শুভ জন্মদিন হে ভ্রাতুষ্পুত্র

ওডিন এর ছবি
লিখেছেন ওডিন (তারিখ: শনি, ০২/০৫/২০১৫ - ২:১৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

অনেক অনেক দিন আগের কথা। তখন আরবের লোকেরা গুহায় বাস করতো, গণি মিয়া ছিলো একজন গরিব কৃষক। সেই প্রাগৈতিহাসিক সময়ে ফেসবুক বলে কোন জিনিস ছিলো না। সেই সময় আমাদের যতরকম গিয়ানজাম করার জায়গা ছিল এই সচলায়তন। হেন কিছু নেই যেইটা নিয়ে আমরা একটা ব্লগ লিখে ফেলতাম না।

কারো জন্মদিনটিন থাকলে তো কথাই নেই, কে কার আগে একটা জন্মদিনের উইশ করে ব্লগ লিখে ফেলতে পারে, সেইটা নিয়ে রীতিমতো ভার্চুয়াল খুনোখুনি শুরু হয়ে যেতো।

কিন্তু সেই যুগ আর নাই , ব্রাহ্মণের সেই তেজ নাই, শিং নাই আর ন্যাজ ও নাই। সচলরা অনেকেই শীতনিদ্রায়, বেশিমাত্রায় 'আ সং অফ আইস এন্ড ফায়ার' সিরিজের বইপত্তর পড়ার কুফল মনে হয়- শীতকালটা বছরদশেক লম্বা বলে সবাই ভেবে বসে আছেন। জন্মদিনের পোস্ট সর্বশেষ মনে হয় আমিই লিখেছিলাম বছরদুয়েক (নাকি তিনেক) আগে। আজকেও যেমন ধরেন অতি বিশেষ একজনের জন্মদিন। কিন্তু সবাই বেমালুম ভুলে বসে আছে, কারো কোন সাড়াশব্দ নাই।

যেহেতু জন্মদিন যার সে আমার সম্পর্কে ভাতিজা হয়, আমি তার জ্যাঠামশাই, তাই নিজের খুল্লতাতসুলভ মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য আমাকেই কিছুমিছু একটা লিখে ফেলতে হবে। আগেও আমাকে এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে হয়েছে, অবশ্য গুরুজন বলে কথা। দায়িত্ব তো একটু থাকবেই।

আর লিখবোই বা না কেনো। অনেক ভেবেচিন্তে দেখলাম, আমার বাল্যবন্ধু সুকুর মানে সুকুমারের একমাত্র পুত্র, আমার প্রিয় ভাতিজা সইত্যজিত আমার কাছ থেকে অনেক ভাবেই ইন্সপায়ার্ড হয়েছে। তার এতো নাম যশ খ্যাতি এর পিছনে আমার তো একটু হলেও অনুপ্রেরণা আছে, আমাকে তো লিখতে হবেই। হাসি

সে পাশ্চাত্য সংগীতের একজন প্রবল অনুরাগী, আমিও ইট্টু পশ্চিমা গানবাজনা শুনতে পছন্দ করি। আসলে ছোটবেলা থেকেই সে আমার ঘরে ঘুরঘুর করতো, রেকর্ড পত্র হাতিয়ে দেখতো। আরেকটু বড় হলের পরে বাখ এর সাথে চাইকোভস্কির কম্পজিশনের তাত্ত্বিক তুলনা করতো, একটু অনুপ্রাণিত তো হবেই ছেলেটা। এইটাই স্বাভাবিক।

ওর সাহিত্যপাঠের শুরু ইংরিজি সাহিত্য দিয়ে, আমারও তাই। ইংরিজি কমিকস দিয়েই আমার অক্ষরজ্ঞান এর শুরু। ওর পরের কাজগুলোর ওপরে টিনটিন এর কমিকস এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে একটা অভিসন্দর্ভ লিখে ফেলাই যায়।

সে প্রথম জীবনে ইংরিজিতে লেখালেখি করতো, আমিও ছোটবেলায় তাই করতাম আরকি। আরে আমাকে দেখেই তো সে লেখালেখির উৎসাহটা পেল। আমার প্রথম রচিত কাব্য ছিলো অনেকটা এইরকম- ব্রাউন ফ্যাট ক্যাট/ সিটিং অন আ ম্যাট। সে অবশ্য প্রথমেই এতো জটিল কবিতা লিখে ফেলতে পারে নাই, শুধু বি এ টি ব্যাট, আর আমাকে উদ্দিষ্ট করে মাঝে মাঝে এফ এ টি ফ্যাট বলতো, এরপরেও তার অগ্রগতিটা ছিলো চোখে পড়ার মতো।

সে পিচ্চিকালেই ফিল্মের স্ক্রিপ্ট লিখেছিলো, কারন সে জানে আমিও ক্লাশ এইটে থাকতে লিখেছিলাম একখানা সামাজিক অ্যাকশন ধর্মী ফিলিমের স্ক্রিপ্ট। নায়কের বাপ সৎ কাস্টমস অফিসার, নায়িকার বাপ দুষ্টু স্মাগলার, কাস্টমস অফিসারের দুই ছেলে যাদের ছোটবেলায় ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় ডিউরিং দ্য ব্রুটাল মাস কিলিং অফ নায়কের ফেমিলি বাই ভিলেন, আহা! সে এক প্রপঞ্চময় ব্যপার।

সে দুর্দান্ত বইয়ের মলাট আঁকতো। আমিও পিচ্চিকালে আমার ইস্কুলের মেগাজিনের কাভার ডিজাইন করেছিলাম , যদিও ওইটাতে কি এক গোপন ভয়ঙ্কর স্কুলএস্টাবলিশমেন্ট বিরোধী সাবলিমিনাল মেসেজ দেয়া আছে বলে আমাকে অনেক কথা শুনতে হইছিলো পরে। কিন্তু ব্যপারটা আমার ছোট্ট ভাতিজার মনে এমন গভীর রেখাপাত করেছিলো যে সে পরে বইয়ের মলাট আঁকার কাজটা বেশ সিরিয়াসলিই নিয়ে নেয়।

চল্লিশ বছর বয়সে এসে সে সিরিয়াসলি বাংলায় লেখালেখি শুরু করে, আমিও চল্লিশ বছর বয়সে- না ইয়ে মানে এখনো শুরু করিনাই ওইটা। তবে করবো। আর বছরদশেক পরেই হেহেহেহেহে। ব্রেস ইওরসেলভস... উইন্টার ইজ কামিং

তাই আর কথা না বাড়িয়ে বলেই ফেলি- শুভ জন্মদিন সইত্যজিত, ভাতিজা আমার। পুরো বাঙ্গালী জাতির পাশাপাশি তোমার বাপ আর কাকার (মানে আমার) মুখ উজ্জ্বল করেছো

এইরকমটা করতেই থাকো আরো অনন্তকাল।

আমার আশীর্বাদ আর প্যাসিভলি ফ্লোয়িং অনুপ্রেরণা সবসময় তোমার সাথেই আছে। হাসি

ছবি: 
30/08/2009 - 1:25পূর্বাহ্ন

মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

ফেলুদা, শঙ্কু, আর ছোটগল্পের অনেক চরিত্র শিহরণ জাগিয়ে চলে আজও ৷
আর সিনেমার কথা তো ভুলতেই পারি না ৷ রায়বাবু তার আত্মজীবনীতে বলেছিলেন তার এক শিক্ষক বলতেন " সত্যযিত নামেও সত্যযিত - কামেও সত্যযিত ৷"
সশ্রদ্ধ্য স্মরণ এই কালজয়ী প্রতিভাকে ৷

মরুচারী

ওডিন এর ছবি

তার করা এডওয়ার্ড লিয়ার এর ছড়াগুলোর অনুবাদের কথাও ভুলে গেলে চলবে না।

নীল মাথাতে সবুজ রঙের চুল

হাসি

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

সইত্যজিত! হে আবার কেডা? ফিলিমের কতা কন দেহি! ধুর মিয়া, আমাগো অন্তত জইল্যারে চিনেন? হেইলে বুঝতেন,!
যাউগ্যা, অনেক দুক্কে কতাগুলা কইলাম। কথায় আছেনা, "অল্প শোকে কাতর, অধীক শোকে পাথর।'
এমন একজন বাঙালিকে সামনে আনার জন্য ধন্যবাদ।
জন্মদিনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা।

ওডিন এর ছবি

আমার গুণধর ভাতিজাটাকে হেফি বাড্ডে উইশ করার জন্য অনেক ধন্যবাদ হাসি

তারেক অণু এর ছবি

আমাকে উদ্দিষ্ট করে মাঝে মাঝে এফ এ টি ফ্যাট বলতো

দুর্দান্ত লেখা , কড়া পাকের রসে ডুবানো-

ওডিন এর ছবি

মানিক বেটা আমার অতি প্রিয় ভাতিজা হৈলেও এইটা বলতে বাধ্য হচ্ছি, সে ইট্টু ফাজিলটাইপের ছিলো। রেগে টং

আয়নামতি এর ছবি

ভাগ্যিস আপনি সামনে ছিলেন, ছিল আপনার আনুপেরনা নইলে কী পিতিমি পেতো একজন সইত্যজিতরে! দেঁতো হাসি
আমাদের যতভাবে সম্ভব মুগ্ধ করবার জাদুকর, শুভজন্মদিন!

ওডিন এর ছবি

মানে সেইটাই তো কই আরকি! *কলার উঁচু করার ইমো* দেঁতো হাসি

খেকশিয়াল এর ছবি

খাসা লিখেছো হে ডাক্তার! সুকুর ছেলে ছিল বলেই তো আমরা আছি। শ্রদ্ধা হাসি

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

ওডিন এর ছবি

হ রে কমরেড। তেনারা ছিলেন বলেই আমরা আছি। হাসি

রানা মেহের এর ছবি

দেঁতো হাসি

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

ওডিন এর ছবি
অতিথি লেখক এর ছবি

টইটুম্বুর।

স্বয়ম

ওডিন এর ছবি
এক লহমা এর ছবি

চলুক হাসি
সত্যজিত-এর প্রতি সশ্রদ্ধ অভিবাদন

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

ওডিন এর ছবি

যতই দুষ্টুমি করি, এই একটা লোকই একেবারে সিংগল হ্যান্ডেডলি আমার কৈশোরটাকে (এবং এখন এই এক্সটেন্ডেড কৈশোরটাকে) আছন্ন করে আছেন। হাসি

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

ঘটনা সত্য। আপনাদের চেহারার মিলটা চোখ এড়ায় না! মুখের গড়ন, গায়ের রং, ভুঁড়ির উচ্চতা, সবই প্রায় ইয়ে মানে আকাশপাতাল মিল! আপনারে অন্ধকারে দেখা গেলে অন্ধকারেও বলে দেয় যেতো আপ্নেরা চাচাভাতিজা!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

স্বপ্নহারা এর ছবি

ইনফ্রারেডে দেখলেও মিল পাওয়া যাবে।

সেই হিসাবে আমগোও দূর সম্পর্কের ভাইস্তা- বেশ ভাল কাজ করেছে ছেলেটা, সবকিছুতেই ভাল্লাগে।

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA