১৯৭১

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি
লিখেছেন মেহবুবা জুবায়ের [অতিথি] (তারিখ: শনি, ০৩/০৯/২০১১ - ১০:৪৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রথম পর্ব > দ্বিতীয় পর্ব > তৃতীয় পর্ব > চতুর্থ পর্ব > পঞ্চম পর্ব > ষষ্ঠ পর্ব > সপ্তম পর্ব

> অষ্টম পর্ব

এখানে, এই পর্বে আমি ধারাবাহিক ভাবে কিছু না লিখে সেই সময়ের কিছু টুকরো টুকরো ঘটনা শেয়ার করছি। যেভাবে আমার মনে এসেছে সে ভাবেই লিখছি। সময়ের হের-ফের হতেই পারে। তার জন্য আগাম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

আমরা ঢাকায় ফিরে আসবার পর থেকেই স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র শোনা হতো। সন্ধ্যার পর বড়রা ছাদে চলে যেতেন। আমাদের ছাদে কয়েকটা অসমাপ্ত ঘর ছিলো বাতিল নির্মাণ সামগ্রীতে ঠাসা। তারই খানিকটা পরিষ্কার করে, পাটি পেতে সেখানে বসে তারপর রেডিওর নব ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতার ধরা হতো। কখনো শোনা যেত, কখনো শোনা যেতো না।  শুরু হতো গান দিয়ে। “জয় বাংলা বাংলার জয়” তারপর সেই সব গান, যে গানগুলি আমাদের স্বাধীনতার গান নামে পরিচিত। তারপর খবর হতো, খবর থেকে জানা যেত মুক্তিবাহিনী ও মুক্তিযুদ্ধের কথা। দেশ-বিদেশের কে কী বলেছে সে সব। আমরা জানতে পারতাম দেশের ভেতর মুক্তিবাহিনীদের অপারেশনের কথা। এমনিতে তো কিছু বোঝা যেতো না। আর হতো চরমপত্র পাঠ। খাঁটি ঢাকাইয়া ভাষায় চরমপত্র পড়া হতো। কারো বোঝার উপায় ছিলো না যে তিনি ঢাকাইয়া নন। পরে তো সবাই জেনেছে যে, সে সময় যিনি এটা পড়তেন তাঁর নাম এম আর আকতার মুকুল। বগুড়ার লোক। বগুড়ার বেশির ভাগ লোকই তো ভালো করে শুদ্ধ বাংলাই বলতে পারেনা, কিন্তু তিনি কীভাবে যে এত খাস ঢাকাইয়া বলতেন? সত্যি খুব অবাক করা বিষয় এটা। চরমপত্র খুব, খুবই জনপ্রিয় ছিলো। মুক্তিযোদ্ধাদের কোড নাম ছিলো বিচ্ছু। ছক্কু মিঞা, গুজাইরা মার, ঠাটা মালেইকা, এই শব্দগুলিও তখন লোকের মুখে মুখে ফিরতো। মুক্তিদের মার খেয়ে টিক্কাখানের কাপড় সব সময় যে বাসন্তী রং হয়ে থাকে সেই কথা খুব মজা করে বলা হতো।

বঙ্গবন্ধুর জীবন বাঁচানো ও বিপদ মুক্তি, সেই সঙ্গে আমাদের দেশের সবার বিপদ থেকে উদ্ধার পারার জন্য ইচ্ছা-পূরণ রুটি বসানো হতো ঘরে ঘরে। ব্যাপারটা ছিলো এই রকম... একটা ৮ ইঞ্চি গোলার্ধের রুটি। দেখতে না সেকা মোটা সিদ্ধ আটার রুটির মতো। তবে রংটা খানিকটা খয়েরি মেশানো কমলা রঙের। রুটিটা ঢাকনাওয়ালা বড় কাচের বাটিতে পানি দিয়ে উঁচু  জায়গায় রেখে দেওয়া হতো। আমাদেরটা স্টিলের আলমারির ওপর রাখা হয়েছিলো। তারপর সারাক্ষণ ‘ইয়া আমিরু ইয়া আল্লাহ আকবর, ইয়া কানা বুদু ইয়া কানাস্তাইন’ এই দোয়াটা পড়তে হতো। সাত থেকে এগারো দিন পর একটা রুটি থেকে দুইটা রুটি হয়ে যেত। এটা কেন হতো, কী ভাবে হতো আমি জানি না। তবে হতো, আমার নিজের চোখে দেখা।  পাক-পবিত্র হয়ে পুরনো রুটিটা সবাই মিলে ভাগ করে খেতে হতো। এর পর নফল নামাজ পরে মনের ইচ্ছা জানিয়ে দোয়া করতে হতো। আমরা বেশ অনেকগুলি পরিবার মিলে মিলাদের মতো করে দোয়া করতাম।  বড়রা এই সাত দিন  টানা রোজাও রাখতেন। তারপর নতুন রুটিটা আর একটা পরিবারকে দেওয়া হতো। রুটি বসাবার জন্য।

[যে বঙ্গবন্ধুর জন্য আমাদের শহীদ বাগের লোকরা ৭১  এ এত দোয়া করেছিলো, এত রোজা রেখেছিলো,  সেই শহীদবাগের বেশীর ভাগ লোকেরাই ৭৫-এ বঙ্গবন্ধু সপরিবারে মারা গেলে সবাই মিলে ফুর্তি করে  মিষ্টি  খেয়েছিলো। আমরা তখন শহীদবাগেরই আর একটা বাসা সালমা মঞ্জিলে থাকি। ওটা ছিলো তিনতলা ছয়টা ফ্ল্যাটওয়ালা বাড়ী। সামনের দিকের একতলায় থাকতো শেরে বাংলা ফজলুল হকের ছেলে ফয়জুল হকের স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও শ্বশুর বাড়ির সবাই। ওদের ফ্ল্যাটের সামনে সারি সারি গ্যারাজের সামনে অনেকটা জায়গা ছিলো।  সেখানে সব ফ্ল্যাটের সবাই একত্র হবে পটকা ফুটিয়ে মিষ্টি খেয়েছিলো। শেখ মুজিব মারা গেছে সেই খুশীতে, সে সময় তো তাঁকে কেউ আর বঙ্গবন্ধু বলতো না। বলতো মুজিব বা শেখ। ৭৫ এর ১৫ই আগস্টের বিকালে ওদের বাসা থেকে সব ফ্লাটে মিষ্টি পাঠানো হয়েছিলো। কী বড় বড় কালো জাম আর চমচম! আমার ছোটবোন একটা মিষ্টি তুলে নিয়েছিলো খাবে বলে। মিষ্টি কিসের জেনে আব্বা ওর হাতের মিষ্টিটা কেড়ে নিয়ে বলেছিলেন,” তোরা মিষ্টি খেতে পাস না? এই মিষ্টি খেতে হবে? ফেলে দে সব!” বলেছিলেন, “যে জাতি তার নেতার রক্তে হাত রাঙায় তাদের দুর্ভাগ্য কেউ রুখতে পারবে না। এই রক্তের দাগ ওঠাতে আরো কত রক্ত দিতে হবে কে জানে। আজ যদি বাঙালি জাতি বুঝতো সামনে তাদের কত বড় বিপদ তাহলে ফুর্তি নয়, আহাজারি করতো।”

আব্বা ২০০০ সনে যখন আমার এখানে বেড়াতে এসেছিলেন, তখন তাঁকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, “আপনি তো তাঁকে পছন্দ করতেন না তাহলে তখন ওসব বলেছিলেন কেন?” আব্বা বলেছিলেন, “আমার বিচারে শ্যাখের ব্যাটার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিলো তিনি কথা বলতেন নিজের মুখ দিয়ে, কিন্তু চিন্তা করতেন অন্যের মাথা দিয়ে। সমস্যা হলো চিন্তাটা তিনি কার মাথা দিয়ে করছেন সেটা। যতদিন তিনি তাজুউদ্দিনসহ খাঁটি কিছু মানুষের মাথায় চিন্তা করেছেন ততদিন তিনি উন্নতির চরমে উঠতে পেরেছিলেন। আর যখনি তিনি মাথা বদলালেন তখন থেকেই তার অধঃপতন শুরু হলো। আমি তাঁকে পছন্দ করি বা না করি সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যপার।  আমার ব্যক্তিগত সমস্যার চাইতে দেশ অনেক বড়। লোকটা দেশকে ভালোবাসতেন। সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ছিলেন।  কেউ একদিনে হঠাৎ করে নেতা হতে পারে না। নেতা হতে হলে তাকে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মানুষের মনের মাঝে নিজের জন্য জায়গা তৈরি করতে হবে। তার নীতি থাকতে হবে, আদর্শ থাকতে হবে, দেশের মানুষের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে। এই সব গুণ যার ভেতর থাকে সে-ই কেবল নেতা হতে পারে। সেই অর্থে শেখ মুজিব ছিলেন যথার্থ নেতা। তাঁর ছিলো জনসম্মোহনী ক্ষমতা। যা দিয়ে তিনি বাঙালি জাতীকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন। তাঁর মতো নেতা এদেশে আর কখনও হয়নি, হবেও না। আমি এখনো বিশ্বাস করি তিনিই পারতেন এই দেশটাকে গড়তে। তাঁকে আর একটু সময় দেওয়া উচিত ছিলো আমাদের।”]

জীবনযাত্রা যে স্বাভাবিক হয়ে গেছে, সেটা বোঝাবার জন্য রেডিও, টিভি ও খবরের কাগজে জোর প্রচারণা চালানো হতো। টিভিতে দেখানো হতো স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালতসহ সর্ব ক্ষেত্রে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ছবি। বিয়ে বাড়ীর ছবি, সিনেমা হলের সামনের ছবি, বাজার-হাটের ছবি এইসব। লোকজনের সাক্ষাৎকারও দেখানো হতো। তারা যে কত ভালো আছে, সে সবই বলত টিভি ক্যামেরার সামনে। সরকার ফিরোজ উদ্দিন আবার সুট-টাই পরে টিভিতে অনুষ্ঠান ঘোষণা করতেন। বেশীর ভাগই রেকর্ডিং অনুষ্ঠান দেখানো হতো। রেকর্ডিং এই জন্য বলছি কারণ সে সব আগেও দেখেছি আমরা। একটা খুব বড় নাটক প্রায় রবিবারেই দেখানো হতো। অন্তত মাসে একবার। ‘মুখরা রমণী বশীকরণ।’  ওইটা দেখতে বেশ লোকজনও আসত আমাদের বাসায়। আর হতো পাকিস্তান থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠান “রাত কে আখে’ নামে একটা ধারাবাহিক নাটক। দেশ ভাগ হবার আগে ও পরে নিরীহ মুসলমানেরা কীভাবে অত্যাচারিত হয়েছে সে-সব নিয়ে খণ্ড  খণ্ড উর্দু নাটক। জনি করসন শো’র (Johnny Carson) মতো করে হতো ‘জিয়া মহিউদ্দিন শো’। ঠিক ‘হেয়ার ইজ জনির’  নকল করে বলতো, ‘আপকে খেদমত মে জিয়া মহিউদ্দিন।’ গান গাইত শাহনাজ বেগম, বশীর আহমেদসহ আরো অনেকে, সবার নাম মনে নেই। প্রতি শুক্রবার ‘জীবনের আলো’ নামে একটা ইসলামি অনুষ্ঠান হতো। জিন্না টুপি পরা একজন মৌলানা (আবুল কালাম আজাদ?) আর পাঞ্জাবী-পায়জামা পরে অধ্যাপক মুনির চৌধুরী আসতেন। বিষয়বস্তু ছিলো ইসলাম কত উন্নত ধর্ম আর কাফেরদের সাথে  সম্পর্ক রাখলে আল্লাহ কত নারাজ হন তার ফিরিস্তি। মাঝে মাঝে, মনে হয়, কবির চৌধুরীও আসতেন। আমি ঠিক মতো মনে করতে পারছি না। আব্বা বলতেন, "মনির চৌধুরীকে কেন আলবদররা মেরে ফেললো, কে জানে? আহারে বেচারা! তিনি তো নয়-মাস পাকিস্তানিদের সাথে বেশ তাল মিলিয়েই চলেছিলেন। হয়ত বেঁচে থাকলে নামের আগে শহীদের বদলে রাজাকার যোগ হতো।"

আমাদের পাড়ার বেশীর ভাগ ছেলে-মেয়েরা মতিঝিল বয়েজ ও গার্লস স্কুলে পড়তো। স্কুল খোলার পর ওরা সব দল বেঁধে স্কুলে যাওয়া শুরু করলো। আমরা বারান্দায় দাড়িয়ে দেখতাম ওদের স্কুলে যাওয়া–আসা। আবার, আমার স্কুলের ৭৫ ভাগ ছাত্রীই ছিলো অবাঙালি, তাই সেটাও পুরোদমেই চলতো। আমার বন্ধুরা ফোন করে জানাতো ওরা সব স্কুলে গিয়ে অনেক মজা করে, মাঝে মাঝেই তাদের ফ্রি খাবার দেওয়া হয়। পড়াশোনার কোনো চাপ নেই, টিচাররা পড়ায় না, শুধু নাকি গল্প করে। আমার খুব স্কুলে যেতে ইচ্ছে করতো, কিন্তু আব্বা কিছুতেই আমাদের স্কুলে যেতে দিতে রাজী হলেন না। তাঁর এক কথা: ‘স্বাধীন দেশে স্কুলে যাবি, পরাধীন দেশে নয়।’ সেই বয়সেই তর্ক শুরু করে দিতাম, “আপনি কেন অফিসে যান?” “আমি অফিস না করলে তোরা খাবি কী?” “যদি দেশ স্বাধীন না হয় তাহলে কী হবে? আমি কী কোনদিনও স্কুলে যাবো না?” “যদি দেশ স্বাধীন না হয় তাহলে আমরা কেউ আর মাথা  উঁচু  করে বাঁচতে পারবো না। লেখাপড়া তো অনেক দুরের ব্যাপার। এসব কথা কখনো বলবি না, অবশ্যই দেশ স্বাধীন হবে।”

জুন’ মাসের শুরুতেই সবার চোখ ওঠা শুরু হলো, বলা যায় মহামারী আকারে। কী যে কষ্ট! চোখের মধ্যে অনেকটা বালি দিয়ে দিলে যেমন কড় কড় করে ঠিক তেমনি অনুভূতি (পিংক আইজ)। পাড়াসুদ্ধো  একে একে সবার এই চোখের অসুখ শুরু হলো। শুধু আমাদের পাড়াই নয় সারা বাংলাদেশ জুড়ে সবার চোখ উঠেছিলো তখন। এই চোখ ওঠার সুন্দর একটা নাম ছিলো “জয়-বাংলা অসুখ”। বলা হতো, ইন্ডিয়ার শরণার্থী শিবির থেকে এই জয়-বাংলা অসুখটা ছড়িয়েছিলো। রাস্তার মোড়ে মোড়ে হকাররা কালো চশমা বিক্রি করতো। এ থেকে পাক-আর্মিরাও রেহাই পায়নি। ওদেরও কালো চশমা পরে ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত। আমরা খুব মজা পেতাম। সবাই বলতো, “আর আসবি আমাদের দেশে? এইটা তো প্রথম মাইর দিলাম।। বাকী শীঘ্রই আসিতেছে”।

মনে হয়, জুলাই মাসে ম্যাট্রিক পরীক্ষা হবার কথা ছিলো। যাতে করে ছাত্র-ছাত্রীরা ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেয় তার জন্য খুব জোরেসোরে রেডিও, টিভি, খবরের কাগজে বলা ও লেখা হতো। উল্টোদিকে, মাঝে মাঝে কোথা থেকে যেন, হলুদ কাগজে ছাপানো, ছোট ছোট বইয়ের পাতার সমান, কালো কালিতে হাতে লেখা, লিফলেট বিলি করা হতো। কী কী লেখা থাকতো পুরোটা মনে নেই,  তবে মুক্তিবাহিনীরা হুমকি দিতো পরীক্ষাকেন্দ্রে বোমা ফাটাবে। সেই সঙ্গে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিতে এবং টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্য করতে বলা হতো। এগুলি পাওয়া যেত বাজারের ব্যাগ থেকে বাজার ঢাললে একটা ভাঁজ করা ছোট্ট কাগজ বের হতো। অথবা রেশনের চালের ভেতর। বা ছাতা খুললে ছাতার ভেতর। এমনি সব অভিনব জায়গায়। আর আমিন আলী তো ছিলোই যাবতীয় কাগজ-পত্র ও খবর বয়ে নিয়ে আসার জন্য।

যাদের আর্থিক সামর্থ্য ভালো ছিলো তারা তাদের ছেলেদের আমেরিকা পড়তে পাঠিয়ে দিতে শুরু করলো। বীণা ভাই, বাবু ভাই, আমানউল্লা্হ দারোগার দুই ছেলে জাহাঙ্গীর ও আলম ভাই, সালমা মঞ্জিলের সাচ্চু ও ফারুক ভাই সহ অনেকেই ফল সেশন ধরতে আমেরিকা চলে গেলেন। আর অন্য দিকে লাগলো বিয়ের ধুম। কলেজে ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া অবিবাহিত মেয়ে থেকে শুরু করে ক্লাস সেভেনে পড়া মেয়েদের পর্যন্ত  বিয়ে দিয়ে দেওয়া হতে লাগলো। আব্বার বন্ধুদের মেয়ে, আম্মার চাচাতো, খালাতো বোনদের, চাচাতো ভায়ের শালীদের বিয়ে লেগে গেলো। সেই সঙ্গে পাড়ার মেয়ে তো ছিলোই। প্রতি রবিবার আমরা বিয়ের দাওয়াত খেতাম। আমরা বড়াপুকে ক্ষেপাতাম ওর বিয়ে দিয়ে দেওয়া হবে বলে।

আম্মার খুব গয়না কেনার বাতিক ছিলো। বায়তুল মোকাররমের গোল্ড কুইন আর মোনা জুয়েলার্সে তার মাঝে মাঝে যেতেই হতো। তবে আফগানি বোরখার মতো একটা কালো বোরখা পরে। ওই বায়তুল মোকাররামে  আমি প্রথম মিলিশিয়াদের দেখি। এক কাঁধে বন্দুক আর অন্য কাঁধে আড়া আড়ি করে বন্দুকের গুলি। গাড় ধূসর রঙের সালোয়ার-কুর্তা, কাবুলি স্যান্ডেল আর বেলুচ টুপি পরা বিরাট বড় বড় লোকগুলি। দেখলে ভয়ে কলিজা শুকিয়ে যেত। কিন্তু ওরা স্বভাবে ভয়ঙ্কর ছিলো না। মূলোর মতো দাঁত বের করে হাসতো।  পাশ দিয়ে যাবার সময় মাথার হাত বুলিয়ে দিতো। “কোকি কোকি" করতো (সম্ভবত খুকী হবে সেটা); এরাই ধীরে ধীরে পুরো ঢাকা শহরে পুলিশের কাজ করতো। টহল দেওয়া, ট্রাফিক পুলিশের কাজ করা। রাস্তা বন্ধ করে গাড়ি চেক করা ইত্যাদি।  এরা উর্দু বলতে পারতো না। একটা উদ্ভট ভাষায় কথা বলতো। একটা কথা খুব ভালো বলতে পারতো, “রোখকে”। তারপর “ডান্ডি কার্ড” দেখতে চাইতো। যদি আইডি কার্ড না থাকতো তাহলে সবার খবর হয়ে যেতো। খুব শাস্তি দিতো। বন্দুকের বাঁট দিয়ে মারতো, ওদের ভারি ভারি সেই বন্দুক কাঁধে নিয়ে মাইলের পর মাইল ক্রল করাতো, তারপর বন্দুক কাঁধে নিয়েই হাঁটু গেড়ে নিল-ডাউন করে হাঁটাতো। লোকেরা এতো আইডি কার্ড কোথায় পাবে? তাই সবাই রেশন কার্ডকে আইডি কার্ড হিসাবে ব্যবহার করতো। রেশন কার্ডের এক কোনায় আবার পাকিস্তানের স্ট্যাম্প সাঁটানো থাকতো। ওরা তো পড়তে জানতো না, শক্ত একটা কার্ডের কতো কিছু পেলেই খুশী। মনে করতো ওটাই ডান্ডি কার্ড।

তখন প্রায় প্রতিদিনই মুক্তিবাহিনীরা এদিক ওদিক বোমা ফুটাতো। তাই ওরা খুব সন্ত্রস্ত হয়ে থাকতো। একটা রিক্সার চাকা ফেটে গেলে যে শব্দ হতো, তাতেই ওরা মনে করতো মুক্তিবাহিনী বোমা ফুটিয়েছে। “মুক্তো আয়া, মুক্তো আয়া।” বলে চারিদিকে পজিশন নিয়ে বসে যেতো, তারপর আসল ঘটনা টের পেয়ে রিক্সাওয়ালাকে মার লাগাতো। আমরা এখানে-ওখানে যাওয়া-আসার পথে এসব দেখতাম। পাড়ার বাবু ভায়ের আম্মা আর তুলির আম্মা দুপুরের দিকে গিয়েছিলেন জিন্না-এভিনিউতে গ্যানজেস ডিপার্টমেন্ট স্টোরে রিডাকশন সেলে ডালডা কিনতে। তাদের চোখের সামনে মুক্তি বাহিনীরা বোমা ফুটিয়ে কয়েকজন মিলিশিয়া পুলিশকে মেরে ফেলেছিলো। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে প্রকাশ্য দিবালোকে সেটাই ছিলো মুক্তিবাহিনীদের প্রথম অপারেশন। এই ঘটনা আমাদের সবার মনের উপর খুব প্রভাব ফেলেছিলো। এতদিন মুক্তিবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা এটা ছিলো শোনা কথা, অনেকেই ঠিক মতো বিশ্বাস করতো না। কিন্তু এবার হাতে হাতে প্রমাণ হয়ে গেলো মুক্তিযোদ্ধাদের অস্তিত্ব।

তারপর একদিন শুরু হলো বৃষ্টি। একটানা বৃষ্টি। বৃষ্টির পানিতে রাস্তা ঘাটে পানি জমে গেলো। নিচু জায়গাগুলি পানিতে ডুবে গেলো। সারা দেশে শুরু হলো বন্যা। তখন কতো রকম যে গল্প চালু ছিলো। মিলিটারিরা নাকি বৃষ্টি আর পানিকে খুব ভয় পায়, একে তো ওদের দেশে বৃষ্টি হয় না তারপর ওরা সাঁতার জানে না। বৃষ্টি হলেই ওরা নাকি ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে আদা-তেজপাতা দিয়ে চা খায় আর দোয়া-দরুদ পড়ে। কান্না-কাটি শুরু করে পাকিস্তানে ফিরে যাবার জন্য। এই সুযোগে মুক্তিবাহিনীরা ওদেরকে মেরে শেষ করে দিচ্ছে। আমাদের যে কী খুশী লাগতো! “কত বড় সাহস আমাদের দেশে এসেছে আমাদেরকে মারতে, এইবার বুঝবে মজা, এইবার আমরা ওদের পানিতে ডুবিয়ে মারবো। হু বাবা বাঙালিদের তো চেনো না।”  

তখন জোর গুজব পাক-আর্মিরা মানুষ ধরে ধরে নিয়ে গিয়ে সব রক্ত বের করে পানিতে ফেলে দিচ্ছে। সেই সব লাশ নাকি জেলেদের জালে উঠে আসছে। মাছরা নাকি মরা মানুষ খেয়ে মরে ভেসে ভেসে উঠছে। কেউ আর মাছ খেতো না। আমাদের শহীদবাগের পেছন দিয়ে একটা রাস্তা শান্তিবাগের ভেতর দিয়ে শাহজাহানপুরের দিকে চলে গিয়েছিলো। ওই রাস্তাটার একটা জায়গায় একটা খালের মতো ছিলো, খালের ওপরে ছিলো একটা ছোট্ট ব্রিজ। বর্ষার পানিতে সেই খালটা হয়ে গিয়েছিলো রীতিমতো একটা সমুদ্র। পানি উঠে এসেছিলো ব্রিজের সমান সমান। আগে বর্ষার সময় এখানে বেদের নৌকা এসে ভিড়তো। এবার যুদ্ধের জন্যই হয়ত কোন নৌকা আসেনি। ওখানে একদিন একটা মরা লাশ এসে ব্রিজের কিনারায় ভেসে উঠলো। খবর পেয়ে আমি আর আমিন আলী ছুটতে ছুটতে গিয়ে দেখলাম, সত্যিই একটা লাশ কচুরীপানার সাথে ভেসে আছে। উপুড় হওয়া, খাকি রঙের একটা প্যান্ট পরা। মাথাটা কচুরীপনার নিচে, তাই দেখা যাচ্ছে না। ছোট ছোট ঢেউ এসে লাশটার শরীরে আছড়ে পড়ছিলো।

একদিন সন্ধ্যাবেলা হঠাৎ বিদ্যুৎ  চমকের মতো হাজারটা বিদ্যুৎ  চমকে উঠলো, সেই আলোতে চারদিক সাদা হয়ে গেলো, তারপর প্রচণ্ড, প্র-চ-ণ্ড শব্দের সাথে সাথে ধুপ করে বিদ্যুৎ চলে গেলো। চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার, তারপর শুরু হলো এলোপাথাড়ি গুলির শব্দ, ঠিক ২৫শে মার্চের রাতের মতো। আমরা যে যেভাবে পারলাম মাটিতে বসে পড়লাম। একসময় গুলির শব্দ থামলো। কিন্তু বিদ্যুৎ এলো না সারারাত। পরদিন জানা গেলো, গুলবাগ পাওয়ার স্টেশন ও মুমিনবাগের আর্মির ক্যাম্প উড়িয়ে দিয়েছে মুক্তিবাহিনীরা। বিদ্যুৎ  ছিলো না ক'দিন, অসুবিধা হচ্ছিলো, তাতে কী? আমাদের খুশী আর আনন্দ সব কষ্টকে হার মানিয়ে দিয়েছিলো।

এর পর পাক-আর্মিরা মরিয়া হয়ে উঠলো। চারিদিকে ধর-পাকড় শুরু হলো। শহীদ আলতাফ মাহমুদ ও লিনু বিল্লাহদের এই সময়ই ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। তারা মোমিনবাগে থাকতেন। আমরা খবর পেয়েছিলাম আর্মিরা শিমুল বিল্লাহর  দুলাভাইসহ ভাইদের ধরে নিয়ে গেছে।


মন্তব্য

guest_writer এর ছবি

আপনার লেখাটি পড়ে কিছু অজানা তথ্য পেলাম। আপনার লেখার এক জায়গায় লিখেছেন, '৭৫ এর ১৫ই আগস্টের বিকালে ওদের বাসা থেকে সব ফ্লাটে মিষ্টি পাঠানো হয়েছিল'। এই ওদের বাসা বলতে আপনি কাদের বাসা বুঝিয়েছেন? একটু খোলাশা করে জানাবেন কি?
মন্তব্য : প্রৌঢ়ভাবনা

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি

ওদের বাসা বলতে শেরে বাংলার বেয়াই বাড়ি বুঝিয়েছি। দুঃখিত ব্যাপারটা খোলাসা হয় নি বলে।

--------------------------------------------------------------------------------

পাগল মন এর ছবি

খুবই ভালো লাগল এ পর্বটা। হয়ত মুক্তিবাহিনীর অপারেশন আছে দেখে।

------------------------------------------
হায়রে মানুষ, রঙিন ফানুস, দম ফুরাইলে ঠুস
তবুও তো ভাই কারোরই নাই, একটুখানি হুঁশ।

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি

ধন্যবাদ, পাগল মন।

--------------------------------------------------------------------------------

অপছন্দনীয় এর ছবি

ওটা বোধহয় রুটি না, কোন ছত্রাক হবে।

চলুক

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি

আমার ছোট দেবরের সাথে আমার খুব তর্ক হয়েছিলো একটা রুটি থেকে দু'টো রুটি হওয়া নিয়ে। তার বিবেচনায় এটা হতেই পারে না। যদি হয়ে থাকে, তাহলে কেউ হয়ত লুকিয়ে আর একটা রুটি রেখে দিতো। কিন্তু ছত্রাকের সম্ভাবনা আমাদের কারো মাথায়ই আসে নি।

--------------------------------------------------------------------------------

সজল এর ছবি

অবরুদ্ধ ঢাকাবাসীর কথা জানা গেলো, বেশ ভালো লেগেছে। একটা প্রশ্নঃ আপনার এলাকাবাসীর, বিশেষত শেরেবাংলার উত্তরসূরিদের বঙ্গবন্ধু মারা যাওয়ায় খুশী হওয়ার কি আলাদা কারণ ছিলো, নাকি সারাদেশের গড় অবস্থাই এমন ছিলো?

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি

সজল, সারা দেশের কথা বলতে পারবো না ভাই, তবে আমাদের পাড়ার ৭৫ ভাগ লোকের এমনই মনোভাব ছিলো। আপনাকে মাত্র তিনটা উদাহরণ দেই।

১. আমাদের বাড়ির উল্টোদিকে বেগম মুজিবের মামা থাকতেন। তিনি খুবই সামান্য চাকুরীজীবী ছিলেন। তিন ঘরের টিনের বাড়িতে থাকতেন। স্বাধীনতার পর তার টিনের বাড়ি ভেঙে তিন তলা বাড়ি উঠেছিলো। হল্যান্ড সরকার বাংলাদেশকে কিছু গরু উপহার দিয়েছিলো ক্রস-ব্রিড (cross breed) করার জন্য। গরু গুলি প্রতি বেলায় পাঁচ-সাত সের করে দুধ দিতো। সেই গরুর এক জোড়া সেণ্টুদের বাসার (বেগম মুজিবের মামাতো ভাই) গোয়ালে শোভা বর্ধন করতো।

২. আমাদের ডাইনিং রুমটা ছিলো সদর দরজার সাথে লাগানো। দরজার ফাঁক দিয়ে বাইরে থেকে সব দেখা যেতো। প্রতিদিন দরজার বাইরে ক্ষুধার্ত মানুষ বসে থাকতো। আর দরজার নিচ দিয়ে সরু সরু আঙুল ঢুকিয়ে কাদঁতো, বলতো "একটু ফ্যান দ্যান গো মা, দুইটা পায়ে পড়ি, একটু ফ্যান দ্যান।" আমরা ওখানে বসে খেতে পারতাম না। আমার বাবার আর্থিক অবস্থা খারাপ ছিলো না, তবু আমরা একবেলা মাত্র ভাত খেতাম। কারণ চাল পাওয়া যেত না। এই যখন পাড়ার বেশীর ভাগ লোকের অবস্থা তখন বঙ্গবন্ধু তার ৫৫ বছরের জন্মদিনে ঘটা করে ৫৫ পাউন্ডের কেক কেটে ছিলেন।

৩. বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন বেলীফুলের মালা দিয়ে বিয়ে করতে। তাঁর ডাকে সারা দিয়ে অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদি ও মিনু ভাবি বেলীফুলের মালা দিয়ে বিয়ে করেছিলেন। অথচ তাঁর পুত্রদের বিয়েতে পুত্রবধূরা গা ভরা গহনা ও সোনার মুকুট পরেছিলো। পুত্র ও পুত্রবধূদের সাথে বঙ্গবন্ধুর সেই ছবি দৈনিক বাংলার প্রথম পাতায় বিরাট করে ছাপানো হয়েছিলো।

এ সব নিয়ে পাড়ার লোকেরা ক্ষেপে গিয়েছিলো। পাড়ার ভেতর খুব সমালোচনা হতো।

--------------------------------------------------------------------------------

কৌস্তুভ এর ছবি

পড়ছি...

পাঠক এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

মিলু এর ছবি

গুরু গুরু

পাঠক এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

কল্যাণF এর ছবি

গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু চলুক

পাঠক এর ছবি

বাবা এ্যতো!!
অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Rashedul Kaiser এর ছবি

শ্রদ্ধা

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

--------------------------------------------------------------------------------

মণিকা রশিদ এর ছবি

সবগুলো পর্বই খুব আগ্রহ নিয়ে পড়ছি। মুক্তিযুদ্ধের এইরকম সৎ বর্নণা আমাদের এখন খুব দরকার। শ্রদ্ধা জানবেন।

----------------------------------------------
We all have reason
for moving
I move
to keep things whole.
-Mark Strand

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি

তোমার গুনের কথা শুনলাম স্বপ্না আপা ও তাজু ভায়ের কাছে। একই অ্ঙ্গে এত গুন! তুমি নাকি দুর্দান্ত গান গাও? মনিকা আমায় কটা গান শোনাবে ভাই? তোমার ফোন নাম্বার জোগাড় করেছি সেই কবে! একদিন ঠিক ফোন করে গান শুনতে চাইবো কিন্তু।
পড়ছো জেনে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।

--------------------------------------------------------------------------------

নজমুল আলবাব এর ছবি

পড়ছি।

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি

মন ভালো?
তোমার লেখাও পড়ছি। মন্তব্য করতে পারি না নেটের সমস্যার জন্য। google chrome দিয়ে তো ঢুকতেই পারি না। আর internet explorer কথা বলো না, ঘাম ছুটে যাচ্ছে! এ-তো স্লো!

--------------------------------------------------------------------------------

যুমার এর ছবি

জয়-বাংলা অসুখটার কথা আলাতচক্র-তে ও ছিল বোধ করি।চমৎকার লেগেছে।

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি

তাই নাকি?
চমৎকার লেগেছে জেনে ভলো লাগলো।

--------------------------------------------------------------------------------

মহাস্থবির জাতক এর ছবি

হায় হায়, ছত্রাকওয়ালা রুটি খেতেন এতো খুশি হয়ে? এই জিনিস আমি আমার বাসায়ও অন্য নামে আধ্যাত্মিকতার মোড়কে দেখেছি। দুনিয়া!

এমনি আরো লিখুন। আপনার এই সিরিজটার সঙ্গে আছি একেবারে প্রথম থেকেই। চলুক।

_______________________________
খাঁ খাঁ দুপুরে, গোধূলিতে আর রাতে বুড়ি পৃথিবী
কেবলই বলছে : খা, খা, হারামজাদা, ছাই খা!

(ছাই: মণীন্দ্র গুপ্ত)

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি

ছত্রাক! আপনি ঠিক জানেন? ধর্ম মানুষকে কী রকম বেকুব বানিয়ে ফেলে দেখেছেন! নামাজ-রোজা কি খুশী হয়ে করি? করতে হয় বলে করি। রুটি খাওয়াটাও মনে হয় সে-রকম কিছু ছিলো।

--------------------------------------------------------------------------------

The Reader এর ছবি

চলুক

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

--------------------------------------------------------------------------------

আশালতা এর ছবি

এরকম রুটির কথা জানতাম না তো। যাহোক লেখা বরাবরের মতই দুর্দান্ত। গোগ্রাসে গিলে যাচ্ছি। আপনি ব্যস্ত জানি...তবু আরেকটু চটপট দিলে বড় ভালো হত। হাসি

----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি

আসলেই খুব দেরি হয়ে যাচ্ছে। শেষে তোমরা ধৈর্য হারালে দোষ দিবো না। ধন্যবাদ।

--------------------------------------------------------------------------------

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

প্রথমেই এই অ্যাত্ত আ্যত্ত ধন্যবাদ দেরি করে হলেও বড় করে লেখার জন্যে! হাসি

চরমপত্র, ডান্ডি কার্ডের গল্প একদম আম্মার গল্পের মতন, আব্বা বলে মিলিশিয়া যারা ছিল তারা আসলে গুন্ডা-মাস্তান-চোর-ডাকাত ছিল, ধরে এনে তাদেরকে এখানে প্যারা মিলিশিয়ার কাজ দিয়েছিল। বেলিফুলের মালার ঘটনা, আর আর স্বাধীনতার পরপর প্রচণ্ড খাদ্যাভাব, মানুষের না খেতে পেয়ে মরে থাকার ঘটনা শুনেছি আব্বার কাছে। আবার আপনার বাবার মতই বলে যে, বঙ্গবন্ধুর মত নেতা যাঁর এক ডাকে মানুষ এককাতারে আসতে পারে, বিরল।

চরমপত্র এখন বই আকারে অনন্যা প্রকাশনী বের করেছে। পড়ছি... হাসি

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

পাঠক Australia এর ছবি

অসাধারণ লাগছে। এত unbiased লেখা কম দেখেছি। চালিয়ে যান, আর কেউ থাক না থাক, আমি আছি।

রানা মেহের এর ছবি

ভাবী
যেই মুনীর চৌধুরীর কথা বলছেন, তিনি কি শহীদ অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী?
কবর নাটকের রচয়িতা?

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

পাঠক এর ছবি

অসাধারণ। ৯ টি পর্ব একসাথে পড়ে ফেল্‌লাম। আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি, কারন অনেক কিছুই আপনি গোপন না করে বলে গেছেন। এই ব্যপারটা এখনকার বর্ননাকারীদের কাছে পাই না। আপনাকে একটা বই প্রকাশ করার জোর দাবী জানাচ্ছি। আপনার বর্ননাভঙ্গির ভক্ত হয়ে গেছি। আবার ধন্যবাদ, পরের পর্ব কবে পাবো ?

আল্লাহ হাফেজ

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।