গুগুল বায্‌ (Google buzz) - ২

সাফি এর ছবি
লিখেছেন সাফি (তারিখ: শুক্র, ২৬/০৩/২০১০ - ৬:৪৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

তো যা বলছিলাম, গুগুল করল কি গুগুলের যেসব জনপ্রিয় প্রোডাক্ট আছে তার মধ্যে একের পর এক সোশ্যাল ফিচার যোগ করা শুরু করল। যেমন ধরা যাক প্রথমেই ২০০৮ এর মে মাসে গুগুলে নিয়ে এল গুগুল ফ্রেন্ড কানেক্ট। এটা আর কিছু না, আপনি আপনার গুগুল আইডি বা ওপেন আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে মিথস্ক্রিয়া চালাতে পারবেন।আরো সহজভাবে বলতে চাইলে এভাবে বলা যায় যে, যদি সচলায়তন গুগুল ফ্রেন্ড কানেক্ট সাপোর্ট দেওয়া শুরু করে তাহলে আপনাকে আর সচলায়তনে আলাদা করে একাউন্ট খুলতে হবেনা বরং আপনি আপনার গুগুল আইডি বা ওপেন আইডি ব্যবহার করেই মন্তব্য বা পোস্ট লিখতে পারবেন। এতে সুবিধা কি? প্রথমেই বলা যায় যে মূল সুবিধা আপনার – প্রতি ওয়েবসাইটের জন্য আলাদা একাউন্ট খোলা / পাসওয়ার্ড মনে রাখা সেই ঝামেলা থেকে আপনি বেঁচে গেলেন। এর পরের সুবিধা আমার। কারণ যেহেতু আমি জানি যে নাট_বল্টু নামের এই গুগুল একাউন্ট আপনার, সুতরাং সচলে যখন আমি দেখব সেই একই নাট বল্টু তখন আর আমার সন্দেহ থাকবেনা লেখা/মন্তব্যের পিছে কীর্তিমানটা আসলে কে। সোজা কথায় সক-পাপেটিংয়ের সুযোগ নেই, যদিনা ব্যবহারকারী আপনাকে তার ফেসবুক পাসওয়ার্ডও না দিয়ে দেয়। তাহলে গুগুলের সুবিধা কি এইতো ভাবছেন? আপাতদৃষ্টিতে কিছু না মনে হলেও, আপনি যখন গুগুলে একাউন্ট খুললেন, তখন আপনার একটা গুগুল প্রোফাইল তৈরী হল – আর সেই প্রোফাইল ব্যবহার করে আপনিতো মনের সুখে বিভিন্ন ওয়েব সাইটে ব্লগে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, গুরুগম্ভীর মন্তব্য করে বেড়াচ্ছেন। এভাবে যখন আপনি গেঁথে গেলেন গুগুল হয়ত তখন গুগুল প্রোফাইল গুলো নিয়ে একটা ফেসবুক ধাচের সাইট বানিয়ে ফেলল। এমনটা যে হবেই তা দাবী করছিনা, কিন্তু হতেও তো পারে?

গুগুল যখন ফ্রেন্ড কানেক্ট নিয়ে খ্যাক খ্যাক করে হাসছিল, এই অবস্থায় ফেসবুক চিন্তা করল আমরাই বা কম কিসের? শালার গুগুল, তোমরা যদি চল ডালে ডালে আমরা চলি চালে চালে, আমার চাল নিয়ে তুমি খিচুড়ি পাকাবে তা হবেনা। আর তাছাড়া সারা দুনিয়ার লুলরা দিন রাত আমার বুকে যত লোল ফেলছে আমি যদি তা ছেড়ে দেই তাহলে আবার নূহরে ডাকা লাগবে। এতশত ভেবে কিনা ডিসেম্বর মাসে ফেসবুক বের করে ফেলল ফেসবুক কানেকট। পাঠকরা নিশ্চয়ই এখন বুঝে গেছেন ফেসবুক কানেক্টের কল্যাণেই আপনি ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে অনেক সাইটে সাইন ইন করতে পারেন। মরার উপরে খাড়ার ঘা দিতে ফেসবুক, কানেক্ট ব্যবহার করে আপনি অন্য সাইটে যে কাজ কর্মগুলা করছেন তা ওয়ালে পাবলিশ করার ব্যবস্থা করে রাখল (অবশ্যই আপনি না চাইলে হবেনা, দুষ্টু পাঠকে্রা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন চোখ টিপি) ধরেন আপনি গেছেন কোন এক সাইটে পভাকে দেখতে- সেই সাইট আবার ফেসবুক কানেক্ট ব্যবহার করে, এখন আপনি লগিন করলেন ফেসবুক একাউন্ট দিয়ে আর সাইটকেও পারমিশন দিলেন আপনার ওয়ালে পোস্ট করতে তাহলে আপনার বন্ধুরা আপনার ওয়ালে দেখতে পাবে – ‘বল্টু ইজ ওয়াচিং পভা অন চিত্রবাংলা.কম’ এরকম আর কি ব্যপারটা।

অন্যান্য সাইটের সাথে ফেসবুকের এমন লদকালদকি দেখে গুগুল একটু মুষড়ে পড়লেও হাল না ছেড়ে চুপে চাপে নিজের কাজ চালিয়ে যেতে লাগল। একবার দেখেছে ঘোষনা দিয়ে কিছু করতে গেলে ফেসবুক ছেড়ে কথা কয়না, তাই তলেতলে তারা তাদের জনপ্রিয় পণ্যগুলোয় সোশ্যাল ফিচার যোগ করতে থাকল। এর ধারাবাহিকতায় রিডার পেল তারানো বা শেয়ারের বোতাম বা এই নতুন চেহারা, গুগুল নিউজ ও তারানোর ক্ষমতা পেল, জিমেইল আর অরকুত পেল গুটককে। কিন্তু তাও দেখা যায় মুশকিল। কিছুতেই পুলাপানকে ফেসবুক থেকে ভাগানো যায়না। এমন অবস্থায় গুগুল অস্ট্রেলিয়ার একদল ডেভেলপার নতুন এক ডিশ নিয়ে এল, গুগুল ওয়েভ। গুগুল ওয়েভ নিয়ে এমনই এক হাইপ শুরু হয়ে গেল মানুষের মাঝে যে এক পর্যায় ইবে তে পর্যন্ত ওয়েভের দাওয়াত বিক্রি হয়েছে – এর কারণ ওয়েভে ঢুকতে হলে আপনাকে ভুত থেকে ভুতে পদ্ধতিতে কোন ওয়েভ ব্যবহারকারীর থেকে দাওয়াত পেতে হবে। কিন্তু দুই একদিন ব্যবহার করেই মোটামুটি এটা খায়না মাথায় দেয় টাইপের অবস্থা। চ্যাট করতে চাইলে গুটকতো আছেই, আর মেইল করতে চাইলে জিমেইল আছে – তবে কেন আবার খামোখা ওয়েভ ব্যবহার করবো? এই কারণে ওয়েভ মোটামুটিভাবে ফ্লপ বলা চলে(যদিও দ্বিমত রয়েছে)। এরকম বাঁশ খেয়ে আমি আপনি হলে হয়ত ভেঙ্গে পড়তাম, কিন্তু গুগুল অন্য রকম চিজ়। কিছুদিন পরেই তারা আনল নতুন এক পণ্য – গুগুল বায্‌

গুগুল বায্‌ পণ্য হিসেবে নতুন কিছু না, বলা চলে অন্য অনেক জনপ্রিয় সার্ভিসের একটা সংকর প্রজাতি। যেমন ধরা যাক, টুইটার, ইউটিউব, গুগুল রিডার, ব্লগার, ফ্লিকার এরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে চরম জনপ্রিয়। গুগুল করল কি বায্‌ নাম দিয়ে এই সব সার্ভিসগুলো থেকে আপডেট এক জায়গায় পাঠানোর ব্যবস্থা করলো এবং সেই আপডেটগুলোর মধ্যে কমেন্ট করা বা লাইক করার ব্যবস্থা রেখে দিলো। তাতে লাভ হলো কি? – ফেসবুকের কথা চিন্তা করি। ফেসবুকে আমরা কি করি? স্ট্যাটাস আপডেট করি, ছবি/ভিডিও আপলোড করি। একই কাজ আমরা ফেসবুকের বাইরে কোথায় করি? স্ট্যাটাস আপডেটের জন্য টুইটার, ছবির জন্য ফ্লিকার বা পিকাসা, ভিডিওর জন্য ইউটিউব। ফেসবুকে নোট লিখেন তো এখানে ব্লগারে ব্লগ লিখলেন। ফেসবুকে উপরের যেকোন একটা কাজ করার পরেই বন্ধুরা নোটিফিকেশন পেয়ে যায়, বায্‌ এও তাই হবে পার্থক্য এই ফেসবুক যেখানে ্নিজেই সব সরবরাহ করে, বায্‌ সেখানে অনেকের সন্নিবেশন ঘটায়। এবং এই অনেকরা সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সেরা, সুতরাং গুগুলকে তাদের সাথে প্রতিযোগীতার কথাও চিন্তা করা লাগলোনা ফ্লিকার আর টুইটার বাদে বাকি সবই আসলে গুগুলেরই পণ্য। সুতরাং প্রতিযোগীতা বলতে আমি বোঝাতে চেয়েছি ব্যবহারকারী ভাগিয়ে আনার ব্যপারটাকে।

গুগুল আরেকটা যেটা চালাকি করলো তা হলো বায্‌কে জিমেইল এ ঢুকিয়ে দিলো। যার ফলে নতুন ইউজার ধরার প্রাথমিক ব্যপারটাও থাকলোনা। যেমন আমার কথাই বলতে পারি আলাদা সার্ভিস বায্‌ হলে ফেসবুক থেকে আমাকে বায্‌ এ নিতে গুগুল্কে এক্সট্রা অর্ডিনারি কিছু করতে হত, কারণ ফেসবুকে এতদিন আছি, সব বন্ধুরাও আছেন, আর আমার কমফোর্ট ফ্যাক্টর ও একটা বড় ব্যপার। অথচ জিমেইলের সাথে ইন্ট্রিগেটেড বলে এখন মেইল চেকের সাথে সাথে বায্ও চেক হয়ে যায়। আমার জন্য এটা একটা সুবিধার ব্যাপার তবে তাই বলে ফেসবুক থেকে টেনে আনার মতন এখনও না। বায্‌ এখনো প্রাথমিক পর্যায় আছে, এবং বর্তমানে বায্‌ এর প্রাইভেসি নিয়ে গুগুলকে বেশ কথা শুনতেও হচ্ছে। আশার ব্যাপার হলো গুগুল সেগুলো এককান দিয়ে শুনে আরেক কান দিয়ে বের না করে দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। বায্‌ এর ভবিষ্যত কি তা সময়ই বলে দিবে। তবে স্ট্যাটিস্টিক(পাদটীকা-২) বলে বায্‌ ইতিমধ্যেই বেশ নজরকাড়তে সক্ষম হয়েছে - তবে আমি বলি আরও ভাল করতে হবে বাছা।

**পাদটীকা-১: লেখাটা এই পর্যায় পর্যন্ত লিখে রেখেছিলাম বেশ অনেকদিন ধরে, কিন্তু কেন জানি আর শেষ করার মতন উৎসাহ পাচ্ছিনা। সচরাচর এসব লেখায় আমি চেষ্টা করি প্রচুর লিংকের সন্নিবেশন ঘটিয়ে আমার বক্তব্যকে সমর্থন করতে, কিন্তু লেখার সময় যে লিংকগুলো সংরক্ষন করে রেখেছিলাম, তা হঠাৎ সব গায়েব হয়ে যাওয়ায় এখন নতুন করে আবার কিছু লিংক খুঁজে বের করতে হল। একারণে যদি পড়তে যেয়ে পাঠকের যদি ছন্ডপতন ঘটে সে দায় সম্পূর্ণ আমার।**

**পাদটীকা-২:বায্‌ এর বয়স যখন দুইদিন তখন গুগুল একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করে যাতে দেখা যায়, প্রতি সেকেন্ডে যেখানে ৭০০ ফেসবুক স্ট্যাটাস আপডেট হয়, ৬০০ টুইটার আপডেট হয়, সেখানে ৫৫টি বায্‌ আপডেট হয়।**


মন্তব্য

দ্রোহী এর ছবি

গুগল বাযকে "খুদাপেজ" বলে দিয়েছি দিন পনেরো আগে। দেঁতো হাসি

সাফি এর ছবি

সবাই দেখি খুদাপেজ করে দেয়! দ্রোহীদা, মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

অতিথি লেখক এর ছবি

www.book-grab.com পড়ুন তাহলেই গুগলের আসল স্বরূপ জানা যাবে

সাফি এর ছবি

ধন্যবাদ। আপনার পরিচয় দিলেন না!

উদ্ভ্রান্ত পথিক এর ছবি

আমি খুদাপেজ দিছি বাযকে!
আপ্নের ইস্প্রিং ছুটি কেমন গেলো? মাস্তি কল্লেন কেমন দেঁতো হাসি ??
---------------------
আমার ফ্লিকার

---------------------
আমার ফ্লিকার

সাফি এর ছবি

মিয়া এমটিভির ইস্প্রিং ব্রেক আর আসল স্প্রিং ব্রেক এ ম্যালা পার্থক্য

গোলাপী-মডু এর ছবি

কোন ব্যক্তির নাম সরাসরি ব্যবহার করা উচিৎ হয়নি আপনার। আপনাকে এব্যাপারে সর্তক করা হল।

সাফি এর ছবি

দুঃখিত। ব্যক্তির নাম সংশোধন করে 'সক পাপেটিং' করে দেবার অনুরোধ জানালাম

সচল জাহিদ এর ছবি

সাফি, বায রে বাই বাই দিছি ...খালি ঝামেলা করে

----------------------------------------------------------------------------
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

সাফি এর ছবি

ঝামেলা করে নাকি, জাহিদ ভাই? একটু বাড়তি মনোযোগ কাড়ে হয়ত - আমার লিস্টে দুই বাযারু আছে, তারা ভালই লিংক টিংক পোস্ট করে, তাই এখন বেনিফিট অব ডাউট এ রেখেছি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ফেসবুক কানেক্ট তো খুবই কাজের মনে হচ্ছে। দেখি এইবার চিহ্নিত লুল্বুড়ারা তাদের নানা জায়গায় ফেলা লুল কীভাবে লুকিয়ে রাখে!

লুল্বুড়া-লুলাজাদ লুলিমু গং হুঁশিয়ার!!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

সাফি এর ছবি

ইয়ে ধুগোদা, এটা কিন্তু তাগো মর্জি। হেরে যদি লুল লুকায় রাখবার চায়, তাহলে পাবলিশ না করলেই হলো। কাকপক্ষিও টের পাবেনা। লুলাজাদ/লুলিমু অবশ্য লুকাইতে চাবেনা। সুতরাং নজরদারি বাড়ানো হউক।

বোহেমিয়ান এর ছবি

আমি ঐ দিন ভাবতেছিলাম আপনারে এইটার সেকেণ্ড পার্ট এর কথা জিগামু ।

প্রাইভেসি নিয়া টেনশন এর কারণে বায ব্যবহার ই করি নাই । আর আমার ফ্রেন্ডরা জিমেইল কম ব্যবহার করে, তাই বায ব্যবহার কইরা লাভ হইত না মন খারাপ

ওয়েভ এর হাইপ এর পতন , দুষ্কজনক!
রিডার আমার খুব্বি প্রিয় ।
কাজের জিনিস ।

@ধুগোদা চোখ টিপি
_________________________________________
বোহেমিয়ান কথকতা

_________________________________________
ওরে! কত কথা বলে রে!

সাফি এর ছবি

হ! এইটা বহুৎদিন ধইরা ডেস্কটপে পইড়া ছিল, কালকে চোখে পড়ার পরে তুইলা দিলাম।
মিয়া তোমরা জিমেইল কম ব্যবহার কর, এইটা কি কইলা? খাড়াও জিমেইল নিয়া একটা প্রোমো দিবনি সামনে। আমার ও রিডার খুবই প্রিয়, জিমেইল আর রিডার ই তো সব টাইম খেয়ে ফেলে

স্বপ্নাহত এর ছবি

আমিও বায মামারে ইনবক্স থেকে খেদাইসি সপ্তা দুয়েক আগে

---------------------------------

বাঁইচ্যা আছি

---------------------------------

বাঁইচ্যা আছি

সাফি এর ছবি

সবাই খেদায় দিলে কেম্নে হবে! বেচারা ছোট মানুষ ঃ( মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ঃ)

সাইফ তাহসিন এর ছবি

বায্ ভালু পাই, আমি এখনো বাযাই, আরেক খানে লগানি লাগে না, এইটা আমার মত আইলসা মানুষের জন্যে ভালু। লেখাও ভালু পাইলাম, পাক্কা ৫ দাগাইলাম।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সাফি এর ছবি

হ অনেকেই আস্তে আস্তে বাযারু হইতেসেন, তবে সচলের বেশীরভাগেইতো দেখি খুদাপেজ করে দিসে

রাগিব এর ছবি

গুগলের এই মাইক্রোসফটে পরিণত হওয়াটা আমার ভালো লাগেনি। মাইক্রোসফটে যখন থেকে innovation বন্ধ হয়ে যায়, সব কিছুকে কপি করার চেষ্টা চলে, তখন থেকেই তাদের পতন শুরু হয়েছে। ওয়েবের ব্যাপারে মাইক্রোসফট অনেক পরে এসে প্রোডাক্ট বানাতে শুরু করেছে ... টুইটারের ক্ষেত্রে গুগলের দশা একই।

বায আর ওয়েভ, কোনোটাই ভালো লাগেনি, দুইটা প্রোডাক্টে টেকনিকাল ফিচারের চাইতে মার্কেটিং চাপা (hype) বেশি ছিলো। ওয়েভ কেনো মানুষে ব্যবহার করবে ইমেইলের বদলে, তার কোনো পোক্ত যুক্তি দেখাতে পারেনি গুগল। ইমেইল অনেকটা সার্বজনীন -- ইমেইল ব্যবহারের জন্য বিশেষ কোনো সাইটে বা কোম্পানিতে আটকে থাকতে হয় না। পক্ষান্তরে ওয়েভ ছিলো পুরোই ফেসবুক/টুইটার/জিমেইলের মিশ্রিত রূপ। অ-ডিজিটাল বিশ্বে এর সমরূপ কিছু নেই। ইমেইলের সুবিধা ছিলো, চিঠি সবাই চেনে, আর ইন্টারনেটের মাধ্যমে চিঠি পাঠানোর ব্যাপারটাতে কারো সমস্যা হয়নি। চ্যাটেও তাই, ফোনালাপের সাথে মেলানো গেছে। কিন্তু ওয়েভে কী করতে হবে, আড্ডা ছাড়া আর কিছু সেখানে চলবে, তা বোঝানোটা কঠিন, গুগলও পারেনি। একগাদা পয়সা ঢেলেছে মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টে, সেখানকার চাপাবাজি মেশিনেও মিডিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু গোড়ায় গলদ থাকলে কাজ হয়না, আর সবার পরে লেট লতিফ হয়ে এসে হাজির হলে তো নয়ই।

গুগলকে তাই নতুন প্রডাক্টের কথাই ভাবতে হবে। অথবা বিশাল উন্নতমানের প্রডাক্ট (যেমনটা জিমেইল পেরেছে হটমেইল বা ইয়াহুকে টেক্কা দিয়ে)।

----------------
গণক মিস্তিরি
মায়ানগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | টুইটার

----------------
গণক মিস্তিরি
জাদুনগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | শিক্ষক.কম | যন্ত্রগণক.কম

সাফি এর ছবি

ধন্যবাদ রাগিব ভাই। নতুন প্রোডাক্ট না বানিয়ে পুরান জিনিসকে নতুন বোতলে ভরার চেষ্টায় কাজ হয়নাই তেমন, দেখাই যাচ্ছে। তবে এসব ক্ষেত্রে বড় কোম্পানিগুলো সচরাচর ছোটগুলোকে খেয়ে নেয়, তাহলে ইউসার বেস ও পেয়ে যায়। তবে টুইটার মোটামুটি নিজেই এখন বিগ প্লেয়ার। আর দেরিতে হলেও মাইক্রোসফট কিছু ইনোভেশন দেখাচ্ছে। বিং ম্যাপ এর একুরেসি নিয়ে গুগুলের সাথে কম্পেয়ার করিনি এখনও তবে বার্ডস আই ভিউ বা থ্রিডি ম্যাপ আমার কাছে বেশ ভালই লাগছে

রাগিব এর ছবি

বার্ড্‌স আই ভিউটা গুগল ম্যাপসের "ল্যাবস" এ গেলে চালু করা যায়। ওরাও এই ফিচারটা চালু করছে।

----------------
গণক মিস্তিরি
মায়ানগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | টুইটার

----------------
গণক মিস্তিরি
জাদুনগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | শিক্ষক.কম | যন্ত্রগণক.কম

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

বায কে বিদায় করিনি এখনো কারণ কিছু কিছু বন্ধু (একজন সচল ডাক্তার তার মধ্যে অন্যতম) এখনো বায করে যাচ্ছে।

লীন এর ছবি

বায ভালু পাই।

______________________________________
লিনলিপি

ওয়াইল্ড-স্কোপ এর ছবি

যা ফ্রি পাই তা চাই না - যা চাই তা ফ্রি পাই না - কি যে চাই সেটাই বুঝি না

মাহবুব লীলেন এর ছবি

বাযে লিখতে কেন যেন আমার ভাল্লাগে না
মনে হয় যা লিখি সবগুলাই ইমেইল লিস্টের রহমালি করমালিদের চোখে পড়বে

কারণ ইমেইল লিস্টিটাতো একেবারে গণ
পাওনাদার থেকে বাপ পর্যন্ত এই লিস্টে অন্তর্ভুক্ত

আলমগীর এর ছবি

হমমমমমম।
গুগলের সবকিছুই মোটামুটি ভাল লাগে। খালি বাংলায় গুগল লিখতেই একটু কেমন যেন লাগে চোখ টিপি আহারে সাফি বেচারার কতবার এই শব্দটা লিখতে হইছে!

নজরুল ইসলাম এর ছবি

দুনিয়াতে যে আর কতো কিছু হবে... খোদামালুম...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

ShovoN এর ছবি

লেখক ভাই,
কোনো সাইটকেই যদি নির্স্বাথক ভাল বলতেই হয়, তবে সেটা wikipedia.org.
আমি recently কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, twitter oauth 1.0 authentication আপনার প্রাইভেসির প্রাইভেসিকে বিপদে ফেলায়। কোনো app কে এলাও করলে সেটি আপনার সকল twit একসেস্‌ (নতুন/পুরান) করতে পারবে। একবার পার্‌মিশন দিলে ...

facebook এর app কে এলাও করলে সেটি facebook API ব্যবহার করে আপনার সকল ডাটা পুল (pull) করতে পারে। একবার পার্‌মিশন দিলে ... এটিও ...

তবুও আমরা এগুলো ব্যবহার করি, বিশ্বাসটুকু বাজি রেখে দেঁতো হাসি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA