামের কারিকুলামে এত বেশি ফারাক যে তিন মিডিয়াম থেকে তিনজন ছাত্রকে একসাথে আলোচনায় বসিয়ে দিলে তারা কথা বলার কিছু খুঁজে পাবে না।

সমস্যাটা তৈরি হয় তখনি যখন ভাবি এই শিশুগুলো জাগোর দেয়া শিক্ষা শেষ করে আবার সেই আধাসের চাল রোজগারে ফিরে যাবে । জাগো যদি শিশুগুলোকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ায় তাহলে সেই ৭২০ জন শিশু ফাইভ পাশ করার পর আরেকটা ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে গিয়ে সিক্সে গিয়ে ভর্তি হওয়ার মতো পয়সা কোথা থেকে পাবে সেটা আমরা ভাবছি না। আবার তারা সরকারী স্কুলে গিয়ে সিক্সে ভর্তি হবে এমন কোন নিশ্চয়তা দেখতে পাচ্ছি না। কেননা বাংলাদেশে এক মিডিয়াম থেকে লাফিয়ে অন্য মিডিয়ামে গিয়ে টিকতে পারাটা বেশ কঠিন ব্যাপার। তাছাড়া এখন জাগো বাংলাদেশ তাদের পড়াশোনার খরচ দিচ্ছে তখন কে দেবে সেটা আমরা জানি না।

প্রশ্ন উঠতে পারে জাগো যদি তাদের ও-লেভেল, এ -লেভেল অব্দি পড়ায় তাহলে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, সরকারী মেডিক্যাল মিলিয়ে আমি কমপক্ষে ১ হাজার ছেলেমেয়েকে চিনি। তাদের ভেতর মাত্র একজন ইংরেজি মিডিয়াম থেকে এসেছে। বাকি ৯৯৯ জন তথাকথিত সরকারী মিডিয়াম বা বাংলা মিডিয়াম। আমি যে ৪ জন ইংরেজি মিডিয়ামে পড়া ছাত্রকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি তাদের একজন সরকারী মেডিকেলে পড়েছে [এক হাজার জনের একজন], একজন বেসরকারি মেডিকেলে, বাকি দুইজন আন্ডারগ্র্যাড করেছে আমেরিকায়।

এই পরিসংখ্যান পুরো দেশের ক্ষেত্রেই সত্য। আমাদের দেশে যারা ও-লেভেল, এ-লেভেল পাশ করছে তাদের প্রায় সবাই বিদেশে আন্ডারগ্র্যাড করছে বা নিদেনপক্ষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্ডারগ্র্যাড শেষ করে বিদেশে মাস্টার্স করতে যাচ্ছে অথবা বাবার বিজনেস দেখছে।

সে হিসাবে জাগোর শিক্ষার্থীদের কতজন সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঢুকতে পারবে তা আন্দাজ করা কঠিন না। আর বাকিরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা বিদেশে আন্ডারগ্র্যাড করার পয়সা কোথা থেকে জোগাড় করবে তা আমরা ভাবছি না। বাবার বিজনেস দেখতে গেলে সেই আধসের চালের কথা এসে পড়ে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে এ-লেভেল পাশ করা জাগো শিক্ষার্থীদের একমাত্র পথ হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম। সে ক্ষেত্রে তাহলে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে ইংরেজি মিডিয়ামে পড়ানোর যৌক্তিকতা কী? যদি বাংলা মিডিয়ামে পড়ানো হবে তাহলে সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর টাকাগুলো খরচ করলে অনেক কম খরচে অনেক বেশি শিক্ষার্থী আধসের করে চাল পেত। কিংবা জাগো যদি ৫ টা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিত তাহলে অনেক কম খরচে অনেক বেশি সেবা দিতে পারতো। সহ–সচল গৌতম এ ব্যাপারে একজন বিশেষজ্ঞ। তাকে জিজ্ঞেস করলেই আমরা টাকা খরচ করার অনেকগুলো পথ পাবো।

তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি, জাগো বাংলাদেশ দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর অর্থ সংগ্রহ করে দেশের ভেতর একটা বিচ্ছিন্ন "শিক্ষা দ্বীপ" তৈরি করছে। সেই অর্থে জাগোর কার্যক্রমের সাথে একটা কওমি মাদ্রাসার কার্যক্রমের কোন পার্থক্য নেই।

তাহলে আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই সিম্পল জিনিসটা আমাদের জাতির বিবেক জাফর ইকবাল স্যার কি বুঝতে পারছেন না? যদি আমার আগের মন্তব্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বলি জাফর ইকবাল স্যার অগ্রপশ্চাৎ কিছু জানেন না, শুভ উদ্যোগ ভেবে জাগোর গেঞ্জি গায়ে পথে নেমেছেন। তাহলে আপনার তাকে ডিফেন্ড করার পয়েন্টটা কোথায়? জাফর ইকবাল স্যার কি ডিসিশন নিতে ভুল করতে পারেন না? সব জায়গায় তাকে ডিফেন্ড করতে আসাটা অন্ধবিশ্বাস নয় কি?

আর যদি বলেন স্যার ভুল করতে পারেন না, তিনি সবকিছু জেনেশুনেই পথে নেমেছেন তাহলে আমি আপনার মারফত স্যারের কাছে জানতে চাইবো তিনি কবে কওমি মাদ্রাসার গেঞ্জি পরে পথে নামবেন?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার শিক্ষানীতি তৈরির কমিটিতে ছিলেন। তিনি কেন জন-বিচ্ছিন্ন একটা "শিক্ষা দ্বীপ" উদ্যোগকে প্রোমোট করবেন?

এনজিও দিয়ে জনসেবা করে যদি সত্যিই দেশের সব গরিবি হটিয়ে দেওয়া যেত, দেশের সবাইকে শিক্ষিত করে ফেলা যেতো তাহলে ডঃ ইউনূস বাঙালি জাতির পিতা হয়ে যেতেন এতদিনে। বাংলাদেশ হতো ফিনল্যান্ড বা লুক্সেমবার্গ।

সমাজ পাল্টে দিতে চাওয়া মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। যারা সে চেষ্টা করেন, তারা কারো সহযোগিতা পান, আবার আমার মতো কিছু সুডুলোক তার বিরোধিতা করে।

শিশিরকণার একটা মন্তব্যের কিয়দংশ কোট করি।

আমি বলতে চাইছি, এদের এই মূহুর্তে পরিকল্পিত কাঠামো নাই বলেই এইভাবে কার্যক্রম চলছে। যেভাবে পারছে, বা বলতে পারেন যেভাবে সহজ ও সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু যেভাবে হওয়া উচিত সেরকম রিসোর্স নাই বলে কি পুরা কার্যক্রম বন্ধ করে হাত পা গুটায় বসে থাকা উচিত? নিশ্চয়ই না।

সেইটাই, পরিকল্পনা কাঠামো ছাড়া সমাজ পাল্টে দিতে এসে কোটি টাকা খরচ করলে সেই মহৎ প্রচেষ্টাকে দুটো ঠাপ দেবার মত সুডুলোক দেশে প্রচুর আছে।

কথা দিচ্ছি আমার "হাগো বাংলাদেশ" ফাউন্ডেশনের দরজা জাগো বাংলাদেশের সুহৃদদের জন্য সবসময়ই খোলা থাকবে। সুডুলোকের পোলাপানদের এক বেলা প্রাণ খুলে আংরেজি মাধ্যম পাইখানায় হাগতে না দিলে আমার মরেও সুখ হবে না।

রাজিব মোস্তাফিজ এর ছবি

চলুক

----------------------------------------------------------------------------
একশজন খাঁটি মানুষ দিয়ে একটা দেশ পাল্টে দেয়া যায়।তাই কখনো বিখ্যাত হওয়ার চেষ্টা করতে হয় না--চেষ্টা করতে হয় খাঁটি হওয়ার!!

কল্যাণF এর ছবি

গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু

আম্মো

সুডুলোক

। এইটা টেরপায়া কান্দন আইসা পর্লো।

আসিফ ইকরাম এর ছবি

হিম, দ্রোহী আর অনার্য সঙ্গীত এই তিনজনই খুব জটিল ধরনের খারাপ লোক!
আজেবাজে কথা কইয়া পুলাপাইনের সৎ উদ্দেশ্য নিয়া প্রশ্ন তোলে!!

চটুল মন্তব্য করতে পছন্দ করিনা, কিন্তু জাগো নিয়ে নিজের ভাবনাটার মিল খুঁজে পেয়ে একটু ভালোই লাগল। হয়ত সচলায়তন নিয়মিত পড়তে পড়তে আমিও বিশ্বনিন্দুক হয়ে পড়ছি, 'ভালো' কিছু আর ভালো লাগেনা।

দ্রোহী এর ছবি

হিমু আর অনার্য সঙ্গীতের কথা বলতে পারি না, তবে আমি মানুষটা বিশ্বনিন্দুক সুডুলুক, তাই সুডুলুকি চোখে পড়ে খালি। মানুষের সৎ উদ্দেশ্যের নিন্দেমন্দ করে বেলা কাটে আমার। চোখ টিপি

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

একজন পাঠিক/পাঠিকা বলেছেন আমার মনে ময়লা! মন খারাপ এখন জাগো'র সাবানই আমার ভরসা। তবে সাবান কিন্তু আমি দুইটা নিমু চোখ টিপি

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

কল্যাণF এর ছবি

হাগো বাংলাদেশ একটা অতি সম্ভাবনাময় প্রজেক্ট হইতে পারে। দ্রোহীদার এইটারে নিয়া কটু কাটব্য ও হাস্যাস্পদ করে তোলার সুপরিকল্পিত দুরভিসন্ধিতে পেতিবাদ রেগে টং । দেশের ১৬ কোটী জনগনের ময়লা একযায়গায় কইরা গ্যাস বানাইলে দেশের জ্বালানি সমস্যার রাতারাতি পোক্ত একটা সমাধান হয়। আবার বাই প্রোডাক্ট হিসাবে পচুর উন্নত মানের জৈব সার পাওয়া যাবে যার রাসায়নিক সারের তুলনায় পার্শ্বপ্রক্রিয়া মুক্ত।

পুতুল এর ছবি

আসলে এই ধরণের জনপ্রিয় বা দৃষ্টিনন্দন সেবা প্রতিষ্ঠান সতিই এক ধরণের বিলাসিতা।
ধরুণ আপনার পরিবারে আপনি সদ্য কৈশোর পিরিয়ে তারুন্যে পা দিয়েছেন। আপনার কাছে মায়ের রান্না ভাল লাগে না। বাবার পোষাক পরা ভাল লাগে না। মা অযথা সারাদিন রান্না ঘরে পরে থাকেন। কোট প্যান্টের বদলে বাবা পাজামা পাঞ্জাবী পরেন। আবার সিগারেটও ফুকেন।

এখন আপনি খুক স্মার্ট কিছু পরামর্শ দেবেন;
মা সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি ফ্লাক্স নিয়ে যদুর দোকান থেকে চা, আর পরোটা নিয়ে আসব।
তবে তুমি চাইলে ডিমপোজ করতে পার।

বাবাকে পাজামা-পাঞ্জাবী ছাড়ানো গেল না। তিনি গোড়থোর বাঙ্গাল। এটা বন্ধু মহলে বাঙ্গালীর গর্ব বলে চালিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু ধূমপানে বিষপান। কথাটা আপনার বাবাকে বোঝাতে পারবেন। ধীরে ধীরে চেষ্টা করে এক সময় ধূমপানের মতো ভঙ্কর বদ অভ্যাসও হয়তো তাড়াতে পারবেন। কিন্তু তার জন্য সময় দিতে হবে। সর্ত দিতে হবে। বাবাকে বলতে হবে বাবা আমি তোমার ছেলে বা মেয়ে। আমি তোমার অবশ্যই ভাল চাই। কাজেই মিথ্যা বলে লুকিয়ে সিগারেট খেতে পারবে না। প্রথমে দিনে পাঁচটা। তারপর তিনটা এভাবে ছয় মাসের মধ্যে বাবা সিগারেট ছেড়ে দিলেন।

দেখুন তো উপরের কাজের কয়টা আসলে আপনি করেছেন? সকালে ঘুম থেকে উঠে চা-নাস্তা আনা ছাড়া আর কিছুই আপনি করেন নি। তারপরেও আপনার বেশ অনেকগুলো সফলতা এসেছে।

আপনার পরিবারের মতো দেশটাও একটা পরিবার। দুনিয়ার সব মানুষ আরাম পছন্দ করে। আপনার বাবার মতো দেশের নেতা-নেত্রীরাও খুব আরাম প্রিয়। তাদের বদ অভ্যাসও খুব সহজে যায় না। সার্বজনীন বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আসলে মোটেও অসম্ভব কিছু নয়। গরীব এবং নিরক্ষর মানুষের পক্ষে কথা বলার লোক নাই। যে মানুষ গুলো আপনাদের জাগিয়ে দিচ্ছে (আমলা-মন্ত্রী-ব্যবসায়ী) তাদের কোন ইচ্ছাই নেই যে, দেশের সব শিশু লিখতে পড়তে শেখুক। সে জন্যই বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা এখনো কার্যকর হয়নি।

যত শিক্ষিত লোক আছে সবাইকে প্রশ্ন করুণ, সবাই বলবে আমাদের দেশে সেটা সম্ভব না। আসলেই কী তাই?

এখন ধরুন আপনার পরিবারের কোন পরিবর্তন আপনি করতে পারলেন না। মা নাস্তা বানাতে দেরী করে, কী আর করা, কলেজের ক্যান্টিনে গিয়েই না হয় নাস্তাটা করবো। বাবা ড্রয়িং রুমে বসে সিগারেট খায়, আপনি সেখানে না গিয়ে টিভির সংবাদের বদলে বরং অনলাইনে বিডি নিউজ পড়ে নেবেন। আপনার কাজটা আটকাচ্ছে না কিন্তু।

ঠিক তেমনি দেশের সকল শিশুর মূল অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করছে দেশের কর্তা। আপনি ভাবছেন ঠিক আছে দেশের কর্তা যখন করছে না আমি অন্তত দুটো শিশুকে লিখতে পড়তে শেখাই। দেশের অভিবাবক ভাবছেন, ঠিক আছে আমার দায়ীত্ব অন্য কেউ করে দিচ্ছে যখন, এ নিয়ে আমার আর ভাবতে হবে না। আপনি কিন্তু দেশের অভিবাবক কে ভাবতে এমন কী অনুরোধ পর্যন্ত করেন নাই। চাপ দেয়া তো পরের কথা। অভিবাবক ব্যাপারটা নিয়ে মাথা ঘামানো বন্ধই করে দেবে। এক সময় মনে করবে শিক্ষার দায়ীত্ব তো "জাগো" নিয়েছে। আমি আবার কী করব!

সেবাদানের সময় ভাবতে হবে যে যাকে সেবা দিচ্ছি, সে আমার উপড় নির্ভশীল হয়ে পড়ল নাতো!
বাচাটাকে ইংরেজী শিখিয়ে আধা সের চাল হাতে ধরিয়ে দিয়ে ঐ পরিবারটি ধীরে ধীরে সাহাজ্য নির্ভর হয়ে গেলো না! পরজীবির মতো ভঙ্কর জীবন যেন কোন মানুষের না হয়। এর কারণে মানুষ নিজের স্বাধীনতা হারায়। সেবা দিয়ে যেন মানুষকে পরাধীন করা না হয়ে যায়। সেটা মনে রাখা ভীষণ জরুরী।

এই ধরণের সেবার খুব সুনির্দৃষ্ট পরিকল্পনা দরকার। কতদিনে শিশুটিকে কী শেখাব। এখানে শিক্ষা শেষ হলে পরবর্তি শিক্ষার জন্য শিশুটি কোথায় যাবে?
ধরুণ একটি পথ শিশু আপনি পাঁচ বছর ইংরেজী মাধ্যমে লিখতে পড়তে শেখালেন। বলুন তো এই বিদ্যা টুকু নিয়ে সে কী করবে। কোথায় কাজ করবে?
মনে রাখতে হবে পথশিশুটিকে পথ থেকে আপনি কুড়িয়ে পেয়েছেন। কিন্তু সেই পথটাই আসলে তার ঘর ছিল। পাঁচ বছর ইংরেজী শিখিয়ে আপনি তাকে পথে ছেড়ে দিলে কিন্তু সেই পথ আর তার ঘর হবে না। আপনি সেবা করার জন্য একজন মানুষের ঘর কেড়ে নিয়েছেন। তার জীবন প্রণালী পাল্টে দিয়ে তাকে সর্বহারা করে পথে ছাড়লে কিন্তু চলবে না।

কাজেই মানুষ নিয়ে কাজ করার আগে খুব সাবধান। ভাল করতে গিয়েও মানুষ কখনো কখনো কারো ক্ষতি করে ফেলে। সেটা মাথায় রাখা দরকার।

তবে সব চেয়ে বড় দরকার ব্যাপারটার রাজনৈতিক সমাধান। পরিবারের পিতর মতো দেশের সরকার দেশের সব শিশুর খাদ্য-বস্ত্র-বাস্থান এবং শিক্ষার দায় যেন কোন ভাবেই এড়িয়ে না যেতে পারন সেটা নিশ্চিত করা। তখন বলব "জাগো বাহে"

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আপনার পরিবারের মতো দেশটাও একটা পরিবার। দুনিয়ার সব মানুষ আরাম পছন্দ করে। আপনার বাবার মতো দেশের নেতা-নেত্রীরাও খুব আরাম প্রিয়। তাদের বদ অভ্যাসও খুব সহজে যায় না। সার্বজনীন বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আসলে মোটেও অসম্ভব কিছু নয়। গরীব এবং নিরক্ষর মানুষের পক্ষে কথা বলার লোক নাই। যে মানুষ গুলো আপনাদের জাগিয়ে দিচ্ছে (আমলা-মন্ত্রী-ব্যবসায়ী) তাদের কোন ইচ্ছাই নেই যে, দেশের সব শিশু লিখতে পড়তে শেখুক। সে জন্যই বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা এখনো কার্যকর হয়নি।

পুতুল ভাই, বাংলাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নতমানের। আমি গ্রামের প্রেক্ষিতেই কথাটা বলছি।

এই ধরণের সেবার খুব সুনির্দৃষ্ট পরিকল্পনা দরকার। কতদিনে শিশুটিকে কী শেখাব। এখানে শিক্ষা শেষ হলে পরবর্তি শিক্ষার জন্য শিশুটি কোথায় যাবে?
ধরুণ একটি পথ শিশু আপনি পাঁচ বছর ইংরেজী মাধ্যমে লিখতে পড়তে শেখালেন। বলুন তো এই বিদ্যা টুকু নিয়ে সে কী করবে। কোথায় কাজ করবে?
মনে রাখতে হবে পথশিশুটিকে পথ থেকে আপনি কুড়িয়ে পেয়েছেন। কিন্তু সেই পথটাই আসলে তার ঘর ছিল। পাঁচ বছর ইংরেজী শিখিয়ে আপনি তাকে পথে ছেড়ে দিলে কিন্তু সেই পথ আর তার ঘর হবে না। আপনি সেবা করার জন্য একজন মানুষের ঘর কেড়ে নিয়েছেন। তার জীবন প্রণালী পাল্টে দিয়ে তাকে সর্বহারা করে পথে ছাড়লে কিন্তু চলবে না।

এটা হলো মূলকথা। লোকদেখানো কার্যক্রম না হলে শিশুর ভবিষ্যত চিন্তা করেই তাকে শিক্ষা দেয়া দরকার। ইংরেজি মিডিয়ামে পড়াশুনা করা অস্বচ্ছল শিশুর ভবিষ্যতের জন্য অসুবিধাজনক। অবশ্য জাগো যদি তাকে ইউনিভার্সিটি পাস করিয়ে বিদেশে পৌঁছে দেয়া পর্যন্ত কেয়ার নেয়, তাইলে কথা ভিন্ন।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

পুতুল এর ছবি

"পুতুল ভাই, বাংলাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নতমানের। আমি গ্রামের প্রেক্ষিতেই কথাটা বলছি"।

আপনার সাথে কোন দ্বিমত নেই বলাই দা। ভাগ্যক্রমে আমিও গ্রামের প্রাইমারী স্কুলের ছাত্র। দেশ স্বাধীন করে মূলত মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের গ্রামের প্রাইমারী স্কুলটি স্থাপন করেন। প্রথম কয়েক দিন বাঁশ তলায় ক্লাশ করতে হয়েছে, প্রথম শ্রেনীর ছাত্র বলে। রাজাকার পাকিস্তানী খান সেনারা মুক্তিযোদ্ধা আর হিন্দুদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার পর পোড়া টিন দিয়ে যে ঘরটি তৈরী হয়, তাতে প্রথম শ্রেনীর ছাত্রদের জায়গা দেয়া সম্ভব হয়নি।
ভাল পড়ালেখা শিখতে পারিনি সেটা আমার অযোগ্যতা, প্রাইমারী স্কুলের দোষ না।
আমার কথা হচ্ছে সব শিশুকে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনা। এবং সেটা অসম্ভব কিছু নয়। জাগো-দের বলুন নিজেরা কয়েকশ ছেলে-মেয়ের দায়ীত্ব নেয়ার বদলে সব ছেলেমেয়ের দায়ীত্ব নেয়ার দাবী নিয়ে রাস্তায় নামতে। একজন কে ও পাবেন না। কারণ সেটা রাজনীতি হয়ে যাবে।

"অবশ্য জাগো যদি তাকে ইউনিভার্সিটি পাস করিয়ে বিদেশে পৌঁছে দেয়া পর্যন্ত কেয়ার নেয়, তাইলে কথা ভিন্ন"।

মানুষকে মিথ্যা স্বপ্ন দেখানো বড় বিপদ জনক বলাই দা।
আমাদের গ্রামের পিতৃহীন দুটো ছেলে কী ভাবে যেন
YMCA বি বারিয়া ( কী ভাবে লিখে?)শাখায় আবাসিক ছাত্র হিসাবে ভর্তি হল। একজন আমার সহপাঠী। অষ্টম শ্রেনী পাশ করার পর তাদের আর রাখা হল না। এতিম খানার পাকা দালান আর সাহেবদের শেখানো পদ্ধতিতে ব্রাসে পেষ্ট লাগিয়ে মাজা দাঁত নিয়ে গ্রামে ফিরে সেই জড়াজীর্ণ ঘরে নিজেকে খাপ খাওয়াতে তাদের বেশ কষ্ট করতে হয়েছে। আর স্কুলেও পিছিয়ে পড়েছে কয়েক বছর। দু'জনের মধ্যে একজন SSC পাস করতে পেরেছে। অন্য ছেলেটি বাপের ভিটার অর্ধেক বিক্রি করে মালেশিয়া চলে গেছে।

এছাড়াও আরো অনেক সমস্যা আছে। নিজের সামান্য মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা আছে এই বিষয়ে। তবে সেটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত চেষ্টা ছিল। সে জন্যই জানি এইটা একান্তই একটি রাজনৈতিক ইসু। একমাত্র রাজনৈতিক ভাবেই তার সমাধান হওয়া উচিত। সেটা না পারলে চেরেটি করে উঠানো ঐ টাকা সরকারের প্রথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে দান করা উচিত।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

পুতুল ভাই, প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক, বইপত্রও সরকার দেয়। মেয়েদেরকে বৃত্তিও দেয়। বাধ্যতামূলক কিনা, আমি নিশ্চিত না, সচল গৌতম ভালো বলতে পারবেন।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

পুতুল এর ছবি

বলাই দা,
আমার মনে হয় কাগজে-পত্রে হয়ত বাধ্যতামূলকও। কিন্তু প্রয়োগিক না। কাগজে বাধ্যতামূলক হলেই চলবে না। বাস্তবেও বাধ্যতামূলক হতে হবে। অবৈতনিক আমাদের সময়ও ছিল। কিন্তু বইপত্র দিত না। স্বাধীনতার পর সেই বিক্ষ্যাত আট কোটি কম্বলের ভাগও পেয়েছে তৃতীয় শ্রেণীর ছিত্ররা। আমরা পেতাম এক পট ছাতু। চিনি দেয়া ভাজা গমের গুড়ো। আহা কী মজার জিনিস যে ছিল বলাই দা। সেই লোভে স্কুলে যেতাম, যদিও প্রথম দিকে অনেক বিষয়ে পরিক্ষায় শূন্য পেয়েছি। লোহার পেরেক চেরাগের আগুনে গরম করে বাঁ হাতে ছেকা দিয়েছে (বসন্ত রোগের টিকা)। তারপরেও স্কুলে গেসি,সেই অমৃতের লোভে।

রোল করা খাতা আর পেন্সিল পেয়েছিলাম প্রথম শ্রেনীর ছাত্র হিসাবে। তখন অবশ্য বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মাটিতে লেখা ছেড়ে পেন্সিল দিয়ে খাতায় লেখার অভ্যাসের কারণে কাগজ কেনার বাড়তি খরচের ঝামেলায় বাবা আমার স্কুলে যাওয়াটা আর তেমন পছন্দ করতেন না।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

বন্দনা কবীর এর ছবি

কি ঘটনা?!! ৪/৫ ঘন্টা আগে আমি আমার কমেন্ট নিয়ে, ইমো না আসায় ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে কটা কথা লিখছিলাম সেটা এখনো এলো না কেন?

সজল আর স্পর্শের কমেন্ট তো দেখি দিব্যি পোস্টাচ্ছে!!

মামুনুর রশীদ এর ছবি

আপনার ভালু ভালু ইংলিশ মিডিয়ামের জমিদার পূত্রদের ভূত সম্ভবত সেটা গাপ করে দিচ্ছে। ওরা চায় না ওদের ভালু ভালু কথা প্রকাশ পাক। তেনারা বেশ প্রচারবিমুখ কি না...

ত্রিনিত্রি এর ছবি

চলুক

মূর্তালা রামাত এর ছবি

জাগো বাংলাদেশ- একটি ভাল উদ্যোগ; সাধুবাদ পাবার মত মহৎ কাজ, সন্দেহ নেই। কিন্তু মার্কিনীরা কখনই মহতী নয়। তারা স্বা্র্থ ছাড়া এক পাও নড়ে না। তাই মার্কিনীরা যখন সবকিছু রেখে জাগো বাংলাদেশের সাথে জড়িত হয় তখন বুঝতে হবে এর সাথে তাদের বড় কোন স্বার্থ অবশ্যই জড়িত। এখানেই আমার ভয় এবং সংশয়।

পুতুল এর ছবি

মহা মন্দার কারণে দারিদ্রতার হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করার জন্য মার্কিন সরকার সব শিশুদের খাবার প্যাকেট পাঠায় প্রতি সপ্তাহে। দাঁতা গোষ্ঠি আরো ঋণ দিতে গড়িমসি করছে তাদের। তো নিজেদের সামলাতে যারা এতো ব্যাস্ত তাঁরা যদি উদ্যোগি হয়ে আমাদের দেশের শিশুদের জ্ঞণদান করতে আসে তা হলে সন্দেহ জাগা স্বাভাবিক।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

তানিম এহসান এর ছবি

আমি বিগত প্রায় দেড় বছর ধরে জাগো ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কাজ দেখেছি, চেষ্টা করেছি যতদূর সম্ভব সাথে থাকার জন্য। আমি মনে করি জাগো ফাউন্ডেশন ভালো কাজ করার চেষ্টা করছে।

সবগুলো মন্তব্য দেখলাম, দেখে মনে হলো বলা প্রয়োজন - এখন পর্যন্ত যতটুকু দেখেছি তাতে দূর থেকে সমালোচনা না করে এই ছেলে-মেয়েগুলোর সাথে সংযুক্ত হয়ে আমরা তাদের সহায়তা করার চেষ্টা করি না কেন? করভি যখন এই কাজ শুরু করে তখন ওদের সবার বয়সই অনেক কম, এই ছেলেটা বস্তিতে ঘুমিয়েছে রাতের পর রাত, বস্তিতেই থেকেছে শুরুর সময়টুকু, আমরা কয়দিন বস্তির ভেতর ঢুকে দেখার চেষ্টা করেছি কেমন থাকে সেইসব মানুষেরা যাদের জন্য আমাদের এতো দরদ, এতো চিন্তা-ভাবনা? আমি মুগ্ধ হয়েছি এদের প্রণোদনা দেখে। একবার করভি একটা কথা বলেছিলো যা এখনো আমার মাথার ভেতর ঢুকে আছে - ‘ইউ কল ইট চ্যারিটি, আই কল ইট রেসপনসিবিলিটি’ - এত কম বয়সে এইযে ছেলেমেয়েগুলো একটা কিছুকরার চেষ্টা করছে সেটাই বা কম কি?

সমালোচনা করা সবচাইতে সহজ কাজ, নিজ থেকে দেখেছি এদের আপনার আমার ইচ্ছেমত সহযেগাীতা করতে চাইলেই এরা নেবেনা।

কেন যেন কথাগুলো না বলে থাকতে পারলামনা, সবাইতে সন্তুষ্ট করে কোনদিন কোন কাজ করা যায়না, দেশের বাইরে পড়ালেখা করে দেশে ফিরে এসে কিছু একটা কাজ করার চেষ্টা, একটি শিশুর মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা সবে শুরু করেছে এরা - যেটা নিজেদের কাছে ভালো মনে হয়েছে তাই করছে - এরা জানেনা সামনে কি হবে; কিন্তু দেখেছি এরা যা জানে সেটা হচ্ছে এরা থামবেনা। সেটাতে যদি আমাদের সমস্যা থাকে তাহলে যোগ দিন, দেখুননা আপনাকে সাথে পেলে এরা এগুতে পারে কিনা।

রাষ্ট্রদায় নেবেনা, দায় নেবেনা কেউ - এইরকম একটি শিশুও যদি আপনার আমার হাত ধরে মাথা তুলে দাড়াতে পারে তবে তাই হোক। আসুননা, এদের সমালোচনা করতে করতে হতোদ্যম করে না দিয়ে বরং সহযেগাীতা করে নিশ্চিত করি যেন এদের কাজের সমালোচনার কোন জায়গা তৈরী না হয়!

তবুও নিননা একটি শিশুর জীবন বিকশিত করার ভার!

এখনো পর্যন্তআমি তীব্রতম আপত্তি করে এদের একেবারে ‘বাতিলের’ খাতায় ফেলে দেবার কোন জায়গা পাইনি, এরা শুরুই করেছে কিছুদিন হলো। আমি আছি এদের সাথে।

মামুনুর রশীদ এর ছবি

আপনি কি সবগুলো মন্তব্য পড়ে এসেই মন্তব্য করলেন? নাকি আগে থেকে খেরো খাতায় লেখা মন্তব্য হুট করে চালিয়ে দিলেন "জাগো" নামটি দেখেই। সমালোচনা করা সহজ বোঝা গেলো আপনার কথা থেকেই। কিন্তু কথা হচ্ছে, জাগোর কর্মকান্ডে অস্বচ্ছতা থাকলে কিংবা তাদের কর্ম্পরিকল্পনা হাস্যকর ফাজলামিতে ভরা থাকলে সেটা বলা যাবে না? নাকি, সরকার কিছু করছে না, রাষ্ট্র কিছু করছে না দেখে যেইসব ধান্দা বাজেরাই কিছু করতে যাবে তাদের সবাইকে উপুড় করে মলম লাগাতে হবে?

তানিম এহসান এর ছবি

’ধান্ধাবাজি’ কি প্রমাণিত, আপনি আমাকে প্রমাণ দিন যে এটা পুরোপুরি ধান্ধাবাজি, আমি মেনে নিব। অস্বচ্ছতার প্রমাণও কি সত্যি সত্যি আছে? ’হাস্যকর ফাজলামি’ মনে হতে পারে তবে তারা কেবলইমাত্র ফাজলামি করছে এটা আমার কোনভাবেই মনে হয়নি।

আমি মন্তব্যগুলো পড়েই আমার মন্তব্য করেছি। হিমু ভাইয়ের মত করে আমারও মনে হয়েছে ইংরেজি মাধ্যমে শেখানোর পর এই শিশুদের ভবিষৎ কি, কিংবা, জাগো ফাউন্ডেশন না থাকলে এই শিশুদের কি হবে - এই বিষয়গুলো এবং আরো সব মন্তব্য দেখেছি; এই জায়গা থেকে আমার মনে হয়েছে সমালোচনা নয় বরং ত্রুটিটা কোথায় তাই দেখানোর একটা সচেনত চেষ্টা এখানে আছে। আবার পাশাপাশি আমি ষষ্ঠপান্ডব এর করা একটি মন্তব্যে যথেষ্ট অনুপ্রাণিত, তিনি বারুদ আর প্রদীপের কথা বলেছেন।

আমি সম্পূর্ণ আমার নিজস্¦ মতামত দিয়েছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, যে ত্রুটি নিয়েই এরা শুরু করুক না কেন তা যদি আক্ষরিক অর্থেই ‘ধান্ধাবাজি’ না হয়, শুধুমাত্রই হয় নিজেদের ‘এক্সপোজ’ করা না হয় তাহলে কি আমরা অন্যসব ত্রুটিগুলোর বিষয়ে এইভাবে এদের দূরে ঠেলে রাখবো? আমি হয়তো অল্পতেই মুগ্ধ হচ্ছি কিন্তু আমি যতটুকু দেখেছি তাতে আমার এই উপলব্ধির কথা আমি বলতে চেয়েছি। আমি বিশ্বাস করতে চাই এদের কোন অসৎ উদ্দেশ্য নেই, আমি এখন পর্যন্ত যতটুকু দেখেছি তাতে আমি দেখিনি। বরং তাদেরকে আমার কাছে ‘সেলফ একাউন্টেবল’ মনে হয়েছে, আমি এখন পর্যন্ত ওদের অনেক শক্তিশালি দিক খুঁজে পেয়েছি। সবচাইতে শাক্তিশালি যেটা মনে হয়েছে সেটা হচ্ছে শিশুদের সাথে ওদের আচরন এবং পরিবাবগুলোর সাথে তাদের সম্পর্ক- অল্পবয়সে শুরু করা কাজে উচ্চাশা হয়তো অনেক বেশি কাজ করেছে সেকারনেই ইংরেজি মাধ্যমে শেখানোর চেষ্টা, ওই বয়সে একটা জোশ কাজ করে সবার ভেতরই।

হিমু ভাই যে প্রশ্ন করেছেন তা সত্যি এবং তার কথা মেনে নিয়েই আমি আমি যোগ করতে চাই, জাগো যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আজকে যারা এইসব শিশুদের স্পন্সর করছেন, তারাও কি তখনো এই স্পন্সরশিপটা ধরে রাখবেন? জাগো কি এই বিষয়টা নিশ্চিত করছে? আমি জানিনা। এরকম আরো অনেক বিষয় আসতে পারে ফোকাস এর জায়গায়।

আমরা এইযে আলোচনা করছি, আমার খুবই ভালো লাগবে যদি জাগো ফাউন্ডেশনের সাথে যুক্ত মানুষেরা এই ব্লগ ঘিরে সমালোচনার জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করে। কারো কারো মন্তব্যে মনে হলো তারা জাগোর সাথে সরাসরি যুক্ত।

রাষ্ট্রীয় যথোপযুক্ত চিন্তার জায়গায় যারা অদৃশ্য, অস্পৃশ্য হচ্ছে দিনকে দিন, তাদের বেলায় আপনার আমার সবার চিন্তার সম্মিলন না ঘটলে কোন লাভ নেই। আজকে যদি জাগো বন্ধ হয়ে যায়, এই আমি, আমরাই কি তৈরী আছি এই শিশুদের নিয়ে কাজ করার জন্য?

সব ধান্ধাবাজ নিয়ে আমি কথা বলিনি, কোন ধান্ধাবাজের ক্ষেত্রেই মলমের দরকার নেই, দরকার নেই তেল মালিশ করারও। সব ধান্ধাবাজদের নিয়ে থাকলেতো ভাই সচল সবচাইতে প্রিয় ব্লগ হতে পারতোনা। এইসব ক্ষেত্রে আমার অবস্থান আমার নিজের কাছে খুব পষ্ট।

জাগো’র ব্যাপারে আমি যতটুকু দেখেছি তাই বলে গেলাম, এতে কোন পক্ষপাতিত্ব নেই, সহজ স্বীকারোক্তি। আর পক্ষপাতিত্ব যতটুকু আছে, তা যেসব শিশুরা কিছুটা হলেও পাচ্ছে তাদের প্রতি, সময়েই জানবো জাগো আসলে কতটুকু বলেকয়ে কি করেছিলো। তার আগে অপেক্ষা করবো, চেষ্টা করবো কোনভাবে কন্ট্রিবিউট করতে পারি কিনা, প্রয়োজন হলে দেখে আসবো, কথা বলে জেনে নেব, আরো যাচাই-বাছাই করবো কিন্ত সে কাজটা জাগোর সাথে থেকে করতে চাই, পুরোপুরি বাইরে থেকে নয়।

নিরাশ হতে আর ইচ্ছে করেনা, একটা কিছু তবুও হোক একটা একটা করে; একবারে সব কোনদিনও হবেনা।

ভালো থাকবেন, শুভেচ্ছা।

হিমু এর ছবি

শাহবাগে ফ্রি রাইড দিচ্ছে রিকশাওয়ালারা

করভী রক্সান্দের হলুদ ফিলানথ্রপিস্টরা কি শাহবাগে এসে দাঁড়াবেন একটু? আপনাদের নিজেদের "প্রাথমিক" শিক্ষার দৌড়টা পরখ করা দরকার।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA