মেহবুবা জুবায়ের এর ব্লগ

পরানের বদনা রে!

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি
লিখেছেন মেহবুবা জুবায়ের [অতিথি] (তারিখ: শুক্র, ০৩/২৩/২০১২ - ৯:০০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমেরিকা উন্নত দেশ। ঠিক। আমেরিকা অনেক এগিয়ে গেছে। ঠিক। আগামি ৫০ বছরেও বাংলাদেশ আমেরিকার ধারে কাছে আসতে পারবে না। হয়ত সেটাও ঠিক। এতোদিন এই সব কথাই শুনে, বলে ও বিশ্বাস করে আসছিলাম, কিন্তু একযুগ পর এবার বাংলাদেশে গিয়ে সে ধারণা হলো সেটাই এখানে একটু বিস্তারিত বলার চেষ্টা করছি। তার আগে একটু গৌড়চন্দ্রিকা সেরে নেই।


১৯৭১

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি
লিখেছেন মেহবুবা জুবায়ের [অতিথি] (তারিখ: রবি, ০২/১৯/২০১২ - ৭:০৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রথম পর্ব > দ্বিতীয় পর্ব > তৃতীয় পর্ব > চতুর্থ পর্ব > পঞ্চম পর্ব > ষষ্ঠ পর্ব > সপ্তম পর্ব > অষ্টম পর্ব > নবম পর্ব > দশম পর্ব > একাদশ পর্ব

শবেবরাতের কয়েকদিন পর একদিন খুব সকালবেলা একটা চটের বাজারের ব্যাগ নিয়ে লালু মামা (আমার ছোট খালার দেবর) আমাদের বাসায় এসে হাজির হলেন। লালু মামা মানে মোজাম্মেল হক লালু, বগুড়ার দৈনিক করোতোয়ার সম্পাদক। লালু মামার মুখে শোনা...

[লালু মামা ৭১ সনে আজিজুল হক কলেজের ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বা এই রকম কিছু একটা ছিলেন, অসহযোগ আন্দোলন ও বগুড়া অবরোধের সময় প্রবল আন্দোলন করেছিলেন, ফলস্বরূপ মিলিটারি বগুড়ার দখল নেবার সঙ্গে সঙ্গে তাকে বগুড়া ছাড়তে হয়েছিলো। “হামি দুই ছোল দ্যাশের জন্য কুরবানী কোরিছি, তুই হামাক কথা দে যুদ্ধে যাবু না” - বাড়ি ছাড়বার সময় তাই মা'র মাথা ছুঁয়ে তাঁকে প্রতিজ্ঞা করতে হয়েছিলো মুক্তিযুদ্ধে যেতে পারবেন না।


১৯৭১

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি
লিখেছেন মেহবুবা জুবায়ের [অতিথি] (তারিখ: সোম, ১০/৩১/২০১১ - ৭:৪২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ওরা বলতো:

ইন্দিরা পাড়লো ডিম
মুজিব দিলো তা
ডিম ফুইটা বাইর হইলো
বাংলাদেশের ছা।

আমরা বলতাম:

ইলিশ মাছের তিরিশ কাঁটা
বোয়াল মাছের দাড়ি
টিক্কা খান ভিক্ষা করে
শেখ মুজিবের বাড়ি।


১৯৭১

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি
লিখেছেন মেহবুবা জুবায়ের [অতিথি] (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৯/২২/২০১১ - ১০:২৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রথম পর্ব > দ্বিতীয় পর্ব > তৃতীয় পর্ব > চতুর্থ পর্ব > পঞ্চম পর্ব > ষষ্ঠ পর্ব > সপ্তম পর্ব > অষ্টম পর্ব > নবম পর্ব

আমার নানা যখন ঢাকায় বেড়াতে আসতেন, তখন আমাদের নিয়ে তিনি রাজারবাগ পুলিশ লাইনের ভেতরে প্রতিদিন প্রাতঃভ্রমণে যেতেন। মাঠটায় বার দুয়েক চক্কর দিয়ে আমরা এসে দাঁড়াতাম পেছনে আস্তাবলের সামনের যে রাস্তাটা ছিলো সেখানে। ওখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতাম সকালের কুচকাওয়াচের জন্য সহিসরা ঘোড়াগুলিকে তৈরি করছে। গা ব্রাশ করা, লেজ আঁচড়ানো, ঘাড়ের কেশর আঁচড়ানো, লাগাম পরানো আরো কতো কিছু যে করতো তারা ঘোড়াগুলিকে নিয়ে। কবে থেকে ওখানে যাওয়া শুরু করেছিলাম, ঠিক মনে করতে পারবো না; তবে জ্ঞান হবার পর থেকেই পুলিশ লাইনের ভেতর চরে বেড়াতাম।


১৯৭১

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি
লিখেছেন মেহবুবা জুবায়ের [অতিথি] (তারিখ: শনি, ০৯/০৩/২০১১ - ১০:৪৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রথম পর্ব > দ্বিতীয় পর্ব > তৃতীয় পর্ব > চতুর্থ পর্ব > পঞ্চম পর্ব > ষষ্ঠ পর্ব > সপ্তম পর্ব

> অষ্টম পর্ব

এখানে, এই পর্বে আমি ধারাবাহিক ভাবে কিছু না লিখে সেই সময়ের কিছু টুকরো টুকরো ঘটনা শেয়ার করছি। যেভাবে আমার মনে এসেছে সে ভাবেই লিখছি। সময়ের হের-ফের হতেই পারে। তার জন্য আগাম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

আমরা ঢাকায় ফিরে আসবার পর থেকেই স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র শোনা হতো। সন্ধ্যার পর বড়রা ছাদে চলে যেতেন। আমাদের ছাদে কয়েকটা অসমাপ্ত ঘর ছিলো বাতিল নির্মাণ সামগ্রীতে ঠাসা। তারই খানিকটা পরিষ্কার করে, পাটি পেতে সেখানে বসে তারপর রেডিওর নব ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতার ধরা হতো। কখনো শোনা যেত, কখনো শোনা যেতো না।  শুরু হতো গান দিয়ে। “জয় বাংলা বাংলার জয়” তারপর সেই সব গান, যে গানগুলি আমাদের স্বাধীনতার গান নামে পরিচিত।


১৯৭১

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি
লিখেছেন মেহবুবা জুবায়ের [অতিথি] (তারিখ: বুধ, ০৮/০৩/২০১১ - ১:১১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রথম পর্ব > দ্বিতীয় পর্ব > তৃতীয় পর্ব > চতুর্থ পর্ব > পঞ্চম পর্ব > ষষ্ঠ পর্ব > সপ্তম পর্ব

গ্রামগুলি আর নিরাপদ ছিলো না। ঢাকার ওপর দখল নিয়ে পাক-আর্মিরা তখন আশে-পাশে গ্রাম-গঞ্জে হামলা চালাতে শুরু করেছে। আমাদের গ্রামে থাকাটা আব্বার কাছে আর নিরাপদ মনে হলো না। ঠিক মনে নেই, তবে মনে হয়, এপ্রিলের শেষের দিকে আমরা ঢাকায় ফিরে এলাম। আমার মেজবোনের জন্মদিন ২৮শে এপ্রিল। আমরা ফিরবার পর আম্মা ওর জন্মদিন উপলক্ষে পায়েস রান্না করেছিলেন। আমাদের উত্তরবঙ্গের লোকদের মাঝে, মনে হয়, ঘটা করে জন্মদিন পালন করবার রেওয়াজ ছিলো না। তবে জন্মদিন উপলক্ষে পায়েস রান্না করা হতো, সেটা কাঁসার বাটিতে করে জুড়োতে দেওয়া হতো মিটসেফের ভেতর। যার জন্মদিন তাকে কিশমিশ-বাদাম ছড়িয়ে বেশ যত্ন করে তা খেতে দেওয়া হতো।


১৯৭১

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি
লিখেছেন মেহবুবা জুবায়ের [অতিথি] (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৭/১৪/২০১১ - ২:৪৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রথম পর্ব > দ্বিতীয় পর্ব > তৃতীয় পর্ব > চতুর্থ পর্ব > পঞ্চম পর্ব > ষষ্ঠ পর্ব

চারিদিকে বাঁশঝাড়। মাঝখানে খানিকটা জায়গা পরিষ্কার করে মেজবাহ ভাইরা ট্রেনিং নিতেন। আমরা যেখানটায় থাকতাম সেখান থেকে জায়গাটা অনেক দূর, অনেকটা হাঁটতে হতো। ট্রেনিং দিতো একজন তাঁতি, সে ছিলো রঙের মাস্টার। সুতা রঙ করার কেমিকেলগুলো একসাথে মেশাতো ও। নামটা এখনো মনে আছে মনতু মিয়া (অবসর প্রাপ্ত ই.পি.আর)। পায়ে ব্যথা পেয়ে আগেই অবসর নিয়েছিলো। একটু খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটত। বয়স কত, ঠিক জানি না। তখন মনে হতো, অনেক বড়। কিন্তু আসলে বেশি না, ৪৫-এর নিচেই হবে।


১৯৭১

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি
লিখেছেন মেহবুবা জুবায়ের [অতিথি] (তারিখ: শনি, ০৬/১১/২০১১ - ৪:০২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রথম পর্ব > দ্বিতীয় পর্ব > তৃতীয় পর্ব > চতুর্থ পর্ব > পঞ্চম পর্ব

ডেমরায় আমাদের একটা টেক্সটাইল মিল ছিলো, সেখানকার কেয়ার টেকার আয়েস আলী ২৮ মার্চ খুব ভোরে চলে এলো আমাদের ডেমরায় নিয়ে যেতে। আব্বাকে মাঝে মাঝে ওখানে গিয়ে থাকতে হতো, তাই মোটামুটি থাকার একটা ব্যবস্থা ছিলো। তবে এতজন লোকের থাকার ব্যবস্থা নিশ্চয়ই ছিলো না।

আম্মা তার পাড়াতো আপা-ভাবীদের ছেড়ে একা কোথাও যাবেন না, মরতে হয় সবাই একসাথেই মরবেন। এই ঘোষণা দেওয়ার পর সবাই একসাথেই ডেমরা যাওয়া হবে, ঠিক হলো।


১৯৭১

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি
লিখেছেন মেহবুবা জুবায়ের [অতিথি] (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৫/২৬/২০১১ - ১২:৩৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রথম পর্ব > দ্বিতীয় পর্ব > তৃতীয় পর্ব > চতুর্থ পর্ব

সবুজ মামার বাসায় কিছুই ছিলো না। এমনকি ঠিক মতো প্লেট-গ্লাস, হাঁড়ি-পাতিল, বিছানা-পত্র কিচ্ছু না। শুধু একটা বিরাট ফিলিপসের ধূসর রঙের রেডিও আর একটা বড় পাতিল ছিলো। সেটাতে করে পাড়ার মুদি দোকান থেকে চাল-ডাল কিনে এনে শুধু খিচুরি রান্না করে খেতাম আমরা। প্লেট-গ্লাস বেশী ছিলো না বলে পালা করে খাওয়া হতো। পাড়ার মুদি দোকানটা তখন পর্যন্ত ছিলো বাঙালির। দোকানটা সামনের দিকে বন্ধ, কিন্তু পেছনের একপাশে একটু খোলা ছিলো। ওদিক দিয়েই পাড়ার লোকে কেনাকাটা করতো। তেমন ভালো কিছু ছিলো না সেখানে। মনে হয়, পান-বিড়ির দোকানের মতো ছিলো সেটা। সিগারেটের মধ্যে স্টার, বগা, উইল্স আর সবচেয়ে বেশী ছিলো বিড়ি।


১৯৭১

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি
লিখেছেন মেহবুবা জুবায়ের [অতিথি] (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৫/১২/২০১১ - ৭:২৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পর্ব
তৃতীয় পর্ব

০৪

আমরা যেখানে আশ্রয় নিয়েছিলাম সেটা শাহজাহানপুর হলেও অনেক অনেক ভেতরে। বাড়ির কাছে রিক্সা আসারও রাস্তা ছিলো না। বাসাটা ছিলো সবুজ মামার, আমাদের লতায়-পাতায় মামা। তখনও বিয়ে করেন নি। তিনি ছিলেন ঢাকা ইউনিভার্সিটির ফিজিক্সের লেকচারার। তাঁরাই ছিলেন প্রথম ব্যাচ, যাঁরা বাংলাদেশ হবার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছিলেন। তখন পূর্ব পাকিস্তান থেকে পিএইচডি করা যেতো না।