ছেলেবেটি(ফেসবুক) সমাচার। (প্রথম পর্ব)

সাফি এর ছবি
লিখেছেন সাফি (তারিখ: শনি, ১১/০৭/২০১৫ - ২:১৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ছোটবেলায় দেখতাম বড়দের কাছে একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিলো জীবনের লক্ষ্য বা এইম ইন লাইফ। অচেনা বা কম চেনা লোকজন চিন পরিচিত হতে হতেই ফস করে জিজ্ঞেস করতো - কি হে খোকা, বড় হয়ে কী হবা? আমার রেডিমেড উত্তর ছিলো ইঞ্জিনিয়ার হবো বা পাইলট হবো কিংবা ম্যাকগাইভার হবো। এর পরে স্কুল জীবন শুরু হয়ে গেলেই, এইম ইন লাইফ আটকে যেত নোটবই বা রচনার বই এ - হরলাল স্যারের বই অথবা একের ভিতর পাঁচ। মিথ্যা কথা বলার যেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আমরা পাই, তার ধারাবাহিকতায় প্রায় সবার এইম ইন লাইফ হয়ে যেত ডাক্তার হওয়া। কারণ ডাক্তার হলে সহজেই দেশের জন্য কিছু করা যায়, গরীব মানুষের সেবা করা যায় - আর আসল কথা হলো রচনা বড় করার পাতা ভরানো যায়।

কালের পরিক্রমায়, নিজের এইম ইন লাইফের সাথে লটকে থেকে থেকে ইঞ্জিনিয়ার হলাম। তারপর হঠাৎ একদিন ফেসবুক ফলোয়ার অপশন চালু করলো, দেখি বিখ্যাত হওয়ার শর্টকাট রাস্তা - ফেসবুক সেলিব্রিটি ওরফে ছেলেবেটি। নতুন এইম ইন লাইফ নিলাম - বিখ্যাত হবো অর্থাৎ ফেসবুক ছেলেবেটিই হবো। এই মিশনে কয়েকদিন খুব পিটায়ে পাবলিক স্ট্যাটাস দিয়ে হা করে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকি। মিনিট দুই পর পর রিফ্রেশ মারি, দেখি কোন লাভ হয় না। না কেউ দুটো লাইক দেয়, না দেয় কমেন্ট। চিন্তা করলাম, অপেক্ষা করে দেখি, হয়ত চরম উদাস একটা "এসো নিজে করি কিভাবে ফেসবুক ছেলেবেটি হবেন" টিউটোরিয়াল দিবে, কিন্তু সে আশায়ও গুড়ে বালি, তিনি নিজেই ফেবু ছেলেবেটি হয়ে বসে আছেন! তাই দীর্ঘ্য প্রতীক্ষার পরে ভাবলাম নিজেই গবেষনা করে দেখি কিভাবে সহজে ছেলেবেটি হওয়া যায়।

টেস্ট কেস

গবেষনার জন্য শুরুতে প্রয়োজন একটা স্ট্যাটাসের। স্ট্যাটাসের অভাব কি, সকাল বিকাল আমরা কত শত স্ট্যাটাস ই তো আপলোড মারি। তো বন্ধু তালিকায় একটা অভিযান দেওয়ার পরে জনৈক বন্ধুর নিচের স্ট্যাটাসখানা খুবই পছন্দ হলো। স্ট্যাটাসখানা একই সাথে আনন্দের - বন্ধু চাকরি পেয়েছে, আবার তাতে মানুষের চরিত্রের একটা চমৎকার দিক ও ফুটে উঠেছে - মমত্ববোধ।

বন্ধুর স্ট্যাটাস

"আমার সাম্প্রতিককালে একটা চাকরি হয়েছে। ইউনিভার্সিটির চাকরি, প্রফেসরকে রিসার্চে সাহায্য করা। টাকা পয়সার দিক দিয়ে হয়ত ছোটখাট চাকরি, কিন্তু কাজটা গবেষনার সাথে সম্পর্কিত এবং একই সাথে আনন্দের ও। তাই চলে যাচ্ছিলো। এদিকে আমার মাস্টার্সের সমাবর্তন ঘনিয়ে আসায়, বসের কাছে ছুটি চাইলাম। বস সাথে সাথে অভিনন্দন জানিয়ে ছুটি মঞ্জুর করে দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন - সাথে কে কে যাচ্ছে? গার্লফ্রেন্ড/বাবা/মা/ভাই/বোন? বললাম নাহ, এই মুহূর্তে তো কেউ দেশ থেকে আসছেনা, আর গার্লফ্রেন্ড ও নাই, একাই যাবো। সাথে সাথে আমাকে অবাক করে দিয়ে তিনি বললেন - ঠিক আছে, কোথায় কয়টার সময়ে জানিও, আমি যাবো তোমার সমাবর্তনে। সত্যি বলছি প্রায় অপরিচিত এবং মোটামুটি অসামাজিক মানুষটার কাছ থেকে এমনটা একদমই আশা করিনি, তাই তাকে দেখতে না দিয়ে আস্তে করে চোখের পানি মুছে ফেললাম।"

পরীক্ষা পদ্ধতি

এইবার গবেষনার দ্বিতীয় পর্যায় হিসেবে, স্ট্যাটাসখানা পাঠিয়ে দিলাম একাধিক ছেলেবেটির কাছে - পরীক্ষা করে দেখতে যে বন্ধুর জায়গায় তারা থাকলে তারা কিভাবে এই মনের ভাবখানা প্রকাশ করতেন। সৌভাগ্যক্রমে ছেলেবেটিরা আমায় নিরাশ করেনাই, একজন একজন করে ওনারা প্রায় সবাই স্ট্যাটাসখানা নিজের মতন করে লিখে পাঠিয়েছেন। সে ফলাফল নিচে দেওয়া হলো।

ফলাফল

১) সবার আগে স্ট্যাটাস ফেরত পেলাম যার কাছ থেকে, তিনি ফেবু মহলে "আমরাও পারি" আবেগ নিয়ে খেলা করে অভ্যস্ত। তার বিশাল ভ্ক্তকূলকে তিনি নিত্য নতুন স্ট্যাটাসের মাধ্যমে সবসময়ে উদ্দীপনা দিয়ে থাকেন। তিনি যেটা করলেন, বন্ধুর মূল স্ট্যাটাসখানা অক্ষুন্ন রেখে, নীচে একটা আমরাও পারি ফ্লেভার যুক্ত করে দিলেন -

`আমরাও পারি` ফ্লেভার্ড স্ট্যাটাস

<< প্রথমে বন্ধুর মূল স্ট্যাটাস হবে>>
"এই যে একটুকু ভালোবাসা, এতটুকু মায়া, আমরাও কি পারিনা - একে অন্যের প্রতি দেখাতে?

আমরা কি পারিনা আমাদের সহকর্মীর, সে যত ছোট কাজই করুক না কেন, এরকম খুশীর উপলক্ষ্যগুলোতে সামিল হতে?

সিম্পল একটা উদ্যোগ, তাকে ফিল করাতে পারে যে, “হ্যা আমিও সমাজে তাচ্ছিল্য করার মতো কেউ না”

আমরা অবশ্যই পারি, ওদের থেকে অনেক বেশী পারি। সুইডেনের পত্রিকার জরিপে বলেছে আমরাই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী জাতি।

"শেয়ারিং ইজ কেয়ারিং” শুধু টাইপ করেই গেলাম, আসুন করেও দেখাই। একটা রাত, আপনিও শান্তিতে ঘুমান, সেও আনন্দে ঘুমাক।

কালকে আপনার অধস্তন ছুটি চাইতে এলে, চলুন হাসিমুখে ছুটি দিয়ে দেই।

বিয়ে করবে? হানিমুনে যাবে? কক্সবাজার? চলুন সাথে যাই।

বাবা/মার চিকিৎসা করাতে কলকাতা/ব্যাঙ্ক্ক যাবে? চলুন আমরাও সাথে যাই।

হ্যা। তবে শুধু গেলে হবেনা, সবাইকে জানাতে হবে। তাই বেড়াতে যেয়ে অধস্তনকে নিয়ে সেল্ফি তুলে কমেন্টে পোস্ট করুন। আপনাকে দেখে আরো পাঁচজন উদ্বুদ্ধ হবে, তাদের থেকে আরো পাঁচজন করে, পুরো দেশে ছড়িয়ে যাবে। পোস্ট করার সময়ে হ্যাশট্যাগ #আমরাওপারি দিতে ভুলবেন না।"

২) দ্বিতীয় যার থেকে উত্তর পেলাম, উনিও একই কথা বললেন। বন্ধুর মূল স্ট্যাটাসটি অবিকৃত রেখে দিতে বলে, তার শেষে অল্প কথায় নিচের এই সংযুক্তি লাগিয়ে দিলেন। ফেবু মহলে উনি পরিচিত "পেছনের কথা ভোল, সামনে এগিয়ে চল" থিমের কারণে।

'পেছনের কথা ভোল, সামনে এগিয়ে চল' ফ্লেভারের স্ট্যাটাস

<< প্রথমে বন্ধুর মূল স্ট্যাটাস হবে>>
" অথচ এই প্রফেসর কিন্তু আমার একাডেমিক রেজাল্ট জানেনা। জানেনা আমি জীবনে কত সংগ্রাম করেছি। জানেনা ইন্টার পরীক্ষার রেজাল্টের পরে বাবা আমাকে একটা রিকশা কিনে দিতে চেয়েছিলো। জানেনা যে আমি যাকে সবকিছু দিয়ে ভালবেসেছিলাম, সে সেই ভালবাসা নিয়ে চলে গেছে।

সে শুধু আমি তার সাথে যে কাজটুকু করি, আমার মূল্যায়ন সে ঠিক সেই কাজ দিয়েই করে। আসলে অতীতে আমরা কে কি করেছি এইটার গুরুত্ব তেমন নাই। বরং আপনি এখন যেই কাজ করছেন ঐটাই যদি মন দিয়ে করেন, তাহলে একদিন আপনিও বসকে নিয়ে গ্র্যাজুয়েশনে যেতে পারবেন।"

৩) এবার যার কথা বলবো, উনিও বিরাট ছেলেবেটি। উনি আজ আমেরিকায় তো কাল জার্মানি তো পরশু জর্ডান। যদিও ওনার শুরুটা হয়েছিলো মানুষের লেখা টুকাটুকি করে ধরা খাওয়া দিয়ে। তবে ২ এ বর্ণিত ছেলেবেটির মতন উনিও পেছনের কথা ভুলে সামনে এগিয়ে চলেছেন বীর বিক্রমে। স্বভাবে মোটামুটি প্যাথলজিক্যাল মিথ্যেবাদী হলেও, বাংলার ফেবু আকাশে উনি নক্ষত্রের মতন জ্বাজ্জল্যমান। উনি অবশ্য বন্ধুর স্ট্যাটাস খানা একেবারেই পছন্দ করেন নাই। চাকরির খবরটা শুধু রেখে দিয়ে সুদূর বিদেশ থেকে উনি পুরা স্ট্যাটাসখানা নিজের মতন করে লিখে পাঠিয়েছেন। উনার থিম য়ামিয়ামিয়ামিয়ামিয়ামিয়ামিয়ামি।

য়ামিয়ামিয়ামিয়ামিয়ামিয়ামিয়ামি থিমড স্ট্যাটাস

" আমার একটা চাকরি হয়েছে। ইন্টারভিউয়ের দিন দেখলাম সবার মুখ কাচুমাচু, কিন্তু আমার হাসি হাসতেসে। আসলে আমি ভাবিই নাই যে আমি চাকরিটা পাবো কারণ চারিদিকে সব ওভার কোয়ালিফাইড লোকজন। এদিকে হালকা একটা মজার ব্যাপার ঘটলো, যে সবার নাম ডাকছিলো, সে হঠাৎ আমার কাছে এসে আমাকে আস্তে করে জিজ্ঞেস করলো তুমি কি য়ামিয়ামিয়ামি ফ্রম বাংলাড্যাশ?? আমি একটু হাসলাম। সে আমাকে বললো, সে আমার সম্পর্কে পত্রিকাতে পড়েছে, রেডিওতে আমার ইন্টারভিউ শুনেছে, আর এখন স্থানীয় বাংলাদেশীদের কাছে বাংলা শিখছে যেন আমার স্ট্যাটাস নিয়মিত পড়তে পারে। দেখলাম বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের লেখালেখির জগৎ নিয়ে সে বেশ ভালো খবর রাখে। বর্তমান অনিরাপদ পরিস্থিতি নিয়াও অনেক উদ্বেগ প্রকাশ করলো।

যাই হোক, নির্দিষ্ট সময়ে আসার পর যখন নাম ডাকলো আমি ড্যাম কেয়ার ভাব নিয়ে গেলাম ভেতরে। কিছু প্রশ্নের উত্তর দিলাম, কিছু পারলাম না। আগে থেকেই যেহেতু চাকরিটা নিয়া তেমন আশা করি নাই, তাই কোন নার্ভাসনেস ও ছিলো না। ইন্টারভিউ শেষ হওয়ার পরে, বস আমাকে বলল গড ব্লেস ইউ। সাথে সাথে আমি ঘুরে দাঁড়িয়ে বললাম - গড? হুয়াট ইজ গড?"

৪) এবার একটা বামাতি ফ্লেভারের স্ট্যাটাস, আট দশজন বামাতি বিপ্লবীদের মতনই উনি সবকিছুতেই পুঁজিবাদের ষড়যন্ত্র খুঁজে পান। দেশের সাফল্যে উনারা ফুল ফল লতা পাতা নিয়ে কাব্য কবিতা করলেও, পান থেকে চুন খসলে নিত্য নতুন তত্ত্ব নিয়ে হাজির হন। উনার থিম বামাতি।

বামাতি ফ্লেভারের স্ট্যাটাস

"আজকে একটা নতুন অভিজ্ঞতা হলো। ফৌনে একটা ইন্টারভিউ দিলাম। একটা টকশৌ এর জন্য। তাই আমন্ত্রণ জানানোর আগে তারা একটু কথা বলে নিতে চায়। ভালই হলো, ইন্টারভিউ শেষে জানালো আমি ডাক পাবো। ব্যাপারটা যদিও একটু অমর্য্যাদাকর, কিন্তু এত কিছু চিন্তা করলে চৌলায় ভাত চড়বে কিভাবে? অন্য সময় হলে হয়ত এই নিয়ে একটা মর্য্যাদা বন্ধন করে ফেলতাম ৫জন(আক্ষরিক অর্থেই) মিলে, কিন্তু আপাতত সেই চিন্তা ভৌবিষ্যতের জন্য উঠিয়ে রাখলাম।

টকশোতে কথা বলতে হবে স্বমেহন নিয়ে। স্বমেহন কি একটি পুঁজিবাদী আদর্শ? নারী ও পুরুষের যৌন সম্পর্কের সবচেয়ে সৌন্দর্যমণ্ডিত আউটকাম হচ্ছে সন্তানের জন্মদান। একমাত্র বাৎসল্য প্রেমই মানুষের সেলফলেস প্রেম। কিন্তু পুঁজিবাদ মনে করে মানুষ স্বার্থপর। মানুষকে স্বার্থপর হিসেবে তৈরি করাটাও পুঁজিবাদের দার্শনিক প্রজেক্ট। স্বমেহনের অন্তর্গত দর্শনও চরম স্বার্থবাদিতা। যেখানে কাম মুখ্য। স্বমেহনে কাম থেকে বাৎসল্যকে আলাদা করা হয়েছে।
স্বমেহনে কাম থেকে প্রকৃতিকেও আলাদা করা হয়েছে। সৃষ্টি ছাড়া প্রকৃতি অসম্পূর্ণ। সৃষ্টিই প্রকৃতিকে বহমান রাখে। যৌনতা থেকে সৃষ্টিকে আলাদা করে শুধু কাম আর আত্মরতি কেই মুখ্য করা হয়েছে। শুধু ভোগ, শুধু তুমি তৃপ্ত হও, শুধু নিজেকে নিয়ে বাঁচো, শুধু নিজের জন্য বাঁচো।
কাল থেকে যদি পৃথিবীর সব মানুষ স্বকামি হয়ে যায় আর মানুষের যৌনতায় আর কোন নতুন প্রাণের সৃষ্টি না হয় তবে ৪০ বছর পরে পৃথিবীতে মানব প্রজাতি ধ্বংস হয়ে যাবে। যেই যৌন আচরণ একটি প্রজাতিকে ধ্বংসের মুখে ফেলতে পারে সেটা কি প্রাকৃতিক হতে পারে? এটা প্রকৃতি বিরুদ্ধ।
স্বমেহনের দার্শনিক গতিমুখ সামনে নয়। এটা একটি বিশেষ যৌন আচরণ। আমি এই যৌন আচরণকে গালমন্দ করে স্ববিরোধীতা করতে চাই না, অতীতের অসংখ্য সুখকর স্মৃতিকেও ভুলে যেতে চাইনা। কিন্তু যেহেতু কাম থেকে বাৎসল্য এবং সৃষ্টিকে আলাদা করে শুধু কামকে একটি বৈষয়িক ভিত্তি দেয়ার প্রকল্পটি পুঁজিবাদের একটি শয়তানী স্বার্থপর প্রকল্প। তাই আমি আমার আমার বৈপ্লবিক দায়িত্ব থেকে এই প্রকল্পের বিরৌধিতা করি।"

৫) সবশেষে একজন উঠতি ছেলেবেটির স্ট্যাটাস। উনার থিম "আমি কত ভচ"। উনার সম্পর্কে উনাকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো উনার প্রতিভার তালিকা করতে, উনি উত্তর দিয়েছিলেন - পৃথিবীর সব পানি যদি কালী হতো, আর সব গাছ দিয়ে যদি কাগজ বানানো হতো, তাহলেও ওনার প্রতিভা এবং সৃষ্টিশীলতার তালিকা লিখে শেষ করা যেতনা। চলুন দেখি, কেমন হয় "আমি কত ভচ" ফ্লেভারের স্ট্যাটাস-

'আমি কত ভচ' ফ্লেভারের স্ট্যাটাস

"আজকে একটা ঘটনাবহুল দিন গেল। সকালে ছিল ডিসি সাহেবের সাথে মিটিং। মিটিং শুরু করতেই টুট করে মোবাইলে কল আসা শুরু করলো। কল করেছেন প্রিয় মানুষ, প্রিয় লেখক, প্রিয় বন্ধু মুহম্মদ জাফর ইকবাল। আমার অসম্ভব প্রিয় এই মানুষটি আমাকে যে নামে ডাকেন সেটা হল- “ও মাই গুডনেস!” In a meeting মেসেজ পাঠিয়ে ফোন কেটে দিলাম। তিনি প্রতুত্তরে মেসেজ করে জানালেন, আমার নতুন বই "লেজার প্রিন্টারে ছাপা স্বপ্ন" এর ভূমিকা লিখে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এদিকে ডিসি সাহেব বক বক করে যাচ্ছেন, আর আমি আড় চোখে বইয়ের ভূমিকা পড়ছি। প্রিয় পাঠক ভূমিকার চুম্বক অংশ এই স্ট্যাটাসের শেষে দিয়ে দিবো, কিন্তু পুরো ভূমিকা পড়তে হলে বইটা কিনতে হবে। বই এর প্রাপ্তিস্থান পরে জানিয়ে দেব। মাঝে মাঝে লেখকজন্ম সার্থক মনে হয়, এটি তেমনই একটি মুহূর্ত!

ডিসি সাহেবের সাথে মিটিং শেষ হওয়ার পরই একটা চমক অপেক্ষা করছিলো। প্রথমে তিনি জানতে চাইলেন আমার কি পরিমান টাকা লাগবে, কি ধরণের সাপোর্ট লাগবে, কোন মন্ত্রণালয়কে আমার কাছে ইনক্লুড করতে চাই ইত্যাদি। তারপর জানালেন এইটা নাকি আসলে মিটিং এর ছ্দ্মাবরণে একটা ইন্টারভিউ ছিলো। আর আমি তাতে পাশ! চিন্তা করুন পাঠক, কোন প্রস্তুতি ছাড়াই। ভাগ্যিস আগে থেকে জানতাম না ইন্টারভিউ, তা না হলে হয়ত এত সহজ থাকতে পারতাম না। কিন্তু আমি চিন্তা করছি, আমি সময় দেব কি করে! এই মুহূর্তে, আমি তিনটা প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড এম্বাসেডর হিসেবে আছি - বসুন্ধরা টয়লেট টিসু্য, ওরস্যালাইন আর ভ্রাম্যমান টয়লেট। এদের মধ্যে নন প্রফিট অরগানাইজেশান হল ভ্রাম্যমান টয়লেট। একদল স্বপ্নবাজ, কর্মবীর তরুণের দল। এরা আমাকে লেটেস্ট মডেলের কোনো পণ্য দেয়না, নামকরা ব্র্যান্ড নিউ কোনো সামগ্রী দেয়না, কিন্তু মায়ার মাত্রা এদের প্রতিই সবচেয়ে বেশি। ব্যস্ত হলে মনের মাঝে সদা ভয় থাকে, এই তরুণেরা যেন মনে না করে আমি তাদের ভুলে যাচ্ছি বা ভুলে গিয়েছি।

বাসায় এসে, ফেসবুকে ঢুকতেই দেখি, ইনবক্সে এক গাদা মেসেজ জমা হয়ে আছে। আমি প্রায় প্রতিদিনই কারো না কারো প্রেমপত্র পাই। সে বেচারা গভীর আবেগ নিয়ে লেখে... আর সবটুকু পড়ে শেষ করে যখন আমি ফিরিয়ে দেই তখন সে খুব হতাশ বা ক্রুদ্ধ হয়। আমি মোটেই পাথর প্রকৃতির মেয়ে নই, অত্যন্ত প্রেমময়ী অনেকটা হুমায়ুন স্যারের নায়িকাদের মতন। প্রেম প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যাত তরুণদের প্রধান জিজ্ঞাসা থাকে- কেন আমাকে ফিরিয়ে দেয়া হল, কি আমার অপরাধ? তখন বলতে ইচ্ছে হয়, নিরপরাধ হবার চেয়ে বড় অপরাধ আর নেই! এই নিয়ে এখন গান লিখছি, গীতিকার হওয়াটা শুধু বাকি ছিল অফিসিয়ালি… জীবন সংগীতময়!

বি.দ্র. প্রিয় প্রতিভাবান আবৃত্তিকার হ্রস্ব-ই গুপ্তদা আমার কবিতা আবৃত্তি করেছেন তার আগামী আবৃত্তি অ্যালবামে...আর প্রিয় আবৃত্তিকার বলেছেন আমি নাকি কবিতা ভালোই লিখি! এতো গুণী শিল্পীদের এরকম ভালোবাসা পেলে কবিতা লিখতে ইচ্ছে করে... আর লেখকজন্ম সার্থক বলে মনে হয়!"

(পরের সংখ্যায় সমাপ্য)

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ] আমি এবং আমার বন্ধু ব্যাতীত এই ব্লগে উল্লেখিত সমস্ত চরিত্র কাল্পনিক। জীবিত অথবা মৃত, ব্যাক্তি অথবা বস্তু অথবা অতি প্রাকৃত কারো সাথে মিল খুঁজে পেলে তা অনভিপ্রেত কাকতাল মাত্র।


মন্তব্য

ইয়ামেন এর ছবি

গভীর রাতে এভাবে খ্যাক খ্যাক করে হাসিয়ে আমার প্রতিবেশীদের ঘুম নষ্ট করানোর তীব্র প্রতিবাদ জানাইলাম, সাফি। গড়াগড়ি দিয়া হাসি

লেখা সেইরাম হইছে।

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

সব বেদনা মুছে যাক স্থিরতায়
হৃদয় ভরে যাক অস্তিত্বের আনন্দে...

সাফি এর ছবি

দেঁতো হাসি

টিউলিপ এর ছবি

বিশ্বাস করুন, আমি জীবিত বা মৃত কারোর সাথেই কোন মিল খুঁজে পাই নি। তারপরেও কিভাবে যেন প্রত্যেকের চেহারা মনের আয়নায় ভেসে উঠলো। হো হো হো

___________________

রাতের বাসা হয় নি বাঁধা দিনের কাজে ত্রুটি
বিনা কাজের সেবার মাঝে পাই নে আমি ছুটি

সাফি এর ছবি

ছবি এঁকে ফেলো। দেখা দরকার ব্যাটা/বেটিরা দেখতে কেমন।

গগন শিরীষ  এর ছবি

চমতকার লাগল সাফি।বাকি গুলারে চিনলেও "আমি কত ভচ" রে চিনতে পারলাম না।

সাফি এর ছবি

কাল্পনিক চরিত্রদের চিনলেন ক্যামতে?

গগন শিরীষ  এর ছবি

Rice Bucket Challenge এ ধরা খাওয়ার পর "আমরাও পারি" এর প্রাদুর্ভাব কিছুটা কমসিল,এখন আবার বাড়ছে। আর নাগরিক ব্লগের রুবাইয়াৎ ভাই তো "য়ামিয়ামিয়ামি" কে নাংগা করে দিয়েছিল।এরপর থেকে উনার ফাপর ও কিছুটা কমসে।
বাই দা ওয়ে, আমার আসল নাম রাহাত,ইইই০১।আমারর তুমি বলতে পার হাসি

শাব্দিক এর ছবি

দেঁতো হাসি খাইছে

---------------------------------------------------------
ভাঙে কতক হারায় কতক যা আছে মোর দামী
এমনি করে একে একে সর্বস্বান্ত আমি।

সাফি এর ছবি

কি হইলো?

শাব্দিক এর ছবি

আমি মোটেই পাথর প্রকৃতির মেয়ে নই, অত্যন্ত প্রেমময়ী অনেকটা হুমায়ুন স্যারের নায়িকাদের মতন

সেলফি দেখতে মুঞ্ছায়।

---------------------------------------------------------
ভাঙে কতক হারায় কতক যা আছে মোর দামী
এমনি করে একে একে সর্বস্বান্ত আমি।

সো এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি
অনেক মজারু হয়েছে, ভচ!

সাফি এর ছবি

খাইছে

মাহবুব লীলেন এর ছবি

সমকাম বিরোধী ফ্লেবারের স্ট্যাটাস দেয় নাই কেউ? সেইটা হবে এই রকম:
'ছিঃ পোলাটার গার্লফ্রেন্ড নাই শুইনা বস নিজেই তার পিছু নিলো। ছিঃ'

সাফি এর ছবি

বামাতি ফ্লেভারেরটা দেখেন।

স্পর্শ এর ছবি

স্বকামের অংশটা পড়ে ঠা ঠা করে হাসলাম। আপনি মিয়া পারেনও!


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সাফি এর ছবি

শয়তানী হাসি

সত্যপীর এর ছবি

ওরে নারে ইকি কচ্চেন! সবার পেন্টুল ধরে টান দিলে কেমনে হৌবে?

..................................................................
#Banshibir.

সাফি এর ছবি

আমি ছেলেদের পেন্টুল ধরে টানিনা, পীর সাহেব লাইনে আসুন।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

মানে, পীরবাবাকে ছেলেদের পেন্টুল খোলার লাইনে আসতে বলছেন? পীর-মোল্লা-পোপদের ব্যাপারে এই অভিযোগ অবশ্য নিতান্ত নতুন না। তয়, এই পীররে ভালো ভাবছিলাম। ইয়ে, মানে...

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

তাহসিন রেজা এর ছবি

চরম চরম খাসা পোস্ট।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------
“We sit in the mud, my friend, and reach for the stars.”

অলীক জানালা _________

সাফি এর ছবি

শয়তানী হাসি

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

ক্লাসিক হইছে। বান্ধায়া রাখার মতো পোস্ট। গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

সাফি এর ছবি

থেঙ্কু থেঙ্কু থেঙ্কু।

অতিথি লেখক এর ছবি

হো হো হো হো হো হো

দেবদ্যুতি

সাফি এর ছবি

কোপাও মামা...

চরম উদাস এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি জটিল, পুরাই ফালুদা গড়াগড়ি দিয়া হাসি
দ্বিতীয় পর্ব চাই জলদি জলদি

আমি কিন্তু একটা এসো নিজে করছি লিখছি সেলেবিটি নিয়া। সচলে দেই নাই, টেকাটুকা কামানর জন্য বইতে দিছিলাম। যাক, সেইটা এখন কমেন্ট সেকশনে দিয়া আরও কিছু সেলেবিটি পুটু মারি।

কিভাবে ডিজিটাল পীর হবেন
How to be a Facebook celebrity

ভেবেচিন্তে মনে হল, আজকাল আমি বেশ জনপ্রিয়। কিম কার্দিশান বা অনন্ত জলিল এর সমান না হলেও প্রায় কাছাকাছি। আজকাল লেখা পরে লোকে বেশ আহা উহু, কি লিখলেন মাইরি, ইত্যাদি করে। জন্মদিনে লোকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জানিয়ে ফেসবুক ওয়াল ভেঙ্গে ফেলে। ঘণ্টায় বিশটা করে ফেসবুক ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসে (কত ঘণ্টায় সেটা ব্যাপার না )। ইমেইলে হুমকি ধামকি আসে এরকম উল্টাপাল্টা লিখলে আমার কল্লা নামিয়ে দেয়া হবে (সবই যদিও পরিবার বা বন্ধুদের কাছ থেকে)। তাই ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্তে পৌছালাম আমি বেশ জনপ্রিয় এবং ডিজিটাল পীর হবার জন্য সকল ভিত্তি তৈরি। তাই ভাবলাম নিজে যখন জনপ্রিয় হয়ে পীরালী প্রায় পেয়েই গেছি, পাঠকদের জন্য এই বেলা একটা এসো নিজে করি টিউটোরিয়াল লিখে ফেলি। কিভাবে ডিজিটাল পীর হবেন অথবা কিভাবে জনপ্রিয় হবেন অথবা কিভাবে সেলেব্রিটি হবেন ইত্যাদি নিয়ে।

ডিজিটাল পীর
আদি কালে পীর হবার সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি ছিল স্বপ্ন দেখা। লালসালুর মজিদ থেকে শুরু করে অনেক বাঘাবাঘা পীরের শুরু হয়েছে স্বপ্নে আদেশ পেয়ে। স্বপ্নে পীরালী পেয়ে শুরু হয় মুরিদ সংগ্রহ। ডিজিটাল পীর হবার কায়দাও একই রকম। আচমকা একদিন স্বপ্নে দেখে ফেলুন আপনার দেশ বা ধর্ম বা সমাজ আজ ধ্বংসের মুখে। একমাত্র আপনি পারেন একে উদ্ধার করতে। তারপর নেমে পড়ুন মাঠে। অনেক বিষয়ই উদ্ধার করতে পারেন, কিন্তু উপরে যে তিনটির কথা বললাম এই তিনটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় উদ্ধারযোগ্য বিষয় - দেশ, ধর্ম , সমাজ।
যে কোন কিছু উদ্ধারকারী সুপারহিরো হবার জন্য আপনার একজন কাউন্টার সুপার ভিলেন লাগবে। যেমন যারা দেশ উদ্ধারকারী পীর হতে চান তার কার হাত থেকে দেশকে উদ্ধার করবেন এটা আগে খুঁজে বের করুন। আমাদের দেশের মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় দুই সুপারভিলেন হচ্ছে ভারত ও আমেরিকা। কোন এক বিচিত্র কারণে এদের প্রতি দেশের মানুষের রাগ বাকি সবার চেয়ে, এমনকি পাকিস্তানের চেয়েও বেশী। ড্রয়িংরুমে বসে হিন্দি টিভি সিরিয়াল দেখতে দেখতে সরকার ভারতের কাছে দেশ বেচে দিচ্ছে ও দেশকে অচিরেই ভারতের হাত থেকে উদ্ধার করা প্রয়োজন বলে হাঁক ছেড়ে ক্রন্দন বেশ কার্যকরী ও জনপ্রিয় ফ্যাশন। একইভাবে যে কোন ঘটনার মূলে আছে পশ্চিমা ষড়যন্ত্র তথা আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী কালো হাত। বাম পীরেরা এই পদ্ধতি বেশ সফলভাবে প্রয়োগ করে থাকেন। আইসিস গলা কেটেছে - পুরাই সিআইএ এর প্ল্যান, কার্টুনিস্ট চার্লিকে মেরে ফেলেছে - পুরাই পশ্চিমা ষড়যন্ত্র, প্রেমিকা অন্যের হাত ধরে চলে গেছে - আগাগোড়াই আমেরিকার চক্রান্ত। ধর্ম উদ্ধারের সুপারহিরো হতে গেলে সবচেয়ে বড় দুই সুপার ভিলেন - হিন্দু আর ইহুদী। ভারতের হিন্দু আর ইসরায়েলের ইহুদী মিলে নিরীহ মুসলমান ধর্মের বারোটা বাজাচ্ছে এটা কে না জানে। সমাজ উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে বড় ভিলেন পশ্চিমা সভ্যতা। পশ্চিমা সভ্যতা আমাদের বারোটা বাজাচ্ছে, অপসংস্কৃতির পথে টেনে নামাচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমি আমি আমি

আমার বেশ জনপ্রিয় একটা লেখায় সার্চ দিয়ে দেখলাম লেখার কমেন্ট মিলিয়ে মোট ৪৯ বার আমি আছে। তাঁর মধ্যে সকল "আমি" আমি না হলেও অন্তত ২৫ বার আমার আমিকেই বুঝানো হয়েছে। তখনই মাথা চুলকে বুঝলাম, আমি জনপ্রিয় হয়ে গেছি। কে বলেছে কে বলেছে, আমি বলেছি! এই দেখুন তিন লাইন লিখে মোট ৭ বার 'আমি' (এই আমিকে সহ) ব্যাবহার করে ফেলেছি। এটাই আজকাল জনপ্রিয়তার একক। দশ এর মধ্যে যদি আপনি অন্তত সাত 'আমি' হতে পারেন (অর্থাৎ লেখায় বা কথায় প্রতি দশ লাইনে অন্তত ৭ বার আমি ব্যাবহার করেন) তবেই বুঝবেন আপনি জনপ্রিয়। যেকোনো কথা বা বাণী আমি দিয়ে শুরু করতে হবে। ঘুম থেকে উঠে ফেসবুকে আপডেট করবেন, আমি উঠিলাম। লাইকে লাইকে ভক্তরা ভাসিয়ে দিবে। সবাই সমস্বরে বলবে, হুজুর উত্থিত হয়েছেন। উনিই প্রথম। দুনিয়াতে উনার আগে আর কেউ কখনো উঠে নাই, উঠলেও তারা আবার নেমে গেছে, হুজুর একবার উঠলে আর নামেন না, ইত্যাদি ইত্যাদি। (পিলিজ কন্সাল্ট এ ডক্টর ইপ ইয়োর হুজুর ইজ স্ট্যান্ডিং লঙ্গার দেন ফোর আওয়ারস)। ডিজিটাল পীর হবার মূলনীতি আসলে এটাই। আপনাকে কেউ নির্বাচিত করবে না । নিজেরই নিজেকে নির্বাচিত করতে হবে।

কি নিয়ে লিখবেন
সেলেব্রিটি হতে হলে লিখতে হবে। স্ট্যাটাস লিখতে হবে, নোট লিখতে হবে। নারী হলে শুধু ছবিটবি দিয়েও বেশ লাইক শেয়ার পেয়ে টেয়ে কোনকিছু না লিখেই জনপ্রিয়তা পেয়ে যেতে পারেন। তবে পুরুষ সেলেব্রিটি হতে হলে অবশ্যই লিখতে হবে। কি লিখবেন, কিভাবে লিখবেন জানার জন্য এসো নিজে করি – কিভাবে লেখক হবেন পড়ে দেখতে পারেন। তবে ঘটনা হচ্ছে ওইসব গদ্যে পদ্যে তেমন চলবেনা। কবিতা লিখে কে কবে সেলেব্রিটি হয়েছে? এই যুগে কবিগুরু জন্মালে লাইক আর শেয়ারের অভাবে পড়ে মনের দুঃখে লেখালেখিই ছেড়ে দিতেন। এমনি লেখক আর ফেসবুক লেখকের পার্থক্য আছে খানিক। ফেসবুক লেখক কাম সেলেব্রিটি হতে হলে আপনাকে মূলত দুটি বিষয়ে লিখতে হবে – ধর্ম আর রাজনীতি। বাকি বিষয়ের তেমন ভাত নেই। আস্তে আস্তে বড় সেলেব্রিটি হয়ে উঠলে তখন অবশ্য কি লিখলেন তা আর ব্যাপার না। তখন খাইলাম, গাইলাম, ঘুমাইলাম, জাগিলাম লিখলেই মুরিদরা আহা উঁহু করে যাবে।

স্ট্যাটাস গঠন

বেশী বকর বকর না করে কাজে নেমে পড়ি সরাসরি। ডিজিটাল পীর জামানার প্রধান অস্ত্র ফেসবুক। তাই আর কথা না বাড়িয়ে নেমে পড়ুন ফেসবুকে বয়ান দিতে। যত স্ট্যাটাস ততবেশী লাইক, ততবেশী শেয়ার, ততবেশী ভক্ত, ততবেশী জনপ্রিয়তা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কি নিয়ে স্ট্যাটাস দিবেন। নির্ভর করে দেশ, ধর্ম বা সমাজ কোন লাইনে আপনি পীর হতে চাচ্ছেন তার উপর। দেশ নিয়ে স্ট্যাটাস দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে খুঁজে বের করতে হবে দেশে চলতি সমস্যা কি। বাজারে রুবেল-হ্যাপি, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন, ফেলানি-সীমান্ত, বালুর ট্রাক-খালেদা জিয়া নাকি অনন্ত জলিল কোনটা চলতি টপিক আছে সেটা আগে দেখে নিন। তারপর ঝাপিয়ে পড়ুন। দেশের যে কোন সমস্যাতে পক্ষ বিপক্ষ দুইদিক থাকে। সেইজন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও প্রাকৃতিক স্ট্যাটাস হচ্ছে দেশ নিয়ে আবেগঘন ও জনকল্যাণমূলক কোন স্ট্যাটাস দেয়া। চটপট দেখিয়ে দেই দুই একটি জনপ্রিয় স্ট্যাটাস বা নোট গঠনের প্রক্রিয়া।
স্ট্যাটাস গঠন প্রক্রিয়া ১ - আমার দেশ ডাউন - বিদেশ আপ - আমার দেশ সেভেনাপ স্ট্যাটাস
সকল সেলেব্রিটি স্ট্যাটাসের মতো এই স্ট্যাটাসও শুরু করতে হবে আমি দিয়ে। আপনি গতকাল কি করেছেন তা দিয়ে। আপনি গতকাল খাইলে সেটা দিয়ে, গতকাল হাগিলে সেটা দিয়েই শুরু করুন।
উদাহরণ - গতকাল বল্টু মামার দোকানে বার্গার খাইলাম। ছোট একটা দোকান, বসার জায়গা কম, ফ্যান কাজ করেনা ঠিকমতো। আধাঘন্টা বসে থেকে অবশেষে বার্গার পাইলাম। (আমার দেশ ডাউন)
গতবছর সিঙ্গাপুরে এক নামকরা বার্গারশপে খেয়েছিলাম। যেমন স্বাদ, তেমনি সার্ভিস। অর্ডার দিয়ে পেমেন্ট করতে করতেই এক মিনিটের মধ্যে ফ্রেশ খাবার চলে আসে। (বিদেশ আপ)
কিন্তু কখনো আমাকে দুটির মধ্যে বেছে নিতে বললে আমি প্রতিবার বল্টু মামার দোকানের বার্গারকেই বেছে নিবো। মামা প্রতিবার বার্গার দেয়ার সময় একবার হাসি দিয়ে বলে, ভাইজান বালা আছুইন? এই হাসি, এই আন্তরিকতা কি টাকা দিয়ে কেনা যায়? (আমার দেশ সেভেনাপ)
সহজ সরল স্ট্যাটাস। ভাবছেন এটা দিয়ে কুটি কুটি লাইক কিভাবে কামাবেন? ভেবে দেখুন। এই স্ট্যাটাসে কি কি আছে। দেশপ্রেম আছে সবার আগে। বিদেশের ঠাকুরের চেয়ে দেশের কুকুর ভালো, এই কথায় নাখোশ হবার মতো জালিম খুব বেশী নেই।
আভিজাত্য আছে- আপনি যে বিদেশে গেছেন, বিদেশের বার্গার খেয়েছেন। এই খবরে বিনয় আছে - বিদেশের বার্গার খাওয়ার ক্ষমতা থাকলেও আপনি দেশী বার্গার খান। এইবার দেখুন এই স্ট্যাটাসে কি নাই। লাইক কামানোর জন্য, কি কি আছে থেকে কি নাই সেটা বেশী জরুরী। এই স্ট্যাটাসে কোন রাজনীতি আছে? নাই। এই স্ট্যাটাসে কোন আম্লিগ, বিএনপি, জামাত, আবাহনী, মোহামডান, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, সিরিয়া, মিশর, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, নাস্তিক, আস্তিক, শাহাবাগ, মতিঝিল আছে? নাই। ফলাফল এই স্ট্যাটাসে আম্লিগ, বিএনপি, জামাত, আবাহনী, মোহামডান, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, সিরিয়া, মিশর, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, নাস্তিক, আস্তিক, শাহাবাগ, মতিঝিল সবার কাছ থেকে লাইক কামাবার দুর্দান্ত সম্ভাবনা।

স্ট্যাটাস গঠন প্রক্রিয়া ২ - আমরাও কি পারিনা স্ট্যাটাস
এটি অনেকটা মোটিভেশনাল স্পিচ টাইপ স্ট্যাটাস। আমরা এক হলে কি না করতে পারি টাইপ আলাপ।
উদাহরণ - গত কয়দিন ধরে দেখছিলাম লোকজন বরফের ঝুড়ি নিয়ে নিজের গায়ে ঢালছে । আমরাও কি পারিনা এরকম কিছু করতে। তবে আমাদের মতো গরীব দেশের কথা চিন্তা করে আমরা ঝুড়ির বদলে মুড়ি চ্যালেঞ্জ পালন করতে পারিনা? শুরু হবে এভাবে, আপনি সকাল উঠে এক ঝুড়ি মুড়ি খাবেন। তারপর দশ ঝুড়ি মুড়ি নিয়ে বাসা থেকে বের হবেন। রাস্তায় গরীব যাকেই দেখবেন তাকে গিয়ে বলবেন, মুড়ি খা। খেতে না চাইলে জোর করে হলেও তাকে মুড়ি খাওয়াবেন। তারপর ফেসবুকে মুড়ির ছবি আপলোড করে একশ জনকে ট্যাগ করবেন। এভাবে করতে করতে আমরাও কি পারিনা দেশের মুড়ি সমস্যার সমাধান করে মুড়িতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে। আজ থেকে দশ বছর পরে হয়তো আমাদের দেশকে দেখিয়ে সবাই বলবে, এইদেশের নাম বাংলাদেশ, এই দেশের সবাই মুড়ি খায়।

স্ট্যাটাস গঠন প্রক্রিয়া ৩ - Hold Hold ..Now পদ্ধতি
ব্রেভহার্ট দেখেছেন? অথবা এরকম যেকোনো যুদ্ধের সিনেমা? এসব ছবিতে প্রায়শই একটা দৃশ্য থাকে। শত্রুপক্ষ লাখেলাখে ঝাকেঝাকে। নায়কপক্ষ সবে গোটা কয়েক। সেনাপতি ঘোড়ায় চড়ে সবাইকে কাতার সোজা করে দাঁড়ানোর জন্য হুঙ্কার দেন। তারপর তিনি 'আইজকা মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী' টাইপ ছোটোখাটো বক্তব্য রাখেন। উল্টোদিক থেকে ভয়ঙ্কর যুদ্ধসাজে সজ্জিত হয়ে তেড়ে আসে শত্রু পক্ষ। নায়ক তার যোদ্ধাদের বলেন, তাড়াহুড়া করিস না, ষ্টীল হয়া খাড়ায়া থাক, হোল্ড! শত্রুপক্ষ ১০০ ফুট দূরে, সেনাপতি আবার হুঙ্কার দেয়, হোল্ড। মাত্র ৫০ ফুট দূরে, সেনাপতি আবার হুঙ্কার দেয় খাড়া ছে, হোল্ড! ২০ ফুট, তাও সেনাপতি বলে, নড়িস না কইলাম, হোল্ড। মাত্র দশ ফুট দূরে থাকা অবস্থায় বলে, Now । আর সাথে সাথে তার যোদ্ধারা গুপন অস্ত্র বের করে নিমিষে লাখে লাখে সৈন্যকে কাতারে কাতারে চিৎপটাং করে ফেলে। এই হচ্ছে Hold Hold .. Now পদ্ধতি।

এক সপ্তাহে তিন তিনটা রাজাকারের ফাঁসির রায়ের পর আজকে যখন আপনার পরনের অন্তর্বাস টুকুও খুলে নেয়া হয়েছে তখন কি দিয়ে কিভাবে ত্যানা পেঁচাবেন? আজকে জাতির এই ক্রান্তিকালে সিল্কের ত্যানা, মসলিন ত্যানা কোনটাই কাজে আসবে না। আজকে প্রয়োজন আপনার ডাক ছেড়ে কাঁদার, চিৎকার করে অভিশাপ দেয়ার। কিন্তু তারপরেও গ্রামার ভুলে কান্নাকাটি করা যাবে না।

ত্যানা কান্না কাঁদুন ত্যানার গ্রামার সহ। শুরুতেই লেজ বের করলে পাবলিকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিবে আপনাকে। তাই গ্রামার অনুসরণ করে ন্যাজখানা প্যান্টালুনের ভেতর হোল্ড করুন। একেবারে শেষ মুহূর্তে বের করুন।
দেখে নিন একটি আদর্শ Hold Hold .. Now পদ্ধতির উদাহরণ। একেবারে জীবন থেকে নেয়া (আমার জীবন না, জনৈক অজের জীবন থেকে)...

পৃথিবীর যেকোনো কিছুকে যাচাইয়ের জন্য একটা একক প্রয়োজন। যেমন আপনি একটা টেবিলকে যাচাই করতে যাচ্ছেন। আপনি টেবিলের রঙ দেখবেন, ডিজাইন দেখবেন, আকার দেখবেন, সেটা আপনার রুমে আটবে কিনা সেটা দেখবেন।
(কি নিয়ে কথা হতে যাচ্ছে, জানার দরকারও নেই। Hold ....)

যখন আপনি এক ধরণের টেবিলের বদলে দুটো আলাদা রকমের টেবিলকে একসাথে নিয়ে তুলনা করতে যাচ্ছেন তখন পরিমাপের একক আলাদা হবে। একটা টেবিল যদি পড়ার টেবিল হয়, আর অন্যটা খাবার টেবিল তখন রঙ, ডিজাইন বা আকৃতি দিয়ে তাদের মধ্যে তুলনা করা সম্ভব নয়। দুটো টেবিলের কাজ দুইরকম। কাজেই বিবেচনার প্রেক্ষাপটও দুইরকম। এখন এই দুই আলাদা প্রেক্ষাপটকে জোর করে এক বানাতে গেলে কখনোই সেটা সঠিক হতে পারে না।
( হোয়াট দ্যা ... আরেকটু ধৈর্য ধরুন ... Hold ....)

একাত্তর সালে জামায়াতের ভূমিকাকে কোন সাধারণ মুসলিম বাংলাদেশী কোনভাবেই সমর্থন করে না। সেই সাথে সেই অসমর্থনের সীমা কোথায় কতটুকু, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। ভুল ও সঠিকের মাঝে সবসময় স্পষ্ট রেখা টানা থাকেনা, অনেক সময়েই ধুসর একটা অংশ থেকে যায়। তাই কি ভুল আর কি শুদ্ধ সেটা এক কথায় সীমা না টেনে সে সকল নিয়ে আলোচনা ও তর্ক বিতর্কের প্রয়োজন রয়েছে।
(পিকচার আস্তে আস্তে পরিস্কার হচ্ছে ... Hold .... আর মাত্র দশ ফুট দূরে)

কিন্তু আজ যখন জামায়েত নেতা কামরুজ্জামানকে রাজনৈতিক ভাবে হয়রানীর মাধ্যমে এবং ...

( হে হে হে হে, লাইনে এসে গেছে, Now ..... )

এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিচারের নামে প্রহসন করে সুস্পষ্ট ভাবে হত্যা করা হচ্ছে, তখন তার রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রেক্ষাপটের চেয়ে আদর্শিক পরিচয়ের প্রেক্ষাপট বেশী গুরুত্বপূর্ণ। একাত্তরের অন্যায়ের বিচার হওয়া প্রয়োজন এই ব্যাপারে সন্দেহ নেই। কিন্তু একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্বার্থপূরণ ও কিছু নাস্তিক উন্মাদ শাহবাগির আস্ফালনের ফলাফল আজকের এই প্রহসনের ট্রাইব্যুনাল ... আইন-আদালত-রাষ্ট্র-মিডিয়া-উন্মাদ জনগন ... ধ্বংসের কবলে আজ দেশ ... ইত্যাদি ইত্যাদি।

কি বুঝলেন? শুরু টেবিল নিয়ে আর শেষে এসে হল দেশ ধ্বংস। এই হচ্ছে Hold Hold Hold .. Now পদ্ধতির শক্তি। আসল পিনপিনে আলাপের আগে যথোপযুক্ত দর্শন, সমাজ, রাষ্ট্র ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে কঠিন কঠিন কথা বলে পথ পরিস্কার করতে হবে। এত কথা না বলে যদি বলতেন, চাচা কামরুজ্জামানকে মেরে ফেললো রে, কে আছ বাঁচাও। তখন কি আর পেতেন কোন লাইক, শেয়ার আর ভক্তকুল?

সেলেব্রিটির দাঁত

সেলেব্রিটি হিসেবে বড় কোন ঘটনা ঘটলে ফট করে হা করে ফেললে আপনার দাঁত বের হয়ে যাবে। ভালো হতো যদি মুখ বন্ধ রাখা যেত। কিন্তু সেটা সম্ভব না। সেলেব্রিটি হতে গেলে মুখ খুলতেই হবে, তাই পাবলিকে দাঁতও দেখে ফেলবে। সেলেব্রিটির দাঁত হয় তিন রকম -
গজ দাঁত
আক্কেল দাঁত
ফোকলা দাঁত

গজ দাঁত
পিনপিনে মধ্যবিত্তের বন্ধু টাইপ সেলেব্রিটি হলে গজ দাঁত চলবে না। আপনি যদি একটু মারদাঙ্গা গ্যাংস্টার টাইপ সেলেব্রিটি হন তবে গজদন্তে লাইক ফলোয়ার বাড়বে। একেবারে গজ দাঁত বের করে ইস্যুতে শক্ত কামড় দিতে হবে। গজদাঁতে গালি থাকবে, হুমকি থাকবে, আত্মবিশ্বাস থাকবে। অনেকটা এইরকম -
রাজাকার, রাজাকার, কিসের রাজাকার? ৭১ এর রাজাকাররা দেশের জন্য যত না ক্ষতিকারক তার চেয়ে হাজার গুণ ক্ষতিকারক ও ভয়ংকর এই যুগের নব্য বাকশালি জানোয়ার রাজাকাররা। ৭১ এর গণহত্যা আমরা নিজ চোখে দেখি নাই। তার কতটুকু সত্য কতটুকু ভারতের চক্রান্তে বানানো সেটা জানিনা। কিন্তু পাঁচই মে এর হেফাজত গণহত্যা আমরা নিজ চোখে দেখেছি। পোকা মাকড় আর পাখির মতো মানুষ মরতে দেখেছি। আর এইসব শুয়োরের বাচ্চারা আজকে যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে প্রহসন করে। যেই যুদ্ধ চল্লিশ বছর আগে শেষ হয়ে গেছে সেটা নিয়ে চেতনার ব্যবসায়ীরা ... ইত্যাদি ইত্যাদি।

আক্কেল দাঁত
মরে গেছে গোলাম আযম, দুঃখে বুকটা ফেটে যাচ্ছে আপনার। কিন্তু খোলসা করে কিছু বলার উপায় নেই। কারণ আপনি একজন বুদ্ধিমান সেলেব্রিটি। আক্কেল দাঁত বুদ্ধিমান সুশীল সেলেব্রিটির দাঁত। আক্কেল দাঁতের অধিকারীরা ত্যানা প্যাঁচানোতে ওস্তাদের চেয়েও বড় ওস্তাদ। তাই এই রেসিপি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে ' এসো নিজে করি - কিভাবে ত্যানা প্যাঁচাবেন' পড়ুন। তিন আঙ্গুলের এক চিমটি 'কিন্তু', একমুঠ 'এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই' এবং আধাসের গণতন্ত্র-বাক স্বাধীনতা-ফেলানি-বিশ্বজিৎ মিলিয়ে আক্কেল দাঁতের রেসিপি পাকাতে হবে। এইভাবে -
গোলাম আযম যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন। ১৯৭১ এ তার ভূমিকা অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই। অপরাধীকে তার অপরাধের জন্য শাস্তি পেতে হয় এটাই জগতের নিয়ম। কিন্তু সেই সাথে এও সত্য এক অপরাধের বিচার করতে গিয়ে আরেক অপরাধ করে বসলে তাতে শুধু নতুন নতুন অপরাধের সৃষ্টি হয়, শান্তি প্রতিষ্ঠা হয় না। গোলাম আযম যা করেছে তা সঠিক নয় এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু স্বাধীনতার পর চল্লিশ বছর ধরে এই দেশে যা হয়েছে তাই বা কতটুকু সঠিক। আমরা কি আসলেই আজ স্বাধীন? যেই দেশে ভিন্ন মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই, যেই দেশে গণতন্ত্র নেই,
যেই দেশে এখনও ফেলানিদের লাশ কাঁটাতারে ঝুলে থাকে, যেই দেশে এখনও বিশ্বজিৎ এর খুনিরা মুক্তির নিশ্বাস নেয়, যেই দেশে এখনও সাগর রুনি হত্যাকারীদের ... ...

ফোকলা দাঁত
এটা একেবারে সবচেয়ে নিরাপদ ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি। জনপ্রিয় সেলেব্রিটিদের ফট করে কোন পক্ষ নিতে হয় না। আমি নিজে একজন পাঁতি সেলেব্রিটি। ফট করে পক্ষ নিয়ে নেওয়া আর বেফাঁস রসিকতা করার মতো সামান্য কিছু ভুলের জন্য বড় সেলেব্রিটি হবার সম্ভাবনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করেছি। তাই উঠতি সেলেব্রিটিরা যেন ফট করে পক্ষ নেয়ার মতো ভুল না করে সেজন্য টিপস দিয়ে রাখি। যাই হোক, টেকনিক হচ্ছে গরম সময়ে গরম ইস্যু নিয়ে কথা না বলে অন্য কিছু বলা। মরে গেছে গোলাম আযম বা ফাঁসি হয়েছে নিজামীর আর আপনি কথা বলবেন ফুল পাখি নদী বা চানাচুর নিয়ে। অনেকটা এরকম -
গতকাল আমি চানাচুর খাইতেছিলাম। আচমকা দেখলাম একজন মানুষ ড্রেনে পড়ে গেল। দেখে আমার মনটা ব্যথায় ভরে গেল। আমি চানাচুর খাইতেছিলাম বলে তাকে সাহায্য করতে পারলাম না। কিন্তু তাকিয়ে দেখলাম কেউ এগিয়ে আসছে না। আমরাও কি পারিনা একজনের বিপদে আরেকজন এগিয়ে আসতে? কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামনে এগিয়ে যেত। সবাইকে দেখিয়ে দিতে, চাইলেই আমরা পারি। শুধু দরকার একটু খানি চাওয়া, তাহলেই হয়ে যাবে সব কিছু পাওয়া।

বক্তব্যে চানাচুর আছে, মানবতা আছে, দেশ আছে, আর কি লাগে? মাঝখানের একটা দাঁত যে মিসিং সেটা আম জনতা ধরতেই পারবে না। ধরতে পারলেও সমস্যা নেই। কোন কিছু করার জন্য মানুষকে দায়ী করা হয়, না করার জন্য হয়না সাধারণত। আমাদের দেশের অনেক জনপ্রিয় লেখকেরাই ফোকলা দাঁত ছিলেন। সবার কাছে জনপ্রিয়তার পাবার রহস্যটাও সেটি।

দাঁত গজ হোক, আক্কেল হোক বা ফোকলাই হোক নিজামীর ফাঁসির রায়ের পর বা ভাসা সৈনিকের মৃত্যুর পর সব দাঁতের ব্যাকগ্রাউন্ডেই একটা করুন সুর বাজে। একটু কান পেতে শুনলেই ধরা যায় ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক - near far wherever you are, My heart will go oooooooooon ... টিরি রি রিরি রি ... come back .. come back )

আমার আমি
আমি দিয়ে শুরু করেছিলাম, আমি দিয়েই ফেসবুক সেলেব্রিটির ইতি টানি। একখানা মহান ছোটগল্প লিখেছিলাম একজন ফেসবুক সেলেব্রিটির জন্ম ও মৃত্যু নিয়ে। সেলেব্রিটি হতে চাইলে চট করে সেই গল্পখানা পড়ে নিন।
পুলা জন্মায়েই বলল, লেট দেয়ার বি লাইট।
শুনে এডিসন সাহেব তড়িঘড়ি বিদ্যুৎ আবিষ্কার করে বাত্তি জ্বালিয়ে দিলেন।
পুলা কথা শিখেই বলল, আমি
বাবা বলেন, বলো সোনা আব্বু
পুলা বলে, আমি
মা বলেন, বলো পাখি আম্মু
পুলা বলে, আমি
কাণ্ড দেখে রবিবাবু তড়িঘড়ি কবিতা লিখলেন।
আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ, চুনি উঠল রাঙা হয়ে। আমি চোখ মেললুম আকাশে, জ্বলে উঠল আলো, পুবে পশ্চিমে। গোলাপের দিকে চেয়ে বললুম 'সুন্দর', সুন্দর হল সে।
বলাবাহুল্য, পুলা বলার আগে গোলাপ দেখতে ঢোল কলমির ফুলের মতো ছিল।
পুলা টিন এজে প্রেমে পড়ল। প্রেমিকা বলে, ওগো আমার চোখে চোখ রেখে বলো তুমি তুমি শুধু তুমি।
পুলা নিজের ডান চোখ নিজের বাম চোখে রেখে বলে (এটা কি করে সম্ভব জিগ্যেস করে লেখককে বিব্রত করবেন না ), আমি আমি শুধু আমি।
প্রেমিকা রাগ করে চলে যায়। পুলা আপন মনে গুনগুন করে গান ধরে,
আমি না থাকলে সকালটা এতো মিষ্টি হতো না আমি না থাকলে মেঘ করে যেত বৃষ্টি হতো না।
পুলার গোঁপ উঠিতেই হাঁক দেয়,আমার মুখ, আহা এই আমার মুখ।
জুকারবার্গ তড়িঘড়ি ফেসবুক বানিয়ে দেন।
পুলা ঘুম থেকে উঠেই আপডেট দেয়, আমি উঠিলাম।
লাইকে লাইকে ভক্তরা ভাসিয়ে দেয়। সবাই সমস্বরে বলে, হুজুর উত্থিত হইয়াছেন। উনিই প্রথম। দুনিয়াতে উনার আগে আর কেউ কখনো উঠে নাই, উঠিলেও তারা সঙ্গে সঙ্গে আবার নামিয়া গিয়াছেন। হুজুর একবার উঠিলে আর নামেন না, ইত্যাদি ইত্যাদি।
পুলা ভাত খেয়ে আপডেট মারে , আমি খাইলাম
ভক্তকুল জপ করে,
হুজুর খান খানা
আমরা সবাই কানা
গাই শুধু হুজুরের গানা।
অধিক আহারে খানিক অসুস্থ হয়ে পুলা বদবায়ু ত্যাগ করেও ফেসবুকে স্ট্যাটাস মারে,
খাওয়া আজ বেশী হইয়াছে। পেট গরম।
সেকেন্ডে এক সহস্র শেয়ার আর দুই সহস্র লাইক পড়ে।
ভক্তকুল জপ করে,
আহা বহে হুজুরের বায়ু
আহা বাড়ে আমাদেরই আয়ু।
নদীও শুকায়ে যায়, হিমবাহ গলে যায়, মন্ত্রীরা জেলে যায়, টুথপেস্টের ভরা টিউবও একসময়য় খালি হয়ে যায়। প্রকৃতির নিয়মে পুলাও একদিন 'আমি মরিলাম, আমি মরিলাম' বলতে বলতে দেহত্যাগ করে।
টিভিতে খবর হয়, আমি নাই। পেপারে নিউজ হয়, আমি গত হইয়াছেন। মৃত্যুকালে তিনি লক্ষ অধিক ফলোয়ার আর কুটি অধিক লাইক রাখিয়া গিয়াছেন।
পরকালে ঈশ্বরের চ্যালারা পুলাকে কান ধরে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে ঈশ্বরের পদতলে ফেলে বলিলেন, বস এই ফাজিল ব্যাটা খালি আমি আমি করে। উঠতে আমি, বসতে আমি, শুইতে আমি। নিজেরে ছাড়া আর কিছুই বুঝে না। খালি চায় দিনরাত সবাই তার জপ করুক।
ঈশ্বর পুলার দিকে চেয়ে বত্রিশ বা ততোধিক দাঁত বের করে দুই বা ততোধিক বাহু প্রসার করে বলেন,
- ওরেএএএএ, বুকে আয় বাবুল।

শেষকথা

সব এসো নিজে করির লেজে এসে জ্ঞানী জ্ঞানী কথা বলা অভ্যাস হয়ে গেছে। বলতেই পারি। আমি নিজে যেহেতু সেলেব্রিটি হবার রাস্তাতেই হাঁটছি, একটু আধটু জ্ঞান তো বিলাতেই পারি। আমার কেন জানি মনে হয়, এই দুনিয়াতে তেমন কোন বীরও নাই, কোন পীরও না। দুনিয়া ভর্তি ভণ্ড লোকজনের সংখ্যাই বেশী। সেই ভণ্ডদের মধ্য থেকে মাঝে মাঝে পীর আর বীরেরা বেরিয়ে আসে। চার ছক্কা পিটিয়ে ইনিংস শুরু করে। আমরা তাদের কথা শুনে মুগ্ধ হই, তাদের বক্তব্যে তালি দিতে দিতে একসময় আমরা বুঝি এই লোক উল্টাপাল্টা শট খেলছে। ফুট ওয়ার্ক নেই, থেকে থেকে ধৈর্য হারিয়ে ফেলছে। একসময় দেখা যায় তিনি চোখ বন্ধ করে যেই বল পাচ্ছেন সেটাই উড়িয়ে বাউন্ডারির দিকে মারতে চাচ্ছেন। আমরা হতাশ হয়ে তাকে আউটের খাতায় ফেলে দেই। ফেসবুক সেলেব্রিটিদের বেশিরভাগই কমবেশি ভণ্ড। কেউ লেখাচোর, কেউ একটু লম্পট, কেউ আত্ম-অহমিকায় অন্ধ, কেউবা দুইটা লাইকের নেশায় উন্মাদ প্রায়। কিন্তু অন্যভাবে আবার চিন্তা করলে এই দুনিয়াতে কোন ১০০% মানুষ নাই, সব ৫০%, বড়জোর কেউ কেউ ৭০%। এই সেলেব্রিটিদের মাঝে কেউকেউ আছে হয়তো যাদের ৬০% বা ৭০% খাঁটি অংশ, বাকিটুকু ভেজাল। এদের অনেক কথায়, অনেক চিন্তাভাবনায়, অনেক উদ্যোগে মুগ্ধ হই। আবার অনেক ভুল কাজে বিরক্ত হয়ে পিছনে সরে আসি। বুঝতে পারি এদের অনেকের অনেক কথা ও কাজে চমৎকৃত হলেও এদের পীর বানানোর প্রয়োজন নেই। এরাও আর সবার মতই সাধারণ মানুষ। খানিকটা ভণ্ড, খানিকটা জনপ্রিয়তার মোহে আচ্ছন্ন, খানিকটা অসৎ। সেইসাথে এদের অনেকেই আবার মানুষের জন্য খানিকটা নতুন করে চিন্তা করে, নতুন কিছু করতে চায়। একেবারে মন্দ কি?

ফেসবুক সেলেব্রিটির কাজ কি? জ্ঞানের কথা বলা, আদেশ, উপদেশ, নির্দেশ দেয়া।
ফেসবুক সেলেব্রিটিদের প্রাপ্তি কি? ভক্তদের লাইক, শেয়ার আর গুণগান।
মাথা চুলকে মনে হল একই দায়িত্ব তো আবহমান কাল থেকে ঈশ্বরও পালন করে আসছেন। ভক্তদের লাইক, শেয়ার আর গুণগান তার প্রাপ্তি। প্রাপ্তি বুঝে নেবার জন্য তিনি কঠোর কঠোর নির্দেশ জারি করেন। প্রাপ্তি বুঝে পেলে ভক্তদের নানা পুরস্কারের লোভ দেখান, বুঝে না পেলে ভয়ঙ্কর সব আজাবের ভয় দেখান ... তবে কি ঈশ্বরও একজন ... হা খোদা, যাইগে, মাথায় পানি ঢালি বরং...

মেঘলা মানুষ এর ছবি

সেরকম মন্তব্য! গুরু গুরু

ধ্রুব আলম এর ছবি

গুল্লি গুরু গুরু

অতিথি লেখক এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

দেবদ্যুতি

এক লহমা এর ছবি

চরম! দেঁতো হাসি

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

সাফি এর ছবি

এইটা কি দিলেন বস! পুরা সেই লেভেলের হইসে। একটা ব্লগ লেখে আরেকটা ফ্রি পাইলাম দেঁতো হাসি

ফাহমিদুল হান্নান রূপক  এর ছবি

হা হা হা। এইটা কি লিখসেন ভাই। পুরাই উরাধুরা। গুল্লি

ফাহমিদুল হান্নান রূপক

সাফি এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

সজল এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি বেসট হইছে স্বকামের মধ্যে লৌক্কায়িত পৌজিবাদি প্রকল্পের স্বরৌপ উন্মৌচন টা।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

চরম উদাস এর ছবি

ভাবৌতেছি এখৌন থৌকে সৌবকিছু ওউকার যৌগে লিখবৌ দেঁতো হাসি

সজল এর ছবি

বউ যেমন চারটার বেশি হওয়া সেইফ না, তেমনি ঔ-কারের বেশি ব্যবহারও কাম্য না। বুঝলেন চ্রৌম ঔদাস?

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

সাফি এর ছবি

পৌজিবাদকে না বলুন।

তারেক অণু এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি দেঁতো হাসি
হেব্বি লাইড়েছ মামুর বুটা!!!! লিয়ে লিয়েছ পুরাই, পাসতেই পারে নে খো !

সাফি এর ছবি

দেঁতো হাসি ছল বন্দু গুরে আসি।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি
আমি জীবিত বা মৃত কোন সেলেবেটির সাথে মিল পাই নাই। তবে এই পোস্টের অন্তত একটা অংশ আমার লেখার ইচ্ছা ছিল, আপনি সেটা লিখে ফেলছেন বলে বেঁচে গেলাম। য়ামিয়ামিয়ামি নিয়া বিরাট যন্ত্রণায় আছি দেঁতো হাসি

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

সাফি এর ছবি

মিল খুঁজলেই মিল। য়ামিয়ামিয়ামি এখন বিরাট কেষ্টু বিষ্টু, তাকে সম্মান দিয়া কথা বলুন।

সাইদ এর ছবি

এইদেশের নাম বাংলাদেশ, এই দেশের সবাই মুড়ি খায়

গড়াগড়ি দিয়া হাসি
ছেলেবেটিদের মুরীদদেরকে এই লাইনটা উৎসর্গ করলাম

সাফি এর ছবি

চৌদা একখান বিরাট ভচ, পরের পর্বে ওনারে ধরতে হবে।

সুমিমা ইয়াসমিন এর ছবি

দুনিয়াটা অনভিপ্রেত কাকতালময়। হো হো হো
দারুণ হয়েছে প্রতিটা কাক ও তাল!

সাফি এর ছবি

তাল পাকলে কাকের কী?

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

হাসি দেঁতো হাসি হো হো হো গড়াগড়ি দিয়া হাসি হাততালি পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

ছেলেবেটিদের ফিডব্যাক কি?

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

দিগন্ত চৌধুরী এর ছবি

এসে গেছে গ্রমাগ্রম---

_______________

মূর্খ থাকি, সামাজিক নয়।

স্পর্শ এর ছবি

অভাজনটির নাম জানতে মঞ্চায়!


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

মেঘলা মানুষ এর ছবি

স্ট্যাটাসের মালিককে খোঁজার জন্য আপনার ছবি থেকে বাংলায় টাইপ করে ফেসবুকে সার্চাইলাম। তারপর, গুগলে সার্চাইলাম। খুঁজে পাচ্ছি না। মন খারাপ

দিগন্ত চৌধুরী এর ছবি

যা দেখছি এই "আমি কত ভচ" পোস্টখানি মুছে দিয়েছেন তার ফেবু হইতে।

_______________

মূর্খ থাকি, সামাজিক নয়।

সাফি এর ছবি

মনটা খ্রাপ হয়ে গেলো।

ধ্রুব আলম এর ছবি

কে এইটা? চিন্তিত

দিগন্ত চৌধুরী এর ছবি

ভচের লেভেলই আলাদা!

_______________

মূর্খ থাকি, সামাজিক নয়।

স্পর্শ এর ছবি

আপনার লিঙ্ক থেকে তার প্রোফাইল ঘুরে এলাম। মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তচিন্তার ব্যাপারে তার অবস্থান সুস্পষ্ট এবং আপোষহীন মনে হলো।

মাঝে মধ্যে বক্তব্য প্রকাশে যে কাঁচা ভাবটা প্রকাশিত হয় সেটা সম্ভবত অল্পবয়সের কারণে। সময়ে শুধরে উঠবে আশা করা যায়।

এভাবে ডেমনাইজ করাটা তাই ভালো লাগছে না।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সাফি এর ছবি

স্পর্শ, আমার মনে হয় এখানে ডেমনাইজ করা হয়নাই। আসলে এই পার্টিকুলার ব্লগের সুরটাই একটু পচানির, তাই মন্তব্য কিছুটা সেদিকে যাচ্ছে। আমি নিজে অবশ্যই ব্যাক্তির পরিচয় এই ব্লগের সাথে দিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতি নই, এবং দিগন্তকে অনুরোধ করবো সে যেন প্রোফাইলের লিঙ্ক খানা সম্পাদনা করে সরিয়ে দেয়।

দিগন্ত চৌধুরী এর ছবি

আমি এডিট করতে পারছি না মন্তব্য(অতিথিরা কি পারেন না?)। মডুরা যদি সরিয়ে নেন ভালো হয়।

_______________

মূর্খ থাকি, সামাজিক নয়।

সাফি এর ছবি

ধন্যবাদ দিগন্ত, মডুরা ঠিক করে দিয়েছে।

সাফি এর ছবি

ভচ আমাকে ভালবাসা জানাইছিলো, আমাদের জন্য দুআ করবেন।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

লইজ্জা লাগে ভালবাসা হইল শরমের ব্যাপার, তয় এইডার দরকার আছে! চোখ টিপি

( তথ্যসূত্র- ক্যাডায় জানি কইছিল ভুইলা গেছি, চৌদা মৌনে হৌয় )

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

বহুব্রীহি নাটকে কাদের

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

সিদ্ধার্থ মাঝি  এর ছবি

১ম পর্বের আমেজ ফুরিয়ে যাওয়ার আগে ২য় পর্ব চাই । সিরাম লাগছে। ছেলেবেটিদের বাঁশ দেয়ার জন্য আলাদা ইমকটিন দরকার হয়ে পড়েছে। রাজাকারের বিচার প্রশ্নে মাঝামাঝি অবস্থান নেয়া ছেলেবেটিদের পোস্টের ধরণটা বাদ গেছে।

অতিথি লেখক এর ছবি

রাজাকারের বিচার প্রশ্নে মাঝামাঝি অবস্থান নেয়া ছেলেবেটিদের পোস্টের ধরণটা বাদ গেছে।

হ। বিষয়টি হয়তো ২য় পর্বে থাকতে পারে।

সাফি এর ছবি

ও মাঝি দুই একটা ওরকম ছেলেবেটির উদাহরণ দেন দিকিনি, ২পর্বে পাবেন জেমস ভন্ডাইল, আনিয়েলা হর্কেজ এবং আরো অনেকে.....

তিথীডোর এর ছবি

একজনকে শুরুতেই চিনেছিলাম। মন্তব্যে স্ক্রিনশট দেখার পর থেকে আর সন্দেহ রইলো না। দেঁতো হাসি

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

সাফি এর ছবি

তিনি কি ভচ?

শেহাব এর ছবি

এই ভচটা কে?

তিথীডোর এর ছবি

আছেন তিনি একজনা,
নামটি ধরুন রঞ্জনা..
ফেসবুকে খুব চনমনা
ভচ তো বটেই, মন্দ না।
বয়স কম-ই, সান্ত্বনা
সবাই সেটা জানতো না।
এমন গুণের আধার তিনি,
লিস্টি যদি লিখতে বসি
আমি তো ছার,
ছন্দাহত-ও পারতো না। হাসি

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নেয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল! চাল্লু

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

কাচ্চি রসিক এর ছবি

জয় গুরু!

সাফি এর ছবি

হ জয় গুরু। দেঁতো হাসি

বাদুর পাগল এর ছবি

বাহাহাহাহাহা

ব্যাপুক মজা পাইসি !! হো হো হো

এখন তো মনে হয় আমাদের দেশের নয়া ট্রেন্ড ফেবু ছেলেবেটি হওয়া !! ফ্রেন্ডলিস্টের অনেক বড়ভাই, বন্ধু এবং ছোটভাই বেশ কমাস ধরে খুব চেষ্টা করে যাচ্ছেন দেখলাম ।। ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং । খাইছে

সাফি এর ছবি

আমিও চেষ্টা চালাইতেছি, দুয়া রাখবেন।

কল্যাণ এর ছবি

সাত মাস ধরে এই বোম বানাচ্ছিলেন তাইলে! জবের ব্যাপার! মিজান, পিষে ফ্যালো গুরু গুরু

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

সাফি এর ছবি

আগের ব্লগ কি সাত মাস আগে লেখা নাকি? নাহ এইটা দুইদিন আগে নাযিল হৈসে।

কল্যাণ এর ছবি

সে আর বলতে! এর আগে ২০১৪'র পয়লা ডিসেম্বর নতুন বোতলে পুরাতন মদ পরিবেশন কর্ছিলেন চোখ টিপি

২য় পর্ব কো পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

এক লহমা এর ছবি

ফেসবুকে ঘোরাঘুরি না করার কারণে কাল্পনিক চরিত্রগুলির বাস্তবিক মিলগুলিরে চিনি না। তাতে অবশ্য লেখার উপভোগ্যতায় কোনও ঘাটতি পড়েনি। পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

সাফি এর ছবি

আসিবে শীঘ্র্যই ঢাকা সহ সারা দেশে।

অতিথি লেখক এর ছবি

কমেন্টে চউদার একটা আস্ত লেখা, বৌনাস বৌনাস দেঁতো হাসি

Emerald

সাফি এর ছবি

এক টিকিটে দুই ছবির মতন, এক পোস্টে দুই বোলোগ।

সবজান্তা এর ছবি

সেলিব্রিটিদের জন্য মর্য্যাদাবন্ধন করা হৌক

সাফি এর ছবি

আমি আছি গিন্নি আছেন, আছেন আমার এক মেয়ে, আরো দুইজন দরকার মর্য্যাদা বন্ধন করতে।

প্রোফেসর হিজিবিজবিজ এর ছবি

আহা! ছেলেবেটিদের গরমাগরম মন্তব্য সহ চরম ব্লগ পাওয়া যাবে না?

____________________________

ঈয়াসীন এর ছবি

জম্পেশ চলুক

------------------------------------------------------------------
মাভৈ, রাতের আঁধার গভীর যত ভোর ততই সন্নিকটে জেনো।

রানা মেহের এর ছবি

এইসব আইডিয়া কোথথেকে পান আপনারা? দেঁতো হাসি

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আইডিয়া তো ছেলেবেটিরা ফ্রি-তে বিলায়, সাফি ভাই খালি একখানে করছে। দেঁতো হাসি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

দুষ্ট বালিকা এর ছবি

ভাইরে ভাই! কি একখান লেখা! মিজান, পিষে ফ্যালো গুরু গুরু

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

অতিথি লেখক এর ছবি

অসাধারণ! একদম বাস্তব।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।