পুনর্জন্মের পর

স্পর্শ এর ছবি
লিখেছেন স্পর্শ (তারিখ: শনি, ১১/০৪/২০১৫ - ৯:৪৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমি যখন লিখতে শুরু করি। কতই বা বয়স হবে। সদ্য কুড়ি পেরিয়েছে হয়তো। ভয়ে ভয়ে মনের জানালা একটু খানি খুলি। ফুল পাখি লতাপাতা পিঁপড়া যা কিছু আসে মনে তাই নিয়েই লিখে ফেলি কয়েক লাইন। ব্লগে পোস্ট করার পর অপেক্ষার পালা।… কেউ যদি মন্তব্য করে কোনো। কোনো কোনো দিন সারাদিনেও কেউ কিছু বলে না। ব্লগে তখন অনেক সিরিয়াস লেখকরাও আছেন। দেশ-রাজনীতি নিয়ে তুখোড় প্রবন্ধে ঝড় তুলছেন। সে সব পাতায় ঢুকলেও বেশিক্ষণ থাকা হয় না। আমি ফিরে আসি আমার পিঁপড়েদের চিনিখাওয়ানোর গল্পের কাছে। ব্লগে কিছু মানুষ খুব রাগী। কিছু মানুষ শুধুশুধুই বাজে কথা বলে। মাইনাস দেয়। আমার মনে হয় ওরা আমার লেখায় না আসুক।... এসবের মাঝেই এক কোনায় আমার একটুখানি লেখালিখিঘর।

ঐ সময়টা ছিলো এক ধরনের এক্সটেন্ডেড শৈশবের মত। কত নতুন বন্ধু হয়েছে! কী অবলীলায় মনের গভীর কথাটা লিখে ফেলেছি তাদের সামনে। কেউ দুদিন আমার ব্লগ কুঠিতে না আসলে অভিমান করেছি। অনুযোগ করেছি তাদের লেখায় গিয়ে। একেকটা মন্তব্য পেলেই খুশিতে চনমন। না, তখনো লেখালিখি করে সব কিছু বদলে ফেলার পণ করিনি। টং দোকানে চায়ের আড্ডায় কোনো বন্ধুর কাঁধে হাত রেখে অজানা জড়তায় যে কথাটা কখনো বলতে পারিনি। ব্লগে নাম না জানা বন্ধুদের কাছে বলেছি অনায়াসে।

সেই সময় ব্লগে যারা এসেছিলো তারা ছিলো অন্য শ্রেণীর মানুষ। আর্লি এডপ্টার। একদম অচেনা একটা টেকনোলজিকে আপন করে নিতে পারার ক্ষমতা সবার মধ্যে সহজাত না। সম্ভবত এ কারণেই তখনকার অনেকের সাথে এত অন্তঃমিল খুঁজে পেয়েছি। ফুল, পাখি, লতাপাতা নিয়ে লিখেছি যা খুশি। এখন ব্লগের যে চেহারা, তাতে ঐ সময়ের আমি এখন ব্লগে আসলে লেখালিখি শুরুই করতে পারতাম না। ফুল পাখিরা এখন নির্বাসনে। নানান সংগ্রামে লড়তে লড়তে আমরা ভুলতেই বসেছি যে, ‘মন যা চাই লিখতে পারি’র অধিকার নিশ্চিত করতেই এত লড়াই।

সময়টা কখন যে বদলে গেছে। এখন আর আমাদের বুক পকেটে জোনাক পোকা নেই। এতদিন এত হাসি খেলা হলো যাদের সাথে, তাদেরই কারো কারো পকেটে রাও ফরমান আলীর ডায়েরি। সেখানে তারা নতুন নতুন নাম লেখে। তালিকা বানায়। স্বাধীনতার ঊষালগ্নে যে সুদীর্ঘ্য বুদ্ধিবৃত্তিক রাত্রির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিলো আমাদের, সেই অন্ধকারে আলো হাতে এগিয়ে আসা অভিযাত্রীদের লিস্টি তৈরি হয়। আবারো কি ওরা নিভিয়ে দেবে সব দীপ? হয়তো… হয়তো শিঘ্রই। কিন্তু তার পর?

এইসব নৈরাশ্যের ভীড়ে আজকাল নিজেকে বৃদ্ধ মনে হয়। কোথায় যেন পড়েছিলাম, তরুণ হচ্ছে তারা যারা ‘আনস্পয়েল্ট বাই ট্রাজেডিস’। অবশ্য রবীন্দ্রনাথের মত চিরতরুণ মানুষও হয়। তার জন্য হাজার ব্যক্তিগত আর সামষ্টিক ট্রাজেডিকে তোয়াক্কা না করার শক্তি থাকতে হয়। থাকতে হয় নিজের চিন্তারাজিকে বিকশিত করার নিরলস প্রচেষ্টা। সেই শক্তি কি আছে আমার রক্তে?

ফেসবুক, টুইটার দিয়ে যত সহজে ঘৃণা ছড়ানো যায় তত সহজে কি কিছু নিয়ে ভাবানো যায় কাউকে? নিজের গোষ্ঠিবদ্ধতার বাইরে গিয়ে, যে আমার মত না তাকেও, ভালোবাসতে শেখানো যায় কি? তাই তো ফেসবুকে বাঙালীর এই ক্রমবর্ধমান পাকিপনা! আমরা চিৎকার দেই, লিখে যাও লিখে যাও, থেমোনা। আমরা হুংকার দেই, ‘কলম চলবে’। কিন্তু সেই কলম চালিয়ে আসলে কতটা লিখতে পারছি? যাদের লেখা পড়ে প্রচন্ড মুগ্ধতায় ব্লগযুগে জন্মানোর জন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে হতো। যাদের কথায় গভীর কোনো চিন্তায় মগ্ধ হয়ে যেতাম অহর্নিষ। এখন হয় তাদের কলম স্তব্ধ, অথবা বিক্ষিপ্ত। যেসব অগোছালো টুকরো লেখা বেরোয় তাতে পুনর্জন্মের বীজ বপন হয় না। এতদিন ধরে নিজেকে গড়ে আজ এই হাল?

একটা জিনিস বুঝতে শিখেছি। সবচেয়ে খারাপ ধরনের সেন্সরশিপ হচ্ছে স্বপ্রণোদিত সেন্সরশিপ (self censorship)। কোনো শক্তিশালী গোষ্ঠি বা রাষ্ট্র যখন কোনো জনগোষ্ঠির কন্ঠরোধ করতে চায় তখন সে সরাসরি আইন করে সেনসরশিপ আরোপ করতে পারে। অথবা করতে পারে তারচেয়েও স্মার্ট কিছু। তা হলো সবার অলক্ষ্যে এমন একটা ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করা যেন টার্গেট ইন্টেলেকচুয়ালরা নিজেরাই নিজেদের সংযত করে ফেলে। এতে সংঘাতটা প্রকাশ্য হয় না। মানুষও একটা ছদ্ম স্বাধীনতার ভ্রান্তিতে থাকে।

জ্ঞানের ইতিহাসে প্রতিবারই প্রগতির শুরু হয় স্ফুলিঙ্গের মত। তারপর কিছুকাল ঝড়ের বেগে এগিয়ে চলা। তারপর আবারো হাজার বছরের অন্ধকার শীতনিদ্রা। আলো নেভানো যত সহজ, জ্বালানো অত সহজ নয়। হাজার বছরের অবনত মস্তক তুলে আকাশ দেখাটা আরো কঠিন। তাই সবকিছু আঁধারে মিলিয়ে যাবার আগে লিখুন। না, শুধু দেশরাজনীতি নয়। শুধু অধিকার আদায়ের দাবি নিয়ে নয়। শুধু আলো আর অন্ধকারের লড়াই নিয়ে নয়। লিখুন, ফুল-পাখি-লতা-পাতা নিয়েই। লিখুন পাহাড় নদী আর ধানক্ষেত নিয়ে। লিখুন তুষার শুভ্র অচিন নগরের কথা। লিখুন আটপৌরে দিনের হাসি কান্নার গান। লিখুন নতুন প্রেমের অপটু গল্প। অবাক শিশুর আবোলতাবোল ছড়া…কারণ দীপ নেভানো সহজ হলেও দাবানল নেভানো অত সোজা নয়।

ওরা চায় আমরা ভুলে যাই ঘাসের ঘ্রাণ, বিকেলের মৌতাত, কিংবা মায়ের মুখ। ওরা চায় নিশ্চিহ্ন হই স্বারোপিত নৈঃশব্দে। কিন্তু ওরা জানে না, যতবারই বদ্ধভূমিতে পাঠাবে ততবারই ফিরে আসবো…

"যদিও সন্ধ্যা আসিছে মন্দ মন্থরে,
সব সংগীত গেছে ইঙ্গিতে থামিয়া,
যদিও সঙ্গী নাহি অনন্ত অম্বরে,
যদিও ক্লান্তি আসিছে অঙ্গে নামিয়া,
মহা-আশঙ্কা জপিছে মৌন মন্তরে,
দিক্‌-দিগন্ত অবগুণ্ঠনে ঢাকা---
তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর,
এখনি, অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা।"


মন্তব্য

ওডিন এর ছবি

তাই সবকিছু আঁধারে মিলিয়ে যাবার আগে লিখুন। না, শুধু দেশরাজনীতি নয়। শুধু অধিকার আদায়ের দাবি নিয়ে নয়। শুধু আলো আর অন্ধকারের লড়াই নিয়ে নয়। লিখুন, ফুল-পাখি-লতা-পাতা নিয়েই। লিখুন পাহাড় নদী আর ধানক্ষেত নিয়ে। লিখুন তুষার শুভ্র অচিন নগরের কথা। লিখুন আটপৌরে দিনের হাসি কান্নার গান। লিখুন নতুন প্রেমের অপটু গল্প। অবাক শিশুর আবোলতাবোল ছড়া…কারণ দীপ নেভানো সহজ হলেও দাবানল নেভানো অত সোজা নয়।

এইজন্যেই- ঘ্যাজম্যাজ করে লিখে যেতে হবে মনে মাথায় যা আসে। এক্কেবারে মনের কথাগুলো বলে ফেলার জন্য অনেক ধন্যবাদ স্পর্শ। হাসি

স্পর্শ এর ছবি

আপনার অনেক লেখা ক্বাযা হয়ে রইসে। পোস্টান...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

নজমুল আলবাব এর ছবি

যাদের হাত ধরে ব্লগ আজকের অবস্থানে এলো, তাদের মাঝে একজন তুমিও। এই ভাবনাটায় কেমন লাগে?

স্পর্শ এর ছবি

হে হে হে, দিলেন মিয়া লিস্টিতে নাম উঠাইয়া... দেঁতো হাসি

ব্লগের তো এখন পড়তি দশা। কেচালগুলো ফেসবুকে আউটসোর্স করতে গিয়ে লেখকরাও সটকে পড়েছে। সবাই এসে সৃষ্টিসুখের উল্লাসে মাতলেই আবার যৌবন ফিরে আসবে... ইন ফ্যাক্ট তখন আরো ভালো হবে। আলুপোড়াবিহীন সত্যিকার লেখালিখি।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

স্পর্শ এর ছবি

আজকের এই দিনে আপনার একটা লেখা চাই...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক

দেবদ্যুতি

স্পর্শ এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

আয়নামতি এর ছবি

এটা কোন সময়ের কথা বললেন ভাই? সচলের আদিযুগের নাকি?
সময়টা সত্যিই খ্রাপ। তাই ১০০% হালাল উপায়ে ব্লগিংয়ের জন্য প্রোপিকে এখন নতুন ফটুক।
ভালো তো, ভালো না? দেঁতো হাসি লেখালেখি করে হবেটা কি! কেউ তো পড়েই না ছাই রেগে টং সবাই এখন খোমাবইতে মশগুল।
সচলে/ব্লগে না লিখলে কিভাবে হবে চিন্তিত
দুইটা ভানামে ডিশটাব আছে ঠিক করে নিন। ছদ্দ= ছদ্ম , নৈশব্দ=নৈঃশব্দ

স্পর্শ এর ছবি

কোটিকোটি স্কিম থ্রুর চেয়ে কয়েকজন নিবিড় পাঠকে ফায়দা বেশি। হাসি

বানানের জন্য থ্যাঙ্কিউ। শুধরে নিয়েছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অতিথি লেখক এর ছবি

সবচেয়ে খারাপ ধরনের সেন্সরশিপ হচ্ছে স্বপ্রণোদিত সেন্সরশিপ (self censorship)।

আসলেই তাই। স্বপ্রণোদিত সেন্সরশিপের চাইতে খাতারনাক কিছু নাই।

স্বয়ম

স্পর্শ এর ছবি

এটা দিন দিন বাড়ছেই... মন খারাপ


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

একটা জিনিস বুঝতে শিখেছি। সবচেয়ে খারাপ ধরনের সেন্সরশিপ হচ্ছে স্বপ্রণোদিত সেন্সরশিপ (self censorship)। কোনো শক্তিশালী গোষ্ঠি বা রাষ্ট্র যখন কোনো জনগোষ্ঠির কন্ঠরোধ করতে চায় তখন সে সরাসরি আইন করে সেনসরশিপ আরোপ করতে পারে। অথবা করতে পারে তারচেয়েও স্মার্ট কিছু। তা হলো সবার অলক্ষ্যে এমন একটা ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করা যেন টার্গেট ইন্টেলেকচুয়ালরা নিজেরাই নিজেদের সংযত করে ফেলে। এতে সংঘাতটা প্রকাশ্য হয় না। মানুষও একটা ছদ্ম স্বাধীনতার ভ্রান্তিতে থাকে।

চলুক
আসলে এইটাই হয়ে গেছে। এখন কিছু লিখতে গেলে ভাবি, লেখা ঠিক হবে কিনা। হয়ত এমন কিছুই লিখছি না, কিন্তু চিন্তাটা কাজ করে। তবে আমরা সম্ভবত ছদ্ম স্বাধীনতার ভ্রান্তিতে নাই। আমরা যে লিখতে পারছি বলতে পারছি না, এই অনুভূতিটা গলার কাছে আটকে আছে অনেক দিন ধরে।

তারপরেও লিখতেই হবে। কলম চলবে।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

স্পর্শ এর ছবি

হ্যাঁ নিজের কিছু লেখার উপর উপর্যুপরি সেলফ সেনসররশিপ চালানোর পর হঠাৎ উপলব্ধি হল, আমি এ কী করছি!


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সত্যপীর এর ছবি

সচল পড়তাম অনেক আগে থেকেই, মাঝখানে কি বুঝে কয়টা পোস্ট লিখে হাচল হয়ে গেলাম তারপর এক দেড় বছর ব্যাপক লেখলাম। এখন লিখতে গিয়ে মনে হয় ধুর লিখে হবে কি কে পড়বে এইসব। তারথেকে আবার বসে বসে পড়ি। সচলে লিখা কমে গেছে একটু কিন্তু পড়ে বড় আরাম।

(তবে লেখা একদম ছেড়ে দেইনাই। আফগানিস্তানের দুই পাশে রুশ ইংরেজের ইন্ডিয়ার জন্য কামড়াকামড়ি নিয়া একটা গল্প নামানোর ধান্দায় আছি। অবৈধপথে প্রায় শদুয়েক ডলারের বই ফ্রি নামাইছি হা হা হা। এখন পড়তেছি, দেখি আফগানিস্তান খোরাসান নিয়া কিছু নামানো যায় কিনা।)

..................................................................
#Banshibir.

অতিথি লেখক এর ছবি

তো বস কবুতর ফারুকের লেটেস্ট গল্পটা তো শেষ করলেন না! "থিবো সাহেবের দৌলত"-ও তো দুই পর্ব লেইখা ঝুলায় রাখলেন! এইরকম চললে ক্যাম্নে কী?!

Emran

সত্যপীর এর ছবি

কবুতর ফারুক আমারে আদ্ধেক গপ শুনায় ভাগছে আরেক ধান্দায়, আমার দুষ নাই।

..................................................................
#Banshibir.

স্পর্শ এর ছবি

হাচল থেকে সচল হয়ে গেলে লেখা থেমে যাওয়াটা অবধারিত! একেবারে শুরু থেকে এইটা হতে দেখতেসি। আমিও এই দোষে দোষী! ব্যাপারটার অন্তর্নিহিত কারণগুলো মনোবিশ্লেষণ করে বের করা দরকার দেঁতো হাসি

আপনি বাংলার আরয়ারমার্টিন। ছোটো গল্পের সাথে সাথে একটা সং অভ আইস এন্ড ফায়ারের মত বড় বই ও চাই... হাসি


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অতিথি লেখক এর ছবি

নামাইয়া ফেলেন তাড়াতাড়ি। আপনার গল্প অনেকদিন পড়ি না। পাঠের কাজটা আমগোরে করতে দেন, অজুহাত রাইখা লেখা দেন।

অপেক্ষায় আছি।

স্বয়ম

সুলতানা সাদিয়া এর ছবি

তাই সবকিছু আঁধারে মিলিয়ে যাবার আগে লিখুন। না, শুধু দেশরাজনীতি নয়। শুধু অধিকার আদায়ের দাবি নিয়ে নয়। শুধু আলো আর অন্ধকারের লড়াই নিয়ে নয়। লিখুন, ফুল-পাখি-লতা-পাতা নিয়েই। লিখুন পাহাড় নদী আর ধানক্ষেত নিয়ে। লিখুন তুষার শুভ্র অচিন নগরের কথা। লিখুন আটপৌরে দিনের হাসি কান্নার গান। লিখুন নতুন প্রেমের অপটু গল্প। অবাক শিশুর আবোলতাবোল ছড়া…কারণ দীপ নেভানো সহজ হলেও দাবানল নেভানো অত সোজা নয়।

প্রায় সাত বছর কলম বন্ধ ছিল।এখন রোজ আমি যা পারি লিখে চলি। অফিসের কাজের ফাঁকে ছেঁড়া কাগজে, বাতিল কাগজের উল্টো পৃষ্ঠাতে। সাহিত্য রচনার টার্গেট না করে কখনো নিভৃত ডায়েরিতে। কেউ বলে আমার লেখায় দ্রোহ নেই, কেউ ভাবে এ কি ছিঁচকাঁদুনে, না জ্ঞানগম্যি কম! তবু লিখি। লেখা শেষে কি একটা হয় অনুভূতি যে হয়, মনে হয় কষ্টের পারদ নেমে যায়, মনে হয় এটাই আমার জ্বলে ওঠা।
আপনার লেখা পড়ে মনে হচ্ছে, ঠিক চলছি,

ওরা চায় আমরা ভুলে যাই ঘাসের ঘ্রাণ, বিকেলের মৌতাত, কিংবা মায়ের মুখ। ওরা চায় নিশ্চিহ্ন হই স্বারোপিত নৈঃশব্দে। কিন্তু ওরা জানে না, যতবারই বদ্ধভূমিতে পাঠাবে ততবারই ফিরে আসবো

-----------------------------------
অন্ধ, আমি বৃষ্টি এলাম আলোয়
পথ হারালাম দূর্বাদলের পথে
পেরিয়ে এলাম স্মরণ-অতীত সেতু

আমি এখন রৌদ্র-ভবিষ্যতে

বন্দনা এর ছবি

আজকাল পড়া হইলেই ও ঠিক লগিন কইরা কমেন্ট করা হয়না। তাই এখন থেকে এক্কেবারে লগিন কইরা পেইজ খুলে রাখছি, যাতে পড়ার পর লগিনের ডরে না কমেন্ট করা এড়ানো যায়।তোর কিন্তু সব লেখাই পড়া, তবে হয়তো ঠিক কমেন্ট করা হয়না।

স্পর্শ এর ছবি

কমেন্ট তো এইখানেও করলেন না। "খুব ভালো হইসে টালো হইসে..." এইসব কিছু বলেন দেঁতো হাসি


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

সেলফ সেন্সরশীপ ব্যাপারটা কম-বেশি সব সময়ই থাকে। ব্যাপারটা যে আমরা নিজেদের মধ্যে এক ভাষায় কথা বলি আবার সেই আমরাই মাইকের সামনে বা ক্যামেরার সামনে অন্য ভাষায় কথা বলি অনেকটা অমন। কিন্তু বিষয়টা তখনই শঙ্কার হয় যখন সেলফ সেন্সরশীপ সত্যটা প্রকাশে বাধা দেয় বা যা এখনই বলা উচিত সেটাকে বিলম্বিত করে।

মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যে নরনারীর প্রেমের কথা যখন সরাসরি প্রকাশ করা যেতো না, তখন সব প্রেম রাধা-কৃষ্ণের প্রেম হিসেবে দেখানো হতো। তখন বলা হতো, 'কানু বিনা গীত নাই'। এটা কৌশল অবলম্বন, সেলফ সেন্সরশীপ নয়। লক্ষণীয় যে, কানুর ভাষ্যেই হোক আর যেভাবেই হোক প্রেমটা কিন্তু ঠিকই প্রকাশ করা হয়েছে - এটাই জরুরী।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

স্পর্শ এর ছবি

তাই নাকি! আমি তো উলটো রাধা কৃষ্ণের এত প্রেমলীলা দেখে ভাবতাম সে যুগে দেশী সাহিত্যে এত বেশি প্রেমট্রেম নিয়ে লিখতো যে ধর্মীয় উপকথাতেও তার প্রভাব চলে আসতো!

আমাদেরও রাধা-কৃষ্ণ টাইপ উপায় খুঁজে বের করতে হবে। গল্প হতে পারে। বা সাইন্স ফিকশন দেঁতো হাসি


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

নীড় সন্ধানী এর ছবি

ফুল পাখি লতাপাতা নিয়ে লেখার মানুষের অভাব বাংলাদেশে কোন কালেই ছিল না। সময়ের গল্প লেখার অভাব ছিল বরাবরই। বাংলাদেশে বেশ কটি ব্লগ থাকলেও সব ব্লগ সময়ের গল্প লিখতে পারে না। আমাদের লক্ষ্য সময়ের গল্প লেখা। কিবোর্ডের খুটখাট থেকে বেরিয়ে আসবে একেকটি সময়ের টুকরো।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

স্পর্শ এর ছবি

আপনার সঙ্গে আমি দ্বিমত।

ফুলপাখি নিয়ে দৈনিক কোবতে লেখার অভাব কোনো কালেই ছিলো না। আগামীতেও থাকবে না। কিন্তু আমি সে ধরনের লেখা বুঝাচ্ছি না। সুসাহিত্য রচনার এক ধরনের শক্তি লাগে। প্রচেষ্টা আর শ্রম লাগে। ব্লগের শক্তিমান লেখকরা আজ যেন কলম গুটিয়ে নিয়েছেন। সংগ্রাম হয় সময়কে ঘিরে, কিন্তু সাহিত্যের যাত্রা অসীমে…

সময়ের গল্প লেখা বন্ধ করতে বলিনি। সময়ের প্রয়োজনেই সেটা চলতে থাকবে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের মাঝেও সবাইকে জানিয়ে দেবার দরকার আছে “…মোরা একটি ফুলকে বাঁচানোর জন্য যুদ্ধ করি… ”। শুধু আর্থসামাজিকরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের আলোচনা মানব হৃদয়ের খোরাক দেয় না।

নিটশের কথাটা কোট করি, "He who fights with monsters should look to it that he himself does not become a monster. And when you gaze long into an abyss the abyss also gazes into you."

চে'ও, তাই বুকপকেটে নেরুদাকে নিয়ে ঘুরতো। হাসি-গান ভুললে চলবে না…


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

নীড় সন্ধানী এর ছবি

আমি দৈনিক কোবিদের কথাই বুঝিয়েছি। কিন্তু সুসাহিত্যের ব্যাপারে আপনার সাথে একমত।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

njshawon এর ছবি

ব্লগ লাইফের শুরুতে এরকম একটা লিখা পেয়ে সত্যিই ভাল লাগল। আশা করি অনেক প্রেরনা পাব

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

ওয়েল্কাম্ব্যাক দেঁতো হাসি
(মনে করেন আবার হাচল হয়ে গেছেন) তয়, কামারুর মত সময় নিয়া ভাইবেন না

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

তিথীডোর এর ছবি

পুরোনো সচল সবগুলোকে হাচল হিসেবে ডিমোশন দিয়ে দিলে কেমন হয়? চোখ টিপি

যাই হোক, সামারি হলো নিয়মিত লেখেন। কল্পগল্প, দু'হাতে লেখা আবজাব..যখন যা মন চায়। যে লিখতে পারে তার লেখা উচিত। এবং যে এতো ভালো লেখে, তার অবশ্যই সেটা চালিয়ে যাওয়া উচিত। বুঝছুইন? হাসি

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

এক লহমা এর ছবি

প্রিয় স্পর্শ, এই লেখা পড়ে অত্যন্ত কাহিল হয়ে গিয়েছিলাম, চোখ ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল। ঠিক করেছিলাম পরে এসে আবার পড়ে মন্তব্য করব। আজ আবার পড়তে বসে একই দশা। এবারে সেই কথাটাই জানালাম।

নানা আঘাতে দীর্ঘকাল কবিতার মত কিছু ছেঁড়া পংক্তি ছাড়া কিছু লিখিনি। শাহবাগের সময়ে হঠাৎ-ই সচলায়তনের খোঁজ পেয়ে বহুকাল-এর চাপা থাকা আবেগ উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিল। দ্রুতই হাচল হয়েছি, কিন্তু তারপর একটা উল্টো পথের চিন্তা প্রক্রিয়া চালু হল। কারো একটি লেখাতে নিজের চিন্তার সমর্থন-ও পেলাম - আমার লেখাটা সম্ভবতঃ আমার দেখানেপনা, হ্যাংলামি। কারো কোন কাজে লাগে না, লাগার মত নয়ও। কেমন যেন একটা অসাড়পনার বোধে ঢুকে গেছি। মন্তব্যগুলোও ছোট থেকে আরো ছোট হয়ে চিহ্ন-সর্বস্ব হয়ে উঠেছে। সচল হলে অনেকের লেখা কমে গেছে জানি, আমি ত ডানায় জলের গন্ধ না শুকানো হাচল একটা! তাতেই আমার এই দশা হল! ইতিমধ্যে বীভৎসতার প্লাবনে সমস্ত মুক্তচিন্তার নৌকাগুলোকে ডুবিয়ে দেয়ার চক্রান্ত আরো বিপুল হয়ে উঠেছে। সেগুলোর প্রতিবাদ-প্রতিরোধে যে লেখালেখি আমার লেখালেখি একেবারেই সে রকমের নয়। দিন দিন আরো বিষণ্ণ হয়ে পড়ছিলাম। এই সময় আপনার এই লেখাটা আমার চোখের সামনে থেকে কুয়াশার পর্দাটা সরিয়ে দিল। হাচল যেহেতু, অনেক লেখাই এখনও যোগ্যতার মান পার হবে না। তা হোক, লিখতে থাকব, কিছু না পারি, ভালভাবে মন্তব্য ত কখনো কখনো করতে পারি, তাই করব।

নববর্ষের অপার শুভেচ্ছা আপনাকে, সপরিবারে, সবান্ধবে।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

আহহ, ব্লগের সেই শুরুর দিককার সব কথা মনে পড়ে গেল এই লেখা পড়ে। নিজের লেখালেখি শুরুর কথা, তখনকার ব্লগের পরিবেশ, মন্তব্যের ঘরে আড্ডাবাজি...
সময় অনেক বদলে গেছে এখন।
যাই হোক, লিখতে হবে আসলেই সবাইকে। পড়তেও হবে। এর বিকল্প নাই কোনো।

দুষ্ট বালিকা এর ছবি

সবার মধ্যে তুমিও পড়ো কিন্তু, নাকি পরের লেখার জন্য আরও একবছর অপেক্ষা করতে হবে?

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

কল্যাণ এর ছবি

চলুক

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।