একটি ভৌতিক গল্প

মূলত পাঠক এর ছবি
লিখেছেন মূলত পাঠক (তারিখ: রবি, ৩১/০৫/২০০৯ - ৬:০৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

যাঁরা বিদেশের ক্যাম্পাসে থেকেছেন তাঁরাই জানেন লম্বা ছুটি পড়লে ক্যাম্পাস অঞ্চল মোটামুটি একরাতেই ভৌতিক চেহারা ধারণ করে। আমেরিকান ছেলেমেয়েরা শেষ পরীক্ষাটা দিয়েই হয় বাড়ি চলে যায় কিংবা আর কোথাও, পড়ে থাকে শুধু যত বিদেশিরা যাদের বাড়ি যাওয়ার রাস্তাটা ভয়ানক লম্বা, তাদেরও অনেকে আত্মীয়বন্ধুর বাড়িটাড়ি চলে যায় সম্ভব হলে। ফলে গরমের ছুটিটা যখন পড়লো তখন খুশি হওয়ার বদলে বেজায় বিরক্ত লাগতে লাগলো, কী করে এই ভয়ানক রকমের লম্বা ছুটি কাটবে সেই ভেবে।

আমারও পরিকল্পনা আছে বেড়াতে যাবার, কিন্তু গোটা ছুটি তো ঘুরে বেড়ানো যায় না। কাজেই আপাতত একমাত্র উপায় বন্ধুরা মিলে ডাউনটাউনে গিয়ে হুল্লোড় ও মদ্যপান, যতদিন এরা দু-একজন শহরে আছে ততোদিন অন্তত। সেই ভেবেই আমার নিকটবন্ধু যারা তাদের টেক্সট করলাম বিকেল হতেই। সারা দিনের চাঁদিফাটা রোদে বাড়ি থেকে বেরোনো দুষ্কর, রোদ পড়ে এলে ফুলবাবু সেজে বেরোবো এই ছিলো আশা। কিন্তু সে গুড়ে বালি, একে একে উত্তর আসতে থাকলো না-বাচক। এ হেন অবস্থায় বাড়িতে বসে থাকা ছাড়া আর কী করার থাকে, একা একা বারে গিয়ে অচেনা জনতার সাথে গপ্পো মারার বিন্দুমাত্র বাসনা অনেক চেষ্টাতেও জাগানো গেলো না। অতএব টিভিটা চালিয়ে সোফায় সঁেধোলাম। দু ঘন্টা সম্পূর্ণ আজেবাজে জিনিসপত্র দেখে যখন বুঝলাম আজ টিভিও বিনোদনের কাজে লাগবে না তখন একটা বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নিলাম। একা একাই যাবো আজ টহল দিতে, এবং নিয়ম যখন একটা ভাঙছিই তখন আমাদের চেনা বারগুলোয় না গিয়ে আজ নতুন জায়গায় যাবো। ভালো না লাগলে তো সেগুলোয় ফিরে আসাই যাবে।

গাড়িটা নিয়ে শহরের মাঝখানটা ছাড়িয়ে বেরিয়ে এলাম। একে একে সরে গেলো আমাদের চেনা আড্ডাস্থলগুলো সব, মূল রাস্তা থেকে পর পর ঢুকে গেছে জুনিপার স্ট্রীট, এলম স্ট্রীট, আরো সব গাছের নামে নামে রাস্তা যেখানে শহরের চেনা বার ও পাবগুলো সার দিয়ে সাজানো। সে সব ছাড়িয়ে বেরিয়ে এলাম, অ্যাডভেঞ্চার কী আর বাড়ির হাতায় হয়! নাগরিক প্রাচুর্য আর রোশনাই ক্রমে কমে এলো, এ দিকে বাড়িঘরগুলোও হতশ্রী। দেয়ালে গ্রাফিটি, রাস্তায় বিয়ারের বোতল ছড়িয়ে আছে, আর পথের আলোগুলোও যেন টিমটিম করছে। এদিকটা মোটামুটি অচেনা, যদিও ছোটো শহরে পথ হারানোর ভয় নেই বলে ফেরৎ যাবার কথা ভাবতে হয় না। তবে মুশকিল হলো যে কোনো বার কি পাব চোখে পড়ছে না। চোখে পড়লেও এই এলাকায় সেসব জায়গায় যাওয়া খুব বুদ্ধিমানের কাজ হবে না, এবং অন্যদিন হলে আমি এতো দূর আসার কথাও ভাবতাম না। কিন্তু আজ বিরক্তিটা এমন পর্যায়ে গেছে যে দুচ্ছাই বলে কোথাও ঢুকে দুপাত্তর চড়াতে দ্বিধা করবো না এই আঘাটাতেও। খানিক দূর গিয়ে একটা মোড় ঘুরতে চোখে পড়লো একটা সাইন, বিগ বাব্বা'স বার। নামেই পরিচয় কারা এর অভিষ্ট খদ্দের, নিশ্চিতভাবেই আমি সে দলে পড়ি না। কিন্তু তাতে কি, আমি ভাঙাচোরা পার্কিং লটে গাড়ি ঢুকিয়ে দরজা ঠেলে ঢুকে পড়লাম ভেতরে।

আমি বারের দরজা ঠেলে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ওয়েস্টার্ন সিনেমায় যেমন দেখায়, তেমনি অদ্ভুত একটা পরিস্থিতি হলো। যদিও বারে লোকজন মোটামুটি আছে, কিন্তু আমি গাত্রবর্ণ, আকারআকৃতি, পোষাক ইত্যাদিতে এতোটাই আলাদা যে লোকজন রীতিমতো ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলো এই নব্য চিড়িয়াটিকে। ইচ্ছে হচ্ছিলো কোমরবন্ধ থেকে বন্দুক বার করে ঠাঁই ঠাঁই করে গুলি করে অব্যর্থ লক্ষ্যে দুটো বোতল উড়িয়ে দিয়ে সবার মাথা ঘুরিয়ে দিই, কিন্তু সে তো হবার নয়। অতএব গুটি গুটি পায়ে কাউন্টারের সামনের একমাত্র খালি বারস্টুলে চড়ে বসলাম, এবং একটা ভদ্‌কা অর্ডার করলাম। চোখে এতোক্ষণে সয়ে গেছে ভেতরের অনুজ্জ্বল আলো, ঠাহর করে দেখছিলাম চারপাশের জনতাকে। এরাও বোধ হয় মেনে নিয়েছে আমার উপস্থিতি, আর কেউ পাত্তা দিচ্ছে না তেমন। আমার ডান দিকে আর কোনো আসন নেই, কাউন্টার সেখানে গিয়ে শেষ হয়েছে। বাঁ দিকের স্টুলে এক কৃষ্ণাঙ্গ রমণী, মোটামুটি পৃথুলা তবে এদেশের ভাষায় যাকে ওবিস বলে সেই রকম কিছু নয়। সে-ই বোধ হয় একমাত্র আমার প্রতি তখনও কিছুটা কৌতূহল দেখাচ্ছে, খানিকটা ভদ্রতার খাতিরে খানিকটা একঘঁেয়েমি কাটাতে তাকে উদ্দেশ করে হ্যালো বললাম। প্রতিসম্ভাষণের সময় হাসি দেখে মনে হলো কন্যার এইটাই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গুণ, সুন্দরী না হলেও হাসিটা আকর্ষক, অন্তত প্রোফাইলে। টুকটাক আলাপ শুরু করলাম। কথোপকথনে একজন বিদেশি হলে দুপক্ষেরই সুবিধা, আপনি-কোত্থেকে দিয়ে চমৎকার সূচনা করা যায়। ভারতবর্ষ নিয়ে সুদীর্ঘ বক্তৃতা দেয়ার মেজাজ ছিলো না, তাই কথাপ্রসঙ্গ ঘোরাতে হলো। বাম অনামিকায় আংটি নেই, কাজেই নির্দ্বিধায় জিজ্ঞাসা করলাম, "তুমি কি একা এসেছো?"

উত্তরে সেই মোহিনী হাসি, "তা নয় তো কি, বারে একা এলেই তো আসল মজা!"

চারদিক দেখে আরেক বার বোঝার চেষ্টা করলাম, কিন্তু কোনোভাবেই এটাকে সিঙ্গলস বার মনে হচ্ছিলো না। আদ্ধেক মাতাল আর বাকি আদ্ধেক সেই দিকেই চলেছে গেলাসের পর গেলাস কোহল উড়িয়ে, এর মধ্যে মার্থা কাকে খুঁজে পাবে এই রহস্যের সমাধান আমার পক্ষে করা সম্ভব নয়। বলতে ভুলেছি, তার নাম মার্থা। বারে হৈ-হট্টগোলের কোনো কমতি নেই, এর মধ্যে তার অ্যাকসেন্ট সামলে সব কথার মর্মোদ্ধার করা সহজ হচ্ছিলো না। মার্থার পরের আসনে এক শ্বেতাঙ্গ মাঝবয়সী বিশাল চেহারার লোক, একা বসে পান করছিলো, কী কারণে কে জানে সে মাঝে মাঝেই আমার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিলো। কলেজশহরে নানাদেশীয় মানুষ দর্ুলভ কিছু নয়, কাজেই আমি তার জন্য শুধু চেহারার জন্যই এতো আগ্রহের কারণ হবো এইটা ঠিক বিশ্বাস হচ্ছিলো না। কিন্তু সরাসরি জিজ্ঞেস করাটাও নেহাৎ অভদ্রতা, কাজেই তার দৃষ্টিকে অগ্রাহ্য করা ছাড়া বিশেষ কোনো পথ নেই। বারটেন্ডার মাত্র একজনই, সে যুবকটি মোটামুটি দৌড়ে বেড়াচ্ছিলো সবার অর্ডার নেওয়ার জন্য। সেদিকে তাকিয়ে ছিলাম বলেই বোধ হয়, মার্থা সে প্রসঙ্গে চলে এলো, বললো, "কেভিন খুব কাজের ছেলে।" আমি প্রথমে বুঝতে পারি নি কেভিনটা কে, মার্থাই বললো, "ওই যে বারটেন্ড করছে তার কথা বলছি।"

- "তুমি ওকে চেনো নাকি?"

- "চিনি তো বটেই, আমি এখানকার নিয়মিত খদ্দের, আর জানোই তো, ভালো বারটেন্ডারের সব কাস্টমারকে চেনার কথা। তাছাড়া," এই পর্যন্ত বলে নাটকীয়তা আনার জন্যেই কিনা জানি না, একঢোঁক পান করলো সে, তারপর ধীরেসুস্থে বললো, "আমরা একসময় ডেটও করতাম।"

কেভিন বারকতক আমাদের সামনে দিয়ে যাতায়াত করলেও তার চোখে পরিচিতির কোনো চিহ্ন দেখি নি। তবে কে জানে, খুব মধুর সমাপ্তি হয় তো ছিলো না এদের গল্পের, তাই দোস্তি কিছু অবশিষ্ট নেই এমন হতেই পারে। মার্থার চোখের দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করছিলাম, কী বলতে চাইছে সে। কিন্তু হঠাৎই যেন তার পানীয়ের প্রতি আকর্ষণটা বেড়ে গেছে, অত্যধিক রকমের মনোযোগ দিয়ে দেখছে গেলাসের দিকে। মরুকগে যাক গোছের কিছু একটা ভেবে আমিও আমার পানীয়ের দিকে মনোযোগ দিলাম। তাতে কাজ হলো অবশ্য, সে আবার মুখ তুলে আমাকে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো। তারপর ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো, "কী, বিশ্বাস হলো না? সে খুব রূপবান বলেই বুঝি? আমি খুব হতকুচ্ছিত?"

মার্থা দেখতে কেমন সে কথা তো আগেই বলেছি। আর সত্যি বলতে কি, কেভিন যে খুব কিছু দ্রষ্টব্য তাও মনে হয় নি। এখন মার্থার কথা শুনে ভালো করে দেখলাম তাকে। ছোকরা আসলেই রূপবান, কিন্তু সেটা চোখে পড়ে না তার কারণ সেই রূপের উপর একটা পর্দা পড়ে গেছে। উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে যেমন সুদর্শন জমিদার লম্পটে পরিণত হয় সেই রকম, রাত্রিজাগরণ-মদগাঁজা ইত্যাদি জনিত বাড়াবাড়ি রকমের অত্যাচারের ফল হয়তো। তাছাড়া দু বাহুতে নানা ধরণের উল্কিটুল্কি এঁকে রেখেছে, কাটাছঁেড়া দাগও অনেক, লক্ষ্য করলাম। তাছাড়া রূপটাই যে শেষ কথা নয় এইটা মার্থাকে বোঝাবো কি না ভাবছিলাম, তবে সে অবশ্য আমার সান্ত্বনার বিশেষ ধার ধারলো না। বুঝলাম গল্পটা শোনানোর জন্য তার পেটে বুড়বুড়ি কাটছে। আমারও ব্যস্ততা কিছু নেই, কাজেই শুনতে শুনতে মদ্যপান করা যেতেই পারে।

"কেভিন তখন এই ইউনিভার্সিটিতে পড়ে, আন্ডারগ্র্যাড। আমি স্কুলে পড়ি। আমাদের কমিউনিটি সেন্টারে সে ভলান্টিয়ারিং করতে আসতো, সেখানেই আমাদের আলাপ। বাস্কেটবলে, জানোই তো, কালোদের দোর্দণ্ডপ্রতাপ। সেখানে ওর কেরামতি দেখে মহল্লার ব্রো'রাও মেনে নিলো তার প্রতিভার কথা, আর আমি নবযুবতী প্রেমে পড়বো এ আর আশ্চর্য্য কী! আমার সখীরাও পড়েছিলো প্রেমে, কীভাবে তাদের হারিয়ে আমি সামনের সারিতে এলাম সে গল্প শুনিয়ে তোমাকে বোর করবো না। মোট কথা আমরা স্টেডি ডেটে যেতে শুরু করলাম, এবং," এই জায়গাটায় মার্থা অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে একটা নষ্টামি মার্কা ইঙ্গিত করলো, "কেভিন শুধু যে বাস্কেটবল কোর্টেই দক্ষ খেলুড়ে তা নয় সেটা আবিষ্কার করে আমার নেশা ধরে গেলো। মানে বুঝলে তো, বিছানায়-" আমি মোটামুটি লাফিয়ে উঠতে যাচ্ছি দেখে সে লজ্জা পেয়েই থামলো বোধ হয়। কথা ঘোরাতেই হয়তো বললো, "ভালো কথা, তুমি স্মোক করো?"

- "করি, যখন মদ খাই তখন।"

- "তবে চলো, একটা সিগারেট ফুঁকে আসা যাক। আহা আগে কী চমৎকার দিনকাল ছিলো, ভেতরে বসেই দিব্বি ধূমপান করা যেতো!"

বারের পেছনের দরজা দিয়ে বেরোলে একটা ছোটো উঠোন, চার ধারে পুরোনো পরিত্যক্ত আসবাবপত্র ইত্যাদিতে কণ্টকিত। বেশ আধা আঁধারি জায়গাটা, এমনিতে ঠান্ডা না থাকলেও আমার কেমন শীতশীত করতে লাগলো সেখানে গিয়েই। মার্থা একটা সস্তাগোছের সিগারেটের প্যাকেট বার করে একটা ধরালো, আমিও আমার সিগারেট ধরালাম। আবার শুরু হলো তার গল্প।

"আমি তো কেভিনের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি, দেখে মনে হয় সেও মার্থা বলতে অজ্ঞান। তার ডর্মে আমার নিয়মিত যাতায়াত আর রাত্রিযাপন, কিন্তু ভয় পেও না, সে সব শোনাচ্ছি না। তবে শুধু শরীরের ব্যাপার নয়, তার ভাবগতিক দেখে মনে হচ্ছিলো সে-ও প্রেমে পড়ছে একটু একটু করে। অন্তত অন্য মেয়েতে যে সে আর আগ্রহী নয় এইটা মোটামুটি বোঝা গিয়েছিলো। তাছাড়া খুবই কেয়ারিং ছিলো, জানো, আর এই জিনিসটা আমরা মেয়েরা সবচাইতে বেশি পছন্দ করি। আমি তখন একটা ফাস্টফুডের দোকানে কাজ করতাম, খুবই ধকলের কাজ। কেভিনও একসময় বাসবয়ের কাজ করেছে কিছুদিন, সে জানে খাটুনি কীরকম। আমার শিফ্ট শেষ হলে সে চলে আসতো গাড়ি নিয়ে প্রায়দিনই, যাতে আমাকে সেই রাত্তিরবেলা বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে না হয়। তো ততোদিনে তার আন্ডারগ্রাড পড়া প্রায় শেষ, এইসময় একদিন আমি দুম করে প্রেগনান্ট হয়ে গেলাম। কিন্তু দু জনের কারোরই চালচুলো নেই, একটা বাচ্চা এনে শেষে বিপদে পড়ি। তাই অ্যাবর্শন ছাড়া উপায় নেই। তুমি হয়তো ভাবছো এ আর এমন কী, কিন্তু ক্যাথলিক পরিবারে অ্যাবর্শন বিশাল গুনাহ! জানতে পারলে মা তো আমাকে কেটে ফেলবেই, কিন্তু আমার নিজেরও খুব খারাপ লাগছিলো। জন্মায় নি বলে তাকে মেরে ফেললে একটা মানুষ খুন করা হবে না, এই উত্তুরে যুক্তি আমাদের সাদার্নারদের জন্য নয়।"

কথাটা মার্থা ভুল বলে নি, আমার নিজেরও উত্তর দক্ষিণ দু রকমেরই অভিজ্ঞতা আছে, দৃষ্টিভঙ্গির সুবিশাল ফারাকটা আমারও চোখে পড়েছে। মার্থার বিষণ্ণতা কিম্বা দোলাচল আমার অচেনা নয়। ঘোর ক্রিশ্চান এই অঞ্চলে গর্ভপাত অনেকেরই চোখে মানুষ খুনের মতো, প্রোলাইফের সমর্থক গোটা আমেরিকায় প্রায় অর্ধেক হলেও এই এলাকায় অনেক বেশি। মার্থার সমস্যাটা বুঝতে আমার অসুবিধা হচ্ছিলো না। যাই হোক, বলে চললো সে।

"কত রাত জেগে কাটালাম, চোখের জল ফেললাম, শেষে একবার ভাবলাম রেখে দিই বাচ্চাটা। কিন্তু কেভিন অনেক বোঝালো আমাকে, বাচ্চার ভালোর জন্যই নাকি অ্যাবর্শন করা উচিত, ভবিষ্যতে সংসার হলে তখন একপাল বাচ্চা এনে আমার কোল ভরিয়ে দেবে, এই সব হাজার গল্প শুনিয়ে মন ভোলালো। তাতেও আমি রাজি হতে পারছিলাম না, তুমি তো এশিয়ার মানুষ, তুমি বুঝবে আমার কষ্টটা। শেষে সে গোঁ ধরে বসলো, বাচ্চা কোলে আমাকে হয়তো সিঙ্গল মাদার হয়ে যেতে হয়, তখন একরকম বাধ্য হয়েই আমি রাজি হয়ে গেলাম। উপায়ও তো বিশেষ ছিলো না, তুমিই বলো, শেষে যদি সে বিগড়ে বসে তখন এতোদিনের প্রেম ঘুচে যাবে। ভবিষ্যতের মোহেই হয়তো আমি রাজি হয়ে গেলাম এমন পাপকাজ করতে। এখনো ভুলতে পারি না সেই কথা, এখন বঁেচে থাকলে সে খেলে বেড়াতো, আমি তাকে খুন করে হাত ধুয়ে ফেললাম একটা ছেলের জন্য। আর সে ছেলেই-"

আমি জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু করতে হলো না। মার্থার বিষণ্ণ চোখে তখন কেমন একটা ক্রোধ ফুটে উঠেছে, দাঁতে দাঁত ঘষছে বোধ হয়। এ সেই চিরচেনা প্রবঞ্চনার আরেকটা গল্প, তবে মার্থা ঠিক অবলা বাঙালি ললনা নয়, সহ্য করা তার অনিবার্য নিয়তি নয়। তাছাড়া আমরা যতো ধর্মভীরুই হই, দক্ষিণের ক্যাথলিকেদের কাছে গর্ভপাতের অপরাধবোধের আসল তীব্রতা অনুভব করা বোধ হয় আমার সাধ্য নয়। একটা খুন করে মানুষ যেমন যন্ত্রণায় ভোগে, এতো দিন পরেও মার্থার চোখে সেই বেদনা দেখতে পাচ্ছিলাম। সে পাশ ফিরে দাঁড়িয়ে ছিলো আগাগোড়া, হয়তো চোখের জল লুকোতেই। শুধু ডানচোখটাই দেখতে পেলাম, আর সন্ধ্যার আঁধারে সেটা রাগে জ্বলছিলো মনে হলো। স্বল্পক্ষণের আলাপে কেউ এই নিয়ে বেশি প্রশ্ন করে না, তাই কৌতূহল দেখানো ঠিক নয় ভেবে চুপ করে ছিলাম। কিন্তু সে নিজেই ফিরে এলো গল্পে।

"ততোদিনে আমরা একসাথে থাকি, আমি একটা হাসপাতালে কাজ নিয়েছি। একদিন শিফ্ট সেরে বাড়ি ফিরেছি প্রায় শেষরাতে, দেখি তালা বন্ধ। কেভিন তখন মাস্টার্স করছে আর রাত্তিরে এক জায়গায় বারটেন্ডিং করে। কিন্তু তার কাজ এতোক্ষণে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা, তার বারই এতোক্ষণে বন্ধ হয়ে যায়। কিছুদিন ধরেই তার ভাবগতিক ভালো ঠেকছিলো না, একদিন তুমুল ঝগড়াও হয়ে গিয়েছিলো। তালা খুলে আর ঢুকলাম না ভিতরে, সোজা চলে গেলাম তার বারে। কোন বারটা জানো, এই রাস্তাটার শেষে ছিলো সেই বারটা, এখন আর নেই। পৌছে দেখি বারের দরজা বন্ধ। একটা সিগারেট ধরিয়ে চলেই যাচ্ছিলাম, এমন সময় সন্দেহ হলো-"

এই সময় বারের পেছনের দরজা ঠেলে একজন বেরোলো যার জন্য গল্পে ছেদ পড়লো, আমাকে দেখে ভুরু কুঁচকে তাকালো যেন লোকটা।, তখনই চিনতে পারলাম, এ সেই মার্থার পরের আসনে বসা অতিকৌতূহলী বিশালাকায় লোকটি! ভুরু কুঁচকে থাকাটা বোধ হয় তার মুদ্রাদোষ। আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে শুনছিলাম মার্থার গল্প, লোকটি যেন তাকে দেখেও দেখলো না, আমার উপস্থিতি নিয়ে এতোটাই চিন্তিত সে! আমিও কেয়ার না করে গল্পে মন দিলাম। সে আবার দরজা ঠেলে ঢুকে গেলো ভেতরে, ধূমপান না করেই।

মার্থা বলে চললো, "আমার সন্দেহ হলো বারের ভিতরে কেউ আছে, একটা কিছু শব্দ শুনলাম যেন। আমি জানতাম পেছনের দরজাটার কথা, ঘুরে সে দিক দিয়ে গিয়ে দেখলাম সেটা তালাবন্ধ নয়। কোনো শব্দ না করে ধীরে ধীরে ঢুকলাম ভেতরে। বার একেবারেই খালি, চেয়ার উল্টিয়ে টেবিলের উপরে রাখা, মেঝে সাফ। দু একটা আলো জ্বলছে, বাকি সব নেভানো। দেখে ফিরেই চলে যাচ্ছিলাম সেই পথে, এমন সময় আবার একটা শব্দ শুনলাম মনে হলো কাউন্টারের পেছন থেকে। উঁচু হয়ে ঝুঁকে দেখলাম ভেতরের মেঝেতে-" সে দিন যে সে চমকে গিয়েছিলো তার চিহ্ন আজও দেখা গেলো তার চোখে, "মেঝেতে সম্পূর্ণ উলঙ্গ নির্লজ্জ দুটো শরীর আলিঙ্গনে বদ্ধ, কেভিন আর কোনো এক নষ্ট মেয়েছেলে! বারের নিভু নিভু রঙিন আলোয় সে যে কী কদাকার দৃশ্য কী বলবো তোমায়, সেই দিন প্রথম মনে হলো কেভিন আসলে ততোটা সুদর্শন নয়, আসলে সে একটা শরীরলোভী জানোয়ার। তার জন্য আমি নিজে হাতে খুন করেছি আমার অজাত শিশুকে, সে পাশবিক উন্মাদনায় তখন রমণ করছে আর এক নারীর সাথে। দুটো ন্যাংটো শরীর লাফাচ্ছে এক পৈশাচিক নৃত্যে, তাদের শীৎকার আমার কানে গরম সীসা ঢেলে দিচ্ছে। আমার হৃদপিণ্ড ঘৃণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিলো, সব রক্ত মাথায় উঠে আসছিলো একসাথে! যাকে ভালোবাসি তাকে অন্যের শরীরে উপগত হতে দেখলে ক্রোধ তো হয়ই, কিন্তু আমার তখন মাথায় খুন চেপে গিয়েছিলো এই ভেবে, যে এর জন্য আমি আমার বাচ্চাকে খুন করেছি, এই নরপিশাচ আমাকে খুনি বানিয়ে এখন ফুর্তি করছে!"

"একটা জান্তব চিৎকার বেরিয়ে এলো আমার বুক ফেটে, বারের ছাদ ফুঁড়ে আকাশ অবধি পৌছে গেলো সেই আর্তনাদ। শুনতে পেয়েই কেভিন লাফিয়ে উঠল, আর তার শরীরের নিচ থেকে মুক্তি পেয়ে মেয়েটা ছিটকে বেরিয়ে এলো। আমি সে সব দেখতে পাচ্ছি না, আমার চোখ দিয়ে ঘৃণা তখন রক্ত আর অশ্রু হয়ে বেরোচ্ছে। হাতের কাছে মদের বোতল ছিলো, এক আছাড়ে ভেঙে ফেললাম, চারিদিকে মদ কাঁচ ছড়িয়ে গেলো। ভাঙা বোতল ছুঁড়ে মারলাম কুকুরটার দিকে, সে সরে গেলো দ্রুত, কিন্তু মেয়েটা ততো চটপটে না, সোজা গিয়ে লাগলো তার মাথায়, গলগল করে রক্ত বেরোতে লাগলো! আমি তখন সম্পূর্ণ উন্মাদ, হাতের কাছে যা পাচ্ছি ছুঁড়ে মারছি, কাউন্টারের পিছনের বোতল সব ভেঙে মদ গড়াচ্ছে আর কেভিন আতঙ্কে সঁিটিয়ে গেছে অর্ধমৃত মেয়েটার পরিণতি দেখে। সে বুঝতে পেরেছে আমি তাকে সহজে ছেড়ে দেবো না। আমার হাতের জ্বলন্ত সিগারেট পড়ে কখন আগুন লেগেছে জানি না, সে সব নজর করার সময় তখন আমার নেই, মাথায় আমার খুন চেপে গেছে। বিপদ বুঝতে পেরে কেভিন লাফিয়ে এসে ধাক্কা দিয়ে আমাকে সরাতে গেলো, আমি ভাঙা বোতল দিয়ে খুঁচিয়ে দিলাম তাকে। শরীর মিস করে গেলাম কিন্তু হাত কেটে ফালাফালা হয়ে গেলো। যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে উঠলো কেভিন। সে এক নরকের দৃশ্য, মদ আগুন আর রক্তে ভেসে যাওয়া এক তাণ্ডব চলছে যেন। তিনটি কণ্ঠে প্রতিহিংসা, যন্ত্রণা আর আতঙ্ক গগনবিদারী হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সেই লেলিহান আগুনের শিখার সাথে।" মার্থা এমন জীবন্ত ভাবে বলছিলো যেন গতকাল ঘটেছে এই ঘটনা, যেন সেই রাত্রের পর পৃথিবী স্তব্ধ হয়ে গেছে তার, আর সেই যন্ত্রণা বুকে নিয়ে জ্বলছে সে প্রতি দিন। আমি এই অন্ধকারেও দেখতে পাচ্ছিলাম তার বর্ণনার সেই আগুনের ছবি, সেই তাপ আমাকেও ছুঁয়ে যাচ্ছিলো। অথচ আতঙ্কের অনুভূতিতে শরীর শিউড়ে উঠছিলো, অদ্ভুত সে অভিজ্ঞতা! আমি জানতে চাই না এর পর কী হলো, কিন্তু অদম্য এক কৌতূহল আমাকে তাড়িত করছিলো, মার্থা আবার একটা সিগারেট ধরাতেই আমি বললাম, "তারপর?"

"তার পরের কথা আমার আর মনে নেই, কেভিন আর আমি পরস্পরকে আঘাতের পর আঘাত করে চলেছি, আমার সারা দেহের ক্ষতে কাঁচ আর অ্যালকোহল জ্বালা ধরাচ্ছে, আগুনের তাপে আমার শরীর পুড়ছে একটু একটু করে, আর অনন্ত এক ক্রোধে আক্রোশে আমি চিৎকার করে চলেছি, এই শেষ পর্যন্ত মনে আছে। আমার কাপড়ে আগুন লেগে গেলো, আগুন দেখে আমার হাত ছাড়িয়ে কেভিন পালাতে চেষ্টা করছিলো কিন্তু আমি জ্ঞান হারানোর আগে পর্যন্ত তার হাত ছাড়ি নি। ক্রমশ গোটা বিল্ডিংয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে, পরে বাড়িটা ভস্মীভূত হয়ে যায়। অন্য মেয়েটাও নাকি মারা যায়। কিন্তু ততক্ষণে আমি জ্বালাযন্ত্রণায় অজ্ঞান হয়ে গিয়েছি।"

"আর কেভিন?" প্রশ্ন না করে পারি না আমি। সব কিছু কেমন ঘোলাটে লাগছিলো আমার, মার্থার গল্প সত্যি হলে এমন অভিজ্ঞতার পরে তারা যদি বঁেচেবর্তেও থাকে তাহলেও কেভিন তাকে চোখের সামনে দেখে সহ্য করছিলো কীভাবে আমার মাথায় আসে না। মার্থাই বা কী করে সেই বারে আসে যেখানে রয়েছে এমন কেউ যার ওপর তার এমন দুর্মর রাগ! গল্পটার শেষটায় এমন কী রয়েছে যা দিয়ে এর ব্যাখ্যা হয়? আমার অস্থির লাগে, জিজ্ঞেস করি তাকে। মৃদু হাসে মার্থা, বলে, "আমি কেভিনকে মাফ করে দিয়েছি, অনেক শাস্তি পেয়েছে সে তার প্রবঞ্চনার, তবে এই সব জানোয়ারদের শাস্তি দিতে গেলে মেয়েদের মরতে হয় চিরতরে।"

"আর কেভিন, সে কী করে সহ্য করছে তোমাকে? তোমাকে দেখে তো চিনতেও পারছিলো না প্রায়!"

আমার কথা শুনে তার মুখের মৃদু হাসি আরো প্রসারিত হয়, অন্ধকারে তার কালো শরীর চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ে সেই হাসি, "চিনবে কী করে, আমি কি আর সেই আগের মতো দেখতে আছি? এই দেখো না, নিজেই দেখো," বলে সে ঘুরে দাঁড়ায় আমার দিকে, এতোক্ষণে দেখতে পাই তার মুখের বাঁ দিকটা। আগুনে পোড়া সেই মুখে চামড়া নেই, মাংস নেই, মুখগহ্বর আর দাঁত দেখা যাচ্ছে গাল ফুঁড়ে, আর তার বাঁ চোখের জায়গায় এক বিশাল গর্ত! ভাঙাচোরা ঘরবাড়ির মাঝে ঝুপসি আঁধারিতে সেই পুড়ে যাওয়া মুখে ছড়িয়ে পড়ছিলো হাসি, হাসির দমকে কাঁপছিলো তার গোটা শরীর, আর হাহাকারের মতো সেই হাসি ছড়িয়ে পড়ছিলো পরিত্যক্ত উঠোনে, পুরোনো আসবাব আর ভাঙা ছাউনি ঠেলে ব্যপ্ত হচ্ছিলো চারিদিকে! আমার যুক্তি কাজ করছিলো না, আতঙ্ক গ্রাস করছিলো আমার বোধ, বোবায় ধরলে যেমন হয় সেই রকম প্রাণপণে চীৎকার করেও কোনো শব্দ বেরোচ্ছিলো না আমার গলা দিয়ে, আর পা দুটোকে যেন মাটিতে গঁেথে দিয়েছিলো কেউ! অন্ধকার আকাশের নিচে ক্রোধে উন্মাদ এক বিদেহী নারীর বায়বীয় শরীর আর গগনবিদারী বীভৎস অট্টহাসি জেগে আছে চরাচরে, জ্ঞান হারানোর আগে শেষ পর্যন্ত এইটুকু মনে ছিলো।

--------------------

পরদিন সকালে চোখ খুলি হাসপাতালে। আমার বন্ধুরা এসেছে আমার খবর পেয়ে, তাদের কাছ থেকে বাকি গল্পটা জানতে পারি। সন্ধ্যেবেলা বারের ভিতর আমাকে একা একা কথা বলতে দেখে বারের সেই বিশাল চেহারার লোকটার সন্দেহ হয়, তাই সে আবার যখন ফিরে আসে ততক্ষণে আমি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে আছি। বারের লোকেরাই পৌছে দেয় হাসপাতালে। পরে সে লোকটিও দেখা করতে আসে, ধন্যবাদ দেওয়ার সুযোগ পাই আমি। সে-ই জানায়, মার্থা যে এখনো ফিরে আসে কেভিনকে দেখতে, আমি তার প্রথম সাক্ষী নই। এই সব ঘটনায় শঙ্কিত বার-মালিক কেভিনকে তাড়াতে চেয়েছিলো, কিন্তু একরকম করুণার বশেই রেখে দিয়েছে শেষ পর্যন্ত। সেই দুর্ঘটনার পর থেকে কেভিনও আর সম্পূর্ণ স্বাভাবিক নেই, অর্ধদগ্ধ শরীর আর আইনি ঝামেলা কাটিয়ে ফিরে এসেছে, কিন্তু সাজানো জীবন ধ্বংস হয়ে গিয়েছে তার। ভগ্নপ্রাণে সে বঁেচে আছে কোনোক্রমে এক বিদেহী উন্মাদিনীর ক্ষমার আশায়।


মন্তব্য

হিমু এর ছবি

চলুক

ভৌতিক গল্প খুব একটা লেখা হয় না সচলে। খেকশিয়াল আর আপনিই এই সরু পথের যাত্রী।

শরদিন্দুর বরদাচরণের গল্পগুলি আমার বড় প্রিয়। এই গল্পের ভঙ্গিটি মনে করিয়ে দিলো সেই গল্পগুলোর কথা।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

মূলত পাঠক এর ছবি

ভালো লেগেছে জেনে আনন্দ হলো খুবই, বিশেষত আজকেই পড়েছি আপনার অসাধারণ মার্জার-সমাচার, আপনার প্রশংসা মূল্য তাই অনেক।

এইটা আমার প্রথম পূর্ণাঙ্গ গল্প, এর আগে নভেলার মতো গল্পেলা যদি কিছু থাকে সেই দুই একটা লিখেছিলাম। পাঠকের মতামত জানার কৌতূহল তাই খুবই আছে।

রেনেট এর ছবি

এই গল্পেরও বুকিং দিয়ে গেলাম...রান্না করতে যাই...খেয়ে এসে পড়ে প্রতিক্রিয়া জানাবো হাসি
--------------------------------------------------------------------------
No one can save me
The damage is done

---------------------------------------------------------------------------
একা একা লাগে

মূলত পাঠক এর ছবি

ভালো আইডিয়া, খালি পেটে গল্প জমে না। পড়ে কেমন লাগলো জানাবেন, সাগ্রহে বসে রইলাম।

স্নিগ্ধা এর ছবি

হুমম ..... হাসি

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনি পোস্টানোর আগেই পড়েছেন এবং ভীষণ দামি কমেন্ট দিয়েছেন, আপনার সাথে তুলিরেখা ও মামুন ভাইয়ের কাছেও সেই জন্য আমি কৃতজ্ঞ।

তুলিরেখা এর ছবি

চমৎকার।
আপনার আরো ধন্যবাদ পাওনা, পরে মেইলে। হাসি -----------------------------------------------
কোন দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

মূলত পাঠক এর ছবি

আরে এমন এডিটর থাকতে অন্ততপক্ষে চমৎকার না হলে লেখকের ক্ষমা হয় না। হাসি

মূলত পাঠক এর ছবি

এই গল্পটা লেখার পেছনে একটা ছোট্টো গল্প আছে। সালাহউদদীন তপু'র এই লেখাটা পড়তে বসেছিলাম খুব আগ্রহ নিয়ে, গা-ছমছম ভূতের গল্প পড়বো ভেবে। শেষটায় গিয়ে এমন যাচ্ছেতাই ভাবে বোকা বানালেন যে ভূত নিয়ে ক্ষিদেটা রয়ে গেলো, তাই নিজেই লিখতে বসে গেলাম যাতে একটা ভূতের গল্প পড়া যায় সেইজন্য। ওঁকে এইখানে সেই বাবদ থাংকু জানালাম। হাসি

সালাহউদদীন তপু এর ছবি

একশ্বাসে গল্পটা পড়ে মন্তব্য লিখব বলে এগিয়ে যাচ্ছিলাম, কিন্তু নিজের নামটা দেখে চমকে উঠলাম। এমন একটি অসাধারণ সৃষ্টির পেছনে আমার মত একজন ক্ষুদ্র মানুষের ভূমিকা আছে ভাবতেই কেমন যেন লাগছে।

আমি গল্পটি পূর্ণ করতে পারি নি তাতে আমার দুঃখ হচ্ছে না, বরং প্রার্থনা করছি এমন অপূর্ণ গল্প যেন আমি আরো লিখতে পারি যা আপনার মত লেখককে আরো ক্ষুধার্ত করে। তাহলে আমরা সে অজুহাতে হলেও আরো কিছু অসাধারণ লেখা পাব।

মূলত পাঠক এর ছবি

আরে মশাই, ক্ষুদ্র-টুদ্র বলে লজ্জা না দিলেই চলছিলো না? আপনার ভালো লেগেছে এইটাই বড়ো কথা। আপনিও লিখতে থাকুন, আস্তো আস্তো গল্প, আমাদের আর ওই রকম বোকাটোকা বানাবেন না। সেদিন যে কী পরিমাণ খেপে গেছিলাম সে কথা আর বললাম না। হাসি

আপনার লেখার লিঙ্ক দিতে ভুলেছিলাম, দিলাম এইবার, এইখানে

রেনেট এর ছবি

অসাধারণ, পাঠক ভাই, অসাধারণ!!!!
সম্ভবত এবছর আমার পড়া শ্রেষ্ঠ গল্প এটি!!!
---------------------------------------------------------------------------
No one can save me
The damage is done

---------------------------------------------------------------------------
একা একা লাগে

মূলত পাঠক এর ছবি

আপ্লুত হয়ে গেলাম যে, প্রথম গল্পে এমন মহাপ্রশংসা পেয়ে। এর পরে আপনাকে ধন্যবাদ জানানো ঠিক হবে কি না কে জানে, তাও জানালাম।

ভয়ে ভয়ে জিগাই, ভয় কি লেগেছিলো একটু আধটু হলেও? আমার আবার ভূতের গল্প পড়ে বা সিনেমা দেখে ভয় লাগে না, মাঝরাতে সারা বাড়ি অন্ধকার করে দেখেছি, তাতেও না (দু-একটা ব্যতিক্রম বাদে)। তাই ভয়ে ভয়ে জিগাইলাম।

রেনেট এর ছবি

আমারও ভয় লাগে না হাসি
তবে গল্পের গাথুনী, বিবরণ, সাবলীলতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। প্রথম গল্পেই যদি এরকম চমৎকার লিখতে পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে আরো অসাধারণ গল্প পড়তে পারবো ভেবে রোমাঞ্চিত হচ্ছি।

---------------------------------------------------------------------------
No one can save me
The damage is done

---------------------------------------------------------------------------
একা একা লাগে

মূলত পাঠক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

খুব ছোটোবেলায় বোধ হয় ত্রৈলোক্যনাথের লেখা "পূজার সময়" বা এই জাতীয় নামের একটা ভূতের গল্প পড়ে প্রচুর ভয় লেগেছিলো। তেমন আর বড়ো একটা লাগে নি অন্য গল্পে। সত্যজিতের খগম'টাও দারুণ ছিলো।

মাহবুব লীলেন এর ছবি

দুর্দান্ত একটা গল্প

মূলত পাঠক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ মাহবুব লীলেন

ভুতুম এর ছবি

খগম যে কী অসাধারণ ছিলো - সাপের ভাষা সাপের শীষ, ফিসফিস ফিসফিস

আপনার লেখাটা বেশ চমৎকার হয়েছে। ভুতের গল্পে মনে হচ্ছে আপনার সহজাত একটা দক্ষতা আছে - আরো কয়েকটা লিখে আমার ধারণাটা আরো পোক্ত করে দিন!

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

মূলত পাঠক এর ছবি

ভালো লেগেছে জেনে আহ্লাদ পেলাম।

সহজাত দক্ষতা আদৌ নেই, বারকয়েক ঘষামাজা করতে হয়েছে এই ছোট্টো গল্পটা। আরো লেখার ইচ্ছে থাকলেও ঐ খাটনির ভয়েই ভূত পালাবে, অন্য কিছু নিয়ে লেখা হতে পারে। হাসি

সুজন চৌধুরী এর ছবি

ভালো লাগলো।
সত্যজিতের খগম'টা সত্যি দারুণ ছিলো।বিশেষ করে এই ইলাস্ট্রেশানটা খুব প্রভাব ফেলে মনে.........
খগমখগম
খগমটা আমার খুব প্রিয় ভুতের গল্প।অনেক দিন পর আপনি আবার মনে করিয়ে দিলেন!


লাল গানে নীল সুর, হাসি হাসি গন্ধ

মূলত পাঠক এর ছবি

আজকে খগমের কথা লিখতে গিয়ে এই ছবিটা দেখতে কি যে ইচ্ছে করছিলো! আপনার কতো যে ধন্যবাদ প্রাপ্য! গল্পটা না ছবিটা কোনটা বেশি গা-ছমছমে বলা কঠিন, বোধ হয় ছবিটাই জিতবে!

সুজন চৌধুরী এর ছবি
আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

বেশ লাগলো ... চলুক

মূলত পাঠক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ!

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

ভয় পাইলাম না তো... আমি দেখি খুব সাহসী... চোখ টিপি
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

মূলত পাঠক এর ছবি

দুষ্কু পাইলাম শুইন্যা, ইক্টু কষ্ট কইরাও পাওন গেল না? মন খারাপ

দময়ন্তী এর ছবি

ভয়টয় যদিও পেলাম না, তবুও গল্পটা বেশ চমত্কার একটা নিটোল গল্প৷ আর ছবিটাও তেমনি৷ আপনি তো দেখি মশাই মহা প্রতিভাবান লোক! চিন্তিত
---------------------------------------------------------
"নিভন্ত এই চুল্লিতে মা
একটু আগুন দে
আরেকটু কাল বেঁচেই থাকি
বাঁচার আনন্দে৷'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

মূলত পাঠক এর ছবি

যাহ্ তাইলে তো সবই মাটি, কেউই দেখি ভয় পায় না!

ছবি আর গল্প ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো আমারও। মহা প্রতিভাবান, হা হা হাসি

সবজান্তা এর ছবি

গল্পের গাঁথুনিটা চমৎকার। মেদহীন মোটামুটি, এক টানেই পড়ে ফেলতে পারলাম।

তবে ভয়টা লাগে নি, এর কারণ সম্ভবত কাহিনীর সমাপ্তি বেশ কিছুটা আগেই আন্দাজ করতে পারার আগে।

যদি কিছু মনে না করেন ( এবং রাগ না করেন ) তাহলে বলি, বাংলা সাহিত্যে ( বিদেশি ভাষার ভৌতিক লেখা তেমন পড়ি নি ) ভৌতিক রচনার আসলে একটা কমন ফরম্যাটে পড়ে গিয়েছে, অর্থাৎ বহু আগেই মারা যাওয়া কারো সাথে কথা বলা কিংবা অন্ধকারে রাতে পথ দেখিয়ে খুব প্রিয় কেউ বাড়িতে পৌছে দেয় যে অনেক আগেই মারা গিয়েছে, এগুলো আসলে বহু ব্যবহারে জীর্ণ।

আপনার গল্প শেষতক কমন ফরম্যাটের দিকে গেলেও শুরু থেকে আরম্ভ করে অনেকটা দূর পর্যন্ত একদমই বোঝা যায় নি কোনদিকে যাচ্ছে, আর ভাষার ব্যবহার কিংবা গাঁথুনি আগেই যেমন বলেছি চমৎকার।

তবে এই ধারার লেখা বাংলা সাহিত্য তো বটেই, ব্লগেও কেউই আসলে তেমন লিখেন না। তাই থামাবেন না, চলতে থাকুক।


অলমিতি বিস্তারেণ

মূলত পাঠক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, পড়ার জন্য এবং পড়ে এমন যত্ন করে উত্তর দেওয়ার জন্য।

মনে করার প্রশ্নই ওঠে না, মতামত শুনতেই চাইছিলাম। গল্পের শেষটা আগে আরেক রকম ভেবেছিলাম, তবে সেটা আরও ক্লিশেড ছিলো। এইটা মন্দের ভালো। হাসি

ভূতের গল্প অনেক পড়েছি তেমন নয়। ভয় না পেতে পেতে বিরক্ত হয়ে পড়ার উৎসাহই কমে গেছে। তাই এ বিষয়ে ফরম্যাট কী কী হয় খুব বেশি ধারণা নেই। গল্প নিশ্চয়ই আরো লিখবো, সেইরকমই ইচ্ছে আছে, তবে ভূতের গল্প শিগগির আর নয়। এবার অন্য রস। আমার বোধ হয় হাল্কার উপর এডিডি আছে। হাসি

তুলিরেখা এর ছবি

১। আরেক ফরম্যাট হলো বিপদে পড়া একক পাইলটকে পথ দেখিয়ে নিরাপদে অবতরণ করায় এক ভৌতিক প্লেন! (বিদেশি ফরম্যাট)
২। আরেক ফরম্যাট হলো কেউ মিথ্যে মামলায় কাউকে ফাঁসিয়ে ফাঁসি দেওয়ায়। পরে সেই ফাঁসি হওয়া ব্যক্তি ফিরে এসে এই বদমাইশকে মারে, প্রতিশোধপ্রবণ ভুতের কাহিনি। (দেশি ও বিদেশি উভয়)
৩। আরেক ফরম্যাট হলো কোনো প্রচন্ড ভুত-অবিশ্বাসী এক ভয়ঙ্কর রাতে ভুতের সগে মুলকাতের পরে ভুতে বিশ্বাস শুরু করে।(দেশি )
৪। আরেক ফরম্যাট হলো ডাক্তারকে ডেকে নিয়ে যায় কেউ, কেউ নাকি মরণাপন্ন, ডাক্তার গিয়ে চিকিৎসা করেন একদম মাপে মাপে ঠিক সময়ে গিয়ে পড়ায় রোগী বেঁচে যায় কিন্তু জানা যায় যে ডাক্তারকে ডেকে এনেছিলো সে বহুকাল আগে মারা গেছে। খুবই মায়ামায়া ভুত, স্নেহপ্রবণ। (দেশি)
৫। আরেক ফরম্যাট হলো ড্রাকুলা। রক্তচোষা ভুত, ক্ষেত্রবিশেষে খুব ভায়োলেন্স টায়োলেন্স থাকে।(বিদেশি-এই ফরম্যাটটা ইউরোপের রুমানিয়া টুমানিয়ার দিক থেকে এসেছে, এর পিছনে নাকি জেনেটিক ডিজিস এর একটা ভূমিকা আছে। )
৬। ......
-----------------------------------------------
কোন দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

মূলত পাঠক এর ছবি

ভালো লাগলো। সাহিত্যের ফরমুলা নিয়ে আমার আগ্রহ আছে। কবিতা লেখাও শেখানো যায় লোককে, গল্প তো আরও সম্ভব। এই লিস্টি হাতের কাছে থাকলে পাঠকের চেনা পথ এড়ানো যেতে পারে।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

ভৌতিক নয়, সুন্দর একটা গল্প। তবে একখানে মনে হয় একটু ছেদ পড়েছে:

আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে শুনছিলাম মার্থার গল্প,
আমার মনে হয় আপনি বসেই ছিলেন। বসে থেকেই সিগারেট ধরিয়েছিলেন। যাহোক, গল্প ভালো হয়েছে। আপনার লেখা সাবলীল। তবে জাস্টিফাইড এলাইনমেন্টের জন্য একটু অস্বস্তি লাগছিলো।

মূলত পাঠক এর ছবি

না তো, পেছনের উঠোনে গিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই তো ধূমপান হচ্ছিলো।

ভালো লেগেছে শুনে আনন্দ পেলাম। হাসি

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

তাহলে মনে হয় ভৌতিক কিছু হয়েছে, কারণ আমি তো ভেবেছিলাম বারে বসেই কথা চলছে হাসি

কীর্তিনাশা এর ছবি

আমার কম্পুর গ্যাঞ্জাম কিনা বুঝতে পারছি না। এই পোস্টের শুধু প্রথম প্যারাটা পড়তে পারছি। বাকি লেখার ফন্ট কেমন হিজিবিজি হয়ে গেছে। কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। আবার মন্তব্যগুলো ঠিকই পড়তে পারলাম।

এইটাও কি ভৌতিক কারবার নাকি?!!

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

মূলত পাঠক এর ছবি

জাস্টিফাইড এলাইনমেন্টের জন্য এটা হতে পারে হয়তো, প্রথম প্যারাটা ছেড়ে করেছিলাম। কিন্তু তাতে লেখা ছড়িয়ে যাবার তো কথা নয়। হিমুর বেড়ালের গল্পটা পড়তে পারছেন? ওটারও একই রকম ফরম্যাট।

আমার আপেলযন্ত্রে ঠিকই দেখছি কিন্তু তাতে ভরসা নেই, আপেল দিয়ে কমলালেবুর হিসাব কিছু বোঝা যায় না নিশ্চিতভাবে। তবে বাকিরাও কেউ এই সমস্যায় পড়েন নি যখন তখন এইটা আঞ্চলিক উপদ্রব হতে পারে। আপনার মেশিনে কি ভূতটুত আছে?

কীর্তিনাশা এর ছবি

হিমু ভাই'র বেড়ালের গল্পটাও পড়তে পারছি না। একই রকম অবস্থা। কাহিনী তাইলে জাস্টিফাইডেই প্যাঁচ খাইছে। এখন এই প্যাঁচ ছোটানোর উপায় কী ?? মন খারাপ

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

মূলত পাঠক এর ছবি

এর সামগ্রিক উত্তর মডুরাই দিতে পারবে, আপনি এইখানে গিয়ে আপনার মেশিনের ডিটেইলস দিয়ে লিখতে পারেন, উত্তর মোটামুটি দ্রুত পাওয়া যায়।

আরেকটা কথা, লেখার আকার সুন্দর হওয়ার চেয়ে সবার জন্য পাঠযোগ্য হওয়াটা বেশি জরুরি। তাই ঐ জাস্টিফায়েড'টা হঠিয়ে দিলাম, এবার পড়তে পারবেন।

দময়ন্তী এর ছবি

আরেহ! আপ্নি দেখি এখনও জেগে আছেন৷ আপনাকে সচলে একটা বার্তা পাঠালাম৷ সচল ইনবক্সে ওটা দেখে নিয়ে এই মন্তব্যটা মুছে দিয়েন৷
--------------------------------------------------
"নিভন্ত এই চুল্লিতে মা
একটু আগুন দে
আরেকটু কাল বেঁচেই থাকি
বাঁচার আনন্দে৷'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনাকে মেইল করেছি অনেকক্ষণ, পেয়েছেন কি?

দময়ন্তী এর ছবি

আমিও উত্তরালাম তো৷

কিন্তু আপনার এই পোস্টে নির্ঘাত্ ভুত আছে৷ আমি লিখলেই ২ বার করে ছাপা হচ্ছে৷ অথচ অন্য কারো পোস্টে হচ্ছে না৷
----------------------------------------------
"নিভন্ত এই চুল্লিতে মা
একটু আগুন দে
আরেকটু কাল বেঁচেই থাকি
বাঁচার আনন্দে৷'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

সিরাত এর ছবি

হুমম, দেইখা গেলাম। অফিসে ব্যস্ততায় পড়বার পারুম না এক টানে, পরে পইড়া আপনারে ফিডব্যাক দিমু অহন! চোখ টিপি

মূলত পাঠক এর ছবি

ঠিকাছে। হাসি

নিবিড় এর ছবি

ভাল লাগল চলুক


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

মূলত পাঠক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ নিবিড়।

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

চমৎকার একটা গল্প ... শিরোনামে ভৌতিক না লিখলে শেষ অংশে আসার আগ পর্যন্ত টেরই পেতামনা
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

মূলত পাঠক এর ছবি

ধন্যবাদ, বাদশা!

গল্পের নামকরণটা যে আমার ফোর্টে নয় বোঝা গেলো হাসি

নীড় সন্ধানী এর ছবি

আজকে পড়তে পারলাম না, কাল এসে পড়তে হবে। হাসি

-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-
সেই সুদুরের সীমানাটা যদি উল্টে দেখা যেত!

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

মূলত পাঠক এর ছবি

নিশ্চয়ই, পড়ে জানাবেন কেমন লাগলো।

স্নিগ্ধা এর ছবি

জ্বিনের বাদশা বলেছেন -

শিরোনামে ভৌতিক না লিখলে শেষ অংশে আসার আগ পর্যন্ত টেরই পেতামনা

আসলেই তো! ওটা না থাকলে শেষের ধাক্কাটা আরো জবরদস্ত হতো!

তুলিরেখা এর ছবি

মূলত পাঠক,
গল্পের নামটা যদি রহস্যময় কোনো নাম দিয়ে দিতেন চমৎকার হতো !

-----------------------------------------------
কোন দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

মূলত পাঠক এর ছবি

তা একটা সাজেস্ট করুন না! হাসি

"ফিরে ফিরে আসে"?

শামীম রুনা এর ছবি

ভূতের গল্প বা ছবি কোনোটাই আমার পছন্দ না, কেমন ভয় ভয় লাগে। তারপরও আপনার গল্পটা আমি একা একা রাতে পড়ে ফেললাম এবং মজার ব্যাপার এই প্রথম ভূতের গল্প পড়ে ভয় পাইনি। হা-হা-হা
গল্পটা ভীষণ ভালো হয়েছে।

আমার প্রথম বই 'টমবয় নিশো ও তার বন্ধুরা'

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

মূলত পাঠক এর ছবি

ধন্যবাদ শামীম রুনা।

কিন্তু যদি ভয়ই না পেলেন তা'লে তো সব মাটি!
হাসি

স্পর্শ এর ছবি

চলুক লেখা ও আঁকা।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

মূলত পাঠক এর ছবি

থ্যাংক য়ু, স্পর্শ! হাসি

সিরাত এর ছবি

আহ, গল্পের ভাষা বড়ই খাসা হয়েছে রাজর্ষিদা, একেবারে পাবলিশড রাইটার কোয়ালিটি, কিন্তু প্লটটা আমার প্রেডিক্টেবল লেগেছে।

তবে আসল কথা হল, এরকম লেখা সচলে কমই পাওয়া যায়, পড়ে ভালই লেগেছে।

আমার ভৌতিক গল্প ইত্যাদি আসলে তেমন ভাল লাগে না এখন, যদিও ছোটবেলায় সেবা প্রকাশনীর অনুবাদে ড্রাকুলা পড়ে যে কি ব্যাপক ভয় পেয়েছিলাম তা আর কাহাতব্য নয়! দুই সপ্তাহ ধরে একা টয়লেটে যাইনি! দেঁতো হাসি

তবে ইদানিং আমার রিয়েল লাইফে অদ্ভূতুড়ে কিছু ঘটনা ঘটেছে। আগ্রহ থাকলে পড়ে দেখতে পারেন এখানেচোখ টিপি

মূলত পাঠক এর ছবি

পড়ার জন্য আর মন্তব্য করার জন্যও ধন্যবাদ, সিরাত। ভুতুড়ে গল্প / সিনেমা নিয়ে আমারও সেই সমস্যা।

আপনার লেখাটা আগেই পড়েছিলাম।

সিরাত এর ছবি

হ্যাঁ, আমি অন্যান্য মন্তব্যকারীদের সাথে একমত, নামটা আসলে give-away ছিল। মানসিকভাবে ওভার-এক্সপেক্ট করায় রাখসেন। সাদাসিধা একটা নাম দিলে ধাক্কাটা জমতো!

তবে না, ভয় একেবারেই পাই নাই। ড্রাকুলার পর আসলে ভয় কমে গেছে। শুধু আমাদের বাসার কান্ডে ব্যাপক ভয় পাইছিলাম।

মূলত পাঠক এর ছবি

আরে কেউ একটা নাম সাজেস্টও তো করে না!

সিরাত এর ছবি

উমম... 'গ্রীষ্মে বার ভ্রমন'?

যেই একখান ধাক্কা খাইবো না মানুষ এই নিরীহ টাইটেলের লেখা পইড়া!!

মূলত পাঠক এর ছবি

হা হা, এইটা যে ভ্রমণ কাহিনীর টাইটেল হয়ে গেল! হাসি

মুজিব মেহদী এর ছবি

ভালো হয়েছে গল্পটা। খুব সত্য-সত্য লাগছিল প্রায় বর্ণনাই, কেবল শেষদিকের পারস্পরিক আক্রোশের প্রকাশটা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে গেছে বলে মনে হলো।

ভয় পেলাম কী পেলাম না, এটা কোনো ব্যাপার নয়। এটা গল্পের কোনো ডিসক্রেডিটও না। আসলে ভূতে কোনো ভয়টয় জাগে না আমার।

..................................................................................
সত্যকথন-স্বভাব
যুদ্ধঘোষণার মতো একটা ব্যাপার প্রায় কথাসভ্যতায়

... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ...
কচুরিপানার নিচে জেগে থাকে ক্রন্দনশীলা সব নদী

মূলত পাঠক এর ছবি

ওই ব্যাপারটা আমারও সমস্যা মনে হয়েছিলো, কিছু কিছু পরিবর্তন করে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করেছিলাম।

যাক সব মিলিয়ে যে খারাপ লাগে নি সেইটা ভালো ব্যাপার। ধন্যবাদ।

মামুন হক এর ছবি

খুব ভালো লেগেছে, চ্যাটে বা ফোনেও জানিয়েছি আপনাকে।
তবে ভয় পাইনি, আজকাল মানুষে ভয় পাই, ভুতে না হাসি
আরো গল্প আসুক দাদা, ভেতর থেকে আসুক।

মূলত পাঠক এর ছবি

থাংক য়ু মামুন ভাই। লিখবো আরো।

অতিথি লেখক এর ছবি

গল্পে ভয়ে নেই কিন্তু ভয় পেয়েছি পাঠককে পাঠে ধরে রাখার দক্ষতায়। আমাকে এক নিঃশ্বাসে শেষ করতে বাধ্য করেছেন। আমি এখানে একটি অবান্তর প্রশ্ন করে আপনাকে জ্বালাতন করব। গল্পটি নিশ্চয় বাস্তব পাঠক ভাই? খুব জানতে ইচ্ছে করলো কারন লেখক তো পাঠকের আঙ্গুলের মাথায় তাই।

শাহিদুর রহমার শাহিদ

মূলত পাঠক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ।

নাহ্, এর কোনো কিছুই বাস্তব নয়। শুরুর বিরক্তিটা খানিকটা হতে পারে, কিন্তু তার পরেও আমার যা সাহসের নমুনা তাতে এই রকম আপাত সাদামাটা অ্যাডভেঞ্চারও আমি করতে যেতাম না। হাসি

রায়হান আবীর এর ছবি

ভয়ের না, কিন্তু গল্পটা এতো এতো দারুন লাগলো। অসাধারণ, পাঁচতারা ... আরও লিখবেন?

মূলত পাঠক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, আবীরভাই। আরও লেখারই ইচ্ছে আছে, ভূতের না যদিও, জ্যান্ত মানুষের গল্প। হাসি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- কালকে যখন গল্পটা পড়ছিলাম, প্রথম দিকে মনে হলো 'আরে এটা তো আমি আগেও পড়ছি'! শেষে এসে বুঝলাম এর রহস্য।

খুব খোলা মনে একটা কথা বলি। গল্পটা পড়ার সময় আমার মনে হয়েছে খুব পরিপক্ক হাতের লেখা। যেমনটা বই-টইয়ে পড়ি। ভূতের গল্প হলো কি হলো না, সেদিকে ভাবার সুযোগ পাইনি কেবল লেখার মধ্যেই ডুবে থাকার কারণে। চলুক
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

মূলত পাঠক এর ছবি

এইটা একটা চমৎকার রিভিউ কমেন্ট (প্রশংসাবাচক বলে আরো চমৎকার) হাসি

পড়তে পড়তে পাঠককে লেখায় ডুবিয়ে রাখা গেলে ব্রেখ্ট হয়তো রাগ করতেন, কিন্তু আমার জন্য সেটা ঢের ঢের খুশির ব্যাপার। ধন্যবাদ, পাঠ ও কমেন্টের জন্য।

দ্রোহী এর ছবি

দুর্দান্ত গল্প!

এই গল্প এত দেরিতে পড়লাম কেন কে জানে!!!!!!!!!!!

মূলত পাঠক এর ছবি

তাতে কিছু ক্ষতি হয় নাই, ভূতের কি আর টাটকা বাসি হয়!

থাংকু হাসি

খেকশিয়াল এর ছবি

গল্পটা কিন্তু দারুণ লাগলো! প্লটটা সাদামাটা হলেও আপনার লেখার ধরণ দারুণ ।

------------------------------
'..দ্রিমু য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

মূলত পাঠক এর ছবি

আরে আসেন আমার ভৌতিক কাউন্টারপার্ট। ভাল্লাগছে তাইলে? হাসি

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

ভীষণ ভীষণ ভালো লাগলো।

...........................

সংশোধনহীন স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন দেখি একদিন

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

মূলত পাঠক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, সুলতানা পারভীন শিমুল।

কনফুসিয়াস এর ছবি

আপনার বাংলা পড়তে মজা। সেইজন্যে পড়তে ভাল লাগলো।
গল্পের প্লট নিয়ে অনেকে অনেক কিছু বলেছেন দেখলাম, আমার মত যাচ্ছে সবজান্তার সাথে। প্লট হিসেবে এটি বহুল ব্যবহৃতই বটে।
আমিও অনেক ছোটবেলায় একটা ভুতের গল্প লিখেছিলাম। লিখে টিখে ভেবেছিলাম কঠিন কাজ করে ফেলেছি! পরে, সম্ভবত, হুমায়ুন আহমেদের সম্পাদনায় একটা ভুতের গল্প সংকলন বেরিয়েছিলো, তার ভূমিকায় হুমায়ুন লিখেছিলেন, ভুতের গল্পের সবচেয়ে কমন ফর্ম্যাটগুলোর কথা! অত্যন্ত দুঃখের সাথে দেখি যে সবচেয়ে কমন-তম ফর্ম্যাটেই আমার গল্পটা লেখা! হাসি
তারপরে আর কখনও ভুতের গল্প লেখা হয়নি।
আপনার জন্যে সেই গল্পটার একটা লিংক রেখে গেলাম- গল্পের নাম- নিমন্ত্রণ।

-----------------------------------
আমার ইচ্ছে হলো বাজাতে গীটার, মন আমার, মন আমার, মন আমার-

-----------------------------------
বই,আর্ট, নানা কিছু এবং বইদ্বীপ

মূলত পাঠক এর ছবি

যাক যে কোনো এক ভাবে মজা দেওয়া গেলেই হলো, আমার দাবি খুব বেশি না। হাসি

আপনার গল্প পড়লাম, ওখানে কমেন্ট করেছি। তবে পুরোনো পোস্ট বলে আপনার চোখে না-ও পড়তে পারে তাই এখানেও লিখে দিলাম:
গল্পের ভাষাগত কিছু ছোটোখাটো সমস্যা চোখে পড়লো যেগুলো নেহাৎই কসমেটিক, কিন্তু গল্পটা খুব ভালো লাগলো। এর ফরম্যাট কিন্তু আমার কমন মনে হলো না, হয়তো কম পড়েছি ভৌতিক গল্প সেইজন্যই। তবু এর অভিনবত্বে মুগ্ধ হতে বাধা পেলাম না। গল্পটি পুণর্লিখনের দাবি রাখে, আরেকটু বড়ো আকারে।

...অসমাপ্ত [অতিথি] এর ছবি

চমৎকার... পড়ার আগ্রহটুকু শেষ লাইন পর্যন্ত টিকিয়ে রেখেছেন।

ত্রিনিত্রি এর ছবি

অসাধারন!! অনেকদিন পর কোন ভূতের গল্প পড়ে এত ভালো লাগলো। থ্রিলটা ধরে রেখেছেন শেষ শব্দ পর্যন্ত!

উত্তম ঝাঝা।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

ম্যাঁও
(কালো বিড়াল অশরীরীর বাহন; তাই, ভয়ের ইমো হিসেবে ব্যবহার করলাম।)

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।