বেহেশত হলো নাজন্মানো

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: শুক্র, ০৭/১০/২০১১ - ১:২২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:


এই লেখা সভ্যতা নিয়ে। সভ্যতার অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় দরকারী খুব দরকারী চারটি উপাদান আছে। এগুলো ছাড়া সভ্যতা অচল, সভ্যতা সভ্যতা নয় অসভ্যতা।– শিশ্ন যোনী সঙ্গম ধর্ষণ।

শিশ্ন যোনীর মিলনে আলিঙ্গনে বন্ধনে ঐক্যে অভিনব সব সঙ্গমআসনে সঙ্গম হয় উৎপন্ন হয়- একটা মাথা তাতে দুই চোখ যেগুলোর সহ্য ক্ষমতা অসীম কিংবা হয়তো বহুলাংশে নিষ্ক্রিয়ই দুটি কান যেগুলো চোখগুলোর মতই নিষ্ক্রিয়প্রায় একটি নাক যেটি চুম্বনের সময় বাধার সৃষ্টি করা ছাড়া আর তেমন কিছু করে ওঠে না একটি মুখ হ্যাঁ এই মুখটিই মূলত সভ্যতাকে সভ্যতা করে তোলে করে রাখে রাখতে থাকে বহু বহু অঢেল গাদাগাদা ধ্বনিশব্দবাক্য প্রসব করে সভ্যতাকে প্রাণবন্তসভ্য করে রাখে। আরও আছে দুহাতদুপা। তবে সঙ্গমের প্রধান সার্থকতা হলো আরও একটি শিশ্ন কিংবা যোনী উৎপন্ন করা সভ্যতার ধারা প্রবহমানতা বজায় রাখা। শিশ্ন কিংবা যোনী বিশিষ্ট মাথাচোখকাননাকমুখগলাহাতপা-ওয়ালা মানুষ সভ্যতার একক। প্রায় সাত’শ কোটি কিংবা আরও ছোট করে প্রায় ষোল কোটি শিশ্ন/যোনী নিয়ে সভ্যতা গঠিত হয়ে আছে চলছে চলবে চলুক।– আর ধর্ষণ।

ধর্ষণ ছাড়া সভ্যতা ঠিক সভ্যতা হয়ে ওঠে না।


আফসার আলী কে? সে একজন মানুষ সন্দেহ নেই। স্বাভাবিক সুস্থ একজন মানুষ মানসিক বা শারীরিক কোনভাবেই বিকলাঙ্গ নয়। তাঁর আছে মাথাচোখকাননাকমুখগলাহাতপা এবং শিশ্ন একটি সুস্থসবল শিশ্ন। আছে ক্ষুদা আছে কাম। আর সকলের মতই সে মূলত শিশ্নোদরপরায়ণ একজন। তাঁর বয়স ৪০ তাঁর স্ত্রী আছে সন্তানও আছে নিশ্চই। সে কাজ করে অর্থ উপার্জন করে টাকার হিশেব জানে মানিব্যাগ রাখে চা খায় পেপার পড়ে বাজার করে রিকশাঅ’লার সাথে বাহাস করে দু টাকা কম দেয় অধিকার সচেতন সাবান ডলে গোশল করে ভাত খায় পানি খায় টিভি দেখে নাচাগানাকমেডি হাসে মোবাইল ব্যবহার করে এসএমএস কলরেট মেমোরি কার্ড জানে। সে টুপি পড়ে নামাজ পড়ে রোজা রাখে আল্লা আল্লা চায়ের দোকানে বসে হাসিনাখালেদা করে ছোটরা তাঁর সামনে বিড়ি খেলে রেগে যায় অসভ্য বেপর্দা বেশ্যা মেয়েমহিলাদের গালাগালি করে তাঁর বড়দের সালাম করে পাপপূণ্য আলোচনা করে সাতআশমানের রহস্য উদ্ধার করে। তাঁর বেহেশতে যাবার ইচ্ছা। সে ১১ বছরের আমেনাকে চেপে ধরে বারকয়েক পাছাটা উঠিয়েনামিয়ে নেয়, গেলো শনিবার তাই আমেনার এক ছেলে সন্তান হয়।– এমন ভয়ঙ্কর কথা কে কবে শুনেছে!

নাকি আমারই কোথাও ভুল হচ্ছে?

ধর্ষক কি বিশেষ কেউ? সাধারণ মানুষের বৃত্তের বাইরে? বহিরাগত? ব্যাতিক্রম? ধর্ষক কি আমাদেরই অংশ নয়? সবাই ধর্ষক নয় কেউ কেউ ধর্ষক? নাকি সকল পুরুষই কমবেশী ধর্ষক? যে ছেলেটা এগারো বারো বছর বয়সে নারী পুরুষের মিলন যৌনতা নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে খবরের কাগজের ম্যাগাজিনের নায়িকাদের ছবি দেখেদেখে নিজের সাথে নিজে করে চলে সে কি সুযোগ পেলে নিরাপদ বোধ করলে আম্মুআব্বু জানবে না মনে করলে নারীদেহ ছুঁয়ে দেখবে না? পনেরো ষোলোর যে ছেলেটা এক্সএক্সএক্স দেখেদেখে চোখ বন্ধ করে চেনা মেয়েটার সাথে মনেমনে করতে ব্যাস্ত সে কি মেয়েটার অনুমতি নিয়ে তার ইচ্ছেমতন করছে? সে কি ধর্ষণ করছে না? সুযোগমতন পেলে কি আসলেই করে দেবে না? সতেরো আঠারোর যে ছেলেটা পাড়ায় গিয়ে করে আসে সে ধর্ষক না? ধর্ষণ কি? নারী পক্ষের সম্মতিবিনা সঙ্গম, তাই না? বেশ্যাগুলোর কি খুব ইচ্ছে করবার? তারা কি সেচ্ছায় চিৎ হয়ে পড়ে থাকে? নাকি তারা বাধ্য টাকাটার জন্যে পেটটার জন্যে ক্ষুদাটার জন্যে ছেলেটার কিংবা মেয়েটার জন্য যার এখনও সুযোগ আছে? নাকি তারা বাধ্য কারণ সভ্যতা তাদের অসভ্য বলে ছুঁড়ে ফেলেছে ত্যাগ করেছে? বিশ একুশের যে ছেলেটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে একটা গার্লফ্রেণ্ডের জন্যে মরিয়া হয়ে পড়ে দিনেদুপুরে ক্লাসে কিংবা রাতে মোবাইলে নারী কিংবা দেহ শিকার করে কথা বলে কথা বলে ডেট-এ যায় রিকশায় ঘোরে হাত চালায় খায়দায় টাকা ঢালে টাকা টাকা রাতে আবার এবার ফোনসেক্স একদিন মেসে নিয়ে আসে তারপর শুধু সেক্স চায় সেক্স চায় না পেলে রাগ করে অন্য মেয়ে খোঁজে তারপর আরও একটা আরও একটা সে কি নিরাপদ বোধ করলে এতো ঝামেলাখরচে না যেয়ে পাশের বাসার কিংবা পাশের বিল্ডিংয়ের কিংবা পাড়ার ওই ওই ওই মেয়েটাকে চেপে ধরে চড়ে বসতো কামড়াতোছিড়তো না? অফিসে কাজ করে যে যুবক সহকর্মীকে দেখলে যারটা খাড়া হয়ে যায় চোখবন্ধ করে যে ভাবে টয়লেটে যায় নিজেরকাজনিজে করে সুযোগ পেলে সে কি সংজ্ঞাঅনুসারে ধর্ষক হয়ে উঠতো না? যে জামাই নতুন বিয়ে করা বউকে বিয়ের লাইসেন্স দেখিয়ে সে চাইলে বা না চাইলে জেগে থাকলে কিংবা না থাকলে যেকোনওভাবে করে যায় শুধু করে করে যায় সকালদুপুররাতে সে কি ধর্ষক না? আইনসম্মত, তাই স্বামী? এই প্রক্রিয়ায়ই কি সে সন্তান জন্ম দেবে না? যে লোকটা কাজের মেয়ের পেট বানিয়ে দেয় গোপনে খালাস করে গ্রামে পাঠিয়ে দেয় সব গোপনে গোপন থাকে সে কি ধর্ষক না?

এদের সবার মা আছে বোন আছে বান্ধবী আছে বউ আছে মেয়ে আছে। এদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে কাম চায় না, এমন কেউ নেই যে পেলেও নেবে না। সবাই কাম চায় সেক্স চায় সেক্স চায় সুখ চায় মাংসল সুখ বেহেশত চায়। সুযোগ পেলে নিরাপদ মনে হলে যাকে ভালো লাগে তাকেই নিজের নিচে নিতো তার ইচ্ছা বা অনিচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এরা শুধু সুযোগটা পায় না নিরাপদ বোধ করে ওঠে না সামাজিকভাবে তাই করতে পারে না। এদের সামাজিক নিরাপত্তা নেই। ধর্ষণের জন্য এদের সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি- হাহ্‌!

না আমি কোনও ভুল করছি না। সব পুরুষই সম্ভাব্য ধর্ষক। কেউ হয়ে ওঠে কেউ হয়ে ওঠে না। আফসার আলী হয়ে উঠেছে। সে আমাদের একজন সে পুত্র স্বামী বাবা বন্ধু প্রতিবেশী সে সভ্যতার অংশ সে মানুষের অংশ আমাদের অংশ আপনার এবং আমার অংশ।

আফসার আলীকে ছাড়া সভ্যতা অপূর্ণ।


এমনটা বলা যায় যে আফসার আলী’র তলপেটের নিচের নরমশক্তটা তাঁর একটুকরো পৌরুষটা তাঁর উরুসন্ধির সভ্যতাটা- দীর্ঘদিন ধরেই আলোড়িত হচ্ছিলো কেঁপে কেঁপে উঠে শক্ত হয়ে পড়ছিলো। কারণ আমেনার বাড়ীতে তাঁর অহরহ যাতায়াত ছিলো। আফসার আলীর যৌনজীবন সম্পর্কে জানবার সুযোগসম্ভাবনা আমাদের নেই। তবে এমনটা বলা যেতে পারে যে আমেনার এগারো বছরের মাংসদেহটার স্বাদটা শুধু তাঁর কল্পনাতেই ছিলো, পেয়ে ওঠেনি আগে কখনও নেওয়া হয়ে ওঠেনি আগে কখনও এমন। তাই আমেনা নিঃসন্দেহে তাঁর ওই বিশেষ অনৈচ্ছিক পেশীটিকে বেশ কঠিনখাঁড়া করে তুলছিলো প্রায়ই।

আমরা কি জানি? আমরা জানি আমেনা ঘরে প্রায়সময়ই একা থাকতো। তার রাজমিস্ত্রী বাপ আর মাকে যেতে হতো কাজে খাটতে হতো হয় হবে টাকা আনতে হবে টাকা টাকা বাজার আনতে হবে চাল ডাল খেতে হবে যাকিছুএকটা খেতে হবে এবং বেঁচে থাকতে হবে। বাঁচতে নয় বেঁচে থাকতে হবে টিকে থাকতে হবে।– তাই আমেনা একা থাকতো স্কুল শেষে। আর আফসার যে যেকোনও সময় আসতোযেতো- একদিন একলা আমেনা’র মুখ চেপে ধরে চিরাচরিত নিয়মে চিৎ করে ফেলে পাজামা খুলে নিজের সভ্যতা নিজের নরমশক্তগরমটাকে বের করে আমেনার এগারো বছর বয়স্ক ক্ষুদ্রপ্রায়অস্তিত্বহীন স্তন চাপতে চাপতে আমেনার উরুসন্ধিতে আমেনাকে ছিড়ে ফেলে এমনভাবে ছিড়তে থাকে যে আমেনার মনে হয়ে থাকতে পারে কোরানে ভুল আছে বেহেশত হচ্ছে নাজন্মানো। অপরদিকে আফসারের মনে হয়ে থাকতে পারে বেহেশত হলো এগারো বছরের কাঁচামাংসদেহ। সবার দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়, সবকিছুই আপেক্ষিক। কয়েকবার উপরনিচ করে নিস্তেজ হয়ে পড়ে আফসার আলী হওয়াটাই স্বাভাবিক কারণ এই স্বাদ এতকাল আফসারের কল্পনায় ছিলো শুধু পেয়ে ওঠেনি সে। বেহেশতে আগে কখনও যায়নি আফসার। যদিও তাঁর ইচ্ছে ছিলো প্রবল ছোটবেলা থেকে তাঁকে এটাই শেখানো হয়েছিলো যে বেহেশতে যাওয়াটা বেশ জরুরি। আর মানবজাতির মত আফসারও জেনে গেছে যে বেহেশত কোন স্থান নয় বেহেশত কোন সময় নয় বেহেশত হলো সন্তুষ্টি।

আফসার আলী সন্তুষ্ট।

এরপর? এরপর একবিংশ শতাব্দীর অংশ এবং প্রায়ডিজিটাল বাঙলাদেশের একজন নাগরিক হিশেবে আফসার আলী প্রযুক্তির শরনাপন্ন হবার প্রয়োজনীয়তা বোধ করে। তাঁর মোবাইল আছে মেমোরি কার্ড আছে তাতে ছবি আছে ভিডিও আছে ঠোঁট আছে বুক আছে স্তন আছে বগল আছে পেট আছে নাভী আছে উরু আছে যোনী আছে পাছা আছে শিশ্ন আছে তাই সঙ্গম আছে অপূর্বসব সঙ্গম আছে। একএকটি ছবিতে একএকটি ভিডিওতে সভ্যতা ও সভ্যতা শিশ্ন ও যোনীরূপে নিজের সাথে নিজেই মুহূর্মুহূ মিলিত হচ্ছে শহরে গ্রামে পাটখেতে দালানে খাটে বিছানায় চেয়ারে টেবিলে বাড়ীতে অফিসে ক্লাশরুমে মাদ্রাসায় কোচিং সেন্টারে হোস্টেলে পার্কে হোটেলে হোটেলে পার্কে- টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। আফসার আলী একলা দুঃখভারাক্রান্ত নাজন্মাতে চাওয়া আমেনাকে সেইসব ছবিভিডিও দেখিয়ে কিংবা নিজে দেখেদেখে বিনা নোটিশে তাঁর উরুর ফাঁকের আলোড়নটাকে আন্দোলনটাকে উন্মুক্ত করে বারকয়েক জাঁতা দিতে থাকে আমেনাকে রুটিন করে প্রায়ই এবং একদিন একদিন বেহেশতে পৌছে পৌছেই বিস্ফোরিত হয় আমেনার ভেতরেই। আমেনার গর্ভে পাক খায় আরও একবিন্দু সভ্যতা। শিশ্ন যোনী সঙ্গম ধর্ষণ সভ্যতাকে সভ্য করে তোলে, খুব প্রয়োজন ছিলো সভ্য না হলে সভ্যতা অসভ্য রয়ে যাবে তাই সভ্য করে তোলে আরও একবার।


গত শনিবার ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে আমেনা পুত্র সন্তানের জন্ম দেয় নারী ওয়ার্ডের বারান্দায় আমেনা তার পুত্রকে বুকে জড়িয়ে বসে থাকে পুত্রের কান্না থামাতে না পেরে নিজেই কাঁদতে থাকে নিরর্থক নাজন্মাতে চাওয়া আমেনা কাঁদতে থাকে কাঁদতে থাকে আমেনার মা। শিশু, তার শিশুমা, তার মা- কাঁদে কাঁদতে থাকে থাকবে থাকুক। আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি।

সভ্যতা সভ্য হয়ে উঠেছে সভ্যতা টিকে গেছে সভ্যতা টিকে যাবে।


আমি একসময় ধর্ষণকে অস্বাভাবিক মানতাম মনে করতাম ধর্ষণ একটি ভুল যা ঠিক করতে হবে একটি সমস্যা যার সমাধান করতে হবে কিন্তু একসময় ভুল বুঝতে পারলাম। বুঝতে পারলাম ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে বিপুল পরিমাণ ধর্ষণ হয়েছে হয়ে চলছে চলবে থামবে না চলতে থাকবে প্রতিদিন অন্তত একটি করে ধর্ষণ হবে না হলে দিনটি দিন হয়ে উঠবে না অপূর্ণ দিন রয়ে যাবে ইতিহাস দিনপঞ্জি দিনটিকে ছুড়ে ফেলবে ত্যাগ করবে। ধর্ষণ যেহেতু থামবে না চলবে বাড়তে থাকবে সেহেতু ধর্ষণ কোনও সমস্যা হতে পারে না অস্বাভাবিক হতে পারে না এটি স্বাভাবিক সভ্যতার অংশ আমারই ভুল হয়েছিলো। ধর্ষণ ছাড়া সভ্যতা ঠিক সভ্যতা হয়ে ওঠে না।

আরও একভাবে অন্য এক পদ্ধতিতে বুঝতে পেরেছিলাম ধর্ষণ কিছু নয় গো ধর্ষণ কিছু নয় সেটা হলো- আমি মনে করি সমস্যা দেখা দিলে অচলতা দেখা দেয় দেবে সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সচলতা আসবে না। গাড়ী নষ্ট হলে গাড়ী থেমে থাকবে চলবে না ঠিক হলে চলবে। জীবনে কোনও সমস্যা এলে তা যদি সমস্যা হয় আসলেই সমস্যা হয় জীবন থেমে থাকবে চলবে না। সভ্যতায় কোনও সমস্যা দেখা দিলে সভ্যতা থেমে যাবে চলবে না কারণ সমস্যার সমাধান না করে সমস্যা সহ চললে ওটি আর সভ্যতা থাকে না অসভ্যতা হয়ে যায়। আমি দেখেছি অনেক বা প্রায় সকল সভ্য সুশীলরা সাধারণ মানুষেরা ধর্ষণ কে সমস্যা মনে করে মানব জীবনের সমস্যা কিন্তু তাঁদের জীবন থেমে থাকে না চলতে থাকে তাঁদের হাসিকান্না নাচাগানা খাওয়াসঙ্গমঘুম সবই চলতে থাকে। ছোটদের স্কুলে যাওয়া কার্টুন দেখা গান শেখা থামে না মায়ের মজার রান্না সিরিয়াল দেখা হাসিআড্ডা ভাবীভাবী থামে না বাবার চাকরী ব্যাবসা চাবেনসন ভাইবস আদিরস দুটাকার পেপার থামে না মোবাইলে কথা বলা রাতের প্রেমালাপ সেক্স সেক্স ডেটিং আড্ডা মাস্তি কেএফসি পিজাহাট বসুন্ধরাসিটি পুল ফেইসবুক নাচাগানা-নাচাগানা হেয়ারজেল এসএসসি এইচএসসি ভার্সিটি এসাইনমেন্ট থামে না থামে না। থামে না কারণ ধর্ষণ আসলে সমস্যা নয়। তাছাড়া মানুষ নিজেকে নিয়ে থাকতে পছন্দ করে কেউ নিজেকে সবথেকে বেশী ভালোবাসলে তাঁকে দোষ দেওয়া যায় না বাসতেই পারে। মানুষ নিজের কথা ছাড়া অন্যের কথা ভাবে না মানুষ নিজের জীবনযাপন করতে চায় নিজের মতো। যতোক্ষণ পর্যন্ত কোন সমস্যা তাঁর ব্যাক্তিগত সমস্যা নয় ততক্ষণ পর্যন্ত সেটি সমস্যাই নয়। দূর গ্রামের কোন ধর্ষণ মানুষকে আঘাত করতে পারে না কারণ সে ধর্ষণের অস্তিত্বই নেই।

যদি নিজের ছাড়া অন্য কারো সমস্যা অন্য কষ্ট নিজেরও কষ্ট হতো নিজের সমস্যার মতই হতো আসলেই হতো আসলেই!- তাহলে জীবন থেমে যেতো ধর্ষণ থামা পর্যন্ত সঅব থেমে যেতো বলা হতো আর একটিও ধর্ষণ নয়।

বাস্তবাতা হলো মানুষ শুধু নিজের কথা ভাবে এবং সে জানে কিছুই থামবে না যেমন চলছে চলবে কারণ সবই সভ্যতার অংশ। তাই সবই চলে চলতে থাকে থাকবে। সভ্যতা পূর্ণতা পাবে, থেমে থাকবে না।


জীবন অনেক সুন্দর মানুষ অনেক বড় সভ্যতা অনেক মহান। তবে মানুষ একটু বেশীই বড় আবার একটু বেশী ক্ষুদ্রও বটে। আমেনা ষোল কোটি বাঙালীর এক ক্ষুদ্র অতি নগণ্য অস্তিত্বহীন প্রায়। সাত’শ কোটির পৃথীবিতে আরও আরও অস্তিত্বহীন। তার ধর্ষণ তার শিশুতোষ কোলে তার নিজের শিশুটি তার কান্না তাদের কান্না বাঙলাদেশ লক্ষ্য করে উঠতে পারে না পৃথিবী লক্ষ্য করে না বিশ্বচরাচর লক্ষ্যও করে না। আমার বন্ধু ইশরাক বলে আমরা সবাই প্রায়ই জীবনে ক্লান্ত বিপর্যস্ত হয়ে ছোটবেলার কোমল সুন্দর সময়গুলোর কথা মনে করে শান্তি পাই মনে মনে ফিরে গিয়ে শান্তি পাই আমাদের জীবন চলে যায় কিন্তু অনেকের জীবনে মনে মনেও ফিরে যাবার মতো সুন্দর সময় থাকে না। আমেনা কি আজ থেকে বহুবছর পরে মনে মনে ফিরে আসবে? আসতে পারবে? এটা কি তাকে শান্তি দেবার মতো কোনও সময়? আর জীবনের মানে? আমেনার কাছে জীবনের মানে কি হবে? জন্ম-ধর্ষণ-মৃত্যু? আর বেহেশত?

বেহেশত হলো নাজন্মানো।
*

মনোজ


মন্তব্য

কল্যাণF এর ছবি

চরম ক্রুদ্ধ ও বিরক্ত?

guest এর ছবি

মাথায় প্রেসার পইড়া গেলো। কি কন এইগুলান? দাড়িঁ কমার অভাব পড়লো?

-মেফিস্টো

মাহবুব লীলেন এর ছবি

লেখাটা কোন দিকে যেতে যেতে গিয়েও যেন অন্য কোনোদিকে গিয়ে ধুম করে থেমে গেলো

দময়ন্তী এর ছবি

খুবই জটপাকানো চিন্তাধারা|

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

সিসিফাস এর ছবি

আমেনা কে ? তাকে কি আমরা চিনি ?
আমেনাদেরকে চেনার দরকার কি ?
আমাগো নজর তো আজ উপ্রের দিকে উইঠা গেছে.................. আমরা তো চিনি Steve Job কে
পারলে বুকে পিঠে সাইনবোর্ড লাগাইয়া ঘুরি " Steve jobs মরসে এই জন্য আমি দুঃখিত "

কিন্তু " ১১ বছরের শিশু মা তার নবজাতকের কান্না থামাতে না পেরে নিজেই কেঁদে উঠছে " পেপারের এই লাইন টি আমাদের মনে কোন ভাবান্তর ঘটায় না..................

কারন আমরা সভ্য সুশীল সমাজ ..................আমরা যোনি শিশ্ন ধর্ষণ এইসব নিয়া চিন্তা করিনা

পাঠক এর ছবি

দুঃখজনক। অন্যায়। কষ্ট লাগে এসব খবর পড়লে। কিন্তু প্লিজ সমাধানটা দিন। বয়ঃসন্ধি হবার পর থেকেই প্রাকৃতিক কারনেই মানুষের যৌনপ্রবৃতি জাগে। এটাকে আমাদের দেশে আমরা অবদমন করি, অবদমন করতে করতে করতে বিকৃতির চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যাই। রসময় গুপ্ত কার কাছে অচেনা? কৈশোরে কার হাতে খড়ি হয়নি ঐ ৩ এক্স ছবিতে? যৌনতা ব্যাপারটাকে স্বাভাবিকভাবে কি দেখা হয় পরিবারে বা সমাজে? পাঠ্যপুস্তকে যৌনতার উপর শিক্ষণীয় বৈজ্ঞানিক কোন অধ্যায় আছে কি? কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীরা কি শারীরিকভাবে যৌনসঙ্গমের জন্য পরিপূর্ণ হয়ে উঠেনা? এবং বিয়ে বহির্ভূত পারস্পরিক সম্মতিতে যৌনমিলনটা কি অন্যায় ( অবশ্যই নিরাপত্তামূলক ব্যাবস্থা গ্রহন সাপেক্ষে)? আমাদের দেশের যা সামাজিক রীতি, অর্থনৈতিকভাবে থিতু হয়ে গিয়ে তারপর বিয়ে কর( ছেলেদের ক্ষেত্রে), বিয়ের আগে যৌনতা পাপ; একটা ছেলে বা মেয়ে পড়াশোনা শেষ করে চাকরী পাওয়া না পাওয়া, পারিবারিক ঝামেলা এসব মিটিয়ে উঠতে উঠতেই তো ২৮/২৯ বয়স পার করে দেয়। সে কী করবে? তার বান্ধবী/ বন্ধু থাকা কি অন্যায় কিছু? প্রাকৃতিক এই প্রবৃত্তিকে কে সে বিয়ে না করার আগ পর্যন্ত দমিয়ে রাখবে আর বিকৃতির তলানিতে গিয়ে ঠেকবে? আফসার আলীর প্রতি ঘৃণা রইল, আমেনার জন্য কষ্ট লাগছে? কিন্তু ঐ যে বললাম সমাধান আপনার কাছে জানা আছে কি?

মনোজ এর ছবি

এই মন্তব্যটার অপেক্ষায় ছিলাম। এসব আমিও শুনেছি আমিও জানি। তবে প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি আর সামাজিকদমনকার্যের এইসব প্রচলিত দোহাই আমার কাছে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রাকৃতিক প্রবৃত্তিকে সামাজিকভাবে দমন করবার কারণে বিকৃতির সৃষ্টি হয় বলে আমি মনে করি না। আমার মনে ভিন্ন দুটি কারণ আছে।


কামই জীবনের মূখ্য বিষয়। আমার পর্যবেক্ষণ বলে সাধারণ মানুষের জীবনে ক্ষুদা আর কামের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই। গুরুত্বের মাপকাঠিতে এদুটোর ধারেকাছেও নেই আর কিছু। ক্ষুদা মিটিয়ে দেহটাকে বাঁচিয়ে রেখে বেঁচে থাকতে চায় মানুষ, এটা স্বাভাবিক। আর বাকীটা কামযৌনতাসঙ্গম। মানুষ কি করে জীবনে? পড়ালেখা করে কারণ চাকরীব্যবসাকর্মের জন্যে তা প্রয়োজন। চাকরীব্যবসাকর্ম করে কারণ অর্থ উপার্জনের জন্যে তা প্রয়োজন। অর্থ উপার্জন করে কারণ খাবার কেনার জন্যে তা প্রয়োজন। ক্ষুদা মেটাবার জন্য অর্থের একটা অংশ ব্যায় হয়। কিছু স্বাভাবিক সামাজিক প্রাসঙ্গিক- লাইফস্টাইল সামাজিকমর্যাদা বজায় রাখা-কর্মকাণ্ডে অর্থের আরেকটা অংশ ব্যায় হয়। বাকীটা ব্যায় হয় নিজেকে সাজিয়ে তোলায়, বিপরীত লিঙ্গের জন্য নিজেকে সাজিয়ে তোলায়। এইখানেই কামের শুরু। বয়সে যারা ছোট তাদের লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, তারা পড়ালেখা ছাড়া বাকী যা-ই করে তা বহুলাংশে কাম ও ক্ষুদা নির্ভর। তাদের জীবনে নূন্যতম গভীরভাবেও আর কিছু যেমন শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি শখ জীবনদর্শন ইত্যাদির কোন অস্তিত্ব নেই। হ্যাঁ, তারা মুভি দেখে গান শোনে বই পড়ে ... কিন্তু এসবের প্রতি তাদের কোন অনুরাগ নেই, এসব করা হয় শুধু ক্ষুদাকাম পূরণের পর বেচে যাওয়া সময়টা পূরণ করবার জন্য, এর বেশী কিছু নয়।


মানুষ চূড়ান্তরকম স্বার্থপর (সাধারণত)। মানুষ সব চায় কিন্তু কিছু দিতে চায় না। মানুষ সব চায়, এটাই মূল কথা। আমার যা চাই আমার তা লাগবে আমি তা নেবো। কেউ নিতে পারে কেউ পারে না।

এক এর সাথে দুই যোগ করলে কামের তীব্র প্রয়োজনীয়তার সাথে আমারটা আমি নেবো নেবোই যোগ করলে সৃষ্টি হয় বিকৃতি, বিকৃতমনা মানুষ। কেউ ধর্ষক হয়ে উঠে, কেউ নিরাপত্তা সাহসের অভাবে পারে না।

*
সমাধান কি? সমাধান হচ্ছে সেটাই যেটা করলে যেটা হলে হয়ে উঠলে জন লেননের ইম্যাজিন গানটা সত্যি হয়ে উঠবে। কিন্তু আপনিও জানেন সেটা হবে না। আমিও জানি সেটা হবে না। খুব বেশী জটপেকে গেছে। মানুষ খুব বেশী আত্মকেন্দ্রিক খুব বেশী স্বার্থপর খুব বেশী ভোগবাদী।

এই লেখাটা কষ্ট থেকে লেখা, আর কিছু নয়।

পাঠক এর ছবি

জ্যোতিচিহ্নের অভাব প্রকটভাবে পরিলক্ষিত হল। বেশিরভাগ সময় পড়ার চেয়ে ভাবতে হয়েছে বেশি, যে কিভাবে পড়লে সঠিক অর্থ বোঝা যায়। লেখার বিষয়বস্তু ভাল।

উচ্ছলা এর ছবি

এক নিঃশ্বাসে দাড়ি-কমা ছাড়াই লেখাটা পড়লাম দেঁতো হাসি
dick-twisting insanityতে ভোগা ধর্ষক লোকগুলার শাস্তি রাষ্ট্র নিশ্চিত করে না কেন?...আজব এক দেশ !!

অঅসাধারন এর ছবি

জ্যোতিচিহ্নের অভাব প্রকটভাবে পরিলক্ষিত হল। বেশিরভাগ সময় পড়ার চেয়ে ভাবতে হয়েছে বেশি, যে কিভাবে পড়লে সঠিক অর্থ বোঝা যায়। লেখার বিষয়বস্তু ভাল।

প্রতিটি বাক্যে একমত।

১১ বছরের শিশু মা তার নবজাতকের কান্না থামাতে না পেরে নিজেই কেঁদে উঠছে

খুব খারাপ লেগেছিল এই লাইনটা পড়ে। কিন্তু সন্তানের জন্ম তো একদিনের প্রক্রিয়া নয়। এটাকে নিশ্চয়ই থামানো যেত। কোন প্রলোভনে আমেনার বাবা-মা গর্ভপাতে যায় নি এই চিন্তায় অহেতুক রেগে উঠছিলাম একটু পর পর। কিন্তু দুদিন না যেতেই সব ভুলে গিয়েছি। যতক্ষন পর্যন্ত এটি আমার ব্যক্তিগত সমস্যা নয়...........................

আমরা সবাই এক।

guesr_writer rajkonya এর ছবি

ধন্যবাদ অঅসাধারণ। আমার মনের কথাটাই বললেন।

আশালতা এর ছবি

সভ্যতা পূর্ণতা পাবে, সে থেমে থাকবে না।

হ।

----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি

বন্দনা কবীর এর ছবি

সংবাদটা পড়ার পর একটা অন্ধ আক্রোশ ভর করেছিল শরীরে। আপনার দাঁড়িকমা বিহীন লেখাটা পড়েও একিরকম অনুভূতি-ই হল। নিজের অসহায় অক্ষমতা অসহ্য লাগে মাঝে মাঝে।
সভ্যতা আমাদের অনেক কিছুই সহ্য করতে শিখিয়ে দিয়েছে।

গেরিলা এর ছবি

'

প্রাকৃতিক প্রবৃত্তিকে সামাজিকভাবে দমন করবার কারণে বিকৃতির সৃষ্টি হয় বলে আমি মনে করি না

।'
এ লাইনটাতে তীব্র আপত্তি আমার......আপনি তাহলে সভ্যতার ইতিহাসকে ধর্মব্যাখ্যা দিয়ে গুলিয়ে ফেলছেন।। সঠিকভাবে চিন্তা না করার ফলে আপনার এ চিন্তার ভবিষ্যৎ গিয়ে দাঁড়াবে এক ধরণের চাপা ক্রোধে, হতাশায় সবিশেষ আত্মহত্যায়।। এবং একই সাথে বোধ তৈরি হবে মেয়েদের ইজ্জতের চেয়ে বড় কিছুই নেই টাইপের....

লম্বা ব্যাখ্যায় না যাই....৩০ এর মহামন্দায় ব্রিটেনে চাকরি ছাঁটাইয়ের কারণে পুরো দেশে রেপ করার প্রবণতা বেড়ে যায়, আপনি শুনলে অবাক হবেন ব্রিটেন রাষ্ট্র বাসে ট্রেনে মেয়েদের উদ্দেশ্য করে একটা পোস্টার ছাপায়, তাতে লেখা থাকে

তুমি যেটাকে আক্রমন ভাবছ, সেটাকে আনন্দ ভাব না কেন?

নিশ্চয়ই অমানবিক...অথচ এ পোস্টার ছাপানোর ১ মাসের মধ্যে সমগ্র ব্রিটেনে রেপ প্রবণতা কমে যায় ৭৪ শতাংশ। এ ধর্ষকামীতা মানসিকতার বিকৃত বহি:প্রকাশ, তাই জাতীয়ভাবে এর মনস্তাত্ত্বিক ট্রিটমেন্ট দরকার।। তবে আপনার লেখায় আবেগটা অসাধারণ লেগেছে, যতিচিহ্নের ইচ্ছাকৃত রাগান্বিত বিলোপও দরকারি মনে হয়েছে।

মনোজ এর ছবি

আমি দুঃখিত, একটি ছোট্ট ভুল হয়ে গেছে। বাক্যটা হবে এমন-

শুধুমাত্র প্রাকৃতিক প্রবৃত্তিকে সামাজিকভাবে দমন করবার কারণেই বিকৃতির সৃষ্টি হয় বলে আমি মনে করি না

খেয়াল করবেন, আগের বাক্যটিতে আমি লিখেছি- ... পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য নয়। আমিও সামাজিকদমননীতির প্রভাব স্বীকার করি। কিন্তু আমার মনে হয় এর চেয়ে অধিক প্রভাবশালী কারণও আছে, যেমনটা বলেছি।

তারেক অণু এর ছবি
ইস্কান্দর বরকন্দাজ এর ছবি

মন খারাপ

..................................................................
আমি ছুঁয়ে দিতে চাই সেই বৃষ্টিভেজা সুর...

মনোজ এর ছবি

খবর পেলাম-
আমেনা তার জীবন যাপন করে চলছে। সে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা দিয়েছে। এখন শিশুর যত্ন নিয়ে এবং লেখাপড়া করেই তার দিন কাটে। সে লেখাপড়ায় ভালো এবং বড় হয়ে গ্রামের মানুষের সেবা করবার উদ্দেশ্যে ডাক্তার হতে চায়। অনেকেই, বিশেষ করে অচিন্ত্য কুমার অধিকারী নামের এক শিক্ষক আমেনার পাশে এসে দাড়িয়েছেন। তিনি পরিবারটিকে আর্থিক সামাজিক সবরকম সাহায্যই করছেন। আমেনার বয়স এগারো।
আমেনার মুখে এখনও হাসি ফোটে। ♥

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।