ক্যামেরনের অবতার

শুভাশীষ দাশ এর ছবি
লিখেছেন শুভাশীষ দাশ (তারিখ: মঙ্গল, ২২/১২/২০০৯ - ১১:৫০পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আজ অবতার থ্রিডি দেখে আসলাম। এই প্রথম থ্রিডি গগলস্ চোখে দিয়ে সিনেমা দেখা। হলিয়ুডি সিনেমা দুই ঘন্টার বেশি হয় না। অবতার সেই মাপে বেশ লম্বা। দুই ঘন্টা একচল্লিশ মিনিটের সিনেমা। ছবিটা পুরা হলিয়ুডি বলা যাবে কিনা জানি না। ব্রিটিশ-আমেরিকান যৌথ প্রযোজনা। আমেরিকার ডিস্ট্রিবিউটার সেঞ্চুরি ফক্স কম্পানি। দেখে বেশ ভাল লাগল। আমেরিকান কি ব্রিটিশদের বেশিরভাগ সিনেমায় নিজেদের জাত সেরা প্রমাণের একটা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চেষ্টা করা হয়। আমি অবতার দেখতে গেছি নাম দেখে। শ্রীকৃষ্ণ অবতার ছিলেন। ছোটবেলা থেকে তাঁর গায়ের বর্ণ দেখে এসেছি নীল রংয়ের। জেমস ক্যামেরনের অবতারের ও দেখলাম গাত্রবর্ণ নীল। রিভিউ বা গল্প না জেনেই ছবিটা দেখতে চলে গেলাম।

এলিয়েন বা প্রিডেটর গোত্রের সব সিনেমায় মনুষ্য প্রজাতির শত্রু হলো অন্য গ্রহের বাসিন্দা। মানুষ তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে করতে একসময় এলিয়েন বা প্রিডেটররা হেরে যায়। হিউম্যান রেস জয়ী হয়। অন্য গ্রহে গিয়ে মানুষ উপনিবেশ করতে গেলে সেটাকে জায়েজ করার একটা চেষ্টা সিনেমাগুলোতে থাকে। আমার মনে হয় প্রচ্ছন্ন একটা ব্লু ব্লাড ধারমা এখানে কাজ করে। আমার জাতি শ্রেষ্ঠ, সুতরাং কলোনি বানানোর অধিকার আমাদের আছে; যদি মেনে নাও তাহলে ঠিকাছে নাহলে খবারাছে টাইপ মেসেজ এসব সিনেমার নিউক্লিয়াস। ভারত তাদের বিনোদন-সিনেমার জগৎ অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে নিয়েছে। সেখানে একটা মাদার ইণ্ডিয়া বোধ বেশ স্পষ্ট। ভারতমাতা। সিনেমার গানের দৃশ্যে কয়েকশো সাদা চামড়ার ললনাকে দিয়ে নাচানো তাদের একটা ট্রেডমার্কে পরিণত হয়েছে। দুশো বছরের শোষণের প্রতিশোধ তারা এভাবে নিতে চায়। কিন্তু ভারতীয়দের মনের মধ্যে আভিজাত্য বা ভারত-শ্রেষ্ঠ নামক ব্যাপক ভ্রান্ত ধারমা গড়ে ওঠার ফল বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা কিছুটা আন্দাজ হয়তো করেন।

ক্যামেরনের অবতারক্যামেরনের অবতারপ্রসঙ্গে ফিরি। আমার এইসব চিন্তাভাবনা অবতার সিনেমায় পেলাম না। আমার জাতি অন্যায় করলে জাতীয়তা বা প্রজাতিভুক্তিতে লাথি মারার অধিকার ব্যক্তিমাত্রের থাকে – এই সিনেমার অতলান্তিক ভাবনা এটাই। ক্যামেরন সাহেব এই ধরণের কামেল কাজ করতে পারেন ভাবতেই পারি নি। সিনেমার থ্রিডি কারিশমা। ক্যামেরার কাজ। কাহিনী। সংলাপ। কনসেপ্ট। সবই খুব ভাল, খুবই ভাল।

কাহিনীর সময়কাল ২১৫৪ সাল; এলিয়েনদের গায়ের বর্ণ নীল। মানুষের মতো দ্বিপদী। স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে আকারে প্রায় দ্বিগুণ। লেজ আছে। প্রজাতির নাম না’ভি। কোন এক গ্রহ পেনডোরায় তাদের বাস। মানুষ সেখানে গিয়ে উপনিবেশ করতে চায়। নেয়া হয় অবতার প্রজেক্ট। মানুষের তৈরি অবতারদের শরীর না’ভিদের মত, কিন্তু মন থাকবে মানুষের। আস্তে আস্তে অবতারেরা সেই জাতিতে প্রবেশ করে তাদের মধ্যে পরাজয় মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি করে দিবে। ফলে উপনিবেশ করতে ঝামেলা কম হবে। সিনেমার প্রট্যাগানিস্ট বা প্রধান চরিত্র জ্যাক একজন পঙ্গু ইউএস মেরিন। তার যমজ ভাই মারা যাওয়ায় অবতার প্রোগ্রামে তাকে নেয়া হয়। ওই গোত্রের মাঝে সে মিশে যায়। নেইতিরি নামের এক মেয়ে-না’ভি তাকে নাভিত্বে পোক্ত করার দায়িত্ব নেয়। ফিল্ম সিকোয়েন্সের কারিশমা চোখে লাগার মতো। পেনডোরার ঝাঁপি ক্যামেরন আস্তে আস্তে খুলতে থাকেন। অদ্ভুত দর্শন গণ্ডার কিংবা পাহাড়ি কুকুর। ড্রাগন। আত্মা গাছ। ম্যাজিক প্ল্যান্ট। শুন্যে ভাসা পাহাড়। যেন রূপকথা। পেনডোরাতে মানুষের কলোনি করা আদৌ কী সম্ভব হবে? কাহিনী আর না বলি।

প্রাণী বা উদ্ভিদ জগতের সাথে না’ভি-দের একটা আত্মিক সম্পর্ক সিনেমায় খুব ভাল করে দেখান হয়। প্রকৃতির সাথে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা মানুষের আর নেই। ক্যামেরন সেই ক্ষোভের প্রকাশ ঘটিয়েছেন তাঁর ছবিতে। ঔপনিবেশিক শাসকদের এক হাত দেখে নিতে ছবি বানানো সবচেয়ে কাজের মাধ্যম। আর পপুলার। সাদা চামড়ার পাপ খন্ডানোর একটা চেষ্টা করেছেন জেমস ক্যামেরন। অন্য প্রসঙ্গ। এই সিনেমার সাথে ডিজনির ‘পোকাহন্টাস’ সিনেমার বেশ কিছু মিল খুঁজে পেলাম। ‘পোকাহন্টাস’য়ের আমেরিকার আদিবাসীদের জায়গায় এখানে আনা হয়েছে না’ভিদের। পল এণ্ডারসনের ছোটগল্প ‘কল মি জো’ কাহিনীর সাথে কিছু জায়গায় মিল আছে। আরো নানা তথ্য উইকির পাতায় পাবেন।

সিনেমায় একটা বিশ্বাসযোগ্য নতুন গ্রহ বানিয়ে ফেলা বেশ মুশকিল। ক্যামেরন সেটা করে দেখিয়েছেন মারাত্মক দক্ষতায়। স্ক্রিপ্ট লিখেছেন পনের বছর আগে। কিন্তু টেকনোলজি তার মনের মত হচ্ছিল না দেখে দীর্ঘ সময় পরে সিনেমাটা বানিয়েছেন। চার মাস ভাষাবিদদের সাথে বসে না’ভিদের জন্য আলাদা একটা ভাষা বানিয়েছেন এক হাজার মৌলিক শব্দ দিয়ে।

সরাসরি না করে প্রকারান্তরে কলোনি বানানোর খায়েশ আমেরিকান বা ব্রিটিশদের শেষ হয়নি। কলোনি করতে পারলে অনেক সুবিধা। কলোনাইজড্ দেশের অর্থসম্পদ লুণ্ঠনের এরচে ভাল পথ আর নেই। সাম্প্রতিক ইরাক ইনভেইশন তার উদাহরণ। অবতারে একই ঘটনা। না’ভিদের পবিত্র গাছের নিচে মূল্যবান খনিজের আড়ৎ। মানুষের সেটা লুট করা দরকার। কিন্তু সেই গাছেই না’ভিদের বসবাস। অবতার প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভুজুং ভাজুং দিয়ে না’ভিদের বসতি থেকে উচ্ছেদ। তাদের ভয় দেখানো।সাথে সাথে না'ভি প্রজাতির দুর্বলতার তালাশ সাড়া। না মানলে ইরাক পরিণতি।

মিথোলজির দেবতাদের কথা মাথায় আসে। তাদের শকট বা পঙ্খীরাজ আকাশ থেকে নামে কেন ? আদিকালে কিছু এলিয়েন কি ধরাতলে এসেছিলেন? যাদের আমরা দেবতা ভেবে নিয়েছিলাম। ইউ.এফ.ও.? অবতার? কিংবা ক্যামেরনের সিনেমায় মানুষ যেমন পেনডোরায় গিয়ে নীল বানরদের কাছে অবতার সাজতে চেয়েছিল। তেমন?


মন্তব্য

স্বাধীন এর ছবি

টার্গেট আছে, দেখবো সামনের মঙ্গলবার।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

হ্যাঁ, দেখে আসেন।

গৌতম এর ছবি

আপনার রিভিউ পড়ে অবতার দেখার খায়েশ জাগলো। দেখি কতোদিনে এদেশে অবতার আসে!

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

অবতার আসবো। থ্রিডি অবতার আসবো কিনা কে জানে। চোখ টিপি

নাশতারান এর ছবি

দেখার ইচ্ছে ছিলো। সিনেমা দেখার আগে রিভিউ পড়িনা আমি। পড়ব না পড়ব না করেও পুরোটা পড়ে ফেললাম। ভালো লাগলো।

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আরে রিভিউ লেখা হয়েছে এটা সেটা ওটা নিয়ে। সিনেমা দেখতে কোন অসুবিধা নাই। চোখ টিপি

মামুন হক এর ছবি

আমিও দেখবো। আজ বা কাল। লেখায় পাঁচ তারা হাসি

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

দেখে আসেন।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

দারুণ লেখা। সিনেমাটা কেমন তা দেখে বলব...
____________________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ !

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

ঠিকাছে .........

উদ্ভ্রান্ত পথিক এর ছবি

আইএমডিবিতে দেখি ফাটায় রেটিং পাইছে। আপাতত ৮.৯ আছে দেখলাম। তবে যা রিভিও দেখলাম থ্রিডির কাজ দুর্দান্ত আছে কিন্তু কাহিনী দুর্বল। আকশনট্রিপ ডট কমে তো বলেছে "If you're a bit older and have read more than two books in your life, you're bound to roll your eyes as the story of Avatar painfully draws to its conclusion after waves and waves of poorly written scenes."

---------------------
আমার ফ্লিকার

শুভাশীষ দাশ এর ছবি


আরে কাহিনী। সাদা চামড়া রেস বদলাচ্ছে এটা অনেক ক্রিটিকের কাছে মাথায় বাজ পড়ার মতো। এটা নিয়া ব্যাপক গিয়ানজাম ওয়ালা ক্রিটিক রিভিউ পাবেন। সেটার কারণাছে।

অনিকেত এর ছবি

মাত্রই দেখে ফিরলাম অবতার।
ছবি তো নয়, যেন এক মহার্ঘ্য দৃষ্টিপূজা!
নানা উপাচারে সাজিয়ে সেই পূজোর থালা আমাদের সামনে ধরে দিয়েছেন ক্যামেরন।

আপনার রিভিউ'র সাথে একমত আমি--

সরাসরি না করে প্রকারান্তরে কলোনি বানানোর খায়েশ আমেরিকান বা ব্রিটিশদের শেষ হয়নি।

তাদের এই আগ্রাসী ভূমিকারই এক রূপক চিত্র দেখলাম যেন। খুব ভাল করে খেয়াল করলে বোঝা যায়---না'ভিদদের মাঝে রেড-ইন্ডিয়ানদের ভাব প্রকট। তাদের জীবনাচরণ, শিকার-যাত্রা, এমন কি শত্রু-নিধনের আহবানে, চিৎকারে আমরা যেন ঐ আদিবাসীদেরই ছায়া দেখি।

ক্যামেরন খুব নিস্পৃহ ভাবে গল্প বলতে শুরু করেন আর অতি সঙ্গোপনে কাহিনীতে মিশিয়ে দিতে থাকেন ইতিহাসের কথকতা। না'ভিদরা অরণ্যের সন্তান। রেড-ইন্ডিয়ানদের মতই প্রকৃতিমাতা কে ঘিরে বেড়ে ওঠা তাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি।

শুধু কিছু কিছু জিনিসে আমরা ভিন্নতা দেখতে শুরু করি। প্রথমেই দৈহিক গড়ন। মানুষদের চেয়ে অনেক দীঘল,ঋজু কাঠামো তাদের। মানুষদের চেয়ে ক্ষিপ্র, নমনীয়(nimble),এক্রোব্যাটিক। শুরুতেই ক্যামেরন যেন আমাদের বলে দিতে চান---দেহে আর মনের মাপে ওরা এগিয়ে আছে আমাদের চেয়ে। শুরুতেই এইসুর বেঁধে দেয়ায় বুঝতে পারি এই গল্পের শেষ ইতিহাসের পুনরাবৃত্তিতে পর্যবসিত হবে না। কয়েক শ' বছর আগে যারা হেরে গিয়েছিল সভ্য মানুষের অসভ্য অস্ত্রের কাছে, গ্রামের পর গ্রাম তাদের উজাড় হয়েছিল, তাদের তীরগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছিল গোলাবারুদের ধোঁয়ার মুখে ----ভবিষ্যতের কোন এক সময়ে এই মহাবিশ্বের কোন এক প্রান্তে তারা আবার লড়াই করে সেই একই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। প্যান্ডোরা নামের এই গ্রহটি যেন সার্থকনামা। প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেবার পর যেমন বেরিয়ে এসেছিল মানুষের জীবনের দুঃখ-ক্লেশ-হতাশার স্রোত--- শুধু আটকে পড়েছিল 'আশা'---এখানেও দেখি এই গ্রহটি মানুষের সামনে মেলে ধরে অপার সম্ভাবনার দ্বার কিন্তু শেষ চাবিটি ধরে রাখে নিজের হাতেই।

বহু বছর আগে এক অসম লড়াইয়ে হেরে যাওয়া কিছু মানুষকে ক্যামেরন এইখানে জিতিয়ে দেন। দেখিয়ে দেন, মানুষের সংজ্ঞা শেষ পর্যন্ত লোভী দু'পেয়ে জন্তুর নয়---মানুষই পারে নিজের লোভ জয় করতে, মানুষই পারে অগোছালো কিছু প্রাণকে শক্তি আর সিদ্ধির ঐকতানে বেঁধে দিতে।

সব মিলিয়ে ছবিটা আমার কাছে বেশ ভাল লেগেছে। আর তারচাইতেও বড় পাওনা--ছবি দেখা শেষে আপনার এই চমৎকার রিভিউটা পড়া।

শুভেচ্ছা রইল।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

অনিকেতদা,

ধন্যবাদ এত বড় মন্তব্যের জন্য। আপনার মন্তব্য সুচমৎকার হয়েছে।

দুর্দান্ত এর ছবি

এই ছুটিতেই দেখে ফেলবো।

"মিথোলজির দেবতাদের কথা মাথায় আসে। তাদের শকট বা পঙ্খীরাজ আকাশ থেকে নামে কেন ? আদিকালে কিছু এলিয়েন কি ধরাতলে এসেছিলেন? যাদের আমরা দেবতা ভেবে নিয়েছিলাম। ইউ.এফ.ও.? অবতার? কিংবা ক্যামেরনের সিনেমায় মানুষ যেমন পেনডোরায় গিয়ে নীল বানরদের কাছে অবতার সাজতে চেয়েছিল। তেমন? "

আপনার এই ভাবনাটি বেশ ভাল লেগেছে।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

হাসি

দুর্দান্ত এর ছবি

জানিনা এটা কাকতালীয় কি না, যতটুকু পড়লাম, এই ফিল্ম এর মূখ্য মানুষ চরিত্রে যারা অভিনয় করেছেন তারা সবাই সাদা চামড়ার আর মূখ্য নাভি চরিত্রের সবাই অ-সাদা।

ব্যাতিক্রম - ভারতীয় প্যাটেল। তবে আজকাল তো সব হলিউডি ফিল্মেই একখানা টোকেন ভারতীয়, থাকে তাই একে গোনার মধ্যে নিইনি।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

হলিয়ুডি সিনেমায় টোকেন ভারতীয় ব্যাপারটা নিয়া ভারতীয়দের অনুভূতি কী- কেউ জানেন?

মূলত পাঠক এর ছবি

এই ব্যাপারটা কি সত্যিই এখনো ব্যাপক আকার নিয়েছে? আমি তো তেমন বেশি দেখতে পাই নি, কিছু সিরিজে এসেছে, বা সিনেমায় (যেমন রেইসিং হেলেন ইত্যাদি)। তাছাড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে কিছু মার্কিন শহরে ভারতীয়দের সংখ্যা যখন ভালো পরিমাণই হয়ে উঠেছে তখন সেটা প্রতিফলিত হলে অসুবিধে কোথায়।

ড্যানি ডেকচেয়ার বলে একটা ব্রিটিশ ছবি দেখছিলাম আই এফ সি চ্যানেলে, তাতে বিলেতের এক গ্রামে কোনোই দেশি চেহারা দেখলাম না, যদিও গ্রামের জনগণের কথা বিস্তারে দেখিয়েছে। কিছুটা অবাস্তব ঠেকলো। তবে সে ছবিটা হাল্কা মেজাজের বলে এই সব খুঁটিনাটি তেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিলো না।

দুর্দান্ত এর ছবি

ভারতীয়দের দেখানোয় অসুবিধা হবে কেন? ভারতীয়দের শুধু টোকেন চরিত্রে নেয়ায় আমার অসুবিধা আছে। শুধু কিছু শহরেই নয়, গোটা পশ্চিমে, শিল্প, সাহিত্য, নেতৃত্ব, ললিত কলায় উপমহাদেশীয় বা তাদের বংশোদ্ভুতরা যে ভুমিকা রাখছে, হলিউড বা আমেরিকান টিভি তে সেটার প্রতিফলন দেখানো হয় শুধু কিছু বাদামী রং এর গীককে নায়ক বা নায়িকার সহযোগী চরিত্রে। ভারতীয় প্রযোজনা না হলে মূল বা উল্লেখযোগ্য চরিত্রে বাদামী কাউকে দেখা যায় না।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

বড় বাজেটের হলিয়ুডি সিনেমাগুলোতে ভারতীয় চরিত্র আনা হয়। কিন্তু ঠিক্করে দেখানো হয় না।

অতিথি লেখক [অতিথি] এর ছবি

দেখেছি। টেকনোলজির সার্থক প্রয়োগটা হিসেবে না ধরলে সিনেমা হিসেবে একেবারেই সাধারণ মানের। অবশ্য টাইটানিকের মতো রদ্দিমার্কা ছবির পরিচালকের কাছে এর বেশি আশা করাও উচিৎ না। তবে সমুদ্রের তলদেশ বিষয়ক একটা ডকুমেন্টারি ছবির নির্মাতা হিসেবে ক্যামেরনের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

টাইটানিক একটা ট্র্যাশ। ক্যামেরনের কাছ থেকে 'অবতার' মাপের সিনেমা আমি ও আশা করি নি। আমি কনসেপ্ট নিয়ে আলোচনা করেছি। কেন সাধারণ মানের মনে হল, তা ব্যাখ্যা করলে ভাল। আপনার দৃষ্টিভঙ্গি জানতে পারতাম।

অস্পৃশ্যা এর ছবি

কালই ফেসবুকে এক বন্ধুর স্ট্যাটাসে দেখলাম, "অবতার" নিয়ে তাঁর ভাবনার কথা, খুবই উৎসাহী দেখবার জন্য, আমি আবার নিচে বিজ্ঞের মত মন্তব্য করে দিয়ে এসেছি, ছবিটা আমার কাছে তেমন এপিলিং লাগে নাই, আসলে বেশ কিছুদিন ধরে স্টার নেটওয়ার্কে এর মেকিং এবং অভিজ্ঞতাসমূহ দেখানো হচ্ছিল এবং সেটা দেখে খুব একটা ব্যতিক্রম লাগে নি অন্যান্য সাইফাই জাতীয় সিনেমা থেকে। সাধারণত ছবি না দেখে আমি কখনই সেটা সম্পর্কে বিরূপ ধারণা পোষণ করিনা, কিন্ত সাই ফাই মুভি দেখতে খুব একটা স্বাছন্দ্যবোধও করিনা। কিন্ত এখন তো আপনার রিভিউ পড়ে বেশ ইচ্ছে জাগছে ছবিটা দেখবার।

রিভিউটা এক কথায় চমৎকার হয়েছে এবং সাথে আপনার ভাবনা গুলোও বেশ নাড়া দেয়।

ধন্যবাদ।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

ধন্যবাদ।

স্পার্টাকাস এর ছবি

নেটে এখনো সব হল প্রিন্ট, তাই নামাচ্ছি। দেখি কেমন লাগে। ক্যামেরন নামটাই তো মুভি দেখতে বসার জন্য যথেষ্ট।

-------------------------------------
জননীর নাভিমূল ছিঁড়ে উলঙ্গ শিশুর মত
বেরিয়ে এসেছ পথে, স্বাধীনতা, তুমি দীর্ঘজীবি হও।

জননীর নাভিমূল ছিঁড়ে উলঙ্গ শিশুর মত
বেরিয়ে এসেছ পথে, স্বাধীনতা, তুমি দীর্ঘজীবি হও।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

ক্যামেরনের টাইটানিক ভালু পাই না।

অতিথি লেখক এর ছবি

শ্রীকৃষ্ণ, নীল, অবতার নীল এই ব্যাপার গুলো খেয়াল করা হয় নি । রিভিউ ভাল লেগেছে ।

প্রকৃতি প্রেম /পরিবেশ বাদী চিন্তাও এসেছে বলে কয়েকটি রিভিউতে পড়েছি (গল্প পড়ে আমারো তাই মনে হয়েছে । মুভিটা এখনো দেখা হয় নি । কবে যে দেখব!! )।

ইউ.এফ.ও. এর বিপক্ষে কিন্তু অসংখ্য যুক্তি আছে। এবং আমার জানা মতে বিজ্ঞান ইউ এফ ও সমর্থন করে না ।

বোহেমিয়ান

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

হ্যাঁ, সমর্থন করে না।

দুর্দান্ত এর ছবি

বিজ্ঞান ইউ এফ ও সমর্থন করে না।
সমর্থন করেনি, আবার ইউ এফ ও নেই, এটাও প্রমান করতে পারেনি।

শাহেনশাহ সিমন এর ছবি

এর আগে বিডিয়ার ভাইয়ের রিভিউ পড়ে ভ্যাম্পায়ারের প্রেম দেখছি, আর তারে ধরছি কুইক বাইটে কাফফারা দেয়ার জন্যি।

এটাও পড়লাম। কাফফারা রেডি রাইখেন কিন্তু চোখ টিপি
_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আইচ্ছা চোখ টিপি

তানভীর এর ছবি

অবতার দেখবো হলিডের মধ্যে। থ্রিডিও আছে দেখলাম দুইরকম- আইম্যাক্স আর ডিজিটাল। আপনি কোনটা দেখেছেন, মানে কোনটায় দেখলে ভালো হয়?

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আমি যে হলে দেখছি সেখানে আইম্যাক্স ছিল না। ডিজিটাল থ্রিডি দেখছি।সেটা দেখেই মুগ্ধ।

মজনুভাই [অতিথি] এর ছবি

থ্রিডি অবতার নেটে পাব?
সাইজ কতো হতে পারে?
বাংলাদেশেতো ২/৪ দিন নিয়ে টান পড়তেও পারে ডাউনলোড করতে!

রিভিউটা ভালৈসে ভাই

চার মাস ভাষাবিদদের সাথে বসে না’ভিদের জন্য আলাদা একটা ভাষা বানিয়েছেন এক হাজার মৌলিক শব্দ দিয়ে।

না মানলে ইরাক পরিণতি।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

অবতার থ্রিডি দেখলে হলে চোখে একটা বিশেষ গগলস্‌ দিতে হয়। টরেন্টে এখন হল প্রিন্ট পাবেন। দেখে আরাম পাবেন বলে মনে হয় না। সাইজ ৭০০ এমবি।

মজনুভাই [অতিথি] এর ছবি

ওহ তা আগে বলবেনতো(লইজ্জা)। ধন্যবাদ দাদা।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

বিজ্ঞান আমাকে পছন্দ করে না। সাই ফাই মুভি দেখতে আমি আরাম পাই না। এই ছবিটাতেও কোনো আগ্রহ পাইলাম না।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আমি সাই ফাই পড়ি না , কিন্তু দেখি বিয়াফক খাইছে

গুরু তারকোভস্কির দুইটা সাই ফাই আছে। স্টকার। সোলারিস। সোলারিস পুরা সাই ফাই নয়। সাইকোড্রামা। এই দুটা দিয়ে শুরু করতে পারেন। দেঁতো হাসি

দুর্দান্ত এর ছবি

আরো কয়েকটা
- ১২ মাঙ্কিজ। (যদি ফরাসী ফিল্ম নোয়ার ভালু পান, তাহলে অরিজিনাল লা যেতে আগে দেখে নিন, ফরাসী জানতে হবে না, পুরা ফিলমে কোন ডায়ালগ নাই ঃ))
- কন্ট্যাক্ট। ৩৫ এম এম এর ওপরে এনামর্ফিক ফর্ম্যাটের ছবি। শুরুর ৩ মিনিটে সাত আসমানের যে চিত্রটা আছে, সেটাই দেখার মত (ছিল)।
- গাটাকা (Gattaca), মারিন সিভিক সেন্টারে চিত্রায়িত। এটা দেখে আমার মনে হয়েছিল আমাদের সংসদ ভবনও খুব সহজেই এমন কোন সাই ফাই এর সেট হতে পারে অনায়াসে।
- এবিস, গভীর পানির গল্প। নর্থ ক্যারোলাইনার পরিত্যাক্ত আনবিকশক্তিকেন্দ্রে চিত্রায়িত।
- গোস্ট ইন আ শেল (এনিমেশন)। এইটা পুরাই আউলা। প্রডাক্সনের ডিটেল মিয়াজাকিরেও তব্দা কইরা দিসে।

অতিথি লেখক এর ছবি

হল প্রিন্ট দেখেছি। সংগত কারণেই মেকিং নিয়ে বলতে পারছিনা। তবে ভাল লেগেছে।

মার্কিন কর্ণেলের গোঁয়ার্তুমি দেখে মজা পাইছি। পরিণতিটা সে হাতেনাতেই পেয়েছে। বাস্তবেও কি এরা এ রকম মাথামোটা!

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

বুশরে দেখে কি মনে হয়।

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

জাতি অন্যায় করলে জাতীয়তা বা প্রজাতিভুক্তিতে লাথি মারার অধিকার ব্যক্তিমাত্রের থাকে

কথাটা অমৃতের মত লাগলো। একদিন কোথাও পেড়ে দিতে পারি, আগেই অনুমতি চেয়ে রাখলাম।

--------------------------------
~পর্যবেক্ষণ-অসাধ্য তত্ত্ব অর্থহীন~

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

ঠিকাছে।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

লেখাটা আগে দেখলেও তাড়িয়ে পড়বো বলে তখন পড়ি নাই...।

ক্যামেরন ১৫ বছর আগে প্লট তৈরী করে শেষ ৪ বছর ধরে এই ছবি বানিয়েছেন। আপনি যেভাবে বিশ্লেষণটা করলেন, মানে বর্ণবাদ-রাজনীতি নিয়ে এভাবে ভেবে দেখি নাই অবশ্য। মাস খানেকের মাঝে আশা করি ভালো প্রিন্ট পাবো। দেখে আরেকবার মন্তব্য করবোনি...

_________________________________________

সেরিওজা

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

ঠিকাছে চোখ টিপি

অতিথি এর ছবি

সিনেমাটা দেখে আসলাম মাত্র। অসম্ভব ভাল। আপনার লেখা পড়ে অনেক খুঁটিনাটি জানতে পারলাম। খুব ভাল একটা রিভিউ লিখছেন। আপনাকে শুভেচ্ছা।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

হাসি

অদৃশ্য এর ছবি

মুভিখানা নামিয়ে দেখলাম। দুর্দান্ত রে ভাই। আপনার রিভিউ পড়ার পর না দেখে পারলাম না।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

ঠিকাছে।

অর্ক [অতিথি] এর ছবি

খুবই ভালো রিভিউ। এই পারস্পেকটিভে আলোচনা খুব মনে ধরেছে।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

ধন্যবাদ।

তানভীর এর ছবি

অবতার দেখিয়াছি। আইম্যাক্সে। আপনার রিভিউ-এর সাথে আমার একটু মতপার্থক্য আছে। আমার কাছে এটা এ সময়ের কর্পোরেট সংস্কৃতির গল্পই মনে হয়েছে; সাদা চামড়ার পাপ স্খলন বা ঔপনিবেশিক বা নেটিভ ইন্ডিয়ান বিষয়ক কিছু মনে হয় নি। প্যান্ডোরাতে মানুষ কলোনি করতে নয়, পবিত্র গাছের নীচে যে খনিজ সম্পদ তা লুন্ঠন করতেই যায়। এখন যেমন কর্পোরেট প্রকৃতিকে ধ্বংস করে পৃথিবী জুড়ে সম্পদ লুন্ঠন করছে, তেমন। কর্পোরেট এডমিনিস্ট্রেটর তা পরিস্কার করেই বিজ্ঞানীকে বুঝিয়ে দেয়- ‘Who is paying for your science?’ রেড ইন্ডিয়ানের আমলে তো আর কর্পোরেট বিজ্ঞান পৃষ্ঠপোষকতা করতো না। এখন দুনিয়ায় ভালো, মন্দ যত যজ্ঞ, সবকিছুতেই কর্পোরেট।

আমার জাতি অন্যায় করলে জাতীয়তা বা প্রজাতিভুক্তিতে লাথি মারার অধিকার ব্যক্তিমাত্রের থাকে – এই সিনেমার অতলান্তিক ভাবনা এটাই।

একটু দ্বিমত রয়েছে। সিনেমার শেষে জ্যাক না’ভিতে রুপান্তরিত হয়েছে তার প্রেমিকার জন্য এবং হয়ত পঙ্গু মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে সুস্থ না’ভি হয়ে বেঁচে থাকা উত্তম- সেজন্য। কিন্তু জ্যাকের সাথে আরো যে সব মানুষ না’ভিদের হয়ে লড়াই করেছে তারা কিন্তু না’ভি হয়ে যায় নি, মানুষ হিসেবেই প্যান্ডোরায় রয়ে গেছে। জ্যাকসহ এরা সবাই লড়াই করেছে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য। অন্যায়ভাবে না’ভিদের এলাকায় হামলা করতে দেখে মহিলা সেই পাইলট তাই তার হেলিকপ্টার ঘুরিয়ে নিয়ে বলে- ‘I didn’t sign up for this shit’. কর্পোরেট সংস্কৃতি লুটেরা ও ন্যায়বিচারশূণ্য- এটাই সিনেমার মূল ভাবনা এবং তাদের পরাজিত করে ক্যামেরন তার ক্ষোভ মিটিয়েছেন এমনটাই আমার কাছে মনে হয়েছে। যা’ হোক, এ শুধু আমার দুই পয়সা।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

তানভীর ভাই,

আপনার পারস্পেক্টিভে আলোচনা ঠিকাছে। ব্যক্তিমাত্রের বলতে আমি জ্যাককেই বুঝিয়েছি।

মানুষ জাতি ইদানীং এমন হয়ে গেছে মানুষ মাত্রেই কর্পোরেট জগতের একটা গুটি বললে ভুল হয় না। জগতের যা কিছু মন্দ-ভালো সব কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডের অধীনে চলে গেছে। রাস্তায় যে টোকাই খালিগায়ে হাসে, সেখানে ও কর্পোরেট ইশারার দেখা মিলে।

আপনাকে ধন্যবাদ। সুন্দর দুই পয়সা যোগ করার জন্য।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আমার মনে হয় ভুল ইন্টারপ্রিটেশন হচ্ছে আমাদের। এ্যাভাটার শব্দটার সাথে হিন্দু মিথোলজির 'অবতার'-এর একটা সাজশ থাকলেও ক্যামেরন মনেহয় না সেটাই বুঝিয়েছেন। খুব সম্ভবতঃ মনোভাব, জীবন দর্শণ প্রভৃতিকে একটা শারীরিক মা ব্যক্তিক কাঠামোতে উপস্থাপন করাটাই বুঝাতে চেয়েছেন ক্যামেরন তার এ্যাভাটার-এ। এরকম মনে হওয়ার কারণ হলো, পুরো সিনেমাটায় তিনজন এ্যাভাটারের কেউই গড বলে বিবেচিত হয় নাই। তারা তাদের সমান্তরাল বাস্তব জীবনের একটা অংশ হিসেবে না'ভিদের সাথে মিশেছে।

জ্যাক সালি যখন শেষের দিকে আত্মিক গাছের সাথে বলে, "এদের পৃথিবীতে কোথাও সবুজ নেই। এরা এখানেও কোনো সবুজ রাখবে না!..." তখনই তো সিনেমার মূলসুর দুধ কা দুধ, পানি কা পানির মতো সরে আলাদা হয়ে যায়।

খনিজের লোভে মানুষ যেভাবে পৃথিবীর চৌদ্দটা বাজিয়ে যাচ্ছে, যেভাবে সবুজ উজার করে চলেছে, যেভাবে বায়ুমণ্ডলের অবস্থা ব্যারাছ্যারা করে ফেলছে, তারই ধারাবাহিকতা হলো এ্যাভাটার। এখানে বৃটিশ, আম্রিকান, ফ্রেঞ্চ, পর্তুগীজ বা স্পেনীয় বেনিয়াদের কথা না বরং হারমাদ মানুষদের কথাই বলা হচ্ছে।

সিনেমাটা দেখে, নাইতিরি মেয়েটাকে দেখে, তার চাউনি দেখে, তার প্রেম দেখে বুকের ভেতরটা কেমন খচ করে উঠেছিলো। চরা পড়া জমিতে হঠাৎ বান এলে যেমন হয়, তেমন।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

'অবতার' নাম নিয়ে ইণ্টারপ্রিটেইশন্‌ মনে হয় ভুল না।

'অবতার' সিনেমায় জ্যাক অন্য না'ভিদের চেয়ে অনন্যসাধারণ হয়ে তার অবতারত্বের হদিশ দেয়।

আপনার অন্য সব এঙ্গেলে আলোচনার সাথে আমি একমত।

সিরাত এর ছবি

আরে জোস রিভিউ। আমি আইএমডিবিতে ৮.৯ দেখে খুব উৎসুক হয়ে বসে আছি। এখানে হল প্রিন্ট অনেক আগে চলে আসছে, ভালো প্রিন্টের জন্য বসে আছি।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

হ। দেখে তারপর জানাও।

তুলিরেখা এর ছবি

আমি দেখেছি গতকাল। আমি চুপ। একেবারে চুপ।
ত্রিমাত্রিক গভীরতায় উঠে আসে সব। বিশাল গ্রহটি আকাশে ভাসে, মস্ত মস্ত রঙীন ডোরা তার গায়ে। প্যান্ডোরা তার উপগ্রহ। বিচিত্র সমৃদ্ধ এই জগৎ, কী বিপুল মহীরুহসব! প্রাণীগুলি কত অপরূপ। কী বিচিত্র আলোকময় তন্তুজাল ঝুলছে, বিচিত্র সব ছত্রাক, বুড়ির চুলের মতন(তার থেকে বহুগুণ সুন্দর অবশ্য) কী আশ্চর্য উড়ে বেড়ানো জীব। জীবপালিনী প্যান্ডোরা। আমাদের জীবপালিনী বসুন্ধরা এমন ছিলো হয়তো কয়েক কোটি বছর আগে। মনে হয় টাইম মেশিনে সেই স্বপ্নজগতে চলে গেছি। ভেসে চলা পাহাড়পুরী, মেঘ ভেসে আসা, আহ।

না'ভিদের বিপুল আশ্রয়বৃক্ষটি আমাকে নর্স মিথোলজির ইয়গদ্রাসিলের কথা মনে করায়, তারও তো শিকড়গুলি ছড়িয়ে আছে এক এক জগতে! বোধিবৃক্ষের কথাও মনে হয়, মনে হয় চেতনার অবিচ্ছিন্ন প্রবাহের কথা, যা আমরা আজ শুধুমাত্র অনুমান করি, একদিন-হয়তো কয়েকশো বছর পরে-- সে যাক। মুভিতে গ্রেস ওকথা বলে কিন্তু ধাতুলোভী বদখদ যন্ত্রওয়ালা মানুষেরা সেকথা পাত্তা দেয় না।

আরো অনেক কথা মনে পড়ে, নাইতিরি যখন জেক কে শেখায় সকল জীবের অবিচ্ছিন্নতার কথা, যে শক্তি নেওয়া হয় তা আবার ফিরিয়ে দিতে হয়, মনে পড়ে রেড ইন্ডিয়ানদের সেই কথা, "আমরা উত্তরাধিকরাসূত্রে পূর্বজদের কাছ থেকে পাইনি এ ভূমি, সন্তানদের কাছ থেকে এ আমরা ধার নিয়েছি মাত্র!" আবার যুদ্ধের কঠিন সময়ে জেক যখন গাছের কাছে এসে আলোময় শিকড়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রার্থনা করছে-নাইতিরি নরম গলায় বলে "জগন্মাতা তো কোনো পক্ষ নেন না, তিনি শুধু জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করেন।"

আরো কত কথা মনে আসে, কিন্তু থাক আর না। এবারে চুপ।

----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আপনার এই মন্তব্য চোখে পড়েছিল, তবে কি কারণে যেন কোন প্রতিক্রিয়া জানানো হয় নি।

আপনার সিনেমা দেখার পরবর্তী অনুভূতি খুব ভাল প্রকাশ পেয়েছে। আমি একটু কম প্রকাশ করতে পারি। জাতিতে সামান্য ডিস্লেস্কিক।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।