ঝিনুককে যিনি নীরবে সইতে বলেছিলেন...

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি
লিখেছেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর (তারিখ: শুক্র, ২৭/১১/২০০৯ - ৪:২৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমার জন্মের ঠিক অল্প কদিন আগে মৃত্যু হয় কবি আবুল হাসানের। আমার জন্মের পরে বহুবছর যার খোঁজ আমি পাইনি। কোথায় পেয়েছি প্রথম? ভুলে গিয়েছি।

হয়তো কারো মাধ্যমে তাঁর ঝিনুক নীরবে সহো কবিতাটাই প্রথম পড়েছিলাম। কিন্তু তা মনে পড়ে না। নামের বিচারে আমার কাছে আবুল হাসান প্রথম উঠে আসেন তাঁর ঘৃণা কবিতা দিয়ে... আমাদের সেই পোস্ট বালক বয়সে যখন কবিতা মাথায় আঘাত হানতে শুরু করেছে, কিন্তু কবিতার ছলাকলা বুঝি না, তখনো যখন কবিতায় রস আস্বাদনই করি কেবল, তখন পড়ি
"শুধুই অধম ছলাকলায় অবহেলায় স্বপ্ন যার
বিস্বাদে তার ভালোবাসা? উরুর কুয়োয় ডুব সাঁতার?"

উরুর কুয়োয় ডুবসাঁতার বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন তা বুঝেই আমাদের অনেক আনন্দ হয়। তখনই আমরা কবি আবুল হাসানকে নামে চিনি। কিন্তু হয়তো বুঝতে পারি না।

তারপর ক্রমে ক্রমে অনেক বিকেল এবং সন্ধ্যা এবং অনেক রাত্রি কেটে যায়। আমি নিজে কবিতার ধারে কাছে কখনও যাইনি, স্রেফ একজন পাঠক। কিন্তু আমাকে প্রথম মুগ্ধ করে আবুল হাসানের "ঝিনুক নীরবে সহো" কবিতাটি।
খুব ছোট্ট একটা কবিতা। মাত্র তিন লাইনের
"ঝিনুক নীরবে সহো
ঝিনুক নীরবে সহো, ঝিনুক নীরবে সহে যাও
ভিতরে বিষের বালি, মুখ বুঁজে মুক্তা ফলা!"

এরপর আর আবুল হাসানকে আমার চিনতে হয়নি, তিনি নিজেই চিনিয়ে দিয়েছেন।

আমি সামান্য পাঠক, তার উপরে কবিতা বুঝি না। কবিতা বা কবি নিয়ে কথা বলার যোগ্যতা নাই। কিন্তু তবু এটুকু বলতে চাই, বাঙলা ভাষায় যাদের কবিতা আমি পড়েছি, প্রাচীন গুরুজনদের বাদ দিয়ে কাছাকাছি কালের কবিদের মধ্যে আমি যাকে ব্যক্তিগতভাবে সেরা মানে, তিনি আবুল হাসান।
শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, নির্মলেন্দু গুণ, রফিক আজাদ, সিকদার আমিনুল হক, আবিদ আজাদ... এরকম অনেকের বিচারেই আমি এই কথাটি বলছি।

ব্যক্তিগত চ্যাটালোচনায় একদিন হিমু প্রশ্ন করেছিলো কবি হুমায়ুন কবীর বেঁচে থাকলে কী হতেন? বন্ধু ফরহাদ মজহারপন্থী হতেন?
এই প্রশ্নের উত্তর পৃথিবীর কারো জানা নেই।
শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, গুণদা বা অন্যদের বিচারে এসব প্রশ্ন হয়তো এখন এসে যায়, আমি জানি না বা জানা সম্ভব না একজন আবুল হাসান ৭৫'র পরে বেঁচে থাকলে কী করতেন?
৭১ সালেও কিছুই করার ছিলো না তাঁর। সেই তখন থেকেই তিনি শয্যাশায়ী। ২৫ মার্চ রাতেও তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিছানাতেই ছিলেন।
এরপরও আসলে সুস্থতা খুব বেশি ছিলোনা তাঁর। মৃত্যুর সম্ভাবনা নিয়েই কবিতা চর্চা করে গেছেন পরবর্তী ৫টা বছর।

১৯৬৫ সালে ঢাকায় আসেন তরুণ আবুল হাসান। তখনো তিনি আসলে পৈত্রিক পরিচয়ে আবুল হোসেন। চল্লিশের দশকের খ্যাত কবির নাম আবুল হোসেন থাকায় বন্ধু কবি রফিক আজাদের পরামর্শে আবুল হাসান নামে লিখতে শুরু করেন।
সেই থেকেই ঈর্ষনীয় প্রিয়তা পেতে শুরু করেন। এ এক আশ্চর্য!
কেউ তাঁকে অপছন্দ করতে পারছে না! খুব অল্প সময়েই তিনি রাষ্ট্র এবং সমাজে জায়গা করে নেন। স্রেফ ভালো মানুষির খাতিরে। কিন্তু কোনোদিন তোয়াজ করে কাউকে কিছু বলতে শোনা যায়নি। ঠোটকাটা হিসেবেই খ্যাতি ছিলো। জনপ্রিয়তার প্রধান অস্ত্র, অসম্ভব ভালো কবিতা লেখা, আর সত্য বলা।

মাত্র ৩টি কবিতার বই!!!
রাজা যায় রাজা আসে, যে তুমি হরণ করো আর পৃথক পালঙ্ক...
আবুল হাসান আমাদের প্রিয় কবি হয়ে যান। সেই ৭০ দশক থেকে এখনো পর্যন্ত।
ঢাকার সাহিত্য মণ্ডলে মাত্র দশবছর ছিলেন। তার ৫বছরই জ্বরা ব্যধিতে। কিন্তু আবুল হাসান আবুল হাসানই থেকে যান।

শরীরের অবস্থা খুব খারাপ হলে সরকার নিজ উদ্যোগে তাঁকে জার্মানী পাঠায় চিকিৎসার জন্য। (এটাও আমার অনেক ভালো লাগে, একজন তরুণ প্রতিভাবান কবির জন্য তখন রাষ্ট্র উদ্যোগ নিয়েছিলো)। কিন্তু স্নায়ুযুদ্ধের প্রভাবহেতু কোনো সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র এই জটিল রোগের চিকিৎসায় রাজী হয় না। তাঁকে ফেরত পাঠানো হয় দেশে।
তার কিছুদিন পরই, মাত্র ২৯ বছর বয়সে মৃত্যু হয় কবি আবুল হাসানের। ১৯৭৫ সালের ২৬ নভেম্বর ভোরে মৃত্যু হয় তাঁর।

গল্প লিখেছেন, নাটক লিখেছেন। (সত্যি বলতে তাঁর গল্প আর নাটক সেভাবে আমার পড়া হয় নাই। আমি বারংবার তাঁর কবিতাতেই মুগ্ধ) কিন্তু আবুল হাসান আসলে স্রেফ কবি। আমার প্রিয় কবি।

প্রথমে ভেবেছিলাম আবুল হাসানের কিছু কবিতা (আমার পছন্দের) বা কবিতাংশ তুলে দিবো পাঠকের দরবারে, যারা আবুল হাসান খুব বেশি পড়েনি।
কিন্তু এখন এসে সিদ্ধান্ত পাল্টালাম... পড়লে আবুল হোসেনকেই পড়তে হবে... পুরোটাই... নাইলে পড়ার দরকার নাই... (আসলে হয়তো আমার সীমাবদ্ধতা, আবুল হাসানকে বাছতে পারবো না আমি, অনেক কবিতা, বা কবিতাংশ দিতে হবে...)


মন্তব্য

হিমু এর ছবি

আবুল হাসানকে নিয়ে একটা বিরাট পোস্ট লেখা আমার দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী বছর লিখবো। সেই পোস্টে কিছু বিস্ময় থাকবে পাঠকদের জন্যে, কথা দিচ্ছি।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

মোহময়ী প্রেমিকার জন্যও একবছর অপেক্ষায় থাকিনা কোনোদিন... কিন্তু আপনার লেখার অপেক্ষায় থাকবো আসলে...
কিন্তু খোদার কসম কই, একবছর কিন্তু আমার মনে থাকবে... যদি না পাই লেখা তাইলে বুঝবেন আমি কতো খারাপ...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

রাজিব মোস্তাফিজ এর ছবি

কবি আবুল হাসান সম্পর্কে প্রথম জানি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের " ভালোবাসার সাম্পান" বইটি পড়ে। অসম্ভব ভালো লেগেছিল বইটা। আর আবুল হাসানকে তো অবশ্যই।
আর আপনার লেখাটিও অনেক ভালো লাগল নজরুল ভাই। আর সচলায়তনের আজকের ব্যানারের জন্য হিমু ভাইকে অনেক ধন্যবাদ।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

ভরসা ছিলোএইদিনে কোন না কোন সচল এই হাসান কবি'কে স্মরনে কিছু লিখবেনই। কৃতজ্ঞতা নজরুল।
আমি কিছুই বলবোনা। শুধু পুরনো কিছু হাসানচর্চা'র স্বাক্ষর রেখে যাই।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

রাজিব মোস্তাফিজ এর ছবি

লিংকগুলো শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ মোরশেদ ভাই। পড়ে অনেক ভালো লাগল।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

নজরুল ভাই, আবুল হাসানকে নিয়ে লেখার জন্য ধন্যবাদ।
মোরশেদ ভাই, লিঙ্কগুলোর জন্য অনেক ধন্যবাদ।

মণিকা রশিদ এর ছবি

আবুল হাসানকে নিয়ে একটা লেখা আজ পড়ার অপেক্ষায় ছিলাম। পোস্টের জন্যে অনেক ধন্যবাদ নজরুল আপনাকে।
............
" তুমি আমাকে দহন দিয়ে এই যে সহন শান্তি অমরতা দিলে
এই তো মানুষ চায়, যুগে যুগে এই তার জেগে থেকে ঘুমোবার সাধ।"
........।।
_______________________________
শান্তিও যদি সিংহের মত গর্জায়, তাকে ডরাই।
--নরেশ গুহ

----------------------------------------------
We all have reason
for moving
I move
to keep things whole.
-Mark Strand

লাল কমল [অতিথি] এর ছবি

ভালো লাগল।
"অতটুকু চায়নি বালিকা!":http://www.youtube.com/watch?v=QF1k6xxxDvY

নজমুল আলবাব এর ছবি

১৪/১৫ বছর বয়েস সম্ভবত, যখন আবুল হাসান এর সাথে পরিচয়! মাত্র তিনটা লাইন, ঝিনুকের বেদনার কথা বলা সেই লাইন কটা গেথে থাকে মগজে, তার পর থেকে। এ শব্দবন্ধ বিস্মৃত হবার নয়।

আমার ঝুলায় সম্ভবত গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে হাসান বসে থাকে। আমার প্রিয় বন্ধু।

আবুল হাসান এর খুব কাছের এক বন্ধু ছিলেন আমার কাছের বন্ধুর বাবা। বন্ধুর বাবা বলে নয়, তার মৃত্যুরোগ হলে শুধুমাত্র আবুল হাসান এর বন্ধু বলেই তাকে বার বার দেখতে গিয়েছি।

আমার লেখার জোর খুব নিচের দিকে। অন্তত আলোচনার ক্ষেত্রে শূন্যেরও নিচে। তবে সহিত্যের আলোচনা পড়ি। সেইসব আলোচনায় অবাক হয়ে দেখি মায়াকোভস্কির কথা বলে লোকে, তারা বলে সিলাভিয়া প্লাথের কথা। বড়ো অবাক লাগে তিরিশ বছর আগে আমারই দেশে প্রবল পরাক্রম নিয়ে কবিতার চাষ করে গেছে যে যুবক, তারে নিয়ে কেউ সেভাবে কথা বলে না। আমাদের মতো দু একটা বোকা লোক ছাড়া।

এমন হয় আরো অনেকের সাথে।

সোমেন চন্দকে উৎসর্গ করা হয়েছিলো গল্পের কাগজ সহবাস এর প্রথম সংখ্যা। আমরা কৈশোর পেরুনো তরুণরা তখনই তাকে চিনি। (ইচড়ে পাকামো বা অন্যকিছু ভাববেন না দয়া করে।) কিন্তু সহবাস হাতে নিয়ে অনেক ওয়াকিবহাল আতেল এই বেটা কে টাইপ প্রশ্ন করেছেন।

একটা সংঘবদ্ধ দল কঠিনভাবে হাসানে মজে থাকাটাও একটা ঘটনা সম্ভবত। আমরা আলোচনার পর তর্ক, তর্কের পর মারামারি পর্যন্ত করতাম। কিন্তু আবুল হাসান নামের লোকটাতে সবাই সমান মগ্ন ছিলাম। আমাদের গল্পের কাগজের নাম ছিলো সহবাস (আবুল হাসানের কবিতা) আমাদের কবিতার কাগজের নাম শস্যপর্ব (আবুল হাসানের কবিতা থেকে তুলে আনা শব্দবন্ধ)।

একরাতে, সে গভীর রাতই সম্ভবত, গৗরীশ ফিরিঙ্গি দেশ থেকে ফোন করে আমার ঘুম ভাঙ্গিয়ে বলে, অপু, আবুল হাসান সমগ্রটা বাড়িতে ফেলে এসেছি। ভালো লাগছে না! সম্ভবত পরে সপ্তাতেই সেই পুস্তক বিলাতে চলে গেছে। গৗরীশ শান্ত হয়েছে।

আবুল হাসান ঘিরে এভাবেই আছে নানান ব্যাক্তিগত কথামালা।

নজরুল ইসলাম, আপনি অভিবাদন গ্রহণ করুন। আমি পারিনি, আপনি পেরেছেন। প্রিয় একটা না দেখা মানুষকে নিয়ে লিখেছেন। আপনাকে ইর্ষা করছি না, শ্রদ্ধা করছি।

------------------------
ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল

রণদীপম বসু এর ছবি

গোলাপের নীচে নিহত হে কবি কিশোর / আবুল হাসান
...

গোলাপের নীচে নিহত হে কবি কিশোর আমিও ভবঘুরেদের প্রধান
ছিলাম ।
জোৎস্নায় ফেরা জাগুয়ারা চাঁদ দাঁতে ফালা ফালা করেছে আমারও
প্রেমিক হৃদয় !
আমিও আমার প্রেমহীনতায় গণিকার কাছে ক্লান্তি
সঁপেছি
বাঘিনীর মুখে চুমু খেয়ে আমি বলেছি আমাকে উদ্ধার দাও !
সক্রেটিসের হেমলক আমি মাথার খুলিতে ঢেলে তবে পান করেছি মৃত্যু
হে কবি কিশোর
আমারও অনেক স্বপ্ন শহীদ হয়েছে জীবনে কাঁটার আঘাত সয়েছি
আমিও ।
হৃদয়ে লুকানো লোহার আয়না ঘুরিয়ে সেখানে নিজেকে দেখেছি
পান্ডুর খুবই নিঃস্ব একাকী !
আমার পয়ের সমান পৃথিবী কোথাও পাইনি অভিমানে আমি
অভিমানে তাই
চক্ষু উপড়ে চড়ুইয়ের মতো মানুষের পাশে ঝরিয়েছি শাদা শুভ্র পালক !
হে কবি কিশোর নিহত ভাবুক, তেমার দুঃখ আমি কি বুঝি না ?
আমি কি জানি না ফুটপাতে কারা করুণ শহর কাঁধে তুলে নেয় ?
তোমার তৃষ্ণা তামার পাত্রে কোন কবিতার ঝিলকি রটায় আমি কি
জানি না
তোমার গলায় কোন গান আজ প্রিয় আরাধ্য কোন করতলও হাতে লুকায়
আমি কি জানি না মাঝরাতে কারা মৃতের শহর কাঁধে তুলে নেয় ?
আমারও ভ্রমণ পিপাসা আমাকে নারীর নাভিতে ঘুরিয়ে মেরেছে
আমিও প্রেমিক ক্রবাদুর গান স্মৃতি সমুদ্রে একা শাম্পান হয়েছি
আবার
সুন্দর জেনে সহোদরকেও সঘন চুমোয় আলুথালু করে খুঁজেছি
শিল্প ।
আমি তবু এর কিছুই তোমাকে দেবো না ভাবুক তুমি সেরে ওঠো
তুমি সেরে ওঠো তোমার পথেই আমাদের পথে কখনও এসো না,
আমাদের পথ
ভীষণ ব্যর্থ আমাদের পথ ।
...

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

অতিথি লেখক এর ছবি

জন্ম মৃত্যু জীবনযাপন / আবুল হাসান

মৃত্যু আমাকে নেবে, জাতিসংঘ আমাকে নেবে না,

আমি তাই নিরপেক্ষ মানুষের কাছে, কবিদের সুধী সমাবেশে
আমার মৃত্যুর আগে বোলে যেতে চাই,
সুধীবৃন্দ ক্ষান্ত হোন, গোলাপ ফুলের মত শান্ত হোন
কি লাভ যুদ্ধ কোরে ? শত্রুতায় কি লাভ বলুন ?
আধিপত্যে এত লোভ ? পত্রিকা তো কেবলি আপনাদের
ক্ষয়ক্ষতি, ধ্বংস আর বিনাশের সংবাদে ভরপুর... ...
মানুষ চাঁদে গেল, আমি ভালবাসা পেলুম
পৃথিবীতে তবু হানাহানি থামলোনা ।
পৃথিবীতে তবু আমার মতোন কেউ রাত জেগে
নুলো ভিখিরীর গান, দারিদ্র্যের এত অভিমান দেখলো না !

আমাদের জীবনের অর্ধেক সময় তো আমরা
সঙ্গমে আর সন্তান উৎপাদনে শেষ কোরে দিলাম,
সুধীবৃন্দ, তবু জীবনে কয়বার বলুন তো
আমরা আমাদের কাছে বোলতে পেরেছি,

ভালো আছি, খুব ভালো আছি ?

-আগামী
-------------------------
জেনেছি দৈন্য ঘুঁচাও এবার দীনতা

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

আমার ব্যক্তিগত অজ্ঞানতা হতে পারে- তবে মনে হয় আমাদের প্রজন্ম এই কবির সম্পর্কে একরকম অন্ধকারেই থেকে গেছে...। আবুল হাসানের কোন কবিতা সংগ্রহ কি আন্তর্জালে সহজলভ্য ?? জানেন কেউ ?? এখানে লিঙ্ক দিলে উপকৃত হবো।

______________________________________________________

মধ্যরাতের কী-বোর্ড চালক

রণদীপম বসু এর ছবি

আমার একটা আর্কাইভ বানানোর খেয়াল হিসেবে কিছু আকাম করা শুরু করে দিয়েছি। আপাতত [url=http://chorakobita.blogspot.com/search/label/%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A7%81...(%E0%A7%A7%E0%A7%AF%E0%A7%AA%E0%A7%AD%20-%20%E0%A7%A7%E0%A7%AF%E0%A7%AD%E0%A7%AB)]এখানে[/url] গুটিকয় আবুল হাসান পাবেন।
তবে চমৎকার সিদ্ধান্ত হবে যদি রচনা সমগ্রটা কিনে ফেলেন। আয়ত্তের মধ্যেই আছে। বিদ্যাপ্রকাশের তৃতীয় সংস্করণ (ফেব্রুয়ারি ২০০২)-এ গায়ের মূল্য দুইশ' টাকা লেখা আছে।

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

রণদীপম বসু এর ছবি

আরে দূর ! লিঙ্ক নিচ্ছে না কেন !
এখানে দেখুন।

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

নজমুল আলবাব এর ছবি

খুবি বদ চিন্তা। নেটে পড়ার চিন্তা বাদ দেন।
আপনার কান্ধে যখন একটা ব্যাগ থাকেই, তো আপনার জন্যে ফরজ হইলো একটা আবুল হাসান সমগ্র কিনে ফেলা। দাম বেশি না। সাইজও বড়ো না। পকেটে যে টাকা এম্নিতে থাকে, তাতেই চলবে। ব্যাগেও সে এটে যাবে। সাথে নিয়ে ঘুরবেন এর পর থেকে।

আরেকটা অপ্রকাশিত কবিতার পুস্তক আছে। সেটা পাবেন পাঠক সমাবেশে। আর সমগ্রটা বিদ্যাপ্রকাশ এর করা। আজিজেই পাওয়া যাওয়ার কথা।

------------------------
ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

অক্কে বস- কিনা লমুনে...

______________________________________________________

মধ্যরাতের কী-বোর্ড চালক

বালক এর ছবি

আবুল হাসান আমারো অনেক প্রিয় একজন কবি।

ভালো লাগলো নজু ভাই আপনের লেখা'টি।

____________________________________________________________________
"জীবনের বিবিধ অত্যাশ্চর্য সফলতার উত্তেজনা
অন্য সবাই বহন করে করুক;
আমি প্রয়োজন বোধ করি না :
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ হয়তো
এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।"

সুরঞ্জনা [অতিথি] এর ছবি

নজু ভাই,
অনেক ধন্যবাদ। ঈদে কি বই কিনব ভাবছিলাম। পেয়ে গেলাম।

যুধিষ্ঠির এর ছবি

ভালো লাগলো আপনার আবুল হাসান ট্রিবিউট।

সবজান্তা এর ছবি

আবুল হাসান এক চমৎকার বিস্ময় ! আবুল হাসানের অনেক কবিতা কিংবা কবিতাংশই মানুষের মুখে মুখে ফিরে, হয়তো অনেকেরই অজান্তে।

আমি শুধু একটা কবিতার কথা বলি- পড়ে এতোই মুগ্ধ হয়েছিলাম যে আলস্য ত্যাগ করে সচলে তুলে দিয়েছিলাম কবিতাটা।

আবুল হাসানের কবিতা - একসময় ইচ্ছে জাগে, এভাবেই

এই কবিতাটা আমার খুব প্রিয়। মাঝে মাঝে বোঝার চেষ্টা করি, কী অদ্ভুত আবেগে কবিতাটা লেখা হয়েছে।


অলমিতি বিস্তারেণ

নৈষাদ এর ছবি

বইয়ের সেলফ থেকে বহুদিন পর বইটা আবার হাতে উঠে আসল। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে নজরুল ভাই।

মূলত পাঠক এর ছবি

ভাল্লাগ্লো নজরুলভাই!

অতিথি লেখক এর ছবি

শেখ নজরুল : ঈদশুভেচ্ছা

আরিফ জেবতিক এর ছবি

এই লুক্টা আমাগো জিনারেশনরে খাইল।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

অল্প আয়ু নিয়ে আসা বাংলার কবি-লেখকরা এক এক জন এক একটা আগুনে বোমা। সেই আগুনে যে পুড়েছে সেই বুঝেছে। সুহানের মত যারা তাঁদের পাঠ করেন নি তাদের জন্য কয়েকটা নাম.........

সুকান্ত ভট্টাচার্য
সোমেন চন্দ
খান মোহাম্মদ ফারাবী
মলয় কুমার ভৌমিক
সুনীল সাইফুল্লাহ্‌
কায়েস আহমেদ

এমনকি দ্য গ্রেট বস্‌ সুকুমার রায়!!!

এই লিস্টে কারো এমন অন্য কোন কবি-লেখকের নাম মনে পড়লে যোগ করে দেবেন। তাতে অনেকের উপকার হবে।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

সুকান্ত ভট্টাচার্য এবং খান মোহাম্মদ ফারাবী পাঠ করা হয়েছে পান্ডব'দা। সুকুমার তো বটেই...
সোমেন চন্দ নিয়ে কালই কথা হলো নিবিড় ভাইয়ের সাথে। নিবিড় ভাই বলতে পারলেন না- উনার লেখা কোথায় সহজলভ্য হবে। কেউ জানলে এখানে লিখে দিয়েন।
...
আর লিস্ট দীর্ঘায়িত করতে পারলে অনুগ্রহ করে সেটাও করবেন।

_________________________________________

মধ্যরাতের কী-বোর্ড চালক

হিমু এর ছবি

সোমেন চন্দের একটা রচনাসমগ্র পাওয়া যায়। বেশ ভালো বাঁধাই। সংগ্রহে রাখার মতো।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

সবজান্তা এর ছবি

রায়হানের রাজহাসের লেখক, আবু কায়সার। তাঁর কিছু কবিতা পড়েছিলাম, বেশ ভালো লেগেছিলো।

এই লিস্টের কায়েস আহমেদের ব্যাপারে শুধু বলতে চাই, অসাধারণ। আরো চমৎকৃত হয়েছিলাম যখন তাঁর বইয়ের ভূমিকা লেখকের নাম হিসেবে আখতারউজ্জামান ইলিয়াসের নাম দেখেছিলাম।


অলমিতি বিস্তারেণ

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

ব্যক্তিগত চ্যাটালোচনায় একদিন হিমু প্রশ্ন করেছিলো কবি হুমায়ুন কবীর বেঁচে থাকলে কী হতেন? বন্ধু ফরহাদ মজহারপন্থী হতেন?

এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর সত্যি পৃথিবীর কারো জানা নেই। তবে মনে আছে , নজরুল ভাই গতবছর আপনার জন্মদিনে ফোনালাপে এই প্রশ্নে আমি বলেছিলাম , কবীর ("ট্রিগারে হাত রাখলে নিজেকে ঈশ্বরের মতো শক্তিশালী মনে হয় ") বেঁচে থাকলে হয়ত ফরহাদের সাম্প্রতিক মতাদর্শের জন্য তাকে গুলি করে হত্যা করতেন ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

আলসেমির ব্যস্ততায় কারো মন্তব্যেরই জবাব দেওয়া হয়নি।
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

আবুল হাসানের কাছে আমারও এই অশিক্ষিত অর্বাচীন জীবনেই অনেক ঋণ।
যিনি নিজে জেনে আবার জানিয়েও গিয়েছিলেন মানুষ তার চিবুকের কাছেও কী ভীষণ অচেনা আর একা! যাঁর শেখানো-মতে ঝিণুক হয়ে নীরবে সয়ে যাই বারবার, আর কতো ঝিণুককে নীরবে সয়ে যেতে ব'লে যাই আরো কতো কতোবার! ...
অন্যতম প্রিয় কবিকে নিয়ে এই সুন্দর লেখাটার জন্য যথারীতি ঋণী হয়ে রইলাম নজরুল ভাইয়ের কাছেও।
মোরশেদ ভাইয়ের প্রতিও আমারও অনেক কৃতজ্ঞতা রইলো। এই ঘরে জন্মেরও আগের ওই পুরোনো আবুল-হাসানীগুলোও ঘুরে ঘুরে প'ড়ে এলাম সবই।

চলুক
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

সাইফ তাহসিন এর ছবি

চলুক
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদ্বপি গরীয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

নীড় সন্ধানী এর ছবি

পোষ্টটা অনেক দেরীতে পড়া হলো।

আমি কবিতা পড়ি খুব কম। নির্দিষ্ট কজন কবির বাইরে তেমন কবিতা পড়িনি। কিন্তু আবুল হাসান যেদিন প্রথম পড়েছি সেদিন থেকে আবুল হাসানের সাথে আছি। আমার অফিসের ড্রয়ারে একটা মাত্র বই আছে, সেটা আবুল হাসান সমগ্র। আবুল হাসান একটা বিস্ময় আমার চোখে। প্রায় তিন যুগ আগে বসে যেন বর্তমান সময়ের কথা যেন লিখে গেছেন।

আবুল হাসানের আরো বিস্ময় জানার অপেক্ষায় রইলাম হিমুর পোষ্টে। কিন্তু অপেক্ষার জন্য এক বছর খুব বেশী লম্বা সময় হয়ে যায়!!

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-
সেই সুদুরের সীমানাটা যদি উল্টে দেখা যেত!

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

অতিথি লেখক এর ছবি

পোষ্ট মন্তব্য মিলে এক দূর্নিবার সংগ্রহ হয়ে গেলো। অতি চমতকার

guest_writer এর ছবি

চমৎকার !!! ধন্যবাদ এমন লেখার জন্য,----- অণু

তিথীডোর এর ছবি

হিমুদার সেই পোস্ট আর এলো না... মন খারাপ

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।